এবার চীনের প্রতি বাইডেনের বিরুদ্ধে তদন্তের আহ্বান ট্রাম্পের

ঢাকা অফিস ॥ গোপন ফোনালাপে বিদেশি সরকারকে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি তদন্তের জন্য চাপ দিয়ে পার্লামেন্টারি শুনানির মুখে পড়া ডনাল্ড ট্রাম্প অভিশংসনের ঝুঁকির তোয়াক্কা না করেই এবার সবার সামনে চীন সরকারের প্রতি একই আহ্বান জানান। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজের লনে সংবাদিকদের তিনি বলেন, “চীনের উচিত জো বাইডেনকে নিয়ে তদন্ত শুরু করা।” সম্প্রতি এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভ­দিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনালাপের তথ্য ফাঁস করেন। গত ২৫ জুলাইয়ের ওই ফোনালাপে ট্রাম্প ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনৈতিক সুবিধা চেয়েছিলেন বলে অভিযোগ তার। ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন,  ট্রাম্প সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং তার ছেলে হান্টারের বিরুদ্ধে উঠা একটি দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করতে ইউক্রেইন সরকারকে চাপ দিয়েছেন। কথা মত কাজ না করলে ট্রাম্প এমনকি দেশটিকে দেওয়া মার্কিন সামরিক সহায়তা প্রত্যাহার করে নেওয়ার হুমকিও দেন। বৃহস্পতিবার এটা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, “ দেখুন, আমার মনে হয় যদি তারা এ বিষয় সৎ হয়ে থাকেন তবে তারা বাইডেনের বিরুদ্ধে বিস্তৃত তদন্ত শুরু করবেন। এটা খুবই সহজ উত্তর। “তাদের উচিত বাইডেন ও তার ছেলের বিরুদ্ধে তদন্ত করা। একই ভাবে চীনেরও বাইডেন পিতা-পুত্রের বিরুদ্ধে তদন্ত করা উচিত। কারণ, ইউক্রেইনের সঙ্গে যা ঘটেছে তারও চেয়েও বড় ঘটনা চীনের সঙ্গে ঘটেছে।” ট্রাম্পের অভিযোগ, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেমোক্রেটিক নেতা জো বাইডেন এবং তার ছেলে হান্টার ইউক্রেইন ও চীনের সঙ্গে রাজনৈতিক ও ব্যবসা সংক্রান্ত চুক্তি করার সময় দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন। যদিও ট্রাম্প তার দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত দেখাতে পারেননি। ২০১৪ সালে হান্টার বাইডেন ইউক্রেইনের প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি ‘বুরিসমা’ তে যোগ দেন। ওই সময়ই বাবা-ছেলের সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত হওয়ার আশঙ্কা করা হয়েছিল। তারপর ইউক্রেইনে রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হয় এবং রাশিয়াপন্থি প্রেসিডেন্টকে জোর করে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করা হয়। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বরাক ওবামা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জো বাইডেনই সেখানে মূলভূমিকায় ছিলেন। ২০১৬ সালে জো বাইডেন ইউক্রেইন সরকারকে তাদের শীর্ষ প্রসিকিউটর ভিক্টোর শোকিনকে বরখাস্ত করতে বাধ্য করেন। শোকিনের বাহিনীই ‘বুরিসমা’ গ্যাস কোম্পানির মালিকের বাণিজ্যিক নথিপত্র যাচাই-বাছাই করছিল। ট্রাম্প ও তার মিত্রদের অভিযোগে, বাইডেন আসলে তার ছেলেকে রক্ষা করতে এ কাজ করেছেন। ইউক্রেইন সরকার ও অন্যান্য পশ্চিমা কর্মকর্তা এবং বড় বিনিয়োগকারীরাও ওই সময় শোকিনকে সরিয়ে দিতে চাইছিলেন। কারণ দুর্নীতি বিরোধী অভিযান চালানোর কারণে শোকিন তখন সবার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। যদিও গত সপ্তাহে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শোকিনের উত্তরসূরি বলেন, জো বাইডেন বা হান্টারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো প্রমাণ নেই। তবে ট্রাম্প বলছেন, শুধু ইউক্রেইন নয় বরং বাইডেন আরো দেশের সঙ্গে ‘প্রতারণা’ করেছেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গের চীনের ‘ভারসাম্যহীন’ বাণিজ্য চুক্তির দায়ও বাইডেনের বলে মনে করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, “তারা (চীন) বাইডেনের মত লোকের সঙ্গে চুক্তি করে এবং ছেলেকে ১৫০ কোটি মার্কিন ডলার ধরিয়ে দেয়। হয়তো ওই কারণেই চীন অনেক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিজেদের সুবিধা মত বাণিজ্য চুক্তি করতে পেরেছে। তারা আমাদের দেশের সঙ্গে প্রতারণা করছে।”

ভেড়ামারা আলিম মাদ্রাসায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধকে জানি প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত

আল-মাহাদী ॥ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা আলিম মাদ্রাসার ৭ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের সাথে গতকাল সকাল সাড়ে ৯টায় চন্ডিপুর বধ্যভূমি পরিদর্শন শেষে মাদ্রাসার হলরুমে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধকে জানি বিষয়ক সরাসরি প্রশ্নোত্তর পর্ব চলে। এসময় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আজিজুল হক, আহত  যোদ্ধা (স্বজনহারা) রূপালী ব্যাংক কুষ্টিয়া জোনাল শাখার সিনিয়র পিন্সিপাল অফিসার আমির খসরু, ভেড়ামারা আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোঃ এসকেন্দার আলী ও মাদরাসার বিদ্যুৎসাহী সদস্য মোঃ রফিকুল ইসলাম প্রমূখ। ভেড়ামারা আলিম মাদ্রাসার ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা চন্ডিপুর বধ্যভূমি পরিদর্শন ও মুক্তিযোদ্ধাদের সাক্ষাতকার গ্রহনের সুন্দর একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি তৈরি করেন।

ইবির বিএড ও এমএড কোর্সের ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন

ইবি প্রতিনিধি ॥ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক এডুকেশন এন্ড রিসার্চ (আই.আই.ই.আর) এর অধীনে ব্যাচেলর অব এডুকেশন (বিএড) ও মাস্টার্স অব এডুকেশন (এমএড) এবং ডিপ্লোমা ইন লাইব্রেরী সায়েন্স-এর পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুর ২টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন একাডেমিক ভবনে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এবছর বিএড কোর্সের আসন সংখ্যা ৭৫, এমএড কোর্সের ৫০ এবং ডিপ্লোমা ইন লাইব্রেরী সায়েন্স কোর্সের আসন সংখ্যা ৮০। এবিষয়ে আই.আই.ই.আর’র পরিচালক প্রফেসর ড. মেহের আলী বলেন, ‘অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে বিএড, এমএড ও ডিপ্লোমা ইন লাইব্রেরী সায়েন্স’র ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে পরীক্ষার ফলাফল বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে (িি.িরঁ.ধপ.নফ) প্রকাশ করা হবে।’

হরিবাসর সার্বজনীন পূজা মন্দির কমিটির উদ্যোগে বস্ত্রদান কর্মসূচী

নিজ সংবাদ ॥ শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষ্যে, কুষ্টিয়া শহরের আড়–য়াপাড়াস্থ হরিবাসর সার্বজনীন পূজা মন্দির কমিটির উদ্যোগে বস্ত্রদান করা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় হরিবাসর সার্বজনীন পূজা মন্দির প্রাঙ্গনে এ বস্ত্রদান কর্মসূচীর শুভ উদ্বোধন করেন, উক্ত মন্দির কমিটির সভাপতি এ্যাডঃ সমীর কান্তি দাস। সার্বিক তত্বাবধানে ছিলেন হরিবাসর সার্বজনীন পূজা মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব পাল। এ সময় হরিবাসর সার্বজনীন পূজা মন্দির কমিটির উপদেষ্টা সুরজিত পাল, সহ-সভাপতি স্বপন দত্ত, সুভাষ মজুমদার, ডাঃ বিশ্বনাথ পাল বিশু, নন্দ প্রামানিক, মলয় কৃষ্ণ পাল, কোষাধ্যক্ষ সমীর বাগচী সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে এ বস্ত্রদান কর্মসূচী সম্পন্ন হয়। এতে প্রচুর লোক সমাগম ঘটে। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন উক্ত মন্দির কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সজল পাল।

ভেড়ামারায় নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা

আল-মাহাদী ॥ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা বাহিরচর ১২ মাইল মুন্সী পাড়ায় এক বিরাট  নৌকা বাইচ খেলার আয়োজন করে এলাকাবাসী। গতকাল শুক্রবার বিকালে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন এলাকার নৌকা অংশ করে। নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার ফাইনাল খেলায় তালবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নানের নৌকা ও মরহুম সাগর আলী মুন্সীর নৌকার মধ্যে তালবাড়ীয়ার আব্দুল হান্নান  চেয়ারম্যানের নৌকা বিজয় লাভ করেন। উক্ত নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা-১৯ এর অনুষ্ঠানে মোঃ রেজাউল মুন্সী’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় জাসদের সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব আব্দুল আলিম স্বপন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ভেড়ামারা উপজেলা জাসদের সাধারন সম্পাদক এস এম আনছার আলী, জাসদ নেতা বশির উদ্দিন বাচ্চু, বাহিরচর ইউনিয়ন জাসদের সাধারন সম্পাদক আবু হাসান আবু, জাসদ নেতা সাইদুর রহমান, মন্টু আলী, মজনু মুন্সী, মোঃ সেকেন মুন্সী, মতিয়ার রহমান প্রমূখ। খেলাটি পরিচলনা করেন উজির মুন্সী। খেলা শেষে বিজয়ীদের হাতে একটি খাশি ছাগল তুলে দেওয়া হয়।

গাংনীতে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ফরহাদ হোসেন

গাংনীর ডিসি ইকো পার্কটিকে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল সম্বলিত দৃষ্টিনন্দন বিনোদন কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলা হবে

গাংনী প্রতিনিধি ॥ জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ফরহাদ হোসেন এমপি বলেছেন- গাংনীর ডিসি ইকো পার্কটিকে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল সম্বলিত দৃষ্টিনন্দন বিনোদন কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলা হবে। ৩৩ একর জায়গা বিশিষ্ট ঐতিহ্যবাহী ভাটপাড়া নীল কুঠিতে একসময় জঙ্গল ছিল, মাদকাসক্তদের অভয়াশ্রম ছিল। এই পরিত্যক্ত এলাকাগুলোকে মানুষের বিনোদন কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলায় ছিল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিকল্পনা। বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ খুব দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। সারাবিশ্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। যে দেশে বিশাল বাজেট ঘোষনা করা রয়েছে। দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ, শতভাগ বিদ্যুৎ ঘরে ঘরে পৌছে দেয়া হয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও ভাল হয়েছে। দেশের উন্নয়নে জনপ্রতিনিধিদের ভাল ভাবে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে রাজাকার, আলবদর, আলসামস যারা স্বাধীনতা বিরোধী, তারা কিন্তু এখনও ষড়যন্ত্র করছে। বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের রাষ্ট্রের মন্ত্রী বানিয়ে যারা দেশ শাসন করেছিল তাদের দোষররা এখনও মাঝে মধ্যে আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টি করার পায়তারা করছ্।ে এদেশে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে বিশেষ করে ক্যাসিনো ব্যবসায়ীদের মূল উৎপাটন করা হচ্ছে। অবিলম্বে কাজলা নদী পূণঃখনন করা হবে। আগামী  ৩ মাসের মধ্যে সকল কাঁচা রাস্তা পাকাকরণ করা হবে। সর্বোপরি জননেত্রী শেখ হাসিনার সফল নেতৃত্বে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ফরহাদ হোসেন এমপি গতকাল শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩ টায় মেহেরপুরের গাংনীর কুঠি ভাটপাড়া ডিসি ইকোপার্কের উন্নয়নমূলক কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথাগুলো বলেন। তিনি বলেন,  দেশের মানুষকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে দেশকে এগিয়ে নিতে পারি। জেলা প্রশাসনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ফরহাদ হোসেন এমপি  ইকো পার্কে পৌছালে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলারা রহমান। এসময় জেলা মেহেরপুর-২ গাংনী আসনের জাতীয় সাংসদ মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান খোকন, জেলা প্রশাসক আতাউল গনি, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও গাংনী উপজেলা চেয়ারম্যান এম এ খালেক, সাবেক সংসদ সদস্য মকবুল হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভুমি) সুখময় সরকার, গাংনী থানার ওসি ওবাইদুর রহমান সহ  ইউপি চেয়ারম্যানবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসক ইকোপার্ক (কুঠি ভাটপাড়া) প্রাঙ্গনে উন্নয়নমূলক কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মেহেরপুর জেলা প্রশাসক আতাউল গনি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের জন প্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ও মেহেরপুর জেলা আ.লীগের সম্মানিত সভাপতি অধ্যাপক ফরহাদ হোসেন দোদুল এমপি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে ছিলেন মেহেরপুর-২ গাংনী আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ও গাংনী উপজেলা আ.লীগের সভাপতি মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান খোকন, মেহেরপুর পুলিশ সুপার এসএম মুরাদ আলী, মেহেরপুর জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও গাংনী উপজেলা চেয়ারম্যান এম এ খালেক, গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলারা রহমান, সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন প্রমুখ। অনুষ্ঠানের শুরুতেই জেলা প্রশাসক ও প্রতিমন্ত্রীকে উন্নয়নমূলক কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করায় ধন্যবাদ জানিয়ে স্বাগত বক্তব্য তুলে রাখেন, গাংনী উপজেলার সুযোগ্য নির্বাহী অফিসার দিলারা রহমান। ইউনিয়ন বাসীর পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সাহারবাটি ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক।  মেহেরপুরের বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বৃ আবু হাসনাত দীপুর সঞ্চালনায় এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এবাদত হোসেন, এলজিইডির উপ পরিচালক তৌফিকুর রহমান, গাংনী পৌরসভার মেয়র আশরাফুল ইসলাম, গাংনী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুখময় সরকার, এমপির পিএস ইমরান হোসেন, গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ ওবাইদুর রহমান, জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সম্পাদক ইব্রাহীম শাহিন, গাংনী উপজেলা আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি, সাহারবাটি ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম ফারুকসহ সকল ইউপি চেয়ারম্যানবৃন্দ, জেলা ও উপজেলা আওয়ামীলীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীরা ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেনি পেশার হাজার হাজার  লোকজন উপস্থিত ছিলেন। সন্ধ্যার পর অনুষ্ঠানের ২য় পর্বে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

রাজনীতি দুর্বৃত্তদের দখলে – মেনন

ঢাকা অফিস ॥ বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, রাজনীতির দখল নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। কিছু লোক ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতি ও লুটের মাধ্যমে বিশাল সম্পদের মালিক হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নেয়া সাম্প্রতিক অভিযান জনমতে আশার সঞ্চার করেছে। সফল করতে একে যৌক্তিক পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে হবে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে বরিশালের উজিরপুর মহিলা কলেজ মাঠে ওয়ার্কার্স পার্টির সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। রাশেদ খান মেনন বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এই দেশে এখনো অঘটন ঘটাতে মৌলবাদীরা তৎপর। ইউটিউব প্রচারে তারা সাম্প্রদায়িক হিংসা ছড়াচ্ছে। সকলের উচিত হবে এদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো। উজিরপুর উপজেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সম্পাদক ফাইজুল হক বালী ফারাহীনের সভাপতিত্বে সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা ও জেলা সভাপতি কমরেড নজরুল হক নিলু, সাধারণ সম্পাদক সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শেখ মো. টিপু সুলতান, ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা এটিএম শাহজাহান তালুকদার, সীমা রানী শীল, আলমগীর মৃধা প্রমুখ।

 

ভারত থেকে কিছু আদায়ে শেখ হাসিনা ব্যর্থ – রিজভী

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর নিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, ‘আগের সফরে প্রধানমন্ত্রী তিস্তার আধা লিটার পানিও আনতে পারেন নাই। সমতার ভিত্তিতে আদায় দূরে থাক, ভারতের কাছ থেকে শেখ হাসিনা একটা কানাকড়িও আদায় করতে পারেননি। অথচ প্রধানমন্ত্রী নিজ মুখেই বলেছেন, আমরা ভারতকে অনেক কিছুই দিয়েছি। কিন্তু কী দিয়েছেন তা জনগণ এখনও জানে না। জনগণ শুধু জানে ভারত থেকে কিছু আদায় করতে শেখ হাসিনা ব্যর্থ হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার দুপুরে নয়াপল্টনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঢাকা মহানগর পশ্চিম শাখা আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এ বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়। মিছিলটি বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে নাইটিঙ্গেল মোড় হয়ে আবার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। রিজভী বলেন, শুস্ক মৌসুমে পানি কম পাওয়ার কারণে বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে সেচকার্য, প্রাণী বৈচিত্র্য, জি-কে প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নিম্ন অববাহিকার অনেক ভেতরে লবণাক্ত পানি ঢুকে পড়ছে। এ বিপর্যয় এড়াতে আরেকটি গঙ্গা ব্যারেজ নির্মাণের জন্য ফিজিবিলিটি স্টাডিও সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু মাসখানেক আগে ভারতের সচিব এসে এই ব্যারেজ নির্মাণে ভারতের ক্ষতির দিক কিংবা লাভ হলে তাতে ভারতের অংশীদারিত্বের বিষয়ে আলোচনা করেছেন। কিন্তু ফারাক্কা ব্যারেজ নির্মাণের সময় কি এরকম স্টাডি করা হয়েছিল? প্রধানমন্ত্রী কী এসব প্রশ্ন করতে পারবেন? রিজভী আহমেদ প্রশ্ন রেখে বলেন, কোনো কোনো মন্ত্রী অতিউৎসাহী হয়ে বলছেন, বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক স্বামী-স্ত্রী কিংবা ভাই-বোনের মতো। কিন্তু কে স্বামী কে স্ত্রী বা কে বোন কে ভাই সেটি উল্লেখ করেননি, জনগণও এটি জানতে চায়। আমরা বিশ্বাস করি বন্ধু রাষ্ট্রের কাছ থেকে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করে সমতার ভিত্তিতে লেনদেন সম্ভব। কিন্তু নতজানু পররাষ্ট্রনীতি অবলম্বন করলে কেউই পাত্তা দেয় না। ক্ষোভ প্রকাশ করে রিজভী বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে শেখ হাসিনার “নো কম্প্রোমাইজ” বলাতেই প্রমাণিত হয় বেগম খালেদা জিয়া শেখ হাসিনার জেদ ও প্রতিহিংসার কারণেই কারাগারে বন্দি হয়ে আছেন। সেক্ষেত্রে আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়া কেবল মুখোশমাত্র। বেগম খালেদা জিয়ার বিয়োগান্তক পরিণতি না ঘটানো পর্যন্ত শেখ হাসিনার প্রতিহিংসা পূরণ হবে না। এ কারণেই বিনা অপরাধে বেগম জিয়াকে ধুকে ধুকে মারার জন্য তাকে বন্দি করে ষড়যন্ত্রের নিষ্ঠুর ছক আঁটা হচ্ছে। তবে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রকে বাঁচানোর শর্তই হচ্ছে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি। এ কারণেই তরুণদের ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। মিছিলে অন্যদের মধ্যে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঢাকা মহানগর পশ্চিমের সভাপতি কামরুজ্জামান জুয়েল, সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. রাজিব আহমেদ, সহ-সভাপতি মাহামুদুল হাসান বসুনিয়া, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সজীব আহমেদ রানাসহ বিভিন্ন থানা ও কলেজের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ সংগঠনটির নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

অভিযুক্ত রাব্বি আটক: মামলা দায়ের

গাংনীতে প্রেমের প্রস্তাবে রাজী না হলে কলেজে ছাত্রীকে জোরপূর্বক শ্লীলতাহানির অপচেষ্টা

গাংনী প্রতিনিধি ॥ গাংনীতে প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দিলে প্রকাশ্য দিবালোকে কলেজে জোরপূর্বক শ্লীলতাহানির অপচেষ্টা চালিয়েছে রাব্বি (২১) নামের এক যুবক। ছাত্রী উত্যক্তকারী শাহরিয়ার হোসেন রাব্বিকে কলেজ কর্তৃপক্ষ ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয় পুলিশ ক্যাম্পের ইনজার্জ এসআই অজয় কুমার বৃহস্পতিবার দিনগত রাত ১১ টার সময় তার নিজ বাড়ী থেকে আটক করে ক্যাম্পে পুলিশ হেফাজতে রাখে। গতকাল শুক্রবার সকালে গাংনী থানার ওসি ওবাইদুর রহমানের নির্দেশে থানা হেফাজতে নিয়ে আসা হয়। ডিস লাইন ব্যবসায়ী নারীলোভী লম্পট শাহরিয়ার হোসেন রাব্বি কাজীপুর বর্ডারপাড়ার রেজাউল হকের ছেলে। ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, গাংনীর সীমান্তবর্তী কাজীপুর ডিগ্রী কলেজের নতুন ৪ তলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবনে কলেজ চলাকালীন দুপুর সাড়ে ১২ টার সময়  কলেজের সিঁড়ি থেকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে কলেজের ১ম বর্ষের ছাত্রীকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে ৪র্থ তলার উপরের সিঁিড়তে নিয়ে (চিলে কোঠা) টানা হেঁচড়া করে এবং ছাত্রীর স্পর্শকাতর স্থানে জড়িয়ে ধরে শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায়। এসময় তাকে সহায়তাকারী কাজীপুরের সাজ্জাদ, ঘরামী পাড়ার মন্টুর ছেলে স্ঈাদ, ফরিদের ছেলে ফারুক ও হোসেন সিঁিড়র গেটে পাহারাদার হিসাবে অপেক্ষা করছিল। উদ্দেশ্য ছিল ছাত্রীটিকে পালাক্রমে ধর্ষন করার। এসময় শ্লীলতাহানির স্বীকার ছাত্রীর বান্ধবী ঝর্ণা অবস্থা বেগতিক দেখে তার ক্লাসের বন্ধু রুবেলকে বিষয়টি জানায়। রুবেল তার বান্ধবীকে উদ্ধারের জন্য পার্শ্ববর্তী তাইয়ূম আলীর সহযোগিতায় মেয়েটিকে উদ্ধার করে। ততক্ষণে লম্পট দল পালিয়ে যায়। এসময় কলেজের অধ্যক্ষ মোকাদ্দেসুর রহমানের অবর্তমানে ভাইস প্রিন্সিপাল রফিকুজ্জামান প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন। কলেজে  প্রকাশ্যে এরকম ঘটনায় অভিভাবকগন উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে দোষী ব্যক্তিদের উপযুক্ত শাস্তি চেয়ে গাংনী থানায় শিশু ও নারী নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেছে। কলেজ ছাত্রীর ভাই বাদী হয়ে মামলাটি করেন। স্থানীয় পীরতলা পুলিশ  ক্যাম্পের  আইসি এসআই অজয় কুমার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে কলেজ ক্যাম্পাসে যায় এবং ঘটনার সত্যতা পাই। রাতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত রাব্বিকে আটক করে। ঘটনার সাথে জড়িত সবাইকে আটক করা সম্ভব না হলেও অবিলম্বে তাদের আটক করা হবে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।  এব্যাপারে গাংনী থানা ইনচার্জ ওবাইদুর রহমান জানান, কলেজ ছাত্রী উত্যক্তকারী রাব্বিকে আটক করা হয়েছে।  শিশু ও নারী নির্যাতন দমন আইনের ১০(৩০) ধারায় মামলা হয়েছে। জড়িত অন্যান্যদেরকেও আটক করে আইনের আওতায় আনা হবে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

মুক্তির প্রশ্নে সরকারের সঙ্গে  আপস করবেন না খালেদা জিয়া – মওদুদ

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেছেন, মুক্তির প্রশ্নে সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করবেন না দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। দলীয় প্রধানের কারামুক্তির পথ খুলতে আদালতে জামিন আবেদনের বিরোধিতা না করতে বিএনপির আইনজীবী জয়নুল আবেদীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানানোর পরদিন একথা বললেন তিনি। গতকাল শুক্রবার রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় বিএনপি নেতা মওদুদ বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া কারও সঙ্গে আপস করবেন না, উনি কারও কাছে মাথা নত করবেন না। তিনি বাংলাদেশে এখন ১৬-১৭ কোটি মানুষের নেতা। “প্রয়োজন হলে আরও থাকবেন, কষ্ট সহ্য করবেন কিন্তু খালেদা জিয়া কোনো দিন এই সরকারের সঙ্গে আপস করবেন না।” দুর্নীতির দুই মামলায় দন্ড নিয়ে দেড় বছরের বেশি কারাবন্দি খালেদার সঙ্গে সম্প্রতি বিএনপির সাত সংসদ সদস্য দেখা করে আসার পর তার ছাড়া পাওয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। খালেদা প্যারোলে মুক্তি চান না জানিয়ে ‘রাজনৈতিক বন্দি’ হিসেবে তার জামিনের ব্যবস্থা করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করেছেন দলটির সংসদ সদস্যরা। তার প্রতিক্রিয়ায় আগের মতোই তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, খালেদা রাজবন্দি নন, ফলে তার জামিনের বিষয়টি পুরোপুরি আদালতের বিষয়। এরপরই বিএনপি সমর্থক আইনজীবীদের নেতা জয়নুল আবেদীন আবারও খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদন নিয়ে আদালতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে এক্ষেত্রে সরকারের ‘ছাড়’ চেয়েছেন। সরকারের ‘হস্তক্ষেপের কারণে’ খালেদা জিয়ার জামিন হচ্ছে না অভিযোগ করে তার আইনজীবী মওদুদ আহমদ বলেন, “বেগম জিয়া অবশ্যই জেলখানা থেকে বেরিয়ে আসবেন। হয় তার মুক্তি আইনি প্রক্রিয়ায় হবে, তা না হলে জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে তার মুক্তি হবে। অন্য কোনো পথে তার মুক্তি হবে না।” তবে জনতার ‘স্বতঃস্ফূর্ত গণবিস্ফোরণ’ ছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসনের মুক্তি হবে না বলে মনে করেন দলটির শীর্ষ পর্যায়ের এই নেতা। আগামীতে সেই আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নিতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। গত ছয় মাস ধরে চিকিৎসার জন্য বিএসএমএমইউ হাসপাতালে রয়েছেন খালেদা জিয়া। তার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্ট ও নিম্ন আদালত মিলে এখন ১৭টি মামলা বিচারাধীন। এর মধ্যে দুটি মামলায় (জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট ও জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা) জামিন পেলেই তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পেতে পারেন বলে তার আইনজীবীদের ভাষ্য। দুর্নীতি দমন কমিশনের এ দুই মামলায় তার ১৭ বছরের কারাদন্ড হয়েছে। জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১০ বছরের সাজার রায়ের বিরুদ্ধে খালেদার আবেদন আপিল বিভাগে এবং দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় নিম্ন আদালতের দেওয়া ৭ বছরের সাজার বিরুদ্ধে করা আপিল হাই কোর্টে বিচারাধীন। এই মামলার খালেদার দন্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলে মওদুদ আহমদ বলেন, “যে মামলায় খালেদা জিয়াকে সাজা দেওয়া হয়েছে দুদক বলল ২ কোটি টাকা এখন ৮ কোটি টাকা হয়ে গেছে। আজকে একটা পয়সাও তিনি স্পর্শ করেন নাই। কোনো কাগজে তার স্বাক্ষর নাই, ব্যাংক একাউন্ট ওপেন করেছেন সেখানেও তার স্বাক্ষর নাই, কোনো খানে তার কোনো সাক্ষী বলতে পারে নাই যে, এই ব্যাপারে উনি জড়িত ছিলেন। “কিন্তু সাজা হয়েছে। কারণ এটা একটা রাজনৈতিক মামলা ছিল, আইনগত মামলা ছিল না, আইন অনুসারে এই মামলা হয় নাই্। এই মামলা হয়েছে রাজনৈতিক ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটানোর জন্যে, প্রতিহিংসার রাজনীতির জন্যে।” এরপরেও এই মামলায় সাত দিনের মধ্যে খালেদা জিয়ার জামিন হওয়ার কথা ছিল বলে মনে করেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। “আজকে বেগম জিয়ার জামিন হয় না। তার কারণ, সরকার চায় না। সেজন্যই হয় না। রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেই আজকে আইন-আদালত সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রিত। সেখানে অন্য কোনোভাবে বিচারকদের কোনো মুক্তচিন্তা বা উন্মুক্ত বিবেক দিয়ে তারা এখন আর কাজ করতে পারেন না। তাদের মধ্যে ভয়-আতঙ্ক কাজ করে বেশি।” সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ- টেন্ডারবাজ ও জুয়াড়িদের বিরুদ্ধে সরকার যে ‘শুদ্ধি অভিযান’ চালাচ্ছে তাকে ‘ লোকদেখানো’ মনে করছেন সাবেক মন্ত্রী মওদুদ আহমদ। তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের ১০ বছর পরে এই অভিযান এটা চালাকি। এই অভিযান হল একটা ‘আইওয়াশ’। এটার কোনো গুরুত্ব, এটার কোনো তাৎপর্য আমরা দেখি না।” ১০ বছরে ক্ষমতাসীনরা ‘দুর্নীতির পাহাড়’ গড়েছেন মন্তব্য করে সাবেক-বর্তমান সব এমপি ও মন্ত্রীদের সম্পদের হিসাব জনগণের কাছে প্রকাশ করার আহ্বান জানান জানিয়েছেন এই বিএনপি নেতা। “তাহলে আমি বুঝব, আপনি সত্যিকার অর্থে সিরিয়াসলি এই অভিযান চালাতে চান। আর যদি তাদেরকে ঢাকা দিতে চান এবং কিছু শামীম, খালেদ, সম্রাট-এদেরকে স্কেপগোট করবেন? “এদের পেছনে কারা আছে? তাদেরকে যদি ধরতে পারেন তাহলে বলব যে, এই অভিযান সফল হয়েছে বা হতে পারে। আমরা জানি, এগুলো আপনারা কিছুই করবেন না। এটি অল্প সময়ের মধ্যে ধামাচাপা পড়ে যাবে, খবরের কাগজে তখন অন্য ইস্যু চলে আসবে, তখন আর আলোচনা হবে না।” অভিযানে গ্রেপ্তারদের কুকীর্তি প্রকাশের মধ্য দিয়ে সরকারের ‘মুখোশ’ খুলে গেছে বলে মন্তব্য করেন মওদুদ। তিনি বলেন, “এই সরকার দুর্নীতিতে নিমজ্জিত এবং সেটা তারা প্রমাণ করেছে। গত দুই সপ্তাহ যাবত যারা ধরা পড়েছে তারা প্রধানমন্ত্রীর দলেরই মানুষ, তারা তার অনুগত। আমাদের দেশে যারা ব্যাংক লুট করেছেন, যারা শেয়ারবাজার লুট করেছে, যারা আমাদের দেশের গরিব মানুষের অর্থ আত্মসাত করেছেন এবং তাদের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে, মালয়েশিয়াতে সেকেন্ড হোম হয়েছে, নিউ ইয়র্কে সম্পত্তি করেছে- এটা তো দুর্নীতির মাধ্যমেই করেছেন। দুর্নীতির মাধ্যমে ছাড়া এটা কী সম্ভবপর?” ঢাকার ক্লাবগুলোতে ক্যাসিনো পরিচালনার সঙ্গে প্রশাসন, রাজনীতিক, মন্ত্রী-এমপি, আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ও পুলিশ কর্মকর্তারা জড়িত ছিলেন বলেও অভিযোগ করেন মওদুদ আহমদ। জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের উদ্যোগে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এই আলোচনা সভা হয়। সংগঠনের সভাপতি ইশতিয়াজ আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাদেক খানের পরিচালনায় আলোচনা সভায় গণস্বাস্থ্য সংস্থার ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপির শওকত মাহমুদ, ফজলুর রহমান, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, শিরিন সুলতানা, রফিক শিকদারসহ মুক্তিযোদ্ধা দলের কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।

মাজিহাট হাইস্কুলের দ্বিতল ভবন সম্প্রসারন কাজের উদ্বোধন

মিলন আলী ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার কুর্শা ইউপির মাজিহাট হাইস্কুলের দ্বিতল ভবন সম্প্রসারণ কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। মাজিহাট হাইস্কুলের সভাপতি, সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন মিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামারুল আরেফীন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ইউনিয়ন আ.লীগের যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক মহন লাল, সাংগঠনিক সম্পাদক জহুরুল ইসলাম, মাজিহাট হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক ইকরামুল হক, আ.লীগ নেতা শহিদুল ইসলাম, আ.লীগ নেতা আলাউদ্দিন, মন্টু মন্ডল, আমবাড়ীয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারন সম্পাদক মুখেষ কুমার ঘোষ, যুবলীগ নেতা ও হালসা হাইস্কুলের পরিচালনা কমিটির নব-নির্বাচিত সদস্য  জগেষ কুমার ঘোষ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন কুর্শা ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারন সম্পাদক প্রভাষক রশিদ আহমেদ।

ষষ্ঠী পূজার মধ্যদিয়ে দৌলতপুরে ১৩টি মন্দিরে শুরু হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসব

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গা পূজা। কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এ বছর ১৩টি মন্দিরে শারদীয় দূর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গতকাল শুক্রবার ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে শারদীয় দূর্গোৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা। সকালে অল্পারম্ভ, বিহিত পূজা ও বোধনের মধ্য দিয়ে ষষ্ঠীর দিনের দূর্গা পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। বৃহস্পতিবার ছিল শারদীয়া দূর্গোৎসবের মহাপঞ্চমী তিথী। এদিন সন্ধ্যায় ছিল পূজার ঘট স্থাপন। অশুভনাশিনী, মানবকল্যাণ ও শক্তির দেবী জগৎজননী দেবী দুর্গা এবার কৈলাস  থেকে মর্তে এসেছেন ঘোড়ায় চড়ে। মা’কে বরণের মধ্যদিয়েই বেজে উঠেছে সনাতন ধর্মাবলম্বী ও বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠান শ্রীশ্রী দুর্গা পূজার ঢাক। সেই সঙ্গে শুরু হয়েছে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের আনন্দ উৎসব। এদিকে প্রতিটি পূজা মন্ডপকে সাজানো হয়েছে। আর এসকল মন্ডপে শোভা পাচ্ছে দেবী দূর্গা। দূর্গা পূজা উপলক্ষে প্রতিটি মন্ডপে আইনশৃংখলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বাড়িতি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার।

তিস্তা চুক্তি নিয়ে কী ভাবছেন ভারতীয়রা?

ঢাকা অফিস ॥ চার দিনের সফরে ভারতের উদ্দেশে বৃহস্পতিবার ঢাকা ছেড়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার ভারত সফরে তিস্তার পানিবণ্টন ইস্যু প্রাধান্য পাবে। তিস্তার পানি নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সদিচ্ছা রয়েছে বলে মনে করে বাংলাদেশ। কিন্তু পুরো বিষয়টি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির ওপর ন্যস্ত। মমতা রাজি না হলে খরা মৌসুমে ভারত হয়ে বাংলাদেশে পানি ঢুকবে না। এটিই দেখা গেছে বারবার। কেননা প্রথম দফায় ক্ষমতায় এসেই বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তাচুক্তির ব্যাপারে আন্তরিকতা দেখিয়েছিল মোদি সরকার। কিন্তু ভারতের আইন অনুযায়ী, সুনির্দিষ্ট রাজ্যের অনুমোদন না পেলে কেন্দ্রীয় সরকার সিদ্ধান্ত নিলেও তা কার্যত হয় না। যে কারণে তিস্তা-ফারাক্কা বিষয়ে বাংলাদেশ বারবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। তবে এবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে তিস্তা চুক্তির বিষয়ে বেশ আশাবাদী বাংলাদেশ। কূটনীতিকরা মনে করছেন, দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় এসে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি তথা মোদি সরকারের অবস্থান পূর্বের সব সময়ের তুলনায় শক্তিশালী। মমতা ব্যানার্জি আগের চেয়ে দুর্বল বলে মনে করা হচ্ছে। যে কারণে তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তির সম্ভাবনা দেখছে বাংলাদেশ। তবে বাংলাদেশ যাই ভাবুক তিস্তা চুক্তির বিষয়ে কী ভাবছেন ভারতের মানবাধিকারকর্মী, সমাজসেবী, লেখক, বুদ্ধিজীবী মহল। এ বিষয়ে জার্মানির গণমাধ্যম ডয়েচ ভেলে কয়েকজন ভারতীয় মানবাধিকারকর্মী, সমাজসেবী, লেখক, বুদ্ধিজীবীর মতামত ও বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে। গণমাধ্যমটি জানায়, পানিবণ্টন নিয়ে তাদের অনেকে মমতার পক্ষে মত দিয়েছেন। অনেকে আবার ভারতের মতো বাংলাদেশেরও তিস্তার পানি পাওয়ার অধিকার আছে বলে মনে করছেন। কেউ কেউ মনে করছেন তিস্তাচুক্তিকে ইগোর লড়াই হিসেবে নিয়েছেন মমতা। এ বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক প্রশাসনিক কর্তা মলয় হালদার বলেন, নদীর গতিপথ যখন প্রাকৃতিকভাবে নিয়ন্ত্রিত হতো, তখন কোনো দেশের একক সিদ্ধান্ত কার্যকর করা সহজ হতো না। এখন ভাটির দেশকে নির্ভর করতে হয় উজান দেশের মনোভাবের ওপর। তিস্তার পানি যেমন ভারতের, তেমনি বাংলাদেশেরও। শুধু উত্তরবঙ্গের কথা বলে আন্তর্জাতিক বন্ধুত্বকে বলি দেয়া সমীচীন নয়। তিস্তাচুক্তিতে মমতা ব্যানার্জির অবস্থানকে সাধুবাদের যোগ্য বলে মনে করেন কবি ও সমাজসেবী সুস্মিতা সর্বাধিকারী। তিনি বলেন, ভারতের যে যে রাজ্যের ওপর দিয়ে তিস্তা নদী প্রবাহিত হচ্ছে, বাংলাদেশের সঙ্গে পানিবণ্টন চুক্তিতে সেই রাজ্যগুলোর স্বার্থ অক্ষুণœ রেখে আন্তর্জাতিক স্তরে চুক্তিবদ্ধ হওয়া আবশ্যক। তা না হলে অন্যান্য পানিবণ্টন চুক্তির ক্ষেত্রে ভারত যে শিক্ষা পেয়েছে, এ ক্ষেত্রেও তা-ই হবে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির অবস্থান সাধুবাদের যোগ্য। তবে একেবারেই ভিন্ন মত দিলেন পশ্চিমবঙ্গের সমাজসেবী অসীম দাস।

নদীর পানি আটকে রাখার চেষ্টাকে নিজের অধিকারের এখতিয়ার বলে মনে করা নেহাৎ মূর্খমি বলে মনে করেন এই সমাজসেবী। তিনি বলেন, ভারত বা বাংলাদেশ উভয়েই কৃষিপ্রধান দেশ। কৃষিকাজ না হলে দুর্ভিক্ষ নেমে আসবে। বাংলাদেশকে তিস্তার পানি না দিয়ে ভারত যদি শুধু নিজের স্বার্থ দেখে, তা হলে ভবিষ্যতে নেপাল যদি ভারতকে ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি দিতে অস্বীকার করে, কী হবে তখন? বিষয়টিকে একেবারেই মানবিক দৃষ্টিতে দেখছেন ভারতের একটি বেসরকারি সংস্থার কর্মী পাপন মালাকার। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে একটা আত্মার টান অনুভব করি। আমরা পানি অপচয় করব আর প্রতিবেশী দেশের ভাইবোনেরা পানির অভাবে কষ্ট পাবে, এটা মন থেকে মেনে নিতে পারি না। তবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি যে যুক্তি দেখিয়েছেন তা নিয়েও আলোচনা প্রয়োজন। দুই দেশের মধ্যে সমবণ্টনের নীতি গ্রহণ করা উচিত বলে নিজের মত ব্যক্ত করেন সরকারি চাকরিজীবী কমলিকা ভট্টাচার্য। তিনি বলেছেন, তিস্তা একটি আন্তর্জাতিক নদী। এ ধরনের নদীতে কোনো একটি দেশ বা রাজ্যের একচ্ছত্র অধিকার থাকে না। সিকিম থেকে গজলডোবা পর্যন্ত তিস্তার ওপর বেশ কয়েকটি বাঁধ নির্মাণের কারণে বাংলাদেশের রংপুর-রাজশাহী অঞ্চল মরুর চেহারা নিচ্ছে। সে ক্ষেত্রে নদী বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে প্রতি বছর এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত শুকনো মৌসুমে দুই দেশের মধ্যে সমবণ্টনের নীতি গ্রহণ করা উচিত। একটি প্রকাশনী সংস্থার কর্মী অভিজিৎ চ্যাটার্জি এসব মানবিক দৃষ্টি ও আর্ন্তজাতিক আইনের ধার ধারেন না। যে বিষয়ে শুধু ভারত লাভবান সেটিই করা উচিত বলে মনে করেন এই ব্যক্তি। তিনি বলেন, তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তি হোক বা না হোক, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে নিজের রাজ্যে রাজনীতি করতেই হবে। তাই তাকে রাজ্যবাসীর স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রেখে কাজ করতে হয়। নদীর পানিতে কোনোরকম নিয়ন্ত্রণ না রেখে উত্তরবঙ্গকে বঞ্চিত করে বাংলাদেশকে পানি দেয়ার মধ্যে কোনো মহত্ব নেই। সবার আগে রাজ্যবাসীর দিকে তাকানো উচিত। কলকাতার একটি স্বনামধন্য কলেজের শিক্ষক মানবেন্দু সরকার বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে আসছেন। তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা করে প্রাথমিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর এটাই উপযুক্ত সময়। হাসিনা চাইছেন, নরেন্দ্র মোদি চাইছেন। সিকিমের মুখ্যমন্ত্রীও চাইছেন। বেঁকে বসেছেন মমতা ব্যানার্জি। এটা সৌহার্দের ছবি নয়। ভুল বার্তা যাচ্ছে। বিষয়টি মমতা ব্যানার্জির ওপরই ছেড়ে দিলেন কলকাতার সেই কলেজের শিক্ষার্থী রাখী বিশ্বাস। তিনি বলেন, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে তিস্তাচুক্তি নিয়ে আলোচনা চললেও তা ফলপ্রসূ হয়নি। ফলে তিস্তার পানির দিকে তাকিয়ে আছে বাংলাদেশ। মমতা ব্যানার্জিকেই ঠিক করতে হবে, উনি রাজনীতি করবেন, নাকি দেশের স্বার্থে প্রধানমন্ত্রীর পাশে দাঁড়াবেন। বনশ্রী কোনার নামে এক নারী বলেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যখন বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছেন, তখন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ‘ইগো’ নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনটি কখনই কাম্য নয়। দেশ তথা সার্বিক স্বার্থকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া উচিত। প্রসঙ্গত ১৯৮৭ সালের পর থেকে একতরফাভাবে তিস্তার পানি প্রত্যাহার করে নিচ্ছে ভারত। ফলে প্রতি বছরের নির্দিষ্ট সময় বাংলাদেশের তিস্তা অববাহিকায় পানি সংকট চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ফসলি জমি। জীবন হচ্ছে বিপন্ন। বিষয়টি নিয়ে বারবার তাগাদা দেয়ার পরও বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র ভারত থেকে সাড়া পাওয়া যায়নি। যদিও ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিসহ ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরে তিস্তা পানিচুক্তি সই করতে আসবেন বলে জানা গিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আসেননি তারা। তিস্তাচুক্তিও হয়নি আর। এরপর ২০১৫ সালে বাংলাদেশে এসেছিলেন মমতা। তবে ঢাকায় বসেই তিনি তিস্তার পানি দেয়া যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন।

দৌলতপুরে আব্দুর রাজ্জাক বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে এ্যাড. এজাজ আহমেদ মামুন

বর্তমান সরকার শিক্ষার প্রসার ঘটাতে ও উন্নত জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রেখে চলেছেন

শরীফুল ইসলাম ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আব্দুর রাজ্জাক মেধা বৃত্তি-২০১৮ প্রদান করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দৌলতপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আজগর আলীর সভাপতিত্বে বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাড. এজাজ আহমেদ মামুন। প্রধান আলোচক ছিলেন আরমা ওয়েল ফেয়ার সোসাইটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও আরমা গ্র“পের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রাজ্জাক। স্বাগত বক্তব্য রাখেন আব্দুর রাজ্জাক মেধা বৃত্তি পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও দৌলতপুর কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সরকার আমিরুল ইসলাম। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন দৌলতপুর সরকারী পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরাত আলী, বিডিএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইয়াকুব আলী, দৌলতখালী হাটখোলা বাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফিরোজ খান নুন ও বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী ফাতেমাতুজ্জহুরা সামা। পবিত্র কোরআন তেলোয়াতের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর জাতীয় সংগীত, উদ্বোধনী সংগীত ও কবিতা আবৃত্তির পর আলোচনা পর্ব শুরু হয়।

প্রধান অতিথি দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাড. এজাজ আহমেদ মামুন তার বক্তব্যে বলেন- শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। শিক্ষা জাতির ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারে। সেক্ষেত্রে বর্তমান সরকার শিক্ষার প্রসার ঘটাতে ও উন্নত জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রেখে চলেছেন। দৌলতপুরে শিক্ষার প্রসার ও মেধার বিকাশ ঘটাতে দৌলতপুরের কৃতিসন্তান আব্দুর রাজ্জাকেরও যথেষ্ট অবদান রয়েছে বলে তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন। প্রধান আলোচক আরমা ওয়েল ফেয়ার সোসাইটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও আরমা গ্র“পের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বৃত্তি প্রদান তখনই সার্থক হবে যখন শিক্ষার্থীরা প্রথম হওয়ার প্রতিযোগিতা না করে মেধা বিকাশের প্রতিযোগিতা করে নিজেকে গড়ে তুলতে পারবে। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, পারবো না এ কথাটি না বলে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। দেখবে একদিন তুমি করে দেখিয়েছো। তিনি বলেন, সৃষ্টির সেরা মানুষের জন্য কিছু করতে পারছি ভেবে নিজের কাছেও ভাল লাগে। আগামীতে কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেওয়ার ঘোষনা দেন আব্দুর রাজ্জাক মেধা বৃত্তির প্রধান পৃষ্ঠপোষক মো. আব্দুর রাজ্জাক। অনুষ্ঠানের সভাপতি দৌলতপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আজগর আলী শিক্ষকদের সম্মান জানানোর পাশাপাশি মেধার বিকাশ ঘটাতে অসম প্রতিযোগিতা না করে সুস্থ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নিজেকে গঠন করার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান। শেষে পঞ্চম থেকে নবম শ্রেণী পর্যন্ত ৯৫ জন বৃত্তিপ্রাপ্ত মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তির অর্থ ও সনদ তুলে দেন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ। বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন প্রভাষক শরীফুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগন অংশ নেন।

আজ মহাসপ্তমী

কুষ্টিয়ায় মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্যদিয়ে নবযুবক সংঘ সার্ব্বজনীন পূজার শুভ উদ্বোধন

সুজন কর্মকার ॥ আজ শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাসপ্তমী। এদিকে গতকাল শুক্রবার মহাষষ্ঠীতে কুষ্টিয়ায় মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্যদিয়ে ৩৮তম নবযুবক সংঘ সার্ব্বজনীন পূজার শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ৮ টায় কুষ্টিয়া শহরের আড়–য়াপাড়াস্থ নবযুবক সংঘ সার্ব্বজনীন পূজা মন্দির প্রাঙ্গনে এর শুভ উদ্বোধন করেন, কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন, পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত পি.পি.এম (বার), জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন’র সহ-ধর্মিনী মোসাঃ জাকিয়া সুলতানা, পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত’র সহ-ধর্মিনী শারমিন আরাফাত। এ উপলক্ষ্যে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন। নবযুবক সংঘ সার্ব্বজনীন পূজা মন্দির কমিটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক এবং কুষ্টিয়া জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি নরেন্দ্রনাথ সাহা’র সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত পি.পি.এম (বার), স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক মৃনাল কান্তি দে, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটির অন্যতম সদস্য ড. মোফাজ্জ্বেল হক, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ জেলা শাখার সভাপতি এ্যাডঃ সুধির শর্মা প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন নবযুবক সংঘ সার্ব্বজনীন পূজা মন্দির কমিটির সভাপতি বিমল কুমার সন্ন্যাসী। এ সময় সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সবুজ কুমার বসাক, নবযুবক সংঘ সার্ব্বজনীন পূজা মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক উত্তম সিকদার, উপদেষ্টা তারাদাস ভৌমিক, সহ-সভাপতি গণেষ জোয়ার্দ্দার, সদর উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি চিত্ত রঞ্জন পাল, সাধারণ সম্পাদক নিলয় কুমার সরকার, বীর মুক্তিযোদ্ধা রবীন্দ্রনাথ সেন সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 

দৌলতপুরে বন্যার পরিস্থিতি অপরিবর্তিত

রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের পানিবন্দী মানুষের দূর্ভোগ বাড়লেও ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত

শরীফুল ইসলাম ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বন্যা পরিস্থিতি এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। নতুন করে বাড়েনি পদ্মা নদীর পানি। পদ্মার হার্ডিঞ্জব্রীজ পয়েন্টে পানি বিপদসীমা অতিক্রম করলেও এখন পর্যন্ত অপরিবর্তিত রয়েছে। যদিও এখনও বিপদসীমার ৮সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। হার্ডিঞ্জব্রীজ পয়েন্টে পদ্মার পানি ১৪.৩৩ মিটার প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে পদ্মার পানি অপরিবর্তিত থাকলেও দুর্ভোগ কমেনি বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের। উপজেলার  চিলমারি ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ৩৭টি গ্রামের ১৫ হাজারেরও বেশী পরিবার এখনো পানিবন্দি রয়েছে। ঘরের মধ্যে কোমর পানিতে বসবাস করছে ৫ হাজার পরিবার। তারা চরম কষ্টে মানবেতর জীবন যাপন করছে। সরকারী বেসরকারীভাবে ত্রাণ সহায়তা বাড়ানো হলেও তা পর্যাপ্ত নয় বলে জানিয়েছেন বন্যাকবলিত এলাকার মানুষে। এদিকে বন্যা কবলিতদের মাঝে ত্রান তৎপরাতা অব্যাহত রয়েছে। গতকালও বন্যার্তদের মাঝে ত্রান বিতরণ করা হয়েছে। দৌলতপুর প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাইদুর রহমান জানান, গতকাল শুক্রবারও রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের বন্যার্তদের মাঝে ত্রান বিতরণ করা হয়েছে। ত্রান বিকরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান। উল্লেখ্য পদ্মা নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধির ফলে চিলমারী ইউনিয়নের ১৮টি গ্রাম এবং রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নে ১৯টি গ্রামসহ ৩৭টি গ্রাম বন্যা কবলিত হয়ে সব মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে। বন্যাকবলিত পানিবন্দী মানুষের দূর্ভোগ দূর্দশা চরম আকার ধারণ করেছে। বিশুদ্ধ পানি ও গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে।

মহাত্মা গান্ধীর দেহভস্ম চুরি

ঢাকা অফিস ॥ ভারতের জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর ১৫০তম জন্ম বার্ষিকীতে মধ্যপ্রদেশের সংরক্ষণাগার থেকে চুরি গেছে তার দেহভস্ম। পুলিশ একথা জানিয়েছে। উগ্রপন্থি এক হিন্দুর হাতে ১৯৪৮ সালে গান্ধী নিহত হওয়ার পর তার দেহভস্ম মধ্যপ্রদেশের রেওয়া জেলায় ‘বাপু ভবন’-এ সংরক্ষিত ছিল। চোরেরা তা চুরি করার পাশাপাশি গান্ধীর ছবির পোস্টারেও ‘দেশদ্রোহী’ কথাটি লিখে গেছে। হিন্দু ধর্মাবলম্বী হয়েও হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের চেষ্টা করার কারণে গান্ধীকে কিছু হিন্দু উগ্রপন্থি ‘দেশদ্রোহী’ হিসেবে বিবেচনা করে। বাপু ভবন সংরক্ষণাগারের তত্ত্বাবধায়ক মঙ্গলদ্বীপ তিওয়ারি বলেন, “আমি সকাল সকাল ভবনের দরজা খুলে দিয়েছিলাম। কারণ, সেদিন ছিল গান্ধীর জন্মদিন।  রাত ১১ টায় ফেরার পর দেখলাম গান্ধীর দেহভস্ম নেই এবং তার পোস্টারও বিকৃত করা হয়েছে।” স্থানীয় কংগ্রেস নেতা গুরমিত সিং অভিযোগের ভিত্তিতে রেওয়া পুলিশ এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। ঘটনাটির তদন্ত চলছে। গুরমিত সিং বলেন, “এই পাগলামি বন্ধ করতেই হবে। আমি রেওয়া পুলিশকে বাপু ভবনে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখার আহ্বান জানাচ্ছি।”

 

পারস্পরিক স্বার্থে কাজ করতে ভারত-বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ঢাকা অফিস ॥ বাংলাদেশ ও ভারত বর্তমানে সর্বকালের সেরা সম্পর্ক উপভোগ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উভয় দেশের ব্যবসায়ীদের নিজ নিজ জনগণের পারস্পরিক স্বার্থে কাজ করে এই অঞ্চলকে আরও সমৃদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আপনাদের সকলকে প্লাটফর্মটির সর্বোত্তম ব্যবহার করতে এবং আমাদের জনগণের পারস্পরিক বৃহত্তর স্বার্থে উভয় দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখার অনুরোধ করছি এবং এর মাধ্যমে আমরা আমাদের দেশ ও এই অঞ্চলকে আরও সমৃদ্ধ এবং ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত করতে পারবো।’ প্রধানমন্ত্রী গতকাল শুক্রবার নয়া দিল্লিতে আইসিটি মৌর্য হোটেলের কামাল মহল হলে ভারত-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরামের (আইবিবিএফ) উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রদত্ত ভাষণে একথা বলেন। আইবিবিএফের প্লাটফর্মের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশ ও ভারত সবচেয়ে ভাল সম্পর্ক উপভোগ করছে। রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও আপনাদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সুনিশ্চিত করতে প্রতিশ্র“তিবদ্ধ। প্লাটফর্মটি রয়েছে এবং আমরা আপনাদের প্রচেষ্টা সহজ করার জন্য সকল ধরনের সহায়তা প্রদানের জন্য প্রস্তুত রয়েছি।’ প্রধানমন্ত্রী ভারতের ব্যবসায়ীদের বংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং হাইটেক পার্কগুলোতে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘ বেশ কয়েকটি হাইটেক পার্ক প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগের জন্যও প্রস্তুত রয়েছে। মংলা, ভেড়ামারা ও মিরেরসরাইয়ে ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য তিনটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রস্তুত করেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের এই তিনটি ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলে ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের পর্যাপ্ত বিনিয়োগ আমাদের রফতানিযোগ্য খাতকে আরও প্রশস্ত করতে সহায়তা করবে।’ ‘আমরা সারাদেশে একশ’ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছি, যার মধ্যে প্রায় ১২টি তৈরী হয়ে গেছে যেখানে ৪টি অঞ্চল ৩টি দেশের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে’, যোগ করেন তিনি। এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে বাংলাদেশের গড়ে ওঠার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের কৌশলগত ভৌগলিক অবস্থান দেশটিকে এই অঞ্চলের অর্থনীতির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে ব্যাপক সম্ভাবনার সৃষ্টি করেছে। পশ্চিমে ভারত, উত্তর দিকে চীন এবং পূর্বদিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, বাংলাদেশ ৪ বিলিয়ন মানুষের বাজারের মাঝামাঝি রয়েছে। বৈশ্বিক সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) প্রবৃদ্ধির উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালে আমাদের সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বাংলাদেশে বৈশ্বিক এফডিআই’র ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি বৈদেশিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে প্রতি ক্রমবর্ধমান আস্থারই প্রতিফলন। ’ সংসদের প্রাসঙ্গিক আইন এবং দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ চুক্তির দ্বারা বিদেশি বিনিয়োগকে সুরক্ষা প্রদান করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে আরো বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ দেখতে চাই যেখানে ভারতীয় বড় বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে শিল্প স্থাপন করতে এবং আমাদের মধ্যে বিদ্যমান উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে উত্তর ভারতের রাজ্যগুলো এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোতে পণ্য রপ্তানী করতে পারে।’ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা জানি যে, বিশ্বের বেশিরভাগ বর্ধিষ্ণু অর্থনীতির দেশগুলো তাদের প্রতিবেশী দেশগুলিতেই তাদের প্রাথমিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের প্রকল্প গ্রহণ করেছে।’ একইভাবে ভারতীয় ব্যবসায়ী নেতারা আমাদের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে আরও এগিয়ে নিতে খুব বড় ভূমিকা পালন করেতে পারেন এবং ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ বা ‘সোনার বাংলাদেশ’ গড়ে তুলতে সক্ষম হব এবং এভাবেই আমরা আমাদের শহিদ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারি, বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে ভারতীয় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দকে দেশে সবচেয়ে উদার বিনিয়োগ নীতি বলবৎ থাকার বিষয়টি পুণরায় স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে সবচেয়ে উদার বিনিয়োগের পরিবেশ বিরাজ করছে। যার মধ্যে রয়েছে-বৈদেশিক বিনিয়োগের আইনী সুরক্ষা, উদার রাজস্ব ব্যবস্থা, মেশিনপত্র আমদানীর ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড়, আনরেসট্রিকটেড এক্সিট পলিসি, সম্পূর্ণ বিনিয়োগ ও পুঁজি নিয়ে চলে যাবার সুবিধাসহ নানাবিধ সুযোগ সুবিধা।’ এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, সংসদের প্রাসঙ্গিক আইন এবং দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ চুক্তির দ্বারা ও বিদেশি বিনিয়োগকে সুরক্ষা প্রদান করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের বিশাল জনসংখ্যা, যাদের বেশির ভাগের বয়স ২৫ বছরের কম, যারা অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক মজুরিতে নিযুক্ত হতে প্রস্তুত রয়েছেসহ বাংলাদেশের সম্ভাবনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘দ্রুত নগরায়নের ফলে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি এবং মধ্যবিত্ত শ্রেনীর ক্রমবর্ধমান প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশে বিনিয়োগকারীদের বাজার সম্ভাবনার দিকেই ইঙ্গিত করে।’ সন্ত্রাস এবং দুর্নীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ১৬২ মিলিয়ন জনসংখ্যা সমন্বিত একটি প্রগতিশীল ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র।’ দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্রমবর্ধমান প্রবণতা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত বছরগুলোতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে। বাণিজ্যের ভারসাম্য যদিও এখন পর্যন্ত ভারতের পক্ষে রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার। ২০১৮ সালে, বাংলাদেশে ৮ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি করে ভারত এবং বাংলাদেশ এই দেশটির আটতম বৃহত্তম রপ্তানী গন্তব্য। ভারতে আমাদের রপ্তানীও গত বছরের প্রথমবারের মতো ১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। সুতরাং, অগ্রগতি দৃশ্যমান, তবে, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আমাদের সম্পর্ক আরও গভীর করার অনেক সুযোগ রয়েছে।’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ভবিষ্যতে বাংলাদেশে পেঁয়াজসহ যে কোন পণ্যের রপ্তানি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত আগে থেকে জানানোর জন্য অনুরোধ জানান। তিনি হিন্দিতে বলেন, ‘হঠাৎ করে আপনারা বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিয়েছেন। আগে নোটিশ দিলে আমরা অন্য দেশ থেকে ব্যবস্থা করতে পারতাম। ভবিষ্যতে এমন কিছু করলে আগে জানালে ভালো হয়।’ শেখ হাসিনা তাঁর বাসায় রাঁধুনিকে রান্নায় পেঁয়াজ ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন বলেও রসিকতা করে জানান। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ভারতের শিল্প ও রেলমন্ত্রী পীযূষ গয়াল, বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুন্সী, ফেডাবেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)-ও সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, ভারতের কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির (সিআইআই)-র সভাপতি বিক্রম শ্রীকান্ত কিরলসকার, ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান চেম্বার্স অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি (এফআইসিসিআই)-র সভাপতি সন্দীপ সোমনি অ্যাসোসিয়েটেড চেম্বার্স অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি অব ইন্ডিয়া (এএসএসওসিএইচএএম)-এর সভাপতি বালকৃষ্ণ গোয়েঙ্কা। অনুষ্ঠানে ‘প্রতিশ্র“তিশীল বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি ভিডিও উপস্থাপনা পরিবেশিত হয়। অনুষ্ঠানে ভারতে শিল্প ও রেলমন্ত্রী পীযূষ গয়াল বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত এখন সবচেয়ে দৃঢ় সম্পর্ক উপভোগ করছে। তিনি সুসম্পর্কেও এই সুবিধা গ্রহণ করে দুই দেশের মানুষের উন্নতির জন্য অর্থনীতি এবং ব্যবসা-বাণিজ্য খাতকে আরও নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে উভয় দেশের ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য ভারসাম্য বজায় রাখার প্রয়োজনীযতার উপরও জোর দেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সী ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক এযাবতকালের মধ্যে সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছেছে। মোদিজি নিজে যাকে ‘সোনালী অধ্যায়’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, আমরা দৃঢ় আস্থাশীল যে ‘আগামী বছরগুলোতে আমরা এই সম্পর্ক আরো নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারবো।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত-বাংলাদেশ সহযোগিতার সম্পর্ক শুরু হয়েছে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধকালে। ১৯৭১-এর চেতনা সব সময় আমাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে দিক-নির্দেশনা দিয়ে আসছে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ভারত সরকার এবং দেশটির জনগণের কাছ থেকে যে সমর্থন ও সহযোগিতা বাংলাদেশ পেয়েছে প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে তা স্মরণ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভূরাজনৈতিক রূপান্তর ও চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও ‘পারস্পরিক স্বার্থ’ ও ‘অভিন্ন ভবিষ্যৎ’ গড়ে তোলার নীতির ওপর ভিত্তি করে আমরা আমাদের সম্পর্ক জোরদার ও সংহত করতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের সহযোগিতা নিরাপত্তা, জ্বালানি, যোগাযোগ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, সংস্কৃতি এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক ও যোগাযোগসহ সকল ক্ষেত্রে সম্প্রসারিত হয়েছে। গত ১০ বছরে বাংলাদেশের ব্যাপক অর্থনৈতিক অগ্রগতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা গত এক দশকে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক উন্নয়নে সক্ষম হয়েছি, যা উন্নয়নের মডেল হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেছে। বাংলাদেশকে বিশ্বের দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতিগুলোর অন্যতম দেশ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের তৈরি পোশাক রফতানিতে দ্বিতীয়, অভ্যন্তরীণ মৎস্য উৎপাদনে তৃতীয়, মিঠাপানির মৎস্য উৎপাদনে চতুর্থ, চাল উৎপাদনে চতুর্থ এবং রেমিটেন্স অর্জনে অষ্টম বৃহত্তম অবস্থানে রয়েছে। গত এক দশকে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাফল্য তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, গত ১০ বছরে আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধি গড়ে ৭ শতাংশ থেকে গত বছরে ৮.১ শতাংশে পৌঁছেছে এবং আশা করা হচ্ছে চলতি অর্থবছরে তা ৮.৩ শতাংশ দাঁড়াবে। তিনি বলেন, মুদ্রাস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৫.৪ শতাংশ, মাথাপিছু আয় ২০০৬ সালের ৫৪৩ মার্কিন ডলার থেকে ৩.৫ গুণ বেড়ে ২০১৯ সালে প্রায় ২০০০ মার্কিন ডলার দাঁড়িয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, রফতানি ২০০৫-০৬ সালের চেয়ে ৩ গুণ বেড়ে ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে দাঁড়িয়েছে ৪০.৫৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। প্রাইস ওয়াটারহাউস কুপার্স-এর পরিসংখ্যান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৩০ সাল নাগাদ বাংলাদেশ হবে বিশ্বের ২৯তম বৃহত্তম অর্থনীতি। বিশ্বব্যাংকে সাম্প্রতিক প্রকাশনায় বাংলাদেশকে বিশ্বের দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতির ৫টি দেশের অন্তর্ভুক্ত করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এইচএসবিসি ২০১৮ সালে তাদের রিপোর্টে উল্লেখ করেছে বাংলাদেশ ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্বের ২৬তম বৃহত্তম অর্থনীতি এবং দ্রুত বিকাশমান তিনটি অর্থনীতির একটি। এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংকের আউটলুক ২০১৯ রিপোর্টের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশ হবে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীর অঞ্চলের দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতি। তিনি বলেন, এই অর্জন সম্ভব হয়েছে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, সুশাসন, অব্যাহত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জোরদার সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতির সুবাদে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সব অর্জন বাংলাদেশকে ‘সোনার বাংলায়’ রূপান্তরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন পূরণের সাফল্য এনে দিয়েছে। যদি এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকে, যদি আমাদের লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে পারি আমরা আশা করি, ২০৪১ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে উন্নত দেশের পরিণত করা সম্ভব হবে। তিনি দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরো জোরদার করতে রাজনৈতিক কূটনীতির পাশাপাশি অর্থনৈতিক কূটনীতির উপরেও গুরুত্ব আরোপ করেন।

 

দুর্বৃত্তায়নের চক্র ভেঙে দিতেই অভিযান – কাদের

ঢাকা অফিস ॥ সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযান কোন ব্যক্তি গোষ্ঠী বা দলের বিরুদ্ধে নয়। এটি অপরাধী এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটি অভিযান। দুর্বৃত্তায়নের একটি চক্র রয়েছে এই চক্রটি ভেঙে দিতে হবে। এর জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনা উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন শুরু করা হয়েছে ঘর থেকে। গতকাল শুক্রবার কালে গাজীপুরের কালিয়াকৈর এলাকার খাড়াজোড়ায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ফোরলেন প্রকল্পের উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন এসে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান। তিনি আরও বলেন, যারা অপরাধী সেটা ঢাকা হোক অথবা দেশের যেকোনো জায়গায় হোক সারা বাংলাদেশের যে কোন অপকর্মকারী, যেখানে দুর্বৃত্তায়ন, চাঁদাবাজি, লুটপাট সেখানেই এই অভিযান চলবে। প্রধানমন্ত্রী দিল্লি যাওয়ার আগে বলে গিয়েছেন এই অভিযান শিথিল হবে না। খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে কাদের বলেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে একটি মেডিকেল বোর্ড রয়েছে। অসুস্থতার বিষয়ে বিএনপির দাবির সঙ্গে চিকিৎসকদের মতামতের সঙ্গতি নেই। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে বিএনপি এমপিরা আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। আমার মাধ্যমে তারা সরকারের উচ্চ পর্যায়ে বিষয়টি বিবেচনার কথা বলেছেন। আমার মনে হয় এখানে যেমন মানবিক বিষয়টি দেখতে হবে একইভাবে এখানে একটি আইনগত বিষয় রয়েছে। আইনগত বিষয়টি সরকারের হাতে নেই। এটা আমি বারবার বলেছি বারবার বলার চেষ্টা করেছি। প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা হয়েছে তবে এই বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে কোন রেসপন্স আসেনি। তিনি যদি জামিন পান এবং চিকিৎসকদের পরামর্শে চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার মত অবস্থা থাকে এবং সেই পর্যায়ে তার অবস্থার অবনতি ঘটে সেটা পরবর্তীতে বিবেচনা করা যাবে। পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সাথে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সড়ক ও জনপথের ঢাকা বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক সবুজ উদ্দিন খান, গাজীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুদ্দিন, জেলা পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার এবং সড়ক ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান দুবাইয়ে গ্রেপ্তার

ঢাকা অফিস ॥ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শহরে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের তালিকাভুক্ত পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান আহমেদ, যার নামে ইন্টারপোলের রেড নোটিসও ছিল। পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো) মহিউল ইসলাম বলেন, দুবাইয়ের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে কয়েকদিন আগে গ্রেপ্তার হন জিসান। তবে তার পরিচয় নিশ্চিত হয় বুধবার। “গ্রেপ্তার হওয়ার সময় তার হাতে ছিল ভারতীয় পাসপোর্ট। সেখানে তার নাম লেখা ছিল আলী আকবর চৌধুরী। পরে এনসিবি ঢাকা আর এনসিবি দুবাই মিলে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করে আমরা নিশ্চিত হই, গ্রেপ্তার এই আলী আকবর চৌধুরীই বাংলাদেশের শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান।” মহিউল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের তরফ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করে দুবাইয়ে পাঠানো হবে। পরে বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা সেরে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০০১ সালে যে ২৩ জন ‘শীর্ষ সন্ত্রাসীর’ তালিকা করেছিল, জিসান আহমেদ ওরফে মন্টি তাদেরই একজন। এই পলাতক আসামিকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছিল। গত শতকের শেষ এবং এ শতকের শুরুর দিকের বছরগুলোতে ঢাকার মতিঝিল, মালিবাগ, বাড্ডা, গুলশান, বনানীর ব্যবসায়ীদের কাছে জিসান ছিলেন আতঙ্কের নাম। তার চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির নানা গল্প সে সময় মানুষের মুখে মুখে ঘুরত। ২০০৩ সালের ১৪ মে ঢাকার মালিবাগে একটি হোটেলে জিসানকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযানে গিয়ে গুলিতে নিহত হন গোয়েন্দা পুলিশের দুই কর্মকর্তা। ওই হত্যাকান্ডে দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। এরপর জিসান গা ঢাকা দেন এবং ভারত হয়ে দুবাইয়ে চলে যান বলে ধারণা করা হয়। তাকে ধরতে বাংলাদেশ পুলিশের অনুরোধে রেড নোটিশ জারি করে ইন্টারপোল। সেই নোটিসে জিসানের বিরুদ্ধে হত্যা ও বিস্ফোরক বহনের অভিযোগ থাকার কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশের পাশাপাশি তার ডোমিনিকান রিপাবলিকের নাগরিকত্ব রয়েছে বলেও সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন দেশে না থাকালেও জিসান দুবাইয়ে বসেই ঢাকার অপরাধ জগতের ‘অনেক কিছু’ নিয়ন্ত্রণ করছিলেন বলে বিভিন্ন সময়ে খবর এসেছে গণমাধ্যমে। সম্প্রতি ক্যাসিনোকান্ডে যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া এবং ঠিকাদার জিকে শামীম গ্রেপ্তার হওয়ার পর জিসানের নাম নতুন করে আলোচনায় আসে। গত মাসের শেষে একটি সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে বলা হয়, শামীম ও খালেদকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করে জিসানের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পায় বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তখনই ভারতীয় পাসপোর্ট নিয়ে নতুন নামে জিসানের দুবাইয়ে অবস্থানের বিষয়ে নিশ্চিত হন তারা।

রংপুর-৩ আসনে ভোট গ্রহণ আজ

ঢাকা অফিস ॥ সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে শূন্য ঘোষিত রংপুর-৩ আসনে আজ শনিবার ভোট গ্রহণ হবে। নির্বাচন উপলক্ষে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শনিবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ১৭৫টি ভোটকেন্দ্র ভোট গ্রহণ করা হবে। পুরো নির্বাচন ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএমে) অনুষ্ঠিত হবে । নির্বাচনে নিরাপত্তার জন্য রয়েছে ১৮ প্লাটুন বিজিবি, র‌্যাবের ২০ ইউনিট এবং পুলিশ-আনসার সদস্য থাকবে তিন হাজার। ১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আর চারজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করেবেন। নির্বাচনে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে জাতীয় পার্টির প্রার্থী রাহগির আলমাহি সাদ এরশাদ রয়েছেন। এছাড়া দলের মনোনয়ন না পেয়ে এরশাদের ভাতিজা সাবেক সংসদ সদস্য হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোটরগাড়ি (কার) প্রতীক নিয়ে লড়াইয়ের মাঠে নেমেছেন। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন রিটা রহমান, আম প্রতীক নিয়ে এনপিপির শফিউল আলম, দেওয়াল ঘড়ি নিয়ে খেলাফত মজলিসের তৌহিদুর রহমান মন্ডল, মাছ প্রতীক নিয়ে গণফ্রন্টের কাজী মো. শহীদুল্লাহ বায়েজীদ লড়ছেন। গত ১৪ জুলাই এইচএম এরশাদ চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। এরপর ১৬ জুলাই এ আসনটি শূন্য হওয়ার গেজেট প্রকাশ করা হয়। রংপুর সদর-৩ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৪১ হাজার ২২৪ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২০ হাজার ৮২৩ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ২০ হাজার ৪০১ জন।