যে গ্রামে প্রতিটা বাড়িই দরজাহীন ব্যাংকে নেই তালা!

ঢাকা অফিস ॥ আমরা সব সময় চোর-ডাকাত থেকে নিজেদের মূল্যবান সম্পত্তি রক্ষা করতে ঘুমানোর আগে ঘরের দরজা লাগিয়ে থাকি। আবার কোথাও বেড়াতে গেলে দরজায় তালা বা কলাপসিবল গেট লাগিয়ে থাকি। বাড়িতে দরজা লাগানো হয় না এমন কথা শোনা যায় না। তবে এমন একটি গ্রাম আছে যেখানে বাড়ির কোনো দরজা নেই আর ওই গ্রামে থাকা ব্যাংকটির দরজায় কোনো তালা নেই। সেখানে চোর-ডাকাতের কোনো ভয় নেই। গ্রামের নাম শনি-শিঙ্গাপুর। গ্রামটির অবস্থান ভারতের মহারাষ্ট্র প্রদেশের আহমেদনগর জেলায়। এখানটায় নির্ভয়ে জীবন কাটান মানুষেরা। এই গ্রামের কোনো বাড়িতেই দরজা লাগানো নেই। তবুও ঘরের ভেতরে রাখা টাকা-পয়সা, গয়না, দামি জিনিসপত্র চুরি যায় না। এ গ্রামে শুধু বাড়ি নয় এলাকার দোকানপাট, স্কুল-কলেজ, সরকারি বিল্ডিং, ব্যাঙ্কÑ কোথাও কোনো দরজা নেই। এখানকার মানুষের বিশ্বাস, শনি দেবতা তাদের রক্ষা করবেন। গ্রামের বাসিন্দারা বলছেন, আজ পর্যন্ত কোনো দিন চুরি হয়নি এই গ্রামে। গ্রামবাসীর বিশ্বাস, কেউ যদি চুরি বা অপরাধ করার সাহস দেখায় তার জন্য তাকে পস্তাতে হবে। সারা জীবনের জন্য দৃষ্টিশক্তি হারাবেন তিনি। গ্রামবাসী শনি দেবতাকে এতটাই মানেন যে, গ্রামের পাবলিক টয়লেটেও গোপনীয়তা বজায় রাখতে কোনো দরজা লাগাননি। কোনো ক্ষেত্রে মহিলাদের জন্য কাপড়ের পর্দা লাগানো থাকে। যাদের পর্দা দেয়া দেখে অন্যেরা বুঝতে পারেন ভেতরে কেউ রয়েছেন। এ বিশ্বাস রাতারাতি তৈরি হয়ে গিয়েছিল গ্রামবাসীর মনে। মিথ রয়েছে, ৩০০ বছর আগে গ্রামের প্রান্তে পানাস্নালা নদীতে একটি কালো পাথর ভেসে এসেছিল। এক গ্রামবাসী তাতে লাঠি দিয়ে আঘাত করার পরই পাথর থেকে রক্তক্ষরণ হতে শুরু করেছিল। সে পাথরটা কী তখনও জানতেন না গ্রামের কেউ। তবে ওই রাতেই গ্রামের প্রধানকে স্বপ্ন দিয়েছিলেন স্বয়ং শনি দেবতা। তিনি বলেছিলেন, ভেসে আসা ওই পাথর তারই মূর্তি। পাথরটাকে যেন গ্রামে প্রতিষ্ঠা করা হয়। স্বপ্নে তাকে আদেশ দিয়েছিলেন, এ পাথরের মূর্তি এতটাই শক্তিধর যে তাতে কোনো ছাদের তলায় রাখা যাবে না। চারপাশে কোনো দেয়াল যেন না থাকে যাতে তিনি সারা গ্রামকে বিনা বাধায় চোখের সামনে দেখতে পান। গ্রামকে সমস্তরকম বিপদ থেকে রক্ষা করার প্রতিশ্র“তিও দিয়েছিলেন। স্বপ্নাদেশ পাওয়ার পর গ্রাম প্রধানের মনে এতটাই ভক্তির উদ্রেক হয় যে, গ্রামবাসীর সঙ্গে সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নেন দরজা বয়কট করার। নিজেদের রক্ষার ভার তারা পুরোপুরি ওই ভেসে আসা পাথরের উপরই ছেড়ে দেন। এখনও যা কিছু তৈরি হোক না কেন তার কোনো দরজা থাকে না। ২০১১ সালে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক এ গ্রামে তাদের শাখা খোলে। এ ব্যাংক দরজা লাগিয়েছে যদিও, তবে দরজায় কোনো তালা লাগানো হয় না। এটাই ভারতের প্রথম এবং এখনও একমাত্র লকলেস ব্যাংক। গ্রামবাসীর বিশ্বাস, যদি কোনো ব্যক্তি চুরি করেন বা কোনো অসৎ কাজ করেন তাহলে পরবর্তী সাডড়ে সাত বছর ধরে তিনি এবং তার পরিবার দুর্ভাগ্য ভোগ করবেন। মামলা মোকদ্দমা ফাঁসা, পথ দুর্ঘটনা, মৃত্যু বা ব্যবসায় ক্ষতি এরকম যে কোনো দুর্ভাগ্য তার পরিবারে নেমে আসবে। মিথ চালু রয়েছে, একবার এক গ্রামবাসী তার ঘরের সামনে কাঠের দরজা লাগিয়েছিলেন, পরদিনই তার গাড়ির দুর্ঘটনা ঘটেছিল। ২০১৫ সালে প্রথম পুলিশ স্টেশন তৈরি হয় এই গ্রামে। তারও কোনো দরজা নেই। তবে এখনও পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পুলিশের কাছে জমা পড়েনি। যে কয়টা অভিযোগ হয়েছে প্রতিটাই পাশের গ্রাম থেকে এসেছে। এ গ্রামগুলো পুলিশ স্টেশনের আওতায় পড়ে। এ গ্রামে কি কোনো অপরাধ হয় না? শনি দেবতা সত্যিই তাদের রক্ষা করে চলেছে? এ বিষয়টা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এককালে গ্রামবাসীর মধ্যে এ বিশ্বাসটা এতটাই গাঢ় ছিল যে, ভয় থেকেই হয়তো কেউ অপরাধ করতেন না। কিন্তু বর্তমানে এটা একটা পর্যটনের জায়গা। প্রচুর পর্যটক এ গ্রামে আসেন। পর্যটন শিল্পই প্রত্যন্ত এ গ্রামের অন্যতম উপার্জনের রাস্তা হয়ে উঠেছে। বিশ্বাসে আঘাত করে সেই পর্যটন শিল্পের কোনো ক্ষতি গ্রামবাসী করতে চান না। তাই এমনটা হতেই পারে যে, চুরি-ডাকাতি বা অন্যান্য অপরাধ তারা নিজেদের মধ্যেই চেপে যান। পুলিশে আর অভিযোগ জানান না। ইউনাইটেড কমর্শিয়াল (ইউকো) ব্যাংক গ্রামের রীতি মেনে দরজা লাগায়নি ঠিকই, তবে প্রতিদিন ব্যাংক বন্ধ হওয়ার আগে সমস্ত নগদ টাকা তারা পাশের গ্রামের শাখায় স্থানান্তরিত করে দেয়।

২৪ ঘণ্টায় কমবে পেঁয়াজের দাম, আশা সরকারের

ঢাকা  অফিস ॥ আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পেঁয়াজের দাম কমে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের সদস্য আবু রায়হান আল বিরুনি। একই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাণিজ্য সচিব মো. জাফর উদ্দীনও। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে পেঁয়াজের দাম নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে  বৈঠকের পর তারা এ কথা বলেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে ট্যারিফ কমিশনের সদস্য আবু রায়হান আল বিরুনি বলেন, “২৪ ঘণ্টার মধ্যে পেঁয়াজের দাম কমে আসবে। “আমরা যথেষ্ট নিশ্চিত যে, দাম কমে আসবে, আজকের বৈঠকের পর কমে আসবে; আপনাদের (সাংবাদিক) কাছে ইতিবাচক সহযোগিতা চাই।” তবে এতো অল্প সময়ের মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটির দাম কমাতে কি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা খোলাসা করেননি আবু রায়হান। আন্তর্জাতিক, দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা এবং বাস্তবায়নে সরকারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে থাকে বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন। ভারতে পেঁয়াজের রপ্তানিমূল্য বাড়ানোর খবরে বাংলাদেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এ অবস্থায় মঙ্গলবার থেকে রাজধানীর পাঁচটি স্থানে খোলাবাজারে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করেছে সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি); পর্যায়ক্রমে আরও বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হবে। পেঁয়াজের দামের ঊর্ধ্বগতি ঠেকানোর উপায় খুঁজতে মঙ্গলবার দুপুরে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের নিয়ে  বৈঠকে বসেন বাণিজ্য সচিব মো. জাফর উদ্দীন। পেঁয়াজের দাম কমার কারণ ব্যাখ্যায় আবু রায়হান আল বিরুনি বলেন, “ট্যারিফ কমিশন অ্যানালাইসিস করে দেখেছে আমাদের বার্ষিক পেঁয়াজের চাহিদা ২৪ লাখ মেট্রিক টন। দেশে পেঁয়াজ উৎপাদন হয় ২৩ লাখ ৭৬ হাজার মেট্রিক টন। ৩০ শতাংশ পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যায়। পচনের কারণে আমাদেরকে ১০ থেকে ১১ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়।  “১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে ১২ লাখ ৭১ হাজার ৮৩০ মেট্রিক টন। উৎপাদন রয়েছে ১৬ লাখ মেট্রিক টন। সুতরাং আমরা বাজার বিশে¬ষণ করে দেখেছি ২৮ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ মজুদ রয়েছে, যা যথেষ্ট।” ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে দেশে উৎপাদিত নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসবে জানিয়ে তিনি বলেন, “ভারতের আবহাওয়া ও কৃষি ব্যবস্থার কারণে এক মাস আগে নতুন পেঁয়াজ নামে। নভেম্বরে যখন ভারতের বাজারে নতুন পেঁয়াজ নামবে তখন তাদের ট্যারিফ বাধা উঠিয়ে দেবে।” তখন প্রতি টন পেঁয়াজের দাম ৩০০ ডলারে নেমে আসবে জানিয়ে আবু রায়হান বলেন, পেঁয়াজের দাম বাড়ায় ঘাবড়ানোর কিছু নেই। পেঁয়াজের দাম কমার ব্যাপারে বাণিজ্য সচিব মো. জাফর উদ্দীনও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, “আশা করি আজকের মিটিংয়ের পরে দামের ঊর্ধ্বগতি আর থাকবে না। পাইকারি থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধির যে বিষয়টি রয়েছে তা মনিটরিং আরও জোরদার করা হচ্ছে।” প্রয়োজনে দুই-একদিন পর তারা আবার বসবেন বলেও জানান সচিব। মিয়ানমারসহ আরও কয়েকটি দেশে থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা যায় কিনা তা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে, বলেন জাফর উদ্দীন।

ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রলীগের আনন্দ মিছিল ও সমাবেশ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সংসদের নবগঠিত ভারপ্রাপ্ত কমিটি অনুমোদন করায় ঝিনাইদহে আনন্দ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা ছাত্রলীগের আয়োজনে মঙ্গলবার দুপুরে সরকারী কেসি কলেজ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালী বের করা হয়। র‌্যালীটি শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রানা হামিদ, সাধারন সম্পাদক আব্দুল আওয়াল, ছাত্রলীগ নেতা রেজওয়ানুল হক রিপন, খাইরুল ইসলাম টিটন, ফারুক হোসেন, নাহিদ, রানা, রুবেল হোসেন, তৌহিদুর রহমান, নাজমুল হোসেন, জোসেফ আহম্মেদসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন। বক্তারা, নবগঠিত কমিটির অনুমোদন দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান। সেই সাথে নবগঠিত ভারপ্রাপ্ত কমিটির সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের উপর সকলকে আস্থার রাখার আহবান জানান।

দেশের শিশুরা অধিকার বঞ্চিত, নির্যাতনের শিকার – ফখরুল

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আজ দেশের শিশুরা অধিকার বঞ্চিত, অমানুষিক নির্যাতনের শিকার। তারা কুশিক্ষা ও অপসংস্কৃতির রোষানলে আবদ্ধ। প্রতিনিয়ত তাদের ওপর চলছে পৈশাচিক নির্যাতন, যা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে বিরাট অন্তরায়। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর আইডিইবি ভবনে জিয়া শিশু একাডেমি আয়োজিত ১১তম জাতীয় শিশুশিল্পী প্রতিযোগিতা শাপলাকুঁড়ি-২০১৯ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, জিয়াউর রহমান চেয়েছিলেন শিশুরা পাখির মতো ডানা মেলে উড়বে, সুশিক্ষা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে জীবন গড়ার মাধ্যমে বিশ্বকে দেবে এক নতুন বাংলাদেশ। ‘আমরা কোন সমাজ নির্মাণ করছি? যে সমাজে ফুলের মতো শিশুদের আমরা ভালোবাসতে পারছি না, তাদের জন্য সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে দিতে পারছি না। চারদিকে অনিশ্চয়তা ও অস্থিতিশীলতা। একটা ভয় কাজ করছে।’ বিএনপি মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশের এই চিত্র আমরা আশা করিনি, সেই জন্য আমরা অস্ত্র তুলে যুদ্ধও করিনি। আমরা যুদ্ধ করেছিলাম সত্যিকার অর্থে ‘একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে’ গানটিকে প্রেরণা হিসেবে সামনে রেখে। ফুল ফোঁটাতে চেয়েছিলাম আমরা। এমন একটি বাসযোগ্য ভূমি তৈরি করতে চেয়েছিলাম, যেখানে সবাই সুখে-শান্তিতে, আনন্দে বাস করতে পারব। ‘কিন্তু আমাদের সেই স্বপ্ন সফল হয়নি। যদিও অনেক রাস্তাঘাট তৈরি হয়েছে, অট্টালিকা হয়েছে। আমাদের জীবনযাত্রার মান অনেক বদলে গেছে। তার পরও আমরা নিরাপদ যে বাসভূমি, তা দেখতে পাইনি। এর চেয়ে বড় লজ্জা আর কিছু হতে পারে না।’ মির্জা ফখরুল বলেন, আজ শিশুরা পর্যন্ত ঘৃণা ও সন্ত্রাসের বাইরে থাকতে পারছে না। আমাদের শিশুরা অহরহ নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, হত্যার শিকার হচ্ছে। একটা ফুলের মতো নিষ্পাপ শিশুকে কীভাবে নির্যাতন ও হত্যা করা যায়- এটি আমার বোধগম্য নয়। তিনি আরও বলেন, আজ জিয়াউর রহমান সম্পর্কে অনেক খারাপ কথা আমাদের শুনতে হয়, যা আসলে সঠিক নয়। জিয়া হচ্ছেন সেই ব্যক্তি, যিনি মানুষকে স্বাধীনতাযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রাণিত করেছিলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা কাউকে ছোট করতে চাই না, সবাইকে ওপরেই রাখতে চাই। কিন্তু যে মানুষটির অবদান আছে, তাকে ছোট করার অধিকার কারও নেই। যার যা অবদান, জাতি তা সবসময় স্মরণ রাখে ও তার মূল্য দেয়। আমরা অনেকেই জানি না, এই শিশু একাডেমি তৈরি করেছিলেন জিয়াউর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জিয়া শিশু অ্যাকাডেমির মহাপরিচালক এম হুমায়ুন কবির।

সফররত তথ্যমন্ত্রীকে মূখ্যমন্ত্রী

মেঘালয়েও হবে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি

ঢাকা অফিস ॥ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিলংয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি স্থাপনের কথা জানিয়েছেন মেঘালয়ের মূখ্যমন্ত্রী কনরাড সাঙ্গামা। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ভারত সফররত বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ শিলংয়ে রাজ্যসচিবালয়ে মূখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠককালে এবিষয়ে প্রস্তাব দিলে তিনি তাৎক্ষণিক সম্মতি প্রকাশ করেন। তথ্যমন্ত্রী এ সময় আগামী বছরের মার্চে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উদযাপনের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে তাকে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানান। ঘণ্টাব্যাপী আন্তরিক এ বৈঠকে ড. হাছান মুক্তিযুদ্ধের সময় আন্তরিক সহযোগিতার জন্য মূখ্যমন্ত্রীকে মেঘালয়ের প্রতি বাংলাদেশের অকুন্ঠ ধন্যবাদ জানান। তথ্যমন্ত্রী বলেন, নির্মাণ ও স্থাপত্যশিল্পে এশিয়ার সবচেয়ে কর্মপ্রবণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এখন প্রচুর পাথরের চিপস আমদানি করে। দূরবর্তী অঞ্চল বা দেশ থেকে না এনে মেঘালয় থেকে নিলে সাশ্রয়ী হবে। একইসঙ্গে বাংলাদেশে উৎপাদিত রাবার মেঘালয় সুলভে আমদানি করতে পারে। কনরাড সাঙ্গামা এ প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে বলেন, পাথরের চিপস পরিবহনে সহজতার জন্য কনভেয়ার বেল্ট নির্মাণ করবে মেঘালয় রাজ্য সরকার। একইসঙ্গে রাবার আমদানির বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেবে তারা।’ এসময় তামাবিল-ডাউকী সীমান্ত দিয়ে বাস যোগাযোগ, সমন্বিত চেকপোস্ট, সীমান্ত-পারাপার পণ্যপরিবহন ও সীমান্ত হাট ব্যবস্থাপনা সহজীকরণে দ্রুত অগ্রগতির ওপর জোর দেন তারা। এর আগে সকালে গৌহাটিতে কিংবদন্তি সংগীত প্রতিভা ভূপেন হাজারিকার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তথ্যমন্ত্রী। শুভেচ্ছা স্মারক বিনিময়কালে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ মেঘালয়ের মূখ্যমন্ত্রী কনরাড সাঙ্গামাকে বঙ্গবন্ধুর লেখা কারাগারের রোজনামচার ইংরেজি ভার্সন, নৌকা স্মারক, নকশীকাঁথা ও জামদানী উপহার দেন। তথ্যমন্ত্রীর সাথে তার স্ত্রী নূরান ফাতেমা, গৌহাটিতে বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনার এস এম তানভীর মনসুরসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং মূখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকশেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন ড. হাছান।

শেষ পর্যন্ত ফিলিস্তিনিদের পাশে থাকার অঙ্গীকার তুরস্কের

ঢাকা অফিস ॥ স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসওগ¬ু জানিয়েছেন, তার দেশ শেষ পর্যন্ত ফিলিস্তিনিদের পাশেই থাকবে।

সৌদি আরবের জেদ্দায় ওআইসির জরুরি বৈঠকের পর ফিলিস্তিন ইস্যুতে নিজ দেশের অবস্থান তুলে ধরে দেশটির প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। খবর আনাদলুর। টুইটারে দেয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, আজ যারা আমাদের বক্তব্যে অস্বস্তি বোধ করে; তারাই আমাদের ফিলিস্তিনি ভাই-বোনদের ওপর নির্মম ও নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। গোটা বিশ্বের সামনেই তারা রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ চালাচ্ছে। এমনকি তারা নির্লজ্জভাবে আমাদের প্রেসিডেন্টকেও আক্রমণ করার চেষ্টা করছে। কিন্তু তুরস্ক শেষ পর্যন্ত ফিলিস্তিনের পাশেই থাকবে। সম্প্রতি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জর্ডান উপত্যকা ও ডেড সি (মৃত সাগর) দখলের হুশিয়ারির প্রতিবাদে জরুরি বৈঠকের আয়োজন করে ওআইসি। জর্ডান উপত্যকা দখলের ঘোষণার পর ইসরাইলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ওআইসির জরুরি বৈঠকের মধ্যেই অধিকৃত পশ্চিমতীরে নতুন বসতি স্থাপনের অনুমোদন করেছে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকার। ইসরাইলে নির্বাচনের দুইদিন আগে গত রোববার প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

শৈলকুপায় সাপের কামড়ে দুই ভায়ের মৃত্যু

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার নাগপাড়া গ্রামের সাপের ছোবলে দুই ভায়ের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার দিবাগত গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে। তারা হলেন-নাগপাড়া গ্রামের মৃত নবাব মন্ডলের দুই ছেলে শাহিন মন্ডল (২৮) ও সোহান মন্ডল (৮)। স্থানীয়রা জানায়, রাতে খাবার খেয়ে একসাথে ঘুমিয়ে ছিল শাহিন ও সোহান। ঘুমন্ত অবস্থায় সোহানের মাথায় সাঁপে ছোবল দেওয়ার পর শাহিন জেগে উঠলে তাকেও দংশন করে। এসময় তাদের চিৎকারে বাড়ির লোকজন উঠে এসে সাপটিকে মেরে ফেলে। গভীর রাতেই তাদেরকে শৈলকুপা হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে তাদেরকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে রেফার্ড করে। এ্যাম্বুলেন্সযোগে কুষ্টিয়া যাওয়ার পথে পথিমধ্যেই ছোট ভাই সোহানের মৃত্যু হয়। পরে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বড় ভাই শাহিন মঙ্গলবার ভোরে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়ে। শৈলকুপা থানার ওসি বজলুর রহমান তাদের মৃত্যুর সংবাদ নিশ্চিত করেছেন।

জনবিচ্ছিন্ন আ’লীগ কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবে সেটিই বড় প্রশ্ন – খসরু

ঢাকা অফিস ॥ ভোটচুরি করে ক্ষমতা দখলকারী জনবিচ্ছিন্ন আওয়ামী লীগ কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবে এমন প্রশ্ন করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। গতকাল মঙ্গলবার কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এ প্রশ্ন করেন। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে তাঁতী দল এ কর্মসূচির আয়োজন করে। আমীর খসরু বলেন, আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় সংস্থানির্ভর দল হয়ে গেছে। এরা কিন্তু মানুষের কাছে ফিরে যেতে পারবে না। এদের ফিরে যাওয়া কঠিন। তিনি বলেন, মানুষ আমাকে প্রশ্ন করে বিএনপি কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবে। আমি প্রশ্ন করি যে দলটি জনগণকে বাইরে রেখে মানুষের সব অধিকার কেড়ে নিয়ে ক্ষমতায় আছে, তারা কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবে। এটিই বড় প্রশ্ন। ‘বিএনপি তার জায়গায় অটল আছে। বিএনপি গণতন্ত্রের পক্ষে মানুষের অধিকারের পক্ষে ছিল, আছে এবং থাকবে।’ আওয়ামী লীগকে আইনের সম্মুখীন হতে হবে উল্লেখ করে বিএনপির এ নেতা বলেন, বিগত দিনে কেউ পার পায়নি, এরাও পার পাবে না। দক্ষিণ আফ্রিকায় নেলসন ম্যান্ডেলাকে জেলে রেখে শ্বেতাঙ্গরা ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছিল, কিন্তু পারেনি। বাংলাদেশেও বিগত দিনে কেউ পারেনি। পাকিস্তান আমলেও কেউ পারেনি। এরাও পারবে না। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া এককভাবে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন করে তাদের পরাজিত করেছেন। সেই দেশনেত্রীকে কারাগারে রেখে, মানুষের সব অধিকার কেড়ে নিয়ে তারা অবৈধভাবে দেশ চালাচ্ছে। এভাবে চলতে পারে না। এটাকে বন্ধ করতে হবে। মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। ‘এটা শুধু বিএনপির ব্যাপার না। এটা দেশের সব মানুষের বিষয়। খালেদা জিয়ার মুক্তির সঙ্গে বাংলাদেশের মুক্তি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। খালেদা জিয়ার মুক্তি দেশের মানুষের ভোটাধিকার, বাকস্বাধীনতা ফিরে পাওয়ার সঙ্গে জড়িত।’ আমীর খসরু আরও বলেন, গুম, খুন, মিথ্যা মামলা-হামলার শিকার হয়ে জ্বলেপুড়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা খাঁটি সোনায় পরিণত হয়েছে। এদের দমন করা যাবে না। আন্দোলন চলছে, খালেদা জিয়ার মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত, দেশে গণতন্ত্র ফিরে না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

 

হালসা বাজারে ইসলামী ব্যাংক লিঃ এর এজেন্ট ব্যাংকিং শাখা উদ্বোধন

মিলন আলী ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার হালসা বাজারে সর্দ্দার টাওয়ারে ইসলামী ব্যাংক লিঃ বাংলাদেশ লিমিটেডের এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার উদ্বোধন হয়েছে। প্রধান অতিথি হিসেবে শাখার উদ্বোধন করেন ইসলামী ব্যাংক যশোর জোনাল অফিসের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মিজানুর রহমান।  ইসলামী ব্যাংক পোড়াদহ শাখার ব্যবস্থাপক মোঃ গোলাম মাসুদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিজানুর রহমান বলেন, ইসলামী ব্যাংক হলো বিশ্বস্ত, আশা, আকাঙ্খা ও শান্তির স্থান। সুতরাং আপনারা হালসাবাসী আপনাদের অর্জিত সম্পদ এই ইসলামী ব্যাংকে জমা রেখে ব্যাংকিং খাতকে প্রসারিত করতে সহায়তা করবেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আমবাড়ীয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মিলন, পাটিকাবাড়ী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও আ.লীগের সাধারন সম্পাদক সফর উদ্দিন, হালসা আদর্শ ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জহুরুল ইসলাম, হালসা বাজার কমিটির সেক্রেটারী হাসান আলী, ইসলামী ব্যাংক লিঃ এর এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার এজেন্ট আব্দুল খালেক, পাটিকাবাড়ী ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি সাইদুর রহমান বিশ্বাস, আমবাড়ীয়া ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারন সম্পাদক আশরাফুল আলম মিলন চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আক্কাস আলী, আ.লীগের যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বাবু, ইসলামী ব্যাংক লিঃ এর এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার এজেন্ট সর্দ্দার টাওয়ারের মালিক সারোয়ার হোসেন,  ইসলামী ব্যাংকিং এর এজেন্টে আবুল হাশেম, তরুন সমাজ সেবক সাইফুল ইসলাম, তোফাজ্জেল হোসেন ভুট্ট, অধ্যাপক আব্দুর রব, প্রভাষক আব্দুস সালাম, প্রভাষক জুমারত আলী। হালসা বাজারে ইসলামী ব্যাংক লিঃ এর এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া করেন মাওলানা হাফেজ ছগির আহম্মেদ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন রুহুল আমিন।

হংকং : শান্তি ফেরাতে সংলাপে বসছেন প্রধান নির্বাহী  লাম

ঢাকা অফিস ॥ আগামী সপ্তাহ থেকে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংলাপে বসার ঘোষণা দিয়েছেন চীন নিয়ন্ত্রিত হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী ক্যারি লাম। মঙ্গলবার এ ঘোষণা দিয়ে ফের সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি, পাশাপাশি জনসাধারণের অংশগ্রহণ অবাধ করতে সংলাপ পর্ব যতটা সম্ভব উন্মুক্ত রাখার আশ্বাসও দিয়েছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা সরকারবিরোধী প্রতিবাদ বিক্ষোভে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বিশ্বের অন্যতম অর্থনৈতিক কেন্দ্র হংকং। জনসাধারণের ক্ষোভ শান্ত করতে নগরীটির প্রধান নির্বাহীকে চাপে রেখেছে বেইজিং। এক সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে লাম বলেন, “হংকংয়ের সমাজ মূলত দৃঢ় অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুর সমন্বিত রূপ; আমার বিশ্বাস এরকম নানান ধরনের সংলাপ আমাদের আলোচনার জন্য একটি ভিত্তি তৈরি করবে।” সংলাপে আলোচ্য বিষয়ের মধ্যে ভূমি ও বাসভবনের ঘাটতিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে লাম জানিয়েছেন। ৭৪ লাখ বাসিন্দা অধ্যুষিত বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল এ শহরটির তরুণরা মূলত বাসাভাড়া ও জীবনযাপনের উচ্চ ব্যয় নিয়ে ক্ষুব্ধ। “কিন্তু আমি এখানে জোর দিয়ে বলতে চাই, সংলাপের ভিত্তির অর্থ এই নয় যে, আমরা শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ থেকে সরে আসবো। এখনো আমাদের সামনে চলমান এ সহিংসতা দমনই অগ্রাধিকার পাবে,” বলেছেন তিনি। বিচারের জন্য বাসিন্দাদের চীনের মূল ভূখন্ডে পাঠানোর সুযোগ রেখে আইনের সংশোধনে আনা একটি বিলকে কেন্দ্র করে টানা তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে হংকংয়ে সহিংস প্রতিবাদ চলছে। টানা আন্দোলনের মুখে লাম বিতর্কিত ওই বিলটি প্রথমে ‘স্থগিত’ ও পরে ‘সম্পূর্ণ প্রত্যাহার’ করেও বিক্ষোভকারীদের শান্ত করতে পারেননি। প্রধান নির্বাহীর এ পদক্ষেপকে ‘অনেক দেরিতে, সামান্য কিছু’ বলে অভিহিত করে আন্দোলনকারীরা এখন হংকংয়ে আরও গণতন্ত্র এবং সরকারবিরোধী বিক্ষোভে ‘পুলিশি নির্যাতনের’ নিরপেক্ষ তদন্ত চাইছেন। টানা এ আন্দোলনে বিক্ষোভকারীদের প্রায়ই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়াতে দেখা গেছে। রোববার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে আক্রমণ, পেট্রল বোমা ও ইট-পাটকেল ছোড়ার ঘটনায় ৮৯ জনকে আটক করা হয়েছে বলে সোমবার পুলিশ জানিয়েছে।   সরকারবিরোধী এ বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে হংকংয়ের চীনপন্থি বাসিন্দাদের মারামারি ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে।

আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্টের সভায় বোমা হামলা, নিহত ২৪

ঢাকা অফিস ॥ আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির নির্বাচনী সমাবেশের কাছে বোমা বিস্ফোরণে ২৪ জন নিহত ও আরও ৩১ জন আহত হয়েছেন বলে দেশটির এক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানিয়েছেন। মঙ্গলবার কাবুলের উত্তরে পারওয়ান প্রদেশের রাজধানী চারিকরের এ ঘটনায় প্রেসিডেন্ট ঘানি আঘাত পাননি বলে তার এক সহযোগীর বরাতে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। সন্দেহভাজন জঙ্গি হামলার ঘটনাটি যখন ঘটে তখন ঘানি সমাবেশে ভাষণ দিতে যাচ্ছিলেন বলে জানা গেছে। “নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। নিহতদের অধিকাংশই বেসামরিক বলে মনে হচ্ছে। অ্যাম্বুলেন্সগুলো ছুটাছুটি করছে। হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে,” বলেছেন পারওয়ানের প্রাদেশিক হাসপাতালের প্রধান আব্দুল কাসিম সানগিন। বোমা হামলাটি এক আত্মঘাতী চালিয়েছে বলে স্থানীয় এক সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন। “প্রেসিডেন্ট অক্ষত আছেন,” ঘানির এক সহযোগী রয়টার্সকে বলেছেন। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জঙ্গি গোষ্ঠী এ হামলার দায় স্বীকার করেনি। পৃথক আরেকটি ঘটনায় কাবুলের কেন্দ্রস্থলে এক বিস্ফোরণে অন্তত ছয় জন নিহত হয়েছেন বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। অ্যাম্বুলেন্স ও আফগানিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর আফগানিস্তানের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। দ্বিতীয় পাঁচ বছর মেয়াদের জন্য এ নির্বাচনেও প্রার্থী হচ্ছেন ঘানি। তালেবান নির্বাচন বয়কটের ডাক দিয়েছে। ভোটাররা যেন ভোটকেন্দ্রমুখি না হয় তার জন্য আফগানিস্তানের ও বিদেশি বাহিনীগুলোর সঙ্গে লড়াই তীব্র করে তোলার শপথ নিয়েছেন জঙ্গি গোষ্ঠীটির কমান্ডাররা। নির্বাচনী সভা-সমাবেশ ও কেন্দ্রগুলোতে হামলার হুমকি দিয়েছে তারা। এরপর থেকে সারা দেশজুড়ে নির্বাচনী সমাবেশগুলো ঘিরে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তার মধ্যেই খোদ প্রেসিডেন্টের সমাবেশে আত্মঘাতী বোমা হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটল।

 

প্রকল্পের কেনাকাটায় সতর্ক হতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা

ঢাকা অফিস ॥ সরকারি প্রকল্প তৈরির সময় যথাযথভাবে বিভিন্ন পণ্যের দাম নির্ধারণ এবং সেসব কেনাকাটায় আরও সতর্ক হতে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন বলে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান জানিয়েছেন। সভার পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন প্রকল্প সংশি¬ষ্ট সরকারি কেনাকাটা যথাসময়ে এবং যথাযথভাবে করতে হবে। পণ্যের মূল্য নির্ধারণে আরও সতর্ক থাকতে হবে। “প্রকল্প তৈরির সময় বিভিন্ন ক্যাটাগরির যে কেনাকাটা থাকে সেসব পণ্যের মূল্য নির্ধারণে আরও সতর্ক হওয়ার বিষয়টি আমি নজরে আনলে তাতে প্রধানমন্ত্রী সম্মতি দেন। তখন প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন প্রকল্পে পণ্যের দাম নির্ধারণে আরও সতর্ক হওয়ার নির্দেশ দেন।” পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, “একটি প্রকল্প বাস্তবায়নকালে অনেক রকমের ক্রয় কার্যক্রম থাকে। সেসব ক্রয় কার্যক্রমে পণ্যের দাম নির্ধারণে আরও সাবধান হতে হবে। তাড়াহুড়ো ও দ্রুত কাজ করতে গিয়ে সেগুলো ঠিকমতো খতিয়ে দেখতে পারি না। এসব পণ্যের দাম ঠিক মতো খতিয়ে দেখতে হবে।” প্রকল্প তৈরির সময় পণ্যের মূল্য নির্ধারণে সাবধান হতে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান এম এ মান্নান। “আমরা অহেতুক প্রশ্নের সম্মুখীন হতে চাই না,” বলেন তিনি। পণ্যের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাজার যাচাইয়ের ওপর গুরত্বারোপ করেন তিনি। শহরে রাস্তা প্রশস্ত করার সময় যাতে খুব বেশি বাড়িঘর বা দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকেও প্রধানমন্ত্রী খেয়াল রাখতে বলেছেন বলে জানান পরিকল্পনামন্ত্রী। “প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, প্রয়োজনে এলাইনমেন্ট পরিবর্তন করা যেতে পারে। তারপরও বাধ্য হয়ে মানুষের ঘরবাড়ি ভাঙতে হলে তাদের উদারভাবে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।” প্রকল্প চলাকালীন সময় কোনো ক্রটি সংশোধন করার প্রয়োজন হলে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্মকর্তাকে তা দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনতে হবে বলে জানান তিনি। বৈঠকে সরকারের প্রকল্প তদারকি সংস্থা আইএমইডিকে শক্তিশালী করার নির্দেশনাও প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন।

 

 

দৌলতপুর সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান বিরোধী মতবিনিময় সভা

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে বিজিবি’র মাদক ও চোরাচালান বিরোধী মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় মহিষকুন্ডি মাঠপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন, বিজিবি কুষ্টিয়া সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল জিয়া সাদাত পিএসসি, ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল রফিকুল আলম পিএসসি ও প্রাগপুর ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুজ্জামান মুকুল মাষ্টার। মতবিনিময় সভায় সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান রোধে সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষকে সচেতন ও সহযোগিতা কামনা করা হয়। মতবিনিময় সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সুধীজন অংশ নেয়।

দৌলতপুরে সীমান্তে ৪০৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে ৪০৫পিস ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে। সোমবার রাত ৯টার দিকে চিলমারী বিওপি’র টহল দল উপজেলার সীমান্ত সংলগ্ন আকন্দপাড়া মাঠে অভিযান চালিয়ে এ মাদক উদ্ধার করে। তবে উদ্ধার হওয়া মাদকের সাথে জড়িত কেউ আটক না হলেও ৩জন পলাতক আসামীর বিরুদ্ধে দৌলতপুর থানায় মামলা দিয়েছে বিজিবি।

৫০-৬০ হাজার টাকায় রোহিঙ্গাদের এনআইডি করে দেন জয়নাল – পুলিশ

ঢাকা অফিস ॥ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের হাতে বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তুলে দিতে কাজ করছে ঢাকা ও চট্টগ্রামের একটি চক্র। আর প্রতিটি এনআইডির জন্য রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে নেওয়া হয় ৫০-৬০ হাজার টাকা। ডবলমুরিং থানা নির্বাচন কর্মকর্তার অফিস সহায়ক জয়নাল আবেদীনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এমন তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ। জয়নালের কাছ থেকে চক্রটির আরও দুইজনের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন। তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশনে চাকরি করার সুবাদে জয়নাল সেখানকার বিভিন্ন তথ্য জানত। সেগুলো ব্যবহার করে সে রোহিঙ্গাদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে দিত। এর সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রকল্পের অধীনে আগে কাজ করা দুই ডেটা এন্ট্রি অপারেটর জড়িত আছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।” সম্প্রতি কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির অভিযোগে দুই দালালকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার রাতে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জয়নাল আবেদীনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এসময় তার কাছ থেকে একটি ল্যাপটপ উদ্ধার এবং তার বন্ধু বিজয় দাশ ও তার বোন সীমা দাশকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের পক্ষে ডবলমুরিং থানার নির্বাচন কর্মকর্তা পল্লবী চাকমা বাদি হয়ে জয়নালের সাথে গ্রেপ্তার দুইজনসহ মোট পাঁচজনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানায় মামলা করেন। ভোরে মামলা হওয়ার পর দুপুরেই চট্টগ্রাম নগর পুলিশ কমিশনার কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটকে মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কোতোয়ালী থানা পুলিশকে জয়নাল জানিয়েছেন, ২০০৪ সালে তিনি অফিস সহায়ক হিসেবে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে চাকরিতে যোগ দেন। ২০০৮ সালে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রকল্প শুরু হলে তিনি বিভিন্ন কাজ রপ্ত করে নেন। ওই সময় তিনি জাতীয় পরিচয়পত্রের সার্ভারে ঢুকে তথ্য পরিবর্তন কাজও শিখে নেন। ওসি মহসিন বলেন, “ওই সময় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে জাতীয় পরিচয়পত্রে নাম, জন্ম তারিখসহ ছোটখাটো সংশোধনগুলো করে দিত সে। পরে রোহিঙ্গাদের ভোটার করে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে দেওয়ার কাজ শুরু করে।” “জয়নাল জানিয়েছে, চাকরির সুবাদে ঢাকায় জাতীয় পরিচয়পত্র প্রকল্পের অধীনে আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া সাগর ও সত্য সুন্দর নামের দুই ব্যক্তির সাথে তার পরিচয় হয়। সেই পরিচয়ের সূত্রে সে সাগরের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকায় একটি ল্যাপটপ কেনে।”কোতোয়ালী থানায় হওয়া মামলায় বলা হয়েছে, ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে আসা নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জয়নাল জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম অফিস থেকে তিনি ডিএসএলআর ক্যামেরা, ফিঙ্গার প্রিন্ট স্ক্যানার, সিগনেচার প্যাড প্রতি শুক্র, শনিবারসহ বন্ধের দিনগুলোতে গোপনে তার বাসায় নিয়ে যেতেন। বাসায় বসে সে ল্যাপটপের সাথে সেসব সরঞ্জাম জুড়ে তথ্য তৈরি (ডাটা ক্রিয়েট) করে মেইলে ঢাকায় সাগরের কাছে পাঠাতেন। সাগর নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে অবৈধভাবে ঢুকে তথ্য আপলোডসহ যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করে জাতীয় পরিচয়পত্রের প্রিন্ট কপি এসএ পরিবহনের মাধ্যমে জয়নালের কাছে পাঠিয়ে দিতেন। প্রতিটি পরিচয়পত্র তৈরির জন্য জয়নাল রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা করে নিতেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। নাম প্রকাশ না করে এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, জয়নালের মামা নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে উচ্চপদে ছিলেন। তার মাধ্যমে জয়নালের পরিবারের সদস্যসহ ১৬ জন স্বজন নির্বাচন কমিশনে বিভিন্ন পদে চাকরি নিয়েছেন। “অফিসে উগ্র আচরণের কারণে সে অন্তত ১০ বার চট্টগ্রাম নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে শাস্তিমূলক বদলি হয়েছে। তবে বিভিন্নভাবে সে আবার চট্টগ্রামে চলে আসত। গত বছরের জানুয়ারি থেকে চট্টগ্রাম নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে কর্মরত আছে,” বলেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি আরও বলেন, জয়নাল নিজে ও স্বজনরা নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে চাকরি করায় তার কাছে রোহিঙ্গাদের তথ্য আসত। আর সেসব তথ্যের ভিত্তিতে জয়নাল ৫০-৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে দিতেন। চট্টগ্রাম নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ২০০৮ সালে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রকল্পের কাজের পর কিছু ল্যাপটপ নিলামে বিক্রি করা হয়েছিল; কিছু ল্যাপটপ বিভিন্ন সময়ে খোয়াও গেছে। সেগুলোর মধ্যে কোনো ল্যাপটপ জয়নাল সংগ্রহ করেছেন তা তারা নিশ্চিত হতে পারেননি। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিএমপি কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের পরিদর্শক রাজেশ বড়ুয়া বলেন, “সবেমাত্র আমরা মামলাটির নথিপত্র কোতোয়ালী থানা থেকে নিয়েছি। মামলাটি নিবিড় তদন্তের জন্য গ্রেপ্তার তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন আছে। তাদের হেফাজতে এনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমরা সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছি। “জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বলা যাবে কিভাবে কোথা থেকে সে (জয়নাল) ল্যাপটপ সংগ্রহ করেছে, সাগর ও সত্য সুন্দরের সাথে তার কিভাবে সম্পর্ক হয়েছে ইত্যাদি বিষয়ে।” তাদের পাশাপাশি অন্য কারা জড়িত আছে সবকিছু নিয়ে অনুসন্ধান করা হবে বলে জানান পরিদর্শক রাজেশ বড়ুয়া।

বিতর্কিত ছাত্রলীগ সম্পাদক রাকিবকে বহিস্কারের দাবিতে উত্তাল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

ইবি প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা শাখা ছাত্রলীগের সম্পাদক রাকিবকে বহিষ্কার করে কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। পাশাপাশি দাবী মেনে না নেওয়া হলে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি দেয় তারা। আগামীকালের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে পদবঞ্চিতরা কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি দিয়ে অনশনে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় অনুষদ ভবন সংলগ্ন ছাত্রলীগের দলীয় ট্রেন্ড থেকে পদবঞ্চিতদের  নেতা শিশির বাবু, তৌকির মাহফুজ, মিজানুর রহমান লালন, ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাত, জুবায়েরের  নেতৃত্বে শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে বিক্ষোভ মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিন করে। এসময় তাদের ‘হৈ হৈ রৈ রৈ রাকিব-পলাশ গেলি কই? জামাত-শিবিরের আস্তানা জালিয়ে দাও পুড়িয়ে দাও’ শ্লোগান দিতে দেখা যায়। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যের দায়িত্বে থাকা উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ শাহিনুর রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করে সম্পাদক রাকিবকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়ে বলেন, রাকিবের সাথে সভাপতি পলাশ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাদের দাবী, রাকিব ৪০ লাখ টাকা দিয়ে কমিটি এনেছে বলে অডিও ফাঁস হয়েছে, এছাড়া তার বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য ও নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহিনুর রহমান বলেন, “মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলর ইতিমধ্যে এ বিষয়টিকে আমলে নিয়েছেন। তিনি এ ব্যাপারে কনসার্ন আছেন। কোনো ধরণের দুর্নীতি তিনি কোনোভাবেই সহ্য করবেন না। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন।”

আজ কোহিনুর ভিলা ট্রাজিডি

মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতা বিরোধীদের নৃশংস হত্যাকান্ডে রক্তে ভাসে কুষ্টিয়ার কোহিনুর ভিলা

সুজন কর্মকার ॥ আজ কোহিনুর ভিলা ট্রাজিডি। কুষ্টিয়া শহরের দেশওয়ালীপাড়ার বাড়ির নাম কোহিনুর ভিলা। ১৯৭১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর। সেদিন রাতে দেশওয়ালীপাড়ার কোহিনুর ভিলার এই বাড়ির ভেতরে ঢুকে শিশু-নারী-পুরুষ হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়। মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতা বিরোধীদের নৃশংস হত্যাকান্ডে রক্তে ভাসে কোহিনুর ভিলা। কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক কুমার ঘোষ সহ মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, সেদিন ছিল ১৯৭১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর। কুষ্টিয়া শহরের রজব আলী খান চৌধুরী লেনের একটি বাড়ি ‘কোহিনুর ভিলা’। বাড়িটির মালিক রবিউল হক। তিনি বেকারির ব্যবসা করতেন। তাঁর স্ত্রী, ছেলেমেয়ে, ভাই-বোন, ভাইয়ের স্ত্রী, নাতিসহ থাকত ওই বাড়িতে। ওই দিন কাজ শেষে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরেছিলেন তিনি। কিন্তু ওই রাতে কোহিনুর ভিলায় নেমে আসে অবর্ণনীয় বিভীষিকা। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়িটি ঘিরে ফেলে মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতা বিরোধীরা। স্বাধীনতা বিরোধীরা কোহিনুর ভিলায় অপারেশন চালায়। একে একে সবাইকে জবাই করা হয়। বর্বর এই হত্যাকান্ডের মধ্যদিয়ে রবিউলের বংশের সবাই শহীদ হয়। রাত পোহালে শহরের ড্রেনে রক্তের স্রোত দেখে নৃশংস গণহত্যা টের পায় প্রতিবেশীরা। পরে বাড়ির পাশেই শহীদদের গণকবর দেয় হয়। কোহিনুর ভিলার ওই রাতের শহীদরা হলো গৃহকর্তা রবিউল হক (৬০), তাঁর দুই স্ত্রী, ভাই আরশাদ আলী (৫০), তাঁর স্ত্রী বেগম আরশাদ (৩৮), ছেলে মান্নান (২২), হান্নান (২০), মেয়ে রিজিয়া (২৮), ভাইয়ের মেয়ে বাতাসী (১৮), জরিনা (১৪), ভাই আনু (১৮), বোন আফরোজা (৪০), ভাই আশরাফ (৩০), আসাদ (২৫), এ ছাড়া দুই নাতি রেজাউল (১০) ও রাজু (৮) সহ মোট ১৮ জন। এদিকে কোহিনুর ভিলায় নিহতদের আত্মার শান্তি কামনায় আজ ১৮ সেপ্টেম্বর সকালে মুক্তিযোদ্ধা সাংগঠনিক কমান্ডের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান করা হবে। কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক, সাংগঠনিক কমান্ডের কমান্ডার ও মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডের সাবেক জেলা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক কুমার ঘোষের নেতৃত্বে কুষ্টিয়ার বীর মুক্তিযোদ্ধারা শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান করবেন।

বড় ঋণে ব্যাংক চেয়ারম্যানকেও ‘গ্যারান্টার’ করার নিয়ম হচ্ছে – অর্থমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ খেলাপী ঋণের লাগাম টেনে ধরতে আইন পরিবর্তন করে ব্যাংক চেয়ারম্যান ও পরিচালকদেরও ব্যক্তিগতভাবে ‘গ্যারান্টার’ করার নিয়ম চালুর পরিকল্পনার কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। গতকাল মঙ্গলবার রাষ্ট্রায়ত্ত চার বাণিজ্যিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে ওই  বৈঠকের পর এক ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী বলেন, “খেলাপী ঋণ নিয়ে আমাদের যে দুশ্চিন্তা থাকে, সেটা থেকে মুক্তি লাভের জন্য আমরা সবাই ঐকমত্য পোষণ করেছি যে আমরা আইনি প্রক্রিয়ায় কিছু পরিবর্তন নিয়ে আসব।” কী পরিবর্তন আনা হবে তার ব্যাখ্যায় অর্থমন্ত্রী বলেন, কোনো ব্যাংক থেকে বড় অংকের ঋণ দেওয়ার সময় আদায় নিশ্চিত করার জন্য পর্যাপ্ত মর্টগেজের আওতায় থাকতে হবে। “এর বাইরে যারা পরিচালক, চেয়ারম্যান, তারা সবাই পারসোনাল গ্যারান্টি দেবে। এই সমস্ত গ্যারান্টিগুলো আমাদের আইনি প্রক্রিয়ায় এতটা শক্তিশালী হবে যে, কেউ যদি ফেইল করে ঋণ শোধে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আমরা অ্যাকশন নিতে পারব।” ঋণের বিপরীতে মর্টগেজ এবং গ্যারান্টি- এ দুটো বিষয় নিশ্চিত করতে পারলে কোনো ঋণ আর খেলাপি হবে না বলে অর্থমন্ত্রীর বিশ্বাস। “আমরা দেখেছি, আমাদের নন পারফরমিং লোনগুলো মোস্টলি হয়েছেÑ আমাদের আইনি প্রক্রিয়ায় কিছু দুর্বলতা ছিল, যে কারণে আমরা এগুলোর বিরুদ্ধে আমরা ইগনোর করতে পারি না। যে কভারেজ ছিল, সেগুলা আমরা ব্যবহার করতে পারি না। এগুলো আমরা দূর করব।” বাংলাদেশ ব্যাংক খেলাপি ঋণের সর্বশেষ যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, জুন শেষে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ ১২ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ১১ দশমিক ৬৯ শতাংশ। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসে নতুন করে খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। আর জুন শেষে অবলোপনসহ খেলাপি ঋণের পরিমাণ দেড় লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। গত বছরের জুন পর্যন্ত অবলোপন বাদে খেলাপি ঋণ ছিল ৯০ হাজার ৩৭২ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে তা বেড়েছে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা। মুস্তফা কামাল বলেন, “আমরা রাষ্ট্রায়ত্ত চার বাণিজ্যিক ব্যাংকের জন্য কর্মপরিকল্পনা নিয়েছি। ব্যাংকগুলো সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য যা যা করা দরকার সেগুলো তারা করবেন। আয় বাড়ানোর জন্য, ব্যাংকগুলোর ব্যয় কমানোর জন্য, যেখানে যেখানে যা প্রয়োজন তারা করবেন।”

কুষ্টিয়ায় ৪ চাউল ব্যবসায়ীকে জরিমানা

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার খাজানগরে অভিযান চালিয়ে বিসমিল্লাহ এগ্রো ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেডসহ চার ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে “পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন-২০১০” নিশ্চিতে উক্ত এলাকায় অভিযান চালায় ভ্রাম্যমান আদালত। এ ভ্রাম্যমান আদালতের নেতৃত্বে ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার রিজু তামান্না। ভ্রাম্যমান আদালত সুত্র জানায়, “পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন-২০১০” নিশ্চিতে উক্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে আইন ভঙ্গ করে পলিথিনের মোড়ক ব্যবহার করায় খাজানগেরর বিসমিল্লাহ এগ্রো ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেডকে ২৫ হাজার টাকা, আইলচারা বাড়ারের চাউল ব্যবসায়ী নুরুল ইসলামকে ১০ হাজার টাকা, শাহিন আহম্মদকে ৩ হাজার টাকা এবং জাহাঙ্গীর আলমকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এসময় কুষ্টিয়ার মুখ্য পাট পরিদর্শক সোহরাব উদ্দিন বিশ্বাস উপস্থিত সকলকে উক্ত আইনটি মেনে চলার জন্য আহবান জানান। সেই সাথে জেলাব্যাপি এ অভিযান অব্যহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

মিরপুর প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে ইউএনও বিদায় সংবর্ধনা

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর প্রেসক্লাবের উদ্যোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম জামাল আহমেদকে বদলী জনিত বিদায়ী সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। একই সাথে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রকিবুল হাসানকে বরণ করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ক্লাব কার্যালয়ে বিদায়-বরণ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। প্রেসক্লাবের সভাপতি আলহাজ্ব মহাম্মদ আলী জোয়ার্দ্দারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম জামাল আহমেদ। প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রাশেদুজ্জামান রিমনে পরিচালনায় এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রকিবুল হাসান। এ সময়ে প্রেসক্লাবের সাবেক আহবায়ক হুমায়ূন কবীর হিমু, সহ-সভাপতি কাঞ্চন কুমার, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মারফত আফ্রিদী, অর্থ-সম্পাদক মজিদ জোয়ার্দ্দার, দপ্তর সম্পাদক ফিরোজ আহাম্মেদ, সদস্য অধ্যাপক আব্দুস সালাম, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম, শাহিনুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ শফিউল ইসলাম শফি, নির্বাহী হীরক জোয়ার্দ্দার, রফিকুল ইসলাম, আশরাফুল আলম হীরা, সাংবাদিক সুমন মাহমুদ, সুলতানপুর সিদ্দিকীয়া মাদ্রাসার ক্রীড়া শিক্ষক সাইদুল ইসলাম, নওপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক মাহাবুল ইসলাম, মিরপুর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যানিকেতনের ক্রীড়া শিক্ষক জাহাঙ্গীর মাসুদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। পরে একই স্থানে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার পক্ষ থেকে বিদায় ইউএনও এস এম জামাল আহমেদকে বিদায়ী  সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

 

ডাকসু থেকে পদত্যাগের প্রশ্নই উঠে না – রাব্বানী

ঢাকা অফিস ॥ চাঁদাবাজিসহ নানা অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে অপসারিত হওয়া গোলাম রাব্বানী জানিয়েছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (ডাকসু) জিএস পদ তিনি ছাড়বেন না। এই পদ ছাড়ার প্রশ্নই আসে না। ছাত্রলীগ থেকে বাদ পড়ার পর রাব্বানীকে বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটের সদস্যপদ থেকে অপসারণ বা পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন। ছাত্র ইউনিয়নসহ বাম ছাত্রসংগঠনগুলো সোমবার মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে রাব্বানীর অপসারণ দাবি করেছেন। বাম সংগঠনের নেতারা বলছেন, চাঁদাবাজিতে অভিযুক্ত রাব্বানীর ডাকসুর পদে থাকার কোনো অধিকার নেই। তবে এই দাবিকে ‘ভিত্তিহীন’ আখ্যা দিয়ে গোলাম রাব্বানী বলেছেন, ‘ছাত্রলীগের বিষয়টির সঙ্গে ডাকসু বা সিনেটের কোনো সম্পর্ক নেই। তাই ডাকসু থেকে পদত্যাগের প্রশ্নই ওঠে না।’ এদিকে চাঁদাবাজির অভিযোগে রাব্বানীর সঙ্গে ছাত্রলীগের সভাপতি পদ থেকে অপসারিত রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট থেকে পদত্যাগ করেছেন। এর পর রাব্বানীর পদত্যাগের দাবি আরও জোরালো হয়। এ বিষয়ে সোমবার গোলাম রাব্বানী গণমাধ্যমকে বলেন, পদত্যাগ কেন করব? পদত্যাগের প্রশ্নই আসে না। ডাকসু বা সিনেট থেকে আমার পদত্যাগের দাবিটি খুবই খোঁড়া (লেইম)। এই দাবির ভিত্তি নেই বলে দাবি করেন রাব্বানী। শোভনের সিনেট সদস্যপদ থেকে পদত্যাগের বিষয়ে গোলাম রাব্বানী বলেন, শোভন ডাকসুতে নির্বাচিত ছিলেন না, ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে আমরা সম্মিলিতভাবে তাকে সিনেটে নিয়ে এসেছিলাম। নেত্রীর মনে কষ্ট দিয়ে তিনি অনুতপ্ত, তিনি নিজের জায়গা থেকে পদত্যাগ করেছেন। এর অর্থ কিন্তু এই নয় যে তিনি অন্যায় করেছেন। যেসব অভিযোগের কথা বলা হয়েছে, একটাও প্রমাণ হয়নি, হবেও না। কারণ আমরা এ ধরনের কিছু করিনি। পত্রপত্রিকায় যা এসেছে, কোনোটিরই দালিলিক তথ্য-প্রমাণ নেই। ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর বলেছেন, নৈতিক স্খলনজনিত কারণে ছাত্রলীগের পদ হারানোর পর রাব্বানী ডাকসুর জিএস পদে থাকার  বৈধতাও হারিয়েছেন। এ বিষয়ে রাব্বানী বলেন, ‘হু ইজ নুরুল? নুরুল কে?’