বিশ্বের পঞ্চম পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হতে যাচ্ছে পাকিস্তান

ঢাকা অফিস ॥ বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২৫ সাল নাগাদ পাকিস্তান বিশ্বের পঞ্চম পারমাণবিক শক্তিধর দেশে পরিণত হতে পারে। বর্তমানে দেশটির ১৪০টি থেকে ১৫০টি নিউক্লিয়ার ওয়ারহেড আছে। এ ধারা বজায় থাকলে এই সংখ্যা ২০২৫ সাল নাগাদ ২২০ থেকে ২৫০টিতে গিয়ে দাঁড়াবে। দেশটির পারমাণবিক অস্ত্রের মজুদ অনুসরণ করা পর্যবেক্ষকদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ ধারণা প্রকাশ করা হয়েছে। পাকিস্তান নিউক্লিয়ার ফোর্সেস ২০১৮ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের এখনকার ওয়ারহেডের সংখ্যা মার্কিন সামরিক বাহিনীর ধারণার চেয়েও বেশি। প্রতিবেদনটির তিন লেখক হ্যান্স এম ক্রিস্টেনসন, রবার্ট এস নরিস ও জুলিয়া ডায়মন্ড বলেন, এই ধারাবাহিকতা চলতে থাকলে ২০২৫ সালের মধ্যে পাকিস্তানের মজুদ বাস্তবসম্মতভাবে বেড়ে ২২০ থেকে ২৫০টি ওয়ারহেডে পৌঁছাতে পারে। যদি তাই হয়, তাহলে এটি পাকিস্তানকে বিশ্বের পঞ্চম সর্বোচ্চ পারমাণবিক অস্ত্রধর দেশে পরিণত করবে বলে ওই তিন লেখকের ধারনা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার ১৯৯৯ সালে প্রকাশিত অনুমানে জানিয়েছিল, ২০২০ সাল নাগাদ ইসলামাবাদের কাছে ৬০ থেকে ৮০টি ওয়ারহেড থাকতে পারে। পাকিস্তানের পারমাণবিক সক্ষমতা বিষয়ক সাম্প্রতিক এ প্রতিবেদনটি বুলেটিন অব দ্য অ্যাটমিক সাইন্টিস্টে প্রকাশিত হয়েছে। মূল প্রতিবেদক এম ক্রিস্টেনসন ওয়াশিংটনভিত্তিক ফেডারেশন অব আমেরিকান সায়েন্টিস্টের (এফএএস) সঙ্গে সম্পর্কিত নিউক্লিয়ার ইনফরমেশন প্রজেক্টেরও পরিচালক। প্রতিবেদনটিতে গত এক দশকে পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্র নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যায়ন আত্মবিশ্বাস থেকে উদ্বেগে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করা হয়েছে। বিশেষ করে ইসলামাদ কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্রের সূচনা করার পর এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেদকরা বলেন, বেশ কয়েকটি সরবরাহ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, প্লুটোনিয়াম উৎপাদনে সক্ষম চারটি রিয়্যাক্টর ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনার বিস্তৃতি- সবমিলিয়ে পাকিস্তানের এখন যে মজুদ আছে আগামী ১০ বছরে তা আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। আরও ওয়ারহেড, আরও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা ও পারমাণবিক উপাদান উৎপাদনে সক্ষম এমন শিল্পের বিকাশের মাধ্যমে পাকিস্তান তার পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তৃতি অব্যাহত রেখেছে বলেও ধারণা দিয়েছেন তারা। বেসরকারি উপগ্রহ থেকে তোলা পাকিস্তানি সেনা দুর্গ ও বিমান বাহিনীর ঘাঁটিগুলোর বিপুল সংখ্যক ছবিতে স্থানান্তর করা যায় এমন উৎক্ষেপক ও ভূগর্ভস্থ স্থাপনার কাজের বিষয়টি প্রতীয়মান হয়েছে, যার সঙ্গে পারমাণবিক শক্তিমত্তার সম্পর্ক আছে বলে অনুমান প্রতিবেদকত্রয়ের। যদিও পারমাণবিক অস্ত্রসম্ভার বৃদ্ধি হবে কি না তা বেশ কয়েকটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে বলে মন্তব্য করেছেন তারা। এর মধ্যে মূল দুটি বিষয় হচ্ছে- কতো সংখ্যক পারমাণবিক অস্ত্র ছুড়তে সক্ষম উৎক্ষেপক পাকিস্তান মোতায়েন করতে চায় এবং ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডারের বৃদ্ধি। তিন প্রতিবেদকের ভাষ্য, এক দশকের মধ্যে সাড়ে তিনশর কাছাকাছি ওয়ারহেড মজুদ করে পাকিস্তান বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম পারমাণবিক অস্ত্রধর রাষ্ট্রে পরিণত হবে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। তারা বলেন, এ গুঞ্জনকে অতিরিক্ত বলেই মনে করছি আমরা। কারণ ওই লক্ষ্য অর্জন করতে হলে তাদের গত দুই দশকের তুলনায় দুই থেকে তিনগুণ গতিতে অগ্রসর হতে হবে। কৌশলগত মাত্রাকে এড়িয়ে সামরিক হুমকি মোকাবেলায় নতুন স্বল্প মাত্রার পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পাকিস্তান তাদের পারমাণবিক অবস্থান ঠিক করেছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। “এর মাধ্যমে তারা এমন প্রতিরোধ ব্যবস্থাপনা সৃষ্টি করতে চায়, যে নকশা কেবল পারমাণবিক হামলার প্রতিক্রিয়া দেখাতেই করা হয়নি, একইসঙ্গে পাকিস্তানের ভূখন্ডে ভারতের আক্রমণ ঠেকাতেও করা হয়েছে।” পাকিস্তানের এ পারমাণবিক অগ্রগতি যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দেখা দিচ্ছে বলেও মন্তব্য প্রতিবেদকদের। তারা বলেন, ভারতের সঙ্গে সামরিক সংঘাতে পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনাকে তারা খাটো করে দেখেছিল।

সাহায্যের আবেদন

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার তেবাড়িয়া গ্রামের দেবেন সরকারের মেয়ে দীপা সরকার অষ্টম শ্রেণীতে পড়াকালিন সময়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাকে চিকিৎসার জন্য ভারতের ব্যাঙ্গালোরে নিয়ে গেলে সেখানে তার ব্রেইন টিউমার ধরা পড়ে। সেটা অপারেশনের জন্য কমপক্ষে চার লাখ টাকা প্রয়োজন। বাবা দেবেন সরকার একটি ছোট গরুর খামারে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এতে তার সংসার চালাতেই হিমসিম খেতে হয়। তার মত দরিদ্র মানুষের পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা কোনভাবেই সম্ভব না। এ কারণে তিনি মেয়ের চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবানদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন। আমার-আপনার সহযোগিতায় পারে দীপা সরকারের জীবন বাঁচাতে।

সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা

হিসাব নং ৩৪০১৪৭৫১

অগ্রণী ব্যাংক

কুমারখালী শাখা, কুষ্টিয়া।

দৌলতপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। দৌলতপুর প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক এ্যাড. এমজি মাহমুদ মন্টু’র সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন, দৌলতপুর প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা ও প্রবীণ সাংবাদিক এম মামুন রেজা, সিনিয়র সাংবাদিক মোশারফ হোসেন খান, জাহাঙ্গীর আলম, শরীফুল ইসলাম, মাহফুজুল আলম, আহাদ আলী নয়ন, আহমেদ রাজু, সাইদুল আনাম, সাইদুর রহমান, আতিয়ার রহমান ও এসএম জাহিদ হোসেন। সভায় দৌলতপুর প্রেসক্লাবের সার্বিক উন্নয়নসহ বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে সকলকে সচেষ্ট ও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

খালেদার ক্যামেরা ট্রায়াল হচ্ছে না ঃ প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপি চেয়ারপাসন খালেদা জিয়ার কোনো গোপন বিচার হচ্ছে না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আদালতের দরজা খোলাই আছে। কিন্তু বিএনপির আইনজীবীরাই যাননি সেখানে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় সূচনা বক্তব্যে এ কথা বলেন শেখ হাসিনা। গত ৮ ফেব্র“য়ারি কারাদন্ড হওয়ার পর থেকে আর কোনো মামলায় আদালতে হাজিরা দেননি খালেদা জিয়া। এ কারণে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলাটি শেষ হতে পারছে না। আর দুর্নীতি দমন কমিশনের আবেদনের পর কারাগারেই আদালত বসানোর ব্যবস্থা হয়েছে। ৫ সেপ্টেম্বর সেখানে বিএনপি নেত্রীকে হাজিরও করা হয়। বিএনপি অভিযোগ করছে, ক্যামেরা ট্রায়াল (গোপন বিচার) করা হচ্ছে তাদের নেত্রীর। এটি সংবিধান বিরোধী। এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তার (খালেদা জিয়া) নড়াচড়া করতে অসুবিধা। সে ভেতরে থাকে সেখান থেকে জেলখানায় আসবে। তাই ওখানে কোর্ট বসবে। এটা ক্যামেরা ট্রায়াল নয়। পুরো দরজা খোলাই ছিল। তাদের কোনো কোনো আইনজীবী গেটে গিয়ে বসেছিল। কিন্তু কোর্ট রুমে ঢুকে নাই। তারা আশপাশে বসে ছিল।’ ‘অবাধে সবাই যাতায়াত করতে পেরেছে এটা ক্যামেরা ট্রায়াল হলো কীভাবে?’-বিএনপির কাছে প্রশ্ন রাখেন প্রধানমন্ত্রী। কারাগারে আদালত বসানোকে অসাংবিধানিক দাবি করায় বিএনপির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্ভাগ্য আমাদের যে দলের জন্ম হয়েছে অসাংবিধানিক উপায়ে। সংবিধান লঙ্ঘন করে দল গঠনকারী যারা তার কাছে আমাদের সংবিধান শিখতে হবে।’ জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় থাকাকালে কারাগারে আদালত বসিয়ে কর্নেল তাহেরের বিচারের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘তার মানে জিয়া অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতায় এসেছিল বলে সে জেলগেটে বিচার করতে পারবে, বাকিরা পারবে না? তারা (বিএনপি) যদি সেটা বোঝাতে চায় তো বলুক।’ খালেদা জিয়ার মামলার শুনানিতে তার আইনজীবীরা আদালতে শুনানি করেননি। তবে একজন আইনজীবী পর্যযবেক্ষক হিসেবে ভেতরে গিয়েছেন। আর গণমাধ্যমকর্মীরাও সংবাদ সংগ্রহ করেছেন। তারা খালেদা জিয়ার বক্তব্যও প্রচার করেছেন। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে শুনানি হচ্ছে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায়। গত ১ ফেব্র“য়ারি এই মামলার আসামি জিয়াউল হক মুন্নার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শেষে ২৫ ও ২৬ ফেব্র“য়ারি শুনানি ঠিক হয়েছিল। এই মামলায় খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায়ের তারিখ আসার কথা। আইনজীবীরা কেন গেলেন না, এই প্রশ্ন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে আমরা কী মনে করব? যে প্যানেল জানে খালেদা জিয়া দোষী? তাকে ডিফেন্ড করে খুব বেশি লাভ হবে না? তাই কোনো ছুতো ধরে তারা বোধ হয় তাকে আর ডিফেন্ড করতে চায় না?’ ‘সাধারণ মানুষ এটাই ধরে নেবে। না হলে যেখানে কোর্ট বসবে সেখানে আইনজীবী যাবে। যেখানে জজ সাহেব বসবে মামলা পরিচালনা করতে হলে আইনজীবীরা সেখানে যাবে এটাই তাদের কাজ। তারা গেল না, খালেদা জিয়াকে বয়কট করল কেন?’ ‘আইনজীবীরা জানে এই মামলায় তাকে (খালেদা জিয়া) নির্দোষ প্রমাণ করার মতো কোনো তথ্য তাদের কাছে নাই, তারা নির্দোষ প্রমাণ করতে পারবে না। মূলত তিনি এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।’ প্রতিহিংসা থেকে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বলে বিএনপির অভিযোগেরও জবাব দেন শেখ হাসিনা। বলেন, ‘এখানে প্রতিহিংসার কী আছে? এতিমের টাকা তো আমরা খেতে চাই না। ভাগ ভাটোয়ারা করে যে ভাগে কম দিয়েছে তাই হিংসা করব?’ ‘বলা হয়েছে টাকা রেখে দেওয়া হয়েছে। ৯১ সালে টাকা এলো এত বছর রেখে দেওয়া হলো। এতিমরা টাকা পেল না কেন? ২৫ বছর টাকা ব্যাংকে রেখে খালেদা জিয়া তার সুদ খেল। আপন মনে করে টাকা রেখে দিল।’ ‘এতিমখানার যে জিয়া অরফানেজ নাম দিল এতিমখানা কই? তার ঠিকানা কই? ঠিকানাও দেখাতে পারেনি এতিমখানাও দেখাতে পারেনি।’ ‘এতিমখানার নামে টাকা নিজে আত্মসাৎ করে বসে আছে। এতিমের টাকা চুরি করে কেউ জেলে গেলে তার দায়-দায়িত্ব কার?’ ‘১০ বছর বসে তার আইনজীবীরা প্রমাণ করতে পারল না তিনি নির্দোষ। এ দোষটাও কী আমাদের সরকারের?’

ঝিনাইদহে জাতীয় বিদ্যুত্ ও জ্বালানী সপ্তাহ শুরু

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহে জাতীয় বিদ্যুত্ ও জ্বালানী সপ্তাহ শুরু হয়েছে। ওজোপাডিকো ও পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের আয়োজনে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে শহরের পুরাতন ডিসি কোর্ট চত্বর থেকে একটি র‌্যালী বের করা হয়। র‌্যালীটি শহরের প্রধান সড়ক ঘুরে প্রেরণা একাত্তর চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথের সভাপতিত্বে এসময় বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আছাদুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বাকাহীদ হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিলু মিয়া বিশ্বাস, পল্লী বিদ্যুতের জিএম প্রকৌশলী আলতাফ হোসেন, এজিএম আমিনুল ইসলাম, ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী পরিতোষ কুমার, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু সালেহ মোহাম্মদ হাসনাত প্রমুখ। এসময় বক্তারা, বিদ্যুৎ ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

সরকার আইনকানুনের কোনো ধার ধারছে না – রিজভী

ঢাকা অফিস ॥ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার বিচারের জন্য নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কারাগারে আদালত বসানোর কঠোর সমালোচনা করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, ‘সরকার প্রধানের অদম্য প্রতিহিংসা দ্রুত চরিতার্থ করার জন্য আদালত স্থানান্তরের এই অসাংবিধানিক ন্যক্কারজনক কাজ করা হয়েছে। সরকার আইনকানুনের কোনো ধার ধারছে না। আদালতকে বন্দী করা হয়েছে কারাগারে।’ গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এ কথা বলেন। রিজভী বলেন, বর্তমান সরকারের উদ্দেশ্য দুটি। একটি হলো একের পর এক মিথ্যা মামলায় দেশনেত্রীর বিরুদ্ধে সাজা বৃদ্ধি করা। আরেকটি উদ্দেশ্যÑ দিনের পর দিন আটকে রেখে শারীরিক অসুস্থতার আরও অবনতি ঘটিয়ে বেগম জিয়াকে বিপর্যস্ত করা। রিজভী বলেন, ‘গতকালও আপনারা দেখেছেন হুইলচেয়ারে করে তাঁকে নিয়ে আসা হয়েছে। হাত-পা নড়াতে তাঁর অসুবিধা হচ্ছিল। তিনি এতটাই অসুস্থ ছিলেন যে রীতিমতো কাঁপছিলেন এবং চেয়ার থেকে দাঁড়াতে পারছিলেন না। বারবার দাবি করা সত্যেও তাঁর সুচিকিৎসায় সরকার অবহেলা করেছে। চিকিৎসকদের পরামর্শনুযায়ী তাঁর যথাযথ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয়নি। দল ও পরিবারের পক্ষ থেকে তার সুচিকিৎসার দাবি বারবার উপেক্ষা করা হয়েছে।’ রুহুল কবির রিজভী বলেন, খালেদা জিয়া অসুস্থ থাকলেও জোর করে হলেও আদালতে নিয়ে আসতে হবেÑ এই ধরনের এক আক্রোশের মনোবৃত্তি ফুটে ওঠে আইনি কার্যক্রমে। অন্ধকার কারাগারে আদালত গঠন খালেদা জিয়াকে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করার শামিল। বিএনপির নেতা রিজভী বলেন, নিষ্ঠুর বলপ্রয়োগের মাধ্যমে জনগণের প্রতিবাদ দমন করার জন্য রাষ্ট্রযন্ত্রকে বেআইনিভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। রাষ্ট্রের সব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ও গণতান্ত্রিক রীতিনীতিকে ধ্বংস করে গণতন্ত্রের মৃতদেহের ওপর এক ব্যক্তির শাসন কায়েম করা হয়েছে। সরকার এখনো আসন্ন নির্বাচন নিয়ে সমাধানহীন পরিস্থিতি তৈরি করেছে। রিজভী বলেন, শেখ হাসিনা অবাধ ও সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে চান না। কারণ, এই ধরনের নির্বাচন হলে শেখ হাসিনার লজ্জাজনক পরাজয় হবে। তাই একতরফা ভোটারশূন্য নির্বাচন করার জন্য শেখ হাসিনা সারা দেশে বিরোধী দলশূন্য করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রিজভী অভিযোগ করেন, ঢাকা মহানগরসহ সারা দেশে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বাড়িছাড়া, পরিবারছাড়া পলাতক জীবন বেছে নিতে হয়েছে। প্রতিদিন রাতেই পোশাকধারী ও সাদাপোশাকধারীরা বিএনপি নেতাদের বাসা ও বাড়িতে হানা দিচ্ছে, তল্লাশির নামে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে করা হচ্ছে দুর্ব্যবহার, গ্রেপ্তার করছে। রিজভী বলেন, ঈদের কয়েক দিন আগে থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে গ্রেপ্তার হয়েছে ১৫ শতাধিক। মামলা হয়েছে ১২ শতাধিক, নাম উল্লেখ করে আসামি সংখ্যা ১১ হাজার এবং অজ্ঞাতনামা আসামি সংখ্যা প্রায় ৮০ হাজার।

ওয়ান শাটার গানসহ আলমডাঙ্গার একজন আটক

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ একটি ওয়ান শাটার গানসহ ডিবি পুলিশ আলমডাঙ্গার নতিডাঙ্গা আবাসনের বাসিন্দা ইদ্রীস আলীকে আটক করেছে। গতকাল ৬ সেপ্টেস্বর বৃহস্পতিবার বিকেলে ডিবি পুলিশের একটি টিম অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। জানাগেছে, নতিডাঙ্গা আবাসনের মৃত জোনাব আলীর ছেলে ইদ্রীস আলী(৫০)’র বাড়িতে অভিযান গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চুয়াডাঙ্গা ডিবি পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। আটকেরপর জিজ্ঞাসাবাদে তার তথ্য মোতাবেক তার ঘর থেকে একটি ওয়ানশুটার গান উদ্ধার করে। গতকালই আলমডাঙ্গা থানায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের হয়েছে। আজ আদালতে প্রেরন করা হতে পারে।

আলমডাঙ্গার হারদী ইউপি আ’লীগের কর্মী সমাবেশে এমপি ছেলুন

ভেদাভেদ ভুলে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে নৌকার পক্ষে কাজ করতে হবে

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে হারদী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের তৃণমূল নেতা কর্মীদের এক কর্মীসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় উপজেলা আওয়ামীলীগের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত কর্মী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি পৌর মেয়র হাসান কাদির গনু। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ বীরমুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন এমপি। তিনি বলেন চুয়াডাঙ্গা তথা আলমডাঙ্গা উপজেলার প্রতিটি মানুষের কাছে খাসকররা ইউনিয়ন গোপালগঞ্জ নামে খ্যাত। এই ইউনিয়নের মানুষ সবসময়ই নৌকা প্রতিকে ভোট দিয়ে থাকে। আপনারা যদি পুনরায় নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে, জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আনতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা মুর্হমুহু করতালির মাধ্যমে জননেতা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন এমপি স্বাগত জানায়। তাই আসুন আমরা সকল ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে নৌকার পক্ষে কাজ করি। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি খুস্তার জামিল, প্রশান্ত অধিকারী, যুগ্ম সম্পাদক সাবেক পৌর মেয়র রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন, সাংগঠনিক সম্পাদক মুন্সি আলমগীর হান্নান, মাসুদুজ্জামান লিটু বিশ্বাস, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম খান, জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য কাজী খালেদুর রহমান অরুন, হারদী ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন, শাহ্ আলম, পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি আবু মুছা, সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শিক্ষানুরাগী আওয়ামীলীগ নেতা লিয়াকত আলী লিপু মোল্লা, উপজেলা আওয়ামীলীগের শিক্ষা ও মানব সম্পদ সম্পাদক আব্দুর রউফ শিলু। উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব আলী মাষ্টারের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন হারদী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ইউনিয়ন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সামাদ, সাধারণ সম্পাদক আইনাল হক, সহসভাপতি আব্দুল হামিদ, ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মুক্তার হোসেন মোকাম, সাধারন সম্পাদক আ্যশরাফুল আলম, ছাত্রলীগের সভাপতি রুবেল, উপজেলা মহিলা আওয়ালীগের সভানেত্রী সাহিদা সিরাজ, সাধারণ সম্পাদক আনজিরা খাতুন, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শামীম আরা, হারদী মহিলা আওয়ামীলীগ মোমেনা খাতুন, রাশেদা খাতুন, আলমডাঙ্গা সরকারী কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি আশরাফুল হক, মুক্তিযোদ্ধা লাল মোহাম্মদ জোয়াদ্দার, রবিউল ইসলাম, ডা.শুকুর আলী, বজলুর রহমান, আবু সাঈদ, আজিম উদ্দিন, রেজাউল আলম, বাকের আলী, আব্দুল মালেক, খতিব উদ্দিন, রমজান। এছাড়াও ১নং ওয়ার্ড সভাপতি আনিসু রহমান, সম্পাদক মহির উদ্দিন, ২নং ওয়ার্ড সভাপতি মইনুল হক, সম্পাদক জিয়াউর রহমান, ৩নং ওয়ার্ড সভাপতি আবু বাক্কা, সম্পাদক রবিউল, ৪নং ওয়ার্ড সভাপতি মকবুল হোসেন, সম্পাদক আফফান আলী, ৫নং ওয়ার্ড সভাপতি নাসির উদ্দিন, সম্পাদক আজিবার রহমান, ৬নং ওয়ার্ড সভাপতি আহাদ আলী, সম্পাদক জুলফিকার আলী, ৭নং ওয়ার্ড সভাপতি আনারুল, সম্পাদক সাহেদ আলী, ৮নং ওয়ার্ড সভাপতি শাহাবুল, সম্পাদক আব্দুল মান্নান, ৯নং ওয়ার্ড সভাপতি সোহরাব, সম্পাদক জাহামত আলী প্রমুখ।

 

মহেশপুরে মাদক বিরোধী আলোচনা সভা

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী জলুলী মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মাদক বিরোধী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন কার্যালয়। জলুলী মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নবী নেওয়াজ। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাশ্বতী শীল, জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আজিজুল হক, মহেশপুর থানার ওসি লস্কর জায়াদুল হক, যাদবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এ বি এম শাহিদুল ইসলাম, জলুলী বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার নিজাম উদ্দিন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন কার্যালয়ের পরিদর্শক রাসেল আলী। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, স্থানীয় আওয়ামী নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা, মাদকের ভয়াবহতা থেকে সমাজকে দুরে রাখতে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

কালুখালীতে জাপার প্রার্থী আবুল হোসেনের নির্বাচনী গণসংযোগ

কালুখালী প্রতিনিধি ॥ রাজবাড়ী জেলাধীন কালুখালীতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজবাড়ী-২ আসনে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি ও উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আবুল হোসেন মিয়া নির্বাচনী গণসংযোগ করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার কালুখালী ও সোনাপুর বাজারে গণসংযোগ শেষে তার নির্বাচনী অফিসে সংক্ষিপ্ত এক বক্তব্যে তিনি বলেন, স্বাধীনতা এনেছে বঙ্গবন্ধু আর উন্নয়ন এনেছে পল্লী বন্ধু। তিনি সারা দেশের ন্যায় রাজবাড়ীতে পদ্মা নদীর ভাঙ্গন থেকে রক্ষার জন্য প্রথম রক্ষা বেরীবাধ তৈরী করেছিলেন উল্লেখ করে বলেন এখন সঠিক সময় এসেছে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার। বিগত দিনে রাজবাড়ী-২ ও সংসদীয় আসন নং ২১০ আসনটি জাতীয় পার্টির আসন ছিলো। প্রথম মহাজোট হওয়ার সময় থেকে আমাদের এই আসনটি হাতছাড়া হয়ে যায়। রংপুরের পরে রাজবাড়ী-২ আসন জাতীয় পার্টির ঘাটি হিসেবে পরিচিত। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয় এবং পার্টির নির্দেশে তিনি প্রত্যাহার করে নেন। তিনি জোড় দিয়ে বলেন বিগত দিনে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কর্মসূচী সঠিকভাবে পালন করায় সেই সুবাদে দল থেকে তাকে মনোনয়ন দিলে বিজয়ী হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং এই আসনের সাধারণ জনগণ ও জাতীয় পার্টির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীবৃন্দ মনে করেন সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আবুল হোসেন মিয়া জয়লাভ করবেন।

 

কালীগঞ্জে গাছের ডাল ভেঙ্গে মাথায় পড়ে গৃহবধুর মৃত্যু

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ মেইন বাসষ্ট্যান্ডে কড়াই গাছের ডাল ভেঙ্গে মাথায় পড়ে ফাহমিদা বেগম (৩৫) গৃহবধুর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। মৃত গৃহবধু কালীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুত সমিতির এজিএম আব্দুর রউফের স্ত্রী। কালীগঞ্জ থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার সকালে মেইন বাসষ্ট্যান্ডে রিক্সার উপর বসে মাংস কিনছিল ওই গৃহবধু। এসময় কড়াই গাছের শুকনো ডাল ভেঙ্গে তার মাথার উপর পড়ে গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা তাকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। উল্লেখ্য, কড়াই গাছটি নিয়ে এর আগে স্থানীয়রা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও গাছটি কাটার উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ।

কালুখালীতে জাতীয় বিদ্যুত ও জ্বালানি সপ্তাহ উপলক্ষ্যে র‌্যালী

ফজলুল হক ॥ হয়রানি মুক্ত বিদ্যুতের অঙ্গীকার প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার রাজবাড়ীর কালুখালীতে জাতীয় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সপ্তাহ ২০১৮ পালনে বিশাল একটি র‌্যালী অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজবাড়ী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আয়োজনে সকাল সাড়ে ৯ টায় উপজেলা চত্ত্বর থেকে একটি র‌্যালী বের করা হয়। র‌্যালীটি চাঁদপুর বাসষ্ট্যান্ড মোড় প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদের সামনে এসে শেষ হয়। র‌্যালীতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ তোফায়েল আহমেদ, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এ্যাডঃ মোঃ সিদ্দিকুর রহমান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শারমিন আক্তার, রাজবাড়ী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি এজিএম (অর্থ) মোঃ রিপন বিশ্বাস, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদিয়া ইসলাম লুনা, কালুখালী সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ একেএম জয়নাল আবেদীন, কালুখালী থানা ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মোঃ সহিদুল ইসলাম, পাংশা হাইওয়ে থানার ইন্সপেক্টর মোঃ রবিউল ইসলাম, সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা শাহরিয়ার জামান সাবু, রতনদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মেহেদী হাচিনা পারভিন নিলুফা, বোয়ালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান হালিমা বেগমসহ পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক ও কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। র‌্যালী পরবর্তী সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে উপস্থিত সবাই মিলে প্রজেক্টরের মাধ্যমে জাতীয় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সপ্তাহ ২০১৮ প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সরাসরি উপভোগ করা হয়। এরপর বেলা ১২টায় উপজেলার মাজবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ চত্ত্বরে পল্লী বিদ্যুতের স্পট মিটারিং কার্যক্রম উদ্বোধন করেন রাজবাড়ী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি এজিএম (অর্থ) মোঃ রিপন বিশ্বাস। এসময় তিনি সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে আগামী ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই স্পট মিটারিং কার্যক্রম অব্যহত থাকবে।

আলমডাঙ্গায় পৌর বিএনপির সভাপতিসহ ১১ বিএনপি-জামায়াত নেতা-কর্মি আটক

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতিসহ ১১ জন বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মিকে আটক করেছে পুলিশ। পরে তাদেরকে বিষ্ফোরক আইনে আটক দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। আটককৃতরা হলেন -আলমডাঙ্গা গোবিন্দপুর গ্রামের মৃত ইয়াছিন আলীর ছেলে পৌর বিএনপির সভাপতি আনিছুর রহমান আনিছ (৫০), বাবুপাড়ার মৃত কিয়াম উদ্দীনের ছেলে তোফাজ্জেল হোসেন (৫৫), থানাপাড়ার ওবাইদুলের ছেলে ছাত্রদলের নেতা সাগর, ভোদুয়া গ্রামের সোহরাব শাহ’র ছেলে উপজেলা বিএনপির যুগ্ন সম্পাদক আলম শাহ (৪৬), ছত্রপাড়া গ্রামের গঞ্জের আলীর ছেলে ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুস সালাম (৪০), ছত্রপাড়ার ওয়ার্ড বিএনপি নেতা লাল খান, বাদেমাজু গ্রামের লুতফর ফরায়েজীর ছেলে ইউনিয়ন যুবদলের নেতা আক্তারুজ্জামান, ভালাইপুরের মৃত সাদেক আলীর ছেলে বিএনপি কর্মি আব্দুস সাত্তার ও একই গ্রামের সানোয়ার হোসেনের ছেলে বিএনপি কর্মি ডালিম হোসেন, কুলপালা গ্রামের মৃত আব্দুল কাদেরের ছেলে বিএনপি কর্মি বজলুর রহমান ও বড় গাংনীর আবু বক্করের ছেলে বিএনপি কর্মি বাবলুর রহমান। পরে তাদেরকে বিষ্ফোরক মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এদিকে, বিএনপি-জামায়াতের ১১ নেতা-কর্মি আটকের বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ এক প্রেস ব্রিফিং করেন।

বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের শোক

শহীদ মারফত আলীর মা রোমেচা বেগমের ইন্তেকাল

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার প্রখ্যাত কৃষক নেতা, মিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, বৃহত্তর কুষ্টিয়ার বি,এম,এফ প্রধান ও আমলা সরকারী ডিগ্রি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ মারফত আলী গর্ভধারনী মা রোমেচা বেগম (১০৫) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি…..রাজিউন)। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে মিরপর উপজেলার মালিহাদ ইউনিয়নের তার নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারনে তিনি ইন্তেকাল করেন। দীর্ঘ এক বছর আগে চলা ফেরা করবার সময় পড়ে গিয়ে শহীদ মারফত আলীর মায়ের পা ভেঙ্গে যায়। একশত পাঁচ বছর বয়স হলেও দুই বছর আগেই চলাফেরা করত এবং নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, রোজা, জিকির-আজগর করতেন। দীর্ঘ ২৭ বছর নিজের সূর্যের মত দীপ্যমাণ সন্তানকে হারানোর বেদনা বহন করে তিনি চললেন মানবিকতার আরেক পারে। তার এ মৃত্যুতে পৃথক শোক বার্তায় গভীরভাবে শোক প্রকাশ করেছেন জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, মিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক কামারুল আরেফিন, জাসদ কেন্দ্রীয় নেতা মহাম্মদ আব্দুল্লাহ, মিরপুর উপজেলা জাসদের সভাপতি মহাম্মদ শরীফ, সাধারন সম্পাদক আহাম্মদ আলী, যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক কারশেদ আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক আফতাব উদ্দিন, মিরপুর প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি কাঞ্চন কুমারসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

ভেড়ামারায় জাতীয় পার্টি থেকে ৩’শতাধিক নেতা কর্মীর আওয়ামীলীগে যোগদান

আল-মাহাদী ॥ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) থেকে ৩’শতাধিক নেতাকর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামীলীগে যোগদান করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ভেড়ামারা ঢাকা কোচষ্ট্যান্ড সংলগ্ন জেলা আওয়ামীলীগের অন্যতম নেতা ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রফিকুল আলম চুনুর অফিস কার্যালয়ে এই যোগদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) ভেড়ামারা উপজেলার সাবেক সাধারন সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম পান্না বিশ্বাস ও আমিরুল ইসলাম পিন্টু এবং পৌর শাখার সাধারন সম্পাদক রবিউল ইসলাম রবির নেতৃত্বে প্রায় ৩’শতাধিক নেতাকর্মী আওয়ামীলীগে যোগদান করেছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভেড়ামারা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব আক্তারুজ্জামান মিঠু, উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মমতাজ হোসেন পলি, পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি এবং জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আবু হেনা মোস্তফা কামাল মুকুল, সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম নজু, চাঁদগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক মহি উদ্দিন মহি আওয়ামীলীগ নেতা মকলেছুর রহমান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান মিজান, উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন গামা, সাধারন সম্পাদক মানিক মিয়া, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজ, সাংগঠনিক সম্পাদক সোহানুর রহমান সোহাগ, বাহিরচর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারন সম্পাদক ফারুক হোসেন, উপজেলা শ্রমিকলীগের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আনছার আলী, যুগ্ম আহবায়ক বায়েজিদ বোস্তামী সুইট, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল হান্নান, যুবলীগ নেতা মিজান, বাপ্পী প্রমুখ।

মিরপুরে মা সমাবেশ অনুষ্ঠিত

আমলা অফিস ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুরে মা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার আমলা ইউনিয়নের চৌদুয়ার নওদাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে এ মা সমাবেশ অনুুষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হাশেম আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের সদস্য মিরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি আলহাজ¦ মহাম্মদ আলী জোয়ার্দ্দার। প্রধান বক্তা ছিলেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার আফতাব উদ্দিন খান। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম, আমলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম মালিথা, ফুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী আব্দুস সালাম, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা তমান্নাজ খন্দকার, উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা এএসএম কামরুজ্জামান। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সহ-সভাপতি আহসান আলী শেখ’র পরিচালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জহুরা খাতুন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফুলবাড়ীয়া ইউয়িন আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি চিত্তরঞ্জন দাস, উপজেলা শ্রমিকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল আলম হীরা, আমলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রুমানা খাতুন, রাকাত আলী, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তসলিমা নাসরীন, শামসুন্নাহার, আসমা চৌধুরী, হোসনেরায়া, সেলিনা খাতুন প্রমুখ।

আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর ঝোঁক গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক – ইনু

ঢাকা অফিস ॥ তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, ‘বেগম জিয়ার আদালতের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনের ঝোঁক বিচারহীনতার অপসংস্কৃতি জিইয়ে রাখারই চক্রান্ত এবং এটি গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক।’ তিনি বলেন, ‘আদালতে যাবেন না বলে আদালতের ওপরে রাজনৈতিক তকমা আরোপ করে বেগম জিয়া একদিকে নিজের অপরাধ আড়াল করার চেষ্টা করছেন, অপরদিকে আদালতকেও রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছেন। বিএনপিনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আদালতের না যাবার কথা বলে আদালতের প্রতি যে কটূক্তি করেছেন, তা বিচারহীনতার অপসংস্কৃতিরই অংশ এবং গণতন্ত্র ও রাজনীতির জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা।’ তথ্যমন্ত্রী গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশন শিল্পী সংস্থার সাথে মতবিনিময়কালে একথা বলেন। রাজনীতির ক্ষেত্রে শিল্পীদের অবদান কোন অংশেই কম নয় উল্লেখ করে মন্ত্রী এসময় শিল্পীদের সম্মানী, শ্রেণিবিন্যাস ও বিভিন্ন দাপ্তরিক সুবিধাদি পুণরায় পর্যালোচনা করে যুগপোযোগী করে তোলার পক্ষে অভিমত দেন। হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘মনে রাখতে হবে, আদালত যেকোনো জায়গায় বসতে পারে। আদালত কারাগারে অথবা যেকোনো জায়গাতেই বসুক, দেখতে হবে তা উন্মুক্ত কি না। আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ আছে, দর্শকদের বসার সুযোগ আছে, সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার আছে। এটি কোনো গোপন আদালত নয়। সুতরাং উন্মুক্ত আদালতে না যাবার কথা বলার অর্থ বিচারহীনতার অপসংস্কৃতি জিইয়ে রাখার চক্রান্ত।’ ইতিহাসের দিকে তাকিয়ে হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপি পঁচাত্তরের পর থেকে দীর্ঘদিন বিচারহীনতার অপসংস্কৃতিই চর্চা করেছে। খুনী-অপরাধীদের বিচারের উর্ধ্বে রাখার অপচেষ্টা করেছে। আদালতের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বেগম জিয়া বিচারহীনতার মধ্যে বসবাস করাই ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন। গণতন্ত্রের জন্য এটি বিপদজনক একটি ঝোঁক। তারা একাত্তরের যুদ্ধাপরাধ, বঙ্গবন্ধু হত্যা, আগুনসন্ত্রাস, মানুষ পোড়ানো, দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অপরাধের মামলাগুলোকে রাজনৈতিক মামলা বলে চালানোর অপচেষ্টা করে অপরাধীদের বাঁচানোর চেষ্টা করছে।’ ‘এ রাজনীতি আসলে অপরাজনীতি এবং বাংলাদেশের রাজনীতি ও সংবিধান অক্ষুন্ন রাখতে হলে বিচারহীনতা থেকে বেরিয়ে আসতেই হবে’ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘দল দেখে, মুখ দেখে, নেতা-নেত্রীর চেহারা দেখে আইন চলবেনা। আইন মানতে হবে, আদালত মানতে হবে। যারা তা মানে না, তারা দেশের সকল প্রতিষ্ঠানকেই অস্বীকার করে, বাংলাদেশে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি করতে চায়, বাংলাদেশে একটা অস্বাভাবিক সরকার তৈরি করতে চায়। আর শিল্পীরাই হবেন এক্ষেত্রে অগ্রপথিক।’ অতীতের সামরিক ও সাম্প্রদায়িক সরকারগুলোর কারণে দেশের রাজনীতি ও সমাজে একটা ঘাটতি তৈরি হয় উল্লেখ করে ইনু বলেন, ‘শেখ হাসিনার সরকার দশ বছর থেকে সেই ঘাটতি পূরণের জন্য চেষ্টা করছে। এবং সাম্প্রদায়িকতার অন্ধকার থেকে মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র ও আইনের পথে দেশকে টেনে তোলার চেষ্টা করছে। উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের ঘাটতি পূরণ হলেও সংস্কৃতি ও নৈতিকতার ঘাটতি এখনো পুরোপুরি পূরণ হয়নি। সেকারণেই গণতন্ত্র এখনো পুরোপুরি বিপদমুক্ত নয়।’ মন্ত্রী বলেন, ‘গণতন্ত্রকে বিপদমুক্ত করতে শেখ হাসিনার সরকার বিচারহীনতার অপসংস্কৃতি থেকে দেশকে আইন ও বিচারের পথে আনছেন, রাজনীতি থেকেও অপরাধীদের বিতাড়ন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ঠিক এই সময় একটি মহল বিচারহীনতার অপসংস্কৃতির ভিতরে বসবাস করতে তাদের অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। শিল্পী সংস্থার সভাপতি ড. ইনামুল হক, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আজম বাশারসহ বেতার ও টেলিভিশনের শিল্পীবৃন্দ সভায় আলোচনায় অংশ নেন। তথ্য মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মোঃ আবুয়াল হোসেন, অতিরিক্ত সচিব মোঃ আজহারুল হক, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ আমির হোসেন, বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক নারায়ণ চন্দ্র শীলসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ সভায় উপস্থিত ছিলেন।

একাদশ জাতীয় নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ বলে ঠিক করেননি অর্থমন্ত্রী – সিইসি

ঢাকা অফিস ॥ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত যেভাবে একাদশ জাতীয় নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ বলে দিয়েছেন, তা ‘ঠিক হয়নি’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা। ভোটের তারিখ নিয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের কোনো ধরনের আলোচনার কথাও অস্বীকার করেছেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিইসি নূরুল হুদা বলেন, “অর্থমন্ত্রী ভুল করেছেন। আমাদের সাথে এ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। উনার এ কথা বলা উচিৎ হয়নি।” সংবিধান অনুযায়ী আগামী ৩০ অক্টোবর থেকে ২৮ জানুয়ারির মধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে নূরুল হুদার কমিশনের সামনে। আর কমিশন যে ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে ভোটের সম্ভাব্য সময় ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছে, সে কথাও বলেছিলেন ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। এ নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করার এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের হলেও সম্ভাব্য একটি তারিখ বুধবার আগেই বলে দেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সচিবালয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের নব নির্বাচিত কাউন্সিলরদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশনের সাথে কথা বলে জেনেছি তারা প্রস্তাব দিচ্ছে ২৭ ডিসেম্বরের নির্বাচন করার জন্য। ডিসেম্বরের খুব বেশি ডেইট নেই, আজকে শহীদ দিবস বিজয় দিবস অনেক কিছু থাকে। আমার মনে হয় দুই তিনটা ডেইট ছাড়া পাওয়া যায় না। ২৭ তারা করেছে, ২৭ এ নির্বাচন হওয়ার চান্স খুব বেশি। এখনো নির্বাচন কমিশন শিডিউল ঘোষণা করেনি, ঘোষণা করলে সুনির্দিষ্ট দিন পাওয়া যাবে।” গতকাল বৃহস্পতিবার ফেমবোসা সম্মেলন শেষে ঢাকার একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে এসে ভোটের তারিখ এবং মন্ত্রীর মন্তব্য নিয়ে প্রশ্নের জবাবে সিইসি নূরুল হুদা   বলেন, “উনি (অর্থমন্ত্রী) তারিখ ঠিক করে দিয়েছেন, এটা উনার ভুল হয়েছে। উচিৎ হয়নিÑ ঠিক করেননি।”

দৌলতপুরে বিদ্যুত ও জ্বালানী সপ্তাহ উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানী সপ্তাহ-২০১৮ উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি দৌলতপুর জোনাল অফিসের আয়োজনে এ র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। দৌলতপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম আশরাফ উদ্দিন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দৌলতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ফিরোজ আল মামুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার ও দৌলতপুর থানার ওসি (তদন্ত) আজগর হোসেন। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, দৌলতপুর দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম, হোগোলবাড়িয়া চেয়ারম্যান সেলিম চৌধুরী, উপজেলা নির্বাচন অফিসার গোলাম আজম ও মহিলা পরিচালক শরিফা খাতুন প্রমূখ।

ভাই নির্বাচন করবে, আমি তার সমর্থক – মুহিত

ঢাকা অফিস ॥ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আর প্রার্থী হচ্ছেন না অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তবে তার আসনে (সিলেট সদর) ছোট ভাই এম এ মোমেনের জন্য মনোনয়ন বোর্ডের কাছে সুপারিশ করবেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে গ্রামীণ ব্যাংকের লভ্যাংশ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের তিনি একথা জানান। মন্ত্রী বলেন, ‘আমি আর নির্বাচন করছি না। আমার আসনে আমার ভাইয়ের জন্য মনোনয়ন বোর্ডের কাছে সুপারিশ করব।’ নির্বাচনে ভাইয়ের সমর্থক হয়ে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ আমি সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছি। আমার ভাই নির্বাচন করবে, আমি তার সমর্থক হয়ে কাজ করবো।’ মুহিত আরো বলেন, ‘নির্বাচনকালীন সরকারে সম্ভবত আমি থাকছি। কারণ, আমি তো আর নির্বাচন করব না। তবে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।’ বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে গঠিত নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

দৌলতপুরে গোয়ালগ্রাম গণহত্যা দিবসে ছিলনা কোন কর্মসূচী

শরীফুল ইসলাম ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে কোন কর্মসূচী ছাড়াই গোয়ালগ্রাম গণহত্যা দিবস পালিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ছিল গোয়ালগ্রাম গণহত্যা দিবস। এ দিনে রাজাকারদের সহযোগিতায় পাকহানাদার বাহিনী অতর্কিত হামলা চালিয়ে মুক্তিযোদ্ধাসহ ১৭ জন নিরীহ গ্রামবাসীকে গুলি করে হত্যা করে। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয় ২জন মুক্তিযোদ্ধাসহ অসংখ্য নারী-পুরুষ। ১৯৭১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাতে একদল মুক্তিযোদ্ধা উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের গোয়ালগ্রাম ফরাজী বাড়িতে অবস্থান নেয়। ফরাজী বাড়িতে মুক্তিযোদ্ধারা অবস্থান নিয়েছেন স্থানীয় রাজাকারদের এমন সংবাদের ভিত্তিতে রাত আনুমানিক ২টার দিকে পাকহানাদার বাহিনী ওই বাড়ি ঘিরে ফেলে অতর্কিত গুলি চালায়। গুলির শব্দে ঘুমন্ত মুক্তিযোদ্ধাদের কেউ পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন। আবার কেউ পাল্টা গুলি বর্ষন করে শহীদ হোন। পাকহানাদার বাহিনীর নির্মম গুলি বর্ষনে ফরাজী বাড়িতে অবস্থান নেয়া মুক্তিযোদ্ধাসহ ওই পরিবারে ১৭ জন শহীদ হোন। তাদের গনকবরে সমাহিত করা হয় ওই বাড়ির পিছনে বাগানের ভিতর। পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা গুলি করে গনহত্যা চালিয়ে ক্ষান্ত হয়নি, সেদিন আগুন জ্বালিয়ে দেয় ওই গ্রামে। সেদিনের সে নির্মম স্মৃতি আজও ভুলতে পারেনি গুলিবিদ্ধ ওই সময়ের ৮বছর বয়সী জইতুন নেছা। তার বাম বাহুতে গুলি লেগে সেদিনের শিশু জইতুন নেছা প্রানে বাঁচলেও পরিবারের সবাইকে হারিয়ে আজও তিনি বয়ে বেড়াচ্ছেন দুঃসহ যন্ত্রনা। দৌলতপুর উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় জেলা প্রশাসন গণকবরস্থলে শহীদদের স্মরণে স্মৃতি ফলক নির্মান করেছেন। সেখানে মুক্তিযদ্ধে বীর শহীদদের প্রতি বিগত বছরগুলোতে শ্রদ্ধা জানানো হলেও এবছর দিনটি কেটেছে নীরবে।