সামাজিক বোমা বিস্ফোরণ হতে পারে যে কোনো সময় – রেডক্রস  প্রধান

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ করোনা ভাইরাসের প্রভাবে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ মানুষ এখন কোয়ারেন্টিনে। আইসোলেশনে রয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ভয়ে বিশ্বের বড় বড় শহরে চলছে লকডাউন। ফলে স্বাভাবিক কাজকর্ম ছেড়ে ঘরের ভেতর থাকতে বাধ্য হচ্ছেন সবাই। দেশগুলোর মধ্যে বন্ধ রয়েছে সড়ক, নৌ ও আকাশ যোগাযোগ থেকে শুরু করে ব্যবসা বাণিজ্যও। এমন পরিস্থিতি আর কয়েক মাস অব্যাহত থাকলে বিশ্বজুড়ে অন্তত আড়াই কোটি মানুষ চাকরি হারাতে পারেন বলে এরই মধ্যে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)। এ ছাড়া করোনার কারণে প্রতিদিন ইউরোপসহ গোটা বিশ্বে যে পরিমাণ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে তাতেও উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়ছে।

বিশেষ করে ইউরোপে প্রিয়জন হারানোর শোক আর আতঙ্ক স্থায়ী ট্রমার সৃষ্টি করছে মানুষের মনে, যা ভবিষ্যতে ভয়াবহ সামাজিক অস্থিরতার কারণ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির (আইএফআরসি) প্রধান ফ্রান্সেসকো  রোকা। গত শুক্রবার জাতিসংঘের এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্যের সময় তিনি এ কথা বলেন। রোকা বলেন, ‘প্রচুর মানুষ রয়েছে, যারা সমাজের একেবারে প্রান্তিক জীবনযাপন করছেন। আমি আশঙ্কা করছি, সবচেয়ে বড় শহরগুলোতেই আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বড় সামাজিক সমস্যা তৈরি হবে। বিশেষ করে করোনা ভাইরাস সংকটে আয় হারানোর কারণে ইউরোপের বড় শহরগুলোর দরিদ্র মানুষের মধ্যে এই সামাজিক অস্থিরতা হতে পারে প্রকট। এটা একটা সামাজিক  বোমা, যা যে কোনো সময় বিস্ফোরিত হতে পারে। কারণ তাদের উপার্যনের কোনো উপায় থাকছে না।’ ইউরোপে করোনায় বিপর্যস্ত ইতালি, স্পেন ও ফ্রান্সে বর্তমানে স্থানীয়দের পাশাপাশি আক্রান্তদের সুশ্র“ষার কাজ করছেন আইএফআরসির সদস্যরা। এ বিষয়েই শুক্রবার জাতিসংঘের  প্রেস ব্রিফিংয়ে কথা বলে রোকা। ইতালি ও স্পেনের পরিস্থিতি নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি জানান, সামাজিক অস্থিরতা কারণে আইসোলেটেড অবস্থায় থাকা দুর্বল জনগোষ্ঠীর মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে। এমন অনেক মানুষ আছেন যারা অড জব করে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ২০ থেকে ২৫ ইউরো উপার্জনের মাধ্যমে জীবন নির্বাহ করেন। অধিকাংশ সময়ই তারা সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বাইরে থেকে যান। এই লকডাউন অবস্থায় তারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলেও উলে¬খ করেন তিনি।

আরো খবর...