কালুখালীর বানজানা মহিলা সমবায় সংস্থা পরিদর্শন করলেন মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা

ফজলুল হক ॥ রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার মৃগী ইউপির বানজানা মহিলা সমবায় সংস্থা রেজিঃ নং- ১৬৩/১৪ পরিদর্শন করলেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা তুহিনা সুলতানা। গতকাল বেলা ১২টার দিকে পরিদর্শনকালে তিনি উপস্থিত সমিতির সদস্যদের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন দিক নিদের্শনামূলক বক্তব্যে সমিতি চালু রাখার জন্য সকলকে নিয়মিত মাসিক সভা আয়োজন করার পরামর্শ সহ সমিতির সদস্যবৃন্দদেরকে আয়বর্ধক কাজ করার দিক নিদের্শনা প্রদান করেন। এসময় সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্যদের মধ্যে সভানেত্রী আছিয়া খাতুন, সাধারণ সম্পাদিক তহুরা খাতুন, সহ-সম্পাদিকা সাথি পারভীন, কোষাধ্যক্ষ রুমানা খাতুন সহ œ সূধীজন উপস্থিত ছিলেন।

ঝিনাইদহে মাদক বাল্যবিবাহ এবং আত্মহত্যা প্রতিরোধে ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ঘোড়শাল ইউনিয়নে মাদক বাল্যবিবাহ এবং আত্মহত্যা প্রতিরোধে ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার দুপুরে সরকারের এসডিজি বাস্তবায়নের লক্ষে নারিকেল বাড়ীয়া  জেড, এ মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়। সেসময় ঘোড়শাল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পারভেজ মাসুদ লিল্টন এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাড. আব্দুর রশীদ। প্রধান আলোচক ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মী ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন সদর থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ মঈন উদ্দিন, মহিলা ভাইস  চেয়ারম্যান আরতী দত্ত, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা খোন্দকার শরীফা আক্তার। এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে শিক্ষক, ইমাম, কাজী, ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক সাংবাদিক এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের নিয়ে মাদক, বাল্য-বিবাহ এবং আত্মহত্যা প্রতিরোধে ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়।

বিএনপি রাজনৈতিক দৈন্য দশায় ভুগছে – ড.হাছান মাহমুদ

ঢাকা অফিস ॥ তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি রাজনৈতিক দৈন্য দশায় ভুগছে। তাদের দলের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে অপরাজনীতি করছে। তথ্যমন্ত্রী গতকাল বুধবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ের নতুন ভবনে দলের প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির বৈঠকপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। আওয়াামী লীগের আগামী ২০ ও ২১ ডিসেম্বর জাতীয় সম্মেলনের প্রস্তুতি নিয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির চেয়ারম্যান এইচ টি ইমাম বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, প্রচার উপ-কমিটির সদস্য কাসেম হুমায়ুন, আব্দুস শুকুর ইমন প্রমুখ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। ড. হাছান বলেন, মানুষ রাজনীতি করে দেশ ও জনগণের জন্য। আর বিএনপি রাজনীতি করছে বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে । তিনি আরো বলেন, দেশ ও জনেেগণর কল্যাণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সন্ত্রাস দুর্নীতি ও মাদক বিরোধী অভিযান শুরু করেছেন। এটা অব্যাহত থাকবে। অপরাধী যে দলেরই হোক তারা ছাড়া পাবে না। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের শাস্তির বিষয়টি ক্রীড়াঅঙ্গনের বিষয় । তবে ব্যাক্তিগতভাবে আমার কাছে মনে হয়েছে তার শাস্তিটা বেশী হয়ে গেছে।’ এইচ টি ইমাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দক্ষ নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি দেশ ও দেশের মানুষকে নিয়ে চিন্তা করেন। সে কারণে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

এবার অর্ধেক ধান অর্ধেক চাল কেনা হবে – খাদ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ এবার আমন মৌসুমে মোট লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেক ধান আর অর্ধেক চাল কেনা হবে বলে খাদ্যমন্ত্রী সাধনচন্দ্র মজুমদার জানিয়েছেন। বুধবার দিনাজপুরে আসন্ন আমন সংগ্রহ কার্যক্রম বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, “কৃষকদের স্বার্থের কথা মাথায় রেখে বোরো মৌসুমের চেয়ে আমন মৌসুমে বেশি কেনা হবে। যতটুকু কেনা হবে সেটা ৫০ ভাগ ধান ও ৫০ ভাগ চাল কেনা হবে।” তবে এ বছর কী পরিমাণ আমন কেনা হবে তা বলেননি মন্ত্রী। এর আগে বোরো মৌসুমে চাল নয় লাখ টন আর ধান দেড় লাখ টন কেনা হবে বলে মন্ত্রী সাধনচন্দ্র জানিয়েছিলেন। তবে ধানের দাম কমে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সরকার ১৫ লাখ টনের বেশি ধান-চাল সংগ্রহ করে। এদিকে চাল রপ্তানির জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে বুধবার দিনাজপুরের এ সভায় জানান মন্ত্রী। মন্ত্রী বলেন, “১০ লাখ মেট্রিক টন চাল রপ্তানির জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে পাঁচ লাখ মেট্রিক টন রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছে। ব্যবসায়ীরাও চাল রপ্তানি শুরু করেছেন।” স্থানীয় সংসদ সদস্য ইকবালুর রহিম, মনোরঞ্জন শীল গোপাল, তাবাসসুম জুঁই, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আশ্রাফুজ্জামান, কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক তৌহিদুল ইকবাল, চালকল ব্যবসায়ীরা সভায় ছিলেন। পরে খাদ্যমন্ত্রী দিনাজপুর সিএসডি এবং এলএসডি খাদ্যগুদাম পরিদর্শন করেন।

দেশে ফেরার আকুতি গুরুতর অসুস্থ খোকার

ঢাকা অফিস ॥ অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা গুরুতর অসুস্থ। তিনি দেশে ফিরতে চান। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সঙ্গে টেলিফোন আলাপে দেশে ফেরার আকুতির কথা জানান এই মুক্তিযোদ্ধা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএনপির চেয়ারপাসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান। তিনি বলেন, কিডনির ক্যান্সারে আক্রান্ত সাদেক হোসেন খোকার স্বাস্থ্যের অবস্থা মঙ্গলবার থেকে অনেকটাই অবনতি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিএনপির এ নেতা ম্যানহাটনে ¯ে¬ায়ান ক্যাটারিং ক্যান্সার সেন্টারে অনেক দিন ধরে চিকিৎসা নিচ্ছেন। শায়রুল বলেন, হাসপাতালে যাওয়ার আগে সাদেক হোসেন খোকা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে আক্ষেপ করে বলেছেন, জীবনবাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। দেশের মাটিতে বিদায় হবে কিনা আল্লাহ জানেন। আমার জন্য দোয়া করো। পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে জানিয়ে শায়রুল কবির খান বলেন, সাদেক হোসেন খোকার সুস্থতা কামনা করে বিএনপির নানা স্তরে দোয়া মাহফিল আয়োজন করা হচ্ছে। তার পরিবার দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। সাদেক হোসেন খোকার ছেলে বিএনপির বৈদেশিক বিষয়ক কমিটির সদস্য প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন জানান, মঙ্গলবার থেকে তার বাবার শারীরিক অবস্থার অনেক অবনতি হয়েছে। তিনি মঙ্গলবার রাতেই বাবাকে দেখতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। এক সময়কার বাম ঘরানার রাজনীতিবিদ বিএনপিতে যোগ দেন। বিএনপির বর্তমান কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান তিনি। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম এই সংগঠক অভিবক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে ছিলেন। ঢাকার মেয়র হয়ে তিনি রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক মুক্তিযোদ্ধাদের নামে নামকরণ করেন। বিএনপির ক্ষমতায় থাকাকালে তিনি একাধিকবার মন্ত্রিসভার সদস্যও হন। ২০১৪ সালের ১৪ মে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান সাদেক হোসেন খোকা। একাধিক মামলায় সাদেক হোসেন খোকার সাজা হয়েছে। এর পর থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রেই আছেন। তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করা আছে। রাজধানীর বনানী সুপার মার্কেটের কার পার্কিংয়ের ইজারা দুর্নীতির মামলায় ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকাসহ ৪ জনের ১০ বছর বিনাশ্রম কারাদন্ড হয়। গত বছরের ২৮ নভেম্বর ঢাকা বিভাগীয় স্পেশাল জজ মিজানুর রহমান খান এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় খোকাসহ আসামিরা আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

রোহিঙ্গা সংকট

মিয়ানমারকে মিথ্যাচার বন্ধ করতে বলল বাংলাদেশ

ঢাকা অফিস ॥ মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নিপীড়ন ও জাতিগত নিধনে রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা কেন স্বেচ্ছায় ফিরতে আগ্রহী হচ্ছে না, তার সঠিক কারণগুলো সমাধানে মিয়ানমারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ। বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কড়া বিবৃতিতে বলা হয়, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে মিথ্যাচার বন্ধ করে মিয়ানমার সরকারকে তাদের প্রতিশ্র“তি পূরণে মনোযোগী হতে হবে। মিয়ানমারের আন্তর্জাতিক সহযোগিতাবিষয়ক মন্ত্রী উ কিয়াও তিনের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ বিবৃতি এসেছে। সাম্প্রতিক ন্যাম সম্মেলনে উ কিয়াও তিন অভিযোগ করেন, ধর্মীয় নিপীড়ন, জাতিগত নির্মূল অভিযান ও গণহত্যার মতো শব্দ ব্যবহার করে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টিকে বাংলাদেশ ভিন্নভাবে চিত্রায়িত করছে। রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব বঞ্চিত করার কারণ হিসেবে মিয়ানমার ওই জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অবৈধ অভিবাসী আখ্যায়িত করে থাকে। এবার তারা নতুন এক তত্ত্ব নিয়ে হাজির হয়েছে। দেশটি বলছে, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় বিপুলসংখ্যক মানুষ বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে মিয়ানমারে গিয়েছিল। মিয়ানমারের এ ধরনের দাবিকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলেছে বাংলাদেশ। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ, তথ্যবিকৃতি ও ঘটনাকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা ওই বক্তব্যকে বাংলাদেশ প্রত্যাখ্যান করছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আরসার কোনো তৎপরতা নেই বলে মিয়ানমারকে পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ সরকার। বিবৃতিতে বলা হয়, নিরাপত্তা বাহিনীর অতিসতর্কতা ও নিবৃত্তিমূলক কার্যকর পদক্ষেপের কারণে বাংলাদেশের কোথাও সন্ত্রাসীদের ঘাঁটি পরিচালনা সম্ভব না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীন বর্তমান সরকার এ ক্ষেত্রে শূন্যসহনীয় নীতি অবলম্বন করছে বলেও বিবৃতি বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, যখন রোহিঙ্গদের ফেরত পাঠানো হবে, তখন কোনো ধরনের হুমকি কিংবা প্রভাব ছাড়াই নিজেদের মতামত ব্যক্ত করতে পারবেন তারা। বিবৃতি জানায়, কাজেই নিজেদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকটে বাংলাদেশকে জড়ানোর চেষ্টা থেকে মিয়ানমারকে বিরত থাকতে হবে। এ ছাড়া সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একটি সমন্বিত সহযোগিতা কলাকৌশলে বাংলাদেশের প্রস্তাবে মিয়ানমারকে ইতিবাচকভাবে সাড়া দিতে হবে। আলোচনার মাধ্যমে এই দীর্ঘায়িত সমস্যার মোকাবেলার নীতি অবলম্বন করছে বাংলাদেশ সরকার। এছাড়া মিয়ানমারের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে চলছে ঢাকা। কাজেই এই দীর্ঘ সংকটের জন্য সম্পূর্ণভাবে দায়ী একটি দেশের মিথ্যা অভিযোগ একেবারেই অগ্রহণযোগ্য বলে বিবৃতি জানিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রায়ই অসহযোগিতার অভিযোগ করছে মিয়ানমার। এ ধরনের অভিযাগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং দূরভিসন্ধিমূলক উদ্দেশ্য থেকেই করা হতে পারে।

খালেদা জিয়ার মুক্তিতে ইস্পাত কঠিন আন্দোলন গড়ে তুলুন – জয়নুল আবেদীন

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেছেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও গণমানুষের নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ইস্পাত কঠিন আন্দোলন গড়ে তুলুন। পুলিশের মামলা-হামলার ভয় উপেক্ষা করে রাজপথে থাকুন। আইনি সহায়তা বাংলাদেশ আইনজীবী ফোরাম দেবে। সব মামলার দায়ভার আমরা বহন করব। বিনা খরচে দেশের সব আদালতে মামলা পরিচালনা করব। বুধবার হবিগঞ্জ জেলা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জয়নুল আবেদীন বলেন, বিএনপি রাজপথে আন্দোলন করছে বাংলাদেশের হারিয়ে যাওয়া গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে, মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে, গণতন্ত্রের মা বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে। কিন্তু ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার রাজনৈতিকভাবে বিএনপিকে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়েছে। জয়নুল আবেদীন বলেন, তারা আইনের শাসনকে কুক্ষিগত করে বিএনপিকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। খালেদা জিয়াকে জামিনযোগ্য মামলায় জামিন দেয়া হচ্ছে না। কিন্তু তাদের জানা নেই আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের শেষ সরকার নয়। আওয়ামী লীগের পতন হবে, আবার গণতন্ত্র ফিরে আসবে, গণমানুষের দল বিএনপি আবারও ক্ষমতায় আসবে, সেই দিন আর বেশি দূরে নয়। বাংলাদেশ আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট হাজী নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সমবায়বিষয়ক সম্পাদক সাবেক মেয়র জি কে গউছ, বাংলাদেশ আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম।

কুষ্টিয়ায় জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচীর উদ্বোধন

কুষ্টিয়ায় জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য সংগ্রহ ২০১৯ কর্মসূচীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার বেলা ১০টায় কুষ্টিয়া আদালত প্রাঙ্গনে জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কার্যালয়ে এই সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহবায়ক, বিএনপির কেন্দ্রীয় আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিষ্টার কায়সার কামাল। কুষ্টিয়া জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি অধ্যক্ষ আমিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি সভাপতি সাবেক এমপি সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, বক্তব্য রাখেন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন। জাতীয়তাবাদী আইনজীবি ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাডভোকেট শামীম উল হাসান অপুর পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ব্যারিষ্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, ব্যারিষ্টার মনিরুজ্জামান মাসুদ, এ্যাড. রফিকুল ইসলাম মন্টু, এ্যাড. আনিসুর রহমান, এ্যাড. ওয়াহেদুরজামান দিপু, এ্যাড. শামিমা আক্তার বানু, এ্যাড. আব্দুস সালাম, এ্যাড. সম্রাট, কুষ্টিয়া জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতা এ্যাড. আকলিমা খাতুন, এ্যাড. আজমল হোসেন, এ্যাড. শাতিল মাহমুদ, এ্যাড. আব্দুল মজিদ, এ্যাড. মাহাতাব উদ্দিন প্রমুখ। এসময় সদস্য ফরমের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য সংগ্রহ ২০১৯ কর্মসূচীর উদ্বোধন করা হয়। প্রধান অতিথি বক্তব্য ব্যারিষ্টার কায়সার কামাল বলেন, প্রত্যেকটি বার জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামকে শক্তিশালী করার জন্য এই সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচী এবং পরবর্তিতে গণতান্ত্রীক উপায়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কমিটি গঠন করা হবে। তাই ফোরামকে শক্তিশালী করার আপনাদেরকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। উক্ত অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্যে সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী বলেন, দেশ আজ গভীর সংকটে। দেশে আইনের শাসন নেই, স্বৈরাচারী কায়দায় বিএনপিকে দমনের অশুভ পায়তারা লিপ্ত সরকার। এই অবস্থা চলতে দেওয়া যাবে না। আইনজীবিরা সমাজকে এ ব্যাপারে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করার আহবান জানান। অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন বলেন, রাজনৈতিক হয়রানী মূলক মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটক রেখেছে সরকার। তাকে মুক্ত করার জন্য দেশের আইনজীবি সমাজকে অগ্রনী ভূমিকা পালন করতে হবে এবং বেগম জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

মহেশপুরের দত্তনগর ফার্মের ২ কোটি টাকার ধান আত্মসাত করার ঘটনায়  তদন্ত শুরু করেছে দুদক

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ বিএডিসি’র ঝিনাইদহের মহেশপুরের দত্তনগর বীজ উৎপাদন খামারের  ২ কোটি টাকার  ধান আত্মসাত করার ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে দুনীতি দমন কমিশন (দুদুক)।  গতকাল বুধবার দুপুরে দুনীতি দমন কমিশন দুদুকের যশোর অঞ্চলের উপ-পরিচালক মোঃ নাজমুস ছায়াদাতের নেতৃত্বে  একজন সহকারী পরিচালক দত্তনগর কৃষি খামারের অধীন  গোকুলনগর  বীজ বর্ধন খামার, করিঞ্চা বীজ বর্ধন খামার  ও পাতিলা বীজ বর্ধন খামারের তিন উপ-পরিচালকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। এ সময় তদন্তকারী সহকারী পরিচালক মোঃ মোশাররফ হোসেন উল্লেখিত খামারের ধান উৎপাদন ও যশোর প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্রে পাঠানো সংক্রান্ত নথিপত্রের ফটোকপি সংগ্রহ করেন। এছাড়া তিনি বর্তমানে কর্মরত ৫টি খামারের উপ-পরিচালক ও বিভিন্ন শ্রেণীর কর্মকর্তা কর্মচারীদের সাথে কথা বলেন। উল্লেখ্য গোকুলনগর খামারের উপ-পরিচালক তপন কুমার সাহা, করিঞ্চা খামারের উপ-পরিচালক ইন্দ্রজিৎ চন্দ্র শীল ও পাতিলা খামারের উপ পরিচালক আকাতারুজ্জামান তালুকদার যশোর শেখহাটি বীজ প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্রের উপ-পরিচালক মো. আমিন উদ্দিনের যোগসাজসে ২০১৮-১৯ উৎপাদন বর্ষে দত্তনগর খামারের আওতাধীন গোকুলনগর বীজ উৎপাদন খামার থেকে উৎপাদিত ১১৭ দশমিক ২৬০ মেট্রিক টন ও পাথিলা বীজ উৎপাদন খামার থেকে উৎপাদিত ৬৯ দশমিক ৫০০ মেট্রিক টন, মোট ১৮৬ দশমিক ৭৬০ মেট্রিক টন এসএল-৮ এইচ জাতের হাইব্রিড বীজ যশোর বীজ পক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রে পাঠিয়ে আত্মসাত করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠে।  অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

দৌলতপুরে সাড়ে ৪ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী সাদ্দাম আটক

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে গাঁজাসহ সাদ্দাম হালসানা (১৯) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী আটক হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের বিলবোয়ালিয়া এলাকা থেকে সাড়ে ৪কেজি গাঁজাসহ তাকে আটক করে দৌলতপুর থানা পুলিশ। দৌলতপুর থানা পুলিশ সূত্র জানায়, মাদক পাচারের গোপন সংবাদ পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ বিলবোয়ালিয়া গ্রামের দবির মন্ডলের বাঁশ বাগানে অভিযান চালিয়ে মাদক ব্যবসায়ী সাদ্দাম হালসানাকে ৪ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ আটক করা হয়। সে উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের মহিষকুন্ডি মাঠাপাড়া গ্রামের মোজাম হালসানার ছেলে। বিষয়টি দৌলতপুর থানার ওসি এস এম আরিফুর রহমান নিশ্চিত করেছেন।

অপরদিকে সীমান্তরক্ষী ৪৭ বিজিবি অধিনস্থ শেওড়াপাড়া বিওপি’র টহল শেওড়াতলা পশ্চিম মাঠে অভিযান চালিয়ে ১৮ বোতল ভারতীয় মদ এবং আশ্রয়ন বিওপি’র টহল দল পুরাতন ঠোটারপাড়া মাঠে অভিযান চালিয়ে ৫০ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করেছে। তবে উদ্ধার করা মাদকের সাথে জড়িত কেউ আটক হয়নি।

॥ নাজীর আহ্মদ জীবন ॥

পবিত্র ১২-ই রবিউল আউয়াল ও ১২-শরীফ

আগামী ১০ই নভেম্বর রবিবার পবিত্র ১২-ই রবিউল আউয়াল; ফাতেহা দোয়াজদাহম বা ঈদে মিলাদুন্নবী। এ দিন ১২ শরীফের জন্ম দিন। তাই ১২-ই রবিউল আউয়াল  ১২ শরীফের হৃদয়। সৃষ্টির ইতিহাসে শুধু নয়, আল¬াহর প্রেমের ইতিহাসে এ এক স্বর্ণ উজ্জ্বল ও প্রতিক্ষিত দিন। এটা এমন এক মাস অন্যান্য মাস অপেক্ষা  যার মর্যাদা সর্বাধিক। যেন বসন্তের উপর চির বসন্তকাল  এবং আলোর উপর উজ্জ্বল আলো; তার উপর আলোরমালার তরঙ্গ বিচ্ছুরণ। তাই বলি, “হে সিরাজ! আজ তোমার  আলোক ধারায়, করুণা ধারায়, বহু রুপে এসো।”

হে মানবতার ত্রাণ কর্তা ৫৭০ খৃষ্টাব্দে পৃথিবীতে এসে, ১৯৭৫ খৃষ্টাব্দের ১৬ই শাবান, সোমবার কেন প্রকাশিত হলে মানুষকে তা জানতে দাও।

তাই বলি, হে আল্লাহ! আলো দাও, আরো আলো আমাদের অন্ধকার হৃদে। মানুষ খুঁজে পাক তোমায় মোহাম্মদ (সাঃ) কে নতুন করে চিনে জেনেও ভালবেসে। আর সে আলো হ’ল “মোহাম্মদী আলো”। যে আলো নিয়ে তিনি জন্ম নেন পবিত্র-১২-ই রবিউল আউয়াল সোমবার। আজ ইসলামকে তার শেষ ভূমিকা পালন করতে দিতে হবে। ইসলাম সর্বযুগের ধর্ম। এতদিন  বিভিন্ন নবী এতে ভূমিকা রেখেছেন। শেষে আমাদের নবী (সাঃ) ইব্রাহিমী প্রচারের মাধ্যমে এতে ভূমিকা রাখেন। এখন দ্বীন ইসলাম তার সময়ের দাবিতে ভূমিকা পালন করবে “মোহাম্মদী ইসলাম” প্রচার করে। আল¬াহ ও রাসূল হতে দয়া প্রাপ্ত হয়ে যা প্রচার করে গেলেন বারো শরীফের মহান ইমাম হযরত শাহ্ সূফী মীর মাস্উদ হেলাল (রঃ)। বারো শরীফের লক্ষ্য ও আদর্শ, “রাসূল প্রেমের মাধ্যমে আত্মার মুক্তি ও বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠা। আর মানুষকে ভালবেসে মান সেবা করে যাওয়া”। সেই কোরআন; নামাজ, মসজিদ সব আছে; কিন্তু কিসের বড় অভাব, যা এসবকে প্রাণবন্ত করতে পারছে না। তা হ’ল “ইল্মে সিনা, আর নূর সে সিনা”।

আসুন পবিত্র অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে জেনে যায় কেন এ ঈদ মুক্তির ঈদ, বারো শরীফ কি ও কেন, কে ইনি ইমাম (রঃ)।

ঃ অনূষ্ঠান সূচী ঃ

*          আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন  ঃ ০৯ই নভেম্বর, শনিবার বাদ আছর। * খাস্ মিলাদ মাহফিল     ঃ        ১০ই নভেম্বর-রবিবার ভোর রাত্রি ৪ টা। *      ইমাম (রঃ) এর রওজাপাক ঃ       ১০ ই নভেম্বর-রবিবার বাদ ফজর জামাত। * জেয়ারত, নেওয়াজ বিতরণ *             পতাকা উত্তোলন ও র‌্যালী          ঃ ১০ই নভেম্বর রবিবার বাদ ফজর। * কোরআনখানি ঃ ১০-ই নভেম্বর রবিবার বাদ যোহর। * শিশু কিশোরদের ক্বিরাত            ঃ ১০-ই নভেম্বর-রবিবার বাদ যোহর। ও হামদ নাত প্রতিযোগিতা * মিলাদ মাহফিল প্রবন্ধ পাঠ       ঃ ১০-ই নভেম্বর-রবিবার বাদ এশা  ও কবিতা আবৃত্তি। *    পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী জিন্দাবাদ * বারো শরীফ জিন্দাবাদ * বারো শরীফের ইমাম (রাঃ) জিন্দাবাদ।

 

ঝাউদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন ৪ নভেম্বর

বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়ন ও সদর সাংসদ হানিফের উন্নয়নের হাতকে শক্তিশালী করতে  সভাপতি প্রার্থী হচ্ছেন ঝেনু বিশ্বাস

নিজ সংবাদ ॥ আগামী ৪ঠা নভেম্বর কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ঝাউদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগ ঘোষিত সাংগঠনিক কর্মসূচি অনুযায়ী তৃণমূলের ওয়ার্ড, ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শুরু করে সকল পর্যায়ে সম্মেলনের মাধ্যমে সংগঠনের চলমান  শক্তিশালী অবস্থানকে আরো সুদৃঢ় করতে আধুনিক কুষ্টিয়ার রূপকার, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সংগ্রামী যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া(সদর-৩)  আসনের সাংসদ জননেতা মাহবুবউল আলম হানিফ-এর নির্বাচনী উপজেলা, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ঝাউদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলনে সভাপতি পদপ্রার্থী হিসেবে আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন অত্র ইউনিয়নের হাতিয়া গ্রামের ঐতিহ্যবাহী পরিবারের মরহুম চুনু উদ্দিন বিশ্বাসের পুত্র আব্দুল ওয়াহেদ (ঝেনু বিশ্বাস)।

৭৫’র পরবর্তী আওয়ামী রাজনীতির চরম দুঃসময় থেকে শুরু করে অদ্যাবধি সংগঠনের সকল ক্রান্তিকালে ত্যাগী, নির্লোভ ও প্রচারবিমুখ এই প্রবীণ নেতার বরাবরই ব্যক্তিগত পদ-পদবী লাভে স্বভাবজাত অনীহার পাশাপাশি সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী, অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ, এককালের ভয়ংকর চরমপন্থী অধ্যুষিত এই জনপদের পাশাপাশি কয়েকটি ইউনিয়নে আওয়ামী রাজনীতির তৎকালীন বৈরী পরিবেশে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী করে গড়ে তুলে এতদাঞ্চলে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে  অন্যতম সাহসী ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। যে কারনে দীর্ঘদিন থেকে কুষ্টিয়া জেলায়  নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী রাজনীতির শ্রদ্ধাভাজন প্রায় সকল  নেতৃবৃন্দের কাছেই ঝেনু বিশ্বাস তৃণমূলের পরিক্ষিত একজন সহযোদ্ধা; আস্থাভাজন একজন কর্মী।

ইতোমধ্যেই আসন্ন ঝাউদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সম্মেলনকে সফল ও স্বার্থক করতে আব্দুল ওয়াহেদ (ঝেনু বিশ্বাস) ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের তৃণমূল আওয়ামী লীগ  নেতা-কর্মীদের সাথে মতবিনিময়, সামাজিক নেতৃবৃন্দের সাথে গনসংযোগ ও সম্মেলনকে স্বাগত জানিয়ে তাঁর কর্মীদের আয়োজনে ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্টে খন্ড খন্ড মিছিলের মাধ্যমে ঝাউদিয়া ইউনিয়নবাসীর মধ্যে আসন্ন সম্মেলনকে ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে আসন্ন ঝাউদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি পদপ্রার্থী আব্দুল ওয়াহেদ (ঝেনু বিশ্বাস) বলেন, “সেই তরুণ বয়স থেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করে ঝাউদিয়া-সহ এতদাঞ্চলে আওয়ামীলীগের একজন কর্মী হিসেবে রাজনীতি করে আসছি। বাকী জীবনটাও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করেই কাটাতে চাই। ব্যক্তিগত কোন সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার আশায় কখনোই রাজনীতি করি নাই। আমার ইউনিয়নের তৃণমূল নেতা-কর্মী ও এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের জোরালো দাবির প্রেক্ষিতে এবারের সম্মেলনে সভাপতি পদে প্রার্থীতা ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছি। তবে আমি মনে করি, স্বাধীনতা পরবর্তীকাল থেকে অদ্যাবধি কুষ্টিয়া জেলায় যে ক’জন নেতা নেতৃত্ব দিয়েছেন, তার মধ্যে দলমত নির্বিশেষে কুষ্টিয়া সদর আসনের বর্তমান সাংসদ, আমাদের সকলের অভিভাবক, জননেতা মাহবুবউল আলম হানিফ সাহেব কুষ্টিয়ার উন্নয়নে অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছেন। এজন্য আমরা সদর উপজেলাবাসী দলমত নির্বিশেষে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ। তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রমে গড়া বিশাল অর্জন যেন আমাদের নেতা-কর্মীদের কর্মকান্ডে  কোনভাবেই ¤¬ান হয়ে না যায়, তাঁর উন্নয়নের রাজনীতির অংশীদার যেন আমরা সকলেই হতে পারি, এ ব্যাপারে  নেতা-কর্মীরা একটু সতর্ক থাকলেই আমাদের নেতা, জননেতা মাহবুবউল আলম হানিফ সাহেবের উন্নয়নের হাত আরো শক্তিশালী হবে।”

সভাপতি আকরাম ॥ সম্পাদক হামিদ

মালিহাদ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার মালিহাদ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন গতকাল বুধবার বিকেলে মালিহাদ ইউনিয়ন পরিষদ চত্ত্বরে অনুষ্ঠিত হয়। ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আকরাম হোসেনের সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ডাঃ আমিনুল হক রতন। সম্মেলন উদ্বোধন করেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আনোয়ারুজ্জামান বিশ্বাস মজনু। প্রধান বক্তা ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামীলীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক মানিক কুমার ঘোষ, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক খন্দকার ইকবাল মাহমুদ, সহ-প্রচার সম্পাদক আব্দুল লতিফ দিঘা। ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনের পরিচালনায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন পৌর মেয়র হাজী এনামুল হক, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি রবিউল হক রবি, যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক ও আমলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম মালিথা, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আলম বিশ্বাস, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক বি এম জুবায়ের রিগান, দপ্তর সম্পাদক রাশেদুজ্জামান ছন্দ, সদরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মাজেদুর আলম বাচ্চু, সাধারন সম্পাদক নিয়াত আলী লালু, আমবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল বারী টুটুল, কুর্শা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান, চিথলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এনামূল হক বাবলু, উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শারমিন আক্তার নাসরিন প্রমুখ। সম্মেলন শেষে আকরাম হোসেনকে সভাপতি ও আব্দুল হামিদকে সাধারণ সম্পাদক করে ত্রি-বার্ষিক কমিটি গঠন করা হয়।

কুষ্টিয়া জেলা কারাগারের ৪’শ বন্দীর রক্তের গ্র“প সনাক্তকরণ অনুষ্ঠানে ডিসি

ব্যক্তি কল্যাণ সাধনের মাধ্যমে দেশের কল্যাণ সাধন হয়

একটি মানুষের গুরুত্ব তখন হয় যখন সে অপরের বিপদে এগিয়ে আসে এবং সহযোগিতা করেন। কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে গতকাল ৪’শ জন কারাবন্দীদের রক্তের গ্র“প সনাক্তকরণ ও কার্ড বিতরন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, আত্মীয়স্বজন, অপরিচিত জনের রক্তের প্রয়োজন হলে রক্তের গ্র“প জানা থাকলে তাৎক্ষনিক রক্ত  দেওয়া সম্ভব। রক্তের গ্র“প সনাক্তকরণ একটি মহৎ উদ্যোগ। জেল সুপারের উদ্যোগে এই মহৎ কাজ করার জন্য তাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। জেলা প্রশাসক বলেন- একজন মানুষ শুধু একজন ব্যক্তি নয়, সকলের অংশ। তার ভালমন্দের উপর সকলের ভাগ্য জড়িত। ব্যক্তি কল্যাণ সাধনের মাধ্যমে দেশের কল্যাণ সাধন হয়। কারাগারে আটক অবস্থায় সংশোধন বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজেদের দক্ষ হিসাবে উপযোগী হয়ে বাহিরে উক্ত পেশায় নিয়োজিত থেকে সাবলম্বি হওয়া যায়। তিনি কারাবন্দীদের কারাগারে বিভিন্ন শিক্ষা গ্রহণ করে সুন্দর ও উন্নত জীবনযাপন, ভাল আচরণ ও ভাল ব্যবহার করার জন্য বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেল সুপার জাকির হোসেন। সহযোগিতায় ছিলেন কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ও কুষ্টিয়া জেলা কারাগারের সহকারী সার্জেন ডাঃ তাপস কুমার সরকার। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া কারাগারের ভারপ্রাপ্ত জেলার আমিরুল ইসলাম, ডেপুটি জেলার ডিএম আক্তারুজ্জামান, ফার্মাসিষ্ট আমিন বিন জামাল। অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে জেল সুপার জাকির হোসেন বলেন, কারাগার নিরক্ষরমুক্ত ও মাদকমুক্ত রাখার জন্য বন্দীদের সংশোধন ও বিভিন্ন কার্যক্রম চালু করা হচ্ছে। কারাগারে মাদক মুক্ত রাখার জন্য বিভিন্ন ওয়ার্ডে ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। সকালে ব্যায়ামের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিকালে ফুটবল, ভলিবল, কেরাম খেলার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ২জন  যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দী সাজা ভোগ করে বাহিরে গিয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে সাহায্য চাইলে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সাহায্য প্রদান করা হয়। কারাগারে নিরক্ষর বন্দীদের অক্ষর জ্ঞান কুরআন শিক্ষার জন্য শিক্ষিত বন্দী ও বহিরাগত শিক্ষকের মাধ্যমে বন্দীদের শিক্ষা প্রদান করা হচ্ছে।  অনুষ্ঠান শেষে কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে প্রথম বারের মত ৩৮৫জন পুরুষ ও ১৫জন মহিলা বন্দীদের রক্তের গ্র“প সনাক্তকরণ ও কার্ড বিতরণ করা হয়। ব্লাড কার্ড হাতে পেয়ে বন্দীরা আনন্দ ও সšু—ষ্টি প্রকাশ করেন। এই অনুষ্ঠানে রক্তের গ্র“প সনাক্ত করেন কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের সন্ধানী গ্র“পের ছাত্রছাত্রীরা। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে সত্য গোপন করা হচ্ছে – ড্যাব

ঢাকা অফিস ॥ কারাবন্দি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ হলেও তার চিকিৎসা নিয়ে পরিকল্পিতভাবে সত্য গোপন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ড্যাব। বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের এ সংগঠনের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. আবদুস সালাম বলেন, ‘খালেদা জিয়া হাইলি এক্টিভ ডিফরমিং, রিমেটয়েড আর্থ্রাইটিস, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশনসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছেন। এ অবস্থায় তিনি জেলখানায় সঠিক চিকিৎসা না পাওয়ায় এবং স্বাভাবিক পরিবেশ না থাকায় ওই রোগ সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিয়েছে। আমরা মনে করি, ষড়যন্ত্রমূলকভাবে খালেদা জিয়াকে তিলে তিলে নিঃশেষ করার অপপ্রয়াসে তার স্বাস্থ্য নিয়ে অসত্য সংবাদ পরিবেশন করা হচ্ছে, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’ লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ‘একাধিক রোগে জটিলতার কারণে খালেদা জিয়ার হাত ও পায়ের ছোট ছোট জয়েন্টগুলোসহ বিভিন্ন জয়েন্ট ফুলে গেছে এবং তাতে তীব্র ব্যথা অনুভূত হচ্ছে। শুধু তাই নয়; জয়েন্টগুলো শক্ত এবং বাঁকা হতে চলেছে, যা অচিরেই স্থায়ী রূপ ধারণ করতে পারে। ফলে বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে অন্যের সাহায্য ছাড়া চলাফেরা, ওঠাবসা এমনকি হাতে খাবার পর্যন্ত খেতে পারছেন না।’ অধ্যাপক আবদুস সালাম বলেন, ‘সবাই জানেন খালেদা জিয়া চরম অসুস্থতায় ভুগছেন। আসলে তিনি ধীরে ধীরে পঙ্গুত্বের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। তার যথাযথ চিকিৎসা না দিলে এই অবস্থা স্থায়ী রূপ নিতে পারে। অথচ বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ সরকারের অশুভ ইশারায় জাতিকে বিভ্রান্ত করতে এবং খালেদা জিয়ার প্রাপ্য জামিন ভন্ডুল করতে সত্য গোপন করছেন। ’ তিনি বলেন, ‘সংবাদ সম্মেলনে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন, যা খুবই দুঃখজনক। বিএসএমএমইউর পরিচালক বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার অসহযোগিতার কারণে চিকিৎসকেরা তার সঙ্গে দেখা করতে পারেন না, যা সর্বৈব মিথ্যা। আমাদের জানামতে খালেদা জিয়া সংশ্লিষ্ট চিকিত্সকদের কখনো বাধা প্রদান করেননি, বরং সবসময় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। যা মেডিকেল বোর্ডের প্রধানের বক্তব্যে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়। তিনি জানান যে বেগম খালেদা জিয়া আমাদের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলেন এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত যে কোনো প্রশ্নের উত্তর দেন স্বাছন্দে।’ ড্যাবের মহাসচিব বলেন, ‘এ কথা সবাই জানেন যে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্র“য়ারি খালেদা জিয়া গাড়ি থেকে নেমে নিজে পায়ে হেঁটে জেলখানায় প্রবেশ করেন। প্রথমবার যখন বিএসএমএমইউতে আসেন তখন গাড়ি থেকে নেমে নিজে লিফট পর্যন্ত হেঁটে যান। সময়ের পরিক্রমায় তিনি কেন আজকের অবস্থায় উপনীত হলেন সে প্রশ্ন জাতির কাছে। তিনি সুচিকিৎসা পেলে এমন অবস্থা হতো না। সুতরাং বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষের সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্য সত্যের অপলাপ মাত্র।’ ডা. আবদুস সালাম বলেন, ‘খালেদা জিয়া ভীষণ অসুস্থ। তার যথাযথ চিকিৎসা না হলে যে কোনো সময় তার শারীরিক স্থায়ী পঙ্গুত্ব এবং ডায়াবেটিস ও হৃদরোগজনিত বড় সমস্যা হতে পারে। তবে এরকম পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তার দায়ভার বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও সরকারকেই নিতে হবে। সুতরাং আমরা ড্যাবের পক্ষ থেকে জটিল পরিস্থিতি হওয়ার আগেই খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক দ্বারা তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করার দাবি জানাচ্ছি। তাকে জামিন দিয়ে মুক্ত পরিবেশে পছন্দ মতো হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার সুযোগ দেয়া হোক। অন্যথায় চিকিৎসক সমাজ বসে থাকবে না। তারা বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণকে সঙ্গে নিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন গড়ে তুলবে।‘ বিএনপি সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ড্যাব এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএসএমএমইউর সাবেক প্রোভিসি অধ্যাপক ডা. এমএ মান্নান, ড্যাবের সাবেক আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ, ড্যাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা. এমএ সেলিম, ড্যাব নেতা ডা. মাজহারুল ইসলাম দোলন, ডা. কাকন, ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল, ডা. এরফানুল হক সিদ্দিকী, ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ ও ডা. শেখ ফরহাদ প্রমুখ।

কুষ্টিয়া পৌরসভার আয়োজনে টাউন লেভেল মাল্টিসেক্টরাল স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সমন্বয় কমিটির ওরিয়েন্টেশন

গতকাল বুধবার সকালে কুষ্টিয়া পৌরসভার ম.আ.রহিম মিলনায়তনে পৌরসভার টাউন লেভেল মাল্টিসেক্টরাল স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সমন্বয় কমিটির ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইউএনডিবির সহায়তায় প্রান্তীক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্প জাতীয় নগর দারিদ্র হ্রাসকরণ প্রকল্পের আয়োজনে এই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র আনোয়ার আলী। উদ্বোধনকালে পৌর মেয়র আনোয়ার আলী বলেন, এই শহরের মা, শিশু স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ে যে সব সরকারী ও বেসরকারী  এবং বেসরকারী সংস্থা কাজ করে  থাকে তাদের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করার জন্য আজকের এই আয়োজন। আমরা যাতে পরস্পর অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে পারি এবং তাদের সেবা ও কার্যক্রম সমূহ সকলে জানতে পারে। তিনি আরো বলেন, পৌর এলাকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠির কাছে স্বাস্থ্য  ও পুষ্টি বিষয়ে সঠিক তথ্য ও পরামর্শ পৌছে দেওয়া আমাদের মূল লক্ষ। তিনি আরোও বলেন, আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। এই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমাদের প্রাপ্তি অনেক। এজন্য এদের পুষ্টি বিষয়ে নজর দেওয়া জরুরী কেননা একজন শিশু যদি অপুষ্টিহীনতায় ভোগে তাহলে স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে পারবে না। এজন্য এই প্রকল্পের মাধ্যমে দারিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে মাতৃগর্ভকালীন হতে শিশুর বয়স ২৪ মাস পর্যন্ত পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানোর জন্য প্রতিমাসে আর্থিক সহযোগীতা করা হবে। এছাড়াও এই প্রকল্পের মাধ্যমে ১০ জন পুষ্টি কর্মি পৌর এলাকার কাজ করার জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়া পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম। বক্তব্য রাখেন পৌরসভার প্যানেল মেয়র-২ সাইফ-উল-হক মুরাদ, শহর পরিকল্পনাবীদ রানভীর আহমেদ, উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার সচিব কামাল উদ্দিন, বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা একেএম মনজুরুল ইসলাম, আরবান প্রাইমারী হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারী প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক রাহেলা পারভীন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের টাউন ম্যানেজার সেলিম মোড়ল। এসময় উপস্থিত ছিলেন পরিবার পরিকল্পনা অফিসের প্রতিনিধি, সমাজসেবা, তথ্য অফিস , আদ্বদীন হাসপাতাল সহ জেলার স্বাস্থ্য বিষয়ক অফিস ও হাসপাতালের প্রতিনিধিবৃন্দ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার কর্মকর্তাসহ এই প্রকল্পের কর্মকর্তাবৃন্দ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ইউ এন ডিপি’র সোসিও ইকোনমিক এন্ড নিউট্রোশন এক্সপার্ট আনোয়ার হোসেন । সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

সরকারী আইন কর্মকর্তা হিসেবে এ্যাড. সেনা’র যোগদান

গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার আইন, বিচার ও সংসদ বিষয় মন্ত্রণালয় আইন ও বিচার বিভাগ সলিসিটর অনুবিভাগ সলিসিটর/জিপি-পিপি-৪৭/২০০৯-১১৯ স্বারক মতে, গত ২৯-১০-২০১৯ইং তারিখে সরকারী আইন কর্মকর্তা (সহকারি পাবলিক প্রসিকিউটর) হিসেবে এ্যাড. সাজ্জাদ হোসেন সেনাকে নিয়োগ প্রদান করলে তিনি গত ৩০-১০-২০১৯ইং তারিখে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যোগদান করেন। তিনি বিগত দিনেও সততা ও নিষ্ঠার সহিত দায়িত্ব পালন করে আসছেন। আগামী দিনে দায়িত্ব পালনে সংশ্লি¬ষ্ট সবার দোয়া সহযোগিতা কামনা করে সরকারি আইন কর্মকর্তা পাবলিক প্রসিকিউটর এ্যাড. অনুপ কুমার নন্দীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

বেলুনওয়ালার সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ৫ জনের মৃত্যু

ঢাকা অফিস ॥ রাজধানীর রূপনগর আবাসিক এলাকায় গ্যাস বেলুনের সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে চার শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছে আরও অন্তত ১৪ জন। গতকাল বুধবার বিকালে মনিপুর স্কুলের রূপনগর শাখার বিপরীত দিকে ১১ নম্বর সড়কে এ ঘটনা ঘটে বলে রূপনগর থানার পরিদর্শক অপারেশন মোকাম্মেল হক জানান। তিনি বলেন, “এক বেলুন বিক্রেতার গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে পাঁচজনের মৃত্যু হয়। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় আমরা জানতে পারিনি।” প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ভ্যানে করে গ্যাস সিলেন্ডার নিয়ে বেলুন ফুলিয়ে বিক্রি করছিল এক বিক্রেতা। পাশেই বস্তি এলাকা হওয়ায় অনেকেই ভ্যান ঘিরে এবং আশপাশে দাঁড়িয়ে ছিল। কেউবা বেলুন কিনছিল। এসময় হঠাৎ করে বিস্ফোরণ ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করে জানিয়ে জ্যেষ্ঠ স্টেশন অফিসার আনোয়ার হোসেন বলেন, “নিহতদের মধ্যে চারজন শিশু; আরেকজন আনুমানিক ৩০ বছর বয়সী এক নারী। তার পরিচয় জানা যায়নি।” নিহত চার শিশু হল- রমজান (৮), নুপুর (১০), শাহিন (৭) ও জান্নাত (১৪)। তবে তাদের বিস্তারিত পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেনি পুলিশ।  ঘটনাস্থল থেকে মোট ১৪ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে জানিয়ে মেডিকেল ফাঁড়ির পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া বলেন, “তাদের মধ্যে চারজন প্রাপ্তবয়স্ক, বাকি সবাই শিশু। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা ভালো নয় বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন।” আহতদের মধ্যে ১২ জন শিশু, দুই পুরুষ ও একজন নারীও রয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া সাংবাদিকদের জানান, এক নারী ও তিন শিশুসহ চারজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। আহতদের মধ্যে চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দ্ইুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের ঢাকা মেডিকেলে স্থানান্তর করা হয়েছে। বিস্ফোরণে নিহতদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ক্ষতবিক্ষত হয়েছে বলে জানান সোহরাওয়ার্দীর এই চিকিৎসক। এদিকে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান। তিনি বলেন, এ ঘটনা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবহিত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হতাহতদের পাশে দাঁড়াতে নির্দেশ দিয়েছেন। রূপনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) দীপক কুমার দাস জানান, সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। ডিএমপির ডিসি (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই তারা মারা যান।

চার শতাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্টের লেনদেন তথ্য চেয়েছে দুদক

ঢাকা অফিস ॥ অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদের মালিক হওয়া ব্যক্তিদের ধরতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে চার শতাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্টের লেনদেনের তথ্য চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক। সংস্থাটি বলছে, গত মাসে ঢাকার ক্রীড়া ক্লাবগুলোতে পুলিশ-র‌্যাবের অভিযানে ক্যাসিনো চালানোর বিষয়টি ধরা পড়ার পর চলমান ‘শুদ্ধি অভিযানের’ অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যন্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট-বিএফআইইউ চার শতাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করেছে খবর এসেছে। এগুলোর লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে বুধবার দুদকের মহাপরিচালক (বিশেষ তদন্ত) সাঈদ মাহবুব খান বিএফআইইউ’র মহাব্যবস্থাপককে চিঠি পাঠিয়েছেন বলে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য জানিয়েছেন। চিঠিতে বলা হয়, “চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে দুর্নীতি দমন কমিশনে বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, ঘুষ, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও অবৈধ সম্পদ অর্জন সংক্রান্ত অনুসন্ধান-মামলা চলমান রয়েছে। “বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য সূত্রে জানা যায় যে, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরু থেকে এখন পর্যন্ত চার শতাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের চলমান অনুসন্ধান ও মামলাসমূহের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য জব্দকৃত হিসাবসমূহের বিবরণীসহ প্রকৃত অর্থ লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনা করা আবশ্যক।” দুদকের সুষ্ঠু অনুসন্ধান ও তদন্তের স্বার্থে জব্দ করা ওই চার শতাধিক ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব বিবরণী ও প্রকৃত আর্থিক লেনদেনের তথ্য জরুরি ভিত্তিতে সরবরাহ করার জন্য চিঠিতে অনুরোধ জানিয়েছেন দুদক মহাপরিচালক সাঈদ মাহবুব খান।

যুদ্ধাপরাধী আজহারের আপিল রায় আজ

ঢাকা অফিস ॥ যুদ্ধাপরাধ মামলায় মৃত্যুদন্ডাদেশের বিরুদ্ধে একাত্তরের আলবদর নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামের আপিলের রায় ঘোষণা করা হবে আজ বৃহস্পতিবার। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বৃহস্পতিবারের কার্যতালিকায় এ মামলাটি রায়ের জন্য ১ নম্বরে রাখা হয়েছে।  রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারকের আপিল বেঞ্চে গত ১০ জুলাই এ আপিল মামলা রায়ের জন্য অপেক্ষমান (সিএভি) রেখেছিল। এই আপিল বেঞ্চের অন্য তিন সদস্য হলেন- বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি জিনাত আরা এবং বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আসা এটি দশম মামলা, যা রায়ের পর্যায়ে এল। যুদ্ধাপরাধের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরধ ট্রাইব্যুনালে আজহারের মৃত্যুদন্ডের রায় আসে ২০১৪ সালে। আইন অনুযায়ী ট্রাইব্যুনালের রায়ের এক মাসের মধ্যে খালাস চেয়ে আপিল করেন দন্ডিত এই যুদ্ধাপরাধী। এরপর ২০১৭ সালের ১৩ আগস্ট এক আদেশে আপিল বিভাগ আসামিপক্ষকে আপিলের সার সংক্ষেপ দাখিলের নির্দেশ দেয়। ওই বছর ১০ অক্টেবর আপিলের ওপর শুনানি শুরুর কথা থাকলেও আসামিপক্ষের সময়ের আবেদনে তা পিছিয়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকার পর গত ১৮ জুন সর্বোচ্চ আদালতে এ মামলার শুনানি শুরু হয়। যুক্তি উপস্থাপন শেষে ১০ জুলাই আপিল মামলাটি রায়ের পর্যায়ে আসে। জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের পক্ষে আপিল বিভাগে শুনানি করেন খন্দকার মাহবুব হোসেন ও শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। মাহবুবে আলম সেদিন সাংবাদিকদের বলেন, “আমি শুনানিতে বলেছি, ট্রাইব্যুনাল সমস্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও অন্যান্য নথিপত্র বিচার বিশ্লেষণ করেই মৃত্যুদন্ডের রায় দিয়েছেন। তাই ট্রাইব্যুনালের সে সাজায় হস্তক্ষেপের কোনো কারণ নেই। আমি আশা করি, ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদন্ডের রায়টিই আপিল বিভাগ বহাল রাখবেন।” ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরধ ট্রাইব্যুনাল-১ একাত্তরে রংপুর জেলা আলবদর বাহিনীর কমান্ডার এ টি এম আজহারুল ইসলামকে মৃত্যুদন্ড দেয়। প্রসিকিউশনের আনা নয় ধরনের ছয়টি মানবতাবিরোধী অপরাধের মধ্যে পাঁচটি এবং পরিকল্পনা-ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি (উর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়) প্রমাণিত হয় তার বিরুদ্ধে। এর মধ্যে মৃত্যুদন্ডের রায় আসে রংপুর অঞ্চলে গণহত্যা চালিয়ে অন্তত ১৪০০ লোককে হত্যা এবং ১৪ জনকে খুনের অপরাধে। এছাড়া ওই অঞ্চলের বহু নারীকে রংপুর টাউন হলে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্যাতন কেন্দ্রে ধর্ষণের জন্য তুলে দেওয়ার অভিযোগে একাত্তরের এই বদর কমান্ডারকে ২৫ বছরের সশ্রম কারাদন্ড এবং অপহরণ ও আটকে রেখে নির্যাতনের আরেকটি ঘটনায় পাঁচ বছরের কারাদন্ড দেওয়া হয়। ট্রাইব্যুনালের এ রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি খালাস চেয়ে আপিল করেন জামায়াতে ইসলামীর এই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল। ১৯৬৮ সালে রংপুর জিলা স্কুল থেকে মেট্রিক পাস করে পরের বছর আজহারুল ইসলাম ভর্তি হন রংপুর কারামাইকেল কলেজে। একত্তরে বাঙালি যখন মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছে, আজহার তখন জামায়াতের সেই সময়ের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র সংঘের জেলা কমিটির সভাপতি হিসাবে আলবদর বাহিনীর রংপুর শাখার কমান্ডার। বাঙালির মুক্তি সংগ্রাম দমনে পাকিস্তানি বাহিনীকে সহযোগিতা দিতে শীর্ষ জামায়াত নেতাদের তত্ত্বাবধানে এই সশস্ত্র দলটি গড়ে তোলা হয়। পাকিস্তানি বাহিনী সে সময় রংপুর টাউন হলকে  নির্যাতন কেন্দ্রে পরিণত করে এবং বৃহত্তর রংপুরের বিভিন্ন জায়গা থেকে স্বাধীনতার পক্ষের লোকজনকে ধরে এনে সেখানে নির্যাতন করা হয়। স্বাধীন বাংলাদেশে জিয়াউর রহমানের আমলে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হওয়ার পর দলের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন আজহার। ১৯৯১ সালে তিনি ঢাকা মহানগর জামায়াতের আমিরের দায়িত্ব পান এবং ২০০৫ সালে কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হন। ২০১২ সালের ১৫ এপ্রিল এটিএম আজহারের যুদ্ধাপরাধের তদন্ত শুরু করেন তদন্ত কর্মকর্তা এস এম ইদ্রিস আলী। ওইবছর ২২ অগাস্ট মগবাজারের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। যুদ্ধাপরাধের ছয় ঘটনায় অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে ২০১৩ সালের ১২ নভেম্বর আজহারের বিচার শুরু করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

বোরহানউদ্দিনের ঘটনা নিয়ে বিএনপি ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের ষড়যন্ত্র করেছে – কাদের

ঢাকা অফিস ॥ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ভোলার বোরহানউদ্দিনের ঘটনার সাথে যারা জড়িত তারা কেউ ছাড় পাবে না। তিনি বলেন, বিএনপি বোরহানউদ্দিনের ঘটনার নিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের ষড়যন্ত্র করেছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বিএনপিকে কোন ইস্যু তৈরির সুযোগ দেননি। যারা এ ঘটনার সাথে জড়িত কেউ ছাড় পাবেনা। ওবায়দুল কাদের বুধবার দুপুরে জেলার চরফ্যাশন উপজেলার ঈদগাহ মাঠে এক সূধী সমাবেশে প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে এ কথা বলেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি এখন আন্দোলনে ব্যর্থ, নির্বাচনেও ব্যর্থ। আর যারা অন্দোলনে ব্যর্থ, দেশের ইতিহাস বলে তারা নির্বাচনে বিজয়ী হতে পারে না। আন্দোলনে বিজয়ীরাই নির্বাচনে জয়ী হয়। বিএনপি ব্যর্থ হয়ে এখন বিভিন্ন ইস্যু খুঁজে বেড়ায়। তিনি বলেন, বিএনপি নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে ইস্যু খুঁেজ ব্যর্থ হয়েছে। কোটা সংস্কার আন্দোলনের উপর ভর করেও ব্যর্থ হয়। বুয়েটের আবরার হত্যাকান্ড নিয়েও ইস্যু খোঁজার চেষ্টা করে বিফল হয়েছে। ওবায়দুল কাদের বলেন, অপরাধ অপকর্ম করলে আওয়ামী লীগ তার ঘরের লোকদেরও ছাড় দেয়না এটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রমান করেছে। নুসরাত হত্যা মামলায় আওয়ামী লীগের উপজেলা সভাপতি ফাসির আদেশে দন্ডিত হয়েছে। যেখানে টেন্ডারবাজ, চাঁদাবাজ, মাদক, দুর্নীতি, সন্ত্রাস সেখানেই প্রধানমন্ত্রীর এ্যাকশন। কাউকেই তিনি ছাড় দেবেননা। দেশে চলমান শুদ্ধি অভিযান সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী লোক দেখানো অভিযান চালাচ্ছেননা। তিনি জনগণের চোখের-মনের ভাষা বুঝতে পারেন। তাই মানুষ যাদের কার্যকলাপে অসন্তোষ্ট, যাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ আছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছেন। অভিযানে টার্গেট যারা তারা শেখ হাসিনার নিজের ঘরের লোক। সেতুমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রচুর উন্নয়ন হয়েছে। এখন দরকার জনগণের সাথে ভালো আচরণ। ১০টা উন্নয়ন কোন কাজে আসবেনা যদি একটা খারাপ আচরণ কারো সাথে হয়। খারাপ ব্যবহার উন্নয়নকে ম্লান করে দেয়। দল ভারী করার জন্য খারাপ সুবাধাবাদী লোকদের দলে না ভেড়ানোর জন্য নেতা-কর্মীদের প্রতি আহবান জানান তিনি। তিনি বলেন, খারাপ ও সুবিধাবাধী লোক সুসময়ের বসন্তের কোকিল। সময় চলে গেলে কোকিলরাও পালিয়ে যাবে। তাদের আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। তাই এ ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানান। উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব এমপির সভাপতিত্বে সমাবেশে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিন আখন, উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম ভিপি প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এর আগে মন্ত্রী ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে নব-নির্মিত চরফ্যাশন-বেতুয়া লঞ্চঘাট সড়কের উদ্বোধন করেন সেতুমন্ত্রী।