সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্নকারী অপরাধীকে কোনভাবেই ছাড় দেয়া হবে না

কুষ্টিয়া জেলা আইন-শৃংখলা কমিটির সভায় ডিসি আসলাম হোসেন

আরিফ মেহমুদ ॥ কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোঃ আসলাম হোসেন বলেছেন, মাদকদ্রব্য পরিবার, দেশ তথা রাষ্ট্রে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরী করছে। আগামীর নেতৃত্বদানকারী আজকের প্রজন্মকে মাদকের ছোয়া থেকে বাইরে রাখতে বেশি বেশি করে সচেতন হতে হবে। জেলাকে মাদকের ভয়াবহতা মুক্ত করতে নিজেদের দায়িত্ববোধ থেকেই মাদকের মুল উৎপাটন করতে হবে। কোন বহনকারীকে সাজা দেয়ার আগে তার তথ্য মতে মাদকের নাটের গুরু গডফাদারকে আইনের আওতায় আনা হবে। সে যে দলেরই হোক না কেন। জেলায় মাদকের ব্যবহার কমাতে মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরসহ আইনশংখলা বাহিনী নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে। তাদেরকে সার্বিক সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসতে হবে। গতকাল রবিবার সকালে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে  জেলা আইন-শৃংখলা কমিটির মাসিক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, মাদক নির্মুলে যে মোবাইল কোর্টসহ অভিযান চলছে, তা আগের মতই চলবে। এক্ষেত্রে আইনের প্রয়োগ যেন যথার্থই হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে হবে। এতে কিছু মানুষ ক্ষুদ্ধ হলেও অভিযুক্তকে তাৎক্ষনিক সাজা প্রদান করায় দেশের অধিকাংশ মানুষই এই মোবাইল কোর্টকে গ্রহন করেছেন। তিনি ইউএনও এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের উদ্দ্যেশে বলেন, মনে রাখতে হবে অভিযান চলাকালীন সময়ে নানান পরিচয় দিয়ে তোমাকে যেন তার পক্ষে ব্যবহার করতে না পারে। তিনি বলেন, জনজীবনে দূর্ভোগ সৃষ্টি করে কোন বিশৃংখলা করতে দেয়া হবে না। দূর্ভোগ সৃষ্টিকারীদের কঠোরহস্তে দমন করা হবে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকল অনিয়ম-দুর্নীতি ও চাঁদাবাজী রোধে প্রয়োজনে কঠোরতম ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। শুধু আইন-কানুন থাকলে হবে না। প্রত্যেকের নৈতিক শিক্ষাও থাকতে হবে। সৃষ্ট সামাজিক অবক্ষয় রোধে এবং এই জনপদের সাধারণ মানুষকে শান্তিতে ও নিরা দে রাখতে সবাইতে এগিয়ে আসতে হবে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃংখলা রক্ষা বাহিনীর পাশাপাশি আপনাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। আইনশৃংখলা রক্ষা বাহিনীর একার পক্ষে গোটা জেলাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা সম্ভব নয়। কোনভাবেই জেলায় কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে দেয়া হবে না।

সভায় একজন সদস্যের “জেলায় মাদকদ্রব্যের ব্যবহার বেড়েছে এবং শহরের যত্রতত্র মাদকদ্রব্য পাওয়া যাচ্ছে” এমন বক্তব্যের জবাবে কুষ্টিয়ার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার একেএম জহুরুল ইসলাম বলেন, জেলাকে মাদকের ভয়াবহতা মুক্ত করতে নাটের গুরু গডফাদারকে আইনের আওতায় আনা হবে। মাদকদ্রব্য নির্মূলে প্রশাসন সজাগ রয়েছে। জনগণকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি মাদকদ্রব্য বিক্রি বন্ধসহ যে কোন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকান্ডের তথ্য প্রশাসনের কাছে সরবরাহের অনুরোধ জানান তিনি। মাদক সেবী ও ব্যবসায়ীকে সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে।

সভায় গরীব অসহায় দুস্থ্য ২শ মানুষের সাহায্যার্থের চাল ঝাউদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কর্তৃক আত্মসাতের অভিযোগ উঠলে জেলা প্রশাসক বলেন, যেহেতু এটি একটি লিখিত অভিযোগ। বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। সেহেতু খুব দ্রুত তদন্ত করে দোষী প্রমান হলে ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।  সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্নকারী কোন অপরাধীকে কোনভাবেই ছাড় দেয়া হবে না।  তিনি বলেন, জেলাবাসীর জানমাল ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা হবে। জেলাবাসীর আন্তরিকতা ও অক্লান্ত প্রচেষ্টায় আগের যে কোন সময়ের চেয়ে জেলার আইনশৃংখলা পরিস্থিতি অনেকটাই ভাল আছে। জেলার আইনশৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে হলে সবার আগে আপনাকেই সঠিক দায়িত্ব পালন করতে হবে। বিগত মাসের প্রতিবেদন তুলে ধরে তাকে সার্বিক সহযোগিতা করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হাসান হাবীব। সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তরফদার সোহেল রহমান, ডিডিএলজি মোস্তাক আহমেদ  কুষ্টিয়ার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার একেএম জহুরুল ইসলাম, মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ সফিকুর রহমান খান, বিশিষ্ট লেখক কলামিষ্ট ও জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি শেখ গিয়াস উদ্দিন আহমেদ মিন্টু,  জেলা জাসদের সভাপতি গোলাম মহসিন, দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার, কুমারখালি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিনুজ্জামান, ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল মারুফ, মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম জামাল আহমেদ, জেল সুপার জাকের হোসেন, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আবু হাসানুজ্জামান, এনএসআই’র যুগ্ম-পরিচালক আমিনুজ্জামান, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এ জেড এম শফিউল হান্নান, ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান, বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক আব্দুল হান্নান, বিএফএ-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ, ইসলামীয়া কলেজের অধ্যক্ষ নওয়াব আলী, পল্লী বিদ্যুতের জিএম হারুন-অর-রশিদ, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহেদুল হক, জেলা তথ্য কর্মকর্তা তৌহিদুজ্জামান, জেলা শিশু কর্মকর্তা মখলেছুর রহমান বাজার মনিটরিং অফিসার রবিউল ইসলাম প্রমুখ।

সভায় এছাড়াও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ বজায় রাখা, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত টহল অব্যাহত রাখা, পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরি প্রতিরোধ, ইভটিজিং, কুষ্টিয়া সরকারী কলেজে বহিরাগতদের উপদ্রব বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহন, যৌন হয়রানী এবং চলচ্চিত্রে অশ্লীলতা প্রতিরোধ, অবৈধ যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, মানব পাচাররোধ, বকেয়া বিদ্যুৎ বিল আদায়, ফরমালিন সনাক্তকরণে ফলের স্যাম্পল সংগ্রহকরণ ইত্যাদি বিষয়ে বিষদ আলোচনা করা হয়। জেলায় জুলাই মাসে ১৭৫টি এবং আগষ্ট মাসে মামলা কমে ১৪২টি পুলিশ প্রশাসনের কাছে মামলা দায়ের হয়েছে।

আরো খবর...