সৃজিতের সিনেমার কঠোর সমালোচনা করলেন তসলিমা নাসরিন

বিনোদন বাজার ॥ নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু হারিয়ে যান ১৯৪৫ সালে। তারপর থেকে আর খোঁজ মেলেনি তার। কখনও জাপানে বিমান দুর্ঘটনায় তার মৃত্যুর কথা বলা হয়, কখনও বলা হয় উত্তরপ্রদেশে এক সাধুর বেশে হাজির হন নেতাজি। সেই সাধু বাবার নাম ছিলো গুমনামি বাবা। ইতিহাসের এমন গল্প নিয়ে ‘গুমনামি’ সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন সৃজিত মুখোপাধ্যায়।

 

গত ২ অক্টোবর কলকাতায় মুক্তি পায় শ্রীকান্ত মোহতা ও মহেন্দ্র সোনি শ্রীভেঙ্কটেশ ফিল্মসের ব্যানারে নির্মিত ‘গুমনামি’ সিনেমাটি। এতে গুমনামি বাবার চরিত্রে অভিনয় করছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। সম্প্রতি সিনেমাটি দেখেছেন তসলিমা নাসরিন। সিনেমাটি দেখে এসে ফেসবুকে নিজের অভিমন ব্যক্ত করেন তিনি।

 

এক স্ট্যাটাসে তসলিমা নাসরিন লিখেছেন, ‘গুমনামি দেখলাম। টরচার বটে। ডকুমেন্টারি ফিল্ম বেইসড অন অফুরন্ত আবেগ এবং ফ্লিমজি প্রমাণ। বই পোড়ানো, আত্মহত্যার চেষ্টা, কান্নাকাটি। এগুলো কোনও সিরিয়াস রিসার্চার করে? সিরিয়াস ইস্যু নিয়ে সিরিয়াস কথাবার্তা নেই, শক্ত শক্ত প্রমাণ খাড়া করানো নেই, বুদ্ধিদীপ্ত যুক্তি-তর্ক নেই।

 

চিপ একখানা ছোটদের রহস্য উদঘাটন মুভি। শেষের দিকে এক দৃশ্যে নেতাজি মৃত্যুর ওপার থেকে এসে বলছেন, আমাকে নিয়ে গবেষণা থামিও না, করে যাও! এসেছিলেনই যখন, বলেই যেতে পারতেন কিভাবে মৃত্যু হয়েছিল তাঁর!

 

এ ছবিতে কে বলেছে সব থিওরিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে! সব গুলোকে বরং মিথ্যে ঘোষণা করে সুভাষ বসুকে গুমনামি বাবা হিসেবে দেখাতে যত চোখের জল ফেলতে হয় ফেলেছেন সৃজিত। সৃজিতের দরকার অলিভার স্টোনের কন্সপিরেসি ছবিগুলো দেখা। এক জেএফকেই মনোযোগ দিয়ে দেখলে যথেষ্ট।’

 

উল্লেখ্য, নেতাজি সুভাষ বসু মারা গেছেন নাকি বেঁচে আছেন তা নিয়ে সকলে যখন ভাবছেন, ঠিক তখন ১৯৭০ সালে উত্তর প্রদেশের এই গুমনামি বাবার আর্বিভাব হয়। গুমনামি বাবাকে নেতাজি মনে করতেন অনেকেই। এই গুমনামি বাবার মুখের আদল নাকি এক্কেবারে নেতাজির মতো।

 

গুমনামি বাবার কাছে নাকি এমন তথ্য ছিল তা নাকি একমাত্র নেতাজির কাছেই থাকা সম্ভব। শোনা যায়, গুমনামি বাবার বাক্সে নাকি আজাদহিন্দের বেশকিছু চিঠিপত্র পাওয়া গিয়েছিল। গুমনামি বাবা নাকি এমন অনেক কিছুই ব্যবহার করতে যা নেতাজিও ব্যবহার করতেন। তবে গুমনামি বাবা নিজে কখনও বলেননি যে তিনিই নেতাজি। ১৯৮৫ সালে মৃত্যু হয় এই গুমনামি বাবার।

আরো খবর...