সবচেয়ে বড় সংকটের মুখে হংকং’

ঢাকা অফিস ॥ যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে ২২ বছর আগে চীনের শাসনে অন্তর্ভুক্ত করে নেওয়ার পর হংকং এখনই সবচেয়ে বড় সংকটের মুখে আছে বলে মন্তব্য করেছে চীনের হংকং ও ম্যাকাউ বিষয়ক দপ্তর। এশিয়ার অন্যতম অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত শহরটিতে বুধবারও সরকারিবিরোধী বিক্ষোভ দেখা গেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। “হংকংয়ের সংকট ৬০ দিন ধরে চলছে, এবং দিন দিন এটি খারাপ থেকে আরও খারাপ হচ্ছে। সহিংস কর্মকান্ড আরও তীব্র হচ্ছে, সমাজে এর প্রভাব বিস্তৃত হচ্ছে। বলা যেতে পারে, হস্তান্তরের পর হংকং এখনই সবচেয়ে বাজে পরিস্থিতি মোকাবেলা করছে,” চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর শেনঝেনে এক বৈঠকে এমনটাই বলেছেন হংকংয়ের দেখভালের দায়িত্বে থাকা ঊর্ধ্বতন চীনা কর্মকর্তা ঝ্যাং জিয়াওমিং। বিচারের জন্য চীনের মূলভূখন্ডে বাসিন্দাদের পাঠানোর সুযোগ রেখে আইন সংশোধনের একটি বিল নিয়ে কয়েক মাস আগে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে হংকংয়ের পরিস্থিতি। সমালোচকরা বলছিলেন, ওই বিলটি করাই হয়েছে হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থি রাজনৈতিক নেতাদের হেনস্তা করতে। তীব্র আন্দোলনের মুখে হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী ক্যারি লাম ওই বিল পাসের পরিকল্পনা স্থগিত করলেও বিক্ষোভ বন্ধ হয়নি। আন্দোলনকারীরা এখন লামেরই পদত্যাগ চাইছে। রয়টার্স বলছে, হংকংয়ের এ আন্দোলন এরইমধ্যে চীনের শাসকদের উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে; যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধ নিয়ে এমনিতেই তারা নাজেহাল। মঙ্গলবার চীন হংকংয়ের বিক্ষোভকারীদের ‘আগুন নিয়ে না খেলতে’ পরামর্শ দিয়েছে।

চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) সংবাদমাধ্যম পিপলস ডেইলি প্রকাশিত ট্যাবলয়েড গে¬াবাল টাইমস তার টুইটার পেইজে হংকংলাগোয়া শেনজেনে হাজারো পুলিশ কর্মকর্তার দাঙ্গাবিরোধী প্রশিক্ষণ ও মহড়ার একটি ভিডিও-ও প্রকাশ করেছে। হংকংয়ের রাজনৈতিক সংকট নিয়ে বুধবার যে  বৈঠকে ঝ্যাং ছিলেন, সেখানে চীনের পার্লামেন্টে হংকংয়ের প্রতিনিধি দল, ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস ও চাইনিজ পিপলস পলিটিকাল কনসালটেটিভ কনফারেন্সের (সিপিপিসিসি) প্রতিনিধিরা থাকলেও হংকংয়ের গণতন্ত্রিপন্থি কোনো নেতা কিংবা বিক্ষোভকারীদের প্রতিনিধিরা ছিলেন না। ওই বৈঠকে ঝ্যাং চীনের সাবেক নেতা দেং জিয়াওপিংয়ের বিভিন্ন ভাষণ থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন বলে বৈঠকে অংশ নেওয়া কয়েকজন রয়টার্সকে জানিয়েছেন। ১৯৮৪ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত দেওয়া ওই ভাষণগুলোতে দেং বলেছিলেস, হংকংয়ে অস্থিরতা দেখা দিলে চীনের কেন্দ্রীয় সরকার অবশ্যই সেখানে হস্তক্ষেপ করবে। দেংয়ের ওই সময়ে হংকং যুক্তরাজ্যের অধীনে ছিল। হংকংয়ে কয়েক মাস ধরে চলা এ বিক্ষোভ মোকাবেলায় চীন তাদের সেনাবাহিনী পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) মোতায়েন করবে কিনা, সে বিষয়ে এখনো কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। হংকংয়ে এমনিতেই পিএলএ-র একটি দূর্গ আছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। বেইজিং এখনো হংকংয়ের সরকার ও স্থানীয় পুলিশের উপর আস্থাশীল, ৈ বৈঠকে ঝ্যাং এমনটাই বলেছেন বলেও অনেকে জানিয়েছেন।

চীন সৈন্য মোতায়েন করলেও তা হংকংয়ের সঙ্গে সাংবিধানিক সম্পর্কের খেলাপ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন হংকংয়ের সাবেক বিচার মন্ত্রী এলসি লিউং। “এক দেশ দুই নীতি অটুটই থাকবে,” বলেছেন তিনি।

আরো খবর...