হত্যা মিশনে অংশ নেয়া যুবদল নেতা মাজিদুল গংরা মাদক চোরাকারবারী সিন্ডিকেটের হোতা

দৌলতপুরে রাশিদুল মোল্লা হত্যাকারীরা গ্রেপ্তার হয়নি এখনো

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ শনিবার কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার গাছিরদিয়াড় এলাকায় রাশিদুল ইসলাম নামে এক যুবককে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হলেও হত্যাকারীরা এখন পর্যন্ত আইনের আওতায় আসেনি। এবিষয়ে দৌলতপুর থানায় ১০/১২জনকে আসামী করে মামলা দায়ের হলেও এখনো আইনের আওতায় আসেনি। যদিও পুলিশ বলছে আসাীরা দ্রুতই আইনের আওতায় আসবে। মৃত্যুর আগে রাশিদুলের বর্ণনা মতে জানা গেছে ফুটবল খেলা শেষে বাড়িতে ফেরার পথে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে স্থানীয় ওয়ার্ড যুবদলের সহ-সভাপতি মাজিদুল ইসলাম ছোটন ও যুবদল সদস্য আসাদুজ্জামান তাইরতসহ অন্তত ১০/১২জন তার ওপর চড়াও হয় এবং তাদের হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র ও হাতুড়ি আর লাঠিসোটা দিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় হামলায় অংশ নেয় শফি, টোকন, ইংরাজ, সাইফুল, কওসার, লিখন, সাগর, সোহলে, শামীম, ডিনার, তারিখসহ অন্যরা। এলাকাবাসী জানায় হত্যাকারীরা এলাকার চিহ্নিত চোরাকারবারী ও মাদক ব্যবসায়ী । বিশেষ করে যুবদল নেতা ছোটন ও তাইরতের অত্যাচারে অতিষ্ট এলাকাবাসী। বিএনপি-জামায়াতের সময় জ¦ালাও পোড়াও তান্ডবে তাদের নেতৃত্বে এলাকায় ব্যাপক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অভিযানে এলাকায় বিএনপি-জামায়াতের তান্ডব কমলেও ছোটন ও তাইরত বাহিনী এলাকায় আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই থেকে শুরু করে সব রকম অপকর্মের সাথে যুক্ত থাকে তারা। সব শেষে নিরীহ যুবক রাশিদুল মোল্লা তাদের নৃশংসতার বলি হলেন। রাশিদুল মোল্লা মোস্তফা মোল্লার ছেলে।  এদিকে ওই ঘটনায় দৌলতপর থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। যার নং-১১/৩৯০। শনিবার সন্ধ্যা ৭ টার দিকে রাশিদুল স্থানীয় মাঠে ফুটবল খেলা দেখে বাড়ি ফেরার পথে পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা ওইসহ সন্ত্রাসীদের হাতে রক্তাক্ত জখম হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থার অবণতি হলে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে রাত ১১ টার দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ২০১৭ সালের  ৫মে একইভাবে মোজাফ্ফর হোসেন এর ছেলে  মাহাবুল ইসলামকে অতর্কিতভাবে খুনের উদ্দেশ্যে হামলা করলে মারাত্মক আহত হয় এবং বেশ কিছুদিন হাসপাতালে চিকিৎসার মাধ্যমে প্রানে বেঁচে যান । ওই ঘটনার সাথে সরাসরি যুক্ত ছিল এই ছোটন ও তাইরত। এদের বিরুদ্ধে অন্তত অর্ধডজন মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে পুলিশ সুত্র জানায়।

আরো খবর...