দৌলতপুরে বন্যার পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু 

বন্যার্তদের মাঝে ত্রান সরবরাহ অব্যাহত

রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের পানিবন্দী ১৫ হাজার পরিবারের দূর্ভোগ চরমে

শরীফুল ইসলাম ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বন্যার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের কোন গ্রামে বা বাড়ি আঙিনায় বন্যার পানি যেতে আর বাঁকী নেই। দুই ইউনিয়নের পানিবন্দী অসহায় পরিবারের চরম দুর্ভোগে পড়েছে। বাড়ির আঙিনায় ও ঘরের মধ্যে কোমর পানির মধ্যে অবর্ননীয় কষ্টে বসবাস করছেন প্রায় ৫ হাজার পরিবার। বাঁধ উপচে ও স্লুইচ গেট ভেঙ্গে বন্যার পানি ঢুকেছে ফিলিপনগর ও মরিচা ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামে। বন্যার পানি বৃদ্ধির তীব্রতায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের পানিবন্দী সব মানুষসহ ফিলিপনগর ও মরিচা ইউনিয়নের বন্যাকবলিতরা। এদিকে বন্যার পানিতে ডুবে সোহাগ (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকেলে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ভাগজোত কলনীপাড়া এলাকায় বাড়ির পাশে জলমগ্ন বন্যার পানিতে ডুবে ওই শিশুর মৃত্যু হয়। সে একই এলাকার ইকবাল হোসেনের ছেলে। বিকেলে বাড়ির পাশে বন্যার পানিতে পড়ে সে তলিয়ে যায়। পরে তার ভাষমান লাশ উদ্ধার করে এলাকাবাসী। এছাড়াও সাপসহ বিভিন্ন প্রকার বিষাক্ত পোকামাকড়ের উপদ্রব বেড়েছে। যার কারনে আতংকেও রয়েছে বানভাষীরা। তবে বন্যাকবলিতদের মাঝে ত্রান তৎপরাতা অব্যাহত রয়েছে। দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার জানিয়েছেন, গতকালও চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বন্যার্তদের মাঝে প্রতি প্যাকেট ১৬ কেজি পরিমান ৯০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন আরও ১০ টন চাল ত্রান হিসেবে বরাদ্দ দিয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার বন্যার্তদের মাঝে শুকনো খাবার সরবরাহ করা হবে। তিনি বলেন, বন্যার্তদের পাশে থেকে সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর রাখা হচ্ছে। উল্লেখ্য পদ্মা নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধির ফলে চিলমারী ইউনিয়নের ১৮টি গ্রাম এবং রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নে ১৯টি গ্রামসহ ৩৭টি গ্রাম বন্যা কবলিত হয়ে সব মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বন্যাকবলিত পানিবন্দী মানুষের দূর্ভোগ দূর্দশা চরম আকার ধারণ করেছে। বিশুদ্ধ পানি ও গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। প্রায় ১৫০০ হেক্টর জমির মাসকলাইসহ বিভিন্ন ফসল পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়ে কৃষকদের প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের বৈরাগীরচর এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ ভেঙ্গে পদ্মার পানি প্রবেশ করে বিভিন্ন এলকা প্লাবিত হয়েছে। ভুরকা এলাকায় স্লুইচ গেট ভেঙ্গে বন্যার পানি ঢুকে ভুরকা, বালিরদিয়াড়, মাজদিয়াড়, বৈরাগীরচর উত্তরপাড়া ও বৈরাগীরচরো বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ডুবে গেছে কৃষকের ফসল ও বাড়ি-ঘর। এদিকে পদ্মা নদীর পানি হার্ডিঞ্জ ব্রীজ পয়েন্টে বিপদসীমার ওপর প্রবাহিত হচ্ছে। কুষ্টিয়ার পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্য মতে, পদ্মা নদীতে হার্ডিঞ্জ ব্রীজ পয়েন্টে পানি প্রবাহের বিপদসীমা ১৪ দশমিক ২৫ সেন্টিমিটার। গতকাল বুধবার বিকেল পর্যন্ত পানি প্রবাহের মাত্রা ছিল ১৪ দশমিক ৩৩সেন্টিমিটার। যা বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

রেমিটেন্সে প্রণোদনা দেওয়া শুরু – অর্থমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ বাজেটের ঘোষণা অনুযায়ী প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিটেন্সের বিপরীতে ২ শতাংশ হারে নগদ সহায়তা দেওয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে অর্থনৈতিক ও ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। অর্থমন্ত্রী বলেন, “রেমিটেন্স বৈধ পথে আনার জন্য একটি প্রণোদনার ঘোষণা দিয়েছিলাম। ২ শতাংশ ক্যাশ ইনসেনটিভ ঘোষণা করা হয়েছে। এখন কেউ ব্যাংকে রেমিটেন্স পাঠালে ২ শতাংশ ইনসেনটিভ পাবে।” ১ জুলাই থেকে যে পরিমাণ টাকা পাঠানো হয়েছে, তার ভিত্তিতে প্রণোদনা পাওয়া যাবে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, “যারা রেমিটেন্স পাঠাচ্ছেন, তাদের অবহিত করতে চাই, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের পাওনা ইনসেনটিভ লস করবেন না। তাদের পাওনা তারা পেয়ে যাবেন। দু-একদিন লাগতে পারে পূর্ণাঙ্গভাবে শুরু করতে। সারা বিশ্বে আমরা সবাইকে এটি অবহিত করেছি।” ১ হাজার ৫০০ ডলার পর্যন্ত রেমিটেন্সের ক্ষেত্রে টাকার উৎস জানতে চাইবে না সরকার। কোনো কাগজপত্রও চাওয়া হবে না। অর্থমন্ত্রী বলেন, “এর বেশি হলে কাগজ দিতে হবে। প্রতি ট্রানজেকশ ১৫০০ ডলারের মধ্য থাকলে, দিনে যতবার ইচ্ছা করতে পারবে। প্রতি ট্রানজেকশনের জন্য ২ শতাংশ পাবে।” এ ঘোষণার পর রেমিন্টেসে গতি বৃদ্ধি পেয়েছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, গত তিন মাসে রেমিন্টেস প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৫-১৬ শতাংশ। ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনার ঘোষণা দেওয়া হয়। ঘোষণা অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে প্রবাসীরা ১০০ টাকা দেশে পাঠালে ২ টাকা প্রণোদনা পাবেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম রেমিটেন্সে এ ধরনের প্রণাদনা দেওয়া হচ্ছে। বাজেটে এ জন্য ৩ হাজার ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রবাসীরা এক হাজার ৬৪১ কোটি ৯৬ লাখ ডলারের রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন। চলতি অর্থবছরে তা ১৮০০ থেকে ২০০০ কোটি ডলার হবে বলে অর্থমন্ত্রী আশা করছেন। নতুন অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ১৬০ কোটি ডলারের রেমিটেন্স দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। যা মাসের হিসাবে বাংলাদেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। আর গত বছরের জুলাই মাসের চেয়ে ২১ দশমিক ২০ শতাংশ বেশি।

ইমামদের সরকারি চাকরির আওতায় আনা উচিত – বেনজীর

ঢাকা অফিস ॥ জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই ‘সহজ’ করতে সব মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সরকারি বেতন কাঠামোর আওতায় আনার প্রস্তাব করেছেন র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমদ। গতকাল বুধবার ‘যুব সমাজের ক্ষমতায়নের মাধ্যমে উগ্রবাদিকরণ ও সহিংস চরমপন্থা রোধ’ শিরোনামে রাজধানীতে আয়োজিত এক আলোচনায় তিনি এ মত তুলে ধরেন। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সকলের সম্পৃক্ততা প্রয়োজন মন্তব্য করতে বেনজীর বলেন, ইসলামে নিষিদ্ধ সন্ত্রাসবাদ ও মাদকের বিরুদ্ধে জুমআর খুতবায় কিছু বলেন না। “আমরা দেখি তারা রাজনৈতিক বক্তব্য দেন। আপনারা (ইমামরা) রাজনীতি করতে চাইলে করেন, কিন্তু মসজিদকে ব্যবহার করবেন না।” র‌্যাবপ্রধান বলেন, অনেক চেষ্টার পরেও সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে সাধারণ বিবৃতি দিতে বাংলাদেশের ইসলামী নেতাদেরকে এক জায়গায় আনা যায়নি। “আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি, সব ইমামকে সরকারি চাকরির আওতায় আনা উচিত। তাহলে এটা সহজ হবে। তাহলে আমরা অনেক কিছুই করতে পারব।” জাতীয় বাজেটের আকারের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমার মনে হয় মসজিদের সংখ্যা ৭ লাখের বেশি হবে না। তাদের বেতন দেওয়ার ক্ষমতা বাংলাদেশ সরকারের আছে।” ঢাকার লেকশোর হোটেলে বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইন্সটিটিউটের আয়োজনে আলোচনায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবুল মোমেন উপস্থিত ছিলেন। বিএনপি-জামায়াতের শাসনামলে দেশজুড়ে ব্যাপক জঙ্গি তৎপরতা ২০০৭ সালে সেনানিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু ২০১০ সালে যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে আন্দোলন গড়ে উঠলে আবার এই তৎপরতা দৃশ্যমান হয়; বেশ কয়েকজন ইসলামী চরমপন্থীদের হাতে খুন হন। কিন্তু ২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানের হোলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় সন্ত্রাসী হামলায় ২০ নিহত হওয়ার পর জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে নড়েচড়ে বসে সরকার। এরপর জনগণের সহায়তায় জঙ্গিবাদী সব গোষ্ঠীকে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে দাবি করেন র‌্যাব মহাপরিচালক। “তবে, সন্তুষ্টির কোনো সুযোগ নেই। বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ নির্মূল না হলে শুধু বাংলাদেশ থেকে তা উচ্ছেদ করা খুবই কঠিন।” তিনি বলেন, এক্ষেত্রে ইন্টারনেটে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে হাজির হয়েছে। কারণ, জঙ্গিবাদ ও চরমপন্থাকে উৎসাহিত করতে ফেইসবুক, টুইটার ও ব¬গে লাখ লাখ বিষয়বস্তু ঘুরে বেড়াচ্ছে। অন্যদিকে, নিরুৎসাহিত করার জন্য খুবই আছে। “

ইবির ভর্তি পরীক্ষায় প্রতি আসনে লড়বে ২৭ জন

ইবি প্রতিনিধি ॥  ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) শ্রেণীর ১ম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার আবেদন প্রক্রিয়া মঙ্গলবার রাত ১২টায় শেষ হয়েছে। এ বছর মোট ২৩০৫টি আসনের বিপরীতে ৬১ হাজার ৯৪২ জন ভর্তিচ্ছু আবেদন করেছে। এতে প্রতি আসনের বিপরীতে লড়বে ২৭ জন শিক্ষার্থী। গতকাল বুধবার (২ অক্টোবর) দুপুরে বিশ^বিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার টেকনিক্যাল উপ-কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান এ বছর আটটি অনুষদের অধীনে মোট চারটি ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সে অনুযায়ী,  ধর্মতত্ব তথা ‘এ’ ইউনিটে ২৪০টি আসনের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছে ২ হাজার ২২৩টি। মানবিক, সামাজিক বিজ্ঞান ও আইন তথা ‘বি’ ইউনিটে ১ হাজার ৬৫টি আসনের বিপরীতে আবেদন করেছেন ২৭ হাজার ৬৩৭ জন, ব্যবসায় প্রশাসন তথা ‘সি’ ইউনিটে ৪৫০টি আসেন বিপরীতে আবেদন করেছে ৮ হাজার ৯৩০ জন, বিজ্ঞান ও ইঞ্জিনিয়ারিং তথা ‘ডি’ ইউনিটে ৫৫০টি আসনের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছে মোট ২৩ হাজার ১৫২টি। ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র ডাউনলোড প্রক্রিয়া আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত চলবে। এছাড়া ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৪ থেকে ৮ নভেম্বর। উল্লেখ্য, ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট িি.িরঁ.ধপ.নফ থেকে জানা যাবে।

দেশীয় টেলিভিশন চ্যানেলের বাণিজ্যিক ট্রান্সমিশনের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

দেশের উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ উইপোকায় ধ্বংস করা থেকে রক্ষায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ, মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, তাঁর সরকার দেশের উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ উইপোকায় ধ্বংস করা থেকে রক্ষায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর একটি হোটেলে গতকাল বুধবার দেশের প্রথম কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১-এর মাধ্যমে সকল দেশীয় টেলিভিশন চ্যানেলের বাণিজ্যিক ট্রান্সমিশনের উদ্বোধনকালে একথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা চলতি বাজেটে ১৭৩ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছি। দুর্নীতিবাজ উইপোকারা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নকালে অর্থ লুটে নিচ্ছে। দেশের উন্নয়নের জন্য জনগণের কষ্টার্জিত অর্থের প্রতিটি পয়সার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতের জন্য আমাদের ওইসব উইপোকাকে আটক করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ, মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যহত রাখব। এই সব অপকর্মের সাথে জড়িত থাকলে দল, পরিবার নির্বিশেষে কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। আমি দেশের দরিদ্র মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন পূরণ করতে চাই।’ প্রধানমন্ত্রী কোন ধরনের প্রপাগান্ডা বা অপপ্রচার না করার জন্য গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, অপপ্রচারগুলো সরকারের বিরোধিতার নামে মানুষের মধ্যে অনাস্থা সৃষ্টির পাশাপাশি দেশে বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করে। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি আপনাদের কাছে আরেকটি আবেদন রাখতে চাই। আপনারা সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড তুলে ধরুন যাতে করে দেশবাসীর মনে সরকারের প্রতি বিশ্বাস ও আস্থা তৈরি হয় এবং তারাও উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখতে পারে।’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত গণমাধ্যম ব্যক্তিবর্গের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা বিরুদ্ধে বলেন, বিরোধিতা করেন, আমার তাতে কোন আপত্তি নেই। কিন্তু মিথ্যা বা অপপ্রচার যেন না হয় সে ব্যাপারে দয়া করে একটু সতর্ক থাকবেন।’ তিনি বলেন, ‘অপপ্রচার বা যাতে দেশ এবং মানুষের মনে অযথা সন্দেহ বা সংঘাত সৃষ্টি করে সে ধরনের সম্প্রচারের বিষয়ে আপনাদের একটু সতর্ক থাকতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘কিছু না হোক গোটা ১০ বছরে কিছু কাজতো আমরা করেছি সেটাকে তো আর অস্বীকার করা যাবে না। সেটাও একটু প্রচার করবেন, সেটাও আমরা চাই। কারণ, আপনি কাজের মধ্যদিয়ে তখনই সফলতা অর্জন করতে পারবেন যখন দেশের মানুষের মাঝে আত্মবিশ্বাস গড়ে উঠবে।’ ‘কাজেই এমন কিছু করা ঠিক হবে না যাতে করে মানুষ আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে, দিশেহারা হয়ে যায়। যেটুকু ভাল কাজ করেছি সেটুকুর প্রচার অন্তত আমি দাবি করি,’ যোগ করেন তিনি। তাঁর সরকার জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা ২০১৪ প্রণয়ন করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তথ্য কমিশন গঠনের পাশাপাশি নতুন নতুন বেসরকারি টিভি চ্যানেল এবং রেডিওকে অনুমতি দিয়েছে। কাজেই ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি দেশের উন্নয়নের তথ্যগুলো দয়া করে মানুষের কাছে একটু পৌঁছে দেবেন। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর মাধ্যমে বাণিজ্যিক সম্প্রচারের জন্য বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো চুক্তিবদ্ধ হওয়ায় মালিকদের ধন্যবাদ জানান শেখ হাসিনা। বিদেশি স্যাটেলাইট ভাড়া করে অতীতে সম্প্রচারের জন্য যে পরিমাণ টাকা খরচ হত এখন তা বেঁচে যাওয়ায় সে অর্থ তাঁরা কি কাজে লাগাবেন সে প্রশ্ন উত্থাপন করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কল্যাণে এর কিছু অংশ ব্যয় করার ও পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে দুর্যোগ মোকাবেলা, দুর্গম পাহাড় বা চর অঞ্চল বা হাওড় অঞ্চলের মানুষের কাছে টেলিমেডিসিন সেবা পৌঁছে দেওয়া, শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ই-এডুকেশন পদ্ধতি চালুর কথাও তুলে ধরেন। নিজস্ব স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ এর মাধমে সম্প্রচার শুরু হওয়ায় ইলেকট্রনিক সম্প্রচার মাধ্যমগুলোর অনেক বাধা দূর হবে বলে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এর মাধ্যমে পরনির্ভরশীলতা থাকবে না। আমরা নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ পেলাম।’ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা আশপাশের দেশগুলোর কাছেও অফার করেছি। তারাও চাইলে এর ট্রান্সপন্ডার ভাড়া নিতে পারবে। এখান থেকেও আমরা অর্থ উপার্জন করতে পারবো। এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনেক সহজে বার্তা পৌঁছাবে।’ দ্বিতীয় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপনেও দেশ  তৈরী হচ্ছে আভাস দিয়ে সরকার প্রধান বলেন, ‘একটা স্যাটেলাইটের নির্দিষ্ট সময় থাকে ১৫ বছর। এর মধ্যে আরেকটা আমাদের আনতে হবে। এর মধ্যে পাঁচ বছর হয়ে গেছে। দ্বিতীয়টা  তৈরি করা শুরু করেছি, সময় থাকতে নিয়ে আসব। সেটা আমরা একটু বড় আকারে করতে চাই।’ এ সময় প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে তাঁর সন্তান এবং তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয়েরও কৃতিত্ব তুলে ধরেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ আজ ডিজিটাল। আমি বাংলা সাহিত্যের ছাত্রী, ডিজিটাল শব্দটি আমি জানতাম না। এটা আমাকে দিয়েছিল সজীব ওয়াজেদ জয়।’ ’৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর বেসরকারি খাতে টেলিভিশনকে উন্মুক্ত করে দেওয়ার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তখন অনেকেই এত অভিজ্ঞ ছিল না, অতোটা সাড়াও পাইনি। কিন্তু যারা চেয়েছিল তাদের সকলকেই টেলিভিশন চ্যানেলের অনুমতি দিয়ে দেই।’ বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘দায়িত্ব নেওয়ার পর একটাই কর্তব্য মনে করি, সেটা হচ্ছে আমার বাবা এই দেশ স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন, এদেশের শোষিত-বঞ্চিত মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চেয়েছিলেন, দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চেয়েছিলেন। সেই দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোটাই হচ্ছে আমার একমাত্র কর্তব্য।’ ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ বিনির্মাণে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ ও পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ নিজের পায়ে দাঁড়াবে। কারো কাছে হাত পেতে চলবে না। আজকে আমাদের বাজেটের সমস্ত অর্থ আমাদের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে আসে। আর বিদেশি কিছু ঋণ সহযোগিতা থাকে সেটা ১০ থেকে ১৪ শতাংশের বেশী নয়। তিনি বলেন, এই নিজস্ব অর্থে নিজের পায়ে দাঁড়াবার যে সক্ষমতা আমরা অর্জন করেছি তা আমাদের ধরে রাখতে হবে। দেশব্যাপী একশ’ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় তাঁর সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আসবে, মানুষের কর্মসংস্থান হবে, উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে।’

‘কাজেই এই রপ্তানিকে আমরা বহুমুখি করতে চাই। কোন একটা পণ্যের ওপর নির্ভরশীল থাকতে চাই না, ’যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

ভারত সফরের আগে শেখ হাসিনাকে ইমরান খানের ফোন

ঢাকা  অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের আগের দিন তাকে টেলিফোন করলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। গতকাল বুধবার বিকালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর ফোন আসে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম। তিনি বলেন, “আজ বিকেলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোন করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী  ইমরান খান।” কী নিয়ে এই ফোন- জানতে চাইলে ইহসানুল করিম বলেন, “কুশলাদি বিনিময়। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চোখের বর্তমান অবস্থার খোঁজখবর নেন (ইমরান খান)। “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চোখের চিকিৎসার খোঁজখবর নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ধন্যবাদ জানান।” সম্প্রতি লন্ডনে শেখ হাসিনার চোখের অস্ত্রোপচার হয়েছে। জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশন থেকে ফেরা শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার ভারত সফরে যাচ্ছেন। জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক হয়েছিল শেখ হাসিনার। ইমরান খান জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিলেও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার কোনো বৈঠক হয়নি। উপমহাদেশের দুই পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক অবনতিশীল। এই বছরের শুরুতে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধাবস্থাও তৈরি হয়েছিল। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনেও দুই দেশ পরস্পরকে আক্রমণ করে বক্তব্য শানিয়েছে।

তাৎক্ষনিক সিসি ব্লক ও জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙ্গন প্রতিরোধ

৩০ মিটার পদ্মায়, ১০০ মিটার ঝুঁকির মধ্যে

কুষ্টিয়ার শিলাইদহ কুঠিবাড়ি রক্ষা বাঁধে ফের ধস

নিজ সংবাদ ॥  কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে শিলাইদহ কুঠিবাড়ি রক্ষা বাঁধ প্রকল্পে ফের ধস দেখা দিয়েছে। মাত্র তিন মাস আগে সংষ্কার করা ৩০ মিটার অংশ ফের পদ্মায় ধসে পড়েছে। গতকাল বুধবার সকাল ৯টার দিকে একবারে হঠাৎ করেই বাঁধ ধসে পানিতে চলে যায়। এতে বাঁধের ওপর কয়েক বাড়ির বাসিন্দারা চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। এই ৩০ মিটার ছাড়াও পাশে ১০০ মিটার বাঁধও গত বছর ভেঙ্গে যায়। সেই সংস্কার করা অংশটিও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। কুমারখালীর কয়া ইউনিয়নের কালোয়া গ্রামে এ অংশটি পড়েছে। বাঁধে ধ্বস দেখা দেয়ার পর দ্রুত পানি উন্নয়ন বোর্ড সিসি ব্লক ও জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙ্গা প্রতিরোধ করার চেষ্টা করছে। স্থাণীয় অভিযোগ করেছে অনিয়মের ফলেই বারবার এমন ঘটনা ঘটছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী পীযুষ কৃষ্ণ কুন্ডু বলেন, এ বছর পদ্মায় পানি বাড়ার অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন পানির লেবেল বাড়ছে। এতে করে সব বাঁধ নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। কুঠিবাড়ি রক্ষা বাঁধের যে অংশ ধসে পড়েছে তা সম্প্রতি সংস্কার করা হয়েছিল। গত বছরও এ অংশটি নদীতে চলে যায়। ভাঙ্গন শুরুর পর পরই ৯ হাজার ব্লকসহ জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ভাঙ্গন বন্ধ হয়ে গেছে। পানি কমলে বাঁধটির এ অংশ পুনরায় মেরামত করা হবে।

অনিয়মের বিষয়ে বলেন, এসব কাজে অনিয়ম করার কোন সুযোগ  নেই। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের পর্যবেক্ষণ দল এসব কাজ বুঝে নেয়। পানির চাপ বাড়লে অন্য স্থানেও ক্ষতি হতে পারে। তাই সব প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে।

সরজেমিন গিয়ে দেখা গেছে, ২০১৮ সালে বাঁধ নির্মাণের পরে কয়া ইউনিয়নের কালোয়া বাজার থেকে একটু দুরে পদ্মার নদীর একটি অংশে একযোগে নদীতে চলে যায়। তিন মাস আগে টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ করেন স্থাণীয় একজন ঠিকাদার। প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যায়ে ৩০ মিটার ভাঙ্গন কবলিত অংশ মেরামত করা হয়। তবে সংস্কারের পর তিনমাস টিকলো না মেরামত করা অংশ।

ঐতিহ্যবাহি কুঠিবাড়ি রক্ষায় ১৭৬ কোটি টাকা ব্যয়ে কুষ্টিয়ার কয়া ইউনিয়ন থেকে শুরু করে শিলাইদহ অংশে ৩ হাজার ৭২০ মিটার বাঁধ নির্মাণ করা হয়। কাজ শেষ হওয়ার দুই মাসের মধ্যেই কয়ার কালোয়া অংশে ভাঙ্গন শুরু হয়। দুই অংশ থেকে ১৫০ মিটার বাঁধ নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যায়। সে সময় কাজের অনিয়মের বিষয়টি তুলে ধরে স্থাণীয়রা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দোষারোপ করে।

স্থাণীয় বাসিন্দা মনির উদ্দিন বলেন,‘ সকাল ৯টার আগে এখান পাক শুরু হয়, আর বুদবুদ উঠতে শুরু করে। পরে একযোগে পুরো অংশ নদীতে বসে যায়। গতবছরও একইভাবে বাঁধ ধসে পড়ে। সংষ্কারের পর সবাই ভেবেছিল আর ধসে পড়বে না। তবে অনিয়ম আর যথাযথভাবে কাজ না হওয়াকে দায়ী করেন এলাকার মানুষ।

বাঁধের যে অংশ ধসে পড়েছে, তার ওপর একটি বসতভিটা রয়েছে। বাড়ির বাসিন্দারা জানান, এইবার দিয়ে তিনবার ভাঙ্গলো। সকালে ভাঙ্গন শুরু হওয়ার পর সবার মধ্যে আতঙ্ক। কান্নাকাটি চলছে। বাড়ি নদীতে চলে গেলে কি হবে সেই কথা ভাবছি। ইতিমধ্যে একটি ঘরের বেশ কিছুটা নদীতে চলে গেছে।

সকালে ভাঙ্গনের পর ধসে পড়া অংশে জরুরী ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ও সিসি ব্লক ফেলে ভাঙ্গন প্রতিরোধ করার চেষ্টা চলছে। সিসি ব্লক ফেলার পর নতুন করে আর ভাঙ্গন দেখা দেয়নি।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেছেন। ভাঙ্গন দেখতে এলাকার মানুষ ভীড় করেন।

শুধু এই ৩০ মিটার নয় পাশে আরো ১০০ মিটার বাঁধ গত বছর ধসে পড়ে। সেই অংশ সংষ্কার করেন একই ঠিকাদার। ওই অংশটিও যে কোন মুহুর্তে নদীতে বিলিন হয়ে যেতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন বলেন,‘ বিষয়টি শোনার পর পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেছি। নতুন করে আর কোন স্পট যেন ক্ষতিগ্রস্থ না যে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

কুষ্টিয়া-৪ আসনের সাংসদ সেলিম আলতাফ জর্জ বলেন, স্থাণীয়দের অভিযোগ বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম হয়েছে। পানি উন্নয়ন  বোর্ড ও ঠিকাদারের যোগসাজসে অনিয়মে হয়েছে বলে সবাই অভিযোগ করছে। বিষয়টি ক্ষতি দেখে তদন্ত করে শক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। বারবার কেন এরকম হবে।

২০১৫ সাল থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত শিলাইদহ কুঠিবাড়ির অদূরে পদ্মা নদীতে তীব্র ভাঙন শুরু হয়। এতে শঙ্কায় দিন গুনছিল স্থানীয় সচেতন মহলসহ এলাকার মানুষ। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ড নদী তীর সংরক্ষণে প্রকল্প গ্রহণ করে। ২০১৬ সালে  সেনাবাহিনীর তত্বাবধানে পানি উন্নয়ন বোর্ড কুঠিবাড়ি ও আশেপাশের জনপদ রক্ষায় ১৭৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে নদী তীর সংরক্ষণের কাজ শুরু হয়। শিলাইদহ এলাকায় পদ্মা নদীর ডান তীর এলাকায় প্রায় ৩ হাজার ৭২০ মিটার দীর্ঘ এ বাঁধ নির্মাণে ২০১৬ সালের ১৩ আগষ্ট বাংলাদেশ ডিজেরূপ্লান্ট (বিডিপি) লিমিটেড নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ পায়। তবে মূল ঠিকাদারের সহযোগি প্রতিষ্ঠান ওয়েষ্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং প্রাইভেট লিমিটেড মূলত এ কাজ বাস্তবায়ন করে।

শান্তনু ও রানার ‘অবাক যোগসূত্র’

বিনোদন বাজর ॥ সম্প্রতি ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে মতিঝিল, পুরান ঢাকা ও উত্তরায় শুটিং হলো ‘অবাক যোগসূত্র’ নাটকের । শফিকুর রহমান শান্তনু রচিত নাটকটি পরিচালনা করেছেন মাহমুদ হাসান রানা। অভিনয় করেছেন, জোভান, শিল্পী সরকার অপু, রুনা খান, আশরাফুল আশীষ, শিশুশিল্পী শরীফুলসহ আরো অনেকে।

 

নাটকের গল্পের প্রেক্ষাপট বেশ বড়। এখানে জোভানকে দেখা যাবে, গ্রামের খেটে খাওয়া এক সংগ্রামী যুবকের চরিত্রে। ভাগ্য উন্নয়নের জন্যে অনেক কিছু করেছে। বাপ দাদার সামান্য সম্বল জমি বেচে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করেছিল দালাল মারফত। বিদেশে গেলেও অবৈধ কাগজপত্রের কারণে নিঃস্ব হয়ে ফিরে আসতে হয়েছে। তাই স”ছলতা কখনো তাকে ধরা দেয়নি। সে তার মাকে নিয়ে ঢাকা এসেছে। আরেকদিকে রুনা খান একজন সংগ্রামী মা। তার ১২ বছরের ছেলে প্রতিবন্ধি। এই প্রতিবন্ধি সন্তানকে ঘিরে জটিলতার কারণে তার সংসার ভেঙে গেছে। সেও তার প্রতিবন্ধি ছেলেকে নিয়ে মফস্বল থেকে ঢাকা এসেছে। এখান থেকেই ঘটতে শুরু করে, একের পর এক চমকপ্রদ ঘটনা যার যোগসূত্র মেলাতে হলে অপেক্ষা করতে করে নাটকের শেষ দৃশ্য পর্যন্ত।

 

এ সম্পর্কে নাট্যকার শফিকুর রহমান শান্তনু বলেন, ‘জীবন ঘনিষ্ঠ এই গল্পটি আসলে মা ও সন্তানের চিরন্তন ভালোবাসার নতুন এক রূপ। যা দর্শককে ভাবাবে, কাঁদাবে।’ পরিচালক মাহমুদ হাসান রানা বলেন, ‘মন থেকে চেষ্টা করেছি একটা ভালো গল্পের মানসম্পন্ন নাটক বানাতে। তাই অল্প পরিসরে এত বিশাল আয়োজন করতে পিছপা হই নি। দর্শক তা পর্দায় দেখলেই বুঝবে।’ অবাক যোগসূত্র প্রযোজনা করেছেন আর এইচ তানভীর পিকচারস। সম্পাদনা শেষ হলে শীঘ্রই কোন স্যাটেলাইট চ্যানেলে প্রচার হবে নাটকটি।

৭৪-এ বিদায় নিলেন অপেরা কিংবদন্তী জেসি নরম্যান

বিনোদন বাজর ॥  আমেরিকান কিংবদন্তী অপেরাশিল্পী জেসি নরম্যান আর নেই। গত ৩০ সেপ্টেম্বর তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে। স্পাইনাল কর্ডের সমস্যার কারণে ২০১৫ সালে তার কয়েকটি অঙ্গ অচল হয়ে পড়ে। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেসির পরিবার থেকে বলা হয়—‘আমরা গর্ববোধ করি জেসির অর্জন ও অবদানের জন্য। অপেরার মধ্য দিয়ে তিনি পুরো বিশ্বের যে আনন্দ দিয়েছেন তার সবার জন্য অনুপ্রেরণা।’ জর্জিয়ার অগাস্টায় ১৯৪৫ সালে জন্ম নেন জেসি নরম্যান।

 

৭০-এর দশকে ইউরোপে নিজের অপেরা ক্যারিয়ার প্রতিষ্ঠিত করেন জেসি। ১৯৬৯ সালে বার্লিনে তার অপেরা অভিষেক হয়।

 

এরপর ১৯৮৩ সালে নিউইয়র্কে ‘মেট্রোপলিটন অপেরা’য় তার অভিষেক হয়। বিংশ শতাব্দিতে পুরোবিশ্ব মাতানো এই অপেরাশিল্পীকে শ্রদ্ধা জানিয়ে ১৯৯০ সালে জোর্জিয়ায় ‘জেসি নরম্যান এমপি থিয়েটার’ চালু করা হয়। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য সম্মাননা পান তিনি। সবচেয়ে কম বয়সী ব্যক্তি হিসেবে ১৯৯৭ সালে কেনেডি সেন্টার অনার লাভ করেন জেসি। ২০০৬ সালে সংগীতের সর্বো”চ সম্মাননা গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডে তাকে আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয়। এছাড়াও আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাকে ন্যাশনাল মেডেল অব আর্টস প্রদান করেন। রানি এলিজাবেথের ৬০তম জন্মদিন উৎসবে মূল আকর্ষণ ছিল জেসির অপেরা সংগীত।

প্রচারের অপেক্ষায় মোশাররফ করিমের নতুন তিন ধারাবাহিক

বিনোদন বাজর ॥ সময়ের জনপ্রিয় ও ব্যস্ত অভিনেতা মোশাররফ করিম। বছরের পুরোটা সময়ই খন্ড কিংবা প্রচার চলতি কোনো না কোনো ধারাবাহিক নাটকের অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত থাকেন।

 

এবার প্রচারের অপেক্ষায় রয়েছে তার অভিনীত নতুন তিনটি ধারাবাহিক নাটক।

 

নাটকগুলো হ”েছ সামস করিমের ‘হোসেন মিয়ার দোকানে আসা মানুষজন’, এ আর আকাশ ও রতন হাসানের ‘আক্কেলগঞ্জ হোম সার্ভিস’ ও আশরাফুজ্জামানের ‘হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা এখন ঢাকায়’। প্রথম ধারাবাহিক নাটকের একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করলেও পরের দুটিতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।

 

নতুন তিন ধারাবাহিক নাটক প্রসঙ্গে মোশাররফ করিম বলেন, ‘গল্প বেছে কাজ করি। গল্পে নতুনত্ব খুঁজি। যে তিনটি নতুন ধারাবাহিক নাটক প্রচারে আসছে বলে শুনেছি সবগুলোর গল্প চমৎকার। আমার চরিত্রগুলোও ভালোলাগার মতো। দর্শকদের জন্যই কাজ করা। আশা করছি এ তিনটি নাটক সবার পছন্দ হবে।’ নাটকগুলো শিগগিরই তিনটি আলাদা স্যাটেলাইট চ্যানেলে প্রচার করা হবে বলে নির্মাতারা জানিয়েছেন।

পূজার সময় ‘গৃহবন্দি’ কলকাতার অভিনেতা দেব

বিনোদন বাজর ॥ পূজার সময় নিজে গৃহবন্দির মতো থাকেন বলে মন্তব্য করেছেন কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেতা দেব। তিনি বলেন, পুজো মানে আমার কাছে ‘হাউজ অ্যারেস্ট’। আমি কোথাও বাইরে যাই না। বাড়িতে বন্ধুবান্ধবরা আসে। দেদার আড্ডা মারা হয়। আমিষের ওপরই থাকি। নানা রকম খাওয়া-দাওয়া চলে। পুজোর ভোগও আমার খুব প্রিয়। এই ভোগের গন্ধই আলাদা।

 

পশ্চিমবঙ্গে প্রভাবশালী সংবাদ মাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

 

পূজা উপলক্ষে গতকাল (২ অক্টোবর) মুক্তি পেয়েছে ‘পাসওয়ার্ড’।

 

এ বিষয়ে দেব বলেন, পুজোয় ‘পাসওয়ার্ড’ নিয়েই থাকব। প্রমোশন, দর্শকের কাছে যেন ঠিকঠাক পৌঁছাতে পারি এটাই হবে মূল লক্ষ্য।

 

তিনি বলেন, দর্শক আমাদের পরিশ্রমটা যাতে বুঝতে পারেন এই চেষ্টাটাই থাকবে। আসলে এই পুজোয় পাসওয়ার্ডের মাধ্যমেই ডার্ক ওয়েবের অজানা তথ্য মানুষের সামনে নিয়ে আসতে চাই।

 

দেব আরও বলেন, পুজোর ছবি বলে কথা, তাই প্রচারও চলছে সেই ছন্দেই। দর্শকের চাহিদাতেই মূলত কলকাতার ২১ পল্লীর পুজো মন্ডপে পাসওয়ার্ড ছবির পোস্টার প্রকাশ করেছি আমরা। বাংলার প্রথম সাইবার থ্রিলার বলা যেতে পারে এই ছবিকে। এই ছবি পরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনা, তাই স্বাভাবিকভাবেই আশা করছি দর্শকদের ভাল লাগবে।

 

পূজায় যা খাবেন দেব

 

খিচুড়ি, পাঁচমিশেলি তরকারি, লম্বা বেগুন ভাজা— আহা! সারা বছরের রেসিপি হয়তো এক, কিš‘ পুজোর দিনে এই খাবারই অন্যরকম লাগে। এগুলো তো খাওয়া হয়েই। আর তার সঙ্গে লুচি ও কষা মাংস। এটা পুজো ছাড়া আর খাওয়া হয় না। এ সময়ে বাড়িতে প্রচুর মিষ্টি আসে। অতিথিরা আনেন। আমি ডায়েটফায়েট ভুলে ঘুরতে-ফিরতে সে সবই খেয়ে নিই। বাকিটা পরে দেখা যাবে। পুজোয় কোনও নিয়ম চলবে না। বাড়ি, বন্ধু আর খাওয়া, ব্যস!

 

তবে সব ঠিক থাকলে এ বার দিল্লি যেতও পারি। একজনকে প্রমিজ করেছি তার জন্মদিনে দিল্লি যাব। আর হ্যাঁ, রু´িণী বলবে না, তাই আমি এখানে বলে দি”িছÑ রু´িণীর পুজোর পাসওয়ার্ড হ”েছ ‘দেব’।

‘মাসুদ রানা’র নায়িকা ইসাবেলা কাইফ!

বিনোদন বাজর ॥ শুটিং ফ্লোরে যাওয়ার আগেই আলোচিত সিনেমা ‘মাসুদ রানা’র নায়িকা চরিত্রে অভিনয়ের কথা ছিল বলিউডের শ্রদ্ধা কাপুরের। শেষ পর্যন্ত তিনি কাজটি থেকে সরে যাওয়ায় সিনেমাটিতে অভিনয় করবেন ইসাবেলা কাইফ। তিনি ক্যাটরিনা কাইফের ছোট বোন। নভেম্বর মাসেই ছবিটির শুটিংয়ে অংশ নেয়ার কথা রয়েছে তার। ‘মাসুদ রানা’ সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র খবরটি নিশ্চিত করেছে।

 

সিনেমাটি ভারতে পরিবেশনার দায়িত্বে থাকছে পরিবেশক প্রতিষ্ঠান ইরোজ নাউ। নায়িকার নাম স্বীকার না করলেও সিনেমাটির সহযোগী প্রযোজক মিঠু খান বলেন, ‘শ্রদ্ধার কাছ থেকে আমাদের এ মাসে শুটিংয়ের শিডিউল নেয়া ছিল। কিš‘ নানাবিধ সমস্যার কারণে আমরা ওই সময়ে শুটিং শুরু করতে না পারায় তিনি কাজটি করছেন না। তাই আমরা বিকল্প হিসেবে বলিউডের অন্য আরেকজন নায়িকাকে নি”িছ। তবে অফিশিয়ালি তার নামটি আমরা এখনই বলতে চাই না।’

 

গল্পের ‘মাসুদ রানা’, রুপা ও সোহেল চরিত্রে এ বি এম সুমন, জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়া ও সাঞ্জু জনের নাম শোনা যা”েছ। এ প্রশ্নের উত্তরে মিঠু বলেন, ‘ছবির মূল কাস্টিংয়ের জন্য অনেকেই অডিশন দিয়েছেন। এদের অনেকেই ফাইটিংসহ নানাবিধ ট্রেনিং করছে। সেগুলোর ভিডিও ছবির হলিউড টিম দেখবে। সবকিছুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তারাই নিবে।’ কাজী আনোয়ার হোসেনের জনপ্রিয় স্পাই থ্রিলার ‘মাসুদ রানা’র প্রথম বই ‘ধ্বংস পাহাড়’ অবলম্বনে নির্মিতব্য এ সিনেমার বাংলা নাম ‘মাসুদ রানা’ রাখা হলেও ইংরেজি ভাষায় বিদেশে মুক্তি দেয়া হবে মাসুদ রানার কোড ‘এমআর-নাইন’ নামে।

 

জাজ মাল্টিমিডিয়ার সঙ্গে হলিউডের সিলভারলাইনসহ আরো তিনটি প্রতিষ্ঠানের প্রযোজনায় ৮৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ছবিটি পরিচালনা করবেন আসিফ আকবর। অন্যদিকে ইসাবেলা কাইফ ১৬ অক্টোবর থেকে অভিনয় করবেন করণ বুটানি পরিচালিত ‘কথা’ সিনেমায়। এখানে তার বিপরীতে অভিনয় করবেন আয়ুশ শর্মা।

 মিরপুরে কৃষকদের প্রশিক্ষনকালে কৃষিবিদ চন্ডীদাস কুন্ডু

জৈব কৃষির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে নিরাপদ উদ্যানতাত্ত্বিক ফসল উৎপাদন ও সংগ্রহত্তোর প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় কৃষক/কৃষানীদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে মিরপুর উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে কৃষি প্রশিক্ষণ হলরুমে “নিরাপদ উদ্যানতাত্ত্বিক ফসল উৎপাদন ও সংগ্রহত্তোর প্রযুক্তি সম্প্রসারণ” প্রকল্পের আওতায় এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রমেশ চন্দ্র ঘোষের সভাপতি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইং এর পরিচালক কৃষিবিদ চন্ডী দাস কুন্ডু। এসময় তিনি বলেন, জমিতে বালাইনাশক ব্যবহারের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, মাটির গুণগতমান নষ্ট হচ্ছে, উদ্ভিদ-ফসলে ব্যাপকভাবে প্রভাব পড়ছে, বাদ যাচ্ছে না জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্যহীনতা। বালাইনাশকের মধ্যে কীটনাশক আবার বেশি ব্যবহৃত হয় কেননা এর প্রাপ্যতা আর পোকার পরিচিতি অনেক বেশি এবং দীর্ঘদিনের। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে  টোটাল কৃষি ব্যবস্থাই পাল্টে গেছে। এ পরিবর্তিত পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য বাংলাদেশে অঞ্চলভিত্তিক বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। বিভিন্ন প্রকল্প ও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে চাষাবাদ পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। অঞ্চলভিত্তিক বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষাবাদ প্রযুক্তি কৌশল বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হচ্ছে। কিন্তু এটাতো ঠিক স্থানীয় ও উন্নত চাষাবাদ প্রযুক্তি ও ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রধান বাধা তাপমাত্রার তারতম্য, বৃষ্টিপাতের ধারার পরিবর্তন, দিনের দৈর্ঘ্য মোটকথা প্রকৃতির  হেয়ালিপনা। আবহাওয়া জলবায়ুর তারতম্যের ফলে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর পোকা, পোকা বহনকারী রোগ বিভিন্ন ফসলে আক্রমণ করছে, যার ফলে ফলন কমে যাচ্ছে। চাষিরা ভালো ফলন না পেয়ে অভিযোজন বা খাপ খাওয়ানোর কৌশলসমূহ স্থায়ীভাবে ব্যবহার করছে না। কিছু কিছু এলাকায় বিভিন্ন ধরনের ফসল, ফল, শাকসবজিসহ অন্যান্য ফসল ভালো ফলন দেয়া শুরু করলেও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বর্তমানে আর তা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আরো বলেন, পরিবেশসম্মত বা পরিবেশবান্ধব কৃষি বাস্তবায়ন করতে হলে জৈব কৃষির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।  জৈব কৃষিতে জৈবসার, জৈব বালানাশক, জৈব ব্যবস্থাপনা প্রধান।  জৈবিক বালাই ব্যবস্থাপনার প্রধান উদ্দেশ্যই হচ্ছে বিভিন্ন পোকামাকড় ও  রোগ দমনের জন্য সমন্বিত বালাই দমনব্যবস্থা, উপকারী বন্ধু পোকার ব্যবহার, পোকার সেক্স ফেরোমন ব্যবহার করা। আইসিএম-আইপিএম পদ্ধতির মাধ্যমে কীটনাশকের ব্যবহারে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনেকখানি কমে যাবে এবং পরিবেশ সুরক্ষায় ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশে সমন্বিত বালাই দমন ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিতে ফসলে বালাই দমন দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত আছে। জৈবিকভাবে ফসলের বালাই দমন আইপিএমের একটি লাগসই প্রযুক্তি যা সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। জৈবিক পদ্ধতিতে বালাই দমন ব্যবস্থাপনায় যে সব উপাদান-পণ্য রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হলো উপকারী বন্ধু পোকার লালন ও পোকার সেক্স ফেরোমন ব্যবহার করা। তাই কৃষকভাইদের প্রতি আমাদের আহবান আপনারা নিরাপদ ফসল উৎপাদন করুন। এসময় বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে উপ-পরিচালক কৃষিবিদ শ্যামল কুমার বিশ্বাস, জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার সুশান্ত কুমার প্রামানিক, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিষ্ণু পদ সাহা, মিরপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সাবিহা সুলতানা প্রমুখ।

পুষ্প চরিত্রে প্রশংসিত মিম

বিনোদন বাজর ॥ গত শুক্রবার ৪০টি সিনেমা হলে মুক্তি পেয়েছে গোলাম সোহরাব দোদুল পরিচালিত সিনেমা ‘সাপলুডু’। সিনেমাটিকে পুষ্প চরিত্রে অভিনয় করেছেন বিদ্যা সিনহা মিম। ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে ‘সাপলুডু’ সিনেমাটি দর্শকের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে। সিনেমাটির গল্প, নির্মাণশৈলী, লোকেশনে বিচিত্রতা এবং সর্বোপরি মিমসহ সিনেমায় অভিনয় করা অন্য শিল্পীদের অভিনয়ে মুগ্ধ হ”েছন দর্শক। সিনেমায় পুষ্প চরিত্রে অসাধারণ অভিনয় করে সবার কাছেই বেশ প্রশংসিত হ”েছন মিম। বিদ্যা সিনহা মিম বলেন, ‘সাপলুডু সিনেমাতে অভিনয়ের জন্য আমাদের প্রত্যেককেই অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। ঢাকার বাইরে শুটিং করতে গিয়ে অনেক শ্রম দিতে হয়েছে। অনেক বড় একটি ইউনিট নিয়ে মুভ করা, কাজ করা কঠিন একটি কাজ। কিš‘ দোদুল ভাই সবকিছু মেনে নিয়ে কষ্ট করে সিনেমাটি তার মনের মতো করে তৈরি করেছেন।

 

আমার চরিত্রটি যথাযথভাবে ফুটিয়ে তোলার জন্য তিনিও আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছেন। তারিক আনাম ভাই, জাহিদ ভাই, আরিফিন শুভসহ অন্য যারা ছিলেন প্রত্যেকের কাছ থেকে ভীষণ সহযোগিতা পেয়েছি। যে কারণে আমার চরিত্রটির মধ্যে ডুবে থেকে আমি অভিনয় করতে পেরেছি। যার ফলে সিনেমাটি মুক্তির পর দর্শকের কাছ থেকে ভীষণ সাড়া পা”িছ।

 

আমার বিশ্বাস ছিল সাপলুডু দর্শকের মনে দাগ কাটবে। হয়েছেও তাই। দর্শকের ভালোবাসা মুগ্ধ আমি। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ আমি।’ সিনেমাতে মিমের বিপরীতে আছেন আরিফিন শুভ। আরিফিন শুভ ‘সাপলুডু’তে আরমান চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় করেছেন। এর আগে মিম ও আরিফিন শুভ একসঙ্গে মোস্তফা কামাল রাজের নির্দেশনায় ‘তারকাঁটা’ সিনেমায় অভিনয় করেন।

ইউভেন্তুসের দাপুটে জয়ে হিগুয়াইন-রোনালদোর গোল

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ গনসালো হিগুয়াইনের দারুণ গোলে ইউভেন্তুস এগিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফেদেরিকো বের্নারদেস্কি। বেশ কয়েকটি সুযোগ হারানোর পর শেষ দিকে জালের দেখা পেলেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। বায়ার লেভারকুজেনকে উড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে প্রথম জয় পেল ইউভেন্তুস। ইউভেন্তুস স্টেডিয়ামে ‘ডি’ গ্র“পে জার্মানির লেভারকুজেনকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে ইতালিয়ান চ্যাম্পিয়নরা। এই গ্রুপের আরেক ম্যাচে রাশিয়ার দল লোকোমোতিভ মস্কোর মাঠে জোয়াও ফেলিক্স ও থমাসের গোলে ২-০ ব্যবধানে জিতেছে আতলেতিকো মাদ্রিদ। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি প্রথম রাউন্ডে আতলেতিকো মাদ্রিদের মাঠে প্রথমে দুই গোলে এগিয়ে গিয়ে ২-২ ড্র করে ফিরেছিল মাওরিসিও সাররির ইউভেন্তুস। মঙ্গলবার রাতে ম্যাচের প্রথমার্ধে বল দথলে পিছিয়ে থাকলেও আক্রমণে আধিপত্য করে ইউভেন্তুস। সপ্তদশ মিনিটে প্রথম উল্লেখযোগ্য আক্রমণে এগিয়ে যায় তুরিনের ক্লাবটি। মাঝমাঠের কাছ থেকে উড়ে আসা বল ডি-বক্সের বাইরে হেডে ক্লিয়ার করতে গিয়ে পারেননি ডিফেন্ডার ইয়োনাথান। আলগা বল দারুণ এক ছোঁয়ায় নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডান পায়ের নিচু শটে ঠিকানায় পাঠান হিগুয়াইন। ৩৯তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করার দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন হিগুয়াইন। তবে ডি-বক্সে ফাঁকায় বল পেয়ে আর্জেন্টাইন তারকার নেওয়া জোরালো শট ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক। ৫৭তম মিনিটে পেনাল্টি স্পটের কাছ থেকে রোনালদোর শট ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক। চার মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ গোলটির উৎস পর্তুগিজ এই ফরোয়ার্ডই। বাঁ দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে হিগুয়াইনকে বল বাড়িয়ে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন রোনালদো। এরপর সতীর্থের কাটব্যাক আলতো টোকায় বাড়ান পেনাল্টি স্পটের কাছে বের্নারদেস্কিকে। অরক্ষিত ইতালিয়ান এই উইঙ্গার বাঁ পায়ের প্লেসিং শটে জাল খুঁজে নেন। ৭৫তম মিনিটে স্কোরলাইনে নাম লেখানোর আরেকটি সুযোগ নষ্ট করেন রোনালদো। তার কোনাকুনি শট এবারও ঝাঁপিয়ে ঠেকান গোলরক্ষক। অবশেষে ৮৮তম মিনিটে সাফল্যের দেখা পান রোনালদো। বদলি নামা পাওলো দিবালার দারুণ পাস ডি-বক্সে ধরে কোনাকুনি শটে আগুয়ান গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন পাঁচবারের বর্ষসেরা ফুটবলার। ঘরের মাঠে বড় জয়ের উল্লাসে মাতে ইউভেন্তুস। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এবারের আসরে এটা তার প্রথম গোল। সব মিলিয়ে রেকর্ড গোলদাতার গোল হলো ১২৭টি।   ‘এ’ গ্র“পে ঘরের মাঠে ক্লাব ব্র“জের বিপক্ষে প্রথমার্ধে দুই গোলে পিছিয়ে পড়া রিয়াল মাদ্রিদ দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়িয়ে ২-২ ড্রয়ের স্বস্তিতে শেষ করে। গ্র“পের অন্য ম্যাচে তুরস্কের ক্লাব গালাতাসারাইকে ১-০ গোলে হারিয়েছে পিএসজি।  ‘বি’ গ্র“পে টটেনহ্যাম হটস্পারকে তাদেরই মাঠে ৭-২ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ। আরেক ম্যাচে সার্বিয়ার দল রেড স্টার বেলগ্রেডের মাঠে ৩-১ গোলে হেরেছে গ্রিসের অলিম্পিয়াকোস। ‘সি’ গ্র“পে ইংলিশ চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার সিটি ঘরের মাঠে ২-০ গোলে হারিয়েছে ক্রোয়েশিয়ার দিনামো জাগরেবকে। আরেক ম্যাচে ইতালির ক্লাব আতালান্তার মাঠে ২-১ গোলে জিতেছে ইউক্রেনের শাখতার দোনেৎস্ক।

ইতিহাসের মাইলফলক ছুঁয়ে দিলো কঞ্জুস

বিনোদন বাজর ॥ ইতিহাসের মাইলফলক স্পর্শ করল হাসতে হাসতে দর্শকের পেটে খিল ধরিয়ে দেয়া এ মঞ্চ নাটকটি। অধিকাংশ মঞ্চনাটক যখন দর্শকখরায় আক্রান্ত তখন অনন্য নজির গড়ল কঞ্জুস। দর্শকখরার বদলে উপচেপড়া দর্শক জমে এ নাটকের প্রদর্শনীতে। কমেডির সমার্থক শব্দে পরিণত হওয়া কঞ্জুসের ৭২০তম মঞ্চায়ন হলো মঙ্গলবার (১ অক্টোবর)। দেশের কোনো মঞ্চনাটকের সর্বাধিক এই মঞ্চায়নের দিনেও বিপুল দর্শক সমাগম হয়েছে। শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় প্রযোজনাটির ৭২০তম প্রদর্শনীতে ইতিহাসের সাক্ষী হয়েছেন সাড়ে সাতশ’ নাট্যপ্রেমী। দর্শকে পরিপূর্ণ ছিল মিলনায়তন। এমনকি টিকেট না পেয়েও মিলনায়তনের বাইরে দাঁড়িয়েছিলেন অনেকে। এভাবেই দেশের মঞ্চনাটকে আশার আলো হয়ে জ্বলজ্বল করছে কঞ্জুস। ফরাসি নাট্যকার মলিয়েরের ‘দ্য মাইজার’ অবলম্বনে লোক নাট্যদলের প্রযোজনা কঞ্জুস। ১৯৮৭ সালে প্রথম মঞ্চ¯’ হওয়া নাটকটির রূপান্তর করেছেন তারিক আনাম খান। নির্দেশনা দিয়েছেন লোক নাট্যদলের অধিকর্তা লিয়াকত আলী লাকী।

 

নাটকের কাহিনি আবর্তিত হয়েছে হায়দার নামক এক ব্যক্তিকে ঘিরে। ব্যক্তিগত জীবনে যে একজন অত্যন্ত কৃপণ, সুদখোর ও লম্পট। এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে তার সংসার। সে এতই কৃপণ যে ছেলে-মেয়ে ও চাকরকে ভাল খেতে পরতে দেয় না- পাছে তার টাকা শেষ হয়ে যায়। সুদের ব্যবসায় অর্জিত অর্থ সে বিভিন্ন ¯’ানে লুকিয়ে রাখে, যদি চোর-ডাকাতে কিংবা ছেলে-মেয়েরা নিয়ে যায়। পৃথিবীর কাউকে সে বিশ্বাস করে না। হায়দার-এর মেয়ে লাইলী যাকে ভালবাসে সে এক অভিজাত বংশের হারিয়ে যাওয়া ছেলে কাযিম। লাইলীকে পাবার আশায় কাযিম এসে চাকরের কাজ নেয় হায়দারের বাসায়। সে বিশ্বাসযোগ্যতাও অর্জন করে হায়দারের।

 

এদিকে, হায়দারের ছেলে বদিউজ্জামান ভালবাসে মর্জিনা নামে এক মেয়েকে। কিš‘ হায়দার তা জানত না। একদিন মর্জিনাকে দেখে হায়দারের ভিমরতি ধরে। সে পয়গাম পাঠায় মর্জিনাকে বিয়ে করার জন্য। অপরদিকে, যৌতুকের ভয়ে হায়দার এক বুড়োর সঙ্গে তার মেয়ের বিয়ে ঠিক করে। মেয়ে তার তীব্র প্রতিবাদ করে। কিš‘ বৃদ্ধ তার সিদ্ধান্তে অটল থাকে। এক সময় হায়দারের ছেলে জানতে পারে যে, তার প্রেমিকা মর্জিনাকে তার পিতা বিয়ে করতে যা”েছ। শুরু হয় পিতা-ছেলেতে দ্বন্দ্ব। এ দ্বন্দ্ব এবং পারস্পরিক ঘটনায় নাটকের কাহিনি জমে উঠে। এ সময় হায়দারের ছেলে এবং চাকর লাল মিয়া দু’জনে বাগানে লুকানো টাকার কলস নিয়ে পালিয়ে যায়।

 

এ ঘটনায় কঞ্জুস হায়দার দিশেহারা হয়ে যায়। পুলিশ ডাকে। পুলিশী তদন্তের এক পর্যায়ে ছেলে এবং চাকর টাকার কলস নিয়ে আসে। ছেলে শর্ত দেয় মর্জিনাকে ফিরিয়ে দিলে সে টাকার কলস ফিরিয়ে দিবে। হায়দার ছেলের শর্তে রাজী হয়ে যায়। সর্বশেষে মর্জিনা এবং কাযিমের পিতৃ-মাতৃ পরিচয়ের মধ্য দিয়ে এবং হায়দারের ছেলে-মেয়ের বিয়ের মধ্য দিয়ে নাটকের পরিসমাপ্তি ঘটে।

মাদ্রিদের জালে প্রথম গোলটি ছিল ‘হাস্যকর’

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ রিয়াল মাদ্রিদের জালে ক্লাব ব্র“জের প্রথম গোলটি তাদের জন্য যেমন ছিল সৌভাগ্যের ছোঁয়া, তেমনি স্বাগতিকদের জন্য ঠিক তার উল্টোটা। জিনেদিন জিদানের কাছে অবশ্য এর কোনোটিই নয়, বরং হাস্যকর। তবে মঙ্গলবার রাতে গ্র“প পর্বের ম্যাচটিতে প্রথমার্ধে দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ঘুরে দাঁড়িয়ে সমতা আনায় শিষ্যদের ওপর খুশি জিদান। সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে ‘এ’ গ্র“পে ২-২ ড্র ম্যাচের নবম মিনিটে জিদানের মতে হাস্যকর গোলটি করেন ইমানুয়েল বোনাভেনচুরা। বাঁ দিক থেকে সতীর্থের বাড়ানো বল ডি-বক্সে পেয়ে ঠিকমতো শট নিতে পারেননি তরুণ ফরোয়ার্ড। বল তার অন্য পায়ে লেগে গড়াতে গড়াতে গোললাইন পেরিয়ে যায়। আগেই পড়ে যাওয়া থিবো কোর্তোয়া কিছুই করতে পারেননি। বিরতির আগে ম্যাচের দ্বিতীয় গোলটিও করেন ইমানুয়েল। দ্বিতীয়ার্ধে সের্হিও রামোস ও কাসেমিরোর গোলে স্বস্তিতে মাঠ ছাড়ে রিয়াল। চলতি মৌসুমে প্রতিযোগিতায় নিজেদের প্রথম ম্যাচে পিএসজির মাঠে ৩-০ গোলে হেরেছিল রিয়াল। এবার করল ড্র। ঘরের মাঠে ইউরোপের শীর্ষ প্রতিযোগিতায় এই নিয়ে টানা তিন ম্যাচ জয়শূন্য রইলো তারা। ক্লাব ব্র“জের বিপক্ষে ম্যাচের ফল নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই সন্তুষ্ট নন জিদান। তবে ম্যাচের ইতিবাচক দিকগুলোতে নজর রাখতে চান এই ফরাসি। “ফলটা ভালো না। কিন্তু (পিছিয়ে পড়ার পর আমাদের) প্রতিক্রিয়াটা ভালো হয়েছে। প্রথমার্ধের খেলা নিয়ে আমরা খুশি হতে পারি না কারণ এমন ৪৫ মিনিট আমরা এর আগে কখনও কাটাইনি।” “এক পয়েন্ট নিয়ে আমি খুশি নই কারণ আমরা তিন পয়েন্ট পেতে চেয়েছিলাম। প্রথম যে গোলটা আমরা হজম করলাম তা ছিল হাস্যকর। কোন জায়গাতে প্রতিপক্ষ সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী তার ওপর আমরা মনোযোগ দেইনি। তারা প্রথম গোল করল, আক্রমণে উঠল এবং এরপর দ্বিতীয় গোলটা করল…আপনাকে সবসময় ইতিবাচক দিকগুলো নিয়ে ভাবতে হবে।”

শ্রীলঙ্কাকে গুঁড়িয়ে হিলির রেকর্ড

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ দিন দুয়েক আগে স্পর্শ করেছেন শততম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার মাইলফলক। ম্যাচের সেঞ্চুরি হলেও ব্যাট হাতে এতদিন ছিল না কোনো সেঞ্চুরি। সেই স্বাদ অ্যালিসা হিলি পেলেন নিজের ১০১তম ম্যাচে। প্রথম সেঞ্চুরিটাকে করে রাখলেন অবিস্মরণীয়। শ্রীলঙ্কার বোলিং গুঁড়িয়ে দিয়ে খেললেন মেয়েদের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সর্বোচ্চ ইনিংস। লঙ্কানদের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৬১ বলে ১৪৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন অস্ট্রেলিয়ার এই কিপার-ব্যাটার। ভাঙেন স্বদেশি মেগ ল্যানিংয়ের ১৩৩ রানের রেকর্ড। গত জুলাইয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চেমসফোর্ডে ইনিংসটি খেলেছিলেন ল্যানিং। নর্থ সিডনি ওভালে বুধবার টস জিতে আগে ব্যাটিং করতে নেমে শুরু থেকেই শ্রীলঙ্কান বোলারদের উপর চড়াও হন হিলি। ২৫ বলে পৌঁছে যান ফিফটিতে। আর পঞ্চাশ থেকে তিন অঙ্ক ছুঁতে খেলেন মাত্র ২১ বল। ৪৬ বলে করা তার সেঞ্চুরিটি শুধু মেয়েদের ক্রিকেটেই নয়, সামগ্রিকভাবেই কোনো অস্ট্রেলিয়ানের দ্রুততম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি। নারী টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে দ্রুততম সেঞ্চুরিটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিয়েন্দ্রা ডটিনের। ২০১০ সালে মেয়েদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৩৮ বলে রেকর্ডটি গড়েছিলেন তিনি। দলীয় ইনিংসের ১৯তম ওভারে তিনটি চার ও একটি ছক্কায় ১৮ রান নিয়ে ল্যানিংয়ের রেকর্ডটি নিজের করে নেন হিলি। ক্রিজের অন্যপাশে তখন হিলির সঙ্গী ল্যানিং স্বয়ং! ১৯ চার ও ৭টি ছক্কায় সাজানো হিলির ইনিংসে ২০ ওভার শেষে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ দাঁড়ায় ২ উইকেটে ২২৬। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪১ রানের ইনিংস খেলেন তিনে নামা র‌্যাচেল হেইন্স। পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়ায় নেমে লঙ্কানরা একরকম অসহায় আত্মসমর্পণ করে। ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে তারা তোলে মাত্র ৯৪ রান। ১৩২ রানের এই জয় রানের ব্যবধানে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়া নারী দলের সবচেয়ে বড় জয়। তিন ম্যাচের সিরিজটি তারা জিতল ৩-০ ব্যবধানে।

 

‘দ্বিতীয় অভিষেকও’ সেঞ্চুরি করলেন রোহিত

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ টেস্ট অভিষেক রাঙিয়েছিলেন দারুণ সেঞ্চুরিতে। সেই ম্যাচের ৬ বছর পর আরেক দফা অভিষেক হলো রোহিত শর্মার। সীমিত ওভারের ক্রিকেটের দারুণ সফল ওপেনার প্রথমবার ওপেন করলেন টেস্টে। দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে ভারতীয় ব্যাটসম্যান স্মরণীয় করে রাখলেন টেস্ট ওপেনার হিসেবে প্রথম ইনিংসটিও। সেঞ্চুরির সুবাস পাচ্ছেন ওপেনিংয়ে রোহিতের সঙ্গী মায়াঙ্ক আগারওয়ালও। দুজনের সৌজন্যে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে ভারতের শুরু হলো দারুণ। বিশাখাপতœমে বুধবার বৃষ্টিতে এক সেশন ভেসে যাওয়ার দিনে স্বাগতিকরা কোনো উইকেট না হারিয়েই তুলে ফেলেছে ২০২ রান। ১১৫ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেছেন রোহিত, ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলে মায়াঙ্ক অপরাজিত ৮৪ রানে। মিডল অর্ডার হিসেবে এর আগে ২৭টি টেস্ট খেলেছেন রোহিত। প্রথম দুই টেস্টেই সেঞ্চুরি দিয়ে শুরু ক্যারিয়ারে পরে খুব আলো ছড়াতে পারেননি। বিশেষ করে বিদেশের মাটিতে রেকর্ড ছিল ভীষণ অনুজ্জ্বল। হারান টেস্ট দলে জায়গা। ভারতের টেস্ট ওপেনারের সঙ্কটে এবার সুযোগ পেলেন ক্যারিয়ার পুনরুজ্জীবনের। ওয়ানডে ওপেনারকে টেস্টে একই ভূমিকায় নামানোর বাজী ধরল ভারত। শুরুতেই মিলল সাফল্যের ইঙ্গিত। দক্ষিণ আফ্রিকার দুর্দশার শুরু টস হার দিয়ে। টস জিতে ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলি যখন এগিয়ে যাচ্ছেন টিভি ধারাভাষ্যকারের সঙ্গে কথা বলতে, প্রোটিয়া দলপতি ফাফ দু প্লেসি তখন মলিন চেহারায় তাকালেন নিজ ড্রেসিং রুমের দিকে। সম্ভাব্য পরিণতিও যেন ফুটে উঠল তার চেহারাতেই। প্রথম ওভারে মায়াঙ্কের বাউন্ডারিতে শুরু করে ভারত। ওপেনার হিসেবে নিজের দ্বিতীয় বলেই রোহিত বল পাঠান বাউন্ডারিতে। দুজনের কাউকেই আর থামাতে পারেনি প্রোটিয়া বোলাররা। নতুন বলে কাগিসো রাবাদা ও ভার্নন ফিল্যান্ডারের বোলিংয়ে ছিল না খুব একটা ধার। স্পিন আক্রমণে বাঁহাতি কেশভ মহারাজের সঙ্গে ছিলেন অফ স্পিনার ডেন পিট ও অভিষিক্ত বাঁহাতি স্পিনিং অলরাউন্ডার সেনুরান মুথসামি। কিন্তু খুব একটা প্রভাব তারা রাখতে পারেননি। রোহিত ফিফটি স্পর্শ করেন লাঞ্চের আগেই। পাঁচ চারের সঙ্গে দুটি ছক্কা তখনই মেরেছেন। চলতে থাকে স্ট্রোকের জোয়ার। চতুর্থ টেস্ট সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন ১৫৪ বলে। চা-বিরতির একটু আগে আলোকস্বল্পতায় বন্ধ হয় খেলা। পরে বৃষ্টিতে আর খেলা শুরুই হতে পারেনি। ১২ চার ও ৫ ছক্কায় ১৭৪ বলে রোহিত অপরাজিত তখন ১১৫ রানে। আরেক পাশে মায়াঙ্ক খেলেন প্রথাগত টেস্ট ওপেনারের মতোই। ১১ চার ও ২ ছক্কায় অপরাজিত তিনি ১৮৩ বলে ৮৪ রান করে। দক্ষিণ আফ্রিকার দুই পেসার উইকেট থেকে পাননি খুব একটা সহায়তা। ঘরোয়া ক্রিকেটে অসাধারণ ধারাবাহিকতা দেখিয়ে তিন বছর পর টেস্টে ফিরে অফ স্পিনার পিট ছিলেন খরুচে। কেবল বাঁহাতি স্পিনার মহারাজ কিছুটা ভাবিয়েছেন ভারতের দুই ওপেনারকে। তবে প্রথম দিনটিই বুঝিয়ে দিয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকার অপেক্ষায় কঠিন এক সফর। সংক্ষিপ্ত স্কোর: ভারত ১ম ইনিংস: ৫৯.১ ওভারে ২০২/০ ( মায়াঙ্ক ৮৪*, রোহিত ১১৫*; ফিল্যান্ডার ১১.১-২-৩৪-০, রাবাদা ১৩-৫-৩৫-০, মহারাজ ২৩-৪-৬৬-০, পিট ৭-১-৪৩-০, মুথুসামি ৫-০-২৩-০)।