পল্লী নিবাসে চিরনিদ্রায় শায়িত এরশাদ

ঢাকা অফিস ॥ সাবেক রাষ্ট্রপতি, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে রংপুরের পল্লী নিবাসে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে। এর আগে কবরের পাশে তার মরদেহকে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে গার্ড অনার প্রদান করা হয়। রংপুরের মানুষের ভালোবাসায় শ্রদ্ধা রেখে পল্লী নিবাসেই এরশাদকে দাফন করার সিদ্ধান্ত নেয় জাতীয় পার্টি। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে পার্টির সিনিয়র নেতারা এরশাদকে সমাহিত করার বিষয়ে চূড়ান্ত এ সিদ্ধান্ত নেন। গতকাল মঙ্গলবার বিকাল পৌনে ৬টায় রংপুর জেলা শহরে এরশাদের বাড়ি পল্লীনিবাসের লিচুবাগানে বাবার কবরের পাশে শায়িত করা হয় তাকে। তার আগে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ‘গার্ড অব অনার’ দেওয়া হয় সাবেক এই সেনাপ্রধানকে; কফিনে দেওয়া হয় ফুল। এসময় ভাই জি এম কাদের, ছেলে শাদ এরশাদসহ আত্মীয়-স্বজন এবং জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাঁসহ দলের অন্যান্য নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এরশাদের শেষ জানাজা ও দাফনে মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ সদস্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক উপস্থিত ছিলেন। এরশাদ ৯০ বছর বয়সে গত রোববার মারা যাওয়ার পর তাকে ঢাকার বনানীতে সেনা কবরস্থানে দাফনের সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছিল দলের পক্ষ থেকে। কিন্তু শুরু থেকেই রংপুরে দাফনের দাবি জানাচ্ছিলেন জাতীয় পার্টির জেলার নেতারা। মঙ্গলবার দুপুরে লাশ জানাজার জন্য রংপুরে নেওয়ার পর দলীয় সিদ্ধান্তে বাদ সাধেন তারা। নাটকীয়তার পর দুপুরে রংপুর শহরের কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে এরশাদের কফিন আর ঢাকায় ফিরিয়ে না এনে নিয়ে যাওয়া হয় এরশাদের বাড়ি পল্লীনিবাসে। জাতীয় পার্টির প্রেস উইং থেকে এক বিবৃতিতে তখন বলা হয়, “রংপুরের গণমানুষের আবেগ, ভালোবাসা, শ্রদ্ধা আর কৃতজ্ঞতাবোধে শ্রদ্ধা জানিয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে রংপুরেই দাফন করতে অনুমতি দিয়েছেন বেগম রওশন এরশাদ এমপি। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কবরের পাশে বেগম রওশন এরশাদের জন্য কবরের জন্য জায়গা রাখতেও অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।” এরশাদের স্ত্রী রওশন জাতীয় পার্টির জ্যেষ্ঠ কো চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন, সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতাও তিনি। মারা যাওয়ার পর সোমবার এরশাদের জানাজা হয়েছিল সেনানিবাসে; পরদিন সোমবার সংসদ ভবন প্রাঙ্গণ ও বায়তুল মোকাররমে হয় আরও দুটি জানাজা, দলের কার্যালয়ে হয় শ্রদ্ধা নিবেদন। এরপর মরদেহ রাখা হয়েছিল সিএমএইচের হিমঘরে। মঙ্গলবার সকালে জানাজার জন্য এরশাদের কফিন নিয়ে রংপুরে রওনা দেওয়ার আগে তার ভাই জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জি এম কাদের সেনা কবরস্থানে দাফনের কথাই জানিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, “উনার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী বনানীতে সেনাবাহিনীর কবরস্থানেই তাকে সমাহিত করা হবে। এই কবরস্থান ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় হলেও যে কোনো সময় যে কেউ সেখানে যেতে পারে।” ঢাকা সিএমএইচ থেকে এরশাদের কফিন নিয়ে বেলা পৌনে ১২টার দিকে রংপুর ক্যান্টনমেন্টে পৌঁছায় বিমানবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার। ততক্ষণে রংপুর শহরের কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠ ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে জেলা পুলিশ। এরশাদের কফিন দুপুরে ঈদগাহ মাঠে নেওয়ার পর জানাজার আগে বক্তৃতায় রংপুরের মেয়র ও জাতীয় পার্টির সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা যুক্তি দেন, বনানীর সেনা কবরস্থানে এরশাদকে দাফন করা হলে পরে দলের সাধারণ নেতাকর্মীরা সহজে সেখানে যেতে পারবেন না, শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারবেন না। এরশাদ নিজেই রংপুরে শায়িত হতে চেয়েছিলেন- এমন দাবি করে সোমবারই পল্লী নিবাসের পাশে লিচুবাগারে কবর খুঁড়ে রাখেন রংপুরের নেতাকর্মীরা। মেয়র মোস্তফা তাদের নেতাকে রংপুরে দাফন করার দাবি আবারও তুলে ধরেন। এরপর দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জি এম কাদের বক্তব্য দিতে শুরু করলে মাঠে উপস্থিত হাজার হাজার নেতাকর্মী হট্টগাল শুরু করেন। এরশাদকে রংপুরে দাফন করার দাবিতে তারা স্লোগান দিতে থাকেন। মিনিট বিশেক এই পরিস্থিতি চলার পর বেলা ২টা ২৫মিনিটে জানাজা শুরু হয়। জানাজায় ইমামতি করেন রংপুর করিমিয়া উলুম মাদরাসার খতিব মুফতি মাওলানা মুহম্মদ ইদ্রিস আলী। জানাজার আগে জি এম কাদের, রাঙ্গা, মোস্তফা ছাড়াও বক্তব্য দেন এরশাদপুত্র শাদ এরশাদ। জি এম কাদের বলেন, “রংপুরের মানুষের ভালোবাসায় একজন পেয়ারা থেকে এরশাদ রাষ্ট্রপতি হয়ে উঠেছিলেন। রংপুরের মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত এরশাদ।” শাদ এরশাদ বলেন, “আমার বাবার কোনো ভুলত্রুটি থাকলে আপনারা ক্ষমা করে দেবেন।” জানাজার পরপরই রংপুরের নেতাকর্মীরা এরশাদের মরদেহবাহী গাড়ি ঘিরে ফেলেন এবং রংপুরে দাফনের দাবিতে স্লোগান ধরেন। এসময় এরশাদের লাশবাহী গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নেন রংপুর সিটি মেয়র মোস্তফা ও জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব এস এম ইয়াসির। মাইকে লাশবাহী গাড়িকে ব্যারিকেড দেওয়ার আহ্বানও জানান মোস্তফা। এক পর্যায়ে মেয়র মোস্তফা ওই গাড়িতে উঠে পড়েন এবং বেলা ৩টার দিকে এরশাদের মরদেহ নিয়ে ওই গাড়ি তার বাড়ি পল্লীনিবাসের দিকে রওনা হয়। এই পরিস্থিতিতে জি এম কাদের ও রাঙ্গাঁ দুজনেই সিদ্ধান্ত বদলের কথা জানিয়ে বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের দাফন রংপুরেই হবে। প্রায় একই সময় জাতীয় পার্টির প্রেস উইং থেকে পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়, “রংপুরের গণমানুষের ভালোবাসা উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। তাদের আবেগ ও অনুরাগেই রংপুরে পল্লীবন্ধুকে সমাহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” এই সিদ্ধান্তের পর সেনাবাহিনীর একটি দল পল্লীনিবাসের পাশে এরশাদের বাবার নামে গড়া মকবুল হোসেন জেনারেল অ্যান্ড ডায়াবেটিক হাসপাতাল সংলগ্ন লিচুবাগানে কবরের স্থানটি পরিদর্শন করেন। ঈদগাহ থেকে এরশাদের বাড়ির দূরত্ব প্রায় ৪ কিলোমিটার হলেও সড়কের দুপাশে জনতার ঢল ঠেলে এই পথ যেতে সময় লাগে দুই ঘণ্টা ২০ মিনিট। পল্লী নিবাসে পৌঁছার পর এরশাদের দাফন প্রক্রিয়ায় নিয়ন্ত্রণ নেয় সেনাবাহিনী। রংপুর সেনানিবাসের লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাকারিয়ার নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর একটি দল প্রথমে গার্ড অব অনার দেয়। এরপর সেনাবাহিনীর ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম সাবেক সেনাপ্রধানের কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিকাল পৌনে ৬টায় এরশাদকে শুইয়ে দেওয়া হয় কবরে। এরশাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রংপুরের দোকান মালিক সমিতি সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত নগরীর সমস্ত দোকান পাট বন্ধ রেখেছিলেন এদিন।

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল আজ

ঢাকা অফিস ॥ আজ বুধবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল সারাদেশে একযোগে প্রকাশ করা হবে। দুপুর ১টায় শিক্ষার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে নিজ কলেজ ও মাদরাসা থেকে ফল জানতে পারবে। এছাড়া এসএমএস ও অনলাইনে ফল জানা যাবে। রেওয়াজ অনুযায়ী, সকাল ১০টায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ফলের অনুলিপি হস্তান্তর করবেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। পরে সংবাদ সম্মেলন করে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া দুপুর সাড়ে ১২টায় সংবাদ সম্মেলনে ফলফলের বিস্তারিত প্রকাশ করবেন শিক্ষামন্ত্রী। গত ১ এপ্রিল চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের তত্ত্বীয় পরীক্ষা শুরু হয়। পরীক্ষা শেষ হয় ১১ মে। ১২ মে থেকে ব্যবহারিক পরীক্ষা শুরু হয়ে শেষ হয় ২১ মে । এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পরীক্ষার্থী ছিল ১৩ লাখ ৫৮ হাজার ৫০৫। এর মধ্যে ৮টি সাধারণ বোর্ডের অধীনে এইচএসসিতে পরীক্ষার্থী ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৫০। এছাড়া মাদরাসার আলিমে ৮৮ হাজার ৪৫১ এবং কারিগরিতে এইচএসসি (বিএম) ১ লাখ ২৪ হাজার ২৬৪ পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। যেভাবে ফল পাওয়া যাবে: আটটি সাধারণ শিক্ষাবোর্ডের এইসএসসি পরীক্ষার্থী মোবাইলের মাধ্যমে ফল পেতে ঐঝঈ লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের প্রথম তিন অক্ষর স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০১৯ লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ফল জানা যাবে। মাদ্রাসা বোর্ডের শিক্ষার্থীদের ফল জানতে ঐঝঈ লিখে স্পেস দিয়ে গঅউ স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০১৯ লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ফল পাওয়া যাবে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ফল জানতে ঐঝঈ লিখে স্পেস দিয়ে ঞঊঈ লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০১৯ লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ফল জানিয়ে দেয়া হবে। পরীক্ষার্থীরা সমন্বিত ওয়েবসাইট িি.িবফঁপধঃরড়হনড়ধৎফৎবংঁষঃং.মড়া.নফ এবং সংশ্লিষ্ট বোর্ডের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল সংগ্রহ করতে পারবে।

একনেকে ৫১৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮ প্রকল্প অনুমোদন

ঢাকা অফিস ॥ ‘ঢাকা বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ’ প্রকল্পসহ মোট ৮ প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ হাজার ১৪২ কোটি ৬ লাখ টাকা। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলানগর এনইসি সম্মেলনকক্ষে একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় একনেক সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। সভাশেষে পরিকল্পনা সচিব মোহাম্মদ নুরুল আমিন প্রকল্প সম্পর্কে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি জানান, চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় একনেক সভায় ৫ হাজার ১৪২ কোটি ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ৮ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে খরচ করা হবে ৪ হাজার ১২৯ কোটি ৮১ লাখ টাকা ও প্রকল্প সাহায্য হিসেবে বৈদেশিক সহায়তা পাওয়া যাবে ১ হাজার কোটি ১২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। অনুমোদিত প্রকল্পের মধ্যে ৬টি নতুন প্রকল্প এবং ২টি সংশোধিত প্রকল্প রয়েছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ঢাকা বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ২ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা। স্থানীয় সরকার বিভাগ ঢাকা বিভাগের ১৩ জেলার ৬৭ উপজেলায় ২০২৪ নাগাদ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো-গ্রামীণ যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি ও প্রবৃদ্ধি জোরদার করা।একইসাথে গ্রামীণ যোগাযোগ নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণের মাধ্যমে পল্লী এলাকায় নাগরিক সুবিধা সম্প্রসারণের পাশাপাশি কর্মসংস্থান তৈরি। প্রকল্পের আওতায় ১০০১ দশমিক ৫১ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার, ৫৮৫৭ মিটার ব্রীজ-কালভার্ট নির্মাণ, ৩০ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ এবং ২৪০টি ইন্টারসেকশন উন্নয়নের কাজ করা হবে। নুরুল আমিন জানান, প্রধানমন্ত্রী পর্যটন জেলা কক্সবাজারকে পরিকল্পিতভাবে সাজাতে একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরির জন্য কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া জেলা প্রশাসনকে আরো একটি মাস্টার প্ল্যান তৈরির নির্দেশ দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগে মাস্টারপ্ল্যান হবে তারপর উন্নয়ন প্রকল্প নিতে হবে। সেসব প্রকল্পের মানসম্মত বাস্তবায়ন এবং যেখানে-সেখানে ভবন নির্মাণ করা যাবে না। প্রাকৃতিক দূর্যোগের হাত থেকে পর্যটন নগরী কক্সবাজার শহর রক্ষায় সমুদ্র তীরবর্তী এলাকায় ঝাউবন লাগাতে হবে। বঙ্গবন্ধু হাই-টেক সিটি-২ এর সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা কালিয়াকৈরে স্থাপিতব্য বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্কে খেলাধুলা, বিনোদন এবং শপিংমল তৈরির নির্দেশ দেন। পরিকল্পনা সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী প্রত্যেক উপজেলায় একটি করে মিনি স্টেডিয়াম তৈরি করতে বলেছেন। সেসব স্টেডিয়াম কোন স্কুল,কলেজ বা মাদ্রাসার মাঠে নয়,আলাদা স্থানে হতে হবে। প্রয়োজনে উপজেলার বাইরে কোন স্থানে স্টেডিয়ামগুলো নির্মাণ করতে হবে। এসব স্টেয়িামের একদিকে গ্যালারি তৈরি করতে হবে। বাকি তিন দিক খোলা রাখতে হবে। যাতে মাঠের ভেতর কি হচ্ছে তা সাধারণ মানুষ দেখতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী ঢাকা থেকে কালিয়াকৈর পর্যন্ত ননস্টপ ট্রেন সার্ভিস চালু এবং অন্যান্য রুটের ট্রেনগুলো যাতে স্টেশনে ধরে যায় সে ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন। একনেকে অনুমোদিত অন্য প্রকল্পসমূহ হলো-গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ‘হলিডেমোড়-বাজারঘাটা-লারপাড়া (বাসস্ট্যান্ড) প্রধান সড়ক সংস্কারসহ প্রশস্তকরণ’ প্রকল্প, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ‘চট্টগ্রামের মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক স্থাপন’ প্রকল্প,তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ‘বঙ্গবন্ধু হাই-টেক সিটি-২ এর সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণ’ প্রকল্প। এছাড়া কৃষি মন্ত্রণালয়ের ‘পাবনা-নাটোর-সিরাজগঞ্জ জেলায় ভূ-উপরিস্থ পানির মাধ্যমে সেচ উন্নয়ন’ প্রকল্প,পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ‘পাবর্ত্য চট্টগ্রাম পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প ২য় পর্যায় (আউটপুট-বি, রুরাল কম্পোনেন্ট) (৩য় সংশোধিত) প্রকল্প,মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথ সার্ভিস জোরদারকরণ’ প্রকল্প এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ‘এক্সপোর্ট কম্পিটিটিভনেস ফর জবস (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্প।

মাটির হারানো গুনাবলী ফিরিয়ে আনে কুইক কম্পোষ্ট

কৃষি প্রতিবেদক ॥ বাজারে অনেক জৈব সার পাওয়া গেলেও তা গুনগত মানের দিক থেকে অতি নিম্ন। তাই খুব অল্প সময়ে আমরা যদি জৈব সার তৈরি করে তা মাটিতে প্রয়োগ করতে পারি, তাহলে আমরা খুব সহজেই এ দেশের মাটির হারানো গুনাবলী ফিরিয়ে আনতে পারবো। অর্থাৎ মাটিতে যে পরিমান জৈব পদার্থ থাকা প্রয়োজন, তা পূরণ করতে সক্ষম হব। আর এ কাজটি ‘কুইক কম্পোস্ট’ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে খুব সহজেই প্রয়োগ করা যেতে পারে। এ সার তৈরিতে যেসব উপকরণের প্রয়োজন হয় তাহলো-খৈল, চালের কুড়া বা কাঠের গুড়া, পঁচা গোবর অথবা হাঁস মুরগির বিষ্ঠা। এসব উপকরণ যে অনুপাতে মেশাতে হবে তাহলো একভাগ খৈলের সঙ্গে দুইভাগ চালের কুড়া বা কাঠের গুড়া, তার সঙ্গে চার ভাগ পঁচা গোবর বা হাঁস মুরগির বিষ্ঠা। সাত কেজি কুইক কম্পোস্ট তৈরি করতে এক কেজি খৈল, দুই কেজি চালের কুড়া বা কাঠের গুড়া এবং চার কেজি পঁচা গোবর অথবা হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা মিশাতে হবে।
স্থান ঃ উঁচু জায়গা যেখানে স্বাভাবিক বৃষ্টির পানি জমে থাকে না। সরাসরি রোদ পড়ে না, এমন স্থান অথবা ছায়াযুক্ত স্থান। ছাউনি বা চালার নিচে অথবা বৃষ্টির পানি পড়ে না এমন স্থান ব্যবহার করা যেতে পারে।
তৈরি পদ্ধতি ঃ প্রথমত একভাগ খৈল ভালভাবে গুড়া করে দুই ভাগ চালের বা কাঠের গুড়া এবং চার ভাগ দু’ এক মাসের পঁচা গোবর বা এক মাসের হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা ভালভাবে আলাদা আলাদা করে মিশিয়ে নিতে হবে। মিশানোর সময় কিছু পানি ছিটিয়ে দিতে হবে, তবে যেন বেশি দেওয়া না হয়। ওই মিশ্রণ দিয়ে কম্পোস্ট বল তৈরি করলে ভেঙ্গে যাবে। আর যদি মিশ্রণে পানির পরিমান বেশি হয়, তাহলে বলটি উপর থেকে ফেলে দিলে ও ভেঙ্গে যাবে না। যদি তা হয় তাহলে আরো কিছু কুড়া মেশাতে হবে। স্তপটির সব উপাদান একবার না মিশিয়ে তিন-চার বারে মিশাতে হবে। তবে মিশ্রণের পরিমান ৩০০-৪০০ কেজির মধ্যে হলে ভালো হয়। এরপর মিশ্রিত পদার্থগুলো ভালোভাবে স্তপ করে রেখে দিতে হবে। তবে শীতকালে স্তপের ওপরে ও চারদিকে চটের বস্তা দিয়ে দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। আর বর্ষাকালে বৃষ্টির জন্য পলিথিন ব্যবহার করতে হবে এবং বৃষ্টি থেমে গেলে পলিথিন তুলে ফেলতে হবে। দ্বিতীয়ত স্তপ করে রাখার ২৪ ঘন্টা পর মিশ্রণের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে থাকে। যা ৪৮ থেকে ৭২ ঘন্টার মধ্যে ৬০-৭০ ডিগ্রি সে. তাপমাত্রায় পৌঁছায়। ওই পরিমান মাত্রা অনুভূত হলে স্তপ তৈরির ৭২ ঘন্টার মধ্যেই স্তপটি ভেঙ্গে উলটপালট করে পূনরায় স্তুপ করে দিতে হবে। স্তপটি খুব বেশি গরম অনুভূত হলে খৈলের সমপরিমান পঁচা গোবর বা হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা মিশাতে হবে। প্রতি দুই দিন পরপর স্তপটি ভেঙ্গে উলটপালট করে দিতে হবে। এভাবে ১৪-১৫ দিনের মধ্যে কুইক কম্পোস্ট সার জমিতে প্রয়োগের উপযোগী হয়ে যাবে। এ সময় সারে কোন প্রকার গরম ও গন্ধ থাকবে না এবং সার ঝুরঝুরে শুকনো ও কালো বাদামী বর্ণের হবে।
জমিতে প্রয়োগ ঃ জমির উর্বরতা ও আবাদকৃত ফসলের ওপর ভিত্তি করে সার ব্যবহার করতে হবে। তবে প্রতি শতাংশ জমিতে ৬-১০ কেজি পর্যন্ত কুইক কম্পোস্ট সার ব্যবহার করাই উত্তম। যে সব ফসল মাদা করে বপন বা রোপণ করা হয় সেগুলোর ক্ষেত্রে মাদায় এ সার ব্যবহার করতে হবে। ধানসহ অন্যান্য ফসলে জমি তৈরির সময় প্রতি শতাংশে ৬ কেজি হারে এবং কুশি পর্যায়ে সেচের আগে ২ কেজি সার উপরি প্রয়োগ করলে ভাল ফলন পাওয়া যায়। সবজি ফসলের ক্ষেত্রে জমি তৈরির সময় ৬ কেজি এবং ৪ কেজি সার দু’বারে রিং পদ্ধতি বা নালা করে সবজি বেঁধে প্রয়োগ করতে হবে। তবে সার প্রয়োগের পরে সেচ দিতে হবে। তবে সঠিক পরিমানে এই সার প্রয়োগ করলে রাসায়নিক সারে প্রয়োজন হয় না।
সংরক্ষণ ঃ এই সার চটের বস্তায় বা মাটির পাত্রে অনেক দিন ধরে সংরক্ষণ করা যায় তার জন্য সারগুলোকে ছায়াযুক্ত স্থানে এমনভাবে শুকাতে হবে, যাতে বস্তা সারের পানিতে পচে না যায়। সার ঝুরঝুরে শুকনা এবং সার হাতে মুঠায় নিয়ে জোরে চাপ দিলে ও হাতে কোন রস দেখা যাবে না।

বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে মরগানরা

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মত শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পড়েছে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল। শিরোপা নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই পুরো ইংল্যান্ড জুড়ে চলছে উৎসব। ফুটবলের দেশে এমন উৎসব চোখ ধাঁধানোর মত। সোমবার ওভালে বিজয় প্যারেডের আয়োজন করে ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। ট্রফি নিয়ে অধিনায়ক ইয়োইন মরগানের নেতৃত্বে চলে উদযাপন। এরপর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র আমন্ত্রণে তার বাসভবন লন্ডনের ১০নং ডাউনিং স্ট্রিটে বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে যান ইংলিশ ক্রিকেটাররা। পুরো দলকে ফুলেল শুভেচ্ছা দিয়ে বরণ করে নেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। বিশ্বকাপ নিয়ে খেলোয়াড়দের সাথে কথা বলেন তিনি। শিরোপা জয়ের জন্য প্রত্যক খেলোয়াড়কে অভিনন্দনও জানান থেরেসা মে। পরে চা পর্ব শেষে বিশ্বকাপজয়ী খেলোয়াড়দের নিয়ে ছবি তুলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে বলেন, ‘ফাইনালে অসাধরণ পারফরমেন্স করেছে পুরো ইংল্যান্ড দল। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে যা করা দরকার তাই করেছে তারা। বিচার-বুদ্ধি এবং সাহস দেখিয়েছে মরগানরা। ঘরের মাটিতে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের এমন অর্জন ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবে।’ প্রধানমন্ত্রীর এক মুখপাত্র বলেন, ‘বিশ্বকাপ জয় ইংল্যান্ড ক্রিকেটে ভবিষ্যতের জন্য অনেক বড় অর্জন। এই জয় দেখে ইংল্যান্ডের শিশুরা ক্রিকেট খেলার জন্য আগ্রহী হবে। ভবিষ্যতে আরও অনেক ভালো ক্রিকেটার উঠে আসবে। আশা করি, মরগান-স্টোকসদের মত বড় মাপের ক্রিকেটার হবে এবং ভবিষ্যতে আমাদেরকে আবারো বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দিবে।’

বার্সায় নতুন চ্যালেঞ্জ জিততে উন্মুখ গ্রিজমান

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ গত মৌসুমে বার্সেলোনার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়া অঁতোয়ান গ্রিজমান ঠিকই কাম্প নউয়ে এলেন এক বছর পর। তবে এ নিয়ে কোনো পরিতাপ নেই ফরাসি ফরোয়ার্ডের। জানালেন, এখন নতুন চ্যালেঞ্জ জয়ের জন্য তিনি উন্মুখ। রিলিজ ক্লজের ১২ কোটি ইউরো পরিশোধ করে গত শুক্রবার গ্রিজমানকে আতলেতিকো মাদ্রিদ থেকে দলে টানার কাজ শেষ করে বার্সেলোনা। শনিবার গ্রিজমান বার্সেলোনাতে আসেন। মেডিকেল পরীক্ষার পর রোববার বার্সেলোনার সঙ্গে পাঁচ বছরের চুক্তি সারেন। নতুন দলে ১৭ নম্বর জার্সি পরে খেলবেন রাশিয়া বিশ্বকাপ জেতা এই ফরোয়ার্ড। গ্রিজমানকে নিয়ে বার্সেলোনার সমর্থকরা দ্বিধা-বিভক্তির মধ্যে রয়েছে। গত বছর ২৮ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড বার্সেলোনার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে আতলেতিকোতে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত যেভাবে ডকুমেন্টারিতে খোলাখুলি জানিয়েছিলেন, তাতে বার্সেলোনার কিছু সমর্থক তাকে ক্ষমা করতে পারেনি। কাম্প নউয়ে আনুষ্ঠানিক পরিচয় পর্বে এসে ওই তথ্যচিত্র নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় গ্রিজমানকে। তবে আগের সিদ্ধান্ত সময়ের দাবি অনুযায়ী নিয়েছিলেন বলে জানান তিনি। “অতীতে আমি অনেক বাজে কিছু করেছি। কিন্তু তা নিয়ে আমি কখনই কোনো পরিতাম করি না। কেননা, ওই সময় আমি ওটাই করতে চেয়েছিলাম।” “শেষ পর্যন্ত বার্সেলোনা এবং আমি একসঙ্গে হয়েছি। এখন এই জার্সি পরার জন্য আমার তর সইছে না। যদি আমাকে ক্ষমা চাইতে হয়, সেটা মাঠে গিয়ে করব, যেখানে আমি আমার সেরাটা করি।” কাতালান সংবাদমাধ্যম দিয়ারিও স্পোর্ত মে মাসে জানিয়েছিল ওই ডকুমেন্টরির কারণে গ্রিজমানের আসা নিয়ে বার্সেলোনার ড্রেসিংরুমে ভোটাভুটি হয়েছিল। ওই ডকুমেন্টরির কারণে লিওনেল মেসি ও লুইস সুয়ারেসের মতো তারকারা তার ওপর বিরক্ত হয়ে থাকলে তা বুঝতে পারবেন কিনা – এমন প্রশ্নও করেন সাংবাদিকরা। “হতে পারে। যখন তাদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পাব, তখন দেখা যাবে কি হয়। মাঠে সহযোগিতার মাধ্যমে সব কিছুর সুরাহা করা যেতে পারে।” “যে বিষয় আমাকে সবচেয়ে সুখী করছে তা হচ্ছে, মেসির সঙ্গে আমি মাতে (দক্ষিণ আমেরিকার এক পানীয়) ভাগাভাগি করতে পারব। সত্যিই আমি ভীষণ খুশি। সে নাম্বার ওয়ান এবং সব খেলোয়াড়ের জন্য উদাহরণ। সে আমার বাচ্চাদের কাছে এবং তাদের বাচ্চাদের কাছেও একজন কিংবদন্তি হবে। তার সঙ্গে খেলতে পারাটা আনন্দের।” আতলেতিকোতে পাঁচ বছরে ২৫৭ ম্যাচে ১৩৩ গোল করা গ্রিজমান এখন নতুন চ্যালেঞ্জের জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন। গত বছর বার্সেলোনাকে ফিরিয়ে দেওয়ার কারণ হিসেবে পরিবারের কথাও বললেন গ্রিজমান। “আমার পরিবারকেও তো জায়গা বদলাতে হবে- স্কুলে অনেক বন্ধু রেখে আমার মেয়ের, মাদ্রিদে ভালো একটা জীবনযাত্রা ছেড়ে আমার স্ত্রীর। আমি এই পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সে সময় প্রস্তুত ছিলাম না। ভেবেছিলাম, আতলেতিকোর হয়ে এখনও কিছু অর্জন করার আছে। কিন্তু এ বছর পরিস্থিতি ভিন্ন ছিল।” “কিন্তু সব সময়ই একটা আবাস ছেড়ে আসা কঠিন, যেখানে আপনি খুবই সাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, যেখানে আপনার পরিবার, বন্ধু এবং সতীর্থরা রয়েছে। এটা কঠিন ছিল। আতলেতিকোর জন্য আমার শুধূ প্রশংসা আছে। আমি তাদের কাছে, দিয়েগো সিমিওনের কাছে কৃতজ্ঞ।” “এখন আমার চ্যালেঞ্জ নিজের উন্নতির চেষ্টা করা, বার্সেলোনা দলে নিজের জায়গা করে নেওয়া, দারুণ এই ক্লাবের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়া এবং লিগ, কাপ ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের চেষ্টা করা। আমার অর্জনে এগুলো নেই।”

শচীনের বিশ্ব একাদশে সাকিব

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ বিশ্বকাপের সদ্য শেষ হওয়া আসরে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করা ক্রিকেটারদের নিয়ে সেরা একাদশ সাজিয়েছে আইসিসি। বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার (আইসিসি) মতো ব্যক্তিগতভাবেও অনেক তারকা ক্রিকেটার বিশ্বকাপের সেরা একাদশ বাছাই করেছেন। ভারতের কিংবদন্তি ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকার এবারের বিশ্বকাপে নজর কাড়া পারফরম্যান্স করা ক্রিকেটারদের নিয়ে একাদশ সাজিয়েছেন। ক্রিকেট ইতিহাসে সেঞ্চুরি সেঞ্চুরি করা ভারতের বিশ্বকাপজয়ী দলের এ তারকা ক্রিকেটারের একাদশে জায়গা পেয়েছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। শচীনের বিশ্বকাপ একাদশে যারা আছেন-

রোহিত শর্মা

বিশ্বকাপে ৯ ম্যাচে রেকর্ড ৫টি সেঞ্চুরিতে সর্বোচ্চ ৬৪৮ রান করা রোহিত শর্মা আছেন শচীনের সাজানো একাদশের ওপেনিং ব্যাটসম্যান হিসেবে। ১০ ম্যাচে তিন সেঞ্চুরিতে ৬৪৭ রান করা অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নারকেও ওপেনিং পজিশনে রেখেছেন তিনি।

জনি বেয়ারস্টো

দ্বিতীয় ওপেনার হিসেবে শচীনের পছন্দ ইংল্যান্ডের জনি বেয়ারস্টোকে। তিনি আইসিসির বিশ্বকাপ একাদশে থাকা জেসন রয়ের পরিবর্তে ইংলিশ ওপেনার বেয়ারস্টোকেও রেখেছেন। ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ জয়ের পেছনে বেয়ারস্টোর ভূমিকা সত্যি অনস্বীকার্য।

কেন উইলিয়ামসন

তিন নম্বরে পজিশনে শচীন রেখেছেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনকে। তিনি দুই সেঞ্চুরি ও সমান ফিফটিতে বিশ্বকাপে চতুর্থ সর্বোচ্চ ৫৭৮ রান করে টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার জেতেন।

বিরাট কোহলি

চার নম্বর পজিশনে শচীন রেখেছেন ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলিকে। বিশ্বকাপে নয় ম্যাচে পাঁচটি ফিফটির সাহায্যে ৪৪৩ রান করেন কোহলি।

সাকিব আল হাসান

শচীনের পছন্দের বিশ্বকাপ একাদশে পাঁচে জায়গা পেয়েছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। তিনি বিশ্বকাপে অসাধারণ পারফরম্যান্স করেছেন। ব্যাট হাতে ৮ ম্যাচে ৬০৬ রান করার পাশাপাশি বল হাতে শিকার করেন ১১ উইকেট। অলরাউন্ড  নৈপুণ্যের সুবাদে বিশ্বকাপ শেষে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রণ সংস্থার (আইসিসি) গঠিত সেরা একাদশেও জায়গা পেয়েছেন সাকিব।

বেন স্টোকস

স্লোগওভারে ব্যাটিং তান্ডব চালানোর জন্য শচীন ছয় নম্বর পজিশনে রেখেছেন ইংলিশ অলরাউন্ডার বেন স্টোকসকে। ইংল্যান্ডের এ অলরাউন্ডার বিশ্বকাপে ১১ ম্যাচে ৫টি ফিফটির সাহায্যে ৪৬৭ করেন।

হার্দিক পান্ডিয়া

আইসিসির বিশ্বকাপ একাদশে না থাকলেও শচীনের বিশ্বকাপ একাদশে স্থান করে নিয়েছেন হার্দিক পান্ডিয়া। তার হার্ডহিটিং ব্যাটিংয়ে প্রতিপক্ষকে একাধিকবার বড় রানের লক্ষ্যমাত্রা দিতে সক্ষম হয়েছে ভারত। তেমনই বল হাতেও প্রতিপক্ষের রানের গতি ¯¬থ করায় অন্যতম ভুমিকাও পালন করেছিলেন।

রবীন্দ্র জাডেজা

হার্দিক পান্ডিয়ার মতো জাডেজাও আইসিসির বিশ্বকাপ একাদশে স্থান না পেলেও জায়গা করে নিয়েছেন শচীনের বিশ্বকাপ একাদশে। সেমিফাইনালে সুযোগ পেয়ে ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং করে যেভাবে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তা সত্যি কুর্নিশ যোগ্য।

মিচেল স্টার্ক

সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপে দুর্দান্ত বোলিং করেছেন মিচেল স্টার্ক। ১০ ম্যাচে সর্বোচ্চ ২৭ উইকেট শিকার করেন অস্ট্রেলিয়ান এ পেসার।

যশপ্রীত বুমরাহ

বিশ্বকাপে ৯ ম্যাচে ১৮টি উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি মাত্র ৪.৪১ হারে রান দিয়েছেন ভারতীয় এই তারকা ক্রিকেটার। তাছাড়া ডেথ ওভারে দুর্দান্ত বোলিং করেছেন তিনি।

জফরা আরচার

ইংল্যান্ডের একজন সফল পেস বোলার জফরা আরচার। তিনি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত বোলিং করে ১১ ম্যাচে শিকার করেছেন ২০ উইকেট। ডেথ ওভার স্পেশালিস্ট হওয়ায় ফাইনালে সুপার ওভারে তার উপরই আস্থা রেখেছিলেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক মরগান। এই জফরার ওভারেই শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ শিরোপার স্বাদ পায় ইংল্যান্ড।

শ্রীলঙ্কা সফরে এনামুল-তাইজুল

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ আসন্ন শ্রীলঙ্কা সফরের জন্য দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ১৪ সদস্যের দলে ডাক পেয়েছেন ওপেনার এনামুল হক বিজয় ও স্পিনার তাইজুল ইসলাম। আর সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপে খেলা দলের তিনজনকে বাদ রাখা হয়েছে দল থেকে। এই তিন ক্রিকেটার হলেন- ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের সেরা অলরাউন্ড পারফর্মার সাকিব আল হাসান, লিটন দাস ও আবু জায়েদ রাহীকে। ঘরোয়া লিগ ও ‘এ’ দলে ভালোই খেলছিলেন বিজয়। তবু বিশ্বকাপ দলে জায়গা না পাওয়ায় হতাশ ছিলেন তিনি। বিশ্বকাপে খেলতে না পারলেও এবার শ্রীলঙ্কা সফরে জাতীয় দলে ডাক পেলেন তিনি। এক বছর পর ফিরলেন জাতীয় দলে। এদিকে তিন বছর পর জাতীয দলে ডাক পেলেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম। হজ পালনের জন্য এই সফর থেকে ছুটি চেয়েছিলেন সাকিব। আর লিটন ছুটি চেয়েছিলেন বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য। দুজনকেই এই সফরে দলের বাইরে রাখা হয়েছে। এছাড়া বিশ্বকাপ দলে থাকা আবু জায়েদকে কোনো ম্যাচ খেলানো হয় না। এই সফরেও সেই রাহীকে রাখা হয়নি দলে। এই সফরে তিনটি ওয়ানডে খেলবে বাংলাদেশ। ২৬, ২৮ ও ৩১ জুলাই স্বাগতিকদের বিপক্ষে হবে এই তিনটি ওয়ানডে ম্যাচ। বাংলাদেশ দল: তামিম ইকবাল, এনামুল হক বিজয়, মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক), মোহাম্মদ মিঠুন, মাহমুদউল্লাহ, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, মেহেদী হাসান মিরাজ, মাশরাফি বিন মুর্তজা (অধিনায়ক), রুবেল হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন ও তাইজুল ইসলাম।