কে এই শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান?

ঢাকা অফিস ॥ ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী দুবাইয়ে গ্রেফতার হয়েছেন। তাকে দেশে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই জিসানই রাজধানীবাসীর এক সময়কার আতঙ্কের নাম ছিলেন। তার নাম শুনলে আঁতকে উঠতেন অনেকে। রাজধানীর গুলশান, বনানী, পল্টন, মগবাজার-মালিবাগ, ফকিরাপুল, মতিঝিল এলাকায় দাবিয়ে বেড়াতেন তিনি। অভিজাত এসব এলাকার ব্যবসা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত চাঁদা তুলতেন তিনি। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ক্যাসিনো ব্যবসা, মাদক ব্যবসা সবই করতেন জিসান। একসময় ঢাকায় এলাকাভিত্তিক সন্ত্রাসী বাহিনীও গড়ে উঠেছিল তার। যাদের নাম শুনলে ভয়ে তটস্ত থাকত সবাই। দিনে-দুপুরে তারা চাঁদা চেয়ে চিরকুট পাঠাত। সঙ্গে পাঠাতো কাফনের কাপড়। অনেকেই নীরবে দাবিকৃত সেই চাঁদা দিয়ে দিত। না দিলে জীবন দিতে হতো। তাদের সন্ত্রাস, দখল, চাঁদাবাজি, লুটতরাজ, সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে সাধারণ মানুষ। এক সময় এমন সন্ত্রাসীদের নামের তালিকা তৈরি করে প্রশাসন তাদের নাম দিয়েছিল ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’। জিসানের পুরো নাম জিসান আহমেদ মন্টি। ঢাকার আলোচিত যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া ও জি কে শামীমের সঙ্গে মিলে অপরাধ জগত নিয়ন্ত্রণ করতেন জিসান। এই ত্রয়ীর সঙ্গে সুসম্পর্ক ছিল আরেক ক্যাসিনো গডফাদার ইসমাইল হোসেন সম্রাটের। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত এক দশকে দেশের শীর্ষ ২৩ সন্ত্রাসীর নাম তালিকাভুক্ত করে। তাদের অন্যতম হলেন জিসান। তাকে ধরিয়ে দেয়ার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। রাজধানীর গুলশান, বনানী, বাড্ডা, ফকিরাপুল, পল্টন মতিঝিলসহ বেশ কিছু অঞ্চলে তার একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল। ওই সব এলাকার সরকারি ও বাণিজ্যিক ভবনগুলোতে নিয়মিত চাঁদাবাজি করতেন তিনি। ইন্টারপোল তার নামে রেড অ্যালার্ট জারি করে রেখেছে। সংস্থাটির ওয়েবসাইটে জিসান সম্পর্কে বলা আছে, তার বিরুদ্ধে হত্যাকান্ড ঘটানো এবং বিস্ফোরক বহনের অভিযোগ আছে। ২০০৩ সালে মালিবাগের একটি হোটেলে দুজন ডিবি পুলিশকে হত্যার পর আলোচনায় আসেন জিসান। এর পরেই গা ঢাকা দেন। ২০০৫ সালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের মুখে সে দেশ ছাড়ে বলে ধারণা করা হয়। সূত্র জানায়, সেই সময় পালিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন জিসান। এর পর নিজের নাম পরিবর্তন করে আলী আকবর চৌধুরী নামে পাসপোর্ট সংগ্রহ করেন। ভারতীয় নাগরিক হিসেবে ঠিকানা দেখানো হয়েছে সারদা পল্লী, ঘানাইলা, মালুগ্রাম শিলচর, চাষার, আসাম। বাবার নাম হাবিবুর রহমান চৌধুরী। মায়ের নাম শাফিতুন্নেছা চৌধুরী। আর স্ত্রীর নামের স্থানে উল্লেখ করা হয়েছে রিনাজ বেগম চৌধুরী। পাসপোর্ট ইস্যুর স্থান দুবাই হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। দেখা গেছে, ২০০৯ সালের ৭ জুন প্রদান করা পাসপোর্টটির মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ২০১৯ সালের ৬ জুন। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের খবর, চলতি বছরের ৬ জুন পাসপোর্টটির মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ার পর ফের ভারতীয় পাসপোর্টটি ১০ বছর মেয়াদের নবায়ন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুবাইয়ে শীর্ষসন্ত্রাসী জিসানের দুটি রেস্টুরেন্ট আছে; আছে গাড়ির ব্যবসাও। এসব দেখভাল করেন তার ছোট ভাই শামীম এবং ছাত্রলীগের সাবেক নেতা শাকিল মাজহার। এর মধ্যে শাকিল মাজহার যুবলীগ ঢাকা দক্ষিণের সহসম্পাদক রাজিব হত্যা মামলার অন্যতম আসামি। এ হত্যাকান্ডের পর পালিয়ে দুবাই চলে যান তিনি। সাম্প্রতিক দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে দুই যুবলীগ নেতা জিকে শামীম ও খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে আটকের পর তার (জিসানের) নাম ফের নতুন করে আলোচনায় আসে। তাদের মধ্যে একসময় ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। পরে ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে দ্বন্দ্বে জিসান শামীম ও খালেদকে হত্যা করতে লোক ভাড়া করেছিলেন। সূত্র জানায়, জিকে শামীমকে ঘিরে ঢাকা মহানগর যুবলীগের এক শীর্ষ নেতার সঙ্গে জিসানের বিরোধ তৈরি হয়। এ সিন্ডিকেটের ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন আরেক যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। বিরোধের একপর্যায়ে জিসান খুবই ক্ষুব্ধ হন তাদের ওপর। অবস্থা ভিন্ন দিকে চলে যেতে পারে এমন আশঙ্কায় জিসানের সঙ্গে বিরোধ মেটাতে সমঝোতা বৈঠকের আয়োজন করেন খালেদ। গত জুনের মাঝামাঝি সিঙ্গাপুরে যান জিকে শামীম, মহানগর যুবলীগের ওই শীর্ষ নেতা ও খালেদ। আর জিসান দুবাই থেকে সেখানে যান। সিঙ্গাপুরের মেরিনা বে এলাকার একটি বিলাসবহুল হোটেলে তাদের বৈঠক হয়। যদিও বৈঠকে শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা হয়নি। এমন প্রেক্ষাপটে কিলিং মিশনে অংশ নিতে দুবাই থেকে ঢাকায় পাঠানো হয় জিসানের সহযোগীদের। ঢাকার টেন্ডারবাজ জি কে শামীম গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, আগে কখনো এত দেহরক্ষী রাখেননি তিনি। মূলত জিসানের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হওয়ার পর থেকে ‘ভয়ে’ বড় নিরাপত্তা টিম গঠন করেন জিকে শামীম। সরকারের পুরস্কার ঘোষিত ২৩ শীর্ষসন্ত্রাসীর মধ্যে অন্যতম জিসান। এ তালিকার অন্যরা, যারা এক সময় ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ড কাঁপাত, তাদের কেউ এখন বিদেশে, কেউবা কারাগারে। বুধবার রাতে জিসানকে দুবাইয়ে গ্রেফতার করা হয়। এ তথ্য নিশ্চিত করে পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো) মহিউল ইসলাম বলেন, ‘ইন্টারপোলের মাধ্যমে দুবাই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাংলাদেশ যোগাযোগ করছে। তারা জানিয়েছেন, জিসানকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’ মহিউল ইসলাম আরও জানান, দুবাই কর্তৃপক্ষ জিসানকে গ্রেফতারের পর যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

 

ফের ভারত থেকে আসছে পেঁয়াজ

ঢাকা অফিস ॥ বেশ কয়েকদিন ধরে ১০০ টাকার নিচে নামছেই না পেঁয়াজের দাম। এতে নাভিশ্বাস হওয়ার উপক্রম দেশবাসীর। ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রয়েছে বলে বাজার দরে একলাফে এমন ঝাঁঝ বেড়েছে পেয়াজের। এমনটাই মন্তব্য করে আসছেন ব্যবসায়ীরা। এমন পরিস্থিতিতে ফের ভারত থেকে পেঁয়াজ বাংলাদেশে প্রবেশ করছে বলে জানা গেছে। গতকাল শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি হলেও বেলা ১২টা ২০মিনিট থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজবোঝাই ভারতীয় ট্রাক বাংলাদেশে আসা শুরু হয়েছে। ভারতের হিলি এক্সপোর্টার অ্যান্ড কাস্টমস ক্লিয়ারিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি সনজিৎ মজুমদার এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে এ খবরে তেমন একটা খুশি হতে পারছেন না হিলি স্থলবন্দরের বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীদের অনেকের দাবি, ভারতের হিলিতে ৫ দিন আটকে ছিল বস্তাবন্দী এসব পেঁয়াজ। এদের অধিকাংশই নষ্ট হয়ে গেছে বা পচে গেছে। এতে ব্যবসায়ীরা আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে মন্তব্য করেন তারা। এ বিষয়ে হিলি স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী মোর্শেদুর রহমান জানান, গত ২৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি পুরোপুরি বন্ধ করে দেয় ভারত। এ অবস্থায় সীমান্তের ওপারে প্রায় ৬০টি ট্রাকে দেড় হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ আটকে থাকে। অবশেষে ৫দিন পর পূর্বের এলসি করা পেঁয়াজ হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করলেও ট্রাকে বাঁধা অবস্থায় থাকা এসব পেঁয়াজের অধিকাংশ নষ্ট হয়ে গেছে বলে ধারণা করছি আমরা। হিলি স্থল বন্দরের কর্মকর্তারাও একই বার্তা জানিয়েছেন। তারা বলছেন, পূর্বের এলসি করা পেঁয়াজবোঝাই ট্রাক আটকে ছিল ভারত সীমান্তে। অবশেষে রফতানি করার অনুমতি দিয়েছে সে দেশের সরকার। এর আগে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর সূত্রে জানা গিয়েছিল, এই বন্দর দিয়ে গত ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারত থেকে প্রায় ১০ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির জন্য এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) খোলে হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারকরা। কিন্তু গত রোববার বিকালে হঠাৎ করে এক নোটিফিকেশনের মাধ্যমে ভারতীয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষসহ রফতানিকারকদের বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি না করার জন্য আদেশ জারি করে ভারতীয় কেন্দ্রীয় সরকার। সেদিন থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের মুখে ভারতের হিলিতে আটকে পড়ে পেঁয়াজবাহী শতাধিক ট্রাক। এসব ট্রাকই আজ ছাড়ার নির্দেশ দেয় ভারত সরকার। এ বিষয়ে হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক গ্র“পের সভাপতি হারুন-উর রশিদ হারুন জানিয়েছিলেন, দুই দেশের মধ্যে আলোচনাসাপেক্ষে শারদীয় দুর্গোৎসবের বন্ধ সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার বন্দরের আমদানি-রফতানি কার্যক্রম চালু ছিল। বৃহস্পতিবার এ সব পেঁয়াজবাহী ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশের কথা ছিল। কিন্তু সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও তা প্রবেশ করেনি। তবে শুক্রবার আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও বিশেষ ব্যবস্থায় এ সব পেঁয়াজবাহী ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করবে বলে আশা প্রকাশ করেছিলেন তিনি।

কুষ্টিয়ায় শারদীয় দুর্গোৎসবে বস্ত্রদান অনুষ্ঠানে ডিসি আসলাম হোসেন

শান্তি ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বর্তমান সরকার কাজ করে চলেছে

সুজন কর্মকার ॥ কুষ্টিয়ায় শারদীয় দুর্গোৎসব বস্ত্রদান কমিটির আয়োজনে অসহায়দের মধ্যে বস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে কুষ্টিয়ার বাড়াদী বাবুপাড়া শ্রীশ্রী জগমোহন রায় জিউর মন্দির প্রাঙ্গনে এ বস্ত্র বিতরণ করা হয়। এতে প্রধান অতিথি থেকে বস্ত্রদান করেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন। তিনি বলেন, আমরা শান্তি চাই, আমরা সমৃদ্ধি চাই। সেই লক্ষ নিয়ে বর্তমান সরকার কাজ করে চলেছে। জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন বলেন, আমাদের কু-সংস্কার থেকে বেরিয়ে এসে মান-সম্মত আধুনিক শিক্ষাই শিক্ষিত হতে হবে। আর সমাজের মধ্যে যে সকল অশুভ শক্তি আছে তা পরাজিত করতে হবে। বাড়াদী বাবুপাড়া শ্রীশ্রী জগমোহন রায় জিউর মন্দির কমিটির সভাপতি বিশ্বনাথ সাহা বিশুর সভাপতিত্বে বস্ত্রদান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এস.এম.তানভীর আরাফাত পি.পি.এম (বার), কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক অজয় সুরেকা, হিন্দু-বৌদ্ধ-খিৃস্টান ঐক্য পরিষদ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা শাখার সভাপতি ব্যারিস্টার গৌরব চাকী, দেশ এগ্রো লিঃ এর চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক প্রমুখ। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ নাসির উদ্দিন আহম্মেদ, শহর আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মীর রেজাউল ইসলাম বাবু, আওয়ামীলীগ নেতা ডাঃ আফিল উদ্দিনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। শুরুতে শ্রীশ্রী গীতা থেকে পাঠ করেন বিভাষ কুমার সাহা।

দুর্নীতি বিরোধী অভিযানের নেতৃত্বে র‌্যাব নেই – বেনজীর

ঢাকা অফিস ॥ দুর্নীতিবিরোধী অভিযান পরিচালনায় সরকারের অনেকগুলো সংস্থার মধ্যে র‌্যাব থাকলেও ‘নেতৃত্বদানকারীর ভূমিকায়’ নেই বলে জানিয়েছেন এর মহাপরিচালক বেনজীর আহমদ। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বনানী পূজামন্ডপ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। র‌্যাব মহাপারিচালক বলেন, “সামগ্রিক দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে অনেক এজেন্সি জড়িত। ‘সেক্ষেত্রে বলতে পারি, র‌্যাব লিড এজেন্সি না’। “দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমে যে সকল সরকারের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আছে র‌্যাব ফোর্সেস। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশে যখনই প্রয়োজন হবে, হাতে হাত মিলিয়ে আমরা দায়িত্ব পালন করব।” গত শনিবার হোটেল সোনারগাঁওয়ে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, “এটুক আমি ক্লিয়ার করে দিতে চাই- যেহেতু অভিযানটির র‌্যাব শুরু করেছে এবং আমরা বলছি ক্যাসিনোর এগুলি র‌্যাবই করবে।” ১৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মতিঝিলের চারটি ক্লাবে ক্যাসিনো বিরোধী অভিযান চালায় র‌্যাব।চারদিন পর পুলিশও ওই এলাকায় চারটি ক্লাবে অভিযান চালায়। এছাড়াও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তাদের অভিযান চালাতে দেখা যায়।

দৌলতপুরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে কলেজ ছাত্রের মৃত্যু

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ইমরান হোসেন (২৫) নামে এক কলেজ ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত ইমরান হোসেন দৌলতপুর উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের হৃদয়পুর গ্রামের মো. নাসির উদ্দিনের ছেলে এবং সে দৌলতপুর কলেজের অনার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিল। ইমরান হোসেনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে তার চাচাতো ভাই লিপটন হোসেন জানান, গত তিন দিন আগে ইমরান ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে তাকে কুষ্টিয়া হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছিল। সেখানে ইমরানের অবস্থার অবনতি হলে বুধবার উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়। এনিয়ে দৌলতপুরে উপজেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত এক নারীসহ ৪ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটলো।

বর ও তার পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে

কুষ্টিয়ার খোকসায় বিয়ের তিনদিনের মাথায় কলেজছাত্রী নববধূর আত্মহত্যা

নিজ সংবাদ ॥ বরের ওপর অভিমানে আত্মহত্যা করেছে কলেজ ছাত্রী নববধূ পাপিয়া খাতুন। বৃহস্পতিবার রাতে আত্মহত্যার পর গতকাল শুক্রবার সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি ঘটেছে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার হিলালপুর গ্রামে। ঘটনার পর বরসহ বাড়ির লোকজন পলাতক রয়েছে। বিয়ের মাত্র তিনদিনের মাথায় পাপিয়া আত্মহত্যা করলো।

নিহতের পরিবার ও এলাকার লোকজন জানান, খোকসা সরকারী ডিগ্রী কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান সন্মান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী পাপিয়া খাতুনের সাথে একই কলেজের শামীম রেজার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে ছাত্রীর বাবার বাড়ি উপজেলার হিলালপুর গ্রামে তাদের বিয়ে হয়। কিন্তু এ বিয়ে মেনে নিতে পারেনি ওই ছাত্রের পরিবার। বৃহস্পতিবার বিকালে নববধূকে তার বাবা বাড়ি রেখে শামীম নিজের বাড়ি ফিরে যায়। গভীর রাত পর্যন্ত সে ফিরে না আসায় দু’জনের (নববধূ ও তার স্বামী) মধ্যে মোবাইল ফোনে কথা কাটা-কাটি হয়। এক পর্যায়ে রাতেই নববধূ কলেজ ছাত্রী তার নিজের ঘরে ওড়না দিয়ে সিলিং ফ্যানের সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। সকালে পরিবারের লোকেরা ডাকা-ডাকি করে। পাপিয়ার সাড়া না পেয়ে তারা দরজা ভেঙ্গে ঘরে ঢুকে ফ্যানের সাথে মৃতদেহ ঝুলতে দেখে। পরে থানায় খবর দিলে পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে।

নিহত নববধূর বাবা ওমর আলী জানায়, মেয়েকে রেখে জামাই শামীম রেজা পালিয়ে বাড়ি চলে যাওয়ায় পাপিয়া আত্মহত্যা করেছে। ঘটনাটি তারা মানতে পারছ্নে না। আমার মেয়ের সাথে তারা প্রতারনা করেছে। এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য শামীমের মোবাইল ফোনে কল করা হয় কিন্তু সে ফোন রিসিভ করেনি। তার বাবা রাজ্জাক বিশ্বাসের বাড়ি উপজেলার মির্জাপুরের গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। বাড়ির দরজায় তালা লাগিয়ে সবাই আত্মগোপন করেছে বলে প্রতিবেশীরা জানায়। পাপিয়ার মরদেহ বিকেলে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গ থেকে পোষ্টমর্টেম শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ইন্ডিয়া ইকোনমিক ফোরামের সমাপনী প্লেনারি অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

স্বল্পমেয়াদী লাভের জন্য দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থ বিসর্জন দেওয়া উচিত নয়

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, স্বল্পমেয়াদী লাভের জন্য দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থ বিসর্জন দেওয়া উচিত নয়। গতকাল শুক্রবার নয়া দিল্লিতে ইন্ডিয়া ইকোনমিক ফোরামের সমাপনী প্লেনারি অধিবেশনে কো-চেয়ার হিসেবে বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ এশিয়াকে অবশ্যই সংযুক্ত, বন্ধুসুলভ ও প্রতিযোগিতাসক্ষম অঞ্চল হিসেবে গড়ে উঠতে হবে, যা অন্য অঞ্চলের সঙ্গে সেতুবন্ধনে সদা প্রস্তুত থাকবে। গত শতকগুলোতে আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে সফল ও বিফল ধারণার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা ভবিষ্যতের জন্য কয়েকটি মূলনীতি তুলে ধরেন, যার অন্যতম হলো- ভূ-রাজনীতিতে মৈত্রী ও সহযোগিতায় জোর। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আসুন আমরা আমাদের জনগণের স্বার্থে আঞ্চলিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় ভারসাম্য আনি। স্বল্পমেয়াদী অর্জনের জন্য আমরা দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থ বিসর্জন দিতে পারি না।” দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের গৃহিত প্রতিবেশীদের মধ্যে ‘সুসম্পর্ক ও গঠনমূলক’ নীতির কথা তুলে ধরেন তার কন্যা। তিনি বলেন, “তার সুদূরপ্রসারী ধারণায় উদ্বুদ্ব হয়ে এবং অভিন্ন দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে অভিন্ন সমৃদ্ধিতে তার বিশ্বাসে পরিচালিত হয়ে বিমসটেক, সার্ক, বিবিআইএন, বিসিআইএমের মতো আঞ্চলিক সহযোগিতার উদ্যোগ নিচ্ছি।” পুরো অঞ্চলজুড়ে প্রতিটি মানুষের জন্য শান্তি, স্থিতিশীলতা ও একতা অর্জনে অব্যাহত প্রচেষ্টা এবং ‘সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু’ মানসিকতার ঊর্ধ্বে উঠার উপর জোর দেন তিনি। “বহুত্ববাদ শত শত বছর ধরে দক্ষিণ এশিয়ার শক্তির উৎস। তাই ধর্ম, জাতি ও ভাষার ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার  বৈচিত্র্যকে আমাদের উদযাপন করতে হবে। এটা মৌলিক।” দ্রুততর প্রবৃদ্ধি অর্জনের সময়ে পুরো অঞ্চলের মধ্যে অসমতা যাতে না বাড়ে সে বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, সম্পদের তৈরি হোক অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে এবং তার সুফল লাখ লাখ প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে। “অনুন্নত দেশ বা সমাজ যাতে পিছিয়ে না পড়ে। তারুণ্যে আকাঙ্খা ও চাহিদাকে মূল্য দিতে হবে। আমাদের জ্ঞান-অভিজ্ঞতা-দক্ষতা-বিনিয়োগের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে একে অপরের হাত ধরে রাখতে হবে।” ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে শক্রতা নয়’- বঙ্গবন্ধুর এ নীতি অনুসরণ করে আঞ্চলিক সম্পর্ক রক্ষার অব্যাহত প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সব সম্প্রদায় ও দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও শ্রদ্ধাই প্রধান। আমাদেরকে ভুল ধারণা ও ভুল বোঝাবুঝি কাটিয়ে উঠতে হবে।” এক্ষেত্রে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি, ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির কথা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, অভিন্ন নদীর প্রবাহমানতা নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশ এখন কাজ করছে। আন্তঃদেশীয় গ্রিড সংযোগের মাধ্যমে ভারত থেকে বিদ্যুৎ কেনা হচ্ছে। “এধরনের সহযোগিতামূলক সংস্কৃতি আমাদের রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজজুড়ে অপরিহার্য। অন্যদিকে, আমাদের বেসরকারি খাতগুলো একে অপরের সঙ্গে স্বচ্ছ ও ন্যায্যভাবে প্রতিযোগিতা করবে।”

ফলন বাড়াতে হাইটেক ও সফটওয়্যার

কৃষি প্রতিবেদক ॥ ফসলের ফলন বাড়াতে বিজ্ঞানীরা সব সময়ই গবেষণা করে যাচ্ছেন। ফসলের ফলন বাড়াতে বেশির ভাগ সময়ই উন্নত জাতের কথা ভাবা হয়। কিন্তু তাতে খুব বেশি ফল পাওয়া যায় না। জার্মানির বিজ্ঞানীরা হাইটেক স্ক্যানার ও সফটওয়্যার দিয়ে নতুন পদ্ধতিতে শস্যের প্রজনন ঘটানোর উদ্যোগ শুরু করেছেন। বিশেষজ্ঞ মহল মনে করে, আগামী দশকগুলোয় ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার জন্য খাদ্যের সংস্থান করতে হলে কৃষি উৎপাদন আরো অনেক বাড়াতে হবে। কিন্তু পরিবেশের ক্ষতি করে কৃষি উৎপাদন বাড়ানো চলবে না। অতএব, চাই এমন শস্য, যার উৎপাদন ক্ষমতা বেশি। জার্মানির বন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক হাইনার গন্ডবাখ বলেন, ‘আমাদের ধারণা, ২০৫০ সালের মধ্যে প্রায় ৯০০ কোটি মানুষের খাদ্যের জোগান দিতে হবে। তার জন্য বছরে গড়ে কমপক্ষে ১ দশমিক ৫ শতাংশ হারে কৃষি উৎপাদন বাড়াতে হবে।’

উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন উদ্ভিদ প্রজনন করতে আজকাল হাইটেক প্রযুক্তি কাজে লাগানো হয়। কারণ এমন শস্য শনাক্ত করতে হয়, যেগুলো সুস্থ এবং তাদের কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতা রয়েছে। শুধু  সেগুলোই বেছে নিয়ে আরো প্রজনন করতে হবে। বন ইউনিভার্সিটির কৃষি বায়োলজিস্ট  হেইনার গোল্ডবাক এ লক্ষ্যে ইঞ্জিনিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও কৃষি বিজ্ঞানীদের নিয়ে একটি দল তৈরি করেছেন। তাদের উদ্দেশ্য এমন এক সেন্সর তৈরি করা, যার সাহায্যে প্ল্যান্ট ব্রিডিং আরো দক্ষ ও দ্রুত করে তোলা সম্ভব। অধ্যাপক গোল্ডবাক বলেন, ‘ প্রজননের সময়  সেন্সর বৈশিষ্ট্যগুলো দ্রুত সঠিকভাবে চিনতে পারে। মানুষও সেটা পারে বটে, কিন্তু ঘণ্টা দু-এক পর সে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তখন ভুলের অবকাশ বেড়ে যায়, শস্যগুলোর মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ক্রটি ঘটে। কিন্তু সেন্সর ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে সে কাজ সঠিকভাবে করে চলে। ফলে প্রজননের গতি বেড়ে যায়।’

পাতার রোগ যত দ্রুত সম্ভব শনাক্ত করতে গবেষকরা এক হাইপার স্পেকট্রাল ক্যামেরা ব্যবহার করেন। সেটি স্ক্যানারের মতো পাতার ওপর প্রতিফলিত আলো বিশ্লেষণ করে। ২১০টি আলাদা তরঙ্গ দৈর্ঘ্য থেকে তথ্য নিয়ে স্পেকট্রাল ফিঙ্গারপ্রিন্ট তৈরি করা হয়। কৃষিবিজ্ঞানী ড. আনে-কাটরিন মালাইন পর্দার ডান দিকে হাইপার-স্পেকট্রাল ফলাফল  দেখেন। ফলস কালার ডিসপ্লেতে হলুদ রঙের মাধ্যমে সুস্থ টিস্যু দেখা যায়। অন্যদিকে নীল-সবুজ রঙের অংশে পাতার রোগগ্রস্ত অংশ দেখা যায়। সফটওয়্যারের মাধ্যমে পাতার নানা  রোগ পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করা যায়। ভবিষ্যতে মোবাইল ডিভাইসের মাধ্যমে শস্য  ক্ষেতেও তা কাজে লাগানো যাবে। অধ্যাপক গোল্ডবাক বলেন, ‘এ প্রক্রিয়া ব্যবহার করে আমরা প্রজননের অগ্রগতি আরো দ্রুত করে তুলতে পারি। অর্থাৎ এ মুহূর্তে নতুন করে কোনো প্রজাতির প্রজনন যদি ১০-১২ বছর লাগে, সেখানে আমরা সময়টা ২ বছর কমিয়ে দিতে পারি। ফলে আরো দক্ষতার সঙ্গে আমরা কাজ করতে পারব।’

বায়োলজিস্ট বির্গিট ফ্রিকে এক হাইপার স্পেকট্রাল সেন্সর দিয়ে উদ্ভিদের ভেতরের অবস্থাও  দেখতে পারেন এবং সুগার বিটের মেটাবলিজম ও স্বাস্থ্য সম্পর্কে তথ্য পান। বির্গিট ফ্রিকে বলেন, পরিমাপের পদ্ধতি খুব সহজ। সূর্যের আলো পাতার ওপর পড়ে, তারপর তার প্রতিফলন ঘটে। উদ্ভিদ অসুস্থ হলে তার মেটাবলিজম বদলে যায়, যার ফলে প্রতিফলনের চরিত্রও বদলে যায়। সেন্সর তখন এই পরিবর্তিত প্রতিফলন ধরতে পারে। তখন শুধু সুস্থ উদ্ভিদ নিয়েই প্রজনন চালানো হয়। তাদের সহ্যশক্তি বাড়ানো হয়। বার্লি ও ধানের ক্ষেত্রেও এ প্রযুক্তি প্রয়োগ করা সম্ভব। উদ্ভিদের আকার বা একই জায়গায় কত উদ্ভিদ আছে, এক  টেরেস্ট্রিয়াল লেজার স্ক্যানার তা মেপে দেখে। সেটি ক্ষেতের এক ত্রিমাত্রিক ছবি ফুটিয়ে  তোলে।

কোলোন ইউনিভার্সিটির নোরা টিলি বলেন, বীজ বপনের সময় থেকেই স্ক্যানিং শুরু হয়। তখনো কিন্তু চারা গজায়নি। এর মাধ্যমে গোটা এলাকার একটা হাই-ডেফিনিশন মডেল পাওয়া যায়। প্রতি দুই সপ্তাহ অন্তর স্ক্যান করা হয়। এভাবে বিভিন্ন অবস্থার মধ্যে তুলনা করে উদ্ভিদের বৃদ্ধির হার স্পষ্ট বোঝা যায়। বিষয়টি একেবারে নিখুঁতভাবে মাপা সম্ভব। এর জন্য  ক্ষেতের চারপাশে মাত্র চারটি বিন্দুর প্রয়োজন, যেখান থেকে পরিমাপ চালানো হবে। উচ্চতা বিচার করে সেরা উদ্ভিদ বাছা হবে, যার উৎপাদন ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি।

 

সাকিব-তামিমের একই ভিত্তি মূল্য

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ আগামী বছরের জুলাইয়ে ইংল্যান্ডে প্রথমবারের মত অনুষ্ঠেয় ক্রিকেটের নতুন সংস্করন ‘দ্য হান্ড্রেড’ অর্থাৎ ১০০ বলের টুর্নামেন্ট। ঐ টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে বিদেশী খেলোয়াড়দের নিলাম তালিকায় আছেন বাংলাদেশের ছয় ক্রিকেটার। নিলামে বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল আছেন টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভিত্তি মূল্য ১ লাখ পাউন্ড (প্রায় ১ কোটি ৪২ লাখ) ক্যাটাগরিতে সাকিব-তামিম ছাড়াও নতুন এ ভার্সনের নিলাম তালিকায় আছেন বাংলাদেশের মুশফিকুর রহিম, মোহাম্মদ মিঠুন, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও মুস্তাফিজুর রহমান খেলবেন। তাদের কোন ভিত্তিমূল্য নির্ধারন করা হয়নি। তবে নিলামে নাম উঠলে, অন্তত ৩০ হাজার পাউন্ড করে পাবেন তারা। টুর্নামেন্টের এটিই সবচেয়ে কম ভিত্তিমূল্য। সাকিব-তামিমের ভিত্তিমূল্যে আরও ১৫ ক্রিকেটার আছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাইরন পোলার্ড-সুনীল নারাইন, আফগানিস্তানের রশিদ খান, ভারতের হরভজন সিং, নেপালের সন্দীপ লামিচানে, পাকিস্তানের শহীদ আফ্রিদি, অস্ট্রেলিয়ার গে¬ন ম্যাক্সওয়েল ছাড়াও আরও অনেকে আছেন। টুর্নামেন্ট সবচেয়ে বেশি ভিত্তিমূল হলো ১ লাখ ২৫ হাজার পাউন্ড। এই তালিকার খেলোয়াড়রা হলেন-অস্ট্রেলিয়ার স্টিভ স্মিথ-মিচেল স্টার্ক-ডেভিড ওয়ার্নার, দক্ষিণ আফ্রিকার কুইন্টন ডি কক-লুঙ্গি এনগিডি-কাগিসো রাবাদা, শ্রীলংকার লাসিথ মালিঙ্গা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইল। মোট ১৬৫জন বিদেশি ক্রিকেটারের নাম নিবন্ধিত হয়েছে নিলাম তালিকায়। এর মধ্যে ৬৭জন ক্রিকেটারের কোনো ভিত্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয়নি। মোট সাতটি ধাপের ভিত্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ১ লাখ ২৫ হাজার পাউন্ড, ১ লাখ পাউন্ড, ৭৫ হাজার পাউন্ড, ৬০ হাজার পাউন্ড, ৫০ হাজার পাউন্ড, ৪০ হাজার পাউন্ড ও ৩০ হাজার পাউন্ড। প্রতিটি দল তাদের স্কোয়াডে ও একাদশে সর্বোচ্চ তিনজন বিদেশি ক্রিকেটার রাখতে পারবে। আগামী ২০ অক্টোবর নিলাম অনুষ্ঠিত হবে। আগামী বছরের ১৭ জুলাই থেকে ইংল্যান্ডের আটটি দল নিয়ে ১০০ বলের এ আসর শুরু হবে।

সুয়ারেসকেও পাচ্ছে না উরুগুয়ে

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ চোটের কারণে এদিনসন কাভানি নেই আগে থেকেই। সম্প্রতি চোট কাটিয়ে ওঠা লুইস সুয়ারেসও উরুগুয়ে দল থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে পেরুর বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে উরুগুয়ে। এসময় সুয়ারেস বার্সেলোনাতেই থাকবেন বলে শুক্রবার এক বিবিৃতিতে জানায় তার ক্লাব বার্সেলোনা। বাংলাদেশ সময় আগামী ১২ অক্টোবর ভোর পাঁচটায় নিজেদের মাঠে পেরুর বিপক্ষে খেলবে উরুগুয়ে। তিন দিন পর তারা স্বাগতিক পেরুর মুখোমুখি হবে। পুরোপুরি ফিট হয়ে ওঠার লক্ষ্যে বার্সেলোনাতেই ব্যক্তিগতভাবে অনুশীলন চালিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ৩২ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার। আগামী রোববার লা লিগায় সেভিয়ার বিপক্ষে সুয়ারেস খেলবেন কি-না, এ বিষয়ে বিবৃতিতে কিছু বলা হয়নি। চোটের কারণে মৌসুমের শুরুর দিকে দলে ছিলেন না সুয়ারেস। গত বুধবার তার জোড়া গোলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ইন্টার মিলানকে ২-১ ব্যবধানে হারায় বার্সেলোনা। চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলে সাত ম্যাচে করেছেন পাঁচ গোল।

আফগান ক্রিকেটে নতুন ভূমিকায় মোলস

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ আফগানিস্তান ক্রিকেট দলের প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব পেয়েছেন মাঝে ভারপ্রাপ্ত কোচের পদে থাকা অ্যান্ডি মোলস। একই সঙ্গে ‘ডিরেক্টর অফ ক্রিকেট’-এর দায়িত্বও দেয়া হয়েছে সাবেক এই ইংলিশ ক্রিকেটারকে। ২০১৪ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত আফগানিস্তান ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ ছিলেন মোলস। পরবর্তীতে কাজ করেছেন বয়সভিত্তিক দলগুলোর সাথে। ২০১৯ বিশ্বকাপ শেষে ফিল সিমন্স আফগানিস্তানের কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ালে মোলসকে দেওয়া হয় অন্তর্বর্তীকালীন কোচের দায়িত্ব। তার অধীনেই গত সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ সফরের একমাত্র টেস্টে জয় পায় আফগানরা। পরবর্তীতে ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে উঠেছিল ফাইনালে। ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে দলের ব্যর্থতার পরই মূলত আফগান ক্রিকেটে বেশ কিছু রদবদল এসেছে। ২০২০ এর শেষ পর্যন্ত নতুন কোচ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সাবেক দক্ষিণ আফ্রিকান অলরাউন্ডার ল্যান্স ক্লুজনার। তিন ফরম্যাটেই অধিনায়কত্ব পেয়েছেন দলের তারকা লেগস্পিনার রশিদ খান। পরিবর্তনের এই ধারাবাহিকতায় নতুন দুই দায়িত্ব পেলেন দীর্ঘদিন ধরে আফগানিস্তান ক্রিকেটের সাথে কাজ করা ৫৮ বছর বয়সী মোলস।

ক্যারিয়ার সেরা র‌্যাঙ্কিংয়ে আমির

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঘরের মাঠে ওয়ানডে সিরিজে ভালো করার পুরস্কার পেলেন মোহাম্মদ আমির। ওয়ানডে বোলারদের র‌্যাঙ্কিংয়ে ক্যারিয়ার সেরা উচ্চতায় উঠেছেন পাকিস্তানের বাঁহাতি এই পেসার। বৃহস্পতিবার সর্বশেষ প্রকাশিত র‌্যাঙ্কিংয়ে ছয় ধাপ এগিয়ে আমির জায়গা করে নিয়েছেন সাতে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ার পর বাকি দুই ম্যাচে নেন চার উইকেট। এ বছরের জুলাইয়ে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে মনোযোগ বাড়াতে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এর আগে এ বছরের জুনে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো র‌্যাঙ্কিংয়ে সেরা দশে জায়গা পেয়েছিলেন আমির। সেবার ছিলেন দশ নম্বরে। বোলারদের র‌্যাঙ্কিংয়ে প্রথম ছয়ে কোনো পরিবর্তন আসেনি। যথারীতি শীর্ষে আছেন ভারতের জাসপ্রিত বুমরাহ। ট্রেন্ট বোল্ট, কাগিসো রাবাদা, প্যাট কামিন্স ও মুজিব উর রহমান পূরণ করেছেন সেরা পাঁচের পরের চারটি জায়গা। আমিরকে জায়গা করে দিতে এক ধাপ করে নেমে নয় ও দশে আছেন রশিদ খান ও ম্যাট হেনরি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ৫ উইকেট নেওয়া উসমান খান শিনওয়ারি বড় লাফ দিয়েছেন র‌্যাঙ্কিংয়ে। ২৮ ধাপ এগিয়ে বাঁহাতি পেসার এখন আছেন ৪৩ নম্বরে। ব্যাটসম্যানদের র‌্যাঙ্কিংয়ে সেরা দশে নেই কোনো পরিবর্তন। অলরাউন্ডারদের র‌্যাঙ্কিংয়ে সাকিব আল হাসান আগের মতোই আছেন এক নম্বরে।

নতুন চমক নিয়ে আসছেন ডলি সায়ন্তনী

বিনোদন বাজার ॥ নব্বই দশকে বেশ কিছু মডার্ন ফোক গান গেয়ে আলোড়ন তুলেছিলেন কন্ঠশিল্পী ডলি সায়ন্তনী। সাড়া জাগানো তেমনই দু’টি লোক গান নতুন আঙ্গিকে প্রকাশ করতে যাচ্ছেন নন্দিত এই শিল্পী।এরই মধ্যে ফিউশন ধাঁচের সংগীতায়োজনে নতুন করে রকর্ড করেছেন ‘বুড়ি হইলাম তোর কারণে’ ও ‘শ্যাম তুমি লীলা বোঝো’ গান দুটি। কথা ও সুর অপরিবর্তিত রেখে আবারও গান দুটি শিগগিরই প্রকাশ করতে যাচ্ছেন তিনি।‘বুড়ি হইলাম তোর কারণে’ গানটির সঙ্গীতায়োজন করেছেন পার্থ মজুমদার ও গিটারিস্ট এমিল। আর ‘শ্যাম তুমি লীলা বোঝো’ গানটি সঙ্গীতায়োজন করেছেন এমিল ও ক্লোজআপ ওয়ান তারকা সাব্বির জামান।সম্প্রতি মিরপুর ডিওএইচএসের একটি হাউসে দুটি গানের দৃশ্যধারণ শেষ হয়েছে। মিউজিক ভিডিওর নির্দেশনা দিয়েছেন আলী নূর আশিক। গান দুটি শিগগিরই ভিডিও আকারে প্রকাশ হবে ডলি সায়ন্তনীর নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে।ডলি সায়ন্তনী বলেন, ‘ভালো গানের আবেদন কখনও ফুরায় না। নব্বই দশক থেকে এখনও শ্রোতাদের অনুরোধের তালিকায় এই গান দুটি শুরুর দিকে থাকে। তাই আবারও নতুন করে গেয়েছি। আশা করছি শ্রোতাদের ভালো লাগবে।’তিনি আরও বলেন, ‘সময় বদলেছে। গান শোনার সঙ্গে এখন দেখারও বিষয়। তাই এখন থেকে আমার শ্রোতাপ্রিয় গানগুলোর নতুন সঙ্গীতায়োজন ও মিউজিক ভিডিও করার পরিকল্পনা করছি। সামনে শ্রোতাদের আরও গান উপহার দেওয়ার চেষ্টা থাকবে।’উল্লেখ্য, নব্বইয়ের দশক থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ডলি নিয়মিত অ্যালবাম প্রকাশ করেছেন। অ্যালবামের পাশাপাশি এ পর্যন্ত প্রায় ৭০০ চলচ্চিত্রের গানেও কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। এখন ডলি সায়ন্তনী ব্যস্ত আছেন স্টেজ শো নিয়ে।

 

অভিনেতা নন তবু বহুরূপে আসিফ

বিনোদন বাজার ॥ আসিফ আকবর। অনেকে তাকে বাংলা গানের যুবরাজ বলে আখ্যায়িত করেন। সেই ২০০০ সাল থেকে শুরু। অবিরাম পথ চলছেন। অবশ্য মাঝে বছর দুয়েক বিরতি ছিল। কিন্তু সেই বিরতিতে নতুন গান না করলেও গানের ভুবনেই বিচরণ ছিল। নিজেকে ভাঙছেন, গড়ছেন। বয়সের কোঠা পঞ্চাশ ছুঁই ছুঁই।কিন্তু সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছেন তারুণ্যের গতিতে। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে হালের ভিডিও নামক দৃষ্টি নান্দনিকতার পরীক্ষাও দিচ্ছেন হর-হামেশা। সেজেছেন সাধারণ সফল কিংবা ব্যর্থ প্রেমিক থেকে দেবদাস। কখনও ডাকাত সেজে পথচলা কিংবা পুলিশের বেশে অপরাধীর পেছনে ছোটা।কখনও আবার অন্ধকার জগতের ডন বনে যাওয়া। আবার পরিচালকের পাল্লায় পড়ে মুন্নাভাই এমবিবিএসের গেটাপ ধারণ- সবকিছুই নিজের সঙ্গে মানানসই করে নিয়েছে এই চল্লিশোর্ধ তরুণ! অথচ পেশাদার কোনো অভিনেতা নন তিনি। আগাগোড়াই একজন গায়ক। গান লেখা, সুর করা কিংবা সঙ্গীত পরিচালনা- এসবের ধার ধারেননি কখনও। অকপটে তার স্বীকারোক্তিও দেন। যেটা তাকে দিয়ে হবে না, কিংবা পারেন না সেই কাজটির ধারে কাছেও থাকেন না আসিফ। এটাই তার স্টাইল। এ কারণেই তিনি আসিফ আকবর। এ কারণেই তার রয়েছে ‘আসিফিয়ান’ নামে বিশাল ভক্ত বাহিনী।বাংলা সঙ্গীতে স্বকণ্ঠে পরিচিতি সর্বশেষ শিল্পী হিসেবে আসিফ আকবরের নামই বারবার উচ্চারিত হয়। নিজেকে সফল সঙ্গীতশিল্পীদের শেষ বংশধর বলেও দাবি করেন এ গায়ক। বিরতির পর ফিরে এসে যেভাবে প্রতাপের সঙ্গে দৌড়াচ্ছেন সেটা সমসাময়িক কিংবা এ সময়ের কোনো গায়কের ক্ষেত্রে দেখা যায় না। যদিও গত কয়েকদিন আগে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ঘোষণা দিয়েছেন, শ্রোতা-দর্শকদের কাছে দৃষ্টিনান্দনিকতার পরীক্ষা তিনি আর দেবেন না।খুব বেশি প্রয়োজন না হলে এ বছরে শেষ নাগাদ হাতে থাকা কাজগুলো শেষ হলেই মিউজিক ভিডিওকে টাটা জানাবেন। তিনি লিখেছেন, ‘আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে কয়দিন পরপর ভূতের আক্রমণ হয়। গত উনিশ বছর ধরে তাই দেখে যাচ্ছি, কয়দিন খুব রমরমা, তারপর আবারও সেই গলা শুকানো আর্তনাদ- ব্যবসা নই।এর মূল কারণ হচ্ছে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অভাব, হুজুগ থেকে বের হতে পারেনি ইন্ডাস্ট্রি। আমি সব সময় চাইতাম ভিডিও যেন গানকে ছাপিয়ে না যায়, গান সব সময়ের আবেদন নিয়ে থাকবে। বছর চারেক আগে ট্রেন্ড শুরু হল মিউজিক ভিডিওর। আমিও পড়ে গেলাম এ চক্করে।ভিউয়ের বাজারে আজনবি হয়ে ঘুরলাম আড়াই বছর। দিনরাত একাকার করে খাটলাম, এখন শুনি ব্যবসা নেই। এদিকে ক্লান্তিহীন আমার জীবনের রুটিন গেল বদলে। ঘুম, শুটিং, রেকর্ডিং, স্টেজ শো- সব মিলিয়ে লাইফের ওপর ব্যাপক টর্চার বয়ে গেল। আমি পুরো ক্যারিয়ারে স্টেজ শো কম করেছি যেন গলার স্বর এবং সুর ধরে রেখে দীর্ঘদিন রেকর্ডিং করতে পারি। গায়ক মরে যাবে, গান থেকে যাবে ইতিহাস হয়ে। এ ভিউ রোগটা এসে আমাদের গানের বাজেট আকাশচুম্বী করে দিল। কান আছে নাকি নেই, চেক না করেই সবাই দে ছুট চিলের পিছে! এখন শুনি আবারও প্রযোজকদের গলা শুকিয়ে গেছে- ব্যবসা নেই।’তিনি আরও লিখেছেন, ‘এই ভূতের ভয় থেকে বাঁচার জন্য আমি নভেম্বর থেকে অতীব প্রয়োজন না হলে মিউজিক ভিডিও করব না। কিছু গানের ভিডিওর কাজ বাকি, সুস্থ হলেই এগুলো শেষ করে টাটা জানিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। মাথায় অবশ্যই বিকল্প প্লান রয়েছে বরাবরের মতো।প্রচুর টিভি শো করব, তবে দুই-তিন ঘণ্টাব্যাপী নয়। এ ক্ষেত্রে টেলিভিশন এবং রেডিওওয়ালাদের নিজেদের নিয়ে ভাবতে হবে। মানুষের সময়ের দাম আছে, সেটা মাথায় না রেখে হিসাবে রাখতে হবে। একটা পূর্ণাঙ্গ মিউজিক চ্যানেল যে দেশে নেই, সেই দেশে হাওয়া বদলের চিন্তা ¯্রফে ধান্দা! এগুলোর মধ্যে আমি নেই, বদলাতে থাকা হাওয়াকে কব্জা করে এগিয়ে যাওয়া যোদ্ধা আমি। চামচামি করে নয়, যুদ্ধজয়ী বীরের মতো এগিয়ে যাব সংকোচহীন চিত্তে ইনশাআল্লাহ্।’মিউজিক ভিডিওর লাগাম টানার কথা বললেও গত দুই বছরে তাকে পেশাদার অভিনেতার চেয়েও বেশি চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা গেছে। শ্রোতা-দর্শক চাহিদার তুঙ্গে থাকা এ সঙ্গীত শিল্পীর পোশাকি পরিবর্তনের কয়েকটি রূপের চিত্র এ প্রতিবেদনের সঙ্গে পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল।

 

ভিডিও কলে আলীফের জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানালেন রাইমা সেন

বিনোদন বাজার ॥ অভিনেতা আলীফ চৌধুরীর জন্মদিনে ফোন করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সুচিত্রা সেনের নাতনি- অভিনেত্রী রাইমা সেন।গত ২ অক্টোবর আলীফের জন্মদিন উপলক্ষ্যে রাইমা সেন সরাসরি ফোন করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।আলীফ বলেন, ভাবতেও পারিনি রাইমা আমাকে ফোন করবে। তিনি সুচিত্রা সেনের নাতনিও বটে। সব মিলিয়ে আমি ভিষণ চমকিত এবং আনন্দিত।তিনি আরও জানান, প্রথমে আমি ভেবেছিলাম হয়তো কোনও ম্যাসেজ পাঠাবেন এই অভিনেত্রী। সরাসরি ভিডিও কল পাওয়াটা আসলেই পরম আনন্দের ছিল।রাইমা সেন পশ্চিমবঙ্গের চাহিদা সম্পন্ন অভিনেত্রী। বাংলার কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় থেকে শুরু করে পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়- সবার সঙ্গেই কাজ করেছেন রাইমা। আলীফ চৌধুরীও রাইমার কাজের একজন ভক্ত।

 

এ কেমন অক্ষয়!

বিনোদন বাজার ॥ গত বৃহস্পতিবার বলিউড তারকা অক্ষয় কুমার তার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ছবি শেয়ার করেন। লাল শাড়ি, বড় লাল টিপ পরা অক্ষয়ের সেই ছবি মুহূর্তেই সাড়া ফেলে দেয় নেটিজেনদের মাঝে। অক্ষয়ের শাড়ি পরা ছবিটি তার নতুন ছবি ‘লক্ষ্মী বম্ব’-এর একটি লুক। তামিল হরর কমেডি ছবি কাঞ্চনার হিন্দি রিমেক লক্ষ্মী বম্ব। এই ছবির মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন অক্ষয় কুমার এবং কিয়ারা আদভানি। ছবিতে এক ব্যক্তিকে দেখানো হয় যে ভুত-প্রেত ভয় পায়। কিন্তু ভাগ্য তাকে এমন এক ঘটনায় টেনে নিয়ে যায় যেখানে তার শরীরে ভর করে লক্ষ্মী নামের এক রূপান্তরকামীর আত্মা। ‘লক্ষ্মী বম্ব’ পরিচালনা করছেন রাঘব লরেন্স। ২০২০ সালের ২২ মে মুক্তি পাবে ছবিটি।

ভাইরাল হলেন জুহি চাওলা

বিনোদন বাজার ॥ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে বলিউডের জনপ্রিয় নায়িকা জুহি চাওলার পোশাক বদলানোর ভিডিও। হঠাৎ করেই এই নায়িকার পোশাক বদলানোর একটি ভিডিও সামনে এসেছে। যে ভিডিও নিয়ে তোলপাড় নেট দুনিয়া। ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, কোনো এক খোলা প্রকৃতির মাঝে ঘুরতে বেরিয়ে প্রচুর বৃষ্টির মধ্যে পড়েছেন। হঠাৎ বৃষ্টি আসায় পথের পাশে দাঁড়ানোর জায়গা পাচ্ছিলেন না তিনি। বৃষ্টিতে ভিজে যায় তার হলুদ রংয়ের ফ্রক। এই সময় কাঠের পরিত্যক্ত একটি বাড়ি চোখে পড়ে তার। দৌড়ে সেই বাড়িতে ঢুকে পড়েন জুহি। চারপাশ ফাঁকা, কেউ নেই। তাই পোশাক বদলাতে থাকেন নায়িকা। কিন্তু ওই কাঠের বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন আরো একজন। দরজার ফাঁক থেকে সে দেখতে থাকে নায়িকাকে। তবে ভিডিওটি নতুন নয়, পুরনো। দেখেই বোঝা যাচ্ছে এটি কোনো সিনেমার অংশ। জুহি চাওলা ১৯৮৪ সালের মিস ইন্ডিয়া হয়েছিলেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে হিন্দি, বাংলা, পাঞ্জাবি, মালয়ালাম, তামিল, কন্নড় এবং তেলেগু চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। ১৯৮৬ সালে সুলতানাত চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অভিষেক হয় তার। ১৯৮৮ সালে তার অভিনীত ‘কায়ামত সে কায়মাত তাক’ সিনেমাটি সুপার হিট হয়। এই চলচিত্রের জন্য ফিল্মফেয়ার পুরস্কার লাভ করেন। এরপর অনেক জনপ্রিয় সিনেমা উপহার দিয়েছেন। অনেক দিন হলো নতুন কোনো সিনেমায় দেখা যায়নি তাকে।

জন্মদিন নিয়ে কোন পরিকল্পনা থাকে না জাহিদ হাসানের

বিনোদন বাজার ॥ গত শুক্রবার মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘সাপলুডু’তে অভিনয়ের জন্য প্রশংসিত হচ্ছেন অভিনেতা জাহিদ হাসান। এর আগেও তিনি তৌকীর আহমেদ পরিচালিত ‘হালদা’ সিনেমাতে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য প্রশংসিত হয়েছিলেন। জাহিদ হাসান অভিনয়ে সবসময়ই নিজেকে অনেকটাই ভিন্ন পথে চলার চেষ্টা করেছেন। হোক তা টিভি নাটকে কিংবা সিনেমায়। যার কারণে বহুমাত্রিক চরিত্রে তার উপস্থিতি দর্শককে মুগ্ধ করেছে সবসময়ই। পরিচালনাতেও সফল তিনি। জাহিদ হাসান বলেন, পরিচালনাটা সবসময়ই আমার কাছে শখের কাজ। আমার পরিচয় আমি অভিনেতা। আমাদের নায়করাজ রাজ্জাক, আলমগীর তারা যতই পরিচালনা করুন না কেন, তাদের বড় পরিচয় তারা অভিনেতা। তেমনি আমিও তাই। নিজের একান্ত শখের কাজ হিসেবে আমি মাঝে মাঝে পরিচালনার কাজটি করি। তবে এটা ভাবার অবকাশ নেই যে, শখের কাজ বলে আমি এ কাজে অভিনয়ের মতো সিরিয়াস না। অভিনয়টা আমার কাছে যেমন গুরুত্বপূর্ণ, একই রকম পরিচালনাটাও। এদিকে গতকাল ছিল জাহিদ হাসানের জন্মদিন। জাহিদ হাসান বলেন, জন্মদিন নিয়ে কখনোই আমার কোনো রকম বাড়তি পরিকল্পনা থাকে না। এই দিনে আমি শুটিং করি না, পরিবারের সঙ্গেই সময় কাটে আমার। যাদের ভালোলাগে তারা সরাসরি আমার কাছে চলে আসে। মূলকথা আমি সবার কাছে দোয়া চাই, আল্লাহ যেন আমাকে সুস্থ রাখেন, ভালো রাখেন।

মঞ্চায়ন হলো ‘দ্রৌপদী পরম্পরা’

বিনোদন বাজার ॥ মহাভারতের দ্রৌপদী চরিত্র অবলম্বনে নাটকের দল থিয়েটার (মতিঝিল) শিল্পকলা একডেমিতে মঞ্চায়ন করেছে তাদের নিয়মিত প্রযোজনা ‘দ্রৌপদী পরম্পরা’। বৃহস্পতিবার (৩অক্টোবর) সন্ধ্যায় জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে মঞ্চায়ন হয় নাটকটি।মহাভারতের দ্রৌপদী চরিত্রটি যে কথাগুলো বার বার বলতে চেয়েও বলতে পারেনি, তবে নাটকের দ্রৌপদী অপ্রিয় সত্য কথাগুলোই বলেছেন। মহাভারতের সময়ে ঘটনায় তাকে যেভাবে নিগৃহীত হতে হয়েছে সেই চিত্র সমকালের আয়নায় উন্মোচনের চেষ্টা করা হয়েছে এ নাটকটিতে।প্রবীর দত্ত রচিত ও নির্দেশিত এই নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন আকেফা আলম ইতি, ইউশা আনতারা প্রপা, রিজভীনা মৌসুমী, রফিকুল ইসলাম রফিক, তৌহিদুল ইসলাম বাদল, শাহরিয়ার ইসলাম, শংকর চন্দ্র সরকার, লেনিন ফিরোজী, প্রবীর দত্ত, তুহিন চৌধুরী, আরিফ রাব্বানী প্রমুখ।অন্যদিকে একই সময়ে একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার স্টুডিও থিয়েটার হলে মঞ্চায়ন হয় পদাতিক নাট্য সংসদ প্রযোজিত একক নাটক ‘গহন যাত্রা’।