আলমডাঙ্গা প্রাইম পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সের নবাগত শিক্ষার্থীদের ক্লাস উদ্বোধন

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আলমডাঙ্গা প্রাইম পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের নবাগত শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে ক্লাস উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার  সকাল ১১টায় প্রাইম পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের  সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মাশরেকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক প্রভাষক ইদ্রিস খান, আলমডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি শাহ আলম মন্টু, প্রাইম পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মামুনুর রহমান। শিক্ষক এমদাদ হোসেনের উপস্থাপনা উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক সোহানী ইয়াসমিন, তানজিলা ইয়াসমিন, শাহাজান আলী, ইজরাঈল হোসেন, রোমান আল মামুন, মৌসুমি আক্তার, সাজ্জাদ হোসেন, আলী আহমেদ, শিক্ষার্থী ইয়ামুল রুদ্র, ফাহিম ফাইসাল প্রমুখ।

আলমডাঙ্গার মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক শাফায়েত-উল ইসলাম চলে গেলেন না ফেরার দেশে

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আলমডাঙ্গার মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা সাফায়েতুল ইসলাম (৮৬) গতকাল ১ আগস্ট বেলা ১২ টার দিকে তার নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না…রাজিউন)। জানাগেছে, বীর মুক্তিযোদ্ধা সাফায়েতুল ইসলাম দীর্ঘদীন রোগভোগের পর বার্ধক্যজনিত কারনে ১ আগষ্ট বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে নিজ বাড়ি বাদেমাজু গ্রামে মৃত্যুবরণ করেছেন। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে এদেশের মানুষ যখন পাকিস্হানিদের বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলন শুরু করে, তখন সারা দেশের ন্যায় আলমডাঙ্গার তৎকালীন থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাফায়েতুল ইসলাম তার সহকর্মি সাধারন সম্পাদক ডাঃ শাহাবুদ্দিন আহমেদ সাবু, আনোয়ার আহম্মদ আনু মিয়া, আব্দুর রশিদ মোল্লা, কাজী কামালসহ যুবলীগ, ছাত্রলীগের ছেলেদের নিয়ে একটি সংগ্রাম কমিটি গড়ে তোলেন এবং আলমডাঙ্গা কলেজে যুদ্ধকালিন কন্টোল রুম তৈরি করে কাজ শুরু করেন। এ ছাড়াও কুষ্টিয়া প্রতিরোধ যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন, তৎকালিন এমপি বাদল রশিদ,ডাঃ আসাহাবুল হক হ্যাবার সাথে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রক্ষা করেছেন। এর পর মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে সকলের মত সাফায়েতুল ইসলাম ভারতে চলে যান এবং করিমপুর ইয়থ ক্যাম্পের দায়িত্ব গ্রহন করেছিলেন।¯ ^াধীনতার পর তিনি ১৯৭৩ সালে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন না পেলে জাসদে যোগ দেন, পরবর্তিতে ১৯৭৯ সালে জাসদের পক্ষ হয়ে মশাল মার্কা প্রতিক নিয়ে নির্বাচন করেছিলেন। পরবর্তিতে আবারও আওয়ামীলীগে ফিরে এসেছিলেন। তিনি চলে গেলেও তার অসংখ্য স্মৃতিময় কর্ম আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবে। তিনি ছিলেন একাধারে একজন নির্লোভ রাজনীতিবিদ, নিঃস্বার্থ শিক্ষানুরাগী, পরপোকারী জনপ্রতিনিধি এবং সমাজসেবক। তার জ্ঞানের ভান্ডার ছিলো অপরিসীম। তিনি একজন সুলেখক ছিলেন, তিনি ইত্তেফাক পত্রিকায় বিশেষ কলামে নিয়মিত লেখালেখি করতেন। তিনি বাদেমাজু গ্রামের  মরহুম শামসুদ্দি বিশ্বাসের ছেলে। মৃত্যকালে স্ত্রী, ৪ ছেলে, ২ মেয়ে, নাতি-নাতনীসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছে। বড় ছেলে বাদেমাজু বাদল স্মৃতি একাডেমির প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম। তার মৃত্যুতে আলমডাঙ্গার মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন মহল শোক জানিয়েছেন। গতকাল বাদ জোহর বাদেমাজু ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গনে রাষ্ট্রীয় গার্ডঅব অনার দিয়ে সম্মান প্রদর্শন করা হয়। গার্ড অব অনারে অংশ নেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ লিটন আলী, থানা অফিসার ইনচার্য আসাদুজ্জামানসহ চুয়াডাঙ্গা থেকে আগত একদল চৌকস পুলিশ দল। মরহুমের প্রথম জানাজা ইউনিয়ন পরিষদ চত্তরে অনুষ্ঠিত হয়, পরবর্তি জানাজা বাদ এশা বাদল স্মৃতি একাডেমী চত্তরে অনুষ্ঠিত হবার পর পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে ।

হালসা আদর্শ ডিগ্রী কলেজে নবীন বরণ ও কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

নিয়ামুল হক ॥ জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক সাদ আহমেদ বলেছেন ছাত্র জীবনটাই সঠিক সময় নিজেকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার। স্কুল জীবন থেকে শুরু করে সর্বচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত যে সময় টা এ সময়টা একজন শিক্ষার্থীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ন সময় কারন এসময় একবার চলে গেলে আর পাওয়া যায় না। তাই শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য সাদ আহমেদ বলেন বর্তমান সময়টা হেলাই না হারিয়ে লেখাপড়ার কাজে লাগাও তাহলে মানুষ করে তুলতে পারবে নিজেকে। আমি নিজেই একজন ছাত্র সংগঠনের নেতা আমি বুঝি লেখাপড়ার কি মুল্যে, শিক্ষা ছাড়া কোন জাতি উন্নতি করতে পারে না। শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড তাই তোমাদেরকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে তথা দেশ ও জাতির কল্যানে কাজ করতে হবে। আর মাদকে না বলতে হবে, কারন মাদক পুরো জাতিকে ধবংশ করে দিতে পারে, করে দিতে পারে মেধাশূন্য, তাই মাদককে না বলি সুস্থ্য জীবন গড়ি। দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে আগামী প্রজন্মকে সুস্থ্য সবলভাবে গড়ে উঠতে হবে। দেশের হাল ধরতে শিক্ষার্থী যুবকদের এগিয়ে আসতে হবে। বুধবার সকালে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার হালসা আদর্শ ডিগ্রী কলেজের আয়োজনে নবীন বরণ ও কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে  প্রধান অতিথির  বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জহুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মজনু রহমান, জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আশরাফুল আলম, আব্দুর রহমান খান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম সুইট, মিরপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বিজয় আলী তুফান, ও মিরপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, তারেক প্রমুখ। এ সময় অতিথিবৃন্দ কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে উপহার ও শিক্ষা উপকরন তুলে দেন।

কালুখালীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসের প্রস্তুতি মুলকসভা

ফজলুল হক ॥ গতকাল বৃহস্পতিবার রাজবাড়ীর কালুখালীতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৪৪তম শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালনের প্রস্তুতিমূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ উপলক্ষ্যে সকাল ১০টায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুন নাহারের সভাপতিত্বে উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদিয়া ইসলাম লুনা, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ নুরুল ইসলাম, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আব্দুস সালাম, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শেখ এনায়েত হোসেন এছাড়াও উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আঃ খালেক মাষ্টার, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক খায়রুল ইসলাম খায়ের, রতনদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মেহেদী হাচিনা পারভীন নিলুফা, কালিকাপুর ইউপি চেয়ারম্যান আতিউর রহমান নবাব, সমাজসেবা অফিসার মোঃ জিল্লুর রহমান, উপজেলা শিল্পকলা একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হোসেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেন মোল্লা, রতনদিয়া ইউপি আওয়ামীলীগের সভাপতি খোন্দকার আনিসুল হক বাবু, সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম শাহ আজিজ সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় বক্তারা দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচী বিষয়ে আলোচনা করেন। একই দিনে সকাল ১১টায় উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা এবং ঈদ উল আযহা উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় স্ব স্ব স্থানে থেকে সকলকেই পুলিশকে সহায়তা করা এবং ঈদুল আযহার বিষয়ে কুরবানীর বর্জ নির্দিষ্ট স্থানে পুতে রাখার পরামর্শ প্রদান করেন।

দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি অবহিতকরণে কুমারখালীতে জেলা তথ্য অফিসের প্রেস ব্রিফিং

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির বিষয়ে জনগনকে অবহিত ও সম্পৃক্তকরণের লক্ষ্যে  কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে জেলা তথ্য অফিস কুষ্টিয়ার উদ্যোগে প্রেস ব্রিফিং করা হয়েছে। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় স্থানীয় আবুল হোসেন তরুণ অডিটোরিয়াম মিলনায়তনে দেশের উন্নয়ন অগ্রগতির তুলনামুলক চিত্র কুমারখালীতে কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে উপস্থাপন করেন, সিনিয়র জেলা তথ্য অফিসার মো: তৌহিদুজ্জামান। এ সময় কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীবুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন। প্রেস ব্রিফিংকালে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েব সাইটের সুত্রের তথ্যানুযায়ী  দেশের উন্নয়ন অগ্রগতির ২০০৬, ২০০৯ ও বর্তমান সময়ের তুলানামুলক চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি সরকারের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জনের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ, নিম্নমধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণ, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপন, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মান, সীমান্ত ও সমুদ্রসীমা সমস্যার সমাধান, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে তুলে ধরা হয়। এ সময় সিনিয়র জেলা তথ্য অফিসার বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির বিষয়ে জনগনকে অবহিত ও সম্পৃক্তকরণের লক্ষ্যে গণমাধ্যম কর্মীদের আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালনের আহবান জানান। এ সময় উন্মুক্ত আলোচনায় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মতামত গ্রহণসহ বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সিনিয়র জেলা তথ্য অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার।

শোকাবহ আগস্ট পালনে কুষ্টিয়ায় মাসব্যাপী কর্মসূচী ঘোষনা বিচার বিভাগীয় কর্মচারী এসোসিয়েশনের

সারা দেশের ন্যায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচী হিসেবে বাংলাদেশ বিচার বিভাগীয় কর্মচারী এসোসিয়েশন, কুষ্টিয়া শাখা আনুষ্ঠানিকভাবে শোকাবহ আগস্ট পালনে মাসব্যাপী কর্মসূচী ঘোষনা করেছে। শোক স্মরনে নিরবতা পালন এবং দোয়ার মধ্যদিয়ে আগস্টের প্রথম প্রহরেই আদালত চত্বরে ব্যানার ঝুলিয়ে কর্মসূচীর যাত্রা শুরু করেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ বিচার বিভাগীয় কর্মচারী এসোসিয়েশন কুষ্টিয়ার সভাপতি সিজেএম কোর্টের হিসার রক্ষক ফজলুর রহমান সাধারণ সম্পাদক জেলা ও দায়রা জজ আদালতের স্টেনোগ্রাফার আহাম্মেদ রিংকুসহ সকল নেতৃবৃন্দ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

ভেড়ামারায় সর্বশেষ ডেঙ্গু পরিস্থিতি

আল-মাহাদী ॥ সর্বশেষ তথ্য মতে দেশের ৬৩ জেলায় ১৭ হাজারেরও বেশী মানুষদের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গু জ্বর। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ৬জন রোগী ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত পাওয়া সংবাদে নারীসহ ৬জন ডেঙ্গু রোগীকে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত ভেড়ামারা কলেজপাড়া এলাকার মোঃ সাজদার রহমানের পূত্র মোঃ রোহান (১৭) কে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে, বর্তমানে গোলাপনগর গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে মোঃ সাগর (২৩) এবং বারমাইল এলাকার মোঃ উজ্জ্বল হোসেনের স্ত্রী শেখা খাতুন (২০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় এবং বাকী ৩জন ভেড়ামারা পাওয়ার হাউজ এলাকার আকমল আলীর ছেলে আসলাম (২৫), চক-মাদিয়া গ্রামের মহিরউদ্দিনের ছেলে আরিফ (২৫) ও ভেড়ামারার মহিরের ছেলে সাব্বির (১৮) কে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (আরএমও) ডাঃ নুরুল আমিন। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে ৬জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে শনাক্ত করার পর বর্তমানে ২জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়, ৩ জন চিকিৎসা পেয়ে বর্তমানে সুস্থ এবং ১ জনকে কুষ্টিয়া  জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকা কোনো রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়। সকাল সাড়ে দশটায় হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, রোগীদের মশারীর ভেতর রাখা হয়েছে।

দৌলতপুরে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত-২

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরেও ডেঙ্গু রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে দৌলতপুর হাসপাতালে ২জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে একজন নারী রয়েছেন। এরা হলেন উপজেলার রিফায়েতপুর ইউনিয়নের শিতলাইপাড়া গ্রামের আহমদ আলীর মেয়ে স্বপ্না (২০) ও দৌলতপুর সেন্টারপাড়ার আনারুলের ছেলে দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র রাজ (১৭)। দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অরবিন্দ কুমার জানান, দৌলতপুরে ২জন ডেঙ্গু রোগী সনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে একজন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। ঢাকা থেকে আসা স্বপ্না নামে একজন রোগী গত মঙ্গলবার দৌলতপুর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তার চিকিৎসা চলছে।

সোনালী ব্যাংক লিমিটেড অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যান সমিতি কুষ্টিয়ার উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও গুজব ছড়ানো রোধে মানববন্ধন

সোনালী ব্যাংক লিমিটেড অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যান সমিতি কুষ্টিয়ার উদ্যোগে গতকাল ১ আগষ্ট সকাল ১০টায় সোনালী ব্যাংক ভবন চত্বর, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টি ও গুজব ছড়ানো প্রতিহতের লক্ষে মানববন্ধন কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়। সংগঠনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কুতুব উদ্দীন সহ উক্ত মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন আলহাজ্ব আমিরুল ইসলাম (অবঃ ডিজিএম), কার্যকরী  সভাপতি খোঃ আঃ ওদুদ, (অবঃ এসপিও), সহ-সভাপতি শেখ আঃ হাই (অবঃএজিএম), সহ-সভাপতি সহিদুল¬াহ শেখ (অবঃএসপিও ও চেয়ারম্যান সেতু এনজিও), যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মোঃ খালেকুজ্জামান, অর্থ সম্পাদক বিনয় কৃষ্ণ কর, দপ্তর সম্পাদক এ এ এম শামসুল আলম, সহ-দপ্তর মোঃ এনামুল হক, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মোজাম্মেল হক খাঁন, ক্রীড়া সম্পাদক নাজিম উদ্দীন,  যোগাযোগ ও আইটি সম্পাদক বেলাল হোসেন ( অবঃএসপিও) সদস্য আবুল কাশেম চৌধুরী, নবীস উদ্দীন, রজব আলী, আঃ রশীদ সাধারন সদস্য আবু বক্কর সিদ্দীক চৌধুরীসহ আরো অনেকে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

দৌলতপুরে বৃক্ষ মেলার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥  ‘পরিকল্পিত ফল চাষ যোগাবে পুষ্টি সম্মত খাবার’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে  কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ৩দিন ব্যাপী ফলদ বৃক্ষ মেলা শেষ হয়েছে। এ উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪ টায় সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তারের সভাপতিত্বে দৌলতপুর কৃষি অফিস চত্বরে অনুষ্ঠিত সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, দৌলতপুর কৃষি অফিসার একেএম কামরুজ্জামান, দৌলতপুর প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার সাইদুর রহমান, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার। অনুষ্ঠানে ফলদ বৃক্ষ মেলায় অংশ নেওয়া নার্সারী মালিকদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন অনুষ্ঠানের সভাপতি দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তারসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ। দৌলতপুর উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর দৌলতপুরের আয়োজনে ৩ দিনব্যাপী এ ফলদ বৃক্ষ মেলায় দৌলতপুরের বিভিন্ন এলাকার নার্সারী মালিকরা অংশ নেয়।

দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি  অবহিতকরণে কুমারখালীতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের  অংশগ্রহণে আলোচনা সভা

কুমারখালী প্রতিনিধি  ॥ দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির বিষয়ে জনগনকে অবহিত ও সম্পৃক্তকরণের লক্ষ্যে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কুষ্টিয়া জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে গতকাল বেলা ১১টায় স্থানীয় আবুল হোসেন তরুণ অডিটোরিয়াম মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

কুমারখালী আদর্শ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো: তরিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীবুল ইসলাম খান। এ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, সিনিয়র জেলা তথ্য অফিসার মো: তৌহিদুজ্জামান। আলোচনা সভায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অবহিত করণের লক্ষ্যে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির তুলনামুলক চিত্র উপস্থাপনকালে বলা হয়, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০২১ সালের মধ্যে ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত মধ্যম আয়ের দেশের পরিণত হওয়ার লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ২০০৯ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়া ও রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার অঙ্গীকার নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেয়। ২০১৪ সালে তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর দেশের সকল মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দারিদ্র ও ক্ষুধামুক্ত, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ও সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়কে অগ্রাধিকার প্রদান করে। সেই সাথে জনগনের দোরগোড়ায় ডিজিটাল সেবা পৌঁছানো, নারী ক্ষমতায়ন বাস্তবায়ন, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছানে, পরিবেশ সুরক্ষা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১০টি বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এই উদ্যোগসমুহের শতভাগ বাস্তাবায়নের মধ্যদিয়ে ২০২১ সালের মধ্যে ক্ষুধামুক্ত মধ্যম আয়ের বাংলাদেশ ও ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দৃঢ় প্রত্যয়ে এগিয়ে যাচ্ছে সরকার। আলোচনা সভায় কুমারখালী আদর্শ মহিলা কলেজের শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির বিষয়ে জনগনকে অবহিত ও সম্পৃক্তকরণের আহবান জানানো হয়।

শোকের মাসের প্রথম দিনে কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধু পরিষদের র‌্যালী আলোচনাসভা

১৫ই আগস্ট জাতীয় শোক দিবস। বঙ্গবন্ধু পরিষদের উদ্যোগে মহান নেতা, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৪৪তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল ১ আগস্ট বৃহস্পতিবার বিকালে বঙ্গবন্ধু পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার উদ্যেগে র‌্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। র‌্যালীটি শহরের আমলাপাড়া থেকে বের হয়ে শহর প্রদক্ষিন করে। পরে সন্ধ্যায় “ল” কলেজ মার্কেটে একটি মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বঙ্গবন্ধু পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শামসুর রহমান বাবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন মিরপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের ও স্পেশাল পিপি এ্যাড. আব্দুল হালিম। প্রধান অতিথি ছিলেন অগ্রনী ব্যাংক বঙ্গবন্ধু পরিষদের উপদেষ্টা শাহাবুদ্দিন আহমেদ। বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি এ্যাড.নজরুল ইসলাম সরকার, কুষ্টিয়া হাই স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক আতিয়ার রহমান, সোনালী ব্যাংক বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম, অগ্রনী ব্যাক ব্যাংক বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, সিবিএ নেতা জাহিদুল ইসলাম, বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতা খন্দকার আব্দুল মান্নান, আব্দুল গনি, মনোয়ার হোসেন প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সোনালী ব্যাংক বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপডতি মুকুল হোসেন। সভায় বক্তারা বলেন, বঙ্গবন্ধু মৃত্যুঞ্জয়ী পুরুষ। বাঙালির হৃদয় থেকে কোনদিনই বঙ্গবন্ধুকে মুছে ফেলা যাবে না। কারণ বাংলাদেশ সৃষ্টির পিছনে বঙ্গবন্ধুর অবদান সবচেয়ে বেশি। তার আন্দোলনের ফসল আজকের বাংলাদেশ। দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্র ও সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্তের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে। মূলত যারা এদেশে স্বাধীনতা চায়নি, তারাই বঙ্গবন্ধু হত্যার মূল ষড়যন্ত্রকারী। বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা দীর্ঘ ২১ বছর পর রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করেছেন, জাতিকে কলংকমুক্ত করেছেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনকালে কাদের

আগস্টে জঙ্গিবাদ সক্রিয় হয়ে ওঠে

ঢাকা অফিস ॥ আগস্ট মাস এলেই জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তি সক্রিয় হয়ে ওঠে। একারণে চলতি মাসেও বিপদের ঝুঁকি আছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এজন্য তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার শোকাবহ আগস্টে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। শিল্পকলা অ্যাকাডেমির চিত্রশালা মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে যুবলীগ। অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের বলেন, আগস্ট মাস এলেই জঙ্গিবাদ, নাশকতা, সাম্প্রদায়িকতা- যা যা নিষ্ক্রিয় আছে বলে মনে করি, সে অপশক্তিগুলো আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে। আগস্ট মাস এলেই তারা হঠাৎ অপতৎপরতা চালায়। কারণ, তারা জানে, এক শেখ হাসিনাকে শেষ করে দিতে পারলে আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করা যাবে। আমাদের এক দিকে হারানোর বেদনা, আবার নতুন করে হারানোর আশঙ্কা। পঁচাত্তর পরবর্তী বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে ঝুকিপূর্ণ রাজনৈতিক নেতা শেখ হাসিনা। আপনারা শোকের মাসের কর্মসূচি পালন করবেন, পাশাপাশি সতর্ক থাকবেন। আমাদের বিপদের ঝুঁকি আছে। তিনি বলেন, যারা বঙ্গবন্ধুকন্যাকে বিভিন্নভাবে ধিকৃত করতে চান, তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, শেখ হাসিনা বাংলাদেশের উদার রাজনীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তার রাজনীতি শুধু রাজনীতি করার জন্য নয়, নির্বাচনী এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য নয়। শেখ হাসিনার রাজনীতি পরবর্তী প্রজন্মের ভিশন নিয়ে কাজ করা। তিনি পরবর্তী প্রজন্মের জন্য কর্মসূচিতে ১০০ বছর পেরিয়ে গেছেন। এ কারণেই যুবলীগ শেখ হাসিনাকে যে রাষ্ট্রনায়ক উপাধি দিয়েছে, তা যথার্থ। সেতুমন্ত্রী বলেন, আজ যদি শেক্সপিয়ার বেঁচে থাকতেন, তাহলে তিনি নিশ্চয়ই লিখতেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ড বিশ্বের নৃশংসতম ও জঘন্যতম। কারা বঙ্গবন্ধু হত্যায় পেছন থেকে মদদ দিয়েছিল, ইনডেমিনিটি দিয়ে খুনিদের পুরস্কৃত করেছিল, বিদেশে দূতাবাসে চাকরি দিয়েছিল, ইডেমিনিটি আইনে পরিণত করেছিল- তা জাতি জানে। জিয়াউর রহমান এর সঙ্গে জড়িত ছিল, এগুলো ইতিহাস জানে। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, বাংলাদেশের মানুষ জানে, শেখ হাসিনাকে হত্যা করার জন্য ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা কারা করেছিল। তারপরও, পুত্রহারা মাকে সান্ত¡না দিতে গেলে ঘরের দরজা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। এ নিষ্ঠুর রাজনীতিও তারা করে। ১৫ আগস্ট, ২১ আগস্টের মতো ঘটনার পরেও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আমরা একটা কর্মসম্পর্ক রাখতে চাই। কিন্তু, যারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বার্ষিকীতে কেক কেটে ভুয়া জন্মদিন উদযাপন করে, তাদের সঙ্গে আমরা কর্মসম্পর্ক রাখি কীভাবে? তারা যদি এ কাজ বন্ধ না করে, তবে তাদের সঙ্গে কর্মসম্পর্ক গড়ে তোলা কঠিন। অনুষ্ঠানে সভাপত্বি করেন যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী। আরও বক্তব্য রাখেন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুণ অর রশিদ।

টানা ৩ বছর লোকসান দিলে বেসিকের শাখা বন্ধ – অর্থমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ বেসিক ব্যাংকের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। একইসঙ্গে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, টানা তিন বছর ধরে লোকসান দিয়ে আসা শাখাগুলোকে বন্ধ করে দেয়া হবে। যাদের কারণে ব্যাংকটির ‘এই দুরাবস্থা’ হয়েছে তাদের খুঁজে বের করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মতিঝিলে সেনা কল্যাণ ভবনে বেসিক ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক আলোচনা সভায় মন্ত্রী এ সব কথা বলেন। মুস্তফা কামাল বলেন, বেসিক ব্যাংককে ঘুরে দাঁড়াতে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। ব্যাংকটির পূর্বের গৌরব ফিরিয়ে আনা হবে। “আমরা অর্থমন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ব্যাংকটির বিশেষ অডিট করছি। সেই অডিটের আলোকে যারা ব্যাংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। ঋণ নিয়ে ফেরত দেয়নি। তাদের সবাইকে খুঁজে বের করে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। ঋণ আদায় করা হবে।” লোকসানী শাখা বন্ধ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, “ব্যাংকটিকে লাভজনক করতে হবে। আমানতকারী ও গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। আর সেজন্য যে সব শাখা টানা তিন বছর ধরে লোকসান দেবে সেগুলোকে বন্ধ করে দেয়া হবে। এক্ষেত্রে কোন ধরনের ব্যাখ্যা-বিশে¬ষণ শুনবো না; জানতেও চাইবো না। “সেসব শাখা এখন আর লাভ করতে পারছে না। ওইসব শাখাগুলোর মধ্যে যেগুলো গত দুই বছর এবং বর্তমান বছরে লাভ দেখাতে ব্যর্থ হবে সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে। যারা দুই বছর ধরে লোকসানে আছেন তারা এই বছর সতর্ক হয়ে যান,” বলেন মুস্তফা কামাল। অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ব্যাংকটিতে অনেক দুর্নীতি হয়েছে। সে সময়ে নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে অনেক ব্যাংক কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়েছে এবং বেনামে ঋণ দেওয়া হয়েছে। অডিটের মাধ্যমে সব বের করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সারা দেশে ব্যাংকটির মোট ৭২ টি শাখা রয়েছে। এরমধ্যে অর্ধেকই লোকসানে রয়েছে বলে জানা গেছে। সাবেক সংসদ সদস্য শেখ আবদুল হাই বাচ্চু বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান থাকার পাঁচ বছরে (২০০৯-১৪) অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০০৯ সালে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ ছিল মোট বিতরণ করা ঋণের ৫ শতাংশ। ২০১৪ সাল শেষে তা দাঁড়ায় ৬৮ শতাংশ। এক সময় লাভজনক থাকা বেসিক ব্যাংকে ২০০৯ সালে আবদুল হাই বাচ্চুকে চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়ার পর থেকে লোকসানের দিকে যেতে থাকে। চাপের মুখে থাকা বাচ্চু ২০১৪ সালে পদত্যাগ করেন। আলোচনায় অন্যদের মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব ফজলুল হক, বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান আলাউদ্দীন এ মজীদ, নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আলম বক্তব্য রাখেন।

কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্তদের খোঁজ খবর নিলেন আতাউর রহমান আতা

সুজন কর্মকার ॥ কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্তদের খোঁজ খবর নিয়েছেন, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও কুষ্টিয়া শহর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে আতাউর রহমান আতা কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে গিয়ে ডেঙ্গু আক্রান্তদের খোঁজ খবর নেন এবং কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাঃ তাপস কুমার সরকার’র সাথে ডেঙ্গু পরিস্থিতি বিষয়ে আলোচনা করেন। কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা বলেন, ডেঙ্গু বিষয়ে নিজেকে সচেতন হতে হবে এবং অপরকেও সচেতন করতে হবে। সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতার সাথে এ সময়, সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আক্তারুজ্জামান বিশ^াস, ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ডাঃ আফিল উদ্দিন, হরিনারায়ণপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি সরকার আক্তারুজ্জামান টগর, স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা জহুরুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারের যথাযথ উদ্যোগ নেই – রিজভী

ঢাকা অফিস ॥ ডেঙ্গু নিয়ে ঢাকাসহ সারাদেশের মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে উল্লেখ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, প্রতিদিনই অসংখ্য মানুষ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এর মধ্যে কারও কারও প্রাণহানিও ঘটছে। অথচ এই সংকট মোকাবিলায় সরকারের যথাযথ কোনো উদ্যোগ নেই। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সামনে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক র‌্যালিতে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। রিজভী বলেন, ভয়াবহ দুঃশাসনে জর্জরিত মানুষের ভোট চুরি করে ক্ষমতাসীন হওয়ার জন্য জনগণ বর্তমান সরকারকে ঘৃণা করে বলেই তারা জনগণকে শক্র মনে করে। জনগণের কাছে সরকারের কোনো জবাবদিহিতা নেই। রাষ্ট্রক্ষমতার জন্য বর্তমান শাসকগোষ্ঠী জনগণকে প্রয়োজন মনে করে না। সেজন্য দেশের যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় অবহেলা ও অবজ্ঞা করে থাকে। ডেঙ্গু র মতো এতো বড় জাতীয় সংকটে সরকারের কোনো দায়বদ্ধতা নেই দাবি করে তিনি বলেন, সেজন্য প্রধানমন্ত্রী এখন বিদেশে অবস্থান করছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিদেশে চলে যান। আওয়ামী সরকারের রাজনীতি জনকল্যাণমুখী নয়ই বরং জনগণকে চরম দুর্ভোগের মধ্যে ফেলাই এদের রাজনীতির লক্ষ্য। তাই প্রাকৃতিক দুর্যোগে আওয়ামী মন্ত্রী-নেতাদের বাগাড়ম্বর বক্তব্য দেওয়া ছাড়া সমস্যা সমাধানে কোনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করে না। বিএনপি শুধু মিটিং-মিছিলের রাজনীতি করে না দাবি করে রিজভী বলেন, ঝড়-জলোচ্ছ্বাস-বন্যাসহ সংক্রামক ব্যাধিজনিত মহামারি মোকাবিলা করতেও জনগণের পাশে থাকে বিএনপি। তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মিথ্যা ও সাজানো মামলায় সরকার অন্যায়ভাবে কারারুদ্ধ করে রেখেছে। বুধবার (৩১ জুলাই) গোটা দেশবাসী অধীর ও ব্যাকুল হয়ে সর্বোচ্চ আদালতের দিকে তাকিয়ে ছিল, সবাই আশা করেছিল জুলুম ও অন্যায়ের প্রতিকারের শেষ আশ্রয়স্থল উচ্চতর আদালত সরকারের সাজানো মিথ্যা মামলায় কারারুদ্ধ দেশনেত্রীকে জামিন দেবেন। কিন্তু গোটা দেশবাসীকে হতাশ করে ৭৪ বছর বয়সী চরম অসুস্থ সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। এই রায় নিয়ে দেশের জনগণের সঙ্গে আমরাও হতাশ এবং উদ্বিগ্ন। র‌্যালিতে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসান, যুগ্ম সম্পাদক এজিএম শামসুল হক, সাইফুর রহমান মিহির, দপ্তর সম্পাদক এবিএমএ রাজ্জাক, বনানী থানা বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি মিজানুর রহমান মিজান, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বাচ্চু, সাংগঠনিক সম্পাদক ইমান হোসেন নুর, তুরাগ থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশীদ, বাড্ডা থানা বিএনপির সভাপতি তাজুল ইসলামসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ইবিতে বৃক্ষরোপন কর্মসূচির উদ্বোধনকালে ড. রাশিদ আসকারী

প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় তাল গাছ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসের মাসে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত বৃক্ষরোপন কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তাল গাছ রোপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় আইআইইআর। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ক্যাম্পাসে নির্মাণাধীন আইআইইআর ভবনের পাশে তাল গাছ লাগিয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী (ড. রাশিদ আসকারী)। এ সময় ড. রাশিদ আসকারী বলেন, প্রকৃতির হাত ধরেই প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করতে হবে। তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় তাল গাছ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই আমাদেরকে বেশি বেশি করে তাল গাছ লাগাতে হবে। তিনি বলেন, তাল গাছ সবাইকে বড় ও মহৎ হতে শিক্ষা দেয়। আইআইইআর পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাঃ মেহের আলী’র সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান বলেন, তাল গাছ শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ  মোকাবেলাই  করে না। তালের পিঠা, পায়েষ বাঙালীর আবহমান সংস্কৃতির কথা মনে করিয়ে দেয়। অপর বিশেষ অতিথি ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা বলেন, আমাদের দেশ থেকে তাল গাছ বিলীন হতে চলেছে। তিনি বলেন, দুর্যোগ মোকাবেলায় আমাদের বেশি বেশি করে তাল গাছ লাগাতে হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইবি সিন্ডিকেট সদস্য প্রফেসর ড. মোঃ মাহবুবর রহমান, তাল বিশেষজ্ঞ ইবি ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শেখ শাহীনুর রহমান, সহকারী প্রক্টর নাসিমুজ্জামান এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি এস এম রবিউল ইসলাম পলাশ এবং সাধারণ সম্পাদক মোঃ রাকিবুল ইসলাম রাকিব প্রমুখ। উল্লেখ্য আইআইইআর’র উদ্যোগে ক্যাম্পাসে এক হাজার তাল গাছের চারা রোপন করা হবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

ডেঙ্গুতে নতুন আক্রান্ত ১৭১২ জন

ঢাকা অফিস ॥ সারা দেশে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও এক হাজার ৭১২ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে এক হাজার ১৫০ জনই রাজধানীতে।  সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৫১৩ জন। বুধবার ১৭ হাজার ১৮৩ জনের ডেঙ্গু আক্রান্তের খবর দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম। সরকারের হিসাবে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ১৪ জনের মৃত্যুর তথ্য এলেও বেসরকারি হিসেবে ৩৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্কশেষ তথ্যে দেখা গেছে, রাজধানীর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাইরেও ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন জেলার হাসপাতালগুলোতে তিন হাজার ৪৬৪ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে। ডেঙ্গু নিয়ে নতুন করে যারা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২২২ জন রয়েছে ঢাকা মেডিকেলে। নতুন-পুরনো মিলিয়ে বর্তমানে এ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে ৭০৬ জন ডেঙ্গু রোগী। এরপর মিটফোর্ড হাসপাতালে ৩৩৭, ঢাকা শিশু হাসপাতালে ১৩২, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ৩২২, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ১৯৭, বারডেম হাসপাতালে ৫৭, বিএসএমএমইউতে ১২৭, পুলিশ হাসপাতালে ১৬৫, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৮৭, বিজিবি হাসপাতালে ৩০, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ৩০৫ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে সর্বমোট চার হাজার ৩৩২ জন ভর্তি আছে, এর মধ্যে সরকারি হাসপাতালগুলোয় রোগীর সংখ্যা এক হাজার ৬২৪ জন। রাজধানীর বাইরে ঢাকা বিভাগের জেলাগুলোতেই সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এসব জেলার হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু নিয়ে ভর্তি হয়েছে ১৪৫ জন, তাদের নিয়ে মোট চিকিৎসাধীন আছে ২৭৬ জন। এরপর চট্টগ্রাম বিভাগে নতুন ডেঙ্গু রোগী ৯৮ এবং চিকিৎসাধীন ১৫৩ জন, খুলনা বিভাগে নতুন ৭৬ এবং চিকিৎসাধীন ১৮৩ জন, বরিশাল বিভাগে নতুন ৬৩ জন এবং চিকিৎসাধীন ১৫১ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে নতুন ৬২ এবং চিকিৎসাধীন ১৯৮ জন, রাজশাহী বিভাগে নতুন রোগী ৫৮ এবং মোট চিকিৎসাধীন ২১৪ জন, রংপুর বিভাগে নতুন রোগী ৩৩ এবং মোট চিকিৎসাধীন ১৪৬ জন, সিলেট বিভাগে নতুন শনাক্ত ৩১ জন এবং মোট হাসপাতালে ভর্তি ৮৯ জন।

কুষ্টিয়ায় ২৪ ঘন্টায় আরও ১৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় গত ২৪ ঘন্টায় আরও ১৩ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। এদের মধ্যে ১১ জনকে ২৫০ শয্যার কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল ও ২ জনকে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ফ্রী ও বেসরকারি সনো হাসপাতালেও ব্যবস্থা আছে পরীক্ষার। এখন পর্যন্ত জেলায় মোট ৭৯ জন ডেঙ্গু রোগি সনাক্ত হলো। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক তাপস কুমার সরকার জানান, বর্তমানে ওই হাসপাতালে ৩০ জন ডেঙ্গু রোগি ভর্তি আছে। বেশির ভাগই চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ আছেন। এখন পর্যন্ত কেউ মারা যায়নি।

(সময়ের চিন্তা)

পবিত্র ঈদুল আয্হা ও হজ্ব

॥ নাজির আহমদ জিবন ॥ ‘ইসলাম’ অর্থ শান্তি, ইসলাম অর্থ এক আল্লায় আত্মসমর্পন। ‘ঈদ’ অর্থ আনন্দ উৎসব। আল্লাহ্তে আত্মসমর্পনের মাধ্যমে আল্লাহর নির্দেশিত পথে যে অনুষ্ঠানাদি করা হয়-তাই-ঈদ। পৃথিবীর অন্যসব জাতির আনন্দ উৎসবের সাথে মুসলমানদের রয়েছে বিরাট পার্থক্য। মুসলমানদের ঈদের সাথে ইসলামের চিরন্তন শাশ্বত আদর্শিক ভাবধারার একটা বিরাট সম্পর্ক রয়েছে।

ইসলামের প্রত্যেকটি আনন্দ উৎসব ইতিহাস ভিত্তিক। সুদুর অতীতে ঘটে যাওয়া এক একজন নবী ও রাসূলদের আত্মত্যাগ ও আদর্শকে স্মরণ করেই এ সমস্ত উৎসব। এ ধরনের একটা উৎসব হলো ‘ঈদুল আয্হা বা কোরবানীর ঈদ’। যা নবী, হযরত ইবরাহীম (আঃ) এর বিষয়। নবী ইবরাহীম (আঃ) আল¬াহর নির্দেশ প্রাপ্তি হলেন তার সর্বাপেক্ষা প্রিয় বস্তুকে আল্লাহর জন্য কোরবানী করার। তিনি চিন্তা করে দেখলেন যে, তার নিকট সর্বাপেক্ষা প্রিয় হলো তার একমাত্র পুত্র সন্তান। তাই তিনি নিজ হাতে নিজ প্রাণাধিক একমাত্র পুত্র হযরত ইসমাঈলকে কোরবানী করেন। যদিও এটা ছিল আল¬াহর পরীক্ষা।  তাই চোখ খুলে দেখেন যে ছেলের স্থানে পশু দুম্বা কোরবানী হয়ে গেছে।

কুষ্টিয়া শহরস্থ, বারোশরীফ দরবার ও জামে মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা ও বারোশরীফের (তরীকা) প্রচারক সূফী, সাধক হযরত শাহ্  সূফী মীর মাস্উদ হেলাল র্(ঃ) বলতেন, “যারা সন্তানের পিতা মাতা তারা উপলব্ধি করতে পারবে নিজ হাতে নিজ প্রানাধিক একমাত্র সন্তান কোরবানী করা কত বড় ত্যাগের দরকার। মা’হাজেরার ভূমিকাও এখানে কম নয়। হযরত ইবরাহীম তার স্ত্রী হাজেরাকে মরুভূমিতে বনবাসে রেখে এলেন তিন মাসের শিশু ইসমাঈল সহ। দীর্ঘ ছয় বছর পর একদিন দেখতে গেলেন তার ছেলেকে। এতটা বছর মা বড় কষ্টে লালন করেছেন সন্তানকে। সে সন্তানকে মা তুলে দিলেন তার স্বামীর হাতে, কোরবানীর জন্য আল¬াহর ইচ্ছায় রাজী হয়ে। এই কোরবানী করে যে শোয়াব তারা পেয়েছিলেন ঠিক ততটা পরিমান শোয়াবে ভূষিত করে থাকেন আল্লাহ আখেরী নবীর উম্মতকে পশু কোরবানীর বিনিময়ে রাসূল (সাঃ) এর সম্মানে।”

বারো শরীফের মহান ইমাম হযরত শাহ্ সূফী মীর মাস্উদ হেলাল (রঃ) ছিলেন রাসূল প্রেমিক সূফী সাধক। তিনি বারো শরীফ দরবারে ১২ই জ্বেলহজ্ব ১২ শরীফের দিন রাসূল (সাঃ) এর নামে কোরবানীর প্রচলন করেছেন। বেহেস্তি জহুরে মাওলানা থানবী ও বলেছেন যে, নিজের নামে কোরবানী দেয়া অপেক্ষা রাসূল (সাঃ) ও তাঁর পবিত্র সহধর্মীনি এবং বড়পীর ও নিজ পীর মুর্শিদের পক্ষ থেকে কোরবানী দাও। এতে অনেক বেশী ফায়দা আছে। রাসূল (সাঃ) তাঁর উম্মতের পক্ষ থেকে কোরবানী করেছেন বলে বর্ণনায় জানা যায়। তাই তাঁর প্রিয় উম্মত হিসাবে আমাদের কর্তব্য হয়ে দাঁড়ায় রাসূলের নামে কোরবানী দেয়া।

কোরবানীর উদ্দেশ্য কেবল পশু কোরবানী, নয়, নিজের ভিতর যে পশু প্রবৃত্তি থাকে তাকে কোরবানী করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা।  ঈদুল আযহা, কোরবানী ও হজ্ব এ সবই নবী ইব্রাহীম এর বিষয়। কা’বা ঘর প্রথমে হযরত আদম (আঃ) নির্মাণ করেন। নূহ নবীর সময়ের প¬াবনে এটা ভেঙ্গে যায় এবং মাটি চাপা পরে যায়। বহু বছর পরে হযরত ইবরাহীম ও তার ছেলে হযরত ইসমাঈল এটাকে পুনঃনির্মাণ করেন এবং দোয়া চান; “হে, আল্লাহ! তুমি আমার বংশধরদের মধ্য হতে তাদের জন্য এমন একজন মহাসম্মানিত রাসূল প্রেরণ করুন যিনি আপনার বানী সমূহ তাদের পাঠ করে শুনাবে এবং কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দিবে। আর তাদের সংশোধন ও পবিত্র করবেন। নিশ্চয়ই আপনি অতিশয় পরাক্রমশালী ও মহাজ্ঞানী।” (আল কোরআন) তাঁর এ দোয়ার ফলে হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) কে আল্লাহ তাঁর বংশে পাঠান এবং তাঁকে ইবরাহীম দ্বারা প্রতিষ্ঠিত মিল¬াতের অনুসরণ করতে বলা হয়। যেমন ঃ এখন আমি তোমার প্রতি ওহী প্রেরণ করলাম যে, তুমি একনিষ্ঠ ইব্রাহীমের দ্ব¡ীনের (ধর্মাদর্শ) অনুসরণ কর।” (রুকু ১৬-১২৩ আয়াত-সুরাঃ নাহল)

রাসূল (সাঃ) মদীনায় আসার পর ১৬ বা ১৭ মাস বায়তুল-মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে নামাজ পড়তেন। আল্লাহ বলেন, “এবং তোমরা যেদিকে মুখ ফেরাতে সে কিব্লাহ আমরা করে দিইনি।” (২ঃ১৪৩)

এটা ছিল রাসূল (সাঃ) এর ইচ্ছা। মোহাম্মদ ইব্নে আখনাছ বর্ণনা করেন, বনী সালামা গোত্রে উম্মে মীর নাম্মী এক মহিলা ছিলেন। রাসূল (সাঃ) তার কুশল জিজ্ঞাসা করার জন্যে তার গৃহে যান। মহিলা তাঁর সামনে খাবার রাখেন। আহারের পর যোহর নামাযের সময় হলে রাসূল (সাঃ) বনী সালামার মসজিদে নামায পড়তে গেলেন। দু’রাকআত আদায় করার পর ওহীর মাধ্যমে কেবলা বায়তুল মোকদ্দাস থেকে মসজিদে হারামের দিকে পরিবর্তন করে দেয়া হলো। রাসূল (সাঃ) নামাযের অবস্থায়ই ঘুরে কা’বা গৃহের দিকে মুখ করে নিলেন এবং শেষ দু’রাকআত কা’বার দিকে মুখ করে আদায় করলেন। এ কারনেই এ মসজিদকে মসজিদে কেবলাতাইন বা দু’কেবলার মসজিদ বলা হয়। কারণ কা’বা শরীফের দিকে কিবলা পরিবর্তনের ইচ্ছা বহু আগ থেকেই রাসূল (সাঃ) পোষণ করে আসছিলেন। আল্লাহ বলেন; “আমি, আপনাকে বারবার আকাশের দিকে তাকাতে দেখি। অতএব, আমি, আপনাকে সে কেবলার দিকেই ঘুরিয়ে দেব যাকে আপনি পছন্দ করেন। এখন আপনি মসজিদে হারামের দিকে মুখ করুন এবং  তোমরা যেখানেই থাক, সেদিকে মুখ কর।” (সূরাঃ বাকারাঃ ১৪৫ আয়াত)

সময়টা ২য় হিজরী, রজব মাসের, মাঝামাঝি সোমবার। এতে বিরক্ত হয়ে ইহুদীরা মুসলমানদের কিবলা পরিবর্তনের বিষয়ে বিভিন্ন রকম মন্তব্য করতে থাকে। ইহুদীদের কেবলা ছিল জেরুজালেম। আল্লাহ স্বয়ং ঐ সকল প্রশ্নের জবাব দিযেছেন। তিনি বলেছেন, ‘যে দিকেই মুখ ফিরাও; সে দিকই আল্লাহর”। (সূরাঃ বাকারাহ-১১৫)

একদিন পারশ্য সম্রাট আবরাহ কর্তৃক কা’বা ঘর ভাঙ্গার পরিকল্পনা আল্লাহ বানচাল করে দেন। আল্লাহ তার ঘর রক্ষার ওয়াদা ঠিকই রেখেছিলেন। তখন প্রয়োজনও ছিল। রাসূল, বলেছেন, “কেয়ামত ঘনিয়ে এলে এবং পৃথিবীর ধ্বংস ও বিলুপ্তি নিকটবর্তী হলে দস্যু  প্রকৃতির এক হাবসী নিগ্রো যার পায়ের গোছা অপেক্ষাকৃত  শুরু হবে সে কা’বা বিধস্ত করবে।” (বুখারী) এখানে কিন্তু বলা হয় নাই যে মদীনা ধ্বংস হবে। তবে চিন্তার বিষয় হাবসী নিগ্রো এখানে বিষয়টি যুগোপযোগী চিন্তার ক্ষেত্রে কি হবে। তখন আল্লাহ নিশ্চয়ই তার ঘর রক্ষা করবেন না, এর প্রয়োজন ও নিশ্চয় আছে। এখন প্রশ্ন আসে তখন আমাদের কেবলা কোনটা হবে। রাসূল (সাঃ) বলেছেন, “ঈমান মদীনার দিকে এমনভাবে প্রত্যাবর্তন করবে যেমন সাপ নিজ গর্তের দিকে প্রত্যাবর্তন করবে।” এটা কি ইঙ্গিত বহন করে ভবিষ্যৎ সময়ই বলে দিবে। এ হাদীসের তাৎপর্য ব্যাখ্যায় আলেম ফজলুর রহমান মুন্সী বলেছেন যে, সাপ যেখানেই থাক না কেন ঘুরে ফিরে আপন গর্তেই ফিরে আসে। অনুরুপভাবে ঈমান এবং বিশ্বাস বিশ্বময় বিশৃঙ্খলা ও গোলযোগের সময় আপন ঠিকানা মদীনাতেই আশ্রয় নেবে।” (দ্রঃ দৈনিক ইনকিলাব ২০-০৫-০৪)

চিন্তাশীলদের চিন্তার খোরাক কোরআন ও হাদীস। আল্লাহ নিজেও তার সৃষ্টি রহস্য নিয়ে চিন্তা করতে বলেছেন। হযরত সোলায়মান ও হযরত ইব্রাহীম নবী কর্তৃক নির্মিত মসজিদ যদি কেবলা হতে পারে, তবে কেন নবী শ্রেষ্ঠ হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) যিনি আমাদের নবী তাঁর নির্মিত মসজিদ কি কেবলা হতে পারে না? বা কেন এতদিন হলো না? যেখানে রাসূলের ইচ্ছাতে কেবলা পরিবর্তন হয়ে গেল।

রাসূল (সাঃ) এর জন্ম মক্কা হওয়া সত্বেও কেন মক্কা ছেড়ে চিরদিনের জন্য মদীনায় রয়ে গেলেন? কেন আমাদের দৈনন্দিন ফরজ এবাদত গুলো মধ্যে আমাদের নবীর নিজস্ব বিষয় নেই? প্রচলিত দুই ঈদ  দুই নবীর বিষয়, কেন আমাদের নবীর ঈদ ঈদে মিলাদুন্নবী সেভাবে সাড়া জাগিয়ে আসে না? কেন রাসূল তাঁর পবিত্র জীবনে মক্কায় কোন মসজিদ নির্মান করেন নাই?

ধর্মীয় বিধি নিষেধ ও অনুশাসন পালনে নিজেদের বিবেক, বুদ্ধি, জ্ঞান ও চিন্তা প্রয়োগ করতে হবে। ধর্মের প্রতিটি কথাও কাজের অন্ধ অনুসরণ ও অনুকরণ করতে গেলে বর্তমানে আমরা অনেক সমস্যার সম্মুখিন হবো। হযরত আব্দুল্লাহ ইব্নে ওমর (রাঃ) বলেছেন, “রাসূল (সাঃ) নামাজ, রোজা, হজ্ব, যাকাত, ওমরাহ এবং আরও সব নেকীর কথা গুলো উল্লে¬খ করে বলেছেন, মানুষ এসব কিছু করে ঠিকই কিন্তু কেয়ামতের দিন নিজের বুদ্ধি জ্ঞান অনুযায়ী সে-এসবের বদলা পাবে।” (মিশাকাত শরীফ)

আল্লাহ বলেন, “রহমানের বান্দা হচ্ছে তারা যাদেরকে তাদের প্রতিপালকের আয়াত  স্মরণ করে দিলে তারা অন্ধ ও কালার মতো তার উপর লুটিয়ে পড়ে না, বরং তারা বুদ্ধিজ্ঞান ব্যবহার করে।”

কা’বা ঘর একটা কালো কাপড় দ্বারা আবৃত থাকে, এটাই এর গিলাফ। যা তৈয়রী করতে ২৪০ জন শ্রমিকের এক বছর সময় লাগে। খরচ হয় ১৭ মিলিয়ন সউদী রিয়াল। বর্তমান সউদী ওহাবী মতাবলম্বী বাদশারা মক্কার  কা’বাঘর ও এর গিলাপ এর জন্য যা খরচ করে তার চেয়ে অনেক কম খরচ করে মদীনার মসজিদে নববী ও রাসূল (সাঃ) এর রওজা শরীফ ও তার সিলাপ এর জন্য। কিন্তু কেন? এর কারণ অনুসন্ধান করতে হবে।

হজ্বের অন্যতম নিদর্শন স্বরূপ হাজ্বরে আসওয়াদকে বা কালো পাথরকে সম্মান করে চুম্বন করা হয়। সহীহ বুখারী, মুসলিম ও আবুদাউদ শরীফে আছে যে, হযরত ওমর (রাঃ) কালো পাথরটির কাছে আসলেন ও এটাকে চুম্বন করে বললেন, “আমি নিশ্চিত জানি যে, তুমি একটা পাথর মাত্র। তুমি কোন ক্ষতিও কর না এবং উপকারও কর না। আমি যদি রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে তোমায় চুম্বন করতে না দেখতাম, তাহলে আমি কখনই তোমাকে চুম্বন করতাম না।”

দুঃখজনক হলো ওহাবী মতবাদে বিশ্বাসী সৌদি বাদশারা রাসূল (সাঃ) এর রওজা শরীফ ছুয়ে সালাম বা চুম্বন করতে দেয় না, রওজার দিকে মুখ করে দরুদ ও সালাম পাঠ করতে দেয় না। বলে বিদয়াত, বিদয়াত। জ্ঞানও বিবেক দিয়ে চিন্তা করতে হবে কোনটা বেশী সম্মনীত ও মর্যাদাবান। কালো পাথর না রাসূল (সাঃ) এর রওজাশরীফ যেখানে তিনি অবস্থান করছেন।

মকামে ইবরাহীম ও একটা পাথর। হযরত ইবরাহীম ঐ পাথরের উপর দাঁড়িয়ে কা’বা ঘর নির্মাণ করেন। পাথরটি ইবরাহীম নবীর পায়ের ছাপ ধারন করেছিল। এই মকামে ইবরাহীমকে সেজদার স্থান করা হয়েছে। এই মর্মে একটা বর্ণনা পাওয়া যায় যে, একবার প্রিয় নবীজীকে মক্কার কাফেররা কা’বা শরীফ প্রাঙ্গনে এই বলে চ্যালেঞ্জ করে বসে আমাদের পূর্র পুরুষ ইবরাহীম নবী ছিলেন। তাঁর মুজেয়া পাথরের উপর পদচিহ্ন এখনও কা’বা শরীফের সামনে সুরক্ষিত আছে। আপনি ও এমন একটা মু’জেযা দেখান। কাফেরদের এই চ্যালেঞ্জের মোকাবেলায় রাসূল (সাঃ) পাথরের উপর দিয়ে হেঁটে যান। ফলে কম করে সাতটি পাথরের উপর পবিত্র পদচিহ্ন অংকিত হয়ে যায়। প্রশ্ন আসে মকামে ইবরাহীম যদি সেজদার স্থান হতে পারে-তবে মকামে মোহাম্মদ (সাঃ) কেন হতে পারে না? এসবগুলো চিন্তা ও গবেষণার সময় এসেছে। কারণ আজ বিশ্ব মুসলমানের পিঠ বিধর্মীর মার খেতে খেতে দেয়ালে ঠেকে গেছে।  বিশ্ব অপেক্ষা করছে আর একটা বিশ্বযুদ্ধের। সম্ভবতঃ যা হবে খৃষ্টানদের সাথে মুসলমানদের।

অতীতের নবীদের নিজস্ব স্বকীয়তা ও বৈশিষ্টের প্রকাশ ঘটেছে, কিন্তু শ্রেষ্ঠনবীর স্বকীয়তা ও বৈশিষ্টের প্রকাশ কোথায়? কোন নবী যদি নিজ দ্বীন বা তরিকা প্রচার না করে অন্য নবীর দ্বীন বা তরিকা প্রচার করেন বা করতে বলা হয় তাহলে কি সে নবীর স্বকীয়তা ও বৈশিষ্টের পরিপূর্ণ প্রকাশ সম্ভব?

কুষ্টিয়া পৌরসভার আয়োজনে মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা

গতকাল সকালে কুষ্টিয়া পৌরসভায় চলমান প্রকল্প প্রান্তিক জনগোষ্ঠির জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের সহযোগিতায় বিশ^ মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ-২০১৯ উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিশুকে মাতৃদুগ্ধ পান করাতে মাতা-পিতাকে উৎসাহিত করুন। এই স্লোগানকে সামনে রেখে  মেয়র ভবনে এক আলোচনা সভায় অনুষ্ঠিত হয়। কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র আনোয়ার আলী’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডাঃ রওশন আরা বেগম। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাঃ রওশন আরা বেগম বলেন, পৌর পিতা অত্যন্ত বিজ্ঞ  মানুষ। তিনি আমাদের অভিভাবক। পৌরবাসীর স্বাস্থ্য সেবাসহ সকল নাগরিক সেবা প্রদানে তিনি বাংলাদেশে সকল পৌরসভার মধ্যে অন্যতম। তিনি আরো বলেন, মেয়র মহোদয় আমার স্বাস্থ্য বিভাগকে সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। সেই সাথে পৌরসভা ডেঙ্গু ও চিকন গুনিয়া প্রতিরোধের বিষয়ে ব্যাপক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এজন্য আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞ। তিনি আরোও বলেন, শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার এক ঘন্টার মধ্যে মায়ের বুকের দুধ পান করাতে হবে, কারন শিশুকে এই শাল দুধ পান করালে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। শাল দুধ খুব ঘন ও অল্প হয়। শিশুকে শালদুধ পান করালে শিশুর ডাইরিয়া, নিউমোনিয়াসহ অনান্য রোগ হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। তিনি মায়েদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনার শিশুর প্রতি আপনাকে যতœবান হবেন কেননা আপনার শিশু শারীরিক, মানসিক ও মেধা বিকশিত করার জন্য একজন মায়ের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। সভাপতির বক্তব্যে মেয়র আনোয়ার আলী বলেন, আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। এজন্য বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা গর্ভবতী মা ও দুগ্ধদানকারী মায়েদের শারীরিক সুস্থতার ও কোন শিশু যেন পুষ্টিহীনতায় না ভোগে সেজন্য পুষ্টিকর খাবারের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহন করেছেন। তারই পরিপেক্ষিতে কুষ্টিয়া পৌরসভায় চলমান প্রকল্প প্রান্তিক জনগোষ্ঠির জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের সহযোগিতায় পৌর এলাকার গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী মায়েদের ডিম, ডাল ও তৈল জাতীয় খাবার খাওয়ার জন্য পুষ্টি অনুদান বাবদ প্রতিমাসে চারশত পঞ্চাশ টাকা প্রদান করা হবে। গর্ভবতী মায়ের চার মাস হতে শিশুর বয়স দুই বছর পর্যন্ত পৌর এলাকায় পাঁচশত পঞ্চাশ জনকে এই ভাতা প্রদান করা হবে। কারণ গর্ভবতী মা ও শিশু উভয়ই শারীরিক ও মানসিক সুস্থ সবল থাকলে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয়ভাবে গর্ভবতী মা ও শিশু মৃত্যুর হার কমবে বলে আমি আশা করি। এসময় উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া পৌরসভার প্যানেল মেয়র-মতিয়ার রহমান মজনু, কাউন্সিলর সাবা উদ্দিন সওদাগর, পিয়ার আলী জোমারত, বদরুল ইসলাম, হেলাল উদ্দিন, ইসলাম শেখ, শাহানাজ সুলতানা বনি, নুরজাহান, মমতাজ জাহান, তাসলিমা খাতুন, পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম, বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা একেএম মন্জুরুল ইসলাম, প্রান্তিক জনগোষ্ঠির জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের টাউন ম্যানেজার সেলিম মোড়লসহ পৌরসভা ও পৌরসভার চলমান প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন প্রান্তিক জনগোষ্ঠির জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের আনোয়ার হোসেন। উল্লেখ্য সকালে র‌্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে পৌরসভা চত্তরে এসে শেষ হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি