‘উন্নয়নের সূচকে বাংলাদেশের সাফল্য অভাবনীয়’

ঢাকা অফিস ॥ উত্তর আয়ারল্যান্ড লেজিসলেটিভ এসেম্বলির সদস্য মার্টিন-ও-মোয়েলার উন্নয়নের সূচকে বাংলাদেশের সাফল্য অভাবনীয় উল্লেখ করে বলেছেন, উন্নয়নের স্বর্ণযুগের চলমান প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের সাথে থাকবে উত্তর আয়ারল্যান্ড। যুক্তরাজ্য ভিত্তিক গবেষণা সংস্থা স্টাডি সার্কেল আয়োজিত ‘বাংলাদেশ : এ গোল্ডেন জার্নি টু ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন। গতকাল ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানা গেছে। অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হাতে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের জন্য সীমান্ত খুলে দেয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ শুধু তাদের জীবনই বাঁচায়নি, মানবতার এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। গত বৃহস্পতিবার উত্তর আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্ট অ্যাসেম্বলির স্টরমনট বিল্ডিংয়ের লং গ্যালারিতে উত্তর আয়ারল্যান্ড লেজিসলেটিভ এসেম্বলির সদস্য মার্টিন-ও-মোয়েলার, ক্রিস লিটল, মাইক নেসবিট এবং স্টাডি সার্কেলের চেয়ারপার্সন সৈয়দ মোজাম্মেল আলীর সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে অনুষ্ঠিত হয় স্টাডি সার্কেলের এই সেমিনার। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশের ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, প্যানেল স্পিকার ছিলেন লন্ডনে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের ডেপুটি হাই কমিশনার জুলকার নাইন, নর্দান আয়ারল্যান্ড লেজিসলেটিভ এসেম্বলির সদস্য মার্টিন-মার্টিন-ও-মোয়েলার, সাবেক বিচারপতি সামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদ ও জিম ওয়েলস এমএলএ। তিন পর্বে বিভক্ত অনুষ্ঠানের প্রথম পরিচয় পর্বের পরেই দ্বিতীয় পর্বে ছিল বাংলাদেশের উন্নয়নের বিগত ১০ বছরের সাফল্য নিয়ে আলোচনা।এতে প্রাধান্য পায় স্টাডি সার্কেলের পরিচিতি, নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জেন্ডার সমতা, রোহিঙ্গা সমস্যা, আইন ও বিচার ব্যবস্থা, যোগাযোগ ও স্বাস্থ্য খাতসহ জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিসমূহ। স্টাডি সার্কেলের চেয়ারপার্সন সৈয়দ মোজাম্মেল আলীর পরিচালনায় আলোচনার শুরুতে নর্দান আয়ারল্যান্ড লেজিসলেটিভ এসেম্বলির সদস্য জিম ওয়েলস এমএলএ আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলদেশ এখন বিশ্ব দরবারে উজ্জ্বল নক্ষত্র রূপে আবির্ভূত। বাংলাদেশের অন্যান্য উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং যাত্রা সম্পর্কে আমাদের জানার অনেক কিছু রয়েছে। এমন আয়োজন বাংলাদেশকে জানতে এবং পরিচয় করিয়ে দিতে আরও সহায়ক হবে। স্টাডি সার্কেলের গবেষক সাজিয়া স্নিগ্ধা নারীর ক্ষমতায়ণ ও জেন্ডার সমতায় বাংলাদেশের সাফল্য তুলে ধরার পাশাপাশি নারীর সামর্থ্য উন্নীতকরণ, নারীর অর্থনৈতিক প্রাপ্তি বৃদ্ধিকরণ, নারীর মতপ্রকাশ ও মতপ্রকাশের মাধ্যম সম্প্রসারণ এবং নারী উন্নয়নে পরিবেশ সৃষ্টিকরণে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ এবং নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ সরকার এবং সরকার প্রধান শেখ হাসিনার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিসমূহ তুলে ধরেন। প্রধান অতিথি ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ এখন আত্মবিশ্বাসী একটি জাতি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু যেমন বাংলাদেশকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন তেমনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাঙ্গালি জাতিকে অর্থনৈতিক মুক্তি এনে দিয়েছেন। ‘সহগ্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা’র অনেকগুলো লক্ষ্য অর্জনের সাথে-সাথে অতি দরিদ্র অবস্থা থেকে অর্থনীতিকে উন্নয়নের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশ কয়েক দশক ধরে কাজ করেছে। দারিদ্র্যমুক্ত, বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিকল্পিত ‘রূপকল্প- ২০২১’ অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে যাত্রা শুরু করে। ডেপুটি হাইকমিশনার মুহাম্মদ জুলকার নাইন জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বাংলাদেশের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরেন। সুপ্রীম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা স্বাধীনভাবে কাজ করছে উল্লেখ করে আইনের সুশাসনে বর্তমান বিচার ব্যবস্থার যুগান্তকারী কাজের কথা তুলে ধরেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ডা. শাম্মী আহমেদ রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশের পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনায় বলেন, মিয়ানমারে সহিংসতার মুখে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে আসা লাখ লাখ ভয়ার্ত রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বে মানবিকতার বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। বাংলাদেশের দক্ষিণ উপকূলের সৈকতে যারা পালিয়ে এসেছিলো তাদের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশই ছিল শিশু। তাদের খাদ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা, নিরাপত্তা, বাসস্থানের সকল প্রকার সুযোগ সুবিধার সুব্যবস্থা বাংলাদেশ করেছে। পাহাড়ি বনভূমি উন্মুক্ত করে তৈরি করা হয়েছে বিশ্বের সর্ববৃহত আশ্রয় শিবির। কিন্তু রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ বাসভূমিতে ফিরে যাওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও চাপ দেয়াকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে। আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে নানান আলাপ-আলোচনা হচ্ছে কিন্তু উদ্যোগের ব্যপারে আন্তর্জাতিক মহলকে আরও সচেষ্ট হওয়ার আহবান জানান তিনি। এছাড়াও সৈয়দ মোজাম্মেল আলী গত ১০ বছরে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি, জিডিপি গ্রোথ, বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে দেয়া,বিদ্যুৎ উৎপাদনে সাফল্য ২০ হাজার মেগাওয়াট, সাড়ে তের হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুসহ মেগা প্রজেক্ট, যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রভুত উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বর্তমান সরকারের সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরে বলেন, বিশ্বের থিঙ্কট্যাঙ্কদের কাছে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের বিস্ময়।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ছিল প্রশ্ন উত্তর সেশন। এ সময় উপস্থিত অতিথিবৃন্দ বাংলাদেশ এবং যুক্তরাজ্য সম্পর্কে প্যনেল স্পিকারদের বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। যার মাঝে উল্লেখযোগ্য ব্রেক্সিট পরবর্তী নর্থান আয়ারল্যান্ড এর অবস্থা, এমডিজি সফলতায় বাংলাদেশ,বাংলাদেশের এসডিজি প্ল্যানিং, রোহিঙ্গা সংকটে আন্তর্জাতিক মহলের তৎপরতা, স্টাডি সার্কেলের কাজের পরিধি ইত্যাদি। পরিশেষে জামাল খান, সেলিম খান, আলা উদ্দিনের ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষে সকলের হাতে বাংলাদেশের বাংলাদেশের সোনালি আঁশ পাঁটের তৈরি ব্যাগে স্টাডি সার্কেলের প্রকাশনা ‘বাংলাদেশ এ গোল্ডেন জার্নি টু ডেভেলপমেন্ট’, বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনীর ইংরেজি ভার্সন এবং স্টাডি সার্কেলের সুভেনিওর প্রদান করা হয়। সেমিনারে নর্দান আয়ারল্যান্ড এসেম্বলির মেম্বারসহ ব্রিটিশ-বাংলাদেশী শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, উন্নয়নকর্মী, কূটনীতিকবৃন্দ, উত্তর আয়ারল্যান্ড এবং লন্ডন কমিউনিটির ব্যবসায়ী সম্প্রদায় এবং দাতব্য ও স্বেচ্ছাসেবী বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।

রংপুর-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন রিটা রহমান

ঢাকা অফিস ॥ রংপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে ২০-দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান রিটা রহমানকে ধানের শীষের মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। রোববার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ তথ্য জানান। জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে রংপুর-৩ আসনটি শূন্য হয়। এ আসন থেকে বিএনপির চারজনসহ মোট পাঁচজন মনোনয়ন প্রত্যাশা করেছিলেন। শনিবার বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম এ বিষয়ে চূড়ান্ত বৈঠক করে। বৈঠক শেষে গতকাল রিটার মনোনয়নের বিষয়টি জানান রিজভী। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ওই আসনে দলীয় প্রার্থীকে সরিয়ে রিটা রহমানকে মনোনয়ন দেয় বিএনপি।

 

ইবিতে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাস্টমী উপলক্ষ্যে আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

ইসলামী বিশ্ববদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী (ড. রাশিদ আসকারী) বলেছেন, ধর্ম যার যার দেশটা সবার। এখানে সকল ধরনের অন্যায়, অবিচার, পাপাচার, দূর্নীতি, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে এবং রুখে দাড়িয়ে কল্যান ও সুন্দরকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে সকল ধর্ম, বর্ণ ও গোত্রের মানুষ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এক ও ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ স্বাধীন করেছিল। তারই  ধারাবাহিকতায় আমরা একটি সংবিধান পেয়েছি, যার অন্যতম প্রধান মূলনীতি হচ্ছে অসাম্প্রদায়িকতা। তিনি আরো বলেন, যেকোন গবেষণাই বলিনা কেন, ধর্মকে বিচ্ছিন্ন করে কোন সামাজিক সুন্দর জীবন হতে পারে না। তাই বাংলাদেশের সর্বাঙ্গীণ কল্যাণের জন্য ধর্ম, বর্ণ, জাতি ও সম্প্রদায় সকল কিছুর উর্ধ্বে থেকে সকলকে সমাজ বির্নিমানে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আর্বিভাব হয়েছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াবার জন্য। রবিবার দুপুরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাস্টমী উদ্যাপন পরিষদের আয়োজনে টি.এস.সি.সি’র বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত শ্রীকৃষ্ণের জন্মাস্টমী উপলক্ষ্যে আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায়  প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী এসব কথা বলেন। বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তপন কুমার রায়ের সভাপতিত্বে আলোচনাসভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান বলেন, শ্রীকৃষ্ণ এসেছিলেন সকল ধরনের পাপাচার, অধর্ম, অকল্যান অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হিসাবে এবং তৎকালীন বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য। তিনি বলেন, মানবকল্যান ও ধর্মকে প্রতিষ্ঠিত করবার জন্য তাঁর পথ ছিল কন্টকাকীর্ণ। তিনি সকল প্রতিকূলতাকে মোকাবেলা করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সকল ধর্মের মর্মবাণী যে এক এবং অভিন্ন এই কথাটি আমাদের সকলকে মনে রাখতে হবে। তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য তনয়া প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ ও বলিষ্ট নেতৃত্বে দেশ আজ মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত হয়েছে। তাই তিনি উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করবার জন্য যার যার অবস্থান থেকে কাজ করে যেতে হবে। অপর বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা বলেন, সকল ধর্ম ও গোত্রের মানুষদের নিয়ে আমাদের দেশ। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন বাংলাদেশের সংবিধান কালি দিয়ে নই বরং এই সংবিধান রচিত হয়েছিল দেশের সকল ধর্মের পেশার মানুষের রক্ত দিয়ে। তাই আমরা যেন কেউ কোন প্রকার বৈষম্যের শিকার না হই সেদিকে সকলকে লক্ষ্য রাখতে হবে এবং সে লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল ধর্ম, বর্ণ, গৌত্রের নির্বিশেষে সকলের অধিকার নিশ্চিত করবার জন্য বর্তমান প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে।্এছাড়া আমাদের নিজেদের মধ্যে মানুষের জন্য প্রেম ভালোবাসা ও মায়া মমতার সৃষ্টি করতে হবে। অনুষ্ঠানে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাস্টমীর উপর ধর্মালোচক হিসাবে প্রানবন্ত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মহানাম সম্প্রদায়ের সভাপতি শ্রীমৎ কান্তিবন্ধু ব্রক্ষ্মচারী। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিপ্লব বাইচ। উপস্থিত ছিলেন ছাত্র-উপদেষ্টা প্রফেসর ড. পরেশ চন্দ্র বমর্¥ণ, প্রক্টর(ভারঃ) ড. আনিচুর রহমান, প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমান, প্রফেসর ড. অশোক কুমার চক্রবর্তী, প্রফেসর ড. দেবাশীষ শর্মা, প্রদীপ কুমার অধিকারী, বিপুল রায়, জয়শ্রী সেন, প্রধান প্রকৌশলী(ভারঃ) মোঃ আলিমুজ্জামান টুটুল, ছাত্রলীগ ইবি শাখার সভাপতি মোঃ রবিউল ইসলাম পলাশ ও সাধারন সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিবসহ সকল স্তরের নেতাকর্মীবৃন্দ ও হিন্দুধর্মাবলম্বী সকল শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ। আলোচনাসভা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।

সচিবালয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের ওবায়দুল কাদের

প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভ থাকতে পারে, তবে ছাত্রলীগের কমিটি ভাঙার সিদ্ধান্ত হয়নি 

ঢাকা অফিস ॥ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ছাত্রলীগের কিছু কর্মকান্ডে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষোভ থাকতে পারে। তবে কমিটি ভেঙে দেয়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। গতকাল রোববার সচিবালয়ে নিজ মন্ত্রণালয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। শনিবার গণভবনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার ও সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের যৌথসভায় শেখ হাসিনা ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে কমিটি ভেঙে দিতে বলেছেন বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, শনিবার আমাদের যে মিটিং ছিল, এটা পার্লামেন্টারি বোর্ড ও স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের যৌথসভা। রংপুরের ইলেকশন, ২২টি ইউনিয়ন পরিষদ, তিনটি পৌরসভা, সাতটি উপজেলা পরিষদের নির্বাচন হচ্ছে অক্টোবরে। আমরা এজন্যই বসেছিলাম। ‘মনোনয়নে বোর্ডের মিটিংয়ে এ ধরনের (ছাত্রলীগের কমিটি ভেঙে দেয়ার সিদ্ধান্ত) কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। কথা প্রসঙ্গে হয়তো কথা আসে। এটা সিদ্ধান্ত আকারে কোনো কথা হয়নি। কাজেই ওখানে ইনসাইডে আমরা অনেক কথাই বলতে পারি, অনেক আলোচনাই করতে পারি। সেখানে কোনো কোনো বিষয়ে ক্ষোভের প্রকাশও হতে পারে বা কারও কারও রিঅ্যাকশনও আসতে পারে। কিন্তু, অ্যাজ এ জেনারেল সেক্রেটারি অব দ্য পার্টি, এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করা ঠিক হবে না যতক্ষণ না পর্যন্ত এটা ইমপ্লিমেন্টেশন প্রসেসে যায়।’

ছাত্রলীগের কর্মকান্ড নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কি ক্ষুব্ধ- এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল বলেন, কিছু কিছু ব্যাপারে থাকতেই পারে। যেমন- আমাদের ইলেকশনে যারা বিদ্রোহী ছিল, আমাদের মন্ত্রী-এমপিদের মধ্যে, নেতাদের মধ্যে এসব ব্যাপারে তো ক্ষোভপ্রকাশ হয়। ছাত্রলীগেরও বিচ্ছিন্ন-বিক্ষিপ্ত কিছু কিছু ব্যাপার আছে। সেগুলো নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কনসার্ন থাকতেই পারে, এটা স্বাভাবিক। কিন্তু, এখানে কোনো স্পেসিফিক সিদ্ধান্তের বিষয়ে আমি জানি না। কারণ, ওই ফোরামে কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনার বিষয় আসেনি। ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে গণভবন থেকে চলে যেতে বলেছেন- এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি তাদের চলে যেতে বলবো কেন? প্রাইম মিনিস্টারের ওখানে দেখা করতে গেছে। বিভিন্ন জেলা থেকে নেতারা গেছে, ছাত্রলীগ গেছে। প্রাইম মিনিস্টারের বাড়িতে তারা গেছে। আমি কীভাবে বলি, তোমরা এখান থেকে চলে যাও? আসলে কিছু কিছু খবর হাওয়া থেকে পাওয়া হয়ে যায়। একটা হয়, আরেকটা আসে। নানাভাবে ছড়ায়। বাস্তবতাটা ভিন্ন।ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, এ ধরনের (কমিটি ভেঙে দেয়া) কিছু হলে আপনারা তো দেখবেনই। এটা তো পাবলিক স্টেটমেন্ট। ডিসিশন জানা যাবে, এটা তো ওপেন সিক্রেট হয়ে যাবে, তখন সিক্রেট থাকবে না।প্রধানমন্ত্রী কি ক্ষুব্ধ হয়ে একথা বলেছেন- প্রশ্নে সেতুমন্ত্রী বলেন, একথা বলেছেন, না বলেছেন- কোনোটাই আমি বলবো না। যতক্ষণ না সিদ্ধান্তটা কার্যকর হচ্ছে, যতক্ষণ পর্যন্ত এটা সিদ্ধান্ত আকারে না আসছে, ততক্ষণ এর সত্যতা স্বীকার করব না।

ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির কর্মকা- নিয়ে আপনি সন্তষ্ট কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেগুলো সন্তোষ প্রকাশ করার মতো, সেগুলোতে সন্তোষ প্রকাশ করি। আর যেগুলো লোকে পছন্দ করে না, সেগুলো আমিও পছন্দ করবো না। এটাই স্বাভাবিক। সে ব্যাপারে আমি তাদের সতর্ক হতে বলি, সাবধান হতে বলি। তাদের সুনামের ধারায় ফিরে আসতে বলি, ভালো খবরের শিরোনাম হতে বলি- এটা আমি অহরহ বলে যাচ্ছি।‘রোহিঙ্গাদের ফেরাতে সরকারের পদক্ষেপেরসঙ্গে একমত পোষণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র’রোহিঙ্গাদের সুষ্ঠুভাবে নিজ দেশে প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার যে পদক্ষেপ নিচ্ছে এর সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার।সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে রাষ্ট্রদূত মিলার সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎ শেষে মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সংবাদিক সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের একথা বলেন।মন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উদারতার প্রশংসা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তারা বলেছে, ওই মুহূর্তে বাংলাদেশ যে মানবিকতা দেখিয়েছে, তা বিশ্বে বিরল। তাদের সুষ্ঠুভাবে নিজ দেশে প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার যে পদক্ষেপ নিচ্ছে তারা তাতে একমত।’রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত কিছু এনজিও’র বিষয়ে সরকারের কঠোর অবস্থানের বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জানতে চেয়েছে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা তাদের জানিয়েছি, কিছু এনজিও’র কর্মকান্ডের বিষয়ে সরকারের কাছে অভিযোগ এসেছে। এনজিওগুলো মোনাজাত করার কথা বলে সরকারের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে রাজনৈতিক মহাসমাবেশ করেছে। এই সমাবেশে কিছু এনজিও’র সহায়তার বিষয়ে সরকার অবগত হয়েছে। অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।রোহিঙ্গাদের জন্য দেশে নানা ধরনের সমস্যা হচ্ছে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে একথা জানিয়েছেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘১১ লাখ বাড়তি লোকের বোঝা আমরা আর সইতে পারছি না। তাদের কারণে আমাদের ভৌগোলিক, পর্যটন, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সবকিছুতে সমস্যা হচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে বলে জানিয়েছে।

বিএনপির নেতাকর্মীরা মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলারের সঙ্গে দেখা করেছেন, এ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘এটি ছিল মার্কিন রাষ্ট্রদূতের রুটিন ওয়ার্ক। আমরা তাকে জানিয়েছি, সরকারের পক্ষ থেকে বিরোধী দলকে যথেষ্ট স্পেস দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের স্পেস দিতে বলেছেন, তাই আমরা দিচ্ছি। রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক কোন ক্ষেত্রেই কোনও সমস্যা হচ্ছে না।

‘সরকার বেগম খালেদা জিয়াকে ইচ্ছা করেই জামিন দিচ্ছে না’, বিএনপি নেতাদের এমন অভিযোগের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়টি লিগ্যাল ম্যাটার। তাছাড়া, বিএনপি নেতারা তো বলছেন, তারা আন্দোলন করেই খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবেন। তারা তাহলে আন্দোলন করেই তাকে মুক্ত করুক, কে নিষেধ করেছে। তারা তো ৫০০ লোকেরও সমাবেশ করতে পারে না। খালেদা জিয়া দেড় বছর ধরে জেলে। দেড় বছরে দেড় মিনিটের আন্দোলনও তারা করতে পারেনি।

জেলা আইনশৃংখলা কমিটির সভায় ডিসি আসলাম হোসেন

কিশোর গ্যাং সহ অপরাধ দমনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে

আরিফ মেহমুদ ॥ কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন বলেছেন, আগামীর নেতৃত্বদানকারী আজকের প্রজন্মকে মাদকের ছোয়া থেকে বাইরে রাখতে বেশি বেশি করে সচেতন হতে হবে। মাদকদ্রব্য পরিবার, দেশ তথা রাষ্ট্রে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরী করছে। মাদকাসক্ত থেকেই জেলা শহর সহ বিভিন্ন এলাকায় নামে বে-নামে কিশোর অপরাধ গ্যাং গড়ে উঠছে। জড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন অপরাধে। তাদের প্রতি সাধারণ মানুষের দৃষ্টি ফেরাতে ইভটিজিং, দ্রুত গতিতে মটরসাইকেল চালানো এবং জোরে হর্ণ বাজানো সহ নানান কৌশল করে বেড়াচ্ছে তারা। এসব দমনে সন্ধ্যার পর কিশোরদের বাসার বাইরে আড্ডা দিতে দেয়া হবে না। এব্যাপারে সবার আগে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। প্রয়োজনে কিশোর গ্যাং সহ জেলার সকল অপরাধ দমনে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হবে। জেলাকে মাদকের ভয়াবহতা মুক্ত করতে নিজেদের দায়িত্ববোধ থেকেই মাদকের মুল উৎপাটন ও যে কোন অপরাধ ও সন্ত্রাস দমনে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। গতকাল রবিবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা আইন-শৃংখলা কমিটির মাসিক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।তিনি আরো বলেন,এলাকায় চিহ্নিত দাগী ফেরার কোন অপরাধীকে দেখলে কিংবা অপরিচিতি সন্দেভাজন কাউকে দেখলেই আপনার নিকটস্থ পুলিশ প্রশাসনকে খবর দিন। সচেতনতায় বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে। কোন বহনকারীকে সাজা দেয়ার আগে তার তথ্য মতে মাদকের নাটের গুরু গডফাদারকে আইনের আওতায় আনা হবে। সে যে দলেরই হোক না কেন। মাদক বেচা-কেনা স্পটগুলোকে চিহ্নিত করে অভিযান চালানো হবে। জেলায় মাদকের ব্যবহার কমাতে মাদকদ্রব্য অধিদপ্তর সহ আইনশংখলা বাহিনী নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে। তাদেরকে সার্বিক সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসতে হবে। এক্ষেত্রে টাস্কফোর্সের অভিযান বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে জেলায় অপরাধ কম থাকলেও সারা দেশের ন্যায় কুষ্টিয়াতে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা দিন দিন বাড়ছেই। বিশেষ করে দৌলতপুরে ছাতার পাড়া, দাড়ের পাড়া, শ্যামপুর, কামালপুর, সর্বশেষ মিরপুরে ডেঙ্গুর ব্যাপকতা বৃদ্ধি পাচ্ছেই। ডেঙ্গু প্রতিরোধে এবং মশার বংশ বিস্তার ধ্বংশ করতে জেলা প্রশাসন,জেলা পুলিশ সহ বিভিন্ন দপ্তর কাজ করে যাচ্ছে। কিন্ত এক্ষেত্রে জেলা সিভিল সার্জনের অসহযোগিতা ও কাজে নিস্কৃয়তা ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে আরো বেশি অসুস্থ্য করে তুলছে। দেশের অন্য অঞ্চলে ডেঙ্গু কমে আসলেও কুষ্টিয়াতে যেন বেড়েই চলেছে। এটি মেনে নেয়া হবে না। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সেবায় নিয়োজিত হতে হবে।তিনি বলেন, মাদক নির্মুলে ও বাজার দর নিয়ন্ত্রণে যে মোবাইল কোর্ট সহ অভিযান চলছে, তা আগের মতই চলবে। এক্ষেত্রে আইনের প্রয়োগ যেন যথার্থই হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখে মোবাইল কোটি পরিচালনা করতে হবে। এতে কিছু মানুষ ক্ষুদ্ধ হলেও অভিযুক্তকে তাৎক্ষনিক সাজা প্রদান করায় দেশের অধিকাংশ মানুষই এই মোবাইল কোর্টকে গ্রহন করেছেন।

তিনি ইউএনও এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের উদ্দ্যেশে বলেন, মনে রাখতে হবে অভিযান চলাকালিন সময়ে নানান পরিচয় দিয়ে তোমাকে যেন তার পক্ষে ব্যবহার করতে না পারে। তিনি বলেন, জনজীবনে দূর্ভোগ সৃষ্টি করে কোন বিশৃংখলা করতে দেয়া হবে না। দূর্ভোগ সৃষ্টিকারীদের কঠোরহস্তে দমন করা হবে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃংখলা রক্ষা বাহিনীর পাশাপাশি আপনাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। আইনশৃংখলা রক্ষা বাহিনীর একার পক্ষে গোটা জেলাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা সম্ভব নয়। কোন ভাবেই জেলায় কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে দেয়া হবে না। সভায় কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এস এম তানভির আরাফাত বলেন, জেলাকে মাদকের ভয়াবহতা মুক্ত করতে নাটের গুরু গডফাদারকে আইনের আওতায় আনা হবে। কিন্তু মাদকের চেয়ে বর্তমানে জেলায় ভয়াবহ রূপ নিয়েছে নারী নির্যাতন। নির্যাতনের এক পর্যায়ে হত্যার মত অপরাধ ঘটে যাচ্ছে। বিভিন্ন চাপের মুখে এসব হত্যাকে এলাকায় আত্মহত্যা বলে চালিয়ে মিমাংশা করে নিচ্ছে। পক্ষান্তরে ঘটনা কিন্তু থেমে থাকছে না। নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, কিশোর অপরাধ বন্ধে এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতে তৃণমুল পর্যায়ে উঠান বৈঠক সহ অভিভাবক বৈঠক করতে হবে। এতেও যদি বন্ধ না হয় তাহলে আইনের সর্বচ্চ প্রয়োগ করা হবে। বিগত মাসের প্রতিবেদন তুলে ধরে তাকে সার্বিক সহযোগিতা করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফুন নাহার। সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এস এম তানভির আরাফাত, ৪৭ বিজিবি অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল রফিকুল আলম, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডাঃ নুরুন্নাহার বেগম, মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ সফিকুর রহমান খান,কুষ্টিয়া সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও কুষ্টিয়া শহর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা, মিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিন,দৌলতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাড. এজাজ আহমেদ মামুন,কুষ্টিয়া পৌরসভার প্যানেল মেয়র মতিয়ার রহমান মজনু, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন চৌধুরী, দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার, কুমারখালি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিবুল ইসলাম খান, ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল মারুফ, মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম জামাল আহমেদ, জেল সুপার জাকের হোসেন, জেলা আনসার ভিডিপি কমান্ডার তরফদার আলমগীর হোসেন, জেলা মুক্তিযোদ্ধ কমান্ডের সাবেক ডে-পুটি কমান্ডার আলহাজ¦ রফিকুল আলম টুকু, বাস মিনিবাস মালিক গ্রুপের নেতা আতাহার আলী, ট্রাক মালিক সমিতির নরেন্দ্র নাথ সাহা, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান, কুষ্টিয়া জিলা স্কুলে প্রধান শিক্ষক এফতে খাইরুল ইসলাম, বিআরটিএ’র ইন্সপেক্টর ওমর ফারুক, বিএফএ-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ, বড় বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোকারম হোসেন মোয়াজ্জেম, কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্সের প্রতিনিধি এস এম কাদেরী শাকিল, পল্লীবিদ্যুতের জিএম হারুন-অর-রশিদ, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহেদুল হক, জেলা তথ্য কর্মকর্তা তৌহিদুজ্জামান, জেলা শিশু কর্মকর্তা মখলেছুর রহমান বাজার মনিটরিং অফিসার রবিউল ইসলাম প্রমুখ।

সভায় এছাড়াও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ বজায় রাখা,আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত টহল অব্যাহত রাখা, পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরি প্রতিরোধ,ইভটিজিং,কুষ্টিয়া সরকারী কলেজে বহিরাগতদের উপদ্রব বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহন, যৌন হয়রানী এবং চলচ্চিত্রে অশ্লীলতা প্রতিরোধ,অবৈধ যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, মানব পাচার রোধ, বকেয়া বিদ্যুৎ বিল আদায়, ফরমালিন সনাক্তকরণে ফলের স্যাম্পল সংগ্রহকরণ ইত্যাদি বিষয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়।

ভালো জাতের চারায় ভালো ও বেশি ফল

কৃষি প্রতিবেদক ॥ ভালো ও বেশি ফল পেতে হলে প্রথমেই দরকার স্বাস্থ্যবান ভালো জাতের চারা। তারপর চাই সেগুলো সঠিকভাবে লাগানো। যেনতেনভাবে ফলের চারা-কলম লাগালে সেসব গাছ থেকে কখনো খুব ভালো ফল আশা করা যায় না। মানসম্পন্ন ফল পেতে হলে প্রথমেই কাংক্ষিত জাতের চারা বা কলম সংগ্রহ করতে হবে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সিডরের আঘাতে অনেক ফলের গাছ সহজে উপড়ে গেছে। এ সবই অনভিজ্ঞতার ফল। শুধু বাণিজ্যিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকায় বেশির ভাগ নার্সারিতেই এখন মানসম্পন্ন চারাকলম তৈরি হচ্ছে না, তৈরি হলেও সেসব কলমের খাসি করা ঠিকভাবে হচ্ছে না। ফলে অল্প শিকড় নিয়ে গাছ বড় হওয়ায় সহজে ঝড়-বাতাসে গাছ পড়ে যাচ্ছে। ফলগাছ রোপণের সময় যেসব কাজ করা হয় তার ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যৎ গাছের বৃদ্ধি। গর্ত খনন থেকে শুরু করে চারাকলম রোপণ পর্যন্ত সকল কাজের ক্ষেত্রে বেশ কিছু নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। এসব নিয়ম ঠিকমতো মানা না হলে গাছের বৃদ্ধিই শুধু নয়, ফলনের ওপরও প্রভাব পড়ে। তাই প্রতিটি ক্ষেত্রে বিশেষ নজর দেয়ার দরকার আছে। গর্ত তৈরি ঃ আমগাছের কলম লাগানোর জন্য যত বড় গর্ত করতে হবে পেয়ারার জন্য তা নয়, কাগজী লেবুর জন্য গর্ত হবে তার চেয়েও ছোট। বড় গাছ যেমন- আম, জাম, কাঁঠাল, ডেওয়া ইত্যাদির জন্যও গর্তের মাপ হবে সব দিকে ৯০ সেন্টিমিটার। মাঝারি গাছ যেমন- পেয়ারা, বাতাবিলেবু, কমলা, তৈকর, জামরুল ইত্যাদির জন্য গর্তের মাপ হবে সব দিকে ৭৫ সেন্টিমিটার। ছোট গাছ যেমন- কাগজী লেবু, করমচা, লুকলুকি, কলা, পেঁপে ইত্যাদির জন্য গর্তের মাপ হবে সব দিকে ৪৫ সেন্টিমিটার। ওপরের মাপে গর্ত খননের সময় ওপরের মাটি গর্তের এক পাশে এবং নিচের মাটি গর্তের আরেক পাশে রেখে প্রথমে জৈব সার মেশাতে হবে। এভাবে রেখে দেয়ার ৪ থেকে ৫ দিন পর গাছ রোপণের ৩ থেকে ৪ দিন আগে রাসায়নিক সার মেশাতে হবে। এ সময়ে মাঝে মাঝে এই সার মিশ্রিত মাটি ওলট-পালট করে দিতে হবে। রোপণের সময় ঃ বর্ষার আগে (বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ) বা বর্ষার শুরুতে (আষাঢ়) এবং বর্ষার শেষে (ভাদ্র-আশ্বিন)  ফলগাছের চারাকলম রোপণ করা যেতে পারে। তবে জমি সুনিষ্কাশিত ও বেলে দো-আঁশ প্রকৃতির হলে বর্ষায় ও (আষাঢ়-শ্রাবণ) বৃষ্টির দিন ছাড়া রোপণ করা যায়। শীতকালে চারাকলমের নতুন শিকড় গজায় না বা শিকড়ের বৃদ্ধি আশানুরূপ হয় না বলে শীতের সময় রোপণ না করা ভালো। বিকেলবেলা চারা বা কলম রোপণের উপযুক্ত সময়। রোপণ পদ্ধতি ঃ চারাকলম লাগানোরও বেশ কিছু নিয়ম আছে যেমন- মাটির মধ্যে কতটুকু পুঁতবেন, লাগানোর সময় কোনো ডাল-পাতা ছেঁটে দেবেন কি না অথবা নার্সারি থেকে কিনে এনেই চারাটি লাগাবেন কি না ইত্যাদি। কিছু সাধারণ নিয়ম মেনে চারাকলম লাগালে ওগুলো ভালো থাকে। যেমন-কলম করে সাথে সাথেই বাগানে রোপণ করা চলবে না। তা করলে গাছ রোপণজনিত আঘাতে মরে যেতে পারে এবং কলমের জোড়া খুলে যেতে পারে। সে জন্য কলম করার অন্তত কয়েক মাস পরে তা রোপণ করা ভালো। রোপণ করার আগে চাষ ও মই দিয়ে বাগানের মাটি সমতল করে নেয়া উচিত। রোপণের আগে অবশ্যই দূরত্ব ঠিক করে নকশা করে নেয়া উচিত। গ্রীষ্মেই এ কাজ করে ফেলতে হবে। রোপণের অন্তত ১৫ দিন আগে গর্ত তৈরি করে সার মাটি ভরে রাখতে হবে। গর্ত প্রতি ৫-১০ কেজি গোবর সার, ১০০-১৫০ গ্রাম ইউরিয়া, ১৫০-২৫০ গ্রাম টিএসপি এবং ৭৫-১৫০ গ্রাম এমওপি সার মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। রোপণের কয়েক দিন আগে চারা বা কলম সংগ্রহ করে হার্ডেনিং করতে হবে। এ জন্য ছায়াযুক্ত জায়গায় কয়েক দিন চারাকলম শুইয়ে রেখে পাতা ঝরাতে হবে। মাঝে মাঝে গোড়ার মাটির বলে ও গাছে হালকা পানির ছিটা দিতে হবে। এতে গাছের রোপণোত্তর মৃত্যুঝুঁকি কমে যায়। লাগানোর সময় লক্ষ্য রাখতে হবে যেন চারাকলমের গোড়ার মাটির বলটি ভেঙে না যায়। মাটির টবে বা পলিব্যাগে চারাকলম থাকলে কিছুটা পানি দিয়ে মাটি সামান্য নরম করে নিতে হবে। এরপর টব মাটিতে কাত করে গড়িয়ে এবং পলিব্যাগ গড়িয়ে বা দুই হাতের তালু দিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে চেপে নরম করে নিতে হয়। টব বা পলিব্যাগের চারাকলমের গোড়ায় হাত দিয়ে চেপে ধরে সম্পূর্ণ চারা বা কলমটি উল্টো করে ধরে টব বা পলিব্যাগ ওপরের দিকে টান দিলে বা টবটির কিনারা শক্ত কোনো জায়গায় ধীরে ধীরে টোকা দিলে মাটির বলটি বেরিয়ে আসে এবং সেটি গর্তে স্থাপন করতে হয়। অবশ্য পলিব্যাগের চারাকলমের ক্ষেত্রে চাকু বা ব্লেড দিয়ে পলিব্যাগের এক দিক কেটে অথবা মাটির টবটির চার দিক আস্তে আস্তে ভেঙে দিয়ে মাটির সম্পূর্ণ বলটি বের করে এনেও গর্তে বসানো যায়। গর্তে বসানোর সময় চারাকলমের গোড়া টবে বা পলিব্যাগে যে পর্যন্ত গোড়ায় মাটি ছিল বা বাইরে ছিল সে পর্যন্তই বাইরে রাখতে হয়। এর বেশি পুঁতে দেয়া বা ওপরে রাখা কোনোটাই ঠিক নয়। রোপণের সময় অতিরিক্ত পাতা ছাঁটাই করে দিতে হয়। তবে এটি সতর্কতার সাথে করতে হয়, যেন চারাকলমের গাছটি আঘাতপ্রাপ্ত না হয়। চারা কলম রোপণের পর গোড়ার মাটি কিছুটা চেপে দিয়ে পানি ছিটিয়ে দিতে হয়। চারাকলম যদি বড় হয় তবে এটিকে সোজা ও শক্ত রাখার জন্য গাছ থেকে ১০-১৫ সেন্টিমিটার দূরে একটি খুঁটি পুঁতে একটু কাত করে সুতলী দিয়ে হালকাভাবে বেঁধে দিতে হয়। শক্ত করে বাঁধলে অনেক সময় চারাকলমের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। ঝড়ো বাতাসে উপড়ে যাওয়া থেকে চারাকলমকে এই খুঁটি রক্ষা করে। চারাকলমের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজন হলে বেড়া বা খাঁচার ব্যবস্থা করতে হয়। নতুন কুড়ি বা পাতা না আসা পর্যন্ত গাছে উপরি সার দেয়ার প্রয়োজন নেই। তবে এই সময়ে গাছের গোড়ায় প্রয়োজন অনুযায়ী পানি সেচের ব্যবস্থা করতে হয়।

কেইনের হ্যাটট্রিকে জয়রথে ইংল্যান্ড

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥  হ্যাটট্রিক উপহার দিলেন হ্যারি কেইন। জালের দেখা পেলেন রাহিম স্টার্লিংও। ফরোয়ার্ডদের নৈপুণ্যে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাইয়ে দাপুটে জয়ের ধারা ধরে রাখল ইংল্যান্ড।লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে শনিবার বাছাইয়ের ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচটি ৪-০ গোলে জিতেছে ইংল্যান্ড। টানা তিন জয়ে ৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে তারা।চেক রিপাবলিককে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পর নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মন্টেনেগ্রোকে ৫-১ ব্যবধানে হারিয়েছিল ইংল্যান্ড।উনবিংশ মিনিটে রাহিম স্টার্লিংয়ের ক্রসে কেইন জাল খুঁজে পেলেও অফসাইডের কারণে গোল হয়নি। পাঁচ মিনিট পর গোলরক্ষকের ভুলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড।চারপাশে বেশ কজন ইংলিশ ফুটবলার থাকলেও ছোট করে গোলকিক নেন প্লামেন। সতীর্থের কাছ থেকে ফিরতি বল পেয়ে এবার বাঁ দিকে থাকা আরেক জনের কাছে ঠেলে বিপদ ডেকে আনেন তিনি। দ্রুত বলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া স্টার্লিংয়ের ব্যাক পাস থেকে লক্ষ্যভেদ করেন টটেনহ্যাম হটস্পারের ফরোয়ার্ড কেইন।দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে পেনাল্টি থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন কেইন। ম্যাচে চালকের আসনে বসে ইংল্যান্ড। ডি-বক্সের মধ্যে মারকাস র‌্যাশফোর্ড ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টির বাঁশি বাজিয়েছিলেন রেফারি।৫৫তম মিনিটে ইংল্যান্ড তৃতীয় গোলটিও পায় বুলগেরিয়ার ভুলে। প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের দুর্বল পাস ধরে র‌্যাশফোর্ডের সঙ্গে বল দেওয়া নেওয়া করে ডি-বক্সের ঢুকে পড়েন কেইন। ২৬ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের বাড়ানো বল ঊরু দিয়ে ঠেলে জালে জড়ান স্টার্লিং।৭৩তম মিনিটে আরেকটি স্পট কিকে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন কেইন। বক্সে তিনি নিজেই ফাউলের শিকার হয়েছিলেন। জাতীয় দলের হয়ে ৪০ ম্যাচে কেইনের গোল হলো ২৫টি। চলতি বাছাইয়ে তিন ম্যাচে এটি তার পঞ্চম গোল। এই গ্রুপের অন্য ম্যাচে নিজেদের মাঠে চেক রিপাবলিককে ২-১ গোলে হারানো কসোভো চার ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে। ৬ পয়েন্ট নিয়ে চেক রিপাবলিক তৃতীয়  স্থানে রয়েছে। বুলগেরিয়া ও মন্টেনেগ্রোর পয়েন্ট ২ করে

পর্তুগালের প্রথম জয়ে রোনালদোর গোল

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাইয়ে টানা দুই ম্যাচে পয়েন্ট ভাগাভাগির পর আবারও ড্রয়ের শঙ্কায় পড়েছিল পর্তুগাল। শেষ পর্যন্ত ছয় গোলের রোমাঞ্চ ছড়ানো ম্যাচে প্রথম জয়ের স্বাদ পেয়েছে প্রতিযোগিতাটির শিরোপাধারীরা। ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে শনিবার সার্বিয়ার মাঠ থেকে ৪-২ গোলের জয় নিয়ে ফেরা পর্তুগাল তিন ম্যাচে ৫ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে। চ্যাম্পিয়নদের গোল চারটি করেন উইলিয়াম কারভালিয়ো, গনসালো গেদেস, ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো ও বের্নার্দো সিলভা। ইউক্রেনের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করা পর্তুগাল দ্বিতীয় ম্যাচে নিজেদের মাঠে সার্বিয়ার সঙ্গে ১-১ ড্র করেছিল। দুসান তাদিচের শট জাল খুঁজে পেলে তৃতীয় মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারতো সার্বিয়া। এরপর নবম মিনিটে পর্তুগালের ব্রুনো ফের্নান্দেস, একাদশ মিনিটে রোনালদোর প্রচেষ্টা খুঁজে পায়নি ঠিকানা।২৯তম মিনিটে রোনালদোর আরেকটি শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার পর ৪২তম মিনিটে কাক্সিক্ষত গোল পায় পর্তুগাল। ডি-বক্সের জটলার মধ্য থেকে লক্ষ্যভেদ করেন কারভালিয়ো।দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে রোনালদোর শট আবারও লক্ষ্যভ্রষ্ট। এরপর ৫৮তম মিনিটে ফের্নান্দেসের বাড়ানো বল ধরে ডি-বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের কোনাকুনি শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন গেদেস। দশ মিনিট পর হেডে লক্ষ্যভেদ করে সার্বিয়াকে ম্যাচে ফেরান নিকোলা মিলেনকোভিচ।৮০তম মিনিটে সিলভার বাড়ানো বল নিখুঁত শটে জালে জড়িয়ে ব্যবধান বাড়ান রোনালদো। চলতি বাছাইয়ে এই প্রথম গোল পেলেন ইউভেন্তুসের তারকা ফরোয়ার্ড। পাঁচ মিনিট পর আলেকসান্দার মিত্রোভিচের গোলে জমে ওঠে ম্যাচ।৮৬তম মিনিটে সিলভার গোলে স্কোরলাইন ৪-২ করে নেয় পর্তুগাল।শনিবার ‘বি’ গ্রুপের অন্য ম্যাচে লিথুনিয়ার মাঠ থেকে ৩-০ গোলের জয় নিয়ে ফেরা ইউক্রেন পাঁচ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে। ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচে হ্যারি কেইনের হ্যাটট্রিকে বুলগেরিয়াকে ৪-০ ব্যবধানে হারানো ইংল্যান্ড টানা তিন জয়ে ৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে। নিজেদের মাঠে চেক রিপাবলিককে ২-১ গোলে হারানো কসোভো চার ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে।

আকবরের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে যুবাদের জয়

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপে টানা দ্বিতীয় জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। অধিনায়ক আকবর আলীর ব্যাটিং নৈপুণ্যে গ্রুপ পর্বে নেপালকে সহজেই হারিয়েছে যুবারা।শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় রোববার ৬ উইকেটে ম্যাচটি জিতে বাংলাদেশ। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৬১ রান তোলে নেপাল। জবাবে ৪৯.২ ওভারে ২৬২ রান করে লক্ষ্যে পৌঁছায় বাংলাদেশ।টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন রাকিবুল হাসান। ৩২ রান করা রিত গৌতমকে ফেরান বাঁহাতি এই স্পিনার। আরেক ওপেনার পবন সরাফ ও সন্দীপের ফিফটিতে চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে নেপাল। সর্বোচ্চ ৮১ রান করেন পবন। দুটি করে উইকেট নেন শাহীন আলম ও তানজিম হাসান।রান তাড়ায় শুরুতেই ফেরেন দুই ওপেনার তানজিদ হাসান ও অনীক সরকার। তৃতীয় উইকেটে প্রতিরোধ গড়েন মাহমুদুল হাসান জয় ও তৌহিদ হৃদয়। ৪০ রান করা মাহমুদুলের বিদায়ে ভাঙে ৭৭ রানের জুটি। ৬০ রান করে ফিরে যান হৃদয়। এরপর শামীম হোসেনের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ১৩০ রানের জুটিতে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন অধিনায়ক আকবর। ৮২ বলে ১৪ চারে ৯৮ রান করে অপরাজিত থাকেন উইকেটরক্ষক এই ব্যাটসম্যান। শামীম অপরাজিত থাকেন ৪২ রানে।শুক্রবার নিজেদের প্রথম ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৬ উইকেটে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশের আরেক প্রতিপক্ষ স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা। ১০ সেপ্টেম্বর গ্রুপের শেষ ম্যাচে তাদের মুখোমুখি হবে আকবররা। সংক্ষিপ্ত স্কোর:- নেপাল অনূর্ধ্ব-১৯ দল: ৫০ ওভারে ২৬১/৮ (গৌতম ৩২, পবন ৮১, আসিফ ৩, কুশাল ২৮, রোহিত ১৪, সন্দীপ ৫৬, ভীম ২১, রশিদ ৬, কমল ৯*, চৌহান ১*; তানজিম ২/৫১, মৃত্যুঞ্জয় ১/৫৫, রাকিবুল ১/৩২, শাহীন ২/৫৮, মিজানুর ১/৩৫, শামীম ০/৩, হৃদয় ১/২৪)

বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল: ৪৯.২ ওভারে ২৬২/৪ (তানজিদ ৯, অনীক ৫, মাহমুদুল ৪০, হৃদয় ৬০, আকবর ৯৮*, শামীম ৪২*; কমল ২/৫৯, রশিদ ১/৪৯, সাগর ০/৩৫, পবন ০/৫০, চৌহান ১/১৭)

ফল: বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ৬ উইকেটে জয়ী

আফগানিস্তানের কাছে হারের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ চট্টগ্রাম টেস্টে আফগানিস্তানের কাছে হারের দ্বারপ্রান্তে স্বাগতিক বাংলাদেশ। আফগানিস্তানের ছুড়ে দেয়া ৩৯৮ রানের বড় লক্ষ্যে খেলতে নেমে চতুর্থ দিন শেষে ৬ উইকেটে ১৩৬ রান করেছে সাকিবের দল। তাই সিরিজের একমাত্র ম্যাচ জিততে পঞ্চম ও শেষ দিন হাতে থাকা ৪ উইকেট থেকে আরও ২৬২ রান করতে হবে বাংলাদেশকে। আর টাইগারদের ৪ উইকেট নিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে দ্বিতীয় জয়ের স্বাদ নিবে আফগানিস্তান। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশকে ২০৫ রানে অলআউট করে দিয়ে ১৩৭ রানের লিড পায় আফগানিস্তান। কারন প্রথম ইনিংসে ৩৪২ রান করেছিলো তারা। তাই বড় লিডকে সাথে নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে খেলতে নেমে তৃতীয় দিন শেষে ৮ উইকেটে ২৩৭ রান করেছিলো আফগানরা। এসময় ২ উইকেট হাতে নিয়ে ৩৭৪ রানে এগিয়েছিলো রশিদের দল।আগের দিন আফসার জাজাই ৩৪ ও আহমাদজাই শূন্য রানে অপরাজিত ছিলেন। তাই চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করেন জাজাই ও আহমাদজাই। তবে আজ ভালো কিছু করতে পারেননি তারা। বাকী ২ উইকেট থেকে মাত্র ২৩ রান যোগ করতে পারে আফগানিস্তান। ২৬০ রানে দ্বিতীয় ইনিংসে গুটিয়ে যায় তারা। আহমাদজাই ৯ ও জহির খান শূন্য রানে আউট হন। তবে ৩টি চার ও ১টি ছক্কায় ১১০ বলে ৪৮ রানে অপরাজিত থাকেন জাজাই। আহমাদজাই রান আউট হলেও, শেষ ব্যাটসম্যান জহিরকে শিকার করে আফগানিস্তানের ইনিংসের ইতি টানেন মিরাজ। বাংলাদেশের সাকিব ৩টি, তাইজুল-নাইম-মিরাজ ২টি করে উইকেট নেন।দ্বিতীয় ইনিংসে ২৬০ রানে গুটিয়ে বাংলাদেশকে টেস্ট জয়ের জন্য ৩৯৮ রানের টার্গেট দেয় আফগানিস্তান। সেই লক্ষ্যে ব্যাটিং অর্ডার অদল-বদল করে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে বাংলাদেশ। এবার সৌম্য সরকারের পরিবর্তে সাদমান ইসলামের সাথে ইনিংস শুুরু করেন লিটন দাস। কিন্তু ব্যাট হাতে সুবিধা করতে পারেননি তিনি। ৩০ বলে ৯ রান করে বাঁ-হাতি স্পিনার জহিরের বলে দলীয় ৩০ রানে আউট হন লিটন।প্রথম ইনিংসে তিন নম্বরে নেমেছিলেন লিটন। লিটন ওপেনার হিসেবে আউট হওয়াতে এবার সেখানে ব্যাট হাতে নামেন আগের ইনিংসে আট নম্বরে অপরাজিত ৪৮ রান করা মোসাদ্দেক হোসেন। কিন্তু ব্যাটিং অর্ডার পরিবর্তন করেও মোসাদ্দেকের কাছ থেকে ভালো কিছু পায়নি বাংলাদেশ। জহিরের দ্বিতীয় শিকার হয়ে ১২ রানে থেমে যান মোসাদ্দেক।৫২ রানে দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে মোসাদ্দেকের বিদায়টা চাপ বাড়িয়ে দেয় বাংলাদেশের। সেই চাপ আরও বেশি বড় হয়, মিডল-অর্ডারে ভরসার অন্যতম দুই কান্ডারি মুশফিকুর রহিম-মোমিনুল বিদায় নিলে।এখানেও বাংলাদেশের ব্যাটিং অর্ডারের পরিবর্তন চোখে পড়ার মত ছিলো। প্রথম ইনিংসে ছয় নম্বরে ব্যাট করা মুশফিকর, এবার নামেন চার নম্বরে। চার নম্বরে ব্যাট করা মোমিনুল নামেন পাঁচ নম্বরে। কিন্তু এত পরিবর্তন করে কাজের-কাজই হয়নি বাংলাদেশের। মুশফিকুর ২৩ ও মোমিনুল ৩ রানে ফিরেন। দু’জনই আফগানিস্তানের অধিনায়ক রশিদের খানের শিকার হন। দলীয় ৮২ রানের মধ্যে ফিরেন তারা।ব্যাটিং পরিবর্তনের তালিকা থেকে বাদ পড়েননি বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব। প্রথম ইনিংসে পাঁচ নম্বরে নামা সাকিব, এবার আসেন ছয় নম্বরে। উপরের সারির ব্যাটিং অর্ডার পরিবর্তনে কোন কাজ না দিলেও, সাকিবের পরিবর্তন কাজে লেগেছে। দিন শেষে ৪টি চারে ৪৬ বলে ৩৯ রানে অপরাজিত সাকিব।সাকিবের চেয়ে বেশি রান করে আউট হয়েছেন ওপেনার সাদমান। দলের সতীর্থরা যখন ব্যাটিং অর্ডার পরিবর্তনের মধ্যে শোরগোল খাচ্ছেন, তখন এক প্রান্ত আগলে ৪টি চারে ১১৪ বলে ৪১ রান করে আউট হন সাদমান। সাদমানের বিদায়ে দলীয় ১০৬ রানে ক্রিজে এসেছিলেন মাহমুদুল্লাহ। একমাত্র মাহমুদুল্লাহরই পজিশন পরিবর্তন হয়নি। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। এবারও ৭ রান করে প্রথম ইনিংসের মত রশিদের বলে আউট হন তিনি।তাই দিন শেষে ক্রিজে সাকিবের সঙ্গী হন ব্যাটিং অর্ডারে ডিমোশন হওয়া সৌম্য। তবে সৌম্যকে দিন শেষ করেছেন সাকিব। সৌম্য শুন্য রানে অপরাজিত আছেন। আফগানিস্তানের রশিদ ৩টি, জহির দু’টি ও নবী ১টি উইকেট নেন। স্কোর কার্ড (টস-আফগানিস্তান) :

আফগানিস্তান প্রথম ইনিংস : ২৭১/৫, ৯৬ ওভার (রহমত ১০২, আসগর ৮৮*, জাজাই ৩৫*, নাইম ২/৪৩, তাইজুল ২/৭৩)।

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : ২০৫/১০, ৭০.৫ ওভার (মোমিনুল ৫২, মোসাদ্দেক ৪৮*, রশিদ ৫/৫৫)।

আফগানিস্তান দ্বিতীয় ইনিংস : ২৬০/১০, ৯০.১ ওভার (জাদরান ৮৭, আসগর ৫০, সাকিব ৩/৫৮)।

বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস : ১৩৬/৬, ৪৪.২ ওভার (সাদমান ৪১, সাকিব ৩৯*, রশিদ ৩/৪৬)।