স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্বের তোয়াক্কা না করে ভাতাভোগীদের ঘন্টার পর ঘন্টা গাদাগাদি করে বসিয়ে রাখার অভিযোগ

খোকসায় সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালী

খোকসা প্রতিনিধি ॥ করোনা পরিস্থিতির মধ্যে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালীতে বয়স্ক বিধবা ও প্রতিবন্ধি ভাতা ভোগীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। স্বাস্থ্য বিধি ও সামাজিক দূরত্বের তোয়াক্কা না করে ভাতাভোগীদের ঘন্টার পর ঘন্টা গাদাগাদি করে বসিয়ে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল রবিবার সকালে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার ওসমানপুর ইউনিয়নের কয়েক’শ বয়স্ক বিধবা ও প্রতিবন্ধি সোনালী ব্যাংক খোকসা শাখায় আসেন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের রাস্তায় দাঁড় করিয়ে রাখেন। বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভাতা ভোগীদের ভীড় বাড়তে থাকে। খোকসা বাজারের ব্যাংক এলাকার প্রধান সড়কে মানবজটের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের নজরে এলে প্রায় ৫শ ভাতাভোগীকে রাস্তা থেকে সড়িয়ে পান বাজারের একটি ছাপড়া ঘরে নিয়ে যাওয় হয়। কিন্তু সেখানেও আবার মানবজটের সৃষ্টি হয়। কয়েক ঘন্টা তাদের গাদাগাদি করে বসিয়ে রাখা হয়। অবশেষে দুপুর গড়িয়ে গেলে এক এক করে ভাতা ভোগীদের টাকা দেওয়া শেষ হয়। এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক মহল। তারা বলছে, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের ব্যাপক কর্মযোগ্যে চলছে। অন্যদিকে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্বকে পাত্তা না দিয়ে সোনালী ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক খামখেয়ালী করে বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধিদের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলেছে। উপজেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৯ ইউনিয়ন ও পৌর এলাকা মিলিয়ে ৪ হাজার ৪৪৭ জন বয়স্ক, ৩ হাজার ১শ বিধবা ও ১ হাজার ৬৭ জন ভাতা ভোগী প্রতিবন্ধি রয়েছেন। সোনালী ব্যাংকের ৩টি শাখা, জনতা ব্যাংকের একটি ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একটি শাখার মাধ্যমে ভাতাভোগীদের টাকা পরিশোধ করা হয়। বর্তমান করোনা পরিস্থিতির কারনে ভাতাভোগীদের চলতি বছরের জানুয়ারী থেকে জুন পর্যন্ত সময়ের টাকা ছাড় করা হয়। অন্যান্য ব্যাংকের শাখাগুলো গ্রামে গ্রামে ক্যাম্প করে সুবিধাভোগীদের টাকা পরিশোধ করে। কিন্তু এ পদ্ধতিতে সুবিধাভোগীদের টাকা পরিশোধে বাদ সাধেন সোনালী ব্যাংক খোকসা শাখার ব্যবস্থাপক। চরম করোনা পরিস্থিতির মধ্যে আগের নিয়মেই সুবিধাভোগীর খবর জানিয়ে দেওয়া হয় ব্যাংক থেকে ভাতার টাকা গ্রহনের জন্য। রবিবার সকালে ব্যাংকে ভিড় করে ওসমানপুর ইউনিয়ন পরিষদ এলাকার প্রায় ৫শ ভাতাভোগী। প্রচন্ড তাপদাহ উপেক্ষা করে তারা ব্যাংকের সামনে অপেক্ষা করতে থাকেন। এক পর্যায়ে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তাদের পান হাটায় স্থানান্তর করা হয়। উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা শাম্মী আক্তার যুথি বলেন, করোনা ও ঈদের কারনে এবার একটু আগেই বয়স্ক বিধবা ও প্রতিবন্ধিদের টাকা দেওয়া শুরু হয়েছে। ব্যাংকগুলোকে স্বস্থ্য বিধি ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে গ্রামে ক্যাম্প করে সুবিধা ভোগীদের টাকা পৌঁছে দিতে অনুরোধ করা হয়েছে। দুই একটি ব্যাংক নিয়ম মানছেনা বলেও তিনি স্বীকার করেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশের এএসআই তারিকুল বলেন, অন্য ব্যাংকগুলো গ্রামের স্কুলে স্কুলে ক্যাম্প করে ভাতা  ভোগীদের টাকা দিয়েছে। শুধু সোনালী ব্যাংকই এক সাথে এতো লোক এক জায়গায় গাদাগাদি করেছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বাবুল আকতার প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন, বাজারগুলোতে জনারণ্য রোধ করতে জেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থান গ্রহন করেছে। সাধারণ মানুষ তা গ্রহন করেছেন। কিন্তু সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজার খামখেয়ালী করে বৃদ্ধ প্রতিবন্ধি ও বিধবাদের স্বাস্থ্য ঝুকিতে ফেলেছে। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক বলেও তিনি মনে করেন। সোনালী ব্যাংক খোকসা শাখার ব্যবস্থাপক মহাতেকূল ইসলাম বলেন, তারা শুধু ওসমানপুর ইউনিয়নের ৮শ ভাতাভোগীদের মধ্যে টাকা বিতরণ করেছে। ব্যাংক খোলার আগেই ভাতাভোগীরা এসে ব্যাংকের সামনে জটলা করেছিল। পরে তাদের পান বাজারে নিয়ে গিয়ে সামাজিক দূরত্ব মেনে টাকা দেওয়া হয়েছে।

আরো খবর...