সবচেয়ে বড় সংকটের মুখে হংকং’

ঢাকা অফিস ॥ যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে ২২ বছর আগে চীনের শাসনে অন্তর্ভুক্ত করে নেওয়ার পর হংকং এখনই সবচেয়ে বড় সংকটের মুখে আছে বলে মন্তব্য করেছে চীনের হংকং ও ম্যাকাউ বিষয়ক দপ্তর। এশিয়ার অন্যতম অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত শহরটিতে বুধবারও সরকারিবিরোধী বিক্ষোভ দেখা গেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। “হংকংয়ের সংকট ৬০ দিন ধরে চলছে, এবং দিন দিন এটি খারাপ থেকে আরও খারাপ হচ্ছে। সহিংস কর্মকান্ড আরও তীব্র হচ্ছে, সমাজে এর প্রভাব বিস্তৃত হচ্ছে। বলা যেতে পারে, হস্তান্তরের পর হংকং এখনই সবচেয়ে বাজে পরিস্থিতি মোকাবেলা করছে,” চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর শেনঝেনে এক বৈঠকে এমনটাই বলেছেন হংকংয়ের দেখভালের দায়িত্বে থাকা ঊর্ধ্বতন চীনা কর্মকর্তা ঝ্যাং জিয়াওমিং। বিচারের জন্য চীনের মূলভূখন্ডে বাসিন্দাদের পাঠানোর সুযোগ রেখে আইন সংশোধনের একটি বিল নিয়ে কয়েক মাস আগে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে হংকংয়ের পরিস্থিতি। সমালোচকরা বলছিলেন, ওই বিলটি করাই হয়েছে হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থি রাজনৈতিক নেতাদের হেনস্তা করতে। তীব্র আন্দোলনের মুখে হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী ক্যারি লাম ওই বিল পাসের পরিকল্পনা স্থগিত করলেও বিক্ষোভ বন্ধ হয়নি। আন্দোলনকারীরা এখন লামেরই পদত্যাগ চাইছে। রয়টার্স বলছে, হংকংয়ের এ আন্দোলন এরইমধ্যে চীনের শাসকদের উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে; যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধ নিয়ে এমনিতেই তারা নাজেহাল। মঙ্গলবার চীন হংকংয়ের বিক্ষোভকারীদের ‘আগুন নিয়ে না খেলতে’ পরামর্শ দিয়েছে।

চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) সংবাদমাধ্যম পিপলস ডেইলি প্রকাশিত ট্যাবলয়েড গে¬াবাল টাইমস তার টুইটার পেইজে হংকংলাগোয়া শেনজেনে হাজারো পুলিশ কর্মকর্তার দাঙ্গাবিরোধী প্রশিক্ষণ ও মহড়ার একটি ভিডিও-ও প্রকাশ করেছে। হংকংয়ের রাজনৈতিক সংকট নিয়ে বুধবার যে  বৈঠকে ঝ্যাং ছিলেন, সেখানে চীনের পার্লামেন্টে হংকংয়ের প্রতিনিধি দল, ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস ও চাইনিজ পিপলস পলিটিকাল কনসালটেটিভ কনফারেন্সের (সিপিপিসিসি) প্রতিনিধিরা থাকলেও হংকংয়ের গণতন্ত্রিপন্থি কোনো নেতা কিংবা বিক্ষোভকারীদের প্রতিনিধিরা ছিলেন না। ওই বৈঠকে ঝ্যাং চীনের সাবেক নেতা দেং জিয়াওপিংয়ের বিভিন্ন ভাষণ থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন বলে বৈঠকে অংশ নেওয়া কয়েকজন রয়টার্সকে জানিয়েছেন। ১৯৮৪ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত দেওয়া ওই ভাষণগুলোতে দেং বলেছিলেস, হংকংয়ে অস্থিরতা দেখা দিলে চীনের কেন্দ্রীয় সরকার অবশ্যই সেখানে হস্তক্ষেপ করবে। দেংয়ের ওই সময়ে হংকং যুক্তরাজ্যের অধীনে ছিল। হংকংয়ে কয়েক মাস ধরে চলা এ বিক্ষোভ মোকাবেলায় চীন তাদের সেনাবাহিনী পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) মোতায়েন করবে কিনা, সে বিষয়ে এখনো কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। হংকংয়ে এমনিতেই পিএলএ-র একটি দূর্গ আছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। বেইজিং এখনো হংকংয়ের সরকার ও স্থানীয় পুলিশের উপর আস্থাশীল, ৈ বৈঠকে ঝ্যাং এমনটাই বলেছেন বলেও অনেকে জানিয়েছেন।

চীন সৈন্য মোতায়েন করলেও তা হংকংয়ের সঙ্গে সাংবিধানিক সম্পর্কের খেলাপ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন হংকংয়ের সাবেক বিচার মন্ত্রী এলসি লিউং। “এক দেশ দুই নীতি অটুটই থাকবে,” বলেছেন তিনি।

কাশ্মীর নিয়ে ভারতের ‘অবৈধ সিদ্ধান্তের’ বিরুদ্ধে লড়বে পাকিস্তান

ঢাকা অফিস ॥ জম্মু-কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন প্রত্যাহার করার ভারতীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে লড়ার অঙ্গীকার করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ভারতের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি, জানিয়েছে বিবিসি। ভারত কাশ্মীরীদের জাতিগতভাবে নির্মূল করতে পারে, তিনি এমন আশঙ্কা করছেন বলেও জানিয়েছেন ইমরান। সোমবার ভারতের সরকার যে সিদ্ধান্তটি ঘোষণা করেছে সে বিষয়ে ‘বিশ্বকে জানাতে’ চান বলেও জানিয়েছেন তিনি। ইমরান বলেন, “জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে আমরা এখন এটি পর্যালোচনা করে দেখছি, এটি সাধারণ পরিষদে তুলবো আমরা, সব ফোরামেই রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে আলোচনা করবো, এটি গণমাধ্যমে তুলে ধরবো এবং বিশ্বকে জানাবো।”  জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা রদ করার মাধ্যমে ভারত মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীরের জনসংখ্যাতাত্ত্বিক চেহারা পরিবর্তনের সুযোগ পাবে, তিনি এমনটি মনে করছেন বলে জানান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। “আমি শঙ্কিত, এখন কাশ্মীরে জাতিগত নির্মূল করা শুরু হতে পারে। তারা স্থানীয়দের সরিয়ে অন্যদের এনে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ বানাতে পারে, যেন স্থানীয়রা দাসে পরিণত হয়,” বলেন তিনি। এর আগে পাকিস্তানের ক্ষমতাধর সেনাপ্রধান জানান, তার সৈন্যরা কাশ্মীরীদের ‘ন্যায্য সংগ্রামে’ তাদের পাশে থাকবে।  প্রতিবেশী চীনও ভারতের সিদ্ধান্তকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বর্ণনা করে এর বিরোধিতা করবে বলে জানিয়েছে। ভারত সরকার জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করার পর থেকে অঞ্চলটি অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। কাশ্মীরের টেলিযোগাযোগ ও গণমাধ্যম বন্ধ রাখা হয়েছে, এর সঙ্গে যোগ হয়েছে কারফিউ। ইতোমধ্যেই ভারতের শাসনে অসন্তুষ্ট কাশ্মীরীরা ‘বিশেষ মর্যাদা’ বাতিলের সিদ্ধান্তে বড় ধরনের প্রতিবাদ শুরু করতে পারে, এমন আশঙ্কায় এসব ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি কাশ্মীরজুড়ে ব্যাপক সেনা মোতায়েন করেছে নরেন্দ্র মোদীর সরকার। রাজ্যটির অল্প কয়েকটি সচল টেলিফোন লাইনের একটি ব্যবহার করতে সক্ষম হওয়া বিবিসির শ্রীনগর প্রতিনিধি আমীর পরীজাদা জানিয়েছেন, তিনি যাদের সঙ্গে কথা বলেছেন তাদের মধ্যে স্পষ্ট ক্রোধের লক্ষণ দেখেছেন তিনি, বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয়েছেন বলে মনে করছেন তারা। কোথাও কোথাও প্রতিবাদ ও নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি পাথর ছোড়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। বিশেষ মর্যাদা বাতিল করার পর দুই দিন পেরিয়ে গেলেও স্থানীয় নেতাদের বন্দি করে রাখা হয়েছে। ভারতের অন্যান্য অংশে থাকা কাশ্মীরীরা তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন। সোমবার ভারত সরকার জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগে সেখানে অতিরিক্ত ৩৫ হাজার সেনা মোতায়েন করেছিল। সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর অতিরিক্ত আরও আট হাজার সেনা তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। ইতোমধ্যেই কাশ্মীর বিশ্বের অন্যতম সামরিকায়িত অঞ্চল হয়ে উঠেছে। ১৯৪৭ এর পর থেকেই ভারত ও পাকিস্তান উভয়েই হিমালয় অঞ্চলের কাশ্মীরকে নিজেদের বলে দাবি করে এলেও নয়া দিল্লি ও ইসলামাবাদ এখন অঞ্চলটির আলাদা দুটি অংশের নিয়ন্ত্রক। ভারতশাসিত অংশে দীর্ঘদিন ধরেই বিচ্ছিন্নতাবাদী বিভিন্ন সংগঠনের তৎপরতা বিদ্যমান, যাতে প্রাণ হারিয়েছে হাজার হাজার লোক।

গাংনীর রাইপুর ইউপির উদ্দ্যোগে পরিচ্ছন্নতার উদ্বোধন

গাংনী প্রতিনিধি ॥ ডেঙ্গু দমনে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের উদ্দ্যোগে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকেলে রাইপুর ইউনিয়নের শিমুলতলা-মড়কা বাজারের আশে-পাশে ডেঙ্গুনাশক ওষধ ¯েপ্র ও আবর্জনা কেটে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার উদ্বোধন করা হয়। প্রধান অতিথি হিসাবে উদ্বোধন করেন রাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম সাকলায়েন ছেপু। এ সময় উপস্থিত  ছিলেন, ইউনিয়ন প্যানেল চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান আজাদ, পরিষদের সদস্য আব্দুল জাব্বার, বকুল হোসেন, জসিম উদ্দীন, হযরত আলী, গোলাম রসুল, আনারুল ইসলাম, হাসান আলী, দাউদ হোসেন, সদস্যা ফিরোজা খাতুন, জহুরা খাতুন, ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মতিয়ার রহমান, উপ-কৃষি সহকারী কর্মকর্তা বদিউজ্জামান, দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ-এর রাইপুর ইউনিয়ন সমন্বয়কারী জিএস সাজুসহ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ।

গাংনীতে নবাগত ইউএনও’র সাথে সাংবাদিকদের সৌজন্য সাক্ষাৎ

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনীতে নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) দিলারা রহমানের সাথে গাংনী উপজেলা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার বিকেল ৪টার সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে গাংনী উপজেলা প্রেসক্লাবের প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে ফুলের তোড়া দিয়ে নবাগত ইউএনও-কে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়।  এসময় গাংনী উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও ইত্তেফাক সংবাদদাতা আমিরুল ইসলাম অল্ডাম, দৈনিক নয়াদিগন্ত প্রতিনিধি প্রভাষক হারুণ-অর-রশীদ রবি,বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি জুলফিকার আলী, কানন, দৈনিক বজ্রশক্তির জেলা প্রতিনিধি মিনারুল ইসলাম, দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার প্রতিনিধি সাহাজুল ইসলাম সাজু, দৈনিক বর্তমান ও দৈনিক পশ্চিমাঞ্চলের প্রতিনিধি লিটন মাহমুদ,দৈনিক সমীকরণের প্রতিনিধি আবুল কাশেম অনুরাগী, সাংবাদিক রাব্বি আহমেদসহ উপজেলা প্রেসক্লাবের সকল সাংবাদিকবৃন্দ  উপস্থিত ছিলেন। সৌজন্য সাক্ষাতকালে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। গাংনীর উন্নয়ন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি রাজনীতিবিদ, সরকারী কর্মকর্তা, সুশীল সমাজ, সর্বোপরি সাংবাদিকদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি গাংনীতে সাংবাদিকদের সক্রিয় ভূমিকায় ভূয়শী প্রশংসা করেন।

ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, আর ব্লেম গেম করতে চাই না – স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ ডেঙ্গু নিয়ে আর ব্লেম গেম করতে চান না বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমরা আর ব্লেম গেম করতে চাই না। ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। মশা যদি জন্ম না নেয়, তাহলে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কমে যাবে। সিটি করপোরেশন তো আর বাড়ির ভেতরে গিয়ে স্প্রে করতে পারবে না। কিন্তু যেখানে নদী-নালা আছে, পানি জমে থাকে সেখানে স্প্রে করা দরকার। তারা স্প্রে করছে, আরও ভালো করে স্প্রে করা দরকার। যত স্প্রে হবে, তত ডেঙ্গু মশার সংখ্যা কমবে।’রাজধানীর মুগদা হাসপাতালে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) আয়োজিত এক সেমিনারে বুধবার এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।চিকিৎসকদের নিজেদের কাজ করতে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অসুস্থ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। চিকিৎসকদের নির্দেশনা দিয়েন না। তাঁরাই ভালো চিকিৎসা দেবেন। যার যার দায়িত্ব যদি সঠিকভাবে পালন করি, তাহলে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’দেশের বর্তমান ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা স্বাভাবিকও বলছি না, আবার মহামারিও বলছি না। আমরা বলছি, ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।’ ডেঙ্গুকে বিশ্বজনীন সমস্যা আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, ‘গত বছর আমরা ১০ হাজার ডেঙ্গু রোগী পেয়েছিলাম। এবার ৩০ হাজার ডেঙ্গু রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মুগদা হাসপাতালে ভালো একটা চিত্র পেলাম। এখানে ডেঙ্গু রোগী আছে ৩৮৭ জন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন ১ হাজার ২০০ জন। এখানে চিকিৎসকেরা ভালো সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এর ফলে এই হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগে একটি রোগীরও মৃত্যু হয়নি।’ এ সময় স্থানীয় সাংসদ সাবের হোসেন চৌধুরী উঠে এসে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হাতে একটি কাগজ দিয়ে গেলে জাহিদ মালেক বলেন, ‘তাঁরা বলছেন, এ হাসপাতালে ১১ জন মারা গেছে। কিন্তু কতজন ডেঙ্গুর কারণে মারা গেছে, তা নিশ্চিত করতে পারেননি।’ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য পর্যাপ্ত কিট এখন দেশে আছে—এমন তথ্য জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ডেঙ্গু পরীক্ষার কিটের সংকট ছিল। কিন্তু আমরা কিটের ব্যবস্থা করেছি। প্রতিদিন দুই লাখ কিট দেশে আসছে। এখন কিটের কোনো ঘাটতি নেই।’দেশে না থাকলেও ডেঙ্গু সম্পর্কে প্রতিনিয়ত নির্দেশনা দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, এমন কথাও জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রতিনিয়ত বিদেশ থেকে দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। এক দিন পরপরই তাঁর সঙ্গে কথা হয়। ওনার নির্দেশনায় বিনা মূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’স্থানীয় সাংসদ সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘১ হাজার ১০০ রোগী এখন মুগদা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে ডেঙ্গু রোগী আছে পাঁচ শতাধিক। রক্ত পরীক্ষার পর ২৫ শতাংশ ডেঙ্গু রোগী ধরা পড়ছে। রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।’চিকিৎসকদের ওপর ভরসা রাখতে সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএমএ মহাসচিব ইহতেশামুল হক। তিনি বলেন, ‘বিভ্রান্তিকর তথ্যে ফেসবুক সয়লাব হয়ে গেছে। চিকিৎসকদের বিশ্বাস করুন। ডেঙ্গুতে নয়জন চিকিৎসকও মারা গেছেন। আমরা কিন্তু সে ধরনের কোনো সমবেদনা পাইনি।’বিএমএ সভাপতি ও সাবেক সাংসদ মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন বলেন, ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। ঘরবাড়ি পরিষ্কার রাখা জরুরি। কলকাতা ডেঙ্গু রোধে বছরের ৩৬৫ দিন কাজ করে। এ কারণে সেখানে এবার ডেঙ্গু কম। ‘ডেঙ্গু জ্বরের যথোপযুক্ত চিকিৎসা, নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ’ শীর্ষক বৈজ্ঞানিক এ সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রিউমোটলজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ আতিকুল হক। কীভাবে ডেঙ্গু রোগ ছড়ায়, ডেঙ্গু র চিকিৎসাপদ্ধতিসহ নানা তথ্য তিনি সেমিনারে তুলে ধরেন।

মিডিয়া ছিল বলেই ডেঙ্গু সামনে এসেছে – ফখরুল

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মিডিয়ার কারণেই মানুষ এই প্রাণঘাতী রোগের বিস্তার সম্পর্কে জানতে পেরেছে, না হলে তারা বুঝতেই পারত না কেমন ভয়াবহ আকার নিয়েছে ডেঙ্গু ।ডেঙ্গু ভয়াবহ রূপ নেওয়ার জন্য মন্ত্রী ও মেয়রদের দায়ী করেছেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলছেন, তারা প্রথমে গুরুত্ব না দিয়ে ‘গুজব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। সে সময় কার্যকর ব্যবস্থা নিলে এই অবস্থা তৈরি হত না।

বুধবার বিকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় ডেঙ্গুসহ সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।লন্ডন সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি সাক্ষাৎকার মঙ্গলবার প্রচার করেছে বিবিসি বাংলা। সিটি করপোরেশনের বিরুদ্ধে মশা নিধনে গাফিলতির যে অভিযোগ উঠেছে সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল প্রধানমন্ত্রীকে।জবাবে তিনি বলেন, “সিটি করপোরেশন একেবারেই ব্যবস্থা নেয়নি, কথাটা কিন্তু ঠিক নয়। ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সময় সময় যেটা হয়ে যায় যে, ঘটনাগুলো এমনভাবে ছড়ায় যে, আর সংবাদগুলো যখন বেশি আসে, মানুষ এত বেশি আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে যে, সেটাই সমস্যাটা সৃষ্টি করে।”প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য নিয়ে সাংবাদিকরা প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, “উনারা সব সময়ই জিনিসগুলোকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। বাস্তব সত্য যেটা সেটাকে স্বীকার করতে ওরা সাহস পান না। এখানে মিডিয়া ছিল বলে তো ডেঙ্গুটা সামনে এসেছে। না হলে ডেঙ্গুটা চেপে যেত সবাই, বুঝতে পারত না কীভাবে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে ডেঙ্গু।”ডেঙ্গুর কারণে এখন প্রতিটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন দাবি করে তিনি বলেন, “যার ডেঙ্গু হয়েছে সে ভয়ে আছে দৌড়াচ্ছে, আর যার হয়নি সেও দৌড়াচ্ছেন।”এরমধ্যে নিজেও ডেঙ্গুর পরীক্ষা করিয়েছেন জানিয়ে ফখরুল বলেন, “দুই দিন ধরে আমার শরীরে ব্যাথা ছিল, আমি দুই বার টেস্ট করিয়েছি। এই বয়সে যদি ডেঙ্গু হয় তাহলে ভয়াবহ আকার ধারণ করবে!”প্রথম দিকে গুরুত্ব না দেওয়ায় ডেঙ্গুতে এখন মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আজকে নতুন নয়। অবলীলায় ইতোপূর্বেও প্রধানমন্ত্রী ও তার মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা যে সত্য তা অস্বীকার করেছেন। যার ফলে কী হয়েছে? দেশের মানুষ সাফার করেছে।“আজকে ডেঙ্গুকে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা, তাদের মেয়ররা প্রথম দিকে তো কোনো গুরুত্বই দেয়নি এবং আপনার নাকচ করে দিয়েছে গুজব বলে। এখন দেখা যাচ্ছে যে, এটা এত বেশি সর্বগ্রাসী রূপ নিয়েছে-এটা শুধু ঢাকাতে নয়, ঢাকা থেকে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। কোনো জেলা বাদ নেই। এটা (ডেঙ্গু) মহামারি আকারেই ছড়িয়ে পড়েছে।”ডেঙ্গু মোকাবেলায় সবাই মিলে সমন্বিতভাবে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার মন্তব্য করে তা না হওয়ার জন্য ক্ষমতাসীনদের দায়ী করেন মির্জা ফখরুল।“আমি তো প্রথমেই বলেছিলাম, আসলে অবিলম্বে এটাকে আপৎকালীন সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা আমরা বলেছিলাম। আমি বলেছিলাম, ডেঙ্গু মোকাবিলায় রাজনীতিকে বাদ দিয়ে, দলীয় রাজনীতিকে বাদ দিয়ে, জনগণের কল্যাণের জন্য সকলের একসঙ্গে কাজ করা উচিত। সেটা তো কখনো হয়নি এখানে।“যতগুলো জাতীয় সমস্যা এসেছে, কোনো সমস্যাতে আওয়ামী লীগ অন্যান্য দলকে সম্পৃক্ত করেনি এবং তারা বিশ্বাসই করে না। তারা একলা চলানীতিতে বিশ্বাস করে। সে কারণে তাদের বড় ধরনের ভুল হতে থাকে, ত্রটি হতে থাকে।”ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এইডিস মশা নিধনে সচেতনতা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মন্ত্রীদের ঝাড়ু হাতে রাস্তার নামারও সমালোচনা করেন বিএনপি মহাসচিব।তিনি বলেন, “ডেঙ্গু নিয়ে আর যে সমস্ত নাটক চলছে এখন, ফটোসেশন। আমাদের ওবায়দুল কাদের সাহেব নিজেই ঝাড়ু-টাড়ু নিয়ে ঝাড়ু দিলেন।

“আবার উনি বলছেন যে, ফটোসেশন করা চলবে না। ইট ইজ ভেরি ইন্টারেস্টিং! আমরা সাধারণ মানুষ এগুলো দেখছি আরকি।”

বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের বিচার হলেও এখনো কলঙ্কমুক্ত হয়নি বাংলাদেশ – আইনমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের বিচার হলেও কলঙ্কমুক্ত হয়নি বাংলাদেশ। তিনি বলেন, রাজধানী ঢাকায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যার কলঙ্ক বাংলাদেশের তখনই ঘুচবে যখন ‘আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে পারবো’। আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু যে ৫৫ বছর বেঁচেছিলেন তার সবটা সময়ই তিনি এই দেশটার জন্য দিয়ে গেছেন। আমরা যদি সোনার বাংলা গড়তে পারি তাহলেই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নপূরণ হবে।’আনিসুল হক আজ বুবধার রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হকের (দুলাল) বিদায় সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।দুলাল ছিলেন স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী একথা উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন,তিনি (দুলাল) কখনো বাংলাদেশের স্বার্থের ব্যাপারে আপোষ করেননি।আনিসুল হক বলেন, ‘আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী এবং বাঙালির মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি তার শ্রদ্ধা ছিল অগাধ। ভিন্ন মতের লোকজনকেও তিনি শ্রদ্ধা করতে কার্পণ্য দেখাননি এটাই ছিল তার বর্ণাঢ্য জীবনের বৈশিষ্ট।’যারা বাংলাদেশের অস্তিত্বেই বিশ্বাস করেননি, তাদের সাথে দুলাল ছাত্র জীবন থেকেই যুদ্ধ করে আজকের অবস্থানে এসেছেন উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, এখনো বাংলাদেশকে তার (দুলাল) দেয়ার অনেক কিছু আছে।এ অনুষ্ঠানে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক, বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি খোন্দকার মুসা খালেদ, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ শহিদুল হক, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল ড. মো. জাকির হোসেন, নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক খান মো. আব্দুল মান্নান প্রমুখ আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হকের বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবন নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন।

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ভূটানের রাষ্ট্রদূতের বিদায়ী সাক্ষাৎ

ঢাকা অফিস ॥ ঢাকায় নিযুক্ত ভূটানের রাষ্ট্রদূত সোনাম তোবদেন রাবগিয়ে আজ বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেছেন। রাষ্ট্রপতি হামিদ বৈঠকে দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য খুঁজে দেখা এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদীন বৈঠক শেষে বাসস’কে জানান, রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ ও ভূটানের ব্যবসায়ী এবং বিনিয়োগকারিদের মধ্যে সফর বিনিময়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।রাষ্ট্রপতি হামিদ বাংলাদেশ এবং ভূটানের মধ্যকার ঘনিষ্ট সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, দু’দেশের মধ্যকার সম্পর্ক অত্যন্ত চমৎকার। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সময়ে দু’দেশের মধ্যে এই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের শুভ সূচনা হয়।রাষ্ট্রপতি ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের পর একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতিদানকারী দেশ হিসেবে ভূটান সরকার এবং সেদেশের জনগনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।আবদুল হামিদ বলেন, বাংলাদেশ ও ভূটান বিদ্যুৎসহ কয়েকটি সেক্টরে উন্নয়নের জন্য একসঙ্গে কাজ করছে। তিনি সফল ভাবে দায়িত্ব পালন শেষ করায় ভূটানের রাষ্ট্রদূতকে ধন্যবাদ জানান।ভূটানের দূত বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে তার দেশটির দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে বিগত তিন বছরে এই সম্পর্ক আরো জোরদার হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ভূটানের দূত ঢাকায় তার দায়িত্ব পালনকালে সব ধরনের আন্তরিক সহযোগিতা পাওয়ায় রাষ্ট্রপতির প্রতি কৃতজ্ঞগতা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির সংশি¬ষ্ট সচিবগন উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপি এখনো নির্বাচন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতেই ঝুলে আছে – হাছান

ঢাকা অফিস ॥ তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বুধবার বলেছেন, বিএনপি’র রাজনীতি সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পরিবর্তে এখনো তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন ইস্যুর মধ্যেই ঝুলে আছে। বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৮৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবে বঙ্গবন্ধু সংস্কৃতিক জোট (বিএসজে) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষ এখন ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াই করছে ও মাত্র বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠছে। কিন্তু মানুষের এই দুর্দিনে বিএনপি তাদের পাশে না দাঁড়িয়ে নির্বাচনের জন্য রাজনীতি করছে।’বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের একটি দাবির জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর নির্ধারিত সময়েই পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।জোটের সভাপতি ও সাবেক আইনপ্রণেতা সারাহ বেগম কবরির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের ঢাকা দক্ষিণ শাখার সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম মুরাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক হেদায়েতুল ইসলাম স্বপন, আওয়ামী লীগ নেতা লিয়াকত আলী খান, কুতুব উদ্দিন চৌধুরী, এডভোকেট বলরাম পোদ্দার এবং জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার রানা।আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান বলেন, বাংলাদেশ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন পূরণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বিএনপি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে দেশের উন্নয়নকে স্বীকার করেনা।ড. হাছান মাহমুদ বলেন, গত ১০ বছরে আওয়ামী লীগ শাসনামলে দেশের সার্বিক দারিদ্রের হার ৪১ শতাংশ থেকে কমে ২০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ এখন একটি খাদ্য উদ্বৃত্তের দেশ। আমরা খাদ্য রপ্তানি করছি। কিন্তু এক শ্রেণীর মানুষ সব সময়ই দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকায় এই সাফল্য দেখতে পায় না।বিশ্ব নেতৃবৃন্দ গত ১০ বছরে বাংলাদেশের বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির প্রশংসা করায় মন্ত্রী বলেন, অনেক অর্থনৈতিক ও সামাজিক সূচকে বাংলাদেশ ভারত ও পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে যাবে।তিনি বলেন, গত দশ বছরে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়ে দুই হাজার মার্কিন ডলার হয়েছে। যা ২০০৫ সালে ছিলো মাত্র ছয়শ’ ডলার।বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে ড. হাছান বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর কঠিন সময়ে বঙ্গমাতার সাথে পরামর্শ করে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন। তিনি সবসময় বঙ্গবন্ধুকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করতেন।তিনি বলেন, “বঙ্গমাতা পুরো দেশকে তাঁর পরিবার হিসেবে বিবেচনা করতেন। যখন বঙ্গবন্ধু জেলে ছিলেন তখন তিনি তাঁর সংসারের পাশাপাশি দলও চালাতেন।” পরিকল্পনা মন্ত্রী মান্নান নতুন প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতার জীবন ও কর্ম সম্বন্ধে জানার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটি আদর্শ সমাজ গঠনে সহায়তা করবে।

মিরপুরের খাদিমপুর পঞ্চগ্রাম কিন্ডার গার্ডেন স্কুলে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ

নিয়ামুল হক ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার খাদিমপুর পঞ্চগ্রাম কিন্ডার গার্ডেন স্কুলে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে খাদিমপুর পঞ্চগ্রাম কিন্ডার গার্ডেন স্কুলের আয়োজনে এ পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে স্কুলের প্রধান শিক্ষক জেবুন আরার  সভাপতিত্বে  প্রধান অতিথির  বক্তব্য রাখেন, কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সংগ্রামী সাংগঠনিক  সম্পাদক ও মিরপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বিজয় আলী তুফান। এ সময় প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, একজন মধ্যবিত্ত বাবা-মা যখন তার সন্তানদের লেখাপড়া করে সন্তানকে মানুষ করার স্বপ্ন দেখে, অনেকেই অর্থাভাবে ভালো ফলাফল থাকা সত্বেও ঝরে যায় ৷ আমরা ওই সকল শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে কাজ করে যাচ্ছি ৷ কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগ, মিরপুর উপজেলা ছাত্রলীগ সব সময় এ সব ঝড়ে পড়া মেধাবী ছাত্র-ছাত্রী ও অসহায় গরীব শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবে। একটি শিশুও জেনো অর্থের অভাবে লেখাপড়া বন্ধ না হয় সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে, ভবিষ্যতেও করবে ছাত্রলীগ। অনুষ্ঠানে প্রধান উদ্বোধক হিসেবে ছিলেন বহলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদ আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শহিদুল ইসলাম সাইদুল। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আমিনুর রহমান সোনা, তালবাড়ীয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মানব ইসলাম, খাদিমপুর বাজার কমিটির সাবেক সভাপতি ডাঃ বিশু। এ সময়  এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের সার্বিক পরিচালনা করেন  বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা  মোছাঃ মলিনা ও জেসমিন খাতুন।

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সুষমার শেষকৃত্য

শেষ শ্রদ্ধায় কাঁদলেন মোদী

ঢাকা অফিস ॥ চিরবিদায়ে ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও অন্যতম জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ সুষমা স্বরাজ। তোপধ্বনি দিয়ে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার শেষকৃত্য হয়েছে। তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দিল্লির লোধি ঘাট শ্মশানে সুষমার শেষকৃত্যের সময় সেখানে স্বরাজ পরিবার ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদীসহ উপ-রাষ্ট্রপতি ভেঙ্কাইয়া নাইডু, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আডবানি, কংগ্রেসের রাজ্যসভার দলনেতা গুলাম নবি আজাদ-সহ অন্যান্যরা। তিন বছর আগে কিডনি প্রতিস্থাপনের পর থেকে অসুস্থতায় থাকা এই বিজেপি নেত্রী মঙ্গলবার মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। হার্ট অ্যাটাকে তার মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানান। বুধবার সকালে  বিজেপি’র এই নেত্রীকে সম্মান জানাতে তার বাসভবনে যান মোদী থেকে শুরু করে বহু বিশিষ্টজনেরা। সহকর্মীকে হারানো অপূরণীয় ক্ষতি। তাই শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এসে আবেগ সামলাতে পারেননি প্রধানমন্ত্রী। তার চোখের পাতা ভিজে ওঠার দৃশ্য ধরা পড়েছে ক্যামেরায়। মনমোহন সিংহ, সনিয়া গান্ধী এবং রাহুল গান্ধী-সহ বহু রাজনীতিবিদ পুষ্পস্তবক দিয়ে সুষমাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। পুষ্পস্তবক দিয়ে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও।  দেখা করেন সুষমা স্বরাজের স্বামী স্বরাজ কুশলের সঙ্গে। এ সময় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন দু’জনই। বেশ কিছুক্ষণ পরস্পরের হাত চেপে ধরে রাখেন তারা। প্রধানমন্ত্রী সুষমার মেয়েকে সমবেদনা জানান। ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, সুষমার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদীর রাজনৈতিক পথচলা দীর্ঘদিনের। মোদী আমলের প্রথম দফায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমার কর্মদক্ষতার প্রশংসা করেছেন সবাই। অতীতে বাজপেয়ী সরকারের তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রী সুষমা মোদী সরকারের প্রথম দফায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েই ঢেলে সাজান তার দফতরকে। তবে দ্বিতীয় দফায় আর আসেননি তিনি। সুষমা নিজে জানিয়েছিলেন, ক্রমে শারীরিক অসুবিধে বাড়তে থাকায় নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছেন তিনি। তবে সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপকে সার্বিক সমর্থন জানাতে কখনো ভোলেননি সুষমা। বুধবার বেলা ১২টা নাগাদ বাসভবন থেকে দীন দয়াল উপাধ্যায় রোডে বিজেপি’র সদর দফতরে নিয়ে যাওয়া হয় সুষমা স্বরাজের দেহ। মিছিল করে সঙ্গে যান বিজেপি সমর্থকরা। বিজেপি সদর দফতরে রাখা হয় সুষমার মরদেহ। সেখানে তাকে শ্রদ্ধা জানান দলের নেতা, কর্মীরা।

আমলায় ভিজিএফ’র চাউল বিতরণ

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে বিনামূল্যে গরীব ও দুস্থ্যদের মাঝে ভিজিএফ এর চাউল বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে আমলা ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে ইউনিয়ন পরিষদে এ চাউল বিতরণ করা হয়। প্রধান অতিথি হিসাবে এ চাউল বিতরণের শুভ উদ্বোধন করেন মিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক ও আমলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম মালিথা। এসময় উপস্থিত ছিলেন আমলা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সিদ্দিক আলী, ইউপি সদস্য হাসমত আলী, কামাল হোসেন, আব্দুল হান্নান, রমজান আলী, আমানউল্লাহ আমান, রাকাত আলী, সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য রানী খাতুন, নাজিরা খাতুন, রুমা খাতুন প্রমুখ। চাউল বিতরনের উদ্বোধনের আগে আমলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম মালিথা সম্প্রতি ছেলে ধরা গুজব এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক বক্তব্য রাখেন। সেই সাথে তিনি প্রত্যেকের বাড়ীর আঙ্গিনা পরিষ্কার পরিছন্ন রাখার আহব্বান জানান।

গাংনী পৌরসভায় ভিজিএফ’র চাল বিতরণ

গাংনী প্রতিনিধি ॥ পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে মেহেরপুরের গাংনী পৌরসভা এলাকার ৯টি ওয়ার্ডের ৩ হাজার ৮১ জন অসহায় দুঃস্থদের মাঝে  জনপ্রতি ১৫ কেজি করে ভিজিএফ চাল বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার সময় গাংনী পৌরসভার মেয়র আশরাফুল ইসলাম উপস্থিত থেকে ভিজিএফ চাল বিতরণের উদ্বোধন করেন। এসময় প্যানেল মেয়র মলিদা খাতুন, সাহিদুল ইসলাম, কাউন্সিলর আমিনুল ইসলাম আসাদ, এনামুল হক, পারভিনা আক্তার উপস্থিত ছিলেন। প্রকৃত অসহায় দুঃস্থদের মাঝে চাল সুষ্ঠুভাবে বিতরণের জন্য গাংনী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ট্যাগ অফিসার  হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, গাংনী উপজেলা জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ- সহকারী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আ.স.ম মাহফুজুর রহমান কল্লোল ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসার নাছিমা খাতুন ।

কালুখালীতে বয়স্ক বিধবা প্রতিবন্ধীদের ভাতাকার্ড ও অর্থ বিতরণ

ফজলুল হক ॥ গতকাল বুধবার রাজবাড়ী জেলাধীন কালুখালীতে বয়স্ক, প্রতিবন্ধী, বিধবা ও অন্যান্য ভাতা কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলা সমাজসেবা অফিসের আয়োজনে সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলিউজ্জামান চৌধুরী (টিটো) এর সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোঃ জিল্লুর রহমান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শেখ এনায়েত হোসেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আঃ খালেক মাস্টার, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সার্জেন্ট (অব) আকামত আলী মন্ডল, রতনদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মেহেদী হাচিনা পারভীন নিলুফা, মৃগী ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুজ্জামান সাগর মোল্লা প্রমূখ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আবুল বাশার চৌধুরীর সঞ্চালণায় উপজেলার ৫৮০ জন ভাতাভোগীদের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্ড বিতরণকালে সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলিউজ্জামান চৌধুরী (টিটো) বলেন, নিয়ম অনুযায়ী বয়স্কদের মাঝে পর্যায়ক্রমে উপজেলার সমস্ত বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ও বিধবা ও অন্যান্যদের মাঝে বর্তমান সরকারের এ কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং থাকবে। এসমস্ত কার্ড নিয়ে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অনিয়ম করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মানবিক কুষ্টিয়া সদর থানা ছাত্রলীগ দাঁড়িয়েছেন ডেঙ্গু রোগীদের পাশে

নিজ সংবাদ ॥ সারা দেশের মত কুষ্টিয়াতেও ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গু রোগী। ইতোমধ্যে প্রায় দু’শ ছাড়িয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন প্রায় অর্ধশতাধিক রোগী। তাদের চিকিৎসায় হিমশিম খাচ্ছেন হাসপাতালের চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্টরা। তবে এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে এগিয়ে এসেছেন ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ। কুষ্টিয়া সদর থানা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দাঁড়িয়েছেন ডেঙ্গু রোগীদের পাশে। চিকিৎসক সেবিকাদের সাথে একাট্টা হয়ে তাদের সেবায় তিনটি শিফটে ভাগ হয়ে কাজ করছেন তারা। ভর্তি থেকে শুরু করে ডেঙ্গু পরীক্ষা, ওষুধপত্র সরবরাহ থেকে শুরু করে সব রকম সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তারা। তবে নেপথ্যে কাজ করছেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা। মূলত: তার নির্দেশেই ছাত্রলীগ ডেঙ্গু রোগীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন সামর্থহীন রোগীদের আর্থিক সহায়তা, ওষুধ সরবরাহ থেকে সবরকম সহযোগিতা করছেন আতাউর রহমান আতা।  এবিষয়ে সদর থানা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক আনিছুর রহমান আনিস জানান মূলত: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফ এবং সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতার নির্দেশেই ডেঙ্গু রোগীদের পাশে দাঁড়ানো। যতদিন না কুষ্টিয়া থেকে ডেঙ্গু নির্মুল হচ্ছে ততদিন আমরা রোগীদের পাশে দাঁড়াবো। তবে রোগীদের পাশে দাঁড়াতে পেরে আমরা ধন্য মনে করছি। সেই সাথে এই সুযোগ করে দেয়ায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, কুষ্টিয়ার কৃতি সন্তান মাহবুবউল আলম হানিফ ও সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

সদর থানা ছাত্রলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক জয়নাল আবেদিন জানান অসহায় রোগীদের পাশে দাঁড়ানো সবার নৈতিক দায়িত্ব। এই দায়িত্ববোধ আমাদেরকে শিখিয়েছেন আমাদের নেতা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফ ও সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা। তাঁদের নির্দেশেই আমরা কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগীদের পাশে দাঁড়িয়েছি। ডেঙ্গু নির্মুল না হওয়া পর্যন্ত আমরা তাদের পাশে দাঁড়াতে চাই। আমরা যারা এই সেবায় নিয়োজিত রয়েছি তারা সবাই নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথেই দায়িত্ব পালন করছি। রোগীদের ভর্তি থেকে শুরু করে সব রকম সেবা দিয়ে যাচ্ছি।

এবিষয়ে ডেঙ্গু রোগীদের তত্ত্বাবধানে থাকা চিকিৎসক মুসা কবীর জানান কুষ্টিয়া সদর থানা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসারত ডেঙ্গু রোগীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন এটি অত্যন্ত খুঁশির বিষয়। হাসপাতালের চিকিৎসক ও সেবিকাদের পাশাপাশি সেবার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন তারাও। এধরণের কর্মকান্ডকে সকলেই সাধুবাদ জানাচ্ছেন।  মানবিক এই কাজে সহযোগিতা করছেন,যুগ্ম আহ্বায়ক সজিবুল ইসলাম, শাহীন, আবীর হোসেন আমান প্রমুখ।

কুষ্টিয়ায় বিএনপির কার্যালয়ে পুলিশের অভিযান, ডেঙ্গু জ্বরের সচেনতামূলক লিফলেট জব্দ

একযোগে কুষ্টিয়া জেলা কার্যালয় কুমারখালী ও খোকসা বিএনপির কার্যালয়ে পুলিশের অভিযান চালিয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুর ৩টায় হঠাৎ করে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে ডিবি পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। এসময় তারা বিএনপির কেন্দ্রিয় কার্যালয় থেকে পাঠানো ডেঙ্গু জ্বরের সচেনতামূলক লিফলেট জব্দ করে। এর পরেই একই ভাবে খোকসা ও কুমারখালী থানা বিএনপির কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে ডেঙ্গু জ্বরের সচেনতামূলক লিফলেট জব্দ করে। এদিকে এ ঘটনায় জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানান বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন। নেতৃদ্বয় বলেন, অতিতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করে ডেঙ্গু মহামারি আকার ধারণ করেছে। হাসপাতাল গুলোতে এখন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীতে পরিপূর্ণ। এ অবস্থায় কেন্দ্রিয় বিএনপির পক্ষ থেকে প্রতিটি জেলায় জেলায়  ডেঙ্গু জ্বরের সচেনতামূলক লিফলেট পাঠানো হয়। কিন্তু কুষ্টিয়ার পুলিশ সম্পূর্ন অন্যায় ও ন্যাক্কারজনকভাবে কুষ্টিয়া জেলা কার্যালয় কুমারখালী ও খোকসা বিএনপির কার্যালয়ে পুলিশের অভিযান চালিয়ে সচেতনতামূলক এসব লিফলেট নিয়ে যায়। বাংলাদেশের কোথাও এমন ঘটনা না ঘটলেও কুষ্টিয়ার পুলিশ এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটায়। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

দৌলতপুর সীমান্তে ৪৫ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে ৪৫ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামকৃষ্ণপুর বিওপি’র টহল দল মোহাম্মদপুর মাঠে অভিযান চালিয়ে ৩০ বোতল ভারতীয় জেডি মদ উদ্ধার করেছে। অপরদিকে গতকাল ভোররাতে ধর্মদহ বিওপি’র টহল দল ধর্মদহ মাঠে অভিযান চালিয়ে ১৫বোতল ভারতীয় বেঙ্গল টাইগার মদ উদ্ধার করেছে। তবে উদ্ধার হওয়া মাদকের সাথে জড়িত কেউ আটক হয়নি।

কুমারখালীতে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর কর্মসূচী বাস্তবায়নে সমস্যা ও উত্তরণ শীর্ষক সেমিনার

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর বিভিন্ন কর্মসূচী বাস্তবায়নে সমস্যা ও সমস্যা উত্তরণ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। কুমারখালী উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের আয়োজনে গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীবুল ইসলাম খান। আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ- পরিচালক রোকসানা পারভীন। জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক মুহাম্মদ মুরাদ হোসেন সেমিনার পেপার উপস্থাপন করেন। এ সময় উপজেলা সামজসেবা অফিসার মোহাম্মদ আলী উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারে সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। সেমিনারে জানানো হয়, কুমারখালী উপজেলা সমাজসেবা অফিস কর্তৃক পরিচালিত সমাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর আওতায় সুবিধা  ভোগীর সংখ্যা বয়স্কভাত ৯৫৬০ জন, বিধবা ও স্বামী নি:গৃহীতা ভাতা ৩৯৯৬ জন, প্রতিবন্ধী ভাতা ২৭৭৪ জন, হিজড়া ভাতা ১ জন, দলিত, বেদে, হরিজন ভাতা ৪৫ জন, প্রতিবন্ধী শিক্ষা উপবৃত্তি ১৭৬ জন, হিজড়া শিক্ষা উপবৃত্তি ১ জন, দলিত, বেদে, হরিজন শিক্ষা উপবৃত্তি ২৭ জন, বেসরকারি এতিমখানায় ক্যাপিটেশন গ্র্যান্টস ৪৫ জন। ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে সুবিধাভোগীর সংখ্যা ১৬৬২৫ জন এবং বিতরণকৃত অর্থের পরিমান ১০ কোটি ৭৩ লক্ষ টাকা।

দৌলতপুর মাদক, জঙ্গীবাদ, দুর্নীতি, গুজব ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা মূলক আলোচনা সভা

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর মাদক, জঙ্গীবাদ, দুর্নীতি, গুজব ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা মূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল ১০টায় মহিষকুন্ডি হাইস্কুল মিলনায়তনে সচেতনতা মূলক এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। মহিষকুন্ডি হাইস্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি শহিদুল ইসলাম হালসানার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন, দৌলতপুর থানার ওসি মো. আজম খান। উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, দৌলতপুর দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক ডেপুট কমান্ডার আলহাজ¦ নজরুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কুদ্দুস, জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন মাষ্টার, জেলা পরিষদের সদস্য আব্দুল্লাহেল বাকী, মহিষকুন্ডি হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক আরিফুল ইসলাম, সাবেক প্রধান শিক্ষক নাজিম উদ্দিন, সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম ও আশফুল ইসলামসহ স্থানীয় সুধীজন। সভায় প্রধান আলোচক দৌলতপুর থানার ওসি মো. আজম খান মাদক, জঙ্গীবাদ, দুর্নীতি, গুজব ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা মূলক গুরুত্বপূর্ন বক্তব্য রাখেন। আলোচনা সভায় স্কুলের শিক্ষার্থী ছাড়াও এলাকার সর্বশ্রেণী পেশার মানুষ অংশ নেয়।

ডেঙ্গু রোগীদের পাশে দাঁড়ালেন অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন

নিজ সংবাদ ॥  কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক সাবেক সাংসদ অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাদের হাতে তুলেদেন মশারী। তাদের চিকিৎসার বিষয়েও কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের সাথে কথা বলেন। এসময় ডেঙ্গু রোগীদের পাশে দাঁড়াতে দলমত নির্বিশেষে সকলের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি। তিনি জানান ডেঙ্গু বর্তমান সময়ে ভয়াবহ আকার ধারন করেছে। ক্রমশ: আরো বাড়তে শুরু করেছে রোগীর সংখ্যা। এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে সকলকে। পরে ডেঙ্গু ওয়ার্ডে রোগীদের জন্য বেশ কিছু মশারী তুলে দেন।  এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতিসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

কাশ্মির ইস্যু পর্যবেক্ষণ করছে সরকার – ওবায়দুল কাদের

ঢাকা অফিস ॥ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ভারতের কাশ্মীর ইস্যু পর্যবেক্ষণ করছে বাংলাদেশ সরকার। বুধবার মিরপুর মাজার রোডে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ আয়োজিত চলমান পরিচ্ছন্নতা অভিযান কার্যক্রমের শুরুতে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।ডেঙ্গু মোকাবেলায় জনগণকে সচেতন করতে ‘পরিষ্কার রাখি চারপাশের পরিবেশ, শেখ হাসিনার নির্দেশ ডেঙ্গুমুক্ত বাংলাদেশ’ শিরোনামে এই কর্মসূচি পালন করছে আওয়ামী লীগ।আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘এ বিষয়টি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। অন্য কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আমাদের কোনো প্রকার মন্তব্য বা কোনো প্রকার প্রশ্ন করার এখতিয়ার নেই। তবে প্রতিবেশী হিসেবে আমরা পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতে সুদীর্ঘ ৭০ বছর পর তাদের সংবিধান থেকে কাশ্মীর নিয়ে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলুপ্ত করেছে। ভারত তাদের নিজেদের পার্লামেন্টে জনপ্রতিনিধিরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এটা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়।’