২৫০ জনের নামে মামলা দায়ের

দৌলতপুরে ছেলেধরা সন্দেহে মানষিক ভারসাম্যহীন নারীকে গণপিটুনির ঘটনায় গ্রেফতার-২০

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ছেলেধরা সন্দেহে হাসিনা বেগম (৬০) নামে মানষিক ভারসাম্যহীন এক নারীকে গণপিটুনি দিয়ে আহত করার ঘটনায় ২০জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার রাত ১১টার পর উপজেলার রিফাইতপুর ইউনিয়নের শিতলাইপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। দৌলতপুর থানার ওসি আজম খান জানান, সোমবার সকালে মানষিক ভারসাম্যহীন এক নারী বাড়ি থেকে বের হয়ে শিতলাইপাড়া গ্রামে গেলে এলাকবাসী তাকে গণপিটুনি দিয়ে আহত করলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসা দেয়। এ ঘটনায় আহত হাসিনা বেগমের জামাই আশিকুর রহমান রনি সোমবার দৌলতপুর থানায় ২০ জনের নাম উল্লেখ করে ২৫০জনকে আসামী করে হত্যা প্রচেষ্টার মামলা দায়ের করেন। মামলার সূত্র ধরে সোমবার রাতে শিতলাইপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে গণপিটুনির সাথে জড়িত ও এজাহার নামী আসামী ২০জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকীদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান রয়েছে। উল্লেখ্য, দৌলতপুর মাষ্টারপাড়া গ্রামের আশিকুর রহমান রনির বাড়িতে তার মানষিক ভারসাম্যহীন শ^াশুড়ি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সোমবার সকালে বাড়ির লোকজনের অজান্তে হাসিনা বেগম নামে ওই মানষিক ভারসাম্যহীন নারী বাড়ি থেকে বের হয়ে শিতলাইপাড়া গ্রামে গেলে গ্রামের লোকজন ছেলে ধরা সন্দেহে তাকে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ শিতলাইপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বর থেকে তাকে রক্তাক্ত আহত অবস্থায় উদ্ধার করে দৌলতপুর স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেয়। পরে থানায় নিয়ে আহতের জামাতার নিকট হস্তান্তর করা হয়। সঞ্জিব আলীর স্ত্রী আহত হাসিনা বেগমের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলায়। সে বেশ কিছুদিন ধরে দৌলতপুর মাষ্টারপাড়ার বসবাসরত জামাইয়ের বাড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন তার মেয়ে রিমি বেগম।

ঋণ খেলাপিদের বিশেষ সুযোগ কেন বেআইনি নয় -হাই কোর্ট

ঢাকা অফিস ॥ ঋণ খেলাপিদের বিশেষ সুযোগ দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা সার্কুলার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে হাই কোর্ট। সার্কুলারটি কেন বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে নতুন এই রুল জারি করা হয়েছে। এই সংক্রান্ত জারি করা রুল নিষ্পত্তি করতে বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাই কোর্ট বেঞ্চে গতকাল মঙ্গলবার শুনানির জন্য উঠলে রিট আবেদনকারীর পক্ষের সম্পূরক আবেদনে এই আদেশ দেয় আদালত। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। বাংলাদেশের ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন মুনিরুজ্জামান। রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন মনজিল মোরসেদ। ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-বিএবি’র পক্ষে ছিলেন শাহ মঞ্জুরুল হক। এ বছরের শুরুতে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর আ হ ম মুস্তফা কামাল ঘোষণা দিয়েছিলেন, খেলাপি ঋণ আর ‘এক টাকাও বাড়বে না’। এরপর ঋণ অবলোপনের নীতিমালা শিথিলসহ কিছু পদক্ষেপ নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে ৯ শতাংশ সুদে ১০ বছরে খেলাপি ঋণ পরিশোধের সুযোগ দিয়ে বাংলাদেশ যে সার্কুলার দিয়েছিল, তা চ্যালেঞ্জ করে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ। তাদের আবেদনে ঋণ খেলাপিদের বিশেষ সুযোগ দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা সার্কুলারের উপর ২৪ জুন পর্যন্ত স্থিতাবস্থা জারি করেছিল বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাই কোর্ট বেঞ্চ। এরপর অর্থ বিভাগের আবেদনে গত ৮ জুলাই আপিল বিভাগ ওই সার্কুলারের উপর হাই কোর্টের স্থিতাবস্থার আদেশ শর্তসাপেক্ষে দুই মাসের জন্য স্থগিত করে। সেই সঙ্গে হাই কোর্ট আগে যে রুল জারি করেছিল, তা নিষ্পত্তির জন্য বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাই কোর্ট বেঞ্চকে দায়িত্ব দেয় আপিল বিভাগ। মঙ্গলবার এই বেঞ্চে শুনানির পর আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, “সেই (পুরনো) রুলটি শুনানির এক পর্যায়ে একটি সম্পূরক রুলের জন্য আরেকটি আবেদন করেছিলাম। আজকে সেটার উপরও শুনানি হয়েছে। শুনানিতে বিবাদী পক্ষের আপত্তির পরও ‘ঋণ খেলাপিদের বিশেষ সুযোগ দিয়ে গত ১৬ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা সার্কুলার কেন বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, মর্মে রুল জারি করেছেন।” আগামী ৩১ জুলাই পরবর্তী শুনানির তারিখ রাখা হয়েছে বলে জানান মনজিল। তিনি বলেন, “এই সার্কুলারটা জারি করা হয়েছিল ব্যাংকিং কমিশন গঠন বিষয়ে আদালতের রুল জারির পর এবং এই সার্কুলারটি ব্যাংকিং কমিশনের সাথে সম্পর্কিত। এই কারণে এটিতে রুল ইস্যু হওয়ার যোগ্য। তাই আদালত ১০ দিনের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।” অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম শুনানিতে বলেছিলেন, সার্কুলারটি সরকারের নীতিনির্ধারণী বিষয়ক। তাই এই রিট আবেদন ‘মেইনটেনেবল’ না। “তখন আদালত রুল শুনানির সময় এ বিষয়ে শুনানি করতে বলেছেন,” বলেন মনজিল মোরসেদ।

আন্তঃবিভাগ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণীতে ড. রাশিদ আসকারী

ইবিতে বছরব্যাপী বিভিন্ন আয়োজনের মধ্যদিয়ে মুজিববর্ষ উদ্যাপন করা হবে

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী (ড. রাশিদ আসকারী) বলেছেন, আলোচনা সভা, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বছরব্যাপী বিভিন্ন আয়োজনের মধ্যদিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী ২০২০ “মুজিববর্ষ” উদ্যাপন করা হবে। তিনি বলেন, এ উপলক্ষ্যে আমাদের আয়োজন ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের আয়োজনে ফুটবল ও বাস্কেট বলের ভেন্যু হবে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে। ড. রাশিদ আসকারী বলেন, আজ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় দেশের একটি অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠ হিসেবে নানাভাবে নিজেকে বিকশিত করে চলেছে। তিনি বলেন, আমাদের গবেষণা, লেখাপড়া, খেলাধুলা এবং সংস্কৃতি চর্চায় যত সাফল্য আছে তার মধ্যে সেরা সাফল্য নিয়ে এনেছে আমাদের খেলোয়াড়রা। তাই খেলোয়াড়দের নিয়ে আমরা গর্বিত। ভাইস চ্যান্সেলর বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এখন শুধু সাফল্যেরই গর্ব। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ যেমন প্রতিদিন, প্রতিমাসে, প্রতিবছর নতুন নতুন চমক দেখাচ্ছে। সারা বিশ্বের বিস্ময় আমাদের সোনার বাংলাদেশ নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছে। তারই ধারাবাহিকতা অব্যহত রয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে। আসুন আমরা প্রান্তিক জনপদের এই বিশ্ববিদ্যালয়টিকে এক অসামান্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। এজন্য তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।  গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে ৬ মাসব্যাপী  আন্তঃবিভাগ ব্যাডমিন্টন, টেবিল টেনিস ও বাস্কেটবল প্রতিযোগিতা ২০১৮-১৯’র পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ড. রাশিদ আসাকরী এসব কথা বলেন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া কমিটির সভাপতি ও প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমানের  সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়াঙ্গন একটি বিশ্বের বিস্ময়। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সবর্চ্চো অর্জন হয়েছে ক্রীড়া বিভাগের মাধ্যমে। তিনি বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা একজন অত্যন্ত ক্রীড়া প্রেমী মানুষ। তিনি সব সময় ক্রীড়ার প্রতি উৎসাহ দিয়ে থাকেন। তাই বর্তমানে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়ার উন্নয়নে চমৎকার আবহাওয়া বিরাজ করছে। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমরা আমাদের একটি সুন্দর পরিবেশ দাও, আমরা তোমাদেরকে একটি সুন্দর বিশ্ববিদ্যালয় উপহার দিব। সভাপতির বক্তৃতায় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান বলেন, খেলাতে জয়-পরাজয় বড় কথা নয়। আমরা প্রতিটি দলের চমৎকার খেলা উপভোগ করেছি। প্রতিটি খেলোয়াড়ের ক্রীড়া নৈপূণ্য অত্যন্ত প্রসংশনীয়। তিনি বলেন, সার্বিক দিকদিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় আজ আন্তর্জাতীকরণের পথে দাঁড়িয়ে গেছে। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে আমাদের পরিচিতি ছড়িয়ে পরেছে। তিনি বলেন, আমাদের খেলোয়াড়দের জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিভিন্ন অর্জন আমাদের মাথা উচুঁ করেছে। তিনি আরও বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একজন ক্রীড়া প্রেমী মানুষ ছিলেন। তাঁর অসমাপ্ত আত্মজীবনী গ্রন্থ থেকে এ সম্পর্কে অনেক কিছু জানাযায়। তাঁরই কন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাও  পিতার মতোই ক্রীড়া প্রেমী। তাই খেলাধুলার প্রতি আমাদের আরও আগ্রহী হতে হবে। শারীরিক শিক্ষা বিভাগের সহকারী পরিচালক মাবিলা রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন শারীরিক শিক্ষা বিভাগের পরিচালক ড. মোহাম্মদ সোহেল। আলোচনা শেষে অতিথিবৃন্দ আন্তঃবিভাগ ব্যাডমিন্টন, টেবিল টেনিস ও বাস্কেটবল প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। এ প্রতিযোগিতায় ব্যাডমিন্টন (ছাত্রী) চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইনফরমেশন এন্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ এবং রানার-আপ হয়েছে মার্কেটিং বিভাগ। ব্যাডমিন্টন (ছাত্র) যৌথ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগ ও ইনফরমেশন এন্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ। টেবিল টেনিস (ছাত্রী) চ্যাম্পিয়ন হয়েছে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ এবং রানার-আপ হয়েছে ইনফরমেশন এন্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ। টেবিল টেনিস (ছাত্র) চ্যাম্পিয়ন হয়েছে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ এবং রানার আপ হয়েছে আইন বিভাগ। এছাড়া বাস্কেটবল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগ এবং রানার আপ হয়েছে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

কুষ্টিয়ায় জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবসের সভায় ডিসি আসলাম হোসেন

জনকল্যাণে গৃহীত সরকারের কর্মসূচী বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে

আরিফ মেহমুদ ॥ কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন বলেছেন, প্রযুক্তির যুগে অবাধ সরকারী সেবা প্রদান জনগনের ক্ষমতায়নের অন্যতম পূর্বশর্ত। সরকার যে সেবা   দেয় তা পাওয়া মানুষের অধিকার। মানুষের কল্যাণে ও  দেশকে এগিয়ে নিতে সেবা প্রদান নিশ্চিত এবং জনকল্যাণে গৃহীত সরকারের কর্মসূচী বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় কুষ্টিয়া সার্কিট হাউজ সম্মেলন কক্ষে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন আয়োজিত জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন- জনকল্যাণে গৃহীত সরকারের কর্মসূচির সুষ্ঠু বাস্তবায়নে দক্ষ, গতিশীল ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষ সিভিল সার্ভিস হচ্ছে জনপ্রশাসনের ভিত্তি উল্লেখ করে  জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার নিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে জনগণের দোরগড়ায় প্রকৃত সেবা পৌছে দিতে মাঠ পর্যায়ে আরো দায়িত্বশীলভাবে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সেবার মনোভাব নিয়ে সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজ করার আহবান জানান তিনি। জেলা প্রশাসক বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে সবার আগে অনগ্রসর জনগনের মাঝে সরকারী সেবা প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। দেশের তৃণমূল পর্যায়ের প্রান্তিক জনগোষ্ঠির মাঝে সেবা প্রদান নিশ্চিত করার মাধ্যমে তাদের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভম। আমাদের মূল দায়িত্ব হল জনগণকে সেবা দেয়া। কোনভাবেই  যেন মানুষ সেবা পেতে দিনের পর দিন হয়রানি না হয় সেদিকে গুরুত্ব দিতে হবে। সরকার তার প্রতিশ্র“ত সকল সেবা জনগণের দ্বারপ্রান্তে  পৌঁছে  দেওয়ার চেষ্টা করে। এই সেবা উৎপাদন ও বিতরণে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সক্ষমতার উপরই পাবলিক সার্ভিসের দক্ষতা ও কার্যকারিতা নিভর্রশীল। তাই পাবলিক সার্ভিস জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী পরিচালনাও সরকারের সফলতার একটি মাপকাঠি। আলোচনা সভার আগে জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস উদযাপন উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৯টায় কুষ্টিয়া কালেক্টরেট ভবনের সামনে থেকে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়ক ও শহর প্রদক্ষিণ শেষে কুষ্টিয়া সার্কিট হাউজ সম্মেলন কক্ষে এসে আলোচনা সভায় মিলিত হয়। বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নিজ নিজ ব্যানারে র‌্যালীতে অংশগ্রহণ করে। সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের পাবলিক সার্ভিস জনসেবা ও উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরেন। এসময় অন্যান্যের মধ্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ আজাদ জাহান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মুহাম্মদ ওবায়দুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার  মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, (প্রশাসন ও অপরাধ) এ.কে. এম. জহিরুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা: রওশন আরা  বেগম, জেলা সিনিয়র তথ্য অফিসার মোঃ তৌহিদুজ্জামান, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মো: মখলেছুর রহমান, জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি শেখ গিয়াস উদ্দিন আহমেদ মিন্টু, শহর আওয়ামীলীগের সভাপতি তাইজাল আলী খান, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলামসহ জেলার সকল সরকারী দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ছেলে ধরা গুজব সম্পর্কে অবহিতকরণ সভায় ডিসি আসলাম হোসেন

ছেলে ধরা খবরটি নিছক গুজব, কুষ্টিয়ার কোথাও এ ধরনের ঘটনার কোন সত্যতা নেই

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন বলেছেন, ছেলে ধরা খবরটি নিছক গুজব, কুষ্টিয়ার কোথাও এ ধরনের ঘটনার কোন সত্যতা নেই। সকলের অবগতির জন্য কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন জানান, সম্প্রতি পদ্মা সেতুতে শিশু/ব্যক্তির মাথা লাগবে মর্মে গুজব/অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে। এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে ছেলে ধরা বলে জনসাধারণ আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে পিটিয়ে আহত বা নিহত করার মতো অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটাচ্ছে যা সম্পূর্ণ বেআইনি। এধরণের কোন গুজব বা অপপ্রচারের তথ্য থাকলে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি বা ইউএনও বা পুলিশ সুপার বা জেলা প্রশাসককে অবহিত করা অথবা ৯৯৯ নম্বরে কল করে জানানোর জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন।

গতকাল মঙ্গলবার বিকালে কুষ্টিয়ার সুখনগর ও বটতৈল মোড়ে ছেলে ধরা গুজব সম্পর্কে জনসাধারণকে অবহিতকরণ সভায় জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন আরো বলেন, যাদেরকে  ছেলে ধরা সন্দেহে আটক করা হচ্ছে পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদে দেখা যাচ্ছে তারা কেউ মানসিক রোগী বা কেউ ভিখারী। কুষ্টিয়ার কোথাও  ছেলে ধরার অস্তিত্ব নেই। কিন্তু বিষয়টিকে নিয়ে যেভাবে গুজব ছড়ানো হয়েছে তাতে শিশুদের অভিভাবকেরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিষয়টি নিয়ে লেখালেখি করায় অভিভাবকেরা বেশিমাত্রায় আতঙ্কিত। অতি উৎসাহী কিছু লোক কর্তৃক ছেলে ধরা গুজবে কয়েকজন মানসিক প্রতিবন্ধী ও ফকিরকে মারধরের ঘটনা দুঃখজনক। গুজবে কান না দিয়ে  জেলা প্রশাসক অভিভাবকদের আরো সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। তারপরেও পুলিশ প্রশাসন বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে দেখছে। এতে আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন। সেই সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো বিষয়ে নিশ্চিত না হয়ে গুজব না ছড়ানোর আহবান জানান ডিসি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক শিক্ষা ও আইসিটি) মোঃ আজাদ জাহান, স্থানীয় সরকারের উপ পরিচালক মৃনাল কান্তি দে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, (প্রশাসন ও অপরাধ) এ.কে.এম. জহিরুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুবায়ের হোসেন চৌধুরী প্রমুখ।

রোগবালাই ও পোকার সংক্রমণ থেকে বেগুন রক্ষায় ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তির ব্যবহার

কৃষি প্রতিবেদক ॥ ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তির আমাদের দেশে একেবারেই নতুন একটি প্রযুক্তি। ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তির ইতিপূর্বে সফলতা পেয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম চাষী ও বাগান মালিকরা। সেই ধারাবাহিকতায় রোগবালাই ও পোকার সংক্রমণ থেকে বেগুন রক্ষায় শুরু হয়েছে ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তির ব্যবহার। বেগুনে ব্যাগিং করে দেখা গেছে যে, কোন ধরণের বালাইনাশকের ব্যবহার ছাড়াই ভালমানের বেগুন উৎপাদন করা সম্ভব। এই প্রযুক্তিতে বালাইনাশক ¯েপ্র করার প্রয়োজন নেই, ফলে ¯েপ্র খরচ বেঁচে যাচ্ছে। কীটনাশক ব্যবহারের পরিবর্তে বেগুনে চীন থেকে আমদানি করা ব্যাগ ব্যবহার করা হয়। তিন টাকা দামের এই ব্যাগ চার থেকে পাঁচবার ব্যবহার করা যায়। এতে এক কেজি বেগুনে খরচ হয় দেড় থেকে দুই টাকা। অন্যদিকে কীটনাশক ব্যবহারে খরচ হয় এর দ্বিগুণ। এই প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে বেগুন উৎপাদনে একদিকে যেমন ক্ষতিকারক কীটনাশকের ব্যবহার বন্ধ হচ্ছে, সেই সঙ্গে মানুষ পাচ্ছে নিরাপদ ও বিষমুক্ত সবজি।
দেশে যত সবজি উৎপাদন হয়; তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি কীটনাশক প্রয়োগ করা হয় বেগুনে। এরপরও শতকরা ২৫ থেকে ৩০ ভাগ বেগুন নষ্ট হয় পোকার আক্রমণে। তবে কৃষকদের দাবি, এই হার ৫০ শতাংশ। এই সমস্যা থেকে উত্তরণে বিভিন্ন বালাই ব্যবস্থাপনা গ্রহণের পরামর্শ দেয়া হলেও খুব একটা কাজে আসেনি তা। বেগুনের প্রধান শক্র ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকা দমনের জন্য কৃষক মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক প্রয়োগ করে থাকেন; যা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। শুধু তাই নয়, এতে বেগুনের উৎপাদন খরচও বেড়ে যায়। মানবদেহে সহনীয় মাত্রার চেয়ে ১৪ গুণ বেশি কুইনালফস বেগুনে পাওয়া গেছে। এই সমস্যাটি সমাধানে ব্যাগিং প্রযুক্তি প্রয়োগ করে রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে বেগুনকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে বেগুনে কাঙ্খিত ফলাফল পাওয়ার জন্য কিছু নিয়ম কানুন অনুসরণ করতে হবে। একটি বেগুনের বয়স দুই থেকে তিন দিন হলেই ব্যাগটি পরানো উচিৎ। বেগুনের বয়স যত বেশি হবে পোকায় আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা ততই বাড়বে। ব্যাগিং এর নিয়ম আমের মতোই। কুয়াসার পানি শুকিয়ে গেলেই একটি কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক একত্রে মিশিয়ে বেগুনের জমিটি ভালোভাবে ¯েপ্র করতে হবে। বেগুনের গায়ের পানির ফোঁটা না শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। একটি বিষয় ভালোভাবে খেয়াল করতে হবে যে আজ যে বেগুনগুলি ব্যাগিং করা হয়েছে সেগুলো কতদিন পর সংগ্রহ করা হবে। ধরুন ৮ দিন পর সংগ্রহ করা হবে। এখন প্রথম দিন যতগুলো বেগুনে ব্যাগিং করা হবে সেই ব্যাগগুলিতে একটি সাংকেতিক চিহ্ন যেমন ১ লিখুন। আর এই ১ লিখা ব্যাগগুলি ৮ দিন পর সংগ্রহ করুন। আবার ২ দিন পরে যে বেগুনগুলিতে ব্যাগিং করা হবে সেগুলিতে ২ লিখুন এবং ৮ দিন পর ২ খিলা ব্যাগগুলির বেগুন সংগ্রহ করুন। এইভাবে পর্যায়ক্রমে ব্যাগিং করুন এবং সংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করে নির্দিষ্ট সময়ে সংগ্রহ করুন। তবে জাতভেদে বেগুন সংগ্রহ করার সময় আরও বেশি হতে পারে। ব্যাগ ব্যবহারের ফলে যেকোনো পাখি, ইঁদুর ও প্রতিকূল আবহাওয়া থেকেও বেগুন রক্ষা পাবে। ব্যাগের ব্যবহার শেষ হলে ব্যাগগুলো একসঙ্গে পুুড়িয়ে ফেলতে হবে। ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তির তুলনামুলকভাবে নিরাপদ ও বিষমুক্ত বেগুন উৎপাদন করা সম্ভব। ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তি এখন হাতের কাছে। চাইলে যে কেউ অন্যান্য ফল-ফসলে ব্যবহার করতে পারবেন। মাঠ পর্যায়ে প্রথম বারের মত চাঁপাইনবাবগঞ্জে বেগুনে ব্যাগিং প্রযুক্তি সম্প্রসারণে কাজ করছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ব্যাগিং প্রযুক্তির প্রধান গবেষক ড. মো. শরফ উদ্দিন। আগ্রহীগন তার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

কুষ্টিয়া চৌড়হাস মোড়ে বীজ ছেটানো কর্মসূচির উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ কুষ্টিয়া চৌড়হাস মোড়ে বীজ ছেটানো কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। ১৩ জুলাই শনিবার সকাল ১০ টায় কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী মহা-সড়কের কিছু অংশের উভয় পাশ্বের্, ‘অচিন্ত্য-অনিমা’, প্রকৃতি ও প্রাণ গবেষণা কেন্দ্রের উদ্যোগে, এঙ-এজঊঊঘ শ্লোগানকে ধারণ করে “এসো বীজ ছিটিয়ে ফলজ বৃক্ষ সৃজন করি” কর্মসূচির আওতায় বীজ ছেটানো কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করা হয়। প্রধান অতিথি থেকে এ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও কুষ্টিয়া শহর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। সভাপতিত্ব করবেন ‘অচিন্ত্য-অনিমা’, প্রকৃতি ও প্রাণ গবেষণা কেন্দ্রের প্রিন্সিপ্যাল ইনভেসটিগেটর গৌতম কুমার রায়।
এ সময় টি.টি.সি’র অধ্যক্ষ আখতারুজ্জামান, চৌরহাস মুকুল সংঘ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শামসে বাজেগা, মুকুল সংঘ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শেফালী সরকার, এজিও সাফ’র নির্বাহী প্রধান মীর আব্দুর রাজ্জাক, এ্যাডঃ শীলা বসু, পাখি প্রেমিক শাহাবুদ্দিন মিলন সহ শিক্ষার্থী, বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ ও স্থানীয় ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

ইংল্যান্ডকে উড়িয়ে দিয়ে বাংলাদেশের যুবাদের শুরু

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ত্রিদেশীয় যুব ওয়ানডে সিরিজে শুভ সূচনা করেছে অনূর্ধ্ব-১৯ দল। ব্যাটে-বলে নিজেদের মেলে ধরে স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে উড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। উস্টারের কাউন্টি গ্রাউন্ডে সোমবার ৬ উইকেটে জিতেছে সফরকারীরা। ২০১ রানের লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে ৭১ বল বাকি থাকতে। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো করে ইংল্যান্ড। দশম ওভারের শেষ বলে ড্যান মোজলির রান আউটে ভাঙে ৪৯ রানের উদ্বোধনী জুটি। তানজিম হাসানের দারুণ বোলিংয়ে ছয় রান যোগ করতে আরও তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় স্বাগিতকরা। পরে অধিনায়ক জর্জ হিলকে বিদায় করেন পেসার মৃত্যঞ্জয় চৌধুরী। এরপর কিপার ফিনলে বিন রান আউট হয়ে গেলে বিপদে পড়ে যায় ইংল্যান্ড। ২৭তম ওভারে ৮৭ রানে ৬ উইকেট হারানো দলটি প্রতিরোধ গড়ে লুইস গোল্ডসওয়ার্থি ও কেসি অলড্রিজের ব্যাটে। ৫ চারে ৭৮ বলে ৫৮ রান করা অলড্রিজকে বোল্ড করে ১১১ রানের জুটি ভাঙেন তানজিম। ৪৯ রানে চার উইকেট নেন এই পেসার। চারটি চারে ৬৯ রানে অপরাজিত থাকেন গোল্ডসওয়ার্থি। ছোট রান তাড়ায় শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। দুই ওপেনার তানজিদ হাসান ও প্রান্তিক নওরোজ ফিরেন দ্রুত। থিতু হয়েও নিজের ইনিংস বড় করতে পারেননি মাহমুদুল হাসান জয়। ক্রিজে গিয়েই শট খেলতে শুরু করেন শাহাদাত হোসেন। প্রস্তুতি ম্যাচে ফিফটি করা এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান প্রথম ১৫ বলে হাঁকান পাঁচ বাউন্ডারি। তৌহিদ হৃদয় খেলেন আস্থার সঙ্গে। দ্রুত জমে যায় তাদের জুটি। দলকে জয়ের কাছে নিয়ে ফিরেন শাহাদাত। ৬০ বলে ৮ চারে ৫৭ রান করে তার বিদায়ে ভাঙে ১১৪ রানের জুটি। অধিনায়ক আকবরকে নিয়ে বাকিটা সহজেই সারেন হৃদয়। চার বাউন্ডারিতে ৭০ রানে অপরাজিত থাকেন এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। উদ্বোধনী ম্যাচে ইংল্যান্ডকে হারানো ভারতের বিপক্ষে আগামী বুধবার একই মাঠে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে খেলবে বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোর: ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ দল: ৫০ ওভারে ২০০/৭ (মোজলি ২০, ক্লার্ক ২৭, হেইন্স ৩, এভিসন ০, গোল্ডসওয়ার্থি ৬৯*, হিল ৫, বিন ৮, অলড্রিজ ৫৮, কিম্বার ২*; শরিফুল ০/৫৭, তানজিম ৪/৪৯, শামিম ০/২৭, মৃত্যঞ্জয় ১/৩১, রাকিবুল ০/৩৫)। বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল: ৩৮.১ ওভারে ২০৪/৪ (তানজিদ ৯, প্রান্তিক ১৪, মাহমুদুল ৩৬, হৃদয় ৭০, শাহাদাত ৫৭, আকবর ৯*; লিচ ০/৪১, অলড্রিজ ২/৩০, কিম্বার ১/৩১, মোরলে ১/৪৪, এভিসন ০/১৮, হিল ০/২১, গোল্ডসওয়ার্থি ০/১৯)। ফল: বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ৬ উইকেটে জয়ী।

 

ধর্ষণের মামলা থেকে বাঁচলেন রোনালদো

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ইউভেন্তুসের তারকা ফরোয়ার্ড ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ গঠন করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কৌঁসুলিরা। ক্যাথরিন মায়োরগা নামের ৩৪ বছর বয়সী এক নারী ২০০৯ সালে লাস ভেগাসের একটি হোটেলে তাকে ধর্ষণের অভিযোগ এনেছিলেন রোনালদোর বিরুদ্ধে। রোনালদো অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। তবে ওই ঘটনা নিয়ে আদালতের বাইরে ২০১০ সালে পর্তুগিজ অধিনায়কের সঙ্গে মায়োরগা সমঝোতায় পৌঁছেছিলেন বলে খবর এসেছিল। তবে ২০১৮ সালে তিনি পুনরায় অভিযোগ দাখিল করেন। সোমবার এক বিবৃতিতে লাস ভেগাসের কৌঁসুলিরা জানান, ওই অভিযোগ প্রমাণ করা যাচ্ছে না। ক্লার্ক কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিস জানায়, ২০০৯ সালে মায়োরগা নির্যাতিত হওয়ার অভিযোগ করেছিলেন, কিন্তু কোথায় ঘটনা ঘটেছিল এবং আক্রমণকারী কে ছিল, সে বিষয়ে জানাতে অস্বীকৃতি জানান। যে কারণে পুলিশ ‘অর্থপূর্ণ তদন্ত চালাতে’ পারেনি। অভিযোগকারীর অনুরোধে ২০১৮ সালের আগস্টে লাস ভেগাসের পুলিশ পুনরায় তদন্তে নেমেছিল। জার্মান সাময়িকী ডের স্পিগেল গত অক্টোবরে প্রথম এই খবর প্রকাশ করে। সাময়িকীটি জানিয়েছিল, ঘটনা ঘটার অল্প সময়ের মধ্যে লাস ভেগাসের পুলিশকে জানিয়েছিলেন মায়োরগা। তাদের প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, ২০১০ সালে আদালতের বাইরে রোনালদোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতায় পৌঁছান মায়োরগা। তিন লাখ ৭৫ হাজার ডলারের বিনিময়ে কখনও এই অভিযোগ প্রকাশ না করার ব্যাপারে রাজি হন তিনি। মায়োরগার আইনজীবী জানিয়েছিলেন, মিটু মুভমেন্টে অনুপ্রাণিত হয়ে তার মক্কেল মামলা পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নেন। ২০০৯ সালে লাস ভেগাসে দুজনের সাক্ষাতের বিষয়টি অস্বীকার করেননি রোনালদো। তবে দাবি করেন, দুজনের মধ্যে যা-ই হয়েছিল, পারস্পরিক সমঝোতায় হয়েছিল। সে সময় রোনালদো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে খেলছিলেন এবং ওল্ড ট্র্যাফোর্ড ছেড়ে রিয়াল মাদ্রিদে যাওয়ার পথে ছিলেন। রিয়ালে নয়টি বছর কাটানো পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড গত জুলাইয়ে ইউভেন্তুসে যোগ দেন।

বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেই মালিঙ্গার শেষ

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ওয়ানডে ক্রিকেটকে বিদায় জানাচ্ছেন লাসিথ মালিঙ্গা। শ্রীলঙ্কা অধিনায়ক দিমুথ করুনারতেœ জানিয়েছেন, বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলার পর ওয়ানডে থেকে অবসর নেবেন অভিজ্ঞ এই পেসার। বিশ্বকাপেও শ্রীলঙ্কার সেরা বোলার ছিলেন মালিঙ্গা। ম্যাচের যে কোনো পর্যায়ে এখনও উইকেট এনে দেওয়ার সামর্থ্য আছে ৩৫ বছর বয়সী এই পেসারের। তার বিদায়ের পর উইকেট-টেকিং বোলার খুঁজে বের করতে হবে বলে করুনারতেœ জানান। “সামনের মাসগুলোতে আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হবে উইকেট-টেকিং বোলার চিহ্নিত করা। আমাদের এমন বোলারদের খুঁজে বের করতে হবে যারা শুরু উইকেট নিতে পারে, মাঝের ওভারগুলোতেও উইকেট নিতে পারে।” “আমরা জানি, এই সিরিজের পর থেকে আর লাসিথ মালিঙ্গাকে পাওয়া যাবে না। লাসিথ শুধু প্রথম ম্যাচটিই খেলবে এরপর অবসর নেবে। আমাকে অন্তত সে এটাই বলেছে।” বিশ্বকাপে ৭ ম্যাচে ২৮.৬৯ গড়ে ১৩ উইকেট নিয়েছিলেন মালিঙ্গা। দলের অন্য যে কোনো বোলারের চেয়ে সংখ্যাটা দ্বিগুণ। সমান ম্যাচ খেলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬ উইকেট নিয়েছিলেন পেসার ইসুরু উদানা। আগামী শুক্রবার কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে হবে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডে।

প্রস্তুতি ম্যাচে মিঠুন-মুশফিকের ফিফটিতে বাংলাদেশের জয়

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ মোহাম্মদ মিঠুন ও মুশফিকুর রহিমের জোড়া ফিফটিতে প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশ জয় পেয়েছে। শ্রীলংকা বোর্ড প্রেসিডেন্ট একাদশের বিপক্ষে প্রস্তুতি জোরদারের ম্যাচে ৫ উইকেটে জয় পেয়েছে তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন দলটি। ২৮৩ রানের লক্ষ্য ১১ বল বাকি থাকতে ছুঁয়ে ফেলে তারা। ব্যাটিংয়ের চেয়ে বোলিং নিয়ে বাংলাদেশের ভাবনা বেশি। তাই আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিল শুরুতে বোলিং করবে। সফরাকারীদের চাওয়া পূরণ করতে টসে জিতে ব্যাটিং নেন নিরোশান ডিকভেলা।   কলম্বোর পি সারা ওভালে মঙ্গলবার ম্যাচের তৃতীয় বলে অধিনায়ক ডিকভেলাকে এলবিডবি¬উ করে বিদায় করেন পেসার রুবেল। পরে তুলে নেন ওশাদা ফার্নান্দোর উইকেট। দ্রুত রান তোলার চেষ্টায় থাকা দানুশকা গুনাথিলাকাকে থামান আরেক পেসার তাসকিন। আট ওভারের মধ্যে টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যানকে ফেরত পাঠায় বাংলাদেশ। ম্যাচে নয় বোলার ব্যবহার করেন তামিম। অনেক দিন পর এই ম্যাচেই প্রথমবারের মতো বোলিং করেন মাহমুদউল্লাহ। ৩ ওভারে ১৫ রান দিয়ে থাকেন উইকেটশূন্য। ভানুকা রাজাপাকসাকে ফিরিয়ে ৮২ রানের জুটি ভাঙেন সৌম্য। পরে থামান ৬ চারে ৫৬ রান করা শিহান জয়াসুরিয়াকে। সাতে নেমে বিস্ফোরক এক ইনিংসে দলকে ২৮২ পর্যন্ত নিয়ে যান দাসুন শানাকা। ৬৩ বলে ছয়টি করে ছক্কা ও চারে এই বিস্ফোরক ব্যাটসম্যান অপরাজিত থাকেন ৮৬ রানে। অনিয়মিত পেসার সৌম্য ২৯ রানে নেন ২ উইকেট। রুবেল ২ উইকেট নেন ৩১ রানে। রান তাড়ায় সাবধানী শুরু করেন সৌম্য। আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলেন তামিম। গতিময় পেসার লাহিরু কুমারার বলে ক্যাচ দিয়ে সৌম্যর বিদায়ে ভাঙে ৪৫ রানের উদ্বোধনী জুটি। ৬ চারে ৩৭ রান করা তামিমকেও ফেরান কুমারা। ক্রিজে গিয়েই শট খেলতে থাকেন মুশফিকুর রহিম। শুরু থেকেই আস্থার সঙ্গে খেলছিলেন মিঠুন। দ্রুত জমে যায় তাদের জুটি। পঞ্চাশ ছুঁয়ে ফিরেন মুশফিক। ৪৬ বলে ৬ চার ও এক ছক্কায় করেন ৫০ রান। ভাঙে ৭৩ রানের জুটি। মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে আরেকটি পঞ্চাশ ছোঁয়া জুটিতে দলকে টানেন মিঠুন। তিন চারে ৩৩ রান করা মাহমুদউল্লাহকে ফিরিয়ে ৯৬ রানের জুটি ভাঙেন আকিলা দনাঞ্জয়া। দলকে জয়ের কাছে নিয়ে ফিরেন মিঠুন। ৯ রানের জন্য পাননি তিন অঙ্কের দেখা। সাকিব আল হাসানের অনুপস্থিতিতে তিনে নেমে ১০০ বলে খেলা তার ৯১ রানের ইনিংস গড়া ১১ চার ও ১ ছক্কায়। মোসাদ্দেক হোসেনকে নিয়ে বাকিটা সহজেই সারেন সাব্বির। ৩১ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। চার হাঁকিয়ে ম্যাচ শেষ করা মোসাদ্দেক করেন ১৫ রান। আগামী শুক্রবার আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে হবে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডে। সংক্ষিপ্ত স্কোর: শ্রীলঙ্কা বোর্ড সভাপতি একাদশ: ৫০ ওভারে ২৮২/৮ (ডিকভেলা ০, গুনাথিলাকা ২৬, ওশাদা ২, রাজাপাকসা ৩২, জয়াসুরিয়া ৫৬, অ্যাঞ্জেলো ৭, শানাকা ৮৬*, হাসারাঙ্গা ২৮, দনাঞ্জয়া ৯, আপন্সো ১৩*; রুবেল ৭-০-৩১-২, তাসকিন ৮-০-৫৭-১, মুস্তাফিজ ৭-০-২৯-১, মোসাদ্দেক ৬-১-২৫-০, মিরাজ ৪-০-২৫-০, মাহমুদউল্লাহ ৩-০-১৫-০, সৌম্য ৬-০-২৯-২, তাইজুল ৬-০-৪২-০, রেজা ৩-০-২২-১)। বাংলাদেশ: ৪৮.১ ওভারে ২৮৫/৫ (তামিম ৩৭, সৌম্য ১৩, মিঠুন ৯১, মুশফিক ৫০, মাহমুদউল্লাহ ৩৩, সাব্বির ৩১*; মোসাদ্দেক ১৫*; বিশ্ব ৬.১-০-২৫-০, রাজিথা ৮-০-৫৭-১, গুনাথিলাকা ৩-১-১৫-০, কুমারা ৬-০-২৬-২, দনাঞ্জয়া ৭-০-৪৭-১, আপন্সো ৬-০-৪৩-০, হাসারাঙ্গা ৭-০-৩৯-১, অ্যাঞ্জেলো ৩-০-১৭-০, শানাকা ২-০-১৫-০)। ফল: বাংলাদেশ ৫ উইকেটে জয়ী।