সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় গঠনে প্রস্তাব জিএম কাদেরের

ঢাকা অফিস ॥ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের স্বার্থ সংরক্ষণে সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের। গতকাল শনিবার রাজধানী ঢাকায় জন্মাষ্টমী উপলক্ষে ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ প্রস্তাব দেন। জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে শ্রীকৃষ্ণ সেবা সংঘ এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। জিএম কাদের বলেন, দেশে সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় বা সংখ্যালঘু কমিশন থাকতে পারে। এতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সংরক্ষণ হবে, তারা এগিয়ে যেতে পারবে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি সব সময় সংখ্যালঘুদের পাশে ছিল। আগামী দিনগুলোতেও আমরা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পাশে থাকব। তাদের যৌক্তিক সব দাবিতে সংসদে ও রাজপথে ভূমিকা রাখবে জাতীয় পার্টি। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আরও বলেন, পৃথিবীর সব ধর্মই শান্তি ও সম্প্রীতির কথা বলেছে। সব ধর্মের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য একই। সব ধর্মই ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে কাজ করে। তাই এক ধর্মের সঙ্গে অন্য ধর্মের কোনো বিভেদ থাকতে পারে না। জিএম কাদের বলেন, মাত্র পাঁচ শতাংশ মানুষ ধর্মকে পুঁজি করে ব্যক্তিগত স্বার্থে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়। তাদের এ দেশের মানুষ কখনোই গ্রহণ করেননি। ‘বাংলাদেশের বড় দলগুলোও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করে। বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য অটুট থাকবে।’ তিনি আরও বলেন, জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সাবেক সফল রাষ্ট্রপতি পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ জন্মাষ্টমীর দিনকে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছিলেন এবং হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করেছেন। হিন্দুসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের স্বার্থ রক্ষায় এরশাদ সব সময় অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন। ‘পল্লীবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে জাতীয় পার্টি সব সময় সংখ্যালঘুদের পাশে থাকবে।’ শ্রীকৃষ্ণ সেবা সংঘের আহ্বায়ক নকুল চন্দ্র শাহার সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব সুজন দের পরিচালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ, সংখ্যালঘু বিষয়ক উপদেষ্টা সোমনাথ দে, বাংলাদেশ পুজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তাপস পাল, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ- খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ ঢাকা মহানগরের সভাপতি চিত্ত রঞ্জন দাস, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ৬৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আকাশ কুমার ভৌমিক ও অধ্যাপক এস এম রায় সমর। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আলমগীর সিকদার লোটন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফকরুল আহসান শাহজাদা, যুগ্ম দফতর সম্পাদক এম এ রাজ্জাক খান, কেন্দ্রীয় নেতা মাহমুদ আলম, আবু তৈয়ব, হাজি সিরাজ, মমতাজ, নুরুল হক নুরু, যুব নেতা মো. কামাল হোসেন প্রমুখ।

 

রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে যুক্তরাষ্ট্র সবই করবে – মিলার

ঢাকা অফিস ॥ ‘রোহিঙ্গাদের সম্মানের সঙ্গে ও নিরাপদে নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের জন্য আমেরিকা ও জাতিসংঘের অন্যান্য রাষ্ট্র মিলে যা যা করা দরকার তা সবই করবে। বাংলাদেশ উদারতার সঙ্গে রোহিঙ্গাদের যেভাবে আশ্রয় দিয়েছে সেটা প্রশংসার দাবিদার। রোহিঙ্গাদের সাহায্যের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকার বাংলাদেশের পাশে আছে, সব সময় থাকবে।’ গতকাল শনিবার সকালে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার অষ্টমীর চরে অবস্থিত নটারকান্দি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার এ সব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, বন্যা মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকারের চলমান প্রচেষ্টায় সহযোগিতা করতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার জনগণ ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যের জন্য ১ লাখ ডলার প্রদান করবে। এতে ১ হাজার ২শ’ পরিবারের ৪ হাজার ৯০০ মানুষ সহায়তা পাবে। শনিবার এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। চিলমারীর নটারকান্দি হাইস্কুল মাঠে ত্রাণ বিতরণের আগে চরাঞ্চলের বিভিন্ন বাড়ি ঘুরে সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন রাষ্ট্রদূত। এ সময় তিনি বাংলাদেশ সরকারের ত্রাণ প্রচেষ্টার পরিপূরক হিসেবে কাজ করতে স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় এই চরাঞ্চলের শতাধিক পরিবারকে নগদ ৪ হাজার ৫শ’ টাকা, গৃহস্থালি সামগ্রী এবং নারী ও কিশোরীদের স্বাস্থ্যসামগ্রী বিতরণ করেন। এ ছাড়া ১০টি প্রতিবন্ধী পরিবারের মাঝে নগদ সাড়ে ৫ হাজার টাকা করে অর্থ সহায়তা প্রদান করেন। এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে চিলমারী উপজেলার অষ্টমীর চর ও রমনা ইউনিয়ন এবং সদর উপজেলার পাঁচগাছি ইউনিয়ন। আন্তর্জাতিক দাতাসংস্থা কেয়ার বাংলাদেশ কুড়িগ্রাম জেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়নসহ সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করছে এবং ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা সলিডারিটি। ত্রাণ বিতরণের সময় সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন, পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান, ইউএসএইড বাংলাদেশের মিশন ডিরেক্টর ডেরিক ব্রাউন, কেয়ার বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিয়া চৌধুরী, উপজেলা চেয়ারম্যান শওকত আলী বীরবিক্রম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মো. শামসুজ্জোহা, সলিডারিটির নির্বাহী পরিচালক হারুন অর রশীদ লাল প্রমুখ। এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় সি-প্লেনে কুড়িগ্রাম চিলমারী বন্দরে ব্রহ্মপুত্র নদে অবতরণ করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিলার। এরপর তিনি স্পিডবোটে নটারকান্দি চরে ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। তিনি দুপুর সোয়া ১২টার দিকে আবার সি-প্লেনে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন।

মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতেই হবে – পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, ‘মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতেই হবে।’ শনিবার সিলেটে একটি অনুষ্ঠানে যোগদানের আগে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের মাঝে আস্থা তৈরি করতে পারেনি বলেই তারা তাদের দেশে ফিরতে রাজি হচ্ছে না। তবে দেশটির ওপর চাপ সৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। তাদের রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতেই হবে। আর তাদেরও ফিরে যেতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সব প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও রোহিঙ্গারা ফেরত যেতে রাজি না হওয়ায় বৃহস্পতিবার দ্বিতীয়বারের মতো প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ভেস্তে যায়। প্রত্যাবাসনে ব্যর্থতার দায় মিয়ানমারের। আমরা মিয়ানমারকে আগেই প্রস্তাব দিয়েছিলাম রোহিঙ্গাদের ১০০ জন নেতাকে সেখানে নিয়ে যেতে। তাদের প্রত্যাবর্তনের জন্য সেখানে কি কি করা হয়েছে সেগুলো দেখে এসে তারা অন্যদের বোঝাবে। সেখানে চীন ১০০টি এবং ভারত ২৫০ বাড়ি বানিয়ে দিয়েছে। সেগুলো দেখে এসে তারা যখন অন্য রোহিঙ্গাদের বলতো তখন তারা আশ্বস্ত হতো। প্রত্যাবর্তনে রাজি হতো। কিন্তু মায়ানমার সেটা করেনি। তাই প্রত্যাবর্তনের ব্যর্থতার দায় তাদেরই।’ পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিলেটে দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার্থে আর্থিক সহায়তা কর্মসূচির চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। এই অনুষ্ঠানে ড. মোমেন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ‘মানবিক উন্নয়ন’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘শেখ হাসিনা সরকারের গৃহীত সামাজিক নিরাপত্তায় নানামুখী কর্মসূচির কারণে এটা সম্ভব হয়েছে। দেশ উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যেতে চান। তিনি চান না সমাজ থেকে একটি মানুষও ঝরে পড়ুক।’ তাই, সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত এসব অর্থ কোনভাবে যেন বেহাত না হয় সেদিকে সবাইকে লক্ষ্য রাখার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘প্রতিবেশি রাষ্ট্র ভারত, নেপালসহ অনেক দেশে উন্নয়নের পাশাপাশি ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য অনেক বেশি। বাংলাদেশে উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে ধনী-দরিদ্রের ফারাক সেভাবে বাড়েনি।’ সিলেট জেলা প্রশাসন ও জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে কবি নজরুল মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিভাগীয় সমাজসেবা পরিচালক সন্দ্বীপ কুমার সিংহ। অনুষ্ঠানে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, মহিলা আওয়ামী লীগ নেতা  সৈয়দা জেবুন্নেছা হক, সিলেট জেলা সমাজসেবা অফিসার নিবাস রঞ্জন দাস উপস্থিত ছিলেন।

অচলাবস্থা উপেক্ষা করে কাশ্মীরের ‘গাজায়’ বিক্ষোভ

ঢাকা অফিস ॥ অধিকৃত কাশ্মীরে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও বিক্ষোভ চলছে। শুক্রবারে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দিতে টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করেছে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। সাংবিধানিক স্বায়ত্তশাসনের বাতিলের প্রতিবাদে কাশ্মীরের গাজাখ্যাত সৌরাপাড়ায় গত তিন সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভ করছেন স্থানীয়রা। উপত্যকাটিতে আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে এই পাড়াটিকে।-খবর রয়টার্স। শত শত স্থানীয় যখন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছেন, তখন পুলিশ সেখানে ঢোকার চেষ্টা করলে রুখে দেয়া হয়। চলতি সপ্তাহে ভারত ও পাকিস্তানের জাতিসংঘের সামরিক পর্যবেক্ষক গোষ্ঠীর (ইউএনএমওজিআইপি) কার্যালয়ের দিকে বিক্ষোভের আহ্বান করে পোস্টার সাঁটানো হয়েছে। ভারত থেকে কাশ্মীরকে আলাদা করতে চাওয়া বিচ্ছিন্নতাবাদীদের এই প্রথম কোনো এমন আহ্বান। কাশ্মীর নিয়ে দুই প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রথম যুদ্ধ হয় ১৯৪৯ সালে। এরপরেই ইউএনএমওজিআইপি প্রতিষ্ঠা করা হয়। ধাতুর পাত ও পাথর স্তূপ করে সৌরাপাড়ার সরু গলি বন্ধ করে দিয়েছেন স্থানীয়রা। শুক্রবার জুমার পর স্থানীয় মসজিদ এলাকায় তারা বিক্ষোভ করতে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। তখন পুলিশের দিকে পাথর ছুড়ে প্রতিবাদ জানান তারা। পুলিশও টিয়ার গ্যাস ও মরিচের গুঁড়ার গ্রেনেড(চিলি গ্রেনেড) নিক্ষেপ করে। কিন্তু প্রতিরোধের মুখে পড়ে পিছু হটে। ছররা গুলিতে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, নিরাপত্তা বাহিনী বারবার সৌরাপাড়ার ভেতরে ঢুকতে চেয়েছে। তারা টিয়ার গ্যাস ও ছররা গুলি ব্যবহার করেছ। রৌফ নামের এক কাশ্মীরি বলেন, আমরা বাড়িতে কিংবা বাইরে-কোথাও নিরাপদ না। টিয়ার গ্যাসের ঝাঁজ থেকে রক্ষা পেতে তিনি নাকে-মুখে লবণ ঘষছিলেন। শুক্রবার সকালে পাড়াটি শান্তই ছিল। দুপুরে নারী ও পুরুষরা দলবেঁধে স্থানীয় সবচেয়ে বড় মসজিদটিতে জুমা পড়তে যান। এরপর শুরু হয় বিক্ষোভ।

জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় গণজাগরণ গড়ে তুলুন – জাসদ

ঢাকা অফিস ॥ দেশে লুটপাট, সম্পদপাচার, নারী নির্যাতন, বেপরোয়া হত্যাকান্ড, উন্মত্ত গণপিটুনি প্রতিরোধে ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-বাংলাদেশ জাসদ সারাদেশে গতকাল (শনিবার) মানববন্ধন, জমায়েত, আলোচনাসভার মাধ্যমে গণজাগরণ দিবস পালন করেছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল সাড়ে ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া। আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ জাসদ সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. মুশতাক হোসেন, মোহাম্মদ খালেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করিম সিকদার, মনজুর আহমেদ মনজু, নাসিরুল হক নওয়াব, সাংগঠনিক সম্পাদক হোসাইন আহমেদ তফছির, জাতীয় কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম বাবু, বাংলাদেশ জাসদ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি আবদুস সালাম খোকন, ঢাকা মহানগর পূর্ব সভাপতি আসাদুজ্জামান জাকির, ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি আলমগির হোসেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ-বিসিএল সাধারণ সম্পাদক গৌতম শীল প্রমুখ। মানববন্ধনে বক্তব্য দেয়ার আগে যুদ্ধকালীন সরকারের উপদেষ্টা বাংলাদেশ ন্যশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপ সভাপতি অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সভাপতির বক্তব্যে শরীফ নুরুল আম্বিয়া বলেন, দেশে উন্নয়নের আড়ালে এক লুটেরাচক্র গড়ে উঠেছে। এই লুটেরাচক্র অনেক কিছু নিয়ন্ত্রণ করছে। দুদক বড়দের কাছে যেতে পারছে না, ছোটদের নিয়ে টানাটানি করছে। আবার সরল বিশ্বাসের দুর্নীতির প্রতি দুদক নমনীয় হয়ে পড়েছে। এখন দরকার উন্নয়নের সঙ্গে জনগণের অধিকার ও গণতন্ত্র শক্তিশালী করা। তিনি বলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচন মানুষের নৈতিকতার ধস নামিয়ে দিয়েছে। এ জন্য দুর্নীতি, ধর্ষণ, সন্ত্রাস প্রভৃতির প্রবৃদ্ধি হয়েছে। নির্বাচিত নেতৃত্ব, মন্ত্রী, মেয়রদের আচার-আচরণে দায়িত্বশীলতা প্রতিফলিত হয় না। ধানের দাম, চামড়ার দাম, ডেঙ্গু জ্বর নিয়ন্ত্রণে সেসব স্পষ্ট হয়েছে। বাংলাদেশ জাসদ সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান বলেন, আগে বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হতো। এখন চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি হচ্ছে ঠিকই কিন্তু তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য বিনিয়োগ নেই। কত দামে মানুষকে বিদ্যুৎ দিতে চায় সরকার তা জনগণকে জানানো উচিত।

 

ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের কোনো প্রতিষ্ঠানের অবহেলার নজির নেই – কাদের

ঢাকা অফিস ॥ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের কোনো প্রতিষ্ঠানের অবহেলার নজির নেই। গতকাল শনিবার রাজধানীর কাকরাইলস্থ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে জাতীয় শোক দিবসের আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন। সমন্বিত ও সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নিজে পরিস্থিতি তদারকি করছেন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে প্রথম দিকে প্রক্রিয়া ধীরগতি হলেও বর্তমানে সরকারের সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এক মুহূর্তের জন্যও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোনো শাখা কোনো প্রতিষ্ঠান শৈথিল্য প্রকাশ প্রদর্শনের নজির নেই।’ পাশাপাশি ‘বিআরটিসির অনিয়ম দুনীতি বন্ধ করে এই প্রতিষ্ঠানকে লাভজনক করতে সরকার কঠিন হতে যাচ্ছে’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি বিআরটিসির ব্যাপারে কঠিন হতে চলেছি। বিআরটিসি থেকে দুর্নীতি-অনিয়ম বন্ধ করা হবে। নতুন গাড়িগুলো এসে বহর আরো সমৃদ্ধ হয়েছে। আপনারা সহযোগিতা করলে বিআরটিসিকে লাভবান করা সম্ভব। এই প্রতিষ্ঠানকে লাভজনক করার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যে স্বপ্ন, সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করবো।’ তিনি আরও বলেন, ‘দুনীতিমুক্ত না হলে বিআরটিসি লাভের মুখ দেখবে না। লাভের গুড় এখানে পিপড়ায় খেয়ে ফেলে। লাভের গুড় যখন পিপড়ায় খেয়ে ফেলে তখন লোকসান ছাড়া লাভ হবে না। বিআরটিসিকে লাভজনক করতে হবে।’ বিআরটিসি শ্রমিক লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল কাদেরের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান। বক্তব্য রাখেন বিআরটিসির চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ ভুইয়া, জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি শুক্কুর মাহামুদ, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, অর্থ সম্পাদক সুলতান আহমদ।

জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যার প্ররোচক – হাছান মাহমুদ

ঢাকা অফিস ॥ তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘বিএনপি খুনির দল। জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যার প্ররোচক, ষোলশ’ সেনা সদস্য হত্যা করেছেন, তার স্ত্রীর কারণে শত মানুষ আগুনে পুড়ে মারা গেছে আর ফখরুল-রিজভীরা সেই খুনিদের দোসর। অন্য দেশে হলে, এদের শুধু বিচারই হতো, তা নয়, রাজনীতি করার অধিকারও থাকতো না।’ শনিবার সকালে ঢাকার তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএফডিসি) জহির রায়হান হলে ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে’ চলচ্চিত্র লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট ও ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের মর্মান্তিক হত্যাকান্ড স্মরণে তিনি একথা বলেন। ‘বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান হত্যাকান্ডের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেন এবং ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্যও হত্যাকান্ড ঘটান’ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘জিয়া বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের পুরস্কৃত করেন ও তাদের অপরাধের বিচার বন্ধ করতে সংসদে ‘ইন্ডেমনিটি বিল’ পাশ করান। আর বেগম জিয়া ঐ খুনিদের মন্ত্রী-এমপি বানিয়ে তাদের হাতে জাতীয় পতাকা তুলে দেন।’ তিনি বলেন, ‘শুধু তাই নয়, জাতির পিতার হত্যাকান্ডকে উপহাস করার জন্যই বেগম জিয়া নিজের জন্ম তারিখ পরিবর্তন করে ১৫ আগস্ট বানিয়ে কেককাটা উৎসব করেছেন। এখন জনগণের ঘৃণার কারণে জন্মদিন ১৫ আগস্ট রেখে পরদিন কেক কাটেন। অন্য দেশে এমন জন্মতারিখ পরিবর্তনকারীকে হয় মস্তিষ্ক বিকৃত আখ্যা দিতো, নয়তো জালিয়াতির দায়ে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতো।’ এ সময় ১৯৫৭ সালে প্রাদেশিক পরিষদে বঙ্গবন্ধুর উত্থাপিত বিলের মাধ্যমে ঢাকায় চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস ও চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের আন্তরিকতার উদাহরণ তুলে ধরে ড. হাছান বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর হাত ধরেই বাংলাদেশে চলচ্চিত্রের সূচনা হয়েছে এবং শেখ হাসিনার সরকার তাকে পুণরুজ্জীবিত করছে। সমাজের বিত্তবানদের এ শিল্পে বিনিয়োগে এগিয়ে আসা প্রয়োজন।’ বাংলাদেশ চলচ্চিত্র লীগের সভাপতি মিয়া আলাউদ্দিনের সভাপতিত্বে চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু, চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার, চিত্রনায়ক আলমগীর, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাউছার ও ঢাকা দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান টিটো, চলচ্চিত্র অভিনয়শিল্পী মৌসুমী, ফেরদৌস প্রমুখ সভায় অংশ নেন।

ঈদের ছুটির ৯ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৮৫ জনের মৃত্যু

ঢাকা অফিস ॥ ঈদুল আজহার ছুটির মোট ৯ দিনে ঢাকাসহ সারাদেশে ১৩৫টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ১৮৫ জন ও আহত হয়েছে ৩৫৫ জন। যা এবছরের ঈদুল ফিতরের তুলনায় কিছুটা বেশি বলে জানিয়েছেন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) আন্দোলনের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব লিটন এরশাদ। গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তিনতলায় মাওলানা আকরম খাঁ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ঈদুল আজহার ছুটির ৯ দিনে মোট ১৮৫ জন নিহত হয়েছে। যা ঈদুল ফিতরের তুলনায় কিছুটা বেশি। ঈদুল ফিতরের সময় সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা ছিল ১২৭টি। এর মধ্যে নিহত হয়েছে ১৮৪ জন ও আহত হয়েছে ৩৩২ জন। বিভিন্ন পত্রিকা, পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ, স্বতন্ত্র অনলাইন নিউজ পোর্টাল, সংবাদ সংস্থা ও টেলিভিশন চ্যানেলের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে বলে জানান তিনি। বিশেষ করে নিসচার সারাদেশে ১২০টি শাখার সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পুরো পর্যালোচনা ও যাচাই-বাছাইয়ের পর এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। নিসচার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এবছর ঈদুল ফিতরের সড়ক পথে ঈদযাত্রা যতটা স্বস্তিদায়ক ছিল ঈদুল আজহায় সেই ঈদযাত্রা ভোগান্তিতে পরিণত হয়। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গে যাত্রা পথে ঘরমুখোদের বেশ ভোগান্তিতে পড়তে হয়। লম্বা সময় জুড়ে সড়কে যানবাহনকে ঠায় বসে থাকতে দেখা যায়। তবে, নৌপথে দু’একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া ঈদযাত্রা ছিল অনেকটা স্বস্তিদায়ক। নৌপথে বেশ কিছু নতুন লঞ্চ বহরে যুক্ত হয়েছিল। এবারের ঈদের আগের দিন সদরঘাট টার্মিনালে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ সামলাতে পারেননি কর্তৃপক্ষ। এসব বিষয়ে আগামীতে নজর দিলে মনে করে নৌপথ আরও যাত্রীবান্ধব হয়ে উঠবে। পাশাপাশি রেলপথ বেশ কয়েকজন নতুন বগি যুক্ত হলেও রেলপথের শিডিউল বিপর্যয় টিকিট কালোবাজারি কারণে যাত্রী হয়রানি বেড়েছে অনলাইনে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রিতে এবারও প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে যাত্রীদের বিড়ম্বনা পোহাতে হয়েছিল বলেও তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, নিসচার এবছর ঈদুল আজহার সময় সারাদেশে সড়ক পথে গাড়ি চলাচল নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে ঈদুল আজহায় উত্তরবঙ্গের সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে। তবে, ঢাকা-চট্টগ্রাম রোডে তিনটি সেতু কাঁচপুর, মেঘনা ও গোমতী খুলে দেওয়ার ফলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামসহ পূর্ববঙ্গের বিভিন্ন জেলা যানজটে হয়নি বললেই চলে এবং সড়ক দুর্ঘটনায় সব অঞ্চলে তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে। খুলনা-যশোরে সড়ক দুর্ঘটনা কমেনি বরং বেড়েছে বলে লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়। লিখিত বক্তব্যে বলা হয় সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলের সংখ্যা বেশি থাকলেও সড়ক দুর্ঘটনা এবার তা সামান্য কমেছে। এবার ৪০টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় চালক ও আরোহীসহ মৃতের সংখ্যা ২৯ জন। গত ঈদুল ফিতরের মোটরসাইকেলের দুর্ঘটনা সংখ্যা ছিল ৪০টি, নিহতের সংখ্যা ছিল ৩৮ জন। মোটরসাইকেলের দুর্ঘটনা কমলেও আমরা এখনো শঙ্কিত বলেও তিনি জানান।

বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বাঙালীকে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ জাতিতে পরিণত করতে হবে –  মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ বস্তবায়ন করে বাঙালী জাতিকে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ জাতিতে পরিণত করতে হবে। গতকাল শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৪৪তম শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধু থেকে বিশ্ববন্ধু’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বঙ্গবন্ধু গবেষণা পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য মোজাফফর হোসেন পল্টু। সংগঠনের সভাপতি সভাপতি লায়ন গনি মিয়া বাবুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরো বক্তব্য রাখেন মুহম্মদ শফিকুর রহমান এমপি, বেগম শামসুন্নাহার ভুঁইয়া এমপি, কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইসমাইল প্রমুখ। মোজাম্মেল হক বলেন, বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান আন্দোলন সফল করার লক্ষে অনেক পরিশ্রম করেছেন। জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান শুধু বঙ্গবন্ধুই ছিলেন না, তিনি তাঁর জীবদ্দশাতেই বিশ্ববন্ধুতে পরিণত হন। এ বিষয়ে বিভিন্ন ঘটনার উদাহরণ দিতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু লন্ডনে পৌঁছালে ইংল্যান্ডের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথ বঙ্গবন্ধুকে বহনকারী গাড়িটির দরজা নিজ হাতে খুলে দিলে বিরোধী দলীয় নেতা হাউজ অভ কমনসে বলেছিলেন, এ ঘটনায় ইংরেজ জাতির মান সম্মান ধুলায় মিশে গেছে। এ অভিযোগের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী হিথ বলেছিলেন, আমি বঙ্গবন্ধুর গাড়ির দরজা খুলে দিয়ে বরং ইংরেজ জাতির মান মর্যাদা বৃদ্ধি করেছি কারণ শেখ মুজিবুর রহমানই বিশ্বের একমাত্র নেতা যিনি একটি ভূখন্ডের জনগণকে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখিয়েছেন, স্বাধীনতার জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন এবং স্বাধীনতার স্বপ্ন বস্তবায়ন করেছেন। মন্ত্রী বলেন, জাতির পিতাকে হত্যা করে ঘাতকচক্র তাঁর আদর্শকে মুছে ফেলতে চেয়েছিলো, কিন্তু তাদের উদ্দেশ্য সফল হয়নি। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার হয়েছে কিন্তু ঘৃণ্য এ হত্যাকান্ডের পরিকল্পনাকারীদের বিচার করে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করতে হবে। পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে এক দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

গ্রামীণফোন ও রবির লাইসেন্স বাতিলের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে বিটিআরসি

ঢাকা অফিস ॥ বকেয়া পাওনা আদায়ে টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন ও রবির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে। কারণ নানাভাবে উদ্যোগ নিয়েও ওই দুটি মোবাইল অপারেটরের কাছ থেকে পাওনা টাকা উদ্ধার করতে পারছে না বিটিআরসি। সেজন্য প্রথমে ব্যান্ডউইথের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছিল। পরে সেটা তুলে এনওসি বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়। এখনো ওই সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে। কিন্তু তারপরও তারা টাকা দিচ্ছে না। এবার প্রতিষ্ঠান দুটির লাইসেন্স বাতিলের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সেজন্য তাদের শোকজ করতে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের প্রয়োজন ছিল। ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন মিলেছে। খুব শিগগিরই তাদের বিরুদ্ধে চিঠি পাঠানো হবে। বিটিআরসি সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, গত ২৪ জুলাই বিটিআরসির সর্বশেষ কমিশন বৈঠকে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে,অডিটের মাধ্যমে শনাক্ত করা গ্রামীণফোনের কাছে ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি টাকা এবং রবির কাছে ৮৬৭ কোটি টাকা তারা পরিশোধ না করে টেলিযোগাযোগ আইন ২০০১ এর লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করেছে। ফলে একই আইনের ৪৬ ধারা অনুযায়ী কেন তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে না- তা ৩০ দিনের মধ্যে জানানোর জন্য শোকজ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ফলে কেন তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে শীর্ষ দুই মোবাইল অপারেটরের কাছে চিঠি পাঠানো হচ্ছে। সূত্র জানায়, ইতিপূর্বে বিটিআরসি গ্রামীণফোন ও রবির ব্যান্ডউইথের ওপর দেয়া নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে অপারেটর দুটির এনওসি (নো অবজেকশন সার্টিফিকেট) বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল। তখন বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেছিলেন, ‘সিদ্ধান্ত হয়েছে অপারেটর দুটির ব্যান্ডউইথ প্রত্যাহার হয়ে যাবে (তারা ফিরে পাবে)। তাহলে টাকা কীভাবে আদায় হবে? আমাদের আইনে যা আছে, তা আমরা প্রয়োগ করব। আমাদের আইনে যে ব্যবস্থা দেয়া আছে, তা প্রয়োগ করে টাকা আদায়ের ব্যবস্থা করা হবে। এটুকু সিদ্ধান্ত হয়েছে। টাকাটা পাবলিক ডিমান্ড। রাষ্ট্রীয় টাকা। এ টাকা মাফ করার কোনো সুযোগ নেই। এ টাকা অপারেটরগুলোর না দেয়ার কোনো সুযোগ নেই, তেমনি বিটিআরসিও মাফ করতে পারবে না।’ সূত্র আরো জানায়,‘প্রধানমন্ত্রী আইসিটি উপদেষ্টার নির্দেশে গ্রাহক ভোগান্তির কথা চিন্তা করে দুটি মোবাইল অপারেটরকে কোনো ধরনের এনওসি না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। এমনকি নতুন কোনো প্যাকেজেরও অনুমোদন দেয়া হবে না। এরপরও যদি টাকা আদায় না হয়, তাহলে বিটিআরসি প্রশাসক নিয়োগের কথাও চিন্তা করতে পারে। এখন তো লাইসেন্স কেন বাতিল হবে না, সেই মর্মে চিঠি যাচ্ছে। এদিকে এ প্রসঙ্গে বিটিআরসি চেয়ারম্যান জহুরুক হক জানান, ‘আমরা লাইসেন্স বাতিলের শোকজ করার জন্য ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন পেয়েছি। শিগগিরই তাদের কাছে চিঠি যাবে। অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার জানান, ‘বিটিআরসি আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নেয়ার সেটা নেবে। মন্ত্রণালয় অভিভাবক হিসেবে তাদের যে ধরনের সহযোগিতা দেয়া দরকার আমরা সেটা দেব।’

 

ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদাকে মুক্ত করা হবে – সেলিমা

ঢাকা অফিস ॥ ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান। গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে খালেদা জিয়ার নিশর্ত মুক্তির দাবিতে মহিলা দল আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে খালেদা জিয়াকে বন্দি করে রাখা হয়েছে। তার মুক্তির দাবিতে নারীরা রাজপথে নেমেছে। ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা দেশনেত্রীকে মুক্ত করবো এবং দেশের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবো। সেলিমা রহমান বলেন, দেশে চামড়া ধ্বংস, ধর্ষণ, খুন, গুম ও হত্যার রাজনীতি চলছে। আর এগুলো করছে আওয়ামী লীগের ছাত্রলীগ-যুবলীগ ক্যাডাররা। মানুষের আজ কথা বলার অধিকার নেই। মানুষ কথা বলতে সাহস পাচ্ছে না। তাই আমাদের সংগঠিত হতে হবে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, মধ্যরাতের ভোটে সরকার ক্ষমতায় এসেছে। সেটি টিকিয়ে রাখতেই খালেদা জিয়াকে বন্দি করে রাখা হয়েছে। খালেদা জিয়া বাইরে থাকলে তারা গণতন্ত্রকে হত্যা করার সাহস পেতো না। তাই তার মুক্তির জন্য সব নারীসমাজসহ দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে আজ বিচার বলতে কিছু নেই। ট্রেনের বগিতে লাশ পাওয়া যাচ্ছে, মাদারীপুরে নৌকায় ধর্ষণ করে লাশ ফেলে দিচ্ছে, মিন্নিকে পরকীয়ার মিথ্যা অপবাদ দিয়ে অপরাধী করা হচ্ছে, শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস চলছে। ক্ষমতায় টিকে থাকতে আওয়ামী লীগ বেপরোয়া হয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জনগণের জন্য আজ খালেদা জিয়া কারারুদ্ধ। তাই জনগণ তাকে মুক্ত করবে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এবং দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবে বলেও বক্তব্যে উল্লেখ করেন সেলিমা রহমান। মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান আহমেদ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খান প্রমুখ।

দৌলতপুর সীমান্তে ৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে ৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার হয়েছে। গতকাল শনিবার ভোররাত ৩টার দিকে ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনস্থ জয়পুর বিওপি’র টহল দল মহিষকুন্ডি মাঠপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪ কেজি ভারতীয় গাঁজা উদ্ধার করে। তবে উদ্ধার হওয়া মাদকের সাথে জড়িত কেউ আটক হয়নি।

ইবি এবং তুরস্কের চানকিরি কারাতেকিন বিশ^বিদ্যালয়ের মধ্যে টিচিং এবং লার্নিং মোবিলিটি বিষয়ক প্রোগ্রাম শুরু

ইসলামী বিশ^বিদ্যালয় এবং তুরস্কের চানকিরি কারাতেকিন বিশ^বিদ্যালয়ের মধ্যে টিচিং এবং লার্নিং মোবিলিটি বিষয়ক চারদিনব্যাপি প্রোগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের কনফারেন্স হলে গতকাল শুরু হয়েছে। প্রোগ্রামে অংশ নিতে তুরস্কের চানকিরি কারাতেকিন বিশ^বিদ্যালয়ের চার সদস্যের প্রতিনিধিদল আজ ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ে পৌঁছেন এবং বিকাল ৪টায় ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী (রাশিদ আসকারী)’র সঙ্গে ভিসি অফিস-কক্ষে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এসময় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান, ফলিত রসায়ন ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. মোঃ আতিকুর রহমান, প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদ, ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট এ্যাফেয়ার সেল-এর প্রধান ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদ, সেল-এর সদস্য ড. মোঃ হুমায়ুন কবির ও ড. মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন এবং সদস্য-সচিব এস. এম. সাদৎ হোসেন সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তুরস্কের চানকিরি কারাতেকিন বিশ^বিদ্যালয়ের প্রতিনিধি দলে ছিলেন ড. শোয়াইব তুরান, ড. বুরাক কেসকিন, ড. ইফেহান উলাস এবং সারকান কোলদাস। উপহার সামগ্রী প্রদান করে ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিদলকে অভ্যর্থনা জানানো হয়। প্রতিনিধিদল ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী এবং প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমানকে ক্রেস্ট এবং উপহারসামগ্রী প্রদান করেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

সিডিএল ট্রাস্ট শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে পাঠচক্র ও সৃজনশীল বই পরিচিতি সভা

গতকাল ২৪ আগষ্ট শনিবার  সি.ডি.এল. ট্রাস্টের  উদ্যোগে এবং দিশা স্বেচ্ছাসেবী আর্থ সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার  জগতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সকাল ১১টায় নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের সাথে বহিপীর ও সেলিনা হোসেনের কাকতারুয়া উপন্যাসটির উপর পাঠচক্র ও সৃজনশীল বই পরিচিতি সভার আয়োজন করা হয় ও ১২টায় ড. রাগিব হাসানের বিদ্যাকৌশল বইটির উপর আলোচনা করেন ঝিনাইদহ নুরুন্নাহার মহিলা কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অজয় কুমার বিশ^াস। শিক্ষার  বিভিন্œ কৌশল  সুন্দর উপস্থাপনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বই পাঠ বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করেছেন। জগতি মাধ্যমিক স্কুলের বাংলা শিক্ষিকা আঞ্জুমান আরা বলেন শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ভান্ডারকে সমৃদ্ধ করতে বইপাঠের বিকল্প নেই। সৃজনশীল বই অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিডিএল ট্রাস্ট্রের নির্র্বাহী পরিচালক আক্তারী সুলতানা। তিনি আরও জানান এভাবে বিভিন্ন স্কুল ও কলেজে দিশা  সংস্থার  সহযোগিতায় সিডিএল ট্রাস্ট শিক্ষার্থীদের সাথে  নিয়ে পাঠচক্র ও সৃজনশীল বই পরিচিতি সভা করতে আগ্রহী এবং সকল স্কুল কলেজের সহযোগিতা আশা করেন। জগতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহা: আব্দুল লতিফের সহযোগিতা ছিলো অত্যন্ত প্রাণবন্ত। অনুষ্ঠানে প্রত্যেক বক্তার পক্ষ থেকে একটি কথাই উচ্চারিত হয়েছে  পড়ার কোন বিকল্প নেই। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত জানার শেষ নেই। অতএব জ্ঞান অণে¦ষনের জন্য বই এর বিকল্প নেই। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

জামালপুরের ডিসির আপত্তিকর ভিডিও

তদন্ত করবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ

ঢাকা অফিস ॥ এক নারী অফিস সহকারীর সঙ্গে জেলা প্রশাসক (ডিসি) আহমেদ কবীরের আপত্তিকর ভিডিও প্রকাশের বিষয়ে অবগত আছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। বিভাগের কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। অফিস খুললে বিষয়টি তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করবে মাঠ প্রশাসনের দেখভালের দায়িত্ব থাকা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। গতকাল শনিবার সকালে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (জেলা ও মাঠপ্রশাসন অনুবিভাগ) আ. গাফ্ফার খান এসব তথ্য জানান। জামালপুরের ডিসির একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটিতে ডিসি আহমেদ কবীরের সঙ্গে তার অফিসের এক নারীকর্মীকে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখা যায়। গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে খন্দকার সোহেল আহমেদ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে জেলা প্রশাসকের আপত্তিকর ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিষয়টিকে সাজানো দাবি করেছেন জেলা প্রশাসক। ওই ঘটনায় জামালপুরের মানুষের মাঝে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে অতিরিক্ত সচিব গাফ্ফার খান বলেন, ‘বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নলেজে আছে।’ তিনি বলেন, তদন্ত কমিটি হবে, এখন দু’দিন বন্ধ যাচ্ছে। অফিস খুললেই এটা হবে। তবে এটা নিয়ে বিভিন্নভাবে তদন্ত হচ্ছে, বিভিন্ন সংস্থা-কর্তৃপক্ষ সেটা করছে। আরও অনেক অথরিটি আছে, তারাও দেখছে। এটা আমাদের নলেজেও আছে। বিষয়টি দেখা হচ্ছে, বলেন অতিরিক্ত সচিব।

এটিএন বাংলা কুষ্টিয়ার ক্যামেরাপার্সনের উপরে হামলা

ক্যামেরা ভাঙচুর, মারধর ও টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ, অভিযুক্ত শাহিন গ্রেফতার

নিজ সংবাদ ॥ এটিএন বাংলা কুষ্টিয়ার ক্যামেরাপার্সন হাসিবের উপরে হামলা ক্যামেরা ভাঙচুর ও টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার বাঁশ গ্রামে দায়িত্ব পালনকালে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে হামলা করেন পার্শ্ববর্তী কুশলীবাসা গ্রামের টেংরা শেখের ছেলে শাহিন শেখ (৪০)। এই ঘটনায় এটিএন বাংলা কুষ্টিয়ার ক্যামেরাপার্সন হাসিব বাদী হয়ে কুমারখালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং-১২, তারিখ-২৪/০৮/২০১৯ ইং। মামলা দায়েরের পর কুমারখালী থানার সেকেন্ড অফিসার শেখ খালেদুর রহমানের নেতৃত্বে বাঁশগ্রাম ক্যাম্পের আইসি লিপন সরকারসহ পুলিশের একটি দল অভিযুক্ত শাহীনকে আটক করেছে কুমারখালী থানা পুলিশ। থানায় দায়েরকৃত এজাহার সূত্রে জানা যায়, গতকাল দুপুর আনুমানিক বারোটার দিকে এটিএন বাংলার ক্যামেরাপারসন হাসিব বাঁশ গ্রামে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলেন। এসময় শাহিন শেখসহ অজ্ঞাতনামা তার কয়েকজন সহযোগী হাসিবের উপরে হামলা চালায়। কিছু বুঝে উঠার আগেই তারা এটিএন বাংলার একটি ভিডিও ক্যামেরা ভাঙচুর করে, সাথে থাকা নগদ টাকা ছিনতাই সহ ক্যামেরাপারসনকে বেধড়ক মারপিট করেন। সংবাদটি কুষ্টিয়া শহরে সাংবাদিকদের কাছে পৌঁছালে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত ক্যামেরাপার্সন হাসিবকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে থানায় এজাহার দায়ের করলে কুমারখালী থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শাহীন শেখকে আটক করে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন কুষ্টিয়া প্রেসক্লাব, টেলিভিশন জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন ও এডিটর’স ফোরামের সাংবাদিকরা। তারা বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া ব্যক্তিদের অবশ্যই ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে। যে ব্যক্তি এই ঘটনা ঘটিয়েছে তার বিরুদ্ধে এলাকাতে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক বাঁশ গ্রাম ও কুসলিবাসা এলাকার স্থানীয় অনেকেই জানান, এই শাহিন শেখ একজন চিহ্নিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী। তার অত্যাচারে এলাকার সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ। এলাকাবাসীর দাবি শাহীনকে কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করার পাশাপাশি শাহিনের অনুসারী যারা এলাকাতে প্রভাব বিস্তার করে চলাফেরা করে তাদেরকেও আইনের আওতায় নিয়ে কঠিন শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অভিযোগ রয়েছে এই শাহিন শেখ, সাম্প্রতিক সময়ে ক্রসফায়ারে নিহত ওবায়দুর রহমান লালের ভাই এমদাদুলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। অনেকেই বলছেন সে মারা যাওয়ার পর এমদাদের অবৈধ অস্ত্রের রাজ্যের ভান্ডারে দেখাশোনা এই শাহিন শেখ করে থাকে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হয়তো আরও গুরুতর তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

ভারতের সাবেক অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলির জীবনাবসান

ঢাকা অফিস ॥ ভারতের সাবেক অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি আর নেই। শনিবার বর্ষীয়ান এই বিজেপি নেতার জীবনাবসান হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের সংবাদ মাধ্যম। নরেন্দ্র মোদীর বিগত সরকারের অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলির বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর। পাঁচ বছর অর্থ ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব সামলানোর পর অসুস্থতার কারণে নিজেই মোদীর এবারের সরকারে না থাকার ইচ্ছা জানিয়েছিলেন তিনি। একই কারণে নির্বাচনও করেননি। অসুস্থতার কারণে মোদীর বিগত সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজও এবারের সরকারে থাকেননি। সম্প্রতি তারও মৃত্যু ঘটে। প্রচন্ড শ্বাসকষ্ট  হওয়ায় গত ৯ আগস্ট নয়া দিলি¬র অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্স (এআইআইএমএস) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল অরুণ জেটলিকে। এআইআইএমএস শনিবার এক বিবৃতিতে তার মৃত্যুর কথা জানায়। ভর্তির পর থেকে তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন বলে পিটিআই জানিয়েছে। গত বছর অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকার সময় অরুণ জেটলির কিডনি প্রতিস্থাপন হয়েছিল। তারপর থেকে তিনি অসুস্থতার মধ্য দিয়েই চলছিলেন। বিজেপি নেতৃত্বাধীন অটল বিহারি বাজপাইর সরকারেও মন্ত্রী ছিলেন পেশায় আইনজীবী অরুণ জেটলি। ভোটের রাজনীতিতে অসফল হলেও মোদীর সরকারে নানা সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং জোটের রাজনীতিতে ভূমিকার জন্য অরুণ জেটলি ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ। অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তির পর তাকে দেখতে গিয়েছিলেন ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ, প্রধানমন্ত্রী মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। অরুণ জেটলির মৃত্যুতে শোক জানিয়ে মোদী বলেছেন, তিনি মূল্যবান একজন বন্ধুকে হারালেন। অরুণ জেটলির জন্ম ১৯৫২ সালের ২৮ ডিসেম্বর নয়া দিলি¬তে। তার বাবা মহারাজ কিষাণ জেটলিও ছিলেন একজন আইনজীবী। হিসাব বিজ্ঞানে পড়াশোনার পর দিলি¬ ইউনিভার্সিটি থেকে এলএলবি ডিগ্রি নেন অরুণ জেটলি। অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের নেতা ছিলেন তিনি; দিলি¬ ইউনিভার্সির ছাত্র সংসদের সভাপতিও ছিলেন। ছাত্র সংগঠনে নেতৃত্ব দেওয়ার পর গত শতকের ৮০ দশকে বিজেপিতে সক্রিয় হন অরুণ জেটলি। ১৯৯১ সাল থেকে তিনি দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটিতে ছিলেন। ১৯৯৯ সালে বাজপাইর সরকারে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান অরুণ জেটলি; পরে আইন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও তার উপর চেপেছিল। কংগ্রেস আমলে ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত রাজ্যসভায় বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করেন তিনি। অরুণ জেটলি বিয়ে করেন কাশ্মীরের সাবেক অর্থমন্ত্রী গিরিধারী লাল ডোগরার মেয়ে সঙ্গীতাকে। তাদের দুই ছেলে-মেয়েও আইনজীবী।

শহীদ মিনারে অধ্যাপক মোজাফফরকে শেষ শ্রদ্ধা

ঢাকা অফিস ॥ জাতীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় সিক্ত হলেন মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের উপদেষ্টা এবং ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) একাংশের সভাপতি অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ। গতকাল শনিবার দুপুর ১২টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তার লাশ আনা হয় সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য। এসময় অধ্যাপক মোজাফফর আহমদকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিব), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, কেন্দ্রীয় খেলাঘর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাম গণতান্ত্রিক জোট, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন, ছাত্র ইউনিয়ন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি), জাতীয় জাদুঘর, বাংলাদেশ কবিতা পরিষদ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, আমরা মুক্তিযোদ্ধা সন্তানসহ বিভিন্ন সংগঠনের সদস্য এবং সাধারণ মানুষ। এসময় অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের লাশ ফুলে ফুলে ভরে যায়। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মোজাফফর আহমদের মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তার মেয়ে আইভি আহমদ বলেন, আমার বাবা সারাজীবন গরিব মানুষের জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। বাংলাদেশের সংবিধানের চারটি স্তম্ভ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের সব মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ হলেই বাবার স্বপ্নপূরণ হবে। অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য এক মিনিট নিরবতা পালনের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করা হয়। এর আগে অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের প্রথম নামাজে জানাজা বেলা ১১টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় প্রধানমন্ত্রী, স্পিকারসহ অনেকেই অংশগ্রহণ করেন। সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মোজাফফর আহমদের জানাজা শেষে সাংবাদিকদের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, রাজনীতিতে অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের ত্যাগের দৃষ্টান্ত সবার জন্য অনুসরণীয় হয়ে থাকবে। ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের প্রতিটি সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ। বামপন্থিদের মধ্যে প্রথম যিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছয় দফায় বঙ্গবন্ধুকে সমর্থন জানিয়েছিলেন, তিনি মোজাফফর আহমদ। তিনি বলেন, তিনি বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত কাছের মানুষ ছিলেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের রাজনৈতিক সহযোগিতা পেয়েছেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, দেশের সুযোগ্য সন্তান, কিংবদন্তি নেতা আমাদের মধ্য থেকে হারিয়ে গেলেন। তার প্রজন্মের কেউ আর রাজনীতিতে থাকলেন না। মোজাফফর আহমদ একটি বিশাল বটবৃক্ষের মতো, যে বটবৃক্ষের আজ পতন হলো। এরপর ন্যাপ কার্যালয়ে অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের লাশ তার সহযোদ্ধাদের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হয়। বেলা ১২টায় ধানমন্ডি হকার্স মার্কেটে ন্যাপ কার্যালয়ে তার লাশ আনা হয়। এ সময় দেশের প্রবীণ এই রাজনীতিবিদকে একবার দেখা এবং শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার রাজনৈতিক জীবনের অসংখ্য সহযোদ্ধা ও শুভাকাক্সক্ষীদের উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। কেন্দ্রীয় শহীদ মোজাফফর আহমদের লাশ শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বায়তুল মোকাররম মসজিদে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বাদ আসর তার দ্বিতীয় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। আজ রোববার কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা নিজ গ্রামে অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের দাফন সম্পন্ন করা হবে। গত শুক্রবার রাত পৌনে ৮টার দিকে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ৯৭ বছর বয়সী এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ। অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ মুক্তিযুদ্ধকালীন মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন। এ ছাড়া ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতাযুদ্ধে তার ভূমিকা অবিস্মরণীয়। তার জন্ম ১৯২২ সালে। ১৯৩৭ সালে রাজনীতিতে অংশ নেন। এই রাজনীতি করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন তিনি। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে মোজাফফর আহমদ দেবীদ্বার থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। তদানীন্তন মুসলিম লীগের শিক্ষামন্ত্রী মফিজুল ইসলামকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে নজির সৃষ্টি করেছিলেন তিনি। ১৯৬৮ সালে ন্যাপ দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। একভাগ মাওলানা ভাসানীর সঙ্গে থাকলেও অন্য অংশ অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের নেতৃত্বে আলাদা হয়ে যায়।

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের দায়িত্ব জনগণের, অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীদের নয় ঃ ড. কামাল

ঢাকা অফিস ॥ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ দেশবাসীকে যা দিয়েছেন, তা নেয়ার শক্তি কারো নেই বলে মন্তব্য করেছেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের দায়িত্ব জনগণের। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীদের নয়।’ শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের মানিক মিয়া হলে গণফোরাম আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ সব কথা বলেন তিনি। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু জাতির পিতা, কারও একক পিতা নন। বঙ্গবন্ধু কোনো একক দলের নয়, তিনি সবার। এ দেশে এখন বঙ্গবন্ধুর ছবি ব্যবহার করে তার আদর্শের উল্টো কাজ হচ্ছে। তিনি যে আদর্শ আমাদের মাঝে রেখে গেছেন তার বাস্তবায়ন হচ্ছে না। বঙ্গবন্ধু কোনোদিনও ভাবতে পারেননি স্বৈরশাসন থাকবে। উনি চেয়েছিলেন, এ দেশে গণতন্ত্র থাকবে, নির্ভেজাল গণতন্ত্র। নামকাওয়াস্তে গণতন্ত্র নয়।’ বর্তমান সরকারের অবস্থান তুলে ধরে ড. কামাল বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু সব সময় বলতেন দেশের মালিক জনগণ। তাই তিনি সংবিধানে লিখে দিয়েছিলেন দেশের মালিক জনগণ এবং এ দেশের শাসনক্ষমতা জনগণের হাতে। কিন্তু খুবই দুঃখজনক বিষয় হল দেশে নির্বাচন পদ্ধতিটাকে উল্টে দেয়া হয়েছে। টাকা-পয়সা, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপপ্রয়োগের মধ্য দিয়ে এখন একটা রায় দিয়ে দেয়া হয়। মানুষ যাকে ভোট দিতে চায় না, সে সামনে এসে বলে, আমি নির্বাচিত, আমরা রাষ্ট্রক্ষমতার মালিক।’ তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু গণতন্ত্রের ব্যাখ্যা দিয়ে গেছেন। গণতন্ত্র মানে সব স্তরে জনগণ ক্ষমতার মালিক। যেখানে যেখানে সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করা হবে- কেন্দ্রে, জেলায়, ইউনিয়নে, স্থানীয় পর্যায়ে। যিনিই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন।’ ড. কামাল বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা জানানো, তাকে স্মরণ করা, তাকে জাতির পিতার ভূমিকায় রাখার অর্থই হল তিনি যে দায়িত্ব দিয়ে গেছেন তা যেন আমরা মনে রাখি, পালন করি। তার দেয়া সেই দায়িত্বকে পবিত্র মনে করে আমরা যেন কাজ করে যাই। যারা সত্যিকার অর্থেই জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়নি, তারা জনগণের স্বার্থ রক্ষা করছে না। তারা ব্যক্তি স্বার্থ গোছাতে কাজ করছে। এটা দেখে মেনে নেয়া যায় না। বঙ্গবন্ধু মেনে নেননি বলে তাকে জীবন দিতে হয়েছে। জনগণের স্বার্থ নিয়ে কোনোরকম আপস করেননি বলেই তাকে জীবন দিতে হলো।’ তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু যে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন সেটা ধরে রেখে আমরা সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে পারি এবং গড়বো ইনশাআল্লাহ। আজকের দিনে সবচেয়ে বড় অপরাধ হল, বঙ্গবন্ধুর যে কাজটা করতে বলেছেন উল্টোটা করে তার নাম নেয়া। এই দেশে  স্বৈরশাসন থাকবে, এটা তিনি কোনোদিনই ভাবতে পারেননি।’ ড. কামাল আরও বলেন, ‘আমি বঙ্গবন্ধুকে বলেছিলাম, ইয়াহিয়া খানই আপনাকে সার্টিফিকেট দিয়েছেন যে আপনি অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন। বাঙালিকে কখনও কোনোদিন কেউ ঐক্যবদ্ধ করতে পারেনি। এই অসম্ভবকে সম্ভব করে আপনি তাদের ঐক্যবদ্ধ করেছেন। ঐক্যবদ্ধ করে স্বাধীনতা দিয়েছেন আমাদের। ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে শোক দিবসের অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক আবু সাঈদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য মেসবাহ উদ্দীন আহমেদ, মোকাব্বির খান, অ্যাডভোকেট মহসীন রশীদ, সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া প্রমুখ।

বংশাল থানা আ’লীগের আলোচনা সভায় হানিফ

দন্ডপ্রাপ্ত তারেককে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার

ঢাকা অফিস ॥ একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় আদালত কর্তৃক কারাদন্ডপ্রাপ্ত তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ। শনিবার রাজধানীর পুরান ঢাকার নয়াবাজারে একটি কমিউনিটি সেন্টারে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বংশাল থানা আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দন্ডিত আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে শাস্তির বিধান করার জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গোটা দেশবাসীর পক্ষ থেকে ওই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের কাছে অনুরোধ করব, ব্রিটিশ সরকার বা মার্কিন সরকার আপনারা কথায় কথায় মানবতার কথা বলেন, গণতন্ত্রের কথা বলেন। আজ একজন কুখ্যাত অপরাধী, যিনি হত্যাকারী হিসেবে আদালত কর্তৃক দন্ডপ্রাপ্ত তাকে শেল্টার দিয়ে, তার বিচারের রায় কার্যকর করতে আপনারা সহায়তা না করে কোন মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করছেন সেটাই আপনাদের বিবেকের কাছে প্রশ্ন। তিনি বলেন, আপনারা মানবাধিকারের কথাই তো বলেন, সত্যিকারের মানবাধিকার যদি চান তাহলে এই সব দন্ডপ্রাপ্ত, কুখ্যাত আসামিদের অবিলম্বে আমাদের দেশে ফিরিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করুন। আদালত কর্তৃক দন্ডপ্রাপ্ত আসামিদের রায় কার্যকর করার মাধ্যমে, আইনের শাসনের মাধ্যমে আমরা এই দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে যেতে পারব। আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি অফিস থেকে আজ সংবাদ সম্মেলন করেন, নির্লজ্জ মিথ্যাচার করেন। আপনাদের মধ্যে বিবেকে বাধে নাই? বেগম খালেদা জিয়া নাটক করার জন্য সিএমএইচে গিয়েছিলেন। উনি দেখতে গেলেন আইভী রহমানকে, মৃত্যুর পথযাত্রী। খালেদা জিয়া আসবেন এই কারণে তার ছেলে এবং মেয়েকে পাশের একটা রুমে নিয়ে তালাবদ্ধ করে আটকে রাখা হলো প্রায় দুই ঘণ্টা। এত নিষ্ঠুর অমানবিক আচরণ, এটা আল্লাহপাক সহ্য করেননি। তিনি বলেন, সেই পাপের প্রায়শ্চিত্ত আজ বেগম খালেদা জিয়ার করতে হচ্ছে। ভেবেছিলেন এতিমের টাকা আত্মসাৎ করে বা এই সব অপরাধ করে কোনো দিন আপনার বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে না। আল্লাহর বিচার আছে। অপরাধ করলে যে তার শাস্তি হয়, বিচার হয় আজ দেখুন। হানিফ বলেন, বেগম খালেদা জিয়া রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে, ইন্ধন নিয়ে একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলায় আপনার সন্তানকে দিয়ে হামলা করিয়েছিলেন। ভেবেছিলেন জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার মধ্যদিয়ে আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করে আপনারা আজীবন ক্ষমতায় থাকবেন। সেই স্বপ্ন আপনাদের পূরণ হয়নি। তিনি বলেন, আজ আপনারাই নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে। আপনি আছেন কারাগারে, আপনার সন্তান আছে পলাতক হিসেবে দেশের বাইরে। এখনও ওখানে থেকে ষড়যন্ত্র করছেন। বংশাল থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সভাপতি হাজি আবুল হাসনাত, সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আকতার হোসেন, নির্বাহী সদস্য আনিস আহম্মেদ প্রমুখ।

 

ফরিদপুরে সেতু থেকে বাস পড়ে নিহত ৮

ঢাকা অফিস ॥ ফরিদপুরে সেতুর রেলিং ভেঙে বাস নিচে পড়ে আটজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২০ জন। কোতোয়ালি থানার ওসি এফএম নাছিম জানান, গতকাল শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে ধুলদি এলাকায় ঢাকা-ফরিদপুর মহাসড়কে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে। নিহতদের দুইজনের নাম-পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন হাবিবুর রহমান ও ফারুক হোসেন। তাদের বাড়ি গোপালগঞ্জ। নিহত অন্য ছয়জনের মধ্যে তিনজন পুরুষ আর তিনজন নারী। ওসি নাছিম বলেন, “ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জগামী বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেতুর রেলিংয়ে ধাক্কা খায়। সঙ্গে সঙ্গে কুমার নদে পড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই এর ছয় যাত্রী নিহত হন।” এছাড়া হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখান আরও দুইজন মারা যান বলে জানান ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের সহকারী উপ-পরিচালক শওকত আলী জোয়ার্দার। তিনি বলেন, দুর্ঘটনায় অন্তত ২০ যাত্রী আহত হয়েছেন। তাদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুঘটনার খরব পেয়ে ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট, হাইওয়ে পুলিশ ও কোতোয়ালি থানার পুলিশসহ এলাকাবাসী গিয়ে উদ্ধার কাজে অংশ নেয়। ফরিদপুর অঞ্চলের হাইওয়ে পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান প্রাথমিক তদন্তের তথ্য দিয়ে বলেন, “কমফোর্ট পরিবহনের এই বাসটি দ্রুত গতিতে চলার সময় সেতুত ওঠার পর একটি মোটরসাইকেলকে সাইড দিতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারায়। এ সময় সেতুর রেলিংয়ে ধাক্কা খেয়ে নিচে পড়ে যায়। এতে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।”