ঝিনাইদহে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ৪৪তম শাহাদৎ বাষির্কী উপলক্ষে জেলা ছাত্রলীগের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুর ৪৪তম শাহাদৎ বাষির্কী উপলক্ষে জেলা ছাত্রলীগের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকালে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রানা হামিদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য দেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও ১ আসনের সংসদ আব্দুল হাই এমপি, প্রধান বক্তা হিসাবে বক্তব্য দেন ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও পৌর মেয়র আলহাজ্ব সাইদুল করিম মিন্টু। এ ছাড়াও বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামীলীগের নেতা ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাড আব্দুর রশিদ, সহ-সভাপতি আব্দুস সামাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হাকিম, দপ্তর সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা এ্যাডভোকেট ইসমাইল হোসেন, পৌর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক নজরুল ইসলাম বিশ্বাস, আওয়ামীলীগ নেতা বিকাশ বিশ্বাস, যুব মহিলালীগ নেতা সালমা ইয়াসমিন, জেলা যুবলীগের যুগ্নআহবায়ক শফিকুল ইসলাম শিমুল, জেলা ছাত্রলীগ নেতা রিপন, আল ইমরান, তমা বিশ্বাস, নাইমা মোজাম্মেল প্রকৃতি সহ অনেকে। এ আলোচনা সভা পরিচালনা করেন জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুল আওয়াল। বক্তারা বলেন, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতীর জনকের জন্ম না হলে আমরা এ দেশের মানচিত্র পেতাম না। বঙ্গবন্ধুর কারনেই আমরা সোনার বাংলা গড়ার জন্য কাজ করে চলেছি। ছাত্রলীগ শেখ মুজিবর রহমানের হাতে গড়া সংগঠন। ছাত্রলীগের মাধ্যমে মানুষ শিক্ষা নেওয়ার প্রেরণা জোগায়। বক্তারা আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর বাকি খুনিদের বিদেশ থেকে দেশে এনে ফাঁসি কার্যকর করার দাবি জানান।

ডেঙ্গু নিয়ে এখনই সফলতা দাবি করছি না – মন্ত্রী তাজুল

ঢাকা অফিস ॥ স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেছেন, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই কেউ না কেউ মারা যাচ্ছে বলে এই রোগ নিয়ন্ত্রণে এখনই সফলতা দাবি করছেন না তিনি।ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এইডিস মশা নিধনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পাশাপাশি দেশজুড়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করার কথাও বলেছেন তিনি।এ বছর বর্ষার শুরুতে ঢাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেওয়ার পর ক্রমশ তা ছড়িয়েছে। চলতি আগস্ট মাসেই মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫০ হাজার ৯৭৪ জন, যা গত ১৯ বছরে নথিভুক্ত সব ডেঙ্গু রোগীর মোট সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে।তবে জুন থেকে শুরু করে জুলাইয়ে বেড়ে আগস্টের মাঝামাঝি নাগাদ ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা যেভাবে বেড়েছিল, তা বেশ কিছুটা কমেছে গত কয়েক দিনে। তবে এখনও প্রতিদিন হাজারের বেশি মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে যাচ্ছেন।‘ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ভূমিকার’ জন্য ঠিক সপ্তাহ আগে একটি সংগঠনের কাছ থেকে সম্মাননা নিয়েছিলেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল, যা নিয়ে ফেইসবুকে বেশ আলোচনা হয়।শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ঢাকা ইউটিলিটি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডুরা) আয়োজিত ‘নাগরিক সেবা নিশ্চিতে স্থানীয় সরকারের করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে এসে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সফলতার বিষয়ে নিজের অবস্থান জানান মন্ত্রী তাজুল ইসলাম।তিনি বলেন, “ডেঙ্গু পরিস্থিতিতে এখনই সফলতা দাবি করছি না। প্রতিদিনই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে কেউ না কেউ মারা যাচ্ছে। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে যদি কেউ মারা না যেত তাহলে আমি সফলতা দাবি করতে পারতাম।”স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে শুক্রবার অবধি সারা দেশে ৬৯ হাজার ৪৩৫ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।সিটি করপোরেশনের ব্যবহৃত ওষুধে মশা মরে না বলে আইসিডিডিআর,বির গবেষণার তথ্য প্রকাশের পর এ নিয়ে বিস্তার আলোচনা হয়। গত ঈদের আগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন চীন থেকে এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ভারত থেকে নতুন ওষুধ নিয়ে আসে।স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল বলেন, উত্তর সিটি করপোরেশন যে ওষুধ এনেছে তা বেশি কার্যকর।ওই ওষুধই এখন দক্ষিণেও দেওয়া হবে।এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ণে গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, “ব্যাপারটা খুব কনসার্নে নিতে হবে। প্রত্যেকটা জিনিসের জন্য একটা টাইমলাইন ঠিক করতে হবে। এখন একটা পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে হবে। বিষয়টি হয়ত এখনই খুব ফলদায়ক হবে না। তবে লং টার্মে তা কাজে আসবে, এমন কাজ করতে হবে।”বিশ্ব পরিস্থিতি বিবেচনায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে ‘বড় চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে উল্লেখ করে তাজুল ইসলাম বলেন, “এই ব্যাপারটি আমাদের জন্য সিভিয়ার আকার ধারণ করেছে। আমাদের জনসংখ্যা অনেক বেশি। পার ক্যাপিটা ইনকাম বেড়েছে, কনজামপশন বেড়েছে, মাথা পিছু বর্জ্যও তাই বেড়েছে।“তবে ফিক্যাল স্লাজ পুড়িয়ে আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে শুরু করেছি। সেটা যদি সফল হয়, তবে সারা বাংলাদেশে শুরু করব।”ঢাকা মহানগরীতে উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে ঢাকার দুই মেয়র আতিকুল ইসলাম ও সাঈদ খোকনও অপরিকল্পিত নগরায়নের কথা বারবার বলেছেন।মন্ত্রী তাজুল ইসলামও সে কথার পুনরাবৃত্তি করে সেমিনারে বলেন, “অনেকগুলো অবস্ট্যাকলের মতো অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, সেটাকে অস্বীকার করার কোনো উপায় নাই।  ডাকটিং করবেন… রাস্তা নির্মাণ করবেন, তাতে যে সমস্ত ইউটিলিটি সার্ভিস আপনারা দেবেন.. দেখবেন ম্যাপও নাই, ডিজাইন  নাই।“কোন খান দিয়ে ইলেকট্রিকের লাইন গেছে, কোন খান দিয়ে পানির লাইন গেছে, কোথা দিয়ে গ্যাসের লাইন গেছে- সব কিছু এখন আননোন অবস্থায় আছে। কোথায় কোন ড্রেন, কোথায় কোন কালভার্ট আর কোথায় কোন পাইপলাইন হয়েছে কোনো তথ্য কোনো অধিদপ্তরে নাই।” রাতারাতিই এ সমস্যার সমাধান হবে না জানিয়ে মন্ত্রী বলেন,  “হয়ত টপোগ্রাফি, জিওলজিক্যাল সার্ভে করে আপনি তথ্য দিতে পারবেন। বাট ইট ইজ নট অ্যা ইজি জব। ইউ কান্ট ডু ইট ওভার নাইট। সময় লাগবে। হিউজ টাস্ক। স্থানীয় সরকারের বাজেট ৫ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকা। তবে আরও বাজেট লাগবে।” নগরে নানা সীমাবদ্ধতা নিয়েই রাজধানীর পানির সমস্যা সমাধানে ‘কাস্টমাইজড মডেল’ তৈরির কথাও সেমিনারে বলেন তিনি।

আলমডাঙ্গার হাটবোয়ালিয়া জামে মসজিদের জমিতে অবস্থিত দোকানঘর জোর করে দখলে রাখার প্রতিবাদে মানববন্ধন

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আলমডাঙ্গার হাটবোয়ালিয়া জামে মসজিদের জমিতে অবস্থিত দোকানঘর জোর করে দখলে রাখার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে মুসল্লিসহ এলাকাবাসি। গতকাল ৩০ আগস্ট বাদ জুম্মা মসজিদের সামনের রোডে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় বক্তাগণ বলেন, পার্শ্ববর্তি গাংনী উপজেলার চাঁদপুরের আজিজুল হকের ছেলে লাভলু, একই গ্রামের আওলাদ বিশ্বাসের ছেলে আল আমিন, ভাংবাড়িয়া গ্রামের মৃত রহিম বক্সের ছেলে আব্দুল জলিল ও তার ভাই রবিউল ইসলাম ১৯৮৪ সাল থেকে মাত্র দেড়শ টাকা মাসিক ভাড়ার বিনিময়ে মসজিদের ৫টি দোকানঘর এ যাবত পর্যন্ত দখল করে রেখেছে। অথচ মসজিদের দোকানঘরের পাশের দোকানঘরের বর্তমান মাসিক ভাড়া ৩ হাজার টাকা করে। পুরাতন দোকানঘর ভেঙ্গে সেখানে আধুনিক মার্কেট নির্মাণের সিদ্ধান্ত সম্প্রতি মসজিদ কমিটি ও এলাকাবাসি যৌথভাবে গ্রহণ করেছে। এ সিদ্ধান্ত মোতাবেক মসজিদের দোকানঘর ভাড়া নিয়ে যারা ব্যবসা করছেন, তাদেরকে দোকানঘর ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করা হয়। এমনকি নতুন মার্কেট নির্মিত হলে সেখানে দোকান বরাদ্ধের ব্যাপারে পুরাতনদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলেও প্রতিশ্র“তি দেওয়া হয়। তারপরও তারা মসজিদের দোকানঘর ছেড়ে দিতে রাজি হচ্ছে না। বরং সকলের অনুরোধ উপেক্ষা করে এমনকি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ পদদলিত করে নাম মাত্র টাকায় দোকানঘর জোরপূর্বক দখলে রেখেছে। এমন পরিস্থিতিতে মুসল্লিসহ হাটবোয়ালিয়া এলাকাবাসি জোরপূর্বক দখল করে রাখা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি এড়াতেই এ মানববন্ধনের মাধ্যমে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। এ মানববন্ধন থেকে অনাঙ্খিত পরিস্থিতি এড়িয়ে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ রক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন এলাকাবাসি। মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, হাটবোয়ালিয়া জামে মসজিদের সভাপতি রবিউল হক, সাধারন সম্পাদক সেলিম রেজা, হাটবোয়ালিয়া জামে মসজিদ মার্কেট নির্মাণ কমিটির সভাপতি রফিকুল হুদা, সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন, হাজী হবিবর রহমান, হাজী আব্দুল কাদের, আব্দুল লতিফ, জামিরুল ইসলাম, আব্দুস সাত্তার, মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুত সমিতির সাবেক পরিচালক আবুল কালাম আজাদ, আব্দুল রব্বান, আহাদ আলী, আব্দুস সামাদ, এনামুল হক শিলু, আহাম্মদ মন্ডল, রিপন মেম্বর, জাহিদুর রহমান টিটু, জাকির হোসেন, আব্দুস সালাম, লাল্টু প্রমুখ।

বিএনপির হাতই রক্তে রঞ্জিত – আনিসুল হক

ঢাকা অফিস ॥ আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী এড. আনিসুল হক বলেছেন, ‘ইতিহাস বলে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে।’তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর পরিবারের ১৭ জনকে হত্যা করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন জিয়াউর রহমান। জিয়াউর রহমান ক্যু নাটক সাজিয়ে আর্মির ৫ থেকে ৬ হাজার সৈন্য হত্যা করেছে। তাহলে কার হাত রক্তে রঞ্জিত? জিয়াউর রহমানের হাত। আগুন-সন্ত্রাসসহ কানসাটে কৃষক হত্যা বলেন সবগুলো হত্যা বিএনপি ঘটিয়েছে। এতে প্রমাণ হয় বিএনপির হাতই রক্তে রঞ্জিত।‘আওয়ামী লীগের হাত সাধারণ মানুষের রক্তে রঞ্জিত-’ মির্জা ফখরুল ইসলামের এমন মন্তব্যের প্রেক্ষিতে গতকাল শুক্রবার আখাউড়া রেলওয়ে ষ্টেশনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।আনিসুল হক এসময় বলেন, ‘অগ্নি সন্ত্রাস করেছেন খালেদা জিয়া, ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা করেছিলো তারেক জিয়া। তাহলে রক্তে রঞ্জিত কার হাত। বিএনপির রাজনীতি হচ্ছে ষড়যন্ত্র ও হত্যা করা আর আওয়ামী লীগের রাজনীতি হচ্ছে জনগনের উন্নয়ন।এ সময় আইন সচিব মো. গোলাম সারওয়ার, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কাসেম ভূইয়া, আখাউড়া পৌর মেয়র তাকজিল খলিফা কাজল, উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাহমিনা আক্তার রেইনা, উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক অধ্যক্ষ মো. আবুল কাসেম আবেদীন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসরিন সফিক আলেয়া, উপজেলা কৃষি অফিসার সাহেনা আক্তার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।এর আগে আইনমন্ত্রী ষ্টেশন চত্বরে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে বিনা মূল্যে মাসকলাই বীজ ও সার বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এসময় ১১০ জন কৃষকদের মাঝে বিনা মূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়।

ট্রেনের ছাদে উঠলে কারাদন্ড

ঢাকা অফিস ॥ ট্রেনের ছাদে উঠে ভ্রমণ করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হুশিয়ারি দিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে কেউ ট্রেনের ছাদে উঠে ভ্রমণ করলে, তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি এক বছরের কারাদ- ভোগ করতে হবে।রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মো. শরিফুল আলমের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ ঝুঁকিপূর্ণ, অনিরাপদ এবং দন্ডনীয় অপরাধ। এভাবে ছাদে ভ্রমণের কারণে যে কোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এর ফলে ভ্রমণকারীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। ছাদে ভ্রমণের কারণে ট্রেন চলাচলে বিলম্বিত হয়ে স্বাচ্ছন্দ্য বিঘ্নিত হয় এবং সরকারি মূল্যবান সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১৮৯০ সালের রেলওয়ে আইনের ১২৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী, ‘যদি কোনো ব্যক্তি বিপজ্জনক বা বেপরোয়া কার্যের দ্বারা অথবা অবহেলা করে কোনো যাত্রীর জীবন বিপন্ন করে, তবে তার এক বছর পর্যন্ত কারাদন্ড অথবা জরিমানা কিংবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হতে পারে।’ ওই বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ছাদে ভ্রমণকারী এবং ভ্রমণে উৎসাহ ও সহযোগিতা প্রদানকারী সমান অপরাধী। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ছাদে ভ্রমণকারীদের বিরুদ্ধে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। তাই যাত্রীদের ছাদে ভ্রমণ না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেছে রেলপথ মন্ত্রণালয়।

একদিন তদন্ত করে ‘গুমের’ বিচার হবে – রিজভী

ঢাকা অফিস ॥ দুই মেয়াদে আওয়ামী লীগের দশ বছরের শাসনামলে দেশে ১২০৯ জন মানুষ ‘গুম হয়েছে’ দাবি করে বিএনপি জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, কোনো একদিন অবশ্যই তদন্ত করে এর বিচার হবে। ‘আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে শুক্রবার নয়া পল্টনে এক সংবাদ সম্মেলনে দলীয় ওই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন বিএনপির নেতা রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, “২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশে গুম হওয়া মানুষের সংখ্যা ১২০৯ জন। যার ভেতরে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক গুমের সংখ্যা ৭৮১ জন।” এদের মধ্যে বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী, সাইফুল ইসলাম হিরু, ঢাকা সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর চৌধুরী আলম, লাকসাম বিএনপি নেতা হুমায়ুনর কবির পারভেজ, ছাত্রদল নেতা জাকির, নিজাম উদ্দিন মুন্না, তারিকুল ইসলাম ঝন্টু, আদনান চৌধুরী, মো. সোহেল, খালিদ হোসেন সোহেল, সম্রাট মোল্লা, মাহবুব সুমনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলোর ‘শত শত নেতাকর্মী’ রয়েছেন বলে দাবি করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।রিজভী বলেন, “একদিন তদন্ত করে এর বিচার হবেই।”‘গুমের শিকার’ পরিবারের সদস্যরা এখনো পথ চেয়ে বসে আছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “ছোট শিশুরা অপেক্ষা করছে বাবা ফিরে আসবে সেই আশায়। সন্তানের দুচিন্তায় অনেকের বাবা-মা দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছেন। নিখোঁজ সুমনের মা চোখের পানি ফেলতে ফেলতে অন্ধ হয়ে গেছেন। গুমের শিকার প্রতিটি পরিবারে কান্না-আহজারি আর প্রতীক্ষার দিবানিশি শেষ হচ্ছে না।”গুমকে একটি ‘ভয়ঙ্কর মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে বর্ণনা করে রিজভী বলেন, “বাংলাদেশে বর্তমান গুমের ধারাবাহিকতা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, যা শুরু হয়েছিল ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালে। গণতন্ত্রের অকাল প্রয়াণ ঘটানোর জন্যই গুমের মত অমানবিক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে ক্ষমতাসীনরা। গণতন্ত্র হত্যায় রাষ্ট্রের এই নিষ্ঠুর চেহারা দেখে জনগণ শোক জানাতেও ভয় পায়।”এই বিএনপি নেতার ভাষায়, “সুদূরপ্রসারী উদ্দেশ্য নিয়ে, বিরোধী দল ও মতকে নির্মূল করে রাষ্ট্র-সমাজে একমাত্রিকতা, কর্তৃত্ববাদী ও একদলীয় শাসনব্যবস্থাকে দীর্ঘস্থায়ী করাই এর মূল লক্ষ্য।”চিরদিনের মতো নিখোঁজ হওয়ার ভয়ে মানুষ যেন দুঃশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে উঠতে না পারে সেজন্য বর্তমান সরকার ‘গুমকে হাতিয়ার হিসেবে’ ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ করেন রিজভী।তিনি বলেন, “বাংলাদেশে গুমের ইতিহাস সৃষ্টি করেছে আওয়ামী সরকার। রাষ্ট্রীয় মদদ ছাড়া কাউকে গুম করা অসম্ভব। গুম ও ক্রসফায়ারের মতো গুরুতর অপরাধের ঘটনাগুলো সমাজে, সংবাদ মাধ্যমে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি হলেও তাতে সরকারের টনক নড়ে নাই।”মৌলভীবাজার কলেজের শহীদ জিয়া অডিটরিয়ামের নামফলক ছাত্রলীগ কর্মীরা ভেঙে ফেলেছে অভিযোগ করে এর নিন্দা জানান বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব। ঢাকার তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা মহিলা দলের গ্রেপ্তার সভাপতি আলেয়া বেগম মনি ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জোসনা বেগমের মুক্তিরও দাবি জানানো হয় এ সংবাদ সম্মেলন থেকে। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মাহবুবউদ্দিন খোকন, খায়রুল কবির খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, আসাদুল করিম শাহিন, আবেদ রাজা, আমিনুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।

রোহিঙ্গাদের নিয়ে রাজনীতি করা বিএনপির মূল উদ্দেশ্য – তথ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, রোহিঙ্গারা তাদের দেশে ফিরে যাক, সেটা বিএনপি চায় না। রোহিঙ্গাদের নিয়ে রাজনীতি করাই বিএনপির মূল উদ্দেশ্য।তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ যে পথে হাঁটছে সেটিই সঠিক পথ। কোন যুদ্ধ-বিগ্রহের মাধ্যমে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করা যাবে না। বাংলাদেশ কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করছে।

‘বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীররা যেভাবে রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে রাজনীতি শুরু করেছেন তাদের কথাবার্তায় মনে হয় রোহিঙ্গারা দেশে ফিরে যাক সেটা তাদের উদ্দেশ্য নয়। তারা চায়না রোহিঙ্গারা দেশে ফিরে যাক।’তথ্যমন্ত্রী গতকাল শুক্রবার জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রামের দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) ও সিএমপি স্কুল অ্যান্ড কলেজ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য এ কথা বলেন।চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার ও সিএমপি স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মো. মাহাবুবর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আমেনা বেগম।হাছান মাহমুদ বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যা শুধু ব্যক্তি শেখ মুজিবুর রহমানকে নয়, স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে হত্যার ষড়যন্ত্র ছিল। একাত্তর সালে দেশী-বিদেশী এবং আর্ন্তজাতিক যেসব শক্তি বাংলাদেশের অভ্যুদয় চায়নি তারাই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্রটিকে হত্যা করার অপচেষ্টা চালিয়েছিল।তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর প্রথমে জাতীয় পতাকা পরির্তনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে প্রবলভাবে আভ্যন্তরীণ বিরোধীতার কারণে সেটা করা সম্ভব হয়নি। বাঙালিরা একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র রচনার লক্ষ্যেই সবার রক্তস্্েরাতের বিনিময়ে বাংলাদেশের অভ্যুদয় হয়েছিল। ষড়যন্ত্রকারীরা বঙ্গবন্ধুকে ইতিহাস থেকে মুছে দিতে চেয়েছিল, কিন্তু তারা তা পারেনি। বঙ্গবন্ধু ইতিহাসে অমর হয়ে রয়েছেন। আর সেই ষড়যন্ত্রকারীরাই মুছে গেছে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্ব বাংলাদেশ আজ স্বপ্নপূরণের পথে। ২০২১ সাল নাগাদ পরিপূর্ণ মধ্যম আয়ের দেশ, ২০৪১ সাল নাগাদ একটি উন্নত দেশে রূপান্তরিত হতে অদম্য গতিতে এগিয়ে চলছে দেশ। শেখ হাসিনার নেতৃতে বাংলাদেশ স্বপ্নের ঠিকানায় পৌঁছে যাবে।ড. হাছান বলেন, দেশের অগ্রযাত্রায় পুলিশ বাহিনীর ভূমিকা রয়েছে, আত্মত্যাগ রয়েছে। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, পেট্রোল বোমাবাজদের প্রতিহত করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করছে পুলিশ বাহিনী। স্বাধীনতা-সংগ্রামে, দেশ গঠনের ক্ষেত্রে, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা, স্থিতি বিরাজমান রাখার ক্ষেত্রে এবং দেশের ক্রান্তিকালে পুলিশ বাহিনী দায়িত্বপালন করেছে এবং করছে।সিএমপি’র সিনিয়র সহকারী কমিশনার (পাঁচলাইশ জোন) দেবদূত মজুমদারের পরিচালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপ-কমিশনার (সদর) শ্যামল কুমার নাথ। বক্তব্য রাখেন সিএমপির উপ-কমিশনার (উত্তর) বিজয় বসাক, সিএমপি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শিবলী সাদিক প্রমুখ।

চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়

ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়ার দুই নারীর পাসপোর্ট তৈরির চেষ্টা !

চুয়াডাঙ্গা অফিস ॥ ইন্দোনেশিয়ান দিলভিয়া আলিয়ান্তী (৩০) ও কম্বোডিয়ার নাগরিক শ্রীমতি সুপা রানী (২৮) ভূয়া তথ্য দিয়ে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে পাসপোর্ট তৈরির চেষ্টা করেছিলেন। তবে, চুয়াডাঙ্গার আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক মো. রুবাইয়াত ফেরদৌসের বিচক্ষণতায় তা সম্ভব হয়নি। ভিনদেশী ওই দুই নাগরিককে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে শনাক্তসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরবরাহও করেছিলেন দুজন জনপ্রতিনিধি। তাঁরা হলেন, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা পৌরসভার প্যানেল মেয়র-২ জহুরুল ইসলাম ও আলমডাঙ্গা উপজেলার খাসকররা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান । আগস্ট মাসের জেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সভার সভাপতি জেলা প্রশাসক  গোপাল চন্দ্র দাস উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘ভিনদেশিদেরকে এদেশের পাসপোর্ট তৈরির উদ্দ্যোগ ও সহায়তার ঘটনাটি দুঃখজনক। এমনিতেই রোহিঙ্গারা বাংলাদেশি পাসপোর্ট পেতে অপতৎপরতা চালাচ্ছে। এসব সতর্কতার সাথে মোকাবেলা করতে হবে। কেউ ভূয়া তথ্যদিয়ে পাসপোর্ট করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনী পদক্ষেপ নিতে হবে।’ জেলা প্রশাসক পরামর্শ  দেন, ভবিষ্যতে কেউ যাতে ভূয়া তথ্যে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে পাসপোর্ট না পান, সে বিষয়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, তদন্তে নিয়োজিত পুলিশের বিশেষ শাখার সদস্য, নির্বাচন কার্যালয় ও পাসপোর্ট কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মাচারীদেরকে সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।  অনুসন্ধানে দেখা গেছে, পাসপোর্ট কার্যালয়ে জমা দেওয়া ফরমে দিলভিয়া আলিয়ান্তী ও সুপা রানী দুজনই বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দিয়েছেন। পাক লিয়ান ও হফ রিয়েন্তী দম্পতির সন্তান দিলভিয়া ফরমের ৫ নম্বর কলামে জাতীয়তা ইন্দোনেশিয়ান ও ১০ নম্বর কলামে নিজের জন্মস্থান হিসেবে দেশ ও জেলার নাম দুটোই ইন্দোনেশিয়া দেখিয়েছেন। আবার, ১৭ নম্বর কলামে নিজেকে জন্মসূত্রে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে দাবি করেছেন। এবং নিজেকে আলমডাঙ্গা কলেজপাড়ার বাসিন্দা হাশেম আলীর স্তী  হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্রের (আইডি নম্বর ৭৮০৬২৫৩৮৮১) সত্যায়িত ফটোকপি সরবরাহ করেছেন। আলমডাঙ্গা পৌরসভা থেকে সরবরাহকৃত নাগরিকত্ব সনদপত্রে দিলভিয়া প্রসঙ্গে লেখা হয়েছে, মুসলিম পরিবারের সম্ভ্রান্ত বংশে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক ও অত্র  পৌরসভার স্থায়ী বাসিন্দা। আলমডাঙ্গা পৌর মেয়র হাসান কাদির  ২০১৭ সালের ১০ আগস্ট সনদপত্রটি স্বাক্ষর করেন। আলমডাঙ্গা  পৌরসভার প্যানেল মেয়র-২ মো. জহুরুল ইসলাম নাগরিকত্ব সনদপত্রের ফটোকপিসহ পাসপোর্ট ফরমের প্রয়োজনীয় অংশে স্বাক্ষর দিয়ে সত্যায়িত করেছেন। এদিকে শ্রীমতি সুপা রানী পাসপোর্ট কাযালয়ে জমা দেওয়া ফরমে তাঁর নিজ দেশ ও জাতীয়তা কম্বোডিয়ার কথাটি পুরোপুরি গোপন করলেও তথ্যগত বিভ্রান্তি  এড়াতে পারেননি। ফরমে নিজেকে জন্মসূত্রে বাংলাদেশি নাগরিক এবং চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার খাসকররা গ্রামের শ্রী অগ্রজিৎ প্রামাণিকের স্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এদিকে পাসপোর্ট ফরমের সঙ্গে জমা দেওয়া নাগরিক সদনপত্র ও জন্মসনদে দুইরকম ঠিকানা দেওয়া হয়েছে। এই দুটি সনদসহ পাসপোর্ট ফরমের প্রয়োজানীয় অংশে সত্যায়িত করেছেন খাসকররা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোস্তাফিজুর রহমান। খাসকররা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সরবরাহকৃত নাগরিক সনদপত্রে লেখা হয়েছে, আলমডাঙ্গা উপজেলার খাসকররা গ্রামের শ্রী শুম্ভ প্রামানিক ও শ্রীমতি অনিতা রানীর মেয়ে শ্রীমতি সুপা রানী। আবার, একই ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সরবরাহকৃত জন্মসনদে তাঁর জন্মস্থান ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হলিধানী। অথচ, স্থায়ী ঠিকানা খাসকররা উল্লেখ করা হয়েছে। সুপা রানী নিজ  দেশ কম্বোডিয়া বলে নিশ্চিত করেছেন। ভাঙা ভাঙা বাংলায় সুপা বলেন,‘ মালয়েশিয়ায় একটি সুপারশপে চাকরিকালীন অগ্রজিতের সঙ্গে পরিচয়ের সূত্র ধরে বিয়ে এবং পাঁচ বছর আগে বাংলাদেশে আসা। দাম্পত্য জীবনে তাঁদের রাসমানজিৎ (৪) ও রাংসিমানজিৎ (২) নামে দুটি সন্তান আছে।’ পাসপোর্টে দেওয়া তথ্য বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। খাসকররা ইউপি  চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান  ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘মেয়েটি নিজ দেশ কম্বোডিয়ায় ফিরতে চাই। কিন্ত,  কোনো পাসপোর্ট না থাকায় পারছেন না। একজন কলেজ শিক্ষকের অনুরোধে তাঁকে সহযোগিতা করা হয়েছিল।’ দিলভিয়া আলিয়ান্তী ও তাঁর স্বামী হাসেম আলীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি। আলমডাঙ্গা পৌরসভার প্যানেল মেয়র-২ মো. জহুরুল ইসলাম দাবি করেন, দিলভিয়ার জাতীয় পরিচয়পত্র দেখে এবং বাংলাদেশি নাগরিকত্বর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর পাসপোর্টের কাগজপত্রে তিনি স্বাক্ষর করেছেন। এছাড়া, চুয়াডাঙ্গা  পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম মনি নিজ ওয়ার্ডের বাসিন্দা ছাড়াও কুড়ালগাছি ও অন্যান্য ইউনিয়ন এলাকার নাগরিকদের পাসপোর্ট আবেদনে সত্যায়িত থাকেন। যা বিধি সম্মত নয়। আবার চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার সংরক্ষিত কাউন্সিলর সুলতানা আনজু নামে সত্যায়িত করেছেন। তবে, এনামে কোন কাউন্সির নাই । অথচ মোবাইলটি নম্বরটি দেয়া সুলতানা আরা রতœার নামে। যা সঠিক। তিনি জানান, যে ব্যক্তির নাম সত্যায়িত বলা হচ্ছে তিনি তাকে চিনতে পারেননি এবং সত্যায়িত করেননি।

চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক পাসপোর্ট কাযালয়ের সহকারি পরিচালক মো. রুবাইয়াত ফেরদৌস জানান, ভিনদেশী নাগরিকদেরকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর বসবাস করতে হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন লাগে। অথচ, ওই দুজন এদেশে দীর্ঘদিন বসবাসের পাশাপাশি অবৈধ প্রক্রিয়ায় এ দেশের নাগরিক হিসেবে পাসপোর্ট  পেতে চেষ্টা করেছিলেন। শেষ পযন্ত যা হয়নি। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা তারেক আহমেদ জানান, কয়েকটি ধাপে কাজ শেষে  ভোটারসহ জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি হয়ে থাকে। জনপ্রতিনিধি, নির্বাচন কমিশন ও  সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তরের কর্মকর্তারা প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে থাকেন। তিনি বলেন,‘ বিষয়টি জানার পর  রেজিস্ট্রেশন কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এমএজি মোস্তফা ফেরদৌসকে তদন্ত করতে গত বুধবার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে ভোটারসহ জাতীয় পরিচয়পত্রটি নিয়মানুযায়ী বাতিল এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা  নেওয়া হবে।’

ডেঙ্গু : ১৯ বছরের চেয়ে বেশি রোগী এক মাসেই

ঢাকা অফিস ॥ চলতি বছর আগস্ট মাসে মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা গত ১৯ বছরে নথিভুক্ত সব ডেঙ্গু রোগীর মোট সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম জানাচ্ছে, চলতি বছর এ পর্যন্ত মোট ৬৯ হাজার ৪৩৫ জন ডেঙ্গু রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে অগাস্টেই ভর্তি হয়েছেন ৫০ হাজার ৯৭৪ জন।আর ২০০০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মোট ৫০ হাজার ১৪৮ জনের ডেঙ্গুর চিকিৎসা নেওয়ার তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে সরকারের খাতায়।সরকারি হিসেবে চলতি বছর এপ্রিলে ৫৮ জন, মে মাসে ১৯৩ জন, জুনে ১৮৮৪ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। জুলাই মাসে তা এক লাফে ১৬ হাজার ২৫৩ জনে পৌঁছায়। আর অগাস্টে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে জুলাইয়ের তিন গুণের বেশি। গত এক মাসের মধ্যে ৭ অগাস্ট সর্বোচ্চ ২ হাজার ৪২৮ জন রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে। ২১ আগস্টের পর থেকে হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ধীরে ধীরে কমতে থাকে।আর শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ২৫ জন ডেঙ্গু নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যা গত এক মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম। নতুন ভর্তি এই রোগীদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ৪৬৫ এবং ঢাকার বাইরে ৫৬০ জন রয়েছেন। শুক্রবার দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৪ হাজার ৬৯৭ জন ডেঙ্গু রোগী। তাদের মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ২ হাজার ৬১০ জন এবং রাজধানীর বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে ২ হাজার ০৮৭ জন ভর্তি আছেন।ডেঙ্গু জ্বরে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৫২ জনের মৃত্যুর খবর সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তাদের ‘ডেথ রিভিউ’প্রক্রিয়া শেষ করে নিশ্চিত করেছে।হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম বলছে, বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত যারা ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, তাদের মধ্যে ৯৩ শতাংশই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। গত কয়েকদিনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হাসপাতালগুলোতে ভর্তি রোগীর সংখ্যা প্রতিদিনিই কমছে। বৃহস্পতিবার হাসপাতালগুলোতে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ৩০ জন। তার আগে বুধবার ৫ হাজার ২২২ জন, মঙ্গলবার ৫ হাজার ৩২২ জন, সোমবার ৫ হাজার ৫৬২ জন, রোববার ৫ হাজার ৯৪০ জন এবং শনিবার ৬ হাজার ২৮৯ জন ভর্তি ছিলেন হাসপাতালে।

বঙ্গবন্ধুর ৪৪তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে মিরপুরে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদত  বার্ষিকী উপলক্ষে বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে “ইয়াসিন-মাহমুদা” স্মতি পরিষদের উদ্যোগে ও প্রেসক্লাব উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের যৌথ সহযোগিতায় ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সে ভবনে এ স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয়। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের প্রতিষ্ঠাকালীন অধ্যক্ষ অধ্যাপক ইফতেখার মাহমুদ’র নেতৃত্বে ডাঃ চৌধুরী সরওয়ার জাহান, ডাঃ আসহাব শাহরিয়ার, ডাঃ তামিম হোসেন, ডাঃ আমীমুল  এহসান, ডাঃ নিটোল আক্তার সিথী, ডাঃ মাহবুব সুমন, ডাঃ শাম্মী প্রায় ৫ শতাধিক রোগীর ব্যবস্থাপত্র প্রদান করেন। এ সময়ে জেলা পরিষদের সদস্য আলহাজ্ব মহাম্মদ আলী জোয়ার্দ্দার, চিথলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন পিস্তুল, ইসলামী  বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার শামসুর রহমান বাবু, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রাশেদুজ্জামান রিমন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক সহকারী কমান্ডার মোহাম্মদ আলী, চিথলিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল্লাহেল বাকী, চিথলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক খাইরুল ইসলাম, চিথলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুস সাত্তার, আব্দুল মমিন, আব্দুল গণি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আলমডাঙ্গায় এমপি সোলায়মান হক ছেলুনের বধ্যভূমি পরিদর্শন ও নেতাকর্মিদের সাথে মতবিনিময়

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আলমডাঙ্গা বধ্যভূমি পরিদর্শন ও উপজেলা  আওয়ামীলীগের নেতাকর্মিসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মিদের সাথে সৌজন্য মতবিনাময় সভায় মিলিত হয়। গত ৩০ আগষ্ট বৈকাল ৫টার দিকে আলমডাঙ্গা বদ্ধভূমির নবনির্মিত হলরুমে  আওয়ামীলীগের নেতা কর্মিদের মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দার ছেলুন এমপি। তিনি বলেন আগষ্ট মাস শোকের মাস, এই মাসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করা হয়েছিল, এই মাসেই ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা করে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে চেয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার হয়েছে, এবার ২১ আগষ্টের খুনিদেরও বিচার হবে। তিনি আরও বলেন বর্তমান সরকার জনগনের সরকার,এই সরকার ক্ষমতায় আসলে দেশের উন্নয়ন হয়। বিশেষ করে আমি গত ১১ বছরে অত্রাঞ্চলের যে উন্নয়ন করেছি, যা কোন সরকার আমলের এমপি করতে পারেনি, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন দেখে বিরোধী দলের নেতারা ঈর্ষান্বিত হয়ে উন্নয়ন বাধা গ্রস্থ করতে নানামুখি ষড়যন্ত্র করে চলেছে, আপনারা যারা দলের প্রাণ বিশেষ করে তৃণমুলের নেতাকর্মিগন আপনারা তাদের এই ষড়যন্ত্র রুখে দেবেন।  বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামীলীগের সাংঠনিক সম্পাদক মাসুদুজ্জামান লিটু বিশ্বাস, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি পৌর মেয়র হাসান কাদীর গনু, উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ইয়াকুব আলী মাষ্টার, উপজেলার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এ্যাডঃ সালমুন আহম্মদ ডন, সাবেক ছাত্রনেতা এ্যাডঃ বিল্লাল হোসেন, সাবেক কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম, জেলা ইউপি চেয়ারম্যান সমিতির সভাপতি নুরুল ইসলাম, উপজেলা ইউপি চেয়ারম্যান সমিতির সম্পাদক কালিদাশপুর ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম নুরু, জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য দেলোয়ার হোসেন, পৌর আওয়ামীলীগের সাম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি খন্দকার শাহ আলম মন্টু, হামিদুল আজম, ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাইদ পিন্টু, কুমারি ইউনিয়ন সাধারন সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, পৌর আওয়ামীলীগের নেতা জাহাঙ্গির আলম, মাহমুদুল হাসান চঞ্চল, পরিমল কুমার ঘোষ, জয় বিশ্বাস, জেলা, যুবলীগ নেতা কাউন্সিলর মতিয়ার রহমান ফারুক, উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক আহসান উল্লাহ, সাইফুর রহমান পিন্টু, ছাত্রলীগ নেতা আশরাফুল ইসলাম, বাদশা, সৈকত  প্রমুখ। এ সময় এমপি ছেলুন জোয়ার্দার বধ্যভূমির কাজ পরিদর্শন করেন।

আলহাজ্ব আব্দুম মুনিব

পহেলা মহররম হিজরী নববর্ষ মুসলিম সংস্কৃতির এক অনন্য স্মারক

সময়ের পরিক্রময়া আমাদের মাঝে আসন্ন হিজরী নববর্ষ-১৪৪১। আজ ২৯ জিলহজ্ব। আগামীকাল (চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল) হিজরী নববর্ষ। হিজরী সনের প্রথম মাস মহররম আর ১ মহররম হলো হিজরী সনের প্রথম দিন। হৃদয়ের সকল ভালোবাসা আর উষ্ণতা দিয়ে স্বাগত জানাবো হিজরী সনের নতুন বছরকে। হিজরী নববর্ষ মুসলিম জাতির এক অনন্যোজ্জ্বল গৌরবগাঁথা ও ইতিহাসের দিন। নিজেদের অস্তিত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিশ্ব মুসলিমকে নব  চেতনায় উদ্দীপ্ত করতে হিজরী নববর্ষ অতীব গুরুত্বপূর্ণ।

মুসলমানদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় সকল আচার অনুষ্ঠান ও ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিধি-বিধান বা ইবাদত এই হিজরী তারিখের উপর নির্ভরশীল। ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভের দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ যেমন- রোজা ও হজ্ব পালন করতে হয় হিজরী তারিখ তথা চাঁদের হিসেবের উপর। তাছাড়াও দুই ঈদ, মিলাদুন্নবী (সাঃ) লাইলাতুল কদর, লাইলাতুল বরাত বা নিছফ মিনাশ শাবান, লাইলাতুল মিরাজ, আশুরাসহ ইসলামের বিভিন্ন বিধি-বিধান হিজরী সনের উপর নির্ভরশীল। তাই ইসলামে এ দিনটি সমগ্র মুসলিম জাতির জন্য এক বিশেষ স্মারক।

চাঁদের হিসেবে সমস্ত ইবাদত বন্দেগীর প্রচলন হযরত আদম (আঃ) এর সময় থেকে প্রচলিত ছিল। কিন্তু হিজরী বর্ষ বা সন গণনার প্রবর্তন হয় ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমর ফারুক (রাঃ) এর খেলাফতের চতুর্থ বছর (৬৩৮ খ্রিষ্টাব্দ)  থেকে। তখন তিনি অর্ধ পৃথিবীর শাসনকর্তা ছিলেন। রাষ্ট্রীয় কাজে চিঠি-পত্র ও বিভিন্ন দলিলাদি আদান প্রদানে সনের উল্লেখ না থাকায় সমস্যা দেখা দিলে তৎকালীন ইরাক ও কুফার গভর্ণর হযরত আবু মুছা আশআরি (রাঃ) অর্ধ পৃথিবীর শাসনকর্তা হযরত উমর ফারুক (রাঃ) এর খেদমতে বিষয়টি নিবেদন করেন। তিনি হযরত উসমান জিন্নুরাইন (রাঃ) ও হযরত আলী (রাঃ) সহ বিশিষ্ট সাহাবী বর্গদের নিয়ে পরামর্শ সাপেক্ষে হিজরী সন প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন এবং প্রিয় নবী (সাঃ) ও তাঁর প্রিয় সাহাবায়ে কেরামগণের হিজরতের মাস মহররমকে হিজরী সনের প্রথম মাস নির্ধারণ করে হিজরী সন গণনা শুরু করেন। এই মহররম একটি অতিব গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ মাস। এই মাসকে ’শাহরুল্লাহ’ বা আল্লাহর মাস হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। পবিত্র কোরানে যে চারটি বিশেষ মাসের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হলো মহররম মাস। (সূরা তওবাহ-৩৬ নং আয়াত দ্রষ্টব্য)।

মুসলিম ইতিহাসের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ ও ঘটনাবহুল মাস হলো এই মহররম মাস। অথচ মুসলিম জাতি আজ এই মাসের শিক্ষা থেকে অনেক দূরে। এমনকি হিজরী সনের কথা আমরা খেয়ালও রাখিনা বা রাখার প্রয়োজন অনুভব করিনা। বিশ্বের অন্যান্য দেশের কথা বাদ দিয়ে যদি বাংলাদেশের কথা বলি তাহলে দেখা যায় এই বিশেষ দিনটিকে ঘিরে দেশে  তেমন কোন কর্মসূচী থাকেনা। দেশের দৈনিক পত্রিকাগুলো বিশেষ সম্পাদকীয় প্রকাশ করেনা। অনলাইন মিডিয়া কিংবা ইলেকট্রনিক মিডিয়াগুলোতেও এ সংক্রান্ত কোন উদ্যোগ থাকেনা। অথচ এই বাংলাদেশে তথা ভারতীয় উপমহাদেশে ১২০৪ খিৃষ্টাব্দ থেকে সর্বক্ষেত্রে হিজরী সনের প্রচলণ শুরু হয় যা প্রায় ৫৫০ বছর পর্যন্ত রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত ছিল।

পরে ১৭৯০ সালে হতে এ উপমহাদেশে খৃষ্টীয় সালের প্রচলণ হয় যা আমরা এখনো অন্ধের মতো পালন করছি। আমরা আমাদের অতীত ঐতিহ্যের কথা বেমালুম ভুলে গিয়ে ইসলামের সংস্কৃতি ও গৌরবগাঁথাকে দূরে ঠেলে বিজাতীয় সংস্কৃতিকে লালন করছি যুগের পর যুগ। খিৃষ্টীয় সালকে নিজেদের সংস্কৃতির অনুসঙ্গ বানিয়ে থার্টি ফাস্ট নাইট নামক এক  বেলাল্লাপনার আসর জমে যায় বাংলাদেশসহ সারা পৃথিবী জুড়ে। অমুসলিম দেশগুলোতে তারা তাদের নিজস্ব ধাঁচে বা ঢংয়ে যে কোন উৎসব পালন করুক কিন্তু মুসলমান হয়ে কিভাবে আমরা তা অন্ধ অনুকরণ করে যুগ-যুগান্তর লালন করি!

একদিকে খিৃষ্টীয় নববর্ষ আবার অন্যদিকে বাংলা নববর্ষের নামেও আমাদের দেশে ১ বৈশাখে বিভিন্ন জীব জন্তুর মুখোশ পড়াসহ বিজাতীয় সংস্কৃতির এক মহড়া হয়ে যায় যা মোটেও মুসলিম সংস্কৃতি কিংবা বাঙ্গালী সংস্কৃতির অংশ নয়। বাংলাদেশে প্রচলিত তিনটি সনের মধ্যে হিজরী সনই হচ্ছে সর্ব প্রাচীন সন অথচ তা পালনে আমাদের কোন আয়োজন নেই। আমাদের চেতনায় হিজরী সনের গুরুত্বের লেশ মাত্র নেই, এটি বড় দুঃখজনক। বাংলা সনকে বাংলাদেশের মুসলমানরা বিজাতীয় সংস্কৃতির রূপে এবং ঢংয়ে পালন করেন কেননা আমরা অনেকেই জানিনা বাংলা সনের ইতিহাস। বাংলা সনের উৎপত্তির ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে এটি উৎপত্তিগত দিক থেকে ইসলামের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত। বাদশা আকবরের আমলে মুসলিম জ্যোতির্বিজ্ঞানী আমীর ফতেহুল্লাহ সিরাজী হিজরী সনকে গবেষণা করে বাংলা সনের প্রবর্তন করেন। সেদিক থেকে বিবেচনা করলেও বাংলা সন উদযাপনে বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুকরণ করার কোন সুযোগ নেই। অথচ আমরা সকলে আমাদের দ্বীনি ও দেশীয় সংস্কৃতি ভুলে বিজাতীয় সংস্কৃতির উদ্দামতায় গা ভাসিয়ে দিয়ে ভবিষ্যত প্রজন্মকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছি। অপরদিকে যারা মুসলমানদের এই সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে লালন করে দেশে সুস্থ ধারার সংস্কৃতি চালু করতঃ বিজাতীয় সংস্কৃতির নগ্ন থাবা থেকে দেশ ও জাতিকে বাঁচানোর প্রচেষ্টা চালায় তাদের কথা আমাদের প্রিন্ট মিডিয়া বলেন আর ইলেকট্রনিক মিডিয়া বলেন কেউ প্রচার করেননা অপরদিকে থার্টি ফাস্ট নাইট বা বাংলা নববর্ষ উদযাপনে মিডিয়াগুলো থাকে ব্যতিব্যাস্ত।

আসুন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) হিজরতের প্রেক্ষাপটকে স্মরনার্থে হিজরী নববর্ষ পালন করে আগামী প্রজন্মের কাছে ইসলামের ইতিহাস তথা সংস্কৃতিকে তুলে ধরি। মহান আল্লাহর দ্বীনের প্রচারে প্রিয় নবী (সাঃ) এবং তাঁর প্রিয় সহচরবৃন্দ কীভাবে মাতৃভূমির মায়া ত্যাগ করে তৎকালীন ইয়াসরীবে (বর্তমান মদিনা শরীফ) হিজরত করেন তার মহান শিক্ষা ও তাৎপর্য নিহিত রয়েছে এই হিজরী নববর্ষ পালনের মধ্যে। হিজরী সন আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয় প্রিয় নবী (সাঃ েেসই সাহাবী সুহায়ব (রাঃ) এর ত্যাগের কথা- যিনি কাফেরদের হাতে বন্দি হয়ে অনেক নির্যাতন সহ্য করার পর নিজের সর্বস্ব কাফেরদেরকে দিয়ে আপন মাতৃভূমির মায়াকে তুচ্ছ করে প্রিয়নবীর নির্দেশকে শিরোধার্য্য করে মদীনায় হিজরত করেন।

মনে করিয়ে দেয় উম্মে সালমা ও তাঁর স্বামীর কথা- যার সন্তান কাফিররা ছিনিয়ে নেয়ার পরও তাঁর স্বামী একাকী মদীনায় হিজরত করেন। ইসলামের তরে জাগতিক সকল মায়াকে তুচ্ছ করার এক প্রকষ্ট ও জ্বলন্ত উদাহরণ এই হিজরী নববর্ষ। তাই সময় এসেছে সম্মিলিতভাবে হিজরী নববর্ষ পালন করে বিজাতীয় সংস্কৃতির আগ্রাসন থেকে দেশ ও জাতিকে মুক্ত করা এবং ইসলামি সংস্কৃতির বলয়ে নিজেদেরকে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া। বিদায় হোক পুরাতন বছরের জীর্ণতা, অপূর্ণতা আর অসঙ্গতি। নতুন প্রত্যাশার ভেলায় চড়ে আসুক নতুন বছর, জেগে উঠুক সবাই নতুন উদ্দীপনায়। সত্য আর সুন্দরে ভাস্বর হয়ে উঠুক মানবতার ক্যানভাস। একজন বাঙ্গালী হিসেবে এই প্রত্যাশায় সকলের প্রতি হিজরী নববর্ষের অকৃত্রিম শুভেচ্ছা। তথ্যসুত্র-অনলাইন।

ইয়াবা উদ্ধার, বাবা-ছেলেসহ গ্রেপ্তার ৩

ঢাকা অফিস ॥ রাজধানীর শ্যামলীর একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে ১৫ হাজার ইয়াবাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শেরেবাংলা নগর থানার এসআই তোফাজ্জল হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তারা ওই বাসায় অভিযান চালান। গ্রেপ্তার তিনজন হলেন-একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএর ছাত্র ইব্রাহীম সাগর (২২), তার বাবা আয়নাল হোসেন (৪৭) এবং মো. রাসেল (২৫)। এসআই তোফাজ্জল বলেন, “রাসেল যশোর থেকে ইয়াবার চালান এনে আয়নালের বাসায় পৌঁছে দিয়েছিল। সাগরের সহায়তায় পরে তা রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল।” সাগর ও তার বাবা শ্যামলীর ওই ভাড়া বাসা থেকেই ইয়াবার কারবার চালিয়ে আসছিলেন বলে পুলিশের দাবি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে ১৫ হাজার ৩৭৫টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয় বলে এসআই তোফাজ্জল জানান।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গায় ত্রিমুখী বন্দুকযুদ্ধে পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী নিহত

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় পুলিশ ও দুই দল মাদক ব্যবসায়ীর ত্রিমুখী বন্দুকযুদ্ধে রোকনুজ্জামান রোকন (৩৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। সে পুলিশের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী ও ডাকাতিসহ একাধিক মামলার আসামী। বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার জয়রামপুর কাঠালতলা গ্রামের একটি বাঁশবাগানের মধ্যে এই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশীয় এলজি (অগ্নেয়াস্ত্র), দুইটি কার্তুজ, এক বস্তা ফেনসিডিল ও দুইটি রাম দা উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত রোকনুজ্জামান দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা দক্ষিণ চাঁদপুরের আবু বক্কর সিদ্দিকীর ছেলে। তার মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার জয়রামপুর কাঠালতলা এলাকার করিম মন্ডলের বাঁশবাগানে আধিপাত্য বিস্তার নিয়ে দু’দল মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়। খবর পেয়ে পুলিশের একটি টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরে মাদক ব্যবসায়ীদের দু’পক্ষই পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি ছুঁড়ে। শুরু হয় পুলিশ ও মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে ত্রিমুখী বন্দুকযুদ্ধ। প্রায় আধা ঘন্টাব্যাপী গুলিবিনিময়ের পর মাদক ব্যবসায়ীরা পিছু হটে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে রোকরুজ্জামান নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মশিউর রহমান মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের জন্য তার মৃতদেহ সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশীয় এলজি, দুইটি কার্তুজ, এক বস্তা ফেনসিডিল ও দুইটি রাম দা উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি পুলিশের। দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকুমার বিশ্বাস জানান, আধিপাত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু’দল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে ওই মাদক ব্যবসায়ী ডাকাত রোকন নিহত হয়েছেন। নিহত রোকনুজ্জমানের নামে দামুড়হুদা মডেল থানায় পুলিশের উপর হামলা মামলা, মাদক, চোরাচালান, ডাকাতি, অপহরণসহ ১০টি মামলা রয়েছে।

ডেঙ্গু : ঢাকা মেডিকেলে নারীর মৃত্যু

ঢাকা অফিস ॥ ডেঙ্গু নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি এক নারী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। মুন্নি বেগম নামের ৫২ বছর বয়সী নারী কেরানীগঞ্জের খোলামুড়া এলাকার আলী আশরাফ ব্যাপারীর স্ত্রী। শুক্রবার সকাল পৌনে ৮ টার দিকে আটতলার ডেঙ্গু ওয়ার্ডে তার মৃত্যু হয় বলে মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া জানান। মুন্নি বেগমের ছেলে ইমরান হোসেন হাসপাতালে সাংবাদিকদের বলেন, বেশ কয়েকদিন জ্বরে ভোগার পর গত বুধবার তার মাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রক্ত পরীক্ষায় তার ডেঙ্গু ধরা পড়ে।তবে ঢাকা মেডিকেলে ‘ডেথ রিভিউ’ প্রক্রিয়া চালু হওয়ায় মুন্নি বেগমের মৃত্যুর বিষয়ে কোনো কথা বলতে চাননি হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন।তিনি বলেন, হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ক্রমশ কমছে।শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত এ হাসপাতালে ভর্তি ছিরেন মোট ৪৬৯ জন ডেঙ্গু রোগী। আর ৫৬ জন এদিন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।ডেথ রিভিউ প্রক্রিয়া শেষে এ বছর ডেঙ্গুতে মোট ৫২ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তবে বিভিন্ন হাসপাতাল ও জেলার চিকিৎসকদের কাছ থেকে অন্তত ১৮০ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।

মিরপুরে অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) সেচ প্রকল্পের ক্যানেল থেকে এক অজ্ঞাত যুবকের (৫০) ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার সকালে উপজেলার গোবিন্দগুনিয়া জিকে ক্যানেলের সুইচ গেট থেকে এ ভাসমান মরদেহটি উদ্ধার করে মিরপুর থানা পুলিশ। মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম জানান, সকালে মরদেহটি পানিতে ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। পুলিশের ধারণা তাকে হত্যা করে মরদেহটি পানিতে ভাসিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে নিহতের নাম পরিচয় জানা যায়নি।

সরকার বিরোধীকণ্ঠ রোধ করতে গুমকে কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছে – মির্জা ফখরুল

ঢাকা অফিস ॥ গুম অপশাসনের নমুনা বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, বর্তমান শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতাসীন হওয়ার পর বিরোধী দল শূন্য একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করতে গুমকে কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছে। শুক্রবার ‘আন্তর্জাতিক গুম দিবস’ উপলক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।

গুমের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল বলেন, আমি তাদের পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। বাংলাদেশে গুমের আতঙ্ক এখন সর্বত্র পরিব্যাপ্ত। দুঃশাসন থেকে উৎপন্ন হয় গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার মতো মানবতাবিরোধী হিংগ্রতা। সরকারের গড়ে তোলা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিরোধী দলের প্রতিবাদী নেতাকর্মীদের ধরে নিয়ে অল্পদিন-দীর্ঘদিন অথবা চিরদিনের জন্য নিখোঁজ করে দেয়। গুম হওয়া বিএনপি নেতাকর্মীদের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, গুমের শিকার হয়েছেন বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলী, সাইফুল ইসলাম হিরু ও চৌধুরী আলম, সুমনসহ অসংখ্য মানুষ। বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ অভিনব গুমের শিকার হয়েছিলেন মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, আরেকটি অভিনব গুমের শিকার হয়েছেন সাবেক মন্ত্রী ও দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। তাকে দুই মাস গুম করে রাখার পর পাচার করা হয়েছে অন্য দেশে। এ নতুন ধরনের ঘটনা দেশবাসীকে অজানা আতঙ্কে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। বিরোধীকণ্ঠ রোধ করতে সরকার গুমকে কৌশল হিসেবে নিয়েছে মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, গুম করা হয়েছে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের অসংখ্য নেতাকর্মীকে। তাদের বেদনার্ত পরিবাররা এখনও পথ চেয়ে বসে রয়েছে প্রিয়জনদের ফিরে আসার সম্ভাবনায়। রাষ্ট্র-সমাজে মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার বোধ সৃষ্টির জন্যই গুমকে কৌশল হিসেবে ব্যবহার করে নিষ্ঠুর শাসকগোষ্ঠী। তাদের মূল লক্ষ্য বিরোধীকণ্ঠকে নির্মূল করা।

কুষ্টিয়ায় বৃহত্তর ওলামা পরিষদের বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

ভারত অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরে ভারতীয় দখলদারদের অব্যাহত জুলুম সাম্প্রতিক অভিযান আগ্রাসন  গণহত্যা ও ৩৭০ ধারা রদ করার প্রতিবাদে কুষ্টিয়ায় বিক্ষোভ প্রদর্শন ও সমাবেশ করেছে বৃহত্তর কুষ্টিয়া জেলা ওলামা পরিষদ। গতকাল শুক্রবার বিকালে শহরের বড় বাজার রেল গেট থেকে এ বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে শহর প্রদক্ষিন করে শাপলা চত্বরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে।  সংগঠনের সভাপতি মুফতি আব্দুল হামিদের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন আশরাফুল উলুম মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি আবু দাউদ, ভেড়ামারা ধাপারিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম রেজাউল করিম প্রমুখ। সমাবেশে বক্তারা বলেন, কাশ্মীরের মজলুম স্বাধীনতাকামী মুসলমানদের জালিম মোদি সরকারের অমানবিক জুলুম, নির্যাতন থেকে রক্ষা করার জন্য এবং কাশ্মীরের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার জন্য বিশ্বের সব মুসলমানকে শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। বক্তারা বলেন, জালিম মোদি সরকার কাশ্মীরের হাজার হাজার মুসলমানকে হত্যা করছে এবং তাদের জানমাল, ইজ্জত-আব্র“ লুণ্ঠন করছে। বক্তারা বলেন, মোদি সরকার কাশ্মীরী জনগণের ন্যায্য অধিকার কেড়ে নিয়েছে। সংবিধান লঙ্ঘন করে জম্মু-কাশ্মীরে আগ্রাসন চালাচ্ছে। অবৈধভাবে জম্মু-কাশ্মীর দখলের চক্রান্ত করছে। বক্তারা আরো বলেন, আমরা বাংলাদেশের মাটি থেকে একটি বাক্য উচ্চারণ করতে চাই, জম্মু-কাশ্মীরসহ ভারতীয় আগ্রাসন সাম্রাজ্য যে যে জায়গায় আছে  সেসব জায়গা থেকে সমূলে উৎপাটন করতে হবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

রোহিঙ্গাদের নিয়ে ব্যবসার মনোভাব ছাড়ুন

এনজিওদের হানিফ

ঢাকা অফিস ॥ কক্সবাজারের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরগুলোতে মানবিক সহায়তার কাজে থাকা এনজিওগুলোকে ‘ব্যবসার মনোভাব’ ত্যাগ করার পরামর্শ দিয়েছেন আওয়ামী লীগেরে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ। শুক্রবার রাজধানীতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি বলে, “আপনারা আরও দায়িত্বশীল মনোভাব তৈরি করুন। এই রোহিঙ্গাদের নিয়ে এনজিওদের শুধু ব্যবসার মনোভাব ত্যাগ করে তাদেরকে দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করুণ, এটাই আমরা চাই।” ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইনে সেনা অভিযান শুরুর পর থেকে সোয়া ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছে। তাদের আশ্রয় দেওয়া হয় কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ার বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে; সেখানে আগে আসা আরও চার লাখের বেশি রোহিঙ্গা রয়েছে। দেশি-বিদেশি নানা এনজিওর সহযোগিতায় সেখানে এই শরণার্থীদের মানবিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। গত ২২ আগস্ট শরণার্থী প্রত্যাবসনের দ্বিতীয় দফা উদ্যোগ ভেস্তে যাওয়ার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে অভিযোগ করা হয়, কিছু এনজিও রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার ফিরতে নিরুৎসাহিত করছে। কিছু এনজিও ‘মিয়ানমারের পক্ষ হয়ে’ রোহিঙ্গাদের নিয়ে ‘ষড়যন্ত্র করছে’ বলেও অভিযোগ করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। রোহিঙ্গাদের জন্য ‘ধারাল অস্ত্র’ তৈরির অভিযোগ ওঠায় মুক্তি কক্সবাজার নামে একটি এনজিওর ছয়টি প্রকল্প ইতোমধ্যে বন্ধ ঘোষণা করেছে এনজিও বিষয়ক ব্যুরো। হানিফ বলেন, “আজকে রোহিঙ্গা সমস্যা শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়, এটা গোটা বিশ্ববাসীর সমস্য।ৃ রোহিঙ্গাদের দ্রুত ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সারা বিশ্বকে এগিয়ে আসতে হবে। আমি অনুরোধ জানাব যে সমস্ত উন্নত রাষ্ট্র আছেন, মহান শক্তিধর রাষ্ট্র আছেন, যারা আপনারা সব সময় মানবতার কথা বলেন, আপনাদের আরও সোচ্চার ভূমিকা দেখতে চাই।”প্রত্যাবাসন চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় বিএনপির সমালোচনার জবাবে পাল্টা তাদের বিরুদ্ধেই অভিযোগ আনেন আওয়ামী লীগেরে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, “রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে বিএনপি রাজনীতি শুরু করেছে। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল মানবিক কারণে। এখানে ফাঁদে পড়ার কিছু নেই। এই অসহায় মানুষদের আশ্রয় দিয়ে মানবতা দেখিয়েছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা।

রোহিঙ্গাদের ইন্ধন দিলে ব্যবস্থা -পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ রোহিঙ্গাদের ইন্ধনদাতা বেসরকারি সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরুর দ্বিতীয় প্রচেষ্টা ভেস্তে যাওয়ার পর ধারলো অস্ত্র বানানোর ঘটনায় মুক্তি কক্সবাজার নামের একটি এনজিওর ছয়টি প্রকল্প স্থগিত করা হয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিলেটে শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে বলেন, “যেসব বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) শতের বাইরে গিয়ে রোহিঙ্গাদের নানাভাবে ইন্ধন দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যে সংস্থাটি রোহিঙ্গাদের সরবরাহের জন্য দেশীয় অস্ত্র তৈরি করেছে, তাদের ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “মুহিবুল্লাহ যদি অন্যায় করেন, তবে শাস্তি দেওয়া হবে। এজন্য বিচার বিশ্লেষণ চলছে।” তাছাড়া রোহিঙ্গাদের একজন নেতৃত্ব বেরিয়ে আসায় আলোচনার জন্য সুবিধা হবে বলেও মন্তব্য করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। শুক্রবার বিকালে সিলেটে শোকের মাস অগাস্ট উপলক্ষে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। ২০১৭ সালের অগাস্টে মিয়ানমারের রাখাইনে সেনা অভিযান শুরুর পর নির্যাতনের মুখে প্রাণ বাঁচাতে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। দুই বছরে এই সংখ্যা ৭ লাখ ছাড়িয়েছে।

কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে জাতীয় শিল্পী বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত আবদুল জব্বারের ২য় মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

গতকাল ৩০ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টায় কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানটির অস্থায়ী কার্যালয়ে (৩৪, স্যার সৈয়দ আহমেদ রোড, থানাপাড়া, কুষ্টিয়া) কুষ্টিয়ার কৃতিসন্তান, একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত মুক্তিযুদ্ধের কণ্ঠসৈনিক এবং জাতীয় শিল্পী বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত আবদুল জব্বারের ২য় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে স্মরণসভা ও সঙ্গীতানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। শুরুতেই প্রয়াত সাহসী কণ্ঠসৈনিক আবদুল জব্বারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্মরণ সভায় উপস্থিত ছিলেন একাডেমির জেলা কালচারাল অফিসার সুজন রহমান, যুগ্ম সম্পাদক শহিদুর রহমান রবি, সরকার রফিকুল ইসলাম শাহীন, নির্বাহী সদস্য এম,এ কাশেম, অধ্যাপক নাসির উদ্দিন, নাট্যকার আসলাম আলী, সেলিম আহমেদ, কবি হাসান টুটুলসহ আরো অনেকে। শিল্পীর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আলোচকবৃন্দ আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। সবার অন্তরে তিনি সর্বদা বেঁচে থাকবেন তার কর্মের মাধ্যমে এমন মন্তব্য করে প্রয়াত এই গুণী ব্যক্তির শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়। আলোচকবৃন্দ শিল্পীর বিদেহী আত্মার মাফফেরাত কামনা করেন। স্মরণ সভাতে জেলার বিভিন্ন সংগঠনের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গসহ অনেক শিল্পীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরিশেষে প্রয়াত শিল্পীর গাওয়া গান নিয়ে সঙ্গীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আয়োজিত অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পকলা একাডেমির সঙ্গীত শিল্পী কোহিনূর খানম, এস.এম. টিপু সুলতান, সুজন রহমান, রোকসানা পারভীন, সীমান্ত, সালমা, রোহান, শাহানুর, আব্বাস খন্দকার, শাওকী, অরণ্য, তানবীর, আবু সাঈদ, স্বাগত, রিয়াস, বিল্লালসহ আরো অনেকে। তালযন্ত্রে সহযোগিতা করেন ইমতিয়াজ দিপু, আকাশ চক্রবর্তী, জাহিদ হাসান। অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় ছিলেন কনক চৌধুরী। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি