স্বাধীনতার পূর্ণাঙ্গ স্বাদ পেতে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের যোগ্য সম্মান দিতে হবে

কুষ্টিয়ায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের প্রস্তুতিমূলক সভায় আসলাম হোসেন

আরিফ মেহমুদ ॥ কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন বলেছেন, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান ও দেশের সূর্য্য সৈনিক মুক্তিযোদ্ধারা যে আশা ও প্রত্যাশা নিয়ে এদেশ স্বাধীন করেছিল তা পুরণ হয়নি আজো। দেশের স্বাধীনতার দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও আমরা এখনো স্বাধীনতার পূর্ণাঙ্গ স্বাদ পায়নি। দেশের স্থপতি জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিবক ৭মার্চের আহবানে সাড়া দিয়ে বাংলার দামাল ছেলেরা মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গণে যারা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে এদেশ স্বাধীন করেছে তাদের মধ্যে কোন বিভেদ অনৈক্য থাকতে পারেনা। ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এ স্বাধীনতা। এই স্বাধীনতাকে অস্বীকার করার কিছু নেই। গতকাল বুধবার সকালে জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের আয়োজনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমুলক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, মহান স্বাধীনতা বাঙালী জাতি তথা আমাদের জন্য বিশাল কিছু পাওয়া। বছরে একবারই মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত হয়ে থাকে। আমরা যে যেখানে থাকি না কেন সেখান থেকেই ওই দিনে শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করতে হবে। যারা দেশের মাটি ও পতাকাকে ভালবাসতে পারে না তাদের দ্বারা কোনদিন দেশের কল্যাণ হতে পারে না। জাতিকে কলঙ্ক ও দায়মুক্ত করতে এবং স্বাধীনতার পূর্ণাঙ্গ স্বাদ পেতে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের যোগ্য সম্মান দিতে হবে। আমাদের শ্রদ্ধাভরে শহীদ বীর সেনাদের স্মরণ করতে হবে। তবে আমাদের দেশসহ বিশ^ব্যাপী করোনা ভাইরাস বিস্তারের কারনে অনুষ্ঠানকে সংক্ষিপ্ত আকারে সাজানো হবে। সবার আগে মানুষের জীবন। এটি মনে রেখেই আমাদের জাতীয় প্রত্যেকটি অনুষ্ঠান সংক্ষিপ্ত করে সম্পন্ন করতে হবে। কোনভাবেই ব্যাপক গণজমায়েত করা হবে না।

তাকে সার্বিক সহযোগিতা করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট লুৎফুন নাহার। সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহসভাপতি হাজ¦ী রবিউল ইসলাম, জেলা সিভিল সার্জন ডা. এইচ.এম আনোয়ারুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ওবাইদুর রহমান, স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালক মৃনাল কান্তি দে, কুষ্টিয়া সরকারী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ সফিকুর রহমান খান, কুষ্টিয়া শহর আওয়ামীলীগের সভাপতি তাইজাল আলী খান, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডাঃ নুরুন্নাহার বেগম, কুষ্টিয়া কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন চৌধুরী, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তানিমুল হক, এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী এ এস এম শাহেদুর রহিম, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহেদুল করিম, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পিযুষ কৃষ্ণ কুন্ডু, জেল সুপার জাকের হোসেন, জেলা আনসার ভিডিপি কমান্ডার সোহেলুর রহমান, জেলা প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ সিদ্দিকুর রহমান, কুষ্টিয়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার রফিকুল আলম টুকু, চেম্বারের সাবেক সভাপতি ও শিশু সংগঠক আশরাফ উদ্দিন নজু, বড় বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোকাররম হোসেন মোয়াজ্জেম, দি কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্সের সহ-সভাপতি এস এম কাদেরী শাকিল, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জায়েদুর রহমান, ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী প্রণব চন্দ্র দেবনাথ, পাসপোর্টের সহকারী পরিচালক মুনতাকিম মোঃ ইব্রাহিম, বিএফএ’র সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ, পল্লী বিদ্যুতের জিএম হারুন-অর-রশিদ, বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক এটিএম জালাল উদ্দিন, জেলা সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা তৌহিদুজ্জামান, জেলা বিআরডিবি কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার, ড্রাগ সুপার হারুন-অর-রশিদ, কৃষি সম্প্রসারণের উপ-পরিচালক বিভুতি ভুষণ সরকার, সমাজ সেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রোখসানা পারভীন, বাজার মনিটরিং অফিসার রবিউল ইসলাম, জেলা শিশু কর্মকর্তা মখলেছুর রহমানসহ জেলার সূধীজন, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, এনজিও প্রতিনিধি ও সাংবাদিক প্রতিনিধিগণ।

সভায় উপস্থিত সকলকে নিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে মুল কমিটি গঠন সহ বিভিন্ন উপ-কমিটি গঠন করা হয়। প্রতিবারের ন্যায় এবারো যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করা হবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত গৃহিত হলেও আমাদের দেশসহ বিশ^ব্যাপী করোনা ভাইরাস বিস্তারের কারনে অনুষ্ঠানকে সংক্ষিপ্ত আকারে সাজানো হবে। সবার আগে মানুষের জীবন। এটি মনে রেখেই আমাদের জাতীয় প্রত্যেকটি অনুষ্ঠান সংক্ষিপ্ত করে সম্পন্ন করতে হবে।

আরো খবর...