সভাপতি সৌরভ সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেবেন ঘরোয়া ক্রিকেটারদের

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥ আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও দায়িত্ব নেওয়া হয়নি। তবে দায়িত্বটি পাচ্ছেন, এটি নিশ্চিত হয়ে যেতেই নিজের প্রথম করণীয় ঠিক করে ফেলেছেন সৌরভ গাঙ্গুলী। ভারতের ক্রিকেট বোর্ড, বিসিসিআইয়ের সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর সাবেক ভারতীয় অধিনায়ক সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেবেন ঘরোয়া ক্রিকেট ও ক্রিকেটারদের। ভারতের সবসময়ের সফল অধিনায়কদের একজন সৌরভের আরেকটি বড় দায়িত্ব পাওয়া এখন কেবল সময়ের ব্যাপার। রোববার মুম্বাইয়ে এক অনানুষ্ঠানিক কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বিসিসিআইয়ের সভাপতি হওয়ার লড়াইয়ে নাটকীয়ভাবে এগিয়ে যান সৌরভ। লোধা কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী বোর্ডকে নতুনভাবে ঢেলে সাজানোর পর প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন গাঙ্গুলী। ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলের সভাপতি হিসেবে গত পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করে আসছেন ‘প্রিন্স অব কলকাতা’ বলে খ্যাত এই সাবেক ক্রিকেটার। সভাপতি পদের মনোয়নয়ন পত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন সোমবার। তবে দায়িত্ব পাওয়া নিশ্চিত বলেই নিজের কর্মপরিকল্পনার একটি ধারণা দিয়েছেন প্রেস্ট ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়াকে। “কোন সিদ্ধান্ত নেবার আগে আমরা অবশ্যই সবার সাথে আলোচনা করবো। তবে ঘরোয়া প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটারদের দেখভাল করাটা আমার কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে।’’ ‘‘(ঘরোয়া ক্রিকেটারদের আর্থিক সুরক্ষা প্রসঙ্গে) আমি কমিটি অফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটরসকে তিন বছর ধরে অনুরোধ করেছি। আমি সবার আগে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটারদের আর্থিক সুরক্ষার ব্যাপারটি নিশ্চিত করতে চাই।’’ সভাপতি হওয়ার দৌড়ে এতটা এগিয়ে গিয়ে সৌরভ নিজেও বিস্মিত। এর আগে এগিয়ে ছিলেন ছিলেন ব্রিজেস প্যাটেল। তবে দুই পক্ষের সমঝোতার পর সরে গেছেন তিনি। সেক্ষেত্রে অপ্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে সভাপতি নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন গাঙ্গুলী। বিসিসিআই প্রধানের দায়িত্ব তিনি পেতে পারেন ১০ মাসের জন্য। সৌরভের জন্য এটি নতুন অভিজ্ঞতা। “যখন নিচে এসেছিলাম (সভা থেকে), তখনও জানতাম না যে আমিই সভাপতি হব। আপনারা (সংবাদকর্মীরা) জিজ্ঞেস করেছিলেন, আমি বলেছিলাম ব্রিজেশ হচ্ছেন। কিন্তু পরে ওপরে গিয়ে জানতে পারলাম এটি বদলে গেছে। আগে কখনোই বিসিসিআইয়ের নির্বাচনে ছিলাম না আমি, জানতাম না যে এটা এভাবে হয়।” তবে যেভাবেই নির্বাচিত হোন না কেন, নতুন পদ যে তার জন্য চ্যালেঞ্জিং হতে যাচ্ছে, সেটা অকপটেই স্বীকার করেছেন ৪৯ টেস্ট ও ১৪৭ ওয়ানডেতে ভারতকে নেতৃত্ব দেয়া সৌরভ। ‘‘অপ্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নির্বাচিত হই বা না হই, দায়িত্ব অনেক। কারণ বিসিসিআই বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান। অর্থনৈতিক ভাবে, ভারত ক্রিকেটের পাওয়ারহাউজ। তাই, এটা আমার জন্য একটা চ্যালেঞ্জ।’’ ‘‘আমি এমন একটা সময়ে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছি, যখন শেষ তিন বছরে বিসিসিআই খুব একটা ভালো অবস্থানে নেই। সংস্থার ভাবমূর্তি অনেকটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেক্ষেত্রে আমার জন্য এটা ভালো কিছু করার একটা সুযোগ।’’

আরো খবর...