ধর্ষণের বিচার নির্ধারিত সময়ে শেষ করার তাগিদ হাইকোর্টের

ঢাকা অফিস ॥ দেশের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালগুলোতে বিচারাধীন ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যা মামলার বিচারকাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নির্ধারিত সময় ১৮০ দিনের মধ্যে শেষ করতে তাগাদা দিয়েছে হাই কোর্ট। এর জন্য সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের সব ধরনের আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়ে আদালত বলেছে, “তিন-চার বছরের বাচ্চারা ধর্ষিত হবে, মামলার বিচারকাজ তাড়াতাড়ি শেষ হবে না, তা দুঃখজনক।” ধর্ষণ মামলার চার আসামির জামিন আবেদনের প্রেক্ষিতে গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমানের হাই কোর্ট বেঞ্চ সাত দফা নির্দেশনাসহ এ আদেশ দেয়। আদালত আদেশে বলেছে, সংবিধানের ১০৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সাত দফা নির্দেশনা দেওয়া হল- দেশের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবব্যুনালসমূহে বিচারাধীন ধর্ষণ এবং ধর্ষণ পরবর্তী হত্যা মামলাসমূহ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আইনের নির্ধারিত সময়সীমার (বিচারের জন্য মামলা প্রাপ্তির তারিখ হতে ১৮০ দিন) মধ্যে যাতে বিচারকাজ সম্পন্ন করা যায় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের সব ধরনের আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া যাচ্ছে। ট্রাইব্যুনালসমূহকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০- এর ধারা ২০ এর বিধান অনুযায়ী মামলার শুনানি শুরু হলে তা শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতি কর্মদিবসে একটানা মামলা পরিচালনা করতে হবে। ধার্য তারিখে সাক্ষী উপস্থিতি ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতি জেলায় অতিরিক্তি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন), সিভিল সার্জনের একজন প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটরের সমন্বয়ে একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করতে হবে। ট্রাইব্যুনালে পাবলিক প্রসিকিউটর কমিটির সমন্বয়কের দায়িত্বে থাকবেন এবং কমিটির কার্যক্রম সম্পর্কে প্রতি মাসে সুপ্রিম কোর্ট, স্বারাষ্ট্র ও আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন প্রেরণ করবেন। যে সমস্ত জেলায় একাধিক ট্রাইব্যুনাল রয়েছে সে সমস্ত জেলায় সকল ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটরগণ মনিটরিং কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হবেন এবং তাদের মধ্যে যিনি জ্যেষ্ঠ তিনি সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করবেন। ধার্য তারিখে রাষ্ট্রপক্ষ সঙ্গত কারণ ছাড়া সাক্ষীকে আদালতে উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হলে মনিটরিং কমিটিকে জবাবদিহি করতে হবে। মনিটরিং কমিটি সাক্ষীদের উপর দ্রুততম সময়ে যাতে সমন জারি করা যায় সে বিষয়েও মনিটরিং করবেন। ধার্য তারিখে সমন পাওয়ার পরও অফিসিয়াল সাক্ষীগণ যেমন- ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, ডাক্তার বা অন্যান্য বিশেষজ্ঞগণ সন্তোষজনক কারণ ব্যতিরেকে সাক্ষ্য প্রদানে উপস্থিত না হলে, ট্রাইব্যুনাল উক্ত সাক্ষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ এবং প্রয়োজনে বেতন বন্ধের আদেশ প্রদান বিবেচনা করবেন। আদালতের সুচিন্তিত অভিমত এই যে, অবিলম্বে সাক্ষী সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করা প্রয়োজন এবং আদালত এটাও প্রত্যাশা করছে যে, সরকার অতি স্বল্প সময়ে উক্ত বিষয়ে আইন প্রণয়ন করবেন। নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়ন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এই আদেশের অনুলিপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব, আইন সচিব ও সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে দেওয়া হয়েছে। গত বছরের ২৮ জুন তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় বগুড়ার সারিয়াকান্দি থানায় মামলা করেন ছাত্রীর বাবা। এ ঘটনায় তদন্ত শেষে পুলিশ গত বছর ২ সেপ্টম্বর আসামি মো. রাহেল ওরফে রায়হানের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। এই মামলায় এখন পর্যন্ত অভিযোগ গঠন না হওয়ায় বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ আসামি জামিন আবেদন করেন। গত ১ জুলাই ট্রাইব্যুনাল জামিন আবেদনটি খারিজ করলে সে আদেশের বিরুদ্ধে হাই কোর্ট জামিন আবেদন করেন আসামি। হাই কোর্ট এ আসামির জামিন আবেদনটি নামঞ্জুর করেছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন আইনজীবী গোলাম আক্তার জাকির। ২০১৭ সালের ১১ অক্টোবর নোয়াখালীর নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনালে ধর্ষণের অভিযোগ এনে সারোয়ার রুবেল ও এমরানকে আসামি করে মামলা করেন এক তরুণী। এই মামলায় আসামি দুজনকে গত বছরের ২৯ মে এক বছরের জন্য জামিন দেয় হাই কোর্ট। এই জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নোয়াখালীর নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এ জামিন আবেদন করেন আসামিরা। গত ৩ জুলাই ট্রাইব্যুনাল আসামিদের জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠায়। এই আদেশের বিরুদ্ধে জামিন চেয়ে হাই কোর্টে আবেদন করেন আসামিরা। হাই কোর্ট তাদের জামিন মঞ্জুর করেছে বলে জানায় তাদের আইনজীবী মার্জিয়া জামান। গত বছর ১৭ মার্চ ঢাকার শনিরআখড়ায় ৮ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ২০ মার্চ শিশুটির মা সেকেন্দার আলীকে আসামি করে ডেমরা থানায় মামলা করেন। গত ২৪ জুন ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ আসামির জামিন আবেদন খারিজ করে দে। এ আদেশের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে জামিন আবেদন করেন সেকেন্দার আলী। সে আবেদনটি খারিজ করা হয়েছে বলে জানান আইনজীবী মো. আব্দুল্লাহ আল মাহবুব। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল শাহানা পারভীন, হাসিনা মমতাজ, মৌদুদা বেগম।

জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ’র উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

মাছের উৎপাদন বাড়াতে জলাশয়গুলোকে আগের অবস্থায় আনা হবে

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর সরকার মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে জনগণের আমিষের চাহিদা পূরণে দেশের জলাশয়গুলোকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইতোমধ্যেই আমরা একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি- আমাদের যত জলাশয়, পুকুর, খাল, বিল রয়েছে সেগুলোকে আমরা পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনবো। যাতে করে আমাদের মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি পেতে পারে।’ বাড়ির আশপাশের ডোবা, পুকুর ও জলাশয়কে ফেলে না রেখে মাছ চাষ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা খাদ্যের চাহিদা পূরণ করেছি। এখন দৃষ্টি পুষ্টির দিকে। বিল, ঝিল, হাওর, বাওড়, নদী নালায় পরিকল্পিতভাবে মাছ চাষ করতে হবে। মাছের চাইতে এত নিরাপদ আমিষ আর নেই।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ফার্মগেটে বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে (কেআইবি) জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০১৯’র উদ্বোধনকালে একথা বলেন। তাঁর সরকারের শতবর্ষ মেয়াদি ডেল্টা পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নদী মাতৃক বাংলাদেশে আমরা নদীগুলোকে ড্রেজিং করছি যাতে করে এর প্রবাহ এবং নাব্যতা বৃদ্ধি পায়। আর পানির প্রবাহ বাড়লে মাছের উৎপাদন বাড়বে এবং একইসঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত যেকোন দুর্যোগের মোকাবেলা আরো সহজ হবে।’ অনুষ্ঠানে মৎস্য চাষ, রেণু উৎপাদনসহ মৎস্য সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য জাতীয় মৎস্য পুরস্কার ২০১৯ প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী। পুরস্কার হিসেবে ৮ ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানকে স্বর্ণ পদক ও ৫০ হাজার টাকার করে চেক এবং ৯ ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানকে রৌপ্য পদক ও ৩০ হাজার টাকার করে চেক প্রদান করা হয়। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. রইসুল আলম মন্ডল অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন। একই মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু এবং মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু সাইদ মোহম্মদ রাশিদুল হক এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত অতিথিগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ‘মাছ চাষে গড়ব দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’ শীর্ষক স্লোগান নিয়ে প্রতিবারের মতো এবারেও দিবসটি পালিত হচ্ছে। পরে প্রধানমন্ত্রী কেআইবি প্রাঙ্গণে সপ্তাহব্যাপী জাতীয় ‘মৎস্য মেলা’র উদ্বোধন করেন। এই মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে দেশের সকল জেলাতেও মেলার আয়োজন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৩ সালে জাতির পিতা গণভবনের লেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পোনা মাছ ছেড়ে মৎস্যসম্পদ উন্নয়ন অভিযানের সূচনা করেন। তিনি সে সময়ই পাট, চামড়া, চা-এর সঙ্গে মাছকেও বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্য হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। শেখ হাসিনা বলেন, পরিকল্পিতভাবে মাছ উৎপাদন করে দেশের চাহিদা মিটিয়ে তা বিদেশেও রফতানি করা যায়। এ জন্য মাছের উৎপাদন বাড়ানোর এবং কোয়ালিটি সম্পন্ন মৎস্য বিদেশে রফতানি করার জন্য আমরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছি। তাঁর সরকার জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, পুষ্টি চাহিদা পূরণ, কর্মসৃজন, দারিদ্র্য বিমোচন ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, ‘জলমহালে প্রকৃৃত জেলেদের অধিকার নিশ্চিত করতে নতুন জলমহাল নীতিমালা, জেলেদের নিবন্ধন ও পরিচয়পত্র প্রদান করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘হ্যাচারি আইন ও বিধিমালা, মৎস্য খাদ্য ও পশুখাদ্য আইন ও বিধিমালা প্রণয়নসহ অভয়াশ্রম স্থাপন করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘চিংড়ি প্লান্ট ইজারা নীতিমালা, মৎস্য সঙ্গনিরোধ আইন ও জাতীয় চিংড়ি নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।’ শেখ হাসিনা বলেন, এ সকল আইন, বিধি ও নীতিমালা প্রণয়নের মূল উদ্দেশ্যই হল মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও ভোক্তা সাধারণের জন্য মানসম্পন্ন মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, ‘জাল যার জলা তার’ আমরা এর ভিত্তিতে জেলেদের বিভিন্ন জলাশয় বরাদ্দ দিচ্ছি। সেখানে তারা মৎস্য উৎপাদন করে আমাদের চাহিদা মেটাচ্ছে। উৎপাদন বাড়ানোর জন্য আমরা বাগেরহাটে চিংড়ি গবেষণা, চাঁদপুর, সিরাজগঞ্জ ও গোপালগঞ্জে ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট গড়ে তুলেছি। যেন মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়, সেজন্য হাওড়ে পরিকল্পিতভাবে মৎস্য চাষের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত ১০ বছরে মাছের উৎপাদন ৫৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ৪২ লাখ ৭৭ হাজার মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে। একে ৪৫ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করাই আমাদের লক্ষ্য।’ মিঠা পানির মৎস্য উৎপাদনে আমরা তৃতীয় স্থানে রয়েছি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আগামীতে আমরা যেন প্রথম স্থান লাভ করতে পারি, মিঠা পানির মৎস্য চাষে আমাদের লক্ষ্য থাকবে প্রথম স্থান অর্জন করার।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আর সেকারণে এখন থেকেই তাঁর সরকার খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প স্থাপনে অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে।’ চিংড়ি, মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি করে আমরা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী ’৯৬ সালে সরকার গঠনের সময় বিদেশে চিংড়ি রপ্তানী বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে এনে এক পুনরায় চালুর ক্ষেত্রে তাঁর সরকারের উদ্যোগসমূহ তুলে ধরেন। মৎস্য ও মৎস্যপণ্যের আন্তর্জাতিক মান নিরূপণের লক্ষ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনায় ৩টি মাননিয়ন্ত্রণ ল্যাবরেটরি আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকরণের কথাও জানান তিনি। সরকার প্রধান বলেন, দেশের জনসংখ্যার ১১ শতাংশের বেশি মানুষের জীবন-জীবিকা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মৎস্যসম্পদের সঙ্গে সম্পৃক্ত। জিডিপিতে এ খাতের অবদান প্রায় ৩ দশমিক ৬১ শতাংশ। প্রাণিজ আমিষের চাহিদার শতকরা ৬০ ভাগ যোগান দেয় মৎস্য খাত। এ সময় প্রধানমন্ত্রী মিয়ানমার এবং ভারতের সঙ্গে সমুদ্র সমস্যা সমাধানের কারণে বিশাল সমুদ্রসীমায় (১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার) বাংলাদেশের অধিকার প্রতিষ্ঠার উল্লেখ করে তাঁর সরকারের ব্লু-ইকোনমি সম্প্রসারণের উদ্যোগও তুলে ধরেন। ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’র চিরায়ত পরিচয় ধরে রাখতে প্রাকৃতিক উৎসগুলো রক্ষায় তাঁর সরকার সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য ও বনাঞ্চল রক্ষা, পানিসম্পদের উন্নয়ন ও নদীতে নাব্যতা রক্ষার জন্য বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে মধুমতি, গড়াই, যমুনা, বুড়িগঙ্গা, কুশিয়ারা প্রভূতি নদীতে নাব্যতা পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।’ শেখ হাসিনা বলেন, মধুমতি ও গড়াই নদী খননের ফলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে লবণাক্ততা হ্রাস পেয়ে পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সুন্দরবন এবং আশপাশের জীববৈচিত্র্য রক্ষা পাচ্ছে। সামনে কোরবানীর ঈদ চলে আসায় প্রধানমন্ত্রী, কোরবানীর পশু কোন নিদিষ্ট জায়গায় কোরবানী করে এর চামড়া, হাড় এমনকি রক্ত-যেগুলো বিভিন্ন কাজে লাগে সেগুলোর সংগ্রহ নিশ্চিত করা যায় কিনা সে বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণেও মৎস ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতি নির্দেশনা প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রী এদিন জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উদযাপন উপলক্ষে গণভবন লেকে মাছের পোনাও অবমুক্ত করেন।

স্কেটার থেকে মডেল হওয়া কৃত্তিকার গল্প

বিনোদন বাজার ॥ বছর খানেক আগে স্কেট বোর্ডিং শুরু করেন সুমাইয়া চৌধুরী কৃত্তিকা। বেশ ভালোই রপ্ত করেছেন স্কেটিং। তবে ছোটবেলা থেকেই তার স্বপ্ন ছিলো বড় হয়ে মডেল-অভিনেত্রী হবেন। অবশেষে গেল ছয় মাস থেকে সেই স্বপ্নের পথে হাঁটতে শুরু করেছেন তিনি। স্কেটার থেকে এখন মডেল বনে গেছেন কৃত্তিকা। হাঁটছেন অনেকদূরের পথ। এরইমধ্যে ম্যাজিক আইল্যান্ড পার্ক ও হেলমেট পরার সচেতনতা নিয়ে দুইটি বিজ্ঞাপনে কাজ করেছেন তিনি। সামনে একাধিক টিভিসিতে কাজের বিষয়ে কথা এগিয়েছে। ব্যাটে-বলে মিলে গেলে শিগগিরই বেশ কিছু নাটকেও দেখা যাবে তাকে।কৃত্তিকা বলেন, ‘গত ছয় মাস থেকে আমি মডেলিং শুরু করেছি। দেশি অনেকগুলো ব্র্যান্ডের মডেল হওয়ার সুযোগ হয়েছে এরইমধ্যে। যেমন সাদা কালো, রঙ, বিবিয়ানা, নাগরদোলা, মান্ত্রা, ওটু’র পণ্যের মডেল হয়েছি। সম্প্রতি লাভেলো আইসক্রিমের একটি ফটোশুট করেছি।এছাড়া নতুন বিজ্ঞাপন ও কিছু নাটকে অভিনয়ের ব্যাপারে কথা চলছে। এই কাজগুলো আমার ক্যারিয়ারকে সমৃদ্ধ করবে বলে প্রত্যাশা করছি।কৃত্তিকা আরও বলেন, ‘আমি স্কেট বোর্ডিং করি। বাংলাদেশে স্কেট বোর্ডিং করেন না তেমন কেউ। আমেরিকায় এটা অনেক বেশি জনপ্রিয় গেইম। বাংলাদেশে আমি নিয়মিত চর্চা করে যাচ্ছি। দেশের বাইরে গিয়ে স্কেট বোর্ডিং করার অফার এসেছে কয়েকবার। এখনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি যাবো কী না।’স্কেটিংয়ের বাইরে কিছুদিন হলো ১০ মিটার ইয়ার রাইফেল শুটিংও প্রাকটিস শুরু করেছেন খেলাধুলায় মনযোগী কৃত্তিকা। রাজধানী শুটিং ক্লাবের হয়ে খেলবেন সামনের প্রতিযোগিতাগুলোতে।কৃত্তিকা শহীদ বীরউত্তম লে. আনোয়ার গার্লস স্কুল থেকে এসএসসি ও আদমজি ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন। ইচ্ছে আছে এভিয়েশন ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করার।আর সবকিছুর সাথে চলবে মিডিয়া প্রতিষ্ঠিত হওয়ার চেষ্টা। কৃত্তিকা স্বপ্ন দেখেন একজন বড় মাপের মডেল হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবেন। যাতে করে সবাই মনে রাখে তাকে।

আইটেম গার্ল নয়, সানি লিওন এবার মৎস্যকুমারী

বিনোদন বাজার ॥ অন্ধকার জগত থেকে বেরিয়ে এসে বলিউডে জায়গা করে নিয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত সানি লিওন। বর্তমানে বলিউডের বিভিন্ন ছবিতে অভিনয় করেই সময় পার করছেন তিনি। যদিও কিছু ছবিতে ভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছেন তারপরও অভিনয়ের তৃষ্ণা মেটেনি সানি লিওনের। অবশেষে স্বপ্নের চরিত্র মৎস্যকুমারী রূপে পর্দায় সুযোগ হলো তার। ‘ঝুটা কাহি কা’ ছবির ‘ফাঙ্ক লাভ’ গানের দৃশ্যে তাকে মৎস্যকুমারী রূপে দেখা গেলো তাকে। গানটি ১১ জুলাই ইউটিইউবে প্রকাশ পায়।যদিও ছবিতে অতিথি হিসেবে কাজ করার সুযোগ হয়েছে সানির। তারপরও এমন একটি চরিত্রে অভিনয় করতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন এই বলিউড আইটেম গার্ল। স্মিপ কাং পরিচালিত ‘ঝুটা কাহি কা’ ছবির মূল চরিত্রে অভিনয় করছেন ঋষি কাপুর, জিমি শেরগিল, ওমকার কাপুর, মনোজ জোশি, নিমিশা মেহতা প্রমুখ। হাস্যরসাত্মক গল্পের এই বলিউডের ছবিটি আগামী ১৯ জুলাই মুক্তি পাবে।

এবার বাংলাদেশে অঙ্কুশ-নুসরাত ফারিয়ার ‘বিবাহ অভিযান’

বিনোদন বাজার ॥ বাংলাদেশের নুসরাত ফারিয়া ও কলকাতার অঙ্কুশের নতুন ছবি ‘বিবাহ অভিযান’। ইতোমধ্যে ছবিটি সেন্সরে জমা পড়েছে বলে জানিয়েছেন নুসরাত ফারিয়া। এর আগে ২১ জুন কলকাতায় মুক্তি পেয়েছে ছবিটি। আগামী ২৬ জুন ‘বিবাহ অভিযান’ মুক্তি পাচ্ছে বাংলাদেশে।ছবিটি ভারত থেকে আমদানি করেছে তিতাস কথাচিত্র। এর ডিস্ট্রিবিউশন করবে প্রাইম প্রডাকশন নামের একটি প্রতিষ্ঠান।ছবিটির মাধ্যমে দ্বিতীয়বারের মতো অঙ্কুশের বিপরীতে অভিনয় করেছেন ফারিয়া। ‘আশিকী’ সিনেমার মাধ্যমে রূপালি জগতে পা রাখা ফারিয়ার প্রথম ছবির নায়ক ছিলেন অঙ্কুশ। এ ছবির মাধ্যমেই দুই বাংলায় পরিচিতি পান এই নায়িকা। নুসরাত ফারিয়া-অঙ্কুশ ছাড়াও এ সিনেমায় আরও অভিনয় করেছেন রুদ্রনীল ঘোষ, সোহিনী সরকার, অনির্বাণ ভট্টাচার্য ও প্রিয়াঙ্কা সরকার। উপস্থাপনার মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করলেও এখন সিনেমার কাজ নিয়েই ব্যস্ত নুসরাত ফারিয়া। মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে ‘শাহেনশাহ’ ছবিটি। এতে তার বিপরীতে দেখা যাবে শাকিব খানকে। নুসরাত ফারিয়ার পরবর্তী সিনেমা ‘ঢাকা ২০৪০’। সম্প্রতি এতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন তিনি। প্রথম লটের শুটিংও শেষ করেছেন। এতে তার বিপরীতে অভিনয় করবেন বাপ্পি চৌধুরী।

 

পিছিয়ে যাচ্ছে প্রভাসের ‘সাহো’ ছবির মুক্তির দিন!

বিনোদন বাজার ॥ ‘বাহুবলী’র পর প্রভাসের ‘সাহো’ ছবি মুক্তি নিয়ে ভক্তদের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে। ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে ‘সাহো’ ছবির টিজার। যেখানে একেবারেই অন্য মোড়কে দেখা গেছে ‘বাহুবলী’ এই তারকাকে। ছবিতে প্রভাসের সঙ্গে শ্রদ্ধা কাপুরের জুটি সিনেমাপ্রেমীদের নতুন পাওনা। ১৫ অগস্ট মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল প্রভাস-শ্রদ্ধার ‘সাহো’। শোনা যাচ্ছে, ‘সাহো’ ছবির মুক্তির দিন নির্মাতাদের তরফে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। সাহোর পোস্ট প্রোডাকশনের বেশকিছু কাজ বাকি রয়েছে। সেই কাজ শেষ হতে আরও বেশকিছুটা সময় লাগবে। আর সেকারণেই পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে ছবি মুক্তির দিন। সম্ভবত আগামী ৩০ অগস্ট মুক্তি পেতে পারে ছবিটি। যদিও এ বিষয়ে নির্মাতাদের তরফে এখনও কিছু জানানো হয়নি। ছবির ট্রেলার কবে প্রকাশ্যে আনা হবে এখনও সে দিনটিও চূড়ান্ত হয়নি। তবে খুব শিগগিরই ট্রেলার প্রকাশ্যে আনা হবে বলে খবর। প্রসঙ্গত, ‘সাহো’র হাত দিয়ে দক্ষিণী ছবির দুনিয়ায় পা রাখতে চলেছেন শ্রদ্ধা কাপুর। সাহো ছবিতে শ্রদ্ধা কাপুর ছাড়াও রয়েছেন বলি অভিনেতা জ্যাকি শ্রফ, নীল নীতিন, মুরালি শর্মা এবং চাঙ্কি পান্ডে, মহেশ মাঞ্জরেকরের মতো অভিনেতারা।

শিল্পকলায় ‘আওরঙ্গজেব’

বিনোদন বাজার ॥ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীতে মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে প্রাঙ্গণেমোর-এর নাটক ‘আওরঙ্গজেব’। আগামী ২১ জুলাই সন্ধ্যা ৭টায় জাতীয় নাট্যশালার মূল হলে নাটকটি মঞ্চস্থ করবে প্রাঙ্গনেমোর নাট্যদল। মোহিত চট্টোপাধ্যায়ের রচনায় এটি নির্দেশনা দিয়েছেন অনন্ত হিরা। নাটকটি প্রসঙ্গে নির্দেশক বলেন, যুগে যুগে দেশে দেশে মসনদ বা রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার, ধর্মের নামে নির্মমতা, নিষ্ঠুরতা বা যে কোনো অমানবিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক তীব্র প্রতিবাদের নাম মোঘল সম্রাট ‘আওরঙ্গজেব’। প্রতিবাদী এ সম্রাটের জীবন ও কর্মের সূত্র ধরে প্রাঙ্গনেমোর থিয়েটার নিয়মিত মঞ্চায়ন করছে সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী নাটকটি।” নাটকটিতে অভিনয় করেছেন অনন্ত হিরা, নূনা আফরোজ, রামিজ রাজু, ইউসুফ পলাশ, সরোয়ার সৈকত, মাইনুল তাওহীদ, শুভেচ্ছা, রিগ্যান রতœ, বিপ্লব, চৈতিসহ আরো ১৬ জন নাট্যকর্মী। এছাড়া নাটকটির মঞ্চ ও আলোক পরিকল্পনা করেছেন ফয়েজ জহির, সঙ্গীত পরিকল্পনা করেছেন রামিজ রাজু ও পোষাক পরিকল্পনা করেছেন নূনা আফরোজ।

ড্যান্স ব্রিজ ফেস্টিভ্যালে  বাংলাদেশের চার নৃত্যশিল্পী

বিনোদন বাজার ॥ ভারতের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি এবং স্থানীয় নৃত্যশিল্পীদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা তৈরী করতে কলকাতায় ২০১৭ সাল থেকে শুরু হয় আন্তর্জাতিক ‘ড্যান্স ব্রিজ ফেস্টিভ্যাল’। চলতি বছর এ উৎসবে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ।নৃত্যশিক্ষা প্রতিষ্ঠান রিদমস এর চার নৃত্যশিল্পী এ উৎসবে কর্মশালায় অংশগ্রহণ ছাড়াও নৃত্য পরিবেশন করবেন। এবার উৎসবে কর্মশালার প্রশিক্ষক হিসেবে থাকবেন যুক্তরাষ্ট্রের কোরিওগ্রাফার দাম ভ্যান হুইন এবং আর্জেন্টিনার কোরিওগ্রাফার মার্টিন পিলিপনস্কি ব্রায়ার। আগামী ২২ জুলাই থেকে শুরু হবে এই কর্মশালা। উৎসবটি চলবে ৬ আগস্ট পর্যন্ত। প্রথমবারের মতো নৃত্যশিল্পী তাহনুন আহমেদীর সার্বিক তত্ত্ববধানে এই আয়োজনে অংশ নিতে যাচ্ছেন শোভন দাস, বৃষ্টি বেপারী, উম্মে হাবিবা এবং কণিকা বৈদ্য। কর্মশালা শেষে বিশ্বের নানা দেশ থেকে আগত শিল্পীদের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করবেন তারা। রিদমস থেকে তরুণ শিল্পীদের এ উৎসবে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তাহনুন বলেন, “এই প্রক্রিয়া মূলত ক্রসকানেকশন নামে পরিচিত, যেখানে একসঙ্গে অনেক দেশের শিল্পীরা অংশগ্রহণ করে। দুই বছর আগে সাধনা থেকে এই উৎসবে অংশ নিয়েছিলাম আমি। তখন লন্ডন থেকে একজন কোরিওগ্রাফার এসেছিলেন। তবে আমার কাছে এখন পরিবেশনায় থেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো কর্মশালাটা করা। মূলত কোরিওগ্রাফাররা কোন বিশেষ কৌশল বা ধারণাগত জায়গা থেকে কাজ করায়, সেটা লক্ষ্য করাই মূল বিবেচ্য বিষয়।” রিদমস-এ কাজ করার পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গেও স্বাধীনভাবে কাজ করেন এই তরুণ চার শিল্পী। দেশের বাইরে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন তারা। রাজধানীর পশ্চিম আগারগাঁওয়ে ২০১৭ সাল থেকে পশ্চিমা সমসাময়িক নৃত্য নিয়ে কাজ শুরু করে রিদমস স্কুল। এর পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা ব্যালে এবং জাজ নাচের প্রশিক্ষণের সুযোগ পান এখানে। নিয়মিত টেলিভিশন এবং ঢাকার বিভিন্ন মঞ্চে নৃত্য পরিবেশন করেন তারা।

কালুখালীতে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের উদ্বোধন

ফজলুল হক ॥ গতকাল বৃহস্পতিবার রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলায় জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ পালনে র‌্যালী, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা ও মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনে সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা মৎস্য দপ্তরের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্ত্বর থেকে প্রায় ৩০০ জনের বিশাল একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালী বের হয়। র‌্যালী উপজেলা শহরের আশপাশ রাস্তা প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়। পরে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উদ্বোধনী ও আলোচনা সভায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুন নাহারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আব্দুস সালাম, উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান শেখ এনায়েত হোসেন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোছাঃ ডলি পারভীন প্রমুখ বক্তব্য প্রদান করেন এছাড়াও সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সার্জেন্ট (অব) আকাম আলী মন্ডল, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা হাওয়া খাতুনসহ উপজেলায় কর্মরত অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ। অনুষ্ঠানে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আবুল বাশার চৌধুরীর সঞ্চালণায় পুলিশ প্রতিনিধি, মৎস্যচাষী, মৎস্যজীবি সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরের পুকুরে বিভিন্ন প্রকারের মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়।

গাংনীতে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের উদ্বোধনী 

গাংনী প্রতিনিধি ॥ ‘মাছ চাষে গড়বো দেশ,বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’ এ  প্রতিপাদ্য বিষয় সামনে নিয়ে,বর্ণাঢ্য র‌্যালী, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা ও মাছের পোনা অবমুক্তকরণের মধ্যদিয়ে গাংনীতে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার সময়  এ উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালি গাংনী উপজেলা শহরের প্রধান-প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে নেতৃত্ব প্রদান করেন  উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এমএ খালেক। বর্ণাঢ্য র‌্যালি শেষে মাছের পোনা অবমুক্ত করে গাংনী উপজেলা মৎস্য দপ্তর ও উপজেলা প্রশাসন। পরে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আলোচনা সভা ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উদযাপন কমিটির সভাপতি ও গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) সুখময় সরকার। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য সাহিদুজ্জামান খোকনের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাংনী উপজেলা আ.লীগের সহ-সভাপতি ও বামন্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বিশ্বাস। বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন গাংনী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেহেরপুর জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক এমএ খালেক। আলোচনা সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন গাংনী উপজেলা মৎস্য অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মীর মোঃ জাকির হোসেন। এসময়  আমন্ত্রিত অতিথির বক্তব্য রাখেন, গাংনী পৌরসভার মেয়র আশরাফুল ইসলাম, গাংনী উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফারহানা ইয়াসমিন, উপজেলা মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ইকবাল শরীফ, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সিরাজুল ইসলাম স্যার। এছাড়াও অন্যানদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আ.লীগ নেতা মনিরুজ্জামান আতু, গাংনী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক আবুল বাসার, উপজেলা সমবায় অফিসার মিলন কুমার দাশ প্রমুখ। এসময় আরো মধ্যে বক্তব্য রাখেন পিএসকেএসের মৎস্য অফিসার  মোজাম্মেল হক, মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মী শেফালী নাসরিন, ষোলটাকা গ্রামের মৎস্য চাষী শিক্ষক আনিসুর রহমান, শানঘাটের মজিরুল ইসলাম ও জোড়পুকুরিয়া গ্রামের মফিজুর রহমান, গাংনী উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিরুল ইসলাম অল্ডামসহ উপজেলা মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সভায় গাংনী উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মৎস্য চাষী ও মৎস্যজীবিরা উপস্থিত ছিলেন।

কুষ্টিয়ায় জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে র‌্যালি, মাছের পোনা অবমুক্তকরণ ও আলোচনা সভা

নিজ সংবাদ ॥ ‘মাছ চাষে গড়বো দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ, মৎস্য সেক্টরের সমৃদ্ধি, সুনীল অর্থনীতির অগ্রগতি’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে কুষ্টিয়ায় মুক্ত-জলাশয়ে-পোনা-মাছ-অবমুক্তকরণ, র‌্যালি ও আলোচনা সভার মধ্যদিয়ে তিন দিনব্যাপি জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ শুরু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন ও জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্দোগে কালেক্টরেট চত্বর থেকে একটি বর্নাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে এসে শেষ হয়। কুষ্টিয়া জেলা মৎস্য কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক, শিক্ষা ও আইসিটি) আজাদ জাহান। সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার প্রামানিক, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোঃ সিদ্দিকুর রহমান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (এনডিসি) এ. বি. এম. আরিফুল ইসলাম প্রমুখ। আলোচনা শেষে জেলার শ্রেষ্ঠ ৩জন মৎস্য চাষীকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। পরে কালেক্টরেট চত্বরের পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ করেন অতিথিবৃন্দ। এ সময়  সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অঃদাঃ ) হোসেন আহমদসহ সরকারী কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও মৎস্যজীবী নারী ও পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।

টটেনহ্যাম থেকে আতলেতিকোয় ট্রিপিয়ার

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ টটেনহ্যাম হটস্পার থেকে ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার কিরান ট্রিপিয়ার আতলেতিকো মাদ্রিদে যোগ দিয়েছেন।

লা লিগার ক্লাবটির সঙ্গে তিন বছরের চুক্তি হয়েছে ট্রিপিয়ারের। ২৮ বছর বয়সী এই রাইট ব্যাককে কিনতে কত খরচ হয়েছে তা অবশ্য জানায়নি স্পেনের ক্লাবটি। তবে ব্রিটিশ গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, দুই কোটি পাউন্ড গুণতে হয়েছে দলটিকে। ২০১৫ সালে বার্নলি থেকে টটেনহ্যামে যোগ দিয়ে দলটির হয়ে ১০০ এর বেশি ম্যাচ খেলেছেন ট্রিপিয়ার। লন্ডনের ক্লাবটির সঙ্গে ২০২২ সাল পর্যন্ত চুক্তি ছিল তার। ২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সেমি-ফাইনালে ওঠায় বড় অবদান ছিল ট্রিপিয়ারের। শেষ চারে ক্রোয়েশিয়ার কাছে ২-১ গোলে হারের ম্যাচে ফ্রি-কিক থেকে গোল করেছিলেন তিনি। আর গত মৌসুমে টটেনহ্যামের প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে ওঠাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল ট্রিপিয়ারের। এবারের গ্রীষ্মে এই নিয়ে তৃতীয় ডিফেন্ডার হিসেবে আতলেতিকোয় যোগ দিলেন ট্রিপিয়ার। এর আগে দুই ব্রাজিলিয়ান সেন্টার-ব্যাক ফেলিপে ও লেফট-ব্যাক রেনান লোদিকে দলে নিয়েছিলেন কোচ দিয়েগো সিমেওনে।

বাংলাদেশের ব্যর্থতা মনে রেখে সতর্ক ছিলেন স্টোকস

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ২ বলে প্রয়োজন ৩ রান। সমীকরণ মেলানো থিতু একজন ব্যাটসম্যানের জন্য খুব কঠিন কাজ নয়। তবে বাজে একটা শট কিংবা অসাধারণ কোনো বলে বদলে যেতে পারতো চিত্র। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ফাইনালে ওই পরিস্থিতিতে ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জিততে জিততে বাংলাদেশের হেরে যাওয়ার ঘটনাটি মনে করে সাবধানী ছিলেন ইংল্যান্ডের অলরাউন্ডার বেন স্টোকস। লর্ডসে গত রোববার বিশ্বকাপের ফাইনালে শেষ বলে ১ রান নিয়ে ম্যাচ টাই করেন স্টোকস। পরে সুপার ওভারও টাই হয়। বেশি বাউন্ডারি হাঁকানোয় নিউ জিল্যান্ডকে হতাশায় ডুবিয়ে প্রথমবারের মতো শিরোপা জেতে ইংল্যান্ড। ম্যাচের রুদ্ধশ্বাস শেষ সময়টায় ফিরে গিয়ে ফাইনালের নায়ক স্টোকস জানান, বাংলাদেশের ব্যর্থতা থেকে ঠিক করেছিলেন, কোনোভাবেই উড়িয়ে মেরে আউট হওয়া যাবে না। “আমার মনে হয়, ব্যাপারটি নিয়ে আমি শেষ বলের আগের বলে ভেবেছিলাম। আমি টি- টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাংলাদেশের কথা ভেবেছিলাম, ওদের একই রকম প্রয়োজন ছিল এবং ওরা কেবল উড়িয়ে মেরেছিল।” “আমি শুধু ভাবছিলাম, ক্যাচ আউট হওয়া যাবে না। এক রান নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে এবং ম্যাচটি অন্তত সুপার ওভারে নিতে হবে। যদি আমি গ্যাপে পাঠাতে পারি তাহলে হয়তো আমরা দুই রানও নিতে পারব।” “আমার প্রক্রিয়া ছিল এটাই। উড়িয়ে মেরে আউট হওয়া যাবে না। নায়ক হওয়ার এবং ছক্কায় ম্যাচ শেষ করার চেষ্টা করা যাবে না। দুই রান নেওয়ার আশা করেছিলাম। সেটা সম্ভব হয়নি।” গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে গ্র“প পর্বের ম্যাচে জয়ের জন্য শেষ ৩ বলে ২ রান প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের। ক্রিজে ছিলেন দলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য দুই ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল¬াহ। ছক্কায় ম্যাচ শেষ করার চেষ্টায় হার্দিক পান্ডিয়ার বলে সীমানায় ধরা পড়েন দুইজনই। শেষ বলে রান আউট হয়ে যান মুস্তাফিজুর রহমান। বাংলাদেশ হেরে যায় ১ রানে। সেই ম্যাচ থেকে শিক্ষা নিয়ে স্টোকস শিরোপা এনে দিলেন ইংল্যান্ডকে।

আয়াক্স থেকে ইউভেন্তুসে ডি লিখট

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ আয়াক্স থেকে তরুণ ডিফেন্ডার মাটাইস ডি লিখটকে সাড়ে সাত কোটি ইউরো ট্রান্সফার ফিতে দলে টেনেছে ইতালিয়ান চ্যাম্পিয়ন ইউভেন্তুস। ডাচ এই ডিফেন্ডারের বার্সেলোনা, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও পিএসজিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও গুঞ্জন ছিল। শেষ পর্যন্ত পাঁচ বছরের চুক্তিতে সেরি আর ক্লাবটিতে যোগ দিলেন ১৯ বছর বয়সী এই সেন্টার ব্যাক। ২০১৬ সালে আয়াক্সের হয়ে অভিষিক্ত ডি লিখট ২০১৮ সালের মার্চে দলটির সর্বকনিষ্ঠ অধিনায়ক নির্বাচিত হন। গত মৌসুমে দলটিকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। আয়াক্সের হয়ে ৭৭ লিগ ম্যাচে আট গোল করেছেন ডি লিখট। গত মৌসুমে জিতেছেন ডাচ ঘরোয়া লিগ ও কাপ। ২০১৭ সালে ইউরোপা লিগের ফাইনালেও উঠেছিল দলটি। গত মৌসুমে ইউভেন্তুসের বিপক্ষে তার জয়সূচক গোলে জিতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমি-ফাইনালে উঠেছিল নেদারল্যান্ডসের সফলতম দল আয়াক্স। নেদারল্যান্ডসের হয়ে ২০১৭ অভিষেকের আগে আয়াক্সে মাত্র দুটি লিগ ম্যাচের শুরুর একাদশে জায়গা হয়েছিল ডি লিখটের।

ইংল্যান্ড টেস্ট দলে রয়

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেকের অপেক্ষায় জেসন রয়। প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের টেস্ট দলে ডাক পেয়েছেন বিস্ফোরক এই ওপেনার। দলে আরেক নতুন মুখ অলরাউন্ডার লুইস গ্রেগরি। ইংল্যান্ডের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ে ব্যাট হাতে বড় অবদান রাখেন রয়। ৭ ইনিংসে ৬৩.২৮ গড়ে করেন ৪৪৩ রান। বড় দৈর্ঘ্যরে ক্রিকেটে সব সময় টপ অর্ডারে ব্যাট না করলেও আগামী বুধবার লর্ডসে শুরু হতে যাওয়া একমাত্র টেস্টে খেললে ইনিংস উদ্বোধন করবেন ররি বার্নসের সঙ্গে। চোট সমস্যা থাকায় গতিময় দুই পেসার মার্ক উড ও জফরা আর্চারকে বিবেচনায় নেননি নির্বাচকরা। তবে জুলাইয়ের শুরুতে পায়ের পেশিতে চোট পেলেও ১৩ সদস্যের দলে আছেন টেস্টে দেশটির সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি জেমস অ্যান্ডারসন। বিশ্বকাপ ফাইনালে চমৎকার দুটি ইনিংস খেলা বেন স্টোকস ও জস বাটলারকে বিশ্রাম দিয়েছে ইংল্যান্ড। দলে ফিরেছেন এখনও ইংল্যান্ডের হয়ে কোনো টেস্ট না খেলা পেসার অলিভার স্টোন। টেস্টের ইংল্যান্ড দল: জো রুট (অধিনায়ক), মইন আলি, জেমস অ্যান্ডারসন, জনি বেয়ারস্টো, স্টুয়ার্ট ব্রড, ররি বার্নস, স্যাম কারান, জো ডেনলি, লুইস গ্রেগরি, জ্যাক লিচ, জেসন রয়, অলিভার স্টোন, ক্রিস ওকস।

পাকিস্তানের প্রধান নির্বাচকের পদ ছাড়ছেন ইনজামাম

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ পাকিস্তানের প্রধান নির্বাচকের পদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইনজামাম-উল-হক। চুক্তি আর নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া সাবেক এই অধিনায়কের মেয়াদ শেষ হবে ৩১ জুলাই। ২০১৬ সালের এপ্রিলে নিয়োগ পেয়েছিলেন ইনজামাম। তার সময়ে ২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জেতে পাকিস্তান। সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপের দল নির্বাচন ছিল তার সবশেষ অ্যাসাইনমেন্ট। টুর্নামেন্টে সরফরাজ আহমেদের দল সেমি-ফাইনালে যেতে ব্যর্থ হয়। বুধবার এক বিবৃতিতে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানান ৪৯ বছর বয়সী ইনজামাম। “তিন বছরের বেশি সময় ধরে পাকিস্তানের ছেলেদের নির্বাচন কমিটির প্রধানের দায়িত্ব পালনের পর আমি চুক্তি নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” “সেপ্টেম্বরে শুরু হবে আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ। এরপর ২০২০ সালে আছে টি- টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, ২০২৩ সালে বিশ্বকাপ। আমি মনে করি, পিসিবির এখন নতুন প্রধান নির্বাচক ঠিক করার সঠিক সময় যিনি নতুন পরিকল্পনা ও ভাবনা নিয়ে আসবেন।” ইনজামামের সময়ে ফখর জামান, হাসান আলি, ইমাম-উল-হক, মোহাম্মদ আব্বাস, শাদাব খান, শাহিন শাহ আফ্রিদি, উসমান শিনওয়ারির আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছে। তিন সংস্করণের ক্রিকেটে বাবর আজম হয়ে উঠেছেন পাকিস্তান ব্যাটিংয়ের প্রাণ। “আমি খুব আগ্রহ নিয়ে ওদের উন্নতি অনুসরণ করে যাব। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এই খেলোয়াড়দের মধ্যে পাকিস্তান দলকে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার সকল উপাদান রয়েছে।”