১২ বছর পর সালাউদ্দিনের ৩৬ প্রতিশ্র“তি

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ বাস্তবায়ন না হলেও নির্বাচনের সময় এলেই লম্বা একটি ইশতেহার তুলে ধরা হয় জাতির সামনে। গেল ১২ বছরে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি থাকা অবস্থায় যেসব স্বপ্ন দেখিয়ে এসেছেন কাজী সালাউদ্দিন, চতুর্থ মেয়াদে সভাপতি পদে নির্বাচনী ইশতেহারে সেসবও ছাপিয়ে গেছেন আজ। সর্বশেষ ২০১৬ সালের নির্বাচনে ২৫টি প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করা সালাউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত পরিষদ এবার প্রকাশ করেছে ৩৬টি নির্বাচনী প্রতিশ্র“তি। সালাউদ্দিন যুগের প্রথম চার বছরে উন্নয়নের পথে ছিল ফুটবল। এ কথা তাঁর শত্রুরাও স্বীকার করেন। কিন্তু গেল আট বছর নিয়ে অভিযোগের অন্ত নেই। ২০১২ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন দেখিয়ে ‘ভিশন-২০২২’ ঘোষণা করেন। সেই পথে হাঁটতে চোখে পড়ার মতো কাজ ছিল না। ফলে ভিশন ২০২২ মুখ থুবড়ে পড়ে অচিরেই। এবারের প্রতিশ্র“তিতে আছে জাতীয় ফুটবল দল, ঘরোয়া ফুটবল, নারী ফুটবল, উন্নয়ন প্রকল্প ও টেকনিক্যাল দিকটি। উল্লেখযোগ্য নতুন বলতে অনূর্ধ্ব-১০ বছর বয়সীদের নিয়ে শেখ রাসেল টুর্নামেন্ট। জাতীয় দলকে আধুনিকভাবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে আবারও। ২০২৪ সালের মধ্যে জাতীয় দলের ফিফা র‌্যাঙ্কিং ১৫০ এবং জাতীয় নারী দলের র‌্যাঙ্কিং ৯০–এর মধ্যে নিয়ে আসার কথা বলা হয়েছে। নিয়মিত বয়সভিত্তিক ফুটবল লিগ ও সরকারের সহায়তায় আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম বৃদ্ধির দিকেও নজর দিতে চায় সম্মিলিত পরিষদ। আগের দুই মেয়াদের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে তুলনা করলে এবারের প্রতিশ্র“তি অনেকটা বাস্তবসম্মত বলাই যায়। কাজী সালাউদ্দিনও সেটিই বলেন, ‘এত দিন যা করেছি, সেটার ধারাবাহিকতা এই ইশতেহার। পারব বলেই এগুলো দিয়েছি।’ ফিফা, এএফসি ছাড়াও পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত অর্থে নির্বাচনী প্রতিশ্র“তি পূরণ করা সম্ভব বলেন অনেকেই। এ জন্য সদিচ্ছা প্রয়োজন। কিন্তু বাফুফের নির্বাচনে দেওয়া সিকি ভাগ প্রতিশ্র“তি ও পূরণ হয় না বলে নেতৃত্বকে দাঁড়াতে হয় কাঠগড়ায়। বাফুফে নির্বাচনে গত ইশতেহারে যেমন জাতীয় দল, ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক ফুটবল, প্রতিটি জেলায় একাডেমি নির্মাণ করে তৃণমূল থেকে ফুটবলার তৈরির বিষয়টি প্রধান্য পেয়েছিল। জাতীয় দল নিয়ে কিছুটা কার্যক্রম চোখে পড়লেও অন্য বিষয়গুলো নিয়ে কাজই হয়নি।

আরো খবর...