পিজিআর’র ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বিশ্বমানের সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে 

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর সরকার সশস্ত্র বাহিনীকে আরো উন্নত এবং বিশ্বমান সম্পন্ন বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করছে। তিনি বলেন, ‘আমরা স্বাধীন দেশ। আমাদের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষার দায়িত্ব সশস্ত্রবাহিনীর ওপর ন্যস্ত। স্বাভাবিকভাবেই একটি স্বাধীন দেশের উপযুক্ত সশস্ত্রবাহিনী যেটা জাতির পিতা গড়ে তুলেছিলেন, তাঁকে আরো উন্নতমানের এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্নভাবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা সবসময় আমাদের রয়েছে।’ প্রধানমন্ত্রী গতকাল বুধবার দুপুরে ঢাকা সেনানিবাসে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট’র (পিজিআর) ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট’র (পিজিআর) সদস্যরা ‘নিñিদ্র নিরাপত্তাই গার্ডস এর লক্ষ্য’ এই মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে প্রতিষ্ঠা লগ্ন হতে আজ পর্যন্ত সাহস, আন্তরিকতা, পেশাগত দক্ষতা, সততা, কর্তব্যনিষ্ঠা এবং দেশপ্রেমের শপথে বলীয়ান হয়ে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।’ সরকার প্রধান বলেন,‘১৯৭৫ সালের ৫ই জুলাই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর অসামান্য দূরদর্শিতায় রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে এই রেজিমেন্ট প্রতিষ্ঠা করেন।’ তিনি সকলকে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ‘আজকে এই গার্ড রেজিমেন্টের সদস্যরা যথেষ্ট দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তাঁদের ভ’মিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। পিজিআর সহ বিভিন্ন বাহিনী এবং সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলোকে আওয়ামী লীগ যখনই সরকারে এসেছে তখনই একে আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। পেশাগত প্রয়োজনে পিজিআর সদস্যদের সঙ্গে প্রতিদিন সাক্ষাতের উল্লেখ করে তিনি তাঁদেরকে তাঁর পরিবারের সদস্য হিসেবেও মনে করেন। প্রধানমন্ত্রী এরআগে পিজিআর সদরদপ্তরে পৌঁছলে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ এবং পিজিআর কমান্ডার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম তাঁকে স্বাগত জানান। পিজিআর’র একটি সুসজ্জিত দল এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রীয় সালাম জানায়। প্রধানমন্ত্রী পিজিআর’র সকল কর্মকর্তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় দায়িত্ব পালনকালে আত্মোৎসর্গকারী পিজিআর’র বীর সদস্যদের পরিবারবর্গের মাঝে অনুদান এবং উপহার সামগ্রী বিতরণ করেন। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব:) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল আওরঙ্গজেব চৌধুরী, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ারমার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন,রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম শামীম-উজ- জামান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো.নজিবুর রহমান, পুলিশের আইজিপি ড. মোহাম্মাদ জাভেদ পাটওয়ারী, প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এবং উচ্চ পদস্থ সামরিক এবং বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সরকার গঠনের পরই তাঁর সরকার পিজিআর সদস্যদের জীবনের ঝুঁকির কথা চিন্তা করে প্রথম ঝুঁকি ভাতার প্রবর্তন করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে ইতোমধ্যে সেনানিবাসে একটি ইনডোর পিস্তল ফায়ারিং রেঞ্জের কার্যক্রম স¤পন্ন হয়েছে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, এছাড়াও রেজিমেন্টের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ২০১৩ সালে তিনি এর জনবল বৃদ্ধিসহ পিজিআরকে একটি স্বতন্ত্র রেজিমেন্টে রূপান্তরিত করার ধারাবাহিকতায়, প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টে আর্মার্ড পার্সোনাল ক্যারিয়ার (এপিসি) সংযুক্তের ব্যবস্থা করেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা নিরপত্তা প্রদান করবে, তাঁদের নিরাপত্তার কথাটাও আমাদের ভাবতে হয়, চিন্তা করতে হয়।’ তাছাড়া এর সদস্যদের বাসস্থলের জন্য ইতোমধ্যে একটি ১৪-তলা বিশিষ্ট বহুতল ভবন নির্মাণ কার্যক্রম চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটা কথা মনে রাখতে হবে, মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে এই দেশ গড়ে উঠেছে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশ বিশ্বে একটি সম্মানজনক অবস্থানে তাঁর জায়গা করে নেবে, আমরা সবসময় সেই প্রচেষ্টাই চালিয়ে যাচ্ছি।’ তিনি বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী একটি জাতি। কাজেই জাতি হিসেবে বিশ্বের দরবারের আমরা মাথা উঁচু করে চলতে চাই এবং আত্মমর্যাদা নিয়ে চলতে চাই। প্রধানমন্ত্রী দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে বলেন, ‘ইতোমধ্যে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট আমরা দিয়েছি। আমাদের প্রবৃদ্ধিকে ৮ দশমিক ১ ভাগে উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছি। মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দারিদ্রের হার আমরা ২১ দশমিক ৮ ভাগে নামিয়ে এনেছি। আমাদের লক্ষ্য আরো বড়, বাংলাদেশকে আমরা সম্পূর্ণ দারিদ্রমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।’ তিনি বলেন, ক্ষুধা মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে আমরা সক্ষম হয়েছি এখন আমাদের লক্ষ্য দেশকে দারিদ্রমুক্ত করা। ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্ম শতবার্ষিকী আমরা উদযাপন করবো। আর স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করবো ২০২১ সালে। তখন বাংলাদেশ হবে দারিদ্র মুক্ত দেশ। ১৭ মার্চ ২০২০ সাল থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ সময়কে তাঁর সরকার ‘মুজিববর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ২০৪১ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে একটি উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলে দেশকে একটা সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে যেতে চাই। আমরা যে সেটা পারি, তা এই সরকারের গত ১০ বছরের শাসনামলে সমগ্র বিশ্বের কাছে প্রমাণিত হয়েছে।’ শেখ হাসিনা বলেন, আজকের বাংলাদেশ আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞান সম্পন্ন বাংলাদেশ, ডিজিটাল বাংলাদেশ। আমরা নিজস্ব স্যাটেলাইটও আজকে উৎক্ষেপন করেছি (বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট)। যার ভিত্তি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই রচনা করে দিয়ে গিয়েছেন। তিনি এ সময় পিজিআর’র বিভিন্ন সময়ে শহিদ এবং শাহাদাৎ বরনকারীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানান।

 

গো-খাদ্য হিসাবে পারা ঘাসের চাষ

কৃষি প্রতিবেদক ॥ বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ। দেশের মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাণীজ আমিষ যেমন দুধ, মাংস প্রভৃতি উৎপাদনের লক্ষ্যে গ্রামীণ পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনে গবাদি পশু প্রতিপালন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। গবাদিপশুর সুস্বাস্থ্য, জাত উন্নয়ন এবং পশুজাত দ্রব্যাদির উৎপাদন বৃদ্ধির পূর্বশর্ত হলো সুষম খাদ্য ব্যবস্থাপনা। অথচ অদ্যাবধি আমাদের দেশে পশু খাদ্য উৎপাদনের জন্য স্বতন্ত্র কোনো ব্যবস্থা গৃহীত হয়নি। শুধুমাত্র মনুষ্য খাদ্য উপজাত সমূহই গবাদি পশুর খাদ্য উপকরণ হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। দেশের জনসংখ্যা যে হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে তার ফলে চারণভূমি ক্রমশঃ হ্রাস পাচ্ছে। এ দেশে মাথা পিছু জমির পরিমাণ মাত্র ০.২৫ একর। তার উপর বাড়তি জনগণের জন্য বসতবাড়ী, অন্যান্য অবকাঠামো এবং কল-কারখানা স্থাপন করতে আবাদী জমি দ্রুত গতিতে হ্রাস পাচ্ছে। এহেন পরিস্থিতিতে গবাদিপশুর জন্য সবুজ ঘাস উৎপাদনে আবাদযোগ্য জমির ব্যবহার অত্যন্ত দুষ্কর হয়ে পড়েছে। এতদ্বসত্বেও ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠির জন্য আমিষ খাদ্য উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও আয়ের উৎস সৃষ্টির জন্য গবাদিপশু পালনের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করার উপায় নেই। বর্তমানে পশু সম্পদের অবদান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় পশুসম্পদ উন্নয়ন কর্মকান্ডে গতি সঞ্চার হয়েছে। তাই গবাদিপশুর জাত উন্নয়নে নানা ধরনের খামার স্থাপনের জন্য জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। দারিদ্র্য দূরীকরণ ও নতুন কর্মসংস্থানের জন্য পশুপালনের গুরুত্ব এখন সর্বমহলে স্বীকৃত। ইতোমধ্যে দেশে বিপুল সংখ্যক ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামার স্থাপিত হয়েছে। অথচ ব্যাপক খাদ্যাভাব গবাদি পশুর সার্বিক উন্নয়নকে ব্যাহত করছে এবং প্রজনন, রোগ প্রতিরোধ ও উৎপাদন ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে।
ফসল উৎপাদনকে বাধাগ্রস্থ না করে একই আবাদযোগ্য জমি ও বিভিন্ন প্রকার অব্যবহৃত জমি থেকে গবাদিপশুর জন্য খাদ্য উৎপাদনের লক্ষ্যে পশুসম্পদ বিভাগ থেকে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা প্রদান করা হয়ে থাকে (নিকটস্থ সরকারি পশুসম্পদ কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে)। উন্নত জাতের ঘাস চাষের জন্য পতিত জমি, দুই ফসলের মধ্যবর্তী সময় বা অন্য কোনো ফসলের সাথে আবাদি জমি, নতুন জেগে ওঠা চর, পাহাড়ের ঢাল, সড়ক ও রেল পথের ঢালু এলাকা, সরকারি খাস জমি, উপকূল, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, জমির আইল, বাড়ীর আশে-পাশের অব্যবহৃত জায়গা এবং তুলনামূলকভাবে অলাভজনক ফসলের জমিকে ব্যবহার করা যেতে পারে। এ উদ্দেশ্যে একটি উচ্চ উৎপাদনশীল ঘাস হিসেবে পারা ঘাসের চাষ কৌশল নিয়ে আজকে আলোচনা করা হচ্ছে।
স্থায়ী ঘাস হিসাবে পারা অন্যতম। এ ঘাস বিভিন্ন নাম যেমন মহিষ ঘাস, পানি ঘাস ইত্যাদি হিসাবে পরিচিত। এ ঘাস জমিতে চাষের পর মাটিতে লতার মত ছড়িয়ে পড়ে এবং অল্প দিনেই সমস্ত জমিতে বিস্তার লাভ করে। এ ঘাসের উৎপত্তি আমেরিকায় হলেও বর্তমানে বাংলাদেশ, ভারত ও বিশ্বের অন্যান্য স্থানের আবহাওয়ায় আবাদ বা চাষযোগ্য। জমিতে একবার রোপন করলে কয়েক বছর পর্যন্ত বিনা চাষে ফলন পাওয়া যায়।
জমি নির্বাচন ঃ পারা ঘাস প্রায় সব ধরনের জমি যেমন উঁচু, নিচু, ঢালু, জলাবদ্ধ এমনকি লোনা মাটিতেও চাষ করা সম্ভব। বাংলাদেশের আবহাওয়ায় প্রায় সর্বত্রই এর ফল বেশ সন্তোষজনক। গাছের নীচে, অধিক স্যাঁতস্যাঁতে, জলাবদ্ধ এবং বন্যা প্লাবিত জমি যেখানে অন্যান্য ফসল মোটেই ভাল জন্মে না সেখানে পারা চাষ করে অধিক ফলন পাওয়া যায়। তবে পারা বেশি শীত সহ্য করতে পারে না। যে সব এলাকায় বাৎসরিক বৃষ্টিপাত ১০০ সেমি-এর কম সেখানে পারা উৎপাদন ঠিক নয়।
রোপন সময় ঃ বৈশাখ হতে আশ্বিন মাস পর্যন্ত পারা ঘাস রোপনের উত্তম সময়। কিন্তু জমি ভিজা বা পানি সেচ দেয়ার সুবিধা থাকলে চৈত্র মাসেও এ ঘাস চাষ করা যায় । কাটিং ঃ বীজ হিসাবে শিকড়সহ গাছ বা কান্ড ব্যবহৃত হয়। প্রত্যেক কাটিং বা চারায় ২ বা ৩টি গিটসহ প্রতি ২.৫ একরে ছিটিয়ে বপনের জন্য ১০০০ কেজি দরকার। আর যদি সারিবদ্ধভাবে লাগানো হয়, তাহলে ২.৫ একর প্রতি ১২০০ কেজি কাটিং-এর প্রয়োজন হয়।
জমি চাষ ও রোপন পদ্ধতি ঃ জমির আগাছা নষ্ট করার জন্য জমিতে কমপক্ষে ২-৩টা চাষের প্রয়োজন হয়। জমি ভালমত চাষ এবং আগাছা পরিষ্কার করে এই ঘাস বপন করলে খুব তাড়াতাড়ি বৃদ্ধি পায় এবং ফলন বেশি হয়। যদি জমি ভিজা থাকে তাহলে চারা মাটিতে ফেলে লাগানো যায়। আর যদি জমিতে পানি থাকে তাহলে কাটিং-এর মাথা (হেলান ভাবে) লাগাতে হবে। সারিবদ্ধভাবে লাগানোর ক্ষেত্রে এক সারি হতে অন্য সারির দূরত্ব ২৪-৩৬ ইঞ্চি এবং এক চারা হতে অন্য চারার দূরত্ব ৬-১২ ইঞ্চি হতে হবে।
সার প্রয়োগ ঃ পারার ক্ষেতে সার প্রয়োগ করলে ভাল ফলন পাওয়া যায়। পারা দ্রুত বর্ধনশীল এবং বছরে অনেকবার কাটা যায়। এ ঘাসের জন্য সারের চাহিদা নাইট্রোজেন বা ইউরিয়া। সমতল চাষযোগ্য জমিতে পারা চাষের জন্য জমি প্রস্তুতির সময় প্রতি ২.৫ একরে ১০/১২ মে.টন গোবর সার এবং ৮৫ কেজি টিএসপি সার দিতে হবে। ঘাস লাগানোর ২/৩ সপ্তাহ পর প্রতি ২.৫ একরে ৮৫ কেজি ইউরিয়া দিতে হবে। তাছাড়া প্রতি বার ঘাস কাটার পর ৮৫ কেজি ইউরিয়া প্রয়োগ করলে ভাল হয়। পানি সেচ কার্যক্রম ঃ এ ঘাসের জমি সব সময় স্যাঁতস্যাঁতে বা ভিজা রাখতে পারলে ভাল হয়। তাই বছরের শুকনা মৌসুমে পানি সেচ করা প্রয়োজন।
ঘাসের যতœ ঃ পারা ঘাসের তেমন একটা যতেœর প্রয়োজন হয় না। তবে সঠিক সময়ে ঘাস কাটলে এবং পানি সেচ ও সার প্রয়োগ করতে পারলে এই ঘাস পর্যাপ্ত পরিমাণে উৎপন্ন হয়। প্রতিবার ঘাস কাটার পর জমিতে হালকা চাষ দিয়ে মাটি নরম করে দিতে হবে। ভালভাবে আগাছা পরিষ্কার করে প্রতি ২.৫ একরে ৮৫ কেজি এমোনিয়াম সালফেট সার দিলে প্রত্যাশানুযায়ী ফলন পাওয়া যায়। সাথী ঘাস চাষ ঃ
যদি পারা ঘাস জলাবদ্ধ জমিতে চাষ করা হয় তাহলে কোনো প্রকার লিগুম ঘাসের সাথে চাষ করা যায় না। তবে উঁচু জমিতে চাষ করা হলে সেক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের লিগুম ঘাস যেমন সেন্ট্রোসীমা, নিরাট্রো ইত্যাদি সাথী হিসাবে চাষ করা যায়।
ঘাস কাটার নিয়ম ও ফলন ঃ পারা ঘাস লতিয়ে যায় বলে অল্প দিনের মধ্যেই জমিতে ছড়িয়ে পড়ে। ঘাস রোপনের তিন মাস পর প্রথম বার ঘাস কাটা যায় অথবা গবাদি পশুকে চরিয়ে খাওয়ানোর উপযোগী হয়। বৎসরে প্রায় ৮/১০ বার ঘাস কাটা যায়। প্রয়োজনানুযায়ী সার ও পানি সেচের ব্যবস্থা করতে পারলে বৎসরে প্রতি ২.৫ একর ৯০-১০০ মে. টনের মত সবুজ ঘাস পাওয়া যায়।
ঘাস খাওয়ানোর নিয়ম ঃ গরু মাঠে চরিয়ে কাঁচা ঘাস হিসাবে পারা খাওয়ানো যেতে পারে। তবে মাঠ থেকে কেটে এনে খাওয়ানোই উত্তম। এক্ষেত্রে টুকরা টুকরা করে কেটে খড়ের সাথে মিশিয়ে খাওয়ানো ভালো। যদি একটি গাভীর দৈহিক ওজন ১০০ কেজি হয়, তাহলে এর দৈনিক খাদ্য তালিকায় ১.০ কেজি দানাদার খাদ্য ১.৪০ কেজি শুকনা খড় এবং প্রায় ৪.০ কেজি পারা ঘাস সরবরাহ করা যেতে পারে। তবে যদি এই গাভীকে (১০০ কেজি ওজনের) ইউরিয়া মোলাসেস মিশ্রিত খড় খাওয়ানো হয়, সেক্ষেত্রে ০.৫ কেজি দানাদার খাদ্য ১.০ কেজি শুকনা খড়, ২.৫-৩. কেজি পারা ঘাস এবং ২-২.৫ কেজি ইউরিয়া মোলাসেস মিশ্রিত খড় প্রতিদিন সরবরাহ করা যেতে পারে। এই হিসাব অনুযায়ী গাভীর শারীরিক ওজন অনুপাতে প্রয়োজনীয় খাদ্যের মোট পরিমাণ নির্ধারণ করে এর অর্ধেক সকালে এবং বাকী অর্ধেক বিকেলে খাওয়াতে হবে। এর সাথে পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
সংরক্ষণ ঃ পারা ঘাস শুকিয়ে সংরক্ষণ করা যেতে পারে। তবে সাইলেজ হিসাবে সংরক্ষণ করাই উত্তম। গাভীর দুধ উৎপাদন ও সুস্বাস্থ্যের জন্য কাঁচা ঘাসের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। কাঁচা ঘাসের সরবরাহ বাড়ানো ছাড়া মাংস ও দুধ উৎপাদন বাড়ানো প্রায় অসম্ভব। সেদিক বিবেচনা করলে উচ্চ ফলনশীল ঘাস হিসাবে পারা ঘাস বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে চাষ করা যেতে পারে। আমাদের জমির স্বল্পতা আছে সত্য, তবে অব্যবহৃত জায়গায় পরিকল্পনা মাফিক ঘাস চাষের কৌশল করলে ঘাসের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। এ জাতীয় উন্নতমানের উচ্চফলনশীল ঘাস গবাদিপশুকে সঠিক নিয়মে খাওয়ানো হলে দুধ ও মাংসের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে যা দেশের আমিষ ঘাটতি লাঘবের ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রাখবে এবং অন্য দিকে দুধ আমদানিতে যে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হচ্ছে তা সাশ্রয় হবে।

থাকছেন রবি শাস্ত্রিই!

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ হিসেবে রবি শাস্ত্রিই থাকছেন! সদ্য শেষ হওয়া আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকেই বিদায় নিয়েছে শক্তিশালী ভারত। এরপরই দলের মধ্য কোন্দল ও কোচিং স্টাফ পরিবর্তনের কথা উঠেছে। এমনকি প্রধান কোচসহ পুরো কোচিং স্টাফ নিয়োগদানের জন্য ইতোমধ্যে বিজ্ঞাপনও দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। তবে অধিনায়ক বিরাট কোহলি, বিসিসিআই এবং দলের আরো কতিপয় খেলোয়াড় শাস্ত্রির কর্ম পদ্ধতিতে খুশি। যে কারণে তারা শাস্ত্রিকেই প্রধান কোচ হিসেবে রাখতে চাচ্ছেন। বিসিসিআইর এক কর্মকর্তা নয়া দিলি¬ টেলিভিশনকে বলেন, ‘দলের জন্য শাস্ত্রি সব কিছুই সঠিকভাবে করেছেন। তার অধীনে দল টেস্ট র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষে উঠেছে, ওয়ানডে ক্রিকেটে আছে র‌্যাংকিংয়ের দ্বিতীয় স্থানে। বিশ্বকাপ শিরোপা জিতে পুনরায় শীর্ষ স্থান দখল করেছে। একটা খারাপ ম্যাচেই একজন কোচ খারাপ হয়ে যায়না। পুনরায় আবেদন করলে তিনি অগ্রাধিকার পাবেন।’ বিসিসিআইর কাছ থেকে আট কোটি রুপির বেশি বেতন পাওয়া শাস্ত্রি আবারো আবেদন করবেন বলে ধারনা করা হচ্ছে। এছাড়া বোলিং কোচ ভরত অরুণও আবেদন করতে যাচ্ছেন। কপিল দেবের নেতৃত্বাধীন বর্তমান ক্রিকেট এ্যাডভাইজরি কমিটি(সিএও) একজন প্রধান কোচ নির্বাচন করবেন।

 

মেসির লাল কার্ড প্রত্যাহারের অনুরোধ আর্জেন্টিনার

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ কোপা আমেরিকার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে চিলির বিপক্ষে লিওনেল মেসির দেখা লাল কার্ড প্রত্যাহার করতে দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবলের কাছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) অনুরোধ করেছে বলে দেশটির স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমগুলো জানিয়েছে। স্থানীয় সংবাদপত্র লা নাসিওন দাবি করেছে, কনমেবলের কাছে লিখিত এক চিঠিতে এ অনুরোধ জানিয়েছে এএফএ। চিলির বিপক্ষে ম্যাচের প্রথমার্ধে বল দখলের লড়াইয়ের এক পর্যায়ে চিলির গারি মেদেলকে পেছন থেকে চ্যালেঞ্জ করেন তিনি। তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখানো মেদেল মেসিকে বুক ও হাত দিয়ে ধাক্কা দেন। রেফারি দুজনকেই সরাসরি লালকার্ড দেখান। এটা ছিল ২০০৫ সালের পর ক্লাব বা জাতীয় দলের হয়ে মেসির প্রথম লাল কার্ড। পত্রিকাটি লিখেছে যে কনমেবলের ডিসিপি¬নারি কমিটির কাছে পাঠানো ডকুমেন্টে সই আছে মেসিরও। এএফএ মনে করে, বার্সেলোনার তারকা ফরোয়ার্ডের লাল কার্ড পাওয়াটা প্রাপ্য নয় এবং এ ঘটনায় হলুদ কার্ডই যথেষ্ট ছিল। আর্জেন্টিনা চিলিকে ২-১ গোলে হারানোর পর পদক নিতে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে যাননি মেসি। সংবাদ মাধ্যমের খবর, এএফএ কনমেবলকে অনুরোধ করেছে যদি লাল কার্ড বহাল থাকে তবে যেন মেসিকে ন্যূনতম শাস্তি অর্থাৎ এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। ৫ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক এক প্রীতি ম্যাচে চিলির মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। সেক্ষেত্রে সেই ম্যাচে খেলতে পারবেন না পাঁচবারের বর্ষসেরা এই ফুটবলার। কোপা আমেরিকা চলাকালে করা মন্তব্যের জেরে মেসিকে লম্বা সময়ের জন্য নিষিদ্ধ করা হতে পারে বলে আর্জেন্টিনার শঙ্কা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আয়োজক ও রেফারিদের বিপক্ষে দুর্নীতির অভিযোগ আনেন মেসি। ব্রাজিলকে শিরোপা জেতাতেই এই দুর্নীতি করা হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। গত সপ্তাহে কনমেবলকে পাঠানো এক চিঠির মাধ্যমে কোপা আমেরিকার সেমি-ফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ২-০ গোলে হারা ম্যাচে রেফারির কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রতিবাদ জানায় এএফএ। সংস্থাটির সভাপতি ক্লাওদিও তাপিয়া দাবি করেন, ‘ রেফারির গুরুতর ও মারাত্মক ভুলগুলো’ তাদের জাতীয় দলের প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে যাওয়ায় প্রভাব রেখেছিল। আগামী মার্চে শুরু হতে যাওয়া ২০২২ বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্রথম থেকেই মেসিকে চায় আর্জেন্টিনা। ধারণা করা হচ্ছে যে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের কোচ হিসেবে লিওনেল স্কালোনি দায়িত্ব পালন করে যাবেন।

নেইমারকে নিয়ে বার্সার কাছ থেকে এখনও ‘প্রস্তাব পায়নি’ পিএসজি

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ নেইমারের ব্যাপারে বার্সেলোনার কাছ থেকে পিএসজি কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব এখনও পায়নি বলে ইএসপিএন এফসিকে নিশ্চিত করেছে সূত্রগুলো। ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ডকে কাম্প নউয়ে ফিরিয়ে আনতে বার্সেলোনা ৪ কোটি ইউরো এবং ফিলিপে কৌতিনিয়ো এবং উসমান দেম্বেলেকে পিএসজিকে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বলে মঙ্গলবার স্পেনের গণমাধ্যমে খবর আসে। যদিও গত দু’দিন দুই পক্ষ খুব নিবিড়ভাবে বিষয়টি নিয়ে কথা বলছে, তবে সূত্রগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এখনও বার্সেলোনা কোনো প্রস্তাব দেয়নি বলে ইএসপিএন এফসি জানিয়েছে। নেইমারকে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য বার্সেলোনা যথাযথ আগ্রহ দেখায় কিনা এবং প্রাথমিক পদক্ষেপ নেয় কিনা তা দেখার অপেক্ষায় আছে পিএসজি। ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা নগদ অর্থ এবং খেলোয়াড় বিনিময়মূল্যে রাজি হতে পারে। কিন্তু অর্থের পরিমাণ এবং তা কোন খেলোয়াড় হবে সে ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। কৌতিনিয়োকে চাইতে পারে পিএসজি; তার সঙ্গে পর্তুগিজ রাইট-ব্যাক নেলসন সেমেদেকেও চাইতে পারে লিগ ওয়ানের চ্যাম্পিয়নরা। নির্ধারিত সময়ের এক সপ্তাহ পর গত সোমবার সকালে প্যারিসে পিএসজির অনুশীলনে ফিরেন নেইমার। যথাসময়ে নেইমারের অনুশীলনে যোগ না দেওয়া নিয়ে হতাশা জানিয়েছিল পিএসজি। ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ব্যক্তিগত কাজের জন্য না আসতে পারার বিষয়টি পিএসজিকে জানানো হয়েছিল আগেই। প্রাক মৌসুমের প্রস্তুতি প্যারিসেই চালিয়ে যাবেন নেইমার। তার পিএসজি ছাড়ার আগ্রহের বিষয়টি কোপা আমেরিকার আগে থেকে জানতেন জানান পিএসজি কোচ টমাস টুখেল। “আমি সবকিছুর জন্য প্রস্তুত। আমাদের নমনীয় হতে হবে। আমি তাকে নিয়ে কথা বলতে চাই না। এটা ক্লাবের বিষয়। আমি নাক গলাব না। এটা আমার বিষয় নয়।”