সরকারীকরণ হলো দৌলতপুরের শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি ড. মোফাজ্জেল হকের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

নিজ সংবাদ ॥ অবশেষে সরকারীকরণ হলো কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ‘শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজ’। নানা ঘাত প্রতিঘাত, নানা ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে কলেজটি শেষ পর্যন্ত সরকারীকরণ  হয়। বুধবার শিক্ষামন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে এসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন সূত্রে জানাগেছে, ‘সরকারীকৃত কলেজ শিক্ষক ও কর্মচারী আত্তীকরণ বিধিমালা ২০১৮’-এর আলোকে এবং ৩৭.০০.০০০০.০৭০.০০২.০০৪.২০১৮-৯৮ স্মারকে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ১৪টি কলেজ সরকারী করা হলো। আর এ ১৪টি কলেজের মধ্যে ১১নং তালিকায় রয়েছে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজ। এছাড়াও এ তালিকায় রয়েছে জেলার ভেড়ামারা মহিলা কলেজ। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপ-সচিব নাছিমা খানম রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে গতকাল বুধবার স্বাক্ষর করে এ প্রজ্ঞাপন জারি করেন।

কলেজটি সরকারীকরন হওয়ায় উচ্ছ্বাসের শেষ নেই গোটা দৌলতপুর উপজেলাবাসীর মধ্যে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শিক্ষামন্ত্রী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, কলেজ প্রতিষ্ঠা এবং সরকারীকরনের জন্য সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে যিনি দৌলতপুরের কৃতি সন্তান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটির অন্যতম সদস্য ড. মোফাজ্জেল হকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন কলেজের সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক সর্বপরি দৌলতপুর উপজেলাবাসী।

স্থানীয় সূত্র জানায় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সুনামের সাথে পরিচালিত হয়ে আসছিল দৌলতপুর শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজটি। কিন্তু কলেজটি বঙ্গমাতার নামে হওয়ায় কুদৃষ্টি পড়ে তৎকালীন কুষ্টিয়া-১ আসনের সাংসদ ও প্রতিমন্ত্রী পচামোল¬ার। ২০০১ সালে প্রতিমন্ত্রী থাকাকালীন এই কলেজটিতে ভর্তি বাতিলসহ কলেজের কার্যক্রম বন্ধ এবং একই এলাকায় আরেকটি মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিমন্ত্রীর ডিও লেটার দেয়া হয় যশোর বোর্ড বরাবর। ওই ডিও লেটারে কলেজটির ভর্তি বাতিলের পাশাপাশি দৌলতপুর মহিলা কলেজ নামে আরেকটি কলেজ প্রতিষ্ঠার আবেদন করা হয়। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজের ভর্তি কার্যক্রম বাতিল করা হয়। পরে ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজের পক্ষে ভর্তি কার্যক্রম সচল রাখতে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা  হয়। রায়ে পুনরায় কলেজের কার্যক্রম চালানোর নির্দেশনা আসে। সম্প্রতি তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী পচা মোল¬ার দেয়া ওই ডিও লেটারটি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটির অন্যতম সদস্য ড. মোফাজ্জেল হক প্রধানমন্ত্রী’র দপ্তরে পাঠালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গোচরে আসে। এতে বুধবার সারা দেশে সর্বশেষ যে ১৪টি কলেজ সরকারীকরণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় তার মধ্যে এই দৌলতপুর শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজের নামও অন্তর্ভূক্ত হয়।

এবিষয়ে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মফিজুল হক জানান কলেজটি সরকারীকরণ হওয়ায় সর্ব প্রথম মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায়। সেই সাথে শিক্ষামন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটির অন্যতম সদস্য ড. মোফাজ্জেল হক’র প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

অধ্যক্ষ মফিজুল হক বলেন তৎকালীন সময়ে কলেজটি বন্ধে যখন সব রকম চেষ্টাই চালানো হয়েছিল তখন খুব হতাশ হয়েছিলাম। আর সে সময় ড. মোফাজ্জেল হক আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছিলেন হতাশার কিছু নেই। শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতায় আসলে একদিন ঠিকই সরকারীকরন হবে কলেজটি। শেষ পর্যন্ত ড. মোফাজ্জেল হকের কথাই সত্যি হলো। আজ কলেজটি ঠিকই সরকারীকরণ  হয়েছে।

কলেজটি জাতীয়করণ হওয়ায় খুঁশি কলেজের শিক্ষক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরাও।

দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শায়লা শারমিন জানান আমাদের কলেজটি বঙ্গমাতার নামে হওয়ায় বিগত সময়ে নানাভাবে অবহেলার শিকার হয়। কলেজটি বন্ধের ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে একটি মহল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কলেজটি সরকারীকরণ হওয়ায় আমরা খুঁশি। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি সেই সাথে আমাদের কলেজটি সরকারীকরণে সব থেকে বেশি পরিশ্রম করেছেন সেই ড. মোফাজ্জেল হকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায়।

একই অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শারমিন আক্তারও। তিনি বলেন আজ আমরা অভিভুত। সংশি¬ষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতার শেষ নেই।

অভিভাবক সিরাজুল ইসলাম ও নজরুল ইসলাম বলেন কলেজটি সরকারীকরণ হওয়ায় আমরা খুবই আনন্দিত।

এবিষয়ে কলেজটি সরকারীকরণের পেছন সব থেকে বেশি পরিশ্রম করেছেন, বেশি অবদান রেখেছেন সেই দৌলতপুরেরই কৃতি সন্তান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটির অন্যতম সদস্য ড. মোফাজ্জেল হক বলেন কলেজটি সরকারীকরণ করায় আমি বিশেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। কারণ তৎকালীন বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন কুষ্টিয়া-১  আসনের সংসদ সদস্য পচা মোল¬ার ডিও লেটারে ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজের কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সেই অবৈধ সিদ্ধান্ত সম্বলিত ডিও লেটারটি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পৌছাতে সক্ষম হই। প্রধানমন্ত্রী সেই ডিও লেটারটি হাতে পাবার পর কলেজটি সরকারী করনের নির্দেশনা দেন। এজন্য আমি দৌলতপুরবাসীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানায়। একই সাথে প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করি। শ্রদ্ধাচিত্বে স্মরণ করি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, কুষ্টিয়া-৩(সদর) আসনের সংসদ সদস্য কুষ্টিয়ার কৃতি সন্তান মাহবুবউল আলম হানিফকে। যারা সার্বক্ষনিক দিকে নির্দেশনা এবং পরামর্শে আজ কলেজটি সরকারীকরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

ড. মোফাজ্জেল হক বলেন কলেজটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বেশ সুনামের সাথেই পরিচালিত হয়ে আসছিল। তবে বঙ্গমাতার নামে প্রতিষ্ঠানটি সরকারীকরণ হওয়ায় এই কলেজের ভাবমুর্তি আরো উজ্জল হলো। একই সাথে কলেজটি উপজেলার মধ্যে শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ হিসেবে প্রতিষ্ঠালাভ করবে বলে প্রত্যাশা করি।

দৌলতপুর শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজ ছাড়াও সরকারীকরণকৃত অন্যান্য কলেজগুলো হচ্ছে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ডিগ্রি কলেজ, ফরিদপুরের সালথা উপজেলার সালথা কলেজ, নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার তেলিগাতি ডিগ্রি কলেজ, ময়মনসিংহর ঈশ্বরগঞ্জের ঈশ্বরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ, নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার সৈকত ডিগ্রি কলেজ, রাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলার রাজস্থলী কলেজ, রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার সরদাহ মহাবিদ্যালয়, সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার চৌহালী ডিগ্রি কলেজ, যশোরের বাঘারপাড়া শহীদ সিরাজ উদ্দিন হোসেন মহাবিদ্যালয়, খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার এম এ মজিদ ডিগ্রি কলেজ, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব আইডিয়াল কলেজ, কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার ভেড়ামারা মহিলা কলেজ ও গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের গোবিন্দগঞ্জ কলেজ।

সরকারিকৃত কলেজ শিক্ষক ও কর্মচারী আত্তীকরণ বিধিমালা ২০১৮-এর আলোকে এ কলেজগুলো সরকারি করার সিদ্ধান্ত হয়। সরকারের সিদ্ধান্ত হলো, যেসব উপজেলায় কোনো সরকারি কলেজ নেই, সেগুলোতে একটি করে কলেজকে সরকারি করা। তারই আলোকে এ কলেজগুলো সরকারি করা হলো। ১৪টি কলেজ নিয়ে এখন দেশে সরকারি কলেজ ও সমমানের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৬১৭। এখন সরকারি হওয়া শিক্ষকদের অবস্থান, বদলি ও পদোন্নতি বিষয়গুলো নির্ধারণ করা হবে নতুন বিধিমালা অনুযায়ী।

 

আরো খবর...