নির্বাচনের মাঠে ফাউল করলে লাল কার্ড -বাস্থ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, বিএনপি নেতারা বলেছেন তারা কোনোভাবেই নির্বাচন হতে দেবেন না। তাদের এই আবদার অসাংবিধানিক, এ কথা গণতন্ত্রবিরোধী। এসব কথা বলে তারা সংবিধানের বিরোধিতা করছেন। তিনি বলেন, নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী। নির্বাচনে রেফারি থাকবে নির্বাচন কমিশন। তাই বিএনপি নেতাদের প্রতি আহ্বান এসব কথা না বলে যোগ্যভাবে নির্বাচনের মাঠে খেলার প্রস্তুতি নিন। তবে মনে রাখবেন ফাউল করলে কিন্তু লাল কার্ড। গতকাল বুধবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ের জাতীয় নাক-কান-গলা ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুদের ‘কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট বরাদ্দপত্র বিতরণ’ উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ৫ হাজার বেডে উন্নীত করা হবে। তিনি বলেন, আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে, আগামীতে ক্ষমতায় আসলে প্রথমেই আমরা এ কাজটি সম্পাদন করব। এর মাধ্যমে আমরা উন্নত বিশ্বের সঙ্গে আমাদের স্বাস্থ্যসেবার তুলনা করতে পারব। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার এতটা উন্নতি করা সম্ভব হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারণে। তিনি সব বিষয়ে অবগত থাকেন এবং খোঁজখবর রাখেন। তার নির্দেশনাতেই সব উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পাদিত হচ্ছে। স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় ৫০০ শয্যার শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউট উদ্বোধন করবেন তিনি। তিনি বলেন, এছাড়া প্রধানমন্ত্রী আগামী ১৮ অক্টোবর পঙ্গু হাসপাতালের নবনির্মিত এক্সটেনশন ভবনে উদ্বোধন করবেন। একই সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নবনির্মিত ডাইজেস্টিভ ডিজিজ হাসপাতাল, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভার্টিক্যাল এক্সটেশনসহ হৃদরোগ, চক্ষু, কিডনি হাসপাতালের ভার্টিক্যাল এক্সটেশন কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট বিষয়ে তিনি বলেন, গরিব অসহায় মানুষরা সরকারের সহযোগিতা না পেলে এ ধরনের ব্যয়বহুল চিকিৎসার সুযোগ পাবেন না। বর্তমান সরকার তাদের স্বপ্ন পূরণের কাজ বাস্তবায়ন করছে। এ সময় তিনি ১২টি দরিদ্র পরিবারের হাতে কক্লিয়ার ইমপ্লান্টের বরাদ্দপত্র বিতরণ করেন। এ সময় জানানো হয়, দেশে বধির মানুষের সংখ্যা প্রায় ১৬ লাখ। প্রতিবছর ২৬’শ শিশু বধিরতা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। বর্তমানে দেশের প্রায় লক্ষাধিক শিশুর কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট প্রয়োজন। ২০১০ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নাক-কান-গলা বিভাগের অধ্যাপক ডা. আবুল হাসনাত জোয়ারদারের হাত ধরে দেশে কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট কার্যক্রম শুরু হয়। এ পর্যন্ত তিনি ও তার দল প্রায় পৌনে ৩০০ শিশুর সফল কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট স্থাপন করেছেন। প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে যাদের ইমপ্লান্ট করা হয়েছে তারা সবাই এখন স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন। জাতীয় নাক-কান-গলা ইন্সটিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. জিল্লার রহমান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত।

কারাগারের অস্থায়ী আদালতে আসতে খালেদা জিয়ার অস্বীকৃতি

ঢাকা অফিস ॥ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারের অস্থায়ী আদালতে আসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এ কারণে তাঁকে আদালতে হাজির করতে পারেনি কারা কর্তৃপক্ষ। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল আদালতকে এ বিষয়ে অবহিত করেন। পরে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করেছেন আদালত। গতকাল বুধবার রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে অবস্থিত ঢাকার অস্থায়ী ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান শুনানির দিন ধার্য করেন। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক আখতারুজ্জামান বলেছেন, খালেদা জিয়া আদালতে না এলে কীভাবে তিনি জামিনে থাকবেন। এ ব্যাপারে খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের আগামীকাল আইনি ব্যাখ্যা দিতে বলেছেন। তবে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল আদালতে বলেছেন, ‘খালেদা জিয়া কারাগারে আছেন। তিনি আদালতে না এলে আইন অনুযায়ী এ মামলার বিচারকাজ চলবে।’ আইন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত কারাগারের একটি কক্ষকে আদালত হিসেবে ঘোষণা করে। ৫ সেপ্টেম্বর সেখানে আদালত বসেন। সেদিন আদালতে হাজির হয়ে খালেদা জিয়া আদালতকে বলেছিলেন, এ আদালতে ন্যায়বিচার নেই। তিনি অসুস্থ। তিনি আর আদালতে আসবেন না। যত দিন ইচ্ছা আদালত তাঁকে সাজা দিতে পারেন। এর আগে এ মামলার বিচার চলছিল পুরান ঢাকার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতে। এ মামলায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেছে। খালেদা জিয়াসহ তিন আসামির যুক্তিতর্ক শুনানি বাকি রয়েছে। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় এ মামলা করে দুদক। মামলার অপর আসামিরা হলেন হারিছ চৌধুরী, জিয়াউল ইসলাম ও মনিরু ইসলাম খান। গতকাল এ মামলার শুনানিকে কেন্দ্র করে কারাগারের আশপাশ নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য সেখানে অবস্থান নেন। সকাল ১০টার দিকে আসেন আদালতের কর্মচারীরা। এরপর দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল, খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া, জিয়াউল ইসলাম মুন্নার আইনজীবী আমিনুল ইসলাম আদালতে আসেন। পরে বিচারক আসার পর তিনি তাঁর খাসকামরায় অবস্থান করেন। দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে তিনি আদালতের এজলাসে আসেন। শুরুতে খালেদার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া আদালতে বলেন, এ আদালত প্রকাশ্য আদালত নন। সংবিধানপরিপন্থী। এ সময় তিনি খালেদা জিয়ার জামিন বাড়ানোর আবেদন করেন। অপর আসামি জিয়াউল ইসলাম মুন্নার আইনজীবী আদালতকে বলেন, এ আদালত গুহার মতো। এখানে ঠিকমতো শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া যায় না। যেকোনো সময় যে-কারও ‘সাফোকেশন’ হতে পারে। এ আদালত সংবিধানপরিপন্থী। এক মাসের জন্য আদালতের কার্যক্রম মুলতবি চেয়ে আমিনুল বলেন, এমন আদালত তিনি তাঁর পেশাগত জীবনে দেখেননি। আইনজীবী, সাংবাদিকদের বসার পর্যাপ্ত জায়গা নেই। সাধারণ মানুষের আদালতে ঢোকার কোনো সুযোগ নেই। এটি কোনোভাবে প্রকাশ্য আদালত হতে পারে না। এ ব্যাপারে আদালতের হস্তক্ষেপ চান আইনজীবী আমিনুল। তবে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল আদালতকে বলেন, ‘আইন মেনে এ আদালত গঠিত হয়েছে। খালেদা জিয়ার সুবিধার জন্য এখানে আদালত বসেছেন। একদিকে খালেদার আইনজীবীরা বলছেন, এ আদালত প্রকাশ্য আদালত নন, সংবিধানপরিপন্থী। অথচ এ আদালতে আবার জামিন চাচ্ছেন।’ মোশাররফ হোসেন আরও বলেন, ‘খালেদা জিয়া বলছেন, তিনি আদালতে আসবেন না। তিনি বিচারকাজে সহায়তা করছেন না। তাঁর নিরাপত্তার কথা ভেবে এখানে আদালত বসেছেন। তাঁকে হুইলচেয়ারে করে আনা হচ্ছে।’ এর জবাবে খালেদার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, ‘খালেদা জিয়া অসুস্থ। তাঁদের চারজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেছেন। দলের মহাসচিব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন।’ তখন দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘বারবার বলা হচ্ছে খালেদা অসুস্থ। উনি (খালেদা) কিসের অসুস্থ। উনি আদালতে এসে বক্তব্য দিয়েছেন, তা সবাই দেখেছে।’ দুই পক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্যের একপর্যায়ে বিচারক খালেদার আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, ‘খালেদা জিয়া আদালতে আসতে চাননি, তা কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। আপনরা আবার জামিন চেয়েছেন।’ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত খালেদার জামিন মেয়াদ বাড়িয়ে আইনি ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য খালেদার আইনজীবীদের নির্দেশ দিয়ে বিচারক এজলাস ছাড়েন।

বিশ্বজুড়ে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা আবার বাড়ছে – জাতিসংঘ

ঢাকা অফিস ॥ মাঝে কমলেও জলবায়ুর চরমভাবাপন্ন রূপে বিশ্বে আবার বেড়ে চলেছে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার চিত্র তুলে ধরে বিশ্বনেতাদের এই বিষয়ে ত্বরিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয় বলে বিবিসি জানিয়েছে। ওই প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, ২০১৭ সালে বিশ্বের ৮২ কোটি ১০ লাখ মানুষ ছিল অপুষ্টির শিকার। অর্থাৎ বিশ্বের প্রতি নয় জন মানুষের একজন প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায় না। আর পাঁচ বছর থেকে কম বয়সী শিশুদের মধ্যে ১৫ কোটির দৈহিক স্বাভাবিক বিকাশ আটকে আছে পুষ্টিহীনতায়। এই সংখ্যা বিশ্বের মোট শিশুর ২২ শতাংশ। এই প্রতিবেদন  তৈরিতে যারা যুক্ত ছিলেন, তারা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগই  এই সঙ্কটের জন্য অনেকটা দায়ী। জাতিসংঘ খাদ্য ও কৃষি সংস্থা, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি, ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল সম্মিলিতভাবে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করিয়েছে। গবেষকরা বলছেন, বিশ্বের জলবায়ু চরমভাবাপন্ন হয়ে উঠেছে, বেড়ে গেছে বন্যা, তাপদাহ, ঝড়, খরা। আর তা ক্ষুধা মেটানোর শস্য উৎপাদন ব্যাহত করছে। তারা বলছেন, যেসব দেশে শস্য উৎপাদন প্রধানত বৃষ্টির পানির উপর নির্ভরশীল, বৃষ্টিপাতের তারতম্য সেসব দেশে পরিস্থিতি চরম অবস্থায় পৌঁছেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের এই প্রভাবের সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে যুদ্ধ ও সহিংসতাও ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। এই সঙ্কট থেকে উত্তরণে বিশ্বের দেশগুলোর সমন্বিত চেষ্টা চালানোর উপর জোর দেওয়া হয় প্রতিবেদনে। এই প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়া অক্সফামের রবিন উইলোবি বিবিসিকে বলেন, “এটা খুবই হতাশাজনক যে বিশ্বজুড়ে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা কমে আসার পর এখন পরপর তিন বছর তা আবার বাড়ছে। “এটা এখন স্পষ্ট যে জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাব বিশ্বের অনেক মানুষকে তার পর্যাপ্ত খাবার পাওয়া থেকে বঞ্চিত রাখছে। যে সব দেশ বন্যা, খরা হচ্ছে, সেব দেশেই পরিস্থিতি ভয়াবহ।” জাতিসংঘের পরিসংখ্যান ক্ষুধাপীড়িত এই মানুষের জন্য জরুরি সহায়তার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে মন্তব্য করে অক্সফাম কর্মকর্তা বলেন, “আমাদের রাজনীতিকদের এখন জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের পথ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় গরিব দেশগুলোকে সহায়তা দিতে হবে।”

কুষ্টিয়া পৌরসভায় টিএলসিসি’র গঠন কার্যপরিধি বিষয়ক প্রশিক্ষণ

কুষ্টিয়া পৌরসভায় নগর সমন্বয় কমিটি টিএলসিসি’র গঠন কার্যপরিধি বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সকালে কুষ্টিয়া পৌরসভার ম. আ. রহিম মিলনায়তনে কুষ্টিয়া পৌরসভার আয়োজনে টিএলসিসি’র গঠন কার্যপরিধি বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রশিক্ষণের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়া পৌরসভার মেয়র আনোয়ার। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তৃতীয় নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নতিকরণ (সেক্টর) প্রকল্পের কমিউনিটি মটিসিপেশন এন্ড ইনক্লুসিভ পেভেলোপমেন্ট স্পেশালিষ্ট আজাহার আলী, ট্রেনিং স্পেশালিষ্ট জাফরুল কুদ্দুস। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া পৌরসভার কাউন্সিলর শাহানাজ সুলতানা (বনি), নুরজাহান, রীনা নাসরিন, তাসলিমা খাতুন, সামসুন্নাহার (মায়া), রবিউল ইসলাম, খন্দকার মাজেদুল হক, খান এ করিম অকুল, নজরুল ইসলাম, সাবাউদ্দিন সওদাগর, ওলিউল্লাহ, ইসলাম শেখসহ টিএলসিসি কমিটি’র সদস্যবৃন্দ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন কুষ্টিয়া পৌরসভার সচিব কামাল উদ্দিন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

কুষ্টিয়ায় ৪৭তম জাতীয় গ্রীস্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার ফুটবল ফাইনালে আসলাম হোসেন

ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক উন্নয়ন ও সাফল্য অর্জনে আমাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন বলেছেন, ক্রীড়াঙ্গনের আমাদের দেশ বেশ এগিয়ে। আর এই ধারবাহিকতা রক্ষায় আমাদের আরো বেশি উদ্যোগী হতে হবে। গতকাল বুধবার বিকেলে কুষ্টিয়া ষ্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ৪৭তম জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা গ্রীস্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার ফুটবলের ফাইনাল খেলা শেষে পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। জেলা প্রশাসক বলেন, আমাদের দেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। সামগ্রীক উন্নয়নের পাশাপাশি ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক উন্নয়ন ও সাফল্য অর্জন আমাদের সাহসিকতা বৃদ্ধি করেছে। জেলা শিক্ষা অফিসার জায়েদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তরফদার সোহেল রহমান, শহর আওয়ামীলীগের সভাপতি তাইজাল আলী খান, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারন সম্পাদক পিপি এ্যাড. অনুপ কুমার নন্দী, সংস্থার সহসম্পাদক খন্দকার ইকবাল মাহমুদ, জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক এফতেখায়রুল ইসলাম, এ্যাড, শরীফ উদ্দিন রিমন প্রমুখ। গতকাল বালিকা এবং বালকদের জেলা পর্যায়ের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়।

বালিকাদের প্রথম খেলায় অংশ নেয় ভেড়ামারা আফসার উদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয় বনাম খোকসা জানিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়। জানিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৭-০গোলের বড় ব্যবধানে আফসার উদ্দিন স্কুলকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। বালকদের ফাইনাল খেলায় কুমারখালী এম.এন পাইলট স্কুল ১-০ গোলে জয়ী হয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। বিজয়ী দলের পক্ষে একমাত্র গোল করেন রুবেল। বালিকা দলের  ম্যান অব দ্যা টুর্নামেন্ট পুরস্কার লাভ করে আয়েশা খাতুন জানিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের। একই স্কুলের বন্যা খাতুন ম্যান অব দি ম্যাচ পুরস্কার এবং সেরা গোলদাতার পুরস্কার লাভ করে একই স্কুলের আম্বিয়া খাতুন।

বালকদের খেলায় ম্যান অব দি ম্যাচ রুবেল ও সেরা গোলদাতার পুরস্কার লাভ করে কুমারখালী এম.এন পাইলট স্কুলের বিপুল হোসেন এবং সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার লাভ করে একই স্কুলের ইমন। খেলা শেষে বিজয়ী দলের হাতে ক্রেষ্ট ও পদক তুলে দেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, ফুটবলে আবারো জাগরণ শুরু হয়েছে। আমাদের মেয়েরা বিদেশের মাঠ কাঁপিয়ে তাদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়েছে। দেশের সব স্থানেই ফুটবলের আয়োজন চলছে তারই ধারাবাহিকতায় কুষ্টিয়ায় আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু অনুর্ধ-১৭ গোল্ডকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের কোমলমতি সন্তানদের হাতে বই আর মানষিকতার উন্নয়নে তাদের খেলাধুলার প্রতি আকর্ষন করে তুলতে হবে। তাদের ভয়াল মাদকের থাবা থেকে রক্ষা করতে হবে। তাদের যোগ্যভাবে গড়ে তোলার দায়িত্ব আমাদের। তিনি বলেন, আজকের খেলায় সব খেলোয়াড়ই তাদের নৈপুন্য দেখাতে সক্ষম হয়েছে আগামীতে এরা জেলার সম্মান বয়ে আনবে বলে আশা রাখি। জেলা প্রশাসক এই প্রতিযোগিতার সাথে সম্পৃক্ত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। গতকালের ফাইনাল খেলা উপভোগ করতে বিপুল সংখ্যক দর্শক ষ্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিল। এদিকে গত ১০ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়া জিলা স্কুল মাঠে জেলা পর্যায়ের হ্যান্ডবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বালকদের খেলায় জিলা স্কুল চ্যাম্পিয়ন ও  ভেড়ামারা পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় রানার আপ হয়। হ্যান্ডবল বালিকা চ্যাম্পিয়ন ভেড়ামারা আফসার উদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয় রানারআপ হয় দৌলতপুর নাসির উদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। কাবাডি চ্যাম্পিয়ন বালকদলে কুমারখালী এম.এন মাধ্যমিক বিদ্যালয় রানারআপ মিরপুর নাজমুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসা।  কাবাডি বালিকা চ্যাম্পিয়ন পান্টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, রানারআপ বড়গাংদিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়। এছাড়া সাঁতার প্রতিযোগিতা বালক এবং বালিক গ্র“পে ৯টি করে ইভেন্টে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সাঁতারে প্রথম এবং দ্বিতীয় স্থান অধিকারীরা খুলনায় বিভাগীয় পর্যায়ের খেলায় অংশগ্রহনের সুযোগ লাভ করেছে। আগামী ২২ ও  ২৩ সেপ্টেম্বর খুলনার বিভিন্ন ভেন্যুতে গ্রীস্মকালীন প্রতিযোগিতার বিভাগীয় পর্যলে খেলা অনুষ্ঠিত হবে।

সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে কমিশনকে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিবে

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনে নির্বাচন কমিশনকে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করবে। প্রধানমন্ত্রী গতকাল বুধবার তাঁর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সদস্য মো. মনিরুল ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন তাদের অর্পিত সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের সকল কার্যক্রম গ্রহণ করবে বলে সরকার প্রত্যাশা করে। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে নির্বাচন পরিচালনা করতে পারে। নির্বাচন কমিশনের ব্যবস্থাপনায় দেশের জনগণ সুষ্ঠুভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে। সুষ্ঠুভাবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনের চাহিদা অনুসারে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করার জন্য জনবলের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য কমিশনের চাহিদা অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি সংবিধানের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলসমূহের সঙ্গে আলোচনাক্রমে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের লক্ষ্যে ৬ সদস্য বিশিষ্ট একটি সার্চ কমিটি গঠন করেছিলেন। শেখ হাসিনা বলেন, সার্চ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি ১ জন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং ৪ জন নির্বাচন কমিশনারের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন।

বিএসইসি’র রজত জয়ন্তীর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

গত সাড়ে ৯ বছরে আমরা দেশের প্রতিটি সেক্টরে অভাবনীয় উন্নয়ন করেছি

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুঁজি বাজারের উন্নয়নে ৭ দফা সুপারিশমালা বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণে বিএসইসি সহ পুঁজি বাজার সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি অর্থনীতিকে বেগবান, বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থায়নের ক্ষেত্রে পুঁজিবাজারের অবদান বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগকারীর সুরক্ষা নিশ্চিতকরণের জন্য বিএসইসিসহ পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সবাইকে যথাযথ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানাই।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বুধবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) এর রজত জয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশগুলো হচ্ছে-দীর্ঘমেয়াদী অর্থায়নের উৎস হিসেবে বন্ড মার্কেটের উন্নয়ন,নতুন নতুন প্রোডাক্ট চালুকরণের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীর পছন্দের বাসকেট (ঝুলি) সম্প্রসারিত ও বৈচিত্রময় করা, নতুন প্রোডাক্ট চালু করার পূর্বে তার পরিচিতি, পরিচালন প্রক্রিয়া ও কৌশল সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সকলকে অবহিতকরণ এবং বিএসইসির প্রশিক্ষণ একাডেমির কার্যক্রম জোরদার করে সর্বস্তরে বিনিয়োগ শিক্ষা বিস্তৃতকরণ। সেই সাথে-আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে পুঁজিবাজারের ভূমিকা ও গুরুত্ব, অন্যান্য সেক্টরের সাথে পুঁজিবাজারের আন্তঃসম্পর্ক ইত্যাদি নানা বিষয়ে সেমিনার, ওয়ার্কশপ এবং আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা এবং ভেঞ্চার ক্যাপিটালের অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত কোম্পনিসহ ক্ষুদ্র ও মাঝারি মূলধনী কোম্পানির শেয়ার লেনদেন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্মল ক্যাপ র্বোর্ড চালু করা। তিসি সকল ধরনের অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিকতরণের পাশাপাশি সর্বত্র স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করাসহ উল্লেখিত সকল কর্মসূচি ও কার্যক্রম যথাযথভাবে বাস্তবায়নে সকলকে একযোগে কাজ করারও আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আমি নিশ্চিত, এসব কর্মকান্ড বাস্তবায়িত হলে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে এবং দেশের অগ্রগতির ধারা আরও বেগবান হবে।’ শেখ হাসিনা বলেন,‘আমি ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের বলব, যে প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করবেন সে প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে বিনিয়োগ করবেন। বিনিয়োগ করে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হোক, এটা আমরা চাইনা।’ ‘পাশাপাশি কমিশন নিয়ন্ত্রক ও সহায়তাকারী উভয় ভূমিকায় পুঁজিবাজার বিকাশে যে ধারা বজায় রেখেছে তা অব্যাহত রাখবে এবং গতিশীল করবে,’যোগ করেন তিনি। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম এবং বিএসইসি চেয়ারম্যান ড. মো. খায়রুল হোসেনও অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। মন্ত্রী পরিষদ সদস্যবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন ব্যবসায়িক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং কোম্পানীর পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ এবং উচ্চপদস্থ সরকারী কর্মকর্তাবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই বাংলাদেশ সিকিউরিটজি এক্সচেঞ্জ কমিশনের কার্যাবলী নিয়ে একটি ভিজুয়াল প্রেজেন্টেশন অনুষ্ঠানে উপস্থাপন হয়। তাঁর সরকার ভবিষ্যতেও পুঁজিবাজার উন্নয়নে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করে যাবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুঁজিবাজার হবে উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী অর্থায়নের এক নির্ভরযোগ্য উৎস। তিনি বলেন,‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ২০৪৩ সালে যখন বিএসইসির সূবর্ণজয়ন্তী পালিত হবে, অর্থনীতির অন্যতম নিয়ামক শক্তি হিসেবে পুঁজিবাজারের অবস্থান আরও বলিষ্ঠতর হবে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, আর্থিক খাতের অন্যতম স্তম্ভ পুঁজিবাজার বিকাশে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছি। ফলে পুঁজিবাজার আজকের স্থিতিশীল অবস্থানে উন্নীত হয়েছে। বিশ্বে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার দ্রুত বিকাশমান ও সম্ভাবনাময় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তিনি এজন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা, স্টক এক্সচেঞ্জ, বিনিয়োগকারীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান। পুঁজি বাজারের বিকাশে তাঁর সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ সমূহের উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, আমরা ইতোমধ্যে বিএসইসি এর নিজস্ব ভবন নির্মাণ করে দিয়েছি। আইনি সংস্কারের মাধ্যমে কমিশনের কর্মকর্তাদের পদ-মর্যাদা ও বেতন-ভাতাদিসহ অন্যান্য সুবিধা বাংলাদেশ ব্যাংকের সমমানের করেছি। কমিশনের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধি করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি। তিনি বলেন, কমিশনের আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের কর্মকান্ডের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে আইনি বিধান রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, কমিশনে কর্মরত সকলের জন্য দেশে-বিদেশে উন্নততর প্রশিক্ষণসহ নানাবিধ সেমিনার ও ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করায় বিশ্বে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার দ্রুত বিকাশমান ও সম্ভাবনাময় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি স্থিতিশীল, স্বচ্ছ, জবাবদিহিতামূলক পুঁজিবাজার গড়ে তুলতে তাঁর সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যার মধ্যে রয়েছে-তালিকাভুক্ত কোম্পানির সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ, ডিমিউচুয়ালাইজেশনের মাধ্যমে স্টক এক্সচেঞ্জের কর্মকান্ডে গতিশীলতা আনয়নের পাশাপাশি সুশাসন নিশ্চিত করা। শেয়ার বাজারে লেনদেনে কারচুপি ও অনিয়ম শনাক্তকরণ ও যথাযথ নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নেওয়া এবং ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রণীত প্রণোদনা প্যাকেজ এর সফল বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা। সেইসাথে তাঁর সরকার পুঁজিবাজার সংক্রান্ত মামলাসমূহ দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে স্পেশাল ট্রাইবুনাল এর কার্যক্রম চালু করেছে, আর্থিক প্রতিবেদনের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য ফাইনানসিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি) গঠন করা হয়েছে এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (অলটারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট) রুলস-২০১৫ এর মাধ্যমে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও প্রাইভেট ইক্যুইটিতে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, বলেন তিনি। ফলে তথ্য-প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট হচ্ছে এবং বিএসইসি পেয়েছে ‘এ’ ক্যাটাগরির নিয়ন্ত্রক সংস্থার সম্মান। বেড়েছে বৈদেশিক বিনিয়োগ এবং আমাদের বাজারের প্রতি ভারত, চীনসহ অন্যান্য দেশের আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অব ইন্ডিয়া (এসইবিআই) এবং বিএসইসি’র মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। চীনের কনসোর্টিয়াম ইতোমধ্যে কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এ অন্তর্ভুক্তিতে পুঁজিবাজারের গভীরতা বাড়ার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীসহ, স্টেকহোল্ডার ও সংশ্লিষ্ট সকলে উপকৃত হবেন, বলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা জাতির পিতার আর্দশকে অনুসরণ করে মানুষের কল্যাণে কাজ করি। যখনই সরকার গঠন করেছি, মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করেছি। আমাদের লক্ষ্যই হল দেশের সার্বিক উন্নয়ন। তিনি বলেন, ২০০৯ সালে আবারও সরকার গঠন করার পর থেকে, গত সাড়ে ৯ বছরে আমরা দেশের প্রতিটি সেক্টরে অভাবনীয় উন্নয়ন করেছি। বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। প্রধানমন্ত্রী এ সময় দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের উল্লেখযোগ্য অংশ তুলে ধরে উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি তাঁর রাজনৈতিক অঙ্গীকার ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের বাংলাদেশ এবং ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সকলকে একযোগে কাজ করে যাবারও আহবান জানান। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত তার বক্তৃতায় বলেন, দেশের পুঁজিবাজার সত্যিকারভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ায় সরকার এখন সন্তুষ্টি অনুভব করতে পারে। ‘এই অগ্রগতি কোনভাবে ব্যাহত করা যাবে না।’ মুহিত বলেন, বাংলাদেশের পুঁজিবাজার স্বীকৃতি অর্জন করেছে এবং বিশ্বের কাছে পুঁজিবাজারের অবস্থান সমুন্নত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘পরবর্তী দুই বছরের জন্য চলমান পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে এবং আমরা আশা করি যখন পদক্ষেপসমূহের বাস্তবায়ন সম্পন্ন হবে তখন দেশে সত্যিকারের পুঁজিবাজার সুপ্রতিষ্ঠত হবে এবং আমরা এ জন্য গর্ব অনুভব করতে পারবো।’

দুবাই যাচ্ছেন মৌসুমী-ওমর সানী

বিনোদন বাজার : চিত্রনায়িকা মৌসুমী ও চিত্রনায়ক ওমর সানীর ভক্ত পুরো দেশজুড়ে। দেশের পাশাপাশি বিদেশেও রয়েছে তাদের অসংখ্য প্রবাসী ভক্ত। প্রবাসী এ বাঙালিদের আনন্দ দিতে এবার দুবাই যাচ্ছেন এই জুটি। আগামীকাল দুবাইয়ে একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন জনপ্রিয় এই দুই তারকা।এ প্রসঙ্গে চিত্রনায়িকা মৌসুমী বলেন, ‘প্রবাসী বাঙালিরা বাংলা সিনেমা, নাটক ও গান নিয়মিত দেখেন। তারা আমাকে কতটা পছন্দ করেন তাদের সাথে কথা না বললে বোঝা যায় না। তাই প্রবাসীদের জন্য যেকোনো আয়োজনে না করতে পারি না। আগামীকাল দুবাইয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তার পরদিনই হয়তো ঢাকায় ফিরবো।’ অনুষ্ঠানটি প্রসঙ্গে ওমর সানী বলেন, ‘এসব অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে ভালোই লাগে। অনেকেই অনুষ্ঠানটিতে অংশ নেবেন। ’ মৌসুমি-ওমর সানী ছাড়াও এই অনুষ্ঠানে চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস, কণ্ঠশিল্পী প্রতীক হাসান, তাসনিম আনিকা, কমেডিয়ান আবু হেনা রনি অংশ নেবেন।

অ্যান্টিবায়োটিকের বিকল্প মেডিসিনাল উদ্ভিদ উদ্ভাবন

কৃষি প্রতিবেদক ॥ সম্প্রতি ঘাসজাতীয় মেডিসিনাল উদ্ভিদ খাওয়ানোর মাধ্যমে গবাদিপশু মোটাতাজাকরণে সফলতা পেয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) পশুপুষ্টি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-মামুন। উদ্ভাবিত প্লানটেইন বহুবর্ষজীবী ঘাস খাওয়ালে কোনো বিরূপ প্রভাব ছাড়াই প্রাণীর দেহ মোটাতাজা হবে। ঘাসটি খাওয়ানোর মাধ্যমে প্রাণীর মাংস বৃদ্ধির পাশাপাশি মাংস কম চর্বিযুক্ত হয় যা আমাদের সুস্বাস্থ্যের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ। তার এ গবেষণাটি অ্যানিমাল জার্নালসহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। আমরা জানি, শরীর গঠন, বৃদ্ধি সাধন ও ক্ষয়পূরণে আমিষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। খাদ্যের ছয়টি উপাদানের মধ্যে আমিষ অন্যতম, যা আমরা উদ্ভিদ ও প্রাণী থেকে পেয়ে থাকি। তবে প্রাণিজ আমিষ উদ্ভিজ্জ আমিষের চেয়ে উৎকৃষ্ট। মাংস, দুধ এবং ডিম প্রাণিজ আমিষের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। দেশে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার প্রয়োজনীয় প্রোটিনের চাহিদা পূরণে গবাদিপশু মোটাতাজাকরণের লক্ষ্যে আশির দশকে শুরু হয়েছিল গ্রোথ প্রোমোটার অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার। কিন্তু গ্রোথ প্রোমোটারের ক্ষতিকারক দিক সম্পর্কে এখন মানুষ অনেক সচেতন। কারণ কৃত্রিম অ্যান্টিবায়োটিক গ্রোথ প্রোমোটার ব্যবহারের ফলে প্রাণিদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পায়। অপরদিকে প্রাণী থেকে উৎপাদিত পণ্য মাংস, দুধ ও ডিম ভক্ষণের ফলে মানুষের মধ্যেও ক্ষতিকারক রেসিডিউয়াল প্রভাবে মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পায়। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য বিজ্ঞানীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে ক্ষতিকারক অ্যান্টিবায়োটিক গ্রোথ প্রোমোটারের বিকল্প হিসেবে এই উদ্ভাবন গবাদিপ্রাণী মোটাতাজাকরণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তাছাড়া প্রাণিজ আমিষ ভক্ষণের ফলে মানবদেহেও কোনো ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে না। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে গবেষক ড. আল-মামুন বলেন, সাধারণ ঘাসের তুলনায় প্লানটেইন ঘাসের মধ্যে অধিক পরিমাণ ভিটামিন ‘সি’ এবং ‘ই’ আছে, যা ত্বকের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এছাড়া এর মধ্যে এমন কিছু বায়ো অ্যাকটিভ উপাদান আছে যা সাধারণ ঘাসে নেই। অ্যান্টি অক্সিডেন্ট হিসেবেও রয়েছে ঘাসটির চমৎকার কার্যক্ষমতা, যা ফ্রি র‌্যাডিকেলের কার্যকারিতা বন্ধ করে প্রাণিদেহের কোষ ধ্বংস হওয়া থেকে রক্ষা করে।  রোমন্থক প্রাণী, যেমন- গরু, মহিষ, ভেড়া, ছাগল ইত্যাদিকে স্বাভাবিক খাবারের সঙ্গে খুব সামান্য পরিমাণে (পোল্ট্রিতে ১ শতাংশ, ভেড়া ও ছাগলে ৪ শতাংশ, গরু ও মহিষে ৫ থেকে ১০ শতাংশ) ফ্রেশ প্লানটেইন এবং এর পাউডার মিশিয়ে খাওয়ালে প্রাণীর হিট স্ট্রেস কমিয়ে প্রোটিনের সিনথেসিস বাড়িয়ে দেয়। ড. আল-মামুন আরো বলেন, ঘাসটি উচ্চ অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ক্ষমতাসম্পন্ন হওয়ায় মাংসের উৎপাদন, স্বাদ ও রঙ বৃদ্ধি পায় এবং পচনরোধ করে। এটি হরমোনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে দুগ্ধবতী ও গর্ভবতী প্রাণীর দুধের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ায় এবং সুস্থ-সবল বাচ্চা জন্ম দিতে সক্ষম হয়। একই সঙ্গে ফ্যাটি অ্যাসিডের (ওমেগা-৬ এবং ওমেগা-৩) অনুপাত কমাতে সহায়তা করে। এমন প্রাণিজ আমিষ গ্রহণে মানুষের হার্ট ভালো থাকে। বয়স ধরে রাখতে সহায়তা করে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও আয়ুষ্কাল বাড়ায়। রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। ক্যানসার ও অটিজম প্রতিরোধ করে। চাষাবাদ সম্পর্কে গবেষক বলেন, ঘাসটি শীতপ্রধান অঞ্চলের উদ্ভিদ। ৬ থেকে ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে। তবে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সবচেয়ে বেশি ঔষধি গুণাগুণ থাকে। নভেম্বরের শুরুতে বীজ ছিটিয়ে দিলে তেমন কোনো যতœ ছাড়াই এটি যে কোনো ধরনের মাটিতে জন্মায়। বীজ বপনের ৪৫-৫৫ দিন পর প্রথম কাটিং দেওয়া যায়। এর এক মাস পর দ্বিতীয় কাটিং, দ্বিতীয় কাটিংয়ের এক মাস পর তৃতীয় কাটিং দেওয়া যায়। মেধাবী ও সুস্থ জাতির জন্য প্রাণিখাদ্যে মেডিসিনাল উদ্ভিদ ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি। অর্গানিক পদ্ধতিতে প্রাণিজ সম্পদের উৎপাদন বৃদ্ধিতে প্রাণিজ খাদ্য হিসেবে উদ্ভিদটি আলাদা গুরুত্ব বহন করে। গ্রোথ প্রোমোটারের বিকল্প কিছু আবিষ্কার ও ব্যবহারে গবেষকদের সার্বিক সহযোগিতা করার দাবি জানানো হয় সরকারের কাছে। ঘাসটি যদি মাঠপর্যায়ে চাষাবাদের মাধ্যমে কৃষকের কাছে সুলভ মূল্যে দেওয়া যায়, তাহলে প্রাণিজ সম্পদ থেকে নিরাপদ আমিষ পাওয়া সম্ভব হবে বলে গবেষকদের আশাবাদ।

লেখক ঃ শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ

আলমডাঙ্গায় বঙ্গবন্ধু অনুর্ধ্ব-১৭ গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল গাংনি চ্যাম্পিয়ন

আলমডাঙ্গা অফিস  ॥ আলমডাঙ্গার পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় ফুটবল মাঠে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অনুর্ধ্ব-১৭ জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বিকেলে গাংনি ইউনিয়ন একাদশ বনাম খাসকররা ইউনিয়ন একাদশের মধ্যে ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। খেলার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কাজী খালেদুর রহমান অরুন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাহাত মান্নানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ইয়াকুব আলী মাস্টার, উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি সীমা শারমীন, চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার  নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেড  খাইরুল ইসলাম, আমজাদ হোসেন, শিবানী সরকার, জান্নাতুল ফেরদৌস, খাসকররা ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান রুন্নু, গাংনী ইউপি চেয়ারম্যান আবু তাহের আবু, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সেক্রেটারী খন্দকার, জিহাদী জুলফিকার টুটুল, সাবেক ফুটবলার আব্দুর রহিম, আব্দুর রশিদ। মুক্তিযোদ্ধা নূর মোহাম্মদ জকু ও মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকীর উপস্থাপনায় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা অফিসার মৃনাল কান্তি সরকার, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল বারী, সমাজ সেবা অফিসার আফাজ উদ্দিন, যুব উন্নয়ন অফিসার আনিসুর রহমান, মৎস্য অফিসার জেডএম তৌহিদুর রহমান হেলাল, পৌর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, পরিসংখ্যন অফিসার রকিবুল ইসলাম। খেলা পরিচালনা করেন শরিফুজ্জামান লাকি, মহাসিন কামাল, আবুল হাসান, মুসফিকুর রহমান মুনসুর, আব্দুস সালাম।  ফাইনালে গাংনি ইউনিয়ন একাদশ ২-১ গোলে খাসকররা ইউনিয়নকে পরাজিত করে উপজেলা চ্যাস্পিয়ন হবার গৌরব অর্জন করে।

 

গাংনীতে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্ণামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্ণামেন্ট (অনূর্ধ্ব-১৭)-এর উপজেলা পর্যায়ের আন্তঃ ইউনিয়ন ফুটবল প্রতিযোগিতার  ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার  বিকেলে গাংনী হাইস্কুল ফুটবল মাঠে ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়।  ক্রীড়া মন্ত্রনালয়ের সহযোগিতায় গাংনী উপজেলা প্রশাসন এ টুর্ণামেন্টের আয়োজন করে। খেলায় ধানখোলা ইউনিয়ন ফুটবল একাদশ ২-১ গোলে মটমুড়া ইউনিয়ন ফুটবল একাদশকে পরাজিত করে- উপজেলা পর্যায়ের সেরাদল হিসাবে জেলা পর্যায়ে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। টুর্ণামেন্ট আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও টুর্ণামেন্ট পরিচালনা কমিটির সভাপতি বিষ্ণুপদ পাল। প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে খেলা উপভোগ করেন মেহেরপুর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শেখ ফরিদ আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন মেহেরপুর জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক এমএ খালেক, গাংনী থানার ওসি (তদন্ত) সাজেদুল ইসলাম, মেহেরপুর আইনজীবী সমিতির সভাপতি  একে এম শফিকুল আলম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, গাংনী পৌরসভার প্যানেল মেয়র নবীরুদ্দীন, কাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের  চেয়ারম্যান রাহাতুল্যা বিশ্বাস, কাথুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান রানা, ধানখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আখেরুজ্জামান, সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম সরোয়ার, মটমুড়া ইউনিয়ন পরিষদের তরুণ চেয়ারম্যান সোহেল আহমেদ, তেঁতুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম, মেহেরপুর জেলা পরিষদের সদস্য শওকত আলী, গাংনী সরকারী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফুজ্জামান লালু, মেহেরপুর জেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়াসিম সাজ্জাদ লিখন, সাবেক ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব আতর আলী, রাইপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান, ছাত্রলীগ নেতা বিপ্লব হোসেন, সাবেক ফুটবলার নাজমুল হক নাজু, সেন্টু মিয়া প্রমুখ।

খেলার প্রথম অধ্যায়ে ধানখোলা ফুটবল একাদশের ৯ নং জার্সি পরিহিত খেলোয়াড় সাগর পরপর ২টি গোল করে দলকে এগিয়ে নেন। পরে দ্বিতীয় অধ্যায়ের মাঝামাঝি সময়  মটমুড়া ইউনিয়ন ফুটবল একাদশের খেলোয়াড় ১টি গোল করেন। খেলায় ম্যান অব দ্যা ম্যাচ মনোনিত হয় ধানখোলা ইউনিয়ন একাদশের খেলোয়াড় আবু সাঈদ। এবং ম্যান অব দ্যা টুর্ণামেন্টে হিসাবে মনোনিত হয় একইদলের খেলোয়াড় সাগর। গাংনীর আহসান খেলাঘরের পক্ষ থেকে ম্যান অব দ্যা ম্যাচ ও ম্যান অব দ্যা টুর্ণামেন্টেকে ক্রেষ্ট উপহার দেয়া হয়। খেলাটি প্রধান রেফারী হিসাবে পরিচালনা করেন,বাফুফের রেফারী আব্বাস আলী, সহকারী রেফারী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন, জোড়পুকুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক আব্দুল হান্নান ও গাংনী সিদ্দিকীয়া সিনিয়র মাদ্রাসার ক্রীড়া শিক্ষক আহসান হাবিব। অফিসিয়াল রেফারীর দায়িত্ব পালন ও খেলার ফলাফল-রেকর্ড সংরক্ষণ করেন সাংবাদিক ও বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদ আমিরুল ইসলাম অল্ডাম ।

৪র্থ বিকেএসপি কাপ সাঁতার প্রতিযোগিতা-২০১৮

আমলা সুইমিং ক্লাব রানার আপ

আমলা অফিস ॥ ৪র্থ বিকেএসপি কাপ সাঁতার প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিযোগিতায় কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা সুইমিং ক্লাব রানার আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। এ খেলায় আমলা সুইমিং ক্লাব ৫টি স্বর্ণপদক অর্জন করেছে। গত ৮, ৯ এবং ১০ সেপ্টেম্বর বিকেএসপি’র উদ্যোগে বিকেএসপি সুইমিং পুলে এ সাঁতার প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে আমলা সুইমিং ক্লাব বিভিন্ন সাফল্যের মাধ্যমে তাদের সুনাম অর্জন করেছে। সেই সুনাম অক্ষুন্ন্য রেখেছে আমলা সুইমিং ক্লাব। আমলা সুইমিং ক্লাবের সাধারন সম্পাদক ও সাঁতার কোচ কামাল হোসেন জানান, আমলা সুইমিং ক্লাব তার সুনাম অক্ষুন্ন্য রেখেছে। দেশের মধ্যে তথা দেশের বাইরেও এখানকার সাঁতারুরা সাফল্য অর্জন করেছে। সম্প্রতি ৪র্থ বিকেএসপি কাপ সাঁতার প্রতিযোগিতা-২০১৮ তে আমলা সুইমিং ক্লাবের সাঁতারুরা রানার আপ হয়েছে। এসময় তারা ৫টি স্বর্ণ পদক অর্জন করেছে। জয়ীরা হলো- মুক্তা খাতুন তিনটা স্বর্ণ, তিনটা রৌপ্য, একটি ব্রোঞ্চ, আল আমিন একটি স্বর্ণ এবং সুমাইয়া একটি স্বর্ণপদক  অর্জন করেছে। আরিফ আলী, নাহিদা খাতুন, লিখন, রবিনসহ আমলা সুইমিং ক্লাব ৫টা স্বর্ণ, ৪টা রৌপ্য এবং ৮টা ব্রোঞ্চ অর্জন করেছে। অপরদিকে উপজেলার সাগরখালী সুইমিং ক্লাব উক্ত প্রতিযোগিতায় ৫টি স্বর্ণপদক এবং একটি রৌপ্য  পদক অর্জন করেছে। এর মধ্যে মীম আক্তার দুইটি ও এ্যানি খাতুন ৩টি স্বর্ণ পদক অর্জন করেছে।

আসছে পপির ‘কাট পিছ’

বিনোদন বাজার :  শাকিব খান ও অপু বিশ্বাসকে নিয়ে ‘রাজনীতি’ ছবিটি নির্মাণ করে আলোচনায় এসেছিলেন পরিচালক বুলবুল বিশ্বাস। এবার নতুন ছবি শুরু করছেন তিনি। ডিসেম্বর থেকে শুরু করছেন ‘কাট পিছ’ চলচ্চিত্রের কাজ। সম্প্রতি নিজের ফেসবুকে ছবির একটি পোস্টার আপ করেছেন। পোস্টারে আবেদনময়ী ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছেন নায়িকা পপি। তাঁকে জড়িয়ে ধরে আছে একটি ছেলে, যার মুখ দেখা যাচ্ছে না। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে এরইমধ্যে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে পোস্টারটি। পোস্টার নিয়ে পরিচালক বুলবুল বিশ্বাস বলেন, আমি আসলে চেয়েছিলাম নায়িকা পপির জন্মদিনে একটা সারপ্রাইজ দিতে। সেই হিসাব করেই পোস্টারটি আমি ফেসবুকে আপ করেছি। এই পোস্টার নিয়ে যে পরিমাণ আলোচনা হচ্ছে, এতে করে মনে হচ্ছে ছবিটিও আলোচনায় আসবে। আমি এর আগে ‘রাজনীতি’ ছবিটি নির্মাণ করেছিলাম। তখন দুটি পরিবারের ‘রাজনীতি’ তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। ‘কাট পিছ’ ছবির কাহিনি বিষয়ে বুলবুল বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা এখন কথায় কথায় বলি একসময় আমাদের দেশে অশ্লীলতা বেড়ে গিয়েছিল। যে কারণে সাধারণ দর্শক সিনেমা হল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। আবার সেই সময়ে বেশ কিছু শিল্পী কাজ করেছেন, যাঁরা এখন আর চলচ্চিত্রে কাজ করছেন না। আবার অনেকেই এফডিসিতে এলেও গণমাধ্যমের কাছে মুখ খুলছেন না। আমি ওই সময়টা নিয়ে এতদিন গবেষণা করেছি। সেই অনুযায়ী গল্প ও চিত্রনাট্য তৈরি করছি। এবং এই ছবির মাধ্যমে অশ্লীলতার সেই সময়ের কিছু গল্প আমি এই ছবির মাধ্যমে তুলে ধরব।’

ছবিতে অশ্লীলতা প্রসঙ্গে বুলবুল বিশ্বাস বলেন, ‘এমন পোস্টার করেছি ছবির বিষয়টি তুলে ধরার জন্য। কিন্তু ছবিতে কোনো অশ্লীলতা থাকবে না। তবে অশ্লীল সময়ের কর্মকা-গুলো থাকবে। আসলে এখন মানুষের রুচি চেঞ্জ হয়েছে। মানুষ গঠনমূলক ছবি দেখতে চায়। শুধু অশ্লীলতা দিয়ে মানুষকে বিনোদন দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ মানুষ এখন স্মার্টফোন ব্যবহার করেন। সেখানে সার্চ দিলেই অশ্লীল অনেক কিছুই দেখা যায়। এখন যদি আমি অশ্লীল ছবি নির্মাণ করি, তাহলে দর্শক তা দেখবে না। আমার এই ছবির গল্প ও মেকিং দর্শক পছন্দ করবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।’ ছবির শুটিং ডিসেম্বর থেকে শুরু হবে বলে জানিয়েছেন পরিচালক। এতে মূল ভূমিকায় অভিনয় করবেন নায়িকা পপি। বাকি চরিত্রে কারা কাজ করবেন, তা এখনো ঠিক হয়নি। তবে দ্রুতই শিল্পীদের নাম প্রকাশ করা হবে বলে জানান পরিচালক।

এবার আরব আমিরাতে…

বিনোদন বাজার :   এই তো সবে সবে কানাডা থেকে ফিরলেন। আর ফিরেই নাকি ছুটছেন আরব শেখদের দেশে। ঢাকাই ছবির নায়ক নিরব। ক’দিন আগেই ফিরলেন কানাডা থেকে। সেখানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের যেমনি শুনেছেন হৃদয়ের আড়ালে রক্তক্ষরণের গল্প, প্রবাস জীবনের হাহাকারের গল্প। তেমনি শুনেছেন সফল মানুষদের গল্প, কীভাবে বাংলাদেশিরা সফল হয়ে উঠলো দূর পরবাসে। আর এসব দেখা যাবে এটিএন বাংলার স্ক্রিনে। এবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বাংলাদেশিদের কথা শুনবেন। তাদের সফলতার গল্প ক্যামেরাবন্দী হবে। আর এজন্য আজ রওনা হচ্ছেন দুবাইয়ের পথে। তার আগে অবশ্য ১৪ তারিখ অর্থাৎ পরশুদিন শারজাহ নগরীর শারজাহ এক্সপো সেন্টারে তুর্য নাসিরের তত্ত্বাবধানে একটি অনুষ্ঠানে পারফর্ম করবেন।

নিরব বলেন, ‘রাজকামাল প্রেজেন্টস প্রবাসে দেশপ্রেম অনুষ্ঠান শুরু করবো। ১৫ তারিখে এশিয়া কাপের  বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচ দেখবো স্টেডিয়ামে বসে। এরপরেই শুরু হবে আমাদের প্রবাসী বাংলাদেশিদের সাফল্য সন্ধান।’ টানা ১৫ দিনের এই সফর শেষে মাসের শেষে দেশে ফিরবেন বলে জানান এই চিত্রনায়ক।

‘ধুম ফোর’ ছাড়ার কারণ জানালেন সালমান

বিনোদন বাজার :  ‘ধুম’ ফ্রাঞ্চাইজির চতুর্থ কিস্তিতে সালমান খানের অভিনয় করা কথা ছিলো। কিন্তু সিনেমাটি থেকে তিনি সরে দাঁড়িয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে অনলাইন ও অফলাইনে ব্যাপক চর্চা হচ্ছে। শোনা যাচ্ছে, অভিষেক বচ্চনের জন্য সালমান সিনেমাটি থেকে সড়ে দাঁড়িয়েছেন। কারণ জুনিয়র বচ্চনের সঙ্গে ‘ভাইজান’ পর্দা ভাগাভাগি করতে চান না। যদিও অভিষেক শুরু থেকেই ‘ধুম’র প্রতিটি পর্বে অভিনয় করে আসছেন। তবে সম্প্রতি একটি টিভি সাক্ষাৎকারে সালমান জানালেন, এই সিনেমায় তার চরিত্রটিতে নেতিবাচক ছায়া রয়েছে। এমন কিছু বিষয়ের জন্য এই চরিত্রে তিনি অভিনয় করতে পারছেন না। আরও জানান, তার অসংখ্য ভক্তদের কাছে নিজেকে তিনি নেতিবাচক ভাবে উপস্থাপন করতে চান না। সাল্লু খলচরিত্রে অভিনয় করা থেকে বিরত থাকতে চান এবং তার ভক্তদের কাছে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছাতে চান। যশরাজ ফিল্মস প্রযোজিত ‘ধুম’র চতুর্থ কিস্তি পরিচালনা করবেন মণীশ শর্মা।    সালমান খান বর্তমানে আলি আব্বাস জাফর পরিচালিত ‘ভারত’ ও টিভি রিয়েলিটি শো বিগ বস নিয়ে ব্যস্ত আছেন। খুব শিগগিরই তিনি ‘দাবাং থ্রি’র কাজ শুরু করতে যাচ্ছেন।

সাব্বির-শিমুর ‘ভালোবাসায় বিসর্গ’

বিনোদন বাজার :  রবিন একজন গার্মেন্টস ব্যবসায়ী। স্ত্রী কেয়া ও ছোটবোনকে নিয়ে তার সুখের সংসার। কেয়ার বড় ভাই-ভাবীর সাথে বিয়ের পর থেকে রবিনের সম্পর্ক ভালো না। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন না বা কোনো প্রয়োজনেও সাহায্য নেন না তিনি। হঠাৎ রবিন ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। তার সচ্ছল পরিবারে সৃষ্টি হয় অভাব-অনটন। যে কারণে কেয়ার সাথে তার সম্পর্কের অবনতি ঘটে, হতাশাগ্রস্থ রবিন কেয়ার সাথে অকারণেই ঝগড়ায় করেন। কেয়া কী করবেন কিছু বুঝে উঠতে পারছেন না। এরপর কী ঘটবে, তা জানা যাবে খ- নাটক ‘ভালোবাসায় বিসর্গ’-এ। আহসান হাবিব সকালের রচনায় নাটকটি পরিচালনা করেছেন ইফতেখার ইফতি। এতে রবিনের চরিত্রে মীর সাব্বির ও কেয়ার চরিত্রে সুমাইয়া শিমু অভিনয় করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় নাটকটি আরটিভিতে প্রচার হবে।

সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে সাম্মানিক ডি-লিট প্রদান

বিনোদন বাজার :  প্রখ্যাত অভিনেতা, নাট্যব্যক্তিত্ব ও আবৃত্তিকার সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বিশেষ অবদান রাখার জন্য সাম্মানিক ডি-লিট প্রদান করেছে কলকাতার প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়। মঙ্গলবার কলকাতার সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নন্দন ৩-এ আয়োজিত এই বিশেষ সমাবর্তন উৎসবে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের হাতে এই সাম্মনিক ডি-লিট তুলে দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অনুরাধা লোহিয়া।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ে হিন্দু হোস্টেল ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলন চলছে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনে আয়োজিত বিশেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠান বাতিল করে তা নন্দন ৩-এ আয়োজন করা হয়। ফলে ২০০ বছর ধরে চলা প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তন উৎসবের প্রথা ভেঙেছে এবার। ডি-লিট গ্রহণ করে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় বললেন, ‘আমার অভিনয় যদি একজনের মুখেও হাসি ফুটিয়ে থাকে, যদি একজনকেও বেঁচে থাকতে সাহায্য করে থাকে, সেটাই আমার শিল্পী সত্তার বড় প্রাপ্তি।’ আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, ‘আমার আর সুযোগ হয়নি প্রেসিডেন্সিতে পড়ার। তাই তো কতকাল তাকিয়ে দেখেছি প্রেসিডেন্সিকে। আমার দাদা প্রেসিডেন্সিতে পড়তেন। কিন্তু আমি পড়ার সুযোগ পাইনি। ছোটবেলা থেকে দেখে এসেছি, সেরা সেরা ছাত্রছাত্রীরাই প্রেসিডেন্সিতে পড়ার সুযোগ পেয়ে আসছে।’ সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় দীর্ঘ ৬০ বছর চলচ্চিত্র, নাটক আর আবৃত্তির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। পেয়েছেন ভারতের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সর্বোচ্চ বেসরকারি রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার’। এ ছাড়া তিনি আটটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পেয়েছেন সাম্মানিক ডি-লিট। পেয়েছেন রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘পদ্মবিভূষণ’, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, সংগীত-নাটক একাডেমি সম্মান, ফিল্মফেয়ার পুরস্কারসহ আরও নানা সম্মান ও পদক। একই অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিএসসি সম্মানে ভূষিত করা হয় ভারতের প্রখ্যাতœবিজ্ঞানী সি এন আর রাওকে।

এক মঞ্চে ফুয়াদ ও অজয় চক্রবর্তী

বিনোদন বাজার : এবার এক মঞ্চে সংগীত পরিবেশন করবেন ভারতীয় উচ্চাঙ্গসংগীতের বিশিষ্ট শিল্পী প-িত অজয় চক্রবর্তী এবং ফুয়াদ অ্যান্ড ফ্রেন্ডস। ২৮, ২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গরাজ্যে তিনটি কনসার্টে অংশ নেবেন তাঁরা। ইতিমধ্যেই ক্যানসার থেকে নিরাময়ের পর জনপ্রিয় কম্পোজার ও শিল্পী ফুয়াদ আল মুক্তাদির তাঁর ‘ফুয়াদ অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ ব্যান্ড নিয়ে বেরিয়েছেন কনসার্ট ট্যুরে। ইতোমধ্যে ৯ সেপ্টেম্বর তাঁরা টেক্সাসে একটি শো করেছেন। একাডেমি অব বাংলা আর্ট অ্যান্ড কালচারের আয়োজনে এই কনসার্টে ফুয়াদের সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে যোগ দেন তার ব্যান্ডের অন্যতম ভোকাল ‘ডি রকস্টার’ শুভ ও বেজ গিটারিস্ট পাভেল। ওই শোতে অতিথি শিল্পী হিসেবে সংগীত পরিবেশন করেন তিথি। ফুয়াদ বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর আমার থাইরয়েড ক্যানসার ধরা পড়ে। দীর্ঘ নয় মাস চিকিৎসাধীন ছিলাম আমি। সুস্থ হওয়ার পর এটাই ছিল আমার ব্যান্ড নিয়ে প্রথম শো।’ ফুয়াদ অ্যান্ড ফ্রেন্ডসের পরবর্তী কনসার্ট অনুষ্ঠিত হবে তিনটি। প্রথম কনসার্টটি ২৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে। উৎসব ডটকমের আয়োজনে এই কনসার্টে তাদের সঙ্গে সংগীত পরিবেশন করবেন ভারতীয় উচ্চাঙ্গসংগীতের বিশিষ্ট শিল্পী প-িত অজয় চক্রবর্তী। ফুয়াদ অ্যান্ড ফ্রেন্ডসের পরবর্তী কনসার্ট ২৯ সেপ্টেম্বর উইনিপ্যাগ এবং ৩০ সেপ্টেম্বর মিনেসোটায়। ফুয়াদ অ্যান্ড ফ্রেন্ডসের লাইনআপে রয়েছে ভোকাল-শুভ, কি-বোর্ড অ্যান্ড ব্যান্ড লিডার-ফুয়াদ আল মুক্তাদির, বেজ গিটার-পাভেল, লিড গিটার-জন, ড্রামস-রিচার্ড।

বিগ বসের পারিশ্রমিক নিয়ে সালমান খানের রেকর্ড!

বিনোদন বাজার :  ভারতের কালার’স টিভির তুমুল জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘বিগ বস’। গত সাত বছর ধরেই অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনা করছেন বলিউডের মেগা তারকা সালমান খান। ‘বিগ বসের’ এমন আকাশচুম্বী সাফল্যের কারণ মূলত সালমানের উপস্থিতি। জল্পনা বাড়ছে আরও একটা বিষয় নিয়ে। এই বছরে সালমান কত টাকা পারিশ্রমিক নিচ্ছেন বিগ বসের জন্য? সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে তা নিয়ে বিস্তর চর্চা চালিয়ে যাচ্ছেন সালমান ভক্তরা। পরিসংখ্যান বলছে, পর্ব প্রতি বেড়েই চলেছে সলমনের পারিশ্রমিক। আর বৃদ্ধির সেই অনুপাতটা দেখে অনেকেরই চক্ষু চড়কগাছ। বলি সূত্র অনুযায়ী, ‘বিগ বস’-এর দ্বাদশ মরসুমেপর্ব পিছু সালমান খান নিচ্ছেন ১৪ কোটি টাকা করে। আর তা যদি সত্যি হয়, তা হলে বলিউডের ভাইজান কিন্তু এই সিজনে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ঘরে নিয়ে যেতে চলেছেন। এই সালমানই ‘বিগ বস’ এ সঞ্চালনা যখন শুরু করেছিলেন, তখন আড়াই কোটি টাকা পারিশ্রমিক নিতেন। চতুর্থ, পঞ্চম আর ষষ্ঠ মৌসুমে আড়াই কোটির বেশি আর যাননি। সপ্তম সিজনে সালমান নেন ৫ কোটি টাকা। গত মৌসুমেই সালমান ঢুকে পড়েন দশের ঘরে। ১১ কোটি টাকা নিয়েছিলেন গত মৌসুমের প্রতি পর্ব। আর এই মৌসুমে একলাফে তিন কোটি টাকা বাড়িয়ে দিলেন সালমান। এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ভারতীয় টিভি রিয়েলিটি শোয়ের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক নেয়া তারকা হতে যাচ্ছেন সালমান খান।