২০০০ বছরের পুরনো কলম উদ্ধার জানা গেল চমৎকার এক ইতিহাস

ঢাকা অফিস ॥ সন্ধান পাওয়া গেল প্রায় ২০০০ বছরের পুরনো কলমের। একটি নয়, বেশ কিছু এমন প্রাচীন কলম পাওয়া গেছে লন্ডনের ব্লুমবার্গ অফিসের ইউরোপিয়ান হেডকোয়ার্টারের মাটির তলা থেকে। এগুলোকে কলম বলা হলেও আধুনিক কলমগুলো থেকে অনেকটা ভিন্নরকম দেখতে। তবে লেখার কাজেই ব্যবহৃত হতো এগুলো তা নিশ্চিত বিজ্ঞানীরা। এ কলমগুলো লোহা দিয়ে তৈরি। এসব কলমকে প্রত্মতাত্ত্বিকগণরা ‘স্টাইলাস’ নামে ডাকছেন। তারা বলছেন, ২০০ খ্রিস্টাব্দ বা এর আগের অর্থাৎ রোমান যুগের এসব কলম। প্রাচীন কালে প্যাপিরাসে ও মোমের আস্তরণ যুক্ত কাঠের ট্যাবলেট এবং শিলালিপিতে লেখার কাজে ব্যবহৃত হত এই স্টাইলাস। এখন পর্যন্ত সেই সময়ের ২০০টি স্টাইলাস খুঁজে পেয়েছেন প্রত্মতত্ত্ববিদরা। তবে এদের মধ্যে কেবল ৪টিতে লেখা ছিল তার প্রাপকের উদ্দেশে বিশেষ একটি বার্তা। ওই চারটি কলমের ওপর খোদাই করা লেখাই অন্যসব কলম থেকে এদের আলাদা করেছে। নজর কেড়েছে ঐতিহাসিকদের। সে বার্তা থেকে ইতিহাসবিদরা জানতে পেরেছেন, সে সময়ের যুদ্ধবাজ রোমানরা কতটা কৌতুকপ্রিয় ও আবেগপ্রবণ ছিল। প্রাচীন সেই চারটি কলমে খোদাই করে লেখা রয়েছে, ‘আমি শহর থেকে এসেছি। তোমাকে স্বাগত জানানোর জন্য একটি উপহার নিয়ে এসেছি, যার মুখটি খুবই তীক্ষè। এই তীক্ষè মুখই তোমাকে আমার কথা মনে করিয়ে দেবে। দীর্ঘ রাস্তা অতিক্রম করে এই মুহূর্তে আমার সব ফুরিয়ে গেছে। তাই সামর্থ না থাকায় এর থেকে বেশি কিছু দেয়া সম্ভব হলো না। আশা করি ভাগ্য সহায় হলে এরকম আরও উপহার দিতে পারব তোমাকে। ’ খুদে বার্তাটি মূলত কবিতার ভাষায় লেখা ছিল আর মজা করে চমৎকারভাবে উপহার গ্রহণকারীকে দাতা বলেছেন যে, ‘পকেটে টাকা না থাকায় সামান্য একটি কলম উপহার দিলাম।’ ২০০০ বছর আগে রোমানদের মধ্যে যে এত ভাল কৌতুক ও সৌজন্যবোধ ছিল তা ভেবে অবাক বিশেষজ্ঞরা। খুদে বার্তাটি থেকে বোঝা যায় যে, দীর্ঘ সফর অতিক্রম করে রোম থেকে লন্ডনে এসেছিলেন ওই ব্যক্তি। এতো দীর্ঘ পথে তার সঙ্গে থাকা সমস্ত টাকা শেষ হয়ে গিয়েছে। তবুও লন্ডনের প্রিয় বন্ধুকে উপহার দিতেই হবে। তাই উপহার দেয়ার জন্য বেশি টাকা না থাকায় একটি কলম কিনে বিষয়টি মজার ছলে উল্লেখ করেছেন। উল্লেখ্য, ২০১০ সালে লন্ডনের ব¬ুমবার্গ অফিসের ইউরোপিয়ান হেডকোয়ার্টারের মাটির তলা খননকার্য চলাকালীন পাওয়া যায় ১৪ হাজার শিল্পকর্ম। তাদেরই মধ্যে অন্যতম ২০০০ বছর পুরনো রোমান সভ্যতার এই কলম ।

বঙ্গবন্ধু হত্যার কুশীলবদেরও বিচারের আওতায় আনার দাবি নানকের

ঢাকা অফিস ॥ ১৫ আগস্টের কালরাতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তার পরিবারের সদস্যদের নির্মম হত্যাকান্ডের ষড়যন্ত্রের পেছনে দেশীয় ও আন্তজার্তিক যে শক্তি জড়িত ছিল সেই শক্তির মুখোশ উন্মোচন করে তাদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক। গতকাল শনিবার রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন (আইইবি) মিলনায়তনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান। আইইবি সদর দপ্তর ও ঢাকা কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, একাত্তরের পরাজিত শক্তি রাজাকার, আল বদর, আল শামস ও জামায়াত বঙ্গবন্ধুকে মেনে নিতে পারেনি। এই বিষধর সাপ চুপ করে থেকে সময়ের অপেক্ষায় ছিল। সেদিন আমাদের মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ শক্তির মধ্যে বিভ্রান্তি এবং বিভক্তির কারণে একাত্তরের পরাজিত শক্তি সাহস পেয়েছিল এবং তারা ষড়যন্ত্রের জাল বুনেছিল। আমরা সেদিন সতর্ক ছিলাম না বলেই ডালিম, শাহরিয়ার, নূর ও খুনি মোশতাক, জিয়াউর রহমানরা সফল হয়েছিল। একাত্তরের পরাজিত বিষধর সাপ কী অবস্থায় ছিল? আমরা বিষধর সাপকে চিনতে পারিনি! তারা ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। ২১টি বছর বাংলাদেশকে শাসন এবং শোষণ করেছে, স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃত করেছে। শেখ হাসিনা এর বিরুদ্ধে নিরবচ্ছিন্ন লড়াই করেছেন। সেজন্য তাকেও বারবার মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয়েছে। তিনি বলেন, আগস্ট মাস এলেই মনে পড়ে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কথা। খালেদা-নিজামী চারদলীয় জোটের আমলে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালিয়ে আওয়ামী লীগের জাতীয় নেতৃবৃন্দকে হত্যা করে আবার এই দেশকে পাকিস্তান বানানোর ষড়যন্ত্রের কথা। তাই আমাদের এদের থেকে সজাগ থাকতে হবে। নানক বলেন, আজকে বাংলাদেশে যখন পদ্মাসেতু সফল হতে যাচ্ছে, তখনই অপপ্রচার চালানো হয়- মানুষের মাথা লাগবে। একজন মা তার সন্তানকে স্কুলে ভর্তি করতে গেলেও ষড়যন্ত্রকারীদের অপপ্রচারে গণপিটুনিতে তার নির্মম মৃত্যু হয়। এসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হবে। আমাদের দেশে বিষধর সাপ দুটি। একটি হল জামায়াত আর অন্যটি বিএনপি। এই বিষধর সাপ বিএনপি-জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করতে হবে। তা না হলে স্বাধীনতা হুমকির মুখে থাকবে। তিনি বলেন, ১৫ আগস্টের কালরাতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তার পরিবারের সদস্যদের নির্মম হত্যাকা-ে জড়িতদের বিচার হয়েছে। এ ষড়যন্ত্রের পেছনে দেশীয় ও আন্তজার্তিক যে শক্তি জড়িত ছিল সেই শক্তির মুখোশ উন্মোচন করে তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। আইইবি-এর প্রেসিডেন্ট ও আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান- প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আবদুস সবুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, আইইবি এর সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মনজুর মোর্শেদ, ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রকৌশলী নুরুজ্জামান, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. হাবিবুর রহমান, প্রকৌশলী নূরুল হুদা, আইইবি ঢাকা কেন্দ্রের সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন শিবলু প্রমুখ।

 

মিরপুরে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের লক্ষে প্রেসক্লাবে মতবিনিময়

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের লক্ষে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে “ইয়াসিন-মাহমুদা” স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে ও মিরপুর প্রেসক্লাবের সহযোগিতায় ক্লাব কার্যালয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজ ও সাংবাদিকদের সাথে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। মিরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি আলহাজ্ব মহাম্মদ আলী জোয়ার্দ্দারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের প্রতিষ্ঠাকালীন অধ্যক্ষ অধ্যাপক  ইফতেখার মাহমুদ। প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রাশেদুজ্জামান রিমনের পরিচালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতি সম্পাদক আ ফ ম নূরুল  কাদের। এ সময়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সেলিম হোসেন ফরাজী, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম প্রকৌশলী এনামুল হক, তালবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান মন্ডল, ফুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী আব্দুস সালাম, চিথলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন পিস্তুল, বহলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেল রানা বিশ্বাস, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার আফতাব উদ্দিন খান, সাবেক সহকারী কমান্ডার এনামুল হক  বিশ্বাস, মিরপুর ফাযিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওঃ ছালেহ উদ্দিন, সুলতানপুর সিনিয়র মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওঃ আব্দুল মান্নান ফারুকী, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি বাবলু রঞ্জন বিশ্বাস, আছাদুর রহমান বাবু, সাবেক আহ্বায়ক হুমায়ূন কবির হিমু, সাবেক অর্থ-সম্পাদক সোহেল রানা, চিথলিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল্লাহেল বাকী, কামিরহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান মোহন, মিরপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজী রোকনুজ্জামান, উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিঠু, মিরপুর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যা নিকেতনের প্রধান শিক্ষক আতিয়ার রহমান, বহলবাড়ীয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম সাইদুল, উপজেলা শ্রমিকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল আলম হীরা, সাংবাদিক মিলন আলী, সুমন মাহমুদ, আইডিয়াল শিক্ষা পরিবারের চেয়ারম্যান মওদুদ আহমেদ রাজীব, পাবনা মার্কেটিং ডেফোডিল ফার্মাসিউটিক্যালসের পরিচালক (ব্যবসা) হামিদুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

গাংনীতে গাঁজা গাছ উদ্ধার- আটক-১

গাংনী প্রতিনিধি ॥ গাংনী উপজেলার কাজীপুর গ্রামে গাঁজা গাছ উদ্ধার করেছে ডিবি পুলিশ। এ ঘটনায় আলতাব হোসেন (৫৬) নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। সে কাজীপুর গ্রামের মুন্সীপাড়ার মৃত আদু মন্ডলের ছেলে। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কাজীপুর গ্রামের একটি মরিচ ক্ষেত থেকে ৪টি গাঁজা গাছ উদ্ধার করা হয়। এ সময় মরিচ ক্ষেত্রে মালিক আলতাব হোসেকে আটক করা হয়। মেহেরপুর ডিবি পুলিশের রবিউল ইসলাম জানান- কাজীপুর গ্রামের আলতাব হোসেনের মরিচ ক্ষেতে গাঁজা গাছের চাষ করা হচ্ছে, এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। এ সময় ৪টি গাঁজা গাছ উদ্ধারসহ মরিচ ক্ষেতের মালিক আলতাব হোসেকে আটক করা হয়।

সভাপতি লেমন ॥ সাধারন সম্পাদক আশরাফুল

মেহেরপুর জেলা উদ্দ্যোক্তা ফোরামের কমিটি গঠন

মেহেরপুর প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুর জেলা উদ্দ্যোক্তা ফোরামের কমিটি গঠন করা হয়েছে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বামন্দী ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা সজিবুল হক লেমন ও সাধারন সম্পাদক হয়েছেন দারিয়াপুর ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্দ্যোক্তা আশরাফুল ইসলাম। গতকাল শনিবার দুপুরে মুজিবনগর আম্রকাননে জেলার সকল উদ্দ্যোক্তাদের আলোচনা সভা শেষে ভোট প্রয়োগের মাধ্যমে ১৯ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। সহ-সভাপতি পদে যৌথভাবে নির্বাচিত হয়েছেন, মিনারুল ইসলাম মহাজনপুর ইউডিসি ও মিকাইল হোসেন বুড়িপোতা ইউডিসি, কোষাধ্যক্ষ মহিদুল ইসলাম মটমুড়া ইউডিসি, প্রচার সম্পাদক যৌথভাবে হাসানুজ্জামান, ষোলটাকা ইউডিসি ও নাহিদুজ্জামান কুতুবপুর ইউডিসি, সাধারন সদস্য পদে মশিউর রহমান কাজিপুর ইউডিসি, হুমায়ন কবীর কাথুলী ইউডিসি, জাহিদ হাসান তেতুঁলবাড়ীয়া ইউডিসি, গোলাম কাউছার ধানখোলা ইউডিসি,রিকাত রাজু রায়পুর ইউডিসি, রাহিনুল সাহারবাটি ইউডিসি, ফয়সাল ও কামরুজ্জামান আমঝরূপ ইউডিসি, রেজাউল ইসলাম বাগোয়ান ইউডিসি, লিটন পিরোজপুর ইউডিসি, রাফিউজ্জামান আমদহ ইউডিসি, ওয়াদুদ মোনাখালি ইউডিসি।

মিরপুরে কেএম আইডিয়াল কলেজে মতবিনিময় সভা

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে কেএম আইডিয়াল কলেজের অবকাঠামোগত ও শিক্ষার মান উন্নয়নে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার বেলা ১১টায় কেএম আইডিয়াল কলেজের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে কলেজের সভাপতি ও উপজেলা জাসদের সাংগঠনিক সম্পাদক আফতাব উদ্দিনের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন কেএম আইডিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ মাসুদুর রহমান ঝান্টু, কেএম মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশাদুল হক, সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল হান্নান, কলেজের শিক্ষক আব্দুল ওহাব, হাবিবুর রহমান, আফরোজা পারভীন, আশরাফুল হক, আরিফুর রহমান, রেজাউল হক, আশরাফুল ইসলাম খাঁন, একলাস উদ্দিন, আলমগীর হোসেন, মতিয়ার রহগমান, আবুল হাসান, ফজলুল হক, আশরাফুল ইসলাম, অভিভাবক হোসেন, উপজেলা যুবজোটের সভাপতি নাজমুল ইসলাম প্রমুখ।

অতি কথা দেশের জন্য খারাপ ফল বয়ে আনতে পারে – কাদের

ঢাকা অফিস ॥ ডেঙ্গু নিয়ে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কথা কম বলে কাজ বেশি করার পরামর্শ দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, “এই সময় অতি কথা দেশের জন্য খারাপ ফল বয়ে আনতে পারে। অতিকথন থেকে দায়িত্বশীল সকলকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। কথা কম বলে আমাদের বেশি বেশি করে কাজ করতে হবে। মানুষকে বাঁচাতে হবে, আতঙ্ক থেকে বাঁচাতে হবে।” গতকাল শনিবার সকালে ঢাকার ফার্মগেটের আনন্দ সিনেমা হলের সামনে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও সচেতনতামূলক প্রচারপত্র বিলির সময় একথা বলেন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এবছর মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুজ্বর ব্যাপক আকারে দেখা দিয়েছে। ২৩ হাজারের বেশি আক্রান্তের মধ্যে ইতোমধ্যে অর্ধ শতাধিক মারা গেছেন। ডেঙ্গুর বাহক এইডিস মশা নিয়ন্ত্রণে কাজ না করে কথা বেশি বলার অভিযোগ উঠেছে দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে। ওবায়দুল কাদের বলেন, “আমরা কথা কম বলব, কাজ করব। এই সময়টি অত্তান্ত সংবেদনশীল।” সতর্কতা অবলম্বন করে সবাইকে ঈদে বাড়ি যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “একটা মহল আতঙ্ক ছড়াচ্ছে, যেন ঈদের সময় বাড়ি-ঘরে না যায়। বাড়ি-ঘরে কেন যাবেন না? সবাই বাড়ি যাবেন, কিন্তু সতর্ক থাকবেন।” বিএনপিকে ইঙ্গিত করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, “যারা কাজ করে না, তারাই আজকে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। যারা বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়ায় না, তারাই বন্যা দুর্গতদের নিয়ে রাজনীতি করে। যত দোষ নন্দ ঘোষ, সরকারের ঘাড়ে দোষ চাপায়!” দল হিসেবে বিএনপিরও ডেঙ্গু দমনে দায়িত্ব রয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “পরিচ্ছন্নতা অভিযানে কোথাও তারা নেই। তারা কখনও বলে মহামারি ঘোষণা কর, কখনও বলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা কর। “যারা নির্বাচনে ব্যর্থ, বিরোধী দল হিসেবে দায়িত্বশীল আচরণে ব্যর্থ, ডেঙ্গু প্রতিরোধেও ব্যর্থ। তাদের জন্যই আজকে জরুরি অবস্থা দরকার।” সারা দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলায় চিকিৎসকদের দিয়ে মনিটরিং সেল গঠন করছে আওয়ামী লীগ। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, “আজকে ডেঙ্গু এবং এইডিস মশা প্রতিরোধ করতে যে কর্ম তৎপরতা করেছে, আজকে আমরা এটাকে একটা লড়াই হিসেবে বেছে নিয়েছি। ডেঙ্গুমুক্ত বাংলাদেশ শেখ হাসিনার নির্দেশ। পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ এই অঙ্গিকারে আমরা নেমেছি। “গতকাল আমরা বিএমএ এবং স্বাচিবের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছি। সারা বাংলাদেশে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে মনিটরিং সেল গঠন করা হবে। সারা বাংলাদেশের সর্বত্রই এই মনিটরিং সেল মানুষের ডেঙ্গু আক্রান্ত চিকিৎসা, সনাক্তকরণ,পরীক্ষা, চিকিৎসা ঠিকমত হচ্ছে কি না। কোন অবহেলা হচ্ছে কি না এই সব বিষয় দেখবে।” প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার  নির্দেশে এই সেল গঠন করা হয়েছে বলে জানান কাদের।

ইবিতে রোটার‌্যাক্ট ক্লাবের বৃক্ষ রোপণ

ইবি প্রতিনিধি ॥ ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ে রোটার‌্যাক্ট ক্লাবের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচী পালন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুর ১টায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী এ বৃক্ষ রোপন কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন। এসময় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহিনুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সেলিম তোহা, সাবেক প্রক্টর ও সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান, সৌন্দর্যবর্ধন কমিটির সদস্য-সচিব ও প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আলিমুজ্জামান টুটুল, ক্লাবের মডারেটর ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল গফুর গাজী, ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজম্যান্ট বিভাগের শরিফুল ইসলাম জুয়েল, ক্লাবের সভাপতি শামিমুল ইসলাম সুমন ও সাধারন সম্পাদক রায়হান বাদশা রিপন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

দৌলতপুর সীমান্তে গাঁজা উদ্ধার

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে ৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার হয়েছে। শুক্রবার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউপি’র ঠোটারপাড়া বিওপি’র টহল দল শকুনতলা মাঠে অভিযান চালিয়ে ৪ কেজি ভারতীয় গাঁজা উদ্ধার করেছে। তবে উদ্ধার হওয়া মাদকের সাথে জড়িত কেউ আটক হয়নি।

আলমডাঙ্গার হারদী মীর সামসুল ইসলাম পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে  ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং ১ম পর্বে ক্লাস উদ্বোধন

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আলমডাঙ্গার হারদী মীর সামসুল ইসলাম পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে  ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং ১ম পর্বে ক্লাস উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল সকাল ১১টায়  মীর সামসুল ইসলাম পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট চত্তরে ক্লাস উদ্বোধন অনুষ্ঠানে  মীর সামসুল ইসলাম পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন  প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী হারদী ইউপি চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম। হারদী মীর সামসুল ইসলাম পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট ক্যাম্পাসটিতে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার মধ্যে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তাবলয় সৃষ্টি করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই এটি করা হয়েছে। জেলায় সর্বপ্রথম এই কলেজটির ক্যাম্পাসকে ফ্রী ওয়াইফাই নেটওয়ার্কভূক্ত করা হয়েছে। শিক্ষার মানোন্নয়নে আধুনিক সকল সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পলিটেকনিকের প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীদের বিশ^ব্যাংকের অর্থায়নে মাসিক ৮শ টাকা হারে উপবৃত্তি প্রদান করা হয়। ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ৯টি টেকনোলজীতে আগামী ২০ আগস্ট পর্যন্ত ছাত্রছাত্রী ভর্তির সুযোগ রয়েছে। বিশেষ অতিথি ছিলেন এমএস জোহা করেজের অধ্যক্ষ ওমর ফারুক, এমএস জোহা কৃষি কলেজের অধ্যক্ষ হামিদুল হক, প্রেসক্লাব সভাপতি শাহ আলম মন্টু, নার্গিস ইসলাম মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল্লাহ খান, হারদী সামসুদ্দীন আহমেদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ওমর খৈয়াম। প্রভাষক এ কে এম ফারুক হোসেনের উপস্থাপনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন  শিক্ষক বেলাল হোসেন, আসাদুজ্জামান, জাহিদুল হক, তরিকুল ইসলাম, শরিফুল ইসলাম, রেহানা খাতুন, হাসিবুল ইসলাম, সুজন সাহা, আশরাফুল ইসলাম, আবির প্রমুখ।

দেশে নিরাপত্তার জন্য আশ্রয় নেওয়ার কোনো জায়গা নেই – রিজভী

ঢাকা অফিস ॥ প্রশাসন ও বিচার বিভাগে দলীয়করণের অভিযোগ তুলে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, এখন দেশে নিরাপত্তার জন্য আশ্রয় নেওয়ার কোনো জায়গা নেই। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতার আহ্বানে এবং খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে শনিবার সকালে ঢাকার নয়া পল্টনে মিছিল শেষে সমাবেশে একথা বলেন তিনি। রিজভী বলেন, “আজকে বিচার বিভাগকে করায়াত্ত করা হয়েছে। ছাত্রলীগ-যুবলীগকে দিয়ে যেমন প্রশাসন সাজানো হয়েছে, তেমনি নানাভাবেই তারা (সরকার) এদেরকে ঢোকাচ্ছে।” উচ্চ আদালতে জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন খারিজের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “সবার আশা-ভরসার স্থল হচ্ছে উচ্চতর আদালত। সেই আদালতে যে রায় দেন দেশনেত্রীর জামিনের ব্যাপারে, গোটা জাতি হতবাক হয়েছে, হতাশ হয়েছে। “আমরা যাব কোথায়? আমাদের আশ্রয়ের জায়গা কোথায়? কারণ রাস্তায় দাঁড়ালে যুবলীগ-ছাত্রলীগ, যদি গলির মধ্যে যাই, সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাহলে আমাদের যাওয়ার জায়গা কোথায় আছে? আমরা একটা উপন্যাসে পড়েছিলাম, এক দিকে সমুদ্র, আরেক দিকে শয়তান, যাবে কোথায়? আজকে বাংলাদেশ ঠিক সেইরকম একটা পরিস্থিতির মধ্যে আছে।” এই অবস্থা থেকে উত্তরণে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব। তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের চেতনার শক্তি কি বাকশাল? মুক্তিযুদ্ধের চেতনার শক্তি কি একদলীয় শাসন? মুক্তিযুদ্ধের চেতনার শক্তি কিএক ব্যক্তির শাসন?” রিজভী বলেন, “ডেঙ্গু হচ্ছে, এটা মোকাবেলার খবর নাই। সবাই বলছে, তার যাতে ডেঙ্গু না হয় প্রধানমন্ত্রী লন্ডনে অবস্থান করছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী তার স্ত্রীকে নিয়ে গিয়েছিলেন মালয়েশিয়ায়। নিজেরা বাঁচবেন, জনগণ মরুক ডেঙ্গুতে, বন্যায় ভেসে যাক, কোনো পরোয়া নেই প্রধানমন্ত্রী ও তার সরকারের। “কারণ তারা তো দিনের আলোয় ভোটে নির্বাচিত নয়, তাদেরকে রাতের অন্ধকারের নির্বাচনে জিততে হয়। এই ধরনের সরকারের জনগণের প্রতি দায়িত্ব থাকবে কেন?” নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিলে যোগ দেন রিজভী। মিছিলটি কাকরাইলে নাইটেঙ্গল রেস্তোরাঁ পর্যন্ত গিয়ে আবার কার্যালয়ে ফিরে আসে। এই মিছিলে রিজভী ছাড়াও ছিলেন বিএনপির মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, নির্বাহী কমিটির সদস্য শাহ মো. আবু জাফর, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খানসহ মুক্তিযোদ্ধা দলের নেতারা।

আলমডাঙ্গা হারদী এমএসজোহা কলেজ ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ “নিজের কাজ নিজে করি, পরনির্ভরশীলতা পরিহার করি” এ স্লোগানকে সামনে রেখে আলমডাঙ্গা হারদী এমএসজোহা কলেজ ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কলেজ প্রাঙ্গনে থেকে এ কর্মসূচি শুরু করেন। এমএস জোহা কলেজের অধ্যক্ষ ওমর ফারুকের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন জোহা এন্ড ব্রাদার্স ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্টের সভাপতি হারদী ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম। বিশেষ উপাধ্যাক্ষ  নিয়ামত আলী, সহকারী অধ্যাপক জেসমিন আরা, ছালাহ উদ্দিন, রেজাউল করীম, আশরাফুল ইসলাম, রোকনুজ্জামান ডাবলু, আলী রেজা, আব্বাস আলী, মুনসুর আলী। প্রভাষক একেএম ওমর ফারুকের উপস্থাপনায় উপস্থিত ছিলেন মতিয়ার রহমান, জহুরুল ইসলাম, আব্দুস সামাদ, নজরুল ইসলাম, শাহিদ সরোয়ার, আব্দুল কুদ্দুস, খন্দকার সোলায়মান হোসেন, আক্তারুজ্জামান,  অহিদুল ইসলাম, ইদ্রিস আলী খানসহ সকল শিক্ষক কর্মচারী ও শিক্ষার্থীবৃন্দ। আলোচনা সভা শেষে কলেজ প্রাঙ্গনের সকল ঝোপঝাড় পরিস্কার করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরবেন ৮ আগস্ট

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চিকিৎসা শেষে আগামি ৮ আগস্ট দেশে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ। গতকাল শনিবার রাজধানীর শাহবাগে বারডেম হাসপাতালে বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) আয়োজনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় হানিফ এই তথ্য জানান। মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, ৫ (আগস্ট) তারিখে ডাক্তারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটা অ্যাপয়েনমেন্ট আছে। এরপর ৭ তারিখে রওনা দিবেন। ৮ তারিখে দেশে পৌঁছাবেন বলে আশা করি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশি দূতদের সম্মেলনে এবং অন্যান্য কর্মসূচিতে যোগ দিতে গত ১৯ জুলাই লন্ডনে যান। ২২ জুলাই লন্ডনের একটি হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রীর বাঁম চোখে অস্ত্রোপচার করা হয়।

কুষ্টিয়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্থগিত সম্মানী ভাতা প্রদানের দাবিতে মুক্তিযোদ্ধা সাংগঠনিক কমান্ডের সংবাদ সম্মেলন

নিজ সংবাদ ॥ ভাতাভোগী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্থগিত সম্মানী ভাতা প্রদানের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে কুষ্টিয়া বীর মুক্তিযোদ্ধারা। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের এম রাজ্জাক মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক-সাংগঠনিক কমান্ডের কমান্ডার ও মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডের সাবেক জেলা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক কুমার ঘোষ। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের স্থগিত ভাতা পবিত্র ঈদুল আযহা উৎসব পর্বের আগেই প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়াতে তা প্রকাশের জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহবান জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাংগঠনিক কমান্ডের ডেপুটি কমান্ডার যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ইকবাল মাসুদ, সদর উপজেলা কমান্ডের সাবেক উপজেলা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার লিয়াকত আলী নীলা, সাবেক সহকারী যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা মহসিন আলী মন্ডল, সাবেক ডেপুটি কমান্ডার যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম, সাবেক সহকারী কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইদুর রহমান, খোকসা উপজেলা কমান্ডের সাবেক উপজেলা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল, সাবেক ডেপুটি কমান্ডার মনজিল হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক, কুমারখালি উপজেলা কমান্ডের সাবেক উপজেলা কমান্ডার যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম নুরু, বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহিদ হোসেন, রবীন্দ্রনাথ সেন প্রমুখ মুক্তিযোদ্ধা নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডের সাবেক জেলা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক কুমার ঘোষ সাংবাদিকদের প্রাসঙ্গিক বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ নিজাম উদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা ইয়াছিন আলী, শহিদুল ইসলাম, দাউদ আলী, শেখ কাইজার আলী, আবু সাঈদ, আবল হোসেন, ওমর আলী, আফজাল খাঁ, সোলাইমান হোসেন, আব্দুল জব্বার, কাউসার আলী, মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী সাজেদা খাতুন, হাবিবুর রহমান, আব্দুল খালেক, হোসেন আলী, লোকমান হাকিম, কুষ্টিয়া সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সেক্রেটারী সাইদুল ইসলাম সিরাজুল প্রমুখ সহ প্রায় শত বীর মুক্তিযোদ্ধা। কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক-সাংগঠনিক কমান্ডের কমান্ডার ও মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডের সাবেক জেলা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক কুমার ঘোষ তার বক্তব্যে বলেন, ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে আমরা জীবন বাজি রেখে শত্রু মোকাবেলা করতে ঝাপিয়ে পড়ি। এ দেশের মাটি ও মানুষের মুক্তির জন্য। যুদ্ধে দেশের অন্যান্য স্থানের চেয়ে বৃহত্তর কুষ্টিয়া জেলার মুক্তিযোদ্ধাদের সকলের অংশ গ্রহণ একটু হলেও ভিন্ন মাত্রার এবং যুদ্ধ সংকল্পে ঝুঁকি মোকাবেলায় ও তা ছিল তীব্রতর। আমাদের অনেকের জীবন উৎসর্গ এবং রক্তের বিনিময়ে ৯ মাসের যুদ্ধে অংশ গ্রহণের মাধ্যমে এসেছে স্বাধীনতা এবং বাংলাদেশ নামক এক স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র। দেশ স্বাধীনের  পরে বিশেষ  করে ৭৫ সালে জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্ব পরিবারে হত্যার জন্য আমাদের স্বাধীনতা এবং জাতির উপরে নেমে আসে অমানিষার ঘোর অন্ধকার। তারই ধারাবাহিকতায় দেশের স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি রাষ্ট্রিয় ক্ষমতায় এসে মুক্তিযোদ্ধাদের মূলনীতি ত্যাগ করে সাম্প্রদায়িকতা ছড়িয়ে দেয়। বিভেদ সৃষ্টি করে মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে। যে কারণে যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে তদানিন্তন বঙ্গবন্ধু সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়ন করে যেতে না পারলেও তৎ পরবর্তী সামরিক সরকার বারবার এই তালিকায় সংযুক্ত করেছে রাজাকারদের নাম। অতঃপর ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধু কন্যা এবং গণ মানুষের প্রাণের নেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি স্বচ্ছ তালিকা প্রণয়ন করেন। যে তালিকায় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা সম্মানীত হয়েছেন। এই অবস্থার প্রেক্ষিতে দেশের অন্যান্য স্থানের মত কুষ্টিয়া সদর উপজেলাসহ অন্যান্য উপজেলাতেও একটি স্বচ্ছ তালিকা প্রকাশিত হয়। ২০১৭ সালে আরও যাচাই বাচাই করে আরেকটি স্বচ্ছ তালিকা তৈরীর চেষ্টা অব্যাহত আছে। যে কারণে ঐ সময়ে ১১৮ জন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা তৎক্ষনিকভাবে উপযুক্ত প্রমাননক উপস্থাপন করতে না পারায় তালিকায় “গ” শ্রেণী তালিকাভুক্ত হয়। ঐ কারণে গত এপ্রিল ২০১৯ মাস হতে ঐ তালিকার “গ” শ্রেণীর জন্য কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ১১৮ জনসহ অন্য ৫টি উপজেলার মোট ২৯৬ জন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা স্থগিত করে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়। সরকার যখন প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান জানাতে “গার্ড অব অনার” প্রদান করছেন তখন কুষ্টিয়া সদরের ১১৮ জনসহ মোট ২৯৬জন বীরমুক্তিযোদ্ধার ভাতা স্থগিত বিষয়টি অনাকাঙ্খিত ও দুঃখজনক। দেশ মাতৃকার সূর্য সন্তানেরা অনাহার ও অবহেলায় থাকলে জাতি কলঙ্কিত হয়। আমাদের ভাতা স্থগিত হলে মানববন্ধন, মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ, স্মারকলিপি প্রদানসহ সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করি। এছাড়াও সশ্লিষ্ট দপ্তরে ভাতা প্রদানের ব্যাপারে চেষ্টা, তদবির অব্যাহত রেখেছি। সর্বশেষ কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক ২৫ জুলাই ২০১৯ তারিখে পত্র নং ৪৯ মোতাবেক বিধিবিধান অক্ষুন্ন রেখে ১১৮ জন মুক্তিযোদ্ধাসহ স্থগিত সকল উপজেলার সম্মানী ভাতা চালুকরার সুপারিশ করে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রনালয়ে অনুরোধ পত্র প্রেরণ করেছেন। কেননা মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের গত ২৪ এপ্রিল ২০১৯ তারিখের পত্র নং ১০০ মোতাবেক এবং একই মন্ত্রণালয়ের ১১জুন ২০১৯ তারিখের স্বরক মোতাবেক মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা প্রদান অব্যাহত রাখতে নির্দেশনা রয়েছে। অতএব আজকের এই সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে অবিলম্বে সম্মানী ভাতা বঞ্চিত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা চালু করতে এবং ২০১৭ সালের যাচাই বাচাই তালিকার সংযুক্ত প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকার গেজেট প্রকাশের অনুরোধ জানানো যাচ্ছে।

ডাঃ লিজা-ডাঃ রতন ম্যাটস ও ডাঃ লিজা নার্সিং ইনস্টিটিউট’র নবীণ বরণ অনুষ্ঠান

নিজ সংবাদ ॥ ডাঃ লিজা-ডাঃ রতন ম্যাটসের ৮ম ব্যাচ ও ডাঃ লিজা নার্সিং ইনস্টিটিউট এর ৩য় ব্যাচের নবীন বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার কুষ্টিয়া শহরস্থ ডাঃ লিজা-ডাঃ রতন ম্যাটস এর গ্যলারীতে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি হাজী রবিউল ইসলাম। তিনি উপস্থিত সকলকে দেশের কল্যাণে কাজ করার আহবান জানান। এতে সভাপতিত্ব করেন ডাঃ লিজা নার্সিং ইনস্টিটিউট’র চেয়ারম্যান ও ডাঃ লিজা-ডাঃ রতন ম্যাটসের অধ্যক্ষ ডাঃ এ এফ এম আমিনুল হক রতন। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ডাঃ লিজা-ডাঃ রতন ম্যাটসের চেয়ারম্যান ডাঃ আসমা জাহান লিজা। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ২৫০ শর্য্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ নুরুননাহার বেগম, কুষ্টিয়া কোর্টের জিপি এ্যাডঃ আসম আক্তারুজ্জামান মাসুম, এফ পি এ বি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি চৌধুরী মোর্শেদ আলম মধু, বাংলাদেশ-ভারত সম্প্রতি পরিষদ জেলা শাখার যুগ্ম-সম্পাদক হাবিবুল হক পুলক, নার্সিং ইনস্টিটিউট কুষ্টিয়া’র অধ্যক্ষ মোছাঃ রাজিয়া বেগম, ডাঃ লিজা নার্সিং ইনস্টিটিউট’র অধ্যক্ষ মিসেস হাফিজা বেগম, কুষ্টিয়া বড় বাজার ব্যবসায়ি সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুজ্জামান বিশ্বাস জনি প্রমুখ।

জিকে সেচ প্রকল্পের অধীনে পানি ব্যবস্থাপনা দলের নিবন্ধন  সনদপত্র বিতরণকালে প্রকৌঃ খালেকুজ্জামান

দেশে খাদ্য উৎপাদনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভূমিকা প্রশংসনীয়

নিজ সংবাদ বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কুষ্টিয়ার উপপ্রধান সম্প্রসারণ  দপ্তরের  আয়োজনে জিকে সেচ প্রকল্পের অধীনে টিড,জি/এস একে পানি ব্যবস্থাপনা দলের মধ্যে নিবন্ধন  সনদপত্র বিতরন অনুষ্ঠান গতকাল দুপুরে বাড়াদী সেচ প্রশিক্ষন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাপাউবো কুষ্টিয়া সেচ সম্প্রসারণ দপ্তরের মূখ্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আইয়ুব আলী। প্রধান অতিথি ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ড পশ্চিম রিজিয়নের  অতিরিক্ত মহাপরিচালক খন্দকার খালেকুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধান প্রকৌশলী (পশ্চিমাঞ্চল) একেএম ওয়াহেদ উদ্দীন চৌধুরী, বাপাউবো কুষ্টিয়ার তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান, বাপাউবো কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী পিযুষ কৃষ্ণ কুন্ডু, বাপউবো পশ্চিম রিজিয়নের উপসচিব আতিকুর রহমান, আইইটিসি বাড়াদীর অধ্যক্ষ আব্দুল মতিন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাপাউবো শ্রমিককর্মচারী লীগ জেরিঃ ১৮৮৭ (সিবিএ) কুষ্টিয়ার সভাপতি লিয়াকত আলী সাধারন সম্পাদক আইয়ুব হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট পানি ব্যবস্থাপনা দলের কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড পশ্চিম রিজিয়নের অতিরিক্ত মহাপরিচালক খন্দকার খালেকুজ্জামান বলেন, সেচ সুবিধার মাধ্যমে দেশের কৃষকেরা অধিক ধান খাদ্র শষ্য উৎপাদনে বিশেষ ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। দেশ আজ খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ং সম্পুর্ণ অর্জন করেছে যার অংশীদার বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভিন্ন সেচ প্রকল্প যার মধ্যে জিকে প্রকল্প অন্যতম। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নের স্বার্থে সকলকে নিষ্ঠা সততার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সরকারের উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে আমাদের সকলের দায়বদ্ধতা রয়েছে তাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে আমাদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। তিনি বলেন, আজ আপনারা যারা এই সনদ গ্রহন করছেন তাদের অনেক দায়িত্ব বেড়ে গেল আমরা আশা করবো আপনারা আরো বেশি পরিশ্রমী হবেন এবং এই সনদের মর্যাদা রক্ষায় আরো অগ্রনী ভুমিকা রাখতে পারবেন। তিনি জিকে সেচ প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন সেই সাথে  সকলকে এর ধারাবাহিকতা রক্ষায় আরো বেশি আন্তরিক হওয়ার আহবান জানান। পরে তিনি পানি ব্যবস্থাপনা দলের সদস্যদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।

এডিস মশা আওয়ামী লীগ, বিএনপি দেখে না – গয়েশ্বর

ঢাকা অফিস ॥ ডেঙ্গু মোকাবেলায় সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার উপর জোর দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। গতকাল শনিবার এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “এডিস মশা আওয়ামী লীগকেও চিনে না, বিএনপিও চিনে না, সরকারি দল চিনে না, ডাক্তারও চিনে না, ইঞ্জিনিয়ারও চিনে না, ধনীও চিনে না, গবিবও চিনে না। এদের সুযোগ দিলে সুযোগটা পায়। এই ডেঙ্গু সমস্যার সমাধান মিলে-মিশে করতে হবে, সম্মিলিতভাবে করতে হবে।” এই প্রসঙ্গে গয়েশ্বর ডেঙ্গুর সঙ্গে ক্ষমতাসীনদের তুলনাও করেন। তিনি বলেন, “ডেঙ্গু বনাম খুন-গুম-নারী নির্যাতন। এই দুইটা যদি প্রতিযোগিতা হয়, দেখা যাবে ডেঙ্গু এখনও শিরোপা অর্জন করে নাই। ডেঙ্গুতে এই পর্যন্ত যতজন মারা গেছে, তার চেয়ে গুম-খুন-নারী নির্যাতনে লাশের মিছিল অনেক বড়। তাহলে ডেঙ্গুর চেয়ে ভয়াবহ কে? এই সরকার। তারা ডেঙ্গুর চেয়েও ভয়ানক।” গয়েশ্বর রায় বলেন, “দুইটা সিটি করপোরেশন আছে। মানুষ রসিকতা করে বলে সিটি করাপশন। অর্থাৎ এই সিটি ভবন মানে এখানে করাপশনের আড্ডাখানার আওতায়। সব এলোমেলো। প্রতি বছর কিন্তু মশা মারার নির্ধারিত বাজেট আছে। ডেঙ্গুর বাইরে কিন্তু সাধারণ মশা আছে। এই সাধারণ মশা মারার একটা প্রকল্প আছে, তাদের সুনির্দিষ্ট বিভাগ, কর্মকর্তা-কর্মচারী আছে। প্রতি বছর ঔষধ বা ভেজাল যেটাই বলুন কেনা হয়। এগুলো কী হয়? এগুলো যা হবার যথারীতি তাই নয়। এগুলো ভাগাভাগি হয়।” সিটি করপোরেশন মশা মারার কাজটি সঠিকভাবে করলে ডেঙ্গুর সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করত না বলে মনে করেন গয়েশ্বর। গয়েশ্বর বলেন, “এই সরকার খুব ভালো অবস্থায় নেই। এটা মন্ত্রীদের কথা-বার্তায় মনে হয়। আর প্রধানমন্ত্রী ছাড়া তো কেউ কথাও বলেন না। চিকিৎসার জন্য লন্ডন গেছেন। দেশের অবস্থা যত খারাপ, তার চেয়ে মনে হয়, প্রধানমন্ত্রীর অবস্থা ভয়াবহ। তা না হলে তিনি তাড়াতাড়ি দেশে আসতেও পারতেন। “তিনি যখন আসতে পারছেন না। দেশের মানুষ বন্যায় ভাসতেছে, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। মনে হচ্ছে, তিনি (প্রধানমন্ত্রী) কঠিন অবস্থায় আছেন। তার অবস্থাটাকে পরিপূর্ণভাবে নিশ্চিত না করে তিনি দেশে ফিরতে পারছেন না।” প্রধানমন্ত্রীর সুস্থতা কামনা করে বিএনপি নেতা বলেন, “উনার চোখটা সুস্থ করুক, মনটা সুস্থ করুক, ভাবনাটাকেও সুস্থ করুক। আমরা মানুষের অমঙ্গল কামনা করি না।” গয়েশ্বর রায় বলেন, “আজকে দেশে গণতন্ত্র নেই। একজনের কথাই সব চলে। মারা গেছে, ঘোষণা দিতে উনার অনুমতি লাগবে। মারা গেছে ১৪ দিন আগে, ১৪ দিন লাইভ সাপোর্টে। কারণ উনার নির্দেশ পাওয়া যাচ্ছে না। “আবার উনি ঠিক করবেন, কোন পার্টিতে কে প্রেসিডেন্ট হবেন, কে সংসদের বিরোধী দলের নেত্রী হবেন। সব পার্টি উনি চালাবেন। উনার জোটে ১৪টা দল আছে।” “আমি বলব, প্রধানমন্ত্রী সবই করবেন, সবই পারেন। আরেকটা কাজ করে দেন, একটা আইন করে দেন। আপনি দেশের প্রধানমন্ত্রী পদাধিকার বলে সব দলের আপনি সভাপতি এবং আপনার কথামতো আমাদেরকে চলতে হবে। তাহলে পরিষ্কার বলতে পারব, সরাসরি আপনার কথায় চলি,” তীর্যক সুর গয়েশ্বরের। জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয় মানবাধিকার আন্দোলনের উদ্যোগে ‘মানবাধিকার ও আইনের শাসনের চরম অবনতি : কোন পথে বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন গয়েশ্বর। সংগঠনের সভাপতি মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে ও খন্দকার মো. মহিউদ্দিন মাহির সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল্লাহ-হিল মাসুদ, মিয়া মো. আনোয়ার, আসম মোস্তফা কামাল, নাদিয়া পাঠান বক্তব্য রাখেন।

বিএনপির জন্যই জরুরি অবস্থা দরকার – ওবায়দুল কাদের

ঢাকা অফিস ॥ ডেঙ্গুর প্রকোপে দেশে জরুরি অবস্থা জারি করা দরকার, বিএনপির এমন দাবির প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দেশের জন্য নয়, বিএনপির জন্য জরুরি অবস্থা জারি করা দরকার। গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর ফার্মগেটের আনন্দ সিনেমা হলের সামনে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও সচেতনতামূলক প্রচারপত্র বিতরণের সময় এ কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। এ সময় সেতুমন্ত্রী আরো বলেন, আজকে দল হিসেবে বিরোধী দলেরও দায়িত্ব আছে। পরিচ্ছন্নতা অভিযানে কোথাও তারা নেই। তারা কখনো বলে, ‘মহামারি ঘোষণা করো’, কখনো বলে, ‘জরুরি অবস্থা ঘোষণা করো’। জরুরি অবস্থা তাদের দরকার, যারা জরুরি সংকটে আছে। ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, দল হিসেবে ব্যর্থতার দগদগে ঘা যাদের, যারা নির্বাচনে ব্যর্থ, আন্দোলনে ব্যর্থ; যারা দেড় বছরেও খালেদা জিয়ার জন্য দেড় মিনিটও আন্দোলন করতে পারেনি; বিরোধী দল হিসেবে দায়িত্বশীল আচরণে ব্যর্থ, ডেঙ্গু প্রতিরোধেও ব্যর্থ, তাদের জন্যই আজকে জরুরি অবস্থা দরকার, জরুরিভাবে তাদের সংকট থেকে উদ্ধার করার জন্য। এ সময় বিএনপিকে ইঙ্গিত করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরো বলেন, যারা কাজ করে না, তারাই আজকে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। যারা বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়ায় না, তারাই বন্যা দুর্গতদের নিয়ে রাজনীতি করে। যত দোষ নন্দ ঘোষ, সরকারের ঘাড়ে দোষ চাপায়। এদিকে দেশকে খারাপ কিছুর হাত থেকে রক্ষা করতে ডেঙ্গু নিয়ে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কম কথা বলার পরামর্শ দিয়েছেন সেতুমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ সময় অতি কথা দেশের জন্য খারাপ ফল বয়ে আনতে পারে। অতি কথন থেকে দায়িত্বশীল সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা কথা কম বলব, কাজ করব। এ সময়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। এ সময় অতি কথা দেশের জন্য খারাপ ফল বয়ে আনতে পারে। অতি কথন থেকে দায়িত্বশীল সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। কথা কম বলে আমাদের বেশি বেশি করে কাজ করতে হবে। মানুষকে বাঁচাতে হবে, আতঙ্ক থেকে বাঁচাতে হবে। সতর্কতা অবলম্বন করে সবাইকে ঈদে বাড়ি যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, একটা মহল আতঙ্ক ছড়াচ্ছে, যেন ঈদের সময় মানুষ বাড়িতে না যায়। বাড়িতে কেন যাবেন না? সবারই ইচ্ছে আছে পরিবার-পরিজন নিয়ে আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করার। সবাই বাড়ি যাবেন, কিন্তু সতর্ক থাকবেন। আমাদের অনুরোধ, ডেঙ্গু সম্পর্কে সতর্ক থাকবেন। সারা দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় চিকিৎসকদের নিয়ে মনিটরিং সেল গঠন করা হচ্ছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, গতকাল (গত শুক্রবার) আমরা বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) এবং স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছি। সারা বাংলাদেশে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে মনিটরিং সেল গঠন করা হবে। সারা বাংলাদেশের সর্বত্রই এই মনিটরিং সেল ডেঙ্গু আক্রান্ত মানুষের চিকিৎসা, শনাক্তকরণ, পরীক্ষা, চিকিৎসা ঠিকমতো হচ্ছে কি না, কোনো অবহেলা হচ্ছে কি না, এসব বিষয় দেখবে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এই সেল গঠন করা হয়েছে। আমরা বৈঠক করেছি, আজকের বৈঠক চূড়ান্ত রূপ নেবে। যত দিন না পর্যন্ত পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ, ডেঙ্গুমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে পারব, তত দিন আমাদের লড়াই চলবে। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, বিএম মোজাম্মেল হক, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসিম কুমার উকিল, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম প্রমুখ। সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে ওই এলাকায় মশার ওষুধ ছিটানো হয় এবং নেতাকর্মীরা পরিচ্ছন্নতা কাজে অংশ নেন।

ডেঙ্গু নিয়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণার দাবি ফখরুলের

ঢাকা অফিস ॥ ডেঙ্গু নিয়ে সরকারকে রাজনীতি না করে পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি অবস্থা ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার বিকেলে ধানমন্ডির ল্যাবএইড হাসপাতালে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনারসহ কয়েকজন রোগীকে দেখার পর সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, আমি এখানে কয়েকজন ডেঙ্গু রোগীকে দেখলাম। সারাদেশেই এটা ছড়িয়ে পড়েছে। আমরা বিশেষজ্ঞদের কাছে শুনতে পাচ্ছি এটা কনটিনিউ করবে। এ কারণে একটি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে জরুরি অবস্থার ভিত্তিতে এর মোকাবিলা করা দরকার সম্মিলিতভাবেই। আমরা মনে করি, এখন অন্য রাজনীতি না করে দ্রুত মানুষকে বাঁচানোর জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হোক। মশার ওষুধ বিদেশ থেকে জরুরিভিত্তিতে আনার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আপনারা একটা জিনিস খেয়াল করলে দেখবেন, বাংলাদেশ কিন্তু এখন সরকার চালায় না। মানে প্রশাসন কিংবা বিমান মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ চালাচ্ছে না। বাংলাদেশ চালাচ্ছে এখন বিচার বিভাগ। আদালতের হুকুম হয় তারপরে কথা-বার্তা হয়, নড়াচড়া করে। ডেঙ্গু প্রতিরোধ করার ক্ষেত্রে তারা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। আমরা মনে করি ওদিকে না গিয়ে অবিলম্বে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে জরুরিভিত্তিতে নেওয়া উচিত। তিনি বলেন, প্রত্যেক পরিবার এখন দুচিন্তাগ্রস্ত। বিশেষ করে শিশুদের নিয়ে। আমি এখন দেখে এলাম তারা অনেকেই বেশ সংকটাপন্ন অবস্থায় আছে। আমার মনে হয়, সরকারের উচিত হবে আর কালবিলম্ব না করে সংশ্লিষ্ট সবার কাছ থেকে এবং আমাদের যারা চিকিৎসক আছেন তাদের সবার কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে কাজ করা উচিত। এসময় দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য অধ্যাপক একেএম আজিজুল হক, ড্যাবের অধ্যাপক হারুন আল রশিদ, অধ্যাপক আবদুস সালাম, ডা. আবদুস সেলিম, ডা. জহিরুল ইসলাম সাকিল, ডা. এটিএম ফরিদ, ডা. শাহ আমানউল্লাহ, ডা. এফরানুল হক সিদ্দিকী, ডা. পারভেজ রেজা কাকন বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান উপস্থিত ছিলেন।

যৌতুকের দাবীতে গৃহবধূকে নির্যাতনের অভিযোগ

মিরপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর গ্রামে যৌতুকের দাবীতে স্বামী ও তার পরিবারের অন্য সদস্যদের অমানুষিক নির্যাতনে শিকার হয়ে এক গৃহবধূ মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে। এ ঘটনায় ওই গৃহবধূর ভাই তরিকুল ইসলাম বাদী হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। সূত্র জানায় ছয় বছর পূর্বে মিরপুর উপজেলার তালতলা মহল্লার মৃত মীর মোহাম্মদ উল্লাহ’র মেয়ে টুম্পা খাতুনের (২৫) সাথে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর গ্রামের মৃত মকলেস মন্ডলের ছেলে জহুরুল ইসলামের (৪০) সামাজিকভাবে বিয়ে হয়। জহুরুলের পূর্বে ২টি বউ থাকা সত্বেও তা গোপন করে সে টুম্পাকে বিয়ে করেন। পূর্বের বউ দু’টিও তার নির্যাতন সইতে না পেয়ে চলে যায় বলে জানা গেছে। বিয়ের সময় মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে টুম্পার পরিবার ১ লাখ টাকা যৌতুক প্রদান করেন। পরে জহুরুল সিঙ্গাপুরে চলে যান। সিঙ্গাপুর থাকাকালীন সে তার তালাকপ্রাপ্ত প্রথম স্ত্রী জুবাইদা নাহার এ্যানি’র সাথে গোপনে যোগাযোগ রাখতে শুরু করে। এক বছর পূর্বে জহুরুল দেশে ফিরে আসলে প্রথম স্ত্রীর সাথে তার গোপনে যোগাযোগের বিষয়টি প্রকাশ পায়। এ নিয়ে তাদের সংসারে মাঝে মধ্যে অশান্তি শুরু হয় বলে টুম্পা অভিযোগ করেন। পুনরায় জহুরুল সিঙ্গাপুরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে টুম্পা পরিবারের নিকট আবারো ১ লাখ টাকা যৌতুক দাবী করেন। টুম্পার পিতা জীবিত না থাকায় সে তার ভাইদের নিকট থেকে টাকা এনে দিতে অস্বীকৃতি জানালে ৩০ জুলাই সকালে যৌতুক লোভী স্বামী জহুরুল, শ্বাশুড়ী বেলা খাতুন, ভাসুর রইচ উদ্দিন ও রবিউল ইসলাম শারীরিক নির্যাতন করে তাকে ঘরে বন্দী করে রাখে। প্রতিবেশিদের নিকট থেকে সংবাদ পেয়ে টুম্পার ভাই তরিকুল ইসলাম কুষ্টিয়া মডেল থানার স্মরণাপন্ন হলে মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ নাসির উদ্দিনের নির্দেশে এসআই মোস্তাফিজুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে তাকে উদ্ধার করে। পরে আহত গৃহবধূ টুম্পাকে গতকাল শনিবার মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

 

রোহিঙ্গা গণহত্যা ধামাচাপা দিতে চায় আসিয়ান!

ঢাকা অফিস ॥ রোহিঙ্গা শরণার্থী ও মিয়ানমারের মধ্যে আলোচনায় উৎসাহিত করার কথা বলেছে দক্ষিণপূর্ব এশীয় দেশগুলোর সংস্থা আসিয়ান। এতে ক্ষোভে ফেটে পড়েন রোহিঙ্গা মানবাধিকার কর্মীরা। তাদের অভিযোগ, মিয়ানমারের অপরাধ ঢাকার চেষ্টা করছে সংস্থাটি। মূলত মিয়ানমারের সেনা বাহিনীর অপরাধ ও প্রত্যাবাসন পরিকল্পনার বড় ভুলগুলো ঢাকতেই এমনটি করছেন তারা। খবর আল-জাজিরার। ১০ সদস্যের এই বাণিজ্য সংস্থার মানবাধিকার শাখার একটি দলের সঙ্গে মিয়ানমার সরকারের একটি প্রতিনিধি দল গত সপ্তাহে শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করে। রোহিঙ্গা নেতা ও মানবাধিকার কর্মীদের সঙ্গে প্রত্যাবাসন আলোচনা শুরু করতেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে গণহত্যা ও নিপীড়ন থেকে পালিয়ে বাঁচতে ২০১৭ সালের আগস্টে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে সাত লাখ ৩০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশের কক্সবাজারে আশ্রয় নিয়েছেন। যাইহোক, সহযোগিতা সংস্থাগুলোর সঙ্গে রোহিঙ্গাদের সম্পর্কও ঝুঁকিতে পড়েছে। ইতিমধ্যে তাদের মধ্যে অনাস্থাও তৈরি হয়েছে। মিয়ানমারের সঙ্গে গোপনে প্রত্যাবাসন চুক্তি সই ও রোহিঙ্গাদের পরিচয়পত্র পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কারণে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের প্রতি রোহিঙ্গা অধিকার কর্মীদের অবিশ্বাস দেখা দিয়েছে। রোহিঙ্গারা এসব প্রকল্পের বিরোধিতা করেছেন। নিরাপত্তা বাহিনী তাদের সই নেয়ার চেষ্টা করলে সহিংসতা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ করছেন রোহিঙ্গা নেতারা। কয়েক লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে প্রশংসিত হয়েছে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ। তবে এখানে রোহিঙ্গাদের ওপর বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করে দেয়া হয়েছে। তারা মুক্তভাবে চলাফেরা যেমন করতে পারেন না, তেমনি শিক্ষার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। এছাড়া তারা কোনো উপার্জনেও যেতে পারছেন না। রোহিঙ্গাদের আনুষ্ঠানিকভাবে শরণার্থীর মর্যাদাও প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। আসিয়ান ও মিয়ানমারের প্রতিনিধি দলের পরিদর্শনের সময় তাদেরকে এক রোহিঙ্গা কর্মী জিজ্ঞাসা করেন, রাখাইনে রোগবালাইন উপদ্রুত বন্দিশিবিরে আটকাপড়া এক লাখ ২৮ হাজার রোহিঙ্গার সহায়তায় তারা কী করছেন? জবাবে এক প্রতিনিধি বলেন, আপনাদের সব সমস্যার সমাধান করতে আমরা এখানে আসিনি। তার এই জবাবের মধ্যে উদাসীনতা ও অনীহা দেখতে পেয়েছেন কেউ কেউ এবং নিশ্চিত হয়েছেন যে রোহিঙ্গাদের অধিকার সুরক্ষা নিয়ে আসিয়ান সদস্যদের কোনো মাথা ব্যথা নেই। মোহাম্মদ নওকিম নামের এক রোহিঙ্গা কর্মী বলেন, আমি জানি আসিয়ান কিছুই করতে পারবে না। কিন্তু রোহিঙ্গাদের অধিকারের জন্য তো তারা কথা বলতে পারেন। রো সাওয়াদেল্লাহ নামের আরেকজন বলেন, তারাই ঠিক। তারা এখানে আমাদের সমস্যার সমাধানে আসেননি। তারা এখানে এসেছেন সময় অপচয় করতে। আরনেল কাপিলি নামের এক আসিয়ান প্রতিনিধি বলেন, জবাবটি অপ্রাসঙ্গিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ওই প্রতিনিধি বোঝাতে চেয়েছেন যে একবার গিয়েই সব সমস্যার সুরাহা করা যাবে না এবং সেখানে সংলাপের দরকার আছে। কিন্তু ফ্রি রোহিঙ্গা কোয়ালিশনের গবেষণা সমন্বয়ক ইয়াসমিন উল্লাহ বলেন, গণহত্যার অপরাধের জন্য আসিয়ান সদস্য হিসেবে মিয়ানমারকে শাস্তির বাইরে দেখতে চায় এই সংস্থা। সদস্য দেশগুলোর মধ্যকার অর্থনৈতিক সম্পর্ককেই অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে এতে। এই নারী গবেষক বলেন, একটি গণহত্যাকারী কর্তৃত্বপরায়ন সরকার হিসেবে মিয়ানমারের ভাবমর্যাদা এই সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। আর এ ব্যাপারে আসিয়ান খুবই সচেতন যে তাদের ওপরও দায় পড়ছে। গত মাসে যখন এএইচএ সেন্টারের অংশ হিসেবে জরুরি প্রতিক্রিয়া এবং মূল্যায়ন দল একটি প্রতিবেদনে রোহিঙ্গাদের মসৃণ ও সুশৃঙ্খল প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার ভবিষ্যদ্বাণী করেন, তখনই সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয় আসিয়ানকে। প্রতিবেদনের লেখকরা কোনো রোহিঙ্গা শরণার্থীর সঙ্গে কথা বলেননি এবং গণধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ও বাড়িঘর থেকে চলে আসতে যে বাধ্য করা হয়েছে, সেই কথাও উল্লেখ করেননি। এমনকি রোহিঙ্গারা বর্তমানে রাখাইনে যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন, সেই কথাও নেই তাদের ওই প্রতিবেদনে। মালয়েশিয়ার রাজনীতিবিদ ও আসিয়ান পার্লামেন্টারিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটস অ্যাডভোকেসি গ্র“পের চেয়ারম্যান চার্লস সান্তিয়াগো বলেন, কোনো ধরনের প্রশ্ন ছাড়াই মিয়ানমার সরকারের বিবরণ গ্রহণ করা হয়েছে ওই প্রতিবেদনটিতে। তিনি বলেন, সেখানে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নৃশংসতাকে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। যখন তারা কোনো একজন শরণার্থীর সঙ্গেও কথা বলতে পারেননি, তখন কীভাবে তারা প্রত্যাবাসন পরিস্থিতি মূল্যায়ন করবেন? বিভিন্ন সদস্য দেশের নেতাদের প্রকাশ্য বিবৃতি বিশ্লেষণ করে এ কথা বলা যায় যে রোহিঙ্গাদের নিয়ে আসিয়ানের দৃষ্টিভঙ্গিও বিভ্রান্তিমূলক ও অসঙ্গত। চলতি সপ্তাহে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে আসিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলন সামনে রেখে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নিপীড়নে দায়ীদের বিচার আওতায় আনা মিয়ানমারের জন্য অপরিহার্য। আরেকটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ইন্দোনেশিয়া প্রতিবেশী মালয়েশিয়ার তুলনায় আরও স্পষ্টভাষী ও প্রতিবাদী। গত বছর রোগিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সহিংসতাকে গণহত্যা আখ্যায়িত করেন ফিলিপিন্সের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তে। সদস্য দেশগুলোতে তাদের আশ্রয় দেয়ার প্রস্তাব দেন। সপ্তাহখানেক পরে মিয়ানমারের নেতা অং সান সুচির কাছে দুঃখপ্রকাশসুলভভাবে বলেন, তার ওই মন্তব্য ছিল বিদ্রুপাত্মক।