ইউরোপে বাংলাদেশের দূতদের সম্মেলনে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লন্ডনে অনুষ্ঠিতব্য ইউরোপে অবস্থানরত বাংলাদেশের দূতদের সম্মেলনে অংশ নেবেন আজ শনিবার। এ ধরনের সম্মেলন এটিই প্রথম। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম গতকাল শুক্রবার জানান, শনিাবর লন্ডনের একটি হোটেলে অনুষ্ঠেয় এই সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যোগ দেবেন। তিনি আরো জানান, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে দায়িত্ব পালনকারী বাংলাদেশের ১৫ জন রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার এবং স্থায়ী প্রতিনিধি এই সম্মেলনে যোগ দিবেন। তারা হলেন, আবু জাফর (অস্ট্রেলিয়া), মো. শাহাদৎ হোসেন (বেলজিয়াম), মুহম্মদ আবদুল মুহিত (ডেনমার্ক), কাজী ইমতিয়াজ হোসেন (ফ্রান্স), ইমতিয়াজ আহমেদ (জার্মানী), জসিম উদ্দিন (গ্রীস), আবদুস সোবহান সিকদার (ইতালি), শেখ মোহাম্মদ বেলাল (নেদারল্যান্ড), মুহম্মদ মাহফুজুর রহমান (পোল্যান্ড), রুহুল আলম সিদ্দিক (পর্তুগিজ), ড. এস এম সাইফুল হক (রুশ ফেডারেশন), হাসান মোহাম্মদ খন্দকার (স্পেন), নাজমূল ইসলাম (সুইডেন), শামিম আহসান (সুইজারল্যান্ড) এবং সাইদা মুনা তাসনীম (যুক্তরাজ্য)। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী ইউরোপে বাংলাদেশী দূতদের সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা করবেন এবং তাদেরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিবেন। আলোচনায় রোহিঙ্গা ইস্যুটি বিশেষভাবে স্থান পাবে। (বাসস)

আজ ফেলা হবে জিও ব্যাগ

মিরপুরের তালবাড়িয়া এলাকায় পদ্মায় ভাঙছে মাঠ

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ পদ্মা নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাঙন  দেখা দিয়েছে। গত চার দিনে দ্বিগুণ হারে পানি বৃদ্ধির করণে নদী তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। আজ শনিবার থেকে ভাঙন এলাকায় বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হবে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

পদ্মার পানি বৃদ্ধিতে গড়াই নদীতেও পানি বেড়ে যাচ্ছে। কুষ্টিয়া শহর সংলগ্ন চরাঞ্চলের বাড়িগুলোতে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। জরুরিভাবে ভাঙন প্রতিরোধে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার বরাদ্দ পেয়েছে পাউবো।

গতকাল শুক্রবার হার্ডিঞ্জ সেতু পয়েন্টে পানির উচ্চতা ১২ দশমিক ৫৬ সেন্টিমিটার। পদ্মার পানির বিপদসীমা ১৪ দশমিক ২৫  সেন্টিমিটার। পানির উচ্চতা বাড়ছে গড়াইয়েও। গড়াই নদীর কুমারখালী রেলসেতু পয়েন্টে বিপদসীমা নির্ধারিত হয় ১২ দশমিক ৭৫ সেন্টিমিটার। গড়াইয়ে সেখানে গতকাল সকালে পানির উচ্চতা ছিল ১০ দশমিক ৮৫ সেন্টিমিটার।

পাউবো সূত্র জানায়, দেশের উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হলেও পদ্মা নদীতে শুরুতে তেমন একটা প্রভাব পড়েনি। কিন্তু গত চার থেকে পাঁচ দিনে পদ্মা নদীর কুষ্টিয়া অংশে ব্যাপক হারে পানি  বেড়ে যাচ্ছে। এতে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার তালবাড়িয়া এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। সেখানে ফসলি মাঠ বিলীন হতে শুরু করেছে। পদ্মা নদীর এই অংশের পাশেই কুষ্টিয়া-ঈশ্বরদী জাতীয় মহাসড়ক। জরুরিভাবে ভাঙন প্রতিরোধে বালুভর্তি ১০ হাজার জিও ব্যাগ ফেলার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তালবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল হান্নান বলেন, তিন-চার দিন ধরে ব্যাপক এলাকা জুড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। তিনি পাঁচ হাজার বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার কাজ পেয়েছেন। এ ছাড়া পাবনার এক ঠিকাদারও পাঁচ হাজার বস্তা জিও ব্যাগ ফেলার কাজ পেয়েছেন। বালু ভর্তি করে ব্যাগ প্রস্তুত করা হচ্ছে। তবে  যেভাবে ভাঙছে, তাতে ৫০ হাজার বস্তা ফেলেও প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে না।

পাউবো সূত্র জানায়, প্রতি বালুভর্তি জিও ব্যাগ প্রস্তুত করতে ৩৫০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জেলা ও উপজেলার প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের উপস্থিতিতেই জিও ব্যাগ নদীতে ফেলা হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পীযূষ কৃষ্ণ কুন্ডু বলেন, তালবাড়িয়া এলাকায় পদ্মা নদীর অন্তত ২৯০ মিটার অংশ ঝুঁকিতে আছে। সেখানে জরুরিভাবে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। এ ছাড়া অন্যান্য অংশেও নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। পাউবোর কর্মকর্তারা সতর্ক আছেন। ছুটির দিনেও তাঁরা মাঠে কাজ করছেন।

গ্রামীণ সাংবাদিকতার প্রবাদপুরুষ কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদারের ১৮৬তম জন্মদিন আজ

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ উনবিংশ শতাব্দীর কালজয়ী সাধক, সাংবাদিক, সাহিত্যিক সমাজসেবক ও নারী জাগরণের অন্যতম দিকপাল কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদারের ১৮৬তম জন্মদিন আজ। এ উপলক্ষে আজ শনিবার বিকাল ৪টায় কাঙ্গাল হরিনাথ স্মৃতি জাদুঘর মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। কাঙ্গাল হরিনাথ স্মৃতি জাদুঘর আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার  সেলিম আলতাফ জর্জ। বিশেষ অতিথি থাকবেন, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের সচিব (যুগ্ম সচিব) মো: আবদুল মজিদ, কুমারখালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো: আব্দুল মান্নান খান, পৌরসভার মেয়র মো: সামছুজ্জামান অরুণ।

আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচনা হিসাবে থাকবেন ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক ড. আবুল আহসান চৌধুরী। আলোচক হিসাবে থাকবেন সরকারি মুজিবনগর কলেজের অধ্যক্ষ স্বপন রায়, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল মো: আনছার হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখবেন কাঙ্গাল হরিনাথ স্মৃতি জাদুঘর পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রদর্শক প্রভাষক সৈয়দ এহসানুল হক। এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীবুল ইসলাম খান। আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে ও কাঙ্গাল হরিনাথ রচিত গান পরিবেশনের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠিত হবে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

কালজয়ী এই সাংবাদিক ১২৪০ সালের ৫ই শ্রাবণ (ইংরেজি ১৮৩৩) কুষ্টিয়া জেলার (তদানীন্তন নদীয়া) কুমারখালী শহরের কুন্ডুপাড়ায় বাবা হলধর মজুমদার ও মা কমলিনী দেবীর সংসারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। শৈশবেই মাতৃ ও পিতৃহারা হয়ে চরম দারিদ্রতার মধ্যদিয়ে বেড়ে উঠেন কাঙ্গাল হরিনাথ। ৬৩ বছরে জীবনকালে তিনি সাংবাদিকতা, আধ্যাত্ম সাধন, সাহিত্যচর্চা সহ নানাধরণের সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। মুলত: তিনি ছিলেন, সাংবাদিকতা পেশার একজন সংগ্রামী মানুষ।

কালজয়ী এই সাংবাদিক কাঙ্গাল হরিনাথ ছিলেন অত্যাচার ও জুলুমের বিরুদ্ধে আপসহীন। তৎকালীন সময়ে তিনি (১৮৫৭ সাল) প্রাচীন জনপদ কুমারখালীর নিভৃত গ্রাম থেকে হাতে লেখা পত্রিকা মাসিক গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা প্রকাশ করেন। তিনি গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকায় তিনি ইংরেজ নীলকর, জমিদার ও শোষক  শ্রেণীর অত্যাচার, জুলুম, ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার ও সামাজিক কু-প্রথার বিরুদ্ধে খবর প্রকাশ করেন। হাজারো বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে তিনি পত্রিকাটি প্রায় একযুগ প্রকাশ করেছিলেন। পরবর্তীতে মাসিক থেকে পাক্ষিক এবং ১৮৬৩ সালে সাপ্তাহিক আকারে কলকাতার গিরিশচন্দ্র বিদ্যারতœ প্রেস থেকে নিয়মিত প্রকাশ করেন। এতে চর্তুদিকে সাড়া পড়ে যায়। ১৮৭৩ সালে কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদার তঁর সুহৃদ অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়’র বাবা মথুরনাথ মৈত্রয়’র আর্থিক সহায়তায় কুমারখালীতে এম,এন প্রেস স্থাপন করে গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা’র প্রকাশনা অব্যাহত রাখেন। সাধকপুরুষ ও কালজয়ী সাংবাদিক কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদার বাংলা ১৩০৩ সালের ৫ বৈশাখ (ইংরেজি ১৮৯৬ সাল, ১৬ এপ্রিল) নিজ বাড়িতে দেহত্যাগ করেন। তিনি মৃত্যুকালে তিন পুত্র, এক কন্যা এবং স্ত্রী স্বর্ণময়ীকে রেখে যান। সাংবাদিক কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদার প্রায় ৪০টি গ্রন্থ রচনা করেছেন। তাঁর কয়েকটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। তবে বেশিরভাই অপ্রকাশিত রয়ে গেছে। তাঁর গ্রন্থগুলোর মধ্যে বিজয় বসন্ত একটি সফল উপন্যাস। গবেষকদের মতে, কাঙ্গাল হরিনাথ রচিত বিজয় বসন্ত উপন্যাসটিই বাংলা ভাষায় লেখা প্রথম উপন্যাস।  গ্রামীণ সাংবাদিকতার এবং দরিদ্র কৃষক ও অসহায় সাধারণ মানুষের সুখ-দু:খের একমাত্র অবলম্বন কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদারের স্মৃতি রক্ষার্থে সরকারি উদ্যোগে কুমারখালীতে সাংবাদিক কাঙ্গাল হরিনাথ স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ করা হলেও এখনো অবহেলিত রয়েছে এই কালজয়ী সাংবাদিকের জন্মভিটা (বাস্তুভিটা)। স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীসহ কবি-সাহিত্যিকদের ভাষ্যমতে, কাঙ্গাল হরিনাথ ব্যবহৃত ও গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা’র সেই মুদ্রণ যন্ত্রটি এখনো অযতœ অবহেলায় অন্ধকার একটি ভাঙ্গা ঘরে পড়ে রয়েছে। তাই অনতিবিলম্বে ঐতিহ্যবাহি এই মুদ্রণ যন্ত্রটি কাঙ্গাল হরিনাথ স্মৃতি জাদুঘরে স্থানান্তর এবং কাঙ্গালের সমাধিসহ জন্মভিটা (বাস্তুভিটা) সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরী।

ব্যবসায়িক ভিত্তিতে কবুতর পালন লাভজনক

কৃষি প্রতিবেদক ॥ আমাদের দেশে বিভিন্ন গৃহপালিত পাখির মধ্যে কবুতর সর্বাধিক জনপ্রিয়। কারণ, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কবুতর পালন করা হয়- এর বাহ্যিক সৌন্দর্য্যগত দিকগুলোর কারণে। প্রাচীনকালে কবুতর পালন করা হতো চিঠি আদান প্রদানের কাজে। শোনা যায় প্রাচীনকালে রাজা বাদশাহ তাঁদের বিভিন্ন ধরনের বার্তা প্রেরণের জন্য বেছে নিতেন কবুতরকে। এছাড়া, সারা পৃথিবী জুড়ে কবুতরকে ধরা হয় শান্তির দূত হিসেবে। এই কারণে, বিভিন্ন গঠনমূলক কাজে ধর্মাধর্ম নির্বিশেষে কবুতরকে খাঁচামুক্ত করে উদ্বোধন করা হয়। সবচেয়ে বড় কথা, কবুতর পালন করার জন্য অতিরিক্ত বা বাহুল্য কোন খরচ হয় না। কবুতরকে সহজেই পোষ মানানো যায়। বাড়ির যেকোন কোণ বা আঙিনা অথবা বাড়ির ছাদ কিংবা কার্নিশের মত ছোট বা অল্প জায়গাতে ও কবুতর পালন করা যায়। এমনকি ছাদের সাথে ঝুড়ি ঝুলিয়ে ও কবুতর পালন করা যায়। এই কারণে, শহরে কী গ্রামে অনেক বাড়িতেই কবুতর পালন করা যায়।

কবুতরের মাংস অত্যন্ত সুস্বাদু এবং বলকারক বিশেষজ্ঞরা বলেন, কবুতরের মাংসে সাধারণ অন্যান্য পাখির মাংসের চাইতে প্রোটিনের পরিমান বেশি। ফলে আমিষের পাশাপাশি  প্রোটিনের বাড়তি চাহিদা পূবণের জন্য ও কবুতরের মাংস খাওয়া হয়ে থাকে। বানিজ্যিকভাবে কবুতর পালন করে অনেকেই অল্প সময়ে এটাকে লাভ জনক ব্যবসা হিসেবে দাঁড়া করাতে  পেরেছেন। কবুতর সাধারণভাবে জোড়ায় বেঁধে বাস করে।  প্রতি  জোড়ায় একটি পুরুষ এবং একটি স্ত্রী কবুতর থাকে। এরা ১২ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে। যতদিন বেঁচে থাকে ততদিন এরা ডিমের মাধ্যমে বাচ্চা প্রজনন করে থাকে। ডিম পাড়ার পর স্ত্রী ও পুরুষ উভয় কবুতরই পর্যায়ক্রমে উক্ত ডিমে তা দিয়ে থাকে। কবুতরের কোন জোড়া হঠাৎ ভেঙে  গেলে  সেই জোড়া তৈরি করতে কিছুটা বেগ পেতে হয়। নতুন জোড়া তৈরি করার জন্য স্ত্রী ও পুরুষ কবুতরকে একঘরে কিছুদিন রাখতে হয়।

কবুতর পালনের বিভিন্ন সুবিধা সমুহ ঃ কবুতর পালন করলে অসুবিধার চেয়ে সুবিধার পরিমাণ  বেশি। সুবিধাসমূহ হলো- (১) সাধারনত একটি ভাল জতের কবুতর বছরে ১২ জোড়া ডিম প্রদানে সক্ষম হয়ে থাকে। এই ডিম গুলোর প্রায় প্রতিটি থেকেই বাচ্চা পাওয়া যায়। এই বাচ্চা পরবর্তী ৪ সপ্তাহের মধ্যেই খাওয়া বা বিক্রির উপযোগী হয়। (২) গৃহপালিত অন্যান্য পাখির মধ্যে কবুতরকে পোষ মানানো বা লালন করা যায়। (৩) খুবই অল্প জায়গায় কবুতর লালন পালন করা যায়। এমনকি ঝোলানো ঝুড়িতেও কবুতর পালন করা সম্ভব। লালন পালনে কম জায়গা লাগে বলে কবুতর পোষায় খরচের পরিমাণ একেবারেই কম। (৪)  বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কবুতর নিজের খাবার নিজেই খুঁজে নিয়ে থাকে। এই কারণে কবুতরের খাবারের জন্য বাড়তি যতœ বা খরচ খুব একটা হয় না বললেই চলে। (৫) কবুতরের থাকার জায়গার জন্য বাড়তি যতেœর প্রয়োজন হয় না। বাড়ির আঙিনা, বা ছাদের ওপর কাঠের ঘর  তৈরি করে অনায়াসেই কবুতর পালন করা যায়। প্রমাণ সাইজের ঝুড়িতে করে ও কবুতর পালন করা যায়। (৬) একটি পূর্ণাঙ্গ বয়সের কবুতর ডিম দেবার উপযোগী হতে ৫  থেকে ৬ মাস সময় লাগে। এই অল্প সময় অতিক্রান্ত হবার পর থেকেই কবুতর বছরে প্রায় ১২ জোড়া ডিম প্রদানে সক্ষম। ২৬  থেকে ২৮ দিন বয়সেই কবুতরের বাচ্চা খাবার উপযোগী হয়ে থাকে বা এই বাচ্চাকে বাজারজাত করা যায়। সাধারণত কবুতরের বাচ্চা রুগীর পথ্য হিসেবেও অনেকে  বেছে নেন। (৭) কবুতরের ডিম  েেক মাত্র ১৮ দিনেই বাচ্চা সাধারণ নিয়মে ফুটে থাকে। এই বাচ্চা আবার পরবর্তী ৫ থেকে ৬ মাস পরে নিজেরাই ডিম প্রদান শুরু করে। ফলে কবুতর বংশ পরম্পরায় প্রাকৃতিক নিয়মে নিজেরাই বাড়াতে থাকে নিজেদের সংখ্যা। (৮) কবুতরের মাংস প্রচুর চাহিদা রয়েছে। কারণ, কবুতরের মাংস খুবই সুস্বাদু ও বলকারক। তাছাড়া, বাজারের অন্যান্য মাংসের যোগান থেকে কবুতর কিছুটা সস্তাতে ও পাওয়া যায়।

একটি খুব ভালো প্রজাতির কবুতর লালন করলে পরবর্তী ১ বছরের মধ্যে সেই জোড়া থেকে কয়েক জোড়া কবুতর পাওয়া খুব বেশি আর্শ্চযজনক বিষয় নয়। এই কবুতরকে একটি লাভজনক ব্যবসা হিসেবে ধরা যেতে পারে। কারণ, কবুতর লালন-পালনের খরচ খুব একটা  নেই। এমনকি কবুতরের রোগ ব্যাধি কম হয়। কবুতরের থাকার জায়গা নির্বাচনে ও অতিরিক্ত যতেœর প্রয়োজন হয় না। এই কারণে ব্যবসায়িক ভিত্তিতে কবুতর পালন অবশ্যই লাভজনক।

ধারাবাহিক ভাবে কবুতর তার বংশবৃদ্ধি করে বলে অনেকেই আজকাল কবুতর পালনের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। মুরগির মাংসের বিকল্প হিসেবে কিংবা অতিথি পাখির বিকল্প হিসেবে অনেকেই কবুতরের মাংস বেছে নিয়ে থাকেন।

 

 

ইংল্যান্ডের সমান আয় একা জোকোভিচের

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ক্রিকেট নিয়ে যত মাতামাতি হোক, টেনিসে বিজয়ী যে অর্থপুরস্কার পান, তার ধারেকাছে নেই তিন কাঠির খেলা। ২০১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের প্রাইজমানির সমান অর্থ একাই পেয়েছেন নোভাক জোকোভিচ। গত রোববার লর্ডসে বিশ্বকাপ ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড। আর উইম্বলডন সেন্টার কোর্টে মুখোমুখি হয়েছিলেন নোভাক জকোভিচ ও রজার ফেদেরার। দুটি খেলাই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ছিল টানটান উত্তেজনাপূর্ণ। ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন হয় ইংল্যান্ড। আর উইম্বলডন জেতেন জোকোভিচ। বিশ্বকাপের মোট পুরস্কারমূল্য ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ পরিমাণ অর্থ বিশ্বকাপজয়ী দল, পরাজিত ফাইনালিস্ট এবং সেমিফাইনালে হেরে যাওয়া অপর দু’দলের প্রত্যেক খেলোয়াড়ের মধ্যে ভাগ করে দেয় আইসিসি। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড পেয়েছে চার মিলিয়ন মার্কিন ডলার। রানার্সআপ নিউজিল্যান্ড পেয়েছে দুই মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সেমিফাইনালে পরাজিত দু’দল আট লাখ মার্কিন ডলার করে পেয়েছে। মজার বিষয় হল, উইম্বলডনের মোট পুরস্কার মূল্য ৪৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আইসিসি বিশ্বকাপের পুরস্কারমূল্যের প্রায় পাঁচগুণ। জোকোভিচ ও সিমোনা হালেপ একাই পেয়েছেন ৩.?১৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ফিফা বিশ্বকাপের পুরস্কারমূল্য ৪০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ ফাইনালের প্রায় ছয়গুণ বেশি পুরস্কারমূল্য ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালের। এবারের ফিফা বিশ্বকাপ জয়ী দল ফ্রান্স পেয়েছে ৩৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। রানার্সআপ ক্রোয়েশিয়া ২৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

ক্যান্সারে আক্রান্ত ইয়ান চ্যাপেল

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ সাবেক অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক ও বর্তমান ধারাভাষ্যকার ইয়ান চ্যাপেল স্কিন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে শুরুতেই এটি ধরা পড়ায় তিনি এখন রেডিওথেরাপি নিচ্ছেন। ৭৫ বছর বয়সী চ্যাপেল অস্ট্রেলিয়ার জার্সি গায়ে ১৯৬৪ থেকে ১৬ বছরে ঠিক ৭৫টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন। তিনি নিজেই জানিয়েছেন ক্যান্সারের কথা। তবে সবাইকে আশ্বস্ত করে নিশ্চিত করেছেন আগস্টের ১ তারিখ থেকে শুরু হতে যাওয়া অ্যাশেজ সিরিজেও ধারাভাষ্য কক্ষে থাকবেন তিনি। এরই মধ্যে পাঁচ সপ্তাহের চিকিৎসায় কাঁধ, ঘাড় ও বগল থেকে ক্যান্সারের জীবাণু দূর করেছেন চ্যাপেল। তিনি বলেন, ‘আমি ইচ্ছে করেই শুরুতে কাউকে কিছু বলিনি। কারণ আমি নিশ্চিত ছিলাম না রেডিওথেরাপিতে কী হয় এবং এটা আমাকে কতোটা ক্লান্ত করে ফেলবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘তবে থেরাপি শুরুর পর দেখলাম এটা খুব একটা খারাপ নয়। রাতে খানিক ক্লান্তি এবং ত্বকে জ্বালাপোড়া ছাড়া বাকি কোনো সমস্যাই হয় না। আমি শুরুতে আমার পরিবার ও কিছু বন্ধুকে জানিয়েছি। সবাই নিয়মিত খোঁজ রাখছে। যা খুবই দারুণ ব্যাপার।’ ইয়ান চ্যাপেলের আগে একই রোগে আক্রান্ত হয়ে ২০১৫ সালে পরলোক গমন করেছেন আরেক প্রখ্যাত ধারাভাষ্যকার রিচি বেনো। ২০১২ সালে ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন টনি গ্রেগ। তাদের মৃত্যুর পর থেকেই এসব রোগের আক্রমণকে স্বাভাবিক হিসেবেই ধরে নিয়েছেন চ্যাপেল। তিনি বলেন, ‘যখন রিচি এবং টনি চলে গেল…তখন যেনো আবারও মনে করিয়ে দেয়া হলো যে এটি সবার সঙ্গেই হবে।’

আইসিসির হল অব ফেমে জায়গা পেলেন শচিন

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ বৃহস্পতিবার লন্ডনে জাঁকজমকপূর্ণ এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আইসিসির হল অব ফেমে জায়গা করে দেয়া হয়েছে ভারতীয় কিংবদন্তি শচিন টেন্ডুলকার, দক্ষিণ আফ্রিকান পেসার অ্যালান ডোনাল্ড এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রমীলা ক্রিকেটার ক্যাথরিন ফিৎজপ্যাট্রিককে। আরও আগেই আইসিসির এ সম্মানসূচক স্থানটি পেতে পারতেন শচিন। তবে নিয়মে বলা রয়েছে অবসরের পাঁচ বছরের মধ্যে কাউকে হল অব ফেমে জায়গা দেয়া যাবে না। তাই ২০১৩ সালে অবসর নেয়া শচিনকে হল অব ফেমে নিতে ২০১৯ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হলো আইসিসিকে। ভারতের ষষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে এ সম্মান পেলেন শচিন। তার আগে যথাক্রমে সুনিল গাভাস্কার, বিষাণ সিং বেদি, কপিল দেব, অনিল কুম্বলে এবং রাহুল দ্রাবিড় পেয়েছেন এ সম্মান। এ খুশির উপলক্ষে শচিন বলেন, ‘আজ এ আনন্দের দিনে আমি প্রত্যেককে ধন্যবাদ জানাতে চাই, যারা পুরো ক্যারিয়ার জুড়ে আমার পাশে ছিলেন, সাহস দিয়েছে। আমার বাবা-মা, ভাই অজিত এবং স্ত্রী অঞ্জলি আমার শক্তির উৎস ছিল। ক্যারিয়ার শুরুর সময় রামাকান্ত আর্চেকারের মতো একজনকে কোচ হিসেবে পাওয়া আমার সৌভাগ্য ছিল।’ এদিকে তর্কসাপেক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার সবচেয়ে দ্রুতগতির বোলার ধরা হয় অ্যালান ডোনাল্ডকে। যে কারণে তার নামই দেয়া হয়েছে ‘হোয়াইট লাইটনিং’। প্রোটিয়া জার্সি গায়ে টেস্টে ৩৩০ ও ওয়ানডেতে ২৭২ উইকেট শিকার করেছেন ডোনাল্ড। এছাড়া বিশ্বের অষ্টম নারী ক্রিকেটার হিসেব হল অব ফেমে জায়গা পেয়েছেন ফিৎজপ্যাট্রিক। যিনি অস্ট্রেলিয়ার হয়ে জিতেছেন দুইটি বিশ্বকাপ। তাকেই ধরা হতো সবচেয়ে দ্রুতগতির প্রমীলা পেসার। ১৬ বছরের ক্যারিয়ারে অসিদের হয় ১৩ টেস্টে ৬০ এবং ১০৯ ওয়ানডে ১৮০ উইকেট শিকার করেছেন তিনি।

 

আফগানিস্তানের বিপক্ষে পাত্তাই পেল না বাংলাদেশ ‘এ’ দল

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ মোহাম্মদ মিঠুন, সাব্বির রহমান ও এনামুল হকের ব্যর্থতার দিনে আফগানিস্তান ‘এ’ দলের বিপক্ষে পাত্তাই পায়নি বাংলাদেশ ‘এ’ দল। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে একপেশে ম্যাচে ১০ উইকেটে হেরেছে স্বাগতিকরা। ২০২ রানের লক্ষ্য ৩৭ বল বাকি থাকতে ছুঁয়ে ফেলে আফগানিস্তান। হারের হতাশার সঙ্গে যোগ হয়েছে রুবেল হোসেনের চোট শঙ্কা। প্রাথমিক অবস্থায় অবশ্য তা গুরুতর নয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাঁচ ম্যাচ সিরিজের প্রথমটিতে শুক্রবার টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালোই করে বাংলাদেশ। থিতু হয়ে ইমরুল কায়েসের বিদায়ে ভাঙে ৫২ রানের উদ্বোধনী জুটি। এরপর আর তেমন কোনো জুটি গড়তে পারেনি স্বাগতিকরা। দ্রুত ফিরেন মিঠুন। থিতু হয়ে বিদায় নেন এনামুল। দুই ব্যাটসম্যানই ফিরেন করিম জানাতের বলে বোল্ড হয়ে। চারে নেমে দুই অঙ্ক ছুঁয়ে বিদায় নেন সাব্বির। ১০৬ রানে ৬ উইকেট হারানো বাংলাদেশকে দুইশ রানে নিয়ে যান আফিফ হোসেন ও ফরহাদ রেজা। অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার আফিফ চারটি বাউন্ডারিতে ৭১ বলে করেন ৫৯ রান। দুই ছক্কায় ৩০ রান করেন পেস বোলিং অলরাউন্ডার রেজা। ছোট লক্ষ্য শুরুর জুটিতেই ছুঁয়ে ফেলে আফগানিস্তান। আট বোলার ব্যবহার করেও রহমানউল্লাহ গুরবাজ ও ইব্রাহিম জাদরানের জুটি ভাঙতে পারেনি বাংলাদেশ। ১৩৮ বলে তিন ছক্কা ও ১১ চারে ১০৫ রানে অপরাজিত ছিলেন রহমানউল্লাহ। ১২৫ বলে আট চার ও দুটি ছক্কায় ৮৬ রান করেন ইব্রাহিম। অষ্টম ওভারটি শেষ করতে পারেননি রুবেল। ২৪ রান দিয়ে উইকেট শূন্য থাকেন এই পেসার। দলের সঙ্গে থাকা নির্বাচক হাবিবুল বাশার জানান, গোড়ালির গাঁটে চোট পেয়েছেন রুবেল। সতর্কতার অংশ হিসেবে পরে আর বোলিং করেননি। সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ ‘এ’ দল: ৫০ ওভারে ২০১/৮ (ইমরুল ২৮, এনামুল ১৯, মিঠুন ৩, সাব্বির ১৫, মাহমুদ ৯, আফিফ ৫৯, মেহেদি ৪, রেজা ৩০, নাজমুল ১৩*, রুবেল ২*; শারজাদ ০/৪৩, নাভিন ২/৪৯, করিম ২/১৭, ফজল ১/২৬, আশরাফ ১/২৮, কায়েস ১/৩০)। আফগানিস্তান ‘এ’ দল: ৪৩.৫ ওভারে ২০২/০ (রহমানউল্লাহ ১০৫*, ইব্রাহিম ৮৬*; রুবেল ০/২৪, আবু জায়েদ ০/৩৬, অপু ০/৩৬, রেজা ০/৩৬, মেহেদি ০/২৬, সাব্বির ০/২৩, আফিফ ০/১৬, মাহমুদ ০/১)। ফল: আফগানিস্তান ‘এ’ দল ১০ উইকেটে জয়ী।

এক পর্বেই ৩ কোটি টাকা আয়!

বিনোদন বাজার ॥ ২০০০ সালে মুক্তি পেয়েছিল কারিনা অভিনীত জে পি দত্তের ‘রিফিউজি’ সিনেমাটি। এর মাধ্যমেই বলিউডে নিজের স্থান করে নিয়েছিলেন কারিনা কাপুর খান। তারপর অনেক ছবিতে অভিনয় করেছেন। দীর্ঘ বিরতি দিয়ে এবার নতুন পরিচয়ে ফিরছেন এই নায়িকা।এমন একটি কাজ করতে চলেছেন বেগম সাহেবা যা আগে কখনও করেননি। ‘ডান্স ইন্ডিয়া ডান্স’ নামের একটি রিয়ালিটি শো-তে দেখা যাবে তাকে।অনুষ্ঠানটির বিচারক হিসেবে ছোট পর্দায় আসছেন কারিনা। আর বড় পর্দার কারিনাকে ছোট পর্দায় আনতে রিয়েলিটি শোয়ের আয়োজকদের গুণতে হচ্ছে মোটা অংকের পারিশ্রমিক। শোনা যাচ্ছে পর্ব প্রতি ৩ কোটি টাকা দিতে হচ্ছে কারিনাকে।ছোট পর্দায় উপস্থিতির জন্য পর্ব প্রতি এটাই সবচেয়ে বেশি অংকের সম্মানি। যেহেতু প্রথমবারের মতো ছোট পর্দায় আসছেন কারিনা তাই নিজের দামটা তিনি আকাশ ছোঁয়াই রাখলেন।জানা গেল, ইতমধ্যে রিয়েলিটি শোয়ের কিছু পর্বের শুটিংও করেছেন কারিনা। শুটিংয়ের ছবি প্রকাশ হয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যমে। সেখানে শোয়ের অন্য দুই বিচারক রাফতার, বস্কো মার্টিন এবং উপস্থাপক করণ ওয়াহির সঙ্গে অনুষ্ঠান সেটে দেখা গেছে তাকে।

নদীকে নিয়ে কোটিপতি কাজী শুভ

বিনোদন বাজার ॥ কঠিন অসুখে হাসপাতালে ভর্তি মারিয়া মিম। চিকিৎসক তার মনের মানুষ অন্তু করিমকে বলেছেন, বাঁচানোর সম্ভাবনা ক্ষীণ। স্বাভাবিক, প্রেমিকার জন্য মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন অন্তু। এগোতে থাকে জীবন আর ভালোবাসার টানাপোড়েনের গল্প। এটি কাজী শুভ ও নদীর গাওয়া একটি গানের ভিডিও গল্প। গানটির নাম ‘রঙিলা আকাশ’। বেশ আগে গানচিত্রটি প্রকাশ পেয়েছে সিএমভি’র ইউটিউব চ্যানেলে। নতুন খবর হলো, এটি সম্প্রতি অতিক্রম করেছে কোটি ভিউ! ঢুকে পড়েছে কোটি ভিউয়ের ক্লাবে। এ মিজানের কথায় গানটির সুর-সংগীতায়োজন করেছেন সুমন কল্যাণ। এটির গল্পনির্ভর ইমোশনাল ভিডিওটি নির্মাণ করেছেন সৌমিত্র ঘোষ ইমন। এতে প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন অন্তু করিম ও মারিয়া মিম। গানটির এ সফলতা প্রসঙ্গে কাজী শুভ বলেন, ‘গান তো অনেকই করি। তবে গানের গল্প ধরে ভালো মানের ভিডিওর সংখ্যা খুব বেশি হয় না। সে হিসেবে এই ভিডিওটি নিয়ে শুরু থেকেই অনেক প্রত্যাশা ছিল। কোটি ভিউ অতিক্রমের মাধ্যমে সেটি পূর্ণ হতে চলেছে।’ এদিকে মডেল-অভিনেতা অন্তু করিম বলেন, ‘দারুণ একটা বিরহের গান। সঙ্গে গল্পটাও চোখে পানি আসার মতো। কাজটি দারুণ হয়েছে। ইউটিউবে শ্রোতা-দর্শকরা ভালোভাবেই নিয়েছে। কোটি ভিউ তারই প্রমাণ।’

ওয়েব সিরিজে মৌটুসী

বিনোদন বাজার ॥ অভিনেত্রী মৌটুসী বিশ্বাস গত ১৬ জুলাই থেকে একটি ওয়েব সিরিজে অভিনয় শুরু করেছেন। মাসুদ হাসান উজ্জ্বলের পরিচালনায় ‘পাফ ড্যাডি’ ওয়েব সিরিজেই দেখা যাবে তাকে। এই ওয়েব সিরিজে মৌটুসী কাজ করছেন পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়, শহীদুজ্জামান সেলিম, আজাদ আবুল কালাম, বিজরী বরকত উল্যাহ, ইন্তেখাব দিনারের মতো গুণী অভিনয়শিল্পীদের সঙ্গে। মৌটুসী বিশ্বাস জানান, একজন স্ট্রিট ম্যাজিশিয়ানের সহকারী হিসেবে কাজ করেছি। ম্যাজিশিয়ানের প্রতি ভক্তি, প্রেম ও মুগ্ধতার কারণে দর্শকদের সামনে অনেক ঝুঁকিপূর্ণ স্ট্যান্টও করতে দেখা যাবে আমাকে। সত্যি বলতে কী শুটিং শুরু করার পূর্ব পর্যন্ত নতুন কাজ সম্পর্কে জানান দিতে আগ্রহ থাকে না আমার। একটি ভালো গল্পের ওয়েব সিরিজে কাজ করার জন্য বিগত কিছুদিন ধরে অপেক্ষা করেছি। সেই অপেক্ষারই ফল হিসেবে উজ্জ্বল ভাইয়ের নির্দেশনায় পাফ ড্যাডিতে কাজ করার সুযোগ পেলাম। আমার কমলা চরিত্রটি বেশ চ্যালেঞ্জিং একটি চরিত্র। শুটিং শুরুর সময়টাতে একটু নার্ভাস ছিলাম, তবে নিজের চরিত্রে নিজেকে যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা ছিল, আন্তরিকতা ছিল।

দুইশ হলে প্রজেকশন মেশিন বসাবেন শাকিব খান

বিনোদন বাজার ॥ চিত্রনায়ক শাকিব খান এবার নতুন এক ব্যবসায় জড়িয়েছেন। ঈদে দেশের দুই শতাধিক প্রেক্ষাগৃহে তার প্রতিষ্ঠান থেকে বসানো হচ্ছে অত্যাধুনিক প্রজেকশন মেশিন। শাকিব বলেন, শুধু ব্যবসায়িক ভাবনা থেকে এমনটা করার সিদ্ধান্ত নেইনি। চলচ্চিত্রের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে এটা করছি। একজন প্রযোজক সিনেমায় কোটি কোটি টাকা লগ্নি করেন। অথচ দুর্বল প্রজেকশন মেশিনের কারণে দর্শকরা আনন্দ নিয়ে ছবিটি দেখতে পারেন না। ছবির আসল রং এবং শব্দ পাওয়া যায় না। এতে অনেক বড় বাজেটের এবং ভালো মানের ছবি ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়  অভিনয়ের পাশাপাশি শাকিব খানের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এস কে ফিল্মস থেকে এখন নিয়মিত চলচ্চিত্র প্রযোজনাও করছেন তিনি। গত সোমবার থেকে তার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের নির্মিত ‘বীর’ ছবির শুটিংও শুরু হয়েছে।

লন্ডনে স্থায়ী হচ্ছেন সোনম কাপুর

বিনোদন বাজার ॥ বলিউডের জনপ্রিয় নায়িকা সোনম কাপুর গত বছরের ৮ মে আনন্দ আহুজার সঙ্গে সাতপাকে বাঁধা পড়েন। বিয়ের চার মাস পার হতে না হতেই তার মা হওয়ার সংবাদ শোনা গিয়েছিল। সোনম অবশ্য গুজব বলেই উড়িয়ে দিয়েছিলেন ব্যাপারটি। নতুন খবর হলো বলিউডকে নাকি বিদায় জানচ্ছেন এই নায়িকা। সোনমের স্বামী আহুজা লন্ডনেই বসবাস করেন। সোনম কখনো লন্ডন তো কখনো মুম্বাইয়ে কিংবা শ্বশুরবাড়ি দিলি¬তে যাতায়াত করেন। এবার বলিউড পাড়ায় গুঞ্জন উঠেছে মুম্বাই ছেড়ে এবার পাকাপাকিভাবেই নাকি স্বামীর সঙ্গে লন্ডনে বসবাস শুরু করবেন সোনম কাপুর। শোনা যাচ্ছে, মুম্বাইয়ের ধীরুভাই আম্বানি স্কুল সংলগ্ন বান্দ্রা কুরলা কমপ্লেক্সে তার ৩৫ কোটির বিলাসবহুল ফ্ল্যাট বিক্রি করে দিতে চাইছেন সোনম। এই বাড়িটি বিক্রি করে সোনম নাকি লন্ডনের নটিং হিলে একটি বড় ফ্ল্যাট কিনবেন। প্রসঙ্গত, শেষবার বাবা অনিল কাপুরের সঙ্গে ‘এক লেড়কি কো দেখা তো অ্যায়সা লগা’ ছবিতে দেখা যায় সোনমকে। এই মুহূর্তে অভিষেক শর্মার ‘দ্য জোয়া ফ্যাক্টর’ ছবির শুটিং করছেন সোনম। সোনম ভক্তদের প্রশ্ন তবে কি এই ছবিই সোনমের বলিউডের শেষ ছবি হতে চলেছে?

রোজভ্যালি কান্ডে ঋতুপর্ণাকে জিজ্ঞাসাবাদ

বিনোদন বাজার ॥ রোজভ্যালি কান্ডে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) দফতরে হাজিরা দিয়েছেন অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার। বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা নাগাদ তিনি সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে পৌঁছন। এরপর শুরু হয় জিজ্ঞাসাবাদ পর্ব। অভিনেত্রীর বয়ানও রেকর্ড করা হবে বলে ইডি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে আনন্দবাজার। জেরার আগে ঋতুপর্ণা বলেন, ওদের কিছু জানার আছে। আমি এসেছি। আমাদের সংস্থাকে নোটিস পাঠানো হয়েছিল। আমি এসেছি। এখনই এত কিছু বলা যাচ্ছে না। আগে ওদের সঙ্গে দেখা করি, তারপর বিষয়টি নিয়ে বলতে পারব। ইডি সূত্রে জানা গেছে, রোজভ্যালি গ্রুপ বেশ কয়েকটি সিনেমা প্রযোজনা করে। সেই সূত্রে সংস্থার কর্ণধার গৌতম কুন্ডুর সঙ্গে যোগাযোগ হয় ঋতুপর্ণার। পরে অভিনেত্রীর সংস্থার সঙ্গে একটি চুক্তি হয় রোজভ্যালি গ্রুপের। সে বিষয়ে জানতে চান কেন্দ্রীয় সংস্থার কর্মকর্তারা।অভিযোগ পাওয়া গেছে, অভিনেত্রীর একটি বিদেশ সফরের সঙ্গে রোজভ্যালি সংস্থার আর্থিক লেনদেন হয়েছে। বিষয়টি আদৌ ঠিক কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদি ঋতুপর্ণা রোজভ্যালির টাকায় বিদেশ সফরে গিয়ে থাকেন, তা হলে কেন গিয়েছিলেন তা জানতে চাইতে পারেন ইডি অফিসাররা।রোজভ্যালি-কান্ডে চলতি সপ্তাহেই হাজিরা দেওয়ার কথা অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের। এ মাসে সারদা ও রোজভ্যালি কান্ডে আরও ছয়জন হাজিরা দিতে পারেন বলে ইডি সূত্রে জানা গেছে।