৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে শেখ কামাল স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে

কুষ্টিয়াতে শেখ কামালের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় এমপি হানিফ

নিজ সংবাদ ॥ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফ বলেছেন, শেখ কামাল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জেষ্ঠ্য পুত্র হিসেবেই শুধু পরিচিত ছিলেন না। শেখ কামাল তাঁর নিজস্ব গুণাবলিতে সারা জাতির কাছে পরিচিত ছিলেন। তিনি বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে আমাদের ক্রীড়া ক্ষেত্রে শেখ কামালই ছিলেন একমাত্র ব্যক্তি, যিনি বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আধুনিকতার ছোয়াই নিয়ে উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য সংগঠকের মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন। সে সময় ফুটবল ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। এই জনপ্রিয় খেলাটি প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে আমরা যেন খেলতে পারি সেজন্য তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। হানিফ বলেন- শেখ কামাল ইতিহাসের একটি অংশ। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে রণাঙ্গনের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। ছিলেন একজন দক্ষ ক্রীড়া সংগঠক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি ভাল গিটার বাঁজাতেন এবং নাট্যকর্মের সাথেও জাড়িত ছিলেন। তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন আবাহনী ক্রীড়া চক্র এবং ঝঙ্কার নামক জনপ্রিয় একটি সাংস্কৃতিক গোষ্ঠি। প্রধান অতিথি বলেন, এমন একজন মেধাবী তরুণ ক্রীড়া সংগঠকের নামে কুষ্টিয়া স্টেডিয়ামের নাম ‘শেখ কামাল স্টেডিয়াম’ নামকরণ হওয়ায় আজ আমরা কুষ্টিয়াবাসী নিজেদেরকে ধন্য মনেকরছি। হানিফ বলেন- জরাজীর্ণ আমাদের এই স্টেডিয়ামকে ভেঙ্গে নতুন আঙ্গিকে আধুনিক স্টেডিয়াম করা হবে। প্রায় ১ বছর আগে ৪৪ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। শুধুমাত্র নামকরণের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। আশারাখি সেপ্টেম্বরের মধ্যেই টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে এবং নভেম্বরে কাজ শুরু হবে। তিনি বলেন- স্টেডিয়াম নির্মাণ কাজে কোন প্রকার দুর্নীতি মেনে নেয়া হবে না। যারা কাজ করবেন সততার সাথে করবেন।  হানিফ বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে মনিটরিং করা হবে। এ নির্মাণ কাজের মনিটরিংসহ কুষ্টিয়ার ক্রীড়ার উন্নয়নে সার্বিক বিষয়ে দেখভাল করার জন্য তিনি  কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জকে দায়িত্ব দেন। বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্ট কর্তৃক কুষ্টিয়া স্টেডিয়ামের নাম ‘শেখ কামাল স্টেডিয়াম’ নামকরণের অনুমতি দেয়ায় ট্রাস্টের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে কুষ্টিয়াবাসীর পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান মাহবুবউল আলম হানিফ। গতকাল (১০ আগস্ট) সকালে কুষ্টিয়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে ক্রীড়া সংস্থার হলরুমে শেখ কামালের ৭১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মাহবুবউল আলম হানিফ এম.পি এসব কথা বলেন। সভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য আ.ক.ম সরওয়ার জাহান বাদশা বলেন, শেখ কামাল ছিলেন একজন বিশাল ব্যক্তিত্বের মানুষ। অথচ ৭৫’র পরবর্তী কিভাবে শেখ কামালের চরিত্র হনন করা হয়েছিল তা আমরা সবাই জানি। তিনি বলেন, আমি ইতিহাসের সত্যতার কারনে বলছি। সেসময় জাসদের গণবাহিনী এবং জাসদ শেখ কামালকে ব্যাংক ডাকাত বানিয়েছিল। সেদিন বাংলাদেশের এক শ্রেণির মানুষ এই কথা বিশ্বাসও করেছিল। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পরাজিত  শক্র আলবদর, রাজাকার এবং তৎকালীন অতি বিপ্লবী শক্তি জাসদ সেদিন একাকার হয়ে বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে বিষোদগার করেছিল এবং তাঁর চরিত্র হননে লিপ্ত ছিল। তিনি বলেন, সত্য একদিন প্রতিষ্ঠিত হবেই। আজ বাংলার মানুষ সত্য ঘটনা জানতে পরেছে। অপর বিশেষ অতিথি কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ বলেন, শেখ কামালের জীবনাদর্শ আমাদেরকে ধারণ ও লালন করতে হবে।  তিনি শেখ কামাল স্টেডিয়াম প্রতিষ্ঠার মধ্যদিয়ে কুষ্টিয়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার অতীত ইতিহাস ফিরে আসবে এই প্রত্যাশা করেন। কুষ্টিয়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায়  বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাত পিপিএম (বার), কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী, কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী রবিউল ইসলাম, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা। জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাহী সদস্য আফরোজা আক্তার ডিউ’র পরিচালনায় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া জর্জ কোটের পিপি এ্যাড. অনুপ কুমার নন্দী। সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ-সভাপতি মোঃ মকবুল হোসেন লাবলু এবং অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক খন্দকার ইকবাল মাহমুদ। সভার পূর্বে শেখ কামাল স্টেডিয়ামের নাম ফলক উন্মোচন করেন মাহবুবউল আলম হানিফ এমপি। সভা শেষে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ কর্তৃক প্রদত্ত দুস্থ ৬৫ জন খেলোয়াড়ের মাঝে প্রতিজনকে ৫ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয় এবং দোয়া ও মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

আরো খবর...