উন্নয়ন মূলত তাদের চাপাবাজিতে হয়েছে – রিজভী

ঢাকা অফিস ॥ সারা দেশে বন্যার্তরা ত্রাণের জন্য আহাজারি করছে। নারী-শিশু নির্যাতন মহামারি আকার ধারণ করেছে। শিশুদের কাটা মাথা পাওয়া যাচ্ছে। এগুলোই কি আওয়ামী লীগের উন্নয়ন? তারা বলছে দেশে উন্নয়ন হয়েছে। আমি বলি- উন্নয়ন মূলত তাদের চাপাবাজিতে হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে নয়াপল্টনে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক কমিটির নির্বাহী সভায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী একথা বলেন। রিজভী বলেন, শেখ হাসিনার প্রতিহিংসায় গণতন্ত্রের মা খালেদা জিয়া কারাগারে বন্দি। এই সরকার গণতন্ত্রের নূন্যতম স্পেস দিচ্ছে না। যারা মুক্তভাবে দু’একটি কথা বলে তাদের কারাগারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ডাকাতের মতো রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছেন। জনগণকে ত্যাজ্য করেছেন। গণতন্ত্রে একটু স্পেস দিলে রাস্তা দিয়ে নয়, গলি দিয়ে পালানোরও সুযোগ পাবেন না। রিজভী বলেন, গাজীপুর যেতে পাঁচ ঘণ্টা সময় লাগে, ময়মনসিংহ যেতে লাগে সাত ঘণ্টা। এই কি দেশে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের নমুনা? ডেঙ্গু মহামারি আকার ধারণ করেছে। অথচ এসবের দিকে সরকারের কোনো নজর নেই। তাদের নজর এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের দিকে, তাদের দৃষ্টি এখন সোনালী ব্যাংক আর জনতা ব্যাংকের দিকে। রিজভী আরও বলেন, বন্যা হচ্ছে উত্তরবঙ্গ থেকে মধ্যবঙ্গ পর্যন্ত, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, সিরাজগঞ্জসহ বিভিন্ন জায়গায়। আর দেশের এই দুর্যোগ মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী ১৮ দিনের ছুটিতে লন্ডন চলে গেলেন। বাহ, এই হচ্ছে দায়িত্ব সরকারের। এর কারণ তাদের ভোট লাগে না, নির্বাচন লাগে না। তাদের লাগে পুলিশ আর র‌্যাব। আজ কুড়িগ্রাম লালমনিরহাটের মানুষ তিস্তা নদীতে ভাসছে। আর প্রধানমন্ত্রী লন্ডনে বসে বৈঠক করে যাচ্ছেন। মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম মাহতাবের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, সদস্য সচিব আবদুর রহিম, যুগ্ম-আহ্বায়ক অধ্যক্ষ সেলিম মিয়া, জাকির হোসেন খান প্রমুখ।

দৌলতপুরে ছেলে ধরা সন্দেহে মানষিক ভারসাম্যহীন এক নারী গণপিটুনিতে আহত

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ছেলে ধরা সন্দেহে হাসিনা বেগম (৬০) নামে মানষিক ভারসাম্যহীন এক নারীকে গণপিটুনি দিয়ে আহত করেছে এলাকাবাসী। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসা দিয়ে পরিবারের নিকট হস্তান্তর করেছেন। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দৌলতপুর থানার পাশর্^বর্তী শিতলাইপাড়া গ্রামে নির্মম ও অমানবিক এ ঘটনা ঘটেছে। দৌলতপুর থানার ওসি আজম খান জানান, দৌলতপুর মাষ্টারপাড়া গ্রামের আশিকুর রহমান রনির বাড়িতে তার মানষিক ভারসাম্যহীন শ^াশুড়ি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গতকাল সকালে বাড়ির লোকজনের অজান্তে হাসিনা বেগম নামে ওই মানষিক ভারসাম্যহীন নারী বাড়ি থেকে বের হয়ে শিতলাইপাড়া গ্রামে গেলে গ্রামের লোকজন ছেলে ধরা সন্দেহে তাকে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ শিতলাইপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বর থেকে তাকে রক্তাক্ত আহত অবস্থায় উদ্ধার করে দৌলতপুর স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা  দেয়। পরে থানায় নিয়ে আহতের জামাতার নিকট হস্তান্তর করা হয়। সঞ্জিব আলীর স্ত্রী আহত হাসিনা বেগমের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলায়। এদিকে বেশ কিছুদিন ধরে দৌলতপুর মাষ্টারপাড়ার বসবাসরত জামাইয়ের বাড়িতে হাসিনা বেগমের চিকিৎসা চলছে বলে জানিয়েছেন তার মেয়ে রিমি।  মানষিক ভারসাম্যহীন নারীর ওপর হামলার ঘটনায় এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দৌলতপুর থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে থানার ডিউটি অফিসার জানিয়েছেন।

প্রিয়া সাহার বিষয়ে তড়িঘড়ি কিছু করতে রাজি নন কাদের

ঢাকা অফিস ॥ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কাছে বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের অভিযোগ করে আলোচিত প্রিয়া সাহার বিষয়ে তড়িঘড়ি কিছু করতে রাজি নন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “এ ধরনের বক্তব্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে বলা, এটা আমাদের দেশকে ছোট করা। এটা একটা কাল্পনিক বক্তব্য, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য। আমরা রয়ে সয়ে অগ্রসর হচ্ছি, মশা মারতে আমরা কামান দাগাতে চাই না।” প্রিয়া সাহা দেশে না ফিরলে সরকার কোনো ব্যবস্থা নেবে কি না- তা সেতুমন্ত্রী কাদেরের কাছে জানতে চেয়েছিলেন সাংবাদিকরা। উত্তরে তিনি বলেন, “উনি নিজেই বলেছেন দেশে ফিরে আসবেন। আর এটা এমন একটা বিষয় নয় যে জোর করে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে হবে, এরকম কিছু আমরা পাইনি। আমরা খতিয়ে দেখছি, সেরকম কিছু হলে পরে দেখা যাবে।” দলিত সম্প্রদায় নিয়ে কাজ করা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা‘শারি’র পরিচালক প্রিয়া সাহা বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের একজন সাংগঠনিক সম্পাদক। ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে ওয়াশিংটনে আয়োজিত এক সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে গত ১৭ জুলাই হোয়াইট হাউজে যান তিনি। সেখানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে তিনি বলেন, বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা মৌলবাদীদের নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান নিখোঁজ (ডিজঅ্যাপিয়ার্ড) হয়েছেন। তারা যেন দেশে থাকতে পারেন, সেজন্য ট্রাম্প যেন সহায়তা করেন। তার ওই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় বিভিন্ন মহলে। সরকারের তরফ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ‘ক্ষুণেœর উদ্দেশ্যেই’ প্রিয়া সাহা ওই ধরনের ‘বানোয়াট ও কল্পিত অভিযোগ’ করেছেন। দেশে ফিরলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলেও ঘোষণা দেন একজন মন্ত্রী।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের শনিবার সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ওই বক্তব্য দিয়ে প্রিয়া সাহা ‘রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধ’ করেছেন। তবে রোববার তিনি জানান, প্রিয়া সাহার ব্যাখ্যা শোনার আগে তড়িঘড়ি কোনো আইনি ব্যবস্থা না নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পেয়েছেন তিনি। এরপর একজন সাংবাদিককে প্রিয়ার সাক্ষাৎকার দেওয়ার একটি ভিডিও রোববার তার এনজিও শারির ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করা হয়; সেখানে তিনি নিজের বক্তব্যের একটি ব্যাখ্যা দেন। প্রিয়া সাহা দাবি করেন, ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানের নিখোঁজ হওয়ার যে ‘তথ্য’ তিনি প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে দিয়েছেন,তা সরকারি পরিসংখ্যান থেকেই নেওয়া। অধ্যাপক আবুল বারকাত ওই পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে ২০১১ সালে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেন, যা সে সময় গণমাধ্যমেও আসে। আর ট্রাম্পের কাছে বিষয়টি তোলার ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে অভিন্ন অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র সরকার যাতে ‘একসঙ্গে কাজ করতে পারে’- সেজন্যই তিনি হোয়াইট হাউজে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সহযোগিতা চেয়েছেন, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা তার উদ্দেশ্য ছিল না।

প্রিয়া বলেন, “এই কথাগুলো তো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কথা। ২০০১ সালে যখন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্বাচনোত্তর চরম নির্যাতন চলছিল ৯৪ দিন ধরে, আজকের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তখন বিরোধী দলীয় নেত্রী। তিনি বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের রক্ষা করার জন্য সারা পৃথিবীতে ঘুরেছেন। সমস্ত জায়গায় বক্তব্য দিয়েছেন। “তার কথায় অনুপ্রাণিত হয়ে, তার অনুসরণে আমি বলেছি। যে কোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে যে কোনো জায়গায় বলা যায়- এটা আমি তার কাছে শিখেছি।” তবে তার ওই ব্যাখ্যার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, “শেখ হাসিনার বক্তব্যে তিন কোটি ৭০ লাখ লোক মিসিং- এ কথা তো কোথাও নাই।“ প্রিয়া সাহার এসব বক্তব্য দেওয়ার পেছনে ‘অন্য কারো হাত’ আছে কিনা সরকার তা খতিয়ে দেখছে জানিয়ে কাদের বলেন, “তিনি যখন দেশে ফিরবেন, তিনি বলেছেন দেশে ফিরবেন, তখন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে যে তিনি কী উদ্দেশ্যে বলেছেন, কেন বলেছেন, কী ইনফরমেশনের ভিত্তিতে বলেছেন- সেটা তাকে অবশ্যই ব্যাখ্যা করতে হবে।” বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের একজন সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়ার ওই বক্তব্যে সারা দেশে ‘বিভ্রান্তি’ তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ থেকে তিন কোটি ৭০ লাখ মাইনরিটি মানুষ- এ ধরনের উদ্ভট-কাল্পনিক বক্তব্য উনি কেন দিলেন, কেমন করে দিলেন? আর শেখ হাসিনা মাইনরিটি নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন সে বক্তব্যের সাথে সংখ্যাতত্ত্বের ওই বিষয়টারতো কোনো মিল নেই।” প্রিয়া সাহার স্বামী যে দুদকের একজন কর্মকর্তা- সে বিষয়ে একজন সাংবাদিক সেতুমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। কাদের তখন বলেন, “উনার স্বামী সরকারি চাকরি করে। এক পরিবারে স্বামী-স্ত্রী-ছেলে-মেয়ে সবাই এক মতাবলম্বী হবেন- এমন তো কোন কথা নেই। উনার স্ত্রী অন্যায় করল, সেটার জন্য স্বামীকে কেন অভিযুক্ত করতে হবে? এটা তো কোনো আইনে নেই। আমরা অহেতুক এ ধরনের বিষয়েকে কেন ইনভাইট করতে যাব?” প্রিয়া সাহার বিষয়ে সরকার পিছু হটছে কিনা- এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নে কাদের বলেন, “এটা ব্যাকফুটের কোনো বিষয় না। বিষয়টা হলো কমিউনাল কলিশন সৃষ্টির বিষয়। কারণ, সে সামান্য ব্যক্তি হলেও তো উড়িয়ে দেওয়া যায় না। উনি এনজিও সংগঠনের নেতৃত্ব দেন, আবার হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের অ্যাপেক্স বডির অর্গানাইজিং সেক্রেটারি। কাজেই এটাকে তো তুচ্ছ জ্ঞান আমরা করতে পারি না। বিষয়টার গভীরে আমরা যাচ্ছি, সব কিছু জেনেশুনে আমরা সিদ্ধান্ত নিতে চাই।” প্রিয়া সাহার বক্তব্যের পেছনে কাদের প্ররোচনা থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছেন- এমন প্রশ্নও রাখা হয়েছিল ওবায়দুল কাদেরের সামনে। জবাবে তিনি বলেন, “শেখানো কথা কিনা- সেটা আমাদের জানা নেই। কারো প্ররোচণা করেছে কিনা, পেছনে কোনো রাজনৈতিক মতলব আছে কিনা, উসকানি আছে কিনা, বিষয়টা আমাদের জানতে হবে এবং আমরা বিষয়টা খতিয়ে দেখছি।”

কারাকাসে ন্যাম কোর্ডিনেটিং ব্যুরো’র মন্ত্রী পর্যায়ের সভায় মোমেন

রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসতে হবে

ঢাকা অফিস ॥ রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে জোট নিরপেক্ষ দেশ (ন্যাম) এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় এসোসিয়েশন (আসিয়ান) ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে অসার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন। রোববার ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে ন্যাম কোর্ডিনেটিং ব্যুরো’র মন্ত্রী পর্যায়ের সভায় এ আহ্বান জানান তিনি। মিয়ানমার যাতে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয় এবং এ সঙ্কটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অব্যাহত প্রচেষ্টা চালানো আহ্বান জানান রাষ্ট্রদূত। গতকাল ভেনিজুয়েলা থেকে ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়। ন্যাম মিনিস্ট্রিয়ালের এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের মাধ্যমে শান্তি এগিয়ে নেওয়া ও সুসংহত করা’।

অধিকৃত ফিলিস্তিনী ভূখন্ডে আন্তর্জাতিক আইন ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘন এবং ফিলিস্তিনী জনগণের প্রতি দীর্ঘ নিপীড়নের কথা উল্লেখ করে স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, শুধু উদ্বেগ প্রকাশ করে ফিলিস্তিনসহ বিশ্বের অন্যান্য স্থানে সংঘটিত অমানবিক ও বর্বর কর্মকান্ডের পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব নয়। দেশগুলো যাতে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয় আমাদেরকে অবশ্যই তা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংগঠনকারীদের দায়-দায়িত্ব নিরূপনের মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের উপর সংঘটিত মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে জোট নিরপেক্ষ সম্মেলনে যোগদানের যে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তা স্মরণ করে স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, “বাংলাদেশ এখনও জাতির পিতার সেই নীতি-আদর্শ ও জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের কর্মকান্ড থেকে অনুপ্রাণিত হয়। যা আজকের বিশ্বে চলমান অস্ত্রের বিস্তার, শুধু নিরাপত্তার ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহারের আধিক্য, জলবায়ু পরিবর্তন, আন্তঃসাংস্কৃতিক সংঘাত ইত্যাদি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযোজ্য হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির কথাও উল্লেখ করেন স্থায়ী প্রতিনিধি। আফ্রিকা, এশিয়া, ওশেনিয়া, ল্যাটিন আমেরিকা, ইউরোপ ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের ৮৫টি দেশের ১৬ জন মন্ত্রীসহ উচ্চ-পর্যায়ের প্রতিনিধিরা এই মিনিস্ট্রেরিয়াল সভায় যোগ দেন। ভেনিজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জর্জ অ্যার্রিয়াজা মন্টসের্রাট এ সভায় সভাপতিত্ব করেন। এতে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো বক্তব্য প্রদান করেন। ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে ১৭ থেকে ২১ জুলাই অনুষ্ঠিত এই সভায় অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশের ২ সদস্য বিশিষ্ট প্রতিনিধিদলের মধ্যে ছিলেন স্থায়ী মিশনের মিনিস্টার পলিটিক্যাল ড. মো. মনোয়ার হোসেন।

কালুখালীতে প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ কাজী আলমগীর হোসেনের বিদায় সম্মাননা

ফজলুল হক ॥ রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ কাজী আলমগীর হোসেন এর উচ্চতর ডিগ্রী অর্জনে ৩ বছরের ছুটি প্রাপ্তি হওয়ায় বিদায় সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। উপজেলা অফিসার্স ক্লাবের পক্ষ থেকে গতকাল রবিবার সকাল ১১টায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অফিস কক্ষে এ বিদায় উপলক্ষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুন নাহারের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদিয়া ইসলাম লুনা, কৃষি অফিসার মো. মাছিদুর রহমান, বিদায়ী অতিথি ডাঃ কাজী আলমগীর হোসেন অন্যান্যের মধ্যে সমাজসেবা অফিসার মোঃ জিল্লুর রহমান, সমবায় অফিসার মোল্লা সাইফুল ইসলাম, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আবুল বাশার চৌধুরী, উপ-খাদ্য পরিদর্শক একরাম হোসেন খান এছাড়াও শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আঃ রশিদ, সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জয়ন্ত কুমার দাসসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে বিদায়ী প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তাকে অফিসার্স ক্লাবের পক্ষ থেকে উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়।

 

ভেষজগুণে সমৃদ্ধ গুল্মজাতীয় মিষ্টি গাছ স্টিভিয়া চাষ বাড়ছে

কৃষি প্রতিবেদক ॥ মানুষের জীবনে মেধার বিকাশ এবং শারীরবৃত্তীয় পরিপক্বতা আসতে সাধারণত সময় লাগে ৪০ বছর। এ বয়সে সুস্থ ও ভালো থাকা বিষয়টি যত না অনুভূত হয় তার চেয়ে অনেক বেশি ভুক্তভোগী হতে হয় বয়স ৪০ এর কোঠা পার হতে না হতেই। ইতোমধ্যে চোখে কম দেখা, স্মরণশক্তি কমে যাওয়া, চুল পাকা, ইন্দ্রিয় শৈথিল্যতা, ব্লাড প্রেসার, ডায়াবেটিকস, বাত, গ্যাস্টিক, আলসার, ক্যান্সার ইত্যাদি অসুস্থতার উপসর্গগুলো দেখা দিতে থাকে। এমতাবস্থায় ভালো থাকা ও সুস্থ থাকা একদিকে যেমন ওষুধনির্ভর হয়ে পড়ে অপরদিকে তেমন কমতে থাকে খাওয়া-পরার উৎকর্ষতা এবং অন্যান্য ভোগবিলাসের কৃচ্ছ্রতা কিংবা স্বাধীনতা। আর আমাদের দেশে এ বয়সে অসুস্থতার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হলো-হাইপারটেনশন বা ব্লাডপ্রেসার এবং ডায়াবেটিস রোগ। এমতাবস্থায় দেহের কোলস্টেরল কমাতে চর্বি জাতীয় সুস্বাদু উন্নত খাবার খাওয়া যেমন নিষিদ্ধ হয়ে যায় ডায়াবেটিস থেকে রেহাই পেতেও তেমনি ক্যালরিযুক্ত মিষ্টি জাতীয় খাবার পরিহার করতে হয়। কিন্তু আকর্ষণীয় খাবার টেবিলে বসে জিহবার চাহিদা, চোখের ক্ষুধা ও মনের ক্ষুধা তো আর সহজে দমন করা যায় না। কিন্তু ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন হলো জীবনধারণের জন্য শাকসবজি জাতীয় ভেষজ ও নিরামিষ খাবার খাওয়া। তবে ভেষজ খাবার কেবল পরিহারযোগ্য খাবারের বিকল্পই নয় বরং মনের ক্ষুধা, চোখের ক্ষুধা, জিহবার চাহিদা এমনকি ঔষধির চাহিদা পূরণ করে থাকে। ঠিক এমনি এক ভেষজগুণে সমৃদ্ধ গুল্মজাতীয় মিষ্টি গাছ স্টিভিয়া। অবিশ্বাস্য হলেও আমাদের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুখবর বৈকি। এ যেন সৃষ্টিকর্তার এক অলৌকিক সৃষ্টি রহস্য।
স্টিভিয়ার পরিচিতি এবং উদ্ভিদ প্রকৃতি ঃ স্টিভিয়া মূলত অনেক আগে থেকেই প্যারাগুয়ের পাহাড়ি অঞ্চলে শত শত বছর ধরে চাষাবাদ করা হতো তবে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সেখানে চাষাবাদ শুরু হয় ১৯৬৮ সনে। অতপর ব্রাজিল, চীন, কোরিয়া, কানাডা, আমেরিকা ও ইংল্যান্ডে ফসল হিসেবে গাছটির চাষ প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
বর্তমানে চীনে ব্যাপকভাবে স্টিভিয়ার চাষ হয়ে থাকলেও বাণিজ্যিক ব্যবহারের দিক দিয়ে জাপান অনেক অগ্রসর। জাপানে প্রায় ৪০% চিনির চাহিদা মেটানো হয়ে থাকে স্টিভিয়া দিয়ে। অতি আনন্দের বিষয় স্টিভিয়া পার্শ্ববর্তী দেশসহ বর্তমানে আমাদের দেশেও দিন দিন ব্যাপক পরিচিতি লাভ করছে। সৃষ্টিকর্তার অলৌকিক সৃষ্টি রহস্য অস্বাভাবিক মিষ্টি এবং ভেষজগুণ সম্পন্ন এ স্টিভিয়া গাছটির উদ্ভিদতাত্ত্বিক সংক্ষিপ্ত পরিচিতি হলো-স্টিভিয়া কম্পোজিট ফ্যামিলির অন্তর্ভুক্ত বহু বর্ষজীবী গুল্মজাতীয় একটি ভেষজ উদ্ভিদ। স্টিভিয়া সর্বোচ্চ ৬০-৭০ সেন্টিমিটার উচ্চতা বিশিষ্ট হয়। সবুজ রঙের পাতাগুলো কান্ডের সাথে বিপরীতমুখী বিন্যাসে থাকে এবং পাতার কিনারা খাঁজ কাটা ও বর্শাকৃতির। উদ্ভিদটি অনেকটাই এ্যাস্টার ফুল গাছের মতো। এর ফুল ছোট ও সাদা রঙের এবং কীটপতঙ্গ দ্বারা পরাগায়িত। বীজ এন্ডোস্পারম যুক্ত ক্ষুদ্রাকৃতির। স্টিভিয়া সাধারণত রৌদ্র পছন্দের এবং ছোট দিনের উদ্ভিদ। তবে রৌদ্র পছন্দের হলেও দিনের ভাগ ১৩ ঘণ্টার বেশি অপছন্দনীয়। স্টিভিয়া গাছটির সবুজ পাতাই মূলত কার্যকরী মিষ্টি উপাদানের প্রধান উৎস।
স্টিভিয়ার গুণাগুণ ঃ স্টিভিয়ার অতি গুরুত্বপূর্ণ গুণ বৈশিষ্ট্য হলো এর মিষ্টতায় কোনো ক্যালোরি কিংবা কার্বোহাইড্রেট নেই। ফলে দেহে কখনো শোষিত হয় না কিংবা কোনো তাপ উৎপাদন করে না। শুধু মিষ্টি ও চর্বিযুক্ত খাবারের চাহিদাই পূরণ করে থাকে যা ডায়াবেটিস ও ব্লাড প্রেসার রোগীদের জন্য মিষ্টির বিকল্প হিসেবে এক মহা সুখবর বৈকি। এ যেন সৃষ্টিকর্তার এক অলৌকিক নিদর্শন। কারণ এটি অকল্পনীয়ভাবে মানুষের দেহে অগ্ন্যাশয় হতে ইনসুলিন নিঃসরণে সহায়তা করে এবং ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফলে স্টিভিয়া হাইপারটেনশন রোগীদেরও উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধ করে। শুধু তাই নয়, শরীরের সুস্থতা ও সচেতনতাবোধ সৃষ্টিসহ উদ্দীপক ও কান্তিনাশক হিসেবে স্টিভিয়ার ব্যবহার অদ্বিতীয়। এ ছাড়াও দাঁতে ব্যাকটেরিয়াজনিত তি ও য় রোধে স্টিভিয়া যেমন অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে তেমনি পাকস্থলিতে হজমে সহায়তা করে। যকৃত, অগ্ন্যাশয় ও প্লীহায় পুষ্টি সরবরাহ করে এবং ত্বকের য় নিরাময় করে।
চাষ পদ্ধতি ঃ জৈব সারযুক্ত ও নিষ্কাশনযুক্ত দো-আঁশ মাটি এবং সাধারণত ১৫-৩০ সেলিসিয়াস তাপমাত্রা স্টিভিয়া চাষের জন্য খুবই উপযোগী। এ কারণে আমাদের দেশে প্রায় সারা বছরই মাঠ ফসল হিসেবে স্টিভিয়ার চাষ করা যায়। বাড়ির বারান্দায় রৌদ্রযুক্ত স্থানে কিংবা বাড়ির ছাদে ৫-৬ ইঞ্চি টবে কিংবা পলিথিনে চারা রোপণের মাধ্যমে ইতোমধ্যে স্টিভিয়ার চাষ ব্যাপকতা লাভ করেছে। মাঠ ফসল হিসেবে স্টিভিয়ার চাষ এত লাভজনক যে একজন চাষি প্রতি বছর বিঘাপ্রতি কয়েক লাখ টাকা অনায়াসে আয় করতে পারেন। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে গাছটি চাষ করে ইতোমধ্যে একর প্রতি ২.০-২.৫ লাখ রুপি মুনাফা অর্জন করছে।
আমাদের দেশেও সংশ্লিষ্ট কৃষি বিজ্ঞানীরা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে গাছটির চাষাবাদ নিয়ে মাঠ পর্যায়ে গবেষণা কার্যক্রম চালালে কৃষক পর্যায়ে আরো ব্যাপকতা লাভ করতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত আমাদের দেশে ব্যাপক হারে চাষের জন্য বীজ একটি বড় সমস্যা। বীজ সমস্যার কারণে আমাদের দেশে গাছটি আপাতত টিস্যু কালচারের মাধ্যমে ব্যাপকতা লাভ করেছে। ইক্ষু গবেষণা কেন্দ্র, ঈশ্বরদী এবং ব্র্যাক টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরি, গাজীপুর এ ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। পলিথিনে এবং টবে করে বিক্রি হচ্ছে স্টিভিয়ার চারা। আগ্রহী ক্রেতাদের ভিড় দিন দিন ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
স্টিভিয়ার ব্যবহার ঃ যাদের ডায়াবেটিস কিংবা ব্লাড প্রেসার আছে তারা নিজ বসতবাড়িতে মাত্র দু-একটি টবে বহু বর্ষজীবী এ গাছ যতœ সহকারে চাষ করলে পরিবারে চিনির চাহিদা পূরণ করা কোনো ব্যাপারই নয়। প্রতি ১ কেজি খাবার মিষ্টিকরণের জন্য মাত্র ৭.৯ মিলিগ্রাম স্টিভিয়া যথেষ্ট। এক গ্লাস পানিতে ১-২টি কাঁচা পাতার রস মিশিয়ে দিলেও অনেক মিষ্টি পাওয়া যায়। তাই সরবত, চা, কফি, সেমাই এবং অন্যান্য পানীয় দ্রব্যে ব্যবহার্য মিষ্টি উপাদান হিসেবে স্টিভিয়া ব্যবহার করা যেতে পারে।
স্টিভিয়ার পাতা গুঁড়া করে পাউডার, ট্যাবলেট কিংবা তরল প্যাকেজে বাজারজাত করা যেতে পারে। উল্লেখ্য, এক কেজি কাঁচা পাতা শুকিয়ে প্রায় ২০০-৩০০ গ্রাম পাউডার পাওয়া যেতে পারে। এসব তরল কিংবা পাউডার অথবা স্টিভিয়া হতে উৎপাদিত চিনি পাউরুটি এবং বিস্কুট তৈরির কারখানাগুলোতে ডায়াবেটিক্স্ ও ব্লাড প্রেসার রোগীদের জন্য বিশেষ রুটি ও বিস্কুট তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক।
বাংলাদেশে ডায়াবেটিস ও ব্লাড প্রেসার রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে এবং এ দেশ স্টিভিয়া চাষের জন্য খুবই উপযোগী প্রোপটে কৃষি বিজ্ঞানী, চাষি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যাপক হারে স্টিভিয়া চাষের ব্যাপারে উদ্যোগী হলে এ উদ্ভিদটি এ দেশের কৃষি সেক্টরে তো বটেই জাতীয় রাজস্ব খাতেও ব্যাপক সাড়া জাগাতে পারে। এ ছাড়াও হোমিও, সাধনা, আয়ুর্বেদিক এবং কবিরাজিসহ ভেষজ গাছ-গাছড়া নিয়ে যারা গবেষণা করেন তারাও স্টিভিয়া থেকে ব্যাপকভাবে লাভবান হতে পারেন। কৃষি প্রধান এবং চাষ উপযোগী বাংলাদেশে স্টিভিয়ার ব্যাপক চাষ, গবেষণা ও সংশ্লিষ্ট শিল্প কারখানা চালু করতে পারলে এ দেশের আর্থ-সামাজিকসহ জাতীয় উন্নয়ন খাতে কাঙ্খিত প্রবৃদ্ধি অতি সম্ভাবনাময়।

বাংলাদেশকে ধবলধোলাই করতে চায় শ্রীলংকা

ক্রীড়া প্রবিবেদক ॥ ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ে উপরে উঠতে মরিয়া শ্রীলংকা। এজন্য বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজে চোখ তাদের। আসন্ন ৩ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে টাইগারদের হোয়াইটওয়াশ করে এ পথে এগিয়ে যেতে চান লংকানরা। দলটির প্রধান নির্বাচক আসান্থা ডি মেল মনে করেন, র‌্যাংকিংয়ে উপরে ওঠার সিঁড়ি হিসেবে তামিম-মুশফিকদের ৩-০ ব্যবধানে হারানো জরুরি। আইসিসি র‌্যাংকিংয়ে আট নম্বরে রয়েছে শ্রীলংকা। দলটির রেটিং পয়েন্ট ৭৯। লংকার চেয়ে ঢের এগিয়ে বাংলাদেশ। ৯০ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে সাত নম্বরে আছে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। অবশ্য এ সিরিজে বাংলাদেশকে ধবলধোলাই করলেও র‌্যাংকিংয়ে উপরে ওঠা সম্ভব নয় লংকানদের। তবে রেটিং পয়েন্টে কিছুটা উন্নতি হবে তাদের। ডি মেল বলেন, এ সিরিজে আমাদের প্রধান লক্ষ্য র‌্যাংকিংয়ে উন্নতি করা। আমরা আট নম্বরে আছি এবং তারা সাত নম্বরে। উপরের স্থান অর্জন করতে বাংলাদেশকে ৩-০ ব্যবধানে হারাতে হবে। মইয়ে এক ধাপ উপরে ওঠার দিকেই নজর আমাদের। চলতি মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু হবে বাংলাদেশ-শ্রীলংকা ৩ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজ। ২৬ জুলাই হবে সিরিজের প্রথম ম্যাচ। দ্বিতীয় ম্যাচ গড়াবে ২৮ জুলাই। ৩১ জুলাই সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ খেলবে দুই দল। সিরিজ শুরুর আগে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ-শ্রীলংকা। সব ম্যাচই হবে কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে।

বিশ্বকাপে সহযোগী দলগুলোকে দেখতে চান রশিদ খান

ক্রীড়া প্রবিবেদক ॥ ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরই তিন ফর্মেটেই আফগানিস্তান ক্রিকেট দলের নতুন অধিনায়ক নির্বাচিত হয়েছেন স্পিন তারকা রশিদ খান। তিন ফর্মেটেই আরো ধারাবাহিক হতে দলের কি প্রয়োজন, প্রিয় টেস্ট ভেন্যু,আগামী বিশ্বকাপসহ অনেক কিছু নিয়ে কথা বলেছেন ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোর সঙ্গে। প্রশ্ন : অধিনায়কত্ব পেয়ে বিস্মিত হয়েছেন? রশিদ: না। বআমি মোটেই বিস্মিত হয়নি। আমি আগে থেকেই । সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করছিলাম, যার অর্থ হচ্ছে আপনি আগামী অধিনায়ক। মানসিকভাবে আমি এ জন্য প্রস্তুত ছিলাম। হ্যাঁ, খুব দ্রুতই এটা ঘটেছে। তবে যখন জাতীয় দল, দেশের বিষয়টি আসবে তখন অবশ্যই নেতৃত্ব দেয়ার জন্য আপনাকে সব সময় প্রস্তুত থাকতে হবে। সাধ্যমত আমি সর্বোচ্চ চেস্টা করব। প্রশ্ন : আপনার কাছ থেকে আফগানিস্তানের কি দরকার আছে? রশিদ : অনেক কিছুই করতে হবে। একজন নেতা হিসেবে এখান থেকে আমাদের পদক্ষেপ নিতে হবে। আমরা বিশ্বকাপ দেখছি, আমরা প্রতিপক্ষ দলগুলো দেখেছি, তাদের জন্য সঠিক প্রস্তুতি কি হওয়া উচিত এবং আমাদের খুব শক্ত মানসিকতার হতে হবে। এ ধরনের প্রতিযোগিতার জন্য আমাদের পুরোপাুরি ফিট থাকতে হবে এবং আমাদের ভালভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে। এ বিষয়গুলো আমাদের অর্জন করতে হবে। এই মুহূর্তে আমরা সহযোগি দেশগুলোর বিপক্ষে খেলছিনা। আমরা পুর্ন সদস্য দেশগুলোর বিপক্ষে খেলছি। সুতরাং আমাদের ভাল পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি থাকতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন বিষয় হচ্ছে ফিটনেস। আমাদের খুব ভাল ফিট থাকতে হবে। যারা যেকোন প্রতিপক্ষকে হারাতে পারে তেমন একটা ভাল দল হতে হলে আগামী বছরগুলোতে আমাদের এ বিষয়গুলোতে উন্নতি ঘটাতে হবে। আমাদের মেধা আছে, দক্ষতা আছে। আমাদের কেবলমাত্র এসব বিষয়ে উন্নতি ঘটাতে হবে।

প্রশ্ন: জাতীয় দলে আসছে আফগানিস্তানের এমন তরুণ খেলোয়াড়দের প্রতি আপনার পরামর্শ কি? রশিদ: প্রথম বিষয় হচ্ছে ফিটনেস। জাতীয় দলে আসলে আপনাকে পুরোপুরি ফিট হতে হবে। আপনি আপনার দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। অপর বিষয়টি হচ্ছে আপনার দক্ষতার ওপর আপনার কাজ করতে হবে। বিষয়টা এমন নয় যে, আপনি জাতীয় দলে এসে এ বিষয়ে কাজ শুরু করবেন। একবার জাতীয় দলে প্রবেশ করলে আপনার মানসিকতার বিষয়েও আরো বেশি কাজ করতে হবে। এবং একজন তরুণ তারকা হিসেবে আপনাকে সব সময় আত্মবিশ্বাসী হতে হবে এবং কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। তারপর আপনি যে কোন কিছু অর্জন করতে পারেন।

প্রশ্ন: ২০২৩ বিশ্বকাপকে একটা লক্ষ্য হিসেবে রেখে আফগানিস্তানকে কি করতে হবে? রশিদ: বিষয়টা আমাদের জন্য খুবই বড় একটা চ্যালেঞ্জ। যেমনটা আমি বলেছি, আমাদের মেধা ও দক্ষতা থাকতে হবে। তবে আমাদের উন্নতি ঘটাতে হবে। বড় দলগুলোর বিপক্ষে কিভাবে খেলতে হয় এবং তাদের বিপক্ষে সঠিক প্রস্তুতি কি হওয়া দরকার-আমাদের সেগুলো জানতে হবে। যেমনটা দেখেছি- এই বিশ্বকাপে আমাদের ধুকতে হয়েছে। তবে ২০২৩ বিশ্বকাপ এখনো অনেক দূরে। এই মুহূর্তে আমাদের নজর ও লক্ষ্য অস্ট্রেলিয়ায় ২০২০ টি-২০ বিশ্বকাপ। দেখাব আমরা কতটা ভাল দল এবং গত বিশ্বকাপের তুলনায় আমরা আমরা কতটা ভাল করতে পারছি। আমাদের কেবলমাত্র উন্নতি করা এবং অতীতে যে ভুলগুলো করেছি সেগুলো কমিয়ে আনা দরকার। বিশেষ করে টি-২০তে আমাদের সামর্থ্য আছে এবং অতীতের তুলনায় এখন আমরা আরো ভাল দল। ২০২৩ বিশ্বকাপে আমাদের এখান থেকে শিক্ষা নিতে হবে, ৫০ ওভারের জন্য যথার্থ প্রস্তুতি নিতে হবে। আমরা বড় দলগুলোর বিপক্ষে যত বেশি খেলব, আমরা তত ভাল হবো। সুতরাং আমরা আরো বেশি ম্যাচ এবং বড় দলগুলোর বিপক্ষে সিরিজ খেলতে মুখিয়ে আছি। প্রশ্ন: আপনি টেস্ট দলেরও অধিনায়ক।এ চ্যালেঞ্জটা কিভাবে নিচ্ছেন? রশিদ: টেস্ট ক্রিকেট হচ্ছে আসল ক্রিকেট এবং এখানে সত্যিকারার্থেই তিন ফর্মেটেই আপনার পরীক্ষা মিলবে। আপনি কতটা ধীরস্থির, ঠান্ডা এবং আক্রমন করতে সঠিক সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে পারেন-এ বিষয়ের পরীক্ষা মিলবে। সেখানে যদি আমাদের উন্নতি ঘটে তবে সংক্ষিপ্ত ভার্সনের মত সেখানেও আমরা পারফর্ম করতে পারব। আমরা টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি অনেক বেশি নজর দিচ্ছি এবং আমাদের কেবল বড় দলগুলোর বিপক্ষে আরো বেশি টেস্ট খেলা দরকার। দেশে চার দিনের ক্রিকেটের আমাদের ভাল একটা অবকাঠামো আছে। সুতরাং সেখানে আমরা উন্নতি করতে পারি। আমরা যথার্থ সুযোগ-সুবিধা এবং মাঠ পাচ্ছি এবং আগামী বছরগুলোতে আপনারা আফগানিস্তান ক্রিকেট থেকে তারকা দেখতে পাবেন। প্রশ্ন: পুর্ন সদস্য হওয়ার আগে আফগানিস্তান এক সময় সহযোগি সদস্য ছিল। আপনি কি মনে করেন ৫০ ওভার ফর্মেটে ২০২৩ বিশ্বকাপের পর আরো বেশি সহযোগি দেশ থাকা উচিৎ( আগামী ২০২৩ বিশ্বকাপেও ১০ দলের বিশ্বকাপ নিশ্চিত হয়ে আছে)? রশিদ: অবশ্যই। এমনটা হলে প্রতিদ্বন্দিতা খুব বেশি উপভোগ্য হবে। ঐ সকল দল যদি আসে এবং বড় দলগুলোর বিপক্ষে ভাল করতে শুরু করেৃঅতীতে আমরা দেখেছি সহযোগি দেশগুলো বিশ্বকাপ খেলেছে এবং তারা পুর্ন সদস্য দেশগুলোকেও হারাতে পারে। যেমন ইংল্যান্ডকে হারিয়েছে আয়ারল্যান্ড। এটা ঘটেছে। সহযোগি দেশগুলো সে ধরনের পারফরমেন্স করেছে। তারা কঠোর পরিশ্রম করছে এবং সব সময়ই তারা বিশ্বকাপ খেলতে চায়। সুতরাং আমি অবশ্যই চাইব সহযোগি দেশগুলো বিশ্বকাপ খেলুক। এর মাধ্যমে দলগুলো বুঝতে পারবে-উন্নতি করতে তাদের কতটা কঠোর পরিশ্রম দরকার, নিজেদের দক্ষতা ও ক্রিকেটের জন্য আরো কত বেশি কঠোর পরিশ্রম তাদের করতে হবে। প্রশ্ন একজন টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে আপনি কোন ভেনুূতে নামতে পছন্দ করেন?

রশিদ: লর্ডস। লর্ডসে একটা টেস্ট খেলা সব সময়ই অনেক বেশি গর্ব ও আনন্দের মুহূর্ত। অধিনায়কের কথা ভুলে যান নিজ দেশর হয়ে সেরা একাদশে লর্ডসে টেস্ট খেলাই একটা স্বপ্নের চেয়েও অনেকক বেশি বড়। লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট খেলতে পারলে আমি খুশি হবো। অপর প্রিয় ভেন্যু এডিলেড। এডিলেডে আমি দিবা-রাত্রির টেস্ট খেলতে চাই। এটা এমন একটা কিছু- আমি যার স্বপ্ন দেখি। প্রশ্ন: কেন? রশিদ: আমি এ দুই ভেন্যুতে খেলতে পছন্দ করি। টেস্ট ক্রিকেট পাঁচ দিনের। সুতরাং আপনি বার বার আসবেন এবং প্রতি দিন খেলবেন। যেটা করতে আমি ভালবাসি। এবং এ দুটি গ্রাউন্ড আমার প্রিয়।

 

পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে বিশ্ব সেরা করতে চান ইমরান খান

ক্রীড়া প্রবিবেদক ॥ ইংল্যান্ডের মাটিতে সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপ থেকে বাজেভাবে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ার পর পাকিস্তান দলের উন্নতি ঘটাতে চান দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। পাকিস্তানকে ‘বিশ্ব সেরা ক্রিকেট’ দলে পরিণত করতে তিনি একটি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন বলে আমেরিকায় বসবাসকারী পাকিস্তানী-আমেরিকানদের কাছে অঙ্গীকার করেন প্রধানমন্ত্রী। ওয়াশিংটন ডিসিতে পাকিস্তানী- আমেরিকানদের এক সমাবেশ বক্তব্যকালে এ অঙ্গীকার করেন ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া ইমরান। পাকিস্তান ক্রিকেটকে পুনর্গঠন করবেন বলে জানান তিনি। সম্প্রতি বিশ্বকাপ ফাইনালে পাকিস্তান দলের দুর্বল পারফরমেন্সে কথা উল্লেখ করে ইমরান বলেন, ‘সেরা খেলোয়াড়দের দলে এনে আগামী টুর্নামেন্টে পাকিস্তানকে বিশ্ব সেরা ক্রিকেট দলে পরিণত করতে ইতোমধ্যেই তিনি কাজ শুরু করেছেন।’ ১৯৯২ বিশ্বকাপ জয়ী পাকিস্তান দলের নেতৃত্ব দেয়া প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বকাপের পর আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমি এই পাকিস্তান দলটির উন্নতি ঘটাবো। আমি পাকিস্তান ক্রিকেটকে পুনর্গঠন করছি। এখানে অনেক ভুল নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আশা করছি পরবর্তী বিশ্বকাপে আপনারা অনেক বেশি পেশারদার, সেরা পাকিস্তান দল দেখবেন। আমার প্রতিশ্রুতি মনে রাখবেন’ তবে নিজের পরিকল্পনার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি খান। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমন্ত্রণে বর্তমানে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন ইমরান খান। আইসিসি বিশ্বকাপে গত ১৬ জুন চিরপ্রতিদ্বন্দি ভারতের কাছে হেরে যাওয়ার ভয় দূর করার জন্য খান দেশের ক্রিকেট দলকে কিছু উৎসাহ ব্যঞ্জক কথা বলেন । তিনি বলেন নেতিবাচকও রক্ষণাত্মক কৌশলে হারাতে ভয়। দশ দলের টুর্নামেন্টে সেমিফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হয়েছে সরফরাজ আহমেদের দলটি। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সাবেক চেয়ারম্যান নাজাম শেঠি বিশ্বকাপে দলের খারাপ পারফরমেন্সে জন্য বর্তমার বোর্ডকে দায়ী করেছেন।

 

বিশ্ব সাঁতার চ্যাম্পিয়নশিপ্সে ৬২তম জুয়েল

ক্রীড়া প্রবিবেদক ॥ বিশ্ব সাঁতার চ্যাম্পিয়নশিপ্সে ১০০ মিটার ব্যাকস্ট্রোকে হতাশ করেছেন জুয়েল আহমেদ। ৬৩ প্রতিযোগীর মধ্যে ৬২তম হয়েছেন তিনি। দক্ষিণ কোরিয়ার গুয়াঞ্জুতে ১ মিনিট ৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে সাঁতার শেষ করা জুয়েল জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে গড়া নিজের সেরা টাইমিংয়ের ধারে কাছেও যেতে পারেননি। গত মার্চে ১ মিনিট ০ দশমিক ৭৬ সেকেন্ড সময় নিয়েছিলেন জুয়েল। এ ইভেন্টে হিট পেরিয়ে সেমি-ফাইনালে ওঠা ১৮ প্রতিযোগীর মধ্যে সর্বশেষ জনের টাইমিং ৫৪ দশমিক ০৭ সেকেন্ড। এর আগে ১০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকে ১ মিনিট ৭ দশমিক ৭৪ সেকেন্ড সময় নিয়ে ৮৭ প্রতিযোগীর মধ্যে ৭৮তম হন বাংলাদেশের আরেক সাঁতারু আরিফুল ইসলাম।