আলমডাঙ্গায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী অনুষ্ঠানে হুইপ ছেলুন

সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাড়াই

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা, পুরষ্কার বিতরণী ও র‌্যালী অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রবিবার বিকেলে আলমডাঙ্গার প্রধান প্রধান সড়কে র‌্যালী শেষে উপজেলা আওয়ামীলীগের কার্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন আলমডাঙ্গা পৌর পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি পরিমল কুমার ঘোষ। প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন এমপি। এ সময় তিনি বলেন ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। আমরা শত শত বছর ধরে অত্র জনপদে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে যার যার ধর্ম পালন করে চলেছি। আসুন সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়ে অশুভ শক্তিকে বিনাশ করেছে। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাহাত মান্নান, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন, আলমডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র হাসান কাদির গনু, চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামীলীগর সাংগঠনিক সম্পাদক মুন্সি আলমঙ্গীর হান্নান। হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিত সাধু খা’র উপস্থাপনায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব আলী মাষ্টার, বিশিষ্ট আওয়ামীলীগ নেতা লিয়াকত আলী লিপু মোল্লা, আলমডাঙ্গা উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি ডাঃ অমল কুমার বিশ্বাস, সুশীল কুমার ভৌতিকা, লিপন কুমার বিশ্বাস, ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলার জহুরুল ইসলাম স্বপন প্রমুখ। অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি পুরষ্কার বিতরণ করেন।

ঝিনাইদহে বর্ণাঢ্য আয়োজনে শুভ জন্মাষ্টমী পালিত

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যদিয়ে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে রবিবার দিনব্যাপি অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা, বর্ণাঢ্য র‌্যালি সহ নানা কর্মসূচি। সকালে শহরের মদনমোহন মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। সভায় জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কনক কান্তি দাসের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, জেলা পরিষদ সচিব রেজাই রাফিন সরকার, জেলা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি নারায়ন চন্দ বিশ্বাস। পরে আলোচনা শেষে মদনমোহন চত্বর থেকে বের হয় বর্ণাঢ্য র‌্যালি। র‌্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়।

আলমডাঙ্গার খাসকররা ইউনিয়ন আ’লীগের কর্মী সমাবেশ এমপি ছেলুন

সকল ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে নৌকার পক্ষে কাজ করতে হবে

আলমডাঙ্গা অফিস ॥ চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে খাসকররা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের তৃণমূল নেতাকর্মীদের এক কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রবিবার বেলা ১১টায় উপজেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে কর্মী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি পৌর মেয়র হাসান কাদির গনু। প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন এমপি। তিনি বলেন আজ তৃণমূল কর্মী সমাবেশের ষষ্ঠ দিন, খাসকররা ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের বক্তব্য আমি ধৈর্য সহকারে শুনেছি। চুয়াডাঙ্গা তথা আলমডাঙ্গা উপজেলার প্রতিটি মানুষের কাছে খাসকররা ইউনিয়ন গোপালগঞ্জ নামে খ্যাত। এই ইউনিয়নের মানুষ সবসময়ই নৌকা প্রতিকে ভোট দিয়ে থাকে। আপনারা যদি পুনরায় নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে, জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আনতে সর্বাত্বক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। তাই আসুন আমরা সকল ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে নৌকার পক্ষে কাজ করি।  বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি নাসির উদ্দিন পেনু, প্রশান্ত অধিকারী, যুগ্ম সম্পাদক সাবেক পৌর মেয়র রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন, সাংগঠনিক সম্পাদক মুন্সি আলমগীর হান্নান, মাসুদুজ্জামান লিটু বিশ্বাস, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম খান, জেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক এ্যাড. আবু তালেব, জেলা শ্রমিকলীগের সাবেক সভাপতি আজিজুল হক, জেলা আ’লীগের সদস্য কাজী খালেদুর রহমান অরুন, ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন, শাহ্ আলম, জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভানেত্রী কোহিনুর বেগম, পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি আবু মুছা, সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শিক্ষানুরাগী আওয়ামীলীগ নেতা লিয়াকত আলী লিপু মোল্লা। উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব আলী মাষ্টারের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন ইউনিয়ন সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল গনি, ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান রুন্নু, ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আমিরুল ইসলাম, সাধারন সম্পাদক জিয়াউর রহমান, ছাত্রলীগের সভাপতি জাহিদ হাসান, উপজেলা মহিলা আ’লীগের সভানেত্রী সাহিদা সিরাজ, সাধারণ সম্পাদক আনজিরা খাতুন, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শামীম আরা, আলমডাঙ্গা সরকারী কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি আশরাফুল হক। এছাড়াও  ১নং ওয়ার্ড সভাপতি আব্দুল হামিদ, সম্পাদক মানোয়ার হোসেন, ২নং ওয়ার্ড সভাপতি মহাসিন আলী, সম্পাদক আগা মোহাম্মদ মাষ্টার, ৩নং ওয়ার্ড সভাপতি শাহাবুল হোসেন, সম্পাদক মিল্টন হোসেন, ৪নং ওয়ার্ড সভাপতি ইউনুস আলী, সম্পাদক মোশাররফ হোসেন, ৫নং ওয়ার্ড সভাপতি ফারুক বিশ্বাস, সম্পাদক বাবলু মেম্বার, ৬নং ওয়ার্ড সভাপতি আমির হোসেন, সম্পাদক মোজাফ্ফর হোসেন লালু, ৭নং ওয়ার্ড সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন, সম্পাদক ওল্টু মিয়া, ৮নং ওয়ার্ড সভাপতি শান্তি মিয়া, সম্পাদক আব্দুল বারী, ৯নং ওয়ার্ড সভাপতি আব্দুল কাদের, সম্পাদক আশরাফুল হক, মহিলা নেত্রী বেলী খাতুন, রিতা খাতুন, আওয়ামীলীগ কলম আলী প্রমুখ।

গাংনী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির পরিচিতি সভা

গাংনী প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার সকালে গাংনী সিদ্দিকীয় সিনিয়র মাদ্রাসার সভাকক্ষে পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন, গাংনী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও বালিয়াঘাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ শাহাবুদ্দীন। পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন, ঝিনাইদহ পিটিআইর সুপার আতিয়ার রহমান। গাংনী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুজ্জামান সেলিমর সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির মেহেরপুর জেলা শাখার সভাপতি ও হোগলবাড়ীয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাফিজুর রহমান বকুল, গাংনী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও হিন্দা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা। এ সময় বক্তব্য রাখেন, গাংনী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সহ-সভাপতি ও সাহারবাটি এবাদতখানা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাউছার আলী, সাধারণ সম্পাদক ও কুঞ্জুনগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমানুল্লাহ। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, শিক্ষক নেতা আক্তারুজ্জামান বকুল, জিয়া মুহাম্মদ আহসান মাসুম, হাসানুজ্জামান, মাহবুবুর রহমান কাজল, হাবিবুর রহমান প্রমুখ। এ সময় শিক্ষক সমিতির সদস্যবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

ঈদ পুনর্মিলনী ও আলোচনা সভায় বক্তারা

মানব কল্যাণে কাজ করে যাবে পদ্মনগর চাকুরিজীবী পরিষদ

নিজ সংবাদ ॥ পদ্মনগর চাকুরিজীবী পরিষদের সকল সদস্য মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাবে। প্রতিষ্ঠার গত এক বছরে বেশ কিছু কল্যাণমূলক কাজ করেছে এ কমিটি। আগামীতে এলাকার বিভিন্ন সমস্যা নিরসনের পাশাপাশি গরীব-দুঃখী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদানসহ নানা কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। ইতিমধ্যেই পদ্মনগর চাকুরিজীবী পরিষদের সদস্যরা এলাকার জনগুরুত্বপূর্ণ সমস্যা চিহিৃত করে কাজ শুরু করেছে। পদ্মনগর চাকুরিজীবী পরিষদ আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী ও আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা। গত ২৩ আগষ্ট ঈদের পরদিন কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিণারায়নপুর ইউনিয়নের কালিনদীর পাড়ে পদ্মনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও পদ্মনগর চাকুরিজীবী পরিষদের সভাপতি ডা. বসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন হরিণারায়নপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: মহিউদ্দিন।বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চাকুরি পদ্মনগর চাকুরিজীবী পরিষদের সাধারন সম্পাদক এসআই গোলাম রসুল, ডিবিসি নিউজ ও সমকালের জেলা প্রতিনিধি সাজ্জাদ রানা প্রমুখ।আলোচনা সভায় ডা. বসির উদ্দিন বলেন,‘ পদ্মনগর চাকুরিজীবী পরিষদ একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। মানুষের কল্যাণে এ পরিষদ কাজ করে। আমরা গত বছরে স্কুল মাঠে মাটি ভরাট ছাড়াও বিভিণœ ব্যক্তিকে আর্থিক সহযোগিতা দিয়েছি। আগামীতে এই পরিষদ বড় পরিসরে কাজ করবে। এ জন্য সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।বিশেষ অতিথি এসআই গোলাম রসুল বলেন,‘ আমরা সরকারি চাকুরি করি। তারপরও এলাকার মানুষের জন্য কাজ করে যায়। আমাদের কোন চাওয়া-পাওয়া নেই। সবাই আমাদের জন্য দুআ করবেন যাতে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মানুষের জন্য কাজ করে যেতে পারি।প্রধান অতিথি হরিণারায়নপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: মহিউদ্দিন বলেন, পদ্মনগর আমার ইউনিয়নের সব থেকে ছোট ও অবহেলিত গ্রাম। নানাভাবে পিছিয়ে আছে গ্রামটি। তবে এলাকায় ১০৭জন মানুষ বিভিন্ন সরকারি-বেসিরকারি প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ পদে চাকুরি করছেন। জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য এ ধরনের কমিটি প্রতিটি গ্রামে হওয়া দরকার। সচেতন লোকজন থাকলে এলাকার অনেক করা সম্ভব। তাই আগামীতে এ কমিটির সব ভাল কাজের সাথেই আমি আছি। সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে যাব। তিনি বলেন, ডা. বসির ও এসআই গোলাম রসুল যেভাবে এলাকার মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাদের প্রচেষ্টায় ্এলাকায় দুটি ব্রীজ হয়েছে, রাস্তা হয়েছে, স্কুল হয়েছে। মানুষ এখন ভালভাবে চলাফেরা করতে পারে। এটা বড় অবদান।’ অনুষ্ঠানে চাকুরিজীবী পরিষদের সদস্যরা ছাড়াও নানা শ্রেণী পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন পদ্মনগর গ্রামের সন্তান সাখাওয়াত হোসেন ও জহির উদ্দিন।

কালুখালীতে র‌্যালী ও আলোচনার মধ্যদিয়ে শ্রী কৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী উদযাপণ

কালুখালী প্রতিনিধি ॥ গতকাল রবিবার রাজবাড়ীর কালুখালীতে র‌্যালী ও আলোচনা সভার মধ্যদিয়ে শ্রী কৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী উদযাপিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও পূজা উদযাপণ পরিষদ কালুখালীর আয়োজনে এ উপলক্ষ্যে সকাল ১১টায় র‌্যালী পরবর্তী মালিয়াট শ্রী শ্রী রাধা মদন মোহন জিও মন্দির আঙ্গীনায় উপজেলা পূজা উদযাপণ পরিষদের সভাপতি তনয় চক্রবর্তী শম্ভুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ জিল্লুল হাকিম। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন যার যার ধর্ম সেই সেই পালন করবে। তাতে কারো বাধা নেই। তিনি বলেন অন্যায় কে প্রতিহত করতে ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠায় শ্রী কৃষ্ণের জন্ম। ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মিলে এ দেশটাকে উন্নয়ন করতে হবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যাপারে তিনি বলেন যতদিন জননেত্রী শেখ হাসিনা বেঁচে থাকবে ততদিন রাজবাড়ী-২ আসনে জিল্লুল হাকিম জীবিত থাকলে তার নাম পরিবর্তিত হবে না। সর্বপরি তিনি সকলের দোয়া ও আশির্বাদ নিয়ে মিলে মিশে রাজনীতি করতে চান এবং হিন্দুদের আপদ বিপদে সব সময় পাশে থাকবেন বলে প্রতিশ্র“তি ব্যক্ত করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে এমপির সহধর্মীনি মোছাঃ সাঈদা হাকিম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ তোফায়েল আহমেদ, অফিসার ইনচার্জ মোঃ আমিনুল ইসলাম, জেলা পরিষদ সদস্য খায়রুল ইসলাম খায়ের, রতনদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মেহেদী হাচিনা পারভিন নিলুফা, রতনদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি খোন্দকার আনিছুল হক বাবু এসময় অন্যান্যের মধ্যে পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার সাহা, সহ-সভাপতি রনজয় বসু, সনাতন আর্য ব্রাক্ষ্মন সংঘ কালুখালীর সভাপতি শংকর চক্রবর্তী, সাধারণ সম্পাদক গোপাল গোস্বামী, পূজা উদযাপণ কমিটির কোষাধ্যক্ষ যাদব দত্ত, হিন্দু বৈদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের কোষাধ্যক্ষ অজয় কুমার দত্তসহ উপজেলার বিভিন্ন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা উপস্থিত ছিলেন।

কুষ্টিয়ায় রাজশাহী ইউনিভার্সিটি এক্স-স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন’র ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় ব্যাপক উৎসব মুখর পরিবেশে, রাজশাহী ইউনিভার্সিটি এক্স-স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন ‘রাকসা’ কুষ্টিয়ার আয়োজনে, ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিকেলে কুষ্টিয়া পৌরসভার অডিটোরিয়ামে এ ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়। এ উপলক্ষে এক আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনা করেন ও স্বাগত বক্তব্য রাখেন রাজশাহী ইউনিভার্সিটি এক্স-স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন ‘রাকসা’ কুষ্টিয়ার সভাপতি শামসুজ্জোহা খান জন। এ উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ‘রাকসা’ কুষ্টিয়ার ঈদ পুনর্মিলনী উৎসব উদ্যাপন কমিটির সভাপতি ও কুষ্টিয়া সরকারি সেন্ট্রাল কলেজের অধ্যক্ষ আজমল গণি আরজু। বক্তব্য রাখেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ আজম শান্তনু, রাজশাহী বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য্য প্রফেসর নূরুল হোসেন চৌধুরী, ‘রাকসা’ কুষ্টিয়ার উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ ওয়াকার্স পার্টি কেন্দ্রীয় কমিটির পলিট ব্যুরো সদস্য নূর আহমেদ বকুল, ‘রাকসা’ কুষ্টিয়ার উপদেষ্টা ও সনো’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামসুল ওয়াসে, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি প্রফেসর ড. আনোয়ারুল ইসলাম প্রমুখ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ‘রাকসা’র অন্যতম উপদেষ্টা ও রাইফেল ক্লাব কুষ্টিয়ার সাধারণ সম্পাদক রেজানুর রহমান খান চৌধুরী মুকুল, ‘রাকসা’র অন্যতম উপদেষ্টা ও আমিন ফার্মেসীর সত্ত্বাধিকারী শাহ নেওয়াজ আনসারী মঞ্জু প্রমুখ। আলোচনা সভায় সঞ্চালনা করেন উৎসব উদ্যাপন কমিটির সদস্য ও কুষ্টিয়া আদর্শ কলেজের সহকারী অধ্যাপক নীনা নিশাত ইসলাম। এ সময় ‘রাকসা’ কুষ্টিয়ার সাধারণ সম্পাদক আলীমূল হক সনজুসহ সংগঠনের সকল সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। রাতে র‌্যাফেল ড্র ও নৈশভোজের আয়োজন করা হয়।

গাংনীতে জন্মাষ্টমি পালিত

গাংনী প্রতিনিধি ॥ সারা বিশ্বের ন্যায় মেহেরপুরের গাংনীতে জন্মাষ্টমি পালিত হয়েছে। গতকাল রোববার সকাল সাড়ে ১১টার সময় এ উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন বয়সের শতাধিক নারী-পুরুষ বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় অংশ গ্রহণ করে।  শোভাযাত্রাটি গাংনী উপজেলা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে গাংনী মাধ্যমিক স্কুল এন্ড কলেজ চত্বরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা সুশান্ত কুমার পাত্র। এ সময় বক্তব্য রাখেন- হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা ধীরেন দাশ, গণেশ দাশ, সুকেশ চন্দ্র বিশ্বাস, প্রদীপ দাশ, রহিতোষ দাশ, তারাপদ দাশ প্রমুখ। সবশেষে মহা প্রভুর প্রসাদ খাওয়া

ঝিনাইদহে পুলিশের অভিযানে জামায়াত কর্মীসহ ৫৮ জন গ্রেফতার

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১ জামায়াত কর্মীসহ ৫৮ জন গ্রেফতার হয়েছে। শনিবার রাত থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিলু মিয়া বিশ্বাস জানান, জেলাব্যাপী মাদক ও নাশকতা বিরোধী বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে শনিবার রাত থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত সদর থেকে ২৬, শৈলকুপা থেকে ১১ জন, হরিণাকুন্ডু থেকে ৫, কালীগঞ্জ থেকে ৫, কোটচাঁদপুরে ১ জামায়াতসহ ৭ ও মহেশপুরে ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা আছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এছাড়াও কালীগঞ্জ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে ৫০ রাউন্ড গুলি।

ইর্স্টান ইন্ডিয়া ফটোগ্রাফী ট্রেড এন্ড ইন্ডাস্ট্রি এ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত ফটোট্রেক ইন্ডিয়ার আমন্ত্রণে গত ২৮ অক্টোবর কলকাতার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ডিজিটাল ফটোগ্রাফী ট্রেড ফেয়ার-২০১৮ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসাবে বিশিষ্ট আলোচিত্রী কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ অফিসের উপ-রেজিস্ট্রার শেখ আবু সিদ্দিক রোকন ডিজিটাল ফটোগ্রাফী ট্রেড ফেয়ারের প্রধানের হাত থেকে পুরস্কার গ্রহন করছেন। ছবিঃ- রিঙ্কা সেন, কলকাতা।

ঝিনাইদহে ফেন্সিডিল ও পিকআপ ভ্যানসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ॥ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার রঘুনাথপুর থেকে ৭’শ ১০ বোতল ফেন্সিডিলসহ ফিরোজ মোল্লা (৩০) নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে র‌্যাব। এসময় জব্দ করা হয়েছে ফেন্সিডিল বহনকারী আলুভর্তি পিকআপ ভ্যান। রবিবার সকালে তাকে আটক করা হয়। আটককৃত ফিরোজ ফরিদপুর সদর উপজেলার ভাটি কানাইপুর গ্রামের ফজলুর রহমান মোল্লার ছেলে। র‌্যাব-৬, ঝিনাইদহ ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার মেজর আব্দুল্লাহ আল মেহেদি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে জেলার সীমান্ত এলাকা থেকে বিপুল পরিমান ফেন্সিডিল পিকআপ ভ্যান যোগে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে সকালে কালীগঞ্জের রঘুনাথপুর এলাকায় অভিযান চালায় র‌্যাব। এসময় ৭’শ ১০ বোতল ফেন্সিডিলসহ ফিরোজকে আটক করা হয় এবং পিকআপ ভ্যানটি জব্দ করা হয়।

দৌলতপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধে শিক্ষকের বাড়ি ভাংচুর ও লুট

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের মহিষকুন্ডি মধ্যপাড়া গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে শিক্ষকের বাড়ি ভাংচুর ও লুট করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। গতকাল রবিবার সকাল ৯টার দিকে মহিষকুন্ডি হাইস্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মমতাজ উদ্দিন মাষ্টারের বাড়িতে হামলা চালিয়ে বাড়ি-ঘর ভাংচুর ও লুট করা হয়। এনিয়ে ওই শিক্ষকের বাড়িতে দু’দফা হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। হামলার শিকার শিক্ষক ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে একই এলাকার আলম, উজ্বল, নেপু, লিটন, শিশির, হৃদয়, সাগর, লেলিন ও বাবুল সশস্ত্র সংগবদ্ধ হয়ে শিক্ষক মমতাজ উদ্দিনের বাড়িতে হামলা চালিয়ে তার দুই ছেলেকে বেধড়ক মারপিট করে এবং বাড়ি-ঘর ভাংচুর ও লুটপাটের তান্ডবলীলা চালায়। পরে এলাকাবাসী ও মথুরাপুর ক্যাম্পের পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে নির্বিঘেœ চলে যায়। এরআগে গত ২৪ আগষ্ট একই কায়দায় ওই সকল হামলাকারীরা হামলা চালিয়ে বাড়ি-ঘর ভাংচুর ও লুট করে। সেসময় প্রাগপুর ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুজ্জামান মুকুল মাষ্টার বিরোধ নিস্পত্তির জন্য দু’পক্ষকে আশ্বাস দিলে সে আশ্বাস অমান্য করে হামলাকারীরা আবারও গতকাল শিক্ষক মমতাজ উদ্দিন মাষ্টারের বাড়িতে হামলা চালিয়ে বাড়ি-ঘর ভাংচুর ও লুট করে। এ ঘটনায় শিক্ষক মমতাজ উদ্দিন মাষ্টার অভিযোগ দিয়েছেন।

কুষ্টিয়ার ৮ গরু ব্যবসায়ীর ১৬ লক্ষ টাকা ডাকাতি, ৮ ডাকাত আটক

নিয়ামুল হক ॥ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার লাহিনী মিরপুর ও আলামপুরের ৮ গরু ব্যবসায়ীর গরু বিক্রির ১৬ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা গাজীপুর এলাকা থেকে ডাকাতরা ছিনিয়ে নিয়েছে। ব্যবসায়ীরা হচ্ছেন, লাহিনী মিরপুরের শামিম ইসলাম, হামিদুল ইসলাম, ওবায়দুর, আলামপুরের ইমন বিশ্বাস, হাফিজ বিশ্বাস, ইনামুল, গোপালপুরের আলেক ইসলাম, সিনদাহের নাজমুল ইসলাম। জানা গেছে, গত ২১ আগষ্ট এই ব্যবসায়ীরা চট্টগ্রাম কর্ন ইলিয়াস ব্রাদার্স গরু হাটে গরু বিক্রি করে বেলা ৩টার সময় কুষ্টিয়াগামী একটি ট্রাকে রওনা হয়। ওই ট্রাকে আগে থেকেই গরু ব্যবসায়ী ছদ্মবেশে ১০ ডাকাত অবস্থান করছিলো। রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা গাজীপুর এলাকায় ট্রাকটি পৌঁছালে যাত্রী সেজে থাকা ডাকাতরা ব্যবসায়ীদের উপর এলোপাতাড়ি চাকু মারে ও হাতুড়ী পিটা করে, সেখানে দুইজন ব্যবসায়ীকে রাস্তায় ফেলে রেখে বাকী ৬ ব্যবসায়ীকে ময়মনসিংহে নিয়ে যায়। সেখানে ৫ ব্যবসায়ীকে বস্তায় বন্দী করে ট্রাক থেকে ফেলে দেয়, আর একজনকে কিছুদুর নিয়ে গিয়ে ফেলে দিয়ে ডাকাতরা ট্রাক নিয়ে পালিয়ে যায়। বস্তাবন্দী ৫ ব্যবসায়ীকে স্থানীয় এলাকাবাসী উদ্ধার করে পুলিশে খবর দিলে ময়মনসিংহের নান্দাইল মোডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পুলিশ ৫ ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। ৫ ব্যবসায়ীদের মধ্যে ইনামুল কিছুটা সুস্থ্য হলে তাকে সাথে নিয়ে নান্দাইল মডেল থানা পুলিশ অভিযান শুরু করে এবং ইনামুলের দেয়া তথ্যানুযায়ী ট্রাকের ড্রাইভার হেলপারসহ ৮ ডাকাতকে আটক এক ট্রাক উদ্ধার করে। এ ব্যাপারে নান্দাইল মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলাম জানান, কুষ্টিয়ার গরু ব্যবসায়ীদের টাকা ডাকাতিসহ মারধরের ঘটনায় গরু ব্যবসায়ী হামিদুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি ডাকাতি ও হত্যার চেষ্টা এ মর্মে মামলা করে । এরই ভিত্তিতে মামলার তদন্ত চলছে এ পর্যন্ত ৮জন ডাকাতসহ ডাকাতি ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে, জব্দকৃত ট্রাকটির নং ঢাকা মেট্রো (ট) ২০-৬০৬৮। আটককৃত আসামিরা আদালতে জবানবন্দী দিয়েছেন এবং ডাকাতির কথা স্বীকার করেছেন। বর্তমানে আসামীরা জেল হাজতে আছে। ওসি আরো জানান, ডাকাতির ঘটনায় ১৬জন ডাকাত এই চক্রের সাথে জড়িত আছেন বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। আটককৃত ডাকাতদের বাড়ী নাটোর ও গাজীপুর জেলায়। এখন পর্যন্ত মোবাইল চাকু হাতুড়ি ছাড়া কোন টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে অভিযান অব্যাহত আছে। এ দিকে সর্বস্ব হারিয়ে গরু ব্যবসায়ীরা কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। পরিবার সুত্রে জানা গেছে, আহত ব্যবসায়ীদের মধ্যে শামিম ইসলামের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত ১ সেপ্টম্বর শনিবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

 

যুব সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু

ষড়যন্ত্রের রাজনীতি থেকে এক চুলও সরেনি বিএনপি

ঢাকা অফিস ॥ তথ্যমন্ত্রী ও জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেছেন, ‘বিএনপি ষড়যন্ত্রের রাজনীতি থেকে এক চুলও সরে আসেনি। তাদের সব দাবির সারকথা দুটিÑ দেশে সাংবিধানিক শূন্যতা করে অস্বাভাবিক সরকার প্রতিষ্ঠা আর দন্ডিত খালেদাসহ অপরাধীদের মুক্তি।’ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলÑ জাসদের যুব সংগঠন জাতীয় যুব জোটের ১৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল রোববার দুপুরে ঢাকায় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে জাসদ কার্যালয়ে আয়োজিত যুব সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। বিএনপির দাবিগুলোর কথা উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শেখ হাসিনার পদত্যাগ, সংসদ বাতিল, নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আসলে সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরির ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছুই নয়। আর দন্ডিত খালেদা জিয়াসহ যে কোনো দন্ডিতের মুক্তি আদালতের বিষয়। এ ব্যাপারে সরকার বা নির্বাচন কমিশনের করার কিছুই নাই জেনেও গোঁ ধরা বিএনপির চক্রান্তেরই অংশ।’ ‘জঙ্গি-রাজাকার ও দন্ডিত খালেদাকে নির্বাচনের নামে হালাল করে রাজনীতির মাঠে ফিরিয়ে আনা আর সশস্ত্র বাহিনীকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টাই তাদের (বিএনপির) লক্ষ্য’, বলেন ইনু। হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘এটি পরিষ্কার যে এই মুহূর্তে দেশে কোনো রাজবন্দী নেই। রাজনৈতিক কারণে বিনা বিচারে কেউ আটক নেই। আগুন সন্ত্রাস-জঙ্গি সন্ত্রাস-যুদ্ধাপরাধের দায়ে আটক বা দ-িত কেউই রাজবন্দী নয়।’ বাংলাদেশকে নির্বাচন ও সংবিধানের বাইরে ঠেলে দেওয়ার সব ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত রুখে দিতে যুবসমাজের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে ইনু বলেন, ‘দেশকে সংবিধানের পথে, নির্বাচনের পথে, গণতন্ত্রের পথে, শান্তির পথে, উন্নয়নের পথে রাখা এবং উন্নয়নের সুফল যুবসহ সকলের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য কর্মসংস্থানের নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরি করা, বৈষম্য ও দুর্নীতির অবসান করা এবং মাদক নির্মূলে কাজ করতে হবে যুবসমাজকে।’ জাতীয় যুব জোটের সভাপতি রোকনুজ্জামান রোকনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শরিফুল কবির স্বপনের সঞ্চালনায় এ আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন জাসদের কার্যকরী সভাপতি রবিউল আলম, বাংলাদেশ আওয়ামী যুব লীগের সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশীদ, বাংলাদেশ যুব মৈত্রীর সভাপতি সাব্বা আলী খান কলিন্স, যুব আন্দোলনের সভাপতি মোশায়েদ আহম্মেদ, জাসদ স্থায়ী কমিটির সদস্য মীর হোসাইন আখতার, নুরুল আখতার, জাতীয় শ্রমিক জোটের সভাপতি সাইফুজ্জামান বাদশা, জাতীয় কৃষক জোটের নেতা কামরুজ্জামান ফসি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি আহসান হাবিব শামীম প্রমুখ।

ভোটে বিএনপির জয় হিন্দুদের জন্য বিপদের হবে – কাদের

ঢাকা অফিস ॥ ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির জয়ের পর সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের বিষয়টি তুলে ধরে আগামী নির্বাচন নিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়কে সতর্ক করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। একাদশ সংসদ নির্বাচনের কয়েক মাস আগে গতকাল রোববার ঢাকায় জন্মাষ্টমীর এক শোভাযাত্রা উদ্বোধনের সময় এই সতর্কবার্তা দেন তিনি। ওবায়দুল কাদের বলেন, “আপনাদের কি ২০০১ সালের কথা মনে আছে? ২০০১ সালে বিএনপির নেতৃত্বে সাম্প্রদায়িক শক্তি ক্ষমতায় এলে বিভীষিকা আর অন্ধকার নেমে আসে, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা সারা বাংলায় নিপীড়িত হয়, নির্যাতিত হয়, ধর্ষিত হয়, ফাহিমা-পূর্ণিমা। এদের কথা কি আপনাদের মনে আছে? কত হিন্দু রমণীকে পৈশাচিকভাবে ধর্ষণ করেছে ওই বাবর শক্তি। নিরীহ মানুষের উপর নির্যাতন চালিয়ে ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। “মনে আছে আপনাদের সেই নির্যাতনের কথা। এবার যদি সেই অপশক্তি আবার ক্ষমতায় আসতে পারে ২০০১ সালের চেয়েও ভয়াবহ রক্তাক্ত সময় আপনাদের জন্য ঘনিয়ে আসবে।” আওয়ামী লীগের পাঁচ বছরের দেশ শাসনের পর ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত সরকার গঠনের পর সারাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর নির্যাতন চালানো হয়। ওই নির্যাতনের মদদদাতা হিসেবে বিএনপি-জামায়াত জোটের বিভিন্ন নেতার নাম পরে তদন্তে উঠে আসে। এবার ভোটের আগেও হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর আক্রমণ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, “সতর্ক থাকবেন, সেই অপশক্তি নির্বাচনে হেরে যাবে এই ভয়ে, নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রে আপনাদের উপর নির্যাতন চালাবে। দুর্বল ভেবে আপনাদের উপর আঘাত দেবে। ভারতের সাথে বাংলাদেশের যে সুসম্পর্ক বিরাজমান, সেই সুসম্পর্ক বিনষ্টের চক্রান্ত করবে।” বিএনপি-জামায়াত জোট নিয়ে সতর্ক করার পাশাপাশি আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে থাকার জন্য হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান ওবায়দুল কাদের। “আপনাদের মনে রাখতে হবে, মাইনরিটিবান্ধব সরকার একমাত্র শেখ হাসিনা সরকার। আপনাদের বন্ধু, আপনাদের আপনজন বঙ্গবন্ধ কন্যা শেখ হাসিনা। “এটা যারা বিশ্বাস করেন, এই অপশক্তিকে পরাজিত করতে হবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। যদি আপনারা আপনাদের আত্মমর্যাদা আপনাদের সম্মান, এই দেশে আপনাদের অধিকার রক্ষা করতে চান শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ওই অশুভ শক্তিকে পরাজিত করার শপথ আপনাদেরকে নিতে হবে।” জাতীয় ঐক্যের নামে বিএনপি ‘সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ’ করছে বলেও দাবি করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। “জাতীয় ঐক্যের নামে বিএনপি আজকে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের ডাক দিয়েছে। এই ফাঁদে আপনারা পা দেবেন না।” গণফোরাম সভাপতি কামাল হোসেনের মুখে নির্বাচন না হওয়ার সম্ভাবনার বিষয়ে কাদের বলেন, “একথা তারাই বলছেন, যারা এক-এগারোতে বিরাজনীতিকরণ করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন। তারাই আবার সেই পুরানো সুরে কে যেন ডাকে রে, আবার স্লোগান তুলছে। কাজ হবে না, ভোটের বিরুদ্ধে যারা দাঁড়াবে, জনগণই তাদের প্রতিরোধ করবে।” ঢাকার পলাশী মোড়ে জন্মবার্ষিকীর শোভাযাত্রা উদ্বোধনের আগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কাদের।

 

সেতু রক্ষার বাঁধ প্রায় ৩০ মিটার নদী গর্ভে

গড়াই নদীর তীর ও শেখ রাসেল কুষ্টিয়া-হরিপুর সংযোগ সেতু সংরক্ষণ বাধে ভাঙ্গন

নিজ সংবাদ ॥  গত কয়েকদিনে কুষ্টিয়ার গড়াই নদীতে পানি বাড়ায় তীব্র স্রোতের কারনে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। শনিবার রাতে হঠাৎ করেই শেখ রাসেল কুষ্টিয়া-হরিপুর সংযোগ সেতুর পশ্চিম পাশ থেকে নদী শাসন ও সেতু রক্ষার জন্য বছর খানেক আগে নির্মিত বাঁধের বেশ কিছু অংশ নদী গর্ভে চলে গেছে। প্রায় ৫০০ মিটার জুড়ে ভাঙ্গন ছড়িয়ে পড়েছে। এতে সেতুর দক্ষিন-পশ্চিম অংশে ৫০০ মিটার এলাকা জুড়ে ভাঙ্গন ছড়িয়ে পড়েছে। ভাঙ্গন অব্যাহত থাকলে সদ্য নির্মিত শেখ রাসেল কুষ্টিয়া-হরিপুর সংযোগ সেতুটি ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা জানান,‘ শনিবার সন্ধ্যায় সৃষ্ট ভাঙ্গনে রাত ৯টা পর্যন্ত এই সেতুর হরিপুর অংশের পশ্চিম প্রান্তীয় প্রটেকশন ওয়ার্কের সম্মুখ থেকে ভেঙ্গে প্রায় ১শ মিটার ব্যাসার্ধে পাড় ভেঙ্গে ঢুকে প্রটেকশন ওয়ার্কের প্রায় ৩০মিটার নদীতে তলিয়ে যায়। এখনো সেখানে ভাঙ্গনের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। বড় ধরনের ক্ষতির আগেই ভাঙ্গন কবলিত স্থানে জরুরী ভিত্তিতে মেরামতের প্রয়োজন।

স্থানীয়দের অভিযোগ আগে থেকেই ঐ স্থানটি ঝুঁকিপূর্ন হয়েছিলো। বিষয়টি বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কুষ্টিয়ার কর্মকর্তাদের নজরে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করাও  হয়েছিলো। কিন্তু তারা কোন প্রকার  উদ্যোগ গ্রহন না করায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অবিলম্বে এই ভাঙ্গন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি এলাকাবাসী এবং ঐ এলাকায় ঘুরতে যাওয়া ভ্রমনকারীদের। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, ২০১৬ সালে সেতুর দুই পাশে তারা তীর সংরক্ষন বাঁধ নির্মাণ করে। পশ্চিম অংশে ৮০০ মিটার ও সেতুর পুর্বে সাড়ে ৭০০ মিটার বাঁধ নির্মাণ করা হয়। জিও ব্যাগ ও বস্তায় বালু ভরে এখানে বাঁধ নির্মাণ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সেতু সুরক্ষার জন্য এ বাঁধের ঘা ঘেঁষে এলজিইডি ঢালায় দিয়ে কংক্রিট বাঁধ নির্মাণ করে, তার পাশে ব¬ক দিয়ে স্থায়ী বাঁধ তৈরি করে। গত বছরও ভাঙ্গন শুরু হওয়ার পর পুর্ব অংশের বাঁধ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। পরে তা মেরামত করে দেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড যে বাঁধ নির্মাণ করে তা স্রোতের তোড়ে নদীতে বিলিন হয়ে গেছে। স্থানীয়রা জানান, নদীর গতি পথ পরিবর্তন হওয়ায় এ বছর ফের নদীতে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। প্রায় এক কিলোমিটার অংশ জুড়ে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। ভাঙ্গন অব্যাহত থাকলে অনেক বাড়ি-ঘর নদীতে চলে যাবে। যেভাবে ভাঙ্গছে তাতে ব্রীজের দক্ষিণ পাশের মাটি সরে গিয়ে বিপর্যয় ঘটতে পারে।

এলজিইডির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,‘ কয়েক বছর আগে যখন নদী শাসনের জন্য বাঁধ নির্মাণ করা হয় তখন এলজিইডির পক্ষ থেকে স্থানীয় এমপির মাধ্যমে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে একটি পত্র দেয়া হয়। সেই চিঠিতে সেতুর দুই পাশেই আড়াই কিলোমিটার অংশ জুড়ে নদী শাসনের জন্য বাঁধ নির্মাণের অনুরোধ জানানো হয়। একই সাথে বলা হয় যে অংশে নদী শাসনের জন্য যেটুকু বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে, তার দুই পাশে অতিরিক্ত আড়াই কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করা না হলে এটি টিকবে না। তবে তারা আমাদের চিঠি আমলে নেয়নি।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শম্পা মাহমুদ বলেন,‘ প্রটেকটিভ এরিয়ার ভাঙ্গন বাড়ছে। সেতু রক্ষার বাঁধে প্রায় ৩০মিটার নদী গর্ভে চলে গেছে। বড় অংশ জুড়ে নিচের বালু সরে গেছে। পানি ঢুকে আরো অংশ ভেঙ্গে নদীতে চলে যেতে পারে। এটা এখনই মেরামত প্রয়োজন।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায, ভাঙ্গন দেখতে এলাকার অনেক মানুষ ভীড় জমিয়েছে। চোখের সামনেই বালুর বড় বড় স্তুপ ভেঙ্গে নদীতে বিলিন হয়ে যাচ্ছে। সেতুর প্রায় গা ঘেঁষে পশ্চিম অংশে গোল হয়ে প্রায় ৩০মিটার কংক্রিট বাঁধ ভেঙ্গে গেছে। নিচ থেকে বালু সরে ভেঙ্গে ভেঙ্গে পড়ছে। রাতের মধ্যে ভাঙ্গন রাস্তার কাছাকাছি চলে যেতে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। শনিবার বিকেলে এলজিইডির দুজন প্রকৌশলী ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তারা বলেন, তাদের অংশে ২০ মিটার মত ভেঙ্গেছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতার মধ্যে পড়ে এমন অংশে ভাঙ্গন বেশি। বড় একটি অংশ জুড়ে ভাঙ্গছে। আমরা বিষয়টি আগামীকাল (আজ) উর্দ্ধতন কর্তকর্তাদের অবহিত করব। স্থানীয় বাসিন্দা নাসির হোসেন ও আজিজ উদ্দিন বলেন,‘ কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে তীর রক্ষা বাঁধ ও ব¬ক বসনো হয়েছে। তারপরও ভেঙ্গে চলে যাচ্ছে নদীতে। অনিয়মের কারনেই এমনটি হচ্ছে বলে দাবি তাদের।’

২০১৬ সালে হরিপুরবাসীর দীর্ঘ দাবির প্রেক্ষিত শেখ রাসেল কুষ্টিয়া-হরিপুর সংযোগ সেতু নির্মাণ করা হয় প্রায় শত কোটি টাকা ব্যয়ে। সেতু রক্ষার জন্য দুই পাড়ে প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ব¬ক বসিয়ে তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়। তীর রক্ষা বাঁধের হরিপুর অংশে পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগ ও বালুর বস্তা দিয়ে প্রায় দেড় কিলোমিটার অংশে তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করে।

সেতু বাস্তবায়ন কমিটির নেতা প্রকৌশলী আলিমুজ্জামান টুটুল বলেন,‘ হরিপুরবাসির আন্দোলনের ফসল এই সেতু। দীর্ঘ দাবির পর গত বছর সেতু কাজ শেষে ব্যবহারের জন্য খুলে দেয়া হয়। এখন ভাঙ্গনের কারনে সেতু ক্ষতিগ্রস্থ হলে তা হবে দুঃখজনক। তাই অবহেলা  না করে এখনই ব্যবস্থা নেয়া উচিত। নদীর পানি বাড়ায় স্রোতও বাড়ছে। এছাড়া খননে অনিয়মের কারনে নদীতে পলি পড়ছে। এতে নদী বিপদজনক হয়ে উঠছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলজিইডির এক কর্মকর্তা পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওপর দায় চাপিয়ে বলেন, এখন নদী ভাঙ্গনের মুখে সেতু ঝুঁকিতে পড়লেও মূল সেতু নির্মাণ প্রকল্প সম্পন্ন হয়ে যাওয়ার পর থেকে আমাদের আর কিছু করার  নেই। নদী ভাঙ্গনের বিষয়টি এখন দেখার দায়িত্ব পানি উন্নয়ন বোর্ডের। তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুষ্টিয়া এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী এএসএম সাহেদুর রহিম বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান জানান, ব্রীজের প্রটেকটিভ এরিয়ায় ভাঙ্গন হলে সেটা দেখবেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ। তবে প্রটেকটিভ এরিয়ার বাইরে হলে সেটা আমরা দেখব।

কুষ্টিয়ার ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো: মোস্তাক আহমেদ বলেন,‘ সেতুটি যাতে ঝুঁকির মধ্যে না পড়ে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে এলজিইডি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে কথা বলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে যাতে নতুন করে আর না ভাঙ্গে।’

শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন জনগণ হতে দেবে না – রিজভী

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর অভিযোগ, দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সুবিচারে নয়, প্রতিহিংসামূলক সরকারি বিচারে কারাবন্দী। খালেদা জিয়ার জামিন বারবার বাধাগ্রস্ত করছে সরকার। বিএনপির চেয়ারপারসন একের পর এক মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেলেও ফের তা নানা কায়দায় আটকে দিচ্ছে সরকার। সরকারের নির্দেশেই তিনি কারাগারে আটকে আছেন। তাঁর কারাবন্দিত্ব শুধু সরকারের প্রতিহিংসার শিকারে। গতকাল রোববার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন রিজভী। বিএনপির জনসভার বক্তব্য নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা। রিজভী বলেন, গতকাল রাতে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি আওয়ামী লীগ নয়, নির্ভর করছে আদালতের ওপর। আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্ভব নয়, এ ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করবে না সরকার। একই সঙ্গে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে বিএনপি সরকারের যে পদত্যাগের দাবি করেছে, তা নাকচ করে দিয়ে কাদের বলেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। ওবায়দুল কাদেরের এই বক্তব্য কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন রিজভী। বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিবের ভাষ্য, জনগণ আওয়ামী লীগের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে। গতকালের জনসভায় বিপুল মানুষের সমাগমেই প্রমাণিত হয়েছে, জনগণ এই সরকারকে আর চায় না। ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, যতই ষড়যন্ত্র, অপচেষ্টা ও অপলাপ করা হোক না কেন, আওয়ামী লীগকে এবার বিদায় নিতেই হবে। অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। সরকারকে পদত্যাগ করে সংসদ ভেঙে নির্বাচন দিতে হবে। নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করতে হবে। নির্বাচন নিয়ে সংবিধানের দোহাই দিয়ে গড়িমসি চলবে না। জনগণের ভোট জনগণের দেওয়ার জন্য নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের কোনো বিকল্প নেই। শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন জনগণ হতে দেবে না। রিজভী সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, জালিয়াতির মেশিন ইভিএম ব্যবহার নিয়ে নীলনকশা বন্ধ করুন। পৃথিবীর অন্যান্য স্বল্পসংখ্যক দেশে যারা ইভিএম চালু করেছিল, তারাও এ পদ্ধতি নিষিদ্ধ করেছে। অথচ সব প্রতিবাদ উপেক্ষা করে কেন এই গণবিরোধী সরকার ইভিএম মেশিন দিয়ে ভোট করতে চায়, সেটি এখন জনগণ টের পেয়ে গেছে। সারা বিশ্বব্যাপী যখন সন্দেহপ্রবণ এই মাধ্যম বন্ধ করে দিচ্ছে, তখন বাংলাদেশের ভোটারবিহীন সরকার এই মেশিন চালু করতে এত উৎসাহী কেন, তা সুস্পষ্ট। এক শুভংকরের ফাঁক দিয়ে সরকার বাজিমাত করতে চায়। তবে তাদের দুরভিসন্ধি জনগণের কাছে ধরা পড়ে গেছে।

কালুখালীতে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে চরমপন্থী নেতা নিহত

ফজলুল হক ॥ গতকাল রবিবার রাজবাড়ীর কালুখালীতে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে চরমপন্থী সজল বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড আব্দুল মতিন (৩৫) নিহত হয়েছে। সে উপজেলার  সাওরাইল ইউনিয়নের বিষয় সাওরাইল গ্রামের আজিজ ওরফে বিস্কুট মন্ডলের ছেলে। এ ব্যাপারে কালুখালী থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে  ঐ দিন রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে কথিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা নাশকতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সাওরাইল ইউনিয়নের আলমডাঙ্গা গ্রামের জনৈক আব্দুর রব মন্ডলের আম বাগানে গোপন বৈঠকে করছে। ওই সংবাদের ভিত্তিতে থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌছাতেই সন্ত্রাসীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি বর্ষণ করে। পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এমতাবস্থায় অন্যান্য সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। এতে একজন চরমপন্থী এবং থানার এসআই শহিদুল ইসলাম ও এএসআই ইকবাল হোসেন আহত হন। আহতদের  পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ নিয়ে যাওয়া হয়। সে সময় হাসপাতালের জরুরী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক চরমপন্থী আব্দুল মতিন মন্ডলকে মৃত বলে ঘোষনা করেন। ঘটনাস্থল থেকে ১টি ওয়ান স্যুটারগান, একটি শর্টগানের তাজা কার্তুজ, ১০ টি কার্তুজের খোসা উদ্ধার করা হয়। নিহত মতিনের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন ও হত্যাসহ ৩টি মামলা রয়েছে।

দৌলতপুরে ভিক্ষুকের মেয়েকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে প্রভাবশালী যুবক

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ভিক্ষুকের মেয়েকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে প্রভাবশালী আরিফ হোসেন (২৪) নামে এক যুবক। এ ঘটনায় গতকাল রবিবার দুপুরে ধর্ষিতা দৌলতপুর থানায় ধর্ষণের অভিযোগ করেছে। অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে, উপজেলার রিফায়েতপুর ইউনিয়নের নওদাপাড়া গ্রামের ভিক্ষুক চান্দু’র মেয়ে জোনাকী আক্তারের (১৮) সাথে পার্শ্ববর্তী জোয়ার্দ্দারপাড়া গ্রামের বক্কর মন্ডলের ছেলে আরিফ হোসেনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরই সূত্র ধরে গত বুধবার (২৯ আগষ্ট) রাত ১১টার দিকে আরিফ হোসেন ভিক্ষুক চান্দুর বাড়িতে গোপনে প্রবেশ করে তার মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। জোনাকী আক্তার বিয়ের প্রস্তাবে রাজি হলে তাকে নিয়ে আরিফ হোসেন বাড়ির পার্শ্ববতী একটি বাগানে যায় এবং তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এসময় ধর্ষিতা চিৎকার ও কান্নাকাটি শুরু করলে ধর্ষক আরিফ হোসেন পালিয়ে যায়। পরে ধর্ষিতা বাড়ি ফিরে বিষয়টি তার পরিবারের লোকজনকে জানালে ভিক্ষুক চান্দু ধর্ষনের ঘটনা স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গন্যমান্য ব্যক্তিদের জানায়। তবে তারা প্রভাবশালী আরিফ হোসেনের বিরুদ্ধে ধর্ষনের বিচার না করে বিষয়টি ধামা চাপা দিতে গড়িমসি করে। তাই কোন উপায় খুঁজে না পেয়ে ধর্ষিতা জোনাকী আক্তার তার ধর্ষনের বিচার চেয়ে ধর্ষক আরিফ হোসেন ও তার পিতা বক্কর মন্ডলের নামে দৌলতপুর থানায় এজাহার দেয়। ভিক্ষুকের মেয়ে ধর্ষণের ঘটনায় রিফায়েতপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জামিরুল ইসলাম বাবু জানান, ঘটনাটি তিনি  শুনেছেন এবং ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। এবিষয়ে দৌলতপুর থানার ওসি শাহ দারা খান বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মেহেরপুর ও গাংনীতে ৬টি হাত বোমা উদ্ধার

গাংনী প্রতিনিধি  ॥ মেহেরপুর সদর ও গাংনী উপজেলার দুটি স্থান থেকে ৬টি হাত বোমা উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত শনিবার দিবাগত সন্ধ্যা রাত থেকে  রোববার ভোররাত পর্যন্ত মেহেরপুর সদর ও গাংনী থানা পুলিশের দুটি দল বোমাগুলো উদ্ধার করে। গাংনী থানার ওসি হরেন্দ্রনাথ সরকার (পিপিএম) জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গাংনী উপজেলার তেরাইল-জোড়পুকুরিয়া কলেজের নির্মাণাধীন বিল্ডিংয়ের সামনে থেকে ২টি হাত বোমা উদ্ধার করা হয়। বিল্ডিং নির্মাণ কাজের ঠিকাদারের সাথে চাঁদার দাবীতে ব্যর্থ হয়ে ভয়-ভীতি দেখানোর লক্ষে সন্ত্রাসী চক্র বোমা দুটি ওই স্থানে রেখে যেতে পারে। তবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সন্ত্রাসী চক্রদের চিহ্নিত করতে পুলিশ মাঠে নেমেছে। অন্যদিকে মেহেরপুর সদর উপজেলার বন্দর গ্রামের একটি বাগান থেকে পরিত্যক্ত ৪টি বোমা উদ্ধার করে পুলিশ।

কুষ্টিয়ায় পুলিশের অভিযানে বিএনপি-জামায়াতের ৫৬ নেতা-কর্মী আটক, ককটেল উদ্ধার

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন মামলার আসামিসহ জামায়াত-বিএনপির ৫৬ জন  নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় ৩৩টি ককটেল ও মাদক উদ্ধার করা হয়। শনিবার রাত থেকে রোববার সকাল ১০টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। গতকাল রোববার সকালে  জেলা পুলিশের নিয়ন্ত্রন কক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। অভিযানে দৌলতপুর থানা পুলিশ ৬ জন, কুমারখালীতে ১১ জন, মিরপুরে ১২ জন, কুষ্টিয়া মডেল থানায় ৭ জন, ইবি থানায় ১৪ জন, ভেড়ামারায় ৪ জন এবং খোকসা থানা পুলিশ ২ জনকে আটক করেছে।