একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি আজিজুর রহমানের ৪০তম মৃতবার্ষিকী আজ

নিজ সংবাদ ॥ আজ ১২ সেপ্টেম্বর কবি আজিজুর রহমানের ৪০তম মৃত্যুবার্ষিকী। এদেশের সর্বোচ্চ সম্মান ‘‘একুশ পদক’’ প্রাপ্ত কবি আজিজুর রহমানের মৃত্যুর ৩৯ বছর পার হলেও সরকারীভাবে তাঁর স্মৃতি সংরক্ষন ও স্মৃতি চারণে নেয়া হয়নি কোন পদক্ষেপ। অবহেলিত অবস্থায় পরে আছে তাঁর বাসত্মভিটা ও সমাহিত চত্বর। একপর্যায়ে নিশ্চিন্ন হতে বসেছে তাঁর সমাধিস্থলসহ সকল স্মৃতিময় স্থান ও কর্মকান্ড। কবি আজিজুর রহমান প্রায় ৩ হাজারের অধিক গান লিখেছেন। তাঁর জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্যঃ ভবের নাট্যশালায় মানুষ চেনা দায়রে। কারো মনে তুমি দিওনা আঘাত, সে আঘাত লাগে কাবার ঘরে। আকাশের ঐ মিটি মিটি তারার সাথে কইবো কথা, নাই বা তুমি এলে। পৃথিবীর এই পান্থশালায়, হায় পথ ভোলা কবি। আমি রুপনগরের রাজকন্যা রুপের জাদু এনেছি। বুঝি না মন যে দোলে বাশির ও সুরে। দেখ ভেবে তুই মন, আপন চেয়ে পর ভালো। পলাশ ঢাকা ককিল ডাকা আমারই দেশ ভাইরে ইত্যাদি। অথচ এই জনপ্রিয় গানগুলো আজ সংরক্ষেনের অভাবে হারিয়ে যেতে বসেছে। তাই কবির গানগুলো সংরক্ষেনের উদ্যোগ নেয়ার জন্য এবং প্রতিবছর সরকারীভাবে জেলা প্রশাসনের তত্বাবধানে কবি আজিজুর রহমানের জন্ম ও মৃত্যু দিবস পালনের জোর দাবী জানান এলাকাবাসী।

উল্লেখ্য, একুশে পদকধারী কবি, গীতিকার ও বেতার ব্যক্তিত্ব আজিজুর রহমান ১৯১৪ সালের ১৮ অক্টোবর কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর গ্রামের জমিদার বংশে জন্ম গ্রহন করেন। তাঁর পিতার নাম-মরহুম বশির উদ্দিন প্রামানিক, মাতার নাম- সবুরুননেছা। গড়াই নদীর নির্সগ সৌর্ন্দয্য তাঁকে সব সময় মোহিত করে রাখত। ১২ বছর বয়সে কবি ১৯২৭ সালে পিতা হারা হন। উচ্চশিক্ষা লাভের ভাগ্য না থাকলেও প্রবল ইচ্ছা ও অনুসন্ধিৎসার ফলে বহু বিষয়ক পুস্তকাদি স্বগৃহে পাঠ করে তিনি একজন স্বশিক্ষিত ব্যক্তিতে পরিনত হন। সাহিত্য চর্চা শুরুর আগে নাটকের অভিনয়ে তাঁর উৎসাহ ছিল বেশী। তিনি পুরাতন অভিনেতাদের নিয়ে গড়ে তোলেন একটি নাট্য দল। সেই নাট্য দলটি অভিনয় করতেন শিলাইদহ এর ঠাকুর বাড়িতে। এই কাজের জন্য সে সময় কুষ্টিয়ার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তাঁর সুনাম ও খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। সে কালের বিশিষ্ট অভিনেতা ধীরেন দত্ত, উপেশ ঠাকুরসহ বিভিন্ন নামি দামি অভিনেতারা অংশগ্রহন করতেন তাঁর নাট্য দলে। সমাজ সেবায় কবি ছিলেন একজন নিবেদিত প্রাণ। ১৯৩৪ সালে তিনি তাঁর পিতা মহো চাঁদ প্রামানিক এর নামে হরিপুর গ্রামে গড়ে তোলেন চাঁদ স্মৃতি পাঠাগার। এটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ একটি পাঠাগার ছিল। দুর দুরান্ত থেকে মানুষ বই এর খোঁজে আসতেন এই পাঠাগারে। তাঁর সাংগঠনিক ক্ষমতা ছিল প্রবল। বৈবাহিক জীবন-১৭ বছর বয়সে কবি ১৯৩১ সালে তিনি ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার ফুলহরি গ্রামের এজহার শিকদারের কন্যা ফজিলাতুননেছাকে বিয়ে করেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি বিভিন্ন দায়িত্বশীল পদে থেকে দায়িত্ব পালন করেছেন। এরমধ্যে-১৯৪৫ সালে তিনি কুষ্টিয়া ফুড কমিটির সেক্রেটারী নিযুক্ত হন। ১৯৫০ সালে তিনি হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ( প্রত্যক্ষ ভোটে) নির্বাচিত হন। প্রতিভা বিকাশের জন্য ১৯৫৪ সালে কবি ঢাকায় চলে যান এবং মৃত্যুর আগ পর্যমত্ম তিনি ঢাকার মোহম্মদপুরের একটি সরকারী বাড়িতে বসবাস করতেন। সে সময় ঢাকায় গিয়ে তিনি কবি ফাররুক আহমেদ এর সহায়তায় বিভিন্ন শিল্পী, কবি ও সাহিত্যিকদের সাথে পরিচিত হন। এসময় কবি ফাররুক আহমেদ তাঁকে ঢাকা বেতারে নিয়ে যান। ১৯৫৪ সালে কবি আজিজুর রহমান ঢাকা বেতারে গীতিকার হিসেবে অনুমোদন পান। বেতারের সাথে যোগাযোগ কবি আজিজুর রহমানের সাহিত্যিক জীবনের এক উল্লেখযোগ্য ঘটনা। কবি আজিজুর রহমান কবিতা দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও গান রচনার মধ্যে তাঁর প্রতিভার পূর্ণ প্রকাশ ঘটে। তিনি প্রায় ৩ হাজার গান লিখেছেন। যা আজও আমাদের দেশের মানুষের কাছে অত্যমত্ম জনপ্রিয়। অসুস্থ্য হয়ে পড়ায় ১৯৭৮ সালের পর কবির হাতে তেমন আর কলম ওঠেনি। একাকি বিছানায় শুয়ে দিন কেটেছে তার। সে সময় তিনি বিছানায় শুয়ে-শুয়ে লিখেছিলেন ‘‘পৃথিবীর এই পান্থশালায়, হায় পথ ভোলা কবি, জলের লেখায় বালুকা বেলায়, মিছে একে গেলে ছবি এটাই ছিল কবির শেষ লেখা গান। অর্থাভাবে চিকিৎসাও তার ভাগ্যে জোটেনি। ১৯৭৮ সালের ৯ সেপ্টেম্বর কবি আজিজুর রহমান গুরুত্বর অসুস্থ হয়ে পড়েন। সে সময় তাঁকে ভর্তি করা হয় তৎকালীন ঢাকার পিজি হসপিটালে। সেখানে চিকিৎসার মাত্র ৩ দিনের মধ্যে ১২ সেপ্টেম্বর শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন আমাদের প্রিয় কবি আজিজুর রহমান। মৃত্যুকালে তিনি ৩ ছেলে-মৃত ফজলুর রহমান মনি, মুহাম্মদ শামছুর রহমান শামু ও সহিদুর রহমান বাচ্চু এবং কন্যা রওশন আরা বুড়ি, হোসনে আরা টুকু, আক্তার আরা বেবী, নাজমা রহমান বেলী ও ডালু বেগকে রেখে যান। কবির জীবন দর্শায় তেমন কোন সম্মাননা না পেলেও ১৯৭৯ সালে মরণোত্তর রাষ্ট্রীয় সম্মানঃ ’একুশে পদক’-এ ভুষিত হন। কিন্তু অত্যন্ত দু:খের বিষয় এই কবির মৃত্যুবার্ষিকীতেও কোথাও তেমন কোন কর্মসূচী চোখে পড়ে না। এলাকাবাসীর দাবী প্রতি বছর সরকারীভাবে কবি আজিজুর রহমানের জন্ম বার্ষিকী ও মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে কর্মসূচী পালন করা প্রয়োজন।

ভেড়ামারার ডাঃ শামসুদ্দিন আহমেদের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

ভেড়ামারা প্রতিনিধি ॥ বাংলাদেশ টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার ওয়াহিদ আহমেদ উজ্জল এর পিতা, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক চিকিৎসক আলহাজ¦ ডাঃ শামসুদ্দিন আহমেদ এর আজ (১২ই সেপ্টেম্বর, বুধবার) পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী। এ উপলক্ষে মরহুমের ভেড়ামারা শহরের নিজ বাসভবনে কোরআনখানি এবং জি. কে. ২নং কলোনী জামে মসজিদে বাদ যোহর দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

কুষ্টিয়া সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হানিফ

আদালতের রায়ে দন্ডিত কয়েদির আইনি লড়াই করেই মুক্তি পেতে হবে

নিজ সংবাদ ॥ আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ এমপি বলেছেন, আদালতের রায়ে দন্ডিত কোন কয়েদির আইনি লড়াই ছাড়া মুক্তি দেয়ার কোন বিধান নেই। এক্ষেত্রে দ্বিতীয় পথ হলো মাননীয় রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে মুক্তির জন্য আবেদন করা। সেক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি বিবেচনা করলে মুক্তি হতে পারে। এর বাইরে মুক্তি পাবার কোন সুযোগ নেই। গতকাল মঙ্গলবার সকালে কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই রোডে নিজ বাসভবনে দলীয় নেতা-কর্মীদের সাথে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। হানিফ বলেন, বিএনপি নিজেরাও জানেন খালেদা জিয়া দুর্নীতি করে টাকা আত্মসাৎ করেছিল। নিজেকে নির্দোষ প্রমান করতে পারবে না বলেই তারা আদালতকে বাদ দিয়ে অন্য লাইনে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, বিএনপি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে যে ভুল করেছিল দ্বিতীয় বার সে ভুলটা করবে না। বিএনপি যদি আবারো নির্বাচন বর্জন করে তাহলে সেটা হবে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। এ সময় কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি হাজী রবিউল ইসলাম, শহর আওয়ামী লীগ সভাপতি তাইজাল আলী খান, সাধারন সম্পাদক আতাউর রহমান আতাসহ আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কুষ্টিয়ায় শিশু আকিফার মৃত্যু

হত্যা মামলা, বাসের মালিক ও চালকের জামিন বাতিল, গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া শহরে বাসের ধাক্কায় মায়ের কোল থেকে পড়ে শিশু আকিফার মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ৩০২ ধারা সংযোজন করেছেন আদালত। একই সাথে বাসের মালিক ও চালকের জামিন বাতিল করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। গত মঙ্গলবার বিকেলে কুষ্টিয়া জেষ্ঠ্য বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক এম এম মোর্শেদ এ আদেশ দেন। আদালতের জিআরও শাখা সূত্র জানায়, গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে আকিফার বাবার দায়ের করা মামলায় ৩০২ ধারা সংযোজনের জন্য আদালতে একটি আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সুমন কাদেরী। আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত মঞ্জুর করেন। একই সাথে জিআরও শাখার উপপরিদর্শক আজাহার আলী জামিনপ্রাপ্ত দুই আসামী বাসের মালিক ও চালকের জামিন বাতিলের আরেকটি আবেদন করেন। ওই আবেদনটিও মঞ্জুর করেন আদালত। এবং তাদের জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

এর আগে বাসের মালিক জয়নাল আবেদীনকে গত রোববার গ্রেপ্তার করা হয়। আর বাসের চালক মহিদ মিয়া গত রোববার কুষ্টিয়া আদালতে আতœসমর্পন করেন। এরপর আইনজীবীর মাধ্যমে তারা জামিনের আবেদন করলে আদালত তাদের দুজনকেই জামিন দেন। জামিনের পরপরই তারা ছাড়া পেয়ে চলে যান। তবে পলাতক রয়েছেন বাসচালকের সহকারী ইউনুচ আলী।

গত রোববার বাস মালিক ও চালক জামিন পাওয়ায় হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন আকিফার বাবা ও মামলার বাদী হারুন অর রশিদ।

গত ২৮ আগষ্ট কুষ্টিয়া শহরের চৌড়হাস মোড়ে আট মাসের শিশু আকিফাকে নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছিলেন তার মা রিনা খাতুন। এ সময় রাস্তার পাশে থেমে থাকা একটি হঠাৎ রিনাকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে কোল থেকে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হয় আকিফা। ৩০ আগষ্ট বৃহস্পতিবার ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বাসের ধাক্কা দেওয়ার দৃশ্য সেখানে থাকা সিসি ক্যামেরায় ধারণ হয়। সেই দৃশ্য পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

ঠেলাঠেলিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও এলজিইডি

ক্ষুব্ধ নদী তীরবর্তী মানুষ

কুষ্টিয়ায় গড়াই নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে শেখ রাসেল সেতুর বাধ

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া গড়াই নদীর ভাঙন আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। পানির স্রোত আরও বেড়েছে। এতে হুমকি মুখে শেখ রাসেল সেতু। আতঙ্কিত হরিপুরের নদী তীরবর্তী বাসিন্দারা।

ভাঙনের বিষয়টি বারবার পানি উন্নয়ন বোর্ড ও এলজিইডিকে জানানো হলেও গত ১৫ দিনে কোন পদক্ষেপ নেয়নি তারা। এতে স্থানীয় জনপ্রতিধিসহ বাসিন্দারা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফকেও জানিয়েছেন হরিপুরের চেয়ারম্যান এম সম্পা মাহমুদ।

গত সপ্তাহে সেতুর বাধের ৩০ মিটার পানির স্রোতে বিলীন হয়ে যায়। গত দুই দিনে সেখানে আরও ২০ মিটার এলাকা জুড়ে ভেঙে বিলীণ হয়ে যায়। এতে হুমকির মুখে পড়েছে সেতু। নদী তীরবর্তী বাসিন্দারাও আতঙ্কিত।

বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত ১৫ দিন ধরে বাধগুলো ভেঙে হাটশ-হরিপুর ইউনিয়নের হাটশ-হরিপুর এলাকায় সড়ক ও সেতুর দিকে চলে আসছে। এরপরও সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের বাধ রক্ষায় কোন উদ্যোগ নেই। এতে তারা খুবই ক্ষুব্ধ।

হাটশ-হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম সম্পা মাহমুদ জানান, ‘এলজিইডি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বলেও কোন কাজ হচ্ছে। আর কত বলবো। তাই স্থানীয় সাংসদকে বিষয়টি আজ জানানো হয়েছে।

এলজিইডি সূত্র জানায়, এলজিইডির তত্ত্বাবধানে গড়াই নদীতে ২০১৩ সালে শেখ রাসেল কুষ্টিয়া-হরিপুর সংযোগ সেতু নির্মাণ করে। সেতু রক্ষায় হরিপুর অংশে পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে ৩৪৭ মিটার ও কুষ্টিয়া শহর অংশে পূর্ব ও পশ্চিম দিকে ৩২২ মিটার সংরক্ষণ বাধ নির্মাণ করা হয়। গত বছরের ২৪ মার্চ সেতুর উদ্বোধন করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় এক মাস ধরে গড়াই নদে পানি বাড়তে শুরু করে। গত ১৫ দিন আগে হাটশ হরিপুর এলাকায় সেতুর পশ্চিম প্রান্তে এক কিলোমিটার দূরে ভাঙন দেখা দেয়। সেখানে বালুর বস্তা ও জিও কাপড়ের প্রায় ৫০০ মিটার এলাকা জুড়ে ভাঙন শুরু হয়। এরপর সেটি সেতু রক্ষা বাধের কাছে এসে পৌছায়। গত ১ সেপ্টেম্বর রাতে পশ্চিমে প্রায় ৩০ মিটার সেতু রক্ষা বাধ ভেঙে তলিয়ে যায়। দেড়’শ মিটারের এই বাধের আরও ২০ মিটার গত রোববার ও সোমবার ভেঙে তলিয়ে যায়। এখন বালুর বাধটি ভেঙে নদের পাশে সড়কের দিয়ে ধেয়ে যাচ্ছে

স্থানীয়দের অভিযোগ, বালুর বাধটি জরুরীভাবে আজ কালের মধ্যে কোনভাবে রোধ করা না যায় তাহলে ব্লক বাধের বাকি অংশ যেকোন সময় ভেঙে তলিয়ে যাবে। বিষয়টি গত ১৫ দিন ধরে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও এলজিইডিকে বারবার বলেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না তারা।

গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিন ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ভাঙন এলাকায় অর্ধশতাধিক মানুষ জড়ো হয়ে ভাঙন দেখছে। নদের পাশে বাড়ির কয়েকজন বাসিন্দা বালুর কিছু বস্তা ফেলে ভাঙন ঠেকানোর বৃথা চেষ্টা করছেন। এদিকে বস্তা ফেলছেন অন্যদিকে বালু ভেঙে সড়কের দিয়ে চলে যাচ্ছে।

ক্ষোভ প্রকাশ করে কারিবুল ইসলাম নামে এক বাসিন্দা বলেন, নিরুপায় হয়ে বালুর বস্তা ফেলা হচ্ছে। কারও কোন মাথা ব্যাথা নেই। যদি প্রশাসন থেকে একটু ব্যবস্থা নেওয়া হতো তাহলে হয়তো রাতের বেলায় নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারতেন। কিন্তু কেউ কোন উদ্যোগ নিচ্ছে না।

এসময় সেখানে ছুটে আসেন হাটশ হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম সম্পা মাহমুদ। তাকে দেখে এক নারী বলেন, ‘ম্যাডাম আমাদের বাঁচান। যেভাবে ভাঙছে, নদের পানির গর্জনে খুবই ভয়ে আছি। আমরা এখন কোথায় যাবো। কখন ভেঙে সব নিয়ে যাবে।’

চেয়ারম্যান অভিযোগ করে বলেন, বারবার পাউবো ও এলজিইডিকে জানাচ্ছেন। কিন্তু তারা কোন প্রকার উদ্যোগ গ্রহন না করায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অবিলম্বে এই ভাঙ্গন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানান তিনিসহ এলাকাবাসী।

পানি উন্নয়ন বোর্ড কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান বলেন, বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে অনেক আগেই জানানো হয়েছে। আপাতত কোন উদ্যোগের ব্যাপারে কিছুই জানানো হয়নি। সেজন্য কিছু করা যাচ্ছে না। আর বাধটি যেহেতু এলজিইডি করেছে সুতরাং তারাই একটা ব্যবস্থা নিতে পারে।

এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী এএসএম শাহেদুর রহিম বলেন, সেতু তৈরির সময় বাধটি করা হয়েছিল। সেময় বাধ রক্ষার জন্য আরও দীর্ঘ একটি বাধ নির্মাণের জন্য পাউবো চিঠি দেওয়া হয়েছিল। তারা কোন উদ্যোগ নেয়নি। এখন ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। তারা কোন কিছু জানায়নি। আবারও জানানো হবে।

পাকিস্তানের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়া টেস্ট দলে সিডল, ফিঞ্চ

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের জন্য অস্ট্রেলিয়া দলে ফিরেছেন পেসার পিটার সিডল ও ব্যাটসম্যান অ্যারন ফিঞ্চ। জায়গা হারিয়েছেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, পিটার হ্যান্ডসকম। দুই ম্যাচের সিরিজে দলে জায়গা হয়নি জো বার্নস ও রিচার্ডসনেরও। ১৫ সদস্যের দলে ডাক পেয়েছেন এখনও কোনো টেস্ট না খেলা ট্র্যাভিস হেড। ম্যাট রেনশর কাভার হিসেবে দলে এসেছেন মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান মারনাস লাবাসচাগনে। ডাক পেয়েছেন দুই পেসার ব্রেন্ডন ডগেট ও মাইকেল নেজার। স্পিন আক্রমণে অ্যাশটন অ্যাগার ও ন্যাথান লায়নের সঙ্গী জন হল্যান্ড। আছেন মার্শদের দুই ভাই শন ও মিচেল। ৭ অক্টোবর দুবাইয়ে শুরু হবে প্রথম টেস্ট। ১৬ অক্টোবর আবু ধাবিতে হবে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। সংযুক্ত আরব আমিরাতে পরে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিনটি টি-টোয়েন্টিও খেলবে অস্ট্রেলিয়া। টেস্টের অস্ট্রেলিয়া দল: টিম পেইন (অধিনায়ক, উইকেটরক্ষক), অ্যাশটন অ্যাগার, ব্রেন্ডন ডগেট, অ্যারন ফিঞ্চ, ট্র্যাভিস হেড, জন হল্যান্ড, উসমান খাওয়াজা, মারনাস লাবাসচাগনে, ন্যাথান লায়ন, মিচেল মার্শ, শন মার্শ, মাইকেল নেজার, ম্যাথু রেনশ, পিটার সিডল, মিচেল স্ট্যার্ক।

কুষ্টিয়ায় সাঁতার প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

আমলা অফিস ॥ ৪৭তম জাতীয় স্কুল-মাদ্রাসা ও কারিগরি ক্রীড়া ও সাঁতার প্রতিযোগিতার কুষ্টিয়া জেলা পর্যায়ে সাঁতার প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দিনব্যাপি কুষ্টিয়া জেলা শিক্ষা অফিসের তত্ত্বাবধায়নে পৌর সুইমিং পুলে জেলাব্যাপি এ বাছাইপর্বের সাঁতার প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়ার জেলা শিক্ষা অফিসার জায়েদুর রহমান, বাংলাদেশ সুইমিং ফেডারেশনের সাবেক যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, মিরপুর প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি কাঞ্চন কুমার, কলকাকলি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জেব-উন নেছা, কুষ্টিয়া হাইস্কুলের সাবেক ক্রীড়া শিক্ষক শফিকুল আলম বাচ্চু, কলকাকলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক আতিউল হাসান শিকদার, জিকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক মানস কুমার সাহা, কমলাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক সাহাবুর রহমান, কয়া ইসলামীয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক আব্দুল কাদের, পুলিশ লাইন স্কুল এন্ড কলেজের ক্রীড়া শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম, কুওয়াতুল ইসলাম আলিয়া মাদ্রাসার ক্রীড়া শিক্ষক আবু সিদ্দিক মহাম্মদ আলী, হাউজিং এষ্টেট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক সেলিনা বেগম, আমলা সদরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক জালাল উদ্দিন, আমলা জাহানারা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক মায়া খাতুন, সদরপুর সিদ্দিকীয়া দাখিল মাদ্রাসার ক্রীড়া শিক্ষক হাবিবুর রহমান, সহকারী শিক্ষক আবু হেনা মস্তফা কামালসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক ও ক্রীড়া শিক্ষকগণ। জেলাব্যাপি এ সাঁতার প্রতিযোগিতার বিজয়ীরা বিভাগীয় পর্যায়ে সাঁতার প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে।

১০ নম্বর জার্সি মেসির জন্য রাখা আছে ঃ আর্জেন্টিনা কোচ

 

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ আর্জেন্টিনা দলে লিওনেল মেসির জন্য ১০ নম্বর জার্সিটা সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন লিওনেল স্কালোনি। দলটির অন্তর্বর্তীকালীন কোচের বিশ্বাস, পাঁচবারের বর্ষসেরা ফুটবলার তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার আরও দীর্ঘায়িত করবেন। রাশিয়া বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় ফ্রান্সের কাছে হেরে আর্জেন্টিনার বিদায়ের পর থেকেই মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার নিয়ে এই অনিশ্চয়তা চলছে। জাতীয় দলের হয়ে খেলায় অনির্দিষ্ট এক বিরতিতে আছেন তিনি। হোর্হে সাম্পাওলির জায়গায় অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে স্কালোনি নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে আর্জেন্টিনা দলে মেসির ভবিষ্যৎ নিয়েই আলাপ-আলোচনা বেশি হচ্ছে। কলম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনেও এর ব্যতিক্রম হলো না। মেসি ও জাতীয় দলে তার ১০ নম্বর জার্সি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের আর্জেন্টিনা কোচ বলেন, “আপনার প্রশ্নের একটাই উত্তর আছে, বিশ্বকাপের যারা এখানে এসেছে সবাই তাদের জার্সি নম্বর ধরে রেখেছে।” “১০ নম্বর জার্সিটা এখনও মেসিরই আছে। সে আমাদের সঙ্গে খেলা চালিয়ে যাবে কি-না এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগ পর্যন্ত এটা এভাবেই থাকবে।” “আমরা সে সুযোগটা বন্ধ করব না। তাই আমি এই নাম্বার তার জন্য রেখে দিতে চাই। কী ঘটে সেটা দেখতে আমরা ভবিষ্যতের জন্য অপেক্ষা করব। তবে ততক্ষণ পর্যন্ত কেউ ১০ নম্বর জার্সি ব্যবহার করবে না। কারণ, এটা তার জন্য বিশেষ কিছু এবং এটা আমার সিদ্ধান্ত।” নিউ জার্সিতে বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৬টায় কলম্বিয়ার মুখোমুখি হবে মেসিহীন আর্জেন্টিনা। এর আগে তারুণ্য নির্ভর দলটি গত শুক্রবার ক্যালিফোর্নিয়ায় গুয়েতেমালাকে ৩-০ গোলে হারায়।

বিয়ের প্রশ্ন করতেই চটলেন দীপিকা

বিনোদন বাজার ॥ এক এক করে বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন বলিউড অভিনেত্রীরা। এবার বিয়ের প্রসঙ্গ তুলতেই চটলেন দীপিকা পাড়ুকোন। যদিও অভিনেতা রনভীর সিংয়ের সঙ্গে তার সম্পর্কের কথা কিন্তু কারোরই অজানা নয়।কিছুদিন আগে গুঞ্জন উঠেছিল আসছে নভেম্বরেই রনবীর সিংয়ের সঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন দীপিকা। যদিও বিষয়টি তাদের দুজনের কেউই স্বীকার করেননি।সম্প্রতি ভারতের মহিলা সংস্থা ‘ফিকির’ আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দীপিকা পাড়ুকোন। ওই অনুষ্ঠানে তাকে নানা প্রশ্নের পাশাপাশি রনবীর সিংয়ের সঙ্গে তার বিয়ের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। এ সময় দীপিকা অনেকটা রাগত স্বরে বলেন, ‘এই অনুষ্ঠানে এই ধরণের প্রশ্ন খুব অপ্রাসঙ্গিক, তাই আমি এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবো না।’

হৃদয়-আনিকার লুকোচুরি প্রেম’

বিনোদন বাজার ॥ প্রকাশ হলো জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী হৃদয় খান ও তাসমিম আনিকার নতুন মিউজিক ভিডিও ‘লুকোচুরি প্রেম’।সম্প্রতি গানটির ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে জনপ্রিয় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম বাংলাফ্লিক্স ও বাংলাঢোলের ইউটিউব চ্যানেলে। হয়েছে। গানের পাশাপাশি পুরো টেলিছবিটিও দেখা যাচ্ছে বাংলাফ্লিক্সে।বাংলালিংক নিবেদিত রেদওয়ান রনি পরিচালিত টেলিছবিটি এরই মধ্যে বেশ প্রশংসিত হয়েছে।‘লুকোচুরি প্রেম’ গানটির কথা লিখেছেন এস এ হক অলিক। নিজের সুর-সংগীতে এতে কণ্ঠ দিয়েছেন হৃদয় খান। তার সঙ্গে আছেন তাসনিম আনিকা।টেলিছবিটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রয়েছেন মোশাররফ করিম, মিথিলা, মনোজ কুমার, সুমন পাটোয়ারী, মুকিত জাকারিয়া, শামীম জামান, নাফা প্রমুখ।

আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন সুবীর নন্দী

বিনোদন বাজার ॥ দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য পুরস্কার ও স্বীকৃতি পেয়েছেন সুবীর নন্দী। সেই মুকুটে এবার যোগ হতে যাচ্ছে আরও একটি পালক। চ্যানেল আই সংগীত পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন গুণী এই গায়ক।আগামী ২১ সেপ্টেম্বর আজীবন সম্মাননাসহ ১৬টি বিভাগে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পুরস্কার দেওয়া হবে। ‘চ্যানেল আই সংগীত পুরস্কার’-এর এক যুগ পূর্তির উৎসব এটি।এই পুরস্কার অনুষ্ঠানের প্রকল্প পরিচালক ইজাজ খান স্বপন বলেন, এবার এই আয়োজন হবে ঢাকার বাইরে হবিগঞ্জের দ্য প্যালেস লাক্সারি রিসোর্টে। চলতি বছর থেকে আধুনিক, ছায়াছবির গান, নজরুলসংগীত, রবীন্দ্রসংগীত ও পল্লিগীতিতে ‘গোল্ডেন ভয়েস পুরস্কার’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই জমা পড়া গান থেকে বিচারকেরা প্রাথমিক মনোনয়নের কাজ সম্পন্ন করেছেন।জানা গেছে, এবার বিচারক প্যানেলে ছিলেন ফেরদৌসী রহমান, আজাদ রহমান, গাজী মাজহারুল আনোয়ার, ফরিদা পারভীন, শেখ সাদী খান, তপন মাহমুদ, মকসুদ জামিল মিন্টু, মানাম আহমেদ, আবদুর রহমান, মুশফিকুর রহমান গুলজার, আনিসুল ইসলাম, পান্না আজম ও গিয়াস উদ্দিন সেলিম।‘কত যে তোমাকে বেসেছি ভালো’, ‘হাজার মনের মাঝে’, ‘আমার এই দুটি চোখ’, ‘কেন ভালোবাসা হারিয়ে যায়’, ‘বন্ধু হতে চেয়ে তোমার’, ‘পাখিরে তুই’সহ অডিও এবং চলচ্চিত্রের বহু গান গেয়েছেন সুবরী নন্দী।

জার্মান শিল্পীরা মাতালো ঢাকা

বিনোদন বাজার ॥ জার্মান-সুইস ব্যান্ড ‘রাগাবুন্ড’ এর কনসার্ট মাতালো বাংলাদেশের দর্শকদের। জার্মান ভাষায় গাইলেন শিল্পীরা। জার্মান ভাষা বাংলাদেশের দর্শকরা খুব একটা না বুঝলেও সেই ভাষা খুব একটা বাধা হয়ে দাঁড়াল না। সঙ্গীতের সুর সেই বাধা দূর করে মাতিয়ে তুললো বাংলাদেশের দর্শক শ্রোতাদের।

পার্টনার্স স্কুল প্রোগ্রাম-পাস বাংলাদেশে তাদের ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশের গ্যেটে ইনস্টিটিউট, স্থানীয় জার্মান স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে গত সোমবার কনসার্ট আয়োজন করে। গ্যেটে ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডক্টর কিরস্টেন হাকেনব্রোক এবং জার্মান দূতাবাসের ডেপুটি হেড অফ মিশন মিশেল শুলথাইস অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে উদ্বোধন করেন। জার্মান-সুইস ব্যান্ড ‘রাগাবুন্ড’ এর সদস্যরা হলেন কুর্ট আন্দ্রেয়াস গুস্তাভো লেসকে, লুকা বুচিসিও, মিসেল বুচিসিও, নীল ফ্রান্জ লেসকে। শিল্পীরা মূলত রেগে ধারার সঙ্গীত উপস্থাপন করেন। রেগে ধারার সঙ্গীত সারাবিশ্বে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন জ্যামাইকার শিল্পী বব মার্লে। সেই সুরে আনন্দ বেদনা ও প্রতিবাদের ভাষা মানুষকে আলোড়িত করে চলেছে যুগ যুগ ধরে। জার্মান, সুইস ও ল্যাটিন ভাষায় সঙ্গীত পরিবেশন করে। দলটি একে একে গেয়ে শোনায় গাঞ্জাথেরাপি, বেবিগার্ল, উ ডেন, নূর লিবে, আইএম রেডিও, চিলিং, বিউটিফুল ডে, নাজিমান, সরি মামা, কিউরো বাইলার, বেলিইভ নিচট স্থেন, ফাস্কো ফাঙ্কসহ নিজেদের জনপ্রিয় সব গান। বাংলাদেশে, ‘পাস’ নেটওয়ার্কের পাঁচটি অংশীদার বিদ্যালয় রয়েছে। সেগুলো হলো অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, ইউরোপিয়ান স্ট্যান্ডার্ড স্কুল, সাউথ পয়েন্ট স্কুল এবং কলেজ, ম্যাপেল লিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এবং চট্টগ্রাম মাস্টারমাইন্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল। ‘স্কুল: পার্টনার্স ফর দ্য ফিউচার-পাস-উদ্যোগটি ফেব্রুয়ারি ২০০৪ সালে জার্মানির ফেডারেল ফরেন অফিসের মাধ্যমে চালু করা হয়েছিল। গ্যেটে ইনস্টিটিউট পৃথিবীর ১০০ টিরও বেশি দেশের জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে সম্পৃক্ত প্রায় ৬০০টি ‘পাস’ স্কুলে সহায়তা করে আসছে। উদ্যোগটি একদিকে ‘পাস’ কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোতে জার্মানির আধুনিক রাষ্ট্র এবং সমাজ ব্যবস্থা সম্পর্কে আরো ভালোভাবে জানার সুযোগ করে দিয়েছে। পাশাপাশি জার্মান ভাষা শিখতে কিশোর-কিশোরীদের আগ্রহ বাড়াতে কাজ করছে।

আমি অশ্লীল ছিলাম তার প্রমাণ কেউ দিতে পারবেন না : মুনমুন

বিনোদন বাজার ॥ ‘আমি অশ্লীল যুগে খুব বেশি সিনেমা করিনি। আমার একচেটিয়া মার্কেট ছিল অ্যাকশন হিরোইন হিসেবে। আমি অশ্লীল ছিলাম তার প্রমাণ কেউ দিতে পারবেন না। আমাকে আমার সিনেমার পরিচালকরা ব্ল্যাকমেইল করেছে। তাদের নাম বললেই কি আমার সম্মান ফিরে আসবে না?’

সম্প্রতি একটি টিভি অনুষ্ঠানে কথাগুলো বলেন ঢালিউড নায়িকা মুনমুন।তিনি বলেন, অ্যাকশননির্ভর ছবিতে প্রচুর মারপিটের দৃশ্য থাকত। যেহেতু অ্যাশকন ছবি, তাই একটু খোলামেলা দৃশ্য যোগ করা হতো; কিন্তু আমার কোনো খোলামেলা দৃশ্য ছিল না সেসব সিনেমায়। বাস্তবতা হল- অন্য নায়িকারা যে ড্রেস পরেছে, আমিও সেই ড্রেস পরেছি। আমি সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিকে অনেক ভালোবাসি।মুনমুন বলেন, ব্ল্যাকমেইলাররা এখন নেই। তাদের হাতে কাজও নেই। যারা বলেন- আমার জন্য সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি ধ্বংস হয়েছে, তারাই আসলে সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি ধ্বংস করেছে। কারণ যারা সেলেবল আর্টিস্টের বিরুদ্ধে মিথ্যে কলঙ্ক দেন, তারা ফিল্মের কোনো ভালো করতে পারেন না। এখন আর সেই পরিচালকদের নাম বলে লাভ নেই। তিনি আরও বলেন, অশ্লীল সিনেমায় তখন সবাই অভিনয় করেছেন। কিন্তু অশ্লীল দৃশ্যে তো তারা অভিনয় করেননি।২০০২ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সিনেমায় ছিলেন না মুনমুন। এই সময় বেশি অশ্লীল সিনেমা হয়েছে। এমনই দাবি করেছেন তিনি।সেই সময়ের কথা মনে করে মুনমুন বলেন, আগের শাকিব আর এখনকার শাকিবের মধ্যে পার্থক্য অনেক। আমি শাকিব খানকে সেই সময়ই বলেছিলাম- তোমার বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তুমি আরও সুন্দর হবে। শাকিবের সঙ্গে একবার দেখাও হয়েছিল। দেখি সে এ কথা এখনও মনে রেখেছে।২০০৮-এ অভিনয়ে ফিরে ‘বাংলার কিংকং’ ও ‘কুমারী মা’- এ দুটি সিনেমা করে আবারও ফিরে যান তিনি। মাঝে অনেক দিন ছিলেন আলোচনার বাইরে। বর্তমানে আবারও সিনেমা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন তিনি। ‘দুই রাজকন্যা’, ‘রাগী’, ‘তোলপাড়’, ‘পাগলপ্রেমী’, ‘পদ্মার প্রেম’- এমন বেশ কিছু সিনেমায় অভিনয় করেছেন এরই মধ্যে।এই সময়ের নাম্বার ওয়ান হিরো শাকিব খানের সঙ্গেও প্রায় ১৪টি সিনেমায় জুটিবেঁধে অভিনয় করেছেন এ নায়িকা। উল্লেখ্য, বর্তমানে স্বামী-সংসারই সামলাচ্ছেন মুনমুন। তার দুই ছেলে। একজনের বয়স ১১, অন্যজনের ৬ বছর। পরিবারের সঙ্গে অধিকাংশ সময় কাটাতেই বেশি পছন্দ করেন তিনি।

ফের বড় পর্দায় আমিশা প্যাটেল

বিনোদন বাজার ॥ আমিশা প্যাটেল। বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রীদের একজন। ২০০০ সালে কাহো না পেয়ার হ্যায় ছবির মাধ্যমে সিনে পর্দায় যাত্রা শুরু। তারপর গাদার : এক প্রেম কথা’র মতো জনপ্রিয় সিনেমা উপহার দিয়েছেন। বর্তমানে রুপালি পর্দায় এখন নিয়মিত নন আমিশা। তবে আবারো বড় পর্দায় ফিরছেন এ অভিনেত্রী। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর মুক্তি পাচ্ছে তার ভাইয়াজি সুপারহিট সিনেমাটি। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন নিরাজ পাঠক। আমিশা ছাড়াও সিনেমাটিতে আরো অভিনয় করেছেন-সানি দেওল, প্রীতি জিনতা, আরশাদ ওয়ার্সি, শ্রেয়াস তালপাড়ে, মনোজ জোশি। ২০১৪ সালে সিনেমাটির শুটিং শুরু হলেও নানা কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়। অবশেষে জটিলতা কাটিয়ে সিনেমাটি মুক্তির তারিখ দিয়েছেন নির্মাতারা। বড় পর্দায় দেখা না গেলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সরব আমিশা প্যাটেল। ভক্তদের জন্য প্রায়ই বিভিন্ন আবেদনময়ী ছবি পোস্ট করে থাকেন তিনি। যদিও এ জন্য প্রায়ই বিদ্রূপের শিকার হতে হয় তাকে। এছাড়া সম্প্রতি একটি ফটোশুটে অংশ নেন এ অভিনেত্রী।

তিন কারণে নদীতে আসছে না ইলিশ

কৃষি প্রতিবেদক ॥ নদীর গতিপথ পরিবর্তন, জলবায়ুর নেতিবাচক প্রভাব, মাঝখানে জেগে ওঠা নতুন চর এই তিন কারণে পানির স্রোত বাধা পাচ্ছে। এর ফলে প্রয়োজনের তুলনায় স্রোত কমে গেছে। ইলিশ গবেষকরা বলছেন, ইলিশ সবসময় দলবেঁধে চলে। এই মাছ গতিপথ সবসময় সোজা রাখে। সোজা চলতে গিয়ে যদি বাধা পায়, তাহলে সাগরে ফেরত যায় ইলিশ। নদীতে চর জাগা ও স্রোত কমে যাওয়ায় সাগর থেকে ঝাঁক বেঁধে ইলিশ নদীর মোহনায় আসতে বাধা পাচ্ছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য বিভাগের অধ্যাপক ড. আহসান কবির। তিনি বলেন, ‘এসব কারণেই এ বছর প্রবল বৃষ্টি হওয়ার পরও ভরা মৌসুমেও নদীতে জেলেরা ইলিশের দেখা পাচ্ছেন না।’ এদিকে, জেলেরা জানিয়েছেন, উপকূলীয় নদ-নদীতে আর আগের মতো ইলিশ ধরা পড়ছে না। উত্তাল মেঘনা-তেঁতুলিয়া পাড়ি দিয়েও ইলিশের দেখা মিলছে না জেলেদের জালে। তবে সাগরে প্রচুর ইলিশ রয়েছে বলেও জেলেরা দাবি করেন। বরিশাল, ভোলা, ষাটনল, পটুয়াখালী, পাথরঘাটা ও পিরোজপুরের জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইলিশের স্বর্গরাজ্য বলে খ্যাত পিরোজপুরের বলেশ্বর ও সন্ধ্যা, ভোলার তেঁতুলিয়া, পটুয়াখালীর পায়রা, আন্দারমানিক, আগুনমুখো এবং চাঁদপুরের মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর মোহনাসহ ষাটনল এলাকায় প্রত্যাশিত ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। এ সব এলাকার জেলেরা জানিয়েছেন, শ্রাবণের ভরা পূর্ণিমায় ইলিশ ধরা পড়বে বলে আশা করলেও সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি তাদের। ভাদ্র মাসের শেষের দিকের জোয়ারে কিছু মাছ আসতে পারে। তারা এখন সেই আশায় বুক বেঁধে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন পিরোজপুরের পাড়ের হাটের ইলিশের আড়তদার আফজাল মিয়া। পিরোজপুরের পাড়ের হাট, ভোলার ইলিশা বাজার, বরগুনার পাথরঘাটা, পটুয়াখালীর মহিপুরের জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এসব এলাকায় আড়তগুলো প্রায় মাছশূন্য। নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে অনেকটাই খালি হাতে ফিরে আসতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলেরা। উত্তাল আগুনমুখা, বলেশ্বর, মেঘনা, তেঁতুলিয়া পাড়ি দিয়েও ইলিশ মিলছে না। নদীতে মাছ না পড়ায় দাদনের দেনার ভয়ে বহু জেলে ঘর-ভিটা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। জেলে পরিবারগুলোয় এখন দুর্দিন চলছে। তারা এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেকেরই নিজস্ব জাল বা মাছ ধরার ট্রলার না থাকায় স্থানীয় মহাজনদের কাছ থেকে দাদন নিয়েছেন। কিন্তু নদীতে মাছ ধরা না পড়ায় এ সব অঞ্চলের জেলেরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। ভোলার অন্যতম মৎস্যকেন্দ্র তজুমদ্দিন উপজেলার মাছ ব্যবসায়ী রফিক সাদী বলেন, ‘তজুমদ্দিন এলাকা থেকে প্রতিবছর ইলিশের মৌসুমে কোটি কোটি টাকার মাছ রফতানি হতো। গত বছরও এ সময়ে যেখানে প্রতিদিন এ মৎস্য কেন্দ্র থেকে প্রায় ৫০ লাখ টাকার ইলিশ বেচাকেনা হতো, সেখানে এখন প্রতিদিন পাঁচ লাখ টাকার মাছও বেচাকেনা হচ্ছে না।’ জেলেরা বলছেন, জ্যৈষ্ঠ ও আষাঢ় মাসজুড়ে সময়টাই ইলিশের ভরা মৌসুম। কিন্তু সেই সময় পেরিয়ে গেছে অনেক আগেই। শ্রাবণের ভরা পূর্ণিমায় ধরা পড়ে ইলিশ। জেলেদের প্রত্যাশা ছিল ওই সময় অন্তত কিছু ইলিশ ধরা পড়বে। কিন্তু এই মৌসুমও চলে গেছে। কিন্তু নদীতে মিলছে না প্রত্যাশীত ইলিশ। বাজারে ছোট-বড় যে সাইজের ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে, তার বেশিরভাগই সাগরের। সেই সাগরের ইলিশের দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। এদিকে পাথরঘাটার ইলিশের ব্যবসায়ী (আড়তদার) সেকেন্দার হাওলাদার বলেন, ‘পানির স্রোত কমে যাওয়া ও নদীতে চর পড়ায় জালে ইলিশ আসছে না ঠিকই কিন্তু এর বাইরেও কিছু কারণ আছে। যে কারণে নদীতে ইলিশ কমে গেছে। সমাজের প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় কিছু জেলে নদীতে সারা বছরই বিভিন্ন মাছের পোনা ধরে। এর মধ্যে ইলিশের পোনাও জালে ধরা পড়ে। এতে ইলিশের উৎপাদন কিছুটা ব্যাহত হয়।’ ভরা মৌসুমে জেলেদের জালে ইলিশ মাছ কম ধরাপড়ার এটিও একটি কারণ বলে মনে করেন তিনি। বরিশালের একাধিক মৎস্য ব্যবসায়ী জানান, উপকূলীয় নদ-নদীতে আর আগের মতো ইলিশ ধরা পড়ছে না। বরিশালের মোকামে গত কয়েক দিনে ইলিশ সরবরাহের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।’ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের তথ্য মতে, ২০০২-০৩ অর্থ বছরে দেশে উৎপাদিত ইলিশের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৩৩ হাজার মেট্রিক টন। ২০০৮-০৯ অর্থবছর দেশে ইলিশ উৎপাদনের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ২ লাখ ৯৮ হাজার মেট্রিক টনে। ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে দেশে এর পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৮৫ হাজার মেট্রিক টন। ২০১৪-১৫ অর্থবছর তা ৪ লাখ মেট্রিক টন ছাড়িয়ে গেছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরও দেশে ইলিশের উৎপাদন ছিল ৪ লাখ ২৭ হাজার মেট্রিক টন। ২০১৭ সালের শেষে দিকে ইলিশের উৎপাদন প্রায় ৫ লাখ টন ছাড়িয়ে গেছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বিশ্বের মোট ইলিশের ৬০ ভাগ ইলিশ উৎপাদিত হয় বাংলাদেশে। আর বাংলাদেশের নদ-নদীতে ধরা মাছের ১২ শতাংশই ইলিশ। বাংলাদেশের জিডিপিতে (মোট দেশজ উৎপাদন) এর অবদান এক শতাংশ। এক মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় নদীর পরিবেশ, জাটকা সংরক্ষণ ও অভয়াশ্রম নিশ্চিত করতে পারলে বাংলাদেশে বছরে ইলিশের বাণিজ্য হতো কমপক্ষে ২৫ হাজার কোটি টাকা।

আফগানিস্তান টি-২০ লিগে একই দলে খেলবেন তামিম-মুশফিক

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লিগের (এপিএল) প্রথম আসরে একই দলে খেলবেন বাংলাদেশের ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবাল ও সাবেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। দু’জনই খেলবেন নানগারহার ফ্র্যাঞ্চাইজি দলে। আসন্ন আসরে আইকন খেলোয়াড় হিসেবে খেলবেন পাকিস্তানের শহিদ আফ্রিদি, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইল-আন্দ্রে রাসেল ও নিউজিল্যান্ডের ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। পাঁচ দলকে নিয়ে আগামী ৫ অক্টোবর থেকে শুরু হবে এপিএল। আরেকটি দলের আইকন খেলোয়াড় আফগানিস্তানের লেগ-স্পিনার রশিদ খান। প্রথম আসরের পাঁচটি দল হলোÑ পাকিতা, কাবুল, বাল্ক, নানগারহার ও কান্দাহার। পাকিতা দলের আইকন আফ্রিদি, কাবুলের আইকন রশিদ, বাল্কের আইকন গেইল, নানগারহারের আইকন রাসেল ও কান্দাহারের আইকন ম্যাককালাম। প্রত্যকটি দলে পাঁচজন করে বিদেশী খেলোয়াড় ও একজন করে আইসিসি সহযোগি দেশের খেলোয়াড় থাকবে। বিদেশী খেলোয়াড়দের মধ্যে এখন পর্যন্ত এপিএলে খেলা নিশ্চিত করেছেন ইংল্যান্ডের ক্রিস জর্ডান, শ্রীলংকার থিসারা পেরেরা, নিউজিল্যান্ডের লুক রঞ্চি-কলিন মুনরো-মিচেল ম্যাকক্লানাঘান, দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়েন পার্নেল, ইংল্যান্ডের রবি বোপারা, পাকিস্তানের মোহাম্মদ হাফিজ, অস্ট্রেলিয়ার বেন কাটিং ও পাকিস্তানের ওয়াহাব রিয়াজ। আইসিসি’র সহযোগী দেশ থেকে দল পেয়েছেন নেপালের সন্দ্বীপ লামিচান, স্কটল্যান্ডের ক্যালম ম্যাকলয়েড ও নেদারল্যান্ডের রায়ান টেন ডেসকাটে।