কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় ব্যারিস্টার গৌরব চাকীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা শাখার সভাপতি ব্যারিস্টার গৌরব চাকী বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান যুব ঐক্য পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায়, ছাত্র ঐক্য পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে। ২০ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১ টায় কুষ্টিয়া শহরস্থ দত্ত পাড়ার শিব শক্তি মন্দির প্রাঙ্গনে, ছাত্র ঐক্য পরিষদ জেলা শাখার আহবায়ক পরিতোষ দাস ও সদস্য সচিব মানব চাকীর নেতৃত্বে ব্যারিস্টার গৌরব চাকীকে ফুল ও ক্রেস্ট দিয়ে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়। এ সময় হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা শাখার উপদেষ্টা বিশ্বনাথ সাহা বিশু, অজয় সুরেকা, শিব শক্তি মন্দির কমিটির সভাপতি গৌতম কান্তি চাকী, উপদেষ্টা গৌতম পাল, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক কিশোর কুমার ঘোষ জগত, সভাপতি মন্ডলী তুহিন চাকী, সভাপতি মন্ডলী সাংবাদিক সুজন কুমার কর্মকার, আইন সম্পাদক এ্যাডঃ আশুতোষ কুমার পাল দেবাশিষ, ত্রাণ ও দুর্যোগ সম্পাদক বাপ্পী বাগচী, অলোক ঘোষ সাজুসহ সকল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

প্রশ্ন পরিকল্পনামন্ত্রীর

দেশে উচ্চমানের চিকিৎসা রেখে রোগীরা বিদেশ কেন যান

ঢাকা অফিস ॥ বাংলাদেশে চিকিৎসা সেবার মান ভাল হলেও রোগীদের বিদেশ যাওয়ার পেছনে চিকিৎসা সেবাদাতাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও আচরণ দায়ী বলে মনে করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। জাতীয় এ বিষয়টিতে চিকিৎসকসহ সকল মহলের চিন্তা-ভাবনায় দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন আসবে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। গতকাল শুক্রবার সকালে হোটেল সোনারগাঁও বলরুমে ‘ঢাকা ক্যান্সার সামিট-২০১৯’ অনুষ্ঠানে একথা বলেন। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, “আমাদের চারদিকের দেশগুলিতে আমাদের হাজার হাজার মানুষ চিকিৎসার জন্য যায়। শুধুই কি এখানে সেবা নাই বলে? আমার তো মনে হয় না। আমাদের অত্যন্ত উচ্চমানের প্রতিষ্ঠান; এখন আমাদের আছে-ভালো সেবাও আছে। “কিন্তু কোথায় যেন মানসিকভাবে, আচরণগতভাবে, দৃষ্টিভঙ্গিগতভাবে আমাদের একটু ঘাটতি আছে।” বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কনক কান্তি বড়ুয়া, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ খান আবুল কালাম আজাদসহ বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের শিক্ষক ও চিকিৎসকেরা এসময় উপস্থিত ছিলেন। তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “এটা এমন একটা বিষয় যে, আমার কাছে কোনো উত্তর নেই। আমি আপনাদের কাছে সবিনয়ে বিষয়টি তুলে ধরলাম। এটা একটি জাতীয় বিষয়। আমাদের সকলকে চিন্তা করতে হবে। “যার ফলে আমরা এই বিশেষ ক্ষেত্রে অন্ততপক্ষে সেবার ক্ষেত্রে সবাইর সেবা- শুধু মেডিকেল নয়, অন্যান্য সেবা যেগুলি আমরা দিয়ে থাকি, সকল সেবার ক্ষেত্রে আমরা একটি জনমুখী, গণমুখী দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের মধ্যে নিয়ে আনতে পারব।” এর আগে প্রধান অতিথির বক্তব্যের শুরুতে মন্ত্রী ইংরেজিতে তার বক্তব্য শুরু করেন কিন্তু বক্তব্যের মাঝপথে তিনি বাংলা বলতে শুরু করেন।

আলমডাঙ্গা ডাউকি ইউনিয়নের ১ ও ৫ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের  সম্মেলন অনুষ্ঠিত

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আলমডাঙ্গা ডাউকি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের উদ্দোগে ১ ও ৫ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনে ১ নং ওয়ার্ডে আব্দুল কুদ্দুসকে সভাপতি ও আশরাফুল হক সাধারন সম্পাদক এবং ৫ নং ওয়ার্ডে জেকের আলীকে সভাপতি ও আফজাল হোসেন টুটুলকে সাধারন সম্পাদক করে দুটি ওয়ার্ডে ৫১ সদস্য কমিটি ঘোষনা করেন। ১নং ওয়ার্ড ডাউকি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে  আওয়ামীলীগ নেতা ফরিদ উদ্দিনের ও ৫ নং বকসিপুর গ্রামের মদনতলা মোড়ে সাবেক সভাপতি নেকরার আলীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। দুটি সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি পৌর মেয়র হাসান কাদির গনু। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ইয়াকুব মাস্টার, সাংগঠনিক সম্পাদক আতিয়ার রহমান, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের আহ্বায়ক খবির উদ্দিন, যুগ্ম আহ্বায়ক ওয়াজেদ আলী, ডা. আনিসুর রহমান, রোকনুজ্জামান নাহিদ। যুগ্ম আহ্বায়ক  রোকনুজ্জামান নাহিদের উপস্থাপনায় উপস্থিত ছিলেন আনিসুর রহমান মেম্বার, জয়নাল, কালু, জহুর, মকবুল, জয়, ইজাল, মোশারেফ, আওয়ামীলীগ নেত্রী রিতা রানী দত্ত, যুবলীগ নেতা মান্নান, মুক্তিযোদ্ধা লালচাদ আলী, আবুল কাসেম, রবগুল আলী, সকর আলী, জাহাঙ্গীর মুন্সি, অলক দত্ত, আমিরুল হক, হাসিবুল ইসলাম প্রমুখ। আলোচনা সভা শেষে উপজেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে আলোচনা সভার মাধ্যমে সকলের সম্মতিক্রমে ১নং ওয়ার্ডে আব্দুল কুদ্দুসকে সভাপতি ও আশরাফুল হক সাধারন সম্পাদক এবং ৫ নং ওয়ার্ডে জেকের আলীকে সভাপতি ও আফজাল হোসেন টুটুলকে সাধারন সম্পাদক করে দুটি ওয়ার্ডে ৫১ সদস্য কমিটি ঘোষনা করেন।

বাংলাদেশ আওয়ামী সাংস্কৃতিক ফোরাম কুষ্টিয়া জেলা শাখার কার্যনির্বাহী পরিষদের প্রথম সভা

গতকাল শুক্রবার বিকালে কুষ্টিয়া শহরের বঙ্গবন্ধু সুপার মার্কেটের তৃতীয় তলায় বাংলাদেশ আওয়ামী সাংস্কৃতিক  ফোরাম (আসাফো) কুষ্টিয়া জেলা শাখার নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী পরিষদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় আসাফো কুষ্টিয়া জেলা সভাপতি হাসিবুর রহমান রিজুর সভাপতিত্বে শুরুতেই হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং স্বাধীনতাযুদ্ধে  যেসকল মানুষের জীবনের বিনিময়ে সোনার বাংলাদেশ আমরা পেয়েছিলাম তাদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন (আসাফো)’র কুষ্টিয়ার সাধারণ সম্পাদক আলমগীর আলী। সভায় বক্তব্য রাখেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল মজিদ, সহ-সভাপতি হাসানুর খান তাপস, সহ-সভাপতি আব্দুল জলিল, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম সোহাগ হাসান, নজরুল ইসলাম প্রধান, সাংগঠনিক সম্পাদক জিল্লুর রহমান, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নিলুফা ইয়াসমিন চায়না, কার্যনির্বাহী সদস্য জাফর আহমদ, প্রিন্সিপাল রেজাউল ইসলাম, শরিফুল আলম সিদ্দিক কচি, মারুফা ইয়াসমিন সুরভি, জাহেদুল হক মতিন, এছাড়াও বক্তব্য রাখেন আসাফো কেন্দ্রীয় সহ-সম্পাদক  মেরিনা আক্তার মিনা।  উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সদস্য শ্যামলী ইসলাম ও সানজিদা আক্তার। সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন, দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আল হাফিজ অভি, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মোঃ মিজানুর রহমান, প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক মনির আহমেদ, সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মোঃ জহুরুল ইসলাম, শিক্ষা ও ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ইসরাত জাহান, শ্রম ও জনশক্তি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মনসুর নোমান, উপ আইন বিষয়ক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সবুজ, উপ সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মনোয়ারা খাতুন মিনু, উপ সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ফিরোজা খাতুন, উপ যুব ও ক্রীড?া বিষয়ক সম্পাদক ফজলুল হক, কার্যনির্বাহী সদস্য অনুপ কুমার প্রামানিক, কামাল বাউল, সাইফুল ইসলাম, সাইদুল ইসলাম, রিপন, মোহাম্মদ রকি, মোহাম্মদ হানিফ  শেখ, নুরুল ইসলাম, প্রদীপ অধিকারী, তরিকুল জামান সিম্বা,  মোঃ শুভ শেখ, মোছাঃ শম্পা আক্তার, আব্দুল হালিম স্বপন, মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, কবির হাসান বকুল, এবং রজব আলী প্রমুখ। নবগত কমিটির সদস্যরা একে অপরের সাথে পরিচিত হন। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয় আগামী ১১ অক্টোবর কুষ্টিয়া পাবলিক লাইব্রেরির মাঠে আসাফো কুষ্টিয়া জেলার অভিষেক অনুষ্ঠিত হবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

 

ছাত্রলীগের প্রতিনিধিদলের সাথে সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

অনিয়মকারীদের কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নীতি, আদর্শ এবং সংযমের সঙ্গে রাজনীতি করার জন্য ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের আহবান জানিয়ে তাদের উদ্দেশ্যে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, অন্যায় করে কেউ পার পাবে না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তোমরা কেউ এমন কাজের সঙ্গে যুক্ত হবে না, যা মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস নষ্ট করে। মানুষের আস্থা এবং বিশ্বাসকে তোমাদের মূল্য দিতে হবে।’ বৃহস্পতিবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে ছাত্রলীগের একটি প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করতে এলে শেখ হাসিনা একথা বলেন। ছাত্রলীগের নবনিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য ছাত্রলীগের ২৩ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান জাহিদ তুষার সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘তোমাদের ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রেখেই আমরা তোমাদেরকে দায়িত্ব দিয়েছি। যদি তোমরা সেই মর্যাদা ধরে রাখতে না পার তাহলে তোমাদের কোন দরকার নেই। প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দকে বিনয়ী হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন,‘আমরা চাই না ছাত্ররা ক্ষমতা পেয়েই তা দেখানো শুরু করুক। যত উপরে উঠবে তত বিনয়ী হতে হবে।’ শেখ হাসিনা বলেন, সরকার ছাত্রলীগের পর যুবলীগের ওপর কঠোর হয়েছে। সামাজিক অনাচার-দূরাচার দূর করতে হবে এবং ক্যাসিনো নিয়ে মারামারি, খুনোখুনি আমরা সহ্য করবো না। তিনি কঠোর পরিশ্রম করে দেশকে গড়ে তুলছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কাজেই এর ওপর কোন কালিমা আসুক আমি কোনভাবে তা হতে দেব না। অনিয়মকারীদের কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্যাসিনোর সঙ্গে জড়িত বিদেশীরা আসলো কোথা থেকে, তারা ভিসা পেলো কিভাবে, সবকিছুই তদন্ত করে দেখা হবে। এই কাজে যদি কেউ বাধা দেয় তবে সে যেই হোক তাঁর বিরুদ্ধে শান্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করার জন্য প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘তোমাদের এমন কাজ করা উচিত হবে না, যাতে জনগণ ক্ষুব্ধ হবে।’ শেখ হাসিনা বলেন, ছাত্রলীগ যদি সত্যিকারের নীতি ও আদর্শের ভিত্তিতে রাজনীতি করে তাহলে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে থাকবে। তিনি বলেন, সংগঠনের প্রতি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস আরও বাড়াতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তোমরা যদি কাজের মধ্য দিয়ে নেতৃত্বে আস তাহলে জনগণ তোমাদেরকে সহজে গ্রহণ করবে। আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘আমি চাই তোমরা আদর্শ নিয়ে চলবে এবং ২০৪১ সাল পর্যন্ত দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। দেশ গঠনের পাশাপাশি নিজের ভাবমূর্তিও গড়ে তুলবে। শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি-জামায়াত শাসনামলে বিএনপি’র ছাত্র সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল যে মনোভাব দেখিয়েছে তা এখানে চলবে না। দেশের সকল আন্দোলন-সংগ্রামে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গৌরব উজ্জ্বল ভূমিকার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর প্রতিষ্ঠিত এ সংগঠন বাংলাদেশের সকল গণআন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তিনি বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ এবং ‘কারাগারের রোজনামচা’র মতো গ্রন্থগুলো পড়ার জন্য ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘এসব পুস্তক থেকে তোমরা সুস্থ রাজনীতি সম্পর্কে জানতে পারবে।’ আওয়ামী লীগ সভাপতি সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি আলোচনার মাধ্যমে সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণেরও আহ্বান জানান। এর আগে ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ ফুলের তোড়া দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও বিএম মোজাম্মেল হক, কেন্দ্রীয় নেতা আমিনুল ইসলাম আমিন, ইকবাল হোসেন অপু এমপি এবং আনোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

চুরি যাওয়া ল্যাপটপসহ গ্রেপ্তার ইসির হালনাগাদ কর্মী রিমান্ডে

ঢাকা অফিস ॥ চট্টগ্রামে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) জালিয়াতির ঘটনায় গ্রেপ্তার নির্বাচন কমিশনের অস্থায়ী কর্মী মোস্তফা ফারুককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের হেফাজত মঞ্জুর করেছে আদালত। গতকাল শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রামের মহানগর হাকিম আবু ছালেহ মোহাম্মদ নোমান এ আদেশ দেন বলে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) কাজী শাহাবুদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তদন্ত সংস্থার পক্ষ থেকে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে পাঁচ দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত। ভোটার হালনাগাদের কাজে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া নির্বাচন কমিশনের টেকনিক্যাল সাপোর্ট স্টাফ মোস্তফা ফারুককে আগের দিন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। তিনি জালিয়াতির মাধ্যমে এনআইডি তৈরির ঘটনায় জড়িত বলে শুক্রবার সকালে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। ৩৬ বছর বয়সী মোস্তফা ফেনী সদরের লস্করহাট দমদমা এলাকার ইলিয়াছের ছেলে। তিনি নগরীর হামজারবাগের মোমিনবাগ আবাসিক এলাকায় ভাড়া থাকেন। তার কাছ থেকে দুটি পেনড্রাইভ ও দুটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে একটি ল্যাপটপ নির্বাচন কমিশনের চুরি যাওয়া ল্যাপটপ। মোস্তফার পেনড্রাইভ দুটিতে রোহিঙ্গাদের তথ্য এবং নির্বাচন কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আছে বলে জানিয়েছেন কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের কর্মকর্তারা। এছাড়াও তার কাছ থেকে নির্বাচন কমিশনের একটি মডেম, ৫০টি আইডি কার্ড লেমিনেটিং করার কাগজ, তিনটি সিগনেচার প্যাড ও মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। মোস্তফা বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের অধীনে হালনাগাদ কার্যক্রমে টেকনিক্যাল সাপোর্ট স্টাফ হিসেবে কাজ করছিলেন। আউটসোসিংয়ের ভিত্তিতে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। নির্বাচন কমিশনের চুরি যাওয়া ল্যাপটপ কীভাবে মোস্তফা ফারুকের কাছে গেল তা তদন্ত করছে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট।

বাতাসে কল নড়া শুরু হয়েছে – ফখরুল

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ক্ষমতসীনরা এখন নিজেরাই ‘নিজেদের দুর্নীতির’ কথা প্রকাশ করে দিচ্ছেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মুক্তি দাবিতে গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে একথা বলেন তিনি। সরকারের মদদে দুর্নীতি হচ্ছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, “ধর্মের কল আপনা-আপনি বাজে। আজকে ছাত্রলীগের নেতা যারা দাবি করে তারা মানসপুত্র, নেত্রীর সবচেয়ে প্রিয় সন্তান, তারাই ঘুষ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়েছে। “ঢাকা শহরে ৬০টি ক্যাসিনো পত্রিকায় এসেছে- প্রত্যেকটি চালাচ্ছে কে? যুবলীগ নেতারা বা আওয়ামী লীগের নেতারা। নিজেরা ধরা পড়ে গেছে, এখন অন্য কারো দোষ ধরতে চায়। “এটাতে প্রমাণিত হয়ে গেছে- এদেশ দুর্নীতিতে পূর্ণ হয়েছে, সরকার সেখানে মদদ দিচ্ছে, আওয়ামী লীগ সেখানে মদদ দিচ্ছে।” সম্প্রতি ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে উন্নয়ন প্রকল্প থেকে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠলে কঠোর মনোভাব দেখান আওয়ামী লীগ সভানেত্রী। গত শনিবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সংসদের বৈঠকে শেখ হাসিনা তা নিয়ে বিরক্তি প্রকাশের পর পদত্যাগ করেন ছাত্রলীগের দুই শীর্ষনেতা। ওই বৈঠকে যুবলীগের কয়েক নেতার কর্মকান্ডেও অসন্তোষ ঝরে তার কণ্ঠে। এরপর যুবলীগের নেতাদের জুয়ার আখড়া চালানোর খবর চাউর হওয়ার মধ্যে বুধবার ঢাকায় চারটি ক্যাসিনোতে অভিযান চালায় র‌্যাব। গ্রেপ্তার করা হয় যুবলীগের ঢাকা মহানগরের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, “ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। আজকে আওয়ামী লীগের যে দুঃশাসন-দুর্নীতি-নির্যাতন-নিপীড়ন সেটি এখন অন্য কাউকে বলতে হচ্ছে না, নিজে নিজেই বাতাসে কল নড়া শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতারা ‘নিজেরাই নিজেদের দুর্নীতি প্রমাণ করেছেন’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। ফখরুল বলেন, “আপনারা লক্ষ করে দেখবেন যে, গত কদিনে প্রথমে ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ধরা পড়ল ফেয়ার শেয়ার নিতে গিয়ে। সেই ফেয়ার শেয়ার আবার এক দুই কোটি টাকা নয়, ৮৬ কোটি টাকা।” জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ নেতাদের চাঁদা দেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে সে প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ বেছে বেছে খারাপ লোকদের’ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। “এদেশের মানুষ তাহলে যাবে কোথায়? ভাইস চ্যান্সেলররা যাদেরকে সবাই সম্মান করে তারা যদি এই পর্যায়ে যায়। তাদেরকে কারা নিয়োগ দিয়েছে? এই সরকার।” সরকারের সফলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, “কথায় কথায় বলে আমরা উন্নয়ন করছি, সিঙ্গাপুর বানিয়ে দিলাম। বাংলাদেশে এখন সবচাইতে বেশি বেকার, প্রায় ৪ কোটি শিক্ষিত বেকার। “বাংলাদেশে এখন সাধারণ মানুষ কৃষক যারা তারা ধানের দাম পায় না, ৫০০ টাকায় ধান বিক্রি হয় না, ধান পুড়িয়ে দেন, দুধ বিক্রি হয় না, দুধ ফেলে দেয়, আজকে পাটের দাম পায় না।” বক্তব্যে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “উনাকে ১৭ মাস বন্দি করে রেখেছে। অসুস্থ যিনি এখন হাঁটতে পারেন না, এখন সাপোর্ট দিয়ে তাকে উঠতে হয়, চলতে হয়। “তার সুচিকিৎসা হচ্ছে না হাসপাতালে যেখানে নিয়ে গেছে। বার বার আমরা বলেছি, তাকে সুচিকিৎসার জন্য মুক্ত করে দিতে হবে, তাকে তার পছন্দের হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।” সরকারের উদ্দেশ্যে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আমরা সরকারের কাছে দয়া ভিক্ষা করছি না। আমরা তার যেটা আইনগতভাবে ন্যায্য প্রাপ্য, আমরা সেই জামিন চাচ্ছি আদালতের কাছে। আদালতে বাধা দিচ্ছে সরকার যাতে দেশনেত্রী বেরুতে না পারে।” সংগঠনের সভাপতি সাইফুল আলম নীরবের সভাপতিত্বে ও সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর পরিচালনায় মানববন্ধনে বিএনপির মীর নেওয়াজ আলী, যুবদলের মোরতাজুল করীম বাদরু, নুরুল ইসলাম নয়ন, মামুন হাসান, এসএম জাহাঙ্গীর, রফিকুল ইসলাম মজনু, শফিকুল ইসলাম মিল্টন, গোলাম মাওলা শাহিন, রেজাউল করীম পল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা শাখার বিশেষ সভা

সুজন কর্মকার ॥ বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা শাখার এক বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আসন্ন দুর্গা পূজা উপলক্ষ্যে, ২০ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১ টায় কুষ্টিয়া শহরস্থ দত্ত পাড়ার শিব শক্তি মন্দির প্রাঙ্গনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা শাখার সভাপতি ব্যারিস্টার গৌরব চাকী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক কিশোর কুমার ঘোষ জগত। বক্তব্য রাখেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা শাখার উপদেষ্টা বিশ্বনাথ সাহা বিশু, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক অজয় সুরেকা, শিব শক্তি মন্দির কমিটির সভাপতি গৌতম কান্তি চাকী, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সদর উপজেলা শাখার উপদেষ্টা গৌতম পাল, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা শাখার সভাপতি মন্ডলী তুহিন চাকী, সভাপতি মন্ডলী সাংবাদিক সুজন কুমার কর্মকার, আইন সম্পাদক এ্যাডঃ আশুতোষ কুমার পাল দেবাশিষ, ত্রাণ ও দুর্যোগ সম্পাদক বাপ্পী বাগচী, অলোক ঘোষ সাজু, পার্থ দাস টুম্পা, ছাত্র ঐক্য পরিষদ জেলা শাখার আহবায়ক পরিতোষ দাস, সদস্য সচিব মানব চাকী, শিব শক্তি মন্দির কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নারায়ণ পাল, হরিবাসর মন্দির কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সজল পাল প্রমুখ। এ সময় হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা শাখার সভাপতি ব্যারিস্টার গৌরব চাকী যুব ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায়, ছাত্র ঐক্য পরিষদ জেলা শাখার আহবায়ক পরিতোষ দাস ও সদস্য সচিব মানব চাকীর নেতৃত্বে ব্যারিস্টার গৌরব চাকীকে ফুল ও ক্রেস্ট দিয়ে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়। সভা পরিচালনা করেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সদর উপজেলা শাখার যুগ্ম-সম্পাদক মিহির চক্রবর্তী। সভায় আয়-ব্যয় উপস্থাপন ও অনুমোদন, সাংগঠনিক বিষয়, আসন্ন দুর্গা পূজা উপলক্ষ্যে বিভিন্ন আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। এ সময় হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা শাখার সকল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

কুষ্টিয়ায় সাঁতারু কানাই লাল শর্মা স্মরণে সভা

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার কৃতিসন্তান দেশের খ্যাতিমান সাঁতারু ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ কানাইলাল শর্মার প্রয়াণ উপলক্ষ্যে জেলা শিল্পকলা একাডেমী ও বৃহত্তর কুষ্টিয়া ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি সংরক্ষণ পরিষদের যৌথ আয়োজনে এক স্মরণ সভা গতকার শুক্রবার শিল্পকলা একাডেমী চত্বরে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শিল্পকলার সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে স্মরণ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন দৈনিক বাংলাদেশ বার্তার সম্পাদক আবদুর রশীদ চৌধুরী। অতিথি ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. গৌতম কুমার দাশ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার রফিকুল আলম টুকু, নজরুল একাডেমীর সভাপতি আশরাফউদ্দীন নজু, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক  জোটের সাধারণ সম্পাদক শাহীন সরকার, ইতিহাস, ঐতিহ্য সংরক্ষণ পরিষদের চেয়ারম্যান কেএমআর শাহীন প্রমুখ।  বক্তাগণ বলেন বাংলাদেশে কানাই লাম শর্মার মত প্রতিভাবান সাঁতারু দ্বিতীয় জন নেই। ক্রীড়াঙ্গন ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে তার অবদান জাতীয় ও আঞ্চলিকভাবে সমাদৃত। তিনি প্রচারবিমুখ মানুষ ছিলেন। কিন্তু পরিতাপের বিষয় জীবিত অবস্থায় আমরা তার জন্য বিশেষ কিছু করতে পারিনি।। তারা কুষ্টিয়ার নবনির্মিত সুইমিং পুলটি তার নামে নামকরণের দাবি জানান।  অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ভেড়ামেরা কলেজের শিক্ষক এম এ রফিক, খাতেরআলী কলেজের শিক্ষক শফিকুল ইসলাম, শ্যামল কুমার  চৌধুরী, তার সন্তান কাজল শর্মা আমজাদ হোসেন, সুজন রহমান প্রমুখ।

ঢাকায় কর্মরত কুমারখালী-খোকসার সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় এমপি জর্জ

অচিরেই কুমারখালীকে পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই

কুষ্টিয়া-৪ কুমারখালী-খোকসা আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিষ্টার সেলিম আলতাফ জর্জ বলেছেন, বিশ^কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বাউল স¤্রাট লালন সাঁই, স্বদেশী আন্দোলনে অবিভক্ত ভারত বর্ষের নেতা বাঘা যতীন, অমর কথা সাহিত্যিক মীর মোশাররফ হোসেন ও  গ্রামীন সাংবাদিকতার প্রবাদ পুরুষ কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদারসহ অসংখ্য কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী, লেখক, গবেষকদের চারণ ভুমি কুষ্টিয়ার কুমারখালী দেশের মধ্যে একটা ঐতিহ্যবাহী উর্বর সাংস্কৃতিক জনপদ। কিন্তু সে তুলনায় বিগত সময়ে এখানে কিছু হয়নি। তাই অচিরেই কুমারখালীকে একটি পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। বৃহস্পতিবার সন্ধায় প্যান পাসেফিক হোটেল সোনার গাঁওতে ঢাকায় কর্মরত কুমারখালী-খোকসার সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এমপি ব্যারিষ্টার সেলিম আলতাফ জর্জ এলাকার উন্নয়ন-সম্ভাবনা সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সাংবাদিকদের সহযোগীতার আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, যে কোন সমালোচনা, পর্যালোচনা করে আমার সঙ্গে মতামত ব্যক্ত করতে পারেন। তিনি বলেন, কুমারখালীর তাঁত শিল্পকে আধুনিকায়নের পাশাপাশি কুমারখালীতে একটি বিসিক শিল্পনগীর স্থাপন, কুমারখালী ও খোকসার মাঝামাঝিতে একটি মিনি ষ্টেডিয়াম নির্মাণ ও কুমারখালী থেকে ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ের গাড়ী যাতায়াত করে সে বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহনের কথা জানান। তিনি মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মুক্ত কুমারখালী-খোকসা গড়ে তোলার জন্য সাংবাদিকদের সার্বিক সহযোগীতা কামনা করেন। এ সময় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কুমারখালী পৌরসভার মেয়র সামসুজ্জামান অরুন, সাংবাদিকদের মধ্যে থেকে পর্যালোচনামুলক বক্তব্য রাখেন মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের প্রধান বার্তা সম্পাদক ও কুষ্টিয়া সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি রেজোয়ানুল হক রাজা, সিনিয়র সাংবাদিক মাহমুদ হাফিজ, একুশে টেলিভিশনের হেড অব ইনপুট অখিল পোর্দ্দার, নিউজ টুয়েন্টি ফোরের সিনিয়র সাংবাদিক বোরহানুল হক, এস এ টিভির বার্তা সম্পাদক রনজক রিজভী, সিনিয়র সাংবাদিক সাইফুল হাসান রিকু, দৈনিক গড়বো বাংলাদেশের সম্পাদক উজ্জল রায়, দৈনিক অর্থবিত্ত পত্রিকার সম্পাদক ড. রফিকুল হাসান প্রমুখ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

মাদক ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে – তথ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ দেশে মাদক ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান হচ্ছে উল্লেখ করে বলেছেন, ঢাকায় অভিযান চলছে, চট্টগ্রামেও শুরু হবে। এটি অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, “এখন মাদকের বিরুদ্ধে ঢাকায় অভিযান চলছে। যেখানে অন্যায় অনিয়ম সেখানেই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। কে কোন দলের, কোন মতের সেটা দেখা হচ্ছেনা এবং এটি অব্যাহত থাকবে। বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বে আমরা বাংলাদেশকে একটি সুন্দর দেশে রূপান্তরিত করতে চাই।” তথ্যমন্ত্রী গতকাল শুক্রবার বিকেলে থিয়েটার ইনস্টিটিউট, চট্টগ্রাম (টিআইসি) মিলনায়তনে আন্তঃস্কুল জাতীয় টেলিভিশন বিতর্ক প্রতিযোগিতার উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ টেলিভিশন, চট্টগ্রাম কেন্দ্র দেশের ৪৮টি বিদ্যালয়ের বিতর্ক দল নিয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এর মধ্যে ১০টি চট্টগ্রামের। বাকি দলগুলো ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অংশ নিচ্ছে। বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক এস এম হারুনুর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য ওয়াসিকা আয়েশা খাঁন, তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আজহারুল হক, অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রচার) নুরুল করিম। আফরোজা চৌধুরী দিনার উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিটিভি, চট্টগ্রাম কেন্দ্রের মহাব্যবস্থাপক নিতাই কুমার ভট্টাচার্য। মন্ত্রী বলেন, এ প্রতিযোগিতার মধ্যদিয়ে বিটিভি, চট্টগ্রাম কেন্দ্র বড় কাজ হাতে নিয়েছে। প্রতিযোগিতা যেন চট্টগ্রামে সীমাবদ্ধ না থাকে। এটি জাতীয় টেলিভিশন কেন্দ্র। দেশে অনেক টেলিভিশন থাকলেও সবাই বিতর্ক প্রতিযোগিতা করে না। তিনি বলেন “আমরা যুক্তিভিত্তিক সমাজ গঠনে বিশ্বাস করি। বিতর্ক ছাড়া সেটি সম্ভব নয়। স্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতা এক্ষেত্রে সহায়ক। ” হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমি মনে করি শুধু মেধা বিকাশে ভালো মানুষ গড়া সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে শিক্ষক ও অভিভাবকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি শিক্ষকদের অনুরোধ জানাবো, আমরা উন্নত দেশ রচনা করতে চাই। ১০-১৫ বছর পর এ শিক্ষার্থীরা সিদ্ধান্ত নেবে। তাদের মধ্যে মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমের বীজ বপন করতে হবে।’ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘অনেক সময় শুনি ছেলেরা বড় ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী হচ্ছে। কিন্তু মা বাবার খবর নিচ্ছে না। তোমরা মনে রাখবে, মা বাবা কোলে পিঠে করে মানুষ করেছে। তোমরা যখন বড় হবে তখন তারা তোমাদের সন্তানের মতো হয়ে যাবে। তাদের সেবা করবে।’ তিনি বলেন, আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তাম তখন দেশে একটি টেলিভিশন ছিল। সেখানে বিতর্ক ছিল প্রেসট্রিজিয়াস। আমার হলের পক্ষ থেকে সেই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলাম। অনেক বছর, দেড় দশক বন্ধ ছিল। আমাকে প্রধানমন্ত্রী তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার পর আবার চালু করেছি। বাংলাদেশ টেলিভিশন, চট্টগ্রাম কেন্দ্রও বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করছে- যাতে ঢাকারও কয়েকটি বিদ্যালয় অংশ নিচ্ছে। ওয়াসিকা আয়েশা খান বলেন, যুক্তি দিয়ে বিশ্ব জয় করা যায়। যৌক্তিক প্রজন্ম বিপথে যেতে পারে না। ইন্টারনেটে প্রচুর তথ্য আদান প্রদান হয়। সব তথ্য যৌক্তিক নয়। যারা যুক্তিবাদী তারা বিতর্কিত ইতিহাস বিশ্বাস করে না, সাম্প্রদায়িক হয় না, জঙ্গিবাদে বিপথে পা বাড়ায় না। তারা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়। মো. নুরুল করিম বলেন, আউটডোরে বিতর্ক প্রতিযোগিতা ঢাকায়ও হয়নি, চট্টগ্রামে প্রথম হচ্ছে। বিতর্ক গ্রিক সময়ের। গুরু শিষ্যের মধ্যেও বিতর্ক হতো। বিতর্ক শিক্ষার্থীদের মেধার উৎকর্ষ ঘটাবে। নিতাই কুমার ভট্টাচার্য বলেন, এ প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে জাতীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠান সম্প্রচারে যাচ্ছি আমরা। বিতর্ক হচ্ছে মুক্তবুদ্ধির চর্চা। যুক্তি তর্কের মাধ্যমে নিজেদের শাণিত করবে শিক্ষার্থীরা। জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরুর পর ‘ধন ধান্য পুষ্পভরা’, ‘মাঠের সবুজ থেকে সূর্যের লাল, বাংলাদেশের বুক এতই বিশাল’, ‘লাল সবুজের বিজয় নিশান’ গানের সঙ্গে বর্ণিল নৃত্য পরিবেশন করেন বাংলাদেশ শিশু একাডেমির খুদে নৃত্যশিল্পীরা। ‘দৃষ্টি চট্টগ্রাম’ আয়োজনে সহযোগিতা করে ।

শৈলকুপায় সীমানা পিলারসহ ২ জন গ্রেফতার

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বাগুটিয়া গ্রাম থেকে সীমানা পিলারসহ ২ জনকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। শুক্রবার সকালে ঝিনাইদহ পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংএ এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিলু মিয়া বিশ্বাস। গ্রেফতারকৃতরা হলো-কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার বানিয়াঘড়ি গ্রামের আব্দুস সাত্তার মিয়ার ছেলে শাহীন আলম বাকের (৪৮) ও ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বাগুটিয়া গ্রামের শাহাদত হোসেন বিশ্বাসের ছেলে আব্দুর রাজ্জাক (৪০)। মিলু মিয়া বিশ্বাস জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার বিকেলে শৈলকুপার বাগুটিয়া গ্রামে অভিযান চালায় গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। এসময় সীমানা পিলারসহ কুষ্টিয়ার কুমারখালী এলাকার শাহীন আলম ও ঝিনাইদহের শৈলকুপার বাগুটিয়া এলাকার আব্দুর রাজ্জাককে আটক করা হয়। এ ঘটনায় শৈলকুপা থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়েছে। এ সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ছাড়াও সদর সার্কেল ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কনক কুমার দাস, শৈলকুপা সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম ও ডিবি ওসি আনোয়ার হোসেন, ডিবি ওসি (তদন্ত) জোহা, এসআই আলিম।

দৌলতপুরে পুলিশ-বিজিবির পৃথক অভিযান ১৪৮ বোতল ফেনসিডিল ও ২৮ কেজি গাঁজাসহ আটক-৪

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পুলিশ ও বিজিবির পৃথক অভিযানে একটি প্রাইভেট কারে ভর্তি ১৪৮ বোতল ফেনসিডিল ও সাড়ে ২৮ কেজি গাঁজাসহ চার মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ ও বিজিবি। গতকাল শুক্রবার সকালে উপজেলা হোসেনাবাদ এলাকাসহ সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে মাদকসহ মাদক ব্যবসায়ীদের আটক করা হয়। দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে উপজেলার হোসেনাবাদ সর্দারপাড়ায় অভিযান চালিয়ে একটি প্রাইভেটকারে (ঢাকা মেট্রো-ক-০৩৬৮৯) ১৩১বোতল ফেনসিডিলসহ হাবিল প্রামানিক নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে পুলিশ। এ সময় প্রাইভেটকারটি জব্দ করা হয়। অপরদিকে একই এলাকায় সকাল সাড়ে ৬টার দিকে অন্য একটি অভিযান চালিয়ে ৪ কেজি গাঁজাসহ আলমগীর ও জিহাদুল ইসলাম জিহাদ নামে দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। তাদের বাড়ি বগুড়া জেলায়। অপরদিকে শুক্রবার ভোররাত সাড়ে ৩টার প্রাগপুর বিজিবি ক্যাম্পের টহলদল উপজেলার ময়রামপুর মাঠে অভিযান চালিয়ে ১২কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে। এছাড়াও বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ভাঙ্গাপাড়া সীমান্ত এলাকায় ঠোটারপাড়া বিওপি’র টহল দল অভিযান চালিয়ে সাড়ে ১২কেজি গাঁজা ও ১৭বোতল ভারতীয় মদসহ জনি (২৮) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে। আটক মাদক ব্যবসায়ী জনি কল্যানপুর এলাকার মৃত খলিল শাহার ছেলে। এ ঘটনায় দৌলতপুর থানায় মাদক আইনে পৃথক মামলা হয়েছে।

শিলাইদহ শ্রীশ্রী গোপীনাথ দেব বিগ্রহ মন্দির কমিটির সভা

নিজ সংবাদ ॥ শিলাইদহ শ্রী শ্রী গোপীনাথ দেব বিগ্রহ মন্দির কমিটির এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আসন্ন দুর্গা পূজা উপলক্ষ্যে গতকাল শুক্রবার বিকেল কুমারখালি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সভা কক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কুমারখালি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও শিলাইদহ শ্রী শ্রী গোপীনাথ দেব বিগ্রহ মন্দির কমিটির সভাপতি রাজীবুল ইসলাম খান। উপস্থিত ছিলেন কুমারখালি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ও শিলাইদহ শ্রী শ্রী গোপীনাথ দেব বিগ্রহ মন্দির কমিটির সহ-সভাপতি শুভ্র প্রকাশ দাস। সভা পরিচালনা করেন শিলাইদহ শ্রী শ্রী গোপীনাথ দেব বিগ্রহ মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক শংকর বিশ্বাস। এ সময় সহ-সভাপতি নিতাই কুন্ডু, যুগ্ম-সম্পাদক কৃষ্ণ কমল বিশ্বাস, সাধন কর্মকার, সজিব চক্রবর্তী, সাংগঠনিক সম্পাদক তাপস বাবু, দপ্তর সম্পাদক সুনীল দত্ত, প্রচার সম্পাদক সাংবাদিক সুজন কুমার কর্মকার, সহ-প্রচার সম্পাদক সুপ্লব কুমার ঘোষ, সহ নমিতা বিশ্বাস, মহাদেক কর্মকার, নিখিল কর্মকার, অশোক দত্ত, বিপ্রজিত বিশ্বাস খোকন, বিশ্বনাথ সাহা, যুগোল কিশোর পাল, মিহির সিংহ রায় ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় আয়-ব্যয় উপস্থাপন ও অনুমোদন, সাংগঠনিক বিষয়, আসন্ন দুর্গা পূজা উপলক্ষ্যে বিভিন্ন আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। এ সময় অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

দৌলতপুর থানায় ওপেন হাউজ ডে অনুষ্ঠিত

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলাকে মাদকসহ নানা অপরাধ কর্মকান্ড মুক্ত এবং থানাকে সাধারন মানুষের নিরাপত্তার একমাত্র আশ্রয়স্থল করতে পুলিশের সাথে এক হয়ে কাজ করতে ঐক্যমত পোষন করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পুলিশিং কমিটির সদস্য ও স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। ‘নিরাপত্তায় আস্থার ঠিকানা’ শে¬াগান নিয়ে গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় দৌলতপুর থানায় অনুষ্ঠিত ‘ওপেন হাউজ ডে’র অনুষ্ঠানে এ ঐক্যমত ঘোষনা করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ভেড়ামারা সার্কেলের এডিশনাল এসপি এস এম আল বেরুণী। দৌলতপুর থানার ওসি এস এম আরিফুর রহমানের সভাপতিত্বে ওপেন হাউজ ডে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সোনালী খাতুন, হোগলবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম চৌধুরী, রিফায়েতপুর ইউপি চেয়ারম্যান জামিরুল ইসলাম বাবু ও সাংবাদিক আহমেদ রাজু প্রমুখ। সভায় এডিশনাল এসপি এসএম আল বেরুণী জনপ্রতিনিধিসহ সকলের কথা শুনেন এবং তা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন। সভায় দৌলতপুর উপজেলায় মাদকের প্রতি কঠোর অবস্থানের প্রশংসা করা হয়।

কুষ্টিয়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মতবিনিময় সভা আজ

আজ ২১ সেপ্টেম্বর শনিবার সকাল ১০ টায় বঙ্গবন্ধু সুপার মার্কেটে কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের কার্যালয়ের সভা কক্ষে এ মুক্তিযোদ্ধা মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার সদয় সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন সাবেক সচিব, সংসদীয় কমিটির সদস্য, বাংলাদেশে আওয়ামীলীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপ-কমিটির সভাপতি ও জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের খুলনা বিভাগীয় প্রধান যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা রশিদুল আলম। সভাপতিত্ব করবেন মুক্তিযোদ্ধা মত বিনিময় সভার আহবায়ক ও কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক কুমার ঘোষ।  বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব সদর উদ্দিন খাঁন, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আজগর আলী এবং জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী রবিউল ইসলাম। উক্ত মত বিনিময় সভায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা সাংগঠনিক কমান্ডের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক কুমার ঘোষ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

তদন্ত কমিটি গঠন

ইবিতে নিয়ম বহির্ভূতভাবে আবদ্ধ কক্ষে পরীক্ষা গ্রহণ

ইবি প্রতিনিধি ॥ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন অনুষদের সহযোগী অধ্যাপক সাজ্জাদুর রহমান টিটু নিয়ম বহির্ভূতভবে সান্ধ্যকালীন কোর্সের এক শিক্ষার্থীকে ৩টি কোর্সের পরীক্ষা আবদ্ধ কক্ষে একই সাথে গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর আইন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. রেবা মন্ডলকে আহ্বায়ক করে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন সিন্ডিকেট সদস্য প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমান ও কাজী আখতার হোসেন। একই সাথে তাকে সান্ধ্যকালীন কোর্সের একাডেমিক ও প্রশাসনিক সকল পদ থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে বর্ণিত অপরাধে কেন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবেনা মর্মে নোটিশ দেয়া হয়েছে।

এদিকে একই অনুষদের আল ফিকহ এন্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ওহাব শাহীন মাত্র দুই ঘন্টায় ৮ টি ইনকোর্স পরীক্ষা গ্রহণ করার ঘটনা ফাঁস হওয়ায় রীতিমত সমালোচনার ঝড় উঠেছে ক্যাম্পাস জুড়ে।

বিভিন্ন সময় একাডেমিক আইনের বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনার শিরোনাম হয়েছেন আল-ফিকহ এ্যান্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আনোয়ারুল ওহাব শাহীন। একাডেমিক পরীক্ষায় খাতার মূল্যায়নে অস্বচ্ছতা, স্বেচ্ছাচারিতা, ক্লাস শিক্ষার্থীদের বোধগম্য না হওয়া ও ক্লাস না নেওয়ার ব্যাপারে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় সভাপতির কাছে দুই দফায় শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে। বিষয়টি বিভাগ তাকে জানালে শিক্ষার্থীদের প্রতি ক্ষোভ থেকে এক কোর্সের পরিবর্তে দুই কোর্স নিয়েছেন ড. শাহিন। আবদ্ধ কক্ষে পরীক্ষার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এস এম আব্দুল লতিফ স্বাক্ষরিত গত বৃহস্পতিবারের এক বিবৃতিতে বলা হয়, গত বুধবার আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সাজ্জাদুর রহমান টিটু ৯ম ব্যাচের ৩য় সেমিস্টারের এক শিক্ষার্থীর একসাথে ৩ টি কোর্সের ৯ ঘন্টার পরীক্ষা আবদ্ধ কক্ষে গ্রহণ করেন। গোপন তথ্যর ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মণ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হোন। ওই আবদ্ধ কক্ষে সিটকিনি বন্ধরত অবস্থা থেকে ওই শিক্ষার্থীসহ সাথে তিনটি পরীক্ষার খাতা, স্মার্ট ফোন ও নকল জব্দ করেন। আবদ্ধ কক্ষে কোন পরিদর্শক উপস্থিত ছিলেন না। বিষয়টি নিয়ে ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মন ও আইন বিভাগের সভাপতি পৃথকভাবে লিখিত প্রতিবেদন দিলে প্রশাসনিকভাবে এ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

এবিষয়ে ড. সাজ্জাদুর রহমান টিটু বলেন, ওই শিক্ষার্থীর পরীক্ষার সময় আমি ক্যাম্পাসে উপস্থিত ছিলাম না। বিষয়টি সম্পর্কে আমি কিছুই জানিনা। আল ফিকহ এন্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগের সভাপতি ড. আনোয়ারুল ওহাব শাহীন বলেন, ৮টি ইনকোর্স নেয়নি, হতে পারে সর্বোচ্চ ২টি ইনকোর্স একসাথে নিয়েছি এবং বিভাগের একাডেমিক কমিটির সিদ্ধান্তের আলোকে আমি ২টি কোর্সের ক্লাস নিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মণ বলেন, ওই শিক্ষার্থীর ব্যাপারে আমি বিষয়টি লিখিতভাবে প্রশাসনের কাছে বিবৃতি দিয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. কামাল উদ্দিন বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। যদি বিষয়টি ঘটে থাকে তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. রাশিদ আসকারী বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ইবি প্রশাসন যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযোগ প্রমানিত হলে উপযুক্ত শাস্তি প্রদান করা হবে।

ক্যাসিনো চালানোর অভিযোগে যাকে ধরা হবে তাকেই সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হবে – যুবলীগ চেয়ারম্যান

ঢাকা অফিস ॥ নেতাকর্মীদের সতর্ক করে যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী বলেছেন, যত প্রভাবশালীই হোক না কেন অপরাধ করলে শেখ হাসিনা সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাউকে ছাড়বে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন ‘অ্যাকটিভ’ এবং তারা একের পর এক ‘অপরাধীকে’ ধরছে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, ক্যাসিনো চালানোর অভিযোগে যাকে ধরা হবে তাকেই সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হবে। ফকিরাপুলে ইয়ংমেনস ক্লাবে অবৈধভাবে ক্যাসিনো চালানোর ঘটনায় গ্রেপ্তার যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের কয়েক ঘণ্টা পর এই সতর্ক বার্তা দিয়েছেন তিনি। শুক্রবার বিকালে রাজধানীর উত্তরা-আজমপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে যুবলীগের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার কয়েকটি ওয়ার্ড কমিটির ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে বক্তব্য দেন ওমর ফারুক চৌধুরী। তিনি বলেন, “ভুল এক জিনিস, আর অপরাধ অন্য জিনিস। অপরাধ, জেনে শুনে অন্যের ক্ষতি করা। ভুল হবেই। আমি কেন্দ্রের চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। অহঙ্কার করবেন না। “দেখেন না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পত্র-পত্রিকা দেখছেন না? সমস্ত পত্রিকা এখন ক্যাসিনোতে ভরা। এই ক্যাসিনোর মালিকেরা না কি আমরা। এটি মিথ্যা নয়। এই পত্রিকার ইনফরমেশন যদি আমরা আগে পেতাম তাহলে ব্যবস্থা নিতে পারতাম। “আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অ্যাকটিভ। একের পর এক ধরছে, যারে ধরবে তারে বহিষ্কার করব। রাজনীতি করার অধিকার থাকবে না। ক্যাসিনো চালাও তুমি যেই হও।” যত বড় নেতাই হোক না কেন ক্যাসিনো পরিচালনাকারীদের ধরতে আইনশঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান যুবলীগ চেয়ারম্যান। নেতাকর্মীদের সোজা পথে চলার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ধরতেছে, দেখেন না? বেশি স্মার্ট হওয়ার দরকার নাই। যুবলীগ করতে হলে ম্যানেজার হতে হবে। চাঁদাবাজি করো? “এইটা শেখ হাসিনা সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এটা বাবর আলীর মন্ত্রণালয় না, এটা খালেদা জিয়ার মন্ত্রণালয় না। যুবলীগ কইরা মাতব্বরি করবেন, ওই দিন শেষ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাইরা পাছা লাল করতেছে, দেখেন না?”

জি কে শামীমের অফিসে বিপুল টাকা, মদ, অস্ত্র

ঢাকা অফিস ॥ যুবলীগের নেতা পরিচয় দিয়ে ঠিকাদারি চালিয়ে আসা গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে নগদ প্রায় দুই কোটি টাকা, পৌনে দুইশ কোটি টাকার এফডিআর, আগ্নেয়াস্ত্র ও মদ পেয়েছে র‌্যাব। ঢাকার নিকেতনের ওই অফিস থেকে শামীম ও তার সাত দেহরক্ষীকে এই অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার জানিয়েছেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, শুক্রবার দুপুরের আগে নিকেতনের ওই ভবন ঘিরে তাদের অভিযান শুরু হয়, চলে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। অভিযান শেষে র‌্যাবের নির্বাহী হাকিম সারওয়ার আলম উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, বিভিন্ন ব্যাংকে এফডিআর করে রাখা ১৬৫ কোটি ২৭ লাখ টাকার নথি তারা শামীমের অফিস কক্ষে পেয়েছেন। এর মধ্যে বড় একটি অংশ তার মায়ের নামে রাখা। এর পাশাপাশি ১ কোটি ৮১ লাখ ২৮ হাজার টাকা, ৯ হাজার মার্কিন ডলার এবং ৭৫২ সিঙ্গাপুরি ডলার সেখানে পাওয়া গেছে। সারওয়ার আলম বলেন, “ মোট আটটি আগ্নেয়াস্ত্র আমরা পেয়েছি। এগুলো বৈধ অস্ত্র বলেই প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, তবে এগুলোর অবৈধ ব্যবহারের তথ্য রয়েছে।” শামীম রাজধানীর সবুজবাগ, বাসাবো, মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রভাবশালী ঠিকাদার হিসেবে পরিচিত। গণপূর্ত ভবনে ঠিকাদারি কাজে তার দাপটের খবর ইতোমধ্যে সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছে। গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এক সময় যুবদলের রাজনীতি করা শামীম পরে যুবলীগে ভেড়েন। যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সমবায় বিষয়ক সম্পাদক পরিচয় দিয়েই তিনি প্রভাব খাটিয়ে আসছিলেন।

তবে যুবলীগের কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ইকবাল মাহমুদ বাবলু বলেন, “যুবলীগে জি কে শামীমের কোনো পদ নেই। সে নিজেই নিজেকে সমবায় বিষয়ক সম্পাদক বলে বেড়াতো। এ নিয়ে যুবলীগে কয়েকবার আলোচনাও হয়েছে।” বাবলু বলেন, “জিকে শামীম এক সময় যুবদলের সাবেক সহ সম্পাদক ছিল। এখন সে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি বলে শুনেছি।” তবে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই বলেন, “জি কে শামীম নামে আমাদের কোনো সহ সভাপতি বা সদস্যও নাই।” শামীমের রাজনৈতিক পরিচয় জানতে চাইলে র্যাবের নির্বাহী হাকিম সারওয়ার আলম বলেন, দলীয় পরিচয় দল থেকেই নিশ্চিত করা হবে। তারা দেখবেন শামীম ঠিকাদারী ব্যবসার আড়ালে অবৈধ কিছু করেছেন কি না। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার দক্ষিণপাড়া গ্রামের মো. আফসার উদ্দিন মাস্টারের ছেলে শামীম থাকেন বনানীর ডিওএইচএসে। আর নিকেতনে ৫ নম্বর সড়কের ১৪৪ নম্বর ভবনটি তিনি তার জিকেবি অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের অফিস হিসেবে ব্যবহার করেন। তার চলাফেরার সময় শটগানধারী ছয় দেহরক্ষীর ‘প্রটেকশন’ নিয়ে শুক্রবার সকালেই কয়েকটি পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তাকে বৃহস্পতিবারই আটক করেছে বলে গুঞ্জন শোনা গেলেও র‌্যাবের পক্ষ থেকে শুক্রবার বিকালের আগে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলা হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগে বিতর্কিত কর্মকান্ডে জড়িতদের চিহ্নিত করা হচ্ছে

ঢাকা অফিস ॥ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাদের পাশাপাশি আওয়ামী লীগে বিতর্কিত কর্মকান্ডে জড়িতদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। অপরাধী যেই হোক কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। গতকাল শুক্রবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ কেএম এনামুল হক শামীম, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দি, এসএম কামাল, রিয়াজুল কবির কাউসার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অন্যায়, অনিয়ম, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েই অগ্রসর হচ্ছেন। শুধুমাত্র ঢাকার নেতাদের বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা কি না জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, এটা রাজধানী কেন্দ্রীক নয়, সারাদেশে যেখানেই অপকর্ম, দুর্নীতি, অনিয়ম হবে, শৃঙ্খলা ভঙ্গ হবে সর্বত্রই একই নিয়মে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা কার্যকর হবে। তবে ছাত্রলীগ-যুবলীগে বহু ত্যাগী নেতা-কর্মী আছে, তারা অনেক ভাল কাজও করছে। এখানে দুর্নীতি, অনিময়, বিশৃঙ্খলার সঙ্গে যারা জড়িত, যাদের অচরণে পার্টি এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে, ঠিক তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, দূর্নীতি দমন কমিশন- দুদকও অনেকের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নিতে শুরু করেছে, দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে কারও কারও বিরুদ্ধে চার্জশিটও দেয়া হয়েছে, কারও কারও কনভিকশনও হয়ে গেছে। শেখ হাসিনার সরকার প্রথম থেকেই জিরো টলারেন্স নিয়েই অপকর্ম, দুর্নীতি, অনিয়মের বিরুদ্ধে একই মনোভাব প্রদর্শন করছে। এটা শুধু মুখের কথা নয়, আমরা অ্যাকশনেই দেখাচ্ছি। সেতুমন্ত্রী বলেন, নিজ দলের লোকদের বিরুদ্ধে শাস্তির ঘটনা বিএনপিতে নেই। অতীতে বিএনপির মত বড় দল ক্ষমতায় ছিল, কোন উদাহরণ নেই। তারা তাদের দলের কোন অপকর্ম, লুটপাট, দুর্নীতি, খুন এসব নিয়ে কোন অ্যাকশনে যায়নি। আজকে বর্তমান সরকারের এটা সব চেয়ে ভাল দিক। এই অ্যাকশনের কারণে শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা জনগণের কাছে অনেক বেড়ে গেছে। কিন্তু বিএনপি হয়তো বিষোদগার করছে, কিন্তু তারা যে ব্যবস্থা নিতে পারে নি, আওয়ামী লীগ সেই অ্যাকশন নিতে শুরু করেছে, বেগম খালেদা জিয়া যা পারেন নি, সেটা শেখ হাসিনা করছেন। তিনি অপকর্মের ব্যাপারে নিজের দলের লোককেও ছাড় দিচ্ছেন না। তিনি বলেন, গুটিকয়েক মানুষের জন্য গোটা পার্টি বদনামের ভাগিদার হবে না। এসব অপকর্ম করছে গুটিকয়েক লোক। বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান দুদুর বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি এটাকে বিচ্ছিন্ন বক্তব্য বলে মেনে নিতে পারছি না। কারণ বিএনপি নেতারা অতীতেও আমাদের নেত্রীকে হত্যা করা হবে, সরিয়ে দেওয়া হবে, বঙ্গবন্ধু যেই পথে গেছেন, শেখ হাসিনাও সেই পথে যাবেন, এ ধরনের বক্তব্য তারেক জিয়া থেকে বিএনপির অনেক নেতাই দিয়েছেন।

যুবলীগ থেকে খালেদ ভূঁইয়া বহিষ্কার

ঢাকা অফিস ॥ ঢাকার ফকিরাপুল ইয়ংমেনস ক্লাবে ক্যাসিনো চালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ শুক্রবার বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ওঠায় কেন্দ্রীয় যুবলীগ জরুরি ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।” বহিষ্কারের ক্ষেত্রে কী কারণ দেখানো হয়েছে জানতে চাইলে হারুন অর রশিদ জানান, “আপাতত খালেদ বহিষ্কার। পরবর্তী সিদ্ধান্ত পরে জানানো হবে।” প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত শনিবার আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় যুবলীগ নেতাদের নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশের পর আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনটির প্রভাবশালী নেতা খালেদকে ধরতে অভিযান নামে র‌্যাব। বুধবার বিকাল থেকে গুলশান ২ নম্বরের ৫৯ নম্বর সড়কে খালেদের বাসা এবং ফকিরাপুল ইয়ংমেনস ক্লাবে একযোগে অভিযান শুরু করেন র‌্যাব সদস্যরা। শাহজাহানপুরের রেলওয়ে কলোনিতে বেড়ে ওঠা খালেদ ফকিরাপুলের ওই ক্লাবের সভাপতি। কয়েক ঘণ্টার অভিযানে ওই ক্লাবে মদ আর জুয়ার বিপুল আয়োজন পাওয়া যায়। সেখান থেকে ২৪ লাখ টাকাও উদ্ধার করা হয়। আর গুলশানের বাসা থেকে খালেদকে গ্রেপ্তারের পর তার বাসায় ৫৮৫টি ইয়াবা, বিপুল পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা এবং অবৈধ অস্ত্র পাওয়ার কথা জানায় র‌্যাব। এরপর বৃহস্পতিবার বিকালে তাকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করে র‌্যাব। অস্ত্র, মাদক ও মুদ্রাপাচার আইনে তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করা হয় ওই থানায়। আর মতিঝিল থানায় মাদক আইনে করা হয় আরেকটি মামলা। রাতে খালেদকে ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে দুই মামলায় সাত দিন করে রিমান্ড চাওয়া হলে অস্ত্র মামলার চার দিন এবং মাদক মামলায় তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন দুই বিচারক।