স্মৃতির পাতায় খোকন বিশ্বাস

গত ৮ মার্চ ছিলো বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ এসিদুর রহমান খোকন বিশ্বাসের ২১তম শাহাদৎ বার্ষিকী। তিনি ছিলেন একজন নির্ভিক  দেশ প্রেমিক ও সমাজসেবক। মুক্তিযোদ্ধা এসিদুর রহমান খোকন বিশ্বাস ১৯৯৯ সালের ১৬ ফেব্র“য়ারী জাতীয় পতাকার রুপকার নিউক্লিয়াসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা জাতীয় বীর কাজী আরেফ আহামেদ সহ বীর মুক্তিযোদ্ধা লোকমান হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাডঃ ইয়াকুব আলী, স্থানীয় নেতা শহীদ শমসের আলী মন্ডল ও ইসরাইল হোসেন তফসেরকে এক সন্ত্রাস বিরোধী সমাবেশে প্রকাশ্যে দিনের বেলায় সন্ত্রাসীরা ব্রাশফায়ার করে হত্যা করে। এই ৫ জন দেশ প্রেমিক ও জাতীয় নেতাকে হত্যার ঠিক ২১ দিনের মাথায় ৮ মার্চ ১৯৯৯ এই সন্ত্রাসীরাই বীর মুক্তিযোদ্ধা এসিদুর রহমান খোকন বিশ্বাসকে দিনের বেলায় গ্রামের বাড়ী  মিরপুর উপজেলার পুটিমারী গ্রাম থেকে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায় এবং হত্যা করে। কোথাই তার লাশ আছে কেউ বলতে পারত না। দীর্ঘ ৭ মাস পরে পরিবারের লোকজন জানতে পারে আলমডাঙ্গা থানার আঠারখাদা মাঠের ভিতর পুতে রাখে সন্ত্রাসীরা। সেখানে পুলিশের সহযোগিতায় তার পরিবারের লোকজন লাশটি উদ্ধার করে। মজার ব্যাপার লাশটি একটুও নষ্ট হয়নি। যেমন মানুষ  সেমনই ছিল। বৃহত্তর কুষ্টিয়া জেলাতে দীর্ঘসময় ধরে এই চরমপন্থী সন্ত্রাসীরা হত্যা খুন গুমের খেলায় মত্ত ছিল। এখানে পুলিশ প্রশাসন সাধারন মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ ছিল। মানুষ অসহায় হয়ে নিরবে দেখতো। হত্যা খুন, চাঁদাবাজী, গ্রামের সুন্দরী মেয়েদের উপর অত্যাচারসহ বসবাসের উপায় ছিলোনা। জনপদ ছিল রক্তস্নাত। রাত হলেই মানুষ পুলিশ ক্যাম্পে আশ্রয় নিতো, গ্রাম ছেড়ে চলে যেত কাছাকাছি শহরের দিকে। কেউ আলমডাঙ্গায় কেউ মিরপুর। সকাল হলে আবার গ্রামের বাড়ীতে মাঠের কাজে আবার সন্ধ্যায় আবার শহরে। এতকষ্ট মানুষের ছিল ওই সময়গুলো। তারই প্রতিবাদকারী ছিল বীর মুক্তিযোদ্ধা এসিদুর রহমান খোকন বিশ্বাস। যে কারনেই তাকে জীবন দিতে হয়েছে এই খুনি সন্ত্রাসীদের হাতে।  গত ৮ মার্চ ছিলো তার ২১তম শাহাদৎ বার্ষিকী। একজন দেশ প্রেমিক মুক্তিযোদ্ধাকে যারা হত্যা করলো তারা সেই সময় কোন না কোনভাবে রাষ্ট্র ক্ষমতার পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছে। রাষ্ট্র ক্ষমতা ব্যবহার করেই প্রশাসনের নাকের ডগাই বসেই এই অপকর্মগুলো করেছে। দুঃখজনক হলেও সত্য সেই সময় রাষ্ট্রের ক্ষমতায় ছিল মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল আওয়ামীলীগ। অথচ এতবড় ঘটনা ঘটালো জাতীয় নেতা কাজী আরেফ আহামেদসহ এতগুলো মুক্তিযোদ্ধাকে জীবন দিতে হলো নিশ্চয়ই এখানে কেউ কেউ এই অপশক্তির সাথে কাজ করেছে। আজ ২১ বৎসর পরেও আমরা দেখতে পাই সমাজের দুষ্ট লোকেরা সমাজকে আতংকিত করে, সমাজের ভদ্র মানুষ, ভালো মানুষগুলো নির্যাতনের কাতারেই আছে। আমরা সেই সময় দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের সমস্ত সন্ত্রাসীদের বন্দুকের গুলির সামনে দাঁড়িয়ে, রাজপথে লড়াই সংগ্রাম করেছিলাম। সন্ত্রাসীদের কবর দাও মানুষকে মুক্তি দাও। আজ বিভিন্নভাবে আমাদের সেই মানুষগুলোকে পুলিশ দিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানীসহ নানাভাবে সমাজে হেনস্ত করা হচ্ছে। আর ঐ অপশক্তির সাঙ্গ-পাঙ্গরা সমাজের ক্ষমতাধর হয়েছে। যে কারনে এখনও গ্রামের মানুষরা দখলদারিত্বের বাইরে বের হতে পারেনি। মানুষ তার নিরাপত্তার আলো এখনও শতভাগ নিশ্চিত করতে পারেনি, খুনিরা প্রকাশ্যে বন্দুক উচিয়ে নিয়ে না বেড়াতে পারলেও তাদের অপকর্ম বন্ধ হয়নি। তারা হাট দখল, ঘাট দখল,  টেন্ডার দখল করে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করে গুন্ডাবাহিনী লালন পালন করছে শুধুমাত্র দখলদারিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য। এই সমস্ত অপকর্মের বিরুদ্ধে দাড়িয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা এসিদুর রহমান খোকন বিশ্বাস সমাজকে দখলমুক্ত করতে চেয়েছিলেন, সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে  চেয়েছিলেন। তার সেই ত্যাগের বিনিময়ে সমাজ তাকে স্মরণ করবে অনন্ত কাল। শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা এসিদুর রহমান খোকন বিশ্বাসের আত্মার শান্তি কামনা করি।

কারশেদ আলম, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক, জাসদ, মিরপুর উপজেলা শাখা

 

আরো খবর...