যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওয় ব্যাংকে গুলি, নিহত ৩

ঢাকা অফিস ॥ যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও রাজ্যে সিনসিনাটি শহরের একটি ব্যাংকে এক বন্দুকধারীরর গুলিতে কমপক্ষে ৩ জন নিহত এবং ২ জন আহত হয়েছে। ফাউন্টেইন স্কয়ারের কাছে ফিফথ থার্ড ব্যাংকে বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ বন্দুকধারীকে গুলি করে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ প্রধান এলিয়ট ইসাক। হামলাকারী লোডিং ডক দিয়ে ভবনটিতে প্রবেশ করে অফিস ভবনের লবিতে গিয়ে হামলা চালায়। ওই ব্যক্তি এক ডজনেরও বেশি গুলি ছুড়েছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। ব্যাংক ম্যানেজার ভবনের উপরের তলা থেকে গুলির শব্দ শুনতে পাওয়ার কথা সংবাদমাধ্যম সিএনএন কে জানিয়েছেন। তবে গুলিতে কোনো পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়নি। হামলাকারীর উদ্দেশ্য কি ছিল তাও জানা যায়নি। পুলিশ ফাউন্টেইন স্কয়ার এবং এর আশেপাশের রাস্তাগুলো বন্ধ করে দিয়েছে। পরবর্তী নোটিশ না দেওয়া পর্যন্ত সেখানে লোক চলাচল বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

কারাগার থেকে বেরিয়ে যা বললেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী

ঢাকা অফিস ॥  বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিশেষায়িত হাসপাতালে নেয়ার দাবি জানিয়েছেন সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন। তিনি বলেন, ‘আগে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন, তারপর তাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করান।’ গতকাল শুক্রবার রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাত  শেষে জয়নুল আবেদীন এ দাবি জানান। জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘আজ সাক্ষাতে ম্যাডামকে যেভাবে দেখেছি তাতে তিনি কীভাবে আগের দিন আদালতে এসেছেন সেটা ভাবছি। তিনি বাম হাত নাড়াতে পারেন না। বাম পাশ পুরো অবশ হয়ে গেছে।  চোখেও প্রচন্ড ব্যথা হয়। চোখের ভবিষ্যত কী সেটা বলা যাচ্ছে না।’ জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘আমরা মনে করি কারাগারের  ভেতরে রেখে তাকে চিকিৎসা না দেয়ায় এই অবস্থা হয়েছে। তাই আমরা মনে করি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে বিশেষায়িত হাসপাতালে নেয়া হোক। ইউনাইটেড, অ্যাপোলো বা যে কোনো বেসরকারি বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করা  হোক।’ খালেদা জিয়ার এ আইনজীবী বলেন, ‘আগে চিকিৎসা তারপর বিচার। খালেদা জিয়ার বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। তিনি তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী।’ এদিন বিকালে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের নেতৃত্বাধীন বিএনপিপন্থী চার আইনজীবী খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে কারাগারে যান। অন্য আইনজীবীরা হলেন- আব্দুর রেজ্জাক খান, এজে মোহাম্মদ আলী এবং জয়নাল আবেদীন। উল্লেখ্য, জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলার শুনানি এতদিন চলছিল কারাগারের কয়েকশ গজ দূরে বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন কারা অধিদফতরের মাঠে বিশেষ এজলাসে। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে গত মঙ্গলবার আইন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে পুরান ঢাকার  কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের ৭ নম্বর কক্ষকে আদালত ঘোষণা করে সেখানেই দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলার শুনানি করার নির্দেশ দেয়। এরপর বুধবার সেই আদালত বর্জন করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। এ কারাগারেই আরেকটি ভবনের দোতলার একটি কক্ষে গত সাত মাস ধরে বন্দি রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় গত ৮ ফেব্র“য়ারি একই বিচারক তাকে পাঁচ বছর কারাদন্ড দেন।

জাতীয় ঐক্যে ক্ষমতাসীনদের মাথা নষ্ট হয়ে গেছে – খন্দকার মোশাররফ

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, বিরোধী দলগুলোর জাতীয় ঐক্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। যে কারণে তারা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জাতীয় ঐক্য-বিরোধী কথাবার্তা বলছেন। গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের এক আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন। ‘ষড়যন্ত্রের রাজনীতির অবসান এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক সভার আয়োজন করে নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরাম। সংগঠনটির উপদেষ্টা সাঈদ আহমেদ আসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের পরিচালনায় সভায় আরও ছিলেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, কল্যাণ পার্টির সহসভাপতি সাহিদুর রহমান তামান্না প্রমুখ। ‘আওয়ামী লীগ ছাড়া জাতীয় ঐক্য হাস্যকর’- সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘যারা গণতন্ত্র বাক্স বন্দি করেছে তাদের নিয়ে কী গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের ঐক্য সম্ভব? এ কারণেই জাতীয় ঐক্যে আওয়ামী লীগের থাকার কোনো সুযোগ নেই; বরং এই ঐক্য তাদের বিরুদ্ধেই।’ তিনি বলেন, তফসিল ঘোষণার আগে সংসদ ভেঙে দেয়া, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন, ইসি (নির্বাচন কমিশন) পুনর্গঠন, নির্বাচনের সময়ে সেনাবাহিনী মোতায়েন- এসব বিষয়ে এখন সবাই একমত। বিএনপি নেতৃত্বে ২০ দল ঐক্যবদ্ধ, অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট, ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যপ্রক্রিয়া, বাম জোট ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। এমনকি চরমোনাইয়ের পীর সাহেবের দলও বলেছেন আগামী নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দিতে হবে এবং নির্বাচনকালীন একটি সরকার করতে হবে। খন্দকার মোশাররফ বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, অতি শিগগিরই জাতীয় ঐক্য জাতীয় রাজনৈতিক ঐক্যে রূপান্তরিত হবে। ঐক্যবদ্ধভাবেই আমরা  স্বৈরশাসন হাত থেকে দেশকে মুক্ত করবো। বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, সরকার আইন সংবিধান উপেক্ষা করে হিংসার রাজনীতি চরিতার্থ করতেই খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠিয়েছে। তাকে চিকিৎসা না দিয়ে খারাপ অবস্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এখন বিচারের নামে তাকে আরও সাজা দিতে কারাগারে আদালত বসিয়েছে। খালেদা জিয়া মানসিকভাবে শক্তিশালী আছে মন্তব্য করে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, খালেদা জিয়ার মানসিক শক্তি খর্ব করতে না পেরে তাকে শারীরিকভাবে দুর্বল করার চক্রান্ত চলছে। দলীয় নেতৃবৃন্দ ও পরিবারের সঙ্গেও তাকে দেখা করতে দেয়া হচ্ছে না। আগামী নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হলে আওয়ামী লীগ ৩০ আসনের বেশি পাবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, গোয়েন্দাদের রিপোর্ট পাওয়ার পর ক্ষমতাসীনদের মাথা খারাপ হয়েছে। সরকার এখন আতঙ্কে। যে কারণে বিরোধীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে বাঁচার চেষ্টা চলেছে।

আদালতকে বিএনপি হেনস্তা করছে – ড. হাছান মাহমুদ

ঢাকা অফিস ॥ আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, প্রকৃতপক্ষে আদালতকে খালেদা জিয়া, বিএনপি এবং বিএনপির আইনজীবীরা হেনস্তা করছে। গতকাল শুক্রবার সকালে ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ের নতুন ভবনে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির নিয়মিত বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন। আদালতকে বন্দি করা হয়েছে- বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভীর সাম্প্রতিক এমন বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপি এসব বক্তব্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা করছে। খালেদা জিয়ার সুবিধার্থে কারাগারে আদালত বসানো হয়েছে উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, সর্বপ্রথম কারাগারে আদালত বসিয়ে ছিল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান। সে সময় ওই আদালতে কর্নেল তাহেরের ফাঁসি দিয়েছিল। খালেদা জিয়া যখন ক্ষমতায় ছিল তখন এরশাদ সাহেবের জন্য কারাগারে আদালত বসানো হয়েছিল। এখন খালেদা জিয়ার সুবিধার্থে কারাগারে আদালত বসানো হচ্ছে। কারণ বারবার মামলার তারিখ পড়ার পরও অসুস্থতার কথা বলে তিনি কারাগারের বাইরে যেতে অপারগতা জানান এবং গত ৬ মাস ধরে তিনি একদিনও আদালতে হাজির হননি। তাই তার সুবিধার্থে কারাগারে আদালত বসানো হয়েছে। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য প্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপ প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিনসহ প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির সদস্যরা।

দৌলতপুরের ইসলামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তছলিম উদ্দিনের ইন্তেকাল

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের ইসলামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তছলিম উদ্দিনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। আজ শনিবার সকাল ৯টায় জানাজা শেষে তার দাফন সম্পন্ন করা হবে বলে পরিবার সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তছলিম উদ্দিন (৫০) উপজেলার ফিলিপনগর ইউপি’র ইসলামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (কম্পিউটার) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার মৃত্যুতে নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক মহিউদ্দিনসহ সকল শিক্ষক গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। মৃত্যুকালে তছলিম উদ্দিন স্ত্রী এক মেয়ে ও ছেলেসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। সে ইসলামপুর গ্রামের প্রয়াত আব্দুল লতিবের ছেলে।

আমলাপাড়া স্পোর্টিং ক্লাবে আঃ খালেক মন্ডল স্মৃতি দাবা টুর্নামেন্ট’র উদ্বোধন

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া শহরস্থ আমলাপাড়া স্পোর্টিং ক্লাবে, মরহুম আঃ খালেক মন্ডল স্মৃতি দাবা টুর্নামেন্ট-২০১৮ এর উদ্বোধন করা হয়েছে। ৭ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকেলে এ দাবা টুর্নামেন্ট’র উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও আমলাপাড়া স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি (পি.পি) এ্যাডঃ অনুপ কুমার নন্দী। বিশেষ অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার দাবা উপ-পরিষদের সভাপতি লিয়াকত আলী ও  সাধারণ সম্পাদক রতন পাল। সার্বিক পরিচালনা করেন আমলাপাড়া স্পোর্টিং ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম। এ সময় দাবা উপ-কমিটির আহবায়ক আক্তারুজ্জামান হাসান, মরহুম আঃ খালেক মন্ডল’র পরিবারের পক্ষ থেকে আজিজুর রহমান স্বপন, আমলাপাড়া স্পোর্টিং ক্লাবের, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রবিউল হক, মেজবার রহমান, আজিজুল ইসলাম মানিক, আহমেদ রাজু, সাংগঠনিক সম্পাদত মুক্তার হোসেন, শরীফ হাসান, ক্রীড়া সম্পাদক নুরুল ইসলাম খোকন, বুরান সরকার, দাবা উপ-কমিটির সদস্য সুপ্লব কুমার ঘোষ, আমলাপাড়া স্পোর্টিং ক্লাবের দপ্তর সম্পাদক শামসুল আলম জয়নাল, প্রচার সম্পাদক সাংবাদিক সুজন কুমার কর্মকার, সহ-প্রচার সম্পাদক শামীম রেজা সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

রবীন্দ্র মৈত্রী বিশবিদ্যালয়ে ভর্তি মেলার আয়োজন

নিজ সংবাদ ॥ কবিগুরুর রবীন্দ্রনাথের স্মৃতি বিজড়িত কুষ্টিয়াতে রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ^বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ^বিদ্যালয় ২০১৭ সালের অক্টোবর মাস থেকে পাঠদানের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। নান্দনিক অবকাঠামো এবং দক্ষ শিক্ষকমন্ডলীর তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্থীদের অধ্যয়ন করানো হচ্ছে। বিশ^বিদ্যালয়টি তার যাত্রার শুরু থেকেই গরীব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের নানা ধরনের ছাড়ের ব্যবস্থা করে আসছে। ২০১৮ ফল সেমিস্টারে শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভর্তি মেলার আয়োজন করেছে। ভর্তি মেলাটি আগামি ১১-১৩ সেপ্টেম্বর সকাল ১০ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত বিশ^বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত মেলায় এসে শিক্ষার্থী ভর্তি হলে টিউশন ফি এর উপর ১০০% পর্যন্ত ছাড় পেতে পারে। বর্তমানে রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ^বিদ্যালয়ে ৮ টি বিভাগে অনার্স প্রোগ্রামে ভর্তি হবার সুযোগ রয়েছে। বিষয়সমূহ: বাংলা, ইংরেজি, আইন, বিবিএ, কৃষি, আইসিই, সিএসই, ইইই।

কুষ্টিয়া পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান ম. আ রহিম’র মৃত্যুবার্ষিকীতে মিলাদ মাহফিল

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান ম.আ রহিম’র ৩১ তম মৃত্যুবার্ষিকী ছিলো ৭ সেপ্টেম্বর শুক্রবার। দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য পারিবারিক উদ্যোগে গতকাল শুক্রবার বাদ আসর কুষ্টিয়া শহরস্থ আড়–য়াপাড়া ছাখাবী মসজিদে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। উক্ত মিলাদ মাহ্ফিলে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়। এ সময় মরহুমের পরিবারের সদস্য ছাড়াও পৌরবাসী, শুভানুধ্যায়ীরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, ব্যক্তি জীবনে অমায়িক সজ্জন ও সদালাপী ম. আ রহিম ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জন নির্বাচিত পৌর চেয়ারম্যান। ১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দের ৮ জানুয়ারি তিনি কুষ্টিয়া শহরের আড়–য়াপাড়ার বিশিষ্ট সমাজসেবক জেহের আলী মন্ডল ও ময়জান নেছার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ছোট বেলা থেকেই তিনি সমাজ সেবামূলক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখতে সক্ষম হন। পঞ্চাশ থেকে ষাটের দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত তিনি মোহিনী মিল রঙ্গমঞ্চ ও পরিমল থিয়েটারের সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। এ দু’টি প্রতিষ্ঠানের বেশ কিছু নাটকেও তিনি সফলভাবে অভিনয় করেন। ষাটের দশকের প্রথম দিকে তিনি “পাকিস্তান যাদুকর পরিষদ” এর রাজশাহী বিভাগীয় প্রতিনিধি ছিলেন (কুষ্টিয়া তখন রাজশাহী বিভাগের অন্তর্গত ছিল)। সে সময় পাকিস্তানের খ্যাতনামা যাদুশিল্পী আলাদীনের ছাত্র হিসাবে তিনি কুষ্টিয়ার বিভিন্ন মঞ্চে ম্যাজিক প্রদর্শন করেন। ১৯৬০-৬১ সময়ে তিনি পাঠাগার, সাংস্কৃতি ও সমাজ সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসাবে “মিতালী পরিষদ” প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়া তিনি ১৯৬৪ থেকে ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত কুষ্টিয়া ট্রান্সপোর্ট সিন্ডিকেট এর সাধারণ স¤পাদক এবং ১৯৭৫ সাল থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত বিআরটিসি-র খুলনা বিভাগীয় পাবলিক ডাইরেক্টর ছিলেন। সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ব্যবসায়ী সংগঠনে জড়িত থাকার পাশাপাশি তিনি জনপ্রতিনিধি হিসেবে তার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হন। ১৯৫২ সাল থেকে তিনি একাধিক মেয়াদে পৌরসভার ওয়ার্ড কমিশনারে ছিলেন। এছাড়াও ১৯৬৪’র ফেব্র“য়ারি থেকে ১৯৭১ এর মার্চ পর্যন্ত তিনি মিলপাড়া ওয়ার্ড চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন এবং দুই দফায় ১৯৭৪ থেকে ১৯৮২ পর্যন্তকুষ্টিয়া পৌরসভার নির্বাচিত পৌর চেয়ারম্যান ছিলেন। ১৯৮৭ সালের ৭ সেপ্টেম্বর তিনি চিকিৎসারত অবস্থায় ঢাকার পি.জি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি মৃত্যুকালে স্ত্রী, দুই পুত্র, দুই কন্যা রেখে যান। তার জ্যেষ্ঠ পুত্র  মোঃ আখতারুজ্জামান ব্যবসায়ী ও পরিচালক, দি চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি এবং মন্ডল ফিলিং স্টেশন এর মালিক। কনিষ্ট পুত্র হাসান জামান লালন, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের ছাত্র সংসদের সাবেক জি.এস ছিলেন এবং তিনি ১৯৯৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ভারতের দার্জিলিংয়ের এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। দি চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি এর সাবেক পরিচালক মোঃ রাকিবুজ্জামান সেতুর দাদা।

উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী কুষ্টিয়া জেলা সংসদের সভা

নিজ সংবাদ ॥ বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী কুষ্টিয়া জেলা সংসদের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৭ টায় কুষ্টিয়া শহরের এনএস রোডস্থ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী কুষ্টিয়া জেলা সংসদের কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী কুষ্টিয়া জেলা সংসদের সভাপতি (পি.পি) এ্যাডঃ অনুপ কুমার নন্দী। পরিচালনা করেন জেলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক গোপা সরকার। এ সময় উদীচী কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শিল্পী সমর রায়, জেলা সংসদের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হক মতিন, কমরেড রফিকুল ইসলাম, হাফিজুর রহমান, গোলাম রব্বানী সহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

শহীদ মারফত আলীর মায়ের দাফন সম্পন্ন

আমলা অফিস ॥ মহান মুক্তিযুদ্ধের বৃহত্তর কুষ্টিয়ার বিএলএফ প্রধান, উত্তরবঙ্গের প্রখ্যাত কৃষক নেতা, মিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক  চেয়ারম্যান ও আমলা সরকারী ডিগ্রি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ মারফত আলীর মা  রোমেছা বেগম (১১৫) এর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেল ৩ টার দিকে সদরপুর ইউপির কাকিলাদহ-মালিহাদ ও আবুরী মাগুড়া গোরস্থানে নামাজের যানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়। এসময় নামাজের জানাযায় উপস্থিত ছিলেন- মিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক কামারুল আরেফিন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম জামাল আহাম্মেদ, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধার সংসদের সাবেক কমান্ডার নজরুল করীম, ডেপুটি কমান্ডার এনামুল হক বিশ্বাস, জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মহাম্মদ আব্দুল্লাহ, চুয়াডাঙ্গা জেলা জাসদের সভাপতি ও বীর মক্তিযোদ্ধা সবেদ আলী, কুষ্টিয়া জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম স্বপন, সাংগঠনিক সম্পাদক অসীত কুমার সিংহ রায়, মিরপুর উপজেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক আহম্মদ আলী, ভেড়ামারা উপজেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক আনসার আলী, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বাহাদুর শেখ, সদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল হক রবি, সাবেক চেয়ারম্যান নিয়াত আলী লালু মাষ্টার, মালিহাদ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আকরাম হোসেন, মালিহাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন, কুর্শা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওমর আলী, জেলা যুবলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম, মিরপুর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম, কুর্শা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান, আলমডাঙ্গার কালিদাসপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মইন উদ্দিন,  জেলা জাসদের প্রচার সম্পাদক কারশেদ আলম, উপজেলা জাসদের সাংগাঠনিক সম্পাদক আফতাব উদ্দিন, জেলা পরিষদের সদস্য আবু সালেক বেল্টু, সদরপুর ইউপি জাসদের সভাপতি সাবদার হোসেন, সদরপুর ইউপি মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার রাহাত আলী, ডেপুটি কমান্ডার আফছার আলী, আমলা ইউপি মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার আশকর আলী, আমলা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সিদ্দিক আলী, বীরমুক্তিযোদ্ধা লুৎফর রহমান, জালাল উদ্দিন, মিরপুর প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি কাঞ্চন কুমার, আমলা প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাবিবুর রহমান, সাধারন সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া মাসুম, সাংবাদিক মস্তফা কামালসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সকল শ্রেনি পেশার মানুষ, পরিবারের সদস্যরা। শহীদ মারফত আলীর মাতা রোমেছা বেগম বৃহস্পতিবার রাত ৮টার সময় তার নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

আলমডাঙ্গায় নাশকতা পরিকল্পনার অভিযোগে বিএনপি-জামায়াতের ৩ জন আটক

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিএনপি-জামায়াতের ৩জনকে আটক করেছে। গতকাল শুক্রবার আলমডাঙ্গা থানার এসআই জিয়াউর রহমান, সাইফুল ও গিয়াস গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে নাশকতা পরিকল্পনার করার অভিযোগে আলমডাঙ্গা গোবিন্দপুর গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে জামায়াত নেতা নজরুল ইসলাম (৪৮), কালিদাশপুর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামের মৃত আনছার আলী জোয়াদ্দারের ছেলে বিএনপি নেতা আবেদীন (৪০) ও চিৎলা ইউনিয়নের রুইতনপুর গ্রামের আজমত আলীর ছেলে জামায়াত নেতা আবু বক্কর (৫০) কে আটক করে। তাদের বিরুদ্ধে আলমডাঙ্গা থানায় নাশকতা পরিকল্পনার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকালই তাদের সংশ্লিষ্ট মামলায় চুয়াডাঙ্গা আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সদরপুরে আওয়ামীলীগের মতবিনিময় সভা

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার সদরপুরে আওয়ামীলীগের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে উপজেলার সদরপুর ইউনিয়নের হিদিরামপুর এলাকার মিনা বাজারে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাথে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।  সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক কামারুল আরেফিন। এ সময়  উপস্থিত ছিলেন সদরপুর ইউনিয়ন আওয়ামলীগের সাধারণ সম্পাদক নিয়াত আলী লালু মাষ্টার, জেলা কৃষকলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রমজান আলী সাহেব, সদরপুর ইউপি আওয়ামীলীগের শিক্ষা সম্পাদক জহুরুল ইসলাম রঞ্জু, দপ্তর সম্পাদক ইমরান আলী, প্রচার সম্পাদক সাত্তার আলী, ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল আহাম্মেদ, বীরমুক্তিযোদ্ধা কুরবান আলী,  ইউপি সদস্য আশরাফুল ইসলাম প্রমুখ।

নাইটগার্ড যখন ভূত

ঝিনাইদহ এটিআই’র ৫ ছাত্রী অজ্ঞান

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ভূত সেজে ভয় দেখানোর ফলে ঝিনাইদহ কৃষি প্রশিক্ষন ইন্সটিটিউটের (এটিআই) ৫ ছাত্রী অজ্ঞান হয়ে পড়ে। এর মধ্যে সাথি, তিথি ও সুমাইয়াকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে এটিআই’র ছাত্রী হোষ্টেলে এই ঘটনা ঘটে। ঝিনাইদহ কৃষি প্রশিক্ষন ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ আব্দুল কাদের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন দায়ী নাইটগার্ডের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। ছাত্রীদের অভিযোগ রাত ১২টার দিকে নাইটগার্ড হাসেম মেয়েদের বাথরুমে ঢোকে। এ সময় বাথ রুমে ঢুকে নাইটগার্ড ভৌতিক আওয়াজ শুরু করে। ভয়ে প্রথম বর্ষের ছাত্রীরা ঘরের দরজা বন্ধ করে দেয়। পরে লম্পট নাইটগার্ড মাহিন নামে এক ছাত্রীর নাম ধরে ডাকে। এ সময় সাথী নামে এক ছাত্রী উকি দিয়ে দেখেন নাইটগার্ড সাদা পোশাক পরে জানালার পাশে দাড়িয়ে আছে। এই দৃশ্য দেখে সাথি, তিথি, সুমাইয়া, ববি ও লুনা ভীত সন্ত্রস্ত্র হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। ভয়ে এ সময় ছাত্রী হোস্টেলের আরো ৬ ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তিনজনকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। খবর পেয়ে শুক্রবার সকালে ছাত্রীদের অভিভাবকরা দুর দুরান্ত থেকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ছুটে আসেন এবং মেয়েদের বাসায় নিয়ে যান। বাড়ি ফিরলেও তিথি ও সাথী নামে দুই ছাত্রী এখনো স্বাভাবিক হতে পারেনি। যশোরের ধর্মতলা ও মেহেরপুর জেলা শহরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই অভিভাবক জানান, বৃহস্পতিবার রাতে তাদের মেয়েরা ভয় পেয়েছিল। এ ঘটনার সাথে নাইটগার্ড হাসেম জড়িত বলে মেয়েরা আমাদের জানিয়েছে। লাবনী, সুবর্ণা, দৃষ্টি ও সাথীসহ অনেকের অভিযোগ নাইটগার্ড হাসেম দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এই সমস্যা হচ্ছে। রাতে নাইটগার্ড মেয়েদের বাথরুম ব্যবহার করে নোংরা করে রাখেন। তাদের প্রশ্ন মেয়েদের বাথরুম নাইটগার্ড কেন ব্যবহার করবেন ? তাছাড়া নাইটগার্ডের চলাফেলা ও কথাবার্তা অশ্লীল বলেও মেয়েরা অভিযোগ করেন। ঝিনাইদহ কৃষি প্রশিক্ষন ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ আব্দুল কাদের জানান, ছাত্রী হোস্টেলে ৫০ জন মেয়ে আছে। মেয়েরা ভয় পায় বলে সেখানে মিলাদও দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন শুনছি নাইটগার্ড এই ঘটনার সাথে জড়িত। তিনিই ভুত সেজে ভয় দেখিয়েছে। আমি একটি জরুরী কাজে ঢাকায় আসছি। তবে দ্রুতই নাইটগার্ডকে দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দেওয়া হবে বলে অধ্যক্ষ জানান।

দৌলতপুরে ড. মোফাজ্জেল হকের পথসভা ও লিফলেট বিতরণ

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে উপজেলার ভাগজোত ও শরিষাডলিতে পথসভা করেছে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটির সদস্য এবং বঙ্গবন্ধু শিক্ষা ও গবেষণা পরিষদ খুলনা বিভাগীয় শাখার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ড. মোফাজ্জেল হক। গতকাল শুক্রবার বিকেল ৪ টায় দৌলতপুরে উপজেলার ভাগজোত ও সন্ধ্যা ৭ টায় শরিষাডলিতে পথসভা করেন ড. মোফাজ্জেল হক। এ ছাড়াও ড. মোফাজ্জেল হক দিনব্যাপী দৌলতপুরে উপজেলার মথুরাপুর, ডাংমড়কা, মহিশকুন্ডি, প্রাগপুরসহ বিভিন্ন স্থানে সাধারণ জনগণের মাঝে “যে কারণে দরকার শেখ হাসিনার সরকার” শিরোনামে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়নের বার্তা লিফলেট বিতরণ করেন। উন্নয়নের বার্তা লিফলেটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের শিক্ষা খাত, পদ্মা সেতু তৈরী, বাজেট, স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন তুলে ধরা হয়। ড. মোফাজ্জেল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের উন্নয়নের বার্তা দৌলতপুর উপজেলার সাধারণ জনগণের মাঝে তুলে ধরতে চাই। এ সময় ড. মোফাজ্জেল হক সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন। এ সময় যুবলীগ রামকৃষ্ণপুর ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজ মন্ডল, শরিষাডলি ইউপি মেম্বার নাজিম উদ্দীন বিশ্বাস, প্রভাষক রিংকু, স্বপন আলী, যুবলীগ নেতা নাসির উদ্দিন, জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি কাজী আলাউদ্দিন মিল্টন, থানা ছাত্রলীগের যুগ্ম-আহবায়ক রুবেল জোয়ার্দ্দার, ফিরোজ আলম, আব্দুল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বেশি দাম নেয়ার অভিযোগ

আমন মৌসুম

কুষ্টিয়ায় হঠতে করেই ইউরিয়া সার সংকট

নিজ সংবাদ ॥  কুষ্টিয়ায় হঠাৎ করেই ইউরিয়া সার সংকট দেখা দিয়েছে। চাহিদার বিপরীতে সার সরবরাহ কম থাকায় এ সংকট দেখা দিয়েছে। এদিকে আমনের ভরা মৌসুমে চাহিদামত সার পাচ্ছেন না হাজার হাজার কৃষক। সার পেলেও গুনতে হচ্ছে বেশি অর্থ। এদিকে চাহিদার তুলনায় সার না থাকায় অনেক সাব ডিলার বেশি দামে সার বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কুষ্টিয়া সদর উপজেলা কৃষি অফিসার সেলিম হোসেন বলেন,‘ জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত আমাদের চাহিদা ছিল ৭ হাজার ১৮০ মেট্রিক টন। এর বিপরীতে আমরা পেয়েছি বিসিআইসি থেকে পেয়েছি মাত্র ৪ হাজার ৪ মেট্রিক টন। আমাদের ঘাটতি আছে ৩ হাজার ১৬৭ মেট্রিক। বিষয়টি জানিয়ে জেলা সার বীজ মনিটরিং কমিটিকে একটি চিঠি দিয়েছি। তারা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

খামারবাড়ি সূত্র জানায়, জেলায় মোট ৮২ জন সার ডিলার আছে। সদরে আছে ২৩জন ডিলার। ৮২জন ডিলার সারের জন্য যে পরিমান অর্থ ডিও করেছেন তার বিপরীতে সার পাচ্ছেন অর্ধেক। এ জন্য সরবরাহে কিছুটা ঘাটতি আছে।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, বিশেষ করে ইউরিয়া সারের সংকট দেখা দিয়েছে গ্রাম অঞ্চলগুলোতে। যে পরিমান সার প্রতি সপ্তাহে গ্রাম পর্যায়ের একজন ডিলারের পাওয়ার কথা তার থেকে অনেক কম সার পাচ্ছেন তারা। যারা বিসিআইসির মূল ডিলার তারা খুচরা ডিলারদের চাহিদা অনুযায়ী সার দিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। আর এ সুযোগ ডিলাররা সাব ডিলারদের কাছে বেশি দামে বিক্রি করছেন। ও খুচরা ডিলাররা কৃষকের কাছ থেকে বেশি মুনাফা করছেন।

কৃষি অফিস সুত্র জানিয়েছে, কুষ্টিয়া জেলায় মূলতঃ চিকন ইউরিয়া সারের চাহিদা বেশি কৃষকদের মাঝে। মোটা ইউরিয়া পর্যাপ্ত থাকলেও কৃষকরা চিকন ইউরিয়া ব্যবহারে ঝুঁকছেন। এ কারনে সারের সংকট তৈরি হচ্ছে। চিকন ইউরিয়া দ্রুত কাজ করলেও জমিতে থাকে অল্পদিন, আর মোটা ইউরিয়া ধীরে ধীরে কাজ করলেও জমিতে বেশি দিন থাকে।

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার বাঁধগ্রাম বাজারের সার ডিলার রাশিদুল ইসলাম বলেন, ‘ চলতি মাসে তার চাহিদা ছিল ৫৬ মেট্রিক টন। তিনি এর বিপরীতে মাত্র পেয়েছেন ৩৫ মেট্রিক টন। এখন আমনের ভরা মৌসুম চলছে। প্রথম ধাপে কৃষকরা সার দিয়েছেন, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপের জন্য সার প্রয়োজন। তবে সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় আমরা সার পাচ্ছি না। এ জন্য ঠিকাদারদের দুষছেন তিনি।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সাব ডিলার বলেন,‘ মূল ডিলাররা ঘরে বসেই লাখ লাখ টাকা লাভ করছেন। তারা বস্তায় ৫০ থেকে ১০০টাকা বাড়িয়ে দিচ্ছেন। অতিরিক্ত যে টাকা নিচ্ছেন তার জন্য কোন রশিদ দিচ্ছেন না। বেশি জোরাজোরি করলে সার দিচ্ছেন না। বেশি দাম দিয়ে কিনে তাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

সার ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদ বলেন,‘ এক মাস যাবৎ আমরা চিকন ইউরিয়া সার পাচ্ছি না। মোটা সার সরবরাহ করছে বাফার গোডাউন থেকে। কৃষকরা মোট ইউরিয়া ব্যবহার করতে চাই না। এ সুযোগে অনেক ডিলার বাইরে থেকে চিকন ইউরিয়া সার নিয়ে এসে বেশি দামে বিক্রি করছে। কৃষকরা বেশি দাম দিয়েই কিনছেন। চিকন সার না থাকায় আমরা মোটা ইউরিয়া বিক্রি করছি।’

আব্দালপুর গ্রামের কৃষক খলিল হোসেন বলেন,‘ বাজারে ইউরিয়া সারের সংকট আছে। যে পরিমান সার প্রয়োজন তা পাওয়া যাচ্ছে না। চিকন ইউরিয়াতো বাজার থেকে উধাও। যা পাওয়া যাচ্ছে তার দাম বেশি নিচ্ছে। সদর উপজেলায় এ বছর আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২০ হাজার ৮০৩ হেক্টর। জেলায় ৮২ হাজার ৮৬৭ হেক্টর।

খামারবাড়ির উপ-পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ দেবনাথ বলেন,‘ চাহিদা অনুযায়ী সারের সরবরাহ কম। বিসিআইকে আমরা চিঠি দিয়েছি, চাহিদা অনুযায়ী যাতে তারা সার সরবরাহ করে। কিছু ডিলার আছে যারা সংকট সৃষ্টি করতে চাই। আমাদের কঠোর নজরদারি আছে। সার নিয়ে কেউ বাণিজ্য করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

জামায়াত ছাড়া সবাই আসতে পারে ঐক্যে – ড. কামাল

ঢাকা অফিস ॥ সম্প্রতি কয়েকজন শীর্ষ নেতার উদ্যোগে জাতীয় ঐক্য গড়ার যে তৎপরতা চলছে তাতে স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামী ছাড়া যে কেউ আসতে পারে বলে জানিয়েছেন এর অন্যতম উদ্যোক্তা ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেন, ‘এখানে জামায়াত ছাড়া সব দলই আসতে পারে। এখানে দলীয় রাজনীতির বিধান হচ্ছে না, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের সব  বিধান প্রতিষ্ঠার করার জন্যই এই জোট। সবকিছু ঠিক থাকলে বিএনপির সঙ্গেও আমাদের জাতীয় ঐক্য হতে পারে।’ বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আইয়ের একটি টক শোতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে তৃতীয় মাত্রা নামের টক শোতে একমাত্র অতিথি ছিলেন ড. কামাল হোসেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জিল্লুর রহমান। সম্প্রতি দেশের রাজনীতিতে যুক্তফ্রন্ট নামে তৃতীয় একটি জোট গঠন হয়। এর নেতৃত্বে রয়েছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারার সভাপতি এ কে এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। এই জোটে আরও আছেন আ স ম আবদুর রব ও মাহমুদুর রহমান মান্না। ড. কামাল হোসেন ও কাদের সিদ্দিকীরও এ জোটে যোগদানের আলোচনা চলছে।  বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলের সঙ্গে নতুন এই জোটের নির্বাচনী সমঝোতা হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ২০ দলের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামী সম্পর্কে আপত্তি রয়েছে এই জোটের নেতাদের। জামায়াতকে বাদ দিয়ে ২০ দলের সঙ্গে সমঝোতা হতে পারে বলে জানা গেছে। নতুন জোটের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানাতে গিয়ে ড. কামাল বলেন, ‘গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করা দরকার বলে মনে করি। সংবিধানের কিছু সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে, এছাড়াও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর ভূমিকা পালনের জন্যও সংস্কার প্রয়োজন।’ ‘এদেশে গণতন্ত্রের পক্ষে মানুষের ঐকমত্য রয়েছে, যা আমাদের জন্য প্লাস পয়েন্ট। যখন গণতন্ত্র থাকে না, তখন যেসব ক্ষতি হয় সেটা আমরা হাড়েহাড়ে উপলব্ধি করেছি এবং করছি।’ আপনি নির্বাচন চান কি না এ ব্যাপারে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে প্রশ্ন উঠেছে-সঞ্চালকের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার বয়স আশির কাছাকাছি। এখন আমি ব্যক্তিগতভাবে নির্বাচন করবো না হয়তো, কিন্তু যাদের বয়স ৬০ হয়ে গেছে, তারা অনেক পরিপক্ষ হয়েছে, তাদের এখন এগিয়ে এসে নেতৃত্ব দেয়া উচিত। এখন ছাত্ররা যে দাবির জন্য আন্দোলন করছে, তা আমার ভালো লেগেছে। সবাই স্বীকার করছেন যে, ছাত্ররা যুক্তিসঙ্গত দাবি আদায়ে আন্দোলন করছে। এটা কেন্দ্র করে আগামীর আশার আলো দেখা যাচ্ছে।’ কামাল হোসেন বলেন, ‘জনগণের ওপর আস্থা নিয়ে আমরা যুক্তফ্রন্টের উদ্যোগ নিয়েছি। কারণ দেশে যেকোনো সংকট হলেই জনগণ তা মোকাবেলা করেছে সফলভাবে। সেটা ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মহান মুক্তিযুদ্ধের সফলতার মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে। বাঙালি কখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করে না, ঐক্যবদ্ধভাবে তা মোকাবেলা করে এবং সফল হয়।’ ‘সুস্থ রাজনীতির কোনো বিকল্প নাই। দুঃখজনক হলেও সত্য দেশে সুস্থ রাজনীতিকে ঠেলে সরানো হয়েছে, অন্যদিকে রুগ্ন রাজনীতিকে সামনে আনা হয়েছে, যার প্রমাণ হলো গত পাঁচ বছর দেশে কোনো নির্বাচন হয়নি। ৫ জানুয়ারি নির্বাচনকে ঘিরে আমাকে কোর্টে ডাকা হয়েছিল। তখন আমি বলেছিলাম সরকারতো নিজেরাই বলেছেন একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে নির্বাচন হয়েছে, সবার সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে খুব দ্রুতই আরেকটা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেবে, তাই এই বিষয়টা নোট করে মামলা ডিসপল করে দিতে পরামর্শ দিয়েছিলাম। তখন আমি সরল মনে কোর্টকে বলেছিলাম, হয়তো অনেক বেশি সরল হয়ে গিয়েছিলাম তখন। কিন্তু তারা এক বছর করে পুরো পাঁচ বছর কাটিয়ে দিলো। আগামী ডিসেম্বরে হয়ত একটা নির্বাচন হতে পারে।’ কামাল হোসেন বলেন, ‘আমি চাইবো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় একটি নির্বাচন হোক, সেখানে নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই তাদের ক্ষমতা গ্রহণ করবে। যেটা সংবিধানে রয়েছে। তবে আশঙ্কার কথা হলো, পাঁচ বছরে বিধানগুলো থাকা সত্ত্বেও আসলে কী হলো? জনগণ কেন নীরব রয়েছে এটাও বড় আশঙ্কার কারণ।’ ‘আমি নিজে কিছু হবো এই চিন্তাটা আমরা নাই। কারণ আমারতো বয়স হয়ে গেছে। আমি গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার জন্য সহায়তা করতে চাই।’ সম্প্রতি নেপাল সফর থেকে ফিরে সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী ড. কামালসহ যুক্তফ্রন্ট নেতাদের নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করেন। এ প্রসঙ্গে কামাল হোসেন বলেন, ‘২০০৮ সালের নির্বাচনের ফলাফলের বিষয়টা যদি প্রধানমন্ত্রীর মাথায় থাকতো তাহলে তিনি ওইদিন সংবাদ সম্মেলনে আমাদের নিয়ে কথা বলতেন না। কারণ ২০০৮ সালে এক কোটি ৩৪ লাখ ভুয়া ভোটার বাতিলে মামলায় ওকালতনামায় তার স্বাক্ষর নিয়ে মামলায় লড়েছিলাম এবং বাদ দেয়া হলো। ভুয়া ভোটার বাদ দেয়া না হলে তিনি এই ফল পেতেন না। ওই সময় আমাদের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার মামলা হয়েছিল, যা থেকে আমরা ২০১০ সালে খালাস পেয়েছিলাম।’ ড. কামাল বলেন, ‘যখন আমার দেশের বাহিরে যাওয়া নিয়ে কথা উঠেছে তখন আমি নিজেই চাচ্ছি যে, বাহিরে যাওয়া একদম জিরো করে দিতে। এমনিতো যাওয়া আসাতে একটু ক্লান্তি হয়, তাই এখন আমার তেমন আগ্রহও নাই।’ ২০০৮ সালে যখন মহাজোট গঠন হয় তখন ড. কামালও তাতে ছিলেন। তবে সেখান থেকে সরে যাওয়ার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে তিনি বলেন, ‘২০০৮ সালে ১৪ দল নামে মাঠে রাজনৈতিক আন্দোলন করেছি। পরে মহাজোট হলো, যখন এরশাদ মঞ্চে উঠলো তখন আমি মঞ্চ থেকে নেমে গেলাম। ওই সময় আমি মঞ্চ থেকে নেমে রাজশাহী চলে গেলাম। যাওয়ার আগে পঙ্কজ ভট্টাচার্যের কাছে এমপি প্রার্থীর একটা তালিকা দিয়ে গিয়েছিলাম। তাদের সবাই যোগ্য ছিল, কিন্তু ফিরে এসে দেখলাম তাদের একজনকেও মূল্যায়ন করা হয়নি।’

ইরাকের বসরায় কারফিউ জারি বাগদাদে মর্টার হামলা

ঢাকা অফিস ॥ ইরাকের রাজধানী বাগদাদের সুরক্ষিত গ্রিন জোনে গতকাল শুক্রবার ভোরে তিনটি মর্টার শেল ছোড়া হয়েছে। সরকারি পরিষেবার দুরবস্থা নিয়ে ইরাকের বসরা প্রদেশে নতুন করে বিক্ষোভ চলাকালে ১ জন নিহত ও ৩৫ জন আহত হন। এ ঘটনায় সেখানে পুনরায় কারফিউ জারি করার পর এ হামলার ঘটনা ঘটল। গতকাল এএফপির খবরে জানানো হয়, বাগদাদের কড়া নিরাপত্তার গ্রিন জোন বা সুরক্ষিত এলাকায় কারা হামলা চালিয়েছে, তা শনাক্ত করা যায়নি। সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও মার্কিন দূতাবাসের ভবন রয়েছে ওই এলাকায়। সেখানে এ ধরনের হামলা চালানোর ঘটনা বিরল। রাজধানীর নিরাপত্তাপ্রধান বলেন, হামলায় কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি। দেশটির তেলসমৃদ্ধ দক্ষিণাঞ্চল বসরায় জুলাই থেকে বিক্ষোভ চলে আসছে। দূষিত পানির কারণে ৩০ হাজার মানুষের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেখানে বিক্ষোভ ফুঁসে ওঠে। এই বিক্ষোভ পুরো ইরাককে কাঁপিয়ে দিয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে গত মঙ্গলবার থেকে সেখানে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিক্ষোভের সময় প্রাদেশিক সরকারের সদর দপ্তরে মলোটভ ককটেল বা পেট্রলবোমা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। তুলনামূলকভাবে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়ে এলে কেন্দ্রীয় সরকার থেকে জারি করা কারফিউ গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তুলে নেয়। এরপরই আবারও হাজার হাজার বিক্ষোভকারী বসরার কেন্দ্রে সমবেত হয়। প্রাদেশিক সরকারের সদর দপ্তর ও রাজনৈতিক সংস্থাগুলোর কার্যালয়ে হামলার পর নতুনভাবে কারফিউ জারি হয়। এরপর ইরাকের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সেইফ আল-বদর বিস্তারিত কোনো তথ্য না দিয়ে এক বিবৃতিতে জানান, বিক্ষোভে একজন নিহত ও ৩৫ জন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ২৪ জন বেসামরিক লোক ও ১১ জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। বসরায় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ভবন ছিল বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে। সেখানে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। তবে এই আগুন নতুন হামলার কারণে নাকি আগের হামলার সময়ের আগুন কর্তৃপক্ষ নেভাতে ব্যর্থ হয়েছে, তা স্পষ্ট হয়নি। গত ৮ জুলাই থেকে বসরায় শুরু হওয়া বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ২৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এ ঘটনায় বিক্ষোভকারীদের দিকে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিবর্ষণের অভিযোগ করেছেন ডানপন্থী অধিকারকর্মীরা। অপরদিকে সরকার বিক্ষোভে উসকানির অভিযোগ এনে বলেছে, নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রাণনাশী গুলি ব্যবহার না করার নির্দেশ দেওয়া আছে। বিক্ষোভকারীরা বলছেন, তাঁরা সরকারি পরিষেবা, পানি, বিদ্যুৎ ও চাকরি চান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল-আবাদির সরকার জানিয়েছে, ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলে অবকাঠামো ও বিভিন্ন সেবা উন্নয়নে শত কোটি ডলারের জরুরি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে গত মে মাসে নির্বাচনের পর দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি নাজুক হয়ে যাওয়ায় এই সব প্রতিশ্র“তির ব্যাপারে অবিশ্বাস রয়েছে সাধারণ জনগণের মনে। ওই নির্বাচনে ব্যাপক আসনে জয় পেয়েছে শিয়া সম্প্রদায়ের নেতা মকতাদা সদরের রাজনৈতিক ব্লক। তিনি বিক্ষোভকারীদের দাবির বিষয়গুলো চিহ্নিত করার জন্য বিশেষ পার্লামেন্টারি সেশনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে এ বৈঠকে রাজনীতিকদের অবশ্যই উপস্থিত থাকা উচিত, তা না হলে তাঁদের পদত্যাগ করা উচিত। দেশটির প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে বলেছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা ও বসরা প্রদেশের দাবিদাওয়া নিয়ে তিনি পার্লামেন্টারি সেশনের  বৈঠকে মন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে বসতে প্রস্তুত। ভবিষ্যতে মকতাদা সদরের সঙ্গে জোট বেঁধে সরকার গঠনে নিজের পদ রক্ষায় আবাদি তৎপর বলে শোনা যায়। একসময়ের মিলিশিয়াপ্রধান আবাদিকে বলা হয়, তিনি প্রতিবেশী ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের হাত থেকে ইরাকের বৃহৎ রাজনৈতিক স্বাধীনতা এনেছেন।

বিএড ও এমএড কোর্স শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় ড. শাহিনুর রহমান

শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে শিক্ষকদের ভূমিকাই প্রথম

ইবি প্রতিনিধি ॥  কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. শাহিনুর রহমান বলেছেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটিয়ে ব্যক্তিগত জীবনে এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দক্ষতার স্বাক্ষর রাখাতে শিক্ষকদের ভূমিকাই প্রথম। পৃথিবীর প্রতিটি মানুষই কোন না কোন  প্রতিভার অধিকারী। এজন্য শ্রেণিকক্ষ ও শ্রেণি কক্ষের বাইরে পেশাগত জায়গায় মানবিক মুল্যবোধ, বিনয়ী, বড়দের সম্মান করা ও বিবেক বোধ সম্পন্ন মানুষ তৈরীর করার কারিগর হবার দায়িত্ব নিতে আমাদের এই শিক্ষকদের। গতকাল শুক্রবার সকালে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক এডুকেশন এন্ড রিসার্চ (আই.আই.ই.আর) এর আয়োজনে বিএড ও এমএড কোর্স শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

তিনি আরো বলেন প্রাইমারী ও সেকেন্ডারী পর্যায়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রথম পড়াশুনার হাতেখড়ি হয় আপনাদের কাছে। তাদেরকে আপনারা প্রথম থেকেই যেভাবে গড়ে তুলবেন তাঁরা সেভাবেই বেড়ে উঠবে। তিনি কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের মহান স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাসী ও প্রগতিশীল মানুষ হিসাবে গড়ে  তোলার জন্য প্রশিক্ষণার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান। আই.আই.ই.আর এর পরিচালক প্রফেসর ড. মেহের আলী’র সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার প্রফেসর ড. সেলিম তোহা বলেন শুধুমাত্র ভালো রেজাল্ট ও অনেক কিছু জানলেই ভালো শিক্ষক হওয়া যায় না বরং ভালো শিক্ষক হতে হলে প্রথমত একজন ভালো মানুষ হতে হবে। শিক্ষার্থীদের যদি আমি মানবিক মুল্যবোধে দিক্ষীত করে স্বপ্নই দেখাতে না পারি  তাহলে আমি আদর্শবান শিক্ষক হই কি করে। তিনি শুধু সবোর্চ্চ জিপিও এর অধিকারী হবার জন্য চেষ্টা না করে বিবেকবোধ সম্পন্ন ভালো, সৎ ও দক্ষ মানুষ তৈরী করার জন্য শিক্ষকদের প্রতি আহবান জানান। প্রশিক্ষন কর্মশালায় কি-নোট উপস্থাপন করেন ভারতের হায়দ্রাবাদের পন্ডিত জওহরলাল টেকনোলজি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ড. বিনা বিশ্বাস। প্রশিক্ষন কর্মশালা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রক্টর প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমান, প্রফেসর ড. এ কে এম মতিনুর রহমান, পরিবহন প্রশাসক প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন, প্রফেসর ড. দেবাশীষ শর্মা, প্রফেসর ইয়াসিন আলীসহ বিএড ও এমএড প্রোগামোর নব্বই জন প্রশিক্ষনার্থী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন বাংলা বিভাগের শিক্ষক ফৌজিয়া খাতুন।

মিয়ানমারের বিচারের এখতিয়ার হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রয়েছে

ঢাকা অফিস ॥ রোহিঙ্গাদের বিতাড়নে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের জন্য মিয়ানমারের বিচারের এখতিয়ার হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) রয়েছে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। হেগভিত্তিক আইসিসির তিন বিচারকের প্যানেল বৃহস্পতিবার এই সিদ্ধান্ত দিয়েছে বলে রয়টার্স জানায়। এই আদেশের ফলে মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক এই আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে আইসিসির কৌঁসুলি ফাতোও বেনসুদার মামলা করার পথ খুলল। যদিও এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো মামলা তিনি করেননি। লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে যেভাবে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে বিতাড়িত করা হয়েছে, তার বিচার করার এখতিয়ার আইসিসির রয়েছে কি না,  তা জানতে চেয়ে ফাতোও বেনসুদা গত এপ্রিলে আবেদন করেছিলেন। মিয়ানমার আইসিসির সদস্য না হলেও এই বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানাতে ২৭ জুলাই পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। মিয়ানমার এর কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব না দিলেও তাদের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চির দপ্তর থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, বেনসুদার আবেদন সারবত্তাহীন এবং তা খারিজ করে দেওয়া উচিৎ। বিচারকদের সিদ্ধান্ত উদ্ধৃত করে রয়টার্স বলেছে, মিয়ানমার আইসিসির সদস্য না হলেও বাংলাদেশ সদস্য এবং আন্তঃসীমান্তে সংঘটিত এই অপরাধের প্রকৃতি বিচারযোগ্য। তিন বিচারকের প্যানেলের লিখিত আদেশে বলা হয়েছে, “রোহিঙ্গাদের বিতাড়নের মধ্যদিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের যে অভিযোগ উঠেছে, তার বিচারের এখতিয়ার এই আদালতের রয়েছে। কেননা এই ঘটনায় সংঘটিত অপরাধ সীমান্ত পেরিয়ে সদস্য দেশ বাংলাদেশে বিস্তৃত হয়েছে।” ১১ লাখ শরণার্থীর ভার বহনকারী বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে মিয়ানমারকে বাধ্য করার জন্য দেশটির উপর এই ধরনের চাপ বাড়ার প্রত্যাশা করছিল। আইসিসি গত মে মাসে বাংলাদেশকেও চিঠি দিলে সরকারের পক্ষ থেকে মতামত জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আইসিসির সিদ্ধান্তের বিষয়ে মিয়ানমারের আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রয়টার্সের পক্ষ থেকে মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্র জাও তাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি সংক্ষিপ্ত মেসেজ পাঠিয়ে বলেন, “আমি এখন কোনো কথা বলতে পারছি না।” গত বছরের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইনে সেনা অভিযান শুরুর পর লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশ সীমান্তে ছুটতে থাকে। নিপীড়িত এই জনগোষ্ঠীর সদস্যদের মুখে উঠে আসে ধর্ষণ, হত্যা, অগ্নিসংযোগের কথা। জাতিসংঘ শুরু থেকে একে ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করে আসছে। এক মাস আগে জাতিসংঘের একটি স্বাধীন তথ্যানুসন্ধান মিশন তাদের প্রতিবেদনে বলে, মিয়ানমার সেনাবাহিনী মুসলিম রোহিঙ্গাদের উপর গণহত্যা ও গণধর্ষণের মতো অপরাধ ঘটিয়েছে। এজন্য মিয়ানমারের সেনাপ্রধান ও পাঁচজন জেনারেলের বিচারের মুখোমুখি করা উচিৎ। রোহিঙ্গারা রাখাইনে তাদের গ্রামে গ্রামে নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ, জ্বালাও-পোড়াওয়ের ভয়াবহ বিবরণ দিলেও মিয়ানমার বরাবরই সেসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তবে রোহিঙ্গা নিপীড়ন নিয়ে গত এক বছর ধরে বিশ্বজুড়ে মিয়ানমারের নিন্দার ঝড় বইছে। সমালোচনার সম্মুখীন দেশটির নোবেলজয়ী নেত্রী সু চিও।

 

ভুল থাকলে ধরিয়ে দিন, শুধরে নেব: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ সরকারের ‘অনিচ্ছাকৃত’ কোনো ভুল হয়ে থাকলে তা ধরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, তার দল আওয়ামী লীগ সেসব ভুল শুধরে নেবে। গতকাল শুক্রবার ঢাকার ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের অঙ্গ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র-যুব ঐক্য পরিষদের ত্রি-বার্ষিক জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি ‘গুজবে’ কান না দিয়ে ঘটনার সত্যতা যাচাই করারও পরামর্শ দিয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরাও ভুল করতে পারি, আমরা অনিচ্ছাকৃত অনেক কিছু করতে পারি। আপনারা যদি ভুল ধরিয়ে দেন, অবশ্যই আমরা সংশোধিত হব। সেখানে আমাদের কোনো রাখঢাক নাই।” মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নীতির প্রশ্নে সংসদ সদস্যদেরও ছাড় দেন না। দলের কেউ কোনো অন্যায় করলে সেজন্য তাকে শাস্তি পেতে হবে। সেখানে আমাদের কোনো কম্প্রোমাইজ নাই। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ, আর পথ হারাবে না কোনোদিন। তবে আবারও গুজব ছড়িয়ে জাতিকে যে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হতে পারে- সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।  সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আন্দোলনকালী শিক্ষার্থীদের আমরা বললাম, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন তোমাদের সব দাবি মানা হবে। সবাইকে বললাম আন্দোলন করতে হবে না; তোমরা ঘরে ফিরে আস। তারপরও আমরা দেখলাম, বিভিন্নভাবে যারা নাকি বিভিন্ন আন্দোলনের মাধ্যমে ব্যর্থ হচ্ছিল, তারা এই বিভিন্নভাবে এদেরকে সামনে নিয়ে আসছিল। তারপর সবাই বুঝতে পেরেছিল যে এগুলো সবই মিথ্যাচার।” ওই আন্দোলনের মধ্যে অভিনেত্রী নওশাবার ফেইসবুক লাইভের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, “একজন অভিনেতা কীভাবে অভিনয় করে বলেছিল যে চারজনকে মেরে ফেলা হয়েছে। তাকে সামনে এনে সে কেন সেটা করেছে সেটাও আমরা বলে দেওয়াতে পেরেছি।” অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতৃবৃন্দকে উদ্দেশ্যে করে মন্ত্রী বলেন, “আপনাদের আহ্বান করব, কোনো ধরনের গুজবে বিশ্বাস করবেন না। আগে নিজেরা যাচাই করুন, সত্যতা সম্বন্ধে নিশ্চিত হয়ে তারপরে যদি কিছু বলার থাকে আপনারা প্রতিবাদ করুন; সেখানে আমাদের কোনো কিছু নেই।” বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেলক হক চৌধুরীকে চাঁদাবাজির গ্রেপ্তারের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “এগুলো নিয়ে তদন্ত হচ্ছে। তদন্তের আগে কিছু বলা সম্ভব নয়।” সম্মেলনের উদ্বোধীন অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেননও উপস্থিত ছিলেন।

কুচুরিপানা ও বড় বড় ঘাসে পুরো মাঠ জঙ্গলে পরিণত

কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ খেলার মাঠ পরিস্কারে নেমে পড়ল ছাত্রলীগ

নিজ সংবাদ ॥  কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের একমাত্র খেলার মাঠে হাটুপানি জমে ঘাস ও কুচুরি পানায় ভরে আছে। যার কারনে গত কয়েক মাস ধরে কলেজের শিক্ষার্থীরা মাঠটি খেলাধুলার জন্য ব্যবহার করতে পারছে না। কলেজের ২২ হাজার শিক্ষার্থী থাকলেও মাঠের অভাবে তারা বঞ্চিত হচ্ছে খেলাধুলা থেকে। মাঠের এ চিত্র দেখে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মিরা নিজেরাই মাঠ পরিস্কারে নেমে পড়েন। গতকাল শুক্রবার সকালে কলেজ ছাত্রলীগের অর্ধ শতাধিক নেতা-কর্মি নেমে পড়েন মাঠ পরিস্কারে।

কলেজ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মিরা জানান,‘ শহরের মধ্যে খেলাধুলার জন্য সরকারি কলেজের এই মাঠটি সবার ভরসা। শুকনো মৌসুমে যে কয়েক মাস মাঠটি পানি মুক্ত থাকে তখন ক্রিকেট, ফুটবলসহ নানা খেলায় মেতে থাকে শিক্ষার্থীরা। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে মাঠে হাটু পানি জমে আছে। কুচুরিপানা ও বড় বড় ঘাসে পুরো মাঠ জঙ্গল হয়ে গেছে। দেখে মনে হয় কোন জলাশয় এটি। কলেজ কৃর্তৃপক্ষ মাঠ সংস্কারে কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় আমরা নিজেরায় মাঠ সংস্কারের জন্য ৫দিনের কর্মসুচী দিয়েছি। আগামী ৩দিনের মধ্যে আমরা মাঠটি পুরোপুরি পরিস্কার করে খেলার উপযুক্ত করে ফেলব।

শুক্রবার সকালে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি সভাপতি স্বপন হোসেন, জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক সাদ আহমেদসহ অর্ধ শতাধিক নেতা-কর্মি কাঁচি হাতে মাঠে নেমে পড়েন।  এসময় জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আরশেদ আলী, সদর থানা ছাত্রলীগ নেতা জয়নাল আবেদিন, কলেজ ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক মাহবুব আলম লিমন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহফুজুর রহমানসহ অন্যরা এ সময় মাঠের ঘাস ও কচুরিপানা পরিস্কার করেন। তাদের দেখাদেখি কলেজের সাধারন শিক্ষার্থীরাও নেমে পড়েন মাঠ পরিস্কারে।

কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি স্বপন হোসেন বলেন,‘ মাঠের অভাবে অনেকের ইচ্ছা থাকার পর খেলাধুলা করতে পারে না। মাঠটি নিচু হওয়ায় হাঁটু পানি জমে থাকে। কুচুরিপানা ও ঘাসে ভরে গেছে। এ অবস্থা দেখে আমরা নিজেরাই নেমে পড়েছি। আগামী ৫দিনের মধ্যে কচুরিপানা ও ঘাস পরিস্কার করে পানি বের করে দেয়া হবে। আশা করছি মাঠে আগের মত খেলাধুলা হবে।

কলেজের শিক্ষার্থী আসিফ ও নাদিম বলেন,‘ মাঠ না থাকায় অনেকে বিপথে চলে যাচ্ছে। খেলাধুলা করলে শরীর মন ভাল থাকে। আগে খেলতে পারলেও গত কয়েক মাস মাঠে নামার মত পরিবেশ নেই। তাই খেলাধুলা বন্ধ রয়েছে।

জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক সাদ আহমেদ বলেন,‘ ছাত্রলীগ সব সময় ভাল কাজের সাথে থাকে, তার প্রমান একটি। কলেজ প্রশাসনের দিকে না তাকিয়ে থেকে আমরা নিজেরায় উদ্যোগ নিয়ে মাঠ পরিস্কার করছি।

কলেজের অধ্যক্ষ কাজি মনজুর কাদির বলেন,‘ ছাত্রলীগের ছেলেরা ভাল উদ্যোগ নিয়েছে। আমরা তাদের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছি। কলেজের মাঠটি অনেক নিচু। এছাড়া মূল সড়ক থেকে মাঠটি অনেক নিচু হওয়ায় বৃষ্টিতে পানি জমে যায়। এর আগে কয়েকবার সংস্কার করে পুরোপুরি উপযোগী করা সম্ভব হয়নি। এ বছরই মাঠটি উচু করার ব্যবস্থা গ্রহণ করার আশা রয়েছে।’