বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের বৈঠক

ঢাকা অফিস ॥ গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেনসহ কয়েকটি দেশের কূটনৈতিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খানের গুলশানের বাসায় গতকাল বুধবার সকাল সোয়া ১০টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত রুদ্ধদ্বার এই বৈঠক হয়। দুই ঘণ্টা ধরে বৈঠকে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা কামাল হোসেন ছাড়াও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না ও গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার, ব্রিটিশ হাই কমিশনার রবার্ট ডিকসন, কানাডার উপ-রাষ্ট্রদূত, ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিসহ পশ্চিমা সাতটি দেশের কূটনীতিকরা বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, কারাবন্দি খালেদা জিয়ার সর্বশেষ অবস্থা এবং ফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য মঈনুল হোসেনকে কারাগারে পাঠানোসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকের পর ড. কামাল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা রাষ্ট্রদূতদের সাথে দেশের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে আলাপ করেছি। তারা আমাদের কাছে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। আমরা আমাদের দিক থেকে তা তুলে ধরেছি। “দেশে কী রকম নির্বাচন হয়েছে- তা আপনারা জানেন, তারাও জানেন। বিদেশিরা আমাদের বক্তব্য শুনেছেন।” জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব বলেন, “মঈন খান সাহেবের বাসায় চায়ের আড্ডায় এসেছিলাম। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আমাদের দেশে অবস্থানরত রাষ্ট্রদূত-হাই কমিশনাররা জানতে চেয়েছেন। বলতে পারেন আমরা মতবিনিময় করেছি তাদের সাথে।” বৈঠকে কূটনীতিকরা কোনো মন্তব্য না করে শুধু নোট নিয়েছেন বলে জানান গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী।

কালুখালী দাখিল মাদরাসার সুপার মাওঃ মোঃ নজরুল ইসলামের ইন্তেকাল

ফজলুল হক ॥ রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কালুখালী দাখিল মাদরাসার সুপার মাওঃ মোঃ নজরুল ইসলাম গতকাল বুধবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিসাধীন অবস্থায় ভোর ৬ টা ১০ মিনিটে ইন্তেকাল করেন( ইন্না লিল্লাহি …..রাজেউন)। দীর্ঘদিন কিডনী রোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। এ সংবাদে পরিবার, কালুখালী দাখিল মাদরাসার শিক্ষকগন, বর্তমান ও প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীবৃন্দ ও শুভ্যানুধ্যায়ীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। বিকালে বাদ আসর কালুখালী দাখিল মাদরাসার মাঠ প্রাঙ্গণে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে প্রথম জানাযা নামাজ মাওঃ আবুল কালাম আজাদের ইমামতিতে অনুষ্ঠিত হয়। জানাযা পূর্বে সংক্ষিপ্ত এক আলোচনায় বক্তব্য রাখেন রাজবাড়ী জেলা জামায়াতে ইসলামির আমির এ্যাডঃ নুরুল ইসলাম, সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মন্ডল, মাদরাসা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি খোন্দকার আনিসুল হক বাবু, রতনদিয়া বাজার জামে মসজিদের খতিব আব্দুল মালেক, হোগলাডাঙ্গী কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ মীর মোঃ আব্দুল বাতেন, শাহজুই কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ আবু মুসা আশয়ারী, মাজবাড়ী এমআই আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওঃ মোঃ নুরুল ইসলাম, হোগলাডাঙ্গী মাদরাসার সহকারী অধ্যাপক মোঃ আব্দুর রব সহ অন্যান্যরা। পরে তার নিজ গ্রাম ঝাউগ্রামে দ্বিতীয় জানাযা নামাজ শেষে ঝাউগ্রাম গোরস্থানে দাফন কার্য সমাপ্ত করা হয়। মরহুম তার অগোচরে ১ স্ত্রী, ২ কন্যা সন্তান সহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

অভিন্ন নীতিমালা বাতিলের দাবিতে ইবি শিক্ষকদের মানববন্ধন

ইবি প্রতিনিধি ॥ ইউজিসির প্রস্তাবিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় সমূহে শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতির অভিন্ন নীতিমালা বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব’ ম্যুরালের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়।  এসময় প্রস্তাবিত নীতিমালা বাতিল করার দাবি করে বক্তারা বলেন- পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কখনো অভিন্ন নীতিমালার আওতায় আনা যেতে পারেনা। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্বশাসন ধারণার পরিপন্থী। মানববন্ধন শেষে বক্তারা বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে আজ মানববন্ধনের ঘোষণা দেন।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন – তথ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, পূর্ণাঙ্গ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে এবং মধ্যম আয়ের দেশ হতে এগিয়ে নিতে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন মধ্যম আয়ের দেশ। তবে পূর্ণাঙ্গ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে এবং দেশকে মধ্যম আয়ের দেশ হতে এগিয়ে নিতে বন্দরের উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি।’ তথ্যমন্ত্রী গতকাল বুধবার সকালে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে বন্দর উপদেষ্টা কমিটির প্রথম সভায় এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম বন্দর উপদেষ্টা কমিটির সভাপতি নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী সভায় সভাপতিত্ব করেন। হাছান মাহমুদ বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তরিক। তাই তিনি টার্মিনাল নির্মাণ করছেন। পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল নির্মিত হচ্ছে। লালদিয়ায় কাজ শুরু হয়েছে। বন্দরের যা সক্ষমতা তা আরো বাড়ানোর প্রয়োজন। এতে করেই আমদানি-রপ্তানি বাড়ানো সম্ভব হবে। ড. হাছান,বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নতির সঙ্গে শুধু সমগ্র দেশের উন্নয়ন জড়িত, তা নয়। এ বন্দরের উন্নতির সঙ্গে পুরো রিজিয়নের উন্নতি নির্ভর করে। বিশ্ব এখন গে¬াবাল ভিলেজে পরিণত হচ্ছে। বন্দর তালিকায় ৬ ধাপ এগিয়ে আসার কথা উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ৭০ থেকে বন্দর তালিকায় ৬৪ তে এসেছে। এ উন্নয়ন কয়েক শতাব্দী থেকে যাত্রা শুরু করে। অঞ্চল উন্নয়ন ছাড়া যেমন দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। তেমনি আমদানি-রপ্তানি ছাড়াও দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম বন্দর উপদেষ্টা কমিটির সভাপতি নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে বিশ্বের সমুদ্র বন্দরগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান ৫০ এ নিয়ে যেতে কাজ করছে সরকার। চলতি বছর ৬ ধাপ এগিয়ে লয়েড লিস্টে বন্দরের অবস্থান ৬৪। বন্দরকে আরো আধুনিক করতে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে। সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ শামসুল হক চৌধুরী, সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, নজরুল ইসলাম চৌধুরী, ওয়াসিকা আয়েশা খাঁন, চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল জুলফিকার আজিজ, কাস্টম হাউসের কমিশনার মো. ফখরুল আলম, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ, শেখ হাফিজুর রহমান, চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম প্রমূখ।

 

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চীনের মামলা

ঢাকা অফিস ॥ পণ্য আমদানিতে একের পর এক শুল্কারোপ করায় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (ডব্লিউটিও) মামলা করেছে চীন। সোমবার চীনা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। এর আগের দিন যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন চীনা পণ্যে ১৫ শতাংশ শুল্কারোপ করে। পাল্টা চীন মার্কিন অপরিশোধিত তেলে শুল্কারোপের ঘোষণা দেয়। বেইজিং শুল্ক মামলার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। খবর রয়র্টার্সের। চীন জানিয়েছে, মার্কিন শুল্ক বৃদ্ধিতে তাদের ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। চীনা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সম্প্রতি জাপানের ওসাকায় দুই দেশের নেতাদের মধ্যে বাণিজ্য নিয়ে একটি সমঝোতা হয়। কিন্তু সেই সমঝোতাকে লংঘন করে নতুন করে শুল্ক বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্র। তাই চীন বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী আইনি লড়াই চালাবে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র একাধিপত্যবাদী নীতি গ্রহণ করেছে এবং এর মাধ্যমে তারা সারাবিশ্বের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করছে বলে অভিযোগ তুলেছে চীন। বাণিজ্য যুদ্ধসহ একাধিক ইস্যুতে ক্রমশ উত্তেজনা বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের মধ্যে। এবার তা মামলা পর্যন্ত গড়িয়েছে। সোমবার চীনের বাণিজ্যমন্ত্রী মামলার কারণ হিসেবে জানান, গত জুনে জি-২০ সম্মেলনের সময় জাপানের ওসাকায় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে চীনা পণ্যের ওপর আর শুল্ক না বসানোর ব্যাপারে সম্মত হন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন শুল্কারোপের ফলে তা চরমভাবে লঙ্ঘন হয়েছে। তবে ট্যারিফ ইস্যুতে বিভিন্ন সময় ডবি¬উটিও’তে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বেইজিং। সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, এ মামলার মাধ্যমে চীন বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার প্রতি তাদের সমর্থনের বার্তা পাঠাচ্ছে। এদিকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার বিরোধ মিটিয়ে ফেলতে দেশ দুটি একে অন্যকে ছাড় দিতে হবে, নইলে এই বিরোধ সামরিক সংঘাতের রূপ নিতে পারে। মাহাথির সম্প্রতি টোকিও নগরীতে ‘এশিয়ার ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক সম্মেলনে বক্তৃতা করছিলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজক জাপানভিত্তিক বাণিজ্য সাময়িকী ‘নিক্কি’। চীনা কোম্পানি ‘হুয়াওয়ে’র বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চপেটাঘাত প্রসঙ্গে মাহাথির বলেন, একদা জোরদার গবেষণা ও উন্নয়ন সক্ষমতা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের করায়ত্ত। এখন সেই সক্ষমতা প্রাচ্য অর্জন করেছে- এই ‘বাস্তবতা’ ওয়াশিংটনকে মেনে নিতে হবে। মাহাথির বলেন, ‘আমি সামনে থাকতে না পারলে, আমি তোমায় নিষিদ্ধ করব, যুদ্ধজাহাজ পাঠাব’ মনোভঙ্গি তো প্রতিযোগিতা নয়, এটা হচ্ছে হুমকি।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীসাথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সৌজন্য সাক্ষাত

মুসলিম দেশগুলোর ভাতৃঘাতী সংঘাত বন্ধে ওআইসির শক্তিশালী ভূমিকা পালনের আহবান প্রধানমন্ত্রীর

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা’র (ওআইসি) মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য ও সংহতি সৃষ্টি এবং ভাতৃঘাতী সংঘাত বন্ধে শক্তিশালী ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মুসলিম দেশগুলোর মধ্যকার ভাতৃঘাতী সংঘাত বন্ধে ওআইসি শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে পারে।’ সফররত ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোহাম্মাদ জাভেদ জারিফ গতকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তেঁজগাওস্থ কার্যালয়ে তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করতে এলে তিনি একথা বলেন। বৈঠকের পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে বিবদমান সংঘাতের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মুসলিমরা তাঁদের নিজেদের মধ্যকার বিভাজনের জন্যই রক্তপাতের শিকার হচ্ছে। এর ফলে তৃতীয় পক্ষ বা দেশ এর সুবিধা ভোগ করছে।’ প্রধানমন্ত্রী আলোচনায় এমন অভিমত ব্যক্ত করেন যে, মুসলিম দেশগুলোর মধ্যকার বিবাদমান সংঘাত দ্বিপাক্ষিক বা বহুপাক্ষিকভাবে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যেতে পারে। দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় থাকার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি ইরানী মন্ত্রীকে অবহিত করেন, তিনি নিজেই দু’জন শিয়া বালিকাকে দত্তক নিয়েছেন, যারা ভয়াবহ নিমতলী অগ্নিকান্ডের শিকার হয়েছিল। বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ ৮ দশমিক ১ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে এবং এই সময় মূল্যস্ফীতি ও ৫ দশমিক ৪ শতাংশে ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে (২০১৮-১৯ অর্থ বছরে)।’ তিনি বলেন, ‘তাঁর সরকারের লক্ষ্যই হচ্ছে দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।’ বাংলাদেশ এবং ইরানের সাংস্কৃতিক বন্ধনকে ঐতিহাসিক আখ্যায়িত করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলা ভাষার বহু শব্দ ফার্সি থেকে এসেছে।’ ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী জাভেদ জারিফ আজ থেকে রাজধানীতে শুরু হওয়া দুইদিন ব্যাপী তৃতীয় (আইওআরএ) ব্লু ইকোনমি মিনিষ্ট্রিয়াল কনফারেন্সে যোগদানের জন্য গত মঙ্গলবার রাতে ঢাকায় আসেন। তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানীর শুভেচ্ছাও প্রধানমন্ত্রীকে পৌঁছে দেন। বাংলাদেশের উন্নয়নকে দৃষ্টান্তমূলক অর্জন আখ্যায়িত করে জাভেদ বলেন, ‘বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে আমি খুবই সন্তুষ্ট এবং এটা কেবল মাত্র আপনার (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) ব্যক্তিগত নেতৃত্বের কারণেই সম্ভব হয়েছে। সফররত পররাষ্ট্র মন্ত্রী ওআইসি ফোরামেও প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকার প্রশংসা করেন। ইরানের মন্ত্রী দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান সম্পর্কেও সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘এ দুটি দেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কও ভালো।’ জাভেদ জারিফ প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে তেহরান একটি সেমিনারের আয়োজন করবে (২০২০ সালে)। ওআইসি সদস্যভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কেও ক্ষেত্রে তাঁর দেশের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘আমরা সংহতি চাই। আমরা সৌদি আরব সহ সকল ওআইসিভুক্ত সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক চাই।’ যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অবরোধ এবং তাঁর দেশের বৈজ্ঞানিক উন্নয়নের প্রসঙ্গ এনে ইরানের বর্তমান অবস্থা প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করে ইরানী মন্ত্রী বলেন,‘অবরোধের পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠার পর ইরানের অর্থনীতি এখন ক্রমশই পুনরুজ্জীবিত হয়ে উঠছে।’সফররত মন্ত্রী বলেন, তাঁর দেশ অস্ত্র কেনার জন্য অর্থ ব্যয়ে রাজি নয়। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান এবং বাংলাদেশে ইরানের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মাদ রেজা নফর এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

কাশ্মীরে শ্রীনগরের মেয়র গৃহবন্দী

ঢাকা অফিস ॥ কাশ্মীরের সবচেয়ে বড় শহর শ্রীনগরের মেয়র জুনায়েদ আজিম মাত্তুকে মঙ্গলবার গৃহবন্দী করা হয়েছে। অধিকৃত রাজ্যটির স্বায়ত্তশাসন বাতিলের প্রতিবাদ ও অচলাবস্থায় বহু লোক তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না বলে মন্তব্য করায় এবার তাকে নিশানা করেছে ভারতের হিন্দুত্ববাদী সরকার। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম কুইন্টের খবরে এমন তথ্য জানা গেছে। এনডিটিভি জানিয়েছে, দিল্লিতে চিকিৎসার জন্য এসেছিলেন মাত্তু। কিন্তু ফিরে যাওয়ার পরই তাকে গৃহবন্দী করা হয়েছে। কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন বাতিলের সিদ্ধান্ত ঘিরে মেয়রের গতিবিধি আগে থেকেই সীমিত করে দেয়া হয়েছিল। এর আগে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, কাশ্মীরের রাস্তায় কোনো লাশ পড়ছে না বলে এমনটা কল্পনা করা খুবই অবাস্তবিক যে কাশ্মীরের স্বাভাবিকতা ফিরেছে। ‘অচলাবস্থা চাপিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্তের অর্থ এই নয় যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক,’ বললেন এই মেয়র। তিনি বলেন, ভারতীয় হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকারের আটক রাখার নীতি পুরোপুরি কাজ করছে। কাশ্মীরে এখন অনেক পরিবার রয়েছে, যারা স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। এনডিটিভিকে জুনায়েদ আজিম বলেন, কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলই বর্তমান সংকটের কারণ। কারণ এই স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদার ওপর ভিত্তি করেই কাশ্মীরিদের পরিচয় নির্ধারিত হয়েছে। তিনি জানান, আমরা সবসময়ই স্পষ্টভাবে সহিংসতার হুমকির মধ্যে থাকি। এটা কোনো নতুন দৃশ্যপট না। কিন্তু সেটাকে ব্যবহার করে কাশ্মীরিদের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেয়াকে ন্যায্যতা দেয়া হচ্ছে, যেটা কাশ্মীরিদের এই বিচ্ছিন্নতাবোধের মূল কারণ।

বিরোধীদলীয় নেতার পদ নিয়ে জাতীয় পার্টিতে দেবর-ভাবির বিরোধ চরমে

ঢাকা অফিস ॥ চেয়ারম্যানের পদের পর এবার সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার পদ নিয়ে জাতীয় পার্টিতে দেবর-ভাবির বিরোধ চরমে উঠেছে। জি এম কাদেরকে সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা করতে জাতীয় পার্টির প্যাডে পাঠানো চিঠি নিয়ে আপত্তি তুলে দলটির জ্যেষ্ঠ কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ পাল্টা চিঠি দিয়েছেন স্পিকারকে। গতকাল বুধবার পাঠানো এই চিঠিতে বলা হয়েছে, দলীয় ফোরামে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই জি এম কাদের মঙ্গলবার স্পিকারকে চিঠি দেন, যে চিঠিতে তাকে বিরোধীদলীয় নেতা ঘোষণা করার আহ্বান জানানো হয়। স্পিকারকে চিঠি পাঠানোর আগে গুলশানের বাড়িতে সভাপতিমন্ডলীর কয়েকজন সদস্য ও সংসদ সদস্যকে নিয়ে আড়াই ঘণ্টা বৈঠক করেন সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা রওশন। ওই বৈঠকের পর জানানো হয়েছে, সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হবেন রওশন। স্বামী এইচ এম এরশাদের মৃত্যুর পর সাংবাদিকদের এড়িয়ে চলা রওশন এই প্রথম গণমাধ্যমের সামনে আসতে যাচ্ছেন। এদিকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসা জি এম কাদের বলেছেন, গঠনতন্ত্র অনুসরণ করে সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদ সদস্যের সম্মতি নিয়েই তাকে বিরোধীদলীয় নেতা করতে চিঠিটি পাঠানো হয়। জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান এরশাদ বেঁচে থাকার সময়ও স্ত্রী ও ভাইয়ের বিরোধ সামাল দিয়ে চলছিলেন। ভাইকে উত্তরসূরি ঘোষণা করে ভাই কাদেরকে দলে নিজের পরের স্থানটি দিতে কো-চেয়ারম্যান পদ সৃষ্টি করেছিলেন তিনি; তাতে রওশন ক্ষুব্ধ হওয়ার পর তার জন্য জ্যেষ্ঠ কো-চেয়ারম্যানের আরেকটি পদ সৃষ্টি করা হয়। গত জুলাই মাসে এরশাদ মারা যাওয়ার পর জি এম কাদের ভাইয়ের ‘ইচ্ছায়’ চেয়ারম্যানের পদ নেওয়ার পর তা নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন রওশন। এরপর মঙ্গলবার স্পিকারকে জি এম কাদের চিঠি পাঠানোর পর দুই পক্ষই এখন মুখোমুখি। চিঠিতে জি এম কাদের লিখেছিলেন, এরশাদের মৃত্যুতে শূন্য সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার পদে তাকে বসাতে জাতীয় পার্টির সভাপতিমন্ডলী সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নিয়েছে, দলের ২৫ জন্য সংসদ সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশও তাতে সমর্থন দিয়েছে। ওই চিঠি নিয়ে আপত্তি জানাচ্ছেন রওশনের অনুসারীরা; যারা জি এম কাদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়েও আপত্তি তুলেছিলেন। বুধবার বিকালে স্পিকারের কার্যালয়ে বিরোধীদলীয় উপনেতা রওশনের সই করা চিঠিটি নিয়ে যান জাতীয় পার্টির সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও সাংসদ মুজিবুল হক চুন্নু। তিনি বলেন, “জি এম কাদের সংসদে দলের প্রধান হতে যে চিঠি দিয়েছেন, তা যথাযথ হয়নি জানিয়ে এই চিঠি দিয়েছেন রওশন ম্যাডাম। দলীয় ফোরামের সিদ্ধান্ত ছাড়া ওই চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে এই চিঠিতে বলা হয়েছে।” স্পিকারকে চিঠি লেখার আগে বুধবার দুপুর ১২টায় রওশন তার গুলশানের বাড়িতে দলের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাকে নিয়ে বৈঠক করেন। বৈঠকে ছিলেন জাতীয় পার্টির সভাপতিমন্ডলীর তিন সদস্য ও সাংসদ আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মুজিবুল হক চুন্নু ও ফখরুল ইমাম। জি এম কাদেরের অনুসারী হিসেবে পরিচিত হলেও রওশনের বাড়িতে এ বৈঠকে যোগ দেন জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম, সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও  ঢাকা দক্ষিণ কমিটির সভাপতি শফিকুল ইসলাম সেন্টু। আড়াই ঘণ্টার বৈঠক থেকে বেরিয়ে চুন্নু সাংবাদিকদের বলেন, “জাতীয় পার্টির পার্লামেন্টারি কমিটির কোনো বৈঠক ছাড়া স্পিকারকে দেওয়া জি এম কাদেরের চিঠিটির কোনো দাম নাই।” তিনি বলেন, ““জি এম কাদের পার্লামেন্টারি কমিটির কোনো বৈঠক না করেই লুকিয়ে এই চিঠি দিয়ে থাকলেও আমি ও আমরা সে বিষয়ে কিছু জানি না। আমি তো এক নগণ্য এমপি। আমাকে তো কোনো নোটিস বা ফোন দেওয়া হয়নি। যে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে শুনছি, সেটি প্রপার না।” রওশন এরশাদ রওশন এরশাদ আনিসুল ইসলাম মাহমুদ জানান, আগামী বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় রওশন এরশাদ তার বাড়িতে ‘জরুরি সংবাদ সম্মেলন’ ডেকেছেন। এতে দলের রাজনীতি নিয়ে রওশন এরশাদ নিজেই সাংবাদিকদের ব্রিফ করবেন। চুন্নু বলেন, বিরোধীদলীয় উপনেতা হিসেবে একমাত্র রওশন এরশাদই জাতীয় পার্টির পার্লামেন্টারি কমিটির বৈঠক ডাকতে পারেন। “জাতীয় পার্টির অধিকাংশ সাংসদের সেন্টিমেন্ট রওশন এরশাদের পক্ষে। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পর তারা তাকেই দলের চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চান, দেখতে চান সংসদে নেতা হিসেবেও,” বলেন চুন্নু। আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, “সংসদে বিরোধী দলের নেতা নির্বাচন করতে গেলে পার্লামেন্টারি কমিটির বৈঠক ডাকার  এখতিয়ার একমাত্র উপনেতা রওশন এরশাদেরই আছে। যেহেতু সংসদে আমাদের নেতা নাই,  উপনেতা আছেন। তিনি তো ডাকবেন সভা।”

সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা মন্ত্রী এবং উপনেতা প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা পান। জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী-বিধি অনুযায়ী বিরোধীদলীয় নেতা ও উপনেতা নিয়োগ দেন স্পিকার। কাদেরের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও চুন্নু। আনিসুল বলেন, “আমার জানামতে, উনি (জি এম কাদের) এখনও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। কোনো প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তো উনি চেয়ারম্যান হননি। কোনো এক জন একটা মিটিংয়ে দাঁড়িয়ে বলবে, আমি চেয়ারম্যান… এটা তো হতে পারে না।” আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও চুন্নু এসময় একযোগে বলেন, ‘হি ইজ নট চেয়ারম্যান’।

সুশাসনের জন্য রাজনৈতিক চুক্তির দাবীতে জাসদের স্মারকলিপি প্রদান

সরকারের উদ্যোগ, প্রশাসনের ভুমিকায় জনগনের সমর্থন থাকলেও, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস-সহিংসতা, অন্তর্ঘাত, নাশকতা, আগুন সন্ত্রাস ও অশান্তির রাজনীতিতে গোটা দেশ-জাতি আজ কোনঠাসা। সরকারের ঘোষিত সুষম উন্নয়নের সুফল পেতে শুরু করেছে জনগন কিন্তু দুর্নীতি দলবাজি, ক্ষমতাবাজি, ক্ষমতার অপব্যবহার, নারী ও শিশু নির্যাতন ধর্ষন ও মাদকের দাপটসহ সামাজিক অনাচার অবিচার আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে যা সরকারের টেকসই উন্নয়নের পথে মারাত্মক হুমকি স্বরূপ। দেশের এই গুমট পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে সমগ্র দেশবাসীর জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সুশাসন প্রতিষ্ঠার দাবিতে কেন্দ্র  ঘোষিত কর্মসূচীর অংশ হিসেবে কুষ্টিয়ায় জেলা ও উপজেলা জাসদের উদ্যেগে জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনে স্মারকলিপি প্রদানসহ মিছিল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুর সাড়ে  ১২টায় একযোগে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনে এবং মিরপুর উপজেলা প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে। এসময় গনসমাবেশে বক্তব্য রাখেন জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোঃ আব্দুল্লাহ, মিরপুর উপজেলা জাসদের সাধারন সম্পাদক আহাম্মদ আলী,যুগ্ম সাধারন সম্পাদক কারশেদ আলম, এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন মিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ বাহাদুর শেখ, মিরপুর উপজেলা জাসদের সাংগঠনিক সম্পাদক আফতাব উদ্দিন, কুর্শা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ ওমর আলী, জাতীয় নারী জোটের নেত্রী  শেফালী খাতুন, মোছাঃ লিপি খাতুন, মোছাঃ রোমানা খাতুন, জাতীয় যুব  জোটের সভাপতি নাজমুল হোসেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি মীর মুখতিছুর রহমান মির্জা সহ জাসদ, জাতীয় নারী জোট, জাতীয় যুব জোট ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ মিরপুর উপজেলা শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের  নেতৃবৃন্দ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

ডেঙ্গুতে ভিকারুননিসা ছাত্রীর মৃত্যু

ঢাকা অফিস ॥ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার লালমাটিয়ার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। ভিকারুননিসার আজিমপুর শাখার অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ইসরা তাসকিন অস্মিতা (১৩) প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে লালমাটিয়ার মিলেনিয়াম হার্ট অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি ছিল। গতকাল বুধবার সকালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে মৃত ঘোষণা করে বলে তার ফুপা রিয়াজ আহমেদ চৌধুরী জানান। ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের আজিমপুর শাখার প্রধান লাইলুন নাহার জানান, অস্মিতা অষ্টম শ্রেণির সি শাখার ছাত্রী ছিল। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত ২৩ আগস্ট সে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল বলে মিলেনিয়াম হার্ট অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। রিয়াজ আহমেদ চৌধুরী বলেন, অস্মিতার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত ২৭ আগস্ট তাকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছিল।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য নুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ঢাকার হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন ২ হাজার ১১১ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ৩৪৪ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আর সারা দেশে এই সংখ্যা ৮২০ জন। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট আইইডিসিআর গত মঙ্গলবার পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যুর ১৮৮টি তথ্য পেলেও ৯৬টির ডেথ রিভিউ শেষে ৫৭ জনের ডেঙ্গুতে মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে।

 

 

মিরপুরে কম্পিউটার প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সনদ বিতরণ

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে কম্পিউটার প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করা হয়েছে। সংস্থা আলো স্বেচ্ছাসেবী পল্লী উন্নয়ন সংস্থা কর্তৃক ৫২ জন কম্পিউটার প্রশিক্ষনার্থীর মধ্যে প্রশিক্ষণ পরবর্তী সনদ বিতরণ করা হয়। গতকাল বুধবার সকালে আলো সংস্থার কার্যালয়ে এ সনদপত্র বিতরণ করা হয়। সংস্থাটি দীর্ঘদিন যাবৎ কর্ম এলাকার দরিদ্র শিক্ষার্থী ও বেকার যুবক-যুবতীদের বিনামূল্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রদান করে আসছে। এ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি ৪শ’ জনের অধিক তরুণ-তরুণীকে বিনামূল্যে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে। ২০১৮ সালে ৫২ জনকে ৬ মাস মেয়াদী প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয় যার সনদ গতকাল বিতরণ করা হয়। চলতি বছর ৪৮ জনকে এ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় সংস্থাটি ১০ বছরের অধিক সময় ধরে কম্পিউটার প্রশিক্ষণের পাশাপাশি, দরিদ্র প্রতিবন্ধীদের মাঝে বিনামূল্যে হুইল চেয়ার বিতরণ, নারীদের আতœকর্মসংস্থার সৃষ্টির লক্ষ্যে সেলাই প্রশিক্ষণসহ সেলাই মেশিন বিতরণ, সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন, আদিবাসী ও শিশু শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। আলো’র নির্বাহী পরিচালক ফিরোজ আহাম্মেদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রকল্প সমন্বয়কারী জারজিস আল মাহমুদ, প্রকল্প কর্মকর্তা ফারুক হোসেন, ফাইন্যান্স অফিসার মাহফুজুর রহমান, কম্পিউটার প্রশিক্ষক ইয়াছমীন রওশনী, ফিল্ড এসোসিয়েট চাঁদনী খাতুন প্রমুখ।

ঝিনাইদহে মিজানুর হত্যাকে পুজি করে স্ত্রী-ভাইয়ের অর্থবাণিজ্য প্রতারনা ও বাড়ি-ঘর ছাড়া করার  অভিযোগ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহে মিজানুর হত্যাকে পুজি করে স্ত্রী-ভাইয়ের অর্থবাণিজ্য, প্রতারনা, বাড়ি-ঘর ছাড়া ও মিথ্যা আসামী করার প্রতিবাদে ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ আনা হয়েছে। সোমবার দুপুরে ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবে  ভুক্তভোগী ঝিনাইদহ পৌর এলাকার হামদহ খোন্দকার পাড়ার সাজেদুল আলমের স্ত্রী নাজমা সাজেদ ও শৈলকুপার দিঘলগ্রামের জরিনা খাতুন  সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন।  সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয় ঝিনাইদহে সদর উপজেলার মিজানুর রহমান (৪০) নামের এক ব্যক্তি গত ১০/০৮/২০১৮ ইং তারিখে রাত্রে বাস টার্মিনালের ফিরোজ ফার্মেসী নামক ওষুধের দোকানে খুন হয়। এই  খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিহতের স্ত্রী রেসমা ও ভাই জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে রমরমা অর্থবানিজ্য, বাড়ি-ঘর ছাড়া ও মিথ্যা আসামী করাসহ প্রতারনা করা হচ্ছে । ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ অভিযোগ করেন  দইু গৃহবধু নাজমা সাজেদ ও জরিনা খাতুন। অভিযোগে বলা হয় রেশমা ও জাহাঙ্গীর আরাপপুর মাষ্টার পাড়া হক কলোনী এবং দীঘলগ্রামের বাসিন্দা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নাজমা সাজেদ ও জরিনা খাতুন দাবি করে বলেন, মৃত মিজানুর রহমানের খুনের এজাহারভূক্ত আাসামী হচ্ছে ভুটিয়ারগাতি মোঃ আব্দুর রশীদ এর ছেলে আমিরুল ইসলাম তার নিজের স্বীকারোক্তি মূলক জবান বন্দীতে সে নিজেই খুনের কথা স্বীকার করেছে এবং জেল হাজতে আছে। এই মামলায় ঝিনাইদহ সদর থানা ও  গোয়েন্দা শাখার সি.আই.ডি থেকে একজনকে আসামী করে পৃথকভাবে  চার্জশীট দেয়া  হয়েছে। এরপরও নিহতের  স্ত্রী রেসমা, ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন  ও  ভাগ্নে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আওয়াল প্রভাব খাটিয়ে ওই চার্জশিটের বিরুদ্ধে না রাজি দিয়ে মামলা পিবিআই-এর কাছে হস্থান্তর করা হয়েছে । এই অবস্থায় তারা বিভিন্ন ব্যাক্তির নিকট নিহত মিজানুরের পাওনা টাকা আছে বলে দাবী করছে এবং ওই টাকা পরিশোধ না করা হলে তাদের মিজানুর হত্যা মামলায় আসামী করা হবে বরে হুমকী দেয়া হচ্ছে।  স্ত্রী নাজমা সাজেদ অভিযোগ করেন মিজানুর রহমান জীবিত থাকা অবস্থায় তার সাথে আমার স্বামী সাজেদল আলম এর ব্যবসায়িক লেনদেন ছিল। সেই সুত্রে তার স্বামী ও ভাইয়ের আর্থিক লেনদেনও ছিল । তিনি তার লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করেন  মিজানুর জীবিত থাকা অবস্থায় তার কাছ খেকে ১২ লক্ষ টাকা ঋন নেয় তার  ও বড় ভাই আব্দু রশিদ । আমার স্বামী গত ১২/০৭/২০১৭ ইং তারিখে ফাষ্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, লিমিটেড, মোহাম্মদপুর শাখার সঞ্চয়ী হিসাব নং-১২২০০০০৩২৮৭, চেক নং- ৮৯৫১৫৭২, টাকা ১৩,০০,০০০/-  (তের লক্ষ) টাকার চেক  এর মাধ্যমে সেই টাকা  পরিশোধ করে। যাহার ব্যাংক ডকুমেন্ট স্টেটমেন্ট আছে। কিন্তু ওই সময় গ্রান্টি হিসাবে মিজানুরকে দেয়া আমার ছাট ভাই তোফায়েল হোসেনের স্বাক্ষরিত দুটি ফাঁকা চেক ফেরৎ নেয়া হয়নি। পরবর্তিতে আমার ভাইয়ের ফাঁকা চেকে ২৫ লক্ষ টাকা বসিয়ে মামলা করেছে। এছাড়া  বাদী পক্ষের লোকজনেরা  যোগ সাজসে পি.বি.আই-তে নারাজী পিটিশন দিয়ে নতুন করে তাদের ইচ্ছামত লোকদের নাম ঢুকিয়ে হয়রানি মূলক মিথ্যা মামলা দিচ্ছে এবং জাহাঙ্গীর ও রেসমা তাদের চাহিদা মোতাবেক টাকা না দিলে আমাদেরকেও নতুন করে মামলায় আসামী করবে বলে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে  বলে নাজমা সাজেদ অভিযোগ করেন।  তিনি তার লিখিত বক্তব্যে আরো অভিযোগ করেন জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আওয়াল এর মা রুজিয়া বেগম আমাদের গ্রামের বাড়ী দীঘল গ্রাম গিয়ে আমাদের গাছের ফলমূল পেড়ে নিয়ে যাচ্ছে এবং বলছে যে তোরা সবাই বাড়ী খালি করে দে। এই বাড়ী আমি দখল নিব। এটা আমাদের বাড়ী। এছাড়া মাঠের জমাজমিও চাষ করতে দিচ্ছে না। অন্য দিকে গ্রামে থাকাবস্থায় মেঝ ভাই আঃ বারীকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে গ্রাম ছাড়া করেছে এবং বলছে যে, আজ গ্রাম ছাড়া করলাম, কাল তোদের শহরের বাড়ী দখল করে শহর ছাড়া করবো এবং খুনের মামলায় পিবিআই দিয়ে পুনঃরায় তদন্ত করে এই মাডার কেচে তোদের নাম অর্ন্তভূক্ত করব বলে হুমকি ধামকি দিচ্ছে। অন্যদিকে পৃথক লিখিত অভিযোগে  শৈলকুপা উপজেলার দিঘলগ্রামের মোছাঃ জরিনা খাতুন দাবি করে বলেন, দীঘল গ্রাম শৈলকুপা মৃত মনোয়ারা হোসেনের ছেলে মৃত মিজানুর রহমান সম্পর্কের আমাদের চাচা মৃত মিজানুর বেচে থাকা কালীণ সে সুদের ব্যবসার সাথে জড়িত ছিল।  মিজানুর খুন হওয়ার পর খুনের একমাত্র আসামী ফিরোজা ফার্মেসীর মালিক মোঃ আমিরুল ইসলাম আটক হয়। এরপর মৃত মিজানুরের ভাই জাহাঙ্গীর আমার স্বামী মোঃ জামাল হোসেন এবং আমার দেবর মোঃ কাসেমকে  মিথ্যা মামলায় পি.বি.আই ধরে নিয়ে গেছে। তাদের প্রচন্ড মার-ধর করে ক্রসের ভয় দেখিয়ে মিথ্যা স্বীকারোক্তি নিয়েছে। পি.বি.আই অফিসের ভিতরে গিয়ে জাহাঙ্গীর তাকে প্রচন্ড মারধর করে মিজানুরের খুনে জড়িত থাকার কথা জোর পূর্বক স্বীকার করিয়েছে। মৃত মিজানুরের হত্যা করার জন্য আমার শশুর ও আমার চাচা শশুরের নিকট থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়েছে। তাকেও প্রচন্ড মারপিট করা হয়েছে এবং তার গায়ের আঘাতের স্থান দেখান।

দৌলতপুর সীমান্তে গাঁজা, মদ ও ফেনসিডিল উদ্ধার

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে সোয়া ৪কেজি গাঁজা, ১৯ বোতল ভারতীয় মদ ও ৮ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার হয়েছে। গতকাল বুধবার ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে প্রাগপুর বিওপি’র টহল গড়–ড়া মাঠে অভিযান চালিয়ে এসব মাদক উদ্ধার করে। তবে উদ্ধার হওয়া মাদকের সাথে জড়িত কেউ আটক হয়নি।

কুষ্টিয়া পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান ম.আ রহিমের ৩২তম মৃত্যু বার্ষিকী শনিবার

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান ম. আ রহিমের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী ৭ সেপ্টেম্বর শনিবার। দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য পারিবারিক উদ্যোগে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর শনিবার বাদ আসর কুষ্টিয়া শহরস্থ আড়–য়াপাড়া ছাখাবী মসজিদে মিলাদ মাহ্ফিলের আয়োজন করা হয়েছে। উক্ত মিলাদ মাহ্ফলে উপস্থিত থেকে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনার জন্য পৌরবাসী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।  উল্লেখ্য, ব্যক্তি জীবনে অমায়িক সজ্জন ও সদালাপী ম. আ রহিম ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জন নির্বাচিত পৌর চেয়ারম্যান। ১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দের ৮ জানুয়ারি তিনি আড়–য়াপাড়ার বিশিষ্ট সমাজসেবক জেহের আলী মন্ডল ও ময়জান নেছার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ছোট বেলা থেকেই তিনি সমাজ সেবামূলক ও সাংস্কৃতি কর্মকান্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হন। পঞ্চাশ থেকে ষাটের দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত তিনি মোহিনী মিল রঙ্গমঞ্চ ও পরিমল থিয়েটারের সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। এ দু’টি প্রতিষ্ঠানের বেশ কিছু নাটকেও তিনি সফল ভাবে অভিনয় করেন। ষাটের দশকের প্রথম দিকে তিনি “পাকিস্থান যাদুকর পরিষদ” এর রাজশাহী বিভাগীয় প্রতিনিধি ছিলেন (কুষ্টিয়া তখন রাজশাহী বিভাগের অন্তর্গত ছিল)। সে সময় পাকিস্থানের খ্যাতনামা যাদুশিল্পী আলাদীনের ছাত্র হিসেবে কুষ্টিয়ার বিভিন্ন মঞ্চে ম্যাজিক প্রদর্শন করেন। ১৯৬০-১৯৬১ সময়ে তিনি পাঠাগার, সংস্কৃতি ও সমাজ সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসাবে “মিতালী পরিষদ” প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়া তিনি ১৯৬৪ থেকে ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত কুষ্টিয়া ট্রান্সপোর্ট সিন্ডিকেট এর সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৭৫ সাল থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত বিআরটিসি’র খুলনা বিভাগীয় পাবলিক ডাইরেক্টর ছিলেন। সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ব্যবসায়ী সংগঠনে জড়িত থাকার পাশাপাশি তিনি জনপ্রতিনিধি হিসাবে তার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হন। ১৯৫২ সাল থেকে তিনি প্রকাধিক মেয়াদে পৌরসভার ওয়ার্ড কমিশনারে ছিলেন। এছাড়াও ১৯৬৪’র ফেব্র“য়ারি থেকে ১৯৭১ এর মার্চ পর্যন্ত তিনি মিলপাড়া ওয়ার্ড চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন এবং দুই দফায় ১৯৭৪ থেকে ১৯৮২ পর্যন্ত কুষ্টিয়া পৌরসভার নির্বাচিত পৌর চেয়ারম্যান ছিলেন। ১৯৮৭ সালের ৭ সেপ্টেম্বর তিনি চিকিৎসারত অবস্থায় ঢাকার পি.জি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। উল্লেখ্য, তিনি মৃত্যুকালে স্ত্রী, দুই পুত্র, দুই কন্যা রেখে যান। তার জ্যেষ্ঠ পুত্র মোঃ আখতারুজ্জামান ব্যবসায়ী ও পরিচালক দি কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি এবং মন্ডল ফিলিং স্টেশন এর মালিক। কনিষ্ট পুত্র হাসান জামান লালন জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের ছাত্র সংসদের সাবেক জি.এস ছিলেন তিনি ১৯৯৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ভারতের দার্জিলিংয়ের এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। ম. আ রহিম দি কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি এর সাবেক পরিচালক মোঃ রাকিবুজ্জামান সেতুর দাদা।

আজ কুষ্টিয়ার বংশীতলা যুদ্ধ দিবস

৪৮ বছরেও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পায়নি শহীদ মোবারক আলী

আরিফ মেহমুদ ॥ আজ ৫ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার। কুষ্টিয়ার বংশীতলা সম্মুখ যুদ্ধ দিবস। মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে বীরত্বে গাঁথা এক ইতিহাসের দিন আজ। ১৯৭১ সালের এই দিনে কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার বংশীতলায় পাকবাহিনীর সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মুখ যুদ্ধ সংঘঠিত হয়। জীবনের মায়া ত্যাগ করে মা মাটি ও দেশের মানুষকে সেদিন মুক্ত করতে কুষ্টিয়ার দামাল ছেলেরা লড়েছিল চির শক্র পাকবাহিনীর সাথে। কয়েক ঘন্টা ধরে চলে পাকবাহিনীর সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মুখ যুদ্ধ। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রবল আক্রমনের মুখে পাকহানাদাররা তাদের বিশাল সৈন্যবাহিনী নিয়েও অপ্রত্যাশিতভাবে পরাজিত হয়। বংশীতলার এ যুদ্ধে ১৩ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন, ৮ জনের লাশের দাফন স্থানীয়রা করেন দূর্বাচারাসহ বিভিন্ন জায়গায়। ৩ জনের লাশ নিয়ে যায় পাকহানাদাররা। পর দিন আরো ২ জনের লাশ পাওয়া যায় এখানকার মাঠের জঙ্গলে। কারো কারো মতে আরো বেশি। স্বাধীনতার ৪৮ বছর অতিবাহিত হলেও এই যুদ্ধে নিহত শহীদ মোবারক আলী মোল্লা রাষ্ট্রীয়ভাবে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পায়নি আজো। তাঁকে রাষ্ট্রীয়ভাবে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি না দিলেও এবারের বাছাই পর্বে পাকবাহিনী কর্তৃক “গণহত্যার স্বীকার” আখ্যায়িত করে তাঁর শহীদ আত্মাকে অসম্মান করা হয়েছে বলে শহীদ মোবারক আলী মোল্লার পরিবার দুঃখ প্রকাশ করেছেন। অন্য দিকে ১৩ শহীদ পরিবারের তেমন একটা খোঁজ রাখেনি কেউ। নামমাত্র ভাতা আর বিজয় দিবসে কিছু উপঢৌকন ছাড়া কিছুই পায়নি শহীদ পরিবারগুলো। নানানভাবে ইতিহাস বিকৃতি হয়েছে এ যুদ্ধে শহীদদের নিয়ে। যুদ্ধের পরের দিন বংশীতলা থেকে উদ্ধারকৃত শহীদ মেজবার আলীর লাশ এবং দাফনকৃত কবরের জায়গা দখল নিয়ে হয়েছে নানা নাটকীয়তা। পাকবাহিনীর ভয়ে ও ঝড়-বৃষ্টির কারনে পিয়ারপুর মাঠের মধ্যে দাফন করা কবরটি এক সময় অজ্ঞাত দেখানো হলেও উপযুক্ত দাবীদার না থাকায় কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে শহীদ  মেজবার আলীর কবর আবিস্কার কাহিনী। এমন স্বাক্ষ্যই দিয়েছেন লাশ উদ্ধার এবং আত্মীয় স্বজনের কাছে হস্তান্তরকারী শহীদ মোবারক আলী মোল্লার ছেলে লিয়াকত আলী মোল্লা ও কুষ্টিয়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার নাছিম উদ্দিন আহমেদ। শহীদদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে নির্মিত স্মৃতি সৌধে বরাবরই ১১ জনের নামের তালিকা থাকলেও কয়েক বছর আগে কুষ্টিয়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কর্তৃক নতুন করে মেজবার আলী, সুরুজ লাল ও চাঁদ আলী সহ ১৪ জন শহীদের নামের তালিকা ঠাঁই  পেয়েছে। এজন্য শহীদ পরিবার, যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী মুক্তিযোদ্ধা ও এলাকাবাসী কুষ্টিয়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা সাবেক কমান্ডার নাছিম উদ্দিন আহমেদসহ সকল কমান্ডারকে সাধুবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে কুষ্টিয়ার ইতিহাসের এই বীরত্বে গাঁথা দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে  কোন বড় ধরনের কর্মসূচী না থাকলেও স্থানীয়ভাবে শহীদ পরিবারের পক্ষে শহীদ মোবারক আলী মোল্লার ছেলে আলতাফ হোসেন মোল্লা, জেলা ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারসহ এলাকাবাসী শহীদদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা ও মাগফেরাত কামনা করে প্রতি বছরই এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে স্মৃতিসৌধ চত্বরে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে থাকেন। এবারও তার ব্যত্যয় ঘটেনি। বাদ  যোহর বংশীতলা স্মৃতিসৌধ চত্বরে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। অন্যদিকে এবারই প্রথম বংশীতলা সম্মুখ যুদ্ধে নিহত শহীদ খোরশেদ আলম দিল-এর স্মরণে তাঁর নিজ গ্রাম কুষ্টিয়ার জিয়ারখী ইউনিয়নের কমলাপুরে সকালে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এতে কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনের এমপি মাহবুবউল আলম হানিফ-এর সম্মানীত প্রতিনিধি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বংশীতলা সম্মুখ যুদ্ধের বীর সেনানী বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ রবিউল ইসলাম।

ইতিহাস অনুসন্ধানে জানা যায়, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মাচ ভাষণের পর ৬ দফা ও ১১ দফা দাবী আদায়ের সংগ্রামকে চাঙ্গা করার উদ্দেশ্যে সারা  দেশের ন্যায় বৃহত্তর কুষ্টিয়াতেও সর্বদলীয় সংগ্রাম কমিটি গঠন করে প্রতিবাদ সভা, মিছিল, অসহযোগ আন্দোলন, প্রতিরোধ যুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। প্রতিরোধ যুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের সময় বৃহত্তর কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুরের  বৈদ্যনাথ তলায়(মুজিবনগরে) অস্থায়ী রাজধানী থাকায় এ  জেলা প্রতিরোধ যুদ্ধে ও মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ২৫ মার্চ রাতে ২৫০ জন পাক সৈন্য আকষ্মিকভাবে কুষ্টিয়ায় প্রবেশ করে। তারা শহরে প্রবেশ করেই কারফিউ জারী, ধর পাকড়, অত্যাচার, নির্যাতন ও যুবতী মেয়েদের ধরে নিয়ে ধর্ষণ শুরু করে। এ সংবাদ সর্বত্রই ছড়িয়ে পড়ে রাজনৈতিক  নেতা-কর্মী জনসাধারণ সবার মধ্যে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। প্রতিকার ও প্রতিরোধের আগুন জ্বলে ওঠে সবার মধ্যে। এ কারনে পাকহানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে পড়ে। ফলে ১ সেপ্টেম্বর ভারত থেকে ৪০ জন মুক্তিযোদ্ধা প্রশিক্ষণ নিয়ে কুষ্টিয়া জেলার সীমান্ত এলাকায় প্রবেশ করে। এ দলের  বেশির ভাগ মুক্তিযোদ্ধাই ছিলেন কুষ্টিয়া সদর থানার দামাল  ছেলেরা। কুষ্টিয়া শহরের আশপাশ ছিল এদের গন্তব্যস্থল। ১ সেপ্টেম্বর বিকেলের দিকে কুষ্টিয়া সদর থানার বুত্তিপাড়া হতে পাক সৈন্য ও মিলিশিয়া পুলিশ বাহিনীর একটি দল দহকুলা গ্রামের মধ্যে দিয়ে আলামপুর গ্রামে অবস্থানরত মুক্তিযোদ্ধাদের উপর হামলার জন্য আসে। পরদিন অনেক পাক সৈন্য ও মিলিশিয়া পুলিশ আলামপুর গ্রামে আসে। তারা এ গ্রামের অনেক বাড়ীঘর পুড়িয়ে দেয় এবং আলামপুর গ্রামের কয়েকজন সাধারণ মানুষকে ধরে নিয়ে যায়। এ ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই ৫ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়া সদর থানার বংশীতলা ও দূর্বাচারা গ্রামে অবস্থানরত মুক্তিযোদ্ধারা পাক  সৈন্যের হামলা প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে খুব সকালে প্রস্তÍুতি গ্রহণ করে এবং বিভিন্ন স্থানে সুবিধামত জায়গায় অবস্থান নিয়ে পাক সৈন্যের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন। কিন্তু সকাল ১০ টা পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধারা কোন পাক সৈন্য দেখতে না পেয়ে তারা মনে করেন আজ আর পাক সৈন্য আসবে না। তাই তখন মুক্তিযোদ্ধারা অনেকেই যে যার মত নাস্তা খেতে যান এবং কেউ কেউ এদিক সেদিক ঘোরাফেরার মধ্যে ছিলেন। আর এ দলের মুক্তিযোদ্ধা ও লাইট মেশিন গানম্যান আব্দুল কুদ্দুস তার সহকারী সেকেম আলীকে নিয়ে বংশীতলা গ্রামের চৌরাস্তার মোড়ে গিয়ে আমগাছের গুড়ির পাশে অবস্থান নেয়। এমন সময় তারা দেখতে পান যে পাক  সৈন্যরা পায়ে হেটে দূর্বাচারার দিকে আসছে। পাক সেনারা যখন আব্দুল কুদ্দুসের খুব কাছাকাছি চলে আসে তখন আব্দুল কুদ্দুস লাইট মেশিনগান দিয়ে তাদের উপর বিরামহীনভাবে ব্রাশফায়ার করতে শুরু করে। হঠাৎ করে খুব কাছ থেকে পাক সৈন্যের উপর লাইট মেশিন গানের ব্রাশফায়ার শুরু হওয়ায় তারা তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা আক্রমনের সুযোগ পায়নি। রাস্তার দু’ধারে অথৈ পানি থাকায় অবস্থান নিতে ও পালাতে পারেনি। আব্দুল কুদ্দুসের ব্রাশফায়ারে ঘটনাস্থলেই অনেক পাক সেন্য আহত ও নিহত হয়। বিরামহীনভাবে গুলিবর্ষণের ফলে লাইট মেশিনগানের ব্যারেল গরম হয়ে ফায়ার বন্ধ হয়ে যায় এবং এ সময়ে পাক সৈন্যের একটি গুলি এসে আব্দুল কুদ্দুসের পায়ে লাগে। এ ফাঁকেই পাক সৈন্যরা সামনের দিকে অগ্রসর হতে শুরু করে। অবস্থা বুঝে আব্দুল কুদ্দুস ও সেকেম আলী পাক সৈন্যের নাগালের বাইরে চলে যায়। এ সময় দূর্বাচারা গ্রামে অবস্থানরত মুক্তিযোদ্ধারা  গোলাগুলির শব্দ শুনে অগ্রসর হয়ে বংশীতলা গ্রামের কাছে চলে যায়। পাক সেন্যরা বংশীতলা গ্রাম হতে দূর্বাচারা গ্রামের দিকে অগ্রসর হবার প্রাক্কালে মুক্তিযোদ্ধা ও পাক সৈন্যের মধ্যে সম্মুখ যুদ্ধ শুরু হয়। এখানেও বেশ কিছু পাক সৈন্য আহত ও নিহত হয়। পাকিসত্মান বাহিনী পিছন থেকে তাদের আর্টিলারি গ্র“প ২ ও ৩ মর্টার এবং রকেট ল্যান্সারের গোলা মুক্তিযোদ্ধাদের উপর  নিক্ষেপ করতে শুরু করে এবং বংশীতলায় হতে অনুমান ৩ মাইল দুরে কুষ্টিয়া টেক্সটাইল মিলে স্থাপিত পাক সৈন্যের ক্যাম্প হতেও যুদ্ধক্ষেত্রের দিকে লক্ষ্যহীনভাবে হেভিগানের গোলা নিক্ষেপ করতে থাকে। এ সময় দূর্বাচারার মুক্তিযোদ্ধা তাজুল ইসলাম অত্যান্ত সাহসিকতার সাথে পাক সৈন্যের অফিসার ক্যাপ্টেন জামিলকে হত্যা করেন। তাজুল ইসলাম এখান থেকে তার দলের মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে ফেরার সময় অন্য গোলার মুখে টিকতে না পেরে পিছু হটতে বাধ্য হয়। পাক সৈন্যও চলে যায়। কয়েক ঘন্টা ধরে যুদ্ধ হয়। বংশীতলার যুদ্ধে ৮ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন এবং ১০ জন মুক্তিযোদ্ধা কম-বেশি আহত হন এবং ৫ জন মুক্তিযোদ্ধা পাক সৈন্যের হাতে ধরা পড়েন। এ ৫ জনের মধ্যে ৩ জনের বাড়ী ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা থানায়। বাকী ২ জনের বাড়ী হরিণাকুন্ড থানায়। বংশীতলার যুদ্ধে পাক সৈন্যের সঙ্গে ১২ জন রাজাকার এসেছিল। তার মধ্যে ৬ জন যুদ্ধ ক্ষেত্র হতে পালিয়ে যায়। বাকী ৬ জন রাজাকার পাক সৈন্যের সঙ্গে ক্যাম্পে ফিরে যায়। পাকিস্তানী সৈন্যবাহিনী বংশীতলা যুদ্ধে অপ্রত্যাশিতভাবে চরমভাবে পরাজিত হয়। বংশীতলার এ যুদ্ধে ১৩ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন, ৮ জনের লাশের দাফন স্থানীয়রা করেন দূর্বাচারাসহ বিভিন্ন জায়গায়। ৩ জনের লাশ নিয়ে পাকহানাদাররা। পর দিন আরো ২ জনের লাশ পাওয়া যায় এখানকার মাঠে জঙ্গলে। কারো কারো মতে আরো  বেশি। শহীদরা হলেন-তাজুল ইসলাম, খোরশেদ আলম দীল, সেখ দিদার আলী (বীরপ্রতিক), ইয়াকুব আলী, গোলাম  মোস্তফা রাজ্জাক, চাঁদ আলী  মোল্লা, মোবারক আলী মোল্লা, আব্দুল মান্নান, মিরাজুল ইসলাম, সুরুজ লাল, মেজবার আলী, সাবান আলী ও কিয়ামুদ্দিন। এখানে ১০ জন মুক্তিযোদ্ধা গুরুতর আহত হয়। এ যুদ্ধে নিহত দূর্বাচারা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে কয়েকজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধাকে দাফন করা হয়। এখানে তাদের কবর রয়েছে। শহীদদের পরিবারের লোকজন অভিযোগ করে জানিয়েছে, প্রতিবছর বংশীতলা দিবস ও বিজয় দিবস ও স্বাধীনতা দিবসে শহীদদের কবরে সম্মান জাননো হয়। বিশেষ দিনেই শহীদরা শ্রদ্ধা পায়, তাছাড়া অন্য কোন সময় তাদের কথা  কেউই মনে রাখেনা। শহীদদের পরিবারের লোকজন আক্ষেপ করে বলেন, যাদের বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে এ স্বাধীন  দেশ, অথচ তাদের প্রতি অবহেলা আর অবজ্ঞা ছাড়া কিছুই জোটেনা।

কুষ্টিয়া নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণ

গণভবনে জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা বিনিময়

সুজন কর্মকার ॥ জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৪ সেপ্টেম্বর বুধবার বিকেলে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনা বলেন প্রত্যেক ধর্মেই শান্তির কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশে সকল ধর্মের মানুষ শান্তিতে বসবাস করছে। এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন খাদ্য মন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব এ্যাডঃ শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত, জন্মাষ্টমী উদ্যাপন কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা গৌরাঙ্গ কুমার দে, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জী, জন্মাষ্টমী উদ্যাপন কমিটির সাবেক সভাপতি দেবাশিষ পালিত, জন্মাষ্টমী উদ্যাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিমল কান্তি দে, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কিশোর মন্ডল, জন্মাষ্টমী উদ্যাপন কমিটির সাবেক সভাপতি এ্যাডঃ চন্দ্র তালুকদার, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট’র সহ-সভাপতি সুব্রত পাল প্রমুখ। এতে সারা দেশের কয়েক হাজার সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। কুষ্টিয়া নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) এ্যাডঃ জয়দেব বিশ্বাস, সহ-সভাপতি দুলাল দেবনাথ, যুগ্ম-সম্পাদক নিলয় কুমার সরকার, জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদ নেতা ও হিন্দু-বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা শাখার সভাপতি ব্যারিস্টার গৌরব চাকী, কুষ্টিয়া জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক অসিত সিংহ রায়, সহ- কোষাধ্যক্ষ পরেশ রায় নাড়–, দপ্তর সম্পাদক বিপ্রজিত বিশ্বাস খোকন, আইন সম্পাদক এ্যাডঃ শংকর কুমার মজুমদার, সহ-আইন সম্পাদক এ্যাডঃ শীলা বসু (এজিপি), প্রচার সম্পাদক সাংবাদিক সুজন কুমার কর্মকার, সাংস্কৃতিক সম্পাদক শিল্পী রীনা বিশ্বাস, গ্রন্থহা ও প্রকাশনা সম্পাদক মিহির চক্রবর্তী, সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা রবীন্দ্রনাথ সেন, জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদ নেতা ও হিন্দু-বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক কিশোর কুমার ঘোষ জগত, জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদ সদস্য তারাদাস ভৌমিক, বাপ্পী বাগচী, গোপা সরকার, নিতাই কুন্ডু, খোকসা উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি সুধাংশু কুমার বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র মালাকার, কুমারখালি উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের যুগ্ম-সম্পাদক শিশির সিংহ রায়, ডাঃ অরুণ বিশ্বাস সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও ভেড়ামার এবং মিরপুর উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 

মানবাধিকার সংস্থার স্টিকারযুক্ত গাড়িতে ৬০ হাজার ইয়াবা

ঢাকা অফিস ॥ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার স্টিকার লাগানো একটি গাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৬০ হাজার ইয়াবা। গতকাল বুধবার দুপুরে পটিয়া উপজেলায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের আমজুর হাট এলাকায় র‌্যাব সদস্যরা ইয়াবাসহ গাড়িটি আটক করে। এ সময় ‘মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও বাস্তবায়ন সংস্থা’র সভাপতি পরিচয় দেওয়া নাসিবুর রহমান নাসিব (৪২) ও তার গাড়িচালক মো. রাশেদকে (২৭) গ্রেপ্তার করা হয়। র‌্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক এএসপি মাশকুর রহমান জানান, তল্লাশি চৌকিতে গাড়িটি আটক করা হয়। “এসময় নাসিব নিজেকে সংস্থাটির সভাপতি পরিচয় দিয়ে আমাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন। আমাদের কাছে সুর্নিদিষ্ট তথ্য থাকায় গাড়ি থেকে ল্যাপটপ ও সাউন্ড বক্সের ভেতরে বিশেষ কৌশলে রাখা ৬০ হাজার ৮০০ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।” এএসপি মাশকুর বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে নাসিব মানবাধিকার সংস্থার সভাপতি পরিচয়ে স্টিকার লাগানো গাড়িতে করে কক্সবাজার থেকে ইয়াবা আনা-নেয়া করতেন বলে স্বীকার করেছেন। ঢাকা ছাড়াও তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে ইয়াবা পরিবহন করেন।” এদিকে ভোরে নগরীর জুবলী রোড এলাকার লাভ লেইন এলাকার হোটেল আল ফয়সাল থেকে ২৭০টি ইয়াবাসহ আনোয়ারুল হাসান রাসেল (৩৫) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

পোড়াদহ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের শপথ গ্রহণ

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের  চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আনোয়ারুজ্জামান বিশ্বাস মজনু শপথ গ্রহণ করেছে। গতকাল বুধবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান। স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মৃণাল কান্তি দে’র সভাপতিত্বে এ সময়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আজাদ জাহান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ওবাইদুর রহমান, নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এ বি এম আরিফুল ইসলাম, জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মুরাদ হোসেন, মিরপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অ্যাডঃ আব্দুল  হালিম, উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান আবুল কাশেম জোয়ার্দ্দার, সাবেক মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান শারমিন আক্তার নাসরিন, পোড়াদহ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মোশারফ হোসেন, পোড়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সেলিম হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। শপথ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট হাফিজুর রহমান।

লালন মিউজিয়াম আধুনিকায়নের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন

ফকির লালনকে বিশদরবারে পরিচিতি করার প্রয়াস অব্যাহত থাকবে

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ও লালন একাডেমির আহ্বায়ক মো. আসলাম হোসেন বলেছেন আধ্যাত্মিক সাধক ফকির লালন সাঁই শুধু আমাদের সম্পদ নয়, বিশে^র সম্পদ। তাঁর মানবতার বাণী সারাবিশে^ সমাদৃত। আধ্যত্মিক সাধক ফকির লালনের মর্মবাণী সারাবিশে^ তুলে ধরতেই আমাদের এই প্রয়াস অব্যাহত থাকবে। তিনি গতকাল বিকেলে কুষ্টিয়া লালন একাডেমিতে লালন মিউজিয়াম আধুনিকিকরণ উদ্বোন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে এসব কথা বলেন। মিউজিয়াম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আজাদ জাহান, বেসরকারী স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা দিশা’র নির্বাহী পরিচালক রবিউল ইসলাম, লালন একাডেমির অন্যতম সদস্য তাইজাল আলী খান, সেলিম হোসেন প্রমুখ।  জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেনের পরিকল্পনা ও নির্দেশনা এবং বেসরকারী স্বেচ্ছাসেবি সংস্থা দিশা’র সার্বিক সহযোগিতায় আধুনিক দৃষ্টিনন্দন মিউজিয়ামের ডিজাইনার ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের চারুকলার সহযোগি অধ্যাপক আব্দুল আজিজ।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি বিস্ময়কর – আফ্রিকান রাষ্ট্রদূত

ঢাকা অফিস ॥ আফ্রিকান রাষ্ট্রদূত ড. অনিল সুখলাল বলেছেন, গত ৫০ বছর ধরে বাংলাদেশ-আফ্রিকার মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চলছে। শিক্ষা, ব্যবসাসহ অন্যান্য বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে অংশীদারত্ব আরো বাড়বে। গত ১০ বছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি বিস্ময়কর। গতকাল বুধবার বেলা ১১টায় রাজধানীর ইস্কাটনে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে দক্ষিণ আফ্রিকা ও বাংলাদেশের মধ্যে কূটনীতিক সম্পর্কের রজতজয়ন্তী স্মরণ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন। দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে আশা প্রকাশ করে তিনি আরো বলেন, আমাদের সম্পর্ক আরো নতুন উচ্চতায় পৌঁছুবে। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে বিআইআইএসএস। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্র সচিব মো. শহিদুল হক।

বিএনপি সরকারকে একটা মেসেজ দিয়েছে -ফারুক

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর স্মরণকালের সবচেয়ে বড় র‌্যালি করে দলটির নেতাকর্মীরা সরকারকে একটি মেসেজ (বার্তা) দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক। তিনি বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র‌্যালির দিন দলের নেতাকর্মীরা সরকারকে একটা বার্তা দিয়েছেন যে, তারা রাস্তায় নামলে সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না। বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আয়োজিত এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে এ কথা বলেন তিনি। অপরাজেয় বাংলা নামে একটি সংগঠন এ মানববন্ধনের আয়োজন করে। সাবেক চিফ হুইপ ফারুক বলেন, ২ সেপ্টেম্বর পার্টি অফিসের সামনে বিএনপির নেতাকর্মীরা আপনাদের (সরকারকে) একটা মেসেজ দিয়েছে। র‌্যালির জন্য মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে অনুমতি দিয়েছেন, তাতেই কয়েক লাখ মানুষ জড়ো হয়েছিল। এ থেকেই বোঝা যায়এই জনগণ রাস্তায় নামলে আপনারা ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবেন না। এতে নেতাকর্মীদের সবার মনে একটিই আকাঙ্ক্ষা খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা। তাই এ মেসেজটা একটু চিন্তাভাবনা করবেন। সর্বত্র বিশৃঙ্খলা চলছে মন্তব্য করে জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, ঢাকা শহর ডেঙ্গুতে সয়লাব, প্রতিরোধ করতে পারেনি সরকার। শেয়ারবাজারের লুটকারীদের, ঋণখেলাপিদের তালিকা প্রকাশ করতে পারেনি। তাই এ সরকারের কাছে প্রশ্ন- এভাবে কদিন ক্ষমতায় থাকবেন? সরকারি কোষাগার শূন্য করে, টাকা লুট করে দেশের বাইরে নিয়ে যাচ্ছে, লুট হয়ে যাচ্ছে ব্যাংক। দেশের উন্নয়ন নেই, জনগণের উন্নয়ন নেই, উন্নয়নের নামে হচ্ছে কয়েকটা মেগাপ্রজেক্ট, ওই মেগা প্রজেক্ট করা হয় এই কারণে যেন লুটপাট-দুর্নীতি বেশি করতে পারে। মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রাজিয়া আলিম, কৃষক দলের সদস্য লায়ন মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ার, কেএম রকিবুল ইসলাম রিপন, চালক দলের সভাপতি জসিমউদ্দিন, আয়োজক সংগঠনের সহসভাপতি মোহাম্মদ ইব্রাহিম, সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন সিরাজী প্রমুখ।