আজ বিশ্ব প্রবীণ দিবস

ঢাকা অফিস ॥  বিশ্ব প্রবীণ দিবস আজ মঙ্গলবার। বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও এই দিবসটি বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালন করা হবে। ১৯৯০ সালে জাতিসংঘ প্রতিবছর পহেলা অক্টোবর আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। প্রবীণদের সুরক্ষা এবং অধিকার নিশ্চিতের পাশাপাশি বার্ধক্যের বিষয়ে বিশ্বব্যাপী গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৯৯১ সাল থেকে এ দিবসটি পালন করা শুরু হয়। এবারে দিবসটির প্রতিপাদ্য হচ্ছে- ‘বয়সের সমতার পথে যাত্রা’। প্রবীণ দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। দিবসটি উপলক্ষে সমাজসেবা অধিদফতর বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। সকাল ১০ টা ৪৫ মিনিটে প্রবীণ হিতৌষি সংঘ ও জরা বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানের সামনে থেকে র‌্যালি শুরু হয়ে সমাজসেবা অধিদফতরে গিয়ে শেষ হবে। আলোচনা সভায় সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ প্রধান অতিথি হিসেবে এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

সরকার আগে থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে যাতে এ ধরনের ঘটনা পুণরায় না ঘটতে পারে

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ওয়ান ইলাভেনের মত ঘটনার পুনরাবৃত্তির সম্ভবনাকে নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, সরকার আগে থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে যাতে এ ধরনের ঘটনা পুণরায় না ঘটতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘ এটা বলাই যায় (স্পষ্টত) যে, ওয়ান ইলাভেন পুনরায় ঘটবে না। যদি কোন অনিয়ম থেকে থাকে, আমি ব্যবস্থা নেব, আমরা ব্যবস্থা নেব এবং সে যেই হোক না কেন, এমনকি তারা আমার দলের হলেও। যদি আমি দুর্ণীতিবাজদের শান্তি দিতে চাই, আমার ঘর থেকেই তা আগে শুরু করতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার বিকেলে জাতিসংঘের ৭৪ তম অধিবেশনে যোগদান উপলক্ষ্যে নিউইয়র্কস্থ জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে একথা বলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিানিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন স্বাগত বক্তৃতা করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। শেখ হাসিনা বলেন, প্রকল্প প্রন্তুতি থেকে শুরু করে প্রকল্পের কাজ পাওয়ার জন্য অর্থ বিতরণের সুযোগ নিয়ে কিছু লোক বিপুল সম্পদের মালিক বনে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই অর্থ চটের বন্তাতেও লুকিয়ে রাখা হচ্ছে এবং ওয়ান ইলাভেনের পট পরিবর্তনের পর আমরা এটা দেখেছি।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘হঠাৎ করে যে সম্পদ আসে তা দেখানো কিছু মানুষের স্বভাব। আমাদের সমাজের এই অংশটিকে আঘাত করতে হবে।’ জনগণের জন্যই তাঁর রাজনীতি এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েই ক্ষমতায় এসেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন,‘আমি সব সময় জনগণের মঙ্গলের কথাই চিন্তা করি।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার কারণে আমার দল এবং সমাজের ওপর ক্ষতিকারক কোন প্রভাব পড়ছে কিনা সে বিষয়েও আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। আমাকে সেটা মোকাবেলাও করতে হবে। যে কারণে আমি এই অভিযান চালাচ্ছি (দুর্ণীতি বিরোধী)।’ কিছু লোক এই অভিযান পরিচালনায় তাঁর ওপর অখুশি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন,‘কিন্তু, আমি এটার পরোয়া করি না কেননা আমার ক্ষমতা এবং সম্পদের প্রতি কোন মোহ নেই।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘দুর্ণীতির বিরুদ্ধে অভিযান চলছে এবং চলবে।’ যদিও এজন্য কোন বিশেষ কমিটি গঠনের প্রয়োজন নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন,‘দুর্ণীতির কোন তথ্য পেলেই আমরা এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি,আমরা জাতীয় নিরাপত্তা সেল গঠন করেছি এবং তাঁদেও সময় মত নির্দেশনা প্রদান করছি। এই অভিযান চলতে থাকবে এই নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি চান যে, দেশের প্রত্যেক মানুষের উন্নত ও সুন্দর জীবনযাপন করবে। এই সুযোগে কিছু সংখ্যক মানুষ সমাজকে বিষাক্ত করবে, এটা আমার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। এ কারণে আমি এই নির্দেশ দিয়েছি। তিনি বলেন, দেশে খেলাধূলার উন্নয়নে ক্রীড়াসামগ্রীর আমদানী খুবই ভালো। কিন্তু এটা অকল্পনীয় যে, ক্রীড়াসামগ্রী আমদানীর নামে জুয়ার জিনিসপত্র আনা হবে। শেখ হাসিনা বলেন, দেশে যে কোন ধরনের নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টির তৎপরতা প্রতিরোধে সন্ত্রাসী ও জঙ্গীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং আমরা এই অভিযানে প্রায় সফলতার দ্বারপ্রান্তে। এখন আমরা দুর্ণীতিবিরোধী অভিযান শুরু করেছি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং এ লক্ষ্যে বহু প্রকল্প তৈরি ও এসব প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দকৃত অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় হবে এবং এসব কাজও সম্পন্ন হবে নির্বিঘেœ। এতে কোন অনিয়ম হলে দেশের উন্নয়ন ব্যাহত হবে। এর ফলে আমরা যেভাবে দেশের উন্নয়নের চিন্তা করছি, তা সম্পন্ন হবে না। রোহিঙ্গা ইস্যু – রোহিঙ্গা সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মিয়ানমার এ সমস্যার সৃষ্টি করেছে এবং তাদেরকে এর দায়ভার গ্রহণ করতে হবে। তিনি বলেন, তারা যে কথাই বলুক না কেন, মিয়ানমারই এই সমস্যার সৃষ্টি করেছে এবং তাদেরকেই এর সমাধান দিতে হবে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশনে যোগদানকারী মিয়ানমারের নেতার বক্তৃতায় রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ অঞ্চল গড়ে তুলতে বাংলাদেশের দাবীকে ভিত্তিহীন বলে আখ্যায়িত করা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের নাগরিক অন্য দেশের শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিয়েছে, এটা হচ্ছে মিয়ানমারের জন্য লজ্জা, অসম্মান এবং একই সঙ্গে তাদের দুর্বলতা। তিনি বলেন, এটা আমাদের কাছে খুব বড় প্রশ্ন যে, কেন তারা তাদের নাগরিকদের বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে নিচ্ছে না।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং এ বিষয়ে তাদের উপর আন্তর্জাতিক চাপও সৃষ্টি হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলে, রোহিঙ্গাদের মাঝে মিয়ানমারের আস্থা সৃষ্টি করতে হবে, যেন তারা বাসভূমিতে ফিরে যায়। এটা মিয়ানমারের জন্য লজ্জা যে, নিজের দেশের ওপর তাদের কোন আস্থা নেই। ট্রাম্পকে চিঠি প্রদান সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন যে, তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের মধ্যাহ্ন ভোজে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে ট্রাম্পকে একটি চিঠি দিয়েছেন। এই চিঠির বিষয়বন্তু সম্পর্কে তিনি বলেন, সরকার যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারী জাতির পিতার খুনীদের ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করছে। মূলত এ বিষয়ে তাকে (ট্রাম্প) চিঠি দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবাধিকারের প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র সব সময় খুবই সোচ্চার। তাহলে কী করে এই দেশে (যুক্তরাষ্ট্র) জাতির পিতা, নারী ও শিশু হত্যাকারীরা থাকতে পারে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একজন খুনী কানাডায় রয়েছে। বঙ্গবন্ধুর খুনীরা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থান করছে। আমরা সবাইকে খুনীদের ফেরত পাঠাতে অনুরোধ করেছি। এই খুনীরা ওইসব দেশের জন্যও নিরাপদ নয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই দেশগুলো বঙ্গবন্ধুর খুনীদের প্রত্যার্পণ করলে তখন বাংলাদেশের আদালতের রায় কার্যকর করা সম্ভব হবে। ঋণফেলাপী ও শেয়ার বাজার ইস্যু প্রধানমন্ত্রী বলেন, সামরিক স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমান দেশে ঋণ খেলাপি চর্চা শুরু করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব গ্রহন করার পর সরকার বিভিন্ন দেশে মিশনের নিজস্ব ভবন নির্মানের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, সম্পদের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও, বঙ্গবন্ধু পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন এবং আমরা ওয়াশিংটনে চ্যান্সারী ভবন নির্মান করেছি। নিউইয়র্ক মিশনের জন্য আমরা একটি ভবন ক্রয় করেছি। নিউ ইয়র্কে আমাদের নিজস্ব ভবনে কনসুলেট অফিস স্থাপনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এর আগে, লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশনে তাঁর অংশগ্রহন, পাশাপাশি বিভিন্ন অনুষ্ঠান, জাতিসংঘ মহসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং থাই প্রধানমন্ত্রী প্রযুত ও-চা সহ বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের উল্লেখযোগ্য দিকগুলো তুলে ধরেন।

তামাকের পরিবর্তে চাষীরা ঝুঁকছে পান চাষে

কুষ্টিয়ায় বিষমুক্ত উপায়ে বাংলাপান চাষে লাভবান কৃষক

কাঞ্চন কুমার ॥ বিনাচাষে বরজের মাধ্যমে বিষমুক্ত উপায়ে “বাংলাপান” জাতের পান চাষ করে অধিক লাভবান হচ্ছেন কুষ্টিয়ার কৃষকরা। আধুনিক উপায়ে এ জাতের পান চাষ করে বিঘাপ্রতি এক থেকে দেড় লাখ টাকা লাভ করছেন কৃষকরা। কয়েক বছর পূর্বেও যেখানে অধিক আর্থিক লাভের আশায় কৃষকরা তামাক চাষে ঝুঁকেছিলো, এখন তারা তামাকের পরিবর্তে অধিক লাভবান অর্থকারী ফসল এ পান চাষে ঝুঁকছে। অর্থকারী ফসল ছাড়াও পানের ভেষজ গুণাবলীর কারণে রয়েছে পানের চাহিদা। এছাড়া বাংলার ঐতিহ্যে বিয়ে বাড়ীর অনুষ্ঠানে ও পূজা-পার্বনেও রয়েছে পানের কদর। কুষ্টিয়ার মাটি পান চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় এবং পানের বাজার দর ভালো থাকায় পান চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন কৃষকরা। অন্যান্য ফসলের তুলনায় পানে লাভও বেশি হয়। বাজারের চাহিদার কথা চিন্তা করে, মাটি ও মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার দিকে নজর দিয়ে নিরাপদ পান উৎপাদনে কৃষি অফিস সহায়তা করছেন কৃষকদের। প্রদর্শনী, মাঠ দিবস, প্রশিক্ষনের মাধ্যমে বিষমুক্ত উপায়ে পান চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছে কৃষি অফিস। কুষ্টিয়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য মতে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে কুষ্টিয়ার ছয়টি উপজেলায় ২ হাজার ১শ ৪০ হেক্টর জমিতে পান চাষ করা হয়েছিলো। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পান চাষ হয়েছিলো ভেড়ামারা উপজেলায়। ভেড়ামারা উপজেলায় ৭শ ২০ হেক্টর, দৌলতপুর উপজেলায় ৫শ ৩৬ হেক্টর, কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় ৬শ ২০ হেক্টর, মিরপুর উপজেলায় ১শ ৬০ হেক্টর, খোকসা উপজেলায় ৮২ হেক্টর এবং কুমারখালী উপজেলায় ২২ হেক্টর জমিতে পান চাষ হয়েছিলো। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে পান চাষ বৃদ্ধি পেয়ে চাষ হয়েছিলো ২ হাজার ১শ ৬৫ হেক্টর।  এর মধ্যে ভেড়ামারা উপজেলায় ৭শ ৫০ হেক্টর, দৌলতপুর উপজেলায় ৫শ হেক্টর, কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় ৬শ ২০ হেক্টর, মিরপুর উপজেলায় ২শ ১০ হেক্টর, খোকসা উপজেলায় ৭০ হেক্টর এবং কুমারখালী উপজেলায় ২৫ হেক্টর জমিতে পান চাষ হয়েছিলো। বাংলা পান, মিঠা পান, দেশী পান, ঝালি পান, সাচি পান, কর্পূরী পান, গ্যাচ পান, মাঘি পান, উজানী পান, নাতিয়াবাসুত পান, বরিশাল পান, উচ্চ ফলনশীল ও বিভিন্ন গুণাবলী সম্পন্ন এবং রোগ প্রতিরোধে সক্ষম বারিপান-১, বারিপান-২ এবং বারিপান-৩ ছাড়াও বেশ কয়েকটি পান বাংলাদেশে চাষ করা হয়ে থাকে। এর মধ্যে বাংলা পান ও মিঠা পান জনপ্রিয়। কুষ্টিয়া অঞ্চলে এ বাংলা পান চাষে আগ্রহ বেশি কৃষকদের। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা, দৌলতপুর ও মিরপুরে এ বাংলা পানের চাষ বেশি হয়ে থাকে। স্বাদ ও সুগন্ধিযুক্ত এ জাতের পানের বাজারে রয়েছে বেশ চাহিদা। এছাড়া বাংলাপান পাতা পঁচা, পাতা পোড়া ও অন্যান্য রোগ প্রতিরোধক্ষম হওয়ায় কৃষকরা এ পান চাষে বেশি ঝুঁকছে। ভেড়ামারা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের ঠাকুর দৌলতপুর এলাকার পান চাষী আব্দুর রহমান জানান, আমি দীর্ঘদিন ধরেই পান চাষ করি। তবে পানের বিভিন্ন রোগে পানে খুব একটা লাভ হতো না। পরে আমি উপজেলা কৃষি অফিস থেকে আমি নিরাপদ উপায়ে পান চাষের উপরে প্রশিক্ষন নিয়ে দুই বিঘা জমিতে “বাংলাপান” জাতের পানের চাষ করছি। আমি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন নিরাপদ পান উপাদন করছি। দুই বিঘা জমিতে আমার প্রায় দুই লক্ষ টাকা লাভ হবে বলে আশা করছি। মিরপুর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়নের ফকিরাবাদ এলাকার পান চাষী শহিদুল ইসলাম জানান, আমি আগে তামাক চাষ করতাম। তবে এখন আর তামাক চাষ করি না। বর্তমানে আমি পান চাষ করি। আমি গত বছর এক বিঘা জমিতে বাংলাপানের চাষ করেছিলাম। সেখানে আমার প্রায় এক থেকে দেড় লাখ টাকা লাভ হয়েছিলো। প্রথমবার পানের বরজ করতে একটু বেশি খরচ হয়। কিন্তু পরের বার চাষ করতে খরচ কম। এবছর আমি তিন বিঘা জমিতে বাংলাপানের চাষ করেছি। প্রায় দুই লাখ টাকার উপরে পান বিক্রি করেছি। এখনো ২-৩ লাখ টাকার বিক্রি হবে। তিনি আরো জানান, স্থানীয় বাজার, কুষ্টিয়া, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এ বাংলাপানের চাহিদা বেশি থাকায় আমরা সেখানে রপ্তানি করি। মিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রমেশ চন্দ্র ঘোষ জানান, অর্থকারী ফসলের মধ্যে পান একটি লাভজনক ফসল। ইতিপূর্বে কুষ্টিয়ার পান সারা দেশের মধ্যে বিখ্যাত ছিলো। তবে বিগত কয়েক বছর আগে পানের বিভিন্ন রোগের কারনে পান চাষীদের লোকসান হয়। এতে পান চাষ অনেকটা কমে যায়। পরবর্তীতের আমরা পান উৎপাদন ও সম্প্রসারণ কর্মসূচির আওতায় পান চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করি। সেই সাথে নিরাপদ উপায়ে পান চাষের উপরে আমরা কৃষকদের প্রশিক্ষন প্রদান করি। এতে কৃষকরা পান চাষে লাভবান হয়। ফলে এই এলাকায় এবছর আরো ৩০টি পানের বরজ বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সাথে চাষীরা ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহার করে পান চাষীরা লাভবান হচ্ছেন। তিনি আরো জানান, এ উপজেলা থেকে আশা করছি এ বছর দেশের বাইরেও পান রপ্তানি করা হবে। কুষ্টিয়া  জেলা কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) কৃষিবিদ রঞ্জন কুমার জানান, পান চাষ অত্যাধিক লাভজনক। এছাড়া বাজারে বাংলাপানের চাহিদা বেশি। তাই কুষ্টিয়ার কৃষকরা এ বাংলাপানের চাষ করছে। আমরা নিরাপদ পান উৎপাদন প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে কৃষকদের পান উৎপাদনে উদ্বুদ্ধ করছি। এতে আমরা নিরাপদ পান উৎপাদন করছি। এছাড়া বিষ মুক্ত এ পান আমরা আবারো বিদেশে রপ্তানির চেষ্টা করছি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরোজমিন উইং এর পরিচালক কৃষিবিদ চন্ডীদাস কুন্ডু বলেন, পান একটি অর্থকারী ফসল। পানের অর্থনৈতিক গুরুত্ব অনান্য ফসলের তুলনায় কোনো অংশে কম নয়। দেশে বিদেশে রয়েছে এর ব্যাপক চাহিদা। এছাড়াও এতে অনেক ঔষধি গুণ বিদ্যমান। এক বিঘা জমিতে পান চাষ করে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা লাভ করা যায়। এটা তামাক, পাট এর চেয়ে অধিক লাভবান। আর বিষমুক্ত পান বিদেশে রপ্তানী করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।

 

ব্যাট-বল হাতে উজ্জল সাকিব; প্লে-অফে বার্বাডোজ

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ রোববার ক্যারিবীয়ান প্রিমিয়ার লিগ (সিপিএল) টি-২০ ক্রিকেটের সপ্তম আসরে প্রথম খেলতে নেমে ব্যাট হাতে ৩৮ রান ও বল হাতে ১৪ রানে ১ উইকেট নিয়েছিলেন বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান। আজ ভোরে নিজের দ্বিতীয় ম্যাচেও ব্যাট-বল হাতে আলো ছড়িয়েছেন তিনি। ব্যাট হাতে ২২ রান করার পাশাপাশি বল হাতে ২০ রানে ১ উইকেট নেন বাংলাদেশের টেস্ট ও টি-২০ অধিনায়ক সাকিব। ফলে এ ম্যাচে সেন্ট লুসিয়া জোকসের বিপক্ষে ২৪ রানে জয় পায় সাকিবের বার্বাডোজ ট্রাইডেন্টস। এই জয়ে লিগ পর্বে এক ম্যাচ বাকী রেখেই প্লে-অফ নিশ্চিত করেছে বার্বাডোজ। নিজেদের মাঠে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করতে নামে বার্বাডোজ। প্রথম ওভারের শেষ বলে ইংল্যান্ডের ওপেনার অ্যালেক্স হেলসকে হারায় বার্বাডোজ। ৪ বলে শুন্য রানে ফিরেন তিনি। তাই ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই ক্রিজে যাবার সুযোগ হয় সাকিবের। আরেক ওপেনার জনসন চার্লসকে নিয়ে বড় জুটির চেষ্টা করেন সাকিব। চার্লস মারমুখী মেজাজে থাকায় সর্তক ছিলেন সাকিব। চার্লসকে স্ট্রাইক দেয়াতে মনোযোগি হন তিনি। এর মাঝেও ২টি বাউন্ডারি মারেন সাকিব। তবে দলীয় ৬৩ রানে থেমে যান সাকিব। ২১ বলে ২২ রান করে আউট হন তিনি। চার্লসের সাথে ৪৪ বলে ৬২ রান যোগ করেন সাকিব। কিছুক্ষণ পর থামেন চার্লসও। হাফ-সেঞ্চুরির কাছে গিয়ে ৩৬ বলে ৪৭ রানে আউট হন তিনি। ৪টি চার ও ২টি ছক্কা মারেন চার্লস। চার্লস ও সাকিবের পর দলের পক্ষে বড় ইনিংস খেলতে পারেননি বার্বাডোজের মিডল-অর্ডার ব্যাটসম্যানরা। ফলে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৪১ রানে মামুলি সংগ্রহ পায় বার্বাডোজ। দক্ষিণ আফ্রিকার জেপি ডুমিনি ১৩ ও জাস্টিন গ্রিয়াভেস ২৮ বলে অপরাজিত ২৭ রান করেন। প্লে-অফের আশা বাঁচিয়ে রাখতে এ ম্যাচে জয় ছাড়া বিকল্প পথ ছিলো না সেন্ট লুসিয়ার। কিন্তু ১৪২ রানের টার্গেট স্পর্শ করতে পারেনি তারা। বার্বাডোজের বোলারদের দুর্দান্ত বোলিং নৈপুন্যে ৮ বল বাকী রেখেই ১১৭ রানেই গুটিয়ে যায় সেন্ট লুসিয়া। সাকিব ৪ ওভারে ২০ রানে ১ উইকেট নেন। এছাড়া হেইডেন ওয়ালশ ২৬ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হন। ১৭ রানে ৩ উইকেট নিয়ে বার্বাডোজের জয়ে অবদান রেখেছেন হ্যারি গার্নি।

 

অনুশীলনে ফিরেছেন মেসি

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্র“প পর্বে ইন্টার মিলানের বিপক্ষে ম্যাচ সামনে রেখে দলের অনুশীলনে ফিরেছেন বার্সেলোনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। চোট কাটিয়ে সোমবার সতীর্থদের সঙ্গে অনুশীলনে অংশ নেন আর্জেন্টিনার এই ফরোয়ার্ড। গত মঙ্গলবার লিগে ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ২-১ গোলে জেতা ম্যাচে কুঁচকিতে চোট পান মেসি। ওই ম্যাচের পর তার চোট গুরুতর কিছু নয় বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন কোচ এরনেন্তো ভালভেরদে। পরে গেতাফের বিপক্ষে ম্যাচের আগে দলের সেরা তারকা কবে নাগাদ ফিরতে পারেন, তা নিয়ে নিশ্চিত নন বলে জানান কোচ। শনিবার মেসিকে ছাড়া গেতাফের মাঠে ২-০ গোলে জিতেছিল বার্সেলোনা। স্প্যানিশ গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী ইন্টারের বিপক্ষে ম্যাচটিতে ৩২ বছর বয়সী এই ফুটবলারের খেলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অবশ্য রেকর্ড ছয়বারের বর্ষসেরা ফুটবলারকে নিয়ে কোনো রকমের ঝুঁকি নেওয়া হবে না বলেও আগেই জানিয়েছিলেন কোচ। এর আগে গত ৫ আগস্ট নতুন মৌসুমে প্রথম অনুশীলনেই পায়ে চোট পেয়ে এক মাসের বেশি সময় বাইরে ছিলেন মেসি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্র“প পর্বে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে ও গ্রানাদার মাঠে লিগ ম্যাচে বদলি হিসেবে খেলার পর ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ম্যাচেই প্রথম শুরুর একাদশে নেমেছিলেন তিনি। প্রথমার্ধে চোট পাওয়ায় দ্বিতীয়ার্ধে আর মাঠে নামতে পারেননি এবারের ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলার। ইউরোপ সেরার মঞ্চে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের মাঠে গোলশূন্য ড্র করেছিল বার্সেলোনা। বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত একটায় কাম্প নউয়ে ইন্টার ও বার্সেলোনার ম্যাচটি শুরু হবে।

 

শেষ হচ্ছে ক্রিকেট-চ্যাপেল জুটির পথচলা

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচক ও ন্যাশনাল ট্যালেন্ট ম্যানেজারের পদ থেকে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন গ্রেগ চ্যাপেল। ছিন্ন হতে যাচ্ছে ক্রিকেটের সঙ্গে তার ৫০ বছরের বেশি সময়ের বন্ধন। খেলোয়াড় থেকে অধিনায়ক, কোচ থেকে নির্বাচক, প্রায় সব ভূমিকাতেই দেখা গেছে অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তিকে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে ক্রিকেটে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছেন চ্যাপেল। ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম ‘ফাইনেস্ট’ ক্রিকেটার। একই সঙ্গে অধিনায়ক, কোচ, নির্বাচক ও মেন্টর হিসেবে ছিলেন উদ্ভাবক ও পথপ্রদর্শক।

ব্যাটসম্যান ঃ অস্ট্রেলিয়ার সেরাদের একজন। টেস্ট ক্যারিয়ারের শুরু ও শেষে সেঞ্চুরি। ৫৩.৮৬ গড়ে রান ৭ হাজার ১১০। অন্তত ৮০ টেস্ট খেলেছেন এমন ব্যাটসম্যানদের মধ্যে চ্যাপেলের গড় ষষ্ঠ সর্বোচ্চ। ১৯৭০ থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত ১৪ বছরের ক্যারিয়ারে করেছেন ২৪ সেঞ্চুরি। রেকর্ড হয়তো নেই তবে ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট সিরিজে দেখা গিয়েছিল তার সবচেয়ে দাপুটে ব্যাটিং। হোল্ডিং, গার্নার, ক্রফট, রবার্টসে গড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পাঁচ ‘সুপার টেস্টে’ করেছিলেন ৬২১ রান।

অধিনায়ক ঃ বিদ্রোহী ওয়ার্ল্ড সিরিজে আগে ও পরের সময়টায় অস্ট্রেলিয়াকে ৪৮ ম্যাচে নেতৃত্ব দেন চ্যাপেল। ১৯৭৭ অ্যাশেজে পান হারের তেতো স্বাদ, জেতেন ১৯৮২-৮৩ মৌসুমে। ব্রিজবেনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অধিনায়ক হিসেবে নিজের প্রথম টেস্টে দুই ইনিংসেই করেন সেঞ্চুরি। তবে তার অধিনায়কত্বে কালো দাগ হয়ে আছে ১৯৮১ সালের মেলবোর্ন টেস্ট। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ছোট ভাই ট্রেভর চ্যাপেলকে ‘আন্ডারআর্ম’ ডেলিভারির নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি।

কোচ ঃ ১৯৯৮-৯৯ থেকে ২০০২-০৩ মৌসুম পর্যন্ত দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার কোচ ছিলেন চ্যাপেল। ২০০৮ সালে নেন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সেন্টার অব এক্সেলেন্সের প্রধানের দায়িত্ব। অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ ও অস্ট্রেলিয়া অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সঙ্গেও কাজ করেন তিনি। যুব ক্রিকেটে তিনি ছিলেন ন্যাশনাল ট্যালেন্ট ম্যানেজার। ২০০৫ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত ছিলেন ভারতের কোচ। সময়টা অবশ্য ভালো কাটেনি। ২০০৭ বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নেয় ভারত। দায়িত্বকালে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন ভারতের সে সময়ের অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলির সঙ্গে।

নির্বাচক ঃ খেলোয়াড়ি জীবন শেষ হতে না হতেই অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচক হিসেবে কাজ শুরু করেন। দায়িত্ব পালন করেন ১৯৮৪ থেকে ১৯৯৮৮ পর্যন্ত। ১৯৮৭ সালে বিশ্বকাপ জিতলেও এই সময়টায় টেস্টে ভুগছিল অস্ট্রেলিয়া। ওই সময়ের অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম সেরা ক্রিকেটার ডেভিড বুন, স্টিভ ওয়াহর অভিষেক হয়। ২০১০ সালে আবার নির্বাচক হিসেবে নিয়োগ পান চ্যাপেল। সেবার ছিলেন না বেশিদিন। ২০১১ সালে আবার ন্যাশনাল ট্যালেন্ট ম্যানেজার হিসেবে কাজ শুরু করেন। ২০১৬ সালে হোবার্টে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়া বিধ্বন্ত হওয়ার পর নির্বাচকের দায়িত্ব ফিরেন চ্যাপেল।

প্রশাসক ঃ খেলোয়াড়ি জীবন শেষ হতেই চ্যাপেল অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে জড়িত হন। শুরুটা হয় নির্বাচক হিসেবে। শেষ করছেন ন্যাশনাল ট্যালেন্ট ম্যানেজার হিসেবে।

 

জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে সিঙ্গাপুরের ইতিহাস

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ আগের ম্যাচে নেপালের বিপক্ষে শুরুর ধাক্কা সামাল দিয়ে বিব্রতকর হার এড়িয়েছিল জিম্বাবুয়ে। এবার আর পেরে উঠল না দলটি। ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে তাদের হারিয়ে নিজেদের ইতিহাসের সেরা জয় তুলে নিয়েছে সিঙ্গাপুর। রোমাঞ্চকর ম্যাচে ৪ রানে জিতেছে সিঙ্গাপুর। ১৮ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে ১৮১ রান তাড়ায় অধিনায়কের লড়াকু ফিফটির পরও ১৭৭ রানে থামে জিম্বাবুয়ে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পূর্ণ সদস্য দেশের বিপক্ষে এটাই সিঙ্গাপুরের প্রথম জয়। ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন মাঠে রোববার টস জিতে ব্যাট করতে নেমে সবার ছোট ছোট অবদানে লড়াইয়ের পুঁজি গড়ে সিঙ্গাপুর। সর্বোচ্চ ৪১ রান করে আসে মানপ্রিত সিং ও টিম ডেভিডের ব্যাট থেকে। ওপেনার রোহান রাঙ্গারাজন করেন ৩৯ রান। ৩ ওভারে ২৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন রায়ান বার্ল। তিনি ছাড়া ওভার প্রতি দশের নিচে রান দেন কেবল উইলিয়ামস। ৪ ওভারে ৩৪ রানে ১ উইকেট নেন অধিনায়ক। রান তাড়ায় মাত্র ১৯ বলে তিন ছক্কা ও ছয় চারে ৪৮ রানের বিস্ফোরক ইনিংসে দলকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন রেজিস চাকাভা। তৃতীয় উইকেটে টিনোটেন্ডা মাতুমবদজির সঙ্গে ৭৯ রানের জুটিতে দলকে দৃঢ় অবস্থানে নিয়ে যান উইলিয়ামস। চার বাউন্ডারিতে মাতুমবদজি ৩২ রান করে ফিরে গেলে ভাঙে বিপজ্জনক জুটি। এরপর আর কেউ সঙ্গ দিতে পারেননি উইলিয়ামসমকে। ৩৫ বলে পাঁচটি করে ছক্কা ও চারে বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান ৬৬ রান করে ফিরে যাওয়ার পরও ম্যাচে ছিল জিম্বাবুয়ে। তবে পরের ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় পেরে ওঠেনি দলটি। সিঙ্গাপুর অধিনায়ক আমজাদ মাহবুব ২ উইকেট নেন ২০ রানে। জানাক প্রকাশ ৩৪ রানে নেন দুটি।

 

ঢাকাই সিনেমায় বলিউডের নায়িকা পূজা

বিনোদন বাজার ॥ ঢাকাই সিনেমায় অভিনয় করতে যাচ্ছেন বলিউডের জনপ্রিয় নায়িকা পূজা চোপড়া। বাংলাদেশের বিখ্যাত পরিচালক সিবি জামানের পরিচালনায় ‘অ্যাডভোকেট সুরাজ’ নামের একটি সিনেমায় অভিনয় করবেন তিনি। সম্প্রতি মুম্বাইয়ের একটি রেস্টুরেন্টে এই সিনেমাটিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন এই নায়িকা।এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন সিনেমার প্রযোজক ও অভিনেতা শামস হাসান কাদির, মিডিয়া এক্টিভিস্ট আমিনুল ইসলাম শাওন, বলিউডের জনপ্রিয় নৃত্য পরিচালক মাস্টার সৌরভ।সিনেমাটিতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করবেন ‘হৃদয় রংধনু’খ্যাত অভিনেতা শামস হাসান কাদির। এতে তার বিপরীতে অভিনয় করবেন পূজা চোপড়া।পূজা এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘সবার জন্য দারুণ একটা সংবাদ হচ্ছে, আমি বাংলাদেশের সিনেমায় অভিনয় করতে যাচ্ছি। এর নাম ‘অ্যাডভোকেট সুরাজ’। এটি পরিচালনা করছেন বরেণ্য নির্মাতা সি.বি. জামান। দেখা হচ্ছে শিগগিরই।’বলিউডে ক্যারিয়ার গড়ার আগে ২০০৯ সালে ফেমিনা মিস ইন্ডিয়া হন পূজা। ২০১১ সালে তামিল সিনেমা ‘পোন্নার শঙ্কর’ সিনেমার মধ্য দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক তার। এরপর বলিউডে ‘ফ্যাশন’ ও ‘হিরোইন’ ও ২০১৩ সালে বিদ্যুতের বিপরীতে ‘কমান্ডো’ সিনেমায় নায়িকা হিসেবে কাজ করেন। এছাড়া গত বছর ‘আইয়ারি’ সিনেমাতে অভিনয় করেছেন তিনি।নির্মাতা সিবি জামানের সর্বশেষ ছবি কুসুম কলি মুক্তি পেয়েছিলো ১৯৯০ সালে। ১৯৭৩ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত সরাসরি চলচ্চিত্র পরিচালনার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি। এ সময়ে তিনি নির্মাণ করেন একে একে ঝড়ের পাখি (১৯৭৩), উজান ভাটি (১৯৮২), পুরস্কার (১৯৮৩), শুভরাত্রি (১৯৮৫), হাসি (১৯৮৬), লাল গোলাপ (১৯৮৯) ও কুসুম কলি’র (১৯৯০) মতো কালজয়ী চলচ্চিত্র। এরমধ্যে শুভরাত্রি ছবিটি ব্যবসায়িক সফলতার পাশাপাশি ১৯৮৬ সালে ৯টি ক্যাটাগরির ভেতরে ৬টি ক্যাটাগরিতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পায়।

প্রথম চুমুর অভিজ্ঞতা জানালেন কঙ্গনা

বিনোদন বাজার ॥ বলিউডে এই সময়ের আলোচিত অভিনেত্রীদের মধ্যে অন্যতম নাম কঙ্গনা রানাওয়াত। তাকে বেশ কয়েকটি নারী প্রধান ছবিতে দেখা গেছে। নিজের অভিনয়শৈলী দিয়ে দর্শককে তিনি যেমন মুগ্ধ করেছেন তেমনি নানা বিতর্কিত কা- ঘটিয়ে আলোচনায় থাকেন সব সময়। ঠোঁটকাটা বলেই পরিচিত বলিউডের এই নায়িকা। কোনো বিষয়ে মুখ খুললেই তাকে ঘিরে নানা বিতর্ক তৈরি হয়। এবার জীবনের প্রথম চুমু খাওয়ার ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা শেয়ার করে আলোচনায় এসেছেন কঙ্গনা রানাওয়াত। এই নায়িকা জানালেন, সেই সময় তার বয়স ছিলো মাত্র ১৭ বছর। এক পাঞ্জাবি ছেলে তার বয়ফ্রেন্ড ছিলো। কথায় কথায় সে তাকে বাচ্চা মেয়ে বলতো। আর সেই সময় জেদের বসে ঘটনাটি ঘটান তিনি। কঙ্গনা রানাওয়াত বলেন, ‘তখন আমার মাত্র ১৭ বছর বয়স। এক বন্ধুর সঙ্গে ঘুরতে বেরিয়ে ছিলাম আমি। তার সূত্র ধরেই এক পাঞ্জাবি ছেলের সঙ্গে পরিচয় হলো আমার। ছেলেটি আমাকে জানায়, আমি নাকি বাচ্চা মেয়ে। আমি তাকে ফোন করতে থাকি। সোজাসুজিই বলি আমাকে বড় করে দাও।’ কঙ্গনা আরও বলেন, ‘আমি প্রথম যখন চুমু খাই। আমার ঠোঁটের মধ্যে ঠোঁট লাগিয়ে দিয়েছিলো আমার বয়ফ্রেন্ড। দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল আমার। আমি মুখ নাড়াতেই পাচ্ছিলাম না। ভীষণ ভয় পেয়ে গিয়ে ছিলাম।’ শুধু এই বয়ফ্রেন্ডের কথা বলেই থামেননি কঙ্গনা। তিনি জানালেন, তার গৃহশিক্ষককে নাকি প্রথম ভালোবেসেছিলেন তিনি। সেই শিক্ষককে নিয়ে নান স্বপ্ন দেখতেন। কিন্তু শিক্ষককে আর বলা হয়নি তার ভালোবাসার কথা।

নতুন ভিডিও প্রকাশে আলোচনায় তাহসান-মিথিলা

বিনোদন বাজার ॥ তাহসান-মিথিলার ভালোবসার ঘর ভেঙে গেছে অনেক দিন আগে। এরপর আর নতুন কোনো কাজে একসঙ্গে পাওয়া যায়নি তাদের। হঠাৎ করেই সামনে হাজির হলো একটি ভিডিও। সেটি ঘিরে নতুন করে আলোচনায় তারা।তাহসান ও মিথিলা দুজনেই ভালো গান করেন, এটা সবার জানা। একসঙ্গেও তারা গান করেছেন। তাদের দ্বৈত গাওয়া ‘অনুভূতি’ শিরোনামে একটি গান ছিলো। সেই গানটির নতুন ভিডিও প্রকাশ হয়েছে।

রোববার জি সিরিজের ইউটিউব চ্যানেল প্রকাশ হয়েছে গানটি। ভিডিওতে মডেল হিসেবে দেখা যাচ্ছে ছোট পর্দার জনপ্রিয় দুই তারকা এফএস নাঈম ও শবনম ফারিয়াকে।তাহসান মিথিলার ভক্তদের জন্য এটি কী কোনো নতুন চমক? নাকি অন্য কিছু। খোঁজ নিয়ে জানা গেলো প্রায় ৩ বছর আগেই প্রকাশ হয়েছিলো গানটির লিরিক ভিডিও। এবার আসলো গানটির পূর্ণ ভিডিও। তাহসান মিথিলার ভক্তরা গানটি শুনলেই বুঝবেন পুরনো গানটিই ভিডিও আকারে সামনে এলো আবার।অনুভূতি গানটি ছিলো তাহসানের ‘ইচ্ছে’ অ্যালবামে। গানটি লিখেছেন তরুণ মুন্সি। সুর ও সংগীতায়োজন করেছিলেন তাহসান নিজেই। ‘পলাতক সময় অথবা তুমি’ শিরোনামের নাটকের গান হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে গানটি।নাটকটি নির্মাণ করেছিলেন মেহেদী হাসান জনি। এই ভিডিও প্রসঙ্গে নির্মাতা জনি দিলেন অন্য তথ্য। এই ভিডিও প্রসঙ্গে তিনি নাকি কিছুই জানেন না। জি সিরিজ তাকে কিছু না জানিয়েই গানের ভিডিও প্রকাশ করেছে।মেহদী হাসান জনি বলেন, ‘যতদূর মনে পড়ে ‘পলাতক সময় অথবা তুমি’ নাটকটি বছর খানেক আগে নির্মাণ করেছিলাম। কিন্তু ওই নাটকে ‘অনুভূতি’ নামে কোনো গান ব্যবহার করেছি বলে মনে পড়ছে না। সম্ভবত টেলিহোম প্রযোজিত নাটকটির ভিডিও বিক্রি করা হয়েছিলো জি সিরিজের কাছে। পরে নাটকের ফুটেজ দিয়ে গানটির ভিডিও বানানো হয়েছে। আজকাল এরকম বিজনেস পলিসি খুব দেখা যায় ইউটিউব বা কন্টেন্ট মালিকদের মধ্যে।’এই বিষয়ে জিসিরিজের সিইও খাদেমুল জাহান বলেন, ‘নাটকের ফুটেজ থেকে গানের ভিডিও বানানোটা এখন একটা ট্রেন্ড। অনেকেই করছে। ‘অনুভূতি’ গানটি সুন্দর। এর লিরিক ভিডিওটিতে দর্শক-শ্রোতার রেসপন্স ভালো। সেজন্য নতুন আয়োজনে ভিডিও তৈরি করা। আর যে নাটকের ফুটেজ ব্যবহার করা হয়েছে সেটির সত্ত্ব আমাদেরই। অন্যের কিছু এখানে ব্যবহার করা হয়নি।’

আবারো পেছালো শিল্পী সমিতির নির্বাচন

বিনোদন বাজার ॥ শেষ ঘোষণা অনুযায়ী ১৮ অক্টোবর বাংলাদেশ শিল্পী সমিতির নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আবারো পেছানো হলো নির্বাচনের তারিখ। এক সপ্তাহ পিছিয়ে নির্বাচনের নতুন তারিখ ২৫ অক্টোবর ঘোষণা করেছেন এবারের শিল্পী সমিতির নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন।

তিনি বলেন, ‘আগামী ২২ তারিখ নিরাপদ সড়ক দিবস। অনেকদিন ধরে আমি এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছি। প্রতিবছরই এই সময়ে আমার বেশ ব্যস্ততা থাকে। তাই কমিশন থেকে এই সিদ্ধান্ত আমরা সম্মিলিতভাবে নিয়েছি। নির্বাচন এক সপ্তাহ পিছিয়ে ২৮ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আজ থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করার কথা। তবে নির্বাচন পেছানো কারণে সকল কার্যত্রম কিছুটা পরিবর্তন করা হয়েছে বলেও জানান ইলিয়াস কাঞ্চন। এবার নির্বাচনের অনেককিছুই পরিবর্তন হয়েছে যেন হঠাৎ করেই। শুরুর দিকে সভাপতি পদে নির্বাচন করার কথা ছিল ৩ জনের। সেই জায়গা থেকে বর্তমানে চূড়ান্ত হয়েছে দুটি প্যানেল এবার নির্বাচনে অংশ নেবে। মিশা সওদাগর ও জায়েদ খান আবারো এক প্যানেলে নির্বাচন করবেন। অন্যদিকে চিত্রনায়িকা মৌসুমীর সঙ্গে রয়েছে ডি এ তায়েব। সভাপতি পদে মুখোমুখি এবার মিশা সওদাগর ও মৌসুমী।বর্তমানে নতুন সিনেমার শুটিং নিয়ে কক্সবাজারে রয়েছেন মিশা সওদাগর। নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সবার অনুরোধে আবারো নির্বাচন করতে যাচ্ছি। গত ২ বছর শিল্পী সমিতির যে কার্যক্রম ছিল তাতে সবার প্রশংসা পেয়েছি। সবার ভালোবাসায় এই সংগঠনকে আরো এগিয়ে নিতে চাই। গতবার অনেক কাজ আমরা পুরোপুরি শেষ করতে পারিনি। এবার জয়ী হলে সেগুলো শেষ করবো। এবার সভাপতি পদে আরো একজন প্রার্থী মৌসুমী। তার জন্য আমার শুভকামনা রইলো।’চিত্রনায়িকা মৌসুমী বলেন, ‘প্রথমবারের মতো নির্বাচন করছি। অনেকদিন এই ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গেই রয়েছি। ঢাকাই সিনেমার অনেকগুলো সময় দেখেছি। আশা করি নির্বাচনে জয়ী হলে সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারবো। আসলে নির্বাচনে কয়েকজন মাত্র নির্বাচিত হবেন। কিন্তু আমাদের সিনেমার জন্য কাজ করতে হবে সবাইকে। সেই আহ্বান রইলো। আশা করি সুষ্ঠু একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জয়ী হলে সবার প্রত্যাশা পূরণের জন্য কাজ করতে চাই।’

মঞ্চে ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ রোমিও জুলিয়েট

বিনোদন বাজার ॥ উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের ‘দ্য ট্র্যাজেডি অব রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট’-এর আখ্যানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে লেখা হয়েছে এই নাটক। নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র এখনকার একজন কবি। পূর্ণিমা রাতে সমাধিতে ফোটা ফুলের গন্ধে যে মাতোয়ারা হয়, গেয়ে ওঠে নিষ্ঠাপ্রেমের গান। সে রকম এক রাতে তার গানে রোমিও আর জুলিয়েট এসে হাজির হয় কবির সামনে। কবি জুলিয়েটকে জানিয়ে দেয়, রোমিও আসলে জুলিয়েটের আগে ভালোবাসতো রোজালিনকে। তাকে দেখার জন্য বন্ধুদের সঙ্গে রাতের এক ভোজসভায় যায় সে। সেখানেই জুলিয়েটের রূপে মুগ্ধ হয়ে ভুলে যায় রোজালিনকে। এ কথায় অসহায় বোধ করে প্রেমিকযুগল। তারা সাহায্য চায় ফাদার ফায়ারের।

এই ফাদার গোপনে রোমিও-জুলিয়েটের বিয়ে সম্পন্ন করেছিল। সত্য প্রকাশ না করে সে আবার প্যারিসের সঙ্গে জুলিয়েটের বিয়ে দিতে রাজি হয়েছিল। নিজের এ গোপন কর্মকে আড়াল করতে জুলিয়েটকে আত্মহত্যায় বাধ্য করেছিল ফাদার। কবি সেটাও মনে করিয়ে দেয়। এভাবেই চলতে থাকে নাটকের ঘটনা। এই ঘটনা চক্রে এক পর্যায়ে উপস্থিত হন ফাদার ফায়ার এবং সব শেষে শেকসপিয়ার। কবির এসব কা-ে ফাদার আহ্বান করে উইলিয়াম শেক্সপিয়ারকে। কবি শেক্সপিয়ারকেও ছাড়েনি। প্রশ্নবাণে জর্জরিত করে শেক্সপিয়ারের ‘দ্য ট্র্যাজেডি অব রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট’ নাটকের গঠন ভেঙে দেয়। নাটকটি এনেছে এমটি স্পেস। ‘এ নিউ টেস্টামেন্ট অব রোমিও অ্যান্ড জুলিয়েট’ নাটকটির প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে দলটিরও যাত্রা শুরু। রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় দর্শকের সামনে দলটির যাত্রা শুরু হলো শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায়। সাইমন জাকারিয়ার লেখা নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন নূর জামান। নাটকের মঞ্চসজ্জা, আলোক, পোশাক পরিকল্পনাসহ আবহসংগীতও পরিকল্পনা করেছেন তিনি। বাংলাদেশের থিয়েটারের চার পথিকৃৎ আতাউর রহমান, মামুনুর রশীদ, ম হামিদ এবং নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু উপস্থিত থেকে দলটির উদ্বোধন করেন। এ সময় এমটি স্পেস নাট্যদলটির উপদেষ্টা মঞ্চসারথি আতাউর রহমান, নাট্যব্যক্তিত্ব গোলাম সারোয়ারসহ অন্য নাট্যব্যক্তিত্বরাও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

প্রথমবার বড়পর্দায় ভিলেন রোজী সিদ্দিকী

বিনোদন বাজার ॥ অভিনেত্রী রোজী সিদ্দিকী ইতোমধ্যে তার অভিনয় জীবনের তিন দশক অতিবাহিত করেছেন। তবে এই দীর্ঘ পথচলায় এবারই প্রথম কোনো সিনেমায় খলনায়িকার চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ‘পরাণ’ সিনেমায় তাকে এমন চরিত্রে দেখা যাবে। গত ১৪ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর রোজী সিদ্দিকী সিনেমাটির শুটিং শেষ করেছেন। রোজী সিদ্দিকী বলেন, ‘নানা সময়ে সিনেমায় খলনায়িকার চরিত্রে অভিনয় করার প্রস্তাব পেয়েছিলাম। কিন্তু ব্যাটে-বলে মেলেনি তাই করা হয়ে ওঠেনি। এই চরিত্রটি ভালো লেগেছে, তাই অনেকটা চ্যালেঞ্জ নিয়েই সিনেমাটিতে অভিনয় করেছি। আমি খুব আশাবাদী। দেখা যাক, দর্শকের রায়ে কী ফলাফল আসে।’ রায়হান রাফির পরিচালনায় ‘পরাণ’ সিনেমায় আরো অভিনয় করেছেন বিদ্যা সিনহা মিম, ইয়াশ রোহান, শরিফুল রাজ, শিল্পী সরকার অপুসহ আরো অনেকে।এদিকে রোজী সিদ্দিকী নিয়মিত ‘মান অভিমান’, ‘ঘুমন্ত শহরে’, ‘ফ্যামিলি ক্রাইসিস’ ও ‘তুমি আছো তাই’ ধারাবাহিকে অভিনয় করছেন। উল্লেখ্য, রোজী অভিনীত প্রথম সিনেমা গৌতম ঘোষের ‘পদ্মা নদীর মাঝি’। পরবর্তী সময়ে তিনি কাজী হায়াতের ‘লাভ স্টোরি’ সিনেমায় অভিনয় করেন। এ ছাড়া তিনি ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ও ‘শঙ্খচিল’ সিনেমাতেও অভিনয় করেন। আগামী ১১ অক্টোবর ‘গঙ্গা যমুনা নাট্যোৎসব’-এ রোজী সিদ্দিকীর একক মঞ্চ নাটক ‘পঞ্চ নারীর আখ্যান’র ৬৯তম মঞ্চায়ন হবে।