হামলা হলে কোনো ছাড় দেয়া হবে না – ইশরাক

ঢাকা অফিস ॥ ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরশনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন ভোটের মাঠে প্রতিপক্ষের হামলার প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছেন, এবার হামলা হলে কোনো ছাড় দেয়া হবে না। প্রতিপক্ষের সব হামলা মোকাবিলা করতে ও কঠোর জবাব দিতে এবার প্রস্তুত আছি। সোমবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলানগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত করে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। ইশরাক হোসেন বলেন, সন্ত্রাসীরা আমাদের দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা চালিয়েছে। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে আমাদের সিনিয়র নেতাদের গাড়িবহরে হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত করা হয়েছে। এ নির্বাচনেও এ ধরনের হামলা হচ্ছে। তবে আমরা এবার প্রতিপক্ষের সব হামলা মোকাবিলা করতে প্রস্তুত আছি। জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত শেষে ইশরাক হোসেন তার গোপীবাগের বাসায় যান। সেখান থেকে চতুর্থ দিনের মতো গণসংযোগে নামার আগে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ফিল্ড একটা তৈরি হয়েছে, সেটা ভোট ডাকাতির, ভোট কারচুপির। প্রতিপক্ষকে দমন করার একটা ফিল্ড তৈরি করা হচ্ছে। এটাকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বলে কি-না, জানি না। প্রচারে নেমে মানুষের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন বলে দাবি করেন ইশরাক। তিনি বলেন, যে এলাকায় যাচ্ছি সেখানের বাসিন্দারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমাদের গণসংযোগে অংশ নিচ্ছেন। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) নিয়ে দলীয় অবস্থান থেকে সরে আসেননি জানিয়ে ইশরাক বলেন, প্রতিনিয়ত বলে আসছি, ইভিএমের মাধ্যমে ভোট কারচুপির সম্ভাবনা আছে। নিভৃতে ইভিএমে কারচুপি করা সম্ভব। ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা মুক্তিযোদ্ধার জাতি। কোনো অপশক্তির কাছে আমরা মাথানত করব না। ৩০ জানুয়ারি অবশ্যই আপনারা ভোট দিতে যাবেন। সুষ্ঠুভাবে যাতে ভোট দিতে পারেন, আমরা আপনাদের পাশে থাকব। নির্বাচনী প্রচার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে ইশরাক বলেন, প্রচার অর্থবহ হচ্ছে। আমরা অলিগলিতে ঘুরছি। আমার জন্ম ঢাকায়। এই নগরীর প্রতিটি গলি আমার চেনা। যেখানে যাচ্ছি, স্থানীয় লোকজন এসে অংশ নিচ্ছেন, কথা বলছেন, কুশল বিনিময় করছেন। মেয়র নির্বাচিত হলে তিন মাসের মধ্যে প্রতি ওয়ার্ডে জনসংখ্যা এবং ঘনত্ব বিবেচনায় গণশৌচাগার নির্মাণ করার প্রতিশ্রুতি দেন ইশরাক। সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির প্রার্থী বলেন, গণশৌচাগার ব্যবহারের ক্ষেত্রে নারীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকবে এবং প্রতিবন্ধী মানুষদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকবে। পর্যাপ্ত গণশৌচাগারের অভাবে নারী এবং প্রতিবন্ধী মানুষেরা প্রায়ই হয়রানির শিকার হন, অস্বস্তিতে পড়েন। গণসংযোগে তার সঙ্গে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, যুব দল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং স্থানীয় বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে ইশরাক নেতা-কর্মী নিয়ে টিকাটুলির অভয়দাস লেনের সেন্ট্রাল উইমেন্স কলেজ থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন। এ সময় বিভিন্ন অলি-গলি দিয়ে প্রচারকালে রাস্তার দু’পাশ থেকে নারী, পুরুষ বাসা ও দোকান থেকে হাত নেড়ে বিএনপি প্রার্থীকে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় তিনি জনসাধারণের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং ধানের শীষে ভোট চান। লিফলেট বিতরণও করেন। পরে দুপুরে তিনি বংশালে যুবদলের কার্যালয়ে এক কর্মিসভায় অংশ নেন। কর্মিসভায় ইশরাক বলেন, ঢাকার নির্বাচন শুধু নির্বাচনই নয়, এটা গণতন্ত্রের লড়াই, দেশনেত্রীর মুক্তির লড়াই। এ লড়াইয়ে মনোবল অটুট রেখে নেতাকর্মীদের সাহসের সঙ্গে কাজ করতে হবে।

আরো খবর...