রওশন বিরোধীদলীয় নেতা জিএম কাদের উপনেতা

ঢাকা অফিস ॥ জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদকে একাদশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও দলটির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরকে উপনেতা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। সোমবার জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়। সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমদ খান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জাতীয় সংসদের সরকারি দলের বিরোধিতাকারী সর্বোচ্চ সংখ্যক সদস্য নিয়ে গঠিত সংসদীয় দলের নেতা রওশন এরশাদকে (ময়মনসিংহ-৪) জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি (২) (১) (ট) অনুযায়ী বিরোধী দলের নেতা এবং এক উপনেতা (পারিতোষিক ও বিশেষাধিকার) অধ্যাদেশ, ১৯৭৯ মোতাবেক লালমনিরহাট-৩ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ কাদেরকে উপনেতা হিসেবে স্পিকার স্বীকৃতি দিয়েছেন। এর ফলে টানা দুই সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার আসনে বসছেন রওশন। এর আগে দশম সংসদেও তিনি বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করেন। একাদশ সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি প্রধান বিরোধী দল হলে পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বিরোধীদলীয় নেতা হন। পরে তার মৃত্যুতে এ পদটি শূণ্য ঘোষণা করা হয়। এর আগে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ এবং উপনেতা হিসেবে পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের নাম প্রস্তাব করে রোববার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে চিঠি দেয়া হয়। রোববার সন্ধ্যায় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার শামিম হায়দার পাটোয়ারী ওই চিঠি স্পিকারের দফতরে পৌঁছে দেন। চিঠিতে সই করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। পরে সংসদ অধিবেশন শেষে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিরোধীদলীয় নেতা ও উপনেতার নাম জমা দেয় জিএম কাদেরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল। জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পরে সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা বলেন, সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ ও উপনেতা জিএম কাদেরকে মনোনীত করার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্পিকারকে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এর আগে বিকালে জাতীয় সংসদের লবিতে জাতীয় পার্টির সংসদীয় দলের সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে রওশন এরশাদ আর উপনেতা হিসেবে জিএম কাদেরের নাম সর্বসম্মতভাবে প্রস্তাব করা হয়। চলতি সংসদে রওশন এরশাদ বিরোধীদলীয় উপনেতার দায়িত্বে আছেন। তিনি বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্বে আসীন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সঙ্গে উপনেতার পদটি শূন্য হবে। সংসদীয় দলের বৈঠক শেষে জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মশিউর রহমান রাঙ্গা সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘আমাদের দলের সংসদ সদস্যরা সংসদীয় দলের সভায় বিরোধী দলের নেতা হিসেবে রওশন এরশাদকে মনোনয়ন করে স্পিকারের কাছে চিঠি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর আগে শনিবার রাতে বারিধারা ক্লাবে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন জিএম কাদের। জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করবেন রওশন এরশাদ। আর পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া রংপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থী হবেন তার ছেলে সাদ এরশাদ। এভাবেই সমঝোতায় পৌঁছান জাতীয় পার্টির দুই শীর্ষ নেতা জিএম কাদের ও রওশন এরশাদ।

 

কুষ্টিয়া ক্রীড়া প্রতিযোগিতা’র সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে আতাউর রহমান আতা

পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলার কোন বিকল্প নেই

সুজন কর্মকার ॥ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও কুষ্টিয়া শহর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা বলেছেন, পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলার কোন বিকল্প নেই।  খেলাধুলা মানুষের শরীর ও মন সতেজ করে। বলা হয়ে থাকে স্বাস্থ্যই সম্পদ। জীবনে স্বাস্থ্যের অপরিহার্যতার কথা বিবেচনা করে মানুষ সুস্থ শরীরের জন্য যুগ যুগ ধরে খেলাধুলার অনুশীলন করে আসছে। আর সুস্থ শরীরই মানুষকে করতে পারে তেজস্বিতা ও উদ্যম উদ্দীপনা। জাতীয় স্কুল ও মাদরাসা ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০১৯ (ফুটবল) এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গতকাল ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ তারিখ সোমবার বিকেল সাড়ে ৩ টায় হরিনাারায়ণপুর বহুমুখি উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে এ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা’র সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাঃ তাপস কুমার সরকার। কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও কুষ্টিয়া শহর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা আরো বলেন, ছাত্রছাত্রীদরে প্রধান কাজ হল পড়াশুনা করা। পড়াশুনাকে তপস্যার মতো করইে করা দরকার। তবে পড়াশুনার সাথে সাথে শরীরর্চচা ও খলোধূলার বিশেষ প্রয়োজনীয়তা আছে। কারণ অসর্মথ ও র্দুবল শরীরে কখনো ভালো পড়াশুনা হয়না। ছাত্রজীবনে অনাবলি আনন্দ দিতে পারে একমাত্র খলোধূলা। সুস্থ শরীররে অধিকারীরাই পারে সুন্দর কিছু করতে ও লেখাপড়ায় আরও আগ্রহী হতে। কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা আরো বলেন, খলোধূলার মাধ্যমে জাতীয়তাবোধ গড়ে ওঠে। এক রাজ্যের সঙ্গে অন্য রাজ্যের বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক খেলাধু হয়। সেখান থেকে ছাত্র-ছাত্রীদরে জাতীয়তা বোধের জন্ম নেয় । তাই সুস্থ শরীররে জন্য নিয়মিত খলোধূলা ও শরীরর্চচা করতে হবে।

১৫ দিনের সরকারী সফরে নিউজিল্যান্ড গেলেন জয়শ্রী পাল

আমলা অফিস ॥ বিজ্ঞান শিক্ষায় শিক্ষকদের উচ্চতর প্রশিক্ষণে ১৫ দিনের সরকারী সফরে নিউজিল্যান্ড গেলেন কুষ্টিয়ার মিরপুর সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জয়শ্রী পাল। গতকাল সোমবার (০৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকার হযরত শাহ্ জালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দর থেকে একটি ফ্লাইটে তিনি নিউজিল্যান্ডের উদ্যোশ্যে যাত্রা করেন। জয়শ্রী পাল কুষ্টিয়ার মিরপুর সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসাবে কর্মরত রয়েছেন। তিনি সাংবাদিক কাঞ্চন কুমারের স্ত্রী। শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের এক জিও’র মাধ্যমে জানা যায়, বিজ্ঞান শিক্ষার উপরে শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উচ্চতর প্রশিক্ষনের অংশ হিসাবে ১৫ দিনের সফরে নিউজিল্যান্ডে পাঠানো হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে তারা আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ফিরবেন। প্রক্ষণকালে তারা নিউজিল্যান্ডে উইলিংটন কলেজ, মানকিউ ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজিতে প্রশিক্ষণ গ্রহণসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করবেন। ২০১১ সালে জয়শ্রী পাল সহকারী শিক্ষক হিসাবে ঝিনাইদহ সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। তারপর ২০১৩ সালে মিরপুর সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বদলি হয়ে আসেন। শিক্ষকতা জীবনে জয়শ্রী পাল খুবই দক্ষতা সাথে তার দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি বিভিন্ন সময়ে সেরা শিক্ষক ও বিজ্ঞান শিক্ষায় শিক্ষক প্রশিক্ষক এবং জয়িতার পুরষ্কার পেয়েছেন।

ভেড়ামারা উপজেলা ভূমি অফিসের কার্যক্রম উদ্বোধনকালে ডিসি আসলাম হোসেন

ভূমি কার্যালয়ে সরকারি ফি’র চেয়ে কেউ অতিরিক্ত টাকা চাইলে দেবেন না 

আল-মাহাদী ॥ ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে (মোবাইল ব্যাংকিং) জমির নামজারি ফি আদায় করা হচ্ছে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা ভূমি অফিসে। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এ উপলক্ষে উপজেলা ভূমি অফিসের আয়োজনে ভেড়ামারা উপজেলা অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল মারুফের সভাপতিত্বে এ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন। তিনি বলেন, ‘ভূমি কার্যালয়ে সরকারি ফি’র চেয়ে কেউ অতিরিক্ত (ঘুষ) টাকা চাইলেও দেবেন না।সেবা নিতে এসে কেউ টাকা চাইলে তাৎক্ষণিক আমাদের জানাবেন।’ তিনি আরও বলেন, জমি নামজারির টাকা নগদে জমা দেওয়া যাবে না। এ টাকা জমা দিতে হবে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে। উক্ত আলোচনা সভাতে বিশেষ অতিথি ছিলেন, ভেড়ামারা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ¦ আক্তারুজ্জামান মিঠু, ভেড়ামারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোল্লা খবির আহমেদ, পৌর মেয়র আলহাজ¦ শামিমুল ইসলাম ছানা, কেন্দ্রীয় জাসদের সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ¦ আব্দুল আলীম স্বপন, চাদগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল হাফিজ তপন, মোকারিমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুস সামাদ, রুপালী ব্যাংক ভেড়ামারা শাখার ম্যানেজার মোঃ ইউসুফ আলী সুমন। এছাড়াও উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা, সাংবাদিকবৃন্দ সহ উপকার ভোগীরা উপস্থিত ছিলেন

সড়কের নির্মাণ ব্যয় বেশি ভূমির কারণে – মন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ বাংলাদেশে সড়কের নির্মাণ ব্যয় তুলনামূলক বেশি হওয়ার জন্য মাটির ধরনকে কারণ দেখিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বিএনপির সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক প্রশ্নের জবাবে সোমবার সংসদে একথা বলেন তিনি। চীন ও ভারতে সড়ক নির্মাণ ব্যয় কম উল্লেখ করে বাংলাদেশে ব্যয় বেশি হওয়ার কারণ জানতে চেয়েছিলেন রুমিন। জবাবে কাদের বলেন, “নির্মাণ ব্যয় বেশি-কমের তুলনা করার আগে চীন ও ভারতের সয়েল কন্ডিশন আর আমাদের সয়েল কন্ডিশন এক রকম কি না সেটা আগে জানতে হবে। “সয়েল কন্ডিশন যেখানে ভিন্নতর একটি বিষয় সেখানে নির্মাণের বিষয়টি বাস্তবতায় দেখতে গেলে তখন বিষয়টি অনুধাবন করা যাবে।” সড়কে দুর্ঘটনার জন্য বেপরোয়া গাড়িচালনার পাশাপাশি পথচারীদের নিয়ম না মানাকে দায়ী করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, “সড়ক দুর্ঘটনার জন্য যেমন রেকলেস ড্রাইভিং আছে, আবার রেকলেস পথচারীও আছে। এই ঢাকা সিটিতেই দেখা যাবে যানজটের সাথে জনজট মিলেমিলে একাকার হয়ে গেছে। “বাচ্চা কোলে নিয়ে মোবাইল ফোন কানে নিয়ে এপার থেকে ওপার আর ওপার থেকে এপার হতে দেখা যায়। রাস্তা চলাচলে পথচারীরা কোনো নিয়ম-কানুনের তোয়াক্বা করেন না।” সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে তাই জনসচেতনতা বাড়ানোর উপর জোর দেন মন্ত্রী। তিনি জানান, পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুসারে গত ৫ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় ১২ হাজার ৫৪ জন লোক নিহত হয়েছেন। সংরক্ষিত আসনের লুৎফুন নেসা খানের প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার যানজট নিরসনে সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ছয়টি মেট্রোরেলের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে।রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বলেন, রেলওয়ের ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ব্যয় ছিল ৩ হাজার ১১৫ কোটি টাকা। বিপরীতে আয় ছিল ১ হাজার ৬১৮ কোটি টাকা।নুরুন্নবী চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, বস্ত্র শিল্পের আধুনিকায়নে সরকার  রাষ্ট্রায়ত্ত বস্ত্রকলগুলো চালুর জন্য পাবলিক–প্রাইভেট পার্টনারমিপকে (পিপিপি) অবলম্বন হিসেবে নিচ্ছে। এজন্য বিটিএমসির ১৬টি মিল পিপিপিতে চালানোর বিষয়টি অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি নীতিগতভাবে অনুমোদন করেছে।এই প্রক্রিয়ার প্রথম পর্যায়ে আহমেদ বাওয়ানি টেক্সটাইল মিলের নির্বাচিত প্রাইভেট পার্টনার তানজিনা ফ্যাশনের সঙ্গে গত ২৫ জুন এবং কাদেরিয়া টেক্সটাইলের পার্টনার অরিয়ন কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে ২১ জুলাই চুক্তি সই হয়েছে।ফরিদুল হক খানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদার সঙ্গে সংগতি রেখে পাট ও পাটজাত পণ্য উৎপাদনের বেশ কিছু সমস্যা আছে।এর মধ্যে রয়েছে- উন্নত বীজের অভাব ও আমদানি নির্ভরতা, পাট পচানোর জন্য পানির স্বল্পতা, পণ্যে পাটজাত মোড়কের ব্যবহার বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইনের সীমাবদ্ধতা, আন্তর্জাতিক বাজার সংকোচন, পাটচাষীদের উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, পাটজাত পণ্য রপ্তানির ওপর ভারত কর্তৃক এন্টি ডাম্পিং শুল্ক আরোপ এবং পর্যাপ্ত বিদেশি বিনিয়োগের অভাব।এনামুল হকের প্রশ্নের জবাবে বস্ত্রমন্ত্রী বলেন, ২০১৮–১৯ অর্থবছরে পাটকলগুলোর উৎপাদন ছিল ৬৯ হাজার ১১১ টন। তার আগের বছর এই উৎপাদন ছিল ১ লাখ ৩৩ হাজার ৩৮৩ টন।

টাকার উপর লেখালেখি, সিল ও স্ট্যাপলিং নয়

ঢাকা অফিস ॥ টাকার উপর কোন ধরনের লেখালেখি, সিল ও স্ট্যাপলিং করা যাবে না। সোমবার ব্যাংকগুলোকে নতুন করে এ নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো ‘নতুন ও পুনঃ প্রচলনযোগ্য ব্যাংক নোটের উপর লেখালিখি, সীল প্রদান এবং নোটের প্যাকেটে স্ট্যাপলিং করা’ শীর্ষক সার্কুলারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, বাজারে প্রচলিত বাংলাদেশী ব্যাংক নোটসমূহের উপর লিখন, সিল, স্বাক্ষর প্রদান ও বারবার স্ট্যাপলিং করার কারণে নোটসমূহ অপেক্ষাকৃত কম সময়ে অপ্রচলনযোগ্য হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুসন্ধানে দেখা যায় যে, টাকার উপর লাল, লীল, কালো বিভিন্ন কালিতে সংখ্যা লিখনের আধিক্য বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এ লেখালিখিতে ব্যাংকারদের ভূমিকাই মূখ্য। এছাড়া মূল্যমানের পুনঃ প্রচলনযোগ্য নোট প্যাকেটকরণে সীল প্রদানের বিষয়টিকে বর্তমানে ব্যাংকিং প্র্যাকটিসে পরিণত হয়েছে। “এর ফলে খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে নোটসমূহ ময়লা ও অচল হয়ে যাচ্ছে এবং স্ট্যাপলিংয়ের কারণে নোটের স্থায়িত্ব কমে যাচ্ছে যা বাংলাদেশ ব্যাংকের গৃহীত ক্লিন নোট পলিসি ও নোট ব্যবস্থাপনা কৌশলের সাথে সংগতিপূর্ণ নয়।” সার্কুলারে বাংলাদেশ ব্যাংকের কৌশলগত পরিকল্পনার ঘোষণা মোতাবেক ‘ক্লিন নোট সার্কুলেশন পলিসি’ বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে এবং বাংলাদেশী টাকার ব্যবহারিক সময়কাল বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্যাংকগুলোকে নীচের নির্দেশনাগুলো পালন করতে বলা হয়েছে- ব্যাংকগুলোর নতুন ও পুনঃ প্রচলনযোগ্য নোট গ্রহন, টাকা প্রদান এবং টাকা গণনাকরতঃ সর্টিং ও প্যাকেটিং করার সময় টাকার উপর কোনো প্রকার সংখ্যা লিখন, অনুস্বাক্ষর প্রদান, সিল প্রদান কিংবা অন্য যে কোনো ধরণের লেখালিখি করা যাবে না। নতুন ও পুনঃ প্রচলনযোগ্য নোট প্যাকেটকরণের সময় ব্যাংকেরর মুদ্রিত ফ্লাইলীফে ব্যাংক শাখার নাম, সিল, নোট গণনাকারী ও প্রতিনিধিদের স্বাক্ষর ও তারিখ আবশ্যই প্রদান করতে হবে। ১০০০ টাকা মূল্যমানের নোট ছাড়া অন্য কোন মূল্যমানের নতুন ও পুনঃপ্রচলন নোটের প্যাকেট স্ট্যাফলিং করা যাবে না অন্য মূল্যমানের নতুন ও পুনঃপ্রচলন নোটের প্যাকেট ২৫ মি মি হতে ৩০ মি মি প্রশস্ত পলিমার টেপ অথবা পলিমারযুক্ত পুরু কাগজের টেপ দ্বারা ব্যান্ডিং করতে হবে। ব্যাংকগুলো তাদের নোটের নিরাপত্তার স্বার্থে বিশ্বের অন্য দেশে ব্যাংক নোট ব্যান্ডিংয়ে ব্যবহৃত আরো উন্নত প্রযুক্তি অনুসরণ করতে পারে। এর আগেও ব্যাংকগুলোকে একই ধরনের নির্দেশনা দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু তাতে কাজ না হওয়ায় নতুন করে এই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

ইবিতে রবীন্দ্র-নজরুল কলা অনুষদে বৃক্ষ উৎসব অনুষ্ঠানে প্রফেসর ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী

জীবনের শুরু দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত বৃক্ষের গুরুত্ব অপরিসীম

ইসলামী বিশ্ববদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী (ড. রাশিদ আসকারী) বলেন, জীবনের শুরু দোলনা হতে কবর পর্যন্ত বৃক্ষের গুরুত্ব অপরিসীম। বর্তমান বিশ্বে যথেচ্ছাচার বৃক্ষ নিধনের জন্য পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্ঠ হচ্ছে। এতে করে পৃথিবীর প্রতিটি দেশেই অনাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি, বন্যা, জলোচ্ছাস লেগেই আছে। তাই খোলা ও পরিত্যাক্ত জায়গায় বেশি বেশি বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগাতে হবে। গতকাল সোমবার রবীন্দ্র-নজরুল কলা অনুষদের হলরুমে  রবীন্দ্র-নজরুল কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ সরওয়ার মুর্শেদ এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। তিনি বলেন, মৃত বৃক্ষ নিহত নয় বরং গত তিন বছরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যাম্পাসের ভিতরের মরা গাছ দিয়ে যে পরিমান টেবিল-চেয়ার ও অন্যান্য ফার্নিচার বানিয়েছেন গত ৩০ বছরেও কেউ এই কাজটি করে নাই। তিনি আরো বলেন, ক্যাম্পাসের ছয় বিঘার পরিত্যাক্ত জায়গায় শত শত গাছ লাগিয়ে দৃষ্টিনন্দন বোটানিক্যাল গার্ডেন বানানো হয়েছে। তিনি উপস্থিত সকলকে যার যার আঙ্গিনায় একটি করে গাছ লাগানোর জন্য উদাত্ত আহবান জানান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান বলেন, পৃথিবীর এমন কোন জায়গা নেই যেখানে গাছের ব্যবহার হয় না। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের যে গাছগুলো আর কাজে লাগছে না সেগুলো দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সাজানোর কাজ শুরু করেছে প্রশাসন। এ ছাড়া ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিদিনই রোপন করা হচ্ছে নতুন নতুন গাছের চারা। অপর বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা বলেন, আজকের এ অনুষ্ঠানটি একটি ব্যতিক্রমী, সৃজনশীল ও তাৎপর্যপূর্ন আয়োজন। যা আমাকে মুগ্ধ করেছে। আজকের এই আয়োজন প্রমান করে রবীন্দ্র-নজরুল নামকরণটি স্বার্থক। তিনি বলেন, বর্তমান প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়ের একশত পচাত্তর একরকে সুজলা, সুফলা, শস্য শ্যামলায় একটি নৈসর্গিক ক্যাম্পাস তৈরি করতে বধ্য পরিকর। ক্ষছাড় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রফেসর ড. মোঃ তোজাম্মেল হক, প্রফেসর ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন, প্রফেসর ড. মোঃ মিজানুর রহমান। এছাড়া বৃক্ষ নিয়ে স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন প্রফেসর ড. শেখ মহাঃ রেজাউল করীম ও বাংলা বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. মোহাঃ সাইদুর রহমান। “বৃক্ষ দেয় অক্সিজেন, বৃক্ষ দেয় আয়ু, তৃণলতা খাদ্য দেয় জীবন পরমায়ু” এই শ্লোগানকে সামনে রেখে দিনব্যাপী বৃক্ষ উৎসব অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিবহন প্রশাসক প্রফেসর ড. মোঃ রেজওয়ানুল ইসলাম, ইংরেজি বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. সালমা সুলতানা, প্রফেসর. ড. মোঃ মঞ্জুরুল রহমান ও প্রফেসর ড. মোঃ রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।। পরে রবীন্দ্র-নজরুল কলা অনুষদের সামনে একটি পলাশ গাছের চারা রোপন করা হয়। অনুষ্ঠানটি  সঞ্চালনা করেন প্রফেসর ড. মোঃ রশিদুজ্জামান। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।

 

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কেনিয়ার হাইকমিশনারের সাক্ষাত

ঢাকা অফিস ॥ রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ কেনিয়ায় বাংলাদেশের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার মেজর জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর কবির তালুকদারকে কেনিয়া ও এর আশপাশের দেশগুলোর সাথে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্ভাবনাময় খাতগুলো অনুসন্ধান করার নির্দেশনা দিয়েছেন। কেনিয়া প্রজাতন্ত্রে বাংলাদেশের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার গতকাল সোমবার দুপুরে গণভবনে রাষ্ট্রপতির সাথে দেখা করতে এলে তিনি এ নির্দেশনা দেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদিন বলেন, বৈঠককালে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ ও কেনিয়া উভয় দেশের ব্যাপক সম্ভাবনাময় খাত রয়েছে বলে উল্লেখ করেন। রাষ্ট্রপতি দু’দেশের স্বার্থে সম্ভাবনাময় খাতগুলো যৌথভাবে ব্যবহার করার নির্দেশনা দেন। এ সময় হাইকমিশনারও তার দায়িত্বপালনকালে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা চান। বৈঠকে রাষ্ট্রপতির সংশ্লিষ্ট সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন।

তারেক রহমানসহ তিনজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে জাতীয়তাবাদের জাতির পিতা আখ্যায়িত করায় দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জে একটি আদালতে মামলার পর গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মিল্টন হোসেনের আদালতে মামলা দায়েরের আবেদন করা হয়। মামলায় তারেক রহমান ছাড়াও যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি শায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুস ও সাধারণ সম্পাদক কওছর এম আহমেদকেও বিবাদী করা হয়। আদালত আবেদন গ্রহণ করে বিবাদি তিনজনকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রদ্রোহী ও মানহানির অভিযোগে মামলার আবেদন করা হলেও তথ্যগত ভুল থাকায় দ্রুত সেটা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক উপ-কমটির সদস্য আকরাম হোসেন বাদল ওই মামলার বাদী। তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি লন্ডনে একটি অনুষ্ঠানে তারেক জিয়া বলেছেন, বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদের জাতির পিতা জিয়াউর রহমান। সেই সঙ্গে দেশের সংবিধান নিয়ে কটূক্তি করেছেন। তার এমন বক্তব্য মানহানিকর। বাদীপক্ষের আইনজীবী জেলা আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরুল হুদা বলেন, মামলার আবেদন আদালত গ্রহণ করে গ্রেফতারি পরোয়ানা ইস্যু করেছেন। আদালতের পেশকার আবুল কালাম জানান, আদালত ৩ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আগামী ১০ ডিসেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

 

আজ পবিত্র আশুরা

ঢাকা অফিস ॥ পবিত্র আশুরা আজ। কারবালার শোকাবহ ও হৃদয়বিদারক ঘটনার এই দিনটি ধর্মীয়ভাবে বিশ্বের মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। মুসলিম বিশ্বে ত্যাগ ও শোকের প্রতীক হিসেবে এ দিনটি বিশেষ পবিত্র দিবস। হিজরি ৬১ সনের ১০ মহররম মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসেইন (রা.) ও তাঁর পরিবার এবং অনুসারীরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে যুদ্ধ করতে গিয়ে ফোরাত নদীর তীরে কারবালা প্রান্তরে ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে শহীদ হন।এজন্যই যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সারা দুনিয়ার মুসলমানরা এ দিনটি পালন করে।বাংলাদেশেও আজ মঙ্গলবার যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে পবিত্র আশুরা পালিত হবে। এদিকে পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। আগামীকাল সরকারি ছুটি।কারবালার ঘটনা স্মরণ করে বিশ্বের মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনটি পালন করে থাকে। শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম ইসলামের মহান আদর্শকে সমুন্নত রাখতে তাদের এই আত্মত্যাগ মানবতার ইতিহাসে সমুজ্জ্বল রয়েছে। কারবালার শোকাবহ এই ঘটনা অর্থাৎ পবিত্র আশুরার শাশ্বত বাণী সকলকে অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে এবং সত্য ও সুন্দরের পথে চলতে প্রেরণা যোগায়। আশুরা উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশব্যাপী বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আগামীকাল হোসনি দালানসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তাজিয়া মিছিল বের হবে।দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক আজ বিশেষ প্রবন্ধ, নিবন্ধ প্রকাশ করবে। বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বিভিন্ন বেসরকারি রেডিও এবং স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেলও এই দিনের তাৎপর্য তুলে ধরে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করবে।এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া পবিত্র আশুরা উপলক্ষে তাজিয়া শোক মিছিলে নিñিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন। রাজধানীর বড় কাটারা ইমামবাড়া, খোজা শিয়া ইসনুসারী ইমামবাড়া এবং বিবিকা রওজায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।প্রতিটি ইমামবাড়া সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে প্রত্যেক দর্শনার্থীর দেহ তল্লাশি করে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করানো হবে বলেও ডিএমপি কমিশনার উল্লেখ করেন।এছাড়াও এবছর তাজিয়া মিছিলে ঢোল বাজিয়ে ছুরি, তলোয়ার ও লাঠিখেলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ডিএমপি কমিশনার ইতোমধ্যেই জানিয়েছেন, নিরাপত্তার স্বার্থে এসব নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাজিয় মিছিলে ১২ ফুটের বেশি বড় নিশান, ব্যাগ, পোঁটলা, টিফিন ক্যারিয়ার বহন এবং আগুনের ব্যবহার করা যাবে না। মাঝপথে কেউ মিছিলে অংশ নিতেও পারবেন না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 

আনসার ভিডিপি’র বৃক্ষরোপন কর্মসূচীতে আসলাম হোসেন

আজকের একটি চারা গাছই আগামী দিনের নির্ভরযোগ্য সঞ্চয়

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন বলেছেন, বেশি বেশি করে গাছ লাগান পরিবেশ ও দেশ বাঁচান। জীবনের শেষ বেলায় অতি কাছের মানুষ,আত্মীয় স্বজন আপনজন আপনাকে না দেখলেও গাছ কিন্তু আপনাকে ভুলে যাবে না আপনার নির্ভরযোগ্য সঞ্চয় হিসেবে পাশে দাঁড়াবে সব সময়। গাছ শুধু আপনার সব চেয়ে কাছের ও আস্থার বন্ধু এবং বিপদের দিনে একমাত্র অবলম্বনই নয়, গাছ আপনার সন্তানের ভবিষ্যৎ অভিবাবকের দায়িত্ব পালন করবে। আজকের একটি চারা গাছই আপনার আগামী দিনের বিশস্ত ও নির্ভরযোগ্য সঞ্চয়। এজন্য মনে রাখবেন একটি বৃক্ষ কাটলে তার জায়গায় পাঁচটি বৃক্ষরোপন করবেন। বনবৃক্ষ উজাড় হয়ে যাচ্ছে বলেই আমাদের পরিবেশ এত উঞ্চ হয়ে উঠছে। পরিবেশ রক্ষায় বেশি বেশি করে বনাঞ্চল গড়ে তুলা আমার আপনার সবার দায়িত্ব। গতকাল সোমবার সকালে জেলা আনসার ও ভিডিপি’র আয়োজনে বৃক্ষরোপন কর্মসূচী’র অংশ হিসেবে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরোক্ষা বাহিনীর সদস্যদের মাঝে গাছের চারা বিতরণকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, আমাদের পরিবার কিংবা সংসারের নিত্য প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র তৈরীতে প্রধান হিসেবে যোগান দেয় গাছ। বিভিন্ন গাছের কাঠ থেকেই অধিকাংশ আসবাবপত্র তৈরী হয়ে থাকে। তাই কোনভাবেই গাছের প্রতি অবহেলা নয়। আসুন সবাই মিলে গাছ লাগাই দেশ ও পরিবেশ বাঁচায়। বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরোক্ষা বাহিনীর সদস্যদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ উপলক্ষ্যে সকাল সাড়ে নয়টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বণার্ঢ্য র‌্যালী বের করা হয়। বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরোক্ষা বাহিনীর সদস্যদেও অংশগ্রহনে র‌্যালীটি প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কালেক্টরেট চত্বরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গাছের চারা বিতরণী কেন্দ্রে এসে শেষ হয়। জেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা তরফদার আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে প্রধান অতিথি সহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরোক্ষা বাহিনীর সদস্যদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ করেন। এ সময় ৩৫৯ জন আনসার ভিডিপি সদস্যদেও মাঝে ৫টি করে ফলজ ও ভেজষ গাছের চারা বিতরণ করা হয়। বিতরণ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা তামান্না ইয়াসমিন, ভেড়ামারা উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা তরুন কুমার, দৌলতপুর উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা খালেদা বেগম, কুমারখালি উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা জুলিয়া পারভিন, মিরপুর উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা হামিদা পারভিন, টিআই নজরুল ইসলাম, হাসিবুল তারেক, বিপ্লব হোসেন, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড দলনেতা-দলনেত্রী সহ সর্বস্তরের আনসার ভিডিপি সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের সহযোগিতায় নতুন নীতিমালা অনুমোদন

ঢাকা অফিস ॥ এসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের ঋণ ও অন্যান্য সুবিধা বৃদ্ধিতে নতুন নীতিমালার খসড়ায় অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল সোমবার তার কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘এসএমই নীতিমালা ২০১৯’ অনুমোদন পায়। পরে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত সাংবাদিকদের জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম। এসএমই খাতের জন্য ২০০৫ সালে একটি কৌশল প্রণয়ন করা হয় জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এবারই প্রথম নীতিমালা হলো। এই নীতিমালা ২০১৯-২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। “জাতীয় শিল্পনীতির আলোকে এই নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে। এই খাতে প্রায় ৭৮ লাখ অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান আছে। জিডিপিতে এই খাতের অবদান হলো প্রায় ২৫ শতাংশ।” এসএমই উদ্যোক্তাদের অর্থ প্রাপ্তির সুযোগ, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের সুযোগ, বাজারে প্রবেশের সুযোগ, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ, ব্যবসায় সহযোগিতা এবং তথ্যের সুযোগ প্রাপ্তি এ ছয়টি উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে নীতিমালা করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। নীতিমালার বাস্তবায়ন কৌশলে বিষয়ে শফিউল বলেন, “কৌশলগত অর্থায়ন সুবিধা প্রাপ্তিতে এসএমই খাতের সুযোগ বৃদ্ধি করা, এসএমই খাতের ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধি করা, অর্থায়নের ব্যবস্থা করা। এসএমই ক্রেডিট গ্যারান্টি ফান্ড চালু করা। এই ফান্ড চালু হলে মর্টগেজ থাকবে, না অর্থ প্রাপ্তি সহজ হবে। সহজ শর্ত ও স্বল্প সুদে ঋণ প্রদানের কথা বলা হয়েছে।” মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে নীতিমালায় ই-কমার্স, অনলাইন সাপোর্ট, আউট সোর্সিং ও আইটি ভিত্তিক এপ্লিকেশনের মাধ্যমে এসএমইদের সহায়তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।” তিনি বলেন, নারী উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, ঋণ দেওয়া, তহবিল গঠন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, উদ্বুব্ধকরণ এবং বাজার সংযোগে সুযোগ বৃদ্ধি করার কথাও বলা হয়েছে। টেকসই করার জন্য ফরোয়ার্ড ও ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে নীতিমালায়। এসএমই তথ্য ভাার তৈরি, পরিবেশবান্ধব শিল্প প্রতিষ্ঠায় এসএমইদের উৎসাহিতকরণ, শিল্প বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এসএমইদের প্রণোদনা দেওয়া, পরিবেশবান্ধব শিল্প প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং ব্যবহার বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।এসব নীতি-কৌশল বাস্তবায়নের জন্য দুই ধরণের পর্ষদ থাকবে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “শিল্পমন্ত্রীর নেতৃত্বে ৩৭ জনের পর্ষদে প্রতিমন্ত্রী সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান, বেসরকারিখাতের পাঁচজন প্রতিনিধি থাকবেন। আর সচিবের নেতৃত্বে পর্ষদে এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ২৯ জন সদস্য থাকবেন।“নীতিমালা অনুযায়ী কি ধরনের সুবিধা উদ্যোক্তারা পাবে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “ডিটেইল নেই, নীতিমালায় শুধু গাইড লাইন বলে দেওয়া থাকে বাকিটুকু করবে সরকার।”সংবাদ সম্মেলনে শিল্প মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে এসএমই উদ্যোক্তারা এসএমই ফাউন্ডেশন এবং ব্যাংক থেকে সিঙ্গেল ডিজিট সুদহারে (১০ এর নীচে) ৫০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পায়।কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী ১৩৬টি অ্যাকটিভিটিজ ও ৬২টি কৌশল আছে। সময়াবদ্ধ কর্ম পরিকল্পনা অনুযায়ী বলে দেওয়া রয়েছে কী কী অর্জন করতে হবে। এগুলো বাস্তবায়িত হলে ২০২৫ সালে এসএমই খাতে জিডিপিতে অবদান ৩২ শতাংশে উন্নীত হবে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।মূলধন বৃদ্ধি করে আভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্পোরেশন আইন অনুমোদনসভায় ‘বাংলাদেশ আভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্পোরেশন আইন, ২০১৯’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “আইনটি অনেক পুরনো, পাকিস্তান আমলে থেকে ইস্ট পাকিস্তান ল হয়ে শুরু হয়ে এ পর্যন্ত আছে। ১৯৭২ সালে প্রেডিডেনশিয়াল অর্ডার হয় বাংলাদেশ ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন অর্ডার, এর পর দুই অ্যামেন্ডমেন্ট হয় ১৯৭৬ ও ৭৯ অর্ডিন্যান্স আকারে, যেহেতু এগুলো  সামরিক আমলে হওয়া তাই এগুলোকে আপডেট করে বাংলায় করার সিদ্ধান্ত রয়েছে।”আগের ১৯৭২ সালের যে প্রেসিডেনশিয়াল অর্ডার তার সাথে প্রস্তাবিত আইনের খুব বেশী ব্যবধান নেই জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, যে পরিবর্তনগুলো আনা হয়েছে তা হল, অনুমোদিত মূলধন আগে ছিল মাত্র ৫ কোটি টাকা , পেইড আপ ক্যাপিটাল সম্পর্কে বলা হয়েছে সরকার কর্তৃক সময় সময় যা জোগান দেওয়া হবে তা। এখন সেই পর্য য়ে এটা বাড়তে বাড়তে ৪৫ কোটিতে  এসে ঠেকেছে। এখন বলা হচ্ছে কর্পোরেশনের অনুমোদিত মূলধন হবে ৫০০ কোটি টাকা এবং পেইড আপ ক্যাপিটালের ব্যাপারে বলা আছে সরকার জোগান দিয়ে ৫০০ কোটি টাকা উন্নত করবে।”পরিচালনা পর্ষদের নিয়োগ আগের মতই সরকার দেবে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, পরিষদের গঠন ছিল একজন চেয়ারম্যান ৪ জন পরিচালক নিয়ে, এখন প্রস্তাব করা হয়েছে একজন চেয়ারম্যান ও ৪ জন পরিচালকের সাথে আরেকজন খন্ডকালীন পরিচালক যুক্ত হবে যিনি নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব হবেন।আইনে বার্ষিক প্রতিবেদনের বিধান রাখা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন,পরবর্তী অর্থবছর শেষ হওয়ার ৬ মাস আগেই তা শেষ করতে হবে। অর্থাৎ জুলাইতে আমাদের অর্থবছর শেষ হয় আগামী ডিসেম্বর এর মধ্যেই বার্ষিক রিপোর্ট প্রদান করতে হবে।কর্পোরেশনের পাওনা আদায়ে নতুন ম্যানেজমেন্ট দেওয়া হয়েছে আগে কোন সুনির্দিষ্ট বিধান ছিল না জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “কর্পোরেশনের কোন পাওনা থাকলে সেটা ১৯১৩ সালের পিডআর অ্যাক্ট অনুযায়ী আদায় যোগ্য হবে।”   প্রতিবছর ৪ ডিসেম্বর জাতীয় বস্ত্র দিবসপ্রতি বছর ৪ ডিসেম্বর ‘জাতীয় বস্ত্র দিবস’ হিসেবে ঘোষণা এবং দিবসটি উদযাপনের জন্য সায় দিয়েছে মন্ত্রিসভা। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, দিবসটি উদযাপনের লক্ষ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারিকৃত এ বিষয়ক পরিপত্রের ‘খ’ ক্রমিকে অন্তভূক্তকরণের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

স্পেনের দাপুটে জয়

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ইউরো বাছাইপর্বে দারুণ ছন্দে এগিয়ে চলা স্পেন টানা ষষ্ঠ জয় তুলে নিয়েছে। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের অনেক নিচের দিকের দল ফারো আইল্যান্ডসকে উড়িয়ে দিয়েছে সাবেক ইউরোপ চ্যাম্পিয়নরা। ঘরের মাঠে রোববার রাতে ‘এফ’ গ্রুপের ম্যাচটি ৪-০ গোলে জিতেছে রবের্ত মোরেনোর দল। দুটি করে গোল করেন রদ্রিগো ও পাকো আলকাসের। জুনে প্রথম দেখায় ফারো আইল্যান্ডসের মাঠে ৪-১ গোলে জিতেছিল তিনবারের ইউরোপ চ্যাম্পিয়নরা। ছয় ম্যাচের সবকটিতে জিতে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষস্থান আরও মজবুত করল স্পেন। অধিকাংশ সময় বল দখলে রাখার পাশাপাশি আক্রমণেও আধিপত্য করা স্পেন ম্যাচের ত্রয়োদশ মিনিটে এগিয়ে যায়। সতীর্থের বাড়ানো বল ধরে গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে ছোট করে ডান দিকে পাস দেন মিকেল। ঠাণ্ডা মাথায় প্লেসিং শটে বাকি কাজটুকু সারেন রদ্রিগো। ৩৮তম মিনিটে তিয়াগো আলকান্তারার দূরপাল্লার শট গোলরক্ষক রুখে দেওয়ার পরের মিনিটে রদ্রিগোর হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে বিরতির আগে ব্যবধান আর বাড়েনি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আক্রমণের ধার বাড়ানো স্পেন সাফল্যও পেয়ে যায় দ্রুত। ৫০তম মিনিটে তিয়াগো আলকান্তারার থ্রু বল ধরে ডান দিক দিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে শট নেন রদ্রিগো। বল প্রতিপক্ষের এক জনের পায়ে লেগে দিক পাল্টে জালে জড়ায়। শেষ দিকে তিন মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল করেন পাকো আলকাসের। ৮৯তম মিনিটে আলকান্তারার পাস পেয়ে টোকা দিয়ে ব্যবধান বাড়ান তিনি। আর যোগ করা সময়ে হেডে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন এই ফরোয়ার্ড। তিন দিন আগে রোমানিয়ার বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জেতা ম্যাচে একটি গোল করেছিলেন দারুণ ছন্দে থাকা বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের এই খেলোয়াড়। এই ম্যাচ দিয়ে স্পেনের হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড স্পর্শ করেছেন সের্হিও রামোস। ১৬৭ ম্যাচ খেলে এতদিন রেকর্ডটির একা মালিক ছিলেন ইকের কাসিয়াস। এই গ্রুপের আরেক ম্যাচে দেশের মাটিতে নরওয়ের সঙ্গে ১-১ ড্র করা সুইডেন ১১ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে। আর মাল্টাকে ১-০ গোলে হারানো রোমানিয়া ১০ পয়েন্ট নিয়ে আছে তিন নম্বরে।

জিতেই চলেছে ইতালি

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাইপর্বে ফিনল্যান্ডকে আবারও হারিয়ে জয়ের ধারা ধরে রেখেছে ইতালি।ফিনল্যান্ডের মাঠে ‘জে’ গ্রুপে রোববার রাতের ম্যাচটি ২-১ গোলে জিতে ইতালি।টানা ছয় জয়ে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান আরও মজবুত করল দলটি। দ্বিতীয় হারের স্বাদ পাওয়া ফিনল্যান্ড ১২ পয়েন্ট নিয়ে আছে দ্বিতীয় স্থানে।বাছাইয়ে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ঘরের মাঠে ফিনল্যান্ডকে ২-০ গোলে হারিয়েছিল সাবেক ইউরোপ চ্যাম্পিয়নরা।শুরুতেই এগিয়ে যেতে পারত ফিনল্যান্ড। তবে চতুর্থ মিনিটে  সাউলির লক্ষ্যভ্রষ্ট হেডের পর টইভিয়োর হেডও লক্ষে থাকেনি। ২৩তম মিনিটে ইতালির আলেক্সান্দার ফ্লোরেঞ্জির শট খুঁজে পায়নি ঠিকানা।এরপর চিরো ইমোবিলে, ফেদেরিকো সিসেদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে গোলশূন্যভাবে শেষ হয় প্রথমার্ধের খেলা।৫৯তম মিনিটে ইমোবিলের হেডে এগিয়ে যায় ১৯৬৮ সালে প্রথম ও সর্বশেষ ইউরোপ চ্যাম্পিয়ন হওয়া ইতালি।৭২তম মিনিটে স্পট কিকে টিমু পুক্কি সমতায় ফেরান ফিনল্যান্ডকে। ডি-বক্সের মধ্যে স্তেফানো সেনসি প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়কে ফাউল করলে পেনাল্টির বাঁশি বাজিয়েছিলেন রেফারি।প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ ধরে রাখা ইতালি স্কোরলাইন ২-১ করে ৭৯তম মিনিটে জর্জিনিয়োর স্পট কিকে। ডি-বক্সে সাউলির হাতে বল লাগলে পেনাল্টিটি পায় আজ্জুরিরা। বাকিটা সময় এ গোল ধরে রেখে স্বস্তির জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে দলটি।রোববার গ্রুপের অন্য ম্যাচে নিজেদের মাঠে বসনিয়া-হার্জেগোভিনাকে ৪-২ গোলে হারানো আর্মেনিয়া ৯ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছে। নিজেদের মাঠে লিখটেন্সটাইনের সঙ্গে ১-১ ড্র করা গ্রিস ৫ পয়েন্ট নিয়ে আছে পঞ্চম স্থানে। এই প্রথম পয়েন্ট পেল লিখটেন্সটাইন।

অনভিজ্ঞ আফগানিস্তানের কাছে হারলো অভিজ্ঞ বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ চট্টগ্রাম টেস্টে ১১৫তম ম্যাচ খেলতে নামে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। আর বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ আফগানিস্তানের এটি ছিলো তৃতীয় টেস্ট। ১১২ ম্যাচের বেশি টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা নিয়েও আফগানিস্তানের মত নতুন দলের কাছে ২২৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরে গেলো বাংলাদেশ। ৩৯৮ রানের লক্ষ্যে ১৭৩ রানে অলআউট হয়ে নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে লজ্জাস্কর হারের স্বাদ পেলো সাকিবের দল। আফগানিস্তান দুই ইনিংসে ৩৪২ ও ২৬০ রান করে। পক্ষান্তরে দুই ইনিংসে বাংলাদেশ সংগ্রহ করে যথাক্রমে ২০৫ ও ১৭৩। নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে তৃতীয় ম্যাচে দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়ে আফগানরা। ফলে বাংলাদেশের বিপক্ষে এক ম্যাচের সিরিজ ১-০ ব্যবধানে জিতলো আফগানিস্তান। পঞ্চম ও শেষ দিনের সকাল থেকেই বৃষ্টি। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ স্টেডিয়ামের ম্যাচে বৃষ্টির দোলাচলে দুলছিলো বাংলাদেশ-আফগানিস্তানের খেলোয়াড়রা। তারপরও নিজের ভাব বজায় রেখেছিলো বৃষ্টি। তবে ১২টা ৪০ মিনিটে বৃষ্টি কমলে, দুপুর ১টায় খেলা শুরুর সিদ্বান্ত নেয় ম্যাচ পরিচালনাকারীরা। তখন দিনের ৬৩ ওভার খেলা বাকী ছিলো। যথারীতি ১টায় শুরু হয় খেলা। আগের দিনের আফগানিস্তানের ছুড়ে দেয়া ৩৯৮ রানের টার্গেটে খেলতে চতুর্থ দিন শেষে ৬ উইকেটে ১৩৬ রান করেছিলো বাংলাদেশ। ম্যাচ হারের পথও দেখে ফেলে টাইগাররা। কারন পঞ্চম ও শেষ দিনে বাকী ৪ উইকেটে আরও ২৬২ রান করতে হবে বাংলাদেশকে। কিন্তু খেলা হয় মাত্র ১৩ বল। বৃষ্টির কারনে আবারো খেলা বন্ধ হয়ে যায়। এসময় মাত্র ৭ রান যোগ করতে পারে বাংলাদেশ। ফলে স্কোর দাড়ায় ৬ উইকেটে ১৪৩ রান। তারপরও ম্যাচ নিয়ে আশায় বুক বেঁধেছিলো বাংলাদেশ। কারন চতুর্থ দিন শেষে ম্যাচ নিয়ে আশার আলো শুনিয়েছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। দিন শেষে বলেছিলেন, ‘টেস্ট জিততে হলে আর কত দরকার? ২৭০ (বাকী ছিলো ২৬২ রান)। এ অবস্থায় দুইজনকে সেঞ্চুরি করতে হবে। একজন ১৫০ আর অন্যজন ১২০ করলেই তো হয়ে যাবে। আর বৃষ্টি হলে তো অন্য কিছু।’সাকিবের এমন সাহসিকতায় স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্তরা। দ্বাদশ বিশ্বকাপে সাকিবের অসাধারন ব্যাটিং পারফরমেন্স চোখে ভেসে উঠে ভক্তদের। আবারো যদি জ্বলে সাকিবের ব্যাট, আবারো যদি জ্বলে উঠে সৌম্যর ব্যাট তবে পুঁচকে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ জয় বা ড্র করা সম্ভব হবে।দ্বিতীয় দফায় বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে আবারো খেলা শুরু হয়। বৃষ্টি বা আলো স্বল্পতা না হলে ১৮ দশমিক ৩ ওভার খেলা হবে। এমন সমীকরন নিয়ে ব্যাট হাতে নামেন সাকিব-সৌম্য।কিন্তু যে ব্যক্তিটি চতুর্থ দিন শেষে শুনিয়েছিলেন স্বপ্নের গল্প, সেই সাকিবই প্রথম বলেই আউট হন। আফগানিস্তানের বাঁ-হাতি স্পিনার জহির খানকে কাট করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন সাকিব। ৪টি চারে ৫৪ বলে ৪৪ রান করেন সাকিব।এরপর সৌম্যকে নিয়ে উইকেটে টিকে থাকার মিশন শুরু করেন মেহেদি হাসান মিরাজ। আফগানিস্তানের বোলারদের বিপক্ষে রুখে দাঁড়ান তারা। এমন অবস্থায় ৫৩ বল মোকাবেলা করে বাংলাদেশকে চিন্তামুক্ত করছিলেন সৌম্য-মিরাজ।কিন্তু ৫৬তম ওভারের তৃতীয় বলে মিরাজকে লেগ বিফোর ফাঁদে ফেলেন আফগানিস্তানের অধিনায়ক রশিদ খান। আম্পায়ার আউট দিলে, রিভিউ নেন মিরাজ। কিন্তু তাতেও লাভ হয়নি। আউট হন মিরাজ। এতে ভাঙ্গে সৌম্য-মিরাজ জুটি। বাংলাদেশ হারায় অষ্টম উইকেট। ২৮ বলে ১২ রান করেন মিরাজ।নয় নম্বরে উইকেটে গিয়ে ৬ বলের বেশি খেলতে পারেননি তাইজুল ইসলাম। শুন্য রানে রশিদের শিকার হন। এতে ম্যাচ হার বাংলাদেশের সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু স্বীকৃত ব্যাটসম্যান হিসেবে উইকেটে ছিলেন সৌম্য।শেষ ব্যাটসম্যান নাইম হাসানকে নিয়ে মান-সম্মান বাঁচানোর লড়াই শুরু করেন সৌম্য। পরবর্তীতে ৪ ওভার টিকেও যান তারা। এতে দিনের খেলার আর মাত্র ২১বল বাকী ছিলো। কিন্তু রশিদের পরের ডেলিভারিতে শর্ট লেগে ইব্রাহিম জাদরানকে ক্যাচ দিয়ে নিজের উইকেট বিলিয়ে দেন সৌম্য। ফলে ২০ বল বাকী থাকতে লজ্জাজনকভাবে ম্যাচ হারে বাংলাদেশ। ১৭৩ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। সৌম্য ১৫ রানে ফিরলেও ১ রানে অপরাজিত থাকেন নাইম। আফগানিস্তানের রশিদ ৪৯ রানে ৬টি, জহির ৫৯ রানে ৩টি ও নবী ৩৯ রানে ১টি উইকেট নেন।বল হাতে ১১ উইকেট ও ব্যাট হাতে ৭৫ রান করে এক ম্যাচের সিরিজের সেরা খেলোয়াড় হন আফগানিস্তানের রশিদ। স্কোর কার্ড (টস-আফগানিস্তান) :- আফগানিস্তান প্রথম ইনিংস : ২৭১/৫, ৯৬ ওভার (রহমত ১০২, আসগর ৮৮*, জাজাই ৩৫*, নাইম ২/৪৩, তাইজুল ২/৭৩)।

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : ২০৫/১০, ৭০.৫ ওভার (মোমিনুল ৫২, মোসাদ্দেক ৪৮*, রশিদ ৫/৫৫)।

আফগানিস্তান দ্বিতীয় ইনিংস : ২৬০/১০, ৯০.১ ওভার (জাদরান ৮৭, আসগর ৫০, সাকিব ৩/৫৮)।

বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস : ১৭৩/১০, ৬১.৪ ওভার (সাকিব ৪৪, সাদমান ৪১, রশিদ ৬/৪৯)।

রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে ইউএস ওপেন চ্যাম্পিয়ন নাদাল

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ শ্বাসরুদ্ধকর এক ফাইনালের সাক্ষী হলো নিউ ইয়র্কের ফ্লাশিং মেডোজ। দানিল মেদভেদেভের বিপক্ষে যে লড়াইয়ে জিতে ইউএস ওপেনের শিরোপা জিতে নিলেন রাফায়েল নাদাল। প্রথমবারের মতো কোনো গ্র্যান্ড স্ল্যামের ফাইনালে ওঠা মেদভেদেভের বিপক্ষে রোববারের শিরোপা লড়াইয়ে পরিষ্কার ফেভারিট ছিলেন নাদাল। প্রথম দুই সেট জিতে অনায়াস জয়ের সম্ভাবনাই জাগিয়েছিলেন স্প্যানিশ তারকা। কিন্তু এরপরই দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ান মেদভেদেভ। অবিশ্বাস্যভাবে জিতে নেন পরের দুই সেট। শেষ পর্যন্ত অবশ্য টেনিস ইতিহাসের অন্যতম অঘটনের জন্ম দিতে পারেননি এই রুশ তরুণ। সামর্থ্য ও অভিজ্ঞতা দিয়ে স্নায়ুর চাপকে হারিয়ে শেষ সেট জিতে ক্যারিয়ারের ১৯তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা উঁচিয়ে ধরেন নাদাল।চার ঘণ্টা ৫০ মিনিটের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ৭-৫, ৬-৩, ৫-৭, ৪-৬, ৬-৪ গেমে জয় নিশ্চিত করেন দ্বিতীয় বাছাই হিসেবে টুর্নামেন্ট শুরু করা নাদাল। ইউএস ওপেনের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ ফাইনালের চেয়ে মাত্র চার মিনিট সময় কম লাগলো এবারের শিরোপা লড়াইয়ে।ক্লে কোর্টের রাজা নাদালের এটা চতুর্থ ইউএস ওপেন শিরোপা। এখানে আগের তিনটি শিরোপা জিতেছিলেন ২০১০, ২০১৩ ও ২০১৭ আসরে। এবারের জয়ে রেকর্ড ২০ বারের গ্র্যান্ড ¯¬্যাম চ্যাম্পিয়ন রজার ফেদেরারকে ছোঁয়ার আরেক ধাপ কাছে পৌঁছে গেলেন ৩৩ বছর তারকা। ফরাসি ওপেনেই জিতেছেন ১২টি শিরোপা!রোববার তৃতীয় ম্যাচ পয়েন্ট জয়ের পর কোর্টের উপরে শুয়ে পড়েন নাদাল। হাত দিয়ে মুখ ঢাকলেন, যেন মুহূর্তের মধ্যে পেছন ফিরে রোমন্থন করলেন দুর্দান্ত এক পথচলার স্মৃতি, যেখানে যোগ হলো নতুন এক সাফল্যের গল্প।”আমার টেনিস ক্যারিয়ারে এটা অন্যতম এক আবেগঘন রাত। চমৎকার এক ফাইনাল হলো, দুর্দান্ত এক ম্যাচ।”গত জুনে ফরাসি ওপেনে রেকর্ড দ্বাদশ শিরোপা জয়ের পর চলতি বছরে এ নিয়ে দ্বিতীয় মেজর জিতলেন নাদাল।প্রথমবারের মতো এত বড় মঞ্চে এসেই বাজিমাত করার উপলক্ষ প্রায় তৈরি করে ফেলেছিলেন মেদভেদেভ। শেষ পর্যন্ত স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ায় শূন্য দৃষ্টিতে অনেকটা সময় তাকিয়ে ছিলেন ২৩ বছর বয়সী এই খেলোয়াড়। পরে অশ্রুসিক্ত চোখে প্রতিপক্ষকে অভিনন্দন জানান মেদভেদেভ।”আমি রাফাকে অভিনন্দন জানাতে চাই, ১৯টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা অবিশ্বাস্য কিছু।” মাঠের বড় স্ক্রিনে তখন নাদালের সব সাফল্যের একটি ভিডিও চলছে। নিজের হতাশা ভুলে মুগ্ধ দৃষ্টিতে সেদিকে তাকিয়ে ছিলেন মেদভেদেভ।

পরিবেশ বান্ধব কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার

কৃষি প্রতিবেদক ॥ কৃষিজমি কমলে নিঃসন্দেহে আমাদের ফসল উৎপাদন কম হবে। আমাদের সবসময় চিন্তা করতে হবে ফসলি জমি যাতে না কমে। কিন্তু বাড়িঘর, কলকারখানা তৈরির জন্য কিছু জমি নষ্ট হবেই। তারপরও আমরা পরিকল্পিত উপায়ে এটি এ হার কমাতে পারি। যেমন: সমন্বিত উদ্যোগে বহুতল ভবন নির্মাণ করে বসবাস করতে পারি। বাইরের দেশে অনেক আগে থেকে এ ধারণাটি কাজে লাগানো হচ্ছে। বাংলাদেশে বছরে এক শতাংশ হারে কমছে কৃষিজমি। বিপরীতে প্রতিবছর প্রায় ২২ লাখ নতুন মুখ জনসংখ্যার সঙ্গে যোগ হচ্ছে। এটি চলতে থাকলে ভবিষ্যৎ কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মধ্যে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে দরকার সমন্বিত কৃষি চাষ পদ্ধতির পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রকল্প ও আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি। আবার কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হলেও সেগুলো কতখানি পরিবেশবান্ধব, সেগুলোও বিবেচনায় আনতে হবে। বাংলাদেশের কৃষিতে এ ধরনের চিন্তাভাবনা একদম করা হয় না বলে জানান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. এহসানুল কবীর। এই গবেষক বলেন, কৃষি জমি কমলে নিঃসন্দেহে আমাদের ফসল উৎপাদন কম হবে। আমাদের সবসময় চিন্তা করতে হবে ফসলি জমি যাতে না কমে। কিন্তু বাড়িঘর, কলকারখানা তৈরির জন্য কিছু জমি নষ্ট হবেই। তারপরও আমরা পরিকল্পিত উপায়ে এটি এ হার কমাতে পারি। যেমন: সমন্বিত উদ্যোগে বহুতল ভবন নির্মাণ করে বসবাস করতে পারি। বাইরের দেশে অনেক আগে থেকে এ ধারণাটি কাজে লাগানো হচ্ছে। বাংলাদেশের মতো কম আয়তনের দেশেও বর্তমানে বিষয়টি ভাবার সময় এসেছে। কৃষিতে এখন অনেক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে তবে তা পরিবেশের জন্যও কিছুটা হুমকি হয়ে পড়বে যদি সেগুলো ঠিকমত ব্যবহার করতে না পারি। অনেক সময় মেশিনের জন্য যে অ্যানার্জি/ফুয়েল ব্যবহার করা হয় যেমন ব্যাটারি, ডিজেল মাটির সঙ্গে মিশে মাটির ক্ষতি করে, সেগুলো খেয়াল রাখতে হবে। কৃষি প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি  সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে কৃষকের পর্যাপ্ত জ্ঞান থাকতে হবে। আর এ দায়িত্ব তাদেরই বেশি ভূমিকা পালন করা দরকার, যারা এ প্রযুক্তিগুলো মাঠ পর্যায়ে নিয়ে যাবেন। দেখা যায়, কৃষকের যন্ত্রপাতি ব্যবহারের যথাযথ জ্ঞান না থাকায়, একটি যন্ত্র একটানা বেশি সময় ব্যবহার করার কারণে যন্ত্রের কর্মদক্ষতা কমে যাচ্ছে। আবার একটি যন্ত্র কর্মদক্ষতা হারানোর পর ব্যবহার করা হলে সেটি তখন পরিবেশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। এগুলো আমাদের ভাবতে হবে। কোনো প্রযুক্তি কিংবা যন্ত্রপাতি মাঠপর্যায়ে ছড়ানো আগে আমাদের অবশ্যই বাজার পর্যালোচনা করতে হবে। বাজারে অর্থাৎ কৃষকের কল্যাণে কাজে লাগবে এমন প্রযুক্তিই কেবল সম্প্রসারণ করতে হবে। নয়তো উল্টো সেটি আমাদের উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটাবে। অনেক সময় দেখা যায় মাটি পরীক্ষা না করেই কৃষক ফসল ফলাচ্ছেন। কিন্তু এটি কোনোভাবেই ঠিক না। কোন জমিতে কোন ফসল উপযোগী সেটিও আমরা মাটি পরীক্ষার মাধ্যমে জেনে নিতে পারি। তখন সেই ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে আমরা আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারি। অন্যদিকে জমিতে অধিক উৎপাদনের জন্য মাত্রারিক্ত সার ব্যবহার করায় মাটির গুণাগুণ নষ্ট হচ্ছে, একইসঙ্গে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য। সার ব্যবহারের এ জ্ঞান না থাকার দরুণ প্রতি বছর প্রচুর পরিমাণ সারেরও অপচয় হচ্ছে বলেও জানান এই গবেষক। গবেষক আরো বলেন, একটা সময় আমরা খাদ্যশস্য উৎপাদনে পরিমাণের ওপর জোর দিয়েছিলাম, সেটি বলতে গেলে আমরা সফল হয়েছি। বতর্মানে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূণর্তার দেশে পরিণত হয়েছে। এখন আমাদের খাদ্যমান অর্থাৎ নিরাপদ খাদ্যের দিকে অগ্রসর হতে হবে। ব্যবহার করতে হবে পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি। লেখক ঃ আবুল বাশার মিরাজ, বিকৃবি।