সড়কের নির্মাণ ব্যয় বেশি ভূমির কারণে – মন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ বাংলাদেশে সড়কের নির্মাণ ব্যয় তুলনামূলক বেশি হওয়ার জন্য মাটির ধরনকে কারণ দেখিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বিএনপির সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক প্রশ্নের জবাবে সোমবার সংসদে একথা বলেন তিনি। চীন ও ভারতে সড়ক নির্মাণ ব্যয় কম উল্লেখ করে বাংলাদেশে ব্যয় বেশি হওয়ার কারণ জানতে চেয়েছিলেন রুমিন। জবাবে কাদের বলেন, “নির্মাণ ব্যয় বেশি-কমের তুলনা করার আগে চীন ও ভারতের সয়েল কন্ডিশন আর আমাদের সয়েল কন্ডিশন এক রকম কি না সেটা আগে জানতে হবে। “সয়েল কন্ডিশন যেখানে ভিন্নতর একটি বিষয় সেখানে নির্মাণের বিষয়টি বাস্তবতায় দেখতে গেলে তখন বিষয়টি অনুধাবন করা যাবে।” সড়কে দুর্ঘটনার জন্য বেপরোয়া গাড়িচালনার পাশাপাশি পথচারীদের নিয়ম না মানাকে দায়ী করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, “সড়ক দুর্ঘটনার জন্য যেমন রেকলেস ড্রাইভিং আছে, আবার রেকলেস পথচারীও আছে। এই ঢাকা সিটিতেই দেখা যাবে যানজটের সাথে জনজট মিলেমিলে একাকার হয়ে গেছে। “বাচ্চা কোলে নিয়ে মোবাইল ফোন কানে নিয়ে এপার থেকে ওপার আর ওপার থেকে এপার হতে দেখা যায়। রাস্তা চলাচলে পথচারীরা কোনো নিয়ম-কানুনের তোয়াক্বা করেন না।” সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে তাই জনসচেতনতা বাড়ানোর উপর জোর দেন মন্ত্রী। তিনি জানান, পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুসারে গত ৫ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় ১২ হাজার ৫৪ জন লোক নিহত হয়েছেন। সংরক্ষিত আসনের লুৎফুন নেসা খানের প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার যানজট নিরসনে সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ছয়টি মেট্রোরেলের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে।রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বলেন, রেলওয়ের ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ব্যয় ছিল ৩ হাজার ১১৫ কোটি টাকা। বিপরীতে আয় ছিল ১ হাজার ৬১৮ কোটি টাকা।নুরুন্নবী চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, বস্ত্র শিল্পের আধুনিকায়নে সরকার  রাষ্ট্রায়ত্ত বস্ত্রকলগুলো চালুর জন্য পাবলিক–প্রাইভেট পার্টনারমিপকে (পিপিপি) অবলম্বন হিসেবে নিচ্ছে। এজন্য বিটিএমসির ১৬টি মিল পিপিপিতে চালানোর বিষয়টি অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি নীতিগতভাবে অনুমোদন করেছে।এই প্রক্রিয়ার প্রথম পর্যায়ে আহমেদ বাওয়ানি টেক্সটাইল মিলের নির্বাচিত প্রাইভেট পার্টনার তানজিনা ফ্যাশনের সঙ্গে গত ২৫ জুন এবং কাদেরিয়া টেক্সটাইলের পার্টনার অরিয়ন কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে ২১ জুলাই চুক্তি সই হয়েছে।ফরিদুল হক খানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদার সঙ্গে সংগতি রেখে পাট ও পাটজাত পণ্য উৎপাদনের বেশ কিছু সমস্যা আছে।এর মধ্যে রয়েছে- উন্নত বীজের অভাব ও আমদানি নির্ভরতা, পাট পচানোর জন্য পানির স্বল্পতা, পণ্যে পাটজাত মোড়কের ব্যবহার বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইনের সীমাবদ্ধতা, আন্তর্জাতিক বাজার সংকোচন, পাটচাষীদের উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, পাটজাত পণ্য রপ্তানির ওপর ভারত কর্তৃক এন্টি ডাম্পিং শুল্ক আরোপ এবং পর্যাপ্ত বিদেশি বিনিয়োগের অভাব।এনামুল হকের প্রশ্নের জবাবে বস্ত্রমন্ত্রী বলেন, ২০১৮–১৯ অর্থবছরে পাটকলগুলোর উৎপাদন ছিল ৬৯ হাজার ১১১ টন। তার আগের বছর এই উৎপাদন ছিল ১ লাখ ৩৩ হাজার ৩৮৩ টন।

আরো খবর...