দ্বিতীয় কন্যার মা হলেন কণ্ঠশিল্পী সালমা

বিনোদন বাজার ॥ ‘ক্লোজআপ ওয়ান’ খ্যাত কণ্ঠশিল্পী মৌসুমী আক্তার সালমা মা হয়েছেন। দ্বিতীয়বারের মতো মাতৃত্বের স্বাদ পেলেন তিনি। এবারও তার কোল আলো করে এসেছে কন্যাসন্তান।সালমার পরিবার সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে, গত ১ সেপ্টেম্বর রাত ১১টায় রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন সালমা। বর্তমানে মা ও মেয়ে সুস্থ রয়েছেন।সালমার দ্বিতীয় কন্যার নাম রাখা হয়েছে সাফিয়া নূর। সালমা তার নবাগত সন্তানের জন্য সবার দোয়া চেয়েছেন।এর আগে গত বছর ৩১ ডিসেম্বর পারিবারিকভাবে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের ছেলে সানাউল্লা নূরে সাগরকে বিয়ে করেন সালমা। সাগর আইনজীবী। বর্তমানে লন্ডনে ‘বার অ্যাট ল’ করছেন। এটি সাগর-সালমা দুজনেরই দ্বিতীয় বিয়ে। এরও আগে ২০১১ সালে সালমা প্রথমবার বিয়ে করেন রাজনীতিবিদ শিবলী সাদিককে। ২০১২ সালের ১ জানুয়ারি তাদের সংসারে একটি কন্যাসন্তান জন্ম হয়। তার নাম স্নেহা। ২০১৬ সালের ২০ নভেম্বর তাদের বিচ্ছেদ হয়।

৮৬ বছরে পা রাখছেন গানের পাখি আশা ভোঁসলে

কী বর্ণাঢ্য এক ক্যারিয়ার! প্রায় ছয়টি দশক তিনি সুরে সুরে মাতিয়ে রেখেছেন। বাংলা, হিন্দি, তামিল- কত রকমের ভাষায় কত হাজার হাজার গান। বয়স তার কাছে কেবলই একটি সংখ্যা মাত্র। ৮০ পেরিয়েও এখনো রোজ রোজ রেওয়াজ করেন, গানের সঙ্গে করেন বসবাস।বলছি উপমহাদেশের কিংবদন্তী গায়িকা আশা ভোঁসলের কথা। আজ তার জন্মদিন। ৮৫ পেরিয়ে তিনি পা রাখবেন ৮৬ বছরে।সেই ১৯৫০ সাল থেকে হিন্দি ছবির জগতে ধীরে ধীরে শুরু হয় আশা ভোঁসলের উত্থান। ৫০, ৬০, ৭০, ৮০ এবং ৯০-এর দশকে শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালকদের সঙ্গে একের পর এক হিট গান উপহার দিয়েছেন শ্রোতাদের। সেই তিনি আজও এভারগ্রিন!১৯৩৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর মহারাষ্ট্রের সাংলিতে মঙ্গেশকর পরিবারে জন্ম আশা ভোঁসলের। তার বড় বোন উপমহাদেশের আরেক সঙ্গীত নক্ষত্র লতা মঙ্গেশকর। মাত্র ৯ বছর বয়সে বাবাকে হারিয়ে পরিবারের সঙ্গে চলে আসেন পুনে থেকে কোলহাপুরে এবং পরবর্তী সময়ে মুম্বাইয়ে। ১৯৪৩ সালে জীবনে প্রথমবার কোনো ছবির জন্যে গান করেন তিনি।মারাঠি ছবি ‘মাঝা বাল’র চালা চালা নভ বালা গানটি শোনা যায় আশার গলায়। হিন্দি ছবির জগতে তার পা রাখা ১৯৪৮ সালে হংশরাজ বেহলের ছবি চুনারিয়া দিয়ে। তবে হিন্দি ছবিতে তার প্রথম একক গান শোনা গিয়েছিল ১৯৪৯ সালে মুক্তি পাওয়া রাত কি রানি-তে।তার দখলে রয়েছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড। কোনো একজন শিল্পীর রেকর্ড করা গানের সংখ্যায় তিনি বিশ্বের সবাইকে ছাপিয়ে গিয়েছেন। গানের জগতে এক অনন্য ধারা তৈরি করেছেন তিনি। প্রিয় গায়িকার জন্মদিনে তাকে শুভেচ্ছায় সিক্ত করবেন কোটি কোটি গানের ভক্তরা। বরাবরের মতো আশাকে এবারেও জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ দেশটির নানা অঙ্গনের তারকা ব্যক্তিত্বরা। শুভেচ্ছা জানাবেন আশার বড় বোন লতা মঙ্গেশকরও।

জানা গেল প্রিয়াঙ্কার মূল্যবান সম্পদ কী

বিনোদন বাজার ॥ নিকের দেয়া বিয়ের মঙ্গলসূত্র এবং তার বাবার (অশোক চোপড়া) দেয়া হীরের আংটিই তার কাছে সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। সম্প্রতি ‘ভ্যানিটি ফেয়ারকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই মন্তব্য করেছেন দেশি গার্ল প্রিয়াঙ্কা চোপড়া।

ভ্যানিটি ফেয়ার ‘বেসড ড্রেসড পিপল অফ ২০১৯’ এর অনুষ্ঠানে নিকের সঙ্গেই হাজির ছিলেন প্রিয়াঙ্কা। সেখানেই এক সাক্ষাৎকারে প্রিয়াঙ্কাকে প্রশ্ন করা হয় তার কাছে সবচেয়ে মূল্যবান সম্পত্তি কী? জবাবে প্রিয়াঙ্কা বলেন, ”আমার মঙ্গলসূত্র, যেটা কিনা ভারতীয় বিয়ের রীতিতে বিয়ের সময় স্বামী তার স্ত্রীর গলায় পরিয়ে দেয়। আর আমার হাতের আঙুলে থাকা হীরের আংটি যেটা আমার বাবা আমায় দিয়েছিল।” প্রিয়াঙ্কা আরও বলেন, তিনি সঙ্গে সবসময় তার বাবার দেয়া একটা সোনার কয়েন রেখে দেন। ‘গুড লাক চার্ম’ হিসাবেই তিনি তার কাছে ওটা রাখেন বলে জানান দেশি গার্ল।

‘দ্য মোস্ট ইন্সপায়ারিং এশিয়ান ওম্যান’ আলিয়া ভাট

বিনোদন বাজার ॥ বয়স কম হলেও বলিউডে সফলতা দিয়ে সেটি কখনো বোঝা যায়নি আলিয়ার। একের পর এক সিনেমা হিট, সফলতার ঝুলিতে অ্যাওয়ার্ড। এছাড়াও বলিউডজুড়ে তার প্রশংসারও কমিত নেই। বাবা মহেশ ভাটের পরিচয়ের বাইরে নিজের মৌলিক একটি জায়গা করে নিয়েছেন আলিয়া ভাট। সম্প্রতি তার ঝুলিতে জমা হলো আরো একটি সফলতা।টেলিভিশন চ্যানেলের পিপল চয়েস অ্যাওয়ার্ড ২০১৯, ‘দ্য মোস্ট ইন্সপায়ারিং এশিয়ান ওম্যান’ ক্যাটাগরিতে একমাত্র ভারতীয় হিসেবে মনোনীত হয়েছেন আলিয়া ভাট। আলিয়া ছাড়াও এই তালিকায় আরো ৭ জনের নাম রয়েছে। তবে তারা কেউই ভারতীয় নন।এই নমিনেশনের তালিকায় নাম রয়েছে থাই মডেল চুটিমন চুয়েনগচারোসুকিং, সাউথ কোরিয়ান গায়ক সি এল, সাউথ কোরিয়ান অভিনেতা ইয়াং-ইউ-মি, প্রায়া লুন্ডবার্গ, রালিন শাহ, ইউনা, জো ডনগিউ-এর। এই ৭ জনের মধ্য থেকে ভোটাভুটির মাধ্যমে ‘দ্য মোস্ট ইন্সপায়ারিং এশিয়ান ওম্যান’ হিসেবে একজনকে বেছে নেওয়া হবে।এরইমধ্যে ভোটাভুটির জন্য ভোটিং লাইন খুলে দেওয়া হয়েছে। ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত এই ভোটাভুটি চলবে। তবে ভোটাভুটির পর ‘দ্য মোস্ট ইন্সপায়ারিং এশিয়ান ওম্যান হিসেবে কে নির্বাচিত হন এখন সেটাই দেখার। আগামী ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে পিপলস চয়েস অ্যাওয়ার্ড-২০১৯।

অনেকদিন পর একসঙ্গে মঞ্চ মাতালেন খালিদ ও টুটুল

বিনোদন বাজার ॥ টুটুল ও খালিদ, দেশের এই দুই জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পীর একসঙ্গে পথচলা অনেকবছর ধরে। একসঙ্গে যৌথ অ্যালবামে গান গেয়েছেন তারা। এদেশের বাংলা গানে অগণিত জনপ্রিয় গান গেয়েছেন দু’জনই। খালিদের কণ্ঠের গান আগামী কয়েক প্রজন্মের তারুণ্যকে প্রতিনিধিত্ব করবে।অন্যদিকে এস আই টুটুল তার গান ও সুর দিয়ে নিজের নামের একটি জনপ্রিয় অবস্থান তৈরি করেছেন। পেয়েছেন একাধিক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।প্রায় ১০ বছর আগে জনপ্রিয় এই দুই শিল্পীর যৌথ অ্যালবাম ‘দ্বিধা’ শ্রোতাদের ভেতরে দারুণ সাড়া ফেলে। দুই মেলোডি সুরের সারথি এবারের ফোবানা সম্মেলনে একই মঞ্চে পারফর্ম করলেন। কণ্ঠশিল্পী খালিদ বলেন , ‘একসঙ্গে এক মঞ্চ অনেকবার শেয়ার করেছি। কিন্তু এবার ফোবানায় একসঙ্গে পারফর্ম করে সত্যিই ভালো লাগছে । দর্শকরাও খুব এনজয় করেছে।’এস আই টুটুল বলেন, ‘এখন স্টেজ শো আর মিউজিক নিয়ে পড়াশোনার কাজে আমেরিকা থাকছি বেশ কিছুদিন। এখানে অনেকের সঙ্গেই গেয়েছি। খালিদ ভাই আমার দীর্ঘদিনের পরিচিত ও প্রিয় মানুষ। আমার সুরে একটি অ্যালবামও তিনি করেছেন। অনেকদিন পর দেশের বাইরে এভাবে একই মঞ্চে গেয়ে সত্যিই ভালো লাগছে।’উল্লেখ্য, বিদেশ-বিভূঁইয়ে থাকলেও খালিদ বা টুটুল তাদের শ্রোতা-দর্শকদের জন্য নতুন গানের কাজ করছেন নিয়মিত। খুব শিগগিরই তাদের গান প্রকাশ পাবে বলে জানা গেছে।

অনুষ্কাকে প্রথম দেখায় যে হাল হয়েছিল বিরাট কোহলির

বিনোদন বাজার ॥ প্রায়ই খবরের শিরনামে দেখা যায় ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক বিরাট কোহলি এবং বলিউড তারকা অনুষ্কা শর্মাকে। একটি শ্যাম্পুর কমার্শিয়াল অ্যাডের সুবাদে তাদের প্রথম দেখা। কিন্তু জানেন কি, অনুষ্কাকে প্রথম দেখার পর বিরাট কোহলির অবস্থা কেমন হয়েছিল? বিরাট কোহলি খুবই নার্ভাস হয়ে গেছিলেন। অকপটে জানিয়েছেন সেই কথা। গ্রাহাম বেনসিঙ্গারের একটি শো ‘ইন ডেপথ উইথ গ্রাহাম বেনসিঙ্গার’ -তে বিরাট কোহলি জানিয়েছিলেন, যখন তার সাথে অনুষ্কার প্রথম সাক্ষাৎ হয়েছিল, তখন তিনি খুবই ঘাবড়ে গেছিলেন, কি করবেন তা বুঝে উঠতে পারছিলেন না। ‘আমি ওকে জোক শোনাচ্ছিলাম, কারণ কি করব ঠিক বুঝতে পারছিলাম না।’ প্রথম সাক্ষাতে অনুষ্কার সঙ্গে কি কথা হয়েছিল, তা তার মনে আছে কিনা, জানতে চাওয়া হলে ৩০ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার একটু চমকে উঠে বলেন, ‘আমি এমন কিছু বলে ফেলেছিলাম, যা হয়তো বলা উচিত হয়নি। তিনি বলেন, অনুষ্কা হিলস পরে শুটিং-এর জায়গায় এসেছিলেন, যার ফলে তার থেকে তাকে বেশি লম্বা দেখাচ্ছিল। তাই বিরাট একটু মজা করেই বলেন, ‘এর থেকে উঁচু হিলস আর বাজারে ছিল না?’ তিনি আরও বলেন, ‘তারপর জানিয়েছিলাম যে, আমি একটু মজা করছি। এক অদ্ভুত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল।’ প্রসঙ্গত, বেশ কয়েক বছর ধরে যোগাযোগের পর ২০১৭ সালে বিরাট কোহলি ও অনুষ্কা শর্মা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। তস্কনীর এক গ্রাম্য পরিবেশে আত্মীয় ও কাছের বন্ধুদের সাক্ষী রেখে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এই যুগল। পরে মুম্বাই ও দিল্লিতে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন তারা।

‘গন্ডি’ ছবির শুটিং সেটে সব্যসাচী

বিনোদন বাজার ॥ এর আগে ‘ভুবন মাঝি’ সিনেমা নির্মাণ করে প্রশংসিত হয়েছেন ফাখরুল আরেফিন খান। এবার তিনি নির্মাণ করছেন ‘গন্ডি’ নামের নতুন একটি চলচ্চিত্র। ছবিটির প্রথম ধাপের চিত্রায়ন শেষে দ্বিতীয় ধাপের কাজ শুরু হলো সোমবার। তার আগে রবিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে এক জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে কলাকুশলীদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলেন নির্মাতা। চলচ্চিত্রটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করছেন কলকাতার অভিনেতা সব্যসাচী চক্রবর্তী। রোমান্টিক-কমেডি ঘরানার এই চলচ্চিত্রে তার বিপরীতে অভিনয় করছেন বাংলাদেশের অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফা। তাদের দুজনকে ঘিরেই এগিয়েছে গল্প। গত বৃহস্পতিবার গুলশান পার্কে ছবিটির শুটিং হয়। সেখানে সব্যসাচীর সঙ্গে শুটিংয়ে অংশ নেন বাংলাদেশের মঞ্চনাটকের গুণী অভিনেতা ও নির্দেশক মোহাম্মদ বারী। তিনি বলেন, অভিনেতা নন তিনি, শিল্পী। ফাখরুল আরেফিনের নতুন ছবি ‘গন্ডি’র শুটিং করতে করতে অনুভব করলাম সব্যসাচী চক্রবর্তীর শিল্পীসত্তা। বড় অভিনেতার থেকে বড় মানুষ তিনি। ১৯৯২ সাল থেকে সিনেমায় অভিনয় করছেন সব্যসাচী। বাংলা সিরিয়ালেরও পরিচিত এই মুখ অভিনয় করেছেন শতাধিক বাংলা, হিন্দি ও তামিল ছবিতে। সব্যসাচী বলেন, বাংলাদেশের মানুষ আমাকে অনেক ভালোবাসা দিয়েছে। বহুদিন ধরে আমি তাদের কাছ থেকে যেই ভালোবাসা পেয়েছি তা ভুলবার নয়। আরেফিন ভাই যে আমাকে এ ছবির জন্য ভাবলেন, এটাই আমার কাছে আশ্চর্য লেগেছে। কেননা আমি সারাজীবন হয় পুলিশ, নয় গুন্ডা, নইলে গোয়েন্দা চরিত্রে অভিনয় করে যতদূর আসা সম্ভব হয়েছে, এগিয়েছি। আমার যা চেহারা, আমার তো অভিনেতা হওয়ার কোনো চান্সই ছিল না। আমার অভিনয় গুণ অনেক কম ছিল। কিন্তু আমি জানি না কেমন করে হয়ে গেল। তবে বকা খেয়েছি, অনেক ঘাম ঝরিয়েছি, পরিশ্রম করেছি। সহশিল্পী হিসেবে সুবর্ণা মুস্তাফাকে পেয়েও দারুণ উচ্ছ্বাসিত তিনি। বললেন, আমার সৌভাগ্য যে, আমি এমন একজন অভিনেত্রীর বিপরীতে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি যিনি অসম্ভব জনপ্রিয় এবং অনেক কিছু জানেন। এই ছবিতে কাজ করে আমি এতটুকু বুঝেছি যে, আমি হ্যাঁ বলে ভুল করিনি। প্রবীণ দুজন নারী-পুরুষের গল্প নিয়ে নির্মিত হচ্ছে ‘গন্ডি’। যার প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন সুবর্ণা মুস্তাফা ও সব্যসাচী চক্রবর্তী। আরো অভিনয় করছেন অপর্ণা ঘোষ, মাজনুন মিজান, আমান রেজা, মোহাম্মদ বারী প্রমুখ।

বসতবাড়ির আঙ্গিনায় লেটুস চাষ

কৃষি প্রতিবেদক ॥ শাকসবজি রান্না করতে গিয়ে আমরা এর পুষ্টি উপাদান নষ্ট করে ফেলি। তবে কোনো কোনো শাকসবজি রয়েছে সেগুলো কাঁচা খাওয়া সম্ভব। লেটুস এমনি একটি শাক, যা সালাদ হিসেবে টমেটো, পেঁয়াজ, মরিচ এসবের সঙ্গে ব্যবহার হয়। ফলে এর পুষ্টি থাকে অটুট। লেটুস বেশ পুষ্টিকর। মুখে রুচিও বাড়ায়। এর প্রতি ১০০ গ্রাম পাতায় ৯৯০ মাইক্রোগ্রাম ক্যারোটিন বিদ্যমান। এ ছাড়া ভিটামিন-বি ০.২২ মিলিগ্রাম, ভিটামিন-সি ১০ মিলিগ্রাম, শর্করা ২.৫ গ্রাম, আমিষ-২.১ গ্রাম, চর্বি ০.৩ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৫০ মিলিগ্রাম এবং লৌহ আছে ২৪ মিলিগ্রাম। এ সত্ত্বেও এ দেশে এর আবাদ খুবই সীমিত। অথচ প্রতিটি বসতবাড়ির আঙ্গিনায় লেটুস চাষের রয়েছে যথেষ্ট সুযোগ। এতে পারিবারিক চাহিদা পূরণ হবে। পাশাপাশি বিক্রি করে পাওয়া যাবে নগদ অর্থ। চাষের সময় ঃ শীতপ্রধান দেশে সারা বছর এর চাষ হলেও এ দেশে কেবল রবি মৌসুমে অক্টোবর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত দফায় দফায় বীজ বোনা যেতে পারে। জাত ঃ লেটুসের বিভিন্ন জাত রয়েছে। এসবের মধ্যে বারি লেটুস-১, বিগ বোস্টন, হোয়াইট বোস্টন, প্যারিস হোয়াইট, গ্র্যান্ড ব্যাপিড, নিউইয়র্ক-৫১৫, ইম্পিরিয়াল-৫৪, সিম্পসন, কিং ক্রাউন, কুইন ক্রাউন, ডার্ক, গ্রিন, গ্রেটলেক উল্লেখযোগ্য। চাষের নিয়ম ঃ চাষের জন্য জমি ভালোভাবে প্রস্তুত করে নিতে হবে। এসব জমিতে সরাসরি বীজ বোনা যায়। আবার বীজতলায় বপন করে উপযুক্ত বয়সের চারা (এক মাস বয়সের) মূল জমিতে রোপণ করতে হয়। এক্ষেত্রে লাইন থেকে লাইনের দূরত্ব ১২ ইঞ্চি এবং চারা থেকে চারার দূরত্ব রাখতে হবে ৮ ইঞ্চি। এজন্য শতাংশপ্রতি বীজ দরকার ৪ গ্রাম করে। তবে বীজতলায় বীজ প্রয়োজন হয় ২০ গ্রাম। লেটুসের বীজ খুব ছোট। তাই বপনের সময় বীজের সঙ্গে মাটির কণা বা ছাই ব্যবহার করা উচিত। সার প্রয়োগ ঃ লেটুস চাষে শতাংশ প্রতি যে পরিমাণ সার প্রয়োজন তা হচ্ছে- গোবর ২০ কেজি খৈল ৮০০ গ্রাম, ইউরিয়া ৪০০ গ্রাম, টিএসপি ১০০ গ্রাম, পটাশ ১০০  গ্রাম। এগুলোর মধ্যে গোবর চাষের প্রথম দিকে এবং শেষ চাষের সময় টিএসপি ও পটাশ সার মাটির সঙ্গে ভালো করে মিশিয়ে দিতে হয়। তবে ইউরিয়াকে সমান দু’ভাবে ভাগ করে দু’কিস্তিতে (চারার বয়স ১০ দিন এবং বয়স ২০ দিন) উপরিপ্রয়োগ করে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে হবে। পরিচর্যা ঃ আশানুরূপ ফলন পেতে জমিকে সর্বদাই আগাছামুক্ত রাখতে হবে। মাটিতে রস না থাকলে সেচ দেয়া জরুরি। তেমনিভাবে পানি জমে থাকলে সঙ্গে সঙ্গে নিকাশের ব্যবস্থা করতে হবে। গাছ বড় হওয়ার সাথে সাথে এর গোড়ায় মাটি তুলে দিতে হয়। প্রয়োজনে চারা পাতলা করা বাঞ্ছনীয়। এতে একদিকে যেমন গাছ ঠিকভাবে বেড়ে উঠবে, পক্ষান্তরে উত্তোলিত সবজি ব্যবহার করা যাবে। বালাই ব্যবস্থাপনা ঃ লেটুসের পাতায় কখনো কখনো ‘ছাতা’ রোগ দেখা দিতে পারে। এ রোগের লক্ষণ হচ্ছে- গাছের পাতা নুইয়ে পড়া এবং পাতার অগ্রভাগ পুড়ে যাওয়া। এমন হলে আক্রান্ত গাছ অবশ্যই ধ্বংস করে ফেলতে হবে। তবে বীজ ও মাটি শোধন করে এ রোগ থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব। পোকার মধ্যে জাবপোকা খুব ক্ষতিকর। এরা গাছের পাতার রস চুষে খেয়ে ফেলে। এ ছাড় পোকার মলদ্বার থেকে এক ধরনের তরল পদার্থ বের হয়ে, যা পাতায় আটকে ‘সুটি মোল্ড’ নামে এক প্রকার কালো বর্ণের ছত্রাক জন্মায়। ফলে আক্রান্ত অংশের সালোকসংশ্লেষণ ক্রিয়া বিঘিœত হয়। তাই এদের দমন করতেই হবে। তবে পোকার সংখ্যা কম হলে হাত দিয়ে ধরে মেরে ফেলা উত্তম। আক্রমণ বেশি হলে অনুমোদিত কীটনাশক সঠিক মাত্রায় প্রয়োগ করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে ওষুধ ছিটানোর ১৫ দিনের মধ্য সবজি খাওয়া উচিত নয়। এজন্য পারতপক্ষে কীটনাশক ব্যবহার না করাই উচিত। ফসল সংগ্রহ ঃ চারা লাগানোর এক মাস পর লেটুস পাতা খাওয়ার উপযুক্ত হয়। ওই সময় সম্পূর্ণ গাছ তোলাই উত্তম, তবুও বসতবাড়ির এক একটি গাছ থেকে প্রয়োজনীয় পাতা সংগ্রহ করে ব্যবহার করা যেতে পারে। শতাংশ প্রতি এর গড় ফলন ৪০ কেজি।

জার্মানির মাঠে জিতে নেদারল্যান্ডসের মধুর প্রতিশোধ

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ প্রথমার্ধে হলো এক গোল। দ্বিতীয়ার্ধে পাঁচটি। মাঝেমধ্যেই দুই পক্ষের মধ্যে ছড়াল উত্তেজনাও। ইউরো বাছাই পর্বে ছয় গোলের রোমাঞ্চ ছড়ানো ম্যাচে জার্মানির মাঠ থেকে দারুণ এক জয় নিয়ে ফিরেছে নেদারল্যান্ডস। হামবুর্গে শুক্রবার রাতে বাছাইয়ের ‘সি’ গ্রুপের ম্যাচটি ৪-২ ব্যবধানে জিতেছে নেদারল্যান্ডস। এ জয়ে বাছাইয়ের প্রথম লেগে নিজেদের মাঠে জার্মানদের কাছে ৩-২ গোলের হারের প্রতিশোধ নিল ১৯৮৮ সালে প্রথম ও সর্বশেষ ইউরো জেতা ডাচরা। সমর্থকদের আনন্দে ভাসিয়ে নবম মিনিটেই এগিয়ে যায় জার্মানি। গোলরক্ষক বরাবর লুকাস শট নেওয়ার পর সের্গে জিনাব্রি ফিরতি শটে জাল খুঁজে নেন। ৪১তম মিনিটে মার্কো রয়েসের শট ফিরিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ হতে দেননি গোলরক্ষক ইয়াসপের সিলেসেন। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকে সতীর্থের বাড়ানো ক্রসে গোলমুখ থেকে জিনাব্রি দরকারি টোকা দিতে ব্যর্থ হলে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়নি। ৫৫তম মিনিটে দারুণ এক সেভ করে নেদারল্যান্ডসকে সমতায় ফিরতে দেননি মানুয়েল নয়ার। ৫৯তম মিনিটে আর পারেননি নয়ার। ডান দিকে রায়ান বাবেলের ক্রস জার্মান ডিফেন্ডার টাহ ডি-বক্সের ভেতর থেকে বিপদমুক্ত করতে ব্যর্থ হলে ফ্রেংকি ডি ইয়ং সহজেই লক্ষ্যভেদ করেন। ছয় মিনিট পর আরেক গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ে তিনবারের ইউরো চ্যাম্পিয়ন জার্মানি। কর্নারে ভার্জিল ফন ডাইকের হেড নয়ার ফেরানোর পর পরে ডি-বক্সের ভেতর থেকে বল বিপদমুক্ত করতে গিয়ে নিজেদের জালেই জড়িয়ে দেন টাহ। ৭৩তম মিনিটে টনি ক্রুসের স্পট কিকে সমতায় ফেরে জার্মানি। ডি-বক্সের মধ্যে মাটাইস ডি লিখটের হাতে বল লাগলে পেনাল্টির বাঁশি বাজিয়েছিলেন রেফারি। স্বাগতিকদের সমতার স্বস্তি উড়ে যায় ৭৯তম মিনিটে। সতীর্থের বাড়ানো বল অফসাইডের ফাঁদ ভেঙে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর জর্জিনিয়ো ভিনালডামের ছোট পাস থেকে নিখুঁত টোকায় লক্ষ্যভেদ করেন ডোনিয়েল মালেন। শেষ দিকে স্কোরলাইন ৪-২ করেন ভিনালডাম। চার ম্যাচে প্রথম হারের স্বাদ পাওয়া জার্মানি ৯ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে। ১২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড। দ্বিতীয় জয় পাওয়া নেদারল্যান্ডস ৬ পয়েন্ট নিয়ে আছে তৃতীয় স্থানে।

শুক্রবার গ্রুপের অন্য ম্যাচে এস্তোনিয়ার মাঠে ২-১ গোলে জেতা বেলারুস ৩ পয়েন্ট নিয়ে আছে চতুর্থ স্থানে।

নেইমারের গোলে রক্ষা ব্রাজিলের

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ তিন মাস পর মাঠে ফিরেই জালের দেখা পেলেন নেইমার। পিএসজি তারকার দ্বিতীয়ার্ধের গোলে কলম্বিয়ার বিপক্ষে হার এড়িয়েছে ব্রাজিল। মায়ামিতে বাংলাদেশ সময় শনিবার সকালে কলম্বিয়ার সঙ্গে প্রীতি ম্যাচে ২-২ গোলে ড্র করেছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচের শুরুর দিকে কাসেমিরোর গোলে ব্রাজিল এগিয়ে যাওয়ার পর অল্প সময়ের ব্যবধানে দুবার বল জালে পাঠান কলম্বিয়ার ফরোয়ার্ড লুইস মুরিয়েল। নেইমারের গোলে শেষ পর্যন্ত স্বস্তির ড্রয়ে মাঠ ছাড়ে জুলাইয়ে কোপা আমেরিকা শিরোপা জেতা ব্রাজিল।  জুনের শুরুতে কাতারের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে চোট পেয়ে কোপা আমেরিকা থেকে ছিটকে পড়েছিলেন নেইমার। সুস্থ হয়ে চলতি মৌসুমে ক্লাব ফিরলেও তার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় ক্লাবের কোনো ম্যাচে এখনও তাকে মাঠে নামাননি পিএসজি কোচ টমাস টুখেল। অবশেষে তিন মাস পর জাতীয় দল দিয়ে মাঠে ফিরেই আলো ছড়ালেন ২৭ বছর বয়সী তারকা। গোল করার পাশাপাশি সতীর্থের গোলেও রেখেছেন অবদান। ম্যাচের উনবিংশ মিনিটে নেইমারের বাঁকানো কর্নারে ছোট ডি-বক্সের মুখ থেকে হেডে দলকে এগিয়ে দেন রিয়াল মাদ্রিদ মিডফিল্ডার কাসেমিরো। পাল্টা জবাব দিতে দেরি করেনি গত কোপা আমেরিকায় শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেওয়া দলটি। ২৫তম মিনিটে সফল স্পট কিকে সমতা টানেন মুরিয়েল। আতালান্তার এই স্ট্রাইকারই ডি-বক্সে ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পেয়েছিল  কলম্বিয়া। আর নয় মিনিট পর ডান পায়ের শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন মুরিয়েল। ৫৮তম মিনিটে অধিনায়ক দানি আলভেসের দারুণ এক পাস ছোট ডি-বক্সে পেয়ে পে¬সিং শটে স্কোরলাইন ২-২ করেন নেইমার। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে গত মে মাসের পর গোল পেলেন তিনি। আর আন্তর্জাতিক ফুটবলে গত নভেম্বরের পর জালের দেখা পেলেন সময়ের অন্যতম সেরা এই ফরোয়ার্ড। লস অ্যাঞ্জেলসে বাংলাদেশ সময় আগামী বুধবার সকাল নয়টায় পেরুর মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। জুলাইয়ে এই দলকে হারিয়েই নবমবারের মতো কোপা আমেরিকা শিরোপা জিতেছিল তিতের দল। আর নিজেদের পরের ম্যাচে ভেনেজুয়েলার মুখোমুখি হবে কলম্বিয়া।

‘চড়া দামের কারণে পিএসজিতেই অবসর নিতে হতে পারে নেইমারকে’

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ নিজে থেকে ক্লাব ছাড়তে চেয়েও পারেননি নেইমার। আর এর পেছনে ব্রাজিলিয়ান তারকার অতিরিক্ত বেতন ও তার দল পিএসজির আকাশছোঁয়া চাহিদাকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন লা লিগার সভাপতি হাভিয়ের তেবাস। সম্প্রতি শেষ হওয়া গ্রীষ্মকালীন দল-বদলে নেইমারকে দলে ফেরানোর জোর চেষ্টা চালায় বার্সেলোনা। তবে তাদের প্রস্তাব ও লিগ ওয়ান চ্যাম্পিয়নদের চাওয়া এক না হওয়ায় ভেস্তে যায় আলোচনা। ফলে প্যারিসের ক্লাবটিতেই রয়ে গেছেন ২৭ বছর বয়সী নেইমার। নেইমারের ট্রান্সফার ফি হিসেবে পিএসজির অনেক বড় অঙ্কের চাওয়া এবং একই সঙ্গে তার বেতন না কমলে বিশ্বের সবচেয়ে দামি ফুটবলারকে প্যারিসেই থেকে যেতে হতে পারে বলে মনে করেন তেবাস। “সে যদি নিজের বেতন না কমায় এবং পিএসজিও যদি তাদের আকাশছোঁয়া দাবি থেকে সরে না আসে তাহলে হয়তো নেইমারকে পিএসজিতেই অবসর নিতে হবে।” ২০১৭ সালে রেকর্ড ২২ কোটি ২০ লাখ ইউরো ট্রান্সফার ফিতে পিএসজিতে যোগ দেওয়া নেইমারকে এত বেশি দামে কেনার মতো ক্লাব দেখছেন না তেবাস। “যখন আপনি খুব বেশি মূল্য দিয়ে কোনো কিছু কিনবেন, তখন সেই দামে আবারও এটা বিক্রি করা অসম্ভব।”

বাংলাদেশকে বিশাল টার্গেট দিতে যাচ্ছে আফগানিস্তান

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ চট্টগ্রাম টেস্ট বাংলাদেশকে বিশাল টার্গেট দিতে যাচ্ছে সফরকারী আফগানিস্তান। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশকে ২০৫ রানে অলআউট করে দিয়ে ১৩৭ রানের লিড নেয় আফগানরা। এই লিডকে সাথে নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে খেলতে নেমে তৃতীয় দিন শেষে ৮ উইকেটে ২৩৭ রান করেছে আফগানরা। ফলে ২ উইকেট হাতে নিয়ে ৩৭৪ রানে এগিয়ে রশিদের দল। নিজেদের প্রথম ইনিংস ৩৪২ রান করেছিলো আফগানরা। দ্বিতীয় দিন মধ্যাহ্ন বিরতির ঠিক আগ মূর্হুতে আফগানিস্তানকে অলআউট করে দেয় বাংলাদেশ। এরপর নিজেদের প্রথম ইনিংস শুরু করে দ্বিতীয় দিন শেষে ৮ উইকেটে ১৯৪ রান করে টাইগাররা। ১৪৬ রানে অষ্টম উইকেট হারানোর পর শেষ বিকেলে নবম উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ৪৮ রান তুলে দিন শেষ করেন মোসাদ্দেক হোসেন ও তাইজুল ইসলাম। মোসাদ্দেক ১টি চার ও ২টি ছক্কায় ৭৪ বলে অপরাজিত ৪৪ ও তাইজুল ২টি চারে ৫৫ বলে ১৪ রানে অপরাজিত ছিলেন। তাই বাংলাদেশের পক্ষে তৃতীয় দিন মোসাদ্দেক ও তাইজুল ইনিংস শুরু করেন। দলকে ভালো অবস্থায় নিয়ে যাবার পরিকল্পনা ছিলো তাদের। কিন্তু আজকের দিনের তৃতীয় বলেই নবীর বলে ১৪ রানেই থেমে যান তাইজুল। তাইজুল ফিরে যাবার পর আরও ১১ রান যোগ করতে সমর্থ হয় বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষের শেষ ব্যাটসম্যান নাইম হাসানকে ৭ রানে শিকার করে বাংলাদেশকে ২০৫ রানে গুটিয়ে ফেলেন আফগানিস্তানের অধিনায়ক রশিদ খান। ফলে অন্য প্রান্তে ১টি চার ও ২টি ছক্কায় ৮২ বলে ৪৮ রান নিয়ে অপরাজিত থাকতে হয় মোসাদ্দেককে। আফগানিস্তানের অধিনায়ক রশিদ ৫৫ রানে ৫ উইকেট। টেস্ট ক্যারিয়ারে এই নিয়ে দ্বিতীয়বারের মত পাঁচ বা ততোধিক উইকেট নিলেন তিনি। এছাড়াও নবী ৫৬ রানে নেন ৩ উইকেট। তৃতীয় দিন সকালে মাত্র ১৭ মিনিট ব্যাট করে বাংলাদেশ। তাই বাংলাদেশের ইনিংস শেষে বড় লিড নিয়ে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে আফগানিস্তান। প্রথম ওভারেই আফগান শিবিরে জোড়া আঘাত হানেন বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। তৃতীয় ও চতুর্থ বলে দু’টি উইকেট তুলে নেন তিনি। ওপেনার এহসানউল্লাহ ৪ ও প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান রহমত শাহ শুন্য রান করে সাকিবের বলে আউট হন। এতে হ্যাট্টিকের সুযোগ হয় সাকিবের। কিন্তু সেটি রুখে দেন চার নম্বরে নামা হাসমতউল্লাহ শাহিদি। সাকিবকে হ্যাট্টিক বঞ্চিত করলেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি শাহিদি। ১২ রানে আউট করে বাংলাদেশের অফ-স্পিনার নাইম হাসানের শিকার হন তিনি। ফলে ২৮ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় আফগানিস্তান। এরপর জুটি বাঁধেন আরেক ওপেনার ও অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা ইব্রাহিম জাদরান এবং আসগর আফগান। দু’জনে দেখেশুনে খেলতে থাকেন। মধ্যাহ্ন-বিরতির আগ পর্যন্ত আর কোন উইকেট পতন হয়নি। দু’জনে অবিচ্ছিন্ন থাকেন। ৩ উইকেটে ৫৬ রান নিয়ে মধ্যাহ্ন-বিরতিতে যায় আফগানিস্তান। ৭ উইকেট হাতে নিয়ে ১৯৩ রানে এগিয়ে ছিলো আফগানরা। এ সময় । জাদরান ২৪ ও আসগর ১৬ রানে অপরাজিত ছিলেন। মধ্যাহ্ন-বিরতি শেষে আবারো নিজেদের লড়াই শুরু করেন জাদরান ও আসগর। এই জুটিকে তাড়াতাড়ি সাজঘরে ফেরাতে মরিয়া হয়ে উঠে বাংলাদেশের বোলাররা। কিন্তু বাংলাদেশের বোলারদের বিপক্ষে দুর্দান্ত ব্যাটিং করতে থাকেন জাদরান ও আসগর। ফলে তাদের নৈপুন্যে দলের স্কোর শতরানের কোটা পেরিয়ে যায়। আফগানিস্তানের স্কোর তিন অংকে পৌঁছে দিয়ে নিজেদের সেরাটা দিতে থাকেন জাদরান-আসগর। ততক্ষনে টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম ম্যাচেই হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নেয়া হয়ে যায় জাদরানের। এমন সময় বাংলাদেশকে দারুন এক ব্রেক-থ্রু এনে দেন তাইজুল। ৪টি চার ও ২টি ছক্কায় ১০৮ বলে ৫০ রান করে ফিরেন প্রথম ইনিংসে ৯২ রান করা আসগর। চতুর্থ উইকেটে জাদরানের সাথে ১০৮ রানের জুটি গড়েন তিনি। আসগর ফিরে গেলেও উইকেটরক্ষক আফসার জাজাইকে নিয়ে বড় জুটি গড়ার চেষ্টা করেন জাদরান। সফলতার পথেই ছিলেন তারা। কিন্তু তাদের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ান নাইম। হাফ-সেঞ্চুরি তুলে সেঞ্চুরির দিকে এগিয়ে যাওয়া জাদরানকে ৮৭ রানে থামিয়ে দেন নাইম। ৬টি চার ও ৪টি ছক্কায় ২০৮ বলে নিজের ইনিংসটি সাজান জাদরান। জাজাই’র সাথে ৩৫ রানের জুটি গড়েন জাদরান। জাদরানের বিদায়ে উইকেটে আসেন এই টেস্ট দিয়ে বড় ফরম্যাটকে বিদায় বলার সিদ্বান্ত নেয়া মোহাম্মদ নবী। প্রথম ইনিংসে শুন্য রানে আউটের পর এবার ৮ রানে থামেন তিনি। এই ইনিংসে বাংলাদেশের অফ-স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজের প্রথম শিকার ছিলেন নবী। দলীয় ১৮০ রানে নবীর বিদায়ে চিন্তায় ছিলো না আফগানিস্তান। কারণ ততক্ষণে ৩১৭ রানের লিড হয়ে যায় আফগানদের। চতুর্থ ইনিংসে ৩শ রানের বেশি টার্গেট স্পর্শ করাটা দুরহই হবে বাংলাদেশের, পিচের পূর্বাভাস তেমনটিই বলছে। তাই এই লিডকে আরও বড় করার জন্য বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে দ্রুত রান তুলতে শুরু করেন নবীর বিদায়ে উইকেটে যাওয়া আফগানিস্তান অধিনায়ক রশিদ। ৬টি চারে নিজের ইনিংসের যাত্রা শুরু করেন রশিদ। তাই প্রথম ইনিংসের মত আবারো বড় স্কোর গড়ার স্বপ্ন দেখছিলেন রশিদ। কিন্তু রশিদকে ২৪ রানেই থামিয়ে দেন তাইজুল। বোল্ড হবার আগে ২২ বলে ২৪ রান করেন রশিদ। এই জুটির কাছ থেকে ৩০ রান পায় দল। এরপর লেগ-স্পিনার কাইস আহমেদকে নিয়েও ২৫ রানের জুটি গড়েন জাজাই। কাইসকে ১৪ রানে আউট করেন সাকিব। দিনের শেষ ভাগে কাইস ফিরলেও, ইয়ামিন আহমাদজাইকে নিয়ে দিন শেষ করেন জাজাই। জাজাই ৩৪ ও আহমাদজাই শুন্য রানে অপরাজিত অছেন। বাংলাদেশের সাকিব ৩টি, তাইজুল-নাইম ২টি করে উইকেট নেন।

স্কোর কার্ড (টস-আফগানিস্তান) :- আফগানিস্তান প্রথম ইনিংস : ২৭১/৫, ৯৬ ওভার (রহমত ১০২, আসগর ৮৮*, জাজাই ৩৫*, নাইম ২/৪৩, তাইজুল ২/৭৩)।

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : ২০৫/১০, ৭০.৫ ওভার (মোমিনুল ৫২, মোসাদ্দেক ৪৮*, রশিদ ৫/৫৫)।

আফগানিস্তান দ্বিতীয় ইনিংস : ২৩৭/৮, ৮৩.৪ ওভার (জাদরান ৮৭, আসগর ৫০, সাকিব ৩/৫৩)।