কালুখালীতে শ্রীকৃষ্ণের মহাজন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা

ফজলুল হক ॥ রাজবাড়ীর কালুখালীতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মহাজন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও আনন্দ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে গতকাল শুক্রবার বিকাল ৪টায় উপজেলার মদন মোহন জিউ মন্দিরে উপজেলার ধর্মপ্রাণ হিন্দু  ধর্মাবলম্বীদের উপস্থিতিতে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। শোভাযাত্রাটি মদন মোহন আঙ্গীণা প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে কালুখালী রেলস্টেশন রতনদিয়া বাজারের আশপাশ রাস্তা প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়। এরপর বিকাল সাড়ে ৪ টায় উপজেলা হিন্দু বৈদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি রাম প্রসাদ সাহার সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ জিল্লুল হাকিম। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ একটি সম্প্রীতির দেশ। এই দেশে ধর্ম যার যার উৎসব সবার। ভগবান শ্রী কৃষ্ণ পৃথিবীতে এসেছিলেন দুষ্টকে দমন করতে। আমাদের মধ্য থেকে দুষ্টকে দমন করতে হবে। বিশেষ অতিথি হিসেবে কালুখালী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলিউজ্জামান চৌধুরী (টিটো), উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুন নাহার, অফিসার ইনচার্জ সহিদুল ইসলাম, জেলা পরিষদ সদস্য খায়রুল ইসলাম খায়ের, রতনদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মেহেদী হাচিনা পারভীন নিলুফা, উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার সাহা, জাদব দত্ত ও মানিক দত্ত সহ হিন্দুধর্মাবলম্বীরা উপস্থিত ছিলেন।

নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের কমিটি ঘোষণা

নির্যাতনের ঘটনা আড়াল হতে দেব না – গয়েশ্বর

ঢাকা অফিস ॥ ক্ষমতাসীন অথবা প্রভাবশালী মহল নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা আড়াল করতে চাইলেও তা হতে দেবেন না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় গঠিত ‘নারী ও শিশু অধিকার ফোরাম’র স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান ও কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরীর নেতৃত্বে ৬১ সদস্যের গঠিত কমিটি ঘোষণা করতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। গতকাল শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত কমিটিতে চিকিৎসক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, শিল্পী, ব্যবসায়ী নানা শ্রেণি-পেশার মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এভাবেই সারা দেশে কমিটি করে ফোরামের কার্যক্রম করা হবে বলে জানান নিপুন রায় চৌধুরী। এই ফোরামের ছয় সদস্যের উপদেষ্টা কমিটিও ঘোষণা করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সদস্য হলেন খন্দকার মাহবুব হোসেন, এজে মোহাম্মদ আলী, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, আবদুল আউয়াল মিন্টু, জয়নুল আবেদীন ও রুহুল কবির রিজভী। সংবাদ সম্মেলনে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, লোমহর্ষক নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো ঘটনা ঘটলেও অনেক ঘটনা আড়ালে চলে যায়। এখন থেকে যাতে এসব ঘটনা আড়াল হতে না পারে, সেই কাজ করবে জাতীয় নারী ও শিশু অধিকার ফোরাম। তাৎক্ষণিকভাবে নির্যাতনের শিকার পরিবারের পাশে দাঁড়ানো, তাদের চিকিৎসা ও আইনি সহায়তাও দেবে এ ফোরাম। এ কাজে তিনি মিডিয়ারও সহায়তা চান। তিনি বলেন, ফেনীর নুসরাত হত্যাকান্ড মিডিয়ায় আসার কারণেই জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে সরকার বাধ্য হয়েছে। ফোরামের আহ্বায়ক সেলিমা রহমান বলেন, খুন-ধর্ষণের পৈশাচিক বিকৃতি আমাদের রাষ্ট্র সমাজকে গ্রাস করে ফেলেছে। সরকারের সর্বোচ্চপর্যায় থেকে রাষ্ট্র সমাজের সর্বত্র ঘৃণা ছড়ানোর ফলে ক্ষমতা ঘনিষ্ঠ সমাজবিরোধীরা আশকারা পাচ্ছেন। অভিভাবকরা মেয়ে ও শিশুসন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে রীতিমতো আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তিনি বলেন, অনাচারমূলক দুঃশাসনে জবাবদিহিতার অভাবের কারণেই নারী ও শিশু নির্যাতন বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমান সরকারের আমলেই নারী ও শিশু নির্যাতন অতীতের সব রেকর্ড অতিক্রম করেছে। কারণ অধিকাংশ নির্যাতনকারী সরকারি দলের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। এ কারণে এ ধরনের জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার পরও তাদের কেশাগ্রও কেউ স্পর্শ করতে পারছেন না। সেলিমা রহমান আরও বলেন, প্রিয় বাংলাদেশ, আজ পরিণত হয়েছে ধর্ষণের লীলাভূমিতে। বখাটে প্রেমিক, পাড়ার মাস্তান, কর্মকর্তা, বাস কন্ডাক্টর, শিক্ষক, মাদ্রাসার প্রিন্সিপালসহ কিছু বিকৃত মানুষের লালসার শিকার নারী ও শিশুরা। ৯ মাস বয়স থেকে ৮০ বছরের বৃদ্ধা ধর্ষকের লোলুপ দৃষ্টি থেকে কেউ বাদ যাচ্ছেন না। এমনকি রেহাই পাচ্ছেন না বাকপ্রতিবন্ধী বা ভবঘুরে পাগলও। রাস্তাঘাট, বাস বা ট্রেন, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, হাসপাতাল- এমনকি পুলিশ স্টেশন কোথাও নারীরা নিরাপদ নয়। স্বামী-সন্তানদের বেঁধে রেখে নারীকে ধর্ষণ, পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে নির্মম কায়দায় শিশু হত্যা, পাশবিক নির্যাতনের পর নারীকে পুড়িয়ে কয়লা করে দেয়া- এইভাবে নানা অভিনব কায়দায় ধর্ষক লম্পটের হিংগ্র থাবা সর্বত্র বিরাজমান। তিনি আরও বলেন, এভাবেই সুবর্ণচরের পারুল, ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি, খুলনায় পুলিশ কাস্টডিতে রাতভর নারীর ওপর গণধর্ষণ চালানোর পর মিথ্যা ও সাজানো মাদক মামলা দিয়ে কোর্টে চালান দেয়া, সিরাজগঞ্জের মেয়ে কলেজছাত্রী রূপাকে টাঙ্গাইলের কাছে চলন্ত বাসে গণধর্ষণ করে হত্যা, কাকরাইলে উইল লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী রিশাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, ইবনে সিনা হাসপাতালের নার্স তানিয়া বাড়ি যাওয়ার পথে কিশোরগঞ্জের বাসে গণধর্ষণ করার পর হত্যা- এভাবে বর্তমান সরকারের আমলে জিম-মিম-তনু-মিতু-খাদিজাদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে আছে। শুধু গত ছয় মাসেই ৪৯৬ কন্যাশিশু গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। এদের মধ্যে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে ২৩ জনকে। নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের ঘোষিত কমিটির আহ্বায়ক বেগম সেলিমা রহমান ও সদস্য সচিব নিপুন রায় চৌধুরী, সদস্য আজিজুল বারী হেলাল, আমিনুল হক, রাশেদা বেগম হিরা, মীর সরফত আলী সপু, অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, লুৎফর রহমান কাজল, আফরোজা আব্বাস, তাইফুল ইসলাম টিপু, মুহম্মদ মুনির হোসেন, বেলাল আহমেদ, ফাহিমা নাসরিন মুন্নী, দীপেন দেওয়ান, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, ডা. রফিকুল ইসলাম, বেবী নাজনীন, মনিরুজ্জামান মনি, মিসেস বিলকিস ইসলাম, মিসেস ফরিদা ইয়াসমিন, মীর রবিউল ইসলাম লাবলু, খান রবিউল ইসলাম রবি, কাজী রফিক, করামুল হক বিপ্লব, সিমকি ইমাম খান, মশিউর রহমান বিপ¬ব, লায়লা বেগম, সাইফুল ইসলাম, রুমানা মাহমুদ, আলী আহম্মেদ, কনকচাঁপা, এলবার্ড পি কস্ট্রা, আবদুল খালেক, আবু সেলিম চৌধুরী, এসএ সিদ্দিক সাজু, ইশরাক হোসেন, জাহেদুল আলম হিটো, মাহবুব আলমগীর আলো, রেজাউল হাসান কয়েস লোদি, ড. নুরুল হক, লিটন আকন্দ, সাজ্জাদ হোসেন লাবলু, সাঈদ আহমেদ, মনোয়ারা বেগম মনি, জেলী চৌধুরী, রাশেদা ওয়াহিদ মুক্তা, শামীমা আকবর, তরুণ দে, রফিকুল ইসলাম জামাল, শাহ আহমেদ মোজাম্মেল চৌধুরী, মিসেস শামসুন্নাহার পান্না, আরিফা সুলতানা রুমা, শামীমা আক্তার শাম্মী, মঞ্জুর এলাহী, আসিফ আলতাফ সাদিয়া হক, অধ্যক্ষ রফিকা আফরোজ, দেওয়ান মাহমুদা আক্তার লিটা ও রিটা আলী।

রবীন্দ্র মৈত্রী বিশবিদ্যালয়ে সিন্ডিকেটের ৪র্থ সভা

কুষ্টিয়া রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ^বিদ্যালয়ে সিন্ডিকেটের ৪র্থ সভা বিশ^বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত হয়। বিশ^বিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহজাহান আলীর সভাপতিত্বে এবং রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ড. ইসমত আরার সঞ্চালনায় সিন্ডিকেট সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ^বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অন্যতম রূপকার, সাবেক তথ্যমন্ত্রী এবং একাদশ জাতীয় সংসদে তথ্য মণন্ত্রালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি হাসানুল হক ইনু, এম.পি। সরকার মনোনীত  সদস্য, বিশিষ্ট লেখক, কলামিস্ট, গবেষক, ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো: হারুন-উর-রশিদ আসকারী। ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ের মাননীয় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলন প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান। ২২ আগষ্ট ২০১৯ তারিখ সন্ধ্যা ৭ টায় অনুষ্ঠিত এ সভায় আরোও উপস্থিত ছিলেন ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহুরুল ইসলাম, বোর্ড অব ট্রাস্টিজ এর সদস্য সচিব মুহা. শামসুর রহমান বাবু, রমৈবি এর মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো: শহীদুর রহমান প্রমুখ। এর আগে গত ২০ আগষ্ট অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাউন্সিলের ২য় সভার সুপারিশ সমূহ অনুমোদন দেওয়া এছাড়া অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আরো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

জামালপুরের ডিসি ও এক নারীর ভিডিও নিয়ে তোলপাড় 

ঢাকা অফিস ॥ জামালপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর ও একজন নারীর একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এ নিয়ে সর্বমহলে বেশ তোলপাড় ও ধিক্কারের ঝড় উঠেছে। ভিডিওটি বানানো বলে দাবি করেছেন জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর।  ৪ মিনিট ৫৭ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটিতে যে কক্ষটি দেখা যায়, সেটি জামালপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীরের অফিস কক্ষে তার চেয়ারের ঠিক ডান পাশের ছোট একটি কক্ষ। ছোট এই কক্ষে একটি ছোট খাট বসানো হয়েছে। ভিডিওটিতে যে পুরুষকে দেখা যায়, তিনি জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর বলে দাবি করা হচ্ছে। আর যে নারীকে দেখা যাচ্ছে তিনি এই জেলা প্রশাসকের মাধ্যমেই সম্প্রতি নিয়োগ পাওয়া একই অফিসের একজন এমএলএসএস বা পিয়ন। জানা গেছে, জেলা পর্যায়ের সর্বোচ্চ পদধারী এই সরকারি কর্মকর্তা তার অফিসেই একজন নারীর সাথে অবৈধ মেলামেশার এই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘খন্দকার সোহেল আহমেদ’ নামের একটি পেজ থেকে আপলোড হয় গত ১৫ আগস্ট বিকেলের দিকে। ফেসবুক আইডি থেকে এটি ভাইরাল হয়ে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে ব্যাপকহারে নজরে আসতে থাকে ফেসবুক আইডি ব্যবহারকারীদের কাছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল তোলপাড় এবং ধিক্কারের ঝড় ওঠে। শুক্রবার ভোররাত থেকে রহস্যজনক কারণে ওই আইডির ওয়াল থেকে ভিডিও লিঙ্কটি সরিয়ে নেওয়ায় সন্দেহ আরো দানা বেঁধে উঠেছে। নিজ অফিস কক্ষে একজন নারীর সাথে জেলা প্রশাসকের অবৈধ মেলামেশার এই ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ায় বিভিন্ন সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার কর্তাব্যক্তিদেরও এ নিয়ে বেশ তৎপর থাকতে দেখা যাচ্ছে।  একাধিক সূত্রে জানা গেছে, জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর জামালপুরে যোগদান করেছেন ২০১৭ সালের ২৭ মে। যোগদানের কিছুদিন পর থেকেই তিনি তার অফিসের কক্ষের পাশে ছোট্ট একটি কক্ষে ধূমপান ও ব্যক্তিগত সরকারি গোপনীয় বৈঠকের জন্য কক্ষটি ব্যবহার করে আসছেন। সম্প্রতি ওই কক্ষে বিশ্রাম নেওয়ার জন্য একটি খাট বসানো হয়েছে। তাতে বিশ্রাম নেওয়ার মতো বালিশ, চাদর সবকিছুই আছে। সম্প্রতি ওই কক্ষে একাধিক নারীর যাতায়াতকে কেন্দ্র করে গোটা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মাঝে দীর্ঘদিন ধরে নানা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত সেখানে একজন নারীর সাথে জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীরের অবৈধ মেলামেশার ভিডিওটি ফেসবুকে, ফেসবুক থেকে ডাউনলোড করে মেসেঞ্জারে, মোবাইল থেকে মোবাইলে এবং ইমেইেলে ছড়িয়ে পড়ায় আগে শোনা সেই গুঞ্জন শেষ পর্যন্ত বাস্তবে রূপ নিয়েছে বলে মন্তব্য করছেন অনেকে। শুক্রবার দুপুরে এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর বলেন, ভিডিওটি আমি দেখেছি। ওটি আসলে বানানো একটি ভিডিও। খন্দকার সোহেল আহমেদ নামের ফেসবুকের একটি ফেক আইডি থেকে ওই ভিডিওটি আপলোড করে আমার কাছে মোটা অংকের টাকা দাবি করে আসছিল। গতকালকে ভোর থেকে ওই ভিডিওটি ওই আইডি থেকে সরিয়ে ফেলেছে। এর বেশি কিছু তিনি বলতে রাজি হননি।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সরকার কূটনৈতিকভাবে ব্যর্থ – রিজভী

ঢাকা অফিস ॥ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সরকার কূটনৈতিকভাবে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন রুহুল কবির রিজভী। সব প্রস্তুতি নিয়েও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের দ্বিতীয় চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার প্রসঙ্গ টেনেগতকাল শুক্রবার ঢাকার নয়া পল্টনে এক সমাবেশে এ মন্তব্য করেন বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব। তিনি বলেন, “রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সরকার কিচ্ছু করতে পারেনি, কিছুই পারেনি। এদের বিষয়ে এতদিন হয়ে গেল, আপনারা (সরকার) একজনকেও ফেরত পাঠাতে পারলেন না!” ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশে রিজভী বলেন, “এই ব্যর্থতা তো চরম ব্যর্থতা। আপনারা কূটনৈতিকভাবে ব্যর্থ হয়েছেন।” গতবছর নভেম্বর প্রথম দফার চেষ্টা ভেস্তে যাওয়ার পর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর জন্য ২২ আগস্ট দিন ঠিক হয়েছিল। কিন্তু নাগরিকত্বসহ চারটি শর্তের কথা তুলে বৃহস্পতিবার নির্ধারিত দিনে একজন রোহিঙ্গাও স্বেচ্ছায় মিয়ানমারের রাখাইনে ফিরে যেতে রাজি হয়নি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে মোমেন রোহিঙ্গাদের এই অনাগ্রহকে ‘দুঃখজনক’ বলেছেন। তিনি বলেছেন, এখন তারা যে সুখে আছে, তা বেশিদিন থাকবে না। এরই মধ্যে টাকা-পয়সা কমছে। রোহিঙ্গাদের নিয়ে যারা কাজ করছে তারাও কঠোর হবে।

ওই বক্তব্যের জন্য মন্ত্রীর সমালোচনা করে বিএনপি নেতা রিজভী বলেন, “একজনকেও আপনারা প্রত্যাবাসন করতে পারেননি। তারপরে আবার ধমক দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বাহ!” “এত দিন ধরে… আপনাদের নাকি এত বন্ধু আছে, তারা কেউ কিছু করতে পারল না আপনাদের জন্য। অথচ এই যে এতোগুলো মানুষের চাপ বাংলাদেশের সহ্য করতে হচ্ছে…।” সরকার কেবল কূটনৈতিকভাবে নয়, দেশের অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা সামাল দিতেও ‘ব্যর্থ হয়েছে’ মন্তব্য করে রিজভী বলেন, “এই সরকারের পতন তরান্বিত করতে হবে, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে। গণতন্ত্রের প্রতীক দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির মধ্য দিয়েই এই দেশের মানুষ মুক্তভাবে কথা বলার সুযোগ পাবে।” খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল ও জাতীয়তবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের উদ্যোগে এদিন নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এই মিছিল ও সমাবেশ হয়। জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত ও সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খানের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীদের নিয়ে মিছিল করেন রিজভী। মিছিল থেকে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে শ্লোগান দেওয়া হয়।

ভেড়ামারার শিক্ষিকা নাজমা খাতুনের উচ্চতর তথ্য প্রযুক্তি প্রশিক্ষণের জন্য থাইল্যান্ড গমন

নিজ সংবাদ ॥ ভেড়ামারা মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষিকা নাজমা খাতুন (তথ্য ও প্রযুক্তি শিক্ষিকা) গত ১৮ আগস্ট  থাইল্যান্ড গিয়েছেন। সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধিনে সেকেন্ডারি এডুকেশন সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট  প্রোগ্রামের আওতায় প্রতিষ্ঠিত আইসিটি লার্নিং  সেন্টার সমুহের তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক শিক্ষক হিসেবে  বৈদেশিক প্রশিক্ষণের লক্ষ্যে তিনি এ যাত্রা করেন। শিক্ষিকা নাজমা খাতুন ২ সপ্তাহ থাইল্যান্ডে অবস্থান করবেন। এ সময় থাইল্যান্ডের ক্যাসেট সার্ট  ইউনিভার্সিটিতে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি কম্পিউটার ল্যাব, বিভিন্ন শিক্ষা প্রোগ্রাম, দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন করবেন। বিমান বাংলাদেশের একটি এয়ার বাসে তিনি গত ১৮ আগস্ট সকাল ১১টায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। প্রশিক্ষণ শেষে আগামি ১ সেপ্টেম্বর ব্যাংকক এয়ারপোর্ট থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্সে তিনি দেশে ফিরবেন। এ ব্যাপারে শিক্ষিকা নাজমা খাতুন ভেড়ামারা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় এর প্রধান  শিক্ষক আব্দুল জব্বারসহ সকল শিক্ষক-শিক্ষিকার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। সেই সাথে দেশবাসির  দো’আ প্রার্থনা করেছেন। উল্লে¬খ্য, শিক্ষিকা নাজমা খাতুন  প্রেসক্লাব ভেড়ামারার নির্বাহী সদস্য মাহবুব আফাজের সহধর্মিণী।

চলে গেলেন ভাষাসৈনিক ডা. এম এ গফুর

ঢাকা অফিস ॥ ভাষাসৈনিক, চাঁদপুরের বিশিষ্ট সংগঠক ডা. এম এ গফুর আর নেই। শুক্রবার ভোরে রাজধানী ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। চাঁদপুরে জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার পরে স্থানীয় পৌর গোরস্তানে তাঁকে দাফন করা হবে। ডা. এম এ গফুর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অধ্যায়নকালে ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। দেশের স্বাধীনতার সংগ্রামসহ বিভিন্ন আন্দোলনে দক্ষ সংগঠক তিনি। তবে অনেকটা প্রচারবিমুখ ছিলেন। চিকিৎসা শাস্ত্রে মেডিসিন ও রেডিওগ্রাফিতে দেশ-বিদেশে পড়াশোনা শেষে চাঁদপুরেই মৃত্যু পর্যন্ত সমাজসেবায় জড়িত ছিলেন এই ভাষাসৈনিক। চাঁদপুর ডায়াবেটিস হাসপাতাল, বিএনএসবি মাজহারুল হক চক্ষু হাসপাতালসহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। ডা. এম এ গফুর দুই ছেলে এবং মেয়ে রেখে গেছেন। তাঁর সহধর্মিনী  মাহমুদা খানম  ছিলেন  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক। তাঁর মৃত্যুতে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপিসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

 

দৌলতপুরে জাসদ নেতা শরিফুল কবীর স্বপনের মাতার ইন্তেকাল

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে জাসদ নেতা শরিফুল কবীর স্বপনের মাতা গুলনাহার বেগম (৯৫) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাহি রাজিউন)। গতকাল শুক্রবার দুপুর পৌনে ২টার সময় উপজেলার ফিলিপনগর আবেদের ঘাট সংলগ্ন নিজ বাসভবনে তিনি ইন্তেকাল করেন। রাত সাড়ে ৭টার সময় ফিলিপনগর-ইসলামপুর কবরস্থানে মরহুমার প্রথম জানাযা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাযা পূর্ব মরহুমার আত্মর মাগফেরাত কামনা করে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন, দৌলতপুর আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রবীন আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক এমপি আফাজ উদ্দিন আহমেদ, জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আলীম স্বপন, দৌলতপুর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. শরীফ উদ্দিন রিমন, ফিলিপনগর ইউপি চেয়ারম্যান এ কে এম ফজলুল হক কবিরাজ, দৌলতপুর কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সরকার আমিরুল ইসলাম ও মরহুমার ছোট ছেলে কেন্দ্রীয়  যুবজোটের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল কবীর স্বপন। জনাযা নামাজে দৌলতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাড. এজাজ আহমেদ মামুন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ অংশ নেয়। উল্লেখ্য শহীদ মুক্তিযোদ্ধ আজিজুল হক চৌধুরীর স্ত্রী গুলনাহার বেগম রতœগর্ভা মা মৃত্যুকালে ৫ পুত্র সন্তান রেখে গেছেন যারা সকলেই নিজ নিজ অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে আজিজুল হক চৌধুরী শহীদ হোন। রাত ১১টায় দ্বিতীয় দফা জানাযা শেষে মরহুমার দাফন সম্পন্ন হয়।

শুভেচ্ছা দূত থেকে প্রিয়াঙ্কাকে সরাতে পাকিস্তানের আবেদন নাকচ

ঢাকা অফিস ॥ গত ফেব্র“য়ারিতে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে একটি জঙ্গি ঘাঁটিতে ভারতের হামলার পর টুইটারে ‘জয় হিন্দ’ লিখেছিলেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। আর তাতে ক্ষুব্ধ পাকিস্তান জাতিসংঘের কাছে প্রিয়াঙ্কাকে ‘শুভেচ্ছা দূত’ এর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার আবেদন করে। যা নাকচ করে দিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিবের মুখপাত্র বৃহস্পতিবার এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, শুভেচ্ছা দূতরা তাদের নিজস্ব মতামত নিয়ে কথা বলার অধিকার রাখেন। “নিজেদের আগ্রহ বা উদ্বেগের বিষয় নিয়ে কথা বলার পূর্ণ অধিকার তাদের আছে।” প্রিয়াঙ্কা জাতিসংঘের শিশু অধিকার সুরক্ষা বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের শুভেচ্ছা দূত। গত ১৪ ফেব্র“য়ারি ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (সিআরপিএফ) গাড়ি বহরে বোমা হামলায় ৪০ ভারতীয় জওয়ান নিহত হয়। পাকিস্তান ভিত্তিক জঙ্গি দল জইশ-ই-মোহাম্মদ ওই হামলার দায় স্বীকার করে। প্রতিশোধ নিতে ভারতীয় বিমানবাহিনী পাকিস্তানে ঢুকে জঙ্গিদলটির একটি প্রশিক্ষণ ঘাঁটিতে বোমাবর্ষণ করে তিন শতাধিক জঙ্গিকে হত্যার দাবি করে। ওই হামলার পর ২৬ ফেব্র“য়ারি প্রিয়াঙ্কার টুইটি “জয় হিন্দ ইন্ডিয়ানআর্মডফোর্স”। ওই টুইটের পর তাকে শুভেচ্ছা দূতের পদ থেকে সরিয়ে দিতে অনলাইনে পিটিশন দায়ের করা হয় এবং মুহূর্তেই হাজারো মানুষ পিটিশন আবেদন স্বাক্ষর করেন। হিন্দুস্তান টাইমস জানায়, প্রিয়াঙ্কার বিরুদ্ধে ‘উগ্র দেশপ্রম এবং ভারতীয় সশ্রস্ত্র বাহিনীকে সমর্থন’ করার কথা বলে এ সপ্তাহে পাকিস্তানের মানবাধিকারমন্ত্রী শিরিন মাজারি ইউনিসেফের পরিচালকের কাছে একটি চিঠি লেখেন এবং সংস্থাটির শুভেচ্ছা দূতের পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়ার আবেদন করেন। শিরিনের অভিযোগ ছিল, ওই টুইটের মাধ্যমে প্রিয়াঙ্কা ‘যুদ্ধ, এমনকি পরমাণু যুদ্ধকে সমর্থন’ করেছেন। যদিও ১৪ আগস্টের জঙ্গি হামলা বা জইশ-ই-মোহাম্মদের ঘাঁটিতে ভারতীয় বিমানবাহিনীর বোমা বর্ষণ নিয়ে প্রিয়াঙ্কা কোনো কথা বলেননি। প্রিয়াঙ্কার বিরুদ্ধে পাকিস্তানের করা পিটিশন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জাতিসংঘ মহাসচিবের মুথপাত্র বলেন, “তাদের ব্যক্তিগত পছন্দ বা কর্মকান্ডে ইউনিসেফের লক্ষ্য প্রতিফলিত হওয়া জরুরি নয়। “তবে যখন তারা ইউনিসেফের হয়ে কথা বলবেন তখন তারা নিরপেক্ষ অবস্থানে থেকে ইউনিসেফের দেওয়া নির্দেশনা মেনে চলবেন বলে আমরা আশা রাখি।”

মিরপুরে শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব তিথি শুভ জন্মাষ্টমী পালিত

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব তিথি শুভ জন্মাষ্টমী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে গতকাল শুক্রবার বিকেলে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে এক আলোচনা সভা ও শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। মিরপুর কালী মন্দির থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এর আগে আলোচনা সভায় উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বিশ্বজিৎ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম জামাল আহম্মেদ। এসময় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মিরপুর  পৌরসভার মেয়র এনামূল হক, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রমেশ চন্দ্র ঘোষ, মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম, পূজা উদযাপন পরিষদের সহ-সভাপতি নারায়ন চন্দ্র বিশ্বাস, শক্তি সঞ্চয় পাল, শ্যামল কুমার চৌধুরী, নির্মল কুমার বিশ্বাস, সাধারন সম্পাদক শুকেশ রঞ্জন পাল, নরত্তম পাল। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক পবিত্র কুমার দত্ত, শ্যামল কুমার দত্ত,  কোষাধ্যক্ষ অর্জুন কুমার সরকার, দপ্তর সম্পাদক মহাদেব চন্দ্র ঘোষ, আইন বিষয়ক সম্পাদক কুটিশ্বর পাল, উপজেলা দারিদ্র বিমোচন কর্মকর্তা মনোজ কুমার ইন্দ্র প্রমুখ। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্বাবধায়নে ছিলেন উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সংরক্ষন সম্পাদক কাজল কুমার কুন্ডু। এসময় উপজেলার সকল ইউনিয়নের হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

টেকনাফে যুবলীগ নেতাকে গুলি করে হত্যা করল রোহিঙ্গারা

ঢাকা অফিস ॥ কক্সবাজারের টেকনাফে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি ও যুবলীগ নেতা ওমর ফারুককে (৩০) গুলি করে হত্যা করেছে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা। বৃহস্পতিবার রাতে হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমুরা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক ওই এলাকার জমিদার আব্দুল মুনাফ ওরফে মোনাফ কোম্পানীর ছোট ছেলে। তিনি হ্নীলা ইউনিয়ন যুবলীগ ৯নং ওয়ার্ড শাখার সভাপতি ও জাদিমুড়া এম আর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির নির্বাচিত সভাপতি ছিলেন। নিহতের বাবা জানান, কোন কারণ ছাড়াই রোহিঙ্গা ডাকাত নুর মোহাম্মদ ও সেলিমের নেতৃত্বে একদল অস্ত্রধারী তার ছেলেকে খুন করেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওমর বাড়ি থেকে বের হয়ে স্কুল সংলগ্ন জাদিমুরা বাজারে একটি দোকানে কেনাকাটা করছিলেন। এ সময় অস্ত্রধারী রোহিঙ্গারা সেখানে গিয়ে তাকে টেনে হিচড়ে অন্ধকার স্থানে নিয়ে গুলি করে সটকে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। টেকনাফ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এবিএমএস দোহা জানান, পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছে।

 

গাংনীতে শুভ জন্মাষ্টমী অনুষ্ঠান 

গাংনী প্রতিনিধি ॥ গাংনীতে ভগবান শ্রী কৃষ্ণের ৫২৪৫তম আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গাংনী উপজেলা জন্মাষ্টমী উদযাপন কমিটির আয়োজনে গাংনী পূজা মন্দির প্রাঙ্গনে গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার সময় আলোচনা সভার মধ্যদিয়ে ‘দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন’ ধর্ম যার যার  উৎসব সবার ’এই স্বতঃসিদ্ধ বাক্যকে সামনে রেখে শুভ জন্মাষ্টমী পালিত হয়েছ্।ে অনুষ্ঠানের শুরুতে গীতা থেকে পাঠ করেন, সুধীন কুমার দাশ এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ব বিদ্যালয়ের টেকনিকাল অফিসার ও সনাতন ধর্মালম্বীদের প্রতিনিধিত্বকারী ডা. অশোক চন্দ্র বিশ্বাস। গাংনী  পূজা মন্দির প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায়  প্রবীণ ব্যক্তিত্ব শ্রী দীনবন্ধু বিশ্বাসের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন, মেহেরপুর-২ গাংনী আসনের সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন গাংনী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুখময় সরকার, গাংনী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ খালেক, গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ ওবাইদুর রহমান, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক সংগঠক সিরাজুল ইসলাম, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম শফিকুল আলম, গাংনী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক গোলাম মোস্তফা। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গাংনী থানার ওসি তদন্ত সাজেদুল ইসলাম, গাংনী র‌্যাব-৬ ক্যাম্পের প্রতিনিধি সনজিব কুমার, গাংনী উপজেলা সমবায় অফিসার মিলন কুমার দাশ, মেহেরপুর জেলা পরিষদের সদস্য মজিরুল ইসলাম, জেলা আ.লীগের সাবেক কৃষি বিষয়ক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম শাহ, গাংনী পৌর আ.লীগের সেক্রেটারী আনারুল ইসলাম বাবু, গাংনী উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিরুল ইসলাম অল্ডাম প্রমুখ। এছাড়া গাংনী উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাবেক সভাপতি ধীরেন দাশ ও সেক্রেটারী সুশান্ত পাল, বাবু সুকেশ চন্দ্র বিশ্বাসসহ রাজনৈতিক  নেতৃবৃন্দ, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন, পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে সনাতন ধর্মালম্বীদের বিভিন্ন বয়সী ছেলে মেয়েদের ঢোলের বাজনার সাথে সাথে নাচে গানের মধ্যদিয়ে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরিশেষে মন্দির প্রাঙ্গনে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।

আমলায় বেড়েছে চোরের উপদ্রব

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরের আমলায় চোরের উপদ্রব বেড়েছে সাধারন মানুষের চোখের ঘুম কেড়ে নিচ্ছে চোরে চক্ররা। দিন-দুপুরে বাজারে তালা ভেঙ্গে চুরির মতো ঘটনা ঘটছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে আমলা বাজারের মেরি টেলিকমের তালা ভেঙ্গে চুরির ঘটনা ঘটেছে। সেই সাথে বুধবার ও বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতেও বেশ কয়েকটি চুরির ঘটনা ঘটে। আমলার মেরি টেলিকমের মালিক আব্দুল খালেক জানান, দুপুরে দোকানে তালা দিয়ে জুমা’র নামাজে যায়। নামাজ থেকে এসে  দেখি দোকানের তালা ভাঙ্গা এবং ভেতরের জিনিষপত্র এলোমেলো। দেখা যায়, মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশ, ডাচ-বাংলার এজেন্ট এর ব্যবহৃত সিমসহ মোবাইল, গ্রামীনফোন, বাংলালিংক, রবির রিচার্জের সিমসহ ফোন, সেই সাথে গ্রামীণ ও বাংলালিংক এর সিম রেজিষ্ট্রেশনের ট্যাব চুরি করে নিয়ে গেছে। সেই সাথে ক্যাশে থাকা নগদ ১ লক্ষ ১১ হাজার টাকা। তিনি আরো জানান, দিন-দুপুরে এমন চুরি এটা মেনে নেওয়া যায় না। ইদানিং রাতে চুরির ঘটনা ঘটছে এখন তো দেখছি দিনের বেলাতেও। এদিকে বুধবার দিবাগত রাতে আমলার উত্তরপাড়ার গফুর মন্ডল, শাবানা খাতুনসহ বেশ কয়েকটি বাড়ীতে চুরির ঘটনা ঘটে। এই রাতে মোহদীপুর এলাকার ইদ্রিস আলীর বাড়িতেও চুরির ঘটনা ঘটে। অপরদিকে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতেও খয়েরপুর বাজারের একটি মুদি দোকানে চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। এদিকে আমলার সচেতন মহলের দাবী, আমলায় ইতিপূর্বে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভালো ছিলো। কিন্তু বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই খারাপ হয়ে গেছে। নিত্যদিন ঘটছে চুরির ঘটনা। হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে মাদক। মাদক ব্যবসায়ীরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। যা যুব সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আমলা বাজার কমিটির সভাপতি সিদ্দিক আলী জানান, আমরা প্রায় প্রতিটা দোকানে সিসি ক্যামেরা লাগানোর কথা বলেছি। তবে চুরি হওয়া টেলিকমের দোকানে সিসি ক্যামেরা নেই। বাজারে চুরি রোধে আমরা বাজার কমিটির পক্ষ থেকে অনেকবার দোকান মালিকদের সতর্ক করেছি। চুরির ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু পরিষদ অগ্রনী ব্যাংক ইউনিটের চিত্রাংকন, আবৃত্তি ও রচনা প্রতিযোগিতা

নিজ সংবাদ ॥ জাতির জনক বঙ্গবন্ধ ুশেখ  মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু পরিষদ অগ্রনী ব্যাংক কুষ্টিয়া ইউনিটের উদ্যোগে ২ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে প্রথম দিনে অগ্রণী ব্যাংক  মজমপুর গেট শাখায় শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহনে চিত্রাংকন, আবৃত্তি এবং রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বঙ্গবন্ধু পরিষদ অগ্রনী ব্যাংক ইউনিটের সভাপতি আরিফা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু পরিষদ অগ্রনী ব্যাংক ইউনিটের প্রধান উপদেষ্টা, ইসলামীয়া কলেজের সাবেক ভিপি ও শ্রমিক লীগ কুষ্টিয়া শাখার সাবেক সভাপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ অগ্রনী ব্যাংক ইউনিটের সাধারন সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, অগ্রনী ব্যাংক কুষ্টিয়ার অফিসার্স সমিতির সভাপতি এনামুল হক, অগ্রনী ব্যাংক সিবিএ সভাপতি লুৎফর রহমান, সাধারন সম্পাদক শিহাবউদ্দিনসহ আরো অনেকে অগ্রনী ব্যাংক সিনিয়র অফিসার রিপনুজ্জামানের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে আবৃত্তি পাঠ করেন ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা আবৃত্তিকার শরীফুল আলম সিদ্দিক কচি। অনুষ্ঠানে বিচারকের দায়িত্বে ছিলেন খলিলুর রহমান মজু, কামরুল আহসান মনি, শরিফুল আলম সিদ্দিক কচি এবং সামসুজ্জামান রিন্টু। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে আজ পুরস্কার বিতরণ করা হবে। আজ সকাল ১০টায় একই স্থানে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন রয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিেিসবে উপস্থিত থাকবেন জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আসগর আলী। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত  থাকবেন বঙ্গবন্ধু পরিষদ কুষ্টিয়া শাখার প্রতিষ্ঠাতা সাধারন সম্পাদক শামসুর রহমান বাবু। অতিথি থাকবেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা, অগ্রনী ব্যাংক কুষ্টিয়া অঞ্চলের উপ-মহাব্যবস্থাপক ওয়াহিদুল ইসলাম,  বঙ্গবন্ধু পরিষদ অগ্রনী ব্যাংক ইউনিটের প্রধান উপদেষ্টা, ইসলামীয়া কলেজের সাবেক ভিপি ও শ্রমিক লীগ কুষ্টিয়া শাখার সাবেক সভাপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বঙ্গবন্ধু পরিষদ অগ্রনী ব্যাংক ইউনিটের সভাপতি আরিফা বেগম।

কুমারখালী সাঁওতা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র চিকিৎসক রেখা আক্তারের অপসারনের দাবীতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার সাঁওতা উপস্বাস্থ্য  কেন্দ্রের চিকিৎসক রেখা আক্তারের অপসারনের দাবীতে মানববন্ধন করেছে  এলাকার নারী-পুরুষসহ সাধারন জনগন। বুধবার সাঁওতা গ্রামের উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এলাকাবাসী জানায় দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম দুর্নীতি অসামাজিক কার্যকলাপের সাথে জড়িত এই চিকিৎসক। এতে করে কোন প্রকার চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয় না এখানে। যার কারনে মানববন্ধনের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষকের কাছে দূর্নীতিবাজ এই চিকিৎসকের অপসারনের দাবী জানাচ্ছি। এলাকাবাসী আরো বলেন দীর্ঘদিন ধরে এলাকার কিছু প্রভাবশালীদের হাত করে তাদের টাকা পয়সা দিয়ে ম্যানেজ করে অনেক বছর এখানে রয়ে গেছেন। সেবার বদলে রোগীদের সাথে দূর্ব্যবহার করেন। হুমকিও প্রদান করেন , এই অবস্থায় এই অসত দুর্নীতিবাজ ডাক্তাকে অপসারন করা না হলে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। নতুবা আমরা গ্রামবাসী এ রকম অসৎ ডাক্তারকে ঘাড়ধরে বের করে দিতে বাধ্য হবো। এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা সিভিল সার্জন জানান, এই বিষয়ে আমি একটি অভিযোগ পেয়েছি এবং বিষয়টি আমলে নিয়ে সরেজমিন পরিদর্শন করেছি এবং ডাক্তারের এমন আচরনের কিছুটা সত্যতা পাওয়া গেছে। একটি দতন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট আসলে অচিরেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কুষ্টিয়া হরিপুর বাজারে অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিনের গণসংযোগ

কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন গতকাল বিকেলে সদর উপজেলার হরিপুর বাজারে গণসংযোগ করেন। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে হরিপুর বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে নিয়ে গণসংযোগ করেন। এসময় তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাননি তিনি। তাতে কি ? দল ও সাধারণ মানুষের ভালোবাসা আমাকে ঘরে আটকে রাখতে পারেনা। তাই সুযোগ পেলেই আপনাদের কাছে ছুটে আসি। আমি জানি আপনারা আমার দল বিএনপিকে ভালোবাসেন। আমি আপনাদের ভোটে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে বিএনপি থেকে একাধিক বার নির্বাচিত হয়েছি। আমি যতদিন বাঁচবো ততদিন কুষ্টিয়া সদর উপজেলার সাধারণ মানুষের কাছে ছুটে যাবো। এসময় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

জ্বলছে পৃথিবীর ফুসফুস

ঢাকা অফিস ॥ চলতি বছর ব্রাজিলের আমাজন বনাঞ্চলে অগ্নিকা- অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। পুড়তে থাকা পৃথিবীর সর্ববৃহৎ এই বনাঞ্চল নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আসন্ন জি-৭ সম্মেলনে আমাজনে অগ্নিকান্ড আলোচ্যসূচির শীর্ষে থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।

ম্যাক্রোঁ টুইটারে লেখেন, “আমাদের ঘর জ্বলছে।” তার এ মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনেরো। ম্যাক্রোঁ ‘রাজনৈতিক সুবিধা লাভের’ জন্য আমাজনের অগ্নিকান্ডকে ব্যবহার করছেন বলেও অভিযোগ তার। ব্রাজিল জি-৭ সম্মেলনে অংশগ্রহণ না করায় সেখানে এ অগ্নিকান্ড নিয়ে আলোচনা ‘ভুল স্থানে উপনিবেশবাদী মানসিকতা’ উন্মোচিত করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় কমিশনের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, “ব্রাজিলের বনাঞ্চলে যে আগুন জ্বলছে তা গভীর উদ্বেগজনক। “বনাঞ্চল আমাদের ফুসফুস এবং জীবন রক্ষা ব্যবস্থা।” যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা আমাজন বনাঞ্চলে ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়া আগুনের ছবি প্রকাশের পর রাজনীতিবীদ থেকে শুরু করে নানা ক্ষেত্রের তারকাসহ সাধারণ মানুষ উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রেফরআমাজন চালু করা হয়। হলিউড তারকা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও তার প্রায় তিন কোটি ৪০ লাখ অনুসারীকে পরিবেশের প্রতি আরো বেশি যতœশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “পৃথিবীর ফুসফুস জ্বলছে।” উপগ্রহ থেকে পাওয়া তথ্য বিশে¬ষণ করে ব্রাজিলের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইনপে জানায়, চলতি বছর প্রথম আট মাসে ব্রাজিল জুড়ে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮৫ শতাংশ বেশি অগ্নিকান্ড হয়েছে। অগ্নিকান্ডের বেশিরভাগই হয়েছে আমাজন অঞ্চলে। পরিবেশবাদীরা এজন্য আমাজন নিয়ে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনেরো সরকারের নীতিকে দায়ী করছেন। কট্টর ডানপন্থি এ প্রেসিডেন্ট বন উজাড়ে কাঠুরে ও কৃষকদের উৎসাহিত করছেন বলেও অভিযোগ তাদের। আগুনে উত্তরের অঙ্গরাজ্য রনডোনিয়া সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই অঞ্চলের আদিবাসী নেতারা বলেন, বনে আগুন লাগার পর তারা বন্যপ্রাণীদের প্রাণভয়ে বন থেকে ছুটে বেরিয়ে আসতে দেখছেন। কারিপুনা আদিবাসী সম্প্রদায়ের নেতা আদ্রিয়ানো কারিপুনা বলেন, “অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি বন্যপ্রাণী আমাদের চোখে পড়ছে। বন ধোঁয়ায় ঢাকা পড়েছে, আকাশ অন্ধকার হয়ে গেছে। ধোঁয়ার ঝাঁজে আমাদের চোখে জ্বলুনি হচ্ছে এবং চোখ লাল হয়ে যাচ্ছে।” আমাজনে ভয়াবহ এ অগ্নিকান্ডের জন্য প্রেসিডেন্ট বোলসোনেরো প্রথমে এনজিওকে দায়ী করলেও তার ওই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি। পরে অবশ্য তিনি নিজের ওই অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসে বৃহস্পতিবার বলেন,  “কৃষকরাও বনে আগুন দিতে পারে।” অন্যদিকে আদিবাসীরা আঙ্গুল তুলছেন কাঠুরেদের দিকে। কারিপুনা নেতা বলেন, বোলসোনেরোর নীতির কারণে কাঠুরেরা বনের সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশের সাহস পাচ্ছে। “তিনি তাদের সহাস দিয়েছেন। তিনি তাদের আমাদের এলাকায় হানা দিতে বলেছেন।” আইনের মাধ্যমে আদিবাসীদের ভূমি সংরক্ষণ ব্যবস্থাকে আমাজানের প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করে লাভবান হওয়ার পথে ‘অযৌক্তিক প্রতিবন্ধকতা’ বলে মনে করেন বোলসোনেরো।

রমার মুখে ১৫ আগস্টের কথা শুনলেন কূটনীতিকরা

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ শেখ রাসেল বারবার জিজ্ঞাসা করছিলো, ‘ওরা কি আমাকে মেরে ফেলবে।’ উত্তরে পাশে থাকা আব্দুর রহমান শেখ (রমা) বলেছিল, ‘না, ‘তোমাকে মারবে না।’ কিন্তু রমার সেই কথা সত্য হয়নি। ছোট রাসেলকে মায়ের সাথে দেখা করার ব্যবস্থা করা হবে বলে নিয়ে হত্যা করে ঘাতকেরা।’ গতকাল শুক্রবার সকালে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয় উপ-কমিটি আয়োজিত সেমিনারে উপস্থিত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সামনে আরো একবার সেই রাতের ভয়াবহ স্মৃতির কথা কাঁপা কাঁপা গলায় বর্ণনা করেন সকলের পরিচিত রমা ভাই। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্ব-পরিবারে হত্যার সেই কালো রাতের একজন সাক্ষি আব্দুর রহমান শেখ (রমা) তখন এ বাসায় কাজ করতেন। আব্দুর রহমান শেখ (রমা) বলেন, ‘আবদুর রব সেরনিয়াবাতের হত্যাকান্ডের খবর পাবার পর বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব আমাকে রাস্তায় পাঠান দেখে আসার জন্য। আমি দোতলা থেকে নেমে দরজা খুলে বাহিরে গিয়ে দেখে আর্মি অফিসাররা গুলি করতে করতে এগিয়ে আসছে। আমি আবারো দৌড়ে ঘরের ভেতর গিয়ে খবরটি বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিবকে দিলে তিনি তার বড় ছেলে ও মেঝো ছেলেকে ডেকে আনতে বলেন। আমি তিন তলায় গিয়ে কামাল ভাই ও দোতলা থেকে জামাল ভাইকে ডাকি। এ সময় দোতলায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কারো সাথে ফোনে কথা বলছিলেন।’

তিনি ওই ভোর রাতের ভয়াবহতা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, যখন ওরা গুলি করতে করতে ঘরে প্রবেশ করে তখন শেখ রাসেল ও আমাদের নিয়ে বেগম ফজিলাতুন্নেসা একটি ঘরে দরজা বন্ধ করে ছিলেন। তিনি আমাদের তার পেছনে থাকতে বলেন। যখন দরজা খোলার জন্য বলা হয়, তিনি দরজা খুলেন। তাকে ওপরের ঘরে যেতে বলে সৈন্যরা। কিন্তু সিঁড়ির কাছে স্বামীর লাশ দেখতে পেয়ে তিনি বলেন, ‘আমাকে মেরে ফেলতে চাইলে এখানেই মেরে ফেলো।’ ওখানে থাকা সৈন্যরা তখন ফায়ার করে। ‘এরপর ওই   সৈন্যরা বাড়ির সামনে আম গাছের কাছে নিয়ে বসায় আমাকে ও শেখ রাসেলকে। তখনও দোতলার ঘরগুলোতে গুলির আওয়াজ ও মেয়েদের চিৎকার-আর্তনাদ শোনা যাচ্ছিলো। খুব সম্ভবত শেখ কামাল ও শেখ জামাল ভাইয়ের বউকে তারা ঐ সময় হত্যা করে। এরপর গুলির আওয়াজ থেমে যায়।’- কথা গুলো বলছিলেন আব্দুর রহমান শেখ (রমা)। সেনা সদস্যদের নির্মম আচরণের সাথে তখনো পরিচিত ছিলেন না রমা। সে কারণেই আম গাছের নিচে বসিয়ে রাখা শেখ রাসেল যখন কাঁদতে কাঁদতে জিজ্ঞাসা করছিলো, ‘ওরা কি আমাকেও মেরে ফেলবে’। তখন ১২ বছরের রমা ও বসে থাকা অন্যরা বলেছিল, ‘না, তোমাকে মারবে না।’ হয়ত তাদের বিশ্বাস ছিল ছোট রাসেলকে মারার কোন প্রয়োজনীয়তা নেই। কিন্তু একটু পরে আর্মির বড় অফিসার ট্যাঙ্ক নিয়ে প্রবেশ করলে ওখানে থাকা এক  সৈন্য তাকে গিয়ে বলে, ‘শেখ রাসেল তার মার সাথে দেখা করতে চাচ্ছে।’ উত্তরে সেই আর্মি অফিসার বলেন, ‘আমরা সেই ব্যবস্থা করতে পারি।’ এরপর মায়ের সাথে দেখা করানোর কথা বলে শেখ রাসেলকে উপরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বেশ কিছু সময় শেখ রাসেলের কান্নার আওয়াজ পাই আমরা। এরপর চার-পাঁচটা গুলির শব্দ শুনি। ব্যস।একেবারে নিঃশব্দ। কোন কান্নার আওয়াজ নেই। এভাবেই পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট ভোররাতের ভয়াবহতার কথা বর্ণনা করেন আব্দুর রহমান শেখ (রমা)। সেমিনারে আরো উপস্থিত ছিলেন- পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয় উপ-কমিটির সাধারণ সম্পাদক ড. শাম্মী আহমদ ও উপ-কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।

 

মিয়ানমারে গণহত্যার অভিপ্রায়েই রোহিঙ্গা নারীদের ধর্ষণ: জাতিসংঘ

ঢাকা অফিস ॥ সংখ্যালঘু মুসলমানদের নির্মূল করতে গণহত্যার অভিপ্রায় থেকেই মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের ধর্ষণ এবং যৌন নিপীড়ন করে বলে উঠে এসেছে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে। পশ্চিমের রাখাইন রাজ্যে সন্ত্রাস দমনের নামে সেনা অভিযান নিয়ে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদনে এমন উপসংহার টানা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, “শত শত রোহিঙ্গা নারী ও মেয়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছে। তথ্য প্রমাণ বলছে, ধর্ষণের ৮০ শতাংশ ঘটনাই ইচ্ছা করে ঘটানো হয়েছে। গণধর্ষণের যতগুলো ঘটনা ঘটেছে তার ৮২ শতাংশের দায় মিয়ানমার সেনাবাহিনীর।” ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে কয়েকটি সীমান্ত পুলিশ পোস্টে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদীদের’ হামলায় নয় পুলিশ নিহত হওয়ার পর রাজ্যে বিশেষ করে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে সেনা অভিযান শুরু হয়। প্রাণ বাঁচাতে সেখানকার প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্র পেরিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশ আশ্রয় নেয়। পালিয়ে আসা ওইসব রোহিঙ্গাদের অনেকেই গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বা শরীরে পোড় ক্ষত নিয়ে আসেন। নারীদের শরীরে গণধর্ষণের শিকার হওয়ার চিহ্ন স্পষ্ট ছিল। পালিয়ে আসা ওই সব মানুষদের অভিযোগ ছিল, সেনাবাহিনী গ্রামের পর গ্রামে নির্বিচারে গুলি চালায় এবং বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে। নারী ও শিশুদের ধর্ষণ করছে। অভিযোগ তদন্তের জন্য ওই বছরই জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল বিভিন্ন দেশের তদন্ত কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি স্বাধীন তদন্তদল গঠন করে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, মিয়ানমার সরকার গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত কাউকে আটক করতে ব্যর্থ হয়েছে। “গণহত্যার অভিযোগ উঠা ব্যক্তিদের ‘জেনোসাইড কনভেনশন’র অধীনে বিচারের আওতায় এনে শাস্তি প্রদাণে ব্যর্থতার দায় মিয়ানমার সরকারের।” মিয়ানমার সরকার শুরু থেকেই রাখাইন রাজ্যে বেসামরিক মানুষদের উপর দমন-নিপীড়নের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কিন্তু ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রকৃত অবস্থা পর্যবেক্ষণ সুযোগ তারা কাউকে দেয়নি। এমনকি, জাতিসংঘের তদন্ত দলকেও রাখাইন রাজ্যে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। যে কারণে তদন্ত কর্মকর্তারা বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির, বিভিন্ন দাতব্য সংস্থা, উপদেষ্টা প্রতিষ্ঠান, গবেষক এবং সরকারি বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে কথা বলে এই তদন্ত প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, “২০১৭ সালের ২৫ অগাস্ট থেকেই রাখাইনে নারী ও মেয়েদের উপর যৌন সহিংসতা শুরু হয়ে গিয়েছিল। মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠিকে ধ্বংস করতেই সেখানে গণধর্ষণ চালায়। যুক্তিসংগত ভাবেই একে গণহত্যার ষষ্ঠ প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করে আমরা আমাদের প্রতিবেদনের ইতি টানছি।” বিপুল সংখ্যায় এবং বেছে বেছে নারী ও মেয়েদের হত্যা, সন্তান জন্মদানে সক্ষম নারী ও মেয়েদের বেছে বেছে ধর্ষণ, অন্তঃসত্ত্বা নারী ও ছোট শিশুদের উপর আক্রমণ, নারীদের যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত এবং শরীর, বিশেষ করে গাল, গলা, স্তন ও উরুতে কামড়ের দাগ দেখে তারা এই উপসংহারে পৌঁছেছেন বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তারা। রাখাইনে গণহত্যা চালানোর দুই বছর হতে চললেও এখন পর্যন্ত এর জন্য দায়ী কোনো সেনা কর্মকর্তাকে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে বিচারের আওতায় আনা হয়নি। এর মাধ্যমে মিয়ানমার সরকার ‘জঘন্যভাবে নিজেদের দায় অস্বীকার করেছে’ বলেও ওই প্রতিবেদনে বলা হয়।

“জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদনে দুই শীর্ষ সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে তদন্তের আহ্বান জানানো হলেও তারা এখনো স্বদর্পে নিজেদের পদে বহাল আছেন।” মিয়ানমারের ওই দুই সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নতুন কিছু তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তাদের নাম গোপন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়।

 

বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার করা হবে – পরিকল্পনামন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত অধিকাংশেরই বিচার হয়েছে। এখনও যারা বিদেশে পালিয়ে রয়েছে, তাদেরও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে এনে উচিত বিচার করা হবে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট সূত্রাপুর থানা আয়োজিত এক আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল, মানবভোজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। এসময় ‘রংতুলিতে সঙ্গীতে আবৃত্তিতে বঙ্গবন্ধু’ বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান আরও বলেন, ৭১’র পরাজিত শক্ররা এখনও ষড়যন্ত্র করছে। তাদের ষড়যন্ত্র থেমে নেই। তাই প্রত্যেকের বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে সমর্থন করতে হবে। ৭৫’র ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে যারা হত্যা করেছিলো তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, আফ্রিকা, ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে পালিয়ে রয়েছে। আমরা ওইসব দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফিরিয়ে এনে খুনীদের বিচার করবো। এম এ মান্নান অনুষ্ঠানে তরুণদের উদ্দেশ্যে বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে লক্ষ প্রাণ দিয়ে আমরা একটি বাংলাদেশ পেয়েছি। ঋণ শোধ করার জন্য আমরা তাঁর নাম বার বার স্মরণ করি। তাই শুধু স্মরণ করলেই হবে না, কাজও করতে হবে। কারণ বঙ্গবন্ধু স্বাধীন একটি দেশ দিয়ে গেছেন। কথা বলার অধিকার দিয়ে গেছেন। তিনি আরো বলেন, ‘২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় বিদেশে পলাতক মূল আসামীদের বিদেশ থেকে দ্রুত ফিরিয়ে এনে বিচারের রায় কার্যকর করা হবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কন্যা যদি দেশে ফিরে না আসতেন জেনারেল জিয়া এদেশটাকে পাকিস্তানের অঙ্গরাজ্য বানিয়ে ফেলতেন।’ ‘বঙ্গবন্ধু হত্যার সাথে জেনারেল জিয়া জড়িত ছিল’- উল্লেখ করে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘পর্দার অন্তরালে সবকিছু করেছে জেনারেল জিয়া। আর তারই ছেলে তারেক জিয়া জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ২১ আগস্ট হত্যার চক্রান্ত করেছিল। খুনীরা যে দলেরই হোক না কেন তাদের রক্ষা হবে না। তাদের বিচারের রায় কার্যকর করে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করতে হবে।’ পরিকল্পনা মন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ^াসীদের শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ থেকে সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার আলোতেই আমরা সবাই আলোকিত। সারাবিশে^ এখন বাংলাদেশ রোল মডেল। বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট সূত্রাপুর থানা সভাপতি অধ্যক্ষ আহসান সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগ নেতা বলরাম পোদ্দার, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের নেতা কন্ঠশিল্পী রফিকুল আলম, কৃষক লীগ নেতা শেখ জাহাঙ্গীর আলম, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আবুল হোসেন, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার রানা প্রমুখ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

 

বিকৃত মানুষের লালসার শিকার নারী ও শিশুরা – সেলিমা রহমান

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান বলেছেন, ‘আইনের শাসনের অভাবে মাদকের বিস্তার এবং মূল্যবোধের অবক্ষয়সহ বিভিন্ন কারণে নারী ও শিশু নির্যাতন বাড়ছে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, এই কারণগুলো সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে মোকাবিলা করতে হবে। অনাচারমূলক দুঃশাসনে জবাবদিহিতার অভাবের কারণেই নারী ও শিশু নির্যাতন বৃদ্ধি পেয়েছে। বিদ্যমান গণতন্ত্রশূন্য দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ’ শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সেলিমা বলেন, ‘বাংলাদেশ আজ পরিণত হয়েছে ধর্ষণের লীলাভূমিতে। বখাটে প্রেমিক, পাড়ার মাস্তান কর্মকর্তা, বাস কন্ডাক্টর, শিক্ষক ও মাদ্রাসার প্রিন্সিপালসহ কিছু বিকৃত মানুষের লালসার শিকার নারী ও শিশুরা। ৯ মাস বয়স থেকে ৮০ বছরের বৃদ্ধা ধর্ষকের লোলুপ দৃষ্টি থেকে কেউ বাদ যাচ্ছে না। এমনকি রেহাই পাচ্ছেন না বাকপ্রতিবন্ধী বা ভবঘুরে পাগলও। রাস্তাঘাট, বাস বা ট্রেন, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, হাসপাতাল, এমনকি পুলিশ স্টেশন কোথাও নারীরা নিরাপদ নয়। স্বামী-সন্তানদের বেঁধে রেখে নারীকে ধর্ষণ, পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে নির্মম কায়দায় শিশু হত্যা, পাশবিক নির্যাতনের পর নারীকে পুড়িয়ে কয়লা করে দেয়া- এইভাবে নানা অভিনব কায়দায় ধর্ষক লম্পটের হিংস্র থাবা সর্বত্র বিরাজমান।’ সেলিমা বলেন, ‘বর্তমান সরকারের আমলেই নারী ও শিশু নির্যাতন অতীতের সকল রেকর্ড অতিক্রম করেছে। কারণ অধিকাংশ নির্যাতনকারী সরকারি দলের সাথে সম্পর্কযুক্ত। এই কারণে এই ধরনের জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িত থাকার পরেও তাদের কেউ স্পর্শ করতে পারছে না। এরা আইনের আওতার বাইরে থাকছে।’ তিনি জানান, নারী ও শিশুদের অধিকার রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালনের লক্ষ্য নিয়ে ‘নারী ও শিশু অধিকার ফোরাম’ নামে একটি জাতীয় কমিটি গঠন করেছে বিএনপি। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুন রায় চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।