দৌলতপুর সীমান্তে ভারতীয় মদ উদ্ধার

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে ২৯ বোতল ভারতীয় বেঙ্গল টাইগার মদ উদ্ধার হয়েছে। সোমবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে উপজেলার জয়পুর বিওপি’র টহল দল মহিষকুন্ডি মাঠপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২৯বোতল ভারতীয় বেঙ্গল টাইগার মদ উদ্ধার করেছে। তবে উদ্ধার হওয়া মাদকের সাথে জড়িত কেউ আটক হয়নি।

সারাদেশে ডেঙ্গুতে আরও ৭ জনের মৃত্যু

ঢাকা অফিস ॥ দেশের হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগী ভর্তির সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে। সোমবার রাত থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অন্তত সাত জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে ঢাকায় দুই নারী ও এক পুরুষ, দিনাজপুরে এক কিশোর এবং রংপুর ও চাঁদপুরে একজন করে শিশু রয়েছে। ঢাকা : ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চিকিৎসাধীন তিন জনের মৃত্যু হয়েছে বলে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন। এরা হলেন- ফরিদপুরের মোহাম্মদ কালামের ছেলে হাবিবুর রহমান (২১), মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার তেতুয়াধারা গ্রামের কৃষক আমজাদ মন্ডল (৫২) ও চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের আহমেদপুরের বাসিন্দা মনোয়ারা বেগম (৭২)। নাসির উদ্দিন বলেন, হাবিবুর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ৩১ জুলাই ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি হন। মঙ্গলবার বেলা ২টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তিনি বলেন, আমজাদ মন্ডলকে সোমবার মধ্যরাতে হাসপাতালে আনা হয়। মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৬টায় তার মৃত্যু হয়। বৃদ্ধা মনোয়ারা বেগম ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ৩ আগস্ট থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন। মঙ্গলবার ভোর ৪টায় তার মৃত্যু হয় বলে সহকারী পরিচালক জানান। এদিকে স্বামী-সন্তান নিয়ে দেশে বেড়াতে এসে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে মারা যান ইতালি প্রবাসী হাফসা লিপি (৩৪)।হাসপাতালের পরিচালক জসিমউদ্দিন খান জানান, ওই নারী চার দিন ধরে সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন। আইসিইউতে থাকা অবস্থায় সোমবার রাতে তার মৃত্যু হয়।হাফসার স্বামী সর্দার আব্দুল সাত্তার তরুণ (৩৬) নিজেও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। দুই সন্তান অলি (১২) ও আয়ানকে (৬) নিয়ে সপ্তাহ তিনেক আগে দেশে এসে কলাবাগানে উঠেছিলেন তারা। তাদের বাড়ি শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ থানার সর্দার বাড়ি। দিনাজপুর : দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।রবিউল ইসলাম (১৭) ঠাকুরগাঁও জেলার রানীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ গ্রামের নয়ন ইসলামের ছেলে।গতকাল মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয় বলে হাসপাতালের পরিচালক ডা. আবু মোহাম্মদ খয়রুল ইসলাম জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৩০ জুন থেকে রবিউল এ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।“এই প্রথম জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত কোনো রোগীর মুত্যু হলো। আরও ৪৩ জন এ রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।রংপুর : ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে সোমবার রাতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিন বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।মৃত রিহানা গাইবান্ধার পলাশবাড়ি উপজেলার আশরাফুল ইসলামের মেয়ে।হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকরী অধ্যাপক সাহেদুজ্জামান রিবেল বলেন, ডেঙ্গু জ্বরসহ শিশুটিকে শনিবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সঙ্গে নিউমোনিয়াও ছিল।চাঁদপুর : গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার ধানমন্ডির বেসরকারি একটি হাসপাতালে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।মদিনা আক্তার নামে ওই শিশু মতলব উত্তর উপজেলার ঘনিয়ারপাড় অক্সফোর্ড কিন্ডারগার্টেনের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা মিজানুর রহমান মধ্যপ্রাচ্যে থাকেন। দুই ভাই-বোনের মধ্যে মদিনা বড়।ধানমন্ডি জেনারেল অ্যান্ড কিডনি হাসপাতালে ভোররাতে তার মৃত্যু হয় বলে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জানান।চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আনোয়ারুল আজিম জানান, শনিবার ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত শিশুটিকে হাসপাতালে আনা হয়। এখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় নিয়ে যান স্বজনরা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মোট ২ হাজার ৬৫ জন ডেঙ্গু নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে গেছেন। চলতি বছর এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ২৭ হাজার ৪৩৭ জন।

বিশকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৭৮তম মহাপ্রয়াণ দিবস উপলক্ষে কুষ্টিয়া পৌরসভার আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র আনোয়ার আলী বলেন, আগষ্ট মাস শোকের মাস। এই মাসের ১৫ই আগষ্ট বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করা হয়েছিল। আমি তাঁর ও তাঁর পরিবারে নিহত সকল সদস্যদের বিদেহী আতœার মাকফেরাত কামনা করি। এই মাসে অনেক বাঙ্গালী গুণী ও জ্ঞানী মানুষও মৃত্যুবরণ করেছেন। তাঁর মধ্যে একজন বিশ^ কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।  তাঁর লেখা শাওন গগনে ঘোর ঘনঘটা। এমন অনেক গান, কবিতা আমাদের মনে গহীনে স্পর্শ করে। কবি প্রয়াণে আমরা ব্যাথাহত। তাঁর এই চলে যাওয়াকে স্মরণ করি চোখের জলে আর হৃদয়ের বৈভবে।  তিনি আরো বলেন, বিশ^ কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৭৮তম  চিরপ্রয়াণে আমরা বেদনাহত তাইতো তোমাকে স্মরণ করি প্রতি বছর ২২শে শ্রাবণের প্রথম প্রহরে। তিনি আরোও বলেন, তাঁর লেখা গল্প, কবিতা আর গান সবই মানুষের কল্যানের জন্য। আমাদের জীবনের সাথে জড়িয়ে আছে তাঁর প্রতিটি গান তাঁর লেখা কাব্য। প্রতিবছরের ন্যায় এবারের আয়োজনে কুষ্টিয়া পৌরসভার আয়োজনে কবির প্রয়াণ দিবসে সভাপতির বক্তব্যে মেয়র এসব কথা বলেন।  স্মারক বক্তব্যে  বিশিষ্ট কবি, গবেষক ও প্রাবন্ধিক বিলু কবির বলেন,  আমি প্রথমত কৃতজ্ঞতা জানাই  কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র আনোয়ার আলী’র প্রতি। কারন তিনি আমাকে এই সুন্দর অনুষ্ঠানে আমন্ত্রন করে কিছু বলার সুযোগ করে দিয়েছেন।  বিশ^ কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বহুগুণে গুনান্নিত এক অনন্য ব্যক্তির অধিকারী ছিলেন। কবি সম্পর্কে বলতে গেলে শেষ হবার নয়। আমাদের দেশে কৃষকদের জন্য কৃষি ব্যাংক প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তার অবদান। কারন ১৯১৩ সালে তিনি নোবেল পুরষ্কার পান। সেই নোবেল পুরষ্কারের  টাকা  দিয়ে কৃষকদের কল্যানে জন্য তৎকালীন সময়ে ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। শুধু তাই নয় আমাদের দেশের জাতীয় সংগীত তাঁরই লেখা । রবীন্দ্রনাথ শুধু কবি, সাহিত্যিক ও দার্শনিকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন সমাজ কর্মী, সমাজ সংস্কারক।

সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্যানেল মেয়র- মতিয়ার রহমান মজনু। এসময় উপস্থিত ছিলেন কাউন্সিলর পিয়ার আলী জোমারত, হেলাল উদ্দিন, পৌরসভা নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম, সচিব কামাল উদ্দিন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বিভাগের প্রফেসর ড. সরওয়ার মূর্শেদ রতন, আবৃত্তিকার আলম আরা জুঁই সহ পৌরসভা ও পৌরসভা পরিচালিত বিভিন্ন প্রকল্পের কর্মকর্তা ও কর্মচারী সহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। আলোচনা সভা শেষে ভারতীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।  অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন  ও কবিতা আবৃত্তি করেন ভারত থেকে আগত শ্রীমতী  ঝিমলী চক্রবর্তী তৃণা, শ্রীমতী ছন্দা বন্দোপাধ্যায়, শ্রী সৌমিত্র বন্দ্যোপাধ্যায়, শ্রীমতী শীলা মৈত্র, শ্রী শুভাশিদ মৈত্র, শ্রীমতী বন্দন গুহ, শ্রী মলিনকান্তি গুহ, শ্রীমতী মৌ গুহ, শ্রীমতী বিশাখা দে প্রমুখ।

কুষ্টিয়া পৌর শিল্পী গোষ্ঠির পরিবেশনায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। উদ্বোধনী গান পরিবেশন করেন জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার ক্ষুদে শিল্পীবৃন্দ। সকালে কুষ্টিয়া মিলপাড়াস্থ কুঠিবাড়িতে (টেগর লজ) অবস্থিত কবিগুরুর আবক্ষমূর্তিতে ফুলের মালা ও প্রদ্বীপ প্রজ্জ্বলন করেন কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র আনোয়ার আলী। আলোচনা সভা পরিচালনা করেন কুষ্টিয়া পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী সাবিনা ইসলাম।  সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন  ভারত থেকে আগত সাংস্কৃতি ব্যক্তিত্ব বরুন চক্রবতী। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

 

কুষ্টিয়ায় অর্থমন্ত্রীর মেয়ের নাম ভাঙিয়ে ফেসবুকে প্রতারণা, যুবক গ্রেপ্তার

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া শহরের এক ব্যবসায়ীকে ফেসবুকে প্রতারণার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে শহরের বড়বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া মডেল থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত আশিকুল ইসলাম (২৭) কুষ্টিয়া মিরপুর উপজেলার রানাখড়িয়া এলাকার আবদুস সাত্তারের ছেলে। আজ বুধবার তাকে কুষ্টিয়া আদালতে নেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আশিকুল ইসলাম উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে। আশিকুলের চাচাতো চাচা তালবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান। আশিক তার চাচার বালুমহালে চাকরি করে। কুষ্টিয়া শহরের কুঠিপাড়ার সিরাজুল ইসলামের মেয়ে ফারহানা ফারদিন পপিকে দুই বছর আগে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে আশিক বিভিন্ন সময়ে মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছিল।

সম্প্রতি সময়ে আশিক তার মোবাই ফোনে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আ হ ম  মোস্তফা কামাল মেয়ে নাফিসা কামালের নামে একটি ফেসবুক আইডি খোলেন। ওই আইডি থেকে কুষ্টিয়া শহরের অন্যতম ব্যবসায়ী অজয় সুরেকার সাথে বন্ধু হয়। ব্যবসী অজয় সুরেকাকে রূপপুর পারমানবিক কেন্দ্রে একটি ঠিকাদারী কাজ দেবার কথা বলে সখ্যতা গড়ে তোলে। এনিয়ে বিভিন্ন সময়ে নাফিসা কামাল নামে খোলা ভুয়া ফেসবুক থেকে ম্যাসেন্জারে অজয় সুরেকার সাথে কথা বলে। গত ১ আগষ্ট থেকে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত ফেসবুক ম্যাসেন্জারে আলাপচারিতায় রূপপুরে কাজ দেবার কথা বলা হয়। এমনকি আশিকের সাথে সব সময় যোগাযোগ এবং তাকে সহযোগিতার কথা বল।

কয়েকদিন আগে আশিক কয়েকটি মোটরসাইকেল লাগবে বলে অজয় সুরেকাকে জানায়। এবং আশিক তার স্ত্রীকে নাফিসা কামাল সাজিয়ে  ফেসবুক ম্যাসেন্জার ও মোবাইলফোনে কথা বলিয়ে দেয়। বিষয়টি অজয় সুরেকার সন্দেহ হলে পুলিশকে জানান।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে আশিক নিজে শহরের বড়বাজার এলাকায় অজয় সুরেকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যায়। সেখানে যাবার পর অজয় সুরেকা কৌশলে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে আশিককে গ্রেপ্তার করে থানায় নেয়।

থানায় আশিক সাংবাদিকদের বলেন, অর্থমন্ত্রীর সাথে তার কোন এক সময় দেখা হয়েছিল। তবে কোন সম্পর্ক নাই। তার মেয়ের সাথেও কোনদিন দেখা হয়নি। ফেসবুকে প্রতারণা করার বিষয়টি স্বীকার করেন তিনি।

পুলিশ জানায়, আশিক তার ফেসবুকে এবং নাফিসা কামালের ভুয়া আইডিতে দেশের বড় বড় ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদদের ছবি দিয়ে থাকে। যাতে যেকেউ সহজে তাকে বিশ্বাস করতে পারে। কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

কুষ্টিয়ায় এডিস মশা নিধনে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানে জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ময়লা আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া জেলাব্যাপি মশক নিধন ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গনে এর কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেনের নেতৃত্বে কালেক্টরেট চত্বর হতে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালী বের হয়। পরে কোর্ট চত্বরে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়। জেলা প্রশাসক সহ উপস্থিত অতিথি ও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা জেলা প্রশাসকের দপ্তরের  আঙ্গিনায় আগাছা কেটে পরিচ্ছনা অভিযান ও ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশক নিধন কার্যক্রমে অংশ গ্রহণ করেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাত, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি হাজী রবিউল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ আজাদ জাহান, স্থানীয় সকারের উপ-পরিচালক মৃনাল কান্তি দে, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট লৎফুন নাহার, কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক আনিসুজ্জামান ডাবলু, এনডিসি এ.বি.এম. আরিফুল ইসলামসহ সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ অংগ্রহণ করেন। এরপর জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন জিলা স্কুলসহ জেলাব্যাপি মশক নিধন ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন ডেঙ্গু প্রতিরোধে ময়লা আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার আহবান জানান।

ইংল্যান্ডকে গুঁড়িয়ে এজবাস্টন টেস্ট জিতল অস্ট্রেলিয়া

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ টেস্ট ক্রিকেট তার সব রঙ নিয়ে যেন হাজির হয়েছিল এজবাস্টনে। প্রথম দিন ১২২ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা অস্ট্রেলিয়াই প্রথম টেস্ট জিতে নিল দাপটের সঙ্গে। শেষ দিন ইংল্যান্ডকে গুঁড়িয়ে দিয়ে অ্যাশেজ টেস্ট সিরিজে সফরকারীদের এগিয়ে নিলেন অফ স্পিনার ন্যাথান লায়ন ও পেসার প্যাট কামিন্স। বার্মিংহ্যামে ২৫১ রানে জিতেছে টিম পেইনের দল। ৩৯৮ রান তাড়ায় পঞ্চম ও শেষ দিনে ১৪৬ রানে থেমে যায় ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংস। ১৮ বছরের মধ্যে এই ভেন্যুতে প্রথমবারের মতো কোনো টেস্ট জিতল অস্ট্রেলিয়া। ২০০৫ সালের পর প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডে জিতল অ্যাশেজ সিরিজের প্রথম টেস্ট। পাঁচ ম্যাচের অ্যাশেজ সিরিজের প্রথম টেস্টটি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধনী ম্যাচও ছিল। দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করে এই টুর্নামেন্টে অস্ট্রেলিয়ার শুভ সূচনার নায়ক স্টিভেন স্মিথ। প্রথম ইনিংসে বিপর্যয়ের সময় নেমে ১৪৪ রান করে দলকে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনশ রানের কাছে। দ্বিতীয় ইনিংসে এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানের ১৪২ রানের ওপর ভর করে ইংল্যান্ডকে ৩৯৮ রানের ভীষণ কঠিন লক্ষ্য দিয়েছিল সফরকারীরা। জয়ের জন্য সোমবার ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল ৩৮৫ রান। ম্যাচ বাঁচাতে কাটিয়ে দিতে হতো দিনটি। বিনা উইকেটে ১৩ রান নিয়ে দিন শুরু করা স্বাগতিকরা দ্বিতীয় ওভারেই হারায় প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান ররি বার্নসকে। কামিন্সের বলে গালিতে ক্যাচ নেন লায়ন। এরপর নিজেদের সেরা জুটিটা পায় ইংল্যান্ড। জেসন রয় ও জো রুটের ব্যাটে ধীরে ধীরে এগোতে থাকে স্বাগতিকরা। লায়নের বলে বাজে শটে রয় বোল্ড হলে ভাঙে ইংল্যান্ডের প্রতিরোধ। এরপর আর তেমন কোনো জুটি গড়তে পারেনি তারা। পঞ্চম দিনের উইকেটে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা লায়নকে সামলানোর পথ যেন জানা ছিল না ইংল্যান্ডের। জো ডেনলিকে ফেরানোর পর অভিজ্ঞ স্পিনার বিদায় করেন ইংলিশ অধিনায়ক রুটকে। লায়ন-কামিন্সের সামনে টিকতে পারেনি স্বাগতিকদের মিডল অর্ডার। এক পর্যায়ে ৩৭ রানের মধ্যে হারায় ৬ উইকেট। শেষ সাত ব্যাটসম্যানের মধ্যে দুই অঙ্কে যান কেবল ক্রিস ওকস। ৭ চারে ৩৭ রান করা এই অলরাউন্ডারকে ফিরিয়ে ইংল্যান্ডকে গুটিয়ে দেওয়া কামিন্স ৩২ রানে নেন ৪ উইকেট। ৪৯ রানে ৬ উইকেট নেওয়ার পথে অস্ট্রেলিয়ার চতুর্থ বোলার হিসেবে এবং ক্রিকেট বিশ্বের তৃতীয় অফ স্পিনার হিসেবে টেস্টে সাড়ে তিনশ উইকেট নেন লায়ন। ১৪ আগস্ট লর্ডসে শুরু হবে দ্বিতীয় টেস্ট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস: ২৮৪, ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৩৭৪, অস্ট্রেলিয়া ২য় ইনিংস: ৪৮৭/৭ ইনিংস ঘোষণা। ইংল্যান্ড ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ৩৯৮) (আগের দিন শেষে ১৩/০) ৫২.৩ ওভারে ১৪৬  (বার্নস ১১, রয় ২৮, রুট ২৮, ডেনলি ১১, বাটলার ১, স্টোকস ৬, বেয়ারস্টো ৬, মইন ৪, ওকস ৩৭, ব্রড ০, অ্যান্ডারসন ৪*; সিডল ১২-২-২৮-০, লায়ন ২০-৫-৪৯-৬, প্যাটিনসন ৮-১-২৯-০, কামিন্স ১১.৩-৩-৩২-৪, স্মিথ ১-১-০-০)

ফল: অস্ট্রেলিয়া ২৫১ রানে জয়ী। ম্যান অব দা ম্যাচ: স্টিভেন স্মিথ।

ঈদ আনন্দমেলার উপস্থাপক পপি ও ফেরদৌস

বিনোদন বাজার ॥ ঈদ উপলক্ষে নির্মিত হয় বিটিভির বিশেষ ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান আনন্দমেলা। এবারের আনন্দমেলা উপস্থাপনা করেছেন চিত্রনায়িকা সাদিকা পারভীন পপি ও চিত্রনায়ক ফেরদৌস।

সম্প্রতি বিটিভির নিজস্ব স্টুডিওতে অনুষ্ঠানটি ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে একই অনুষ্ঠান ফেরদৌস উপস্থাপনা করলেও পপির জন্য এটাই প্রথম। শুধু আনন্দমেলাই নয়, এর মাধ্যমে ক্যারিয়ারে প্রথমবার উপস্থাপনা করলেন পপি। স্বভাবতই অনুষ্ঠানটি নিয়ে তিনি যারপরনাই উচ্ছ্বসিত।

কেমন লেগেছে প্রথম উপস্থাপনা, জানতে চাইলে পপি বলেন, ‘কিছুটা টেনশন তো ছিলই। তবে ভয় ছিল না। কারণ ক্যামেরার সামনে এতবেশি কাজ করেছি, তাই ভয় পাওয়ার মতো কিছু ছিল না।

টেনশন ছিল, এতদিন যেসব কাজ করেছি সেগুলো ডাবিং কিংবা স্কিপ্টিং ছিল। উপস্থাপনায়ও অবশ্য স্ক্রিপ্ট থাকে। কিন্তু সেখানে নিজের মেধা খাটিয়ে কিছু বলতে হয়। অবশেষে সেটা করতে পেরেছি। বেশ ভালো লাগছে। আনন্দমেলা বিটিভির জনপ্রিয় একটি অনুষ্ঠান। আশা করি দর্শকরা দেখে আনন্দ পাবেন।’

উপস্থাপনায় নিয়মিত হবেন কী না, এমন প্রশ্নের উত্তরে পপি বলেন, ‘প্রথমবার কাজ করে তো ভালোই লেগেছে। ভালো কিছু হলে অবশ্যই করব। তবে আগে আমার অভিনয়। সেটাকেই প্রাধান্য দিতে চাই। এরপর অন্যকিছু।’ এদিকে ফেরদৌসও এবারের অনুষ্ঠানটি করে তৃপ্ত বলে জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ নিয়ে যা বললেন ‘সারেগামাপা’ চ্যাম্পিয়ন অঙ্কিতা

বিনোদন বাজার ॥ জি-বাংলার সংগীতবিষয়ক রিয়েলিটি শো ‘সারেগামাপা-২০১৯’ এর মুকুট উঠেছে অঙ্কিতা ভট্টাচার্যের মাথায়।আসরের শুরু থেকেই সুরের মায়াজালে আটকে রেখেছিলেন শোয়ের বিচারক ও দর্শক-শ্রোতাদের।খুব সাধারণ ঘরের ষোড়শীকন্যা অঙ্কিতা। তবে সারেগামাপায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর থেকেই বদলে গেছে অঙ্কিতার চেনা পৃথিবী। রাতারাতি তারকাখ্যাতি পেয়েছেন। তাকে দেখতে ও অভিনন্দন জানাতে ভিড় জমাচ্ছেন ভক্তরা।ভারতীয়রা তো বটেই বাংলাদেশ থেকেও তাকে দেখতে অনেকে তার বাড়িতে আসছেন। বাংলাদেশের এক গণমাধ্যমকে এমনটিই জানালেন এবারের ‘সারেগামাপা’ চ্যাম্পিয়ন। বাংলাদেশের কথা উঠতেই চোখ চকচক করে ওঠে অঙ্কিতার। অনেকটা আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠেন। তার গলায় শেকড়ের টান অনুভূত হয়। আর তা হবারই। তিনি জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে যে বড় এক বন্ধন জুড়ে আছে তার। ভারতের উত্তর ২৪ পরগনার গোবরডাঙার শ্রীপুর গ্রামে জন্ম অঙ্কিতার। সেখানে ইছাপুর হাইস্কুলে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ছেন। অঙ্কিতা জানান, ‘উত্তর ২৪ পরগনায় আমার জন্ম হলেও আমার পূর্বপুরুষ এসেছেন বাংলাদেশের সাতক্ষীরার কলারোয়া থেকে। আমার দাদা একজন বাংলাদেশি। সে কথা তাদের জানা বলেই হয়তো আমার প্রতি আলাদা টান অনুভব করেছেন বাংলাদেশিরা। তাই কাঁটাতার পেরিয়ে ফুলের তোড়া হাতে আমাকে দেখতে শ্রীপুরে এসেছেন অনেক বাংলাদেশি। আমি এতে অবাক ও আনন্দিত।’ তিনি যোগ করেন, ‘এসব বাংলাদেশির কেউ আমার পরিচিত নয়, বন্ধুও নয়; তারা আমার শুভাকাক্সক্ষী। শেকড়ের সম্পর্কেই তারা আমাকে দেখতে এসেছেন, সংবর্ধনা দিয়েছেন। আমি এতে কৃতজ্ঞ। তাদের ভালোবাসা পাওয়া আমার জন্য গর্বের।’বাংলাদেশিভক্তদের নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এভাবেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন অঙ্কিতা। বলতে শুরু করেন তার আদি নিবাসে যাওয়ার ব্যাকুলতার কথা।তিনি বলেন, ‘বাবার মুখে সাতক্ষীরার গল্প শুনে শুনে বড় হয়েছি। একটা স্বপ্নও বুনেছিলাম আমি। পাসপোর্ট হাতে পেলেই দাদার বাড়ি বাংলাদেশে আসব।’সে স্বপ্নের কিছুটা পূরণও হয়েছে অঙ্কিতার। কয়েক মাস আগে একটি কনসার্টে অংশ নিতে ফরিদপুরে এসেছিলেন তিনি।এ বিষয়ে অঙ্কিতা বলেন, ‘প্রথম পা রেখেছিলাম দাদার ভিটেমাটির দেশে। নেমেই বাংলাদেশকে প্রণাম করেছি। সেই সময় অদ্ভুত এক অনুভূতি হচ্ছিল শরীরে। বিষয়টি ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।’সারেগামাপার মুকুট জয়ের পর বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রের গানে প্লেব্যাকের প্রস্তাব পেয়েছেন অঙ্কিতা।ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রের গানে প্লেব্যাকের প্রস্তাব পাওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি প্লেব্যাক সিঙ্গার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। আর বাংলাদেশের চলচ্চিত্রেও গান করতে চাই।’তিনি জানান, ‘সুযোগ পেলেই বাংলাদেশে বারবার আসব। সেখানে বিভিন্ন কনসার্টে যোগদান করতে আমি বেশ আগ্রহী।’

ছোট ভাইয়ের পরিচালনায় বড় ভাই

বিনোদন বাজার ॥ আসন্ন ঈদে মুক্তি পেতে যাচ্ছে চলচ্চিত্র ‘মনের মতো মানুষ পাইলাম না’। শাকিব ও বুবলী জুটির এই সিনেমার সংগীত পরিচালনা করেছেন সংগীতশিল্পী, গীতিকার ও সংগীত পরিচালক শফিক তুহিন। টাইটেল গানটি গেয়েছেন জাহাঙ্গীর সাঈদ।গানটি প্রসঙ্গে তুহিন বলেন, ‘আমার বড় ভাই জাহাঙ্গীর সাঈদ। এক সময় নিয়মিত গান করলেও এখন আর পাওয়া যায় না তাঁকে। আমার সংগীত পরিচালনায় এই গানটি আশা করি শ্রোতাদের ভালো লাগবে।’ শাকিব খানের লিপে টাইটেল গানটি দেখা যাবে এই চলচ্চিত্রে। গানটির কোরিওগ্রাফি করেছেন হাবিব। ছবিটি ১শ’টিরও বেশি হলে মুক্তি পেতে যাচ্ছে। চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন জাকির হোসেন রাজু। এরইমধ্যে ছবির একটি গান ইউটিউবে রিলিজ পেয়েছে।

 

মিউজিক্যাল ফিল্ম ‘ওরা সব পারে’

বিনোদন বাজার ॥ ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে মুক্তির মিছিলে যুক্ত হয়েছে মিউজিক্যাল ফিল্ম ‘ওরা সব পারে’। হুমায়ুন রশিদ সম্রাটের পরিচালনায় এখানে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন চিত্রনায়ক সিপন, চিত্রনায়িকা সাচি নুর ও অভিনেতা পীরজাদা হারুন। বাস্তব ঘটনা নিয়ে নির্মিত এই মিউজিক্যাল ফিল্মে প্লেব্যাক করেছেন আহমেদ সাব্বির রোমিও। গানটি লিখেছেন ও সুর করেছেন তিনি নিজেই। শিপন বলেন, আমি নাটক, সিনেমা নিয়েই ব্যস্ত। ‘ওরা সব পারে’র কাহিনীটি খুব ভালো লাগায় কাজটি করেছি। সাচি নুর বলেন, এর কাহিনীটি আমাদের বাস্তব জীবনের প্রতিছবি বলতে পারেন। কাজটি করে আমার বেশ ভালো লেগেছে। আশা করি দর্শকদেরও খুব ভালো লাগবে। উল্লেখ্য, আসছে ঈদে এস নুর মাল্টিমিডিয়া ইউটিউব চ্যানেলে এটি প্রকাশিত হবে।

শামীম জামানের ফাঁদে ভুলোমনা মোশাররফ

বিনোদন বাজার ॥ মতিন সাহেব, পেশায় একজন স্কুলশিক্ষক। ছাত্রছাত্রীদের জ্ঞান দেয়া তার কাজ হলেও অত্যন্ত ভুলোমনা একজন মানুষ তিনি। শুক্রবার ছুটির দিনেও ভুল করে স্কুলে চলে যাওয়ার স্বভাব রয়েছে তার। এ নিয়ে পরিবার ও জনমনে চলে নানা আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। অন্যদিকে রমজান আলী একই পেশার হলেও আপাদমস্তক মতিন সাহেবের বিপরীত ধাঁচের মানুষ। তার স্মরণশক্তি অত্যন্ত প্রখর। পূর্বপুরুষদের নামসহ যে কোনো ঘটনা মনে রাখতে পারেন দীর্ঘদিন।

ঘটনাক্রমে তাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়। শুরু হয় নাটকীয়তা। এমন গল্প নিয়েই নির্মিত হয়েছে ধারাবাহিক নাটক ‘আনমাইন্ডফুল’।

এতে মতিন সাহেব ও রমজান আলীর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন মোশাররফ করিম ও শামীম জামান। আশরাফুল চঞ্চলের রচনায় নাটকটি পরিচালনা করেছেন শামীম জামান। সম্প্রতি মানিকগঞ্জ জেলার জাফরগঞ্জের যমুনা নদীর তীরে বিভিন্ন মনোরম লোকেশনে নাটকটির দৃশ্যায়ন করা হয়েছে।

নাটকে নিজ চরিত্র প্রসঙ্গে মোশাররফ করিম বলেন, ‘এই নাটকে আমি একজন স্কুলশিক্ষক। গল্প ও চরিত্র আমার অনেক পছন্দ হয়েছে। কিছু শিক্ষনীয় বিষয়ও আছে। আশা করি নাটকটি দর্শকদেরও ভালো লাগবে।’

নাটকটি নির্মাণ প্রসঙ্গে শামীম জামান বলেন, ‘নাটকের গল্প দারুণ। ঈদে সাধারণত মানুষ আনন্দে সময় কাটাতে চায়। নাটকটি দর্শকদের চাহিদাকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে। এর মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোশাররফ করিম। আমি তাকে সঙ্গ দিয়েছি বলা যায়। আশা করি সবার ভালো লাগবে।’ এতে অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন আনিকা কবির শখ, শিল্পী সরকার অপু, নুর আলম নয়ন প্রমুখ। নাটকটি ঈদুল আজহা উপলক্ষে আরটিভিতে প্রচার হবে।

মিলন-অপর্ণার ‘চিনি বাবা’

বিনোদন বাজার ॥ ঈদে চ্যানেল আইতে প্রচারের জন্য সরদার রোকন নির্মাণ করেছেন টেলিফিল্ম ‘চিনি বাবা’। মঈনুল খানের গল্প ও চিত্রনাট্যে এবারই প্রথম অভিনয় করেছেন আনিসুর রহমান মিলন ও অপর্ণা ঘোষ। আরো অভিনয় করেছেন রহমত আলী, ওয়াহিদা মল্লিক জলি, আজিজুল হাকিম, আমিন আজাদ, মুকুল সিরাজ, তমাল মাহবুব প্রমুখ। এরই মধ্যে পুবাইলের একটি শুটিং বাড়িতে নাটকটির দৃশ্যায়নের কাজ শেষ হয়েছে। নাটকটিতে অভিনয় প্রসঙ্গে মিলন বলেন, এই পরিচালকের নির্দেশনায় এবারই আমার প্রথম কাজ করা। তার নির্দেশনায় কাজ করে ভীষণ ভালো লেগেছে। কাজটিও বেশ আন্তরিকতা নিয়েই করেছি। অপর্ণা ঘোষ বলেন, চিনি বাবা নাটকের গল্পটা অন্যরকম। নাম শুনলেই মনে হতে পারে যে এটি একটি কমেডি ঘরানার নাটক। কিন্তু মূল বিষয় হলো ভেজাল আমাদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। দ্রুত টাকা বানানোর নেশায় অনেকেই অনৈতিক ও সমাজবিরোধী কাজে লিপ্ত হচ্ছে। এই বিষয়টিই টেলিফিল্মে তুলে ধরা হয়েছে। আগামী ঈদের তৃতীয় দিন বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে চ্যানেল আইতে ‘চিনি বাবা’ টেলিফিল্মটি প্রচার হবে।

স্বাভাবিক ও জৈব পদ্ধতিতেই গরু মোটাতাজাকরণ সম্ভব

কৃষি প্রতিবেদক ॥ কোনোভাবেই ইনজেকশন বা কোনো গ্রোথ হরমোন ব্যবহার করে গবাদিপশু মোটাতাজাকরণের উদ্যোগ নেওয়া যাবে না। এন্টিবায়োটিকের ব্যবহার ছাড়াও স্বাভাবিক ও জৈব পদ্ধতিতেই গরু মোটাতাজাকরণ সম্ভব। এজন্য দরকার শুধু কিছু নিয়ম-কানুন মেনে চলা। কোনো গ্রোথ হরমোন ব্যবহার ছাড়াই যেভাবে গবাদিপশুর বেশি মাংস নিশ্চিত করা যায়, সে সম্পর্কে কিছু পদ্ধতি স্বল্প পরিসরে আলোকপাত করা হল: অধিক মাংস উৎপাদনের জন্য ২ থেকে ৩ বছর বয়সের শীর্ণকায় গরুকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় খাদ্য সরবরাহ করে হৃষ্টপুষ্ট গরুতে রূপান্তরিত করাকে গরু  মোটাতাজাকরণ বলে। এটির গুরুত্ব হচ্ছে- দারিদ্রতা হ্রাসকরণ, অল্প সময়ে কম পুঁজিতে অধিক মুনাফা অর্জন, অল্প সময়ের মধ্যে লাভসহ মূলধন ফেরত পাওয়া, প্রাণীজ আমিষের ঘাটতি পূরণ, স্বল্পমেয়াদি প্রযুক্তি হওয়ার কারণে পশু মৃত্যুর হার কম, কৃষিকার্য হতে উৎপাদিত উপজাত পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে সহজেই মাংস উৎপাদন করা, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে আয় বৃদ্ধি করা প্রভৃতি।

মোটাতাজাকরণের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান পদ্ধতি ঃ মোটাতাজাকরণের সঠিক সময়: বয়সের উপর ভিত্তি করে সাধারণত ৩ থেকে ৪ মাসের মধ্যে গরু মোটাতাজাকরণ করা যায়। অনেক সময় ৫ থেকে ৬ মাসও সময় লাগতে পারে। গরু মোটাতাজাকরণের জন্য সুবিধাজনক সময় হচ্ছে বর্ষা এবং শরৎকাল যখন প্রচুর পরিমাণ কাঁচাঘাস পাওয়া যায়। চাহিদার উপর ভিত্তি করে কোরবানী ঈদের ৫ থেকে ৬ মাস পূর্ব থেকে গরুকে উন্নত খাদ্য ও ব্যবস্থাপনা দিয়ে মোটাতাজাকরণ লাভজনক।

স্থান নির্বাচন ঃ গরু রাখার স্থান নির্বাচনে নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে: ১. শুষ্ক ও উঁচু জায়গা হতে হবে, যাতে খামার প্রাঙ্গণে পানি না জমে থাকে। ২.  খোলামেলা ও প্রচুর আলো বাতাসের সুযোগ থাকতে হবে। ৩.খামারে কাঁচামাল সরবরাহ ও উৎপাদিত দ্রব্যাদি বাজারজাতকরণের জন্য যোগাযোগ সুবিধা থাকতে হবে। ৪. পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহের সুষ্ঠু ব্যবস্থা থাকতে হবে; ৫. সুষ্ঠু পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা থাকতে হবে। গরু নির্বাচন: উন্নত দেশের মাংসের গরুর বিশেষ জাত রয়েছে। বিদেশি গরুর জন্য উন্নত খাদ্য ও ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। তাই দেশীয় গরু মোটাতাজাকরণ অলাভজনক। ২ থেকে ২.৫ বছরের গরুর শারীরিক বৃদ্ধি ও গঠন মোটাতাজাকরণের জন্য বেশি ভাল। এঁড়ে বাছুরের দৈহিক বৃদ্ধির হার বকনা বাছুরের চেয়ে বেশি হয়ে থাকে। তবে বাছুরের বুক চওড়া ও ভরাট, পেট চ্যাপ্টা ও বুকের সাথে সমান্তরাল, মাথা ছোট ও কপাল প্রশস্ত,  চোখ উজ্জ্বল ও ভেজা ভেজা, পা খাটো প্রকৃতির ও হাড়ের জোড়াগুলো স্ফীত, পাজর প্রশস্ত ও বিস্তৃত, শিরদাড়া সোজা হতে হবে। গরুর খাদ্যের ধরণ: খাদ্যে মোট খরচের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ ভাগ ব্যয় হয়। তাই স্থানীয়ভাবে প্রাপ্ত খাদ্য দ্বারা খরচ কমানো সম্ভব।

এজন্য গরু মোটাতাজাকরণের একটি সুষম খাদ্য তালিকা নিচে দেওয়া হল: ক) শুকনো খড়: দুই বছরের গরুর জন্য দৈহিক ওজনের শতকরা ৩ ভাগ এবং এর অধিক বয়সের গরুর জন্য শতকরা ২ ভাগ শুকনো খড় ২ থেকে ৩ ইঞ্চি করে কেটে একরাত লালীগুড়/চিটাগুড় মিশ্রিত পানিতে ভিজিয়ে প্রতিদিন সরবরাহ করতে হবে। পানি: চিটাগুড় = ২০ : ১। খ) কাঁচাঘাস: প্রতিদিন ৬ থেকে ৮ কেজি তাজা ঘাস বা শস্যজাতীয় তাজা উদ্ভিদের উপজাত দ্রব্য যেমন- নেপিয়ার, পারা, জার্মান, দেশজ মাটি কালাই, খেসারি, দুর্বা ইত্যাদি সরবরাহ করতে হবে। গ) দানাদার খাদ্য: প্রতিদিন কমপক্ষে ১ থেকে ২ কেজি দানাদার খাদ্য সরবরাহ করতে হবে। নিচে ১০০ কেজি দানাদার খাদ্যে তালিকা দেওয়া হল: ১. গম ভাঙা/গমের ভূসি-৪০  কেজি; ২. চালের কুঁড়া-২৩.৫ কেজি; ৩. খেসারি বা যেকোনো ডালের ভূসি-১৫ কেজি:

৪. তিলের খৈল/সরিষার খৈল-২০ কেজি; লবণ-১.৫ কেজি। তাছাড়াও বিভিন্ন রকমের ইউরিয়া মোলাসেস ব্লক ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি হচ্ছে ৩৯ ভাগ চিটাগুড়, ২০ ভাগ গমের ভূসি, ২০ ভাগ ধানের কুঁড়াা, ১০ ভাগ ইউরিয়া৬ ভাগ চুন ও ৫ ভাগ লবণের মিশ্রণ।

রোগপ্রতিরোধ ও চিকিৎসা: ক. প্রতিদিন নিয়মিতভাবে পশুর গা ধোয়াতে হবে; খ.  গো-শালা ও পার্শ্ববর্তী স্থান সর্বদা পরিস্কার রাখতে হবে: গ. নিয়মিতভাবে গরুকে কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাওয়াতে হবে; ঘ. বাসস্থান সর্বদা পরিস্কার রাখতে হবে। ঙ. স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে পরিমিত পরিমাণে পানি ও সুষম খাদ্য প্রদান করতে হবে। চ. রোগাক্রান্ত পশুকে অবশ্যই পৃথক করে রাখতে হবে। ছ. খাবার পাত্র পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। জ. খামারের সার্বিক জৈব নিরাপত্তা রক্ষা করতে হবে। ঝ. পশু জটিল রোগে আক্রান্ত হলে পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বাজারজাতকরণ ঃ মোটাতাজাকরণ গরু লাভজনকভাবে সঠিক সময়ে ভাল মূল্যে বাজারজাতকরণের ব্যবস্থাগ্রহণ হচ্ছে আরেকটি উল্লেখ্যযোগ্য বিষয়। বাংলাদেশে মাংসের জন্য বিক্রয়যোগ্য গবাদিপশুর বাজারমূল্যেও মৌসুমভিত্তিক হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে। কাজেই একজন প্রতিপালককে গরু মোটাতাজাকরণের জন্য অবশ্যই গরুর ক্রয়মূল্য যখন কম থাকে তখন গরু ক্রয় করে বিক্রয় মূল্যের উর্ধ্বগতির সময়ে বিক্রয়ের ব্যবস্থা নিতে হবে। সাধারণত  কোরবানীর ঈদের সময়ে গরুর মূল্য অত্যাধিক থাকে এবং এর পরের মাসেই বাজার দর হ্রাস পায়। তাই এখন গরু মোটাতাজাকরণের উপযুক্ত সময় এবং কোরবানীর সময় তা বিক্রি করে  দেওয়া ভাল।

লেখক ঃ আব্দুস সালাম সাগর, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ

‘সবচেয়ে দামি ডিফেন্ডার হওয়ার চাপ সামলাতে হবে ম্যাগুইয়ারকে’

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ বিশ্বের সবচেয়ে দামি ডিফেন্ডার হিসেবে হ্যারি ম্যাগুইয়ার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দেওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই এখন তার পারফরম্যান্সের চুলচেরা বিশে¬ষণ হবে। এই চাপ সামলাতে ইংলিশ এই ডিফেন্ডারকে নিজের খেলায় মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন রক্ষণভাগের আগের সবচেয়ে দামি ফুটবলার লিভারপুলের ভার্জিল ভন ডাইক। সোমবার লেস্টার সিটি থেকে রেকর্ড আট কোটি পাউন্ড ট্রান্সফার ফিতে ম্যাগুইয়ারকে দলে নেয় ইউনাইটেড। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে সাড়ে সাত কোটি পাউন্ড খরচ করে সাউথ্যাম্পটন থেকে ভন ডাইককে দলে নিয়েছিল লিভারপুল। সেটাই ছিল এর আগে ডিফেন্ডারদের ট্রান্সফার ফির রেকর্ড। রেকর্ড গড়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দেওয়ায় ম্যাগুইয়ারের ওপর যে চাপ থাকবে তা এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয় বলে ব্রিটিশ গনমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান ভন ডাইক। “দামটা (ট্রান্সফার ফি) চাপ নিয়ে আসে। কিন্তু এতে খুব বেশি বদলায় না কারণ ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মতো বড় ক্লাবে আপনার ওপর সবসময় চাপ থাকে। সব চাপ পুরোপুরি ঝেড়ে ফেলা সহজ নয়।” লিভারপুলে আসার পর থেকে নিজের পারফরম্যান্সে দারুণ উন্নতি করেছেন ভন ডাইক। গত মৌসুমে দলের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জয়ে বড় অবদান ছিল তার। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগেও শিরোপার জন্য শেষ পর্যন্ত লড়ে পুরো মৌসুমে মোটে একটি ম্যাচ হারা লিভারপুল। পুরো পরিস্থিতিটা যৌক্তিকভাবে বিবেচনা করতে পারার কারণেই বিশ্বের সবচেয়ে দামি ডিফেন্ডার হওয়ার চাপ সামলে উঠতে পেরেছিলেন বলে জানান ভন ডাইক। “বেশ কিছু জিনিস ফুটবল খেলার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আপনাকে এটা উপভোগ করতে হবে। কিন্তু চাপটা সবসময় থাকবে।” “আপনি যা করতে ভালোবাসেন শুধু তাতেই মনোযোগ দিন। আর নিজের সেরা খেলাটা খেলুন। মাঠে নিজের দক্ষতা তুলে ধরুন, নিজের খেলাটা উপভোগ করুন এবং অন্য ব্যাপারগুলো নিয়ে ভাববেন না।” ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে উঠে আসা নরউইচ সিটির বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আগামী শুক্রবার লিগ অভিযান শুরু করবে লিভারপুল। অন্যদিকে, রোববার চেলসির বিপক্ষে নিজেদের প্রথম লিগ ম্যাচ খেলবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।

 

টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেন ডেল স্টেইন

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেন এই সংস্করণে দক্ষিণ আফ্রিকার সফলতম বোলার ডেল স্টেইন। দেশের হয়ে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলে যাবেন অভিজ্ঞ এই পেসার। এই বছরের শুরুতে টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারীদের তালিকায় শন পোলককে পেছনে ফেলে চূড়ায় ওঠেন স্টেইন। ৯৩ টেস্টে ৪৩৯ উইকেট নিয়ে এই সংস্করণে ১৫ বছরের ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন। “আমি খুব ভালোবাসি এমন একটি ফরম্যাট থেকে আজ  আমি অবসর নিয়েছি। আমার মতে, টেস্ট ক্রিকেট এই খেলাটির সেরা সংস্করণ। এটা মানসিক ও শারীরিকভাবে আপনার পরীক্ষা নেবে।” “আর কখনও কোনো টেস্ট খেলবো না এটা ভাবা খুব ভয়ানক একটি ব্যাপার। তবে এরচেয়েও ভীতিকর আর কখনও খেলতে পারবো না এই ভাবনা। তাই আমি আমার সম্ভাবনাকে পূর্ণতা দিতে ও এই খেলায় নিজের ক্যারিয়ারের পরের সময়টাকে দীর্ঘায়িত করতে ওয়ানডে ও টি- টোয়েন্টি ক্রিকেটে মনোযোগ দেব।” গত কয়েক মৌসুম ধরে স্টেইনকে ভোগাচ্ছে চোট। সেরে উঠে গত মৌসুমে তিন সংস্করণেই দেশের হয়ে খেলেছিলেন। বিশ্বকাপের আগে নতুন করে চোট পাওয়ায় সেই টুর্নামেন্টে আর খেলা হয়নি তার।

ইংল্যান্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের যুবাদের ম্যাচ ‘টাই’

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে শেষ ওভারে গড়ানো রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে নায়ক হওয়ার সুযোগ ছিল তৌহিদ হৃদয়ের সামনে। ১ বলে ৩ রান দরকার ছিল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের। পারেননি এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। শেষ বলে ২ রান নিয়ে ম্যাচ করেছেন টাই। ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের সপ্তম ম্যাচে শেষ ৫ ওভারে ৭ উইকেট হাতে নিয়ে ৩৮ রান প্রয়োজন ছিল আকবর আলীর দলের। আগের তিন ম্যাচে বাংলাদেশের কাছে হেরে যাওয়া ইংল্যান্ড শেষের ভালো বোলিংয়ে হার এড়ায়। কেন্ট কাউন্টি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে সোমবার ইংল্যান্ড ৭ উইকেটে করে ২৫৬। বাংলাদেশ ৬ উইকেটে থামে ২৫৬ রানে। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি ইংল্যান্ডের। শূন্য রানে বেন চার্লসওয়ার্থকে ফেরান তানজিম হাসান। অন্য ওপেনার জর্ডান কক্স টানেন স্বাগতিকদের। তাকে খুব একটা সঙ্গ দিতে পারছিলেন না কেউ। বাঁহাতি স্পিনার রাকিবুল হাসান এবং টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো খেলা রিশাদ হোসেন ও অভিষেক দাসও উইকেট শিকারে যোগ দিলে ১৩২ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় ইংল্যান্ড। সেখান থেকে শতরানের জুটিতে দলকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন কক্স ও জর্জ বল্ডারসন। ৬ চারে ৫৬ রান করা ইংলিশ অধিনায়ক বল্ডারসনকে ফিরিয়ে ১০৮ রানের জুটি ভাঙেন তানজিম। ১৪৩ বলে দুই ছক্কা ও ৮ চারে ১২২ রানে অপরাজিত থাকেন কক্স। রান তাড়ায় ৬১ রানের মধ্যে টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। ১৬০ রানের জুটিতে দলকে টানেন হৃদয় ও শাহাদাত হোসেন। ১০৩ বলে ৭৬ রান করে শাহাদাত ফিরলে ভাঙে জুটি। দ্রুত রান তোলার চেষ্টায় ফিরেন আকবর ও তানজিম। জয়ের জন্য শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ৯ রান। শেষ ৩ বলে তিনটি ডাবল নিয়ে ম্যাচ টাই করেন হৃদয়। ১৩১ বলে ১০৪ রানে অপরাজিত থাকা এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান তার ৯ চারের সবশেষটি হাঁকান ৩৩তম ওভারে। আগামী বুধবার প্রাথমিক পর্বে নিজেদের সবশেষ ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। আগামী রোববার এই দুই দলই মুখোমুখি হবে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে। সংক্ষিপ্ত স্কোর: ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ দল: ৫০ ওভারে ২৫৬/৭ (চার্লসওয়ার্থ ০, কক্স ১২২*, হেইন্স ২৬, গোল্ডসওয়ার্থি ৩, ক্লার্ক ১৩, হিল ৮, মোজলি ১৫, বল্ডারসন ৫৬, ডোনাথি ০*; তানজিম ২/৬৮, শাহিন ০/৬০, রাকিবুল ৩/৩৩, অভিষেক ১/৩৯, রিশাদ ১/৩৭, মাহমুদুল ০/১৪)। বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল: ৫০ ওভারে ২৫৬/৬ (তানজিদ ২৩ পারভেজ ১২, মাহমুদুল ৯, হৃদয় ১০৪*, শাহাদাত ৭৬, আকবর ১১, তানজিম ৩, অভিষেক ৬*; বল্ডারসন ২/৬৪, লিওনার্ড ০/২১, ডোনাথি ৩/৬০, হিল ০/৪৪, কাদরি ০/৪০, গোল্ডসওয়ার্থি ০/২৬)।