বাংলাদেশ অটো রাইস মিল ওনার্স এসোসিয়েশন কুষ্টিয়া জেলা কমিটি গঠিত

নিজ সংবাদ ॥  চালকল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অটো রাইস মিল ওনার্স এসোসিয়েশন কুষ্টিয়া জেলা কমিটি গঠিত হয়েছে। জেলার অটো ও হাসকিং মিল মালিকদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন কুষ্টিয়ার স্বনামধন্য চাল প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ফ্রেশ এগ্রো ফুড  প্রোডাক্টস লি:’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ¦ মো: ওমর ফারুক। সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন ফোর স্টার অটো রাইস মিলের স্বত্ত্বাধিকারী মো: মফিজুল ইসলাম। গতকাল শনিবার এসোসিয়েশনের অস্থায়ী কার্যালয়ে চালকল মালিকদের উপস্থিতিতে সকলের সর্বসম্মতিক্রমে এই কমিটি গঠিত হয়।

২১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির নির্বাচিত অন্যান্য নেতৃবৃন্দ হলেন সিনিয়র সহ-সভাপতি ব্যাপারী এগ্রো ফুড প্রোডাক্টস লি:’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: তোফাজ্জেল হোসেন ব্যাপারী, প্রভাতী রাইস মিলের স্বত্ত্বাধিকারী আব্দুস সালাম মোল্লা, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জোয়ার্দ্দার অটো রাইস মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: আজিজুর রহমান সিপাই জোয়ার্দ্দার, সাংগঠনিক সম্পাদক গ্রাম সরকার অটো রাইস মিলের স্বত্ত্বাধিকারী আলহাজ¦ নূর মোহাম্মদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মা ভান্ডারী অটো রাইস মিলের স্বত্ত্বাধিকারী আলহাজ¦ মো: মাসুদ রানা, অর্থবিষয়ক সম্পাদক ভিআইপি অটো রাইস মিলের স্বত্ত্বাধিকারী আলহাজ¦ মো: শফিকুল ইসলাম শফি, সহ-অর্থবিষয়ক সম্পাদক আল্লার দান অটো রাইস মিলের স্বত্ত্বাধিকারী মো: রাশিদুল ইসলাম অটাল, দপ্তর সম্পাদক এ্যাড. মো: জাকারিয়া মিলন, প্রচার সম্পাদক মিমি অটো রাইস মিলের স্বত্ত্বাধিকারী আলহাজ¦ মো: আনোয়ার হোসেন, ধর্ম ও শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মমিন অটো রাইস মিলের স্বত্ত্বাধিকারী মো: আব্দুল মমিন সর্দ্দার, শিল্প বিষয়ক সম্পাদক থ্রীস্টার এগ্রো ইন্ডা: লি:’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহিদুল ইসলাম বিপ্লব, সহ-শিল্প বিষয়ক সম্পাদক আহাদ অটো রাইস মিলের স্বত্ত্বাধিকারী আলহাজ¦ মো: আমিরুল ইসলাম।

নির্বাহী সদস্য- দেশ এগ্রো ইন্ডা: লি:’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ¦ এমএ খালেক, প্রগতী এগ্রো ইন্ডা: লি:’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ¦ মো: জামশের আলী, মন্ডল অটো রাইস মিলের স্বত্ত্বাধিকারী এমএ মোমিন মন্ডল, মিতুলী রাইস মিলের স্বত্ত্বাধিকারী আলহাজ¦ আব্দুছ সালাম চৌধুরী, কবিরাজ এগ্রো ফুড’র স্বত্ত্বাধিকারী মো: ইবাদত আলী কবিরাজ, ফরিদ মন্ডল রাইস মিলের স্বত্ত্বাধিকারী মো: সরোয়ার মন্ডল।

জেলা কমিটি ছাড়াও সদর উপজেলা কমিটিও গঠিত হয়েছে। ২১ সদস্য বিশিষ্ট ওই কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন আব্দুল্লাহ এগ্রো ফুড প্রোডাক্টস’র স্বত্ত্বাধিকারী আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক জনকল্যাণ রাইস মিলের স্বত্ত্বাধিকারী মো: মোতালেব হোসেন।

নবনির্বাচিত জেলা কমিটির সভাপতি আলহাজ¦ মো: ওমর ফারুক জানান এই কমিটিতে ৪০টি অটো রাইস মিল এবং ৩ শতাধিক হাসকিং মিল অন্তর্ভূক্ত রয়েছে। সরকারী নিয়ম-কানুন মেনে জেলা চালকল মালিকদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এই কমিটি নিরলসভাবে কাজ করে যাবে। একই কথা জানিয়েছেন জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মফিজুল ইসলামসহ নবনির্বাচিত সকল নেতৃবৃন্দ।

আ’লীগের বিরুদ্ধে ঐক্য গড়তে ছাড় দিতে বিএনপি প্রস্তুত ঃ ফখরুল

ঢাকা অফিস ॥ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বড় রাজনৈতিক ঐক্য গড়তে ছাড় দিতে বিএনপি প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, “আমাদের সব সময় মনে রাখতে হবে, গ্রেটার ইউনিটি কখনোই হবে না, যদি না আমরা কিছু না কিছু ত্যাগ স্বীকার করি। ওই সব ছাড় দিয়ে আমাদেরকে আজকে একটা না একটা জায়গায় আসতে হবে। আমরা সেই চেষ্টাই করছি। গোটা দেশ এটাই চায়। অন্যান্য যারা আছেন, তারাও বোঝেন, এটা ছাড়া কোনো মুক্তি নেই।” গতকাল শনিবার নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের উদ্যোগে ‘রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাদের করণীয়’ শীর্ষক সভায় একথা বলেন বিএনপি মহাসচিব। আওয়ামী লীগের শাসনামলে দেশ গণতন্ত্রহীন হয়ে পড়েছে দাবি করে এ থেকে উত্তরণে ‘জাতীয় ঐক্য’ গড়ে আন্দোলনের কথা বলে আসছে বিএনপি। চারদলীয় জোট থেকে এখন ২০ দলীয় জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছে বিএনপি। এই জোটের পরিসর আরও বাড়াতে বিএনপি আগ্রহী হলেও তাদের জোট শরিক জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে আপত্তি রয়েছে অনেকের। খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার আগে যে নির্দেশনা দিয়ে গেছেন, তা অনুসরণ করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানান ফখরুল। তিনি বলেন, “আমরা তার নির্দেশ অনুযায়ী শান্তিময় বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে অন্যান্য সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে একটা জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। প্রক্রিয়া চলছে, আমরা বিশ্বাস করি এটাতে আমরা সফল হব। আমরা বিশ্বাস করি, অতি দ্রুত জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সমগ্র জাতি এই স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জাতিকে মুক্ত করবার জন্য, গণতন্ত্রকে মুক্ত করবার জন্য এবং দেশনেত্রীকে মুক্ত করবার জন্য আন্দোলন করবে।” খালেদা জিয়ার বিচারে কারাগারে আদালতে বসানোর সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “ছোট একটা ঘরের মধ্যে ক্যামেরা ট্রায়াল করা হচ্ছে, সেখান ট্রায়াল হচ্ছে একে বাংলায় বলা যায় গুহা.. । “প্রধানমন্ত্রী না কি বলেছেন, জিয়াউর রহমান এই ধরনের বিচার করেছিলেন। জিয়াউর রহমান সাহেবের সেই ধরনের বিচার করেনি। বিচারটা হয়েছিলো মার্শাল ল’র অধীনে। বিচারপতি আবু সাদাত মো. সায়েম ওই সময়ে প্রেসিডেন্ট ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ছিলেন। সুতরাং মানুষকে বিভ্রান্ত করে ভুল বোঝানো চলবে না।” সারাদেশে বিএনপির নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সাজানো মামলায় তাদের আটক করা হচ্ছে। “যে মামলা হচ্ছে, সেগুলোর একই রকম কথা। মনে হয় যেন ফরমেট তৈরি করে দিয়েছে, সেই ফরমেটে এফআইআরগুলো তৈরি করা হয়েছে। তারা নিজেরাই কিছু ককটেল-টকটেল ফুটাচ্ছেন, ফুটিয়ে সব কিছুর অবশিষ্টাংশ সেটাকে নিচ্ছেন, রাস্তা থেকে কয়েকটা পাথর কুড়িয়ে নিচ্ছেন, কয়েকটা লাঠি আনছেন, বলছেন আলামত পাওয়া গেছে। আসলে সেখানে কোনো ঘটনাই ঘটেনি।” “এই যে একটা ভয়াবহ মিথ্যাচারের মধ্য দিয়ে গোটা জাতিকে জিম্মি করা হচ্ছে শুধু তার  ও তার দলের ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করার জন্য,” বলেন ফখরুল। তিনি বলেন, “একটা ভয়াবহ দানবের হাতে এই দেশ পড়েছে, একটা ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এখান থেকে আমাদেরকেই বেরিয়ে আসতে হবে। কেউ আমাদের সাহায্য করবে না। আমাদেরকেই আমাদের শক্তিতে বেরিয়ে আসতে হবে, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের পরাজিত করতে হবে। আমি বলতে চাই, এই সরকার টিকতে পারে না। কারণ তারা জনগণ থেকে অনেক দূরে চলে গেছে এবং জনগণের মধ্যে তাদের কোনো অবস্থান নেই। আমি আপনাদের জোরের সঙ্গে বলতে পারি যে, এদের পতন আসন্ন বলেই আজকে এরা পাগল হয়ে গেছে, রাজনৈতিকভাবে তারা দেউলিয়া হয়ে গেছে। ইনশাল্লাহ বিজয় আমাদের হবেই।” মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খানের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজউদ্দিন আহমেদ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আবদুস সালাম, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক জয়নুল আবেদীন, মুক্তিযোদ্ধা দলের আজিজুল হক লেবু কাজী, এম এ বারী, আবদুল হালিম মিঞা, সাদেকুর রহমান বাবুল, হাজী মনসুর আলী সরকার, নুরে আলম তরফদার, মোকসেদ আলী মঙ্গলীয়া, আবু তালেব চৌধুরী, কামালউদ্দিন, নুরুল আমিন বক্তব্য রাখেন।

দৌলতপুরে প্রতিবন্ধী ও অটিজম স্কুলের শিক্ষার্থীদের ঈদ পুনর্মিলন

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে প্রতিবন্ধী ও অটিজম স্কুলের শিক্ষার্থীদের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার উপজেলার চন্দনাপাড়াস্থ প্রতিবন্ধী ও অটিজম স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে এ ঈদ পূরর্মিলনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার। দৌলতপুর প্রতিবন্ধী ও অটিজম স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবু সালে মজনুন কবির পান্না স্কুলের বিভিন্ন সমস্যার কথা অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীদের জানান। পরে দুপুরের ভুরিভোজ শেষে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথিসহ আমন্ত্রিত সুধীজন।

আলমডাঙ্গায় পুলিশী অভিযানে বিএনপি-জামায়াতের ৬ জন আটক

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিএনপি জামায়াতের ৬জনকে আটক করেছে। গতকাল ৮ সেপ্টেম্বর আলমডাঙ্গা থানার এসআই আসলাম, এসআই আসিকুল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযান চালিয়ে নাশকতা পরিকল্পনা করার অভিযোগে আলমডাঙ্গা গোবিন্দপুর গ্রামের দুলাল সর্দারের ছেলে জামায়াত নেতা  গোলাম মোস্তফা (৩২), ভাংবাড়ীয়া ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া গ্রামের মৃত  খেদের মন্ডলের ছেলে বিএনপি নেতা মুনছুর আলী (৪৫) ও একই  গ্রামের মৃত মকছের আলীর ছেলে বিএনপি নেতা হোসেন আলী (৪৮), ট্যাকপাড়া গ্রামের মৃত আফতাব উদ্দিনের ছেলে বিএনপি নেতা আব্দুর রহিম (৬০), ডাউকী গ্রামের মৃত ইয়াসিন আলীর ছেলে জামায়াত নেতা আক্কাচ আলী (৫৬), বাদেমাজু গ্রামের মৃত আকবার আলীর ছেলে জামায়াত নেতা ইউসুফ মন্ডল (৬২) কে আটক করে। তাদের বিরুদ্ধে আলমডাঙ্গা থানায় নাশকতা পরিকল্পনার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকালই তাদের সংশ্লিষ্ট মামলায় চুয়াডাঙ্গা আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

কুষ্টিয়া জিমনাষ্টিক ক্লাবের সম্প্রসারিত অংশ এবং আধুনিক জিম’র উদ্বোধন

সুজন কর্মকার ॥ কুষ্টিয়া জিমনাষ্টিক ক্লাবের সম্প্রসারিত অংশ এবং আধুনিক জিম’র শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। ৮ সেপ্টেম্বর শনিবার রাত ৮ টায় প্রধান অতিথি থেকে কুষ্টিয়া জিমনাষ্টিক ক্লাবের সম্প্রসারিত অংশ এবং আধুনিক জিম’র শুভ উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, শিঘ্রই কুষ্টিয়া জিমনাষ্টিক ক্লাবকে অত্যাধুনিক ক্লাবে পরিণত করার লক্ষ্যে একটি নকশা তৈরী করা হবে। তিনি বলেন, সকলের সহযোগিতায় কুষ্টিয়াকে আধুনিক মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। কুষ্টিয়া জিমনাষ্টিক ক্লাবের আজীবন সদস্য ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ি-সমাজ সেবক অজয় সুরেকা এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ি বিশ্বনাথ সাহা বিশু’র উদ্যোগে এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। কুষ্টিয়া জিমনাষ্টিক ক্লাবের সভাপতি আইয়ুব খান চৌধুরী’র সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন, মিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিন, ফ্রেশ এগ্রো লিঃ এর এমডি ওমর ফারুক, কুষ্টিয়া জিমনাষ্টিক ক্লাবের আজীবন সদস্য অজয় সুরেকা ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ি-সমাজ সেবক অজয় সুরেকা, বিশিষ্ট ব্যবসায়ি বিশ্বনাথ সাহা বিশু প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া জিমনাষ্টিক ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আসলাম হোসেন। মতবিনিময় সভা পরিচালনা করেন কুষ্টিয়া জিমনাষ্টিক ক্লাবের যুগ্ম-সম্পাদক আব্দুর রকিব বাচ্চু। এ সময় জেলা আওয়ামীলীগ ও এর অঙ্গসহযোগি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং কুষ্টিয়া জিমনাষ্টিক ক্লাবের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মিসরে ব্রাদারহুডের ৭৫ নেতা-কর্মীর মৃত্যুদন্ড

ঢাকা অফিস ॥ ২০১৩ সালে মিসরের রাজধানী কায়রোতে বিক্ষোভে জড়িত থাকার অভিযোগে মুসলিম ব্রাদারহুডের কয়েকজন সিনিয়র নেতাসহ ৭৫ জনের মৃত্যুদন্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। মুসলিম ব্রাদারহুড মোহাম্মদ বেলতাগি ও নেতা এসাম এল-এরিয়াকে মৃত্যুদন্ড এবং দলটির আধ্যাত্মিক নেতা মোহাম্মদ বদিকে যাবজ্জীবন কারাদ- দেয়া হয়েছে। এছাড়া শাওকান নামে পরিচিত প্রখ্যাত চিত্রসাংবাদিক মাহমুদ আবু জেইদকে পাঁচ বছরের কারাদ- দেয়া হয়েছে। ২০১৩ সালে শাওকান কায়রোতে হত্যাযজ্ঞের ছবি তোলার সময় গ্রেফতার হয়েছিলেন। ২০১৩ সালে কায়রোর রাবা আল-আদাউইয়া স্কয়ারে একটি গণবিক্ষোভের জেরে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখল করে। মিসরের প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট এবং মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতা মোহাম্মদ মুরসির বিপক্ষে ও পক্ষে বিক্ষোভ চলতে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তারা কমপক্ষে ৮০০ মানুষকে হত্যা করে।

অর্থমন্ত্রীকে রান্নার হলুদ বললেন কাদের সিদ্দিকী

ঢাকা অফিস ॥ কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম বলেছেন, ‘অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত রান্নায় দেয়া হলুদের মতো।’ সম্প্রতি অর্থমন্ত্রীর একটি মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল শনিবার রাজধানীর মতিঝিলে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বঙ্গবীর এ কথা বলেন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন, জাতীয় ঐক্য এবং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দলের বর্ধিত সভার সিদ্ধান্ত জানাতে এ সভার আয়োজন করা হয়। কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘তিনি (অর্থমন্ত্রী) মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানে ছিলেন, পরে তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সমর্থন দিয়েছেন। উনি বিএনপির আমলে সরকারের সঙ্গে কাজ করেছেন, এরশাদের আমলে জাতীয় পার্টির মন্ত্রী ছিলেন। উনি এখন আওয়ামী লীগের সঙ্গে আছেন। উনি রান্নায় দেয়া হলুদ ছাড়া আর কিছু না।’ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হলে তার দল নির্বাচনে অংশ নেবে জানিয়ে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বলেন, ‘আমি সুষ্ঠু-অবাধ-নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই।’ তবে কোনো জোটে থেকে নির্বাচন করবেন, নাকি এককভাবে করবেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আপাতত কারো সঙ্গেই জোটে যাব না। যদি যাই তা সময়ই বলে দেবে।’ কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমরাও নির্বাচনে যাইনি। তার মানে এই নয় যে, বিএনপিকে সমর্থন দিয়ে তাদের সঙ্গেই আছি। আর আগামী নির্বাচনে বিএনপি নির্বাচনে যাবে কি যাবে না, সেটি তাদের বিষয়। আমরা নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হলে নির্বাচনে যাব। তিনি বলেন, ‘আমি শেখ হাসিনার সরকারের পদত্যাগ চাই না। আমি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। আমার স্পষ্ট কথা, রাজনীতিতে শেষ কথা বলতে কিছু নেই।’ কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘জাতীয় ঐক্য এখনো গঠন হয়নি। এ নিয়ে দড়ি-টানাটানি চলছে। জাতীয় ঐক্যের স্তম্ভ কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগ  তৈরি করেছে। আমাদের বাদ দিয়ে জাতীয় ঐক্য গঠন হতে পারে না।’ ক্তফ্রন্টের নেতাদের বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে দেয়া বক্তব্য প্রসঙ্গে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘এটা তাদের নিজস্ব বক্তব্য। জাতীয় ঐক্যই গঠন হয়নি। জাতীয় ঐক্য গঠন হলে তখন বক্তব্য বা সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে। তবে সীমা ছাড়িয়ে গেলে জাতীয় ঐক্য হবে না, ঐক্য থাকবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের বক্তব্য স্পষ্ট, আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে সমদূরত্বে রেখে জাতীয় ঐক্য গঠন করা হোক। এখানে যদি বিএনপিকে টানা হয়, তাহলে আওয়ামী লীগও চলে আসতে পারে। এ সম্পর্কে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক যথার্থই বলেছেন (আওয়ামী লীগকে ছাড়া জাতীয় ঐক্য হবে না। ’ কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘আমার স্পষ্ট বক্তব্য, যত দিন বেঁচে থাকব বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে লালন করে বেঁচে থাকব। দুঃখ হয়, বর্তমান আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে লালন করে না।’

নেতিবাচক রাজনীতির কারণে বিএনপি’র জনপ্রিয়তা তিলে তিলে কমে গেছে – কাদের

ঢাকা অফিস ॥ জাতীয় নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ এই সময়ে বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না বলে দলের নেতা-কর্মীদের সতর্ক করেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, “বিশৃঙ্খলা করবেন না। বিশৃঙ্খলাকারীদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন  শুরু হয়ে গেছে। তিন দিনের মধ্যেই শোকজ যাবে। দিনাজপুর যাবে, রাজশাহী যাবে, বরগুনা যাবে, সিলেট যাবে।” বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের কোন্দলের খবর প্রকাশের প্রেক্ষাপটে শনিবার ট্রেনে উত্তরাঞ্চল সফরের সময় টাঙ্গাইল রেল স্টেশনে যাত্রাবিরতির সময় এক পথসভায় এই হুঁশিয়ারি দেন কাদের। তিনি নেতা কর্মীদের সতর্ক করে আরও বলেন, “ঘরের মধ্যে ঘর বানানোর চেষ্টা করবেন না। মশারির মধ্যে মশারি টানানোর চেষ্টা করবেন না। শেখ হাসিনার অ্যাকশন ডাইরেক্ট অ্যাকশন।” সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান তিনি। টাঙ্গাইলের পর নাটোর রেল স্টেশনে পথসভায় কাদের আগামী নির্বাচনে নৌকায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “বিএনপিকে ভোট দেওয়ার মতো কোন কারণ কি তারা দেখাতে পারবেন? দেশে উন্নয়ন অগ্রগতির এমন কী আছে, যা দেখে বিএনপিকে মানুষ ভোট দিবে। নেতিবাচক রাজনীতির কারণে তাদের জনপ্রিয়তা তিলে তিলে কমে গেছে। “আমি আপনাদের বলতে চাই, জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আপনাদের পাশে আছে থাকবে। আমি আশা করি, নাটোরের বনলতা সেন নৌকা মার্কায় ভোট দিতে ভুল করবে না।” সরকারের জনপ্রিয়তা নেই বলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের জবাবে কাদের বলেন, “এই নাটোরে আজকে দেখেন কী অবস্থা, আসছি পথসভা করতে, হয়ে গেছে জনসভা।” সকালে একদল কেন্দ্রীয় নেতাকে নিয়ে নীলফামারীগামী নীলসাগর এক্সপ্রেসে চেপেছেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী কাদের। পথে টাঙ্গাইল ও নাটোরের পর বগুড়ার শান্তাহার, জয়পুরহাট, জয়পুরহাটের আক্কেলপুর, দিনাজপুরের বিরামপুর, ফুলবাড়ি, পার্বতীপুর ও নীলফামারীর সৈয়দপুর স্টেশনে পথসভা করার কথা রয়েছে তার। আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, স্বাভাবিক সময়ে এই ট্রেনের যাত্রাবিরতি ৩ থেকে ৪ মিনিট হলেও পথসভা উপলক্ষে নীলসাগর এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতি হবে ১০ মিনিট। ফলে এই ট্রেনের যাত্রীদের শনিবার গন্তব্যে পৌঁছতে দেরি হবে। টাঙ্গাইলের পথসভায় স্থানীয়দের দাবির পরিপেক্ষিতে মন্ত্রী কাদের বলেন, “একটু অপেক্ষা করুন। ঢাকা-টাঙ্গাইল অফিসগামী ট্রেনও চালু হবে।” উত্তরাঞ্চলে এই সফরে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে রয়েছে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বি এম মোজাম্মেল হক, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, উপ দপ্তর বিপ্লব বড়ুয়া।

সৌদি আরবে হজব্রত পালনকালে কুষ্টিয়ার হাজী আব্দুর রাজ্জাকের ইন্তেকাল

নিজ সংবাদ ॥ সৌদি আরবের মদিনাতে পবিত্র হজব্রত পালনকালে, লালন শাহ্ ডায়াগনস্টিক সেন্টার এন্ড হসপিটালের পরিচালক হারুন অর রশিদ হিরু’র পিতা আব্দুর রাজ্জাক (৭৩) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না…রাজেইন)। মরহুমের পুত্র হারুন অর রশিদ হিরু জানান, ৮ সেপ্টেম্বর শনিবার সৌদি আরব সময় বিকেল সাড়ে ৩ টায় আব্দুর রাজ্জাক ইন্তেকাল করেন। আব্দুর রাজ্জাক কুষ্টিয়া শহরের পিয়ারাতলার বাসিন্দা। তিনি মংলা বন্দরের সাবেক অর্থকর্মকর্তা ছিলেন। তিনি ৪ পুত্র সন্তানের জনক ছিলেন। মৃত্যুকালে স্ত্রী, পুত্রসহ অশংখ্য শুভাকাঙ্খি রেখে গেছেন।

সব চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় আসবে ঃ আমু

ঢাকা অফিস ॥ সংবিধান অনুযায়ী আগামী জাতীয় নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। তিনি বলেছেন, নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র চলছে। তবে কোনো অপশক্তি নির্বাচন ঠেকাতে পারবে না। দেশে সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে নির্বাচন হবেই। সব চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে আওয়ামী লীগ ২০১৪ সালের মতো নির্বাচনে জয়ী হয়ে আবারও ক্ষমতায় আসবে। সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমির হোসেন আমু এসব কথা বলেছেন। গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে তিনটায় তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী টেকেরঘাট চুনাপাথর খনি প্রকল্প এলাকায় এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। আমু বেলা তিনটায় খনি প্রকল্প এলাকায় আসেন এবং দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা প্রকল্পটি ঘুরে দেখেন। পরে সমাবেশে বক্তব্য দেন তিনি। সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের (তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধরমপাশা) সাংসদ মোয়াজ্জেম হোসেন রতন। সমাবেশে আমির হোসেন আমু আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা এখন মধ্যম আয়ের দেশ। শেখ হাসিনাকে বারবার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। এখনো তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্র চলছে। সব উপেক্ষা করে শেখ হাসিনা দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।’ টেকেরঘাট চুনাপাথর খনি প্রকল্পের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এই প্রকল্পটি অনেক দিন ধরে বন্ধ। আমরা এটি আবার চালু করার চিন্তাভাবনা করছি। সে অনুযায়ী কাজ হচ্ছে।’ তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হোসেন খানের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল হালিম, বিসিআইসির চেয়ারম্যান শাহ মো. আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আলী মরতুজা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও তাহিরপুর কয়লা আমদানিকারক গ্র“পের সভাপতি আলকাছ উদ্দিন খন্দকার, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আমিনুল ইসলাম, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক মো. হাফিজ উদ্দিন প্রমুখ।

দশম জাতীয় সংসদের ২২তম অধিবেশন শুরু আজ

ঢাকা অফিস ॥ দশম জাতীয় সংসদের ২২তম অধিবেশন আজ রোববার বিকাল ৫টায় শুরু হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে গত ১৯ আগস্ট এ অধিবেশন আহ্বান করেন। ষাট দিনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা পুরণের জন্যই এই অধিবেশন ডাকা হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী সংসদের এক অধিবেশন শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে পরবর্তী অধিবেশন বসতে হবে। ফলে আসন্ন অধিবেশন সংক্ষিপ্ত হওয়ার কথা রয়েছে। অবশ্য ২২তম অধিবেশন দশম জাতীয় সংসদের শেষ অধিবেশনও হতে পারে। ফলে এ অধিবেশনের মেয়াদ বাড়তেও পারে। তবে আজ বিকেলে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় সংসদ কার্য-উপদেষ্টা কমিটির সভায় ২২তম অধিবেশনের মেয়াদ ও কার্যক্রম সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এদিকে দশম জাতীয় সংসদের সম্ভাব্য শেষ অধিবেশন হিসাবে আসন্ন অধিবেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ অধিবেশনে সড়ক পরিবহন বিলসহ বেশ ক’টি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হবে। এছাড়াও জাতীয় আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে নীতিনির্ধারণী আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে। সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে এ অধিবেশনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এ অধিবেশনে পাস ও উত্থাপনের জন্য গতকাল পর্যন্ত ২০ টি সরকারি বিল সংসদের আইন শাখায় জমা রয়েছে। অধিবেশন চলাকালে আরো বিল জমা হতে পারে। সর্বশেষ গত ১২ জুলাই সংসদের ২১তম (বাজেট) অধিবেশন শেষ হয়। ওই অধিবেশন শুরু হয়েছিল গত ৫ জুন।

 

কেআইবি’র ৬ষ্ঠ জাতীয় কনভেনশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীদের উদ্দেশ্যই ছিল এদেশের মানুষকে শোষণ করা

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, কৃষিবিদদের লক্ষ্য রাখতে হবে বাংলাদেশকে আবার যেন খাদ্যের জন্য কারো কাছে হাত পাততে না হয় ।  তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে এবং খাদ্যের জন্য যেন আর কোনদিন বাংলাদেশকে কারো কাছে হাত পাততে না হয়, সেটা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘আর যেন বাংলাদেশকে ভবিষ্যতে ভিক্ষার হাত বাড়াতে না হয় সেদিকে বিশেষভাবে কৃষিবিদরা লক্ষ্য রাখবেন, আমরা সেটাই চাই। এইটুকুই আপনাদের কাছে অনুরোধ করে যাচ্ছি।’ প্রধানমন্ত্রী গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর ফার্মগেটস্থ কৃষিবিদ ইনষ্টিটিউশন মিলনায়তনে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (কেআইবি)-র ৬ষ্ঠ জাতীয় কনভেনশন এবং এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত আন্তর্জাতিক সেমিনারের উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সামনে আমাদের নির্বাচন আমরা একটানা দুইমেয়াদে থাকলাম (রাষ্ট্র ক্ষমতায়) তৃতীয় মেয়াদে জনগণ ভোট দিলে আসবো, না দিলে নয়। কিন্তু আমরা চাই, যে অগ্রযাত্রটা শুরু করেছি, বাংলাদেশ আজকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছি, সেটা যেন থেমে না থাকে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের আওয়ামী লীগের নীতি খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করবো, কারো কাছে হাত পাতবো না। আর বিএনপি’র নীতি খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ হওয়া যাবে না, বিদেশ থেকে ভিক্ষা আনতে হবে।’ তিনি এ সময় কৃষিক্ষেত্রে অবদানের জন্য বিজ্ঞানী, কৃষিবিদসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি ধন্যবাদ জানান। কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং কেআইবি সভাপতি এএমএম সালেহ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। আইএফডিসি’র প্রেসিডেন্ট এবং সিইও স্কট জে অ্যাঞ্জেল এবং কেআইবি মহাসচিব মো. খায়রুল আলম প্রিন্সও অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। কৃষিবিদ ড. মীর্জা আব্দুল জলিল, ড. আব্দুর রাজ্জাক, আব্দুল মান্নান এবং কৃষিবিদ আফম বাহাউদ্দিন নাছিম মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। কৃষিক্ষেত্রে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ অনুষ্ঠানে কৃষিবিদ বাহাউদ্দিন নাছিমকে কেআইবি’র পক্ষ থেকে আজীবন সম্মাননা পদকে ভূষিত করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তাঁর হাতে এই পদক তুলে দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আজ খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ কিন্তু আমাদের এখন এসব পণ্যে ভ্যালু অ্যাড করতে হবে, প্রক্রিয়াজাতকরণ করতে হবে। কারণ, আমাদের দেশের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন হচ্ছে, বিদেশে বাজার ও তেমনি বৃদ্ধি পাচ্ছে তাই এগুলো আমরা দেশে যেমন বিক্রী করতে পারবো তেমনি বিদেশেও রপ্তানী করতে পারবো। ‘তাই কৃষিপণ্যের প্রক্রিয়াজাতকরণের দিকে আমাদের বিশেষভাবে নজর দেওয়া প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। সেজন্য আমরা উৎসাহিত করছি আমাদের বিনিয়োগটা যেন এদিকে হয়। আমরা তাহলে অর্থনৈতিকভাবে আরো শক্তিশালী হতে পারবো,’ যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। স্বল্প মেয়াদি, মধ্য মেয়াদি এবং দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন করে তাঁর সরকার দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বলেও এ সময় প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা সময় ছিল যখন আমাদের দেশের মানুষ খাবারের জন্য হাহাকার করত। বিদেশ থেকে চাল আমদানি করেও চাহিদা মেটানো যেত না। তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালে আমরা যখন সরকার গঠন করি, তখন দেশে ৪০ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য ঘাটতি ছিল। ২০০১ সালে আমাদের দায়িত্ব ছাড়ার সময় ঘাটতি পূরণ করে উদ্বৃত্ত খাদ্যশস্যের পরিমাণ ছিল ২৬ লাখ মেট্রিক টন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় এসে দেশকে আবার খাদ্য ঘাটতির দেশে পরিণত করে। কারণ, খাদ্যে স্বয়ং-সম্পূর্ণ হলে বিদেশ থেকে নাকি খাদ্য সাহায্য আসবে না। লুটপাটও বন্ধ হয়ে যাবে। রাসায়নিক সার, সেচ, জ¦ালানি তেল এবং কৃষি যন্ত্রপাতি সহজলভ্য করার জন্য তাঁর সরকার কৃষিতে বিপুল ভর্তুকির ব্যবস্থা করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন বর্গাচাষীদের মধ্যে জামানত ছাড়াই নামমাত্র সুদে কৃষিঋণ দেয়া হচ্ছে। ২ কোটি ৮ লাখ ১৩ হাজারেরও বেশি কৃষক কৃষি উপকরণ কার্ডের মাধ্যমে কৃষি সহায়তা পাচ্ছেন। মাত্র ১০ টাকায় কৃষকদের জন্য ব্যাংক একাউন্ট খোলার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ আজ কৃষি পণ্য উৎপাদনে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা এখন দানাদার খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ং-সম্পূর্ণ। চাল, শাক-সবজি, মাছ-মাংসসহ বেশ কিছু কৃষিপণ্য আমরা বিদেশে রপ্তানি করছি। বাংলাদেশ বিশ্বে ধান উৎপাদনে চতুর্থ, সবজি উৎপাদনে তৃতীয়, মৎস্য উৎপাদনে তৃতীয়, ফসলের জাত উৎপাদনে প্রথম অবস্থানে রয়েছে। কৃষি গবেষণা, উপকরণ সরবরাহ ও সম্প্রসারণ সেবাখাতের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আজকের এ উন্নতি অর্জন সম্ভব হয়েছে, বলেন প্রধানমন্ত্রী। উন্নয়নের জন্য গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী কৃষি বিজ্ঞানীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ইতোমধ্যে খরা, লবণাক্ততা ও জলমগ্নতা সহিষ্ণু বেশ কিছু ফসল, ফলদবৃক্ষ ও অন্যান্য গাছের উচ্চফলনশীল জাত আপনারা উদ্ভাবন করেছেন। এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। তাঁর সরকার কৃষি শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ইনস্টিটিউট অব পোস্ট গ্রাজুয়েট স্টাডিজ ইন এগ্রিকালচারকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে, পটুয়াখালী কৃষি কলেজ ও দিনাজপুরের হাজী দানেশ কৃষি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করা হয়েছে। এছাড়া দেশের প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও কৃষি সংশ্লিষ্ট শাখা খোলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২১০০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ কেমন হবে সেই পরিকল্পনা করে আমরা ‘ ডেল্টা প্ল্যান’ করেছি। সেখানে কৃষি ও পানিকে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। ব্লু-ইকোনমি শক্তিশালী করার জন্য সমুদ্র গবেষণা কেন্দ্রও করা হয়েছে। কৃষিক্ষেত্রে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত তাঁর সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশজুড়ে আমরা ভাসমান কৃষিক্ষেত করতে পারি। ইতোমধ্যে গোপালগঞ্জের কিছু জায়গায় শুরু হয়েছে, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমার এলাকায় (গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়া-কোটালিপাড়া) কচুরিপানার ওপর বেড তৈরি করে মানুষকে ফসল ফলাতে দেখেছি। এরপর কৃষিমন্ত্রীকে বলেছি। সারাদেশে একই প্রক্রিয়ায় চাষাবাদ শুরু করলে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। দেশের বিভিন্ন স্থানে কিন্তু অনেকে এভাবে চাষ করতে শুরুও করে দিয়েছে। কৃষিক্ষেত্রকে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দেয় উল্লেখ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প নিয়ে আমরা প্রত্যেকটা পরিবারকে উৎসাহিত করছি। পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক করে দিয়েছি। কেউ ১০০ টাকা সঞ্চয় করলে ব্যাংক থেকে তাকে আরও ১০০ টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে মানুষের সঞ্চয়ের প্রবৃত্তি বাড়বে। তিনি বলেন, একই সঙ্গে কোথাও এক টুকরো জমিও খালি রাখা যাবে না, ফসল ফলাতে হবে, উৎপাদন বাড়াতে হবে।’ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা লাভের পর অল্প সময়ের মধ্যে জাতির পিতা এ দেশকে গড়ে তুলেছিলেন। কিন্তু তার নেওয়া সব উন্নয়ন পরিকল্পনা বন্ধ করে দেয় জিয়াউর রহমান ও পরবর্তী এরশাদ ও খালেদা জিয়ার সরকার। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীদের উদ্দেশ্যই ছিল এদেশের মানুষকে শোষণ করা। এদেশের মানুষ ভিক্ষা করবে, এটাই চেয়েছিল ক্ষমতা দখলকারীরা। তিনি বলেন, ‘বিএনপি যখন সরকারে ছিল, সারের জন্য কৃষকদের ধর্ণা দিতে হয়েছে। গুলি খেয়ে প্রাণ দিতে হয়েছে। কিন্তু এখন সারের জন্য ধর্ণা দিতে হয় না, বরং সারই কৃষকের হাতের মুঠোয় পৌঁছে যায়।’ প্রধানমন্ত্রী সারের দাম কমানো প্রসঙ্গে বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে তিন দফায় সারের দাম কমিয়েছে। কৃষককে যেন ব্যাংকে আসতে না হয়, বরং ব্যাংকই কৃষকের দ্বারে গিয়ে তাকে ঋণ পৌঁছে দেয়, সেই ব্যবস্থাও করেছি।’ ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে আপদকালের জন্য খাদ্য মজুদ রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।  তিনি বলেন, ‘কখন বিপদ-আপদ আসে, বলা যায় না। একটা ফসলের ওপর নির্ভর করলে হবে না। বহুমুখী ফসল চাষাবাদের দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। বিপদের সময় যাতে খাদ্য সরবরাহ করতে পারি, যেজন্য সাইলো নির্মাণ করে আমরা খাদ্য মজুদ রাখার প্রস্তুতি নিয়েছি।’ শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হয়ে মূলমঞ্চে যাওয়ার আগে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের পতাকা উত্তোলন করেন কৃষিবিদ এ এম এম সালেহ। এ সময় জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রী পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে কনভেনশনের উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মঞ্চে বসা সকলকে উত্তরীয় পরিয়ে দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে দেশের কৃষিক্ষেত্রের উন্নয়নের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র পরিবেশিত হয়। প্রধানমন্ত্রী দু’দিনব্যাপী এ কনভেনশন উপলক্ষে প্রকাশিত স্মরণীকার মোড়কও উম্মোচন করেন।