সময়ের চিন্তা

 ॥ নাজির আহমেদ জীবন ॥

শুরু হয়েছে ‘নিষিদ্ধ’ চার মাসের অন্যতম একটি ‘জিল্কদ’। কোরআনে সূরা তওবার ৩৬ নং আয়াতে চারটি মাসকে ‘নিষিদ্ধ’ বলা হয়েছে। এই মাস গুলোতে নিজেদের প্রতি জুলুম করতে নিষেধ করা হয়েছে। বুখারী শরীফে বর্ণিত এই চার মাস হলোÑজিল্কদ; জিলহজ্ব; মহরম ও রজব। আরবরা প্রাচীন কাল হতেই যে, চারটি মাসে যুদ্ধ-বিগ্রহ, লুটতরাজ ও অশ-ীল কার্য অবৈধ মনে করতো এ মাসটি তাদের অন্যতম। আইয়েমে জাহিলিয়াতের যুগেও আরবরা প্রচলিত নিয়মানুসারে কোন যুদ্ধ শুরু হয়ে থাকলেও এই পবিত্র মাসের সম্মানে তা মুলতবী ঘোষণা করতো। রাসূল (সাঃ) বলেছেন, “তোমরা জিল্কদ মাসকে সম্মান কর কেননা ইহা সম্মানিত মাসগুলোর মধ্যে প্রথম মাস”। বলেছেন; “যে ব্যক্তি  জিল্কদ মাসের একদিন রোযা রাখবে করুনাময় আল্লাহতা’আলা তার আমল নামায় একটি মক্বুল হজ্বের সোওয়াব লিখে দেবেন।”

বিষয়টা হচ্ছে  ইসলাম আর্বিরভাবের পূর্ব থেকে আরবে ইব্রাহিমী’র কিছু বিষয় প্রচলিত ছিল। এরপর রাসূল (সাঃ) কে ও ইসলাম প্রচার করতে হল তাও “ইব্রাহিমী ইসলাম।” তাই বারোশরীফের ইমাম (রঃ) বলেছিলেন “কোরান ইব্রাহিমী বিষয় যা মোহাম্মদের (সাঃ) উপর নাযিল হ’ল।” এই চারমাস ও ইব্রাহিমী বিষয়। যার জন্য রাসূলের মি’রাজ হয় রজব মাসে। জিল্কদ মাসকে বলা হয় হজ্বের প্রস্তুতি মাস। আমাদের মাস হলোÑপবিত্র রবিঃ আউঃ, শাবান, রমযান আর জামাদিউসসানী। এখানে জ্ঞান দিয়ে চিন্তার বিষয় আল্লাহ তাঁর হাবীব (সাঃ) কে ঐ সব মাসে না পাঠিয়ে স্বতন্ত্র একটা মাসে দুনিয়াতে পাঠালেন স্বতন্ত্র একটা বারেকেন? কারণ; আল¬াহ চান নায় যে তাঁর হাবীব অন্য কারও সম্মানে সম্মানিত হন বরং তিনি নিজ মহিমায় নিজ সম্মানে সম্মানিত হন। জুমার দিনটি অন্যসব নবীর বিশেষ করে নবী ইব্রাহিম এর সম্মেলন দিন। তাই রাসূল (সাঃ) বলেছেন, “তোমরা জুমার দিন আমার প্রতিবেশি দরুদ পাঠ কর।” জিজ্ঞাসা করা হয় হে আল্লাহর রাসূল! আপনাদের অর্থাৎ আহ্লে বাই্তের ওপর আমরা কি দরুদ পড়ব? তিনি বলেন; তোমরা পড়বে, হে আল¬াহ! মোহাম্মদ (সাঃ) ও তাঁর বংশধরের ওপর রহমত বর্ষন কর যে ভাবে ইবরাহীম (আঃ) ও তাঁর বংশধরের প্রতি রহমত  বর্ষন করেছ। হে আল্লাহ! মোহাম্মদ (সাঃ) ও তাঁর বংশধরের প্রতি বরকত দান কর যে ভাবে ইবরাহীম (আঃ) ও তাঁর বংশধরের প্রতি বরকত দান করেছ।” এখানে রাসূল নিজেকে ইব্রাহীম এর উপর বা ওভারটেক করতে চান নাই। কারণ, সময়টা ইবরাহিমী। তাই, সোমবার ও দরুদ পাঠ তাঁর নিজস্ব বিষয় হওয়া সত্ত্বেও শুক্রবার ও ইব্রাহিম নবীকে প্রাধান্য দিলেন।

এসব বিষয়গুলো আজ আমাদেরকে জ্ঞান দিয়ে চিন্ত করতে হবে। কারণ; আল্লাহ ও রাসূল দয়া করেছেন বারো শরীফের ইমাম হযরত শাহসূফী মীর মাস্উদ হেলাল (রাঃ) এর মাধ্যমে “মোহাম্মদী” প্রচারিত হচ্ছে। আল¬াহ সর্বজ্ঞ ও সর্বদ্রষ্টা। তাই, শেষ জামানায় যে আওলাদে রাসূলের মাধ্যমে “মোহাম্মদী” প্রচার করাবেন তা পূর্বে নির্দ্ধারিত ছিল।

সে ক্ষেত্রে এমন একজন আধ্যাত্মিক মহানায়ককে কি করে জিল্কদ মাসে দুনিয়াতে পাঠাবেন। তাই স্বতন্ত্র একটা পবিত্র মাস “জামাদিউস্সানীতে”, পবিত্র মঙ্গলবার দুনিয়াতে পাঠন। এ মাস হিজরী ৬ষ্ঠ মাস। এ চাঁদের প্রথম তারিখে হযরত আবু বকর (রাঃ) ১২ রেকাত নফল নামায পড়তেন। অনেক সাহাবা ১০ দিন রোযা এবং ২০ রেকাত নফল নামায পড়তেন।

ইমাম (রঃ) বলে গেছেন, “ইব্রাহিমী দরজা বন্ধ হয়ে গেছে, হজ্ব ও নামাযের শক্তি কমে গেছে। এর দ্বারা মুক্তি আশা করা যায় না। এখন থেকে আমার ভক্তরা সপ্তাহে একদিন আর মাসে একদিন মাহ্ফিল করবে। এতেই রাসূল মুক্তির ব্যবস্থা করে দেবেন।”

জিজ্ঞাসা করেছিলাম মুসলমানরা একতাবদ্ধ হবে কবে? বলেছিলেন “যতদিন না  মোহাম্মদীর মধ্যে না আসবে। ইব্রাহিমী তো এ  বিভেদ করে রেখেছে। একমাত্র দ্বীনে মোহাম্মদী পারবে, বিশ্বশান্তি আনতে বিশ্ব মুসলমানকে একত্র করতে।”

আরো খবর...