মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ধ্বংসে একমাস সময় দিল হাই কোর্ট

ঢাকা অফিস ॥ বাজারে থাকা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ জব্দ করে একমাসের মধ্যে ধ্বংস করতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। পাশাপাশি মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রেতা, সরবরাহকারী ও সংরক্ষণকারীদের শনাক্ত করতে কমিটি গঠন করতে বলেছে আদালত। জনস্বার্থে করা এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের বেঞ্চ রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন এ আদেশ দেয়। এসব আদেশ বাস্তবায়ন করে স্বাস্থ সচিব এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেছে আদালত। রিটের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন আইনজীবী এবিএম আলতাফ হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। গত বছর ২ জুলাই ধানমন্ডির পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ও রাসায়নিক সংরক্ষণের অপরাধে ২৫ লাখ টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত বছর ২ জুলাই ধানমন্ডির পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালিয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ও রাসায়নিক সংরক্ষণের অপরাধে ২৫ লাখ টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সম্প্রতি রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, গত ছয় মাসের বাজার তদারকি করে রাজধানীর প্রায় ৯৩ শতাংশ ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পেয়েছেন তারা। এবিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি বন্ধ ও অবিলম্বে সেগুলো প্রত্যাহারের নির্দেশনা চেয়ে সোমবার আবেদনটি করেন জাস্টিস ওয়াচ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মাহফুজুর রহমান মিলন। রিটকারী আিইনজীবী মাহফুজুর রহমান মিলন সাংবাদিকদের বলেন, আদালত অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের সঙ্গে ফার্মেসি, ওষুধাগারে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি ও সংরক্ষণ বন্ধে নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে। স্বাস্থ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, বাণিজ্য সচিব, শিল্প সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও উপ পরিচালক, পুলিশের মহাপরিদর্শক, বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির সভাপতি ও মহাসচিবকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। পত্রিকার প্রতিবেদন তুলে ধরে আইনজীবী এবিএম আলতাফ হোসেন বলেন, “ভোক্তা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নিজেই বলছে, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি হচ্ছে। এটা কিসের ভিত্তিতে বলছে, সে প্রতিবেদনটা দেখা দরকার। তাহলে বিষয়টি বুঝা যাবে।”

এসময় আদালত বলে, “আমাদের সরকারি সংস্থা থাকার পরেও বাজারে ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ আছে এবং বিক্রি হচ্ছে। বিদেশে এ বিষয়গুলো শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দেখে। এখানে বসে অনেক কথা তো বলা যায় না, অনেক কিছু গণমাধ্যমে চলে আসে।” পরে ‘রাজধানীর ৯৩ শতাংশ ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি হচ্ছে’ মন্তব্যের পক্ষে তথ্য-প্রমাণসহ প্রতিবেদন দিতে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও সংশ্লিষ্ট উপপরিচালককে নির্দেশ দেয় আদালত।

খালেদা জিয়ার জামিন প্রমাণ করে বিচারবিভাগ স্বাধীন – কাদের

ঢাকা অফিস ॥ বিচারবিভাগ যে স্বাধীন তা মানহানির দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিনই প্রমাণ করে। এমন মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর উত্তরায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসের উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি একথা বলেন। এর আগে সোমবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আদালত খালেদা জিয়ার জামিন দিতে চাইলে সরকার তাতে হস্তক্ষেপ করবে না। এটি সম্পূর্ণ আদালতের ব্যাপার। আদালত যে কাউকে জামিন দিতে পারে। মানহানির দুই মামলায় কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ছয় মাসের জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি মুহাম্মদ আবদুল হাফিজ ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মওদুদ আহমদ ও এজে মোহাম্মদ আলী। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফজলুর রহমান খান। প্রসঙ্গত ২০১৪ সালে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও ২০১৬ সালে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত মামলা দুটি বিচারাধীন। এ মামলায় গত ২০ মার্চ খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এ অবস্থায় ওই দুই মামলায় হাইকোর্টে জামিন আবেদন উপস্থাপন করা হয়। পরে গত ২২ মে শুনানির জন্য ১৭ জুন দিন ধার্য করেছিলেন আদালত।

ইবি রেজাল্ট প্রসেসিং সফট্ওয়্যারের উদ্বোধন

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী গতকাল দুপুর ১২টায় প্রশাসন ভবন সম্মেলন-কক্ষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় রেজাল্ট প্রসেসিং সফট্ওয়্যার উদ্বোধন করেছেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস চ্যান্সেলর বলেন, যেখানে যত বেশি কাগজ নির্ভরতা সেখানে তত বেশি দুর্নীতির সুযোগ থাকে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় একদিন বিশ্বের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মতো কাগজবিহীন বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হবে। তিনি বলেন, আমরা এখন আন্তর্জাতিকীকরণের পথে রয়েছি এবং রেজাল্ট প্রসেসিং সফট্ওয়্যার এই আন্তর্জাতিকীকরণের পথে একটি সিঁড়ি। তিনি আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়কে সফল করার অংশ হিসাবে আমরা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক-প্রশাসনিক সকল ক্ষেত্র ডিজিটালাইজেশন করতে চাই। আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ওয়েবসাইট তৈরি করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের ১লক্ষ ১০ হাজারেরও বেশি বই এখন অনলাইনে যুক্ত হয়েছে। রেজাল্ট প্রসেসিং সফট্ওয়্যার তৈরির জন্য ভাইস চ্যান্সেলর রেজাল্ট প্রসেসিং সফট্ওয়্যার প্রস্তুত কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. তপন কুমার জোদ্দার এবং আইসিটি সেলের কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশের পথেই আমাদের যাত্রা করতে হবে। প্রযুক্তি ছাড়া আমাদের বিকল্প কোন পথ নেই। প্রশিক্ষণ কর্মশালা চলাকালে শিক্ষার্থীদের উপকারার্থে কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষকদের সফট্ওয়্যারটিতে যে কোন সংশোধনীর প্রস্তাব আমলে নেয়ার আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ অতিথি ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা বলেন, রেজাল্ট প্রসেসিং সফট্ওয়্যার-এর কারণে আমাদের রেজাল্ট প্রকাশ দ্রুততর ও নির্ভুল হবে এবং রেজাল্ট সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও সুবিধা হবে। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ডিজিটালাইজেশনের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলো। সফট্ওয়্যারটি প্রস্তুতের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকলকে তিনি ধন্যবাদ জানান। রেজাল্ট প্রসেসিং সফট্ওয়্যার প্রস্তুত কমিটির আহ্বায়ক এবং বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. তপন কুমার জোদ্দার উেেদ্বাধনী অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। সফট্ওয়্যারটি কীভাবে কাজ করবে অনুষ্ঠানের শুরুতে তিনি তা তুলে ধরেন। তিনি জানান, সফট্ওয়্যারটি তৈরির ক্ষেত্রে নিরাপত্তার দিকটিতে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে এবং এটি ইউজার ফ্রেন্ডলি হবে। সফট্ওয়্যারটির ব্যবহার নিয়ে আগামীতে প্রশিক্ষণ কর্মশালারাও আয়োজন করা হবে বলে তিনি অবহিত করেন। অনুষ্ঠানে রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত), ডিনবৃন্দ, সভাপতিগণ, অফিসপ্রধানগণ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

বিমানবন্দরগুলোতে ‘ডগ স্কোয়াড’ ইউনিট রাখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ঢাকা অফিস ॥ দেশের সব বিমানবন্দরে ‘ডগ স্কোয়াড’ ইউনিট রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশ দেন বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন পরিকল্পনা বিভাগের সচিব মো. নূরুল আমিন। সভা-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, কুকুরের ঘ্রাণশক্তি অত্যন্ত প্রবল। পৃথিবীর অনেক দেশের বিমানবন্দরে ডগ স্কোয়াড ইউনিট আছে। আমাদেরও করতে হবে। বিমানবন্দরে অধিকতর নিরাপত্তার জন্য ডগ স্কোয়াড ইউনিট প্রয়োজন বলেও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

এ ছাড়া সোমবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের অবিস্মরণীয় জয় প্রসঙ্গেও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। ৪৮ রান করে আউট হয়ে যাওয়ায় তামিম ইকবালের জন্য আফসোস করেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে সাকিব ও লিটন দাসের প্রশংসাও করেন তিনি। একনেকসভায় ইউনিয়ন পরিষদ, সোলার বিদ্যুৎ ব্যবহারসহ বিভিন্ন বিষয়ে বেশকিছু নির্দেশনাও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সভাপতি মজিবুল শেখ ॥ সাধারণ সম্পাদক নুর আলম দুলাল

৩৯ সম্পাদককে নিয়ে কুষ্টিয়া এডিটরস্ ফোরামের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন

নিজ সংবাদ ॥ সম্পাদকদের মর্যাদা বৃদ্ধির অঙ্গিকার নিয়ে কুষ্টিয়া এডিটরস্ ফোরামের ৩৩ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সাথে জেলার প্রাবীণ সম্পাদকদের নিয়ে ৬ সদস্য বিশিষ্ট উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শহরের শাপলা চত্তর মোড়ে ফোরামের অস্থায়ী কার্যালয়ে জেলার দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদকদের নিয়ে কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত করে এক বছর মেয়াদী এই কমিটি গঠন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি গাজী মাহবুব রহমান। সভায় উপস্থিত সম্পাদকদের সর্বসম্মতিক্রমে দৈনিক দর্পণ পত্রিকার সম্পাদক মজিবুল শেখকে সভাপতি ও দৈনিক কুষ্টিয়ার কাগজ পত্রিকার সম্পাদক নুর আলম দুলালকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়।

নবগঠিত কমিটিতে অন্যান্যদের মধ্যে মনোনীত হয়েছেন সহ-সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বাচ্চু (দৈনিক হাওয়া) ও লুৎফর রহমান কুমার (দৈনিক মাটির ডাক)। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহাম্মদ আলী জোয়ার্দ্দার (দৈনিক সাগরখালী) ও হাসিবুর রহমান রিজু (দৈনিক সত্য খবর)। সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন ফেরদৌস রিয়াজ জিল্লু (দৈনিক দিনের খবর), কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত হয়েছেন এম এ জিহাদ (দৈনিক মাটির পৃথিবী), দপ্তর সম্পাদক মোকাদ্দেস হোসেন সেলিম (দৈনিক সুত্রপাত), প্রচার-প্রকাশনা সম্পাদক ডাঃ গোলাম মওলা (সাপ্তাহিক রবি বার্তা), তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আক্তার হোসেন ফিরোজ (দৈনিক আজকের সুত্রপাত), ধর্মীয় সম্পাদক খালিদ হাসান সিপাই (সাপ্তাহিক কুষ্টিয়ার দিগন্ত), ক্রীড়া ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক জাকারিয়া মিলন (দৈনিক লালন ভুমি)।

কমিটির নির্বাহী সদস্যরা হলেন, গাজী মাহাবুব রহমান (দৈনিক আজকের আলো), আনিসুজ্জামান ডাবলু (দৈনিক আন্দোলনের বাজার), আল-মামুন সাগর (দৈনিক জয়যাত্রা), এস এম হালিমুজ্জামান (দৈনিক দেশতথ্য), মিজানুর রহমান লাকী (সাপ্তাহিক কুষ্টিয়ার সংবাদ), নুরুন্নবী বাবু (দৈনিক সময়ের কাগজ), এ এম জুবায়েদ রিপন (দৈনিক কুষ্টিয়ার খবর), শরীফ বিশ^াস (দৈনিক দি টিচার), পি. এম সিরাজুল ইসলাম (দৈনিক ইন্টারন্যাশনাল), ইব্রাহিম হোসেন মিরাজ (দৈনিক জনমতামত), মোমিনুর রহমান মোমিজ (দৈনিক দেশের বাণী), শামিম-উল হাসান অপু (সাপ্তাহিক পথিকৃৎ), আবুল কালাম আজাদ (সাপ্তাহিক কুষ্টিয়ার কন্ঠ) হামিদুর রহমান (সাপ্তাহিক কুষ্টিয়ার মুখ), নাহিদা আক্তার জুইলী (সাপ্তাহিক গড়াই), তাসলিমা খাতুন (সাপ্তাহিক দ্রোহ)।

একই সময় জেলার প্রাবীণ সম্পাদকদের নিয়ে ৬ সদস্য বিশিষ্ট উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়। উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা হলেন- সাপ্তাহিক ইস্পাত পত্রিকার সম্পাদক আলহাজ্ব ওয়ালিউল বারী চৌধুরী, দৈনিক বাংলাদেশ বার্তা ও সাপ্তাহিক জাগরনী, উইকলি বাংলাদেশ রিভিউ পত্রিকার সম্পাদক আবদুর রশীদ চৌধুরী, দৈনিক দেশভুমি পত্রিকার সম্পাদক এস এম আলী আহসান পান্না, সাপ্তাহিক কুষ্টিয়া পরিক্রমা সম্পাদক মুহম্মদ শামসুর রহমান বাবু, দৈনিক কুষ্টিয়া বার্তার সম্পাদক খাদেমুল ইসলাম ও দৈনিক মুক্তমঞ্চের সম্পাদক চৌধুরী মোর্শেদ আলম মধু।

তিতির পালনে বেশি লাভ

কৃষি প্রতিবেদক ॥ আমাদের দেশের গ্রামাঞ্চলে তিতির পাখি চায়না মুরগি নামে পরিচিত। আফ্রিকান এই পাখিটি ইংরেজদের হাত ধরে ইউরোপ থেকে ব্রিটিশ উপনিবেশের সময়ে দক্ষিণ এশিয়ায় আসে। বর্তমানে আইইউসিএন এই প্রজাতিটিকে আশঙ্কাহীন বলে ঘোষণা করলেও বাংলাদেশে এরা প্রায় বিপন্ন বলে বিবেচিত। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে এ প্রজাতিটি সংরক্ষিত।তিতির অত্যধিক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন পাখি। এ ছাড়া এর বাজার মূল্য দেশি হাঁস-মুরগির চেয়ে অনেক বেশি। তাই এটি লালন-পালন করা অন্যান্য দেশি মুরগির চেয়ে লাভজনক। তিতির পাখি পালন দারিদ্র্য বিমোচনে যেমন সহায়ক ভূমিকা পালন করবে তেমনি বিপন্নপ্রায় এই প্রজাতিটির সংরক্ষণেও ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) গবেষক ও পোল্ট্রি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সুবাস চন্দ্র দাস। তিনি বলেন, গত ৩ দশক আগেও এই তিতির পাখি দেশের গ্রামাঞ্চলে দেশি মুরগির সঙ্গে চলাফেরা করতে দেখা যেত। কিন্ত হঠাৎ করেই এই পাখি আর দেখা যাচ্ছে না। বর্তমানে এই পাখি গ্রামাঞ্চলের ঘরে ঘরে না থেকে ঢাকার কাটাবনে খাঁচায় দেখা যাচ্ছে। আর সেই খাঁচার প্রতিটি তিতির পাখি ১ থেকে দেড় হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু একটি গৃহপালিত পাখি কেন খাঁচায় বন্দি থাকবে। পাখিটি যেন আবার কাটাবনের সেই খাঁচা থেকে আবার কৃষকের ঘরে ঘরে পালিত হতে পারে সেই জন্য তিনি নতুন করে ২০১০ সাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পোল্ট্রি খামারে তিতির পাখি পালন, পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা করছেন। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অর্থায়নে পরিচালিত একটি প্রকল্পের উদ্যোগে বিপন্নপ্রায় এই তিতির পাখি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেন অধ্যাপক ড. সুবাস চন্দ্র দাস। টানা ছয় বছর ধরে অধ্যাপক ড. সুবাস ডিম থেকে বাচ্চা উৎপাদন ও তা পালনের সব ধাপ এই গবেষণা খামারে সম্পন্ন করেছেন। দেশের সর্বত্র এই পাখি ছড়িয়ে দিতে বিনামূল্যে অনেককেই তিনি এই পাখি বিতরণ করেছেন। এখন উদ্যোক্তাদের মধ্যে তিতির পালনকে নতুন করে ছড়িয়ে দেয়ার কাজ শুরু করেছেন তিনি। ইতোমধ্যে তিতির পালনের জন্য খামারিরা উৎসাহিত হচ্ছেন। তিতির পালন সম্পর্কে তিনি বলেন, দেশি মুরগির মতোই এদের লালন-পালন করা যায়। তিতির পাখির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অন্যান্য পাখির তুলনায় বেশি। সংক্রমণ বা পরজীবী সহজে আক্রান্ত করতে পারে না। আলাদা কোনো ভ্যাকসিন বা ওষুধ দেয়ারও প্রয়োজন হয় না। এমনকি এদের সম্পূরক খাদ্যের চাহিদাও কম। প্রতিকূল পরিবেশ এরা নিজেদের মানিয়ে নিতে পারে। তিতিরের মাংস উৎপাদন সম্পর্কে অধ্যাপক সুবাস বলেন, দেশি মুরগি যেখানে ছয় মাসে সর্বোচ্চ এক কেজি ওজনের হয় সেখানে তিতির পাখি দেড় কেজি বা তার বেশিও হয়ে থাকে। আবার একটি দেশি মুরগি বছরে ৫০-৬০টা ডিম দেয় যেখানে একটি তিতির পাখি বছরে প্রায় ১০০-১২০টি ডিম দেয়। বাণিজ্যিক পোল্ট্রির দাপটে বিলুপ্তির মুখে পড়েছে তিতির পাখি পালন। কিন্তু ডিম আর মাংসের উৎপাদনে পোল্ট্রির চেয়েও তিতির পাখি পালনে দারুণ সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন অধ্যাপক ড. সুবাস চন্দ্র দাস।

জাপানকে উড়িয়ে দিল চিলি

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ জাপানকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে চ্যাম্পিয়নের মতোই কোপা আমেরিকা শুরু করেছে চিলি। ২০১৫ ও ২০১৬ সালের চ্যাম্পিয়নরা মিডফিল্ডার এরিক পুলগারের হেডে প্রথমার্ধের শেষ দিকে এগিয়ে যায়। স্ট্রাইকার এদুয়ার্দো ভারগাস ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ৫৪তম মিনিটে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে বাজে একটি মৌসুম কাটানো আলেক্সিস সানচেস খুব কাছ থেকে ডাইভিং হেডে ৮২তম মিনিটে জয় নিশ্চিত করে ফেলেন। চিলির সর্বোচ্চ গোলদাতা পাঁচ মাসের মধ্যে প্রথম জালের দেখা পেলেন। এক মিনিট পর সানচেসের পাসেই নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ভার্গাস। ১২ গোল নিয়ে হয়ে যান কোপা আমেরিকায় চিলির সর্বোচ্চ গোলদাতা। এই জয়ে একুয়েডরকে ৪-০ গোলে হারানো উরুগুয়ের সঙ্গে ‘সি’ গ্র“পে যৌথভাবে শীর্ষে উঠল চিলি। অতিথি দল হিসেবে খেলতে আসা জাপান প্রথমার্ধে  গোল পায়নি স্ট্রাইকার আইয়াসে উয়েদা খুব ভালো একটি সুযোগ নষ্ট করায়। আর মাচের শেষ দিকে আরেকটি খুব ভালো সুযোগ কাজ লাগাতে পারেননি সম্প্রতি রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়া তাকেফুসা কুবো। পরের ম্যাচে চিলি খেলবে একুয়েডরের বিপক্ষে। জাপান মুখোমুখি হবে উরুগুয়ের।

নেইমারের সম্পত্তি বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ মাঠের বাইরে নেইমারের ঝামেলা বেড়েই চলেছে। ব্রাজিলের গণমাধ্যমের খবর পিএসজির এই ফরোয়ার্ডের একাধিক বিলাসবহুল বাসভবন ও সম্পত্তি বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত। দি ফোলহা দে এস. পাওলো সোমবার তাদের প্রতিবেদনে জানায়, ব্রাজিল কর্তৃপক্ষ ১০ কোটি ৪০ লাখ পাউন্ড বকেয়া কর পরিশোধের দাবিতে নেইমারের ব্রাজিলে থাকা ৩৬টি সম্পত্তির বিক্রিতে ওই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে। এই বকেয়া কর ২০১৩ সালে নেইমারের সান্তোস থেকে বার্সেলোনাতে যোগ দেওয়া সংশ্লিষ্ট। এ নিষেধাজ্ঞার ফলে নেইমার তার সম্পত্তি ব্যবহার করতে পারবেন কিন্তু বিক্রি করতে পারবেন না। ব্রাজিল কর কর্তৃপক্ষের বলবৎ করা নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত  কোন আদালত দিয়েছে, সেটা নির্দিষ্ট করে জানায়নি ফোলহা। এ ব্যাপারে ব্রাজিল কর কর্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য করেনি। নেইমারের মুখপাত্রও কিছু বলেননি। কদিন আগে সাও পাওলো পুলিশের কাছে এক নারী অভিযোগ করেন, গত মাসে প্যারিসের একটি হোটেলে নেইমার তাকে ধর্ষণ করে। পুলিশ সে অভিযোগের তদন্ত করছে। নেইমার অবশ্য অন্যায় কিছু করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। রোববার ফ্রান্সের দৈনিক লেকিপ জানায়, নেইমারকে বিক্রি করে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে পিএসজি। ক্লাবটির চেয়ারম্যান ও সিইও নাসের আল-খেলাইফি খেলোয়াড়দের দায়িত্বহীন আচরণ সহ্য করা হবে না বলে কড়া হুশিয়াঁরি দেওয়ার পর দৈনিকটি ওই খবর দেয়।

 

নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে একাদশে ফিরতে প্রস্তুত এনগিডি

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার পরের ম্যাচে একাদশে ফিরতে প্রস্তুত পেসার লুঙ্গি এনগিডি। নিজেকে শতভাগ ফিট বলে দাবি করেছেন তিনি। বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচে হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট পান এনগিডি। খেলতে পারেননি দলের পরের তিনটি ম্যাচে। সোমবার নিজের ফিটনেস নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ২৩ বছর বয়সী এই পেসার। “আমার শতভাগ ম্যাচ ফিটনেস আছে। ফিটনেস টেস্টে ম্যাচ পরিস্থিতির মতো তীব্রতায় আমি আমার সক্ষমতার সর্বোচ্চ পর্যায়ে গিয়েছি।” বুধবার বাংলাদেশ সময় বেলা সাড়ে তিনটায় কিউইদের মুখোমুখি হবে প্রোটিয়ারা। বাংলাদেশের কাছে হেরে বিশ্বকাপ শুরু করা দক্ষিণ আফ্রিকা এ পর্যন্ত জয় পেয়েছে মোটে একটি ম্যাচে। তিনটি হারের পাশাপাশি পরিত্যক্ত হয়েছে তাদের একটি ম্যাচ। শেষ চারের লড়াইয়ে টিকে থাকতে জয়ের বিকল্প নেই ফাফ দু প্লেসিদের।

সেমিফাইনালে খেলতে হলে আরও ভালো খেলতে হবে – সাকিব

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বড় জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছেন সাকিব আল হাসান ও লিটন কুমার দাস। চতুর্থ উইকেটে লিটনকে ১৮৯ রানের জুটি গড়ে চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের পঞ্চম ম্যাচে টনটনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশকে ৭ উইকেটের দুর্দান্ত এক জয়ের স্বাদ পাইয়ে দিয়েছেন সাকিব। ম্যাচ সেরা সাকিব নিজে করেছেন ৯৯ বলে অপরাজিত ১২৪ রান। ১৬টি বাউন্ডারি মেরেছেন তিনি। সাকিবকে দুর্দান্ত সঙ্গ দেয়া লিটন ৮টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৬৯ বলে অপরাজিত ৯৪ রান করেন। এমন দুর্দান্ত জয়ের পরও আগামী ম্যাচগুলোতে আরও ভালো খেলার কথা জানালেন সাকিব। তিনি জানান, বাংলাদেশের সেমিফাইনাল খেলার লক্ষ্য পুরনে আগামী ম্যাচগুলোতেও বাংলাদেশকে ভাল খেলতে হবে। রোববার ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ফুরফুরা মেজাজে থাকা সাকিব বলেন, ‘আর চারটি ম্যাচ আছে। আমরা সেমিফাইনাল খেলতে চাই। সেমিফাইনাল খেতে হলে আমাদের সেরা ক্রিকেট খেলতে হবে পাশাপাশি আমাদেরকে প্রত্যেককে অবদান রাখতে হবে। এখন ভালো করছি। সামনেও ভালো করবো সেটাও নিশ্চিত হতে হবে।’ বল হাতে ২ উইকেট নেয়ার পর ব্যাট হাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোলিং লাইন-আপকে প্রথম ধাপে চুরমার করে দেন সাকিব। নবম ওভারে উইকেটে গিয়ে শুরু থেকেই মারমুখী মেজাজে ব্যাট করতে থাকেন তিনি। নিজের এই পারফরমেন্স ধরে রাখতে বদ্ধ পরিকর সাকিব, ‘এই মুহূর্তে আমি ব্যাটিং, বোলিং ও লিডারশিপ দিয়ে দলের অবদান রাখার চেষ্টা করছি। আমি এ ধারাবাহিকা ধরে রাখতে চাই। আমার দৃঢ় বিশ্বাস ছিল পারফর্ম করবো। দলের হয়ে অবদান রাখবো। এখন ভালো সময় যাচ্ছে। এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।’ ক্রিকেট ক্যারিয়ারে কি নিজের সেরা ফর্মে আছেন সাকিব? এমন প্রশ্নের জবাবে সাকিব বলেন, ‘রানের কথা যদি চিন্তা করি তাহলে সর্বোচ্চ পর্যায়ে আছি। এর আগেও কয়েকবার ভালো অবস্থানে ছিলাম। কিন্তু এর মানে এই না যে ভালো অবস্থানে থেকে বড় স্কোর করবো। ভালো অবস্থানে থেকেও বেশি রান করা সম্ভব হয় না। সব মিলিয়ে আছি ভালো অবস্থানে। সেটা ধরে রাখার চেষ্টা করবো। আসলে একটা ব্যাটসম্যান যখন ধারাবাহিক ব্যাটিং করতে থাকে, তখন বল ভালোভাবেই দেখতে পারে। এখন সময় ভালো যাচ্ছে। ধারাবাহিক থাকলে সব সময়ই রান করা যায়। আমি এখন সর্বোচ্চটা করার চেষ্টা করবো।’ ম্যাচ জয়ের জন্য শুধুমাত্র ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং’ই যথেষ্ট নয়, মানসিকভাবে শক্ত অবস্থানে থাকাটাও খুব বেশি জরুরি বলে মনে করেন সাকিব। তিনি বলেন, ‘মাইন্ড সেট খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে মানসিক ফিটনেসটা বেশি কাজ করে। ফিটনেসটা ভালো থাকলে খুবই ভালো। যত বেশি শক্ত ও সাহস রাখা যায়, মাঠে তত বেশি ব্যাটিং করেন বা বোলিং করবেন ওই সময়টায় হেল্প করবে। নিজ থেকে যদি মনে না করেন জিততে পারবেন না, তাহলে জিততে পারবেননা। যখন মন থেকে চাইবেন যে জেতা সম্ভব, আমি জিততে চাই তাহলে দেখবেন জিতবেন। হয়তো সব সময় হবে না। কিন্তু  বেশিরভাগ সময়ই হবে।’ দলীয় ৫২ রানে সৌম্য সরকার ফিরে যাবার ক্রিজে আরেক ওপেনার তামিম ইকবালের সঙ্গী হন সাকিব। তখন দলের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিলো ২৭০ রান। এ অবস্থায় ২২ গজে তামিমের সাথে ম্যাচ জয়ের পরিকল্পনা সাড়েন সাকিব। এই পরিকল্পনা পড়ে লিটনের সাথেও করেছেন তিনি। কি ছিলো তামিম-সাকিব-লিটনের পরিকল্পনা? সাকিব বলেন, ‘আমি আর তামিম যখন ব্যাটিং করছিলাম তখন ঠিক করছিলাম যে আমরাই শেষ করবো। আমি ওকে দুবার বলেছিলাম। লিটনের সময় ব্যাটিংয়ের সময় দুজন দুজনকে বলেছি শেষ পর্যন্ত খেলতে হবে। নট আউট থাকতে হবে। আমরা অনেক বাজে বল পাচ্ছিলাম যেগুলো চার হচ্ছে। তাই প্রেসার নিতে হয়নি ভালো বল মারার জন্য। আমাদের দু’জনের ভেতরে অনেক বার কথা হয়েছে যে, দু’জন চাইলেন শেষ করা সম্ভব। একজন আরেকজনকে বারবার স্মরণ করে দিয়েছি।’ ৩২২ রান তাড়া করে ম্যাচ জিতে নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ। এর আগে এত বেশি রান তাড়া করে কখনো ম্যাচ জিতেনি টাইগাররা। ৩শ’ বেশি রান টার্গেট পেয়েও ৫১ বল বাকি রেখে ম্যাচ জয় প্রশংসার দাবি রাখে। তবে এর পেছনে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ অনেক বেশি সহায়ক হয়েছে জানান সাকিব। পাশাপাশি কোচিং স্টাফদের অবদান স্বীকার করলেন তিনি, ‘আমি তো মনে করি এটা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য নতুন একটা লেভেল এটি। আয়ারল্যান্ডের কয়েকটা ম্যাচ আমাদেরকে বেশ হেল্প করেছে। আমরা ওখানে প্রতিটা ম্যাচ চেজ করে জিতেছি এবং কোনো সময় মনে হয়নি আমরা চাপ নিয়ে ব্যাটিং করেছি। বড় শট খেলতে হবে সেটা খেলেছি। কিন্তু সঠিক ক্রিকেটিং শট খেলেছি। বড় বড় দেশ এগুলো করে থাকে। আমরা ওই ধরণের চেষ্টা করছি। কোচিং স্টাফের অনেক ক্রেডিট যাওয়া উচিত। আগে যেটা হতো আমরা ড্রেসিং রুমে প্যানিক করে ফেলতাম। এখন যেটা ভালো জিনিস হচ্ছে ড্রেসিং রুমে কোচিং স্টাফরা ক্লাম থাকে, প্যানিক করার সুযোগটা আসে না। দেখা যায় কেউ রেডিও শুনছে, কেউ গল্প করছে। কোনো স্টেজে কেউ প্যানিক হয় না। স্বাভাবিকভাবে এটা একটা ছোঁয়াচে জিনিসের মতো। একজনের ধরলে আরেকজনের অটোমেটিক ধরে যায়। কোচিং স্টাফরা এই বিষয়টা ড্রেসিং রুমে দেওয়ার চেষ্টা করছে।’

ম্যাচ জয়ের দর্শকদের ধন্যবাদ জানাতে ভুল করেননি সাকিব। তিনি বলেন, ‘আপনাদের সব রকমের শুভকামনার জন্য ধন্যবাদ। আমাদের উপর সমর্থন বজায় রাখুন। আমার মনে হয় দল ভালো করছে। সবসময় আপনারা আমাদের যেভাবে সমর্থন দেন, সেভাবে সমর্থন দিয়ে গেলে আমরা আরও ভালো করবো।’