২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট পাস

ঢাকা অফিস ॥ জাতীয় সংসদে ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়েছে। এবারের বাজেটের স্লোগান ‘অর্থনৈতিক উত্তরণ ও ভবিষ্যত পথ পরিক্রমা’। নিদিষ্টকরণ বিল-২০২০ পাসের মাধ্যমে এ বাজেট পাস হয়। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনে ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য বাজেট কণ্ঠভোটে পাস হয়। বাজেট পাসের প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ব্যয় নির্বাহের যৌক্তিকতা তুলে ধরে মোট ৫৯টি মঞ্জুরি দাবি সংসদে উত্থাপন করে মন্ত্রীরা। মঞ্জুরি দাবিগুলো সংসদে সংসদ সদস্যদের কণ্ঠভোটে পাস হয়। এরমধ্যে আইন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দু’টি দাবির ওপর ছাঁটাই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেন বিরোধীদলের সংসদ সদস্যরা। এর পর টেবিল চাপড়িয়ে সংসদ সদস্যরা নিদিষ্টকরণ বিল ২০২০ এবং ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন করেন। এর আগে ১১ জুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সংসদে ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। প্রস্তাবিত বাজটে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকা। এরমধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। কর ব্যতীত আয় ধরা হয়েছে ৩৩ হাজার কোটি টাকা। রাজস্ব বোর্ড ছাড়াও কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে আরও ১৫ হাজার কোটি টাকা। ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে ১ লাখ ৮৯ হাজার ৯৯৭ কোটি টাকা। যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৬ শতাংশের সমান। যা চলতি অর্থবছরের চেয়ে ৩৫ হাজার ৯৩০ কোটি টাকা বেশি। ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া হবে ৮৪ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা, সঞ্চয়পত্র থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা, বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণ ৭৬ হাজার ৪ কোটি টাকা, বৈদেশিক সহায়তা ৪ হাজার ১৩ কোটি টাকা ও অন্যান্য খাতের সহায়তা ধরা হয়েছে ৫ হাজার কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ প্রায় দুইলাখ কোটি টাকা। যা চলতি অর্থবছরে সংশোধিত বাজেটের ঘাটতির চেয়ে ৩৬ হাজার ৪৮৯ কোটি টাকা বেশি। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ঘাটতির পরিমাণ ১ লাখ ৫৩ হাজার ৬০৮ কোটি টাকা। ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে মোট ব্যয়ের দুই তৃতীয়াংশই ধরা হয়েছে অনুন্নয়ন ব্যয় বা সরকারী কর্মচারীদের বেতন ভাতায়। যার পরিমাণ ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৮০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতায় খরচ হয়েছে ২ লাখ ৯৫ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিশোধে ব্যয় হবে ৫৮ হাজার ২৫৩ কোটি টাকা ও বৈদেশিক ঋণের সুদে ৫ হাজার ৫৪৮ কোটি টাকা। ঋণ পরিশোধেও ব্যয় বাড়বে ৬ হাজার ১৩৭ কোটি টাকা। ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ১৫ হাজার ৪৩ কোটি টাকা। এরমধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) ব্যয় করা হবে ২ লাখ ৫ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা। এডিপি বর্হিভুত প্রকল্পের উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৭২২ কোটি ও কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচিতে যাবে ২ হাজার ৬শ ৫৪ কোটি টাকা। অন্যান্য উন্নয়নখাতের ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৬ শ ২৪ কোটি টাকা। ২০২০-২১ অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৮ দশমিক ২ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি ধরা হয়েছে ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। সাড়ে ৭ লাখ কোটি টাকার নির্দিষ্টকরণ বিল পাস: উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন খাতে সরকারের প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহের লক্ষ্যে ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য সংযুক্ত তহবিল থেকে ৭ লাখ ৫৯ হাজার ৬৪২ কোটি ৪৪ লাখ ২১ হাজার টাকা ব্যয় করার ক্ষমতা দিয়ে সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে নির্দিষ্টকরণ বিল-২০২০ পাস করা হয়েছে। ২০২০ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য সরকারের অনুমিত ব্যয় নির্বাহের লক্ষ্যে সংযুক্ত তহবিল থেকে অর্থ দেওয়া ও নির্দিষ্টকরণের কর্তৃত্বদানের জন্যে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সংসদে এ নির্দিষ্টকরণ বিল-২০২০ উত্থাপন করে পাসের প্রস্তাব করেন। মন্ত্রীরা সংশ্লিষ্ঠ মন্ত্রণালয়ের ব্যয় নির্বাহের যৌক্তিকতা তুলে ধরে মোট ৫৯টি মঞ্জুরি দাবি সংসদে উত্থাপন করেন। এ মঞ্জুরি দাবিগুলো সংসদে কণ্ঠভোটে অনুমোদিত হয়। বিরোধীদলের পক্ষ থেকে এসব দাবির যৌক্তিকতা নিয়ে মোট ৪২১টি ছাঁটাই প্রস্তাব আনা হয়। এর মধ্যে আইন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দু’টি দাবির ওপর বিরোধীদল আনীত ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর সংশ্লিষ্ট সদস্যরা বক্তব্য দেন। এসব ছাঁটাই প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। পরে কণ্ঠভোটে নির্দিষ্টকরণ বিল-২০২০ পাস হয়।

 

আরো খবর...