মালয়েশিয়ায় জাকির নায়েকের বক্তৃতা দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা

ঢাকা অফিস ॥ ভারতের ইসলামি বক্তা জাকির নায়েক আর মালয়েশিয়ায় বক্তৃতা দিতে পারবেন না, সেখানে তার বক্তৃতা দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। সোমবার মালয়েশীয় পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্তের কথা জানায় বলে খবর মালয় মেইল, এনডিটিভির। ভারতে অর্থ পাচার ও বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগের মুখে থাকা নায়েক প্রায় তিন বছর ধরে মালয়েশিয়ায় বসবাস করছেন। সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পেলেও নিজের সাম্প্রতিক কয়েকটি মন্তব্যে সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। ভারতের সংখ্যালঘু মুসলিমদের থেকে মালয়েশিয়ার সংখ্যালঘু হিন্দুরা ‘১০০ গুণ বেশি অধিকার ভোগ করে’ বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি। এ নিয়ে সমালোচনার মুখে নায়েককে মালয়েশিয়া থেকে বহিষ্কারের দাবি উঠলে ‘তাকে বহিষ্কারের আগে চীনা মালয়েশীয়দের (মালয়েশিয়া থেকে) বহিষ্কার করা উচিত’ বলে মন্তব্য করে ফের বিতর্ক সৃষ্টি করেন তিনি। জাতি ও ধর্ম মালয়েশিয়ার একটি স্পর্শকাতর ইস্যু। দেশটির তিন কোটি ২০ লাখ জনসংখ্যার ৬০ শতাংশ মুসলিম। বাকি জনসংখ্যার অধিকাংশই চীনা ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত। ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের অধিকাংশই হিন্দু। তার ওইসব মন্তব্যের কথা উল্লেখ করে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ বলেছেন, জাকির নায়েক জাতিগত রাজনীতিতে অংশ নিতে চান এটি ‘বেশ স্পষ্ট’। “তিনি জাতিগত অনুভূতিকে উস্কে দিচ্ছেন। এটি উত্তেজনার কারণ হচ্ছে কি না পুলিশকে তা তদন্ত করে দেখতে হবে, স্পষ্টত তা হচ্ছে,” বলেছেন তিনি।  ৫৩ বছর বয়সী ইসলামি বক্তা জাকির নায়েককে ঘিরে বিতর্ক বহু দিনের। চিকিৎসা শাস্ত্রে লেখাপড়া করা নায়েক বিভিন্ন সময়ে ইসলাম ধর্ম, জঙ্গিবাদ, জিহাদ নিয়ে বক্তব্যের জন্য বিতর্কিত হয়েছেন; নিষিদ্ধ হয়েছেন যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে। তিনি নিউ ইয়র্কের নাইন-ইলেভেনের সন্ত্রাসী হামলা আল কায়েদা নয়, যুক্তরাষ্ট্র নিজেরাই ঘটিয়েছে বলে মন্তব্য করেও বিতর্কিত হয়েছেন।  ভারতের কয়েকজন মুসলমান পন্ডিত জাকির নায়েককে ‘সৌদি আরবের পৃষ্ঠপোষকতায় ওহাবি মতবাদ প্রচারকারী’ হিসেবে সন্দেহের চোখে দেখেন। অন্যদিকে সৌদি আরব সরকার নায়েককে ‘ইসলামের সেবক’ বিবেচনা করে ২০১৫ সালে ‘বাদশাহ ফয়সাল আন্তর্জাতিক পুরস্কার’ দিয়েছে।

দৌলতপুরে বন্ধুর ছুরিকাঘাতে  কিশোর নিহতের ঘটনায় নিরপরাধ ব্যক্তিদের নামে মামলার অভিযোগ

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বন্ধুর ছুরিকাঘাতে আনোয়ার হোসেন (১৪) নামে এক কিশোর নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিরপরাধ লোককে ফাঁসিয়ে দিতে তৎপরতা শুরু করেছে একশ্রেণীর অসাধু ব্যক্তি। এই ঘটনায় ৩নং ফিলিপনগর ইউনিয়ন পরিষদের ৬নং ওয়ার্ড সদস্য আমিনুল ইসলাম আন্টুকে আসামী করে উদ্দেশ্যমূলকভাবে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানান এলাকাবাসী। ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন দুই কিশোরের বিরোধের জেরে আনোয়ার হোসেন নিহতের ঘটনাটি নিরপরাধ ব্যক্তিদের ঘাড়ে চাপাতে তৎপরতা চালাচ্ছে এলাকার প্রভাবশালী একটি মহল। প্রকৃতপক্ষে ওয়ার্ড সদস্য আমিনুল ইসলাম আন্টুর এই ঘটনার সাথে কোন সম্পৃক্ততা নেই। তারপর এলাকার একটি মহল অনৈতিক সুবিধা আদায়ে নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মামলা দিয়ে হয়রানীর চেষ্টা করছে। মানববন্ধনে এলাকার কয়েক হাজার নারী পুরুষ অংশগ্রহন করেন।  জানাগেছে গত ১২ আগষ্ট সোমবার ঈদের দিন বিকেলে ফিলিপনগর পদ্মা নদীর ধারে আবেদের ঘাট এলাকায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলাকালে বৃষ্টির কারণে বন্ধু অষ্টম শ্রেণির ছাত্র আনোয়ার হোসেন (১৪) ও গরীব উল্লাহ রাব্বি (১৪) এর মধ্যে কথা ঠেলাঠেলি ও কথা কাটা কাটি হয়। এক পর্যায়ে রাব্বি বাড়ী থেকে বড় ভাই ছাব্বির (১৮) কে সাথে করে ছুরি নিয়ে এসে পরিকল্পিতভাবে বন্ধু আনোয়ারকে ছুরিকাঘাত করে। এলাকার লোকজন রক্তাক্ত আহত আনোয়ারকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে আনোয়ার মারা যায়। নিহত কিশোর আনোয়ার হোসেন এলাকার ইসলামপুর ঘোষপাড়া গ্রামের মজিবার বরাতির ছেলে, রাব্বি ও ছাব্বির এলাকার দারগার মোড় পাড়ার মিন্টু প্রামানিকের ছেলে। এই ঘটনায় দৌলতপুর থানায় নিহত কিশোরের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

কাশ্মীর নিয়ে মুখ খোলায় সোনমকে জাত নিয়ে কটাক্ষ!

ঢাকা অফিস ॥ সামাজিক মাধ্যমে স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে মুখ খুলতে গেলেই বিপত্তি। কঠোর সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়। এমনকি বড় সেলিব্রেটি হলেও রক্ষা নেই। যেমনটি ঘটেছে বলিউড অভিনেত্রী ও মডেল সোনম কাপুরের বেলায়ও। ফের উত্তপ্ত ট্রোলের মধ্যে পড়তে হয়েছে তাকে। কাশ্মীর সংকট শুরু হওয়ার পর টুইটারে তিনি লিখেছেন, ঠান্ডা মাথায় সব পরিস্থিতির মোকাবেলা করলে কোনোটাই সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় না। কথার অপব্যাখ্যা মানেই বক্তা দোষী নন। বরং নিজেকে ভালো করে চিনুন। তা হলেই রাস্তা খুঁজে পাবেন।-খবর এনডিটিভির। এতে ভারতীয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা তার ওপর বেশ চটেছেন। তার আধাসিন্ধি আর আধাপেশোয়ারি পরিবার নিয়ে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি। তাকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়, আপনার মুখ বন্ধ রাখাই মঙ্গলজনক। ভারতনিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা বাতিলের পর বিবিসিতে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সোনম কাপুর বলেন, দুই রাজ্যের পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটপূর্ণ। এ অবস্থা দেখে মন খারাপ করছেন। কারণ আমি মনেপ্রাণে দেশপ্রেমিক। তাই এই স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে মুখ খুলতে দ্বিধাবোধ করছি। তিনি আরও বলেন, আমার পরিবার আধাসিন্ধি আধাপেশওয়ার। তাই ভাগাভাগির যন্ত্রণা আমি বুঝি। এ যন্ত্রণা কাউকে বলে বোঝানোর নয়। সোনম কাপুর বলেন, তার এই নাম কাশ্মীরে গিয়ে ঠিক করেন বাবা অনিল কাপুর ও মা সুনিতা কাপুর। অনিল রাম-লক্ষ্ণণ ছবির শুটিং করতে গিয়েছিলেন কাশ্মীরে। এ ছবির একটি চরিত্রের নাম সোনম। তিনি জন্মানোর আগেই এখানে তারা ঠিক করেন মেয়ে হলে সোনম নাম রাখবেন। আরেকটি টুইটে সোনম নিজের নামে নেপথ্য কাহিনি ফাঁস করে জানান, একটিই নাম ঠিক করেছিলেন মা-বাবা। হাজারটা নাম ঠিক করেননি। সেই নামই এখন কাপুর পরিবারের কাছে মঙ্গলের প্রতীক।

সাম্প্রদায়িক মন্তব্য

ক্ষমা চাইলেন জাকির নায়েক

ঢাকা অফিস ॥ মালয়েশিয়ায় সাম্প্রদায়িক স্পর্শকাতর মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন আলোচিত ভারতীয় ধর্মপ্রচারক জাকির নায়েক। তবে তিনি কোনো বর্ণবাদী নন বলে জোর দাবি করেন। যদিও পুলিশ বলছে, মালয়েশিয়ার প্রতিটি রাজ্যে প্রকাশ্যে আলোচনায় অংশ নিতে তাকে না করা হয়েছে। রয়েল মালয়েশিয়ার পুলিশের করর্পোরেট যোগাযোগ প্রধান সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার আসমাওতি আহমাদ নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সব পুলিশ কন্টিনজেন্টকে এমন একটি নির্দেশ দেয়া হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা ও সাম্প্রদায়িক ঐক্য বজায় রাখতেই এমন নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সাম্প্রদায়িক মন্তব্যের জন্য পুলিশ জাকির নায়েককে কয়েক ঘণ্টার জেরা করার একদিন পর মঙ্গলবার তিনি এই দুঃখপ্রকাশ করেন। স্ট্রেট টাইমস ওএক্সপ্রেস ট্রিবিউনের খবরে এমন তথ্য জানা গেছে। ভারতে অর্থ পাচার ও ঘৃণামূলক বক্তব্য প্রচারের অভিযোগ আনা হয়েছে জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে। মুসলিম মালয় সংখ্যাগরিষ্ঠ মালয়েশিয়ায় ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে মন্তব্য করে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। চলতি মাসের শুরুতে করা ওই মন্তব্যের জন্য সোমবার তাকে ১০ ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে মালয়েশিয়ার পুলিশ। জাকির নায়েক বলেছিলেন, ভারতের মুসলিম সংখ্যালঘুদের চেয়ে মালয়েশিয়ার হিন্দুরা একশ গুণ বেশি অধিকার ভোগ করেন। এছাড়া মালয়েশিয়ার চাইনিজরা দেশটির অতিথি হিসেবে ছিল। মালয়েশিয়ায় ধর্ম ও সম্প্রদায় খুবই স্পর্শকাতর একটি বিষয়। দেশটিতে তিন কোটি ২০ লাখ লোকের মধ্যে ৬০ শতাংশ মুসলমান। বাকিরা নৃতাত্ত্বিক চাইনিজ ও ভারতীয়। বছর তিনেক ধরে মালয়েশিয়ায় বসবাস করছেন জাকির নায়েক। ক্ষমা চাইলেও নিজে বর্ণবাদী নন বলে দাবি করেন এই ধর্মপ্রচারক। তিনি বলেন, কুৎসাকারীরা তার মন্তব্য প্রসঙ্গের বাইরে নিয়ে গেছেন এবং তার বিরুদ্ধে মিথ্যা রটিয়েছেন। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, কখনোই কোনো ব্যক্তি কিংবা সম্প্রদায়কে হতাশ করা আমার উদ্দেশ্য ছিল না। কারণ এটা ইসলামের মূলনীতির বাইরে। কাজেই এই ভুল বোঝাবুঝির জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখপ্রকাশ করছি। জাকির নায়েক মালয়েশিয়ার স্থায়ী নাগরিক হলেও বেশ কয়েকজন মন্ত্রী তাকে দেশটি থেকে বহিষ্কার দাবি করেন। অন্তত সাতটি রাজ্যে প্রকাশ্যে আলোচনায় অংশ নিতে তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ বলেন, জাকির নায়েক মুক্তভাবে ইসলাম প্রচার করতে পারবেন। কিন্তু সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিয়ে তার কোনো মন্তব্য করা উচিত হবে না।

চাঁদের কক্ষপথে ভারতের চন্দ্রযান-২

ঢাকা অফিস ॥ উৎক্ষেপণের পর এক মাসের মাথায় সফলভাবে চাঁদের কক্ষপথে প্রবেশ করতে পেরেছে ভারতীয় মহাকাশযান চন্দ্রযান-২। মঙ্গলবার ভারতীয় সময় সকাল ৯টা ২ মিনিটে এটি পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহের কক্ষপথে ঢোকে বলে বিবিসি জানিয়েছে। কারিগরি ক্রটিতে উৎক্ষেপণ সপ্তাহখানেক পিছিয়ে যাওয়ার পর গত মাসের ২২ তারিখে শ্রী হরিকোটা মহাকাশ স্টেশন থেকে ৬৪০ টন ওজনের রকেটে এ যানটি যাত্রা শুরু করেছিল। সাড়ে ১৪ কোটি ডলার ব্যয়ের এ অভিযান সফল হলে চন্দ্রযান-২ হবে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে নামা প্রথম কোনো মহাকাশযান। সব ঠিক থাকলে তিন লাখ ৮৪ হাজার কিলোমিটার যাত্রাপথ পাড়ি দিয়ে সেপ্টেম্বরের ৬ কিংবা ৭ তারিখে এটি চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণ করবে বলে আশা ভারতীয় বিজ্ঞানীদের। ২০০৮ সালে ভারত চাঁদের উদ্দেশ্যে তাদের প্রথম মহাকাশযান পাঠিয়েছিল। চন্দ্রযান-১ পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহটিকে স্পর্শ না করলেও এটির রাডার চাঁদে পানির উপস্থিতি নিয়ে বিস্তৃত অনুসন্ধান জানিয়েছিলেন। এবারের অভিযানে চন্দ্রযান-২ পানির অস্তিত্ব খোঁজার পাশাপাশি চাঁদে খনিজ সম্পদ ও সেখানকার কম্পন পরিমাপ এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে কাজ করবে। মহাকাশযানটিতে একটি অরবিটার, একটি ল্যান্ডার ও একটি রোভার আছে। ২ হাজার ৩৯৭ কেজির অরবিটারটির জীবনকাল এক বছর; এ সময়ের মধ্যে এটি চন্দ্রপৃষ্ঠের একের পর এক ছবি তুলে তা মহাকাশকেন্দ্রে পাঠাবে। ল্যান্ডার বিক্রমের ওজন অরবিটারের অর্ধেক, এটি ২৭ কেজি ওজনের রোভারকে বহন করছে। দুই সপ্তাহ জীবনকালের রোভার প্রজ্ঞান সর্বোচ্চ ৫০০ মিটার দূরত্বে ভ্রমণ করতে পারবে; এর মধ্যেই সে চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে সংগ্রহ করা তথ্য ও ছবি পৃথিবীতে পাঠাতে পারবে। ভারতীয় এ মহাকাশযানের মোট যাত্রাপথ ছয় সপ্তাহের। জ্বালানি বাঁচাতে ও শক্তিশালী রকেটের অভাবে ভারতীয় বিজ্ঞানীরা মহাকাশযানটিকে গন্তব্যে পৌঁছাতে পৃথিবীর মধ্যাকর্ষণের উপর নির্ভর করেছেন বলে বিবিসি জানিয়েছে। অর্ধশতাব্দী আগে যুক্তরাষ্ট্র শক্তিশালী রকেট ব্যবহার করে চারদিনের মধ্যেই তাদের অ্যাপোলো মিশনকে চাঁদে পাঠিয়েছিল, সেবারই চন্দ্রপৃষ্ঠে প্রথমবারের মতো মানুষের পা পড়েছিল। ভারতীয় বিজ্ঞানীরা বলছেন, চন্দ্রযান-২ মঙ্গলবার থেকে চাঁদের কক্ষপথ প্রদক্ষিণ শুরু করেছে; মহাকাশযানটির ল্যান্ডারের চাঁদের বুকে নামার ১৫ মিনিট নিয়েই তারা এখন সবচেয়ে বেশি চিন্তিত। সব ঠিকঠাক কাজ না করলে ওই অবতরণের সময়ই মিশনটির করুণ পরিসমাপ্তি ঘটতে পারে। এ বছর চাঁদে ইসরাইল একটি মহাকাশযান পাঠালেও চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণের আগেই সেটি বিধ্বস্ত হয়ে যায়।

ভারত পানিকে ‘অস্ত্র হিসেবে’ ব্যবহার করছে, অভিযোগ পাকিস্তানের

ঢাকা অফিস ॥ ভারত আগে না জানিয়ে যৌথ নদী সুতলেজের একটি বাঁধের অতিরিক্ত পানি ছেড়ে দেওয়ায় প্রতিবেশী দেশটির বিরুদ্ধে পানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ এনেছে পাকিস্তান। বাঁধের ছেড়ে দেওয়া পানিতে সীমান্ত অঞ্চলের কিছু এলাকা বন্যাকবলিত হতে পারে, এমন আশঙ্কায় শঙ্কিত পাকিস্তান এর মাধ্যমে নয়া দিল্লি তাদের ওপর ‘পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধ’ চাপিয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে। সোমবার ভারত পাকিস্তানের এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে, জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। নয়া দিল্লি বলছে, দুই দেশের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী পানি নির্ধারিত মাত্রা অতিক্রম করার পরই সোমবার অতিরিক্ত পানি ছাড়ার বিষয়টি ইসলামাবাদকে জানানো হয়েছে। প্রতিবেশী এই দুই দেশের বিবাদ নতুন নয়; চলতি মাসে ভারত তাদের নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর অংশের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা বাতিলের পর দেশদুটির সম্পর্ক আরও খারাপ হয়েছে। উভয় দেশই দীর্ঘদিন ধরে কাশ্মীরের মালিকানা দাবি করে আসছে। কাশ্মীরের পাশাপাশি পানি ব্যবস্থাপনা নিয়েও ভারত-পাকিস্তানের বিরোধ দীর্ঘদিনের। বিশ্ব ব্যাংকের মধ্যস্থতায় দেশ দুটির মধ্যে সিন্ধু নদ ও এর শাখা-প্রশাখার পানির প্রবাহ নিয়ে একটি চুক্তি হয়েছিল। চলতি বছরের ফেব্র“য়ারিতে পাকিস্তানভিত্তিক একটি জঙ্গি সংগঠন কাশ্মীরে বোমা হামলা চালিয়ে ভারতীয় আধাসামরিক পুলিশের ৪০ জনেরও বেশি সদস্যকে হত্যার পর ভারত পাকিস্তানের সঙ্গে নদীর অতিরিক্ত পানি ভাগাভাগি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল। ২০১৬ সালে সিন্ধু চুক্তি সংক্রান্ত একটি বৈঠক স্থগিত করার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তার দেশের সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে ‘পানি ও রক্ত একসঙ্গে প্রবাহিত হতে পারে না’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। সোমবার ইসলামাবাদ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের মধ্যে যেসব চুক্তি বহাল রয়েছে, সেগুলোকে অবজ্ঞা করার চেষ্টার অংশ হিসেবেই নয়া দিল্লি এবার আচমকা সুতলেজ নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পরিমাণ ছেড়ে দিয়েছে। “তারা (আমাদের) কূটনীতিকভাবে একঘরে করতে চেষ্টা করছে, অর্থনীতির প্রবাহ রোধ করার চেষ্টা করছে, এমনকী পানি সম্পদের ওপরও চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। অর্থনীতি, কৃষি ও সেচের ক্ষেত্রে পানির সরাসরি প্রভাব আছে,” রয়টার্সকে এমনটাই বলেছেন পাকিস্তানের পানি ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (ওয়াপদা) চেয়ারম্যান লে. জেনারেল (অবসর) মুজাম্মিল হুসেইন। উজানে থাকার সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে ভারত পাকিস্তানের ওপর ‘পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধ’ চাপিয়ে দিয়েছে বলেও অভিযোগ তার। এরপর একইদিন ভারতের কেন্দ্রীয় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় জানায়, দুই দেশের মধ্যে হওয়া চুক্তি অনুযায়ী জলাধারগুলো থেকে অতিরিক্ত পানি ছেড়ে দেওয়া ও বন্যার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেই কেবল আগেভাগে এ বিষয়ক তথ্য বিনিময়ের কথা বলা হয়েছে। চলতি বন্যা মৌসুমে এ পর্যন্ত ভারতের দিক থেকে অতিরিক্ত পানি ছাড়ের বিষয়টি দেখা যায়নি বলে দাবি করেছে তারা। সোমবার ভারতের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টার দিকে সুতলেজ নদীর পানি নির্ধারিত মাত্রার উপরে উঠে যায় এবং সঙ্গে সঙ্গেই তা পাকিস্তানকে জানানো হয় বলে বিবৃতিতে দাবি করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়। পাকিস্তানের সঙ্গে হওয়া এ বিষয়ক চুক্তির প্রতি তারা প্রতিশ্র“তিবদ্ধ বলেও মন্ত্রণালয়টি দাবি করেছে। পানিপ্রবাহ স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যাওয়ায় সোমবার পাকিস্তানের জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ পাঞ্জাবের কিছু এলাকায় ছোটখাট বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলার প্রস্তুতি নিলেও কোনো এলাকায় বন্যা হয়েছে কিনা রয়টার্স তা নিশ্চিত করতে পারেনি।

মোদী ও ইমরানকে ফোন ট্রাম্পের উত্তেজনা হ্রাসের আহ্বান

ঢাকা অফিস ॥ কাশ্মীর নিয়ে উত্তেজনা হ্রাস ও ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক আরও জোরদার করা নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার টেলিফোনে ট্রাম্প ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এ বিষয়ে এক টুইটার পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, “আমার দুই ভালো বন্ধু, ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদী ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খানের সঙ্গে কথা বললাম। বাণিজ্য, কৌশলগত অংশীদারিত্ব এবং সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়ে ভারত ও পাকিস্তানকে কাশ্মীরে উত্তেজনা হ্রাসের জন্য কাজ করতে বললাম। কঠিন পরিস্থিতি, কিন্তু ভালো আলাপ হয়েছে!” আগে থেকেই নয়া দিল্লি ও ইসলামাবাদের মধ্যে শক্রতার সম্পর্ক বিদ্যমান, এর মধ্যে কাশ্মীরের ভারতীয় অংশের বিশেষ মর্যাদা বিলোপ করার দিল্লির সিদ্ধান্তে দুই দেশের সম্পর্ক আরও নাজুক হয়েছে। ভারতের ওই সিদ্ধান্তে পাকিস্তান ক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে দুই দেশের মধ্যে যান চলাচল ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বন্ধ করে দিয়ে ইসালামাবাদ থেকে ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করেছে।  এক বিবৃতিতে ভারত সরকার জানিয়েছে, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ট্রাম্পকে বলেছেন যে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী ও মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য নিয়ে ফের আলোচনায় বসবেন বলে আশা করছেন তিনি। ট্রাম্প ও মোদীর মধ্যে বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে ওয়াশিংটন নিশ্চিত করেছে। এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউস বলেছে, “বাণিজ্য বৃদ্ধির মাধ্যমে তারা যুক্তরাষ্ট্র-ভারতের অর্থনৈতিক মিত্রতা কীভাবে আরও জোরদার করার দিকে এগিয়ে নিতে পারেন তা নিয়ে ফের আলোচনা করেছেন দুই নেতা এবং তারা শিগগিরই আবার দেখা করার প্রত্যাশা করছেন।” ফোনে কথা বলার সময় ট্রাম্প ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা হ্রাসের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিতেও জোর দিয়েছেন বলে ওই বিবৃতিতে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের সঙ্গে ‘উত্তেজনা ও বাদানুবাদের হ্রাসের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনার’ জন্য ট্রাম্প পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গেও কথা বলেছেন বলে বিবৃতিতে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। “পরিস্থিতির আরও অবনতি এড়ানোর প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করে উভয়পক্ষকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট,” বলেছে হোয়াইট হাউস। ট্রাম্প ও খান বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক মিত্রতা জোরদার করতে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়েও সম্মত হয়েছেন বলে বিবৃতিতে বলা হয়েছে।

দৌলতপুরে মাদক সেবীর ৩ মাসের কারাদন্ড

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে সোহরাব উদ্দিন (৬৫) নামে এক মাদক সেবীর ৩ মাসের কারাদন্ড ও ৫হাজার টাকা অর্থদন্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার দৌলতখালী বাঁধা বটতলা এলাকায় ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে তাকে এ দন্ড দেন। ভ্রাম্যমান আদালত সূত্র জানায়, মাদক সেবনের উদ্দেশ্যে মাদক বহনের অভিযোগে দৌলতপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আজগর আলীর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত দৌলতখালী বাঁধা বটতলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে সোহরাব উদ্দিনকে ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ আটক করে। পরে তাকে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইন ২০১৮ এর ৩৬ (১) সারণি ২১ ধারায় ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদন্ড করা হয়।

তবে কি চামড়া ভারতে পাঠানোই উদ্দেশ্য – ফখরুল

ঢাকা অফিস ॥ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নতুন চামড়া শিল্প নগরী গড়ে ওঠার মধ্যে বাংলাদেশে কাঁচা চামড়া নিয়ে সঙ্কট এবং রপ্তানির অনুমতি দেওয়ার মধ্যে যোগসূত্র খুঁজে পাচ্ছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ সেন্টার’ নামে একটি সংগঠনের উদ্যোগে ‘আমার দেশ আমার শিল্প’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এই সন্দেহের কথা প্রকাশ করেন। এবার কোরবানির ঈদের পর থেকে আলোচনায় পশুর চামড়া। বাংলাদেশে ট্যানারিগুলোতে চামড়ার মোট চাহিদার প্রায় পুরোটাই মেটে কোরবানির পশু থেকে। এবার কাঁচা চামড়ার ব্যাপক দরপতনের কারণে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের অনেকে কেনার পর তা আড়তদারদের কাছে বিক্রি করতে না পেরে ফেলে দেয় কিংবা পুঁতে ফেলে। এই পরিস্থিতিতে বাণিজ্যমন্ত্রী কাঁচা চামড়া রপ্তানির অনুমতি দেওয়ার ঘোষণা দেন। তাতে আড়তদাররা খুশি হলেও ট্যানারি মালিকরা আপত্তি জানিয়ে বলে, এই সিদ্ধান্ত দেশের শিল্পকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবে। এবার চামড়ার দরপতনের পেছনে কারসাজি রয়েছে বলে ফখরুল মনে করেন। এর সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় ভারতের নতুন চামড়া শিল্প নগরী গড়ে ওঠার কথা বলেন তিনি। ভারতে বিজেপি ক্ষমতায় যাওয়ার পর গরু জবাইয়ে কড়াকড়ির পর কানপুরের চামড়া শিল্প নগরীর ধুকতে থাকার মধ্যে সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের বানতলায় চামড়া শিল্পের বড় প্রকল্প উদ্বোধন করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বানতলাকে রাজ্যের ‘কর্মদিগন্ত’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, সারা ভারতে চামড়া শিল্পের সবচেয়ে বড় ‘হাব’ হবে এটি। ৮০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ হবে এই প্রকল্পে। কানপুরের ব্যবসায়ীদেরও এখানে জায়গা দেওয়া হবে। এই তথ্যটি তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “এর সঙ্গে যদি আমরা রিলেট করি যে, আমাদের চামড়া শিল্পের ব্যাপারে এবার সমস্যাটা কোথায় হল? “হঠাৎ করেই বলা হল, রপ্তানি হবে। রপ্তানি করে এই চামড়া যাবে কোথায়, সেটা লক্ষ্য রাখতে হবে। অন্যদিকে আমাদের ট্যানারিগুলো বন্ধ করে দেওয়া হলে আমাদের কর্মসংস্থানের বিশাল ক্ষতি হবে। একই সঙ্গে চামড়া শিল্পের যে ভবিষ্যৎ, সেটা নষ্ট করে দেওয়া হবে।” কাঁচা চামড়া রপ্তানিতে আড়তদাররা আগ্রহী হলেও বাণিজ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পর সরকারের কোনো স্পষ্ট পদক্ষেপ আসেনি। সম্প্রতি চামড়া শিল্প সংশি¬ষ্টদের নিয়ে বৈঠকে শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ হুমায়ুন সাংবাদিকদের প্রশ্নে বলেন, রপ্তানির বিষয়ে বুঝেশুনে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। বাংলাদেশের ট্যানারি শিল্পের বিকাশে সরকার সহযোগিতা করছে না বলেও অভিযোগ করেন বিএনপি মহাসচিব। ট্যানারিগুলো ঢাকার হাজারীবাগ থেকে সাভারে চামড়া শিল্প নগরীতে সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রেও নানা কাজে সরকারের অবহেলা ছিল বলে তার অভিযোগ। “ফলে ট্যানারি শিল্প, লেদার শিল্প আজকে মুখ থুবড়ে পড়ে যাচ্ছে। এই বিষয়গুলোর হালকা করে দেখার সুযোগ নেই।” ফখরুল বলেন, “আজকে আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র-চক্রান্তের ফলে আমরা পিছিয়ে যাচ্ছি। আমাদের কানেকটিভি তৈরি হচ্ছে- খুব ভালো কথা, আমাদের মানুষের আয় বাড়ছে-খুব ভালো কথা; কিন্তু এটাকে টেকসই করতে হলে যে শিল্পের প্রসার দরকার এবং যে কর্মসংস্থান দরকার, সেটা আমরা করতে পারছি না। “পরিসংখ্যানগুলোতে বেরিয়ে এসেছে যে, এখানে আমাদের ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্ডাস্ট্রি গড়ে উঠছে না। আমরা গার্মেন্টসই আছি, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ইন্ডস্ট্রি বলতে গার্মেন্টস। এখান থেকে যতক্ষণ না আমরা বেরিয়ে এসে ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্ডাস্ট্রিতে যেতে পারব, আমরা সত্যিকার অর্থে ইন্ডাস্ট্রিজ ডেভেলপড কান্ট্রি হতে পারব না।” অনুষ্ঠানে চামড়া শিল্পের উপর মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন টিএস আইয়ুব। বাবুল তালুকদারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু, শামসুজ্জামান দুদু ও যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালও বক্তব্য রাখেন। আওয়ামী লীগের শাসনে দেশের সব ক্ষেত্রে লুটপাট চলছে বলে দাবি করেন বিএনপি মহাসচিব ফখরুল। তিনি বলেন, “এই সরকারটা প্রতারক সরকার। এরা হয়ে গেছে এখন ফর দ্য লুটেরাজ, বাই দ্য লুটেরাজ, অফ দ্য লুটেরাজ। এখানে লুট ছাড়া আর কিছু নেই। একেবারে তৃণমূল থেকে শুরু করে উপর পর্যন্ত শুধু লুট চলছে।” ফখরুল বলেন, “টিআর-কাবিখা থেকে শুরু করে একেবারে মেগা প্রজেক্ট পর্যন্ত সব ভাগ-বাটোয়ারা চলছে।” এই অবস্থা থেকে উত্তরণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, “দেশকে বাঁচাতে হলে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হবে, দেশকে বাঁচাতে হলে দেশপ্রেমিক নেতাকে ফিরিয়ে আনতে হবে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আবার মুক্ত করে নিয়ে আসতে হবে।” নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি পুনরায় জানান ফখরুল।

কুমারখালীতে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত বারী’র রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা ৪র্থ শ্রেণী কর্মচারী কল্যান সমিতির আয়োজনে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ের অফিস সহায়ক বারী’র রুহের মাগফেরাত কামনায় মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বাদ জোহর উপজেলা পরিষদ জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত দোয়া মাহফিলে কুমারখালী উপজেলা ৪র্থ শ্রেনী কর্মচারী কল্যান সমিতির সভাপতি আব্দুল মান্নান, সাধারন সম্পাদক সৈয়দ বিল্লাল আহমেদ ছাড়াও সমিতির অন্যান্য সদস্য এবং উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন অফিসের কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা পরিষদ জামে মসজিদের ঈমাম মাওলানা নেছার উদ্দিন দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন। উল্লেখ্য ঈদের ২য় দিন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ের অফিস সহায়ক আব্দুল বারী অফিস শেষ করে কয়া গ্রামে নিজ বাড়ীতে ফেরার পথে অনুমান বিকাল সাড়ে ৫ টার সময় কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী মহাসড়কের কালুর মোড় নামক স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন।

মিন্নিকে কেন জামিন দেওয়া হবে না – হাই কোর্ট

ঢাকা অফিস ॥ বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে কেন জামিন দেওয়া হবে না- তা সাত দিনের মধ্যে সরকারকে জানাতে বলেছে হাই কোর্ট। মিন্নির জামিন আবেদনের ওপর শুনানিতে গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাই কোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করে। সরকারের সংশ্লিষ্টদের সাত দিনের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আগামী ২৮ আগস্ট এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির দিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বরগুনা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হুমায়ুন কবিরকে যাবতীয় নথিপত্রসহ আদালতে হাজির থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মিন্নি রিমান্ড শেষে আদালতে জবানবন্দি দেওয়ার আগের দিনই বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন সংবাদ সম্মেলন করে রিফাতের স্ত্রীর ‘দোষ স্বীকারের’ তথ্য দেন। এ বিষয়ে আদালত লিখিত ব্যাখ্যা চেয়েছে পুলিশ সুপারের কাছে। আগামী ২৮ আগস্ট তা হাই কোর্টে দাখিল করতে হবে।  মিন্নির পক্ষে এদিন হাই কোর্টে শুনানি করেন আইনজীবী জেড আই খান পান্না ও এম আমিনউদ্দিন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারোয়ার হোসাইন বাপ্পী। এম আমিনউদ্দিন শুনানিতে আদালতকে বলেন, “আমরা আর কিছু চাইছি না, মেয়েটার জন্য শুধুমাত্র জামিন চাচ্ছি। সে পালাতে পারবে না। সে তার বাবার হওলায় থাকবে। “তাছাড়া এ মামলায় গ্রেপ্তার ১৫ জনের মধ্যে চারজন জবানবন্দি দিয়ে দিয়েছে। সুতরাং তদন্ত প্রভাবিত করারও সুযোগ নাই। এ কারণে তার জামিন চাইছি।” এর বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষে সারোয়ার হোসাইন বাপ্পী শুনানিতে বলেন, “গ্রেপ্তার ১৫ জনের মধ্যে চারজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। চারজনের জবানবন্দিতেই এ হত্যাকান্ডে মিন্নির সম্পৃক্ততার বিষয়টি উঠে এসেছে। সে এই হত্যাকান্ডের মূল নকশাকারী এবং ষড়যন্ত্রকারী। “এটা খুবই আলোচিত মামলা। পুলিশের উচ্চ পর্যায় থেকে মামলার তদারক করা হচ্ছে। এ মামলায় তাকে জামিন দেওয়া যায় না।” গত ২৬ জুন রিফাতকে বরগুনার রাস্তায় প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। সে সময় স্বামীকে বাঁচাতে মিন্নির চেষ্টার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারাদেশে আলোচনার সৃষ্টি হয়। পরদিন রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ ১২ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন; তাতে প্রধান সাক্ষী করা হয়েছিল মিন্নিকে। পরে মিন্নির শ্বশুর তার ছেলেকে হত্যায় পুত্রবধূর জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করলে ঘটনা নতুন দিকে মোড় নেয়। গত ১৬ জুলাই মিন্নিকে বরগুনার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে দিনভর জিজ্ঞাসাবাদের পর এ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরদিন আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে পাঁচদিনের রিমান্ডে পাঠান। রিমান্ডের তৃতীয় দিন শেষে মিন্নিকে আদালতে হাজির করা হলে সেখানে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে পুলিশ জানায়। তার আগের দিনই পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন এক প্রেস গ্রিফিংয়ে বলেন, “মিন্নি হত্যাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা এবং হত্যা পরিকল্পনাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই হত্যা পরিকল্পনার সঙ্গে মিন্নির যুক্ত থাকার প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ।” বরগুনা সরকারি কলেজের স্নাতকের এই ছাত্রী পরে জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন করেন জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে। মিন্নির বাবা অভিযোগ করে আসছেন, ‘নির্যাতন করে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে’ মিন্নিকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে বাধ্য করেছে পুলিশ। এর পেছনে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদের হাত আছে বলেও তার দাবি। বরগুনার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালত এবং জেলা ও দয়েরা জজ আদালতে মিন্নির জামিন আবেদন নাকচ হয়ে যাওয়ার পর গত ৫ অগাস্ট হাই কোর্টে জামিন আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। গত ৮ আগস্ট বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের অবকাশকালীন হাই কোর্ট বেঞ্চে আংশিক শুনানির পর জামিন পাওয়ার আশা না দেখে মিন্নির আইনজীবী জেড আই খান পান্না আবেদন ফিরিয়ে নেন এবং রোববার নতুন বেঞ্চে আবেদন করেন।

বুরকিনা ফাসোতে জঙ্গি হামলায় অন্তত ১০ সৈন্য নিহত

ঢাকা অফিস ॥ পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বুরকিনা ফাসোতে অজ্ঞাত জঙ্গিদের হামলায় অন্তত ১০ সৈন্য নিহত হয়েছেন বলে দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে। সোমবার দেশটির উত্তরাঞ্চলে সামরিক বাহিনীর একটি ইউনিটে চালানো ওই হামলায় আরও বহু সৈন্য আহত হয়েছেন বলে সেনাবাহিনীর বিবৃতির বরাতে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এক বিবৃতিতে দেশটির সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সোমবার ভোররাতে সোউম প্রদেশের কৌতৌগৌতে হামলাটি হয়। “বর্বর ওই হামলার জবাবে হামলাকারীদের প্রতিরোধ করতে স্থল ও আকাশপথে বিস্তৃত একটি তল্লাশি অভিযান শুরু করা হয়েছে,” সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে এমনটি বলা হলেও বিস্তারিত আর জানানো হয়নি। আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলজুড়ে আল কায়েদা ও ইসলামি স্টেটের (আইএস) সঙ্গে সম্পর্কিত জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ার পর চলতি বছর বুরকিনা ফাসোজুড়ে ব্যাপক তান্ডব শুরু করেছে জঙ্গিরা। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীগুলোও তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। চলতি বছর জঙ্গি সহিংসতায় দেশটিতে শত শত বেসামরিক নিহত ও দেড় লাখেরও বেশি লোক এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে।  প্রতিবেশী দেশগুলোতে চলা জঙ্গি সহিংসতার প্রভাবে সাহেলের এই শান্ত অঞ্চলটি এখন অস্থির হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যে ধরনের নৃগোষ্ঠীগত হামলায় প্রতিবেশী মালি অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে তার লক্ষণ বুরকিনা ফাসোতেও দেখা যাচ্ছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি অবনতি হতে থাকায় ডিসেম্বরে দেশটির সরকার সোউমসহ মালির সীমান্ত সংলগ্ন বেশ কয়েকটি প্রদেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে বাধ্য হয়।

চায়না-বাংলাদেশ ইয়্যুথ ক্যাম্প ২০১৯ এ যোগ দিতে চীনে যাচ্ছেন ইবি’র ৫ সদস্যের টিম

চায়না-বাংলাদেশ ইয়্যুথ ক্যাম্প ২০১৯ এ যোগ দিতে চীন যাচ্ছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ সদস্যের একটি টিম।  তাঁরা আগামী ২৬ আগস্ট দেশত্যাগ করবেন। চীনের বসন্ত নগরী খ্যাত কুনমিং শহরে আগামী ২৬ আগস্ট হতে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ ক্যাম্পে যোগদানের জন্য মনোনীত হয়েছেন ল’ এন্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রভাষক সাহিদা আখতার, ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আদনান শাকুর, জান্নাতুল তাজরী, আইসিটি বিভাগের নাবিলা আফরিদা রহমান রাকা ও রেজওয়ানা করিম। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ভাইস চ্যান্সেলরের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী (ড. রাশিদ আসকারী’র) সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করেন এ টিমের সদস্যরা। এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা, আইআইইআর’র পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাঃ মেহের আলী এবং সিন্ডিকেট সদস্য প্রফেসর ড. মোঃ মাহবুবর রহমান। সাক্ষাতকালে ভাইস চ্যান্সেলর ড. রাশিদ আসকারী বলেন, ক্যাম্পের এ অভিজ্ঞতা তোমাদের ভবিষ্যত জীবনের চলার পথে অত্যন্ত কাজে লাগবে। তিনি বলেন, তোমাদের মনে রাখতে হবে, তোমরা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছো। আশারাখি তোমাদের সকল কর্মকান্ডে বিশ্ববিদ্যালয় এবং দেশ গৌরবান্বিত হবে।  সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা সামরিক উত্তেজনা বাড়াচ্ছে ঃ রাশিয়া

ঢাকা অফিস ॥ রাশিয়া বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা সামরিক উত্তেজনা বাড়াচ্ছে। মঙ্গলবার রুশ উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্গেই রায়াবকভ রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসকে বলেন, পুরো বিষয়টিই দুঃখজনক। যুক্তরাষ্ট্রের নেয়া পদক্ষেপ নিশ্চিতভাবেই সামরিক উত্তেজনা বাড়াচ্ছে। তবে, আমরা এ উস্কানির পাল্টা কোন পদক্ষেপ নেব না। যুক্তরাষ্ট্র সোমবার এক ঘোষণায় বলেছে, তারা মধ্যমপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে ১৯৮৭ সালে করা ইন্টারমিডিয়েট রেঞ্জ নিউক্লিয়ার ফোর্সেস (আইএনএফ) চুক্তিতে এ ধরণের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নিষিদ্ধ ছিল। গত ২ আগস্ট চুক্তিটি ভেঙে গেছে। এরপরই যুক্তরাষ্ট্র ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলের মার্কিন নৌবাহিনী নিয়ন্ত্রিত সান নিকোলাস আইল্যান্ড থেকে এ ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণ করে। একে ওয়াশিংটনের সক্ষমতা জোরদারের উদ্যোগ মনে করছেন বিশে¬ষকরা। রায়াবকভ বলেন, ‘আমরা নিজেদেরকে ব্যয়বহুল অস্ত্র দৌড়ে শামিল হতে দেবো না।’ আইএনএফে ভূমিতে নিক্ষেপণযোগ্য প্রথাগত ও পরমাণু সবধরণের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নিষিদ্ধ ছিল। যুক্তরাষ্ট্র রোববার যে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করে তা ছিল পরমাণু শক্তি সম্পন্ন টমাহুক ক্রজ ক্ষেপণাস্ত্র যা আইএনএফ চুক্তির পর সরিয়ে নেয়া হয়েছিল। রায়াবকভ আরো বলেন, চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার মাত্র দু’সপ্তাহের মধ্যে এ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়। এর অর্থ চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানোর আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন এ ধরণের ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে কাজ করে আসছিল।

আলমডাঙ্গায় নির্মানাধীন শান্তি নিবাস পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোকাম্মেল হোসেন

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আলমডাঙ্গা উপজেলায় নির্মানাধীন শান্তি নিবাস (বৃদ্ধাশ্রম) পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এসডিজি) মোকাম্মেল হোসেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে তিনি আলমডাঙ্গা ওয়াপদায় অবস্থিত শান্তি নিবাস পরিদর্শনে আসেন। এ সময় তাঁর সাথে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্রদাস, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইয়াহিয়া, আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ লিটন আলী, নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট খাইরুল ইসলাম, থানা অফিসার ইনচার্জ আসাদুজ্জামান মুন্সি, প্রেসক্লাবের সভাপতি খন্দকার শাহ আলম মন্টু, সম্পাদক হামিদুল ইসলাম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এনামুল হক, প্রধান অফিস সহকারি আব্দুল লতিফ, ঠিকাদার মিজানুর রহমান, সাংবাদিক রুনু খন্দকার প্রমুখ। পরিদর্শনকালে শান্তি নিবাসের নিচতলার ৫টি রুম, ডাইনিং, বাথরুমসহ সবদিক পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং জেলা প্রশাসকের ভুয়সি প্রশংসা করে তিনি সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানান। এই শান্তি নিবাস তৈরী হলে অসহায় মানুষের ঠাঁই হবে, তবে কারো জেন এই বৃদ্ধাশ্রমে আসতে না হয় সে জন্য সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করতে আহবান জানান।

মিরপুরে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়া মিরপুরে বিভিন্ন জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ করা হয়েছে। উপজেলা পরিষদের ও প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে “মৎস্য সেক্টরের সমৃদ্ধি, সুনিল অর্থনীতির অগ্রগতি” শ্লোগানে ২০১৯-২০ অর্থ বছরে রাজস্ব খাতের আওতায় এ মাছের পোনা অবমুক্তকরণ করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার সকালে উপজেলা পষিদের পুকুরে পোনা অবমুক্তকরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি জেলা মৎস্য কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম জামাল আহমেদ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান আবুল কাশেম  জোয়ার্দ্দার, মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান মর্জিনা খাতুন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রমেশ চন্দ্র ঘোষ, পোড়াদহ মৎস্য বীজ খামারের খামার ব্যবস্থাপক জগদ্বিস পাল, সোনালী ব্যাংক মিরপুর শাখার ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলাম, উপজেলা পল্লী দারিদ্র বিমোচন কর্মকর্তা মনোজ কুমার ইদ্র, উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা শামসুল হুদা, উপজেলা সহকারী  মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাজিউল ইসলাম। এ ব্যাপারে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাজিউল ইসলাম জানান, এ কার্যক্রমের আওতায় উপজেলার ১৪টি প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়ে ৩শ’ ৮৫ কেজি বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্তকরণ করা হয়।

সভাপতি নজরুল ॥ সম্পাদক জিল্লু

কুষ্টিয়া সদর উপজেলা মাদক প্রতিরোধ কমিটি গঠন

বাংলাদেশ মাদক প্রতিরোধ কমিটি কেন্দ্রীয় সংসদ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা শাখা মাদক প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কুষ্টিয়া জেলা মাদক প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি হাসিবুর রহমান রিজু ও সাধারণ সম্পাদক এম সোহাগ হাসান স্বাক্ষরিত ৭১ সদস্য বিশিষ্ট এ কমিটিতে নজরুল ইসলাম প্রধান সভাপতি ও জিল্লুর রহমান জিল্লুকে সাধারণ সম্পাদক’র দায়িত্ব দেওয়া হয়। গতকাল ২০ আগষ্ট এই কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ করা হবে বলে জানা গেছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

দৌলতপুরে মাছের পোনা অবমুক্তকালে এমপি বাদশা

মাছ উৎপাদনের যে কর্মসূচী তা যেন সারা বছর অব্যাহত থাকে সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে

হবে শরীফুল ইসলাম ॥ ‘মাছ চাষে গড়বো দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’ এই পতিপাদ্য নিয়ে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বিভিন্ন জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করেছেন কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. আ. কা. ম সরওয়ার জাহান বাদশা। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় উপজেলা পরিষদের পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি। এসময় উপস্থিত ছিলেন, দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার, জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন মাষ্টার, দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সাক্কির আহমেদ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সোনালী খাতুন ও দৌলতপুর মৎস্য কর্মকর্তা সহিদুর রহমানসহ মৎস্য চাষীগণ। মাছের পোনা অবমুক্ত শেষে এমপি আ. কা. ম সরওয়ার জাহান বাদশা উপস্থিত মৎস্য চাষীদের উদ্দেশ্যে বলেন, বর্তমান সরকারের সময় মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশে^রর চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। এটা সরকারের গৌরব ও সাফল্যের একটি অংশ। তিনি বলেন, সরকারের মাছের পোনা অবমুক্তকরণের উদ্দেশ্য হচ্ছে আমরা যেন সবাই সফলভাবে ও সতর্কতার সাথে যারা এই কাজের সঙ্গে জড়িত সেকাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করতে পারি। তিনি আরো বলেন, দেশে মাছের উৎপাদন বাড়বে সাধারণ মানুষ মাছ ধরে খাবে। বিভিন্ন জলাশয়ে মাছ উৎপাদন হবে, ব্যক্তি কেন্দ্রিক না প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে সাধারণ মানুষের জন্য এবং উৎসাহিত করা জন্য তারা যেন মাছ ধরে খেতে পারে সেজন্যই এই কর্মসূচী। আর এজন্য আমরা অবশ্যই সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। এমপি সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা যারা এই কাজের সঙ্গে জড়িত আছেন তারা যেন অত্যন্ত সতর্কতার সাথে লক্ষ্য রাখবেন একাজ বা মাছ উৎপাদনের যে কর্মসূচী তা যেন সারা বছর অব্যাহত থাকে সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হবে। আর আমরা চতুর্থ স্থান থেকে আরো সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারি সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। দৌলতপুর উপজেলা মৎস্য দপ্তরের আয়োজনে ২০১৯-২০ অর্থবছরে রাজস্ব বাজেটের আওতায় উপজেলা পরিষদ পুকুর, মথুরাপুর আশ্রয়ন পুকুর এবং দৌলতপুর অটিজম ও প্রতিবন্ধী স্কুলের পুকুরসহ ১৬টি পুকুর ও জলাশয়ে ৪০০ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়।

 

২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা দিবস উপলক্ষে কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধু পরিষদের আলোচনা সভা

নিজ সংবাদ ॥ ২০০৪ সালের ২১আগষ্ট ঢাকায় বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় অফিসের সামনে সংগঠিত ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা ও গুলি বর্ষনের ঘটনার দিবস উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু পরিষদ কুষ্টিয়া শাখার উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধু পরিষদের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন বঙ্গবন্ধু পরিষদ কুষ্টিয়া শাখার প্রতিষ্ঠাতা সাধারন সম্পাদক ইসলামিয়া কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ও ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিষ্ট্রার (আইন) শামসুর রহমান বাবু।  প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত থেকে আলোচনায় অংশ নেন ইসলামিয়া কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য ও কুষ্টিয়া হাইস্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক আলহাজ¦ আতিয়ার রহমান। বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু পরিষদ অগ্রনী ব্যাংক শাখার প্রধান উপদেষ্টা ও ইসলামিয়া কলেজের সাবেক ভিপি শাহাবুদ্দিন আহমেদ, মিরপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও স্পোল পিপি এ্যাড. আব্দুল হালিম। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বঙ্গবন্ধু পরিষদ কুষ্টিয়া সোনালী ব্যাংক শাখার সভাপতি মুকুল হোসেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু পরিষদ অগ্রনী ব্যাংক শাখার সভাপতি আরিফা বেগম, সহ-সভাপতি খন্দকার আব্দুল মান্নান, সাধারন সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, বঙ্গবন্ধু পরিষদ সোনালী ব্যাংক শাখার সিনিয়র সহসভাপতি মনোয়ার হোসেন, সাধারন সম্পাদক আবুল কাশেমসহ আরো অনেকে। আলোচকবৃন্দ বলেন, বিএনপি-জামাত জোটের নীল নকঁশা অনুযায়ী ৭৫সালে বঙ্গবন্ধুকে পরিবারসহ হত্যা করা হয়েছিল তারই ধারাবাহিকতায় ২০০৪ সালের ২১আগষ্ট আওয়ামীলীগ কার্যালয়ের সামনে জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার লক্ষ্যে গ্রেনেড হামলা এবং গুলি বর্ষনের মাধ্যমে বহুসংখ্যক আওয়ামীলীগের ত্যাগী নেতাকে হত্যা করে আওয়ামীলীগের নেতৃত্ব শুন্য করার চেষ্টা করা হয়েছে যা জাতি কোন দিনই ভুলবে না। আলোচকবৃন্দ আরো বলেন, ২১ আগষ্ট সহ সকল হত্যাকান্ডের দোষীদের আইনের আওতায় এনে শান্তি নিশ্চিত করতে হবে। সেই সাথে খুনিদের বিচারের রায় দ্রুত কার্যকর করতে হবে। তাহলে আর এই ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনার আবির্ভাব হবে না। পরে ২১আগষ্টের শহীদদের প্রতি সম্মান রেখে তাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করা হয়।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করল ভারত

ঢাকা অফিস ॥ সফররত ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. সুগ্রামানিয়াম জয়শংকর বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে ভারতের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এই রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্য থেকে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ দেশে নিরাপদ, দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে আমরা একমত হয়েছি। বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমার-এই তিন দেশের জাতীয় স্বার্থেই এটা করা জরুরি। বাংলাদেশ থেকে এই বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে তাদের নিজ ভূমিতে ফিরে যেতে এবং রাখাইন রাজ্যের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে আমরা সব ধরণের সহায়তা দিতে প্রস্তুত আছি।’ ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথিশালা যমুনায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেনের এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি একথা বলেন। জয়শংকর বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত সুদৃঢ় এবং ভবিষ্যতে এটা আরো জোরদার হবে। তিনি আরো বলেন, ‘আমরা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণজয়ন্তী দু’টি অনুষ্ঠানই উদযাপন করতে যাচ্ছি।’ ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটা ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে আমার প্রথম ঢাকা সফর। বাংলাদেশের সাথে আমাদের অংশীদারিত্ব প্রতিবেশী দেশগুলোও যে পাশাপাশি একসাথে মিলেমিশে থাকতে পারে তার উদারহণ। আমরা অংশীদার হিসেবে একসাথে কাজ করি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দক্ষিণ এশিয়ায় রোল মডেল হিসেবে এই অংশীদারকে টিকিয়ে রাখতে চান।’ জয়শংকর বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে গর্ব বোধ করি। নিকটতম প্রতিবেশী হিসেবে আমরা বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তার প্রস্তাব দিচ্ছি।’ পানি বন্টনের ব্যাপারে ভারতের এই মন্ত্রী বলেন, পানিসম্পদ বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং আমাদের মতো তারাও অভিন্ন ৫৪টি নদীর জন্য উভয়পক্ষের গ্রহণযোগ্য একটি উপায় বের করতে চায়। তিস্তা নদীর পানি বন্টন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জয়শংকর বলেন, ‘আপনারা জানেন যে, এ ব্যাপারে আমাদের সরকারের একটি অবস্থান আছে। এ ব্যাপারে আমাদের একটি অঙ্গীকার আছে এবং এটা পরিবর্তন হবে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘যখন নিরাপত্তার প্রশ্ন সামনে আসে তখন অপরাধ, সন্ত্রাসবাদ, চরমপন্থার বিরুদ্ধে দু’দেশের অংশীদারিত্বও উন্নয়ন দু’দেশের জনগণকেই সরাসরি সুফল দেয় বলে আমাদের বিশ্বাস।’ তিনি বলেন, দু’দেশের জনগণের মধ্যে সবক্ষেত্রে যোগাযোগ বেড়েছে। জনগণের মধ্যে আরো যোগাযোগ বাড়ানোর লক্ষে পদক্ষেপ নেয়া হবে। জ্বালানী সহযোগিতার ব্যাপারে তিনি বলেন, দু’টি দেশই পরস্পরের সফলতার সুফল ভোগ করে। এর আগে, সকালে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাজধানীর ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু জাদুঘর পরিদর্শন করেন। তিনি সেখানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

ভারতীয় হিসেবে যে গর্ব ছিল, তা হারালাম – অমর্ত্য সেন

ঢাকা অফিস ॥ কাশ্মীর নিয়ে নরেন্দ্র মোদী সরকারের পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করলেন নোবেলবিজয়ী ভারতীয় অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। তিনি বলেছেন, ভারতের গণতন্ত্রের জন্য ভারতীয় হিসেবে যে গর্ব অনুভব করতেন তিনি, এই পদক্ষেপের পর আর তা অনুভব করছেন না। আকস্মিক এক পদক্ষেপে গত ৫ আগস্ট মোদী সরকার জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা বাতিল করে অঞ্চলটিকে পুরোপুরি ভারতের সঙ্গে যুক্ত করার ঘোষণা দেয়।  এই পদক্ষেপে কাশ্মীরিরা ব্যাপক অসন্তোষ প্রকাশ করছে, মোদী সরকারের সমালোচনা হচ্ছে নানা মহলেই। সোমবার এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অমর্ত্য সেন বলেন, “ভারতীয় হিসেবে আমার গর্ব ছিল এই জন্য যে গোটা বিশ্বে গণতন্ত্রের জন্য এত কিছু করেছে ভারত। “তবে এখন আর আমি একজন ভারতীয় হিসাবে এই সত্য নিয়ে গর্বিত নই যে ভারতই গণতন্ত্রের পক্ষে প্রথম প্রাচ্যের দেশ ছিল। কেননা যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তাতে আমরা সেই অবস্থান হারিয়ে ফেলেছি।” কাশ্মীর নিয়ে মোদী সরকারের পদক্ষেপে মানুষের অধিকারে প্রশ্নটিও খর্ব হয়েছে বলে মনে করেন নোবেলজয়ী এই বাঙালি। তিনি বলেন, “আমি মনে করি না যে গণতন্ত্র ছাড়া কোনোভাবে কাশ্মীর সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।” সরকার নিরাপত্তার যে বিষয় বলছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে অমর্ত্য সেন বলেন, “এটি ঔপনিবেশিক অজুহাত। ব্রিটিশরা এভাবেই ২০০ বছর ধরে দেশ চালিয়েছিল।” কাশ্মীরিরা বলছে, তাদের মতামতের তোয়াক্বা না করেই রাজ্যের বিশেষ মর্যাদা রদ করা হয়েছে, যার মধ্যদিয়ে সংবিধানের শর্তের ব্যত্যয় ঘটেছে। মর্যাদা পরিবর্তনের কারণে আগে এখন কাশ্মীরের  নিজস্ব সংবিধান, পতাকা, দন্ডবিধি থাকছে না এবং ওই রাজ্যে ভারতীয় যে কেউ জমি কিনতে পারবে। এই সব বিষয়ে কাশ্মীরিদের মতামত শোনার উপর গুরুত্ব দিয়ে অমর্ত্য সেন বলেন, “রাজ্যের জনগণের (জম্মু ও কাশ্মীর) কথা ভেবেও কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিৎ। এটি এমন একটি বিষয় যেখানে কাশ্মীরিদের বৈধ দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে, কারণ যে এটি তাদের জমি।” জম্মু ও কাশ্মীরের রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেপ্তারের সমালোচনাও করেন অমর্ত্য সেন। “জনগণের নেতাদের কণ্ঠস্বর না শুনে আপনারা ন্যায়বিচার করতে পারেন বলে আমি মনে করি না এবং যদি আপনি হাজার হাজার নেতার মুখ বন্ধ রাখেন, তাদের অনেককে কারাগারে আটকে রাখেন… তাহলে আপনি গণতন্ত্রের  বৈশিষ্ট্যকে দমন করছেন।”