শাইখ সিরাজের জন্মদিন আজ

কৃষি উন্নয়ন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজের আজ (৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮) জন্মদিন। তিনি ১৯৫৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন চাঁদপুরে (সার্টিফিকেট অনুযায়ী তার জন্মতারিখ ২৮ জুন ১৯৫৬)।

শাইখ সিরাজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন ভুগোলে। ছাত্র জীবনেই সম্পৃক্ত হন বাংলাদেশ টেলিভিশন, বেতার ও সংবাদপত্রের সঙ্গে। বাংলাদেশ টেলিভিশনের মাটি ও মানুষ অনুষ্ঠান উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে সকল শ্রেনীপেশার মানুষের মধ্যে বিপুল গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেন তিনি। পরে তার নিজস্ব পরিচালনাধীন টেলিভিশন চ্যানেল আইতে শুরু করেন কৃষি কার্যক্রম হৃদয়ে মাটি ও মানুষ। উন্নয়ন সাংবাদিকতার জন্য তিনি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ দুটি রাষ্ট্রীয় সম্মান স্বাধীনতা পুরস্কার (২০১৮) ও একুশে পদক (১৯৯৫) লাভ করেন।

টেলিভিশনসহ গণমাধ্যমের সঙ্গে প্রায় চার দশকের একনিষ্ঠ পথচলার মধ্য দিয়ে শাইখ সিরাজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন উন্নয়ন সাংবাদিকতার এক অগ্রপথিক হিসেবে। গণমাধ্যমে তার উদ্বুদ্ধকরণ প্রচারণায় আমুল পরিবর্তন এসেছে বাংলাদেশের কৃষিতে। বাংলাদেশে খাদ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে সূচিত হয়েছে বৈপ্লবিক সাফল্য। গ্রামীন জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এসেছে ইতিবাচক পরিবর্তন। দেশের অর্থনীতিতে কৃষির বহুমুখি অবদান সূচিত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অশোকা ফেলো শাইখ সিরাজ খাদ্য নিরাপত্তা ও দারিদ্র বিমোচন বিষয়ে সাংবাদিকতায় অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ২০০৯ সালে অর্জন করেন জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার এ এইচ বুর্মা এ্যাওয়ার্ড। এছাড়া তিনি পেয়েছেন এশিয়ার মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার গুসি পিস প্রাইজ, ব্রিটেনের বিসিএ গোল্ডেন জুবিলি অনার এ্যাওয়ার্ডস। ব্রিটিশ হাউজ অব কমেন্স তাঁকে প্রদান করেছে বিশেষ সম্মাননা, ব্রিটিশ বাংলাদেশ ব্যবসায়ী সংগঠন তাঁকে দিয়েছে গ্রীন এ্যাওয়ার্ড। এছাড়া পেয়েছেন বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির স্বর্ণপদক, ডা. ইব্রাহিম মেমোরিয়াল স্বর্ণপদক, রণদা প্রসাদ সাহা স্বর্ণপদকসহ অর্ধশত দেশী বিদেশী পুরস্কার ও সম্মাননা।

শাইখ সিরাজ ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড, চ্যানেল আই-এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও বার্তা প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। চ্যানেল আই ও বাংলাদেশ টেলিভিশনে কৃষি বিষয়ক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় নিয়মিত লিখছেন। তিনি এদেশে কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে নিরস বিষয় হিসেবে উপেক্ষিত কৃষিতে জাতীয় সংবাদের প্রধান খবরের পর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন। শাইখ সিরাজের প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে, মৎস্য ম্যানুয়েল, মাটি ও মানুষের চাষবাস, ফার্মার্স ফাইল, মাটির কাছে মানুষের কাছে, বাংলাদেশের কৃষি : প্রেক্ষাপট ২০০৮, কৃষি ও গণমাধ্যম, কৃষি বাজেট কৃষকের বাজেট (সম্পাদিত), আমার স্বপ্নের কৃষি, কৃষি বাজেট কৃষকের বাজেট (২০১১), সমকালীন কৃষি ও অন্যান্য প্রসঙ্গ (২০১১), কৃষি ও উন্নয়নচিন্তা (২০১৩) ইত্যাদি। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

বিদ্যুত ও মালানি সপ্তাহ ২০১৮ পালিত

বিদ্যুত সেবায় কুষ্টিয়া ৩য় বারের মতো দেশ সেরা

নিজ সংবাদ ॥ শেখ হাসিনার উদ্যোগ, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ এ স্লোগানকে সামনে রেখে কুষ্টিয়ায় বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি সপ্তাহ ২০১৮ পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে গতকাল বৃহষ্পতিবার সকাল ১০টায় কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন চত্বর থেকে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন শেষে জেলা প্রশাসন সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। কুষ্টিয়া অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তরফদার সোহেল রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) মোস্তাক আহম্মেদ, পশ্চিমাঞ্চল বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানী লি:(ওজোপাডিকো)র কুষ্টিয়া সার্কেলের তত্ববধায়ক প্রকৌশলী আরিফুর রহমান ও কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ এর জেনারেল ম্যানেজার হারুন-অর-রশিদ প্রমুখ। এসময় বক্তারা বলেন, সরকারের ঘোষণা ভিশন ২০/২১। এলক্ষ্যে বিশ^মানের প্রযুক্তি সমৃদ্ধ ডিজিটালাইজড বাংলাদেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করে এর বাস্তবায়নে মৌলিক উপাদান পাওয়ার বা বৈদ্যুতিক শক্তির সুলভ সরবরাহ। বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবনে সরকারও বৈদ্যুতিক ব্যবস্থাকে অতীতের ভঙ্গুর ও নাজুক পরিস্থিতির উত্তোরনে গ্রহণ করেছে বিশাল কর্মপরিকল্পনা। দেশের বর্তমান বিদ্যুৎ সেক্টরে দৃশ্যত: এক বৈপ্লবিক উন্নয়নের দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। দেশব্যাপী এর সুবিধা ইতোমধ্যেই গ্রাহক ও ব্যবহারকারী শ্রেনী পর্যায়ে প্রত্যাশা পূরণে আশা জাগিয়েছে। তবুও এই সেক্টরে সর্বশেষ উৎপাদন, সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থা সঠিক ভাবে চলমান থাকলে গ্রাহক ও ব্যবহারকারী পর্যায়ে বিদ্যুৎ দুর্ভোগে অসন্তোষ ও বিক্ষোভের মুখে পড়ে সরকারকে আর বিব্রত হওয়ার দিন শেষ। তবে এখনও বিতরণ ব্যবস্থায় খুব ছোট খাটো অনিয়ম, অদক্ষতা, অব্যবস্থাপনা, অস্বচ্ছতা, জবাবহীনতা ও বিচ্যুতি যেগুলি আছে সেগুলি দুর করতে হাতে নেয়া হয়েছে মেগা প্রকল্প। যাতে করে বিদ্যমান পরিস্থিতিতেই বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানসমুহ নবায়ণযোগ্য খাতকে উৎসাহিত করার মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে তাদের সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ দিয়ে আরও অধিক সংখ্যক গ্রাহক বিদ্যুৎ সুবিধা ভোগ করতে পারে।একই ভাবে ওভার লোডজনিত কারণে পূর্বের ঘনঘন বা অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিভ্রাট হ্রাস পেয়েছে যা গ্রাহকরাও স্বীকার করছেন। এছাড়া গ্রাহক পর্যায়ে আস্থা নির্ভর ও গুনগতমান সম্পন্ন বিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধার সৃষ্টি হয়েছে। ইতোপূর্বে কুষ্টিয়াতে একই ফিডারে সংযুক্ত থেকে ওজোপাডিকো ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বিদ্যুৎ সরবরাহ/বিতরণ করতে গিয়ে সৃষ্ট লোড ম্যানেজমেন্ট বা জটিলতা দেখা দিতো সেখানেও এখন স্বচ্ছতা ও জবাদিহিতার মাধ্যমে নিরসন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বদ্ধপরিকর। আলোচনা সভায় কুষ্টিয়া অঞ্চলের বিদ্যুৎ সেবার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে পশ্চিমাঞ্চল বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানী লি:(ওজোপাডিকো)র কুষ্টিয়া সার্কেলের তত্ববধায়ক প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আরিফুর রহমান বলেন, গ্রাহক পর্যায়ে আস্থা নির্ভর ও গুনগতমান সম্পন্ন বিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমে বিদ্যুৎ সপ্তাহ-২০১৮তেও ৩য় বারের মতো দেশ সেরা শ্রেষ্ঠত্বের গৌরব অর্জন করেছে ওজোপাডিকো লি: কুষ্টিয়া-১। এসময় সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জেলার বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থায় সর্বশেষ অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেন ভিডিও প্রজেক্টরের মাধ্যমে।

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের দশম আসর

পাকিস্তানকে ১-০ গোলে হারিয়ে সেমির পথে বাংলাদেশ

ঢাকা অফিস ॥ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের দশম আসরে পাকিস্তানকে হারিয়ে সেমিফাইনালের পথে একধাপ এগিয়ে গেল বাংলাদেশ ফুটবল দল। নিজেদের দ্বিতীয় খেলায় তপু বর্মনের গোলে পাকিস্তানকে ১-০ গোলে পরাজিত করে স্বাগতিকরা। খেলার ৮৫ মিনিটে জয়সূচক একমাত্র গোলটি করেন জাতীয় দলের নির্ভরযোগ্য এ ডিফেন্ডার। এর আগের ম্যাচেও ভুটানের বিপক্ষে খেলার ৩ মিনিটে গোল করেছিলেন জাতীয় দলের এ তারকা ফুটবলার। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের মুখোমুখি হয় স্বাগতিক বাংলাদেশ দল। নিজেদের প্রথম খেলায় ভুটানের বিপক্ষে তপু-সুফিলদের গোলে ২-০ ব্যবধানে জয় পায় বাংলাদেশ। অন্যদিকে পাকিস্তান ২-১ গোলে নেপালকে পরাজিত করেছিল। দু’দলের জন্যই গতকালের ম্যাচটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ। এদিন যারা জিতবে তারাই সেমিফাইনালের পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে। এমন সমীকরণের ম্যাচে শুরু থেকেই গোলের জন্য মরিয়া হয়ে খেলে বাংলাদেশ দল। প্রথমার্ধে বাংলাদেশ দল গোলের জন্য ৪টি শট নেয়, অন্যদিকে দুটি শট নেয় পাকিস্তান। কিন্তু কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি।

৩৯তম বিশেষ বিসিএসের ফল প্রকাশ

ঢাকা অফিস ॥ স্বাস্থ্য ক্যাডারে নিয়োগের জন্য উনচল্লিশতম বিশেষ বিসিএসের এমসিকিউ পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। গতকাল বৃহস্পতিবার কমিশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এমসিকিউ পরীক্ষার মাধ্যমে সহকারী সার্জন পদে ১৩ হাজার ২১৯ জন এবং সহকারী ডেন্টাল সার্জন পদে ৫৩১ জনকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য বাছাই করা হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, মৌখিক পরীক্ষার সূচি পরে পরীক্ষার্থীদের জানিয়ে দেওয়া হবে। গত ৮ এপ্রিল ৩৯তম বিশেষ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পিএসসি। এই বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে ২০০ নম্বরের এমসিকিউ এবং ১০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে এককালীন চিকিৎসক নিয়োগ দিতে বিধিমালা সংশোধন করে সরকার।

ইসিকে বিব্রত করা ঠিক না -কাদের

ঢাকা অফিস ॥ অর্থমন্ত্রী একাদশ সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ বলে দেওয়ায় তা নির্বাচন কমিশনের জন্য বিব্রতকর হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, “এটা বলার দায়িত্ব আমাদের না, এটা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। নির্বাচন কমিশনকে বিব্রত করা আমাদের কাজ না। নির্বাচন কমিশনই বলবে কবে নির্বাচন হবে। এটা বলার দায়িত্ব সরকার কিংবা সরকারের কোনো মন্ত্রীর নয় কিংবা দলেরও কোনো নেতার না।” গতকাল বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলীয় কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভায় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের কাছে সাংবাদিকরা আবুল মাল আবদুল মুহিতের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি একথা বলেন। মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠতম সদস্য মুহিত বুধবার সাংবাদিকদের বলেছিলেন, নির্বাচন হতে পারে আগামী ২৭ ডিসেম্বর। সেই হিসেবে ২৫ সেপ্টেম্বরের আগে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা হতে পারে। নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখের পাশাপাশি নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে মুহিতের কথারও সমালোচনা করেন কাদের। তিনি বলেন, “নির্বাচনকালীন সরকার কখন হবে, সাইজ কী হবে, আকারে কতটা ছোট হবে, কেবিনেটে কতজন থাকবে, তা একমাত্র প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া এ বিষয়ে আর কেউ জানেন না। আমি পার্টির সাধারণ সম্পাদক, আমিও এখন পর্যন্ত জানি না।” মুহিতকে ইঙ্গিত করে কাদের বলেন, “আমাদের যার যার এরিয়ার মধ্যে সীমিত থেকে রেসপনসিবল ভূমিকায় থাকলে দেশ, গণতন্ত্র ও সরকারের জন্য ভালো।” বিএনপি ও যুক্তফ্রন্ট ঘোষিত ‘জাতীয় ঐক্য’ নিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, “জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন হলে আমরা ডাক দিবো। এখন আমরা জনগণের ঐক্য চাই। “বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দল হচ্ছে আওয়ামী লীগ। তাই এ বড় দলের সমর্থক ও ভোটারদের বাদ দিয়ে জাতীয় ঐক্য হাস্যকর। আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে জাতীয় ঐক্য হয় না কি?” সংসদ নির্বাচনের আগে দলের রাজশাহী মহানগর ও জেলার নেতাদের সঙ্গে এদিন মতবিনিময় সভা করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। এমপি হওয়ার প্রতিযোগিতায় দলের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা বিচ্যুতির কারণ ঘটেছে স্বীকার করেন তিনি। “রেসপনসিবল লিডাররা যদি অসুস্থ প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ে, তাহলে কর্মীরা কী শিখবে? নির্বাচন করার ইচ্ছা থাকতেই পারে। শুধু একজনই মনোনয়ন চাইবেন, তা তো নয়, অন্যরাইও চাইতে পারেন। “চা দোকানে বসে গ্র“প মিটিং করে দলের একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে, যেটা হওয়ার কথা ছিল বিরোধী পক্ষের বিরুদ্ধে। এর চেয়ে আত্মঘাতী কিছু হতে পারে না। এ আত্মঘাতী প্রবণতা বন্ধ করতেই হবে।” নৌকার মনোনয়ন পেতে ইচ্ছুকদের সর্তক করে কাদের বলেন, “অসুস্থ প্রতিযোগিতা করে কেউ যদি মনে করেন এমপি হওয়ার পথ সুগম হবে, তাহলে বোকার স্বর্গে বাস করছেন। জরিপ রিপোর্ট আছে, আমলানামা, এসিআর আছে, ছয় মাস পরপর আপডেট হচ্ছে। সর্বশেষটাও যোগ হয়ে গেছে। এগুলো নিয়ে বিশেষজ্ঞ টিম যাচাই বাচাই করছে। আমাদের জনমতের ভিত্তিতেই মনোনয়ন দিতে হবে। যিনি বেশি গ্রহণযোগ্য তাকেই মনোনয়ন দেয়া হবে। জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য না হলে যতই প্রভাবশালী নেতা হোন না কেন মনোনয়ন দেওয়া হবে না। নির্বাচন আর দল এক কথা না। কর্মী যদি জনমতে প্রভাবশালী নেতার চেয়েও গ্রহণযোগ্য হয়, দল তাকে মূল্যায়ন করবে।” রাজশাহীর নেতাদের উদ্দেশে কাদের বলেন, “শূন্যতা না থাকলে নির্বাচন পর্যন্ত কোনো কমিটি আপনারা ভাঙতে পারবেন না। নতুন কোনো কমিটিও করা যাবে না। নিজেদের মধ্যে দলাদলি করে এক গ্র“প আরেক গ্র“পকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করবেন, এটা কঠোরভাবে বন্ধ করতে হবে।” মতবিনিময় সভায় আওয়ামী লীগের রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি খায়রুজ্জামান লিটন, আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল উপস্থিত ছিলেন।

‘বিদ্যুত ও জ্বালানি সপ্তাহ উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বিএনপি দেশের বিদ্যুত খাতকে যেভাবে পিছিয়ে দেয় তা নজিরবিহীন

ঢাকা অফিস ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত শাসনামলে দেশের বিদ্যুৎ খাতকে যেভাবে পিছিয়ে দেয়া হয়েছিল তা নজীরবিহীন, যা পৃথিবীর আর কোথাও দেখা যায়নি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে জনগণের ভোটে সরকার গঠন করে বিদ্যুৎ পেয়েছিলাম মাত্র ১৬শ মেগাওয়াট, চরিদিকে হাহাকার, এদেশের অধিকাংশ মানুষের ঘরে আলো ছিল না। সেই অবস্থা থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য সর্বপ্রথম আইন করে আমরা বেরকারি খাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করি এবং বেসরকারি খাতকে উন্মুক্ত করে দেই।’ তিনি বলেন, ‘আমরা মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই ১৬শ’ থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ৪ হাজার ৩শ’ মেগাওয়াটে নিয়ে যেতে সক্ষম হই। সেইসাথে জেনারেটরের ওপর থেকে সকল ট্যাক্স তুলে দেই এবং শিল্প কারখানার মালিকদের বলে দেই আপনারাও আপনাদের মত বিদ্যুৎ উৎপাদন করুন এবং সেই বিদ্যুৎ আশপাশে বিক্রিও করতে পারবেন। আমরা গ্রিড লাইন আপনাদের ভাড়া দেব।’ ‘কিন্তু, ২০০৯ সালে যখন আমরা সরকারে আসি তখন দেখি বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ যা আমরা রেখে গিয়েছিলাম তার থেকে কমে ৩ হাজার ২শ মেগাওয়াট হয়ে গেছে।’ পৃথিবীর আর কোন দেশের জনগণের এ ধরনের তীক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে বলে তাঁর জানা নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৫ বছরে কোন দেশ এভাবে পিছিয়ে যায় সেটাও আমার জানা ছিল না।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সপ্তাহ-২০১৮’ উদযাপনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ ৬ দশমিক ২৫ টাকা/কিলোওয়াট এবং বিক্রয় মূল্য রাখা হয়েছে ৪ দশমিক ৮২ টাকা/কিলোওয়াট। কাজেই এখানে আমরা ভতুর্কি দিচ্ছি। অর্থাৎ বিদ্যুৎ উৎপাদনে যে খরচ তা আমরা গ্রাহকের কাছ থেকে নিচ্ছি না। তবে, ভবিষ্যতে এই ব্যবস্থা হয়তো রাখা সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন যত হতে থাকবে ভবিষ্যতে বিদ্যুতে যতটা খরচ হবে ততটাই তাদের প্রদান করতে হবে। তিনি বলেন, ‘সেক্ষেত্রে আমার একটা অনুরোধ থাকবে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সবাইকে সাশ্রয়ী হতে হবে। বিদ্যুতের অপচয় বন্ধের জন্য আমি অনুরোধ জানাই।’ প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি নেপালের কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত বিমসটেক সম্মেলনে বিদ্যুৎ খাত নিয়ে আলোচনা করেছেন উল্লেখ করে বলেন,‘আমরা একটা বিমসটেক সোলার গ্রিড লাইন করে দিচ্ছি। এই আন্তঃদেশীয় গ্রিডলাইনের মাধ্যমে কে কত বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে, তা থেকে বাংলাদেশ কিনবে, এটা আমরা স্পষ্ট করে ফেলেছি। আঞ্চলিক সহযোগিতার যুগান্তকারী পদক্ষেপটা আমরা ইতোমধ্যেই গ্রহণ করেছি। তাঁর সরকার বিগত সাড়ে নয় বছরে দেশের বিদ্যুৎ খাতের সম্প্রসারণে বেশ কিছু আঞ্চলিক চুক্তি স্বাক্ষর করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ-ভারতের সহযোগিতা চুক্তির আওতায় স্থাপিত দু’দেশের বিদ্যুৎ সঞ্চালন কেন্দ্রের মাধ্যমে ভারত থেকে প্রথম গ্রিড আন্তঃসংযোগের মাধ্যমে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হচ্ছে। এ ক্ষমতা ১০০০ মেগাওয়াটে উন্নীতের কাজ চলছে। বাংলাদেশ-ভারত দ্বিতীয় গ্রিড আন্তঃসংযোগ উদ্বোধনের মাধ্যমে ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হচ্ছে। ভারত হতে আরও ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি নেপাল এবং ভূটান থেকে জল বিদ্যুৎ আমদানির প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত মাসেই তাঁর সরকার নেপালের সাথে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। বাংলাদেশ, ভুটান এবং ভারতের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে। ‘অনির্বাণ আগামী’ প্রতিপাদ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকারের সাফল্যকে তুলে ধরার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে দিক নির্দেশনা প্রদানে এই জ্বালানি সপ্তাহ উদযাপিত হচ্ছে। জ্বালানি সপ্তাহের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের বিতর্ক প্রতিযোগিতা, জ্বালানি বিষয়ক সেরা প্রতিবেদনের জন্য সাংবাদিক ও দক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারিদের পুরস্কার প্রদান এবং গৃহস্থালী, শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী গ্রাহকদের সম্মাননা দেয়া হবে। নেপালের জ্বালানি, পানি সম্পদ এবং সেচ বিষয়ক মন্ত্রী বর্ষা মান পুন অনন্ত, প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী, বীর বিক্রম, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. তাজুল ইসলাম বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন এবং বিদ্যুৎ, জ্বলানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ সভাপতিত্ব করেন। বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ড. আহমেদ কায়কাউস অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ বিভাগে সরকারের সাফল্য ও পরিকল্পনা নিয়ে অনুষ্ঠানে প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন এবং খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব আবু হেনা মোহম্মদ রহমাতুল মুনিম অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে সরকারের বিদ্যুৎ খাতের সাফল্য নিয়ে একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শিত হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করেছি। প্রতিমাসে ৩ থেকে ৫ লাখ গ্রাহক সংযোগের ফলে এখন মোট গ্রাহক সংখ্যা ৩ কোটিতে পৌঁছেছে। প্রধানমন্ত্রী এ সময় বিদ্যুৎ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, তাঁর সরকারের সময়ে মোট ২৪ হাজার ৩৫১ মেগাওয়াট ক্ষমতার ১৩৫টি বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণের জন্য চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে। প্রায় ১২ হাজার ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে ও ১০১টি বিদ্যুতকেন্দ্র প্রকল্প চালু করা হয়েছে। এছাড়াও বর্তমান সরকার দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনার আওতায় ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট, ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০ হাজার মেগাওয়াট এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মহাপরিকল্পনা করা হয়েছে। সরকার প্রধান বলেন, আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ লাইন নির্মাণেও ছিলাম সচেষ্ট। বিগত সাড়ে নয় বছরে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ৮ হাজার কিলোমিটার হতে ১১ হাজার ১২২ সার্কিট কিলোমিটারে উন্নীত করেছি। বিতরণ লাইন ২ লাখ ৬০ হাজার কিলোমিটার হতে ৪ লাখ ৫৭ হাজারে উন্নীত করা হয়েছে। ২০০৯ সালে বিদ্যুৎ সুবিধাপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ছিল মাত্র ৪৭ শতাংশ যা বিগত সাড়ে ৯ বছরে ৯০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, বলেন তিনি। তাঁর সরকারের প্রচেষ্টার ফলে দেশে মাথাপিছু বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বর্তমানে ৪৬৪ কিলোওয়াট-ঘণ্টায় উন্নীত হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বিদ্যুৎ বিতরণ সিস্টেম লস ১৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ থেকে বর্তমানে ১১ দশমিক ৪০ শতাংশে হ্রাস করা সম্ভব হয়েছে। বিগত সাড়ে নয় বছরে ১ লাখ ৩০ হাজার নতুন সেচ সংযোগ প্রদান করা হয়েছে। ফলে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে। তিনি বলেন, তাঁর সরকার ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে এবং বৈশ্বিক উষ্ণতা প্রতিরোধে নবায়নযোগ্য জ¦ালানি হতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সারাদেশে ৫৩ লাখ সোলার হোম সিস্টেম স্থাপন করার মাধ্যমে প্রায় ২২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। তাছাড়া প্রায় ৩০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন গ্রিডভিত্তিক ২টি সোলার বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে। বর্তমানে ব্যবহৃত বাণিজ্যিক জ্বালানির প্রায় তিন-চতুর্থাংশ প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে পূরণ করা হচ্ছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত নতুন ৪টি গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে। গ্যাসের গড় উৎপাদন দৈনিক ১ হাজার ৭৪৪ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে দৈনিক ২ হাজার ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত হয়েছে। ৮৬২ কিলোমিটার নতুন গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণ করা হয়েছে। ২০০৯-২০১৮ সময়ে ৩৩টি নতুন গ্যাস স্ট্রাকচার চিহ্নিতকরণ, ১৪টি অনুসন্ধান কূপ ও ৫৭টি উন্নয়ন কূপ খনন এবং ৪৪টি কূপের ওয়ার্কওভার কাজ তাঁর সরকার সম্পাদন করেছে, বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান গ্যাসের চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে ২০২১ সালের মধ্যে মোট ১০৮টি কূপ খনন করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। তিনি বলেন, দেশের একমাত্র উৎপাদনশীল কয়লা খনি বড়পুকুরিয়া থেকে বর্তমানে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি লংওয়াল টপ কোল কেভিং (এলটিসিসি) পদ্ধতিতে গড়ে দৈনিক প্রায় ৪ হাজার হতে ৪ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন উন্নতমানের বিটুমিনাস কয়লা উত্তোলন করা হচ্ছে। দেশে গ্যাসের মজুদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে গৃহস্থালি জ্বালানির চাহিদা পূরণে এলপিজির উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়ে ৫৬টি প্রতিষ্ঠানকে এলপিজি প্ল্যান্ট স্থাপনের অনুমতি প্রদান করায় এলপিজি সিলিন্ডারের দাম অর্ধেকে নেমে এসেছে বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। বিদ্যুৎ খাতে প্রি- প্রেইড মিটার স্থাপন এবং অনলাইনভিত্তিক সেবা প্রদান করার মাধ্যমে বিদ্যুৎ খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, পায়রা বন্দর এবং মহেশখালিতে স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। কাতার ও ওমান থেকে এলএনজি আমদানি এবং স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি ক্রয়ের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এ সময় তাঁর সরকারের ব্লু ইকোনমি প্রসারের পদক্ষেপ তুলে ধরে বলেন, জাতিসংঘের সমুদ্র আইন বিষয়ক আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল এবং আন্তর্জাতিক সালিশী আদালতের রায়ের ফলে বাংলাদেশের ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গ কিলোমিটার সমুদ্র এলাকা অর্জিত হয়েছে। সমুদ্রের সকল সম্পদ আহরণের লক্ষ্যে ব্লু-ইকনোমি সেল গঠন, অফশোর মডেল পিএসসি-২০১৪ এবং অনশোর মডেল পিএসসি-২০১৪ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। ভাষণের শুরুতেই দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বিকাশে বঙ্গবন্ধুর অবদান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ১৯৭৫ সালের ৯ আগস্ট বিদেশী তেল কোম্পানির নিকট হতে ৫টি গ্যাস ফিল্ড ক্রয়ের মাধ্যমে জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। কিন্তু ঘৃণ্য কুচক্রীদের হাতে জাতির পিতা শাহাদাৎবরণ করায় তাঁর এই স্বপ্ন অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার হত্যার পর ছয় বছর প্রবাস জীবন কাটাতে বাধ্য হয়ে ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে আসার পর থেকে তাঁর একটাই লক্ষ্য-কিভাবে বাংলার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা যায়। বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে আনা যায়। তাঁর সরকারের সময়ে জাতিসংঘের স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় বাংলাদেশ জায়গা করে নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের ‘রোল মডেল’। আমরাই বিশ্বে প্রথম শত বছরের ‘ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০’ শুরু করেছি। শেখ হাসিনা এ সময় তাঁর রাজনৈতিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন-‘২০২১ সালে মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বাংলাদেশকে আমরা মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করব, ইনশাআল্লাহ।’

৬ দিনে ৮ মামলা, আসামী ৭ শতাধিক

নাশকতার মামলায় জর্জরিত কুষ্টিয়া বিএনপি

নিজ সংবাদ ॥ একের পর এক নাশকতার মামলায় জর্জরিত কুষ্টিয়া বিএনপির নেতাকর্মিরা। গত ছয়দিনে অন্তত আটটি মামলা হয়েছে। কারাগারে গেছেন অর্ধশতাধিক নেতাকর্মি। পুলিশের ভয়ে বাড়িতে থাকতে পারছেন না অনেক অনেক নেতা-কর্মি। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের সামনে হঠাৎ করে এতগুলো মামলা হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন দলটির জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা। দলীয় সূত্র জানায়, গত জুন মাসে ছাত্রদলের নব গঠিত কমিটির নেতা-কর্মিরা বিএনপির এক নেতার বাসায় মিটিং করতে যান। খবর পেয়ে পুলিশ ওই বাসা ঘেরাও করে সংগঠনের ৩৪ নেতা-কর্মিকে গ্রেপ্তার করে। এরপর নেতাকর্মীদের মাঝে আরও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

গত ১ সেপ্টেম্বর দলটির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠান করতে পারেনি দলটি। আগের দিন থেকে জেলায় ব্যাপক অভিযান চলে। গত তিন দিন ধরে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এতে শতাধিক নেতাকর্মিকে ধরা হয়েছে। পুলিশ দাবি করেছেন আটক করার সময় তাদের কাছ থেকে ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে। যার পরিমাণ প্রায় শতাধিক।

পুলিশ সূত্র জানায়, গত শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের রাজনীতির সাথে জড়িত ৫৮ নেতাকর্মিকে আটক করে পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে ৬২টি ককটেল উদ্ধার হয়েছে। শনি, রোববার ও সোমবার রাতেও অভিযান চালিয়ে একশ’ জন নেতাকর্মিদের আটক করা হয়। সব মিলিয়ে জেলার সাত থানায় অন্তত আটটি নাশকতার অভিযোগে মামলা হয়েছে। এসব মামলায় আসামী করা হয়েছে ৭ শতাধিক।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম উল হাসান অপু বলেন, ‘অবাধ সুষ্ঠু নিরপক্ষে নির্বাচনের দাবীতে চলমান আন্দোলনকে দমন করতে এই গণ গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এভাবে আন্দোলনকে স্তব্ধ করা যাবে না।’ সময়মতো আমরাও জবাব দেব। কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দীন অভিযোগ করে বলেন, আগামী দিনের নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতাকর্মিদের আটক করছে। যাতে আমরা মাঠে নামতে সাহস না পায়। এটা অন্যায় গনতন্ত্রবিরোধী। তবে সব বাধা মোকাবিলা করে মাঠে নেমে চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে জেল থেকে বের করে আনা হবে। কোন বাধায় মানা হবে না। অহেতুক নেতাকর্মি আটক করে আমাদের দমানো যাবে না।’

এদিকে একের এক মামলায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে নেতা-কর্মিরা। রাস্তায় নামাতো দুরে থাক বাড়িতেও থাকতে পারছে না। সামনে আন্দোলন সংগ্রামে নেতা-কর্মিদের ডেকেও পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না। নেতারা এসব বিষয় কিভাবে মোকাবেলা করবেন তা নিয়ে চিন্তিত। এখন দু’একজন নেতা এক জায়গায় বসতেও ভয় পাচ্ছে।

জানতে চাইলে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম মেহেদী হাসান বলেন, ‘নাশকতার পরিকল্পনা এবং প্রস্তুতি নেবার গোপন খবর থেকেই আটক করা হচ্ছে। বিএনপির নেতাদের অভিযোগের কোন সত্যতা বা ভিত্তি নাই। কোন দল ও নেতাকর্মিরা নয় যারা সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের পরিকল্পনা ও এর মদদ দিবে তাদেরই আটক করা হবে। জনগণের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখেই পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

 

শাকিবের নতুন নায়িকা রোদেলা

বিনোদন বাজার ॥ কে হবে শাকিব খানের নতুন নায়িকা? এ নিয়ে বেশকিছু দিন ধরেই শোবিজে গুঞ্জন চলছিল। কারণ শাকিবের সিনেমা মানেই বড় বাজেট, ব্যাপক আয়োজন। বুধবার শাকিব খানের পরবর্তী সিনেমা ‘শাহেনশাহ’-এর মহরত অনুষ্ঠিত হয়। শামীম আহমেদ রনি পরিচালিত এই সিনেমায় শাকিব খানের বিপরীতে দুজন নায়িকা থাকবেন বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে নুসরাত ফারিয়ার নাম ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু অন্য নায়িকার নাম চমক হিসেবে রেখেছেন এর নির্মাতা। অন্য আরেকজন নায়িকা কে? এ বিষয়ে এই চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলেও সঠিক উত্তর পাওয়া যায়নি। তবে ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, জান্নাতুল এভ্রিল ও রোদেলা জান্নাতের নাম। এখন এই দুজনের মধ্যে কে থাকছেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অন্যদিকে বিশ্বস্ত একটি সূত্র জানিয়েছে, এ সিনেমায় শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় করবেন নবাগত নায়িকা রোদেলা জান্নাত। শাপলামিডিয়া প্রযোজিত এ সিনেমায় শাকিব খান ও নুসরাত ফারিয়া চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। সিনেমাটির কনটেন্ট পার্টনার লাইভ টেকনোলজি।

‘স্ত্রী’ সিনেমায় শ্রদ্ধা কাপুরের বাজিমাত

বিনোদন বাজার ॥ অভিনয় গুণে বলিউডের অনেক অভিনেত্রীকেই হারিয়ে দিয়েছেন শক্তি কাপুরের কন্যা শ্রদ্ধা কাপুর। বলিউডের উদীয়মান অভিনেত্রীদের মধ্যে এখন সবার চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন তিনি। বলিউডের স্বনামধন্য নির্মাতাদের সুনজর এখন শুধু তার দিকেই। সম্প্রতি তার মুক্তিপ্রাপ্ত ‘স্ত্রী’ সিনেমা দিয়ে আবারও বাজিমাত করলেন শ্রদ্ধা কাপুর। এই সিনেমায় অভিনয় দিয়ে ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছেন তিনি। আর সিনেমাটিও বক্স অফিস কাঁপিয়ে বেড়াচ্ছে।গত শুক্রবার মুক্তি পেয়েছে রাজকুমার রাও অভিনীত এই সিনেমা। আর মাত্র ৪ দিনেই বক্স অফিসে এই ছবিটির ব্যবসার পরিমাণ সকলকে অবাক করে দিয়েছে। শুধুমাত্র সোমবার এই ছবিটির বক্স অফিস কালেকশন হয়েছে ৯দশমিক ৭০ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত বক্স অফিসে ছবিটি মোট আয় করেছে ৪১দশমিক৯৭ কোটি টাকা। একইদিন মুক্তিপ্রাপ্ত ববি দেওল, সানি দেওল অভিনীত ছবি ‘ইয়ামলা পাগলা দিওয়ানা ফির সে’ ছবিটির ৪ দিনের বক্স অফিস কালেকশন মাত্র ৭দশমিক৩৫ কোটি টাকা।

 

গান গেয়ে মামলার জালে কুমার শানু

বিনোদন বাজার ॥ গান গেয়ে কোটি ভক্তের হৃদয় জয় করেছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী কুমার শানু। তবে এবার গান গেয়ে বিপাকে পড়েছেন এই সংগীতশিল্পী। কারণ তার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যম এ খবর প্রকাশ করেছে।প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ভারতের উত্তর প্রদেশের মুজাফফরপুরের একটি অনুষ্ঠানে গান গাইতে গিয়েছিলেন কুমার শানু। স্থানীয় একটি স্কুল মাঠে আয়োজন করা হয়েছিল অনুষ্ঠানের। ‘আশিকি’ সিনেমার ‘ধীরে ধীরে’, ‘পরদেশ’ সিনেমার ‘মেরি মেহবুবা’, ‘দিলওয়ালে’ সিনেমার ‘কিতনা হাসিন চেহারা’-এর মতো জনপ্রিয় গান গেয়ে অনুষ্ঠান জমিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।দর্শকরাও মশগুল ছিলেন তার গানে। যার কারণে সময়ের দিকে খেয়ালই ছিল না আয়োজকদের। কিন্তু রাত ১০টার পর লাউড স্পিকার ব্যবহার করে চলতে থাকে অনুষ্ঠান। ফলে বিরক্ত হন আশেপাশের বাসিন্দারা। আর তারপরই পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন তারা।সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে পুলিশ জানিয়েছে, রাত দশটার পর লাউড স্পিকার ব্যবহার করায় আয়োজকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে অন্য একটি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আয়োজকদের পাশাপাশি কুমার শানুর বিরুদ্ধেও এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।

গৌতম ঘোষ এবার বানাবেন হিন্দি সিনেমা

বিনোদন বাজার ॥ ভারতীয় সিনেমা নির্মাতা গৌতম ঘোষকে বাংলাদেশ চিনেছে ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ ছবিটি দিয়ে। এরপর ‘মনের মানুষ’ শিরোনামে আরও একটি সিনেমা বানিয়েছিলেন এই নির্মাতা। সেটিও বেশ সাদরেই গ্রহণ করেছিল বাংলা চলচ্চিত্রের দর্শকেরা। গুণী এই পরিচালক এবার বানাচ্ছেন একটি হিন্দি সিনেমা।এগারো বছরের মধ্যে এটিই হতে যাচ্ছে তার প্রথম হিন্দি সিনেমা। ছবির নাম রাখা হয়েছে ‘ওয়ান ডে ইন দ্য রেইন’। যেখানে অভিনয় করবেন আদিল হুসেইন, তিলোত্তমা শোম, নিরাজ কবি এবং ওঙ্কার দাস মানিকপুরী। ছবিটি প্রযোজনা করবেন অমিত আগারওয়াল। কিছু দিন আগে ভারতের ঝাড়খ- প্রদেশে শেষ হয়েছে ছবিটির দৃশ্যধারণের কাজ।ছবিটি প্রসঙ্গে গৌতম ঘোষ বলেছেন, শুরুতে আমরা ভারত-ইতালী যৌথ প্রযোজনার কথা ভাবছিলাম। কিন্তু টেকনিক্যাল কারণে ছবিটা শুরু করতে দেরি হয়েছে। এরপর আমি একটা ছোট গল্পের চিত্রনাট্য করি। যেখানে বৃষ্টিতে একটা গোটা দিনের গল্প বলা যাবে। ছবিটার দৃশ্যধারণের কাজ আমরা বিশ দিনে শেষ করতে চাই।বাংলাদেশে জন্ম নেয়া গৌতম ঘোষ সম্প্রতি কিংবদন্তি ইরানি পরিচালক মাজিদ মাজিদির হিন্দি ছবি ‘বিয়ন্ড দ্যা ক্লাউডস’ ছবিতে অভিনয়ও করেছেন।

সুুুগন্ধি ধানের চাষ লাভজনক

কৃষি প্রতিবেদক ॥ সুজলা, সুফলা, শস্য, শ্যামলা এই দেশে আউশ, আমন, বোরো মৌসুমে ধানের জাতে ও ব্যবহারে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের বৈচিত্রতা। সেই বৈচিত্রতা উঠে এসেছে কবি জসীমউদ্দীনের একটি কবিতায়। তিনি লিখেছেনÑ আমার বাড়ি যাইও ভোমর, বসতে দেব পিঁড়ে, জলপান যে করতে দেব শালি ধানের চিঁড়ে। শালি ধানের চিঁড়ে দেব, বিন্নি ধানের খই…বাড়ীর গাছের কবরী কলা, গামছা বাঁধা দই। ধান চাষের তিনটি মৌসুমের মধ্যে আমন ও বোরো মৌসুম সুগন্ধি সরু বা চিকন ধান চাষের এর উপযুক্ত মৌসুম। এই ধানের রয়েছে দেশ-বিদেশে ব্যাপক চাহিদা। সুদীর্ঘ কাল থেকে গ্রাম বা শহরে ধনী কিংবা গরিব সবার ঘরোয়া কোনো উৎসবে, গায়ে হলুদ, বিয়ে, ঈদ, পূজায় অতিথি আপ্যায়নে সুগন্ধি চালের তৈরি পোলাও, বিরিয়ানি, কাচ্চি বিরিয়ানি, জর্দা, পায়েস, ফিন্নি, পিঠাপুলিসহ নানান মুখরোচক খাবার আমাদের পারিবারিক ঐতিহ্যের অংশ। এ ছাড়া বাণিজ্যিকভাবে স্থান করে নিয়েছে সুগন্ধির চালের তৈরি খাবার হোটেল, রেস্তোরাঁ এমনকি আলো ঝলমলে পাঁচতারকা হোটেলে কোনো উৎসব কিংবা সেট মেন্যুতে। হাজারো বছর ধরে কৃষকরা আমন মৌসুমে প্রচলিত জাত কাটারিভোগ, কালিজিরা, চিনিগুঁড়া, চিনি আতপ, বাদশাভোগ, খাসকানী, বেগুনবিচি, তুলসীমালাসহ বিভিন্ন ধরনের সুগন্ধি ধান চাষ করে আসছে। প্রচলিত এসব জাত চাষাবাদে ফলন কম হওয়ায় অনেক কৃষক সুগন্ধি ধান চাষের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। আশার কথা হচ্ছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ও অন্যান্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানের কৃষি বিজ্ঞানীদের নিরলস পরিশ্রম ও দীঘর্ গবেষণায় সুগন্ধি ধানের স্বাদ ও গন্ধ অক্ষুণœ রেখে বিভিন্ন উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবন করেছে। বাংলাদেশের আবহাওয়া ও পরিবেশ সুগন্ধি ধান উৎপাদনের উপযোগী। বিশেষ করে দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, রংপুর, নওগাঁ, রাজশাহী জেলায় সুগন্ধি ধান বেশি উৎপাদিত হয়। এসব জাতের মধ্যে রয়েছে আমন মৌসুমে বিআর৫, ব্রি ধান৩৪, ব্রি ধান৩৭, ব্রি ধান৩৮, ব্রি ধান৭০, ব্রি ধান৭৫, ব্রি ধান৮০, বিনা ধান১৩ এ ছাড়া রয়েছে বিইউ সুগন্ধি হাইব্রিড ধান-১। বিইউ সুগন্ধি হাইব্রিড ধান-১ সুবিধা হচ্ছে আমন ও বোরো উভয় মৌসুমেও চাষ করা যায়। ব্রি ধান৩৪ জাতের ধান চিনিগুঁড়া বা কালিজিরার মতোই অথচ ফলন প্রায় দ্বিগুণ হওয়ায় কৃষকরা এ ধানের আবাদে আগ্রহী হচ্ছেন। তা ছাড়া আলোক সংবেদনশীল হওয়ায় এই জাতটি আমনে বন্যাপ্রবণ এলাকায় নাবিতে রোপণ উপযোগী। ব্রি ধান৭০ ও ব্রি ধান৮০ আমন মৌসুমের উচ্চফলনশীল ধান এবং আলোক অসংবেদনশীল। গড় ফলন হেক্টরপ্রতি ৪.৫-৫.০ মেট্রিক টন। যা প্রচলিত জাত কাটারিভোগ ধানের চেয়ে দ্বিগুণ। ব্রি ধান৭০ ধানের চাল দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী কাটারিভোগের চেয়ে আরও বেশি লম্বা। আর ব্রি ধান৮০ থাইল্যান্ডের জনপ্রিয় জেসমিন ধানের মতো, সুগন্ধিযুক্ত এবং খেতেও সুস্বাদু। অন্যদিকে বোরো মৌসুমে সুগন্ধিযুক্ত আধুনিক জাত হচ্ছে ব্রি ধান৫০ যা বাংলামতি নামে পরিচিত। হেক্টরপ্রতি ফলন ৫.৫ থেকে ৬ মেট্রিক টন। বাংলামতি ধান বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন জাতের ধানের চেয়ে দাম অনেক বেশি হওয়ায় লাভ বেশি হয়। এ জাতের চালের মান, স্বাদ, গন্ধ, বাসমতি চালের মতোই। দিনে দিনে বিদেশ থেকে আমদানিকৃত বাসমতি চালের স্থান দখল করে নিচ্ছে আমাদের বাংলামতি চাল। আমদানিকৃত বিদেশি বাসমতি চালের চেয়ে দাম অনেক কম, দেশি অন্যান্য সুগন্ধি জাতের ধানের চেয়ে ফলন বেশি হওয়ায় বাংলামতি ধান চাষে কৃষকদের আগ্রহ দিনে দিনে বাড়ছে। সব ধরনের মাটিতেই সুগন্ধি ধানের চাষ করা যায়। তবে দো-আঁশ ও পলি দো-আঁশ মাটি সুগন্ধি চাষাবাদের জন্য বেশি উপযোগী। বোরো মৌসুমে ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ এবং রোপা আমন মৌসুমে ১৫ থেকে ২৫ জুলাই পযর্ন্ত বীজতলায় বীজ বপনের উপযুক্ত সময়। তবে স্বল্পমেয়াদি জাতের ক্ষেত্রে জুলাইয়ের দ্বিতীয় থেকে তৃতীয় সপ্তাহে বপন করা ভালো। মূল জমি ভালোভাবে তৈরি করে আমন মৌসুমে ২৫ থেকে ৩০ দিনের এবং বোরো মৌসুমে ৩৫ থেকে ৪০ দিনের চারা রোপণ করতে হয়। সুগন্ধি ধানের ভালো ফলনের জন্য সারব্যবস্থাপনা খুব জরুরি। সুগন্ধি ধানের জমিতে বিঘাপ্রতি বা ৩৩ শতকে আমনে আধুনিক জাত ব্রি ধান৩৪, ৩৭, ৩৮, ৭০, ৮০ বা বিনাধান১৩-এর ক্ষেত্রে ইউরিয়া ১৮-২০ কেজি, টিএসপি ১০-১২ কেজি, এমওপি ৯-১০ কেজি, জিপসাম ৮ কেজি, দস্তা ১ কেজি হারে সার প্রয়োগ করতে হয়। আমনে স্থানীয় জাত যেমনÑ কাটারিভোগ, কালিজিরা ইত্যাদি জাতের ক্ষেত্রে বিঘাপ্রতি ইউরিয়া-ডিএপি/ডিএপি-এমওপি-জিপসাম যথাক্রমে ১২-৭-৮-৬ কেজি হিসেবে প্রয়োগ করতে হবে। সব ক্ষেত্রে প্রতিকেজি ডিএপি সারের জন্য ৪০০ গ্রাম ইউরিয়া কম ব্যবহার করতে হবে। দেশি উন্নতমানের সুগন্ধি চাল সম্পর্কে ধারণা ও প্রচারণার অভাব থাকায় নামি-দামি হোটেল, রেস্তোরাঁয় আমাদের জনপ্রিয় সুগন্ধি চালের পরিবর্তে বিদেশি চাল ব্যবহারের প্রচলন দেখা যায়। অধিক পরিমাণে সুগন্ধি ধান চাষাবাদে মানুষের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা বিধানের পাশাপাশি রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিশেষ করে ইউরোপ, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্যে রয়েছে আমাদের সুগন্ধি চালের ব্যাপক চাহিদা। গবের্র বিষয় বাংলাদেশের কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্যাকেটজাত সুগন্ধি চাল ১৩৬টি দেশে রপ্তানি করছে। বতর্মান সরকারের সদ্বিচ্ছা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুস্পষ্ট দিক-নিদের্শনায় আধুনিক উচ্চফলনশীল সুগন্ধি ধানের এলাকা ও উৎপাদন বৃদ্ধি হবে, নিদির্ষ্ট জেলাভিক্তিক চাষ হওয়া সুগন্ধি ধানের চাষাবাদ সারা দেশে ছড়িয়ে, কৃষক সমাবেশ, মাঠ দিবসের মাধ্যমে কৃষকদের মধ্যে সুগন্ধি ধান চাষে আগ্রহ ও উৎসাহ সৃষ্টি করতে হবে। কৃষকের পরিশ্রমের ফসলের ন্যায্যমূল্যে নিশ্চিত করতে সঠিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে এবং ব্যাপক প্রচার ও প্রচারণার মাধ্যমে বাংলার সুগন্ধি ধানের মান, পুষ্টিগুণের কথা দেশ থেকে দেশান্তরে ছড়িয়ে দিতে হবে। সবার মধ্যে বিদেশি সুগন্ধি জাতের চালের ওপর নিভর্রতা কমিয়ে বাংলামতিসহ দেশীয় সুগন্ধি চালের তৈরি বিভিন্ন স্বাস্থ্যকর নতুন নতুন আকষর্ণীয় খাবারের প্রতি উৎসাহিত করতে পারলেই সুগন্ধি ধানের হারানো ঐতিহ্যে ফিরে আসবে। কৃষকরা আথির্কভাবে লাভবান হবে এবং অপ্রতিরোধ্য দেশের অগ্রযাত্রায় ভূমিকা রাখবে।
লেখকদ্বয় ঃ ফার্ম ব্রডকাস্টিং অফিসার, কৃষি তথ্য সার্ভিস এবং ঊধ্বর্তন যোগাযোগ কমর্কতার্, ব্রি, গাজীপুর

জয় দিয়ে এশিয়া কাপ শুরু করতে চান মাশরাফি

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ আসন্ন এশিয়া কাপ ক্রিকেটের শুরুটা জয় দিয়ে করতে চান বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। গতকাল মিরপুরে এশিয়া কাপ নিয়ে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে এমন কথা বলেন মাশরাফি। তিনি বলেন, ‘প্রথম ম্যাচটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এশিয়া কাপে কেমন করব, সেটা নির্ভর করবে শ্রীলংকার বিপক্ষে ম্যাচের পারফরম্যান্সের উপর। আমরা যদি ম্যাচটা জিততে পারি, তাহলে আমরা শুরুতেই আত্মবিশ্বাস পেয়ে যাব। আমাদের সামর্থ্য আছে ভালো খেলার। আমাদের জন্য প্রথম ম্যাচটা গুরুত্বপূর্ণ। দলে ভালো মানের ক্রিকেটার আছে, যারা ম্যাচ উইনার। যদি প্রথম ম্যাচটা জিততে পারি আমরা তবে আমাদের ভালো করার সুযোগ থাকবে।’ আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে এশিয়ার কাপের ১৪তম আসর। উদ্বোধণী দিনই মাঠে নামছে বাংলাদেশ। ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ শ্রীলংকা। লংকানদের বিপক্ষে জয় দিয়ে শুরু করতে চান বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি। শুরুটা দুর্দান্ত হলে টুর্নামেন্টে আত্মবিশ্বাসী হয়ে পথ চলতে পারবে বাংলাদেশ বলে মনে করেন ম্যাশ। নিজেদের প্রথম ম্যাচটিই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন মাশরাফি। তিনি বলেন, ‘শ্রীলংকার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচটি গুররুত্বপূর্ণ। ভারত অনেক শক্তিশালী দল, পাকিস্তানও ভাল দল। তবে আমি মনে করি এই দু’দলকে হারানোর সামর্থ্য আমাদের আছে। আমরা এই দুই দলের চেয়ে খুব বেশি পিছিয়ে নেই। এ জন্য টুর্নামেন্টের শুরুটা ভালোভাবে করতে হবে আমাদের।’ ২০১২ ও ২০১৬ সালের আসরে ফাইনালে উঠেছিলো বাংলাদেশ। কিন্তু শিরোপার স্বাদ নিতে পারেনি তারা। তাই আসন্ন আসরে আরও ভালো কিছু করার ব্যাপারে আশাবাদী বাংলাদেশ। যা বলেছেন দলের অন্যরাও। কিন্তু এখনই ফাইনাল বা শিরোপা নিয়ে ভাবতে রাজি নন মাশরাফি। তিনি বলেন, ‘আগে দু’বার ফাইনাল খেলেছি আমরা। এটি কোন প্রভাব ফেলবে না। কারণ এটি নতুন টুর্নামেন্ট, নতুন জায়গা। এখানে সব কিছুই নতুন করে শুরু করতে হবে। আমার মূল ভাবনা, প্রথম ম্যাচ নিয়ে। আমরা শুরুটা কিভাবে করবো, এটি এখন আসল। আমাদের মূল মিশন শুরু প্রথম ম্যাচ দিয়েই। এই ম্যাচটিই আমাদের গতিপথ ঠিক করে দিবে।’ আঙ্গুলের ইনজুরির কারনে পুরোপুরি ফিট নন বাংলাদেশের সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। তারপরও তাকে দলে রেখেছে বাংলাদেশ। সাকিবের দলে থাকাটাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন মাশরাফি। তিনি বলেন, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে সাকিবের পারফরম্যান্স ছিল দারুণ। দলের জয়ে তার অনেক অবদান ছিল। যদি ঐ পারফরম্যান্স এশিয়া কাপে থাকে, তাহলে খুবই ভালো। সাকিবের খেলার সিদ্ধান্ত, সাকিবের নিজের। সাকিব থাকলে পুরো দলই অনেক উজ্জীবিত হয়ে ওঠে।’

 

১০ বছর পর একসঙ্গে সালমান-সঞ্জয়লীলা

বিনোদন বাজার ॥ সঞ্জয়লীলা বানসালি ও সালমান খান। একজন বিখ্যাত পরিচালক অন্যজন তুমুল জনপ্রিয় অভিনেতা। ১৯৯৬ সালে ‘খামোশি’, ১৯৯৯ সালে ‘হাম দিল দে চুকে সনম’ সিনেমা দুটি নির্মাণ করেন সঞ্জয়লীলা বানসালি। আর এতে অভিনয় করেন সালমান খান। ২০০৭ সালে ‘সাওয়ারিয়া’ সিনেমায় সর্বশেষ একসঙ্গে কাজ করেন এই দুই গুণী শিল্পী।এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ ১০ বছর। কিন্তু আর কোনো সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করেননি তারা। মাঝে গুঞ্জন উঠেছিল, ‘ইনশাল্লাহ’ নামের একটি সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করবেন সঞ্জয়লীলা-সালমান। কিন্তু সেটাও গুঞ্জন পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থেকে যায়।এবার সালমান খান নিজেই ঘোষণা করলেন সঞ্জয়লীলা বানসালি পরিচালিত একটি সিনেমায় অভিনয় করতে যাচ্ছেন তিনি। বিতর্কিত টেলিভিশন রিয়েলিটি শো বিগ বস-এর এবারের সিজনও উপস্থাপনা করছেন সালমান খান। অনুষ্ঠানটির সংবাদ সম্মেলনে এসে এ ঘোষণা দেন সালমান খান। ভারতীয় একাধিক সংবাদমাধ্যম এ খবর প্রকাশ করেছে।৫২ বছর বয়সি সালমান খান বলেন, ‘আমি সঞ্জয়ের একটি সিনেমায় অভিনয় করছি। তবে তার সিনেমা সম্পর্কে শুধু একটি লাইনই শুনেছি। সুতরাং এ বিষয়ে এখনো বেশি কিছু জানি না। তা ছাড়া সঞ্জয় আমার কলের উত্তর দিচ্ছে না। দয়া করে সঞ্জয়কে আমার সঙ্গে কথা বলতে বলুন।’একদিকে সিনেমার শুটিংয়ের চাপ, অন্যদিকে বিগ বস অনুষ্ঠানের চাপ। দুটি কাজ কীভাবে সামলাচ্ছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে সালমান খান বলেন, ‘আমি খুবই লাকি। কারণ আমার শখই আমার পেশা। আমি কাজ করতে ভালোবাসি। সময় এবং কাজের অভিজ্ঞতা আজকে আমাকে এখানে এনেছে।’আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর বিগ বস রিয়েলিটি শোয়ের ১২তম সিজনের উদ্বোধন হবে। এ অনুষ্ঠান উপস্থাপনার পাশাপাশি ‘ভারত’ সিনেমার শুটিং নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন সালমান খান। এ সিনেমায় তার বিপরীতে অভিনয় করছেন ক্যাটরিনা কাইফ। এটি পরিচালনা করছেন আলী আব্বাস জাফর।

৬০-৭০ ভাগ সুস্থ সাকিব দলের প্রধান সম্পদ ও শক্তি – রোডস

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ পুরোপুরি না হলেও, ৬০-৭০ ভাগ সুস্থ সাকিব আল হাসান দলের জন্য প্রধান সম্পদ ও শক্তি বলে মনে করেন বাংলাদেশের কোচ স্টিভ রোডস। আসন্ন এশিয়া কাপ ক্রিকেটের আগে গতকাল মিরপুরে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে এমন কথা বলেন রোডস। সাকিবের দলে থাকাটা অনেক বড় কিছু বলে মন্তব্যও করেন তিনি। যেমনটা করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। তিনি বলেন, ‘সাকিব থাকায় পুরো দলই অনেক উজ্জীবিত।’ আঙ্গুলের ইনজুরির জন্য এশিয়া কাপে সাকিবের থাকা, না থাকা নিয়ে আলোচনা ছিলো ব্যাপক। শেষ পর্যন্ত তাকে দলে রাখে বাংলাদেশ। বোর্ড প্রধান, দলের ফিজিও, চিকিৎসক ও নির্বাচকরা আলোচনার পর সাকিবের থাকা নিশ্চিত করেন। সাকিবের থাকাটাই দলের জন্য চালিকা শক্তি বলেন মনে করেন কোচ রোডস, ‘আমি বিশ্বাস করি সাকিব পুরো শতভাগ ফিট নয়। এও সত্যি যে ৬০-৭০ ভাগ সুস্থ সে। সে যতটুকুই সুস্থ হোক না কেন, দলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় সে। সাকিব দলের প্রধান সম্পদ ও শক্তি। দলের জন্য সে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একজন সদস্য।’

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের পর পবিত্র হজ পালন করে পরবর্তীতে পরিবারের সাথে দেখা করতে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান সাকিব। তাই এশিয়ার কাপের জন্য বাংলাদেশের অনুশীলন ক্যাম্পে যোগ দিতে পারেননি সাকিব। অনুশীলনে সাকিবের না থাকাটা দলের উপর কোন নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে কি-না, এমন প্রশ্নের জবাবে রোডস বলেন, ‘সাকিব অনুশীলন করেনি। এটি কোন নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। ড্রেসিং রুমেও এ ব্যাপারে নেতিবাচক কোন আলোচনা নেই। পারফরমার সাকিব দলের সবার কাছে অনেক প্রিয়।’

ভুটানকে হারিয়ে টুর্নামেন্টে ভালভাবেই টিকে থাকল নেপাল

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ ভুটানকে হারিয়ে সাফ সুজুকি কাপে বেশ ভালভাবেই টিকে থাকল নেপাল। আজ বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘এ’ গ্র“পের ম্যাচে নেপাল ৪-০ গোলে হারিয়েছে ভুটানকে। পাকিস্তানের কাছে ২-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট শুরু করা নেপালের এই বিশাল জয় দলটিকে টুর্নামেন্টে ভালভাবেই টিকিয়ে রেখেছে। তবে এজন্য নিজেদের শেষ গ্র“প ম্যাচে স্বাগতিক বাংলাদেশকে হারাতে হবে নেপালকে। অপরদিকে প্রথম গ্র“প ম্যাচে বাংলাদেশের কাছে ২-০ গোলে পরাজিত ভুটান টানা দ্বিতীয় ম্যাচে হারের কারণে এখন টুর্নামেন্ট থেকেই অনেকটা ছিটকে পড়েছে। প্রথম ম্যাচের একাদশে তিনটি পরিবর্তন নিয়ে আজ একাদশ গঠন করেছিলেন নেপালের কোচ বাল গোপাল মহার্জান। অধিনায়ক বিরাজ মহার্জান, স্ট্রাইকার ভারত খাওয়াজ ও নাওয়াজ শ্রেষ্ঠা। ম্যাচের শুরুতে ভুটান প্রথম পরিকল্পিত আক্রমণটি রচনা করেছিল। ৯ মিনিটে প্রায় ফাকা পোস্ট পেয়েও গোলের সুযোগ হাতছাড়া করেন ভুটানী ফরোয়ার্ড চেনচো। ১৪ মিনিটে সুযোগ এসেছিলো নেপালেরও। ডান প্রান্ত দিয়ে বিমল গাত্রি মাগারের ক্রস অঞ্জন বিস্তা হেডের চেষ্টা করে ফ্লাইট মিস করেন, এরপর রোহিত চাদের শট পোস্টের উপর দিয়ে বাইরে চলে যায়। ১৭ মিনিটে তেসরিং দরজির ফ্রি-কিক খুঁজে পায়নি নেপালের জাল। পরের মিনিটে অদিতিয়া চৌধুরীর ফ্রি-কিক বারের উপর দিয়ে চলে যাওয়ায় গোল বঞ্চিত হয় নেপাল। ২০তম মিনিটে বা প্রান্ত দিয়ে সতীর্থের ক্রস বক্সের মধ্যে খুঁজে নেয় চেনচো গেইলশেনকে। ফাঁকায় পেয়েও বলে শট নিতে পারেননি এই ফরোয়ার্ড। ২১তম মিনিটে ম্যাচে লিড নেয় নেপাল। সুনিল বালের কর্ণারে মাথা ছুঁইয়ে ভুটানের জাল কাপান ডিফেন্ডার অনন্ত তামাং (১-০)। ৩০ মিনিটে ভুটানের মিডফিল্ডার কারমা বক্সের বাইরে থেকে ক্ষিপ্ত গতির যে শট নেন তা গোলরক্ষকের হাত ফসকে বের হয়ে যায়। দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় বল গ্রিবে নেন গোলরক্ষক কিরণ কুমার লিম্বু। প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে নেপালের সুনিল বালের ডান পায়ের শট জড়ায়নি জালে। শেষ পর্যন্ত এগিয়ে থেকেই বিশ্রামে যায় নেপাল। দ্বিতীয়ার্ধে আরো গোছানো খেলা নিয়ে মাঠে হাজির হয় নেপাল। ৫০তম মিনিটে সুনিল বালের কর্ণার বক্সের মাঝে পেয়ে হেড নিয়েছিলেন অঞ্জন বিসতা। কিন্তু সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে। ৬৫ মিনিটে নেপালের জালে একবার বল পাঠিয়েছিলো ভুটান। তবে অফসাইডের ফাঁদে পড়ে গোল বঞ্চিত হয় তারা। ৬৮ মিনিটে সুযোগ এসেছিলো নেপালের বিমল গাত্রি মাগারের পাসে বল পেয়ে শট নেন অঞ্জন বিসতা। বল অল্পের জন্য জড়ায়নি জালে। ৬৯ তম মিনিটে নিমা ওয়াংডি দ্বিতীয় হলুদ কার্ড (লাল কার্ড) দেখে মাঠ ছাড়লে দশ জনের দলে পরিণত হয় ভুটান। নিজেদের বক্সে নিরঞ্জনকে ফাউল করেন নিমা। ফলে রেফারী তাকে হলুদ কার্ড এবং পেনাল্টির নির্দেশ দেন। স্পট কীকে প্রথমে বিমল গাত্রির শট ফিরিয়ে দেন ভুটানি গোলরক্ষক কিরণ কুমার। তবে শেষ রক্ষা হলো না। ফিরতি বলে পোস্টের খুব কাছ থেকে ডান পায়ের বাকানো শটে লক্ষ্যভেদ করেন সুনিল বাল (২-০)। ম্যাচের ৭৯ মিনিটে নিরঞ্জন খাড়কার ফ্রি-কিকের বল নিয়ে বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের প্লেসিং শটে গোল করেন নেপালের বদলী ফরোয়ার্ড ভারত খাওয়াজ (৩-০)। ৮৭ মিনিটে সুনিল বালের কর্ণার থেকে বক্সে জটলায় বল পেয়ে দারুণ হেডে ভুটানকে আরো এক গোলের তিক্ত স্বাদ দেন বদলী মিডফিল্ডার নিরঞ্জন খাড়কা (৪-০)। দুই হারে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেছে ভুটানের।

‘পটাকা’ দিয়ে মালাইকার ঝড়

বিনোদন বাজার ॥ ‘ছাঁইয়া ছাঁইয়া’, ‘মুন্নি বদনাম’ এই গানগুলোর কথা এখনো মনে পড়ে। যেখানে বেশ নজর কেড়েছিলেন মালাইকা আরোরা।সেই মালাইকা আবার ফিরছেন সিনেমায়। বিশাল ভরদ্বাজের পরিচালনায় ‘পটাকা’ সিনেমায় অভিনয় করছেন তিনি।এই ছবির ‘হেলো হেলো’- গানে নাচতে দেখা গেছে তাকে। আরবাজ খানের প্রাক্তন স্ত্রীর এই গানটি প্রকাশ পাওয়ার পরই তা ভাইরাল হয়ে যায়। ‘হেলো হেলো’ গানে কণ্ঠ দিয়েছেন রেখা ভরদ্বাজ। সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মালাইকার নাচ। সবকিছু মিলিয়ে মুক্তির আগেই বেশ সাড়া ফেলেছে গানটি।আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর মুক্তি পাবে ‘পটাকা’ সিনেমাটি। এই সিনেমায় রাধিকা মদন, সানায়া মালহোত্রা, সুনীল গ্রোভারের পাশাপাশি রয়েছেন বিজয় রাজ এবং টেলিভিশন অভিনেতা সনদ বর্মাও।মালাইকা বলেন, আমার কাজটা করে খুব ভালো লেগেছে। ছবির নাম আর টাইটেল ট্র্যাক দুটোই ভালো লেগেছে।

 

প্রিয়াঙ্কাকে ধন্যবাদ ক্যান্সার আক্রান্ত সোনালির

বিনোদন বাজার ॥ একসময় বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ছিলেন সোনালি বেন্দ্রে। বিয়ে করে স্বামী, সন্তান নিয়ে ভালোই কাটছিল তার জীবন। কিন্তু হঠাৎ ছন্দপতন। ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে সোনালি।মুম্বাই ছেড়ে চিকিৎসার জন্য পাড়ি দেন টেমসের তীরে। আপাতত সেখানেই রয়েছেন অভিনেত্রী। চিকিৎসার জন্য চুলও কেটে ফেলেছেন তিনি।এবার নিজের উইগ পরা একটি ছবি পোস্ট করলেন সোনালি। উইগ পরে ছবি পোস্টের পাশাপাশি একটি মর্মস্পর্শী লেখাও পোস্ট করেন সোনালি বেন্দ্রে। যেখানে প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকেও ধন্যবাদ দিলেন।তিনি লেখেন, ‘কে না নিজেকে সুন্দর দেখতে চায়? মানসিকতাতেও আমাদের সৌন্দর্য প্রকাশ পায়। কারও ক্ষতি না করে, কীভাবে সুখী থাকতে পারেন, সেই পন্থা বেছে নিতে হবে সকলকে।’সোনালি বেন্দ্রে আরো লিখেন, ‘ইচ্ছা হলে উইগ পরুন, পরতে পারেন লাল লিপস্টিক। হাই হিলের জুতোও। নিজে যা মনে করবেন, তাই করুন। কেউ আপনার কাজের ভুল ধরতে পারেন না।’তিনি আরও লেখেন, ‘যখন উইগ পরে নিজেকে দেখেছিলাম, তখন সন্দেহ হয়। আমি কি নিজেকে সুন্দরী হিসাবে দেখতে মরিয়া হয়ে গিয়েছি। রূপোলী পর্দায় থাকার জন্যই হয় তো এমন মানসিকতা তৈরি হয়েছে। কিন্তু পরক্ষণেই ভাবনার বদল হয় আমার। মনে হয়, যেটা ভাল লাগে, তাই করব। যদি স্কার্ফ দিয়ে মাথা ঢেকে হাঁটতে ইচ্ছা হয় তো হাঁটব, আবার যদি মাথা নেড়া হয়ে হাঁটতে ইচ্ছা হয় তো তাই করব।’প্রিয়াঙ্কাই ওই উইগের প্রস্তুতকারক সংস্থার সঙ্গে সোনালির পরিচয় করিয়েছিল। সে কথাও ইনস্টাগ্রামে উল্লেখ করেন তিনি। এ জন্য প্রিয়াঙ্কাকে ধন্যবাদ দেন।

কালুখালী দাখিল মাদরাসা গ্রীষ্মকালীন খেলায় ফাইনালে

কালুখালী প্রতিনিধি ॥ রাজবাড়ীর কালুখালীতে ৪৭তম গ্রীষ্মকালীন ফুটবল প্রতিযোগীতায় উপজেলা পর্যায়ে ২-০ গোলে কালুখালী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়কে পরাজিত করে কালুখালী দাখিল মাদরাসা ফাইনালে উন্নিত হয়েছে। ৬ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টায় রতনদিয়া রজনীকান্ত সরকারী মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ খেলা অনুষ্ঠিত হয়। খেলায় কালুখালী দাখিল মাদরাসা বিজয় অর্জনের পর আনন্দ উল্লাসে উপস্থিত ছিলেন মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার আবু নূর মোঃ ইমারত আলী খান, ক্রীড়া শিক্ষক মোঃ তোফায়েল আহমেদ, সিনিয়র শিক্ষক মোঃ মারুফ হোসেন, খোন্দকার আঃ ওহাব, মাওলানা এখলাছুর রহমান, মোঃ আক্তার হোসেন, আঃ মালেক, মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন, আমজাদ হোসেন, জাহিদ হোসেন, আঃ রশিদ সহ মাদরাসার শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।