সাংবাদিকদের বিশেষ মর্যাদা হনন করেছে বিএনপি – তথ্যমন্ত্রী

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপি ২০০৬ সালে সাংবাদিকদের বিশেষ মর্যাদা হনন করেছে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ও বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. হাছান মাহমুদ। গতকাল বুধবার বিকেলে কাকরাইলের পিআইবি মিলনায়তনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। আলোচনা সভাটি বিএফইউজে’র সহায়তায় বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট আয়োজন করে। তথ্যমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু সাংবাদিকবান্ধব ছিলেন। তিনি সাংবাদিকদের বিশেষ মর্যাদার আসনে বসিয়েছিলেন। কিন্তু ২০০৬ সালে খালেদা জিয়া কলমের এক খোঁচায় সাংবাদিকদের বিশেষ মর্যাদার আসন থেকে শ্রমিক বানিয়ে দিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, আইনটি সংশোধন হচ্ছে। ইতোমধ্যেই সংশোধিত আইনটি নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে। এই আইন মন্ত্রিসভা থেকে পার্লামেন্টে নিয়ে যাব। সাংবাদিকদের যে মর্যাদা হনন করা হয়েছিল সেটি ফিরিয়ে দেওয়া হবে। ড. হাছান মাহমুদ বলেন, এই মহামারিকালে সরকার সাংবাদিকদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে। ইতোমধ্যে প্রথম পর্যায়ে ১৫শ’ সাংবাদিককে সহায়তা দেয়া হয়েছে। দল-মত নির্বিশেষে এই সহায়তা দেয়া হয়েছে। যারা প্রেসক্লাবের গেটে দাঁড়িয়ে সরকারের সমালোচনা করে তাদেরও সহায়তা করা হয়েছে। এই সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী। আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাফর ওয়াজেদ। তিনি বলেন, বাঙালি জাতির জন্য আগস্ট একটি শোকের মাস। ’৭৫ পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি। তিনি আরো আলোকিত হয়ে উঠেছেন। পুরো মানচিত্র জুড়েই রয়েছেন তিনি। সভাপতির বক্তব্যে তথ্য সচিব কামরুন নাহার বলেন, বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশ একই সূত্রে গাঁথা। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত দেশ গড়ার। তার সুযোগ্য কন্যা সেটি করছেন। আলোচনা সভায় বিএফইউজে’র সভাপতি মোল্লা জালাল বলেন, বঙ্গবন্ধুর নামে অনেক সংগঠন গড়ে উঠেছে। এগুলোকে নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম, আগস্ট মাস ঘটনাবহুল মাস। এই আগস্ট মাসে শেখ কামাল ও ফজিল্লাতুন্নেছা মুজিবের জন্ম এবং এই আগস্টে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে। তাই এই মাস এলেই আবেগআপ্লুত হই। বঙ্গবন্ধু না আসলে আমরা পতাকা পেতাম না। অথচ বঙ্গবন্ধুর জীবনাচার আমরা কতটা অনুসরণ করছি। তিনি সারাজীবন গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন। তিনি মানুষের মুক্তি চেয়েছিলেন এজন্য একাধিকবার তাকে জেলে যেতে হয়েছে। তাই তার জীবন সম্পর্কে শিক্ষা নিতে হলে বঙ্গবন্ধুর জীবনী নিয়ে লেখা তিনটি বই সবাইকে পড়তে হবে এবং তাকে স্মরণ করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। ১৫ আগস্টের শহীদদের স্মরণ করে প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ। আমাদের আত্মপরিচয়ের ঠিকানা বঙ্গবন্ধু। তিনি বলেন, পাঠ্যপুস্তকে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আসতে হবে। ৭ মার্চের ভাষণের প্রতিটি শব্দ নিয়ে গবেষণা করা যায়। বঙ্গবন্ধু তার আপন আলোয় উদ্ভাসিত হবেন। তাকে ছাড়া বাংলাদেশ হতো না। বিএফইউজে’র মহাসচিব শাবান মাহমুদ বলেন, বঙ্গবন্ধু এই দেশ স্বাধীন করতে আমৃত্যু কাজ করেছেন, পুরো জাঁতি তার প্রতি ঋণী, যারা এটা অস্বীকার করেন তাদের এ দেশে বসবাস করার কোন অধিকার নেই। ডিইউজের সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ বলেন, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অনেক লেখালেখি হচ্ছে, তবে সেটি নিয়ে গবেষণা নেই। আমাদের গবেষণা বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু নিয়ে ইনিয়ে বিনিয়ে যারা কথা বলতে চাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের সোচ্চার হতে হবে। সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু বলেন, যারা বঙ্গবন্ধু হত্যার সেই সময় খলনায়কের ভূমিকায় ছিলেন তাদের মরণোত্তর বিচার দাবি করেন তিনি। বঙ্গবন্ধু সাংবাদিকদের বিশেষ সম্মান দিয়েছিলেন, আমরা সেটি ফিরে পেতে চাই। সাংবাদিক কাসেম হুমায়ুন বলেন, বঙ্গবন্ধু জীবনে কোন লোভ-লালসা ছিল না। লোভ-লালসা থাকলে তিনি দেশ স্বাধীন করতে পারতেন না। তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান কামরুন নাহারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভাটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম কবীর।

আরো খবর...